বিষয়বস্তুতে চলুন

19.8875.32
উইকিভ্রমণ থেকে

ঔরঙ্গাবাদ

পরিচ্ছেদসমূহ

অজন্তা গুহার একটি দেওয়ালচিত্র

ঔরঙ্গাবাদ (মারাঠি: औरंगाबाद Auraṅgābād), যা বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজীনগর (মারাঠি: छत्रपती संभाजीनगर Chatrapatī Sambhājīnagar) নামে পরিচিত, এটি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এই শহরের নিকটেই অবস্থিত সুপরিচিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান অজন্তা এবং ইলোরা গুহা যার জন্য এই শহরে বিদেশী পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঔরঙ্গাবাদ ছিল মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের স্বপ্ন, যার প্রতিষ্ঠা হয় ১৬১০ সালে। বর্তমানে এটি মহারাষ্ট্রের চারটি প্রধান শহরের মধ্যে অন্যতম। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লক্ষ। বর্তমানে এই শহর অতি দ্রুততার সাথে শিল্পোন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। শহরটি তার অতীতের গৌরব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আজও ধরে রেখেছে। দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে অবস্থিত এই শহর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অসাধারণ শিল্পকলার প্রদর্শনীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত

পরিচিতি

[সম্পাদনা]
মাকাই গেট - ঔরঙ্গাবাদ
তোরণ বা গেটের শহর...

ঔরঙ্গাবাদ শহরটি তার ঐতিহাসিক তোরণ বা দরজাগুলোর জন্যও বিখ্যাত। পুরাকালে এই শহরে, বিভিন্ন অঞ্চল নির্বিশেষে মোট বাহান্নটি দরজা ছিল, যার কারণে এই শহর বাওন গেটাচে শহর (অর্থাৎ "৫২ দুয়ারী শহর") নামেও পরিচিত। বর্তমানে এদের মধ্যে মাত্র ১৫টি দরজা অতীত গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে টিকে আছে। এই তোরণগুলি বর্তমান শহরের বিশিষ্ট দর্শনীয় বস্তু। এই তোরণগুলির নাম হলো-

  • বারাপুল্লা গেট
  • ভাদকাল দরওয়াজা
  • দিল্লি গেট
  • কালা দরওয়াজা
  • খাস গেট
  • খিজের গেট
  • মাকাই গেট
  • মঞ্জু গেট
  • মাহমুদ দরওয়াজা
  • নওবত দরওয়াজা
  • পাইঠান গেট
  • রঙিন দরওয়াজা
  • রওশন গেট
  • ইসলাম দরওয়াজা (কাট-কাট গেট)
  • জাফর গেট

ঔরঙ্গাবাদ ভ্রমণে এসে পর্যটকরা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের সমকালীন এক প্রাচীন ইতিহাসের সন্ধান পাবেন। সেই সময় সাতবাহন শাসকরা প্রতিষ্ঠানপুরে তাদের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন, যা আজকের পৈঠান নামে পরিচিত। আনুমানিক এই সময়েই বর্তমান অজন্তা অঞ্চলের পাহাড়ী গুহাগুলির অভ্যন্তরের পাথুরে দেওয়াল খোদাই করে সেগুলিকে বৌদ্ধ বিহার বা বৌদ্ধ মঠের রূপ দেওয়া হয়। গুহার দেওয়ালে উৎকীর্ণ করা হয় মনোমুগ্ধকর গুহাচিত্রগুলি। সময়ের সাথে এই গুহাগুলি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায় এবং উনিশ শতকে পুনরাবিষ্কৃত হয়। ইলোরার গুহাচিত্রগুলো মূলত পঞ্চম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে উৎকীর্ণ করা হয়েছিল। এই গুহাচিত্রগুলিতে প্রাচীন ভারতের অন্যতম তিনটি প্রধান ধর্ম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মের পরিবর্তনশীল ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যের ধারনা এবং ঔরঙ্গাবাদ, এই দুইয়ের সম্পর্ক বহু পুরনো। এই শহর বহু রাজবংশের উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে, বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের শাসকদের ক্ষমতাধীন হয়েছে, যারা প্রত্যেকে এই শহরের উপর নিজস্ব প্রভাব রেখে গেছেন।

যাদব রাজারা তাদের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন দেবগিরি (বা দেওগিরি) নামক স্থানে এবং সেখানে তারা একটি দুর্গ নির্মাণ করেন যা আজও অটুটভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই দুর্গটি এক সময় অজেয় বলে বিবেচিত হতো, কিন্তু দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি দীর্ঘ অবরোধের মাধ্যমে এটি দখল করেন এবং দুর্গের নাম পরিবর্তন করে রাখেন দৌলতাবাদ। তাঁর সেনাপতি মালিক কাফুর এই অঞ্চলে খিলজিদের কর্তৃত্ব সুসংহত করেন। পরবর্তীতে দিল্লি সালতানাতের শাসন চলে আসে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের হাতে এবং দুর্গটি তাঁর অধীনে চলে যায়। মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন তাঁর বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য। তিনি দিল্লি থেকে রাজধানী সরিয়ে দৌলতাবাদে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শহরের আপামর জনগনকেও সাথে করে নিয়ে যান। কিন্তু নতুন রাজধানীতে জল সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে আবার দিল্লিতে ফিরে আসতে হয়। এই ব্যর্থ পরিকল্পনা তাঁর নামকে এক বিশেষ অভিধায় পরিণত করে। ভারতে শাসকদের অস্থির ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তকে আজও অনেকে "তুঘলকি নীতি" বলে অভিহিত করেন।

এরপর এই অঞ্চলের শাসন চলে যায় দাক্ষিণাত্যের স্থানীয় মুসলিম শাসকদের হাতে, যারা দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। ১৬১০ সালে মুর্তজা নিজাম শাহ দ্বিতীয়র প্রধান মন্ত্রী মালিক অম্বর এই অঞ্চলে পুনরায় একটি শহরের প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেওয়া হয় ফতেহ্পুর। ধীরে ধীরে এই জনপদের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে ঔরঙ্গজেব যখন দাক্ষিণাত্যের রাজপ্রতিনিধি(ভাইসরয়) নিযুক্ত হন, তখন তিনি এই শহরকে নিজের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এর নাম দেন ঔরঙ্গাবাদ। এই সময়কাল শহরের ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত হ্য। তখন সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে ঔরঙ্গাবাদ সর্বোচ্চ বিকাশ লাভ করে। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার আধিপত্য সুদৃঢ় না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলের শাসনক্ষমতা বারংবার এক শাসকের হাত থেকে অন্য শাসকের হাতে বদলাতে থাকে।শাহুজাহান এবং তার পুত্র ঔরঙ্গজেবকে এই অঞ্চলে রাজপ্রতিনিধি(গভর্নর) হিসেবে নিযুক্ত করেন। ঔরঙ্গজেব এখানেই তার নিজস্ব ঘাঁটি স্থাপন করেন। ১৬৭৯ সালে ঔরঙ্গজেব পুত্র তার মা বেগম রাবিয়া দুরানির স্মৃতিতে তাজমহলের অনুকরণে ঔরঙ্গাবাদে এক সৌধ নির্মাণ করেন যার নাম দেওয়া হয় বিবি কা মকবরা। এই সৌধ আজও দাক্ষিণাত্যে মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। ১৬৮১ সালে শাসক হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দক্ষিণ ভারতকে চূড়ান্তভাবে দমন করার সংকল্প নিয়ে ঔরঙ্গজেব পুনরায় ঔরঙ্গাবাদে ফিরে আসেন। জীবনের শেষ দুই দশক তিনি মারাঠাদের বিরুদ্ধে নিষ্ফল যুদ্ধ অভিযানে ব্যায় করেন। ১৭০৭ সালে তিনি ঔরঙ্গাবাদের নিকটস্থিত খুলদাবাদে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই সমাধিস্থ হন। তাঁর এই যুদ্ধপর্বই শেষ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পথ প্রশস্ত করে

ঔরঙ্গাবাদ শহরটি একসময় সম্পূর্ণভাবে দুর্গবেষ্টিত ছিল এবং সেখানে নির্মিত হয়েছিল বিশাল বিশাল প্রবেশদ্বার বা তোরণ। ভাদকাল গেট ছাড়া বাকি সব গেটই ঔরঙ্গজেবের শাসনকালের সঙ্গে সম্পর্কিত। শহরের চারদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি তোরণের অবস্থান ছিল, যেগুলি হল উত্তরমুখী দিল্লি গেট, দক্ষিণমুখী পৈঠান গেট, পূর্বমুখী মাকাই গেট (বা মক্কা গেট) এবং পশ্চিমমুখী খাস গেট। ঔরঙ্গাবাদে মোট ৫৪টি তোরণ ছিল যাদের মধ্যে ৫২টি তোরণের নাম ঐতিহাসিকভাবে নথিভুক্ত, কিন্তু বর্তমান সময়ে মাত্র ১৩টি তোরণ টিকে আছে। স্থাপত্যশৈলীতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ গেটগুলোর মধ্যে রয়েছে: দিল্লি গেট, কালা দরওয়াজা, মাকাই গেট, পৈঠান গেট এবং রঙিন দরওয়াজা

২০২২ সালের ২৯ জুন তারিখে, ঔরঙ্গাবাদ শহরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের পুত্র এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাটের নামে শহরের নতুন নামকরণ করা হয় "ছত্রপতি সম্ভাজিনগর"।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদের জলবায়ু সাধারণত মৃদু প্রকৃতির, যেখানে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম এবং আবহাওয়ার বৈচিত্র্য থাকলেও তা চরম নয়।

ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ঔরঙ্গাবাদেও তিনটি প্রধান ঋতু পরিলক্ষিত হয়: গ্রীষ্ম, শীত এবং বর্ষা।

ঔরঙ্গাবাদে গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে পর্যন্ত স্থায়ী হয়, এই সময়ে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭°সে এবং সর্বনিম্ন ২১°সে। গরমের দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪৫°সে পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে তার বেশি হয় না। গ্রীষ্মের রাতগুলো সাধারণত আরামদায়ক ও ঠান্ডা থাকে। এই ঋতুতে গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা মাত্র ৯%।

শীতকালের স্থায়ীত্ব নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যা ঔরঙ্গাবাদ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২°সে এবং সর্বনিম্ন ১০°সে। ঠান্ডা বাড়লে তাপমাত্রা ৭°সে পর্যন্ত নেমে যায়, তবে সেটাই সাধারণত সর্বনিম্ন। গ্রীষ্মের মতো শীতকালেও রাতের তাপমাত্রা কমে যায়। গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১৭%।

বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে এবং এই সময়ে গড়ে ৯১ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এই ঋতুতে গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০%।

আঞ্চলিক ভাষা

[সম্পাদনা]

মহারাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলের মতো, ঔরঙ্গাবাদের লোকেরা মারাঠি ভাষায় কথা বলে। পাশাপাশি হিন্দি, উর্দু এবং ইংরেজি ভাষাও এখানে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। গনপরিষেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা সাধারণত ভালো ইংরেজি বলতে পারেন।

কিভাবে আসবেন

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদ দেশের অন্যান্য অংশের সাথে বিমান, রেল এবং সড়কপথে সুসংযুক্ত। মহারাষ্ট্র ও গোয়ার সাপেক্ষে এর কেন্দ্রীয় অবস্থান যোগাযোগ ব্যাবস্থার ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করেছে। মহারাষ্ট্রের সমস্ত প্রধান শহরই ঔরঙ্গাবাদ থেকে মোটামুটি ৫০০ কিলোমিটারেরবিব মধ্যে অবস্থিত। জাতীয় ও রাজ্য সড়কের একটি সুসংগঠিত অন্তর্জাল শহরটিকে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

বিমানে

[সম্পাদনা]
ঔরঙ্গাবাদ বিমানবন্দর
  • 1 ঔরঙ্গাবাদ বিমানবন্দর (চিকালথানা বিমানবন্দর, আইএক্সইউ  আইএটিএ, মারাঠি: औरंगाबाद विमानतळ), জালনা রোড, চিকালথানা (শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ৪ কিমি পূর্বে, চিকলথানা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৫০০ মি.), +৯১ ২৪০ ২৪৭ ৬১৪৭, +৯১ ৯৪২২২১০১৫১, ফ্যাক্স: +৯১ ২৪০ ২৪৮৭০৪৪, ইমেইল: এয়ার ইন্ডিয়া সংস্থা মুম্বাই এবং দিল্লি থেকে বিমান পরিষেবা প্রদান করে, এছাড়াও ইন্ডিগো সংস্থা মুম্বাই, দিল্লি এবং হায়দ্রাবাদ থেকে বিমান পরিষেবা প্রদান করে। উইকিপিডিয়ায় Aurangabad Airport (Q2903059)

ট্রেনে

[সম্পাদনা]
  • 2 ঔরঙ্গাবাদ রেলওয়ে স্টেশন (স্টেশন কোড: এডব্লুবি), ভানুদাস সভাগ্রহ রেলওয়ে স্টেশন রোড, পদ্মপাণি কলোনি মুম্বই, নাগপুর, নয়াদিল্লি, অমৃতসর, হায়দ্রাবাদ এবং পুনে রেলস্টেশন থেকে ঔরঙ্গাবাদ অবধি সরাসরি ট্রেন চলাচল করে। মুম্বই থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী ট্রেনগুলি ৩৭৫ কিমি দীর্ঘ রেলপথ সাড়ে ছয় ঘন্টায় অতিক্রম করে এবং যাত্রাপথে মূলত মানমাড়, নাসিক, কল্যাণ, থানে ও দাদর স্টেশন হয়ে যায়। এই ট্রেনে বাতানুকূল শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত আসনের খরচ ভারতীয় মুদ্রায় ৪১০ টাকা এবং শয়নযানের জন্য খরচ ১১৪০ টাকা। নাগপুর থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী ট্রেনগুলি জলনা, পরভনী, নান্দেড, আদিলাবাদ, ওয়ানি এবং সেওগ্রাম স্টেশন ধরে। নয়াদিল্লি থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী ট্রেনগুলি ভোপাল, ঝাঁসি, গোয়ালিয়র এবং আগ্রা রেলস্টেশন ধরে। অমৃতসর এবং নয়াদিল্লি থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী সকল ট্রেন প্রায় একই রেলপথ অনুসরন করে; তবে অমৃতসর থেকে আগমনকারী ট্রেনগুলি পানিপত, লুধিয়ানাজলন্ধর এই তিনটি অতিরিক্ত স্টেশন ধরে। হায়দ্রাবাদ থেকে ঔরঙ্গাবাদ আগমনকারী ট্রেনগুলি মূলত জলনা, পরভনী, নান্দেড, ধর্মাবাদ, বাসার, নিজামাবাদসেকেন্দ্রাবাদ স্টেশন ধরে। ঔরঙ্গাবাদ স্টেশনে নির্ধারিত হারে মালবাহক ভাড়া করা যায়: সর্বোচ্চ ১০ কেজি ওজনের মাল অথবা ৩টি খুচরা মাল (দুটির মধ্যে যেটি সাশ্রয়ী) বহনের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় খরচ ২৫ টাকা। অতিরিক্ত ৫ কেজি/খুচরা মালের জন্য (দুটির মধ্যে যেটি সাশ্রয়ী) ২০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) করে দিতে হয়। উপরোক্ত খরচের হিসেবগুলি ৩০০ ঘন সেন্টিমিটার বা তার কম ওজনযুক্ত হালকা ব্রিফকেসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে তার জন্য অতিরিক্ত ৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) নেওয়া হয়। মালবাহকরা কোনো রসিদ প্রদান করেন না। ইচ্ছা হলে তাদেরকে ৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) টিপস দিতে পারেন। (Q17514078)

মানমাড়: ঔরঙ্গাবাদ থেকে মধ্য রেলওয়ের নিকটতম রেল জংশন। এখান থেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য সরাসরি ট্রেন পাওয়া যায়। মানমাড় থেকে ট্রেন বা সড়কপথে সহজেই ঔরঙ্গাবাদ পৌছানো যায়। সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। যদি আপনি সংযোগকারী ট্রেনে যাতায়ত করতে চান, অর্থাৎ যদি আপনি ট্রেনে করে মানমাড় স্টেশনে এসে আবার সেখান থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী ট্রেন ধরতে চান তাহলে একটি কথা অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত; মানমাড় থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী ট্রেনের প্রস্থানের সময় এবং আপনার মানমাড় স্টেশনে অবতরনের সময়কাল, এই দুইয়ের মধ্যে যেন অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যবধানে থাকে। যদি পূর্ববর্তী ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার কারণে আপনি সংযোগকারী ট্রেন ধরতে না পারেন, তাহলে সংযোগকারী স্টেশন বা গন্তব্য স্টেশন এই দুইটির যেকোনো একটিতে সম্পূর্ণ ট্রেনভাড়া ফেরৎ পাবেন। দিনে ও রাতে চলাচলকারী ট্রেনের সর্বোচ্চ ভাড়াযুক্ত সংরক্ষিত কামরাগুলি হল: শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেনীর শয়নযান (রেলওয়ে কোড 'এইচ'), শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় শ্রেনীর শয়নযান (কোড 'এ') এবং শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত তৃতীয় শ্রেনীর শয়নযান (কোড 'বি')। শুধুমাত্র দিনের চলাচলকারী ট্রেনগুলিতে শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত আসন (কোড 'সি') উপলব্ধ আছে। ট্রেনগুলিতে সংরক্ষিত সাধারন শয়নযান (কোড 'এস') এবং সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেনীর কামরাও (কোড 'ডি') উপলব্ধ রয়েছে।

  • 3 ঔরঙ্গাবাদ কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড (কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন (সিবিএস)), সিটি বাস স্টেশন রোড, মাহাদা (সিদ্ধার্থ গার্ডেন এবং চিড়িয়াখানার কাছে)। মুম্বই থেকে বাসে করে পুনে অথবা নাসিক হয়ে ঔরঙ্গাবাদে আসা যায়। সড়কপথে পুনে হয়ে যাত্রা করলে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে। শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫০–৬৫০ টাকা, শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত ও শয়নযানের সুবিধাযুক্ত বাসের ভাড়া ৭০০–৮৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়)। সাধারন বাসের ভাড়া ২৫০–৩৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়)। পুনে থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী বাসগুলি শিবাজিনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত, প্রতি আধঘণ্টা অন্তর বাস পাওয়া যায়। শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত বাসের সাথে সাথে সাধারণ বাসও আছে। বেসরকারী বাস ব্যবহার না করাই ভালো কারণ সেগুলো সময়ে ছাড়ে না। নাসিক (কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন (সিবিএস)) থেকে মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন নিগমের(এমএসআরটিসি) বাস প্রতি ঘণ্টায় ছাড়ে যার পরিচালনা করে 'এসিয়াড'। নাগপুর থেকে ঔরঙ্গাবাদ পৌছাতে এই বাসগুলি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেয়। এছাড়াও বাসস্ট্যান্ডে বেসরকারী বাতানুকূলীন বাস ও সাধারণ বেসরকারী বাস উপলব্ধ। হায়দ্রাবাদ, সোলাপুর, কোলাপুর, গোয়া, আহমেদাবাদ, ইন্দোর এবং অন্যান্য নিকটবর্তী পর্যটনস্থল যেমন লোনার ক্রেটার (১৭০ কিমি), শিরডি (১৪৪ কিমি) এবং শনিশিংনাপুর (৯০ কিমি) থেকেও ঔরঙ্গাবাদ অবধি বাস সংযোগ রয়েছে। এমএসআরটিসির 'রেড বাস' অত্যন্ত নিরাপদ এবং আরামদায়ক। এগুলো নির্দিষ্ট বাস স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে ছাড়ে এবং ঔরঙ্গাবাদের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল, যেমন: ঘৃষ্ণেশ্বর মন্দির (৩০ কিমি), বিবি কা মকবরা (১৫ কিমি), পন-চাক্কি (১২ কিমি), দৌলতাবাদ দুর্গ (১৫ কিমি), খুলতাবাদ (২০ কিমি), পৈঠান (৫১ কিমি) ইত্যাদি স্থানে গমন করে। এই বাসের আগাম বুকিংয়ের প্রয়োজন নেই। টিকিট বাসেই প্রদান করা হয়। ঔরঙ্গাবাদ থেকে আসা এবং যাওয়ার সমস্ত বাসের সময়সূচী জানতে এমএসআরটিসি সাইট দেখুন। (ওয়েবসাইট থেকে বাস বুক করার জন্য বাস স্টেশনের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন, যেমন পুনে থেকে বাস ধরার জন্য আপনাকে 'শিবাজিনগর' বাস স্ট্যান্ডের কথা উল্লেখ করতে হবে, ইলোরা থেকে বাস ধরার জন্য আপনি 'ভেরুল' বাস স্ট্যান্ডের কথা উল্লেখ করতে পারেন।)
  • 4 এমএসআরটিসির ঔরঙ্গাবাদ ডিপো (সিডকো বাস স্ট্যান্ড), সিডকো, এন-১ (লেমন ট্রি হোটেলের কাছে), +৯১ ২৪০ ২২৪০১৪৯ এই বাস ডিপো থেকে শহরের আভ্যন্তরীন বাস পরিষেবা পরিচালিত হয়। এই বাসগুলো প্রতিটি বাস স্টপেজে থামে এবং ছোট গ্রাম ও স্থানীয় এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এছাড়াও এখান থেকে দীর্ঘপথের বাস পরিষেবাও চালু রয়েছে, যা অন্যান্য জেলা ও শহরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

এই শহরগুলোর পাশাপাশি ঔরঙ্গাবাদ থেকে সরাসরি বাস সংযোগ রয়েছে হায়দ্রাবাদ, সোলাপুর, কোলাপুর, গোয়া, আহমেদাবাদ, ইন্দোর এবং আরও অনেক শহরের।

  • 5 বেসরকারী বাস ডিপো (ট্রাভেলস ডিপো), ইজি ডে মলের কাছে এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস পরিচালকদের জন্য নির্ধারিত ডিপো, যেখানে ভ্রমণ সংস্থার অফিস এবং বাস বুকিং পরিষেবা প্রদানকারীদের কার্যালয়ও রয়েছে। এখান থেকে দীর্ঘপথের বাস এবং অন্যান্য শহর ও জনপদের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে এবং সাধারণত শহর ছাড়ার সময় অন্যান্য স্থান থেকেও যাত্রী তোলা হয়। বেশিরভাগ ব্যক্তিগত বাস পরিষেবার মান গড়পড়তা। নির্ধারিত সময়ের থেকে এক ঘণ্টা বিলম্ব সাধারণ ঘটনা এবং কখনও কখনও আসন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বাস ছাড়ে না।ব্যক্তিগত বাস পরিষেবা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে অনলাইন ফোরাম ও রিভিউ দেখে নেওয়া উচিত (www.redbus.in এই বিষয়ে সহায়ক হতে পারে।) যদি কয়েক ঘণ্টার স্বল্প দূরত্বের যাত্রা হয়, তাহলে সরকারি বাস পরিষেবা ব্যবহার করাই শ্রেয়, কারণ তা সময়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য।

ঔরঙ্গাবাদ থেকে আসা এবং আসা সমস্ত বাসের সময়সূচীর জন্য এমএসআরটিসি (মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন নিগম) ওয়েবসাইটটি দেখুন (বিঃদ্রঃ- ওয়েবসাইট থেকে বাস বুক করার জন্য বাস স্টেশনের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন, যেমন পুনে থেকে বাস ধরার জন্য আপনাকে 'শিবাজিনগর' বাস স্ট্যান্ডের কথা উল্লেখ করতে হবে, ইলোরা থেকে বাস ধরার জন্য আপনি 'ভেরুল' বাস স্ট্যান্ডের কথা উল্লেখ করতে পারেন।)

ঔরঙ্গাবাদ স্মার্ট সিটি উন্নয়ন নিগমের পক্ষ থেকে শহরের বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন ভর্তুকিযুক্ত হারে স্মার্ট সিটি বাস পরিষেবা প্রদান করা হয় করা হয়। এই বাসগুলি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাড়ে।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদ মহারাষ্ট্রের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে সড়কপথে সুসংযুক্ত —যেমন মুম্বই (৪০০ কিমি), নাগপুর, পুনে (২৩৭ কিমি), এবং নাসিক (১৯০ কিমি)। এই মহাসড়ক সংযোগের ফলে বিশ্ববিখ্যাত পর্যটনস্থল অজন্তা (১০৭ কিমি) ও ইলোরার (২৯ কিমি) যাত্রা অত্যন্ত আরামদায়ক ও সহজ হয়েছে। শহরে অনেক সংস্থা রয়েছে যারা গাড়ি ভাড়া দেয়। হিন্দু হৃদয়সম্রাট বালাসাহেব ঠাকরে মহারাষ্ট্র সমৃদ্ধি মহামার্গটি ঔরঙ্গাবাদ শহরের মধ্যে দিয়ে যায়, যার ফলে নাগপুর ও পুনের সঙ্গে শহরের সংযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।

কিভাবে ঘুড়বেন

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
ঔরঙ্গাবাদের মানচিত্র

ঔরঙ্গাবাদ শহরে অভ্যন্তরীণ বাস, মিটারযুক্ত অটোরিকশা, চালকসহ ট্যাক্সি ইত্যাদি সমস্ত ধরনের পরিবহন পরিষেবা উপলব্ধ। শহরের অভ্যন্তরীণ বাস পরিষেবা পৌর কর্পোরেশনের মালিকানাধীন হলেও তা ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত হয়। ঔরঙ্গাবাদ পৌর পরিবহনের(এএমটি) অধীনস্থ বাসগুলি শহর এবং শহরতলি অঞ্চলে চলাচল করে। এই বাসগুলি হাজার হাজার নাগরিককে সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের অফিস, স্কুল এবং কলেজে পৌছে দেয়।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

এএমটি এবং স্মার্ট বাস

[সম্পাদনা]

এএমটি (ঔরঙ্গাবাদ পৌর পরিবহন) শহরের অভ্যন্তরে এবং শহরতলির বিভিন্ন অংশে বাস চালায়, যা শহরের বিভিন্ন অঞ্চল ও সংলগ্ন উপশহরগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এই বাস পরিষেবা সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করে। এএমটির বাসগুলি প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে তাদের কর্মস্থল, স্কুল ও কলেজে নিয়ে যায় এবং নিয়ে আসে, যার ফলে সকাল ও সন্ধ্যায় এই বাসগুলোতে অত্যন্ত ভিড় থাকে।

ঔরঙ্গাবাদ পৌর সংস্থার পক্ষ থেকে ভর্তুকিযুক্ত হারে শহরের মধ্যে স্মার্ট সিটি বাস পরিষেবা পরিচালনা করা হয়। এই বাসগুলোতে এএমটি বাসের তুলনায় অনেক কম ভিড় থাকে এবং এগুলিতে অনেক বেশি সুবিধা উপলব্ধ থাকে। এই বাসগুলো শহরের অধিকাংশ এলাকায় সহজলভ্য।

এমএসআরটিসি, আইটিডিসি এবং অন্যান্য ভ্রমণ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত বাস ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

এমআরএসটিসি (মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন নিগম) এবং আইটিডিসি (ভারত পর্যটন উন্নয়ন নিগম) প্রতিদিন তাদের আধা-বিলাসবহুল বাসে ইলোরা, অজন্তা এবং দৌলতাবাদের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভ্রমণের আয়োজন করে। এই সফরে প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি ঔরঙ্গাবাদ শহরের অন্যান্য পর্যটনস্থলকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব ভ্রমণ ঔরঙ্গাবাদ কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড (সিবিএস) থেকে বুক করা যায়।

ভ্রমণ ১: ঔরঙ্গাবাদ সিবিএস বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রথমে অজন্তা গুহা দেখে তারপর বিবি-কা-মকবারা এবং সবশেষে পন-চাক্কি হয়ে ঔরঙ্গাবাদ সিবিএস বাস স্ট্যান্ডে অবতরন।

ভ্রমণ ২: ঔরঙ্গাবাদ সিবিএস থেকে বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রথমে ইলোরা গুহা তারপর সেখান থেকে দৌলতাবাদ দুর্গ, বিবি-কা-মকবারা এবং পন-চাক্কি দেখে ঔরঙ্গাবাদ সিবিএস বাস স্ট্যান্ডে অবতরন।

যদি আপনি সীমিত সময়ের মধ্যে সমস্ত দর্শনীয় স্থানগুলি দ্রুত ঘুরে দেখে নিতে চান তাহলে উপরোক্ত বাস সফরগুলি আপনার জন্য উপযুক্ত। তবে আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে ভালোভাবে ঘুরতে চান তাহলে সীমিত সময়সূচির বাস সফর চয়ন না করাই ভালো। কারন এই বাস সফরগুলিতে দর্শনীয় স্থানগুলি খুব দ্রুত দেখে নিতে হয়, যার ফলে পর্যটকরা নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পান না।

অটোরিকশায় করে

[সম্পাদনা]
প্রথমবারের মতো ঔরঙ্গাবাদ ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ


ঔরঙ্গাবাদে মিটারযুক্ত অটোরিকশা (তিন চাকার ট্যাক্সি) রয়েছে, যা মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার ভিত্তিতে চলে (বিস্তারিত নিচে দেওয়া হয়েছে)। কিন্তু দেখা যায় যে অন্যান্য পর্যটনস্থলের মতো এখানেও অটোরিকশা চালকেরা পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। বিশেষ করে রেলওয়ে স্টেশন, কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড বা বেসরকারি বাসের স্টপেজে তারা নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় বেশি মূল্য দাবি করেন। অটোরিকশায় ওঠার আগে চালককে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করুন যে তিনি মিটার রিডিংয়ের উপর ভিত্তি করে আপনার কাছ থেকে ভাড়া নেবেন কিনা। খেয়াল রাখবেন যেন আপনি অটোতে ওঠার পরেই অটোচালক মিটারটি সক্রিয় করে। এছাড়াও চালকের কাছে প্রত্যয়িত ভাড়ার ট্যারিফ কার্ড আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। আসল ভাড়া সাধারণত মিটার রিডিং-এর প্রায় ১০ গুণ হয়(ভারতীয় মুদ্রা অনুযায়ী)। তবে আপনি চাইলে ১২ গুণ পর্যন্ত দিতে পারেন। চালকের পরিষেবায় সন্তুষ্ট হলে ভাড়ার ১০% পর্যন্ত টিপস দেওয়া যেতে পারে। মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অটোরিকশা সফরের খরচ স্বাভাবিক ভাড়ার ১.৫ গুণ, অর্থাৎ মিটার রিডিংয়ের প্রায় ১৫ গুণ। ঔরঙ্গাবাদের অনেক বাসিন্দার মতে, রাত ১১:৩০ থেকে ভোর ৫:৩০ পর্যন্ত অটোচালকদের আধা ঘণ্টা সময়ের হিসাবে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করা উচিত।

পর্যটকদের জন্য ঔরঙ্গাবাদে যাতায়াতের সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হলো মিটারযুক্ত অটোরিকশা (তিন চাকার ট্যাক্সি) অথবা চালকসহ ট্যাক্সি। এই ট্যাক্সিগুলোর ভাড়া খুব বেশি নয় এবং এগুলো অজন্তা, ইলোরা, দৌলতাবাদ ইত্যাদি স্থানে একদিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ। শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সির ন্যূনতম ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৬০ টাকা (প্রথম ৮০ কিমি অন্তর্ভুক্ত)। এরপর প্রতি কিলোমিটারে ৭ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় অথবা ৮ ঘণ্টার হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়। দুটির মধ্যে যেটি সাশ্রয়ী, সেই অনুযায়ী হিসাব করা হয়। উন্নত মানের ট্যাক্সির ভাড়াও একইভাবে গণনা করা হয়। তবে উন্নত মানের ট্যাক্সিতে প্রতি কিলোমিটারের খরচ বেশি হয়।

মিটারযুক্ত অটোরিকশা নিঃসন্দেহে শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। এই তিন চাকার অটোরিকশাগুলো মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার ভিত্তিতে চলে। চালকের কাছে থাকা 'ট্যারিফ কার্ড' অনুযায়ী মিটার রিডিং পড়ে এককালীন সফরের ভাড়া নির্ধারন করা হয়। আসল ভাড়া সাধারণত মিটার রিডিংয়ের প্রায় ১০ গুণ হয়। যাত্রা শুরুর সময় চালক যেন মিটার চালু করেন তা নিশ্চিত করা জরুরি। মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অটোরিকশার ভাড়া স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় ১.৫ গুণ। সাধারণ ভাড়ার সর্বনিম্ন হার মাত্র ১৪ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়)।

ট্যাক্সিতে করে

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদ শহর ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য আদর্শ বিকল্প হল চালকসহ ট্যাক্সি এবং পর্যটন ট্যাক্সি। এই ধরনের পর্যটন ট্যাক্সি শহরের বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে বুক করা যায়। প্রায় সব হোটেলেই একটি ট্যাক্সি কাউন্টার থাকে। ভাড়া প্রতি কিলোমিটারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং ন্যূনতম ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত গণনা করা হয়। ভাড়ার পরিমাণ নির্ভর করে গাড়ির শ্রেণি এবং ধরণ (বাতানুক্কুল বা সাধারণ) অনুযায়ী। খেয়াল রাখুন, আপনি যে ট্যাক্সি ভাড়া নিচ্ছেন সেটি যেন ব্যক্তিগত গাড়ি না হয়ে পর্যটন দপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত গাড়ি হয়। পর্যটনের অনুমোদনপ্রাপ্ত গাড়িগুলো সহজেই হলুদ নম্বর প্লেট দেখে শনাক্ত করা যায়।

ঔরঙ্গাবাদে ওলা এবং উবের -এই দুই বেসরকারী সংস্থা তাদের ক্যাব পরিচালনা করে। শহরের কেন্দ্রস্থলে চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

গাড়ি বা দুই চাকার গাড়িতে

[সম্পাদনা]

স্থানীয় মানুষের জন্য সবচেয়ে সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থা। তবে পর্যটকদের ক্ষেত্রে, ভারতে স্বচালিত গাড়ি বা মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাওয়া সহজ নয়। শহরের রাস্তায় গাড়ি চালানো মোটামুটি আরামদায়ক, কারণ যানজট খুব বেশি নয় এবং রাস্তাগুলো বেশ প্রশস্ত (শহরের পুরনো অংশ বাদে)। তবে কিছু রাস্তা ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, এবং সেখানে গর্ত বা ভাঙাচোরা অংশ থাকার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণভাবে, শহর এবং এর আশেপাশে গণপরিবহন মোটামুটি ভালো।

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]
  • 1 ঔরঙ্গাবাদ গুহা (বিবি কা মকবারা থেকে ২ কিমি উত্তরে)। সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘন্টা খোলা। অলংকরণহীনভাবে উপস্থাপিত এই গুহাগুলি স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন। শহরের ঠিক বাইরে অবস্থিত এই গুহাগুলি আনুমানিক দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে খননকার্যের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। এগুলিতে অত্যাশ্চর্য জটিল খোদাই কার্য পরিলক্ষিত হয়। এখানে মোট নয়টি গুহা রয়েছে, যার বেশিরভাগই বৌদ্ধ বিহার। এদের মধ্যে চতুর্থ এবং সপ্তম গুহা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চতুর্থ গুহাটি ১২টি স্তম্ভের উপর সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপিত এবং সেই স্তম্ভগুলিতে জাতকের বিভিন্ন গল্পের দৃশ্য খোদাই করা হয়েছে। সপ্তম গুহাটিতে সালাঙ্কারা নারীদের প্রস্তরচিত্র খোদাই করা হয়েছে। এই স্থানের মূল আকর্ষণ হলো একটি ‘বোধিসত্ত্ব’ মূর্তি। মূর্তিটিতে বোধিসত্ত্বকে তার নিজ মুক্তির জন্য প্রার্থনারত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ২০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়)
তাজমহলের আদলে তৈরি বিবি কা মকবারা, ঔরঙ্গাবাদ
  • 2 বিবি কা মকবরা (শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ১২ কিমি। কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন থেকে মকবারা বাস স্টপে যাওয়ার জন্য একটি এমআরএসটিসি বাস ধরতে পারেন)। তাজমহলের আদলে নির্মিত বিবি-কা-মকবরা দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে সমগোত্রীয় মুঘল স্থাপত্য শৈলীর একমাত্র উদাহরণ। ১৬৭৯ সালে আওরঙ্গজেবের পুত্র তার মা বেগম রাবিয়া দুরানির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি নির্মাণ করেছিলেন। ২০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়) (Q856259)
  • 3 ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা - ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর মারাঠওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয় (বোটানিক্যাল গার্ডেনের উত্তরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত।)। এখানে বহু প্রাচীন ভারতীয় চিত্রকলা, মুদ্রা, বস্ত্র, অস্ত্র এবং শিল্পবস্তুর প্রদর্শনী রয়েছে। জাদুঘরের সুবিশাল সংগ্রহের মধ্যে নিকটবর্তী ভোকারদন নামক ঐতিহাসিক স্থানে খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত কিছু চমৎকার ভাস্কর্য রয়েছে।
  • 4 পান চাক্কি, পান চাক্কি সড়ক (খামি নদীর বাঁধ। সিবিএস থেকে ভিআইটিএস হোটেলে যাওয়ার যেকোন উত্তরমুখী সিটি বাস ধরুন এবং বাস থেকে নেমে আধা কিমি পশ্চিমে হেঁটে যান। অথবা ডঃ আম্বেদকর ল কলেজে যাওয়ার জন্য যেকোন বাস ধরুন এবং বাস স্টপে নামার পর ৩০০ মিটার হেঁটে যান।)। এটি সপ্তদশ শতাব্দীর একটি জলচালিত চক্র (ওয়াটার মিল), যেখানে তীর্থযাত্রীদের জন্য শস্য পেষাই করা হত। এখানে একটি মনোরম উদ্যান রয়েছে, যেখানে একাধিক জলাধারে সুন্দর মাছ রাখা আছে। এই স্থানটি এক সুফি সাধকের স্মৃতিসৌধ হিসাবেও পরিচিত।
  • 5 শ্রীমন্ত ছত্রপতি শিবাজী রাজে সংগ্রহশালা, ডঃ আম্বেদকর রোড, হিমায়তবাগ (কালেক্টর অফিস বাস স্টপ, দিল্লি গেটের কাছে)। মহারাষ্ট্রের মহান যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের নামে নামাঙ্কিত এবং তার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই জাদুঘরটিতে শিবাজির জীবনের সাথে সম্পর্কিত বহু দুর্লভ নিদর্শন ও প্রদর্শনী সংরক্ষিত রয়েছে।
  • 6 সোনেরি মহল (বোটানিক্যাল গার্ডেনের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে। ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর মারাঠওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের মধ্যে অবস্থিত। ঔরঙ্গাবাদ গুহায় যাওয়ার পথে।)। একটি পুরাতন ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ যা এখন জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরণের প্রাচীন ভারতীয় মৃৎশিল্প, পোশাক, স্থানীয় প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রাচীন জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয় খননকাজ থেকে প্রাপ্ত বেশ কিছু ভাস্কর্য এবং অলঙ্করণচিত্র প্রদর্শিত হয়।

করণীয়

[সম্পাদনা]
  • 1 সিদ্ধার্থ গার্ডেন, মহাদা (ঔরঙ্গাবাদ সেন্ট্রাল বাস স্টেশনের পাশে)। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে ঘেরা একটি বাগান, যেখানে বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং গুল্ম রয়েছে। বাগানের ভেতরে একটি মাছের চৌবাচ্চা রয়েছে। এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সিদ্ধার্থ গার্ডেন চিড়িয়াখানা, যেখানে সিংহ, সাদা বাঘ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, কুমির, সাপ (সাপের ঘরে রাখা হয়), সিভেট বিড়াল, হায়েনা, শিয়াল, কাঠবিড়ালি, এমু, হরিণসহ নানা ধরনের প্রাণী রয়েছে। এখানকার বিস্তৃত ঘাসের মাঠে বনভোজনের আয়োজন করা যায়।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]
  • এখানকার স্থানীয় এবং জাতিগত ঐতিহ্যের পরিচায়ক হিমরু ও মিশরু শাল, বিছানার চাদর এবং পৈঠানি শাড়ি ক্রয় করতে পারেন।
    • হিমরু ফ্যাব্রিক, নতুন ঔরঙ্গাবাদ (মোন্ধা রোড ঔরঙ্গাবাদ)।
    • ঔরঙ্গাবাদ হিমরু পৈঠানি বয়ন কেন্দ্র, জাফর গেট মন্ডা রোড, +৯১ ৯৯২৩৩৬৫০২৫, ইমেইল:
  • সারাফা সিটি চৌকের কাছে অবস্থিত খাদি গ্রামোদ্যোগ ভাণ্ডার থেকে আপনি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাদি পোশাক, বিশুদ্ধ মধু, হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ ভারতে তৈরি হাতে গড়া শিল্পবস্তু ও শৌখিন সামগ্রী কিনতে পারেন। এখানকার খাদি কাপড় বিশুদ্ধ তুলা থেকে হাতে বোনা হয় এবং এই বিক্রয়কেন্দ্রটি ভারত সরকারের অনুমোদিত অফিসিয়াল আউটলেট। স্থানীয় ‘দেউলগাঁও রাজার’ প্রাসাদটি এই খাদি গ্রামোদ্যোগ ভাণ্ডারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই স্থানের পরিবেশ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গঠিত খাদি (চরকায় বোনা কাপড়) ও গ্রামোদ্যোগ (গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প)-এর ভাবনাকে জীবন্ত করে তোলে। এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান।
  • অজন্তা গুহা পার্কিং বের কাছে অনেক ছোট ছোট দোকান আছে যেখান থেকে আপনি ঐতিহ্যবাহী বিদ্রি মৃৎশিল্প এবং আরও অনেক আকর্ষণীয় জিনিস কিনতে পারেন। (কেনার সময় দরদাম করতে ভুলবেন না!)
  • ঔরঙ্গাবাদে একমাত্র জৈব খাদ্য বাজারটি ঘুরে দেখুন। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ক্রান্তি চৌকের কাছে শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ে ভিড় জমান। তারা এখান থেকে তাজা জৈব ফল ও সবজি কেনেন এবং একইসাথে প্রাকৃতিক মধু, চা ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের আস্বাদন গ্রহণ করেন। বিভিন্ন ফল ও সবজির সম্ভারসহ এই জৈব বাজারটি সাশ্রয়ী, সুস্বাদু, অনন্য এবং অবশ্যই একবার ঘুরে দেখার মতো। এছাড়াও, অর্গানিক লিংক নামক একটি জৈব খাদ্যের দোকান রয়েছে, যা সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে। দোকানটি কৈলাশ মার্কেট, পদমপুরা ফায়ার স্টেশনের বিপরীতে এবং ঔরঙ্গাবাদ স্টেশন রোডের সন্নিকটে অবস্থিত।
  • কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য আপনি স্থানীয় বাজার গুল মান্ডি এবং ঔরঙ্গপুরা ঘুরে দেখতে পারেন।
  • শহরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক খুচরা ব্র্যান্ডের কোম্পানি অনুমোদিত শোরুম রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হল:
  • রেমন্ড – আদালত রোড, তিলক পথ, ঔরঙ্গপুরা, জলনা রোড
  • নিরালা বাজার: লেভি'স, লি, প্রোভোগ, র‍্যাংলার, অ্যাডিডাস, রিবক, এক্সক্যালিবার, পেপে জিন্স, ইন্ডিগো নেশন, নিউমেরো-ইউনো জিন্স, স্পাইকার, বম্বে ডাইং, হোমস অ্যান্ড অ্যাপারেলস, স্যামসোনাইট ব্যাগস, ইউনাইটেড কালার্স অফ বেনেট,
  • মোন্ধা নাকা: রিবুক
  • স্পাইকার - ওসমানপুরা
  • কানৌট গার্ডেনস – বোম্বে ডাইং, কুটনস

এগুলি ছাড়াও আরও অনেক মাল্টি ব্র্যান্ড খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যেমন:

  • গ্লোবাস - সিডকো, জলগাঁও রোড
  • কাট - নিরালা বাজার
  • প্রোজোন - এপিআই কর্নার*
  • শহর জুড়ে বেশ কয়েকটি মাঝারি থেকে বড় খুচরা দোকান এবং বড় বিপণন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মুদি, তাজা শাকসবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দরকারী জিনিসপত্র বিক্রি হয়।

খাবার

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদে শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান। শহরে দামি পাঁচতারা হোটেলের পাশাপাশি বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ আছে।

সাশ্রয়ী / মধ্যমান

[সম্পাদনা]

ভারতীয় নিরামিষ (আ-লা-কার্ট)

  • স্মাইল - নিরালা বাজার
  • লাডলি - জলনা রোড
  • মধুজ - আদালত রোড
  • মৃগনয়নী - সুতগিরনি

ঔরঙ্গাবাদে ভারতীয় নিরামিষ থালি (থালি খাবার) চেখে দেখতে পারেন। মারাঠি ও হিন্দিতে 'থালি' কথার অর্থ সম্পূর্ণ খাবার। একটি থালিতে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি, নানা রকমের ভাত, ২ বা ৩টি তরকারি, মুচমুচে খাবার, ডাল, কড়ি, ঐতিহ্যবাহী ঠান্ডা পানীয়, ভারতীয় মিষ্টান্ন ইত্যাদি একত্রে পরিবেশন করে হয়।

  • বরাদ গণেশ মন্দিরের কাছে অবস্থিত ভোজ শহরের অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ যেখানে থালি পরিবেশিত হয়। থালির খাবারের তালিকা প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। থালিতে বেশি ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার থাকেনা। রেস্তোরাঁটি সুপারিশযোগ্য এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্যও দেখার মতো।
  • ঔরঙ্গপুরায় অবস্থিত ইন্দ্রালি একটি ভালো সাশ্রয়ী থালি রেস্তোরাঁ।
  • ঔরঙ্গাবাদ বিমানবন্দরের কাছে জলনা রোডে অবস্থিত নৈবেদ্য একটি ভালো ও স্বনামধন্য থালি রেস্তোরাঁ হিসাবে পরিচিত। বিমানবন্দর রোডে অবস্থানরত বা ভ্রমণরতদের জন্য আদর্শ খাবার জায়গা।
  • ওসমানপুরার আরেকটি ভালো থালি রেস্তোরাঁ হল স্বাদ
  • আদালত রোডের পাশে অবস্থিত থাট-বাট রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রূপার পাত্রে থালি পরিবেশন করা হয়। মূল্য অনুযায়ী থালিটি বেশ লাভজনক।

ভারতীয় আমিষ

  • আমরপ্রীত - জলনা রোড (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • অঙ্গীঠি - সেভেন হিলস, জলনা রোড (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • অতিথি-রুফটপ - সেভেন হিলস, জলনা রোড (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • সিটি স্পাইস - কানৌট গার্ডেনস (রেস্তোরাঁ ও ফ্লুইড লাউঞ্জ)
  • ঘরোন্দা - নিরালা বাজার (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • হোটেল জানকি - সুরানা নগর, জলনা রোড (বিভিন্ন রকমের আমিষ খাবার)
  • জাজিরা হোটেল - বুদি লেন
  • কোহিনুর প্লাজা - নিরালা বাজার (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • মুঘল দরবার - জুনা বাজার / কাট কাট গেট
  • রিভিয়েরা - সেভেন হিলস, জলনা রোড (বার ও রেস্তোরাঁ)
  • সাগর হোটেল - বুদি লেন
  • সুখসাগর রেস্তোরাঁ ও বার - এন-৬, সিডকো, বজরং চৌক রোড, শ্রীনগর কলোনি

শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ঔরঙ্গাবাদের বেশিরভাগ আমিষ ধাবাগুলি (উদ্যানসহ রেস্তোরাঁ ও পানশালা আছে) মূলত উন্মুক্ত বা অর্ধ-উন্মুক্ত রেস্তোরাঁ। ধাবাগুলিতে ভালো খাবার ও মদ পরিবেশন করা হয়। শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আদর্শ।

  • অ্যাম্বিয়েন্স ধাবা - নাসিক রোড
  • ফৌজি ধাবা - নাসিক রোড
  • গার্ডেন কোর্ট - বিড হাইওয়ে এনএইচ ২১১
  • মাধুবন - বিড হাইওয়ে এনএইচ ২১১
  • মাস্টার কুক - বিড হাইওয়ে এনএইচ ২১১
  • পাশা ভাই কা ধাবা - দৌলতাবাদ রোড
  • পাঠান ধাবা - মেডোজ হোটেলের বিপরীতে
  • টিনু'স ধাবা - নাসিক রোড

পিজ্জা, কফি, প্রাতঃরাশ, স্ন্যাকস, নোনতা খাবার, পেস্ট্রি ইত্যাদি

  • ওসমানপুরা এবং সিডকোতে (লেমনট্রি হোটেলের বিপরীতে) অবস্থিত বেকার্স লাউঞ্জে সুস্বাদু পেস্ট্রি, কেক (শহরের সেরা) এবং চমৎকার নিরামিষ জলখাবার পরিবেশন করা হয়। রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জা আধুনিক ও রুচিসম্মত।
  • নিরালা বাজার, কানৌট গার্ডেনস, সিডকোতে অবস্থিত ক্যাফে কফি ব্রেকে ভালো মানের কফি, ঠান্ডা পানীয় এবং নিরামিষ জলখাবার সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।
  • ক্যাফে কফি ডে- নিরালা বাজার এবং সিডকোতে (সকাল সংবাদপত্র অফিসের বিপরীতে) অবস্থিত। এখানে নানা ধরনের কফির স্বাদ উপভোগ করা যায়।
  • ক্যাফে কফি ডে- নিরালা বাজার এবং জলনা রোডে অবস্থিত। ভারতের বৃহত্তম কফি সংস্থার আউটলেট। এখানে নানা ধরনের কফি, সফট ড্রিংকস, স্ন্যাকস ও পেস্ট্রি পরিবেশন করা হয়।
  • ডোমিনোজ পিজ্জা- সিটি প্রাইড, গুরুদ্বারা গেটের বিপরীতে মোন্ধা নাকা, জলনা রোড। এটি বিশ্বের এক নম্বর পিজ্জা চেইনের আউটলেট।
  • ফাস্ট ফুড সেন্টার (নিরামিষ)- নিরালা বাজারে অবস্থিত। এখানে ভালো মানের বার্গার, স্যান্ডউইচ, স্ন্যাকস পরিবেশন করা হয়।
  • কর্ন ক্লাব- নিরালা বাজারে অবস্থিত। এখানে সুস্বাদু ভুট্টাজাত পণ্যের বিস্তৃত সংগ্রহ আছে।
  • ক্রিম অ্যান্ড ক্রাঞ্চ- ঔরঙ্গপুরা এএমটি বাস স্টপের বিপরীতে এবং আকাশবাণী–জলনা রোড, বিগ বাজারের বিপরীতে অবস্থান। এখানে চমৎকার আমিষ ও নিরামিষ স্যান্ডউইচ, স্ন্যাকস, পেস্ট্রি, সফট ড্রিংকস ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। এটি শহরের অন্যতম সেরা আমিষ স্ন্যাকসের স্থান।
  • নিরালা বাজারের স্মাইল এবং জলনা রোদের লাডলি-তে ভালো মানের দক্ষিণ ভারতীয় নিরামিষ জলখাবার পরিবেশন করা হয়।
  • স্মোকিন জো'স- নিরালা বাজারে অবস্থিত একটি পিজ্জা সরবরাহকারী সংস্থা। এখানে আপনি ভালো মানের নিরামিষ ও আমিষ পিজ্জার আস্বাদন গ্রহন করতে পারবেন।

হুক্কা লাউঞ্জ

  • চিমনি - জলনা রোডের পাশে, সেভেন হিলস ফ্লাইওভারের কাছে।
  • সিটি স্পাইস - কানৌট গার্ডেনস, সিডকো।

বিলাসবহুল (রকমারি খাবার / বিশেষত্ব)

[সম্পাদনা]
  • জলগাঁও রোড, সিডকোতে অবস্থিত রিলিশ (উইন্ডসর ক্যাসেলের রেস্তোরাঁ) রেস্তোরাঁয় চাইনিজ, আন্তর্জাতিক এবং সুস্বাদু ভারতীয় খাবারের স্বাদ গ্রহন করতে পারবেন।
  • রুজা বাগ, হরসুল সড়কে অবস্থিত রেসিডেন্সি (তাজ হোটেলের রেস্তোরাঁ) রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী মুঘল সাজসজ্জা ও আরামদায়ক পরিবেশে চমৎকার ভারতীয়, চাইনিজ ও আন্তর্জাতিক খাবার পরিবেশন করে।
  • জলনা রোডের রামা ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে নানা ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়।
  • জলনা রোডে অবস্থিত সোসাইটি (অ্যাম্বাসাডর আজান্তা হোটেলের রেস্তোরাঁ) রেস্তোরার পরিবেশ ও অন্দরসজ্জা মুঘল সম্রাট আকবর নির্মিত ফতেহপুর সিক্রির ‘দিওয়ান-ই-আম’-এর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। এই রেস্তোরাঁয় ভারতীয়, চাইনিজ ও আন্তর্জাতিক খাবার পরিবেশন করা হয়।
  • ক্রিম অ্যান্ড ক্রাঞ্চ – আকাশবাণী অঞ্চলে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ মূলত উচ্চবিত্ত ভোজনরসিকদের জন্য। এখানে নানা স্বাদের ও রকমের খাবার পরিবেশন করা হয়।

রাস্তার পাশের খাবারের দোকান

[সম্পাদনা]

বিশদে জানতে দেখুন পথখাবার

শহরে রাস্তার পাশে বেশ কিছু স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে আপনি সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার পাবেন। তবে আপনি যদি ভাজা ও মাঝারি ঝাল স্বাদের ভারতীয় খাবারের অভ্যস্ত হন, তাহলেই এখানকার গরম ও সুস্বাদু খাবার উপভোগ করতে পারবেন। তবে এসব স্থানে পানীয় জল পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

  • বিকানের ভুজিয়াওয়ালা – ক্রান্তি চৌকে একটি স্ন্যাকস কাউন্টার রয়েছে, যেখানে গরম ও টাটকা কচুরি, সামোসা, ভাজিয়া এবং ঢোকলা পরিবেশন করা হয়।
  • 1 গায়ত্রী চাট ভাণ্ডার রোড সাইড ইটারি, রঙ্গার গলি, গুলমান্ডি, শাহগঞ্জ (হোটেল মেওয়াদের উত্তরে ১০০ মিটার)। সকাল সাড়ে ৬টায় খোলে ক্রান্তি চৌকে আরেকটি শাখা আছে। এটি শহরের অন্যতম পুরাতন পথখাবারের দোকান। এখানে মাটির চুলায় ভেজে গরম ও টাটকা কচুরি, সিঙাড়া ও ভাজিয়া পরিবেশন করা হয়।
  • ক্রান্তি চৌকের ওমকার পাও ভাজিতে ভালো মানের পাও ভাজি পাওয়া যায়। পাও ভাজি মুম্বাইয়ের উদ্ভূত একটি দ্রুত পুষ্টিকর খাবার। ভারতীয় পাও রুটি মাখন দিয়ে ভেজে এই খাবার বানানো হয় এবং এর সাথে সবজি পরিবেশন করা হয়।
  • কানৌট গার্ডেনস, সিডকোতে বেশ কিছু পথখাবারের দোকানে ভালো মানের ভারতীয় ভুনা মাংস পরিবেশন করা হয়, যেমন: চিকেন টিক্কা, তন্দুরি, কাবাব ইত্যাদি। দোকানগুলো সাধারণত রাত ৮টা থেকে খোলা থাকে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত চালু থাকে।
  • বড়া পাও – ঐতিহ্যবাহী এই খাবার মূলত বার্গারের মহারাষ্ট্রীয় সংস্করণ। শহরের নানা স্থানে এটি পাওয়া যায় এবং তাদের মান বেশ ভালো। বড়া পাও গরম গরম খাওয়াই ভালো।
  • বিদেশি পর্যটকদের জন্য পরামর্শ: রাস্তাঘাটের খাবার খেতে চাইলে অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে খাবারটি গরম এবং আপনার সামনে ভাজা হয়েছে। আমিষ খাদ্য, চাটনি, রস, আইস-ক্যান্ডি ইত্যাদি খাবার থেকে বিরত থাকুন। রাস্তায় যেখান সেখান থেকে জল পান করা একেবারেই উচিত নয়। পরিস্কার মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করুন।

ওসমানপুরার তারা পান সেন্টার ঔরঙ্গাবাদের একটি স্থানীয় ঐতিহ্য এবং এখানকার পান অবশ্যই একবার চেখে দেখা উচিত। যদি আপনি মনে করেন যে একটি পানের মধ্যে কি এমন বিশেষত্ব থাকতে পারে তাহলে এখানকার বিভিন্ন ধরণের পানের স্বাদ নিতে ভুলবেননা। পানগুলিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো হয় এবং এদের স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো। ভারতের কোথাও এমন পান পাবেন না।

পানীয়

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদ মদ বা অন্যান্য অ্যালকোহলজাত পানীয়ের জন্য খুব একটা উপযুক্ত স্থান নয়, তবুও শহরে বেশ কিছু ভালো পানশালা বা বার রয়েছে। খুব সস্তা ও অগোছালো বারগুলোতে না যাওয়াই ভালো, কারণ সেগুলো কখনও কখনও নিরাপদ নাও হতে পারে। সাধারণত সব ভালো হোটেলেই নিজস্ব বার থাকে। ঔরঙ্গাবাদে পানীয় উপভোগ করার জন্য কিছু ভালো স্থান হলো:

মধ্য-পরিসর

[সম্পাদনা]
  • আঙ্গিঠি- সেভেন হিলস, জালনা রোড
  • অতিথি-রুফটপ- সেভেন হিলস, জালনা রোড
  • বাবলস - কনৌট গার্ডেনের কাছে, সিডকো
  • সিটি স্পাইস - রেস্তোরাঁ এবং ফ্লুইড লাউঞ্জ - ক্যানট গার্ডেন, সিডকো
  • ঘারোন্দা - নিরালা বাজার
  • কোহিনুর প্লাজা - নিরালা বাজার

বিলাসবহুল

[সম্পাদনা]
  • গার্ডেন বার (তাজ রেসিডেন্সি)- রৌজা বাগ, হারসুল রোডে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জা মুঘল স্থাপত্য দ্বারা অনুপ্রাণিত। এটি তাজ রেসিডেন্সির বিস্তৃত চত্বরে অবস্থিত একটি অর্ধ-উন্মুক্ত পানশালা।
  • গরবা বার (দ্যা অ্যাম্বাসেডর অজন্তা)- গুজরাটের পরিবেশের এক আন্তরিক প্রতিফলন দেখা যায় এই মনোরম বারে, যা বেশ আকর্ষণীয়।
  • স্লাউঞ্জ (লেমন ট্রী)- ঔরঙ্গাবাদের এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত এই আধুনিক সুসজ্জিত রেস্তোরাঁ ও পানশালা আরামদায়ক সাজসজ্জার সাথে সাথে অনলাইন গেম খেলার ব্যাবস্থা আছে।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]
ঔরঙ্গাবাদের বিভিন্ন মানের হোটেলের ভাড়া


  • সস্তা < ১৫০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)
  • মধ্যমান ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)
  • বিলাসবহুল > ৩০০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)

যেহেতু ঔরঙ্গাবাদ একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, তাই শহরে ভ্রমণকারী সকল পর্যটকের চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন মানের বেশ কিছু ভালো হোটেল রয়েছে। সস্তা ও সাশ্রয়ী মূল্যের হোটেলগুলি ঔরঙ্গাবাদ রেলস্টেশন এবং শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কাছে অবস্থিত। মধ্যম মানের হোটেলগুলি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পাঁচতারা এবং চারতারা হোটেলগুলি চিকলথানা বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত।

সস্তা

[সম্পাদনা]
  • ঔরঙ্গাবাদ স্পোর্টস ক্লাব (এ.এস. ক্লাব), নগর রোড (ঔরঙ্গাবাদ শহর থেকে বাইরের দিকে), +৯১ ২৪০ ২৫৫৪৭৭১ দাম শুরু ১,৩৫১ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে
  • 1 হোটেল ক্লাসিক, স্টেশন রোড (গোল্ডি সিনেমার কাছে, ঔরঙ্গাবাদ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আধা কিমি দূরে), +৯১ ৯৩২৫২ ১২৪৪৪ (মোবাইল) কম দামের একক শয্যা ও দ্বিশয্যাবিশিষ্ট শয়নকক্ষের ভাড়া যথাক্রমে ৬০০ টাকা এবং ৮৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)। মানসম্পন্ন একক শয্যা / দ্বিশয্যাবিশিষ্ট শয়নকক্ষের ভাড়া ৯০০ টাকা / ১১৮০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)। ডিলাক্স একক শয্যার ঘরের ভাড়া ১১৮০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)।)
  • 2 হোটেল গিরনার, আদালত রোড, পান্নালাল নগর, মহারাষ্ট্র রাজ্য জাতীয় সড়ক ৩০ (গিরনার কমপ্লেক্স, এলআইসি অফিসের কাছে - সহকারী ব্যাঙ্ক বাস স্টপ), +৯১ ২৪০ ২৩৩ ৭৩৬৮ ১১০০(ভারতীয় মুদ্রা) টাকা থেকে শুরু
  • 3 হোটেল গ্রেট পাঞ্জাব, ভানুদাস সভাগৃহ রেলওয়ে স্টেশন , বংশীলাল নগর (ঔরঙ্গাবাস রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৩০০ মিটার)।
  • 4 হোটেল হেরিটেজ প্যালেশ (***), মায়া নগর, এম জি এম (জে এন ই সি) (জালনা রোড, সিডকোর কাছে,- 'সকাল পেপারস'-এর বিপরীতে)।
  • 5 হোটেল মানসী, জালনা রোড, সিডকো, নতুন ঔরঙ্গাবাদ (নায়েক কলেজের বিপরীতে - মুকুন্দওয়াড়ি রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেড় কিমি উত্তরে), +৯১ ২৪০ ২২৪ ০৪১১
  • 6 হোটেল মানমন্দির, আদালত রোড (পুরাতন কোর্টের বিপরীতে - এসএফএস বাস স্টপ), +৯১ ২৪০ ২৩৬৫৭৭৭, ইমেইল: লকার বিনামূল্যে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডরমিটরির ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় মাথাপিছু ৩০০ টাকা। ৩২টি কক্ষ সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পিত এবং সজ্জিত। সাধারণ মানের একক শয্যা ও দ্বিশয্যাবিশিষ্ট শয়নকক্ষের খরচ ভারতীয় মুদ্রায় যথাক্রমে ১০০০ টাকা এবং ১২৫০ টাকা। অতিরিক্ত বিছানার খরচ ৩০০ টাকা। এক্সিকিউটিভ শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত একক শয্যা ও দ্বিশয্যাবিশিষ্ট শয়নকক্ষের খরচ যথাক্রমে ১৩০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়)। অতিরিক্ত বিছানার খরচ ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫০ টাকা। ইলোরা শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত এক্সিকিউটিভ দ্বিশয্যাবিশিষ্ট শয়নকক্ষের ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় ২৪০০ টাকা। করসহ পারিবারিক ৩ শয্যাবিশিষ্ট ঘরের ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় ২১০০ টাকা (মার্চ ২০১৫)।
  • 7 হোটেল রবিরাজ, আদালত রোড, ভাগ্যনগর (বাবা পেট্রোলের পাশে)। **
  • 8 হোটেল শ্রী মায়া, ভারুকা কমপ্লেক্স, পদমপুরা রোড (ট্যুরিস্ট হোমের পিছনে, রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১ কিমি দূরে। পদমপুরা স্টপ পর্যন্ত বাস নিন), +৯১ ২৪০ ২৩৩৩০৯৩ ঘরভাড়া ৫৩৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • ইরা এক্সিকিউটিভ হোটেল, +৯১ ২৪০ ২৪০ ২৩৫২১৬১ ঘরভাড়া ১,০৭৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • 9 কলা লক্ষ্মী এক্সিকিউটিভ হোটেল, সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড রোড (সিদ্ধার্থ গার্ডেনের বিপরীতে), +৯১ ২৪০ ২৩৪ ৪৬০৬ ঘরভাড়া ৮৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • ম্রুনাল প্যালেশ হোটেল, +৯১ ২৪০ ২৩৪০১৭১, ঘরভাড়া ১,২১৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • এমটিডিসি হলিডে রিসর্ট, স্টেশন রোড সরকারি মালিকানাধীন ও পরিচালিত
  • 10 প্রীতম লজিং হোটেল, স্টেশন রোড (রেলওয়ে স্টেশনের কাছে), +৯১ ২৪০ ২৩৫০৪৪৫ ঘরভাড়া ৮৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • রিভিয়েরা এক্সিকিউটিভ হোটেল, জালনা রোড (এয়ারলাইন্স বিল্ডিংয়ের পিছনে, এমজিএম হাসপাতালের বিপরীতে), +৯১ ২৪০ ২৩৩৮৯৮৪ ** ঘরভাড়া ১,৩৪৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • সাগর প্লাজা হোটেল, জালনা রোড, এন ৩ (সিডকো), +৯১ ২৪০ ২৪৭ ১০০৯ এক তারকা হোটেল ঘরভাড়া ৪৬০
  • স্পার্কলিং পার্ল হোটেল, এন১, জলগাঁও রোড (সিডকো বাস স্ট্যান্ডের কাছে, ফেম সিনেমার পাশে), +৯১ ২৪০ ২৪৮২০১৯, +৯১ ৯৩৭ ৩৪৯ ৫৬৯১, ইমেইল: ঘরভাড়া ৮১০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • বিজয় রেসিডেন্সি হোটেল, ৩৫, টাউনসেন্টার, সিডকো, +৯১ ২৪০ ২৪৮১৯৫৮ ঘরভাড়া ১,০৮০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • জোস্টেল ঔরঙ্গাবাদ, ৫-১৪-৩৪, আদালত রোড, ক্রান্তি চৌক (রেমন্ডস মেনস ওয়্যারের পাশে)। ব্যাকপ্যাকারদের জন্য সুন্দর ও পরিষ্কার ডর্মিটারি বিছানা ঘরভাড়া ৪৪৯ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু।

মধ্যম মান

[সম্পাদনা]
  • 11 হোটেল অমরদীপ (অমরদীপ লজিং ও রেস্টুরেন্ট), ৫, দিলীপ নগর, আদালত রোড (সতীশ মোটরসের পিছনে), +৯১ ২৪০ ২৩৪ ০৩০১
  • হোটেল অমরপ্রীত, ক্রান্তি চৌক, জালনা রোড (ঔরঙ্গাবাদ বিমানবন্দরের কাছে), +৯১ ২৪০ ৬৬২১১৩৩, ইমেইল:
  • হোটেল জানকি এক্সিকিউটিভ, জালনা রোড (ঔরঙ্গাবাদ বিমানবন্দরের কাছে), +৯১ ২৪০ ২৪৪৩১৩৩ ঘরভাড়া ১,৩০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • 12 হোটেল কোহিনূর প্লাজা, নিরালা বাজার, সমর্থ নগর, +৯১ ২৪০ ৬৬২৩৫৫১, +৯১ ২৪০-৬৬২৩৫৫২, +৯১ ৭৭০৯০০৯৭১৯, +৯১ ৯৮৬০৫৬৪০৭২ (মোবাইল) ** একশয্যা বিশিষ্ট ঘরের ভাড়া ১২০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়),অতিরিক্ত বিছানাসহ ডিলাক্স একশয্যা ও দ্বিশয্যা বিশিষ্ট ঘরের ভাড়া যথাক্রমে ১৮০০ টাকা ও ১৯০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়); এক্সিকিউটিভ সুইট / এক্সিকিউটিভ ফ্যামিলি রুম/ কোহিনূর ক্লাব -এর জন্য খরচ ভারতীয় মুদ্রায় ২৫০০ টাকা / ৩১০০ টাকা / ৪০০০ টাকা (প্রতি রুম, সমস্ত করসহ)। অতিরিক্ত বিছানার খরচ ৪৩০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রায়)
  • 13 হোটেল ম্যানর ঔরঙ্গাবাদ, ক্রান্তি চৌক ফ্লাইওভার (কবরস্থানের কাছে - ক্রান্তি চৌক স্টপ পর্যন্ত বাস নিন), +৯১ ২৪০ ২৩৩ ৪৭৭২, +৯১ ২৪০ ২৩৩৩৩৮৩ তিন তারকা হোটেল ঘরভাড়া ১,৬৬৫ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • হোটেল সহ্যাদ্রি (হোটেল যুবরাজ ***), এন ৩-৪, সিডকো, জালনা রোড (নতুন হাই কোর্টের কাছে), +৯১ ২৪০ ২৪৮ ৯৯০১ ডিলাক্স একক / দ্বিশয্যা ঘরের ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় ২১০০ টাকা /২৫০০ টাকা, করসহ এক্সিকিউটিভ একক / দ্বিশয্যা ঘরের ভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় ২৭০০ টাকা / ৩১০০ টাকা (২০১৪ সালের হিসাব)
  • কিজ হোটেল, +৯১ ২৪০ ২৪০ ৬৬৫ ৪০০০ তিন তারকা হোটেল ঘরভাড়া ২,৪৫০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা) থেকে শুরু
  • এমটিডিসি হলিডে রিসর্ট (সরকারি মালিকানাধীন ও পরিচালিত) - স্টেশন রোড, ঔরঙ্গাবাদ
  • কোয়ালিটি ইন মিডোস, ৬, পদেগাঁও, নাসিক-মুম্বই হাইওয়ে, মিতমিতা গ্রাম (ঔরঙ্গাবাদের শহরতলিতে)।

বিলাসবহুল

[সম্পাদনা]

ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাবস্থা

[সম্পাদনা]
  • ঔরঙ্গাবাদের আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড – +৯১-২৪০-xxxxxxx (ভারতের বাইরে থেকে কল করার জন্য), ০২৪০-xxxxxxx (ভারতের ভিতর থেকে কল করার জন্য)।
  • ঔরঙ্গাবাদ শহরে জিও, ভি, এয়ারটেল এবং বিএসএনএল -এর মতো একাধিক মোবাইল ফোন পরিচালন সংস্থা পরিষেবা প্রদান করে। এরা সকলেই ফোরজি এলটিই পরিষেবা দেয় এবং জিও শহরজুড়ে ফাইভজি পরিষেবা চালু করেছে।
  • আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় কলের জন্য পাবলিক টেলিফোন বুথগুলি এখন প্রায় অচল এবং অপ্রচলিত। অধিকাংশ বুথই বিকল হয়ে গেছে, তাই সমস্ত যোগাযোগের জন্য স্থানীয় সিমসহ মোবাইল ফোন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইন্টারনেট

[সম্পাদনা]

শহরজুড়ে বহু ইন্টারনেট ক্যাফে রয়েছে, যেখানে প্রতি ঘণ্টার ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ২০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়(ভারতীয় মুদ্রা অনুসারে)। তবে বর্তমানে সহজলভ্য ফোরজি ও ফাইভজি মোবাইল পরিষেবা এবং অধিকাংশ স্থানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই উপলব্ধ থাকায় এই ক্যাফেগুলি ধীরে ধীরে অপ্রচলিত হয়ে পড়ছে। ঝুঁকি এড়াতে নিজস্ব মোবাইল ডেটা বা বিশ্বস্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বস্তভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ বা পর্যটনস্থানের দ্বারা সরবরাহকৃত ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেন, তবে সতর্কতা বজায় রাখুন। অপরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করাই শ্রেয়। ঔরঙ্গাবাদে এবং সাধারণভাবে ভারতে ভ্রমণের সময় উন্মুক্ত ওয়াইফাই পরিষেবা গ্রহণ করার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ভিপিএন ব্যবহার করারও সুপারিশ করা হয়।

সতর্ক থাকুন

[সম্পাদনা]

ঔরঙ্গাবাদ তুলনামূলকভাবে একটি নিরাপদ স্থান। শহরের মানুষ সাধারণত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যটকদের প্রতি ভদ্র ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাস পরিষেবা (এএমটি ও এমএসআরটিসি) মহিলাদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। রাতেও এই বাসগুলিতে নির্বিঘ্নে যাত্রা করা যায়। যদি কোনো মহিলা ঔরঙ্গাবাদ থেকে রাতের বাসে একা ভ্রমণ করেন, তাহলে সাধারণত সৌজন্যবশত তার পাশের আসনটি অন্য একজন মহিলা যাত্রীকে দেওয়া হয়। তবে বুকিংয়ের সময় ‘মহিলা সিটের’ জন্য অনুরোধ করাই শ্রেয়। রাস্তায় রাত ৯টা পর্যন্ত হাঁটাচলা মহিলাদের জন্য সাধারণত নিরাপদ, তবে অন্ধকারের পর ছোট গলি ও উপগলিতে যাওয়া এড়ানো উচিত এবং রাস্তায় হাঁটার সময় গয়না না পরাই শ্রেয়। মহিলাদের জন্য দিনের যেকোনো সময় ব্যক্তিগত গাড়িতে লিফট নেওয়া অনুচিত। জনসমক্ষে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট প্রদর্শন না করাই ভালো এবং রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বাজার ইত্যাদি জনবহুল স্থানে পকেটমারদের থেকে সতর্ক থাকা উচিত। ঔরঙ্গাবাদে সহিংস অপরাধের হার খুবই কম, যদিও একেবারে নেই তা বলা যায় না। দরকারে নিচের জরুরি নম্বরগুলি যেকোনো সময় মোবাইল বা ল্যান্ডলাইন থেকে ডায়াল করা যায়:

  • পুলিশ – ১০০
  • দমকল – ১০১
  • অ্যাম্বুলেন্স – ১০২, (+৯১-২৪০)-২৪৭৩৩০১, (+৯১-২৪০)-২৪৭৩৩০২

নিকটবর্তী স্থান

[সম্পাদনা]
  • 6 রূদ্রেশ্বর গনপতি গুহা ঔরঙ্গাবাদ জেলার স্বল্প পরিচিত গুহাগুলির মধ্যে একটি। এগুলি বৌদ্ধ যুগের বলে জানা যায়। ভিতরে একটি শিবলিঙ্গ এবং গনেশ মুর্তি আছে। মনে করা হয় পরবর্তী যুগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এই দুই মুর্তির স্থাপনা করেছিলেন।
  • 7 বেতালওয়াড়ি দুর্গ

অজন্তা

[সম্পাদনা]
অজন্তার ১ নং গুহার পদ্মপানি গুহাচিত্র
  • 8 অজন্তা গুহা (अजिंठा लेणी Ajiṇṭhā Leṇī) (এমএসএইচ৮ রোড ধরে উত্তর-পূর্বে ৯০ কিমি। সিবিএস থেকে বাস নিন)। অজন্তার গুহাগুলিতে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বৌদ্ধধর্মের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। ১৯শ শতকে কিছু ব্রিটিশ অফিসার বাঘ শিকারে গিয়ে এই গুহাগুলি পুনরাবিষ্কার করেন। এখানকার ২৯টি গুহা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা হাতুড়ি ও ছেনির মতো সরল যন্ত্র দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। এই গুহাগুলি ছিল তাঁদের আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে তাঁরা চৈত্য ও বিহারে শিক্ষাদান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন। জটিল ও মনোমুগ্ধকর ভাস্কর্য ও চিত্রকর্মে জাতক কাহিনির গল্প ফুটে উঠেছে। এখানে অপ্সরা ও রাজকন্যার মূর্তিও রয়েছে। অজন্তা গুহা ও তার সংরক্ষিত সম্পদ বৌদ্ধ ধর্মের সামগ্রিক বিকাশের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। ভারতীয়, সার্ক ও বিমসটেক দর্শনার্থীদের জন্য ৪০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা), অন্যান্যদের জন্য ৬০০ টাকা(ভারতীয় মুদ্রা)। ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে। (Q184427)

সেরা চিত্রকর্মগুলি দেখার জন্য আপনাকে প্রথম, দ্বিতীয়, ষোল এবং সতেরো নম্বর গুহায় যেতে হবে। এই চিত্রগুলির মূল বিষয়বস্তু হল বিভিন্ন জাতক কাহিনির চিত্রণ, বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ঘটনা এবং সমসাময়িক সমাজজীবন ও ঘটনাবলি। চিত্রকর্ম ছাড়াও এখানে কিছু ভাস্কর্যখচিত প্যানেল আছে যেগুলি গুহার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

পাহাড়ের পাদদেশে যানবাহন রাখার জায়গা আছে। গাড়ি রাখা এবং অতিরিক্ত মূল্য হিসাবে এমটিডিসির পক্ষ থেকে ১৫ টাকা করে নেওয়া হয়। এখানকার শৌচাগারগুলি ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। দর্শনার্থীদের গুহায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস পরিষেবা রয়েছে; একমুখী যাত্রার টিকিট খরচ ২৫ টাকা। গুহার প্রবেশ টিকিট বাস যাত্রার শেষে অবস্থিত ভিজিটর সেন্টার থেকে কেনা যায়। এখানে একটি শৌচাগার ও একটি রেস্তোরাও রয়েছে। পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র থেকে গুহাগুলিতে পৌঁছাতে একটি ছোট সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। আপনি চাইলে পাহাড়ের ঢাল বেয়েও উঠতে পারেন। কাঠের রেলিংয়ে বসানো চেয়ারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বহন করার জন্য বাহকও পাওয়া যায়।

জঞ্জালা

[সম্পাদনা]
  • 9 ঘটোৎকচ গুহা এটি তিনটি বৌদ্ধ গুহার সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে একটি চৈত্য এবং দুটি বিহার। গুহাগুলি খ্রিস্টাব্দ ষষ্ঠ শতকে খনন করা হয়েছিল এবং এতে মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ছিল। এখানে পৌঁছাতে কিছু বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন, কারণ যাত্রাপথ বেশ কঠিন। (Q15040924)
  • 10 জঞ্জালা দুর্গ

কান্নাড

[সম্পাদনা]
  • 11 অন্তুর দুর্গ ১৫শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অন্তুর নামক এক মারাঠা প্রধান এই দুর্গের নির্মান করেম। ১৬শ ও ১৭শ শতকে এটি আহমেদনগরের নিজাম শাহী শাসকদের অধীনে ছিল। (Q24908268)
  • 12 গৌতলা আউটরামঘাট অভয়ারণ্য, চালিসগাঁও-সিলোড রোড, মেহুন পুরানওয়াড়ি (ঔরঙ্গাবাদ থেকে প্রায় ৭০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে)। এটি একটি ঘন বনভূমি সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাস। এখানে চিতা, ভালুক, নেকড়ে, হায়েনা, শিয়াল, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি এবং ৮৫টি রঙিন পাখির প্রজাতি দেখা যায়। পাশাপাশি আপনি পিতলখোরা বৌদ্ধ শিলাখণ্ড গুহা (খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ১ম শতক), পাটনাদেবী মন্দির, মহাদেব মন্দির এবং সীতা খোরি জলপ্রপাতও ঘুরে দেখতে পারেন। (Q5527862)
  • 13 পিতলখোরা গুহা (ঔরঙ্গাবাদ থেকে ৭৮ কিমি উত্তর-পশ্চিমে)। সহ্যাদ্রির সাতমালা পর্বতমালার কোলে অবস্থিত একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এই অঞ্চলে ১৩টি গুহা আশ্রম রয়েছে। এই বিহারগুলি খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ৫ম শতকের মধ্যে নির্মিত। স্মৃতিস্তম্ভগুলিতে জটিল ও সমৃদ্ধ খোদাই দেখা যায়। সতর্কতা: মূল ঔরঙ্গাবাদ রোড থেকে পিতলখোরা পৌঁছানোর পাশের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এসইউভি বা টাটা সুমো ধরনের গাড়ি ছাড়া যাত্রা না করাই ভালো। গুহাগুলিতে পৌছানোর জন্য পায়ে হেঁটে একটি সেতু অতিক্রম করতে হয় যার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গুহাগুলিতে অসমাপ্ত খোদাই ছাড়া দেখার মতো তেমন কিছু নেই। (Q15040934)

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]
This TYPE ঔরঙ্গাবাদ has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:শহর|ব্যবহারযোগ্য}}

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন