বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

কিপলিংয়ের কিমের পথে

পরিচ্ছেদসমূহ

কিম, জনপ্রিয় লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং রচিত একটি উপন্যাস, যার পটভূমি হল ঊনবিংশ শতকের শেষভাগের ব্রিটিশ শাসিত ভারত। এই গল্পটি এক কিশোরের বড় হয়ে ওঠা, রোমাঞ্চ, গুপ্তচরবৃত্তি, ভ্রমণ এবং ভারতের জাতিগত বৈচিত্র্য ও চরিত্রসমূহকে ঘিরে আবর্তিত। এটি কিপলিং-এর অন্যতম জনপ্রিয় ও পরিচিত সাহিত্যকর্ম।

রুডইয়ার্ড কিপলিং তার বাবার সাথে

কিমবল ও'হারা একজন ১৩ বছর বয়সী ‘গরিব শ্বেতাঙ্গ’ এবং অ্যাংলো-আইরিশ অনাথ, যে লাহোর শহরের রাস্তায় বসবাস করে। সেখানে সে "লিটল ফ্রেন্ড অফ অল দ্যা ওয়ার্ল্ড" নামে পরিচিত। একদিন তার দেখা হয় তেশু লামা নামক এক তিব্বতী সন্ন্যাসীর সঙ্গে, যিনি পুনর্জন্মের বৌদ্ধ চক্র থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটি আরোগ্যদায়ক নদীর সন্ধানে বেরিয়েছেন। কিম সেই সরল-স্বভাব লামার দায়িত্ব নিয়ে তার পথপ্রদর্শক ও রক্ষক হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে সে নিজের ব্যক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে যায়। কিমের অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু ছিল তার বাবার পুরনো রেজিমেন্টের ব্যাজের প্রতীক "রেড বুল অন এ গ্রীন ফিল্ড"।

ঘটনাচক্রে সৈন্যদলের হাতে কিম 'ধরা পড়ে' এবং তাকে সামরিক অনাথ আশ্রমে পাঠানো হয়, কিন্তু তেশু লামা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ভারতে বসবাসকারী কোনো শেতাঙ্গ সাহেব সন্তানের সমস্ত শিক্ষার খরচ বহন করবেন। এর ফলে কিম সেই অনাথ আশ্রম থেকে মুক্তি পায়। একই সময়ে লাহোরে বসবাসকারী মাহবুব আলি, নৃতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের কর্মকর্তা এবং উপমহাদেশে ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কর্নেল ক্রেইটনের কাছে কিমের অতীতের কথা তুলে ধরেন এবং তার প্রতিভা সম্পর্কেও অবগত করেন। এর ফলে কিম জড়িয়ে পড়ে একটি ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্য ও ব্রিটিশদের প্রতিদ্বন্দিতা। উনিশ শতকে রুশ সাম্রাজ্যের সীমান্ত ব্রিটিশ ভারতের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছিল। এই প্রতিযোগিতাই পরিচিত গ্রেট গেম নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

পরবর্তী তিন বছর ধরে কিম কঠোর ব্রিটিশ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। স্কুল ছুটির সময়ে সে ভিন্নধরনের কলানৈপুণ্য অর্জনে নিজেকে নিযুক্ত রাখে। অবশেষে ১৬ বছর বয়সে মুক্ত হয়ে সে আবার লামার সঙ্গে যোগ দেয় এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। একজন নিজের ধর্মীয় সাধনার পথে সিদ্ধিলাভ করে এবং অন্যজন নিজের অনুসন্ধান সম্পূর্ণ করার পথে অগ্রসর হয়।

আধুনিক যুগের পর্যটকরা কিম উপন্যাসের পথ অনুসরণ করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে পাবেন যে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে গেছে, আবার অনেক কিছু আগের মতোই রয়ে গেছে। কিম যে ট্রেনে যাত্রা করেছিল, সেই ট্রেনে যাত্রা আর সম্ভব নয়। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সেই রেলপথকে বিভাজিত করে দিয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ব্রিটিশরা চলে গেছে, কিন্তু তাদের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো টিকে আছে। গল্পে কিম যেসব মানুষের সঙ্গে দেখা করেছিল, তারা সকলেই ভিন্ন বেশ, ভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেকেই আগ্রহ জাগানো চরিত্র। মধ্য এশিয়া এখনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল, যদিও বর্ত‌মান পরিস্থিতি আগের থেকে ভিন্ন।

বর্তমান সময়ে যাত্রা সম্পর্কিত তথ্য প্রবন্ধে মোটা অক্ষরে লেখা আছে।

ভারতের উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কিত তথ্যের জন্য দেখুন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যপ্রাণী

This TYPE কিপলিংয়ের কিমের পথে has পথপ্রদর্শক অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:ভ্রমণপথ|পথপ্রদর্শক}}

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন