বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

প্যালেস অন হুইলস হলো রাজস্থান, ভারত এর একটি বিলাসবহুল ট্রেন। স্বাধীনতার আগে ভারতের দেশীয় মহারাজাদের নিজেদের বিলাসবহুল ট্রেন বহর ছিল। স্বাধীনতার পর রেলপথ জাতীয়করণ করা হয়। সেই ব্যক্তিগত বিলাসবহুল ট্রেনগুলো আর চালু থাকেনি। ১৯৮১–৮২ সালে রাজস্থান পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং ভারতীয় রেলওয়ে যৌথভাবে চালু করে "প্যালেস অন হুইলস" — স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম বিলাসবহুল ট্রেন।

জানুন

[সম্পাদনা]
জয়পুরে প্যালেস অন হুইলস
প্যালেস অন হুইলস কেবিন

এই বিলাসবহুল ট্রেন সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এছাড়াও রয়েছে ওয়াই-ফাই। ট্রেনটির ১৪টি কোচ রাজপুতানা রাজ্যের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে এবং রাজস্থানি শিল্প ও কারুশিল্প দিয়ে সজ্জিত। ট্রেনে আছে ৩৯টি ডিলাক্স কেবিন এবং ২টি সুপার ডিলাক্স কেবিন।যেগুলোতে সর্বোচ্চ ৮২ জন যাত্রী থাকতে পারে। প্রতিটি কেবিনে সংযুক্ত টয়লেট, কার্পেট এবং আধুনিক সুবিধা রয়েছে। প্রতিটি কেবিনে একজন ব্যক্তিগত পরিচারক (খিদমতগার) নিয়োজিত থাকে। এছাড়াও রয়েছে দুইটি ডাইনিং কার (মহারাজা ও মহারানি), দুইটি রেস্টো-বার লাউঞ্জ এবং একটি আয়ুর্বেদিক স্পা। এই ট্রেন ভ্রমণে রয়্যাল বিলাসিতার সাথে রাতের যাত্রা করা যায়। পাশাপাশি পূর্ব-নির্ধারিত দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

প্রস্তুতি

[সম্পাদনা]

উচ্চ মৌসুম ভাড়া

[সম্পাদনা]

অক্টোবর–মার্চ হলো উচ্চ মৌসুম

  • ডিলাক্স কেবিন (একজনের জন্য একক ব্যবহার)। ভারতীয়দের জন্য ₹৫,২৩,৬০০, বিদেশিদের জন্য US$ ৭৭০০
  • ডিলাক্স কেবিন (দুজনের জন্য দ্বৈত ব্যবহার)। ভারতীয়দের জন্য ₹৬,৮০,৬৮০, বিদেশিদের জন্য US$ ১০,০১০
  • সুপার ডিলাক্স কেবিন (একক বা দ্বৈত উভয়ের জন্য)। ভারতীয়দের জন্য ₹৯,৪২,৪৮০, বিদেশিদের জন্য US$ ১৩,৮৬০

নিম্ন মৌসুম ভাড়া

[সম্পাদনা]

এপ্রিল–সেপ্টেম্বর হলো নিম্ন মৌসুম

  • ডিলাক্স কেবিন (একজনের জন্য একক ব্যবহার)। ভারতীয়দের জন্য ₹৪,২৮,৪০০, বিদেশিদের জন্য US$ ৬৩০০
  • ডিলাক্স কেবিন (দুজনের জন্য দ্বৈত ব্যবহার)। ভারতীয়দের জন্য ₹৫,২৩,৬০০, বিদেশিদের জন্য US$ ৭৭০০
  • সুপার ডিলাক্স কেবিন (একক বা দ্বৈত উভয়ের জন্য)। ভারতীয়দের জন্য ₹৭,০৬,৮৬০, বিদেশিদের জন্য US$ ১০,৩৯৫

প্রবেশ

[সম্পাদনা]

প্যালেস অন হুইলস প্রতি বুধবার যাত্রা শুরু করে। পুরো এক সপ্তাহের ভ্রমণ শেষে যাত্রীদের আবার নয়াদিল্লির সফদারজং রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে দেয় ভোরবেলায়। বিলাসবহুল এই ট্রেন মূলত ধনীদের কাছে জনপ্রিয়। এজন্য অনেক মাস আগে থেকেই বুকিং করতে হয়। টিকিট একক, যুগল ও ত্রৈমুখী ভাগাভাগি ভিত্তিতে পাওয়া যায়। সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো অনলাইনে বুকিং[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] বা এজেন্টদের মাধ্যমে বুক করা। ট্রেনটি আগস্ট–এপ্রিল মাসে চলাচল করে।

যাত্রাপথ

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
প্যালেস অন হুইলসের মানচিত্র
আগ্রায় প্যালেস অন হুইলস

প্যালেস অন হুইলস যাত্রা শুরু করে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে এরপর এটি যায় জয়পুর, জয়সলমের, জোধপুর, সাওয়াই মাধোপুর, চিত্তৌরগড়, উদয়পুর, ভরতপুর এবং আগ্রা শহর হয়ে।

ভ্রমণপথে ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহরগুলোতে দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারার এক ঝলক তুলে ধরে।

প্রথম দিন (বুধবার)

[সম্পাদনা]

1 দিল্লি (সফদারজং রেলওয়ে স্টেশন)। বিকেল ৪:৩০ টায় দিল্লির সফদারজং রেলওয়ে স্টেশনে রিপোর্টিং। ঐতিহ্যবাহী স্বাগত (মালা, তিলক ও পাগড়ি) প্রদান করা হয়। ব্যক্তিগত পরিচারক দ্বারা ব্রিফিং ও স্বাগত পানীয় পরিবেশন। ট্রেনটি ৬:৩০ টায় ছাড়ে। রাতের খাবার ও রাতযাপন ট্রেনে।

দ্বিতীয় দিন (বৃহস্পতিবার)

[সম্পাদনা]

2 জয়পুর সকালে ট্রেনে প্রাতঃরাশ। জয়পুর রেলওয়ে স্টেশনে রাজকীয় হাতি দ্বারা স্বাগত। সকালে ভ্রমণে রয়েছে সেন্ট অ্যালবার্ট মিউজিয়াম, পিঙ্ক সিটি প্যালেস এবং জন্তর মন্তর। এরপর হাওয়া মহল এবং আম্বের ফোর্ট, যেখানে ফোর্টের র‌্যাম্পার্টে হাতি চড়ার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। দুপুরের খাবার পরিবেশিত হয় ১১৩৫ এডি বুটিক রেস্টুরেন্টে।যা দুর্গের ভেতরে অবস্থিত। বিকেলে আম্বের ফোর্ট পরিদর্শন অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যায় জয়পুরের জমজমাট বাজারে কেনাকাটা। সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেনে ফেরা পাশাপাশি রাতের খাবার ট্রেনে পরিবেশিত হয়।

তৃতীয় দিন (শুক্রবার)

[সম্পাদনা]

3 রন্থাম্ভোর জাতীয় উদ্যান ভোরে সাওয়াই মাধোপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে রান্থাম্ভোর ন্যাশনাল পার্কে যাত্রা। জঙ্গল লজে প্রাতঃরাশের পর ক্যান্টার জীপে জঙ্গল সাফারি। এখানে বাঘ, চিতা, ভাল্লুক, অজগর, কুমির, হরিণ ও অসংখ্য পাখি দেখা যায়। ১০টার মধ্যে স্টেশনে ফেরা। দুপুরের খাবার ট্রেনে পরিবেশিত হয়।
4 চিত্তৌরগড় বিকেল ৪টায় চিত্তৌরগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দুর্গে স্থানান্তর। ১১শ শতকে নির্মিত এই দুর্গ ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট। সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। পরে ট্রেনে ফিরে রাতের খাবার। ট্রেন মধ্যরাতের পর রওনা দেয়।

চতুর্থ দিন (শনিবার)

[সম্পাদনা]

5 উদয়পুর সকাল ৮টায় উদয়পুর পৌঁছে প্রাতঃরাশ। সিটি প্যালেস ট্যুর এবং পিচোলা লেকে নৌকাভ্রমণ। দুপুরের খাবার ফতেহপ্রকাশ প্যালেস হোটেলে। বিকেলে কেনাকাটা ও সেহেলিয়োঁ কি বাড়ি পরিদর্শন। বিকেল ৩টার মধ্যে ট্রেনে ফেরা, এরপর ট্রেন জয়সলমেরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। রাতের খাবার ট্রেনে।

পঞ্চম দিন (রবিবার)

[সম্পাদনা]

6 জয়সলমের সকালে প্রাতঃরাশের পর ৯:৩০ টায় জয়সলমের ফোর্ট ভ্রমণ (ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট)। দুপুরের খাবার ৫-তারকা হোটেলে তারপর শহর ভ্রমণ অব্যাহত। বিকেলে সাম বালিয়াড়িতে উটের পিঠে মরুভূমি ভ্রমণ ও সূর্যাস্ত উপভোগ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ ৫-তারকা হোটেলে। রাত ১০টার মধ্যে ট্রেন রওনা দেয়।

ষষ্ঠ দিন (সোমবার)

[সম্পাদনা]

7 জোধপুর সকাল ৮টায় জোধপুর পৌঁছে প্রাতঃরাশ। মেহরানগড় ফোর্ট ভ্রমণ।এরপর উমেদ ভবন প্যালেস মিউজিয়াম। দুপুরের খাবার হানওয়ান্ত মহল বুটিক রেস্টুরেন্টে। বিকেল ৩:৩০টায় ট্রেনে ফেরা সেখানে রাতের খাবার ট্রেনে পরিবেশিত হয়।

সপ্তম দিন (মঙ্গলবার)

[সম্পাদনা]

8 ভরতপুর পাখি অভয়ারণ্য ভোর ৬:৩০টায় ভরতপুর বার্ড স্যাংচুয়ারি (ইউনেস্কো সাইট) ভ্রমণ। রিকশায় পাখি দেখা উপভোগ। প্রাতঃরাশের জন্য ট্রেনে ফেরা। সকাল ৮:৪৫টায় ট্রেন ছাড়ে।
9 আগ্রা সকাল ১০:৩০টায় আগ্রা পৌঁছে আগ্রা ফোর্ট ভ্রমণ। দুপুরের খাবার আইটিসি মুঘল হোটেলে। বিকেলে বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল ভ্রমণ ও কেনাকাটার জন্য সময়। সন্ধ্যায় ট্রেনে ফিরে রাতের খাবার।

অষ্টম দিন (বুধবার)

[সম্পাদনা]

ট্রেন ভোর ৫:৩০টায় দিল্লি সফদারজং স্টেশনে পৌঁছায়। প্রাতঃরাশ ট্রেনে পরিবেশিত হয়। সকাল ৭:১৫ এর মধ্যে চেকআউট।

নিরাপদ থাকুন

[সম্পাদনা]

যাত্রার সময় যাতে হারিয়ে না যান এজন্য দলে থাকা ভালো। ভারতের রাস্তাঘাট নতুন ভ্রমণকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

পরবর্তী ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

ট্রেনটি নয়াদিল্লির সফদারজং স্টেশনে পৌঁছে শেষ হয়। এরপর যাত্রীরা প্রাতঃরাশ করে স্থানীয় ট্যাক্সি, কুল ক্যাব বা কম খরচের অটো রিকশা ব্যবহার করে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে নিজ নিজ ফ্লাইট ধরতে পারেন।

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন