এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > রংপুর বিভাগ > ঠাকুরগাঁও জেলা > ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বাংলাদেশের একটি প্রশাসনিক এলাকা যা রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার অন্তর্ভূক্ত। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ২৫°৪০´ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৫°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশের এবং ৮৮°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমা হতে ৮৮°২২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এই উপজেলাটির উত্তরে আটোয়ারীবোদা উপজেলা; দক্ষিণে পীরগঞ্জবীরগঞ্জ উপজেলা; পূর্বে বোদা, দেবীগঞ্জবীরগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে বালিয়াডাঙ্গিরানীশংকাইল উপজেলা

কিভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

স্থল পথে[সম্পাদনা]

সড়ক পথে ঢাকা হতে ঠাকুরগাঁওয়ের দূরত্ব ৪৫৯ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনের দূরত্ব ৬৪০ কিলোমিটার। উপজেলা হেডকোয়ার্টারটি ঠাকুরগাঁও শহরের '০' পয়েন্ট হতে ২.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।।

সড়কপথ[সম্পাদনা]

ঢাকার গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর, কলাবাগান, ফকিরাপুল, আসাদগেট - প্রভৃতি বাস স্টেশন থেকে ঠাকুরগাঁও আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে। এগুলোতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা। ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে হানিফ, নাবিল, এনা, বাবলু, কেয়া প্রভৃতি পরিবহণ কোম্পানীর বাস আছে প্রতিদিন।

ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে সরাসরি চলাচলকারী পরিবহণে আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ

  • এসি বাসে - ৮০০/- (রেগুলার) ও ১২০০/- (স্কেনিয়া) এবং
  • নন-এসি বাসে - ৩৫০/- হতে ৬০০-/ পর্যন্ত।

রেলপথ[সম্পাদনা]

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনে সরাসরি এখানে আসা যায়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন তিনটি ট্রেন ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা – ঠাকুরগাঁও রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

  • পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৪) - কমলাপুর থেকে রাত ১২টা ১০শে ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌঁছায় সকাল ৯টা ৪০শে।
  • একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) - কমলাপুর থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌঁছায় সকাল ৮টায়।
  • দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮) - কমলাপুর থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌঁছায় ভোর ৬টায়।

ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে চলাচলকারী ট্রেনসমূহের বিভিন্ন আসনের নির্ধারিত ভাড়া-

  • শোভন চেয়ার - ৫২০ টাকা
  • সিগ্ধা - ৯৮৯ টাকা
  • ১ম শ্রেণির বার্থ - ১০৮৫ টাকা
  • এসি বার্থ - ১৮৩৩ টাকা

আকাশ পথে[সম্পাদনা]

ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর থাকলেও তা চালু না থাকায় এখানে সরাসরি আকাশ পথে আসা যায় না। তবে ঢাকা থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সাথে। ঢাকা থেকে সৈয়দপুর এসে সেখান থেকে সড়কপথে ঠাকুরগাঁও আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর আসার জন্য।

বাংলাদেশ বিমানের একটি করে ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন ঢাকা-সৈয়দপুর ও সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করে। ভাড়া লাগবে একপথে ৩,০০০/- এবং রিটার্ণ টিকিট ৬,০০০/- সময়সূচী হলোঃ

  • ঢাকা হতে সৈয়দপুর - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ০২ টা ২০ মিনিট।
  • সৈয়দপুর হতে ঢাকা - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ০৩ টা ৩৫ মিনিট।

জল পথে[সম্পাদনা]

অপ্রচলিত মাধ্যম হিসাবে নৌপথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে কেবলমাত্র স্থানীয় পর্যায় ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সাথে, কিংবা ঢাকা থেকে বা অন্যান্য বড় শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না। তবে, চরাঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌযান।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • জামালপুর জামে মসজিদ;
  • কোরমখান গড়;
  • বৃষমুর্তি (নরগুন কহরপাড়া);
  • খুররম খাঁ দীঘি;
  • গোবিন্দ জিউ মন্দির;
  • শাপলা দীঘি;
  • পেয়ালা দীঘি;
  • ঢোলহাট মন্দির;
  • শালবাড়ি ইমামবাড়া - ভাউলারহাট;
  • সাপটি বুরুজ;
  • বলাকা উদ্যান;
  • কুমিল্লা হাড়ি বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

‘সিদল ভর্তা’ এখানকার জনপ্রিয় খাবার, যা কয়েক ধরনের শুঁটকির সঙ্গে নানা ধরনের মসলা মিশিয়ে বেটে তৈরি করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত “হাড়িভাঙ্গা” আম, তামাক ও আখ। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো হলোঃ পাটশাক ও লাফা শাকের ঝোল, সিদলের ভর্তা, চেং বা শাটি (টাকি) মাছের পোড়া বা সিদ্ধ ভর্তা, কচি কচু পাতার পোড়া বা সিদ্ধ ভর্তা, পেল্কা, কাঁচা আমের তরকারি, কাঁচা কাঁঠালের তরকারি, আমসি বা টমেটোর টক, নতুন ধানের ভাকা পিঠা (ভাপা পিঠা), পাকোয়ান পিঠা, নুনাস বা নুনিয়া পিঠা, চিতুয়া পিঠা, গুড়গুড়িয়া পিঠা, আঁখের নতুন গুড় দিয়ে তৈরি খৈয়ের মুড়কি, মুড়ির নাড়ু, চিড়ার চিপড়ি।

থাকা ও রাত্রী যাপনের স্থান[সম্পাদনা]

ঠাকুরগাঁওয়ে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও থাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উন্নতমানের কিছু হোটেলও রয়েছে -

  • সার্কিট হাউস, ঠাকুরগাঁও, ☎ ০৫৬১-৫৩৪০০;
  • জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, ঠাকুরগাঁও, ☎ ০৫৬১-৫২০৯৪;
  • হোটেল সালাম ইন্টারন্যাশনাল, নর্থ সার্কুলার রোড, ঠাকুরগাঁও, ☎ ০৫৬১-৫২২৪৬;
  • হোটেল মানামা, আধুনিক সদর হাসপাতাল এলাকা, ঠাকুরগাঁও;
  • হোটেল প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল, নর্থ সার্কুলার রোড, ঠাকুরগাঁও, ☎ ০৫৬১-৫৩৫০৫;
  • হোটেল ইসলাম প্লাজা;
  • হোটেল সাদেক, বাসষ্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও, ☎ ০৫৬১-৫২১৯৭;
  • মকবুল হোটেল, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও;
  • জাহের হোটেল, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড, ঠাকুরগাঁও।

জরুরী নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

চিকিৎসা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁওঃ ০১৭২৪-৬৮১ ৪৮৯;
জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ইউ.এন.ও. ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁওঃ ☎ ০৫৬১-৫১৬০০, মোবাইল - ০১৮৫২-২৭৫ ০০১;
  • ওসি ঠাকুরগাঁওঃ ০১৭১৩-৩৭৩ ৯৮৫।