বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

বেশিরভাগ কানাডিয়ান বড় শহরগুলোর মধ্যে ভ্রমণে বিমান বেছে নিলেও, আজও প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত একটানা সংযুক্ত যাত্রীবাহী রেলগাড়ি সেবা রয়েছে। কানাডার যাত্রীবাহী রেলগাড়ি একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাত্রা বিশ্বসেরা রেলভ্রমণগুলোর একটি।

বোঝাপড়া

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: কানাডায় রেল ভ্রমণ
২০০৬ সালের মে মাসে ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে টরন্টো, অন্টারিও পর্যন্ত পূর্বমুখী হয়ে রেল কানাডা 'কানাডিয়ান' পরিষেবা রকি পর্বতমালার জ্যাসপারে একটি বর্ধিত বিরতির জন্য থেমে যায়। ক্যামেরার সবচেয়ে কাছে একটি উচ্চ স্তরের পর্যবেক্ষণ গাড়ি রয়েছে।

কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ; কিন্তু ২০২০ সালে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে জনসংখ্যার হিসাবে মাত্র ৩৯তম। দেশটি ৯,৯৮৪,৬৭০ বর্গকিমি (৩,৮৫৪,০৮৫ বর্গমাইল) জুড়ে ছয়টি সময় অঞ্চলে বিস্তৃত—ফলে বিশাল এলাকা জনবসতিহীন বা অল্প জনবসতিপূর্ণ। এই ভ্রমণসূচি ব্যাখ্যা করে কীভাবে বুকিং করবেন, ভ্রমণ করবেন ও উপভোগ করবেন নিম্নের শহরগুলোর মধ্যকার নির্ধারিত যাত্রীবাহী রেলসেবা:

এই পথটি ৬,৩৫১ কিমি (৩,৯৪৬ মাইল) দীর্ঘ; আটটি প্রদেশ অতিক্রম করে এবং উত্তর আমেরিকার কিছু প্রাণবন্ত শহরের ভেতর দিয়ে যায়। ব্যক্তিগত শয়ন কক্ষে আরামে কিংবা সাশ্রয়ী চেয়ার আসনে—যেভাবেই হোক, এটি এক জীবনে একবারের অভিজ্ঞতা; কানাডার সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তোলে। কোট অব আর্মসের একটি প্রবাদ আছে ' সমুদ্র থেকে সমুদ্র (A mari usque ad mare)।

কানাডায় আরও অনেক যাত্রীবাহী পথ আছে। তাদের তথ্যের জন্য দেখুন কানাডায় রেল ভ্রমণ

প্রস্তুতি

[সম্পাদনা]

সময় বের করুন

[সম্পাদনা]

কানাডায় দ্রুত গতির রেললাইন নেই; অবকাঠামোর বড় অংশই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে নির্মিত। আধুনিক সময়ে রেলপথ প্রধানত পণ্যবাহী গাড়ির জন্য; তাই যাত্রীবাহী রেলগাড়িগুলোকে প্রায়ই নিম্ন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এখানে বর্ণিত ট্রেনগুলো দ্রুতগতির নয়—বরং ধীরস্থির, পর্যটকবান্ধব; যাদের হাতে দৃশ্য উপভোগের মতো সময় আছে।

কাদের সঙ্গে ভ্রমণ করবেন

[সম্পাদনা]

কয়েকটি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বিশেষ ভ্রমণ পরিচালনা করে; তবে অধিকাংশ যাত্রীবাহী সেবা দেয় VIA Rail Canada—রাষ্ট্রীয় ক্রাউন কর্পোরেশন। এই ভ্রমণসূচিতে শুধুই VIA Rail Canada‑এর সেবাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

কোন দিক থেকে শুরু করবেন

[সম্পাদনা]
ভ্যাঙ্কুভারের প্যাসিফিক সেন্ট্রাল স্টেশন; পূর্বমুখী যাত্রার সূচনা বিন্দু

কানাডা জুড়ে রেলগাড়িতে এক দিক থেকে আরেক দিকে যাত্রার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। কিন্তু দু’দিকেই—যাওয়া‑আসা—করলে বিশাল ভূদৃশ্য পুনরাবৃত্ত লাগতে পারে। অবশ্য ফিরতি পথে নতুন যাত্রীদের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হবে।

আপনি পশ্চিম (ভ্যাঙ্কুভার) থেকে শুরু করবেন নাকি পূর্ব (হ্যালিফ্যাক্স) থেকে তা নির্ধারণ করুন। যেসব শহরে নেমে ঘোরার ইচ্ছা, সেই অনুযায়ী ট্রেনের সময়সূচি মিলিয়ে দেখুন। অনেকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে পছন্দ করেন—ঐতিহাসিক বসতির ধারা অনুসরণ হয়, আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুরস্কার হিসেবে মেলে মন্ত্রমুগ্ধ করা রকি পর্বতমালা। তবে সিদ্ধান্ত আপনার।

পথিমধ্যে আরও রেলগাড়ি ভিত্তিক অতিরিক্ত ভ্রমণ সম্ভব। বিস্তারিত কানাডায় রেল ভ্রমণ পাতায়।

কবে যাবেন

[সম্পাদনা]

সারা বছর রেলগাড়ি চলে; তবে বন্ধের-মৌসুমে (অক্টোবর–এপ্রিল) যাত্রাসূচী কম থাকে। বন্ধের-মৌসুমের ভাড়া চলতি-মৌসুমের (মে–সেপ্টেম্বর) থেকে কম। শীতে দিনের আলো কম থাকায় দৃশ্য উপভোগ করতে কম পাবেন। গ্রীষ্ম আরামদায়ক হলেও কেন্দ্রীয়/পূর্ব কানাডায় শীতে প্রায়ই −৩০ °সে (−২২ °ফা) বা তারও নিচে নামে। শীতের ট্রেনভ্রমণ মজার; কিন্তু মাঝপথের স্টেশনে নেমে ঠান্ডায় বেরোনো কঠিন লাগতে পারে।

বেশিরভাগ যাত্রীর জন্য বসন্ত ও শরৎ সুবিধাজনক—আবহাওয়া নরম, আর বন্ধের-মৌসুমে কম ভাড়ায় পাওয়া যায়।

কীভাবে ব্যবস্থা করবেন

[সম্পাদনা]

VIA Rail Canada‑র চমৎকার ওয়েবসাইট আছে; বহু ভাষায় তথ্য ও অনলাইনে টিকিট। উত্তর আমেরিকায় ফোন: +১-৮৮৮-৮৪২-৭২৪৫ (১-৮৮৮‑VIA‑RAIL)।

টিকিট ও রেল পাস

[সম্পাদনা]

বন্ধের-মৌসুমের (১৬ অক্টোবর–৩১ মে) ভাড়া চলতি-মৌসুমের (১ জুন–১৫ অক্টোবর) থেকে সস্তা। আগেভাগে বুকিং করুন। রেলগাড়ির সংক্রান্ত সকল তথ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আছে:

‘আরামদায়ক’ (কোচ/ইকোনমি) শ্রেণী

[সম্পাদনা]
মন্ট্রিয়াল–হ্যালিফ্যাক্স ‘দ্য ওশান’ রেলগাড়ির ‘আরামদায়ক’ শ্রেণী(২০০৬)

‘আরামদায়ক’ শ্রেণীতে পথের দুই পাশে ১‑বা‑২ আসনের সারি; আসন হেলান করে আরামে ঘুমানো যায়। সুযোগ-সুবিধা প্যাকেট, বালিশ, কম্বল দেওয়া হয়। বয়স্ক বা হেলান দিয়ে ঘুমাতে অসুবিধা হলে সবার বিছানা বিবেচনা করুন।

শয়ন শ্রেণী: হ্যালিফ্যাক্স–মন্ট্রিয়াল

[সম্পাদনা]

সারা বছর ‘দ্য ওশান’ রেলগাড়িতে দুটি ধরনের শয়ন ব্যবস্থা আছে; চলতি-মৌসুমে অতিরিক্ত করা হয় উন্নতমানের শ্রেণীর। এখন সব ট্রেন আধুনিক ‘রেনেসাঁ’ বগিতে চলে।

  • দ্বৈত শোবারকক্ষ—দুটি বিছানা; ব্যক্তিগত বাথরুম‑বেসিন; ভেতরের/বাইরের থেকে তালা দেয়া; দুইজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে একজন শিশু থাকতে পারে।
  • দুজনের আরামদায়ক শোবারকক্ষ—দ্বৈতের মতো, অতিরিক্ত আছে গোসলখানা।
  • উন্নতমানের শ্রেণী—মে‑অক্টোবর; আরামদায়ক শোবারকক্ষ ভিত্তিক উন্নত সেবা; আঞ্চলিক সংস্কৃতি‑ইতিহাস নিয়ে উপস্থাপনা; লাউঞ্জ/প্যানোরামিক গাড়ি রাখার বিশেষ সুবিধা; খাবার অন্তর্ভুক্ত।

শয়ন শ্রেণী: মন্ট্রিয়াল–টরন্টো

[সম্পাদনা]

রাতে সোবার ব্যবস্থা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; দিনে ভ্রমণ করুন এবং পরের ট্রেনের আগে টরন্টো বা মন্ট্রিয়ালে অন্তত এক রাত থাকুন।

শয়ন শ্রেণী: টরন্টো–ভ্যাঙ্কুভার

[সম্পাদনা]

দি কানাডিয়ান ভিয়ার ফ্ল্যাগশিপ; ১৯৫০‑এর ‘স্টেইনলেস স্টিল’ ট্রেন আধুনিকায়িত করে চালানো হয়। সব শয়ন শ্রেণীর টিকিট রূপালি ও নীল—পার্কিংএ গাড়ির প্রবেশাধিকার ও গাড়ির রেস্টুরেন্টের খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে।

  • বিছানা—দিনে বিশাল বেঞ্চ; রাতে পর্দা টেনে বিছানায় রূপান্তর। কাছেই বাথরুম/গোসলখানা। ওপরের বিছানায় সিঁড়ি আছে, জানালা নেই; তাই নিচের বিছানার দামী বেশি।
  • একক শোবারকক্ষ—ব্যক্তিগত ঘর; চওড়া আসন রাতে বিছানায় রূপান্তর; পিছলা দরজা; ভেতরে বেসিন/বাথরুম।
  • দ্বৈত শোবারকক্ষ—দুটি বিছানা; দুটি আরামের চেয়ার, ছোট ওয়ার্ডরোব, ফ্যান, বিদ্যুতিক আউটবোর্ড; ব্যক্তিগত ওয়াশরুম/সিংক/আয়না; করিডরে গোসলখানা।
  • তিনজনের শোবারকক্ষ—দ্বৈতের মতো, বাড়তি নিচের বিছানা ও একটু বেশি জায়গা।
  • রোমান্টিক যাত্রা রেলপথে—হানিমুনারদের জন্য; পাশাপাশি দুই দ্বৈত ঘরকে একত্রে দ্বৈত‑বিছানা কক্ষে রূপান্তর।
  • আভিজাত্য শয়ন শ্রেনী—সবচেয়ে বিলাসী; নিজস্ব শাওয়ার, ফ্ল্যাট‑পর্দার টেলিভিশন, সাহায্যকারী ব্যক্তি; ইচ্ছেমতন অ্যালকোহলিক পানীয়; টরন্টো/ভ্যাঙ্কুভার আরামকক্ষে অবস্থানের অনুমতি।

কী নেবেন

[সম্পাদনা]

শয়েনের যাত্রী

  • কক্ষে লাগবে এমন হালকা ব্যাগ ১‑২টি;
  • বাকি জিনিস আলাদা ব্যাগে ব্যাগেজ গাড়িতে দিন (মধ্যপথে নেওয়া যাবে না)।

আরামের শ্রেণী যাত্রীরা সুযোগ-সুবিধার জিনিস পান—তবে বাড়তি বালিশ, নরম ঘুমের পোশাক, ভালো কানপট্টি, ছোট টয়লেটরি ব্যাগ, ওয়েট টিস্যু, বোতলজাত পানি/নাস্তা নেওয়া ভালো।

প্রবেশ

[সম্পাদনা]

আপনি কোন দিক থেকে শুরু করছেন তার ওপর নির্ভর করে হ্যালিফ্যাক্স বা ভ্যাঙ্কুভার পাতায় ‘প্রবেশ’ অংশ দেখুন।

রুট ও ট্রেনের সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]
কানাডা জুড়ে যাত্রীবাহী নেটওয়ার্ক মানচিত্র

এখানে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাত্রা ধরা হয়েছে; উল্টো দিকেও একইভাবে সম্ভব। মৌলিক কোস্ট‑টু‑কোস্ট রুট তিনটি ট্রেনে সম্পন্ন হয়:

আরও দেখুন: ওশান

ওশান হ্যালিফ্যাক্স থেকে সপ্তাহে তিন দিন ১:০০PM‑এ ছাড়ে; পরদিন সকাল ১০:০৩AM‑এ মন্ট্রিয়াল পৌঁছায়। বিপরীতমুখে মন্ট্রিয়াল থেকে ৭:০০PM; পরদিন ৫:৫১PM‑এ হ্যালিফ্যাক্স।

উভয় দিকেই সবচেয়ে দর্শনীয় অংশগুলো দিনের আলোয় পড়ে; কুইবেকে সেন্ট লরেন্সের দক্ষিণ তীরের বড় অংশ রাতে হয়। কুইবেক সিটি‑তে যেতে চাইলে সাঁনেতি‑ফোয়েতে নেমে বাস পরিবর্তন করতে হবে—সময় মাথায় রাখুন। সবচেয়ে মনোরম অংশ ম্যাপেদিয়ার পূর্বে; নিউ ব্রান্সউইকে ঢুকে বাই দ্য শালুরসের দক্ষিণ তীর ধরে চলে—গাস্পে উপদ্বীপ‑এর দূর তটরেখা দেখা যায়।

করিডর

[সম্পাদনা]

করিডর নামের নেটওয়ার্ক কুইবেক সিটি–মন্ট্রিয়াল–অটোয়া–টরন্টোসহ দক্ষিণ অন্টারিওর শহরগুলোকে সংযুক্ত করে। দিনে একাধিক যাত্রা; সাধারণবিজনেস শ্রেণী। রাতের রেলগাড়ি নেই। অটোয়ায় মন্ট্রিয়াল ও টরন্টো—দুই দিক থেকেই সরাসরি রেলগাড়ি আছে। কুইবেক সিটিতে পূর্ব দিক থেকে গেলে সাঁত‑ফোয়ে বদলাতে হয়।

দক্ষিণ কুইবেক‑অন্টারিওর দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণীয় না; তবে কানাডার দ্রুততম রাস্তা, শিল্পাঞ্চলের ঝলক দেয়। টরন্টোর কাছে/দূরে লেক অন্টারিওর আভাস পাবেন।

দি কানেডিয়ান

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: দি কানেডিয়ান
‘দি কানেডিয়ান’‑এর শেষপ্রান্তে বিলাসী প্রিন্স আলবার্ট পার্ক বগি

দি কানেডিয়ান টরন্টো থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার ৯:৪৫AM; ৪ দিন পর ভ্যাঙ্কুভারে সকাল ৮AM। ভ্যাঙ্কুভার থেকে সোমবার ও শুক্রবার ৩PM; ৪ দিন পর টরন্টো ২:৩০PM। (তালিকা: ২৯ এপ্রিল ২০১৯ অনুযায়ী।)

সপ্তাহে দুইবার চলা এ ট্রেনটাই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় কারণ। ৪,৪৬৬ কিমি (২,৭৭৫ মাইল) দূরত্ব যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি চ্যালেঞ্জিংও—টরন্টো থেকে ম্যানিটোবা সীমান্ত পেরোতে একদিনের বেশি সময় লাগে; অন্টারিওর লেক ও অরণ্যের পুনরাবৃত্ত দৃশ্য একসময় একঘেয়ে হতে পারে—সহযাত্রীদের সঙ্গে আড্ডার সময়! স্যাডবুরি–উইনিপেগের মাঝে আগাম জানালে নামা যায়—স্টেশনে, হাল্ট, মাইলপোস্ট—যেখানে খুশি। ক্যানো/বাইক ইত্যাদি লাগেজ কারে নেওয়া যায়।

অন্টারিও ছাড়ার পরই প্রেইরিতে ঢোকে; রকি পর্বতমালা দেখা যায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রেইরিতে। ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের কাছে এই অংশটি কম সুন্দর মনে হলেও প্রতীকী দিক থেকে অনন্য—সোজা লাইনে দিগন্তবিস্তৃত আকাশের নীচে কানাডার সীমানা বুঝবেন।

পূর্ব থেকে পশ্চিমে গেলে রকি প্রথম দেখায় সবচেয়ে অর্থপূর্ণ—দুই দিন সমতল/অরণ্য পেরিয়ে এডমন্টন‑ক্যামলুপসের মাঝের পর্বতমালা অপরূপ দৃশ্য। সময়সূচি এমনভাবে করা যে আলোটা পাহাড়ে সর্বোত্তমভাবে মেলে।

ভ্রমণসূচি

[সম্পাদনা]

হ্যালিফ্যাক্স থেকে ভ্যাঙ্কুভার—মাত্র তিন ট্রেনে—নিরবচ্ছিন্ন পাঁচ দিনে সম্ভব। এখানে সময়ভিত্তিক চারটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা দেওয়া হলো। বুকিংয়ের আগে সময়সূচি দেখে নিন।

পাঁচ দিন

[সম্পাদনা]

এভাবে টানা যাত্রা কম লোকই করেন—কোচে কষ্টকর, আর শহরগুলো ঘোরার সুযোগ হাতছাড়া। তবে কানাডা পরিচিত এমন ট্রেন‑পাগল ভ্রমণকারীদের জন্য রোমাঞ্চকর।

সাত দিন

[সম্পাদনা]

একটি দীর্ঘ লেওভার যোগ করে মূল রুট করা যায়—যারা আগে কানাডা দেখেছেন তাদের জন্য উপযোগী। দ্য কানেডিয়ান সপ্তাহে দুইবার বলে মধ্যবর্তী স্টপ মানে দুই‑তিন দিন বিরতি লাগবে (উভয় দিকেই)। তাই নিচের শহরগুলোর যেকোন একটিতে বাড়তি দিন রাখাই বাস্তবসম্মত:

সবগুলোই ভালো পাবলিক ট্রানজিট ও কমপ্যাক্ট ডাউনটাউন—হেঁটে ঘোরা যায়।

চৌদ্দ দিন

[সম্পাদনা]
উইনিপেগ ইউনিয়ন স্টেশন, ম্যানিটোবা

দুই সপ্তাহে পথে ২-৩টি স্টপ আরামে করা যায়—প্রথমবার কানাডা দেখার জন্য এটিই ন্যূনতম যুক্তিসঙ্গত। উদাহরণস্বরূপ ‘বড় শহর’ কেন্দ্রীক পরিকল্পনা:

  • দিন ১-২ হ্যালিফ্যাক্স; দিন ২-এর মধ্যাহ্নে রওনা
  • দিন ৩-৪ মন্ট্রিয়াল; দিন ৫-এ সকালে যাত্রা/অটোয়ায় পৌঁছে বিকেলে টরন্টো
  • দিন ৭-৮ টরন্টো পুরোদিন
  • দিন ৯-১১ দ্য কানেডিয়ান অনবোর্ড
  • দিন ১২-১৪ ভ্যাঙ্কুভার

‘পশ্চিমে বেশি সময়’ পরিকল্পনা:

  • হ্যালিফ্যাক্স→মন্ট্রিয়াল (ব্রেকফাস্ট), তারপর টরন্টো; টরন্টো থেকে দ্য কানেডিয়ান
  • উইনিপেগে ২ টি পূর্ণদিন
  • জ্যাস্পারে ২-৩ দিন
  • ভ্যাঙ্কুভারে ২-৩ দিন

মনে রাখুন, টরন্টো–ভ্যাঙ্কুভার অংশে নামলে পরের ট্রেন আসতে দু’-তিন দিন লাগে—ব্যতিক্রম জ্যাস্পার, যেখানে প্রিন্স রুপার্টের সাথে ভিয়া রেলের সংযোগ আছে এবং রকি মাউন্টেনিয়ারের ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার বিকল্প।

পশ্চিম ও প্রেইরির শহরগুলোর মধ্যে বেছে নিতে হতে পারে:

  • উইনিপেগ (ম্যানিটোবা)
  • সাসকাটুন (সাসকাচেওয়ান)
  • এডমন্টন (আলবার্টা)

দিন-রাতের আগমন/প্রস্থানের সময় দেখুন—সাসকাটুনে ট্রেন গভীর রাতে আসে-যায় (স্টেশন শহর থেকে ~৮ কিমি); এডমন্টন স্টেশন ~৬ কিমি ও পাবলিক ট্রানজিট নেই; উইনিপেগ স্টেশন ডাউনটাউনের কাছেই।

এক মাস

[সম্পাদনা]

উপরের ১৪‑দিনের পরিকল্পনা সহজেই বড় করা যায়। ক্যুবেক সিটি দারুণ; সাঁত‑ফোয়ে বদলাতে হয়। অটোয়ার জাদুঘর দেখতে ২‑৩ দিন দিন। পশ্চিমে উইনিপেগ/সাসকাটুন/এডমন্টন—প্রেইরি ঘোরার বেস (গাড়ি লাগতে পারে)। উইনিপেগ থেকে সরকারিভাবে সাবসিডাইজড হাডসন বে ট্রেনে চার্চিল ডিট্যুর করা যায়—মেরুভালুক, বেলুগা তিমি—কিন্তু স্থায়ী বরফমাটির ওপর ট্র্যাক—৪০+ ঘণ্টার ধীর যাত্রা। শীতকালে রকিতে গেলে জ্যাস্পারে ২‑৭ দিন স্কিইং রাখুন।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]
কানেডিয়ানের হাই‑লেভেল অবজারভেশন কারের ভেতর

কানাডায় রেলভ্রমণ অত্যন্ত নিরাপদ। সতর্কতা মূলত ব্যক্তিগত মালপত্র নিয়ে—দামি জিনিস খোলা রাখবেন না। সবচেয়ে নিরাপদ হলো ব্যাগেজ কারে লাগেজ চেক‑ইন করা—চুরির নজির নেই; গন্তব্যে ফেরত পাবেন।

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]

আপনি কোন দিক থেকে শুরু করেছেন তার ওপর নির্ভর করে হ্যালিফ্যাক্স বা ভ্যাঙ্কুভার পাতায় ‘গেট আউট’ দেখুন।

This TYPE কানাডা জুড়ে ট্রেনে has পথপ্রদর্শক অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:ভ্রমণপথ|পথপ্রদর্শক}}

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন