বিষয়বস্তুতে চলুন

অলিম্পিক জাতীয় উদ্যান

উইকিভ্রমণ থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যে অবস্থিত অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্ক একটি জাতীয় উদ্যান এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। পার্কের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন ৪৮টি রাজ্যের মধ্যে অবশিষ্ট থাকা বৃহত্তম প্রাচীন বনভূমি এবং উষ্ণমণ্ডলীয় বৃষ্টিঅরণ্যের একটি বিশাল অংশ রয়েছে। পার্কের উপকূলীয় অঞ্চল ৭৩ মাইল (১১৭ কিমি) দীর্ঘ পাথুরে হেডল্যান্ড, সৈকত এবং টাইডপুল সংরক্ষণ করে।

বোঝার বিষয় পার্কটি দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত: একটি বৃহৎ কেন্দ্রীয় অঞ্চল যা অলিম্পিক পর্বতমালাকে ঘিরে রয়েছে, এবং অপরটি উপকূলীয় অঞ্চল, যেখানে অলিম্পিক উপদ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ইতিহাস: অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্কের উপকূলীয় অঞ্চল ইউরোপীয় বসতির আগমনের পূর্বে, এই অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ছিল মূলত আদিবাসী আমেরিকানরা, যারা প্রধানত মাছ ধরা ও শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করত বলে ধারণা করা হয়। তবে রেকর্ড পর্যালোচনা করে এবং অলিম্পিক ও অন্যান্য উত্তর-পশ্চিম পর্বতমালায় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, বিশেষ করে সাব-আল্পাইন তৃণভূমিতে আদিবাসীদের বসতি ছিল অনেক বিস্তৃত। প্রায় সব প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের আদিবাসী সংস্কৃতিগুলো নৃতত্ত্ববিদ, ব্যবসায়ী ও বসতির আগমনের বেশ আগেই ইউরোপীয় রোগব্যাধি ও অন্যান্য কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। ফলে তারা যে সংস্কৃতি দেখেছেন ও লিপিবদ্ধ করেছেন, তা অনেকাংশেই আদিবাসী সংস্কৃতির একটি ক্ষয়প্রাপ্ত রূপ। বর্তমানে অলিম্পিক পর্বতমালায় বহু সাংস্কৃতিক স্থান চিহ্নিত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

যখন ইউরোপীয় বসতির আগমন শুরু হয়, তখন উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে খনিজ ও বনসম্পদ আহরণের শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল, বিশেষ করে উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে ব্যাপকভাবে কাঠ সংগ্রহ শুরু হয়। ১৯২০-এর দশকে যখন মানুষ প্রথমবারের মতো পরিষ্কারভাবে পাহাড়কাটার দৃশ্য দেখতে পায় তখন থেকেই বনভূমি নিধনের বিরোধিতা শুরু হয়। এই সময়েই বাইরের প্রকৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়; গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে মানুষ অলিম্পিক উপদ্বীপের মতো দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণ শুরু করে।

১৮৯০-এর দশকে লেফটেন্যান্ট জোসেফ ও'নিল এবং বিচারক জেমস উইকারশামের অভিযানের মাধ্যমে অলিম্পিক উপদ্বীপে একটি নতুন জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড শুরু হয়। তারা অলিম্পিক বন্য অঞ্চলে অনুসন্ধানের সময় পরিচিত হন এবং পরে রাজনৈতিকভাবে একসাথে কাজ করে এলাকাটিকে সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওয়াশিংটন রাজ্য আইনসভায় প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট মূলত অলিম্পিক অঞ্চলের রুজভেল্ট এল্কের সাব-আল্পাইন প্রজনন ক্ষেত্র ও গ্রীষ্মকালীন বিচরণভূমি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯০৯ সালে মাউন্ট অলিম্পাস ন্যাশনাল মনুমেন্ট ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ১৯৩৮ সালে এটিকে অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে ঘোষণা করার আগে পর্যন্ত স্থানীয়দের পার্কটি সংরক্ষণের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছিলো।

১৯৭৬ সালে এটি আন্তর্জাতিক জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৮১ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য পার্কে রূপান্তরিত হয়।