বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের একটি অঞ্চল। এটি ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা নিয়ে গঠিত।

জেলাসমূহ

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের মানচিত্র

শহরসমূহ

[সম্পাদনা]
  • 1 চন্দ্রকোণা মন্দির শহর, প্রয়াগ ফিল্ম সিটির ঠিকানা
  • 2 দীঘা একটি জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত
  • 3 হলদিয়া একটি উন্নয়নশীল বন্দর শহর
  • 4 ঝাড়গ্রাম বন এবং ঢেউখেলানো ভূখণ্ডের জন্য বিখ্যাত
  • 5 খড়্গপুর রেল ও শিল্প শহর, প্রাচীনতম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এখানে অবস্থিত
  • 6 মেদিনীপুর পশ্চিম মেদিনীপুরের সদর দপ্তর
  • 7 তমলুক পূর্ব মেদিনীপুরের সদর দপ্তর

অন্যান্য গন্তব্য

[সম্পাদনা]
  • 1 কুড়ুমবেড়া দুর্গ — ওড়িয়া গজপতি বংশের রাজা কপিলেন্দ্র দেবের আমলে নির্মিত একটি দুর্গ। এখানে একটি মন্দির ও একটি মসজিদ রয়েছে।
  • 2 মোগলমারি — ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত বৌদ্ধমঠসহ একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

জানুন

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের একটি উদীয়মান শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বৃহত্তম শহর খড়্গপুর একটি রেল ও শিল্পনগরী। এখানে প্রাচীনতম ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান (আইআইটি) অবস্থিত।

ঐ সময়কালে তাম্রলিপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল এই অঞ্চলের অনেকাংশ। ১০২১-১০২৩ খ্রিস্টাব্দে চোল রাজা রাজেন্দ্র চোলের আক্রমণের পর তাম্রলিপ্ত সাম্রাজ্যের পতন হয়। এরপর ১১৩৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা অনন্ত বর্মণ মেদিনীপুরের (তৎকালীন মিধুনপুর) দখল নেন। খ্রিস্টীয় ১৩০০-১৫০০ শতাব্দীতে সারা বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার হলেও বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজা এবং জমিদারেরা মেদিনীপুরের সুবিশাল অংশে হিন্দু সাম্রাজ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৫০০ শতাব্দীর শুরুতে মেদিনীপুর মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক মেদিনীপুরের হিজলিতে আসেন। ১৭০০ শতাব্দীর মধ্যান্তরে মারাঠারা একাধিক বার মেদিনীপুরে আক্রমণ ও লুঠতরাজ করে। ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুরের একাংশ মারাঠা সাম্রাজের অধীনে চলে যায়। এরপর ব্রিটিশ আমলে মেদিনীপুর একাধিক কৃষক বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা সংগ্রামী আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ ও পূর্ব মেদিনীপুর একদা মেদিনীপুর জেলার অংশ ছিল, যা রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। এটি ছিল তরুণ স্বাধীনতা কর্মী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থান, যাকে ১৯০৮ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়।

ভূগোল

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক দৃশ্য বৈচিত্র্যময়। বাঁকুড়া থেকে বালেশ্বর পর্যন্ত রাস্তাটি অঞ্চল দুটিকে প্রাকৃতিক বিভাগে বিভক্ত করেছে। এই রাস্তার পূর্ব দিকে মাটি উর্বর পলি এবং এলাকা সমতল। পশ্চিমে, ছোট নাগপুর মালভূমি ধীরে ধীরে নিচের দিকে ঢালু হয়ে ল্যাটেরাইট শিলা এবং মাটির সাথে একটি অসাধারণ এলাকা তৈরি করে।

আলাপচারিতা

[সম্পাদনা]

এই অঞ্চলে বাংলার মানভূম উপভাষাটি প্রচলিত। বিশেষত, "বটে" (যার অর্থ "ঠিক আছে") শব্দটি মানভূমি উপভাষায় অন্য যেকোনো বাংলা উপভাষার তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া, ওড়িয়া এই অঞ্চলের আরেকটি প্রচলিত ভাষা, বিশেষ করে ওড়িশার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

প্রবেশ

[সম্পাদনা]

রেলপথে

[সম্পাদনা]

খড়্গপুর এই অঞ্চলের প্রধান জংশন স্টেশন। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন লোকাল ট্রেন এখান থেকে ছাড়ে।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

দেখুন ও করুন

[সম্পাদনা]

আহার ও পানীয়

[সম্পাদনা]

সাবধানে থাকুন

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ জঙ্গলমহল অঞ্চলের অন্তর্গত, যা নকশাল-মাওবাদী আন্দোলনের জন্য একসময় বেশ পরিচিত ছিল। সুতরাং এই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় বেশি রাতে হোটেল বা লজের বাইরে না থাকাই ভালো।

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]