কঙ্গো নীলনদের পথে[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] পশ্চিম রুয়ান্ডার একটি ভ্রমণপথ। নামের সঙ্গে মিল থাকলেও এটি আসলে নীল নদী বা কঙ্গো নদীর পাশ দিয়ে যায় না, বরং আংশিকভাবে এই দুই নদীর জলবিভাজনের রেখা ধরে এগিয়ে গেছে।
জানুন
[সম্পাদনা]কিভু হ্রদের তীরে কঙ্গো নীল পথটি অবস্থিত। এই পথে অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল একটি জলবিভাজিকা। এই জলবিভাজিকাটি আফ্রিকার দুটি বৃহত্তম নদী অববাহিকা—কঙ্গো এবং নীল নদকে পৃথক করেছে। ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি রুয়ান্ডার চিত্তাকর্ষক ভূদৃশ্যের মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ বা সাইকেল চালানোর এক অনন্য সুযোগ করে দেয়। এই ভূদৃশ্যগুলি বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ এবং পাখির আবাসস্থল।
এই পথটি ২০১১ সালে রুয়ান্ডা উন্নয়ন বোর্ড/পর্যটন বিভাগ উদ্বোধন করেছিল, যা বিশেষভাবে দুঃসাহসী ভ্রমণকারীদের জন্য একটি নতুন পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে তৈরি করা হয়। এই কাজে সহযোগিতা করে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা।
এই পথের জন্য হাঁটাহাঁটি করা ভ্রমণকারী আর সাইকেল চালানো ভ্রমণকারীদের আলাদা আলাদা রাস্তা আছে। তবে অনেক জায়গায় এই রাস্তাগুলো একে অপরকে অতিক্রম করে বা মিশে যায়। দুই ধরনের পথই কাঁচা রাস্তা আর কাঁচা পথ ধরে চলে। সাইকেল চালাতে চাইলে অবশ্যই উঁচু-নিচু পথে চলার উপযুক্ত একটি মাউন্টেন বাইক দরকার হবে।
হোটেলের কর্মচারীদের বাদ দিলে, গ্রামীণ রুয়ান্ডার মানুষ সাধারণত শুধু কিনিয়ারোয়ান্ডা ভাষায় কথা বলেন, আর সামান্য কিছু ইংরেজি, ফরাসি বা সোয়াহিলি জানেন। তবুও, কোনো সমস্যা হলে তারা বেশিরভাগ সময়ই আপনাকে সাহায্য করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন।
দেখুন
[সম্পাদনা]এই পথের পাশে প্রচুর চা আর কফির বাগান আছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু আবার ভ্রমণকারীদের জন্য প্রদর্শনীর সুযোগ দেয়। এখানে কলার বাগানও আছে, আর কলা বিভিন্ন রকম খাবারে প্রায়ই খাওয়া হয়। অনেক গ্রামে মাটির বাসন বানানো আর বস্ত্র-বয়নশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রচলিত। কিভু হ্রদে নৌকাভ্রমণের সুযোগও অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। চাইলে মাছ ধরার অভিযানে যোগ দেওয়ার সুযোগও মিলতে পারে। এখানে অনেক সমুদ্রসৈকতের মতো বালুময় তীর আছে, যেখানে সাঁতার কাটা যায়।
এই পথ নিউংগুয়ে অরণ্য জাতীয় উদ্যান আর গিশওয়াতি-মুকুরা জাতীয় উদ্যান এর পাশ দিয়ে গেছে, যেগুলোও ইচ্ছা করলে ভ্রমণ করা যেতে পারে। এসব উদ্যানের ভেতর আছে বৃষ্টি-অরণ্য, যা একসময় কঙ্গো থেকে বুরুন্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, কিন্তু অনেক আগে আলাদা হয়ে গেছে। সেই কারণেই এখানে বিশেষ কিছু প্রাণী আর উদ্ভিদের প্রজাতি গড়ে উঠেছে, যেগুলো পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]পথের বেশিরভাগ সময় আপনাকে একাই কাটাতে হবে, তাই রাতে হোটেলে পৌঁছাতে না পারলে খাবার আর জল সঙ্গে রাখা দরকার। এছাড়া দেশের গ্রামাঞ্চলে ম্যালেরিয়া বেশি দেখা যায়, তাই ম্যালেরিয়ার ওষুধ, মশারোধী স্প্রে আর মশারির ব্যবস্থা রাখা খুবই জরুরি। এই পথ পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে যায়, তাই ভ্রমণকারীদের উচ্চতার কারণে হওয়া অসুস্থতা সম্পর্কেও সাবধান থাকতে হবে।
প্রবেশ
[সম্পাদনা]প্রথমে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে বিমানযোগে পৌঁছাও, তারপর সেখান থেকে গাড়িতে করে গিসেনি, রুবাভু জেলা (১৬৪ কিলোমিটার) যাওয়া যায়। এখান থেকেই পথের শুরু হয়।
সাইকেলে
[সম্পাদনা]সাইকেল চালানোর পথটি মোট ৮ ধাপে ভাগ করা আছে, আর প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য প্রত্যেক ধাপে সাধারণত একদিন সময় ধরা হয়। এখানে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা মূলত উত্তর দিক থেকে দক্ষিণমুখী পথে সাজানো, তবে চাইলে উল্টোদিক থেকেও যাত্রা শুরু করা সম্ভব।
পর্ব ১
[সম্পাদনা]গিসেনি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে যাত্রা শুরু হয়। সাইকেল চালিয়ে রুইনিওনি আর এনকোরা গ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, তারপর পৌঁছানো যাবে কিনুনুতে। পুরো পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬.৫ কিলোমিটার।
পর্ব ২
[সম্পাদনা]এই পর্বের দূরত্ব প্রায় ২৮.৫ কিলোমিটার। পথটা নামতে নামতে কোকো উপত্যকা আর কোকো নদীর ধার ঘেঁষে এগোয়। তারপর খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে হয় বুম্বা পর্যন্ত, যেখানে এই পর্ব শেষ হয়।
পর্ব ৩
[সম্পাদনা]এখান থেকে পথ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সহজ পথটি হলো ৩১.২ কিলোমিটার, যা বিভিন্ন কৃষিজ গ্রামের ভেতর দিয়ে যায়। প্রথমে যেতে হবে শূর গ্রামে, সেখান থেকে মুসাহো উপত্যকায় পৌঁছাতে হবে। সেখানে মুরেগেয়া নদীর ওপরের সেতু পার হয়ে উপত্যকা ছাড়তে হবে, তারপর পৌঁছানো যাবে রিয়ানইরাকাবানোতে। এরপর কিবিরিজিতে যেতে হবে, মুসোগোরো নদী পার হয়ে সাইকেল চালাতে হবে সাকিন্যাগা পাহাড়ের ওপর দিয়ে, আর শেষমেশ পৌঁছানো যাবে কারোঙ্গিতে।
আরও সুন্দর দৃশ্যের জন্য বিকল্প পথ আছে। এই পথে প্রথমে চা-বাগানের পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে উঠতে হয়। তারপর একের পর এক উপত্যকা পেরিয়ে যেতে হয়, যতক্ষণ না পৌঁছে যাওয়া যায় কঙ্গো-নীল বিভাজন রেখায়। এখান থেকে দেখা যায়—পূর্ব দিকের উপত্যকার জল নীল নদীতে আর পশ্চিম দিকের উপত্যকার জল কঙ্গো নদীতে গিয়ে মিশছে। সেখান থেকে সাইকেল চালিয়ে নেমে আসতে হয় মুকুরা অরণ্যে, তারপর একটি তীব্র বাঁক ঘুরে শূর গ্রামের দিকে যেতে হয়, যেখান থেকে আবার সহজ পথের সঙ্গে মিলিত হয়ে যায়।
পর্ব ৪
[সম্পাদনা]এই পথ ২৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এখানে সবচেয়ে দীর্ঘ একটানা উঁচুতে ওঠা রয়েছে, যা গিয়ে শেষ হয় গিসোভু চা-বাগানে।
পর্ব ৫
[সম্পাদনা]এটি প্রায় ১১.৫ কিমি দীর্ঘ একটি ছোট যাত্রা, যা বেশিরভাগটাই উতরাই পথে এবং যা গিয়ে শেষ হয় মুগোনেরোতে।
পর্ব ৬
[সম্পাদনা]এই পথের দৈর্ঘ্য ৫৬.৬ কিলোমিটার। শুরুতে হয়তো খাড়া পথে নেমে কু রুকুন্দায় পৌঁছাতে হবে, অথবা নৌকায় করেও সেখানে যাওয়া যায়। যেভাবেই হোক, কু রুকুন্দায় পৌঁছানোর পর কলা আর ধানের খেতের ভেতর দিয়ে সাইকেল চালাতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত রিয়াদোমরিতে পৌঁছানো যায়। এরপর মূল সড়ক ধরে যেতে হবে কাদেহেরো পর্যন্ত, তারপর কাঁচা রাস্তা ধরে টাইয়াজোতে পৌঁছাতে হবে।
পর্ব ৭
[সম্পাদনা]এখান থেকে সাইকেল চালিয়ে কিনীনি যেতে হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সরাসরি কি কিগাগায় যাওয়া হবে, না কি সুন্দর দৃশ্যের জন্য নিউংগুয়ে অরণ্যের ভেতর দিয়ে একটি ঘুরপথে যাওয়া হবে। সরাসরি গেলে দূরত্ব ৩৪.২ কিলোমিটার, আর ঘুরপথে গেলে অতিরিক্ত ৮.৮ কিলোমিটার যোগ হবে।
পর্ব ৮
[সম্পাদনা]এটাই শেষ পর্ব। প্রায় ২০.২ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে সাইনু উপত্যকার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। শেষে পৌঁছে যাওয়া যায় সিয়াংগুগু শহরে, যেখানে এই পথের সমাপ্তি ঘটে।
আহার ও রাত্রিযাপন
[সম্পাদনা]পথের ধারে মোট ৮টি বেস ক্যাম্প আছে, যেখানে সাশ্রয়ী দামে খাবার আর থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়। এছাড়াও আরও কিছু থাকার জায়গা ও শিবির করার সুযোগ আছে, তবে আগে থেকেই অগ্রিম সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
পানীয়
[সম্পাদনা]এখানে জল, ঠান্ডা পানীয় আর প্রিমাস (বিয়ার) পাওয়া যায়।
প্রবেশ মূল্য এবং অনুমতি
[সম্পাদনা]এখানে কোনো প্রবেশ মূল্য নেই, কোনো অগ্রিম সংরক্ষণেরও দরকার নেই। শুধু একটি সাইকেল ভাড়া নিতে হবে বা স্থানীয় কোনো পথপ্রদর্শককে সঙ্গে নিতে হবে।
ঘুরে দেখুন
[সম্পাদনা]{{#assessment:ভ্রমণপথ|রূপরেখা}}