আহমেদাবাদ ঐতিহ্য পদযাত্রা হলো আহমেদাবাদের মধ্যাঞ্চলীয় একটি ভ্রমণপথ।
জানুন
[সম্পাদনা]
পুরাতন প্রাচীরবেষ্টিত আহমেদাবাদ শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। পুরনো এই শহরের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এই ঐতিহ্যবাহী ভ্রমণপথটিই সর্বোত্তম উপায়। পথটি কিছুটা জটিল এবং সরু সংযুক্ত গলির মধ্য দিয়ে চলে। তবে পথ হারিয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নেই, স্থানীয়দের সাহায্যে সহজেই পথ খুঁজে নিতে পারবেন। ভ্রমণকারী চাইলে নিজেই ঘুরে দেখতে পারেন অথবা সকালে বা রাতে স্থানীয় সংস্থা যে সংক্ষিপ্ত গাইডেড ট্যুর আয়োজন করে তাতেও অংশ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে গাইড সহজ করে সব বোঝান, সাথে ভ্রমণকারীদের প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে থাকেন। তবে তারা সাধারণত গুজরাটি, হিন্দি ও ইংরেজিতে কথা বলেন (মাঝেমধ্যে আরও কিছু বিদেশি ভাষাতেও)। এ পথে প্রায় ২৫টা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। ভ্রমণটি একটি মন্দির থেকে শুরু হয়ে একটি মসজিদে শেষ হয়। এ কারণেই পথটি “মন্দির থেকে মসজিদ” রুট নামেও পরিচিত। পুরনো কাঠের বাড়ি, স্থানীয় হাভেলির স্থাপত্য, পাড়ার বিন্যাস, জনাকীর্ণ স্থানীয় বাজার এবং নানা ধর্মীয় স্থান সবই এই ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ। গাইডেড ট্যুর শেষ করার পরও ভ্রমণকারী চাইলে পথে আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। যদি কেউ নিজে নিজেই ঘুরে দেখেন,তবে রাস্তায় বিশেষ মেঝে, ল্যাম্পপোস্ট আর সাইনবোর্ড দিয়ে প্রতিটা জায়গার তথ্য লেখা দেখতে পাবেন।
নির্দেশিত ভ্রমণ
[সম্পাদনা]- এএমসি হেরিটেজ বিভাগ এবং অক্ষর গ্রুপ, ৯, সিটি সেন্টার, দ্বিতীয় তলা, স্বস্তিক ক্রস রোড, সি.জি. রোড, নবরঙ্গপুরা, ☏ +৯১ ৯৮২৫০ ৯১০৪৯, +৯১ ৯৮২৫১ ২৫৯২০, নিঃশুল্ক ফোন নম্বর: ১৮০০ ২৩৩ ৯০০৮।
- সকালের ঐতিহ্য পদযাত্রা: কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় জামা মসজিদে। প্রায় ২ কিমি দীর্ঘ এই পথ শেষ করতে লাগে আড়াই ঘন্টার মতো। পথে ঘুরে দেখা যায় প্রায় ২০টি দর্শনীয় স্থান। সাধারণত সকাল ৭:৩০ থেকে ৭:৪৫ এর মধ্যে যাত্রা শুরু হয়। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য টিকিট ২০০ টাকা আর বিদেশিদের জন্য ৩০০ টাকা। বিলাসবহুল ভ্রমণ চাইলে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিতে হয়। শুরুতেই কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দিরের বড় ফটকের ভেতরে একটি ছোট কক্ষে সংক্ষিপ্ত স্লাইডশো দেখানো হয়, যেখানে একটি ছোট সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। সিঁড়ির অবস্থান খুঁজে না পেলে জিজ্ঞেস করাই ভালো। টিকিট মন্দিরের কাছ থেকে বা অনলাইনেও কেনা যায়।
- রাতের ঐতিহ্য পদযাত্রা: সিদ্দি সাইয়াদ মসজিদ থেকে শুরু হয়ে চান্দলা ওলে শেষ হয়। প্রায় ২ কিমি দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আড়াই ঘন্টার মতো। পথে দেখা যায় প্রায় ১৬টি দর্শনীয় স্থান। সাধারণত রাত ৮:৩০ থেকে ৮:৪৫ এর মধ্যে যাত্রা শুরু হয়। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য টিকিট ২৫০ টাকা আর বিদেশিদের জন্য ৩৫০ টাকা। টিকিট সরাসরি স্থান থেকে বা অনলাইনেও কেনা যায়।
প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]একটি মানচিত্র ও ক্যামেরা সঙ্গে রাখা উপকারী হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে যদি এমন কোনো স্থানীয় মানুষকে পাওয়া যায়, যিনি পথ সম্পর্কে জানেন। যেহেতু এই পথচলায় একাধিক ধর্মীয় স্থান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই স্থানীয়দের বা গাইডদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মকানুন অবশ্যই মানতে হবে। পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ কড়াকড়ি রয়েছে, উপরের পোশাক অবশ্যই কাঁধ, বুক, নাভি ও উপরের বাহু ঢেকে রাখতে হবে এবং নিচের পোশাক হাঁটুর নিচ পর্যন্ত হতে হবে। ধর্মীয় স্থানে ঢোকার আগে জুতো খুলতে হয়, মুখে কিছু রাখা যাবে না, খাবারও বাইরে রাখতে হবে। হিন্দু ও জৈন মন্দিরে সাধারণত ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ, তাই ছবি তোলার আগে অনুমতি নিতে হবে। আহমেদাবাদ ঐতিহ্য পদযাত্রা শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় ভোরবেলা, প্রায় সকাল ৭টার দিকে। এ সময় রাস্তায় ভিড় কম থাকে, বাজার খোলা হয়না, আর চারপাশে মানুষের সকালের জীবনযাত্রার এক ঝলক দেখা যায়। দুপুরে ভেতরের আবাসিক রাস্তাগুলো সাধারণত ফাঁকা থাকে, শুধু বাজার এলাকায় কিছুটা ভিড় দেখা যায়। গ্রীষ্মের দুপুরে যদিও ভবনগুলোর কাছাকাছি থাকার কারণে বেশিরভাগ পথ ছায়াঘেরা থাকে, তবুও তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে। তাই সানস্ক্রিন, সানগ্লাস এবং মাথা ঢাকার কাপড় বা ক্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বাজারগুলো, বিশেষ করে রাস্তার বাজারগুলো, সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে। রবিবারে রাস্তার বাজার খোলা থাকে, তবে শহরের অন্য বাজারগুলো বন্ধ থাকে। রাতে কেবল সিদি সাইয়্যেদ মসজিদ থেকে চান্দলা ওল পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়, তার বাইরে নয়। হাঁটাটি দুটি অংশেও করা যেতে পারে,সকালে কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে জামে মসজিদ পর্যন্ত এবং রাতে সিদি সাইয়্যেদ মসজিদ থেকে মানেক চৌক পর্যন্ত। পথের কিছু অংশ শুধু হেঁটে যাওয়ার জন্যই উন্মুক্ত, তাই যানবাহন শুরুতেই রেখে যেতে হয়। একটি সুবিধাজনক উপায় হলো: কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির থেকে মানেক চৌক পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া, তারপর রতনপোল হয়ে আবার মন্দিরে ফিরে এসে গাড়ি নিয়ে রিলিফ রোড হয়ে জামে মসজিদে যাওয়া এবং বাকি পথটি গাড়িতে সম্পন্ন করা।
প্রবেশ
[সম্পাদনা]বাসে
[সম্পাদনা]- 1 কালুপুর রেলওয়ে স্টেশন। অথবা 2 কালুপুর ঘি বাজার বিআরটিএস বাস স্টপ। অথবা 3 কালুপুর এএমটিএস বাস টার্মিনাল। হেটে যেতে হবে 1 রিলিফ রোড ক্রস রোড। এবং একটি রিকশা নিয়ে কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির এ যেতে হবে রিলিফ রোড হয়ে।
- যদি আপনি স্থানীয় এএমটিএস সিটি বাসে ভ্রমণ করেন, তাহলে 4 লাল দরওয়াজা এএমটিএস বাস টার্মিনাল। বিজলি ঘর হেঁটে যান, তারপর কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য একটি রিকশা ধরুন। সিদি সাইয়্যেদ মসজিদ থেকেও যাত্রা শুরু করা যায় এবং সেখান থেকে উল্টো পথে কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির পর্যন্ত হাঁটা সম্ভব। অনেক এএমটিএস বাস লাল দরওয়াজা টার্মিনালে যায়।
মেট্রোতে
[সম্পাদনা]ব্যক্তিগত যানবাহনে
[সম্পাদনা]পুরাতন শহরে পার্কিং সুবিধা সবসময়ই একটি অসুবিধা। আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত যানবাহনে যান, তাহলে কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দিরে পার্ক করুন। বিকল্পভাবে 2 রুপালি পে এন্ড পার্ক। সিদি সাইয়্যেদ মসজিদের কাছে, বিজলি ঘর হেঁটে যান, কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দিরে রিকশায় যান। কালুপুর রেলওয়ে স্টেশনেও পে অ্যান্ড পার্কের সুবিধা রয়েছে।
দেখুন
[সম্পাদনা]- 1 কালুপুর স্বামীনারায়ণ মন্দির।
- 2 কবি দলপতরাম চক, লম্বেশ্বর নি পোল।
- 3 জগবল্লভ জৈন মন্দির, নিশা পোল।
- 4 কালিকো ডোম।
- 5 কালা রামজি মন্দির, হাজা প্যাটেল নি পোল।
- 6 শান্তিনাথ জৈন মন্দির, হাজা প্যাটেল নি পোল।
- 7 কুভাভালো খানচো।
- 8 সম্ভাবনাথনি খাড়কি।
- 9 চৌমুখজিনি পোল।
- 10 দোশিভাডা নি পোল।
- 11 অষ্টপদজি মন্দির।
- 12 হরকুনভার শেঠানি হাভেলি।
- 13 গান্ধী রোড বুক মার্কেট।
- 14 ফার্নান্দেজ সেতু।
- 15 চান্দলা ওল।
- 16 মুহরত পোল।
- 17 আহমেদাবাদ স্টক এক্সচেঞ্জের পুরাতন ভবন।
- 18 মানেকনাথ বাবা মন্দির।
- 19 মানেক চক।
- 20 রানি ন হাজিরো।
- 21 বাদশা ন হাজিরো।
- 22 জামা মসজিদ।
- 23 তিন দরওয়াজা বাজার।
- 24 তিন দরওয়াজা।
- 25 ভদ্রা স্ট্রিট মার্কেট।
- 26 চিনুভাই ব্যারোনেটের মূর্তি।
- 27 ভদ্রকালী মন্দির।
- 28 আজম খান সরাই।
- 29 ভদ্রা দুর্গ।
- 30 জিটিএস স্ট্যান্ডার্ড বেঞ্চমার্ক।
- 31 বিজলি ঘর।
- 32 সিদি সাইয়্যেদ মসজিদ।
নিরাপদ থাকুন
[সম্পাদনা]একাকী নারী ভ্রমণকারীদের জন্য এই পথ খুব একটা নিরাপদ নয়। তাই তাদের দলবদ্ধভাবে বা গাইডেড ট্যুরের সঙ্গেই ঐতিহ্য পদযাত্রায় অংশ নেওয়া ভালো। পথে খুব অল্প সংখ্যক শৌচাগারের সুবিধা রয়েছে।
পরবর্তী
[সম্পাদনা]{{#assessment:ভ্রমণপথ|রূপরেখা}}
