
আইরে মহাসড়ক হলো প্রধান সড়ক যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈর্ঘ্য ১,৬৬৮ কিলোমিটার। পূর্বদিকে পোর্ট অগাস্টা থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে নর্সম্যান পর্যন্ত বিস্তৃত।
পূর্বমুখে — পোর্ট অগাস্টা থেকে মহাসড়ক দুটি ভাগে বিভক্ত হয়: প্রিন্সেস মহাসড়ক অ্যাডিলেড ও পূর্ব উপকূলের শহরগুলো—মেলবোর্ন, সিডনি ও ব্রিসবেন-এর দিকে যায়, আর স্টুয়ার্ট মহাসড়ক অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে ডারউইন পর্যন্ত গিয়েছে।
পশ্চিমমুখে — নর্সম্যান থেকে কুলগার্ডি – এস্পেরান্স মহাসড়ক ও গ্রেট ইস্টার্ন মহাসড়ক ধরে সরাসরি পার্থ যাওয়া যায়। চাইলে এস্পেরান্স ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় অংশ ঘুরতে সাউথ কোস্ট মহাসড়কও বেছে নেওয়া যায়।
জানুন
[সম্পাদনা]আইরে মহাসড়ক আসলে অ্যাডিলেড ও পার্থ-এর মধ্যে দীর্ঘ যাত্রার একটি অংশ মাত্র। এর শুরু পোর্ট অগাস্টা ও নর্সম্যান—যা উভয় রাজধানী শহর থেকে যথেষ্ট দূরে। পুরো যাত্রায় মরুভূমির মতো নির্জন দৃশ্য দেখা গেলেও তা সর্বত্র নয়।
এই মহাসড়ককে অনেকাংশে এক দীর্ঘ, নির্জন পথ বলা যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব প্রান্তে কিম্বা, উদিনা ও সিডুনার মতো কিছু ছোট শহর আছে, যেখানে কৃষিজমির বেড়াও চোখে পড়ে। কিন্তু পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার অংশে কৃষিকাজ প্রায় নেই বললেই চলে। এখানে দেখা যায় মূলত রোডহাউস—যা একসাথে হোটেল, গাড়ির গ্যারাজ ও ক্যারাভান পার্কের সমন্বয়। সীমান্তবর্তী ‘‘বর্ডার ভিলেজ’’ ও ‘‘ইউকলা’’ কিছুটা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ থামার জায়গা ধুলোমাখা, সাধারণ ও বিশেষ আকর্ষণহীন।
গড়ে প্রতিটি রোডহাউসের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১০০ কিমি। সবচেয়ে দীর্ঘ ফাঁক ১৯০ কিমি (‘‘ব্যালাডোনিয়া রোডহাউস’’ থেকে নর্সম্যান পর্যন্ত)। ‘‘কাইগুনা রোডহাউস’’ থেকে ‘‘ব্যালাডোনিয়া রোডহাউস’’-এর পথকে ‘‘৯০ মাইল স্ট্রেইট’’ বলা হয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম সোজা সড়ক—১৪৬.৬ কিমি টানা বাঁকবিহীন পিচঢালা রাস্তা! কাইগুনার পূর্বের শহরগুলো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সময় মেনে চলে না। বরং তারা ‘‘সেন্ট্রাল ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম’’ ব্যবহার করে—যা পশ্চিম ও মধ্য অস্ট্রেলিয়ার সময়ের মাঝামাঝি (UTC+8:45)।
প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]সাধারণ গাড়ি দিয়েই পুরো পথ চলা সম্ভব, এবং রাস্তায় পরিষেবা কেন্দ্রগুলো এমনভাবে রয়েছে যে বাড়তি জ্বালানি বহনের দরকার হয় না। তবে সব স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে না। রাতের ভ্রমণে তাই পরিকল্পনা করে নিতে হবে। কিছু সাইড ট্রিপে চারচাকা-চালিত (৪WD) গাড়ি প্রয়োজন হতে পারে, আর সেসব ক্ষেত্রে পরিচিত কারো কাছে যাত্রার খবর জানানো জরুরি।
টেলস্ট্রা কোম্পানির নেক্সট-জি নেটওয়ার্ক মহাসড়কের বড় অংশে মোবাইল কভারেজ দেয়। অপটাস কেবল বড় শহরগুলোতে (যেমন সিডুনা) সেবা দেয়। অন্য ক্যারিয়ার প্রায় অচল। ভাল সিগন্যাল পেতে ৮৫০MHz সমর্থিত ফোন ও টেলস্ট্রা সিম ব্যবহার করা উচিত। প্রধান রাস্তা ছেড়ে দূরে গেলে টেলস্ট্রার সেবাও মিলবে না, তখন একমাত্র ভরসা স্যাটেলাইট ফোন—যা বেশ ব্যয়বহুল।
পৌঁছানো
[সম্পাদনা]চাইলেই পোর্ট অগাস্টায় উড়ে গিয়ে, নর্সম্যান থেকে বের হওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ ভ্রমণকারী নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া বা অ্যাডিলেড থেকে যাত্রা শুরু করে পার্থ-এর দিকে যান (বা উল্টোটা)।
গাড়ি ছাড়া অন্য পদ্ধতি
[সম্পাদনা]
কখনও কখনও সাইকেল আরোহী, দৌড়বিদ কিংবা পথচারীদেরও মহাসড়কে দেখা যায়। তবে এগুলো খুব বিপজ্জনক, যদি না সাপোর্ট টিম থাকে বা কোথায় কোথায় থামা ও রাত কাটানো হবে তা স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে।
বড় ট্রাক পেরোনোর সময় রাস্তা থেকে দূরে থাকা জরুরি। বিশেষত যখন রাস্তা গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটের কাছে যায়, তখন কুয়াশা নেমে এসে অসতর্ক ভ্রমণকারীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
হাঁটা, দৌড় বা সাইকেল ভ্রমণ ঠান্ডা মৌসুমে সবচেয়ে ভালো। ইউকলা আবহাওয়া রাডার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজির ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। তবে ইউকলার আবহাওয়া অ্যাডিলেড বা পার্থের থেকে একেবারেই আলাদা হতে পারে।
আবহাওয়া ও পানি
[সম্পাদনা]কখনও কখনও গোল্ডফিল্ডস–নালারবর অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা হয়। এ সময় রাস্তায় যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ট্রাক সহজেই পার হচ্ছে দেখে অনুকরণ করবেন না, কারণ অনেক সময় রাস্তার ভিত্তি ভেসে যায়। পুলিশ বা জরুরি কর্মীরা তখন রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো পানি নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
যাত্রা
[সম্পাদনা]মহাসড়কটি বিখ্যাত নালারবর সমভূমির দক্ষিণ দিক ঘেঁষে চলে, প্রায় ‘‘নালারবর রোডহাউস’’ থেকে ‘‘ব্যালাডোনিয়া রোডহাউস’’ পর্যন্ত।
- নালারবর সমভূমি (লাতিন অর্থ “গাছ নেই”)। এটি প্রাচীন সমুদ্রতল, বর্তমানে একটি সমভূমি যেখানে পাথুরে চুনাপাথরের উপর অল্প ঝোপঝাড় আছে। প্রায় ২,০০,০০০ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মহাসড়ক এর দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে গেছে।
এ দুই রোডহাউসের মাঝে অনেক সাইড ট্রিপ করা যায়। দক্ষিণ দিকে, ‘‘নালারবর রোডহাউস’’ ও ‘‘বর্ডার ভিলেজ’’-এর মধ্যে কয়েকটি ভিউপয়েন্ট আছে, যেখানে সমতল ভূমি হঠাৎ শেষ হয়ে ৭০ মিটার উঁচু খাড়া পাহাড় থেকে গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটের জলরাশি দেখা যায়। বাতাস ও ঢেউয়ের আঘাতে গঠিত এসব দৃশ্য সত্যিই চমকপ্রদ।
সাইড ট্রিপ
[সম্পাদনা]- ‘‘নালারবর রোডহাউস’’ থেকে কুক—ট্রান্স অস্ট্রেলিয়ান রেলওয়ের ছোট্ট বসতি।
- ‘‘আইরে বার্ড অবজারভেটরি’’—পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, কক্লেবিডির দক্ষিণে।
- ‘‘নালারবর কেভস’’—বিভিন্ন গুহা, ডুবুরি ও ফসিল সন্ধানীদের জনপ্রিয় স্থান।
- ‘‘ওল্ড রোড রুট’’—আগের মহাসড়কের অংশ, যেখানে এখনও পুরনো জলাধার ও গবাদিপশুর গ্রিড দেখা যায়।
করুন
[সম্পাদনা]
- নালারবর লিঙ্কস। বিশ্বের দীর্ঘতম গলফ কোর্স—পুরো নালারবর সমভূমি জুড়ে। কিছু হোলের দূরত্ব ২০০ কিমি পর্যন্ত। ভ্রমণকালে সব ১৮টি হোল খেলতে পারেন।
- মাদুরা — একসময় ঘোড়া প্রজননের খামার, এখন শান্ত রোডহাউস ও হোটেল।
- ইউকলা — সীমান্তের কাছে ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ স্টেশন, অর্ধেক বালিতে ঢাকা।
- সিডুনা — দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম প্রান্তের বড় শহর, মাছ ধরা ও মে–সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিমি দেখা যায়।
- পুচেরা — ডাইনোসর পিঁপড়ার আবাসস্থল।
- উদিনা — গাওলার রেঞ্জসের প্রবেশপথ।
- কিম্বা — ‘‘বিগ গালা’’ নামক স্মৃতিস্তম্ভের জন্য পরিচিত শস্যউৎপাদনকারী শহর।
সতর্কতা
[সম্পাদনা]- সমুদ্রতীরবর্তী খাড়া পাহাড় বিপজ্জনক। সতর্কতা চিহ্ন উপেক্ষা করবেন না, এবং গাড়ি বা পায়ে খুব কাছে যাবেন না।
- প্রধান মহাসড়ক ছেড়ে অন্যত্র যাত্রা করবেন না, যদি না সজ্জিত ৪WD গাড়ি ও অস্ট্রেলিয়ার চারচাকা ড্রাইভের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকে।
এরপর কোথায় যাবেন
[সম্পাদনা]পশ্চিমে — নর্সম্যান থেকে পার্থ যেতে পারেন, হয় কুলগার্ডি ও গ্রেট ইস্টার্ন মহাসড়ক দিয়ে, অথবা এস্পেরান্স ও অ্যালবানি ঘুরে। অ্যালবানি থেকে পার্থে যাওয়া যায় সরাসরি বা বানবুরি হয়ে।
পূর্বে — পোর্ট অগাস্টা থেকে অ্যাডিলেড এবং আরও পূর্বে মেলবোর্ন বা সিডনি পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।
{{#assessment:ভ্রমণপথ|ব্যবহারযোগ্য}}