বিষয়বস্তুতে চলুন

12.0500-61.7500
উইকিভ্রমণ থেকে

গ্রেনাডা (উচ্চারণ: গ্রি-নেই-ডা) ক্যারিবিয়ান বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলের একটি দ্বীপপুঞ্জ, যা তিনটি বড় দ্বীপ; গ্রেনাডা, ক্যারিয়াকু এবং পেটিট মার্টিনিক সহ আরও কয়েকটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। ভৌগলিকভাবে গ্রেনাডা ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর উত্তরে এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও দ্য গ্রেনাডিনসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে "মসলা দ্বীপ" নামে পরিচিত গ্রেনাডা জায়ফল, লবঙ্গ, আদা, দারুচিনি, ভ্যানিলা এবং কোকো উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। ২০২২ সালে এখানকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১,২৫,০০০। গ্রেনাডার জনসংখ্যার সিংহভাগ অংশই মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বসবাস করেন।

দ্বীপগুলি

[সম্পাদনা]
গ্রেনাডার মানচিত্র
 গ্রেনাডা (দ্বীপ)
গ্রেনাডা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো গ্রেনাডা, যেখানে দেশের রাজধানী সেন্ট জর্জস অবস্থিত। দক্ষিণের গ্র্যান্ড আনস এলাকায় পর্যটকদের জন্য সকল জরুরী পরিষেবা উপলব্ধ।
 ক্যারিয়াকু
দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ক্যারিয়াকু, যার প্রধান শহর হিলসবরো।
 পেটিট মার্টিনিক
তৃতীয় স্থানে রয়েছে পেটিট মার্টিনিক, যেখানে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম।
  • ক্যারিয়াকু ও মূল দ্বীপের মাঝখানে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থানকারী ছোট ছোট দ্বীপগুলোর মধ্যে রন্ড সবচেয়ে বড় আকারের দ্বীপ।
  • রন্ডের পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে সমুদ্রের নিচে একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির আছে। এই আগ্নেয়গিরি কিক এম জেনি নামে সুপরিচিত।

পরিচিতি

[সম্পাদনা]
মর্ন রুজ সমুদ্র সৈকত

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ক্যারিবিয়ান প্লেট একটি ভূত্বকীয়(টেকটোনিক) গঠন যা মধ্য আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে শুরু করে পূর্বমুখে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। বিগত ৮ কোটি বছর ধরে অতি ধীরগতিতে এই ভূমিভাগের সরন ঘটছে। হিসেব করে দেখা গেছে যে, ভূমিভাগটি প্রতি বছরে প্রায় ১০ মিলিমিটার হারে পূর্বদিকে সরে যাচ্ছে, যার ফলে এটি আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে মহাদেশীয় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেই চাপের ফলে সীমান্ত বরাবর সারিবদ্ধভাবে একাধিক আগ্নেয় দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেনাডার ভূখন্ড সম্ভবত দুই মিলিয়ন বছর আগে গঠিত হয়। আনুমানিক ১২,০০০ বছর আগে মূল দ্বীপের আগ্নেয়গিরিগুলি সক্রিয় ছিল। সেই সময় সেন্ট জর্জের ক্যারেনেজ, গ্র্যান্ড এটাং, লেভেরা এবং সেন্ট অ্যান্টোয়নের জ্বালামুখগুলি থেকে অবিরাম অগ্ন্যুৎপাত হত। বর্তমানে এগুলি নিমজ্জিত অবস্থায় আছে। দ্বীপের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট সেন্ট ক্যাথরিন যা বর্তমানে একটি সুপ্ত আগ্নেয় পর্বত। এখানে অনেক ভূ-তাপীয় উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই অঞ্চলে "কিক এম জেনি" নামের এক নিমজ্জিত আগ্নেয়গিরি আছে যার অবস্থান মূল দ্বীপের দশ মাইল উত্তরে। এই আগ্নেয় পর্বত এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

এই অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হল দুর্গম পাহাড়ি ভূমি, যা মেঘ ও বৃষ্টিপাতের পক্ষে সহায়ক। আগ্নেয়গিরির উর্বর মাটি এই অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রাকৃতিক বন্দর এবং সবুজে ঘেরা মনোরম দৃশ্যপট এখানকার বৈশিষ্ট্য। সময়ে সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির স্থলজ প্রাণীরা এখানে অভিবাসন করেছে। মানুষ দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখন্ড থেকে নৌকায় চড়ে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাত্রা করে এখানে পৌঁছেছে। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী এই অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপনকারী ছিল আরাওয়াক জনজাতির লোকেরা। পরবর্তী শতাব্দীতে ইউরোপীয় আগমনের আগে ক্যারিব জনজাতির লোকেরা এই অঞ্চলে আক্রমণ করে এবং এখানকার আদি অধিবাসীদের অধীনস্থ করে। কিন্তু এই গল্প ভাষাতাত্ত্বিক জিনগত এবং সাংস্কৃতিক তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। স্প্যানিশরা "আরাওয়াক" শব্দটি ব্যবহার করত সেই আদিবাসীদের বোঝাতে যারা তাদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল আর "ক্যারিব" শব্দটি ব্যবহার করত তাদের শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করতে, সেই শত্রু যাদেরকে তারা দানব হিসেবে চিত্রিত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

১৪৯৮ সালে প্রথম ইউরোপীয় হিসাবে ক্রিস্টোফার কলম্বাস এই দ্বীপটি আবিস্কার করেন, তবে তিনি এই দ্বীপে অবতরন করেননি। তিনি দ্বীপটির নাম দিয়েছিলেন কনসেপসিওন তবে এই নামটি সেভাবে পরিচিতি পায়নি। ১৪৯২ সালে মুরদের কাছ থেকে গ্রানাডার আধিপত্য পুনরুদ্ধার করে স্পেনীয়রা এবং স্থানীয় আন্দালুসিয়ার শহর হয়ে ওঠে স্পেনের বিজয় ও উত্থানের প্রতীক। তারপরই দ্বীপটি মানচিত্রে "লা গ্রানাডা" নামে পরিচিত হতে থাকে। পরবর্তী ১৫০ বছর ধরে দ্বীপবাসীরা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। অবশেষে ১৬৪৯ সালে ফরাসিরা দ্বীপে আধিপত্য বিস্তার করে। তারা বন্দরের প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে এবং দ্বীপটি দখলে আনে। কিংবদন্তি অনুসারে ১৬৫২ সালে শেষের দিকে ক্যারিবরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই স্থানটি বর্তমানে "সোতোর্স" নামে পরিচিত। এরপর দ্বীপটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির আওতাধীন হয় এবং দ্বীপের ভূখণ্ড ক্রয়বিক্রয় হতে থাকে। ১৬৭৪ সালে গ্রেনাডা একটি ফরাসি উপনিবেশে রূপান্তরিত হয় এবং মার্টিনিক থেকে দ্বীপের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হত। গ্রেনাডা তখন ইন্ডিগো, তুলা এবং চিনি উৎপাদনের একটি লাভজনক ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। চাষের ফসল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক আফ্রিকান দাস গ্রেনাডায় আনা হয়েছিল। ব্রিটিশদের দৃষ্টিতে এই দ্বীপটি এতটাই মূল্যবান ছিল যে তারা মনে করত এটি ফরাসিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া একেবারেই অনুচিত হবে। বিশেষত সেসময় তাদের রাজকীয় নৌবাহিনীর শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তাই দ্বীপের দখল নিতে তারা উদ্যোগী হয়।

রাজধানী সেন্ট জর্জেস
মুদ্রা Eastern Caribbean dollar (XCD)
জনসংখ্যা ১১৪.২ হাজার (2023)
বিদ্যুৎ ২৩০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (বিএস ১৩৬৩)
দেশের কোড +1473
সময় অঞ্চল ইউটিসি−০৪:০০, America/Grenada
জরুরি নম্বর 911, +1-434 (জরুরি চিকিৎসা সেবা), +1-724 (জরুরি চিকিৎসা সেবা), +1-774 (জরুরি চিকিৎসা সেবা)
গাড়ি চালানোর দিক বাম

গ্রেনাডা, অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপের মতো বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের এক কৌশলগত মোহর হয়ে উঠেছিল। সপ্তবর্ষ যুদ্ধ (১৭৫৬–৬৩) চলাকালীন দ্বীপটি ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। কিন্তু আমেরিকান বিপ্লবের সময় ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের একসাথে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ১৭৭৯ সালে তারা গ্রেনাডা পুনরুদ্ধার করে। দ্বীপের অধিকার হাতে আসার পর বিজয়ী দল প্রতিআক্রমণের আশঙ্কায় দুর্গ নির্মাণ করেছিল, কিন্তু ১৭৮৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে দ্বীপটি আবার ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে তারা বাধ্য হয়। এরপর ফ্রান্স নিজেই বিপ্লবের জটিলতায় জর্জরিত হয়ে পড়ে এবং ক্যারিবিয়ানের এই অংশে তারা আর কখনো উপনিবেশিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ গ্রেনাডায় প্রতিধ্বনিত হয় জুলিয়েন ফেডঁ-র হাত ধরে। তিনি ছিলেন মিশ্রজাতির এক ভূস্বামী। ১৭৯৫ সালে তিনি একটি বিদ্রোহের সূচনা করেন যা প্রায় পনের মাস ধরে স্থায়ী হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ দমন করা হয়। ফেডঁ-র শেষ পরিণতি আজও মানুষের কাছে অজানা।

পরবর্তী ২০০ বছর ধরে গ্রেনাডা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দ্বীপের সঙ্গে একত্রে সংগঠিত একটি শিথিল প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল এই দ্বীপ। গ্রেনাডা সহ অন্যান্য সকল পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহ ব্রিটিশ উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসন নামে পরিচিত ছিল। উনবিংশ শতকে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেও দ্বীপটি উপনিবেশবাদীদের নিয়ন্ত্রণেই রয়ে যায়। ১৯২০-এর দশকে দ্বীপের কিছু সংস্কার হলেও গ্রেনাডাবাসীদের নির্বাচনী অধিকার ও দেশীয় নির্বাচন ব্যাবস্থায় প্রতিনিধিত্ব ছিল নামমাত্র। ১৯৫১ সালে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার চালু হয়। সেসময় এরিক ম্যাথিউ গেইরি ও তাঁর গ্রেনাডা ইউনাইটেড লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসে। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জুড়ে "পরিবর্তনের হাওয়া" বইতে শুরু করেছে যার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যুক্তরাজ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফেডারেশন গঠিত হয়। তবে অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন থাকলেও প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ব্রিটেনের হাতে রয়ে যায়। এই ফেডারেশন ছিল অস্থির ও স্বল্পস্থায়ী। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে গ্রেনাডা পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। গেইরি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন।

১৯৭৬ সালে এরিক গেইরির পুনর্নির্বাচনকে অনেকেই জালিয়াতিপূর্ণ বলে দাবী করেন যার ফলে নিউ জুয়েল মুভমেন্ট নামে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ও আধাসামরিক তৎপরতা ক্রমশ শক্তশালী হতে থাকে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন আইনজীবী মরিস বিশপ, যিনি নিজেকে মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বলে ঘোষণা করেন। ১৯৭৯ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা ক্ষমতা দখল করে এবং সেই কাজে তারা কিউবার সহায়তা চায়। কিউবার শ্রমিকরা পয়েন্ট সালাইনস-এ বিমানবন্দর নির্মাণ শুরু করে। ত্তকালীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আশঙ্কা করে যে সেই বিমান বন্দর তাদের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ১৯৮৩ সালে বিশপ নিজ দলের এক কঠোরপন্থী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এইসকল ঘটনা মার্কিন রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগানের কাছে এক বিপজ্জনক কমিউনিস্ট শাসনের দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। বৈরুতে মার্কিন নৌসেনা ঘাঁটিতে হামলার পর রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান এই হামলার জবাবে "অপারেশন আরজেন্ট ফিউরি" নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৭৬০০ সৈন্যের এই আক্রমণ শীঘ্রই কঠোরপন্থী ও কিউবানদের পরাজিত করে এবং পরের বছর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গ্রেনাডায় গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

গ্রেনাডার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপটিকে সহজগম্য করে তোলে। এর ফলে স্থানীয় গ্র্যান্ড আনস সৈকত অঞ্চলে প্রচুর হোটেল এবং আবাসন গড়ে ওঠে। তবে ২০০৪ সালে এখানে একটি বড় বিপর্যয় ঘটে। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে কোনো ঘূর্ণিঝড় গ্রেনাডা অঞ্চলে আঘাত হানেনি, কিন্তু সেই বছর "আইভান" নামক এক ঘূর্ণিঝড় দ্বীপটিকে বিধ্বস্ত করে ফেলে। তার পরের বছরই "এমিলি" নামক আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আরও একবার দ্বীপে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এরই মধ্যে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট দেশের জন ও বেসরকারি অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে যার ফলে দ্বীপের পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আজও দ্বীপজুড়ে বহু ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের কাঠামো ও ফাঁকা জায়গা সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে রয়ে গেছে।

আবহাওয়া

[সম্পাদনা]
সেন্ট জর্জের বন্দর, ক্যারেনেজ

গ্রেনাডার জলবায়ু উষ্ণমণ্ডলীয়, গরম ও আর্দ্র, যা সারা বছর প্রায় একই রকম থাকে। তাপমাত্রা সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা ৮০° ফারেনহাইটের কাছাকাছি থাকে এবং সতেজ বাণিজ্য বায়ু আর্দ্রতাকে কিছুটা প্রশমিত করে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টা তুলনামূলকভাবে একটু শুষ্ক ও ঠান্ডা হলেও অন্যান্য সময়ের তুলনায় পার্থক্য খুব বেশি নয়। বর্ষাকালেও সাধারণত একটানা এক ঘণ্টার বেশি বৃষ্টি হয় না। এই অঞ্চলে সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল ২০০৫ সালে, যার নাম ছিল এমিলি।

ভৌগলিক অবস্থান

[সম্পাদনা]

লেসার অ্যান্টিলিস দ্বীপমালার উত্তর-দক্ষিণ ধারা বরাবর অবস্থিত গ্রেনাডা ভৌগলিকভাবে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র। এর মোট ভূখণ্ড ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত যার মধ্যে প্রধান দ্বীপসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। উপকূলবর্তী অঞ্চলে দেশের তিনটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকায় (এমপিএ) অবস্থিত যেখানে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক জীববৈচিত্র্য স্থানীয় পরিবেশতন্ত্রের সমৃদ্ধির পরিচয় দেয়।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

অন্য ক্যারিবীয় দেশের মতো গ্রেনাডাও বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দার সমস্যায় জর্জরিত, তবুও অনেক ব্যাপারে এখানকার সাফল্য পর্যটকদের অবাক করার মতো। এখানকার মানুষ আইন মেনে চলে। তারা ভদ্র এবং কর্মনিষ্ঠ। সৈকতের বাইরে তারা সাধারণত সংযত পোশাক পরিধান করে; ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলেও জোরাজুরি খুব কমই দেখা যায়। শহরে হাফপ্যান্ট, শার্ট ও ট্রেনার পরে চলাফেরা করা যায়, তবে সৈকতের পোশাকে শহরাঞ্চলে ঘোরা কাম্য নয়।

৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেনাডার স্বাধীনতা দিবস। এটি একটি জাতীয় ছুটির দিন, যা নানা শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। এই দিনটি আঞ্চলিক মার্ডি গ্রাস উৎসবের নিকটবর্তী সময়ে উদযাপিত হয়, সেকারণে গ্রেনাডায় মার্ডি গ্রাস তেমন গুরুত্ব পায় না।

পর্যটকদের জন্য তথ্য

[সম্পাদনা]

পিওর গ্রেনাডা (+১ ৪৭৩ ৪৪০ ২০০১) হলো গ্রেনাডার পর্যটন সংস্থা।

স্থানীয় খবরের জন্য নাও গ্রেনাডা, দ্য নিউ টুডে, গ্রেনাডা ইনফর্মার, গ্রেনাডিয়ান ভয়েস এবং দ্য বার্নাকল পড়তে পারেন।

স্থানীয় ভাষা

[সম্পাদনা]

গ্রেনাডার সরকারি ভাষা হলো সাধারণ ব্রিটিশ ইংরেজি, যা মূলত সকলেই বুঝতে পারে। তবে স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে যে ইংরেজি উপভাষায় কথা বলেন তার বুলি খুব দ্রুত হয় এবং বহিরাগত মানুষদেরদের পক্ষে বোঝা কঠিন—কারণ সেটি মূলত তারা তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য ব্যবহার করে। জনসাধারণের পরিষেবায় নিয়োজিত স্থানীয় মানুষেরা এই ভাষা ব্যবহার করেন না। সাধারণ ইংরেজিতে কথা বলার সময়ও তারা অনেক সময় নিচু ও মসৃণ স্বরে কথা বলে, যেন তারা নিজেদের মধ্যে গোপনে কিছু কথা বলছে। স্থানীয় এই বুলি বুঝতে একটু সময় লাগে। ফরাসি ভাষা এখন শুধু কিছু স্থানের নাম হিসাবেই শোভা পায়। আর স্থানীয় ক্রেওল ভাষার ব্যাবহার প্রায় অবলুপ্ত হয়েছে।

কিভাবে আসবেন

[সম্পাদনা]
গ্রেনাডার ভিসা নীতি
  গ্রেনাডা
  ভিসা-মুক্ত - ৬ মাস
  ভিসা-মুক্ত - ৩ মাস
  ভিসা-মুক্ত - ২ মাস
  ভিসা-মুক্ত - ১ মাস
  আগমনের সময় শর্তসাপেক্ষ ভিসা
  আগে থেকে ভিসা প্রয়োজন

প্রবেশের নিয়মাবলী

[সম্পাদনা]

গ্রেনাডায় ভ্রমণের জন্য আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং ফিরে আসার জন্য বা পরবর্তী গন্তব্যের জন্য আগে থেকে টিকিটের ব্যাবস্থা থাকা আবশ্যক। ২০১৯ সালের আরোপিত নিয়ম অনুসারে (যা ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেও প্রযোজ্য ছিল), যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও তার অধীনস্থ অঞ্চল, ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, ক্যারিবিয়ান দেশ, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তার অধীনস্থ অঞ্চল, নরওয়ে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইসরায়েল, চীন, হংকং, ম্যাকাও এবং রাশিয়ার নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রয়োজন হয় না।

শুল্কমুক্ত ভাতা:ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, সর্বোচ্চ এক কোয়ার্ট পরিমাণে মদ ও মদ্যপানযোগ্য দ্রব্য, অর্ধ পাউন্ড তামাক বা ৫০টি সিগার বা ২০০টি সিগারেট ইত্যাদি দ্রব্য আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আনতে পারেন। অর্থ আনার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তবে ফল, সবজি, মাংস, মাটি, অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ—এইসব সামগ্রী নিষিদ্ধ।

বিমানে

[সম্পাদনা]

গ্রেনাডার মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মরিস বিশপ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জিএনডি  আইএটিএ), রাজধানী শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। এটি গ্রেনাডায় প্রবেশের প্রধান কেন্দ্র। এখানে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে আগত দীর্ঘ দূরত্বের বিমান অবতরন করে। এর পাশাপাশি এখানে আশেপাশের দ্বীপগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী স্বল্প দূরত্বের বিমান পরিষেবা রয়েছে। বিমানবন্দর সুবিধা এবং যাত্রা সম্পর্কিত তথ্য জানতে দেখুন: গ্রেনাডা (দ্বীপ)#কিভাবে আসবেন

ক্যারিয়াকু দ্বীপে অবস্থিত লরিস্টন বিমানবন্দর (সিআরইউ  আইএটিএ) একটি ছোট বিমানবন্দর যেখানে মরিস বিশপ বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন বিমান অবতরন করে। এছাড়াও এখানে সেন্ট ভিনসেন্ট থেকে সরাসরি বিমান আসে এবং বার্বাডোসসহ অন্যান্য দ্বীপের সঙ্গে এই বিমানবন্দরের সংযোগ রয়েছে। বিশদে জানতে দেখুন: ক্যারিয়াকু#কিভাবে আসবেন

জলপথে

[সম্পাদনা]
  • অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রেনাডার সেন্ট জর্জ বন্দরে প্রায়শই একাধিক ক্রুজ জাহাজ নোঙর করে। এই বন্দরে সর্বোচ্চ পাঁচটি জাহাজের জন্য জায়গা রয়েছে। বিশদে জানতে দেখুন: গ্রেনাডা (দ্বীপ)#কিভাবে আসবেন
  • বড় জাহাজের জন্য ক্যারিয়াকুতে কোনো নির্দিষ্ট জেটি না থাকলেও, অনেক সময় এগুলো উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করে এবং যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে দ্বীপে আনা হয়।
  • গ্রেনাডা, ক্যারিয়াকু এবং পেটিট মার্টিনিকের মধ্যে ওসপ্রে নামক যাত্রীবাহী ফেরি নিয়মিত চলাচল করে।
  • প্রতি সোমবার ও শুক্রবার ক্যারিয়াকু এবং ইউনিয়ন দ্বীপের মধ্যে একটি ছোট যাত্রীবাহী ফেরি সংযোগ রক্ষা করে।
  • ব্যক্তিগত নৌযান নিয়ে আগতদের জন্য অভিবাসন ও শুল্ক ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক, যা গ্রেনাডা দ্বীপের সেন্ট জর্জ বা প্রিকলি বে-তে, অথবা ক্যারিয়াকুর হিলসবরোতে সম্পন্ন করা যায়। পেটিট মার্টিনিকে জাহাজ প্রবেশের জন্য কোনো বন্দর নেই।

কিভাবে ঘুরবেন

[সম্পাদনা]
ফোর্ট‌ জর্জ‌

গ্রেনাডায় গণপরিবহনের মূল ভরসা হলো মিনিবাস। মিনিবাস সম্পর্কে বিশদ তথ্যের জন্য দেখুন: গ্রেনাডা (দ্বীপ)#কিভাবে ঘুরবেন সেন্ট জর্জের ক্রুজার ডকের পাশে অবস্থিত বাস স্টেশন থেকে আটটি রূট বা গন্তব্যে এই বাসের চলাচল আছে। এর মধ্যে প্রথম রুটের বাসগুলি মূলত গ্র্যান্ড আনস ও ক্যালিস্টে পর্যন্ত চলাচল করে। নয় নাম্বার রুটের বাসগুলি দ্বীপের উত্তর প্রান্তে গ্রেনভিল থেকে সটুর্স পর্যন্ত বিস্তৃত গন্তব্য পথে যাতায়ত করে। ক্যারিয়াকুতে মিনিবাসগুলো হিলসবরো অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। পেটিট মার্টিনিকের মতো ছোট ভ্রমন স্থানগুলি পায়ে হেঁটেই ঘোড়া যায়।

সেন্ট জর্জের ক্রুজার ডক ও গ্র্যান্ড আনস সৈকতের মধ্যে একটি বিশেষ ট্যাক্সি পরিষেবা আছে।

স্থানীয় ট্যাক্সিগুলোর লাইসেন্স প্লেটে "এইচ" চিহ্ন থাকে। প্রান্তিক বাস স্টেশন ও বিমানবন্দরের সামনে এই ট্যাক্সিগুলিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাস্তায় ভ্রমনের সময় হাত নাড়িয়ে ট্যাক্সিকে ডাকা যায়। অধিকাংশ পর্যটকের ক্ষেত্রে এক দিনের জন্য একটি ট্যাক্সি ভাড়া করা নিজস্ব গাড়িতে চলাচলের থেকে অনেক সুবিধাজনক। স্থানীয় চালকেরা সঠিক দিকনির্দেশ, খারাপ রাস্তা, পুলিশি ফাঁদ ও ভূমিধস সম্পর্কে অবগত, যা বহিরাগতরা জানেননা।

গাড়ি ভাড়ার জন্য কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, যারা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেনাডা অস্থায়ী ড্রাইভিং অনুমতিপত্রের ব্যাবস্থা করতে পারে। এই অনুমতিপত্রের সাহায্যে আপনি নিজেই সরাসরি গাড়ি চালিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে পারেন। এখানে স্থানীয় অঞ্চলে প্রায় দুই ডজনের বেশি সংস্থা বর্তমান যারা ড্রাইভিং অনুমতিপত্রের ব্যাবস্থা করে। কিন্তু তাদের মাধ্যমে অনুমতিপত্র পেতে গেলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হতে পারে।

মূল দ্বীপের ব্যস্ত ও সরু রাস্তায় উঁচু-নিচু ঢাল, আর্দ্র আবহাওয়া ও সদা-বিপরীতমুখী আটলান্টিক মহাসাগরের তীব্র বায়ুপ্রবাহের কারণে সাইকেল চালানো খুব একটা আনন্দদায়ক নয়। তবে ক্যারিয়াকুর শান্ত ও ছোট দ্বীপে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ।

কি দেখবেন

[সম্পাদনা]
  • সেন্ট জর্জস গ্রেনাডার একটি ঐতিহাসিক শহর, যার কেন্দ্রে রয়েছে প্রাকৃতিক বন্দর ক্যারেনেজ। বন্দর সংলগ্ন পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত পুরাতন কেল্লা ফোর্ট জর্জ, যার পাশেই আছে পুরনো চার্চ স্ট্রিট এলাকা। তবে ২০০৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞে অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো বেশ খাড়াই। পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য ছোট ট্যুরিস্ট ট্রেন একটি ভালো বিকল্প।
  • সমুদ্র-সৈকত: এখানকার গ্র্যান্ড আনস সমুদ্র সৈকতের কথা পর্যটন পুস্তিকায় বারবার উল্লিখিত হয়। সৈকতের তালগাছ-ঘেরা বালুকাবেলা দৃশ্য বেশ মনোরম। তবে ভূমিক্ষয়ের কারণে বালুকাবেলা কিছুটা সরু হয়ে উঠেছে এবং সমুদ্রের ঢেউ মাঝে মাঝে সরাসরি বালুকাবেলায় আছড়ে পড়ে। এখানেই স্থানীয় সমস্ত জলক্রীড়ার সুবিধা কেন্দ্রীভূত। পশ্চিম দিকে হেডল্যান্ড পেরিয়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত বিবিসি বা মর্ন রুজ সৈকত অবস্থিত। এরপর স্যান্ডালস রিসোর্ট -এর দিকে অবস্থিত প্যারাডাইস সৈকত। দ্বীপজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বালুকাবেলা ছড়িয়ে আছে, যদিও স্থানীয় উপকূল সাধারণত পাথুরে ভূমি নিয়ে গঠিত। পূর্ব দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে খোলা বাতাস প্রবাহিত হয়। এখানে আগ্নেয়গিরির বালু দিয়ে তৈরি কৃষ্ণকায় সৈকতও আছে, কনকর্ডের কাছে অবস্থিত ব্ল্যাক বে এরকমই একটি সৈকত।
  • দ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত গ্র্যান্ড এটাং আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে গঠিত একটি হ্রদ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা। এখানে মোনা বানর, নানা পাখি ও বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফুলের দেখা পাওয়া যায়। এই অঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট কোয়া কোয়া। পাহাড়ের ঢাল ধরে এখানে অনেক ঝর্ণা সৃষ্টি হয়েছে যাদের মধ্যে পশ্চিমে অ্যানান্ডেল আর পূর্বে সেভেন সিস্টার্স ও হানিমুন ফলস সবচেয়ে পরিচিত। উত্তর-পূর্বে অ্যান্টোয়ান ও উত্তরে লেভেরা এলাকায় আরও কিছু জ্বালামুখ হ্রদ ও পার্ক রয়েছে।
  • চাষাবাদ: দ্বীপের স্থানীয় মসলা উৎপাদনকারী খামারগুলোর মধ্যে ডগল্যাডস্টন এস্টেট এবং গুইয়াভের কাছে অবস্থিত গুইয়াভ নাটমেগ সবচেয়ে ফ্যাক্টরি উল্লেখযোগ্য। উত্তরে বেলমন্টে চকলেট তৈরির জন্য কোকো বিন প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রসার লাভ করেছে। ক্যারিয়াকু দ্বীপে বেশ কিছু পুরনো ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
  • ক্যারিয়াকুর পূর্ব উপকূলে টিবো এলাকায় একটি সমুদ্র সৈকত আছে, যেখানে অবস্থিত পুরাতন কবরস্থান ধীরে ধীরে সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে হারিয়ে যাচ্ছে।

কি করবেন

[সম্পাদনা]
অ্যানান্ডেল জলপ্রপাত
"অলসতা একটি দোষ, যা সরকারের মূল নীতির পরিপন্থী; আর সরকারের শক্তি নিহিত সমাজচুক্তির সুখ-সুরক্ষায় নজরদারিতে। অতএব, এই ঘৃণিত দোষ অলসতাকে নির্মূল করাই সরকারের কর্তব্য।"
— বিপ্লবী বিধান, ১৭৯
  • স্কুবা ডাইভিং: গ্রেনাডা ও ক্যারিয়াকুর পশ্চিম উপকূলের এক-দুই মাইল দূরে প্রবালপ্রাচীরে স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং-এর সুযোগ রয়েছে। গ্র্যান্ড আনসে ডাইভিং (ডুব-সাঁতার) সহ বিভিন্ন জলক্রীড়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো অবস্থিত। সেখান থেকে মাত্র ৫–১০ মিনিটের নৌযাত্রায় ডাইভিং -এর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো যায়। অগভীর প্রবালপ্রাচীরে নরম প্রবাল ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়। এখানে সমুদ্রে সাধারণত বেশ প্রবল স্রোত থাকে, তাই এখানে ড্রিফট নামক বিশেষ পদ্ধতিতে ডাইভিং করা হয়। এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডাইভ ক্রীড়া হল সমুদ্রে ডুব দিয়ে বিয়াঙ্কা সি নামক একটি ৬০০ ফুট দীর্ঘ ক্রুজ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দর্শন। জাহাজটিতে ১৯৬১ সালে আগুন ধরে ডুবে যায়। এখন সমুদ্রের ৯০–১৬০ ফুট গভীরে এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অবস্থান করছে।
  • সার্ফিং: সার্ফিংয়ের মতো জলক্রীড়ার জন্য পশ্চিম উপকূল খুব একটা উপযোগী নয়, তবে গ্র্যান্ড আনসের দক্ষিণে প্রিকলি বে এবং উত্তর-পূর্বে আটলান্টিকমুখী সৈকতগুলো সার্ফিংয়ের উপযোগী।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট, গ্রেনাডা দ্বিতীয় স্লিপে
  • ক্রিকেট: সেন্ট জর্জের ন্যাশনাল স্টেডিয়াম এখানকার জাতীয় ক্রিকেট দলের কেন্দ্রস্থল। তারা কখনো কখনো সম্মিলিতভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সাথে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ খেলে। এখানকার ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমের সময়কাল সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত, যখন আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। সেন্ট জর্জের ন্যাশনাল স্টেডিয়াম পাশে অবস্থিত কিরানি জেমস স্টেডিয়ামে ফুটবল ও অন্যান্য বিভিন্ন ক্রীড়ার আসর বসে। আমেরিকান ফুটবল (এনএফএল) এখানে নিয়মিত খেলা হয় না। বর্তমানে গ্রেনাডা ক্রীড়া পর্যটনের প্রসারের জন্য চেষ্টা করছে। এই উদ্দেশ্যে ২০২২ সালে রাগবি সেভেনস টুর্নামেন্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে।
  • হ্যাশিং: প্রধান দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হ্যাশিং নামে দৌড় প্রতিযোগীতার জন্য উপযুক্ত রাস্তা তৈরি করা হয়। সাধারণত শনিবার বিকেলে দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। কাদামাখা পথ, খাড়া ঢালু রাস্তা আর কাঁটাঝোপে ভরা পথে দৌড়ের পর ক্লান্ত প্রতীযোগীরা রাম নামক মাদক পান করে তাদের ক্লান্তি ভঞ্জন করে।
  • নৌকাভ্রমণ: এখানে নৌকা ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন নৌ সংস্থা থেকে দিনভিত্তিক নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। চাইলে ডিঙ্গি ভাড়া নিয়ে নৌভ্রমণ করা যায়।
  • বিবাহগাঢ় লেখা: কোন বহিরাগত মানুষ এখানে বিবাহ উৎসবের আয়োজন করতে চাইলে পাসপোর্ট, জন্মসনদ সহ তার অবিবাহিত থাকার প্রমাণ আবশ্যক। এছাড়াও অন্তত তিন কর্মদিবস ব্যাপী তার গ্রেনাডায় অবস্থান করা আবশ্যক। বিদেশী বিশেষায়িত কোম্পানিগুলো পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করে দিতে পারে। যদি আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে তবে তার প্রমাণপত্র সঙ্গে আনতে হবে। এখানকার আইন অনুযায়ী একজন পুরুষ ও নারীর বিবাহ প্রক্রিয়া সহজতর, কারণ সমলৈঙ্গিক সম্পর্ক এখানে এখনো আইনত নিষিদ্ধ।
  • ক্রিসমাস: ক্রিসমাস গ্রেনাডায় একটি বড় জাতীয় উৎসব ও ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। উৎসবে শিল্পীরা রঙিন মুখোশ পরে রাস্তায় নৃত্য করে। আনন্দঘন পরিবেশ এই উৎসবের বৈশিষ্ট্য। এখানে সৈকতের ধারে বসে ক্রিসমাসের দিন কাটানো এক নিখুঁত সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা দেয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

[সম্পাদনা]

গ্রেনাডায় ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট জর্জস বিশ্ববিদ্যালয় একটি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পশুচিকিৎসা এবং অন্যান্য শিল্প ও বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ানো হয়। এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভাগের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন স্কুল ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সও চালু রয়েছে। বহু মার্কিন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের অন্যতম কারণ ছিল এই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবন গ্র্যান্ড আনস সৈকতের ধারে অবস্থিত এবং এর অপর একটি শাখা বিমানবন্দরের পূর্ব দিকে অবস্থিত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেনাডায় কোনো স্থায়ী শাখা নেই, তবে তাদের ওপেন ক্যাম্পাস প্রোগ্রামের মাধ্যমে দূরশিক্ষার সুযোগ প্রদান করা হয়।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

স্থানীয় মুদ্রা

[সম্পাদনা]
পূর্ব ক্যারিবিয়ান ডলার-এর বিনিময় হার

জানুয়ারি ২০২৪-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ EC$2.7 (pegged)
  • €১ ≈ EC$3.0
  • ইউকে£১ ≈ EC$3.4
  • CA$1 ≈ EC$2.0

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

গ্রেনাডা ও আরও সাতটি ক্যারিবীয় দেশের সরকারিভাবে ব্যবহৃত মুদ্রা হলো ইস্ট ক্যারিবিয়ান ডলার বা ইসি ডলার। এই স্থানীয় মুদ্রাকে ডলারের চিহ্ন $ বা EC$ -এর মাধ্যমে নির্দেশিত করা হয় (আইএসও কোড: XCD)। একটি ইসি ডলারের মান ১০০ সেন্টের সমান। এখানে দশ, কুড়ি, পঞ্চাশ ও একশো ডলারের নোট প্রচলিত। পাশাপাশি এক, দুই, পাঁচ, দশ ও পঁচিশ সেন্ট এবং এক ডলারের কয়েন ব্যবহৃত হয়।

ইস্ট ক্যারিবিয়ান ডলারের মান যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সঙ্গে স্থায়ী হারে সংযুক্ত। এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় ডলারের মান ২.৭০ ইসি ডলারের সমান। গ্রেনাডায় মার্কিন ডলারের নোট সর্বত্র গ্রহণযোগ্য হলেও কয়েন সাধারণত গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় খুচরা ফেরত দেওয়া হয় ইসি সেন্টে অথবা বিলের পরিমাণ পূর্ণ সংখ্যায় মাপা হয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাইরে ইসি ডলার বিনিময় করা কঠিন এবং বিমানবন্দরে কোনো মুদ্রা বিনিময় সুবিধা নেই। তাই যদি আপনি এমন দেশ আসেন যেখানে ইসি ডলার গ্রহনযোগ্য নয় (বার্বাডোস বা ত্রিনিদাদ ও টোবাগো নয়) তাহলে পর্যাপ্ত মার্কিন ডলার সঙ্গে নিয়ে আসা বাঞ্ছনীয়। যেহেতু স্থানীয় ছোট ব্যবসা যেমন ট্যাক্সি চালকরা, সাধারণত কার্ড গ্রহণ করেন না। এই দেশ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় ইসি ডলার সাথে নিয়ে যাওয়া অনুচিত।

সেন্ট জর্জস ও গ্র্যান্ড আনসে এলাকায় একাধিক ব্যাংক রয়েছে যেখানে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকে।

বিপনন দ্রব্য

[সম্পাদনা]
সেন্ট জর্জের বাজার
  • খাদ্যসামগ্রী ও মসলা: গ্রেনাডা ভ্রমণের সময় খাদ্যসামগ্রী ও মসলা কেনার আগে নিজের দেশের শুল্ক সংক্রান্ত নিয়মাবলি ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি কারণ এখানকার বিক্রিত বহু দ্রব্য আপনার দেশে নিষিদ্ধ হতে পারে।
    • সিল করা অবস্থায় মসলা সাধারণত আমদানিযোগ্য। এখানকার প্রধান আকর্ষণই হলো সুগন্ধি মসলা—বিশেষ করে জায়ফল ও ভ্যানিলা। এছাড়াও মেস, দারুচিনি, আদা, লবঙ্গ ও হলুদের মতো উপাদানও জনপ্রিয়।
    • এখানকার চকলেটের মান অত্যন্ত ভালো তবে তা যেন ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করার ব্যবস্থা থাকে।
    • রাম এখানকার একটি জনপ্রিয় পাণীয়, কিন্তু এই রামে অ্যালকোহল মাত্রা এত বেশি যে ব্যক্তিগত অনুমোদিত সীমার মধ্যে মাত্র দুই বোতল রাম আমদানীযোগ্য হিসাবে গণ্য হতে পারে।
  • অনেক সময় সেন্ট জর্জস ও গ্র্যান্ড আনসের বিপণন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ডিউটি-ফ্রি দোকানের তুলনায় কম দামে স্থানীয় পণ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে ক্রুজ টার্মিনালের আশেপাশের দোকানগুলোতে বেশ কম দামে কেনাকাটা করা যায়।

কি খাবেন

[সম্পাদনা]
  • মাছ এবং মুরগি হল এখানকার প্রধান খাবার। দ্বীপের মশলা দিয়ে রান্না করা মাছ ও মাংস বেশ সুস্বাদু।
  • গ্র্যান্ড আনসে হোটেলগুলিতে সবচেয়ে ভালো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বেশিরভাগ সময়ে বহিরাগতদের জন্য এগুলি উন্মুক্ত থাকে।
  • সেন্ট জর্জ শহরে ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এই ভোজন স্থলগুলি তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়।

পানীয়

[সম্পাদনা]
রিভার অ্যান্টোয়ান রাম উৎপাদন কেন্দ্র
  • উষ্ণমণ্ডলীয় গরমে জলপান সর্বদাই ভালো ও নিরাপদ বিকল্প। গ্রেনাডার পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টির জলধারা থেকে সংগৃহীত কলের জল হালকা পরিশোধনের পর পানযোগ্য হয়ে ওঠে। রেস্তোরাঁয় অনুরোধ করলে এই জল পরিবেশন করা হয়। বোতলজাত জলও সহজলভ্য।
  • মূল দ্বীপে তিনটি রাম উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে যার মধ্যে একটি হল শহরের দক্ষিণে অবস্থিত ক্লার্ক’স কোর্ট ও ওয়েস্টারহল এবং আরেকটি হল শহরের উত্তরে অবস্থিত রিভার অ্যান্টোয়ান। এসব উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ভ্রমণ ও পরিদর্শনের সুযোগও আছে। অন্য দ্বীপগুলোতে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র নেই কিন্তু সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে মূল দ্বীপে উৎপাদিত রাম পানীয় সহজলভ্য। তবে স্থানীয় পানপশালাগুলোতে পরিবেশিত অতিরিক্ত অ্যালকোহলযুক্ত রাম সম্পর্কে সতর্ক থাকা ভালো।
  • ভাঁটিখানা:গ্র্যান্ড আনসের আশেপাশে দুটি ব্রিউয়ারি বা ভাঁটিখানা রয়েছে যা আঞ্চলিক পানীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে জনপ্রিয়।

কোথায় থাকবেন

[সম্পাদনা]
  • গ্রেনাডা দ্বীপের সমস্ত থাকার জায়গাগুলি গ্র্যান্ড আনসে এলাকায় কেন্দ্রীভূত যার অবস্থান বিমানবন্দরের বেশ কাছাকাছি। এখানকার হোটেল ও ঘরভাড়া তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল তবে দূরপাল্লার বিমানসহ সম্মিলিত প্যাকেজ বুকিং করলে অতিরিক্ত খরচ খুব একটা পড়ে না। রাজধানী সেন্ট জর্জসে থাকার সুযোগ সীমিত।
  • ক্যারিয়াকু দ্বীপে মাঝারি মানের ছোট ছোট আবাসন রয়েছে যেগুলি বেশিরভাগই হিলসবরো শহরে অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিমে টাইরেল উপকূলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু হোটেল আছে।
  • কোভিড-পরবর্তী সময় থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পেটিট মার্টিনিক দ্বীপে আবাসন ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়নি ফলে সেখানে বসবাসের সুযোগ এখনও সীমিত।

সতর্ক থাকুন

[সম্পাদনা]
গ্রেট এটাং -এর মোনা বাঁদর

গ্রেনাডা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অন্যতম নিরাপদ দেশ, যেখানে অপরাধের হার অত্যন্ত কম। এই শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখা এবং অতিরিক্ত জাঁকজমক প্রদর্শন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এখানকার সূর্যের তেজ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি কারণ গ্রেনাডা বিষুবরেখা থেকে মাত্র ১২ ডিগ্রি উত্তরে অবস্থিত। আকাশ মেঘলা থাকলেও বা বাতাস ঠান্ডা লাগলেও রোদের তীব্রতা প্রখর হতে পারে। তাই ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন, ছাতা ব্যবহার করুন, চওড়া ব্রিমের টুপি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, এবং উচ্চ মাত্রার সানব্লক প্রসাধণ ক্রীম ব্যবহার করুন। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত যখন অতিবেগুনি রশ্মি ও তাপমাত্রা সর্বোচ্চ, তখন বাইরে কাজকর্ম কম করুন।

এখানে আর্দ্রতা অনেক বেশি, প্রায় ৯০% পর্যন্ত উঠতে পারে। আর্দ্রতা ৬০% এর বেশি হলে শরীরের জন্য অস্বস্তিকর। প্রচুর জল পান করুন (কলের জল নিরাপদ), কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতায় ঘাম সহজে শুকায় না যার ফলে শরীর ঠান্ডা রাখতে সমস্যা হয়।

এখানকার মশা সাধারণত বিরক্তিকর হলেও বিপজ্জনক নয়। ম্যালেরিয়া বা অন্যান্য গুরুতর রোগ বহনের সম্ভাবনা খুব কম। তাই অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ওষুধের প্রয়োজন নেই, শুধু সাধারণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিলেই যথেষ্ট। সূর্যাস্তের পর মশার সক্রিয়তা বাড়ে, তাই বাইরে খাওয়ার আগে মশা প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু, জিকা বা চিকুনগুনিয়া ভাইরাসও এখানে খুবই বিরল।

আপনার আবাসস্থল থেকেই শহরের স্থানীয় প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে বাড়িতে এসে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। সেন্ট জর্জসে একটি বড় হাসপাতাল রয়েছে। পূর্বে মিরাবোতে একটি ছোট হাসপাতাল এবং ক্যারিয়াকু দ্বীপেও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে। সব চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট খরচ আছে। গুরুতর কিছু অসুখ হলে বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাবস্থা

[সম্পাদনা]

গ্রেনাডার তিনটি দ্বীপজুড়ে প্রায় সর্বত্রই ফ্লো এবং ডিজিসেল সংস্থার ফোর-জি নেটওয়ার্ক পরিষেবা উপলব্ধ, যদিও পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্থানে সিগন্যাল দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকতে পারে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রেনাডায় আধুনিক ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি চালু হয়নি, তাই উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য এখনো ফোর-জি নেটওয়ার্কই প্রধান ভরসা।

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]
  • এখানকার নৌকাভ্রমন বা ক্রুজার পরিষেবা বেশ জনপ্রিয়। ক্রুজারে চড়ে সহজেই নির্ধারিত পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তাছাড়া বিমান পরিষেবাও উপলব্ধ রয়েছে।
  • গ্রেনাডা থেকে সবচেয়ে কাছে অবস্থিয় সেন্ট ভিনসেন্ট দ্বীপে ঘুরতে যেতে পারেন। এখানকার প্রকৃতি কলুষতামুক্ত ও অক্ষত। তবে এখানে পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যাবস্থা খুব কম।
  • গ্রেনাডা থেকে আপনি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বার্বাডোস, সেন্ট লুসিয়া এবং টোবাগো যাওয়ার পরিকল্পনায় করতে পারেন।

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE গ্রেনাডা has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:দেশ|ব্যবহারযোগ্য}}