বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

নেপোলিয়নিক যুদ্ধের পর ১৮৭১ সালে ১৮ জানুয়ারিতে ইউরোপের বহু জার্মান-ভাষী রাজ্য প্রুশিয়ার নেতৃত্বে একত্রিত হলে জার্মান সাম্রাজ্য গঠিত হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। এই সময়কালে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে কেবল ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের পর ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য আকারে এটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল।

বার্লিন প্রাসাদ, জার্মান সাম্রাজ্যের কাইজারের প্রধান বাসভবন

রোমান সাম্রাজ্য পতনের পর থেকেই বর্তমান জার্মানি অঞ্চল বহু ছোট ছোট রাজ্য, প্রিন্সিপ্যালিটি ও ডিউকডম নিয়ে গঠিত ছিল (দেখুন ফ্র্যাঙ্কসহানসিয়াটিক লীগ)। তবে খ্রিস্টাব্দ ৯৬২ থেকে ১৮০৬ পর্যন্ত বহু ক্যাথলিক জার্মান-ভাষী রাজ্য মিলিত হয়ে একটি শিথিল কনফেডারেশন গঠন করেছিল। যা পরিচিত ছিল পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য নামে। এর সম্রাট বেশিরভাগ সময় ছিলেন অস্ট্রিয়ার হ্যাবসবার্গ শাসকরা। নেপোলিয়নিক যুদ্ধের (১৮৬৪) পর ছোট ছোট জার্মান রাজ্যগুলো একত্রিত হয়ে একটি একক জাতিরাষ্ট্ হয়। যা ১৮৭১ সালে জার্মান সাম্রাজ্য ঘোষণা করা হয়। প্রুশিয়ার রাজা উইলহেল্ম প্রথম জার্মানির প্রথম কাইজার হন আর প্রুশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অটো ভন বিসমার্ক জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলর হন। অস্ট্রিয়া জার্মান সাম্রাজ্যে যোগ দেয়নি বরং পৃথক অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যর কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

১৮৮৪–১৮৮৫ সালে জার্মানি বার্লিন সম্মেলনের আয়োজন করে। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর প্রতিনিধিরা আফ্রিকা ভাগ করে নেন। এ সময় জার্মানি আফ্রিকায় প্রথম বিদেশি উপনিবেশ অর্জন করে (যদিও একীকরণের আগে কিছু ক্ষুদ্র জার্মান রাজ্য অল্প সময়ের জন্য উপনিবেশ স্থাপনের চেষ্টা করেছিল)। ১৮৯০ের দশকে জার্মান উপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয় ওশেনিয়াচীন পর্যন্ত এবং আফ্রিকার ভেতরেও সম্প্রসারিত হয়। তবে এই সম্প্রসারণবাদ জার্মানিকে ফরাসি ও ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ফেলে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের মাধ্যমে জার্মান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। বিজয়ী মিত্রশক্তি জার্মানিকে সব বিদেশি উপনিবেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। ইউরোপের বহু অঞ্চল নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা পায় (বিশেষ করে পোল্যান্ড) আর কিছু এলাকা প্রতিবেশী দেশগুলিকে দেওয়া হয় (আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে দেওয়া হয়)।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

[সম্পাদনা]

১৬শ শতকের উত্তর রেনেসাঁ যুগ থেকে বহু জার্মান-ভাষী রাজ্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। গ্র্যান্ড ট্যুরের একটি প্রধান গন্তব্য ছিল। জার্মান সাম্রাজ্যের একীকরণ শিল্পায়ন ও মানকীকরণের পথ প্রশস্ত করে যা জার্মানিকে ইউরোপে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমকক্ষ অর্থনৈতিক শক্তি করে তোলে (দেখুন শিল্প সংস্কৃতির পথ )। জার্মান বিজ্ঞানীরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত বহু নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন যা উনবিংশ শতকের শেষ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সোনালি যুগ সূচনা করেন।

আরও দেখুন: বিচারের ইতিহাস

জার্মান দেওয়ানি আইন বিশ্বজুড়ে বহু দেশের আইন ব্যবস্থার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। যা জার্মান সাম্রাজ্যের সীমানার অনেক বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, চীনজাপানের আধুনিক আইন ব্যবস্থা মূলত জার্মান দেওয়ানি আইনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

গন্তব্যস্থল

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
জার্মান সাম্রাজ্যের মানচিত্র

ইউরোপ

[সম্পাদনা]

জার্মান সাম্রাজ্যের সময়ে, জার্মানির সীমান্ত আধুনিক জার্মানির তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির অধিকাংশ প্রাক্তন ইউরোপীয় ভূখণ্ড প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বেলজিয়াম

[সম্পাদনা]

1 ইউপেন শহরটি বহুবার হাতবদল হয়েছে। ১৮১৫ সালে এটি প্রুশিয়ার অংশ হয় এবং ১৮৭১ সালে জার্মান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর শহরটি বেলজিয়ামের অংশ হয়। তবে এখনও এটি প্রধানত জার্মান-ভাষী শহর পাশাপাশি বেলজিয়ামে ছোট জার্মানভাষী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। (Q151831)


ফ্রান্স

[সম্পাদনা]

2 মেৎস্‌ লোরেন অঞ্চলের কেন্দ্র, যা ১৮৭১ সালে ফ্রান্স থেকে জার্মানির হাতে আসে। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পরাজয়ের ফলে পুনরায় ফ্রান্সে ফেরত দেওয়া হয়। শহরের "ইম্পেরিয়াল কোয়ার্টার" জার্মান শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। আজও সেই সময়কার অনেক ভবন টিকে আছে। স্থানীয় ফরাসি উপভাষাতেও জার্মান প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। (Q22690)


স্ট্রাসবুর্গের পুরনো কাঠের ফ্রেমের বাড়ি

3 স্ট্রাসবুর্গ আলসেস অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর। ১৮৭১ সালে ফ্রান্স থেকে জার্মানির হাতে আসে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর পুনরায় ফ্রান্সের অংশ হয়। তবে পুরনো শহরের স্থাপত্য ও স্থানীয় খাবারে এখনও জার্মান প্রভাব বিদ্যমান। "আলসেশিয়ান" নামে পরিচিত একটি জার্মান উপভাষা এখনও কিছু বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচলিত। এটি মাঝে মাঝে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। (Q6602)


লিথুয়ানিয়া

[সম্পাদনা]

4 ক্লাইপেদা (মেমেল)। আগে প্রুশিয়া এবং পরে জার্মান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর এটি লিথুয়ানিয়ার হাতে যায়। আজও শহরে বহু জার্মান ধাঁচের কাঠের ফ্রেমের ভবন দেখা যায়। (Q776965)


পোল্যান্ড

[সম্পাদনা]
গ্দান্স্কের নদীর ধারের দৃশ্য

5 গ্দান্স্ক (দানৎসিগ)। পোল্যান্ডের একটি বন্দরনগরী। ১৭৯৩ সালে এটি প্রুশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পোল্যান্ড স্বাধীনতা ফিরে পেলে শহরটি "মুক্ত দানৎসিগ নগরী" নামে স্বায়ত্তশাসিত হয়। যদিও কার্যত পোল্যান্ডের প্রভাবাধীন ছিল কিন্তু তখনও অধিকাংশ জনগণ ছিল জার্মান। ১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানি শহরটি সংযুক্ত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর শহরটি পুনরায় পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়। জার্মান জনগণকে বিতাড়িত করে তাদের জায়গায় পোলিশ জনগণ বসতি স্থাপন করে। (Q1792)

  • 6 শ্চেচিন (স্টেটিন)। জার্মান সীমান্তের কাছে একটি পোলিশ বন্দর নগরী। ইতিহাসের অনেকটা সময় এটি পোমেরানিয়ার ডিউক শাসন করেছে। যারা শুরুতে পোল্যান্ডের অধীনস্থ ছিল। ১৬৩০ সালে এটি সুইডিশ সাম্রাজ্যের অংশ হয় পরবর্তীতে ১৭২০ সালে প্রুশিয়ার হাতে হস্তান্তরিত হয়। জার্মান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর শহরটি একটি বড় বন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে।বিশ্বযুদ্ধগুলোর মাঝামাঝি সময়ে ওয়াইমার প্রজাতন্ত্রের জন্যও এটি সেই মর্যাদা ধরে রাখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর শহরটি পুনরায় পোল্যান্ডের হাতে ফিরে আসে এবং জার্মান জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা হয়। তবে পুরনো শহরের চারপাশে প্রুশিয়া ও জার্মান শাসনামলের অনেক ভবন, যেমন দুটি শহরের দরজা, এখনও টিকে আছে। (Q393)
  • 7 ভ্রোৎস্লাভ (ব্রেসলাউ)। পোল্যান্ডের লোয়ার সিলেসিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালে এটি পোল্যান্ডে যুক্ত হয়। জার্মান জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা হয়। সোভিয়েত সেনারা বার্লিনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুরনো শহরের অনেকাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে সাম্যবাদের পতনের পর এটি সুন্দরভাবে পূর্বের গৌরবে পুনর্নির্মিত হয়। (Q1799)
  • 8 কালিনিনগ্রাদ (কনিগসবার্গ), কালিনিনগ্রাদ ওব্লাস্ট পূর্ব প্রুশিয়ার মূল রাজধানী। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর জার্মান জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করে এর স্থানে মস্কোর অনুগত রুশ জনগোষ্ঠীকে বসানো হয় ।

পরে শহরের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম দেওয়া হয়। তবে প্রাচীন জার্মান শহরের সাতটি ফটক আজও টিকে আছে। আর দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের সমাধিসহ জার্মান গির্জাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কালিনিনগ্রাদ রুশ ফেডারেশনের একটি বহির্ভূত অংশে পরিণত হয়। যা বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো দ্বারা মূল ভূখণ্ড রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। (Q1829)

জার্মান পূর্ব আফ্রিকা

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: German East Africa

জার্মান পূর্ব আফ্রিকা গঠিত ছিল বর্তমান রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি এবং তানজানিয়ার মূলভূমি (তখন টাঙ্গানিকা নামে পরিচিত), পাশাপাশি মোজাম্বিকের ছোট্ট কিয়োঙ্গা ত্রিভুজ নিয়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর এই উপনিবেশ ভাগ হয়ে যায়: রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডি বেলজিয়ামের হাতে, টাঙ্গানিকা যুক্তরাজ্যের হাতে এবং কিয়োঙ্গা ত্রিভুজ পর্তুগালের হাতে চলে যায়।

  • 9 কিগান্দা বুরুন্ডি রাজ্যের প্রাক্তন রাজকীয় রাজধানী, যেখানে ১৯০৩ সালে রাজা মউজি চতুর্থ জার্মানদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। উইকিপিডিয়ায় Commune of Kiganda (Q5154018)
  • 10 কিগালি আজকের স্বাধীন রুয়ান্ডার রাজধানী। এখানে রয়েছে কান্ট হাউস জাদুঘর, যা রিচার্ড কান্টের প্রাক্তন বাসভবন; তিনিই প্রথম জার্মান প্রতিনিধি যিনি কিগালিকে প্রশাসনিক কেন্দ্র বানিয়েছিলেন। বর্তমানে জাদুঘরটি রুয়ান্ডার ইতিহাসের জন্য নিবেদিত, যেখানে জার্মান ঔপনিবেশিক যুগ সম্পর্কিত প্রদর্শনীও রয়েছে। উইকিপিডিয়ায় Kigali (Q3859)
  • 11 দার এস সালাম ১৮৯০ সালে এটি উপনিবেশিক রাজধানী হয় এবং ১৯৭০ের দশক পর্যন্ত তানজানিয়ার রাজধানী ছিল। আজও এটি তানজানিয়ার বৃহত্তম শহর এবং মূল ভূখণ্ডের প্রধান বন্দর। উইকিপিডিয়ায় Dar es Salaam (Q1960)
  • 12 বাগামোয়ো ১৮৮৫ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত এটি উপনিবেশের রাজধানী ছিল। বর্তমানে এটি দার এস সালামের উত্তরে ৭০ কিমি দূরে একটি ছোট্ট শহর। কিছুটা জরাজীর্ণ হলেও এখানে প্রাণবন্ত শিল্প সংস্কৃতি এবং সুন্দর কিছু সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এটি জানজিবারের নিকটতম বন্দরও বটে। উইকিপিডিয়ায় Bagamoyo (Q799843)
  • 13 কিগোমা টাঙ্গানিকা হ্রদের তীরের এই বন্দরটি ছিল জার্মানদের প্রধান ঘাঁটি। আজ এটি একটি প্রাদেশিক রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। এখানে জার্মান নৌবাহিনী কর্তৃক নির্মিত জাহাজটি এখনও চলছে, যা বর্তমানে এমভি লিয়েম্বা ফেরি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উইকিপিডিয়ায় Kigoma (Q244509)

বর্তমান স্বাধীন দেশ নামিবিয়া ১৮৮৪ সালে জার্মানি উপনিবেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিটিশদের পক্ষে অঞ্চলটি দখল করে এবং ভার্সাই চুক্তি অনুসারে এটি যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সেটি প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। ১৯৩১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা স্বশাসন পাওয়ার পর নামিবিয়া কার্যত দক্ষিণ আফ্রিকার উপনিবেশে পরিণত হয়। অবশেষে ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

  • 14 লুডেরিটজ একটি শহর যেখানে এখনও প্রচুর জার্মান ঔপনিবেশিক স্থাপত্য বিদ্যমান। (Q159325)
সোয়াকোপমুন্ডে জার্মান স্থাপত্য
  • 15 স্বকোপমুন্ড একটি সমুদ্রতীরবর্তী শহর যেখানে অনেক জার্মান ঔপনিবেশিক স্থাপনা সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে একটি সমাধিক্ষেত্র রয়েছে যা ১৯০৪–০৮ সালের হেরেরো ও নামাকো গণহত্যার শিকারদের স্মরণে নির্মিত। (Q59698)
  • 16 উইন্ডহোক নামিবিয়ার রাজধানী। এখানে এখনও একটি জার্মান সম্প্রদায় বসবাস করে। যারা জার্মান ভাষার স্থানীয় রূপ ব্যবহার করে। শহরে জার্মান ঔপনিবেশিক আমলের তিনটি দুর্গ রয়েছে। (Q3935)

জার্মান উপনিবেশ ছিল ১৮৮৪–১৯১৬ সাল পর্যন্ত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর অঞ্চলটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ফরাসি অংশটি ১৯৬০ সালে ক্যামেরুন নামে স্বাধীন হয়। ব্রিটিশ অংশটি ১৯৬১ সালে নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনের মধ্যে ভাগ হয়।

  • 17 বুইয়া জার্মান ক্যামেরুনের দ্বিতীয় রাজধানী। এখানে একটি জার্মান কবরস্থান এবং পুরনো ডাকঘর এখনও রয়ে গেছে। (Q312209)
  • 18 দৌলা আধুনিক ক্যামেরুনের সবচেয়ে বড় শহর এবং জার্মান ক্যামেরুনের প্রথম রাজধানী। এখনও কিছু জার্মান ঔপনিবেশিক স্থাপনা বিদ্যমান। (Q132830)
  • 19 লোমে বর্তমান টোগোর রাজধানী স্যাক্রেড হার্ট ক্যাথেড্রাল শহরের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা। যা জার্মানরা উপনিবেশিক শাসনামলে নির্মাণ করেছিল। পালাস দে লোমে মূলত জার্মান গভর্নরের বাসভবন হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি ফরাসি গভর্নরের বাসভবন এবং অল্প সময়ের জন্য স্বাধীন টোগোর প্রেসিডেন্টের বাসভবন হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি শিল্পকলা গ্যালারিতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং সাধারণের জন্য উন্মুক্ত। (Q3792)

জার্মান নিউ গিনি

[সম্পাদনা]

জার্মান নিউ গিনির মধ্যে আজকের পাপুয়া নিউ গিনির উত্তরাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি নাউরু, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়ার যুক্ত ফেডারেশন ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মতো নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জও ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর এই অঞ্চল যুক্তরাজ্য ও জাপানের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। যেখানে অস্ট্রেলিয়া মূলত ব্রিটিশদের দেওয়া অংশগুলি পরিচালনা করত। জাপান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আসে।

  • 20 কোকোপো (নিউ ব্রিটেন)। ১৮৯৯ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত এটি জার্মান নিউ গিনির রাজধানী ছিল। সে সময়ে এর নাম ছিল হারবার্টশোয়ে। শহরের জার্মান উপনিবেশিক ঐতিহ্যের সামান্যই অবশিষ্ট রয়েছে। তবে কোকোপো যুদ্ধ জাদুঘরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপানি সামরিক সরঞ্জাম প্রধানভাবে প্রদর্শিত। যা জার্মান সরকারের দান করা জার্মান উপনিবেশিক ইতিহাসের প্রদর্শনীও রয়েছে। (Q1017369)
  • 21 রাবাউল (নিউ ব্রিটেন)। ১৯১০ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত এটি জার্মান নিউ গিনির রাজধানী ছিল। সে সময়ে এর নাম ছিল সিম্পসনহাফেন। শহরে জার্মান উপনিবেশিক ঐতিহ্যের খুব কমই অবশিষ্ট আছে। এরমধ্যে রাবাউল জাদুঘর পূর্বতন নিউ গিনি ক্লাবে অবস্থিত। জার্মান উপনিবেশিক যুগের প্রদর্শনী সংরক্ষণ করেছে। (Q218768)
  • 22 আপিয়া এটি পূর্বে জার্মান সামোয়ার রাজধানী ছিল এবং বর্তমানে স্বাধীন সামোয়ার রাজধানী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯১৪ সালে জার্মান সামোয়াকে নিউজিল্যান্ড ব্রিটিশদের পক্ষে দখল করে। আজ সেখানে জার্মান উপনিবেশিক ঐতিহ্যের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। তবে সামোয়া জাদুঘর একটি প্রাক্তন বিদ্যালয়ে অবস্থিত যা জার্মান শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। এছাড়া এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ আছে। যেখানে প্রথমবার জার্মানরা তাদের পতাকা উত্তোলন করেছিল। (Q36260)
বিখ্যাত সিংতাও বিয়ার কারখানা
  • 23 ছিংদাও ১৮৯৮ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত জার্মান উপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। শহরে এখনও অসংখ্য জার্মান উপনিবেশিক স্থাপনা রয়েছে। জার্মান ঔপনিবেশিকতার আরেকটি উত্তরাধিকার হলো স্থানীয় সিংতাও বিয়ার।১৯০৩ সালে চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত বিয়ার ব্র্যান্ড জার্মান উপনিবেশকারীরা স্থাপন করেছিল। বিয়ার স্থানীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি অনন্য প্রথা হলো ব্যারেল থেকে সরাসরি প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢেলে স্ট্র দিয়ে পান করা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে জাপান শহরটি দখল করে নেয়। ভার্সাই সন্ধি অনুসারে জাপানের হাতে দেওয়া হয় ফলে চীনা সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর এটি চীনের হাতে ফিরে আসে।
  • 24 তিয়ানজিন তিয়ানজিনে বিভিন্ন পশ্চিমা শক্তি ও জাপানের জন্য ছাড়কৃত অঞ্চল ছিল। যার মধ্যে জার্মান অঞ্চলের অস্তিত্ব ছিল ১৮৯৯ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত। যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এটি চীন ও আমেরিকান বাহিনী দখল করে। আমেরিকানরা পুরনো জার্মান সামরিক ব্যারাক ব্যবহার আর বাকি অঞ্চল চীনের হাতে ফিরে যায়। বর্তমানে প্রাক্তন জার্মান এলাকায় বহু উপনিবেশিক ভবন টিকে আছে। যার মধ্যে সে সময়ের কিছু প্রভাবশালী চীনা ব্যক্তিদের ভিলা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে অনেকগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং এখন বিলাসবহুল হোটেল ইন্ডিগোর অংশ।
  • 25 ওয়েইফাং ১৮৯৮ সালে ওয়েইফাং-এ জার্মানরা একটি ছাড়কৃত অঞ্চল স্থাপন করেছিল। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনার পর জাপানিরা জার্মানদের বিতাড়িত করে জাপানি ছাড়কৃত অঞ্চলে পরিণত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এটি জাপানের হাতে ছিল। বর্তমানে এই এলাকা "ফাংজি ইউরোটাউন" নামে একটি পর্যটনকেন্দ্র। যেখানে ১৬৬টি উপনিবেশিক যুগের ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৩টি জার্মান নির্মিত এবং ৬৩টি জাপানি নির্মিত। উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মান নির্মিত ফাংজি রেলস্টেশন, জার্মান সেনা হাসপাতাল এবং জার্মান সেনা সদর দপ্তর। (Q217698)

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে, জার্মান সাম্রাজ্য তাদের সুদূর উপনিবেশগুলোতে পৌঁছানোর জন্য এমন পথ খুঁজছিল যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন সমুদ্র পথ (যেমন ডোভার, জিব্রাল্টার এবং সুয়েজ) ব্যবহার করতে না হয়। অন্যদিকে একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পতনোন্মুখ অটোমান সাম্রাজ্য দক্ষিণ প্রদেশগুলোতে প্রভাব বাড়াতে চাচ্ছিল। এই কারণে দুই সাম্রাজ্য একসাথে একটি উচ্চাভিলাষী রেলপথ নির্মাণে হাত মিলায়। যা বার্লিন থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত যাবে কনস্টান্টিনোপল হয়ে। পরে এই প্রকল্পকে "বাগদাদ রেলপথ" নামে ডাকা হয়।

অতএব, তুরস্ক কখনোই জার্মান অধিকারে না থাকলেও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য জার্মান ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষত এই রেলপথ প্রকল্পের কারণে। রেলপথের ইউরোপীয় অংশ ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

  • 26 ইস্তাম্বুল শহরের দুইটি প্রধান রেলস্টেশন জার্মানদের নির্মিত হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন শৈলীতে। সিরকেচি ইউরোপীয় টার্মিনাল হলো ইউরোপীয় ওরিয়েন্টালিজমের অন্যতম বিখ্যাত উদাহরণ। আর দুর্গসদৃশ হায়দারপাশা এশীয় টার্মিনাল হলো জার্মান নব্য-শাস্ত্রীয় স্থাপত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। হায়দারপাশা নির্মাণকালে ইয়েলদেগিরমেনি এলাকায় একটি জার্মান মহল্লা গড়ে উঠেছে যেখানে আজও অনেক ঐতিহাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন রয়েছে। অন্যদিকে সুলতানাহমেত স্কয়ারে রয়েছে জার্মান ফোয়ারা। যা নব্য-বাইজান্টাইন শৈলীতে নির্মিত এবং সম্রাট উইলহেম দ্বিতীয়ের অটোমান সুলতান আব্দুলহামিদ দ্বিতীয়কে দেওয়া সফরস্মারক। (Q406)
  • 27 হেরেকে ১৮৮৪ সালে ইস্তাম্বুলে তিন সপ্তাহে একটি কাঠের প্রাসাদ তৈরি করা হয়।পরে সেটি খুলে এনে হেরেকেতে একদিনে পুনর্গঠন করা হয়। যাতে সম্রাট উইলহেম দ্বিতীয় কাছাকাছি রাজকীয় কারখানা দর্শনের সময় এখানে থাকতে পারেন। (Q5738119)
  • 28 কোনিয়া “জার্মান ঘরবাড়ি” হলো স্টেশনের কাছে কয়েকটি অভিন্ন ভবনের সারি। এগুলোর বিশেষ নকশা রয়েছে সূচালো ছাদের কারণে। যা নির্মিত হয় রেল কর্মীদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সাল পর্যন্ত এগুলো সংস্কারাধীন, জাদুঘর বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দর বাগদাদ হোটেল রয়েছে। যা রেলপথের যাত্রীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮০ সাল থেকে সরকারি অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। (Q79857)
  • 29 বেইশেহির রেলপথ নির্মাণের সময় প্রকৌশলীরা কোনিয়া মালভূমিতে সেচ ব্যবস্থা গড়ার সম্ভাবনাও পরীক্ষা করেন। এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১৯০৮–১৪ সালে নির্মিত তাশ কোপ্রু (“পাথরের সেতু”)। যা একইসাথে বাঁধ ও পদচারী সেতু হিসেবে কাজ করত এবং বেইশেহির হ্রদের পানি পূর্বাঞ্চলের শুষ্ক ভূমিতে পৌঁছে দিত। (Q127389)
  • 30 চুমরা (কেন্দ্রীয় আনাতোলিয়া)। এখানেই প্রধান সেচ খালের পূর্ব প্রান্ত ছিল। যেখানে আজও প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। এখানে কোনিয়ার তুলনায় আরও সুন্দর ও সুশোভিত “জার্মান ঘরবাড়ি” রয়েছে। যা বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সেচ দপ্তরের সবুজ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত। (Q1922408)
  • 31 ভারদা ভায়াডাক্ট (কাছাকাছি কারাইসালি)। গভীর উপত্যকার উপর নির্মিত খিলানাকৃতি এই সেতুটি বাগদাদ রেলপথের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক স্থাপনা। স্থানীয়রা একে “জার্মান সেতু” বলে ডাকে। (Q1522793)
  • 32 বেলেমেদিক (কাছাকাছি পোজান্তি)। এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জার্মান গ্রাম। যা টরাস পর্বতমালা অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণকারীদের থাকার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন বহু জার্মান প্রাকৃতিক কারণে মারা যায়। তাই এখানে একটি জার্মান কবরস্থানও রয়েছে। (Q815385)
  • 33 আদানা ১৯১২ সালে রেলপথ প্রকল্পের সাথে সাথে নির্মিত এই শহরের রেলস্টেশনটি ইস্তাম্বুলের পূর্বে বাগদাদ রেলপথের সবচেয়ে বৃহৎ স্টেশন ভবন। সম্ভবত কেবলমাত্র আজকের সিরিয়ার আলেপ্পো স্টেশনই এর সমতুল্য। যা একই ধাঁচে নির্মিত। (Q38545)

দেখুন

[সম্পাদনা]
  • 1 তানজানিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম (দার এস সালাম)। এই জাদুঘরে তানজানিয়ার সমস্ত ইতিহাসের প্রদর্শনী রয়েছে। যার মধ্যে জার্মান শাসনের সময়কাল এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পূর্ব আফ্রিকায় অভিযানও অন্তর্ভুক্ত। উইকিপিডিয়ায় তানজানিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম (Q1960827)
  • এমভি লিয়েম্বা এই জাহাজটি যুদ্ধের আগে সাম্রাজ্যিক জার্মান নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল টাঙ্গানিক্কা লেক দখল করা। আশ্চর্যজনকভাবে, এটি আজও চালু আছে। তবে যুদ্ধজাহাজ হিসেবে নয়, ফেরি হিসেবে।
  • 2 ছিংদাও বিয়ার কারখানা জাদুঘর (কিংদো পিজিবোউগুয়ান) (ছিংদাও, চীন)। চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত বিয়ার ব্র্যান্ডের কারখানায় অবস্থিত একটি জাদুঘর। যা মূলত জার্মান বসতিরা প্রতিষ্ঠা করেছিল।
  • 3 সোয়াকপমুন্ড কবরস্থান (সোয়াকপমুন্ড)। হেরেরো এবং নামাকোয়া গণহত্যার শিকারদের স্মৃতিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ আছে। যারা এই অঞ্চলের কনজেন্ট্রেশনস্লেগার-এ মারা গিয়েছিল।
  • 4 কিগান্ডা চুক্তি (কিগান্ডা)। সেই স্থান যেখানে বুরুন্ডির রাজা মওয়েজি গিসাবো জার্মানদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE জার্মান সাম্রাজ্য has রূপরেখা অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}