
কেরমানশাহ হচ্ছে মধ্য পশ্চিম ইরানের একটি শহর। এখানের আবহাওয়া হালকা এবং মনোরম। শহরটিতে অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান আছে।
জানুন
[সম্পাদনা]কেরমানশাহে প্রচুর মানুষ বসবাস করে, এবং এখানকার প্রধান ভাষা কুর্দি। এছাড়াও কুর্দি ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিক উপভাষাও শহরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রবেশ
[সম্পাদনা]বিমানে
[সম্পাদনা]কেরমানশাহে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে, যেটি ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে পৌঁছানো যায়। বিশেষত তেহরান ও মাশহাদ থেকে বিমান চলাচল করে। এছাড়াও ইস্তাম্বুল থেকে নিয়মিত বিমান কেরমানশাহ বিমানবন্দরে নামে।
গাড়িতে
[সম্পাদনা]আপনি চাইলে গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন, তবে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ট্যাক্সি। ইরানে "স্ন্যাপ" (اسنپ) ও "টাপসি" (تپسی) নামে দু’টি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, যেগুলো দিয়ে সহজেই ট্যাক্সি ডাকা যায়। এগুলো উবারের মতোই কাজ করে। তেহরানের বাইরে এই সেবাগুলো অনেক সস্তা, যদিও রাজধানী তেহরানে ভাড়া তুলনামূলকভাবে বেশি।
ট্রেনে
[সম্পাদনা]কেরমানশাহ রেলস্টেশন ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উদ্বোধন করা হয়। এখান থেকে তেহরান ও মাশহাদের উদ্দেশ্যে সপ্তাহে দুইদিন সরাসরি ট্রেন চলাচল করে।
- 1 কেরমানশাহ রেলওয়ে স্টেশন (ایستگاه راه آهن کرمانشاه)।
বাসে
[সম্পাদনা]ঘুরে দেখুন
[সম্পাদনা]দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]কেরমানশাহে কাজার যুগের চারটি পুরনো বাড়িতে চারটি জাদুঘর আছে। এগুলো হল: টেকিয়ে মোয়েন আলম নৃবিজ্ঞান জাদুঘর, জাগ্রোস আদিম প্রস্তর যুগের জাদুঘর, এবং টেকিয়ে বিগলর বায়গিতে খোদাই ও কাজার হস্তলিখন জাদুঘর। জাগ্রোস আদিম প্রস্তর যুগের জাদুঘরে রয়েছে ইরানের বিভিন্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগের পাথরের সরঞ্জাম ও প্রাণীর জীবাশ্ম হাড়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। এটি ইরানে আদিম প্রস্তর যুগের জন্য নিবেদিত প্রথম জাদুঘর। কেরমানশাহের ঐতিহ্যবাহী মর্যাদাপূর্ণ কুস্তিগীর বা মুল্লা কুশলদের মোমের পুতুলের একটি জাদুঘরও আছে, যা "মুজেহ পেহলভানি" নামে পরিচিত।
- তালাব-ই-হাশিলান: এই জলাভূমিতে ছোট ছোট ভাসমান দ্বীপ রয়েছে, যেখানে নানা ধরনের গাছপালা আছে আর প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি আশ্রয় নেয়। প্রায় ১৫০০ হেক্টর আয়তনের এই জলাভূমি কেরমানশাহ শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে। প্রাভ পাহাড়ে, তাক বোস্তান ও বিসোতুন পর্বতের মাঝখানে অবস্থিত প্রাভ গুহা এশিয়ার সবচেয়ে গভীর গুহা (বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গুহা হলো হামেদান প্রদেশের কেরমানশাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আলি-সদর গুহা)। এখানে বিখ্যাত হিমবাহ ও প্রায় ৭৬২ মিটার গভীর এক বিস্ময়কর উপত্যকা রয়েছে, যার ভেতর দিয়ে কয়েকটি ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়। কুরি কালেহ গুহা প্রদেশের আরেকটি প্রাকৃতিক বিস্ময়, যা কেরমানশাহ শহর থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে, পাভেহর পথে অবস্থিত। এই গুহার মূল দৈর্ঘ্য ৩,১৪০ মিটার এবং মোট বিস্তার প্রায় ১২ কিলোমিটার। চারপাশে নানা প্রজাতির বনগাছ ঘেরা মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। গুহার প্রথম অংশটি পর্যটনের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ১১১ লিটার পানি প্রবাহিত হয় এমন একটি চিরপ্রবাহমান ঝরনা রয়েছে। ভেতরে রঙিন স্তম্ভ আর বরফের ঝাড়বাতির মতো ঝুলন্ত দণ্ডে ভরা অসংখ্য কক্ষ আছে। সত্যিই এটি এমন এক রোমান্টিক দৃশ্য, যা ভোলা কঠিন।
- 1 তাক-ই-বোস্তান। সবচেয়ে বড় গুহামন্দির বা ইভানের ভেতরে অন্যতম বিস্ময়কর খোদাই হলো সাসানীয় রাজা দ্বিতীয় খসরুর (৫৯১–৬২৮ খ্রিষ্টাব্দ) বিশাল ঘোড়সওয়ার ভাস্কর্য, যেখানে তিনি তাঁর প্রিয় ঘোড়া শাবদিজ-এর উপর চড়ে আছেন। ঘোড়া আর রাজা দুজনেই সম্পূর্ণ যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত। খিলানটি দুইটি স্তম্ভের উপর দাঁড়ানো, যেখানে সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা নকশায় ‘জীবনের বৃক্ষ’ বা ‘পবিত্র বৃক্ষ’ দেখানো হয়েছে। খিলানের ওপরে, দুই পাশে দুই ডানাওয়ালা দেবদূতের মূর্তি রয়েছে, যাদের মাথায় মুকুট আছে। খিলানের বাইরের প্রান্তে একটি মোটা সীমারেখা খোদাই করা, যা ফুলের নকশায় খাঁজকাটা। এই ধরনের নকশা সাসানীয় রাজাদের সরকারি পোশাকেও দেখা যায়। এই ঘোড়সওয়ার খোদাইয়ের মাপ প্রস্থে ৭.৪৫ মিটার এবং উচ্চতায় ৪.২৫ মিটার।

- 2 বেহিস্তুন শিলালিপি। বেহিস্তুন শিলালিপি (যা বিসিতুন বা বিসুতুন নামেও পরিচিত, আধুনিক ফারসি: بیستون ; প্রাচীন ফারসি: বাগাস্তানা, যার মানে “ঈশ্বরের স্থান বা ভূমি”) হলো বেহিস্তুন পর্বতের উপর খোদাই করা এক বহুভাষিক শিলালিপি, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এই শিলালিপিতে একই লেখার তিনটি সংস্করণ আছে, তিনটি ভিন্ন ধরনের কীলক লিপিতে: প্রাচীন ফারসি, এলামীয়, আর ব্যাবিলনীয়। ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা হেনরি রলিনসন ১৮৩৫ ও ১৮৪৩ সালে দুটি ধাপে এটি নকল করে লেখেন। তিনি ১৮৩৮ সালে প্রাচীন ফারসি কীলক লিপি অনুবাদ করতে সক্ষম হন, আর এলামীয় ও ব্যাবিলনীয় অংশ পরবর্তীতে রলিনসন ও আরও কয়েকজন অনুবাদ করেন। ব্যাবিলনীয় ছিল আক্কাদীয় ভাষার পরের রূপ; দুটোই একই গোত্রের ভাষা। তাই এই শিলালিপি কীলক লিপি বোঝার জন্য ঠিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, যেমন মিসরের হায়ারোগ্লিফ বোঝার ক্ষেত্রে বিখ্যাত ‘রোজেটা পাথর’।
এই শিলালিপির উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার এবং প্রস্থ ২৫ মিটার, যা একটি চুনাপাথরের পাহাড়ের গায়ে, প্রাচীন বাবিল ও মিডিয়ার (বাবিলন আর একবাতানা) রাজধানীগুলোকে যুক্ত করা সড়কের প্রায় ১০০ মিটার উপরে খোদাই করা হয়েছে। এটি খুবই দুর্গম স্থানে, আর শেষ হওয়ার পর পাহাড় কেটে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমনভাবে বানানো হয়েছিল। প্রাচীন ফারসি অংশে আছে ৪১৪ লাইন (৫টি কলামে), এলামীয় অংশে ৫৯৩ লাইন (৮টি কলামে), আর ব্যাবিলনীয় অংশে ১১২ লাইন। শিলালিপির পাশে খোদাই করা হয়েছে বাস্তব আকারের ছবি: রাজা দারিউস, হাতে রাজত্বের প্রতীক হিসেবে ধনুক, আর তাঁর বাম পা রাখা আছে মাটিতে পড়ে থাকা এক ব্যক্তির বুকে। ধারণা করা হয়, এই ব্যক্তি ছিলেন সিংহাসনের দাবিদার গাওমাতা। দারিউসের পাশে বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে আছে দুইজন সহকারী, আর ডানদিকে সারিবদ্ধ দশজন ছোট আকারের মানুষ, যাদের হাত বাঁধা ও গলায় দড়ি—এরা পরাজিত জাতির প্রতীক। উপরে ভাসমান আছেন ‘ফারাভাহার’, রাজাকে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। একটি চরিত্র পরবর্তীতে যুক্ত করা হয়েছে বলে মনে হয়, আর দারিউসের দাড়িও আলাদা একটি পাথরে খোদাই করে লোহার কাঁটা আর সিসা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। - 3 মোআভেন আলমোল্ক মসজিদ (টেকিয়ে মোআভেন আলমোল্ক)। এটি একটি শিয়া শোক পালনের স্থান, যা এর অনন্য টালি নকশার জন্য বিখ্যাত। এখানে দেখা যায় যোদ্ধা যুগের চিত্র, কারবালার যুদ্ধের দৃশ্য, আবার আবার প্রাচীন ইরানের রাজা ও পারসেপোলিসের ছবিও রয়েছে।
- 4 কুহেস্তান পার্ক (কেরমানশাহ শহরের উত্তর দিকে)। এই পার্ক তাক বোস্তান পাহাড়ের কাছে অবস্থিত। এখান থেকে শহরের এক দারুণ সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
করুন
[সম্পাদনা]কেনাকাটা
[সম্পাদনা]- বেজি (এক ধরনের বিস্কুট)
- নান-এ রৌগানি
- নান-এ শেখারি
- নান-এ বেরেঞ্জি
- কাক
- কেরমানশাহি মাখন
- নান-এ খোরমায়ি
- গিভেহ হলো এক ধরনের নরম, আরামদায়ক, টেকসই এবং হাতে বোনা কাপড়ের জুতা, যা ইরানের নানা জায়গায় প্রচলিত, বিশেষ করে কেরমানশাহ প্রদেশের গ্রামাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায়। কেরমানশাহ প্রদেশে গিভেহ তৈরির প্রধান কেন্দ্র হলো পাভেহ, হারসিন ও কেরমানশাহ শহর। গিভেহ মূলত দুই ভাগে তৈরি হয়: নিচের অংশ (তলা) আর উপরের অংশ। তলা সাধারণত রাবার বা চামড়ার হয়, আর উপরের অংশ সুতো বুনে বানানো হয়। রাবারের ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে গিভেহ কারিগররা বুনো ষাঁড়ের চামড়া দিয়ে তলা বানাতেন, আর উপরের অংশ বানানো হতো উল বা সুতির সুতো দিয়ে। আগে ধনী লোকেরাই এগুলো বেশি পরতেন। পরে রাবারের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষও জুতার তলায় রাবার ব্যবহার করে গিভেহ পরতে শুরু করে।
আহার
[সম্পাদনা]পানীয়
[সম্পাদনা]রাত্রিযাপন
[সম্পাদনা]সস্তা
[সম্পাদনা]- ওক অতিথিশালা[অকার্যকর বহিঃসংযোগ], নং ১২, নাঘিবজাদেহ গলি, পশ্চিম মোতাহারি (সিরোস) সড়ক, জাভানশির মোড়, কেরমানশাহ । প্রবেশের সময়: দুপুর ২টা, বের হওয়ার সময়: দুপুর ১২টা। ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে চালু হওয়া এই নতুনভাবে সংস্কার করা বাড়িটি কেরমানশাহর পুরোনো এলাকার মাঝখানে অবস্থিত। এখানে শেয়ার করা ঘরে সুন্দর খাট আছে, প্রতিটি খাটে আলাদা পর্দা, তালাবন্ধ আলমারি, বিদ্যুৎ সংযোগ আর বাতি দেওয়া। পরিবার, দম্পতি আর ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি সাশ্রয়ী থাকার জায়গা। সকালের নাস্তা আর ইন্টারনেট ভাড়ার সাথে পাওয়া যায়। কেরমানশাহর পুরোনো বাজার আর দর্শনীয় স্থানের কাছেই এটি অবস্থিত। শেয়ার করা ঘরের ভাড়া ৫.৫ ইউরো থেকে, আর আলাদা কক্ষের ভাড়া ১৭.৫ ইউরো (ইউরোপীয় মুদ্রা) থেকে শুরু। যোগাযোগ: +98 83 3723 1682।
মাঝারি মূল্যের
[সম্পাদনা]বিলাসবহুল
[সম্পাদনা]- 1 পারসিয়ান অতিথিশালা) , তাক বোস্তান সড়ক, ☏ +৯৮ ৮৩ ৩৪২১ ৯১৫১। ৫ তারকা মানের, শহরের সবচেয়ে আরামদায়ক অতিথিশালা। সকালের নাস্তা: সকাল ৭টা–১০টা, দুপুরের খাবার: দুপুর ১২:৩০–৩টা, রাতের খাবার: রাত ৮:৩০–১১টা।
- 2 জামশিদ অতিথিশালা , তাক বোস্তান চত্বর, ☏ +৯৮ ৮৩ ৩৪২৯ ৬০০২। ৪ তারকা মানের অতিথিশালা, সঙ্গে খাবারের জায়গাও আছে।
২,১২০,০০০ রিয়াল।
সংযোগ
[সম্পাদনা]নিরাপদ থাকুন
[সম্পাদনা]- ইরান#নিরাপদ থাকুন পাতায় দেওয়া তথ্যও দেখে নিতে পারেন।
জরুরি সেবা
[সম্পাদনা]- পুলিশ: ১১০
- অগ্নিনির্বাপক দফতর: ১২৫
- জরুরি চিকিৎসা (অ্যাম্বুলেন্স): ১১৫
- সড়ক জরুরি চিকিৎসা: ১১৫ বা ১১২
পরবর্তী গন্তব্য
[সম্পাদনা]কেনাকাটা: নান-বারেনজি, নান-রঘান আর হস্তশিল্প যেমন গিলিম, গিভেহ (সুতির জুতো) আর স্থানীয় পোশাক এখানে কেনা যায়।
{{#assessment:শহর|রূপরেখা}}
