বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে
একই নামের অন্যান্য জায়গার জন্য দেখুন জেনেভা (দ্ব্যর্থতা নিরসন).

জেনেভা (ফরাসি: জেনেভ, জার্মান: জেন্‌ফ) হলো সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর এবং দেশটির বৃহত্তম ফরাসিভাষী শহর। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, কারণ ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান কার্যালয় এখানে অবস্থিত। যদিও জাতিসংঘের মূল সদর দপ্তর বর্তমানে নিউ ইয়র্কে, তবুও সংস্থাটির একটি বৃহৎ অংশ এখনো জেনেভার পালে দে নাসিওঁ ভবনে অবস্থান করছে, এবং এর অনেক সহযোগী সংস্থা, যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লিউএইচও ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও এখানেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।

জেনেভা শহরের জনসংখ্যা মাত্র ২ লক্ষ, তবে এর মহানগর এলাকায় ২০১৯ সালের হিসাবে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে।

জানুন

[সম্পাদনা]
শীতকালে জেনেভার পুরনো শহর

১৫৩৬ সালে ফ্রান্সে প্রোটেস্টান্টদের উপর অত্যাচার থেকে পালিয়ে আসা তরুণ জন ক্যালভিন এক রাতের জন্য জেনেভায় অবস্থান করেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে, তিনি সেখানে শুধু ঘুমিয়েই থেমে থাকেননি। প্রায় তিন বছর নির্বাসনে থাকার পর, ১৫৪১ সালে তিনি বিজয়ীর বেশে ফিরে আসেন এবং শহরটিকে প্রোটেস্টান্ট রোমের মর্যাদায় উন্নীত করতে সহায়তা করেন। সংস্কার আন্দোলনের বৌদ্ধিক প্রভাব জেনেভার জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনে ব্যাপক প্রসারিত হয়েছিল।

১৬ শতাব্দী থেকে অন্তত ১৮১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেনেভা ছিল একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র। এটি জেনেভোয়াদের (Genevois) জন্য গর্বের একটি বিষয়, যারা আজও তাদের ক্যান্টনকে (রেপুব্লিক এ কঁতো দ্য জেনেভ) - অর্থাৎ “জেনেভা প্রজাতন্ত্র ও ক্যান্টন” নামে উল্লেখ করে থাকেন। তাদের অন্যতম প্রিয় উৎসব হলো “এস্কালাদ”, যা উদযাপন করা হয় ১৬০২ সালে সাভয়ের ডিউকের সেনারা শহরের প্রাচীর টপকে জেনেভা দখল করতে ব্যর্থ হওয়ার স্মরণে। মাত্র ১৬ জন প্রাণ হারিয়ে এই আক্রমণ প্রতিহত করার পর, জেনেভা তার স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করে, কারণ এরপর থেকে সাভয় রাজবংশ আর কখনো আল্পসের এই দিক থেকে এমন আক্রমণের মতো শক্তিশালী হতে পারেনি।

আজও জেনেভা একটি অত্যন্ত গর্বিত শহর। কেউ কেউ একে অতিমাত্রায় গম্ভীর বা একঘেয়ে মনে করেন, যদিও একটু খুঁজলে শহরের প্রাণবন্ত দিকটি সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষত যদি আপনি কিছুটা ফরাসি জানেন।

জেনেভা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফরাসিভাষী শহর, এবং ২০১৪ সালের হিসাবে প্রায় ৮১% মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। সব বিজ্ঞাপন, তথ্য ও সাইনবোর্ড ফরাসিতেই লেখা থাকে। বৃহৎ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এবং শক্তিশালী প্রবাসী সম্প্রদায়ের কারণে ইংরেজিপর্তুগিজ (উভয়ই প্রায় ১০%) ভাষার ব্যবহারও প্রচলিত। স্প্যানিশ (৭%), ইতালীয় (৬%) এবং জার্মান (৫%) ভাষাভাষীও প্রচুর। মাঝে মাঝে সার্বীয়/ক্রোয়েশীয়, আলবেনীয়, তুর্কি এবং এমনকি আরবি ভাষাও শোনা যায়।

কীভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]

জেনেভা হলো ফরাসিভাষী সুইজারল্যান্ডের প্রধান পরিবহন কেন্দ্র এবং সুইস আল্পসের পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার।

বিমানে করে

[সম্পাদনা]
জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • 1 জেনেভা বিমানবন্দর (জিভিএ  আইএটিএ, যা জেনেভা কয়েন্ট্রিন নামেও পরিচিত)। এটি ইউরোপের বিভিন্ন প্রধান শহরের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখান থেকে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যেও সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। উত্তর আমেরিকা থেকে নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডি.সি. এবং মন্ট্রিয়াল। এই তিন শহর থেকে প্রতিদিন কয়েকটি সরাসরি ফ্লাইট জেনেভায় আসে। স্বল্পমূল্যের বিমানসংস্থা easyJet-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র (হাব) হলো জেনেভা; এটি ইউরোপজুড়ে অসংখ্য গন্তব্যে সেবা দেয়, যার মধ্যে আমস্টারডাম, বার্সেলোনা, বার্লিন, এডিনবরা, লন্ডন, মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার এবং প্যারিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উইকিপিডিয়ায় Geneva Airport (Q289972)

বিমানবন্দরের আগমন এলাকায় ইউবিএস ব্যাংক, এটিএম ও মুদ্রা বিনিময় বুথ রয়েছে। প্রস্থান লাউঞ্জে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণের পরই একটি আমেরিকান এক্সপ্রেস অফিস রয়েছে। এখানকার ক্যাফে ও শুল্কমুক্ত দোকানগুলো সাধারণত সকাল ০৮:০০ থেকে রাত ২৩:০০ পর্যন্ত খোলা থাকে।

বিমানবন্দর থেকে শহরে পৌঁছাতে ট্যাক্সিভাড়া আনুমানিক ৩০ সুইস ফ্রাঁ। দ্রুততম উপায় হলো ট্রেন, যা একই ভাড়ায় বাসের মতোই চলে, কারণ এটি একটি একীভূত ভাড়া (ট্যারিফ) ব্যবস্থার অংশ। ১০ নম্বর বাস সকাল ০৬:০০ থেকে রাত ২৩:০০ পর্যন্ত প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ছাড়ে; ট্রেন স্টেশনের জন্য ২২–ক্যান্টন স্টপেজে নামতে হবে। ৫ নম্বর বাসটিও ভিন্ন রুটে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনে যায়। এটি জাতিসংঘ ভবনের পাশ দিয়ে ও রু দ্য লোজান ধরে চলে। এরপর উভয় বাসই শহরের দক্ষিণ অংশে গিয়ে মিলে যায়।

জেনেভা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ট্রেন প্রায় ৭ মিনিটেই প্রধান রেল/বাস স্টেশনে পৌঁছে। একই ভাড়ার কাঠামো প্রযোজ্য হওয়ায় যেকোনো ট্রেনে উঠতে পারেন। ট্রেন বা বাসের টিকিটের মূল্য প্রায় ৩ সুইস ফ্রাঁ (এক ঘণ্টার জন্য বৈধ) এবং এগুলো বাসস্টপ বা রেলস্টেশনের মেশিন থেকে কেনা যায়। এই এক টিকিটেই জেনেভা শহর ও আশপাশের এলাকায় ট্রেন, বাস, এমনকি হলুদ নৌকায়ও যাতায়াত করা যায় (এই টিকিটে আপনি সর্বোচ্চ সার্ন (সিইআরএন), আনিয়ের বা ভেয়রিয়ে পর্যন্ত যেতে পারবেন)। ইউবিএস এটিএম-এর পাশে একটি খুচরো পরিবর্তনের মেশিনও রয়েছে।

সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো বিনামূল্যের পরিবহন টিকিট সংগ্রহ করা। যাত্রার শুরুতেই এটি ব্যবহার করে ট্রেনে মাত্র ৫ মিনিটে শহরের কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন, তারপর সেখান থেকে ট্যাক্সি বা গণপরিবহনে গন্তব্যে যেতে পারেন। আপনি যদি শহরের কোনো হোটেল বা আবাসন আগেই বুক করে থাকেন, তাহলে ই-মেইলে দেওয়া নিশ্চিতকরণ বার্তায় প্রায়ই একটি বিনামূল্যের পরিবহন টিকিট থাকে, ব্যবহারের আগে তা দেখে নেওয়া উচিত।

রেলে করে

[সম্পাদনা]
গার কোরনাভাঁ, কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন

সুইস ফেডারেল রেলওয়ে (ফরাসিতে সংক্ষেপে সিএফএফ) জেনেভার প্রধান রেলস্টেশনের সরকারি নাম শুধু ঝেনেভ, তবে ঐতিহ্যগতভাবে 1 গার দ্য ঝেনেভ কোরনাভাঁ, বা সংক্ষেপে করনাভিন,। এগুলোকে সরাসরি ট্রেন এসে যুক্ত করেছে নুশাতেল, বিয়েল/বিয়েন, লুসার্ন, ভিন্টারথুর এবং সেন্ট গ্যালেনের সঙ্গে। যেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে ট্রেন চলে। বার্নজুরিখের উদ্দেশে প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর ট্রেন ছাড়ে।

ন্যোঁ, মর্গ এবং জেনেভা হ্রদের উত্তর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের দিকে আঞ্চলিক ট্রেন চলে, আর লোজানমুখী আন্তঃআঞ্চলিক ট্রেন প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ছাড়ে। সেখান থেকে ট্রেনগুলো ভেভে, মোঁত্রো, মার্টিনিয়ি, সিয়োঁ হয়ে পর্বতময় ভালেই ক্যান্টনের গভীরে ফিস্পব্রিগ পর্যন্ত পৌঁছে কমপক্ষে প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর অন্তর। সাধারণত এসব ট্রেনই জেনেভা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।


গার দে জো-ভিভ হলো জেনেভার আরেকটি গণপরিবহন স্টেশন, যা রোন নদীর অপর পাড়ে, জেনেভা হ্রদ-এর দক্ষিণ-পূর্ব তীরে অবস্থিত। এখান থেকে এসএনসিএফ ( এস-এন-সি-এফ) পরিচালিত ফরাসি বাস সেবা চালু রয়েছে, যা এভিয়ঁ , শ্যামনি এবং আনেসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে। বর্তমানে স্টেশনটি সংস্কারের অধীনে রয়েছে, কারণ করনাভাঁ (কর-না-ভাঁ) থেকে এই স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন রেললাইন নির্মিত হয়েছে।

জেনেভ (ঝেনেভ) স্টেশন থেকে আন্তর্জাতিক ট্রেনগুলোর মধ্যে ফরাসি এস-এন-সি-এফ এবং সুইস জাতীয় রেলওয়ে এস-বি-বি সি-এফ-এফ এফ-এফ-এস যৌথভাবে পরিচালিত উচ্চগতির টিজিভি লিরিয়া (টে-জে-ভে লিরিয়া) সেবা অন্যতম। এখান থেকে প্যারিস (৫৭০ কিমি দূরে) পর্যন্ত দিনে সাতবার তিন ঘণ্টার সরাসরি ট্রেন চলে। এছাড়া লিয়োঁ (২ ঘণ্টা), আভিনিয়োঁ (৩ ঘণ্টা), মার্সেই (৩.৫ ঘণ্টা) এবং নিস (৬.৫ ঘণ্টা)গামী সরাসরি ট্রেনও চালু রয়েছে। মিলান জেনেভার মধ্যে সিম্পলন পর্বতশ্রেণী অতিক্রম করে প্রতিদিন চারবার ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে একটি ইউরোসিটি (ইউরোসিটি) সেবা প্রতিদিন মিলানের মাধ্যমে সরাসরি ভেনিস পর্যন্ত যায়।

অধিক তথ্যের জন্য:

বিশেষ কোনো ঘোষণা না থাকলে, জেনেভ (ঝেনেভ) স্টেশনে আগত অধিকাংশ ট্রেনের চূড়ান্ত গন্তব্য সাধারণত জেনেভ বিমানবন্দর (ঝেনেভ এয়ারোপোর)। অর্থাৎ, সুইজারল্যান্ডের অন্য অঞ্চল থেকে আগত যাত্রীরা বিমানবন্দরে যেতে চাইলে আলাদাভাবে টিপিজি ( তে-পে-ঝে) - ত্রঁস্পোর পুব্লিক ঝেনেভোয়ার (জেনেভা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি) ট্রাম বা বাস ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না।

জেনেভার প্রধান রেলস্টেশনটি সুচিন্তিতভাবে নকশা করা হয়েছে এবং এটি শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুগুলোর একটি। শহরের প্রায় সব ট্রাম ও বাসরুট এই স্টেশনের সামনেই মিলিত হয়েছে। স্টপটির নাম গার করনাভাঁ (গার কর-না-ভাঁ)-যা ট্রেন থেকে ট্রাম বা বাসে স্থানান্তরকে অত্যন্ত সহজ করেছে। আপনি যদি কোনো হোটেল, হোস্টেল বা ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থান করেন, তবে একাধিক টিকিট কেনার দরকার নেই, কারণ জেনেভার সব ধরণের আবাসন প্রতিষ্ঠান তাদের অতিথিদের বিনামূল্যের পরিবহন পাস প্রদান করে। চেক-ইনের সময় না পেয়ে থাকলে রিসেপশনে জিজ্ঞাসা করতে ভুলবেন না।

স্টেশনের নিচতলায় একটি ভূগর্ভস্থ কেনাকাটার কমপ্লেক্স রয়েছে এবং সেখানে একটি পথও আছে, যা ব্যস্ত প্রধান সড়কের দক্ষিণ প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। এর ফলে নতুন আগত যাত্রীরা সড়ক পার না করেই বিপরীত পাশে যেতে পারেন। এই পথটি একটি খোলা আকাশের নিচে অবস্থিত পদচারী-বাণিজ্যিক সড়কের সঙ্গেও যুক্ত, যা সরাসরি হ্রদের দিকে নেমে গেছে।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]

মোটরওয়ে নেটওয়ার্ক সরাসরি জেনেভায় নিয়ে যায়, যা আনেসি থেকে মাত্র ৪০ কিমি এবং শ্যামোনি থেকে ৮০ কিমি দূরে। বার্দোনেক্স–সাঁ-জুলিয়েন সীমান্তে কাস্টমস চেকপোস্ট রয়েছে। এই কাস্টমস অফিস দিয়ে যেতে হলে মোটরওয়ের বাধ্যতামূলক স্টিকার (বার্ষিক ফি: ৪০ সুইস ফ্রাঁ) প্রয়োজন। এই মোটরওয়ে কর স্টিকার বা ভিনিয়েত (Vignette) সীমান্তে ক্রয় করা বাধ্যতামূলক, যদি আপনি সুইস মোটরওয়েতে চালাতে চান।

যদি আপনি ভিনিয়েত না কিনে জেনেভায় প্রবেশ করতে চান, তাহলে থোনেক্স-ভালার্ড বা মোয়েলসুলাজের মতো অন্য সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। তবে পরে যদি মোটরওয়েতে চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তখন ভিনিয়েত কিনতে হবে। সাধারণত এটি জ্বালানি স্টেশন, ডাকঘর বা পর্যটন অফিসে পাওয়া যায়।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

জেনেভাতে নিয়মিত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাস চলাচল করে (বাস স্টেশন: +৪১ ২২ ৭৩২-০২৩০)। এছাড়াও, টিপিজি (জেনেভা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট) ফ্রান্সের পার্শ্ববর্তী শহরসমূহ সাঁ-জুলিয়েন, আর্শঁ, তুয়ারি, ফেরনে-ভোলতেয়ার এবং মোয়েলসুলাজ থেকে নিয়মিত সেবা প্রদান করে ( +৪১ ২২ ৩০৮-৩৪৩৪)।

নৌকায় করে

[সম্পাদনা]

জেনেভা হ্রদের চারপাশের বন্দরগুলো থেকে নিয়মিত নৌযান চলাচল করে, যার অধিকাংশই ১৯০৪ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে নির্মিত প্যাডল স্টিমার। এই সেবা প্রদান করে কম্পানি জেনেরাল দ্য নাভিগাসিওঁ। সব নৌকা পার্ক দে জো ভিভজার্দিন আংলেতে স্বল্প সময়ের জন্য নোঙর করার পর পাকি বন্দরে এসে পৌঁছায়।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
জেনেভার মানচিত্র
র্যু দ্য পেরোঁন, একটি পুরনো শহর

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]
  • পুরনো শহর (ভিয়েই ভিল) ও সাঁ জার্ভে
  • পাকি
  • প্ল্যাঁপালে
  • হপিতাল
  • ও-ভিভ

হেঁটে

[সম্পাদনা]

পুরনো শহরটি সহজেই হেঁটে দেখা যায়। আপনি চাইলে জেনেভা হ্রদের ট্যুর নৌযান ঘাট থেকে শুরু করতে পারেন, অথবা কর্নাভিন স্টেশন থেকে নামলে বেল-এয়ার দ্বীপে নেমে সরাসরি উঁচু পথে পুরনো শহরের দিকে হাঁটুন। মঁ ব্লঁ সেতু পার হলে আপনি পৌঁছে যাবেন ইংলিশ গার্ডেনে, যেখানে বিখ্যাত ফুলের ঘড়ি এবং একটি খোদাই করা ব্রোঞ্জের পানির ফোয়ারা রয়েছে। এরপর ক্যু দ্য জেনারেল গুইজাঁ সড়ক পার হয়ে প্লাস দ্য পোরর্যু দ্য লা ফোঁতেন ধরে উঁচু সিঁড়ি বেয়ে উঠলে আপনি পৌঁছে যাবেন সাঁ পিয়ের ক্যাথেড্রালের পেছনে। এটি জেনেভার সর্বাধিক পরিচিত নিদর্শন। ক্যাথেড্রাল ঘুরে দেখার পর আঙিনা থেকে বেরিয়ে আপনি সরাসরি জেনেভা সিটি হলে পৌঁছে যাবেন। সেখান থেকে অল্প হাঁটলেই বাসতিয়ঁ পার্কে যেতে পারবেন, যেখানে অবস্থিত বিখ্যাত রিফর্মেশন ওয়াল স্মারক। শরৎ ঋতুর শুরুতে যখন গাছের পাতা ঝরতে শুরু করে, তখন এই পার্কটি বিশেষভাবে শান্ত ও রোমান্টিক লাগে। এই হাঁটার পথের ছবি দেখতে পারেন এখানে [অকার্যকর বহিঃসংযোগ]

জেনেভা হাঁটার জন্য যথেষ্ট উপযোগী শহর, তবে একটি জিনিস মনে রাখা জরুরি, এখানে হাঁটার পথে অনেক রাস্তার নাম প্রায়ই বদলে যায়, যা দিকনির্দেশনা কঠিন করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, বেল-এয়ার স্কোয়ার থেকে রিভ গোলচত্তর পর্যন্ত রাস্তার এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পাঁচটি ভিন্ন নাম রয়েছে।

সাইকেলে করে

[সম্পাদনা]

জেনেভা সাইকেলে ঘোরার জন্য দারুণ উপযোগী একটি শহর। পুরনো শহরটি বাদ দিলে শহরের বাকি অংশ মোটামুটি সমতল। যদিও কিছু রাস্তা সাইকেল চালানোর জন্য বিপজ্জনক, প্রায় সব সময়ই আপনার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ ও দ্রুত পথ পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো পথগুলো জানতে চাইলে আপনি সুন্দরভাবে তৈরি করা "ভেলো-লাভ" শহরের মানচিত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এটি জেনেভার সব সাইকেল দোকানে পাওয়া যায়, অথবা

ইমেইল করে বা  +৪১ ২২ ৪১৮-৪২০০ নম্বরে যোগাযোগ করেও সংগ্রহ করা যায়।

আরেকটি চমৎকার বিকল্প হলো ই-বাইক ভাড়া নেওয়া। বাইসি (Bicy) মাসে ৮৯ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার) থেকে ই-বাইক ভাড়া দিয়ে থাকে।

একটি সামাজিক সংস্থা জেনেভরুল ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য বিনামূল্যে সাইকেল ধার দেয় (অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টায় ২ ফ্রাঁ ফি প্রযোজ্য)। এ জন্য পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র দেখাতে হয় এবং ২০ ফ্রাঁ জামানত দিতে হয়, যা ফেরতযোগ্য। লেকের ধারে, রেলস্টেশনের পেছনে, ও-ভিভ (তেরাসিয়ের), প্লেন দ্য প্ল্যাঁপালে এবং কারুজে মোট ছয়টি স্টেশন রয়েছে। সেবা বেশ সুবিধাজনক হলেও পরিচয়পত্র ও যোগাযোগের তথ্য, যেমন হোটেলের ফোন নম্বর, সঙ্গে রাখলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয়।

গণপরিবহনে করে

[সম্পাদনা]
টিপিজি টিকিট বিক্রয় মেশিন
সার্নের সামনে জেনেভা ট্রাম

জেনেভা, সুইজারল্যান্ডের অন্যান্য শহরের মতোই, কার্যকর ও দক্ষ জনপরিবহন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত। ট্রান্সপোর পাবলিক জেনেভোয়া (তিপেজে) নিয়মিত বাস, ট্রাম, ‘‘মুয়েত’’ (নৌকা), এবং শহরতলির ট্রেন সেবা প্রদান করে, যা শহরের অধিকাংশ স্থানে মাত্র এক-দুই ব্লকের মধ্যেই পৌঁছে যায়।

টিকিটের দাম নিম্নরূপ: স্বল্প দূরত্বের জন্য (তিন স্টপ বা কম, অথবা একবার লেক পারাপার) ২ ফ্রাঁ; এক ঘণ্টার জন্য (অসীম পরিবর্তনসহ ট্রাম, বাস, নৌকা ও রেল) ৩ ফ্রাঁ; ০৯:০০–২৩:৫৯ পর্যন্ত বৈধ একদিনের পাস ৮ ফ্রাঁ; এবং রাত ০৫:০০ পর্যন্ত বৈধ বর্ধিত দিন পাস ১০ ফ্রাঁ। এসবিবি ডেমি-তারিফ/হাল্বটাক্স কার্ডধারীরা ২০–৩০% ছাড় পান। কয়েক দিনের জন্য অবস্থান করলে ৩৮ ফ্রাঁ মূল্যের এক সপ্তাহের টিকিট কেনা সাশ্রয়ী। যা কর্নাভিন স্টেশন, রিভ গোলচত্তর এবং গ্রঁ-লঁসি-তে অবস্থিত অফিসগুলোতে বিক্রি হয়।

যদি আপনি হোটেল, হোস্টেল বা ক্যাম্পসাইটে থাকেন, তবে সাধারণত বিনামূল্যে জনপরিবহন সুবিধা পেতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেক-ইনের সময় আপনাকে একটি ইউনি‌রেজো জেনেভা ট্রান্সপোর্ট কার্ড দেওয়া হবে, যা আপনার থাকার মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ থাকে। এটি বিমানবন্দর পর্যন্ত ট্রেনেও ব্যবহারযোগ্য। এক পাস সর্বাধিক ১৫ দিনের জন্য বৈধ এবং আপনি চেক-আউটের দিনও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।যা শেষ মুহূর্তে ঘোরাঘুরি বা কেনাকাটার জন্য বেশ সুবিধাজনক।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

বাস ও ট্রামের টিকিট একই, এবং যাত্রার আগে প্রতিটি স্টপেজে থাকা টিকিট মেশিন থেকে কিনতে হয়। কিছু স্টপে মেশিন না থাকলে, আপনি চালককে জানিয়ে পরের স্টপে টিকিট কিনতে পারেন।

বাসে প্রায় সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব, তবে কিছু রুট জটিল, তাই একটি নেটওয়ার্ক মানচিত্র সংগ্রহ করা ভালো। এটি টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া যায় বা তাদের ওয়েবসাইট থেকেও দেখা বা প্রিন্ট করা যায়। বাসে উঠলে স্টপের নাম সাধারণত ঘোষণা দেওয়া হয় এবং অধিকাংশ বাসে স্ক্রিনেও প্রদর্শিত হয়।

মনে রাখবেন, জেনেভা ক্যান্টনের বাইরে (যেমন ফ্রান্স বা ভো ক্যান্টন) যাতায়াতের জন্য আলাদা টিকিট প্রয়োজন। সাধারণ টিকিট ও দিন পাস শুধুমাত্র জেনেভার মধ্যে (জোন ১০) বৈধ। ফ্রান্সের বাসস্টপগুলোতে টিকিট মেশিন নেই। ফ্রান্স থেকে যাত্রা করলে বাসের ভিতরে মেশিন থেকে টিকিট কিনতে হয়।

ট্রামে করে

[সম্পাদনা]
জেনেভার ট্রাম

জেনেভাতে পাঁচটি ট্রামলাইন রয়েছে, যথাক্রমে ১২, ১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮। এর মধ্যে তিনটি কর্নাভিন স্টেশন হয়ে যায় এবং সবকটিই প্লাস বেল-এয়ারের কাছাকাছি একটি স্টেশনে থামে। যদি আপনার হোটেল থেকে টিপিজি বা ইউনি‌রেজো কার্ড না পেয়ে থাকেন, তাহলে ট্রামে ওঠার আগে স্টপেজে থাকা টিকিট মেশিন থেকে টিকিট কিনতে হবে। এই টিকিট বাস ও ট্রাম উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

নৌকায় করে

[সম্পাদনা]

“মুয়েত” (mouette) সেবা পর্যটকদের জন্য হোটেল থেকে বিনামূল্যে দেওয়া তেপেজে/ইউনি‌রেজো কার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এটি ক্যু দ্য মঁ ব্লাঁ-এর কাছে পাকি স্টেশন থেকে জার্দিন আংলে-এর পাশের ও-ভিভ স্টপ পর্যন্ত লেক লেমান পার হওয়ার একটি মনোরম উপায়। প্রতি ১০ মিনিট অন্তর নৌকা চলাচল করে। বিস্তারিত জানতে দেখুন নৌকা পরিষেবার সরকারি ওয়েবসাইট

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]

যদি আপনি আল্পসের কোনো স্কি রিসর্টে যেতে চান বা পার্বত্য অঞ্চল ঘুরে দেখতে চান, তাহলে গাড়ি ভাড়া নেওয়াই সবচেয়ে ভালো বিকল্প। অসংখ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গাড়ি ভাড়া সংস্থা জেনেভা বিমানবন্দর থেকে সেবা দেয়। তারা পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড ভ্রমণ সেবা প্রদান করে। তবে জেনেভার শহরের কেন্দ্র অত্যন্ত যানজটে ভরা। তাই শহরের ভেতরে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা ভালো ধারণা নয়।

রেলে করে

[সম্পাদনা]

দিনের বেলা শহরতলির ট্রেন প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর এবং রাত ২০:০০-র পর প্রতি ঘণ্টায় একবার করে চলে। শেষ ট্রেন পূর্ব প্রান্তের টার্মিনাস কপ্পে-এর উদ্দেশ্যে ০০:০৩-এ ছাড়ে। যদিও এই “রেজিও” ট্রেনগুলো মূলত কর্মজীবী মানুষের জন্য, ভার্সোয়াকপ্পে। এই দুই স্টেশনের কাছাকাছি বেশ কিছু ভালো রেস্তোরাঁ ও ঐতিহাসিক রাস্তা রয়েছে। এছাড়াও আরইআর জেনেভ নামে আরেকটি শহরতলির রেললাইন আছে, যা কর্নাভিন স্টেশন থেকে লা প্লেন পর্যন্ত যায়, এবং কখনো কখনো ফ্রান্সে (লা প্লেন থেকে আরও দুই স্টপ দূরে) পর্যন্ত চলে। বাস ও ট্রামের মতো, ট্রেনে ওঠার আগেই টিকিট কিনতে হয়। আপনি যদি জেনেভা ক্যান্টনের মধ্যেই ভ্রমণ করেন, তবে বাস বা ট্রাম টিকিট ট্রেনেও বৈধ (এবং বিপরীতও সত্য)। কিন্তু এর বাইরে গেলে বেশি ভাড়া দিতে হবে। তবে আঞ্চলিক টিকিট কিনলে তা ভো ক্যান্টন ও ফ্রান্সের কিছু অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

যা দেখবেন

[সম্পাদনা]
লেক লেমানে জেট দ’ও ফোয়ারা
জাতিসংঘ ভবনের সামনে জেনেভার ‘‘ব্রোকেন চেয়ার’’ ভাস্কর্য
জেনেভার প্রতীকচিহ্ন
  • 1 জেট দ’ও, দ্য রেড (লেক লেমানের তীর থেকে বেশিরভাগ স্থান থেকেই দৃশ্যমান)। প্রতিদিন ১০:০০–২৩:০০ (নভেম্বর মাসে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং প্রবল বাতাসে বন্ধ থাকে) জেনেভার অন্যতম প্রতীক হলো বিশাল জলফোয়ারা ‘‘জেট দ’ও’’। এটি ১৪০ মিটার উচ্চতায় পানি নিক্ষেপ করে। একসময় রোন নদীর জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাপমুক্তি হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু মানুষের ভালো লাগায় ১৮৯১ সালে শহর কর্তৃপক্ষ এটিকে স্থায়ী রূপ দেয়। রাতে আলোকিত অবস্থায় এটি বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর। দূর থেকে দেখাই উত্তম। কারণ এর আশপাশের আধা কিলোমিটার এলাকা ভিজে থাকে। তবে সাহসী পর্যটকরা ফোয়ারার পথ ধরে একেবারে কাছে যাওয়াও উপভোগ করতে পারেন, আর ভিজে মজা পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন! বিনামূল্যে (Q684661)
সাঁ পিয়ের ক্যাথেড্রাল
  • 2 সাঁ পিয়ের ক্যাথেড্রাল ও ক্যালভিনের অডিটোরিয়াম, প্লাস সাঁ পিয়ের (পুরনো শহরের সর্বোচ্চ বিন্দুতে)। জুন–সেপ্টেম্বর: সোম–শনি ০৯:০০–২১:০০, রবি ১১:০০–১৯:০০; অক্টোবর–মে: সোম–শনি ১০:০০–১২:০০ ও ১৪:০০–১৭:০০, রবি ১১:০০–১২:৩০ ও ১৩:৩০–১৭:০০ ‘‘এস্পাস সাঁ পিয়ের’’ পাসের মাধ্যমে আপনি কুর সাঁ পিয়ের এলাকার তিনটি ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশাধিকার পাবেন, যা আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত ক্যাথলিক হলেও ক্যাথেড্রাল ও এর টাওয়ার এখন সংস্কার আন্দোলনের চূড়ান্ত নিদর্শন, যেখানে খ্রিস্টধর্মের উৎপত্তি সম্পর্কিত একটি বিস্তৃত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রদর্শনী রয়েছে। নীচতলায় আন্তর্জাতিক সংস্কার জাদুঘর অবস্থিত, যা একটি ভূগর্ভস্থ পথ দিয়ে ক্যাথেড্রালের সঙ্গে সংযুক্ত।

ক্যাথেড্রালের নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক ভ্রমণও অসাধারণ, যা কেবল ক্যাথেড্রালের নয়, জেনেভার প্রাক-রোমান ইতিহাসও তুলে ধরে। যারা ক্যাথেড্রালের টাওয়ারে উঠতে চান, তারা শহর ও হ্রদের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। কাছেই রয়েছে অডিটোরিয়াম, যেখানে জন ক্যালভিন পড়াতেন। পুরনো ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তার এক অসাধারণ মেলবন্ধন হয় এখানে। ‘‘এস্পাস সাঁ পিয়ের’’ আজও জেনেভার আধ্যাত্মিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। বিনামূল্যে অর্গান কনসার্টের সময়সূচির জন্য দেখুন কনসার্টস ক্যাথেড্রাল প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১৬ সুইস ফ্রাঁ। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, প্রতিবন্ধী, ১৬–২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এবং ১৫ জনের বেশি সদস্যের দলের জন্য টিকিট মূল্য ১০ সুইস ফ্রাঁ। ৭–১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট ৮ সুইস ফ্রাঁ। চার্চে প্রবেশ বিনামূল্যে, তবে ইচ্ছা করলে অনুদান দিতে পারেন। উইকিপিডিয়ায় St. Pierre Cathedral (Q666516)

  • 3 পুরনো শহর (ভিয়েই ভিল)। ক্যাথেড্রাল ছাড়াও পুরনো শহর ব্যক্তিগতভাবে এক-দুই ঘণ্টা ঘোরার মতো আকর্ষণীয়। এর উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে সিটি হল ও এর সামনের ছোট চত্বরে থাকা কামানগুলো, রুশোর জন্মভবন এবং বিভিন্ন পুরনো সামগ্রীর দোকান, যার জানালায় দারুণ সব জিনিস দেখা যায়। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত। পুরনো শহরটি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এবং এর রাস্তাগুলো বেশ খাড়া।
পালেস দে নাসিওঁ
  • 4 পালেস দে নাসিওঁ, ১৪, অ্যাভিনিউ দ্য লা পে (বাস নম্বর ৮, অ্যাপিয়া স্টপে নামুন), +৪১ ২২-৯১৭ ৪৮ ৯৬, ফ্যাক্স: +৪১ ২২ ৯১৭ ০০৩২, ইমেইল: প্রতিদিন খোলা (এপ্রিল–অক্টোবর: ১০:০০–১২:০০ ও ১৪:০০–১৬:০০; জুলাই–আগস্ট: ১০:০০–১৭:০০; বাকি সময় সোম–শুক্র ১০:০০–১২:০০ ও ১৪:০০–১৬:০০; বড়দিনে বন্ধ থাকে) জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তর হিসেবে নির্মিত এই ভবনটি শুধু জেনেভার ইতিহাস নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি প্রতীক। এখানে রয়েছে বিশাল অ্যাসেম্বলি হল, প্রচুর পাবলিক শিল্পকর্ম, গ্রন্থাগার ও সুন্দরভাবে সাজানো বাগান। কেবল গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমেই দর্শন সম্ভব। সাধারণত বছরে বেশিরভাগ সময় দিনে দুই থেকে চারটি ট্যুর হয়, আর গ্রীষ্মে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রবেশ করতে হলে অ্যাপিয়া গেট দিয়ে প্রবেশ করে পাসপোর্ট ও নিরাপত্তা পরীক্ষা পেরোতে হয়। এরপর একটি ডেস্কে ‘‘ভিজিটর’’ ব্যাজ নিতে হয়, তারপর নিচতলায় গিয়ে আসল টিকিট কিনতে হয়। তারপর ভবন থেকে বেরিয়ে বামদিকে সামান্য ঢালু পথে বিল্ডিং ইতে যেতে হবে, দরজা ই-৩৯ দিয়ে প্রবেশ করে লবিতে অপেক্ষা করতে হবে ট্যুর শুরু হওয়া পর্যন্ত। এখানে একটি ভালো সুভেনির দোকান রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের ডাকটিকিটসহ পোস্টকার্ড পাঠানো যায়। অপেক্ষার সময় ছোট ‘‘সিনেমা’’ হলে জাতিসংঘের কাজ নিয়ে ভিডিও ক্লিপও প্রদর্শিত হয়। ট্যুর চলাকালে অবশ্যই গাইডের নির্দেশ মেনে চলতে হয়। প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি ১২ সুইস ফ্রাঁ। ২০ জন বা তার বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দল ২০% ছাড় পায়। ১ থেকে ১৪ জনের ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) ট্যুরের খরচ ১২৭.৫০ সুইস ফ্রাঁ। ছাত্র, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য টিকিট ১০ সুইস ফ্রাঁ; বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ সুইস ফ্রাঁ। ৬ বছরের নিচে শিশুদের প্রবেশ বিনামূল্যে। উইকিপিডিয়ায় Palace of Nations (Q594846)

  • 5 কোয়ার্তিয়ে দে গ্রোৎ, প্লাস দে গ্রোৎ (গার কর্নাভিনের উত্তরে)। এই এলাকায় আকর্ষণীয় কিছু দোকান রয়েছে, তবে এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘‘লে শত্রুম্ফ’’ নামে পরিচিত আবাসিক ভবনসমূহ (১৯৮২–১৯৮৪), যেখানে স্থপতিরা সোজা রেখা এড়িয়ে একটি ব্যতিক্রমী, গাউদি-ধাঁচের স্থাপত্যশৈলী প্রয়োগ করেছেন। বিনামূল্যে
  • 6 মনুমঁ ব্রুন্সভিক, ক্যু দ্য মঁ ব্লঁ ১৮৭৩ সালে নির্মিত এই চিত্তাকর্ষক স্মৃতিস্তম্ভটি ব্রুন্সভিকের ডিউকের সমাধি হিসেবে তৈরি হয়েছিল। এটি ভেরোনার ১৪শ শতাব্দীর স্কালিজেরি পরিবারের সমাধির প্রতিলিপি। পাশের এলাকায় অবস্থিত পাঁচতারকা হোটেল ও তাদের সামনে দাঁড়ানো বিলাসবহুল গাড়িগুলিও দেখার মতো। বিনামূল্যে উইকিপিডিয়ায় Brunswick Monument
  • 7 ইল রুশো, পঁ দে বেরগ ছোট্ট একটি দ্বীপ, যেখানে লেক লেমান শেষ হয়ে রোন নদী শুরু হয়েছে। বিখ্যাত দার্শনিক জ্যাঁ-জাক রুশোর নামে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে, অবশ্যই এখানে তাঁর একটি মূর্তি রয়েছে। বিনামূল্যে উইকিপিডিয়ায় Île Rousseau
ল’ইল টাওয়ার ও বেল-এয়ার ট্রাম স্টেশন
  • 8 ল’ইল ১৩শ শতকে নির্মিত একটি দুর্গের অবশিষ্টাংশ ‘‘তুর দ্য ল’ইল’’ দেখার মতো একটি স্থান। বিনামূল্যে
জার্দিন বোতানিক
  • 12 জার্দিন বোতানিক (প্রধান প্রবেশদ্বার: র্যু দ্য লজান ও অ্যাভিনিউ দ্য লা পে-এর সংযোগস্থলে; বাস ৮, ১১ বা ২৫ নম্বর)। এই উদ্ভিদ উদ্যানটিতে আল্পস অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, গাছ ও উদ্ভিদ দেখা যায়। পাম হাউস অংশে রয়েছে উষ্ণমণ্ডলীয় বৃক্ষরাজি। উদ্যানের উত্তর দিকে একটি ছোট চিড়িয়াখানা রয়েছে, যেখানে পাখি এবং আল্পস অঞ্চলের প্রাণী, যেমন ছাগল ও হরিণ দেখা যায়। বিনামূল্যে

জাদুঘর ও শিল্পকলা প্রদর্শনী

[সম্পাদনা]
  • 13 আন্তর্জাতিক রিফর্মেশন জাদুঘর, ৪, রু দ্য ক্লোয়েত্র (বাস নং ৩৬ ক্যাথেদ্রাল পর্যন্ত/ বাস নং ২, ৭, ২০, থামে মোলার্ড/ ট্রাম ১২, ১৬, থামে মোলার্ড), +৪১ ২২ ৩১০ ২৪ ৩১, ফ্যাক্স: +৪১ ২২ ৩১০ ৭৪ ৪৫, ইমেইল: মঙ্গল–রবি ১০:০০–১৭:০০। ২৪, ২৫ ও ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি বন্ধ। ইস্টার, পেন্টেকস্ট এবং জেন ফেডারেল সোমবারে খোলা থাকে। প্রতিবন্ধী দর্শকদের জন্য প্রবেশযোগ্য। সেন্ট-পিয়ের ক্যাথেড্রালের পাশে অবস্থিত চমৎকার মেইসন মালেতে স্থাপিত এই নতুন জাদুঘরটি রিফর্মেশনের প্রধান আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো উপস্থাপন করে। অনন্য সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, বিরল বই, খোদাইচিত্র ও চিত্রকর্মে জেনেভা ও রিফর্মেশনের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি এখানে দর্শকদের আকর্ষণ করে। ছবি, সঙ্গীতকক্ষ, প্রদর্শনী ও শিশুদের জন্য নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে অতীতকে পুনরাবিষ্কার এবং ভবিষ্যৎকে কল্পনা করার সুযোগ দেয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ ফ্রাঁ; প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, ১৬–২৫ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৭ ফ্রাঁ; ৭–১৬ বছর বয়সী শিশু ও ১৫ জন বা তার বেশি সদস্যের দলকে ৫ ফ্রাঁ প্রবেশমূল্য দিতে হয়; ৭ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে। আরও ৩ ফ্রাঁ দিয়ে ক্যাথেড্রালের নিচে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শন করা যায় এবং টাওয়ারে উঠলে শহরের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। (Q584164)
  • 14 আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির জাদুঘর, ১৭, অ্যাভিনিউ দ্য লা পে (৮, F, V, অথবা Z বাসে সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে অ্যাপিয়া পর্যন্ত), +৪১ ২২ ৭৪৮ ৯৫ ২৫, ফ্যাক্স: +৪১ ২২ ৭৪৮ ৯৫ ২৮ মঙ্গল–রবি ১০:০০–১৭:০০। ২৪, ২৫ ও ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি বন্ধ। প্রতিবন্ধী দর্শকদের জন্য প্রবেশযোগ্য। এই জাদুঘরটি আইসিআরসির সদর দপ্তরের ভূগর্ভস্থ অংশে অবস্থিত এবং এতে সংস্থাটির মানবসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আলোকচিত্র ও বস্তু প্রদর্শিত হয়েছে। স্থায়ী প্রদর্শনীর একটি অংশ সাধারণ জাদুঘরের মতো নয়, বরং এটি একধরনের ‘অভিজ্ঞতা’, যা অনেকটা থিম পার্কের মতো। দর্শকদের একটি অডিও গাইড দেওয়া হয়, যা বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়, যদিও এটি মাঝে মাঝে ত্রুটিপূর্ণ হয়। এখানে শিক্ষামূলক খেলা ও আধুনিক শিল্পকর্মও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে, এবং সম্ভবত জেনেভা ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে এটি না-ও থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১৫ ফ্রাঁ; শিশু, আইসিআরসি সদস্য, প্রবীণ ও অন্যান্যদের জন্য ৭ ফ্রাঁ। (Q683406)
  • 15 মিউজে আরিয়ানা, ১০, অ্যাভিনিউ দ্য লা পে (প্লাস দে নাসিওঁ ও জাতিসংঘ ভবনের প্রবেশদ্বারের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত।), +৪১ ২২ ৪১৮ ৫৪ ৫০ মঙ্গল–রবি ১০:০০–১৮:০০ জাতিসংঘ ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকা আরিয়ানা জাদুঘরে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্যের প্রায় ১৬,০০০ টুকরো সিরামিকসের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। ৮ ফ্রাঁ
  • 16 আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলা জাদুঘর, রু দে ভিউ-গ্রেনাদিয়ে ১০ (বাস নং ১, একোল দে মেডেসিন পর্যন্ত।), +৪১ ২২ ৩২০ ৬১ ২২ মঙ্গল–শুক্র ১২:০০–১৮:০০, শনি–রবি ১১:০০–১৮:০০ বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিল্পীদের দেরি আধুনিক, উত্তর-আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকর্মের প্রদর্শনী রয়েছে এখানে। এছাড়াও সুইস ধারণাশ্রয়ী শিল্পের বিশেষ সংগ্রহও আছে। ৮ ফ্রাঁ
  • 17 প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর, রুৎ দ্য মালানিউ ১ (বাস ১–৮ (স্টপ ট্রঁশে ও মিউজিয়াম), ২০–২৭ (স্টপ মিউজিয়াম), ট্রাম ১২–১৬ (স্টপ ভিলারুজ)), +৪১ ২২ ৪১৮ ৬৩ ০০ মঙ্গল–রবি ০৯:৩০–১৭:০০ জেনেভার একটি সুন্দর প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর, যা বিশেষত তরুণ ও শিশুদের জন্য আকর্ষণীয়। বিনামূল্যে
  • 18 শিল্প ও ইতিহাস জাদুঘর, রু শার্ল-গালাঁ ২, +৪১ ২২ ৪১৮ ২৬ ০০ মঙ্গল–রবি ১০:০০–১৭:০০ এখানে বিশাল শিল্প ও প্রত্নতাত্ত্বিক-ঐতিহাসিক সংগ্রহ রয়েছে। চিত্রকলা গ্যালারিতে প্রাচীন রেনেসাঁ যুগ থেকে শুরু করে সুইস-ফরাসি ও ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পকর্মের সমৃদ্ধ প্রদর্শনী দেখা যায়। বিনামূল্যে, বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য প্রবেশমূল্য প্রযোজ্য।
  • 19 ফঁদাসিও বো , দূরপ্রাচ্য শিল্পকলা জাদুঘর, ৮ রু মুনিয়ে-রোমিলি মঙ্গল–রবি ১৪:০০–১৮:০০ সুইজারল্যান্ডে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবচেয়ে বড় দূরপ্রাচ্যের শিল্পকলা সংগ্রহশালা। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অস্থায়ী প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। ১০ ফ্রাঁ
সার্নের 'গ্লোব অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন'
  • 20 পাটেক ফিলিপ জাদুঘর, ৭ রু দে ভিউ-গ্রেনাদিয়ে মঙ্গল–শুক্র ১৪:০০–১৮:০০, শনিবার ১০:০০–১৮:০০ চারতলা জুড়ে বিগত শতাব্দীগুলোর মনোমুগ্ধকর ঘড়ি ও ঘড়ির যন্ত্র প্রদর্শিত রয়েছে, পাটেক ফিলিপ এবং অন্যান্য ব্র্যান্ড উভয়েরই। ঘড়ি নির্মাণের প্রক্রিয়াও এখানে প্রদর্শিত হয়। দর্শনার্থীদের ব্যাগ (এমনকি শপিং ব্যাগও) ফ্রি লকারে রাখতে হয়, তাই বড় স্যুটকেস নিয়ে যাবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ ফ্রাঁ, প্রবীণ/প্রতিবন্ধী/বেকার/ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৭ ফ্রাঁ, ১৮ বছরের নিচে বিনামূল্যে।
  • 21 সার্ন সায়েন্স গেটওয়ে, ১, এসপ্লানাদ দে পার্তিক্যুল মঙ্গল–রবি সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা সার্ন কণাভৌত গবেষণা কেন্দ্রটি একটি বিশেষভাবে নির্মিত জাদুঘর যেখানে সার্নের ইতিহাস, মহাবিশ্ব ও কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের উপস্থাপনা রয়েছে, যা সবার জন্য সহজবোধ্যভাবে তৈরি। অধিকাংশ প্রদর্শনী ইন্টারঅ্যাকটিভ এবং ফরাসি, ইংরেজি, জার্মান, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষায় প্রদর্শিত হয়। শিশুদের জন্য বিনামূল্যের ৪৫ মিনিটের কর্মশালা এবং ৯০ মিনিটের গাইডেড ট্যুরও রয়েছে (সাইটে বুক করতে হয়)। রিসেপশনে সুভেনির দোকানও আছে। এখান থেকেই আপনি সার্ন হেলমেট সংগ্রহ করতে পারেন! বিনামূল্যে উইকিপিডিয়ায় CERN#Public_exhibits
  • 22 বিজ্ঞান ইতিহাস জাদুঘর, ভিলা বারথোলনি, ১২৮ রু দ্য লোসান (বাস ৮ ও ২৫, পার্ল দ্য লাক উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত।)। যেসব বিজ্ঞানী জেনেভায় বসবাস ও কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতি উৎসর্গীকৃত একটি জাদুঘর। এখানে পুরনো টেলিস্কোপ থেকে শুরু করে গ্যালভানোমিটার ও কাচের চোখ পর্যন্ত নানা বৈজ্ঞানিক যন্ত্র দেখা যায়। বিনামূল্যে
  • 23 মেইসন তাভেল, ৬ রু দ্য পুই-সাঁ-পিয়ের (পুরনো শহরে, সিটি হল ও ক্যাথেড্রালের কাছে।)। মঙ্গল–রবি ১১:০০–১৮:০০ তিনতলা ভবনজুড়ে মধ্যযুগ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত জেনেভার ইতিহাস প্রদর্শিত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ অস্থায়ী প্রদর্শনী দেখতে আলাদা প্রবেশমূল্য দিতে হয়। বিনামূল্যে

যা করবেন

[সম্পাদনা]
সেন্ট-পিয়ের ক্যাথেড্রাল থেকে জেনেভার প্যানোরামা
সালেভের কেবল কার
  • 1 সালেভ কেবল কার (তেলেফেরিক দু সালেভ), ভেয়রি, ফ্রান্স (বাস নম্বর ৮ নিন ভেয়রি ডোয়ান ( অথবা ভেয়রি তুরনেত পর্যন্ত। এছাড়াও ৪১ নম্বর লাইন ভেয়রি-একল পর্যন্ত যায়।)। ফরাসি সীমান্তের ঠিক ওপারে অবস্থিত এই উঁচু আল্পাইন পর্বতশ্রেণি থেকে মনোমুগ্ধকর মঁ ব্লাঁলেক জেনেভা এলাকার দৃশ্য দেখা যায়। এখানে বহু মাইল জুড়ে হেঁটে বেড়ানোর পথ রয়েছে। পাস দ্য লেশেল গ্রামের একটি ছোট্ট দোকানে প্রায় ১০০ রকম ফরাসি পনির বিক্রি হয়, যা রবিবারও খোলা থাকে। পাসপোর্ট নিতে ভুলবেন না। উইকিপিডিয়ায় তেলেফেরিক দু সালেভ (Q7862207)
  • অ্যাসোসিয়েশন জেনেভয়াজ দেজ আমি দু সালেভ (এজিএএস), +৪১ ২২ ৭৯৬ ৪১ ৩৩ এই সংগঠনটি প্রতি রবিবার জেনেভার চারপাশে বিনা মূল্যে হাইকিং আয়োজন করে। সকাল ১০টায় (ঠিক সময়ে) বাস নম্বর ৮-এর শেষ স্টেশন ভেয়রি-ডোয়ান থেকে যাত্রা শুরু হয়।
  • 2 জেনেভা প্লাজ (বাস ২ এবং ৬)। মে–সেপ্টেম্বর জেনেভা শহরের বিভিন্ন স্থানে নদী বা হ্রদে সাঁতার কাটার ছোট ছোট জায়গা আছে, তবে সবচেয়ে বড়টি হলো লেকের পূর্ব তীরে অবস্থিত জেনেভা প্লাজ (আক্ষরিক অর্থে “জেনেভা সৈকত”)। এখানে সাঁতার, রোদ পোহানো, খেলা, বারবিকিউ বা আড্ডার জন্য এটি চমৎকার জায়গা।
  • ফুটবল: সার্ভেট এফসি সুইস সুপার লিগে, যা সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের ঘরের মাঠ স্টাড দ্য জেনেভা, যার ধারণক্ষমতা ৩০,০০০। এটি শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ২০২৫ সালে এখানে ইউইএফএ মহিলা ইউরো ফাইনালের কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

অনুষ্ঠান

[সম্পাদনা]

মার্চ

[সম্পাদনা]
  • আন্তর্জাতিক জেনেভা মোটর শো, বিমানবন্দরের পাশে পালে-এক্সপো কেন্দ্রে
  • কাভ উভের্ত বিনামূল্যের বার্ষিক অনুষ্ঠান। জেনেভার গ্রামীণ অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে বিভিন্ন ওয়াইনারিতে স্থানীয় মদ চেখে দেখার সুযোগ মেলে।
  • বল দ'অর ইউরোপের সবচেয়ে বড় ইয়ট রেস।
  • ফেত দ্য লা মিউজিক, +৪১ ২২ ৪১৮ ৬৫ ৩২ জুন মাসে তিন দিন ধরে পুরো জেনেভা শহরটাই এক বিশাল মঞ্চে পরিণত হয়। প্রায় ৪০টির মতো মঞ্চে বিভিন্ন ধরণের সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। শিশুদের কোরাস, পাঙ্ক রক, চেম্বার অর্কেস্ট্রা, জ্যাম ব্যান্ড, অ্যাভঁ-গার্ড জ্যাজ, ক্লেজমার এবং ড্রাম অ্যান্ড বেস ডিজে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোও সংগীতের মতোই বৈচিত্র্যময়। ল’ইউজিন, পার্ক দে বাস্তিওঁ, এমনকি সেন্ট-পিয়ের ক্যাথেড্রাল পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক খাবার ও পানীয়েরও প্রচুর ব্যবস্থা থাকে, তবে দাম একটু বেশি, কিন্তু তা যথেষ্ট মূল্যবান। তথ্য পাওয়ার সহজ উপায় হলো এই পার্কগুলোর যেকোনো একটিতে গিয়ে উৎসবের বিনামূল্যের পত্রিকা সংগ্রহ করা, যেখানে সময়সূচি ও মানচিত্র থাকে। ঘুরে বেড়াতেও ভুলবেন না, কারণ উৎসব জুড়ে অসংখ্য চমৎকার অনানুষ্ঠানিক পরিবেশনা থাকে। যেমন ঢাক-ঢোল, জাগলিং, নৃত্য ইত্যাদি। বিনামূল্যে

আগস্ট

[সম্পাদনা]
  • ফেত দ্য লা বাতি ১৬ দিনের একটি শিল্প উৎসব (সাধারণত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহান্তে শুরু হয় এবং আগস্ট মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে চলে)। এতে শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে শিল্প স্থাপন ও সরাসরি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিবেশ এডিনবার্গ ফ্রিঞ্জ উৎসবের মতো। ২০২৫ সালের উৎসব ২৮ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

ডিসেম্বর

[সম্পাদনা]
  • লে’স্কালাদ এই উৎসবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। এখানে দৌড় ও হাঁটার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্যান

[সম্পাদনা]

জেনেভার সবুজ জায়গাগুলো ঘুরে দেখার জন্য অন্তত একটি দিন রাখাই ভালো, কারণ এখানে এমন অনেক মনোরম উদ্যান রয়েছে এবং শহরের অনেক আকর্ষণীয় অংশই এই সবুজ উদ্যানগুলোর মাঝামাঝি অবস্থিত। কিছু জনপ্রিয় পথ-ভ্রমণের মানচিত্র ইল দ্য লা মাশিনে অবস্থিত পর্যটন অফিসে পাওয়া যায়।

জার্দিন ইংলের (ইংরেজ উদ্যান) একটি ফোয়ারা
  • 3 পার্ক দে বাস্তিওঁ, প্রবেশপথ প্লাস ন্যুভ অথবা প্লাস বুর দ্য ফোরের রু সাঁ-লে’জে দিয়ে নামলেই পাওয়া যায়। এই সুন্দর বৃক্ষশোভিত উদ্যানে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ অবস্থিত। এখানে বিশাল দাবার বোর্ড ও জেনেভার ক্যালভিনবাদী প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের বিশাল ভাস্কর্য রয়েছে। এটি পুরনো শহর ও প্লেন দ্য প্ল্যাঁপ্লের মাঝামাঝি, তাই এটি শহর ঘোরার এক সুন্দর সংযোগস্থল।
  • 4 পার্ক দে ও ভিভ, রু দে ও ভিবের দূর প্রান্তে প্রবেশপথ এবং বাস নম্বর ২ এই পথ ধরে চলে। এখান থেকে পাকি থেকে নৌযান পরিষেবাও রয়েছে। এই উদ্যানটি হাঁটার জন্য আদর্শ এবং এখান থেকে জেনেভা হ্রদের অপর প্রান্তে জাতিসংঘ কার্যালয়পালে দে নাসিওঁ দেখা যায়। জেনেভা সৈকতটি শহর থেকে সবচেয়ে দূরের লেক তীরের প্রান্তে অবস্থিত।
  • 5 পার্ক দ্য লা গ্রাঞ্জ লেক জেনেভার দক্ষিণ তীরের প্রমেনাদের পাশে অবস্থিত এই বৃহৎ উদ্যানটিতে একটি গোলাপ বাগান, একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ ও বৃক্ষশোভিত পথ রয়েছে, যা কাছাকাছি পার্ক দে ও ভিভের সঙ্গে সংযুক্ত।
  • 6 বোয়া দ্য লা বাতি জনসঁ এলাকার আরভ নদীর অপর পারে অবস্থিত। এই বনাঞ্চলটি প্রায় প্রাকৃতিক অবস্থায় সংরক্ষিত, তবে চারপাশে হাঁটার পথ রয়েছে। এসব পথ শেষে একটি রেলসেতু পার হয়ে সাঁ-জ্যাঁ পাড়ায় পৌঁছে যায়। পশ্চিম প্রান্তে একটি ছোট বিনামূল্যের চিড়িয়াখানাও রয়েছে। নদীর দিক থেকে পথ ধরে উপরে উঠতে না চাইলে বাসে করে ক্লেয়ার ভ্যু পর্যন্ত যেতে পারেন।
  • 7 জার্দিন ইংলে একটি ছোট কিন্তু জনপ্রিয় উদ্যান, যেখানে অনেকে দুপুরের বিরতিতে সময় কাটান। এটি লেক জেনেভার তীরে অবস্থিত। মঁ ব্লাঁ সেতু পার হয়ে শহরের দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছানোর পরই দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে এখানে ছোট কনসার্ট ও মেলা আয়োজন করা হয়, বিশেষত “ফেত দ্য জেনেভ” শহর উৎসবের সময়। উদ্যানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ফুল দিয়ে সাজানো বিখ্যাত ঘড়িটি দেখতে ভুলবেন না।
  • 8 লা পার্ল দ্য লাক, রু দ্য লোজান ) (বাস ৮ ও ২৫)। এর অর্থ “হ্রদের মুক্তা”। এটি লেক জেনেভার পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় উদ্যান। এখানে একই নামে একটি চমৎকার রেস্তোরাঁ ও একটি বিনামূল্যের বিজ্ঞান জাদুঘর রয়েছে। এছাড়াও এটি পিকনিকের জন্য অসাধারণ জায়গা।

লেখাপড়া

[সম্পাদনা]

ফরাসি ভাষা শেখার সুযোগ এখানে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোর্স থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেও শেখা যায়। তবে দুই ক্ষেত্রেই খরচ অন্যান্য ফরাসিভাষী দেশের তুলনায় কিছুটা বেশি।

  • জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক সস্তা ফরাসি ক্লাসের সুযোগ দেয়। এছাড়াও বার্লিট্‌জ ও ইনলিঙ্গুয়ার মতো বড় ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এখানে রয়েছে।
  • পরিচিত একটি স্কুল হলো একোল দ্য মঁদ , যা রেলস্টেশন ও জেনেভা হ্রদের কাছাকাছি অবস্থিত।
  • মিগ্রো সংস্থাও বেশ যুক্তিসঙ্গত মূল্যে ভাষা শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করে।
  • মাই লিঙ্গুইস্টিক্স ব্যক্তিগত ও আধা-ব্যক্তিগত ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার কোর্স প্রদান করে। এই প্রতিষ্ঠানটির ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করা।
  • ইফাজ - (প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার জন্য ফাউন্ডেশন) - স্থানীয়ভাবে বেশ সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এটি নিবিড় ফরাসি ভাষা কোর্সের পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও স্থানীয়দের জন্য ভাষা শিক্ষা প্রোগ্রাম চালায়। ইফাজ ফরাসি সরকারের ডেলফ ও ডালফ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সও প্রদান করে।
সার্নের টানেল

উচ্চশিক্ষা

[সম্পাদনা]

জেনেভায় বেশ কিছু ইংরেজি ভাষাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো প্রধানত আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করে।

গবেষণা

[সম্পাদনা]

বিশ্ববিখ্যাত ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা সার্ন মেরিনে অবস্থিত, যা জেনেভা শহরের ঠিক বাইরে। শহরের কেন্দ্রস্থল কর্নাভিন স্টেশন থেকে ট্রাম নম্বর ১৮ সরাসরি সার্ন ক্যাম্পাসে যায়। এখানে অবস্থিত ২৭ কিলোমিটার পরিধির লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার, যা পৃথিবীর “সবচেয়ে বড় যন্ত্র” হিসেবে পরিচিত। এই কোলাইডারটি কণিকা পদার্থবিজ্ঞানের অনেক মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেবে এবং নতুন অনেক প্রশ্নের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হয়।

সার্ন প্রতি বছর একটি বিখ্যাত গ্রীষ্মকালীন ছাত্র কর্মসূচি পরিচালনা করে, যেখানে ১৫০ জন ইউরোপীয়, ২০ জন আমেরিকান ও অন্যান্য দেশ থেকে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করা হয়। সার্নে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনীও রয়েছে, এবং আগাম বুকিং করে সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বব্যাপী ওয়েবের সূচনা সার্ন থেকেই হয়েছিল।

কর্মসংস্থান

[সম্পাদনা]

জেনেভায় কর্মরত অনেক বিদেশি পেশাজীবী জাতিসংঘের কোনো একটি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক ব্যাংকে কাজ করেন। অ-সুইস জাতিসংঘ কর্মীরা সুইজারল্যান্ডে বসবাস ও কাজের জন্য বিশেষ ভিসা পান। তবে এসব চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন, যদি না আপনি আগে থেকেই জেনেভায় অবস্থান করেন। আপনি যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হন, তাহলে সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কারণে যেকোনো নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন। এখানে কাজের অধিকার আপনার একইভাবে রয়েছে, আপনি নীল কলার (শ্রমিক) বা সাদা কলার (অফিস কর্মী) যাই হোন না কেন। জেনেভায় বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, যদিও আর্থিক সংকটের সময় কর্মসংস্থানে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়।

অস্থায়ী বা শিক্ষার্থীদের চাকরি, যেমন ‘ও পেয়ার’ (au pair) হিসেবে কাজ, গৃহকর্মী বা শহরের বিভিন্ন বারে কাজ করতে খুব উন্নত ফরাসি জানা জরুরি নয়। তবে এসব সুযোগ পেতে শহরে সরাসরি উপস্থিত থাকাই শ্রেয়। গৃহস্থালির কাজের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারেন সুপারমার্কেটগুলোর প্রবেশপথে থাকা নোটিশ বোর্ডে, ইংরেজ ও আমেরিকান গির্জায়, অথবা আমেরিকান উইমেন’স ক্লাবে। এছাড়া অনলাইনে ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে সম্পর্কিত গ্রুপেও যুক্ত হওয়া ভালো।

যদি বারে চাকরি করতে চান, তবে সরাসরি ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সেক্ষেত্রে পানীয় পরিবেশন করার মতো পর্যাপ্ত ফরাসি ভাষাজ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]
জেনেভার প্রধান কেনাকাটার রাস্তা লে রু বাস (Les Rue Basses)
  • মুদ্রা: সুইজারল্যান্ড হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেশ। তাই ব্যাংক, রেলস্টেশন বা শপিংমলের এটিএম থেকে স্থানীয় মুদ্রা তুলতে কোনো অসুবিধা হয় না। অনেক বড় দোকান ও পর্যটকদের জন্য তৈরি স্থানে ইউরোও গ্রহণ করা হয়। অষ্টম সিরিজের সুইস ব্যাংকনোট (১০ ফ্রাঁ ল্য করবুজিয়ে, ২০ ফ্রাঁ হোনেগার, ৫০ ফ্রাঁ টায়ুবার-আর্ফ) এপ্রিল ২০২১-এ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে সীমাহীন সময়ের জন্য এগুলো সুইস জাতীয় ব্যাংকে বদলানো যায়। বর্তমানে নবম সিরিজের নোটই ব্যবহৃত হয় (দেখুন সুইজারল্যান্ড#কেনাকাটা)।
  • চকলেট কেনা যায় বিভিন্ন বিশেষায়িত দোকান থেকে, কিন্তু মুদি দোকানের চকলেটও সমান ভালো, আর দাম অনেক কম (প্রতি বার ১–৩ ফ্রাঁ)। যদি রান্নার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে সুইজারল্যান্ডের মুদি দোকানগুলো থেকেই সবচেয়ে ভালো মানের খাবার সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায়। তবে তাজা খাদ্যসামগ্রীর দাম যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের তুলনায় অনেক বেশি।
  • ওয়াইন ও মদ্যপ পানীয়র দাম ইংরেজিভাষী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় পানীয় বিশেষভাবে সস্তা, এবং শুধু পানযোগ্যই নয়, বরং মানও ভালো। অনেকে বলেন, সুইস ওয়াইন আন্তর্জাতিকভাবে তেমন পরিচিত নয়, কারণ সুইসরাই সব পান করে ফেলে।
  • পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রীর ক্ষেত্রে জেনেভা কিছুটা হতাশ করতে পারে। দাম বেশি, বৈচিত্র্যও সীমিত—যদি না আপনি ঝকমকে পাথর বসানো বেগুনি রঙের লম্বা পশমি কোট খুঁজছেন। জেনেভা বহু ঘড়ি নির্মাতার আবাসস্থল, তাই এখানে গয়না ও ঘড়ির দোকান প্রচুর।
  • আত্মীয়দের জন্য কিছু সুইস উপহারসামগ্রী নিতে চাইলে মূল সড়ক রু দ্য লা ক্রোয়া দ'ওর এবং গার করনাভাঁ স্টেশন থেকে হ্রদের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলোর ধারে সেগুলো সহজেই সুলভ মূল্যে পাবেন।
  • 1 মোলার্ড সুভেনিরস, ১ রু দ্য লা ক্রোয়া দ'ওর ছোট, সুন্দর এই দোকানে আপনি নানা ধরণের সুইস উপহারসামগ্রী পাবেন। এখানেও সুইস নির্মিত ঘড়ির ভালো সংগ্রহ আছে। কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে কয়েক মিনিট হাঁটার পথ।
  • ঘড়ি ও পকেট ঘড়ি: বেশিরভাগ মানুষ কেবল প্রচারিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের নাম জানেন, কিন্তু সুইজারল্যান্ডে শতাধিক ব্র্যান্ড রয়েছে। চিন্তার কিছু নেই—যদি ঘড়িতে Swiss Made লেখা থাকে, তাহলে সেটা সর্বোচ্চ মানের ঘড়ি।
  • কুকু ঘড়ি : ঐতিহ্যবাহী যান্ত্রিক মডেল থেকে শুরু করে এখন ব্যাটারি চালিত ঘড়িও পাওয়া যায়। এগুলো জার্মানিতে তৈরি হলেও ‘শ্যালে’ ধাঁচের কাঠের ঘরটি ঐতিহ্যবাহী সুইস নকশার।
  • সুইস আর্মি নাইফ : সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি ব্র্যান্ড হলো সুইজা ও ভিক্টরিনক্স । সুইজারল্যান্ডজুড়ে এদের দাম একই।
  • মিউজিক বক্স : ঘড়ি তৈরির ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এই সুইস পণ্যটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। রিউজ (Reuge) হলো সবচেয়ে খ্যাতনামা ব্র্যান্ড, যদিও কিছু কমদামী ব্র্যান্ডও পাওয়া যায়।
  • আরও চান? 2 'রু দ্য মার্চে, ট্রেনস্টেশন থেকে প্রায় ১০ মিনিট দক্ষিণে হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন। এখানে প্রায় সবকিছুই পাবেন—ঐতিহ্যবাহী থেকে আধুনিক, উপহারসামগ্রী থেকে শুরু করে গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি, গ্রন্থাগার ও চশমার দোকান পর্যন্ত। এটি জেনেভার অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা (পূর্ব থেকে পশ্চিম ক্রমানুসারে এর চারটি নাম: রুয়ে দে রিভ - রুয়ে দে লা ক্রোইক্স ডি'অর - রুয়ে ডু মার্চ - রুয়ে দে লা কনফেডারেশন)। রাস্তা পরিষ্কার ও আকর্ষণীয় রাখা হয়। দাম সাধারণত যুক্তিযুক্ত, তবে কেনার আগে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা বা স্থানীয়দের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
  • আপনি যদি লুই ভুঁতো ফ্যাশন ও সোনার হাতঘড়ি খুঁজে থাকেন, 3 রু দ্য রোন নদীর দক্ষিণ তীরে (মার্শে রাস্তার সমান্তরালভাবে চলা) আদর্শ স্থান। অবশ্য, এইসব ব্র্যান্ড জেনেভার বিভিন্ন এলাকায়ও সহজেই পাওয়া যায়। এটাই তো সুইজারল্যান্ড!
  • 4 ম্যানর, ৬ রু দ্য করনাভাঁ (কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে কয়েক মিনিট হাঁটার দূরত্বে)। সোম–বুধ ০৯:০০–২১:০০, বৃহস্পতি ০৯:০০–২১:০০, শুক্র ০৯:০০–১৯:৩০, শনি ০৮:৩০–১৮:০০ শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পোশাক, খাদ্য, ইলেকট্রনিকস ইত্যাদি সবই পাওয়া যায়। উপরতলায় একটি স্ব-পরিসেবা রেস্তোরাঁও আছে।
  • 5 সেন্ট্র কমার্শিয়াল সিগন, ১৬–২০ রু দ্য লসান (কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের কাছাকাছি)। এই শপিং সেন্টারে এক ছাদের নিচে অনেক ছোট দোকান ও খাবারের জায়গা রয়েছে। রেলস্টেশন থেকে রু দ্য লসান ধরে অল্প হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন।
  • 6 প্ল্যাঁপালেইসের ফ্লি মার্কেট প্রতি শনিবার যদি আপনি পুরোনো জিনিসের বাজার ঘুরতে ভালোবাসেন। যেমন পুরোনো রেকর্ড, বই, চিনামাটির সামগ্রী ইত্যাদি। বিশেষ করে সুইস ও ফরাসি ঐতিহ্যের জিনিস, আর যদি শনিবার (বা কিছু বুধবার) জেনেভায় থাকেন, তবে প্ল্যাঁপালেইস স্কয়ারই আপনার গন্তব্য।