নীলনদ মিশরের জীবনের মূল উৎস, আর তা অনুভব করার একটি দারুণ উপায় হলো ফেলুক্কা ভ্রমণ। এটি একটি ধীরগতির ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হতে পারে, তবে এটাই এর আসল উদ্দেশ্য।
জানুন
[সম্পাদনা]
ফেলুক্কা (আরবি: فلوكة, ফালূকা) হলো ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি পালতোলা নৌকা। এটি বাতাস এবং নদীর স্রোতের ওপর নির্ভর করে চলে। সব ধরনের খাবার নৌকাতেই পরিবেশন করা হবে এবং যখন রাতের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে তখন আপনাকে নৌকাতেই রাত কাটাতে হবে।
প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]ফেলুক্কা নৌভ্রমণ শুরু করার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হলো আসওয়ান। আপনি ব্যক্তিগতভাবে একজন মাঝির সাথে কথা বলে ফেলুক্কা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারবেন। আপনার সুবিধামতো যেকোনো সময় তারা যাত্রা শুরু করে। কর্নিশের মাঝিদের সাথে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগতভাবে সব ব্যবস্থা করে নিন। রাতে উষ্ণ থাকার জন্য সাথে একটি স্লিপিং ব্যাগ রাখা সবচেয়ে ভালো (শীতকালে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়তে পারে)। অন্যথায় আপনি আপনার মাঝিকে স্থানীয় বাজার থেকে একটি কম্বল কিনে দিতে বলতে পারেন।
আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন তাহলে আপনার হোস্টেল বা কর্নিশের কোনো মধ্যস্থতাকারীর সাথে যোগাযোগ করে একটি দলে যোগদানের জন্য অনুরোধ করতে পারেন। তবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন যে আপনি ৮ জনের বেশি মানুষ এবং ক্রুর সঙ্গে নৌকায় উঠতে রাজি নন, কারণ এর থেকে বেশি মানুষ হলে ঘুমানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে না। ছয় বা সাতজনের দল হলে সবচেয়ে ভালো হয়।
আরেকটি ভালো উপায় হতে পারে আপনার হোস্টেলের তিন বা চারজন মিলে সরাসরি ফেলুক্কার ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বলা। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি ক্যাপ্টেনের সাথেই কথা বলছেন, কোনো মধ্যস্থতাকারীর সাথে নয়। অনেক মধ্যস্থতাকারী কর্নিশে ঘুরে বেড়ায় এবং নিজেদের ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দেয়। সরাসরি ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বললে আপনি কম দামে ফেলুক্কা ভ্রমণ করার সুযোগ পেতে পারেন।
নৌকায় ওঠার আগে নৌকাটি নিজে দেখে নেওয়ার অনুরোধ করুন এবং আপনি নৌকা ও ক্যাপ্টেনের প্রতি কতটা আস্থাশীল ও স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন তা নিজেই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। কোনো হোটেলে মাঝির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে হোটেলের লোক কমিশন কেটে নেবে ফলে খরচ বেড়ে যেতে পারে, তাই সরাসরি মাঝির সাথে কথা বললে খরচ কম হবে।
এই ব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকবে খাবার এবং ইদফু থেকে লুক্সর পর্যন্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা। তিন দিনের এই ভ্রমণে একটি নুবিয়ান গ্রামে ভ্রমণ, কম ওম্বো এবং ইদফু ঘুরে দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
কিভাবে যাবেন
[সম্পাদনা]নৌকায় রাতে ঘুমানোর জন্য একটি স্লিপিং ব্যাগ সঙ্গে নিন, কারণ রাতে বেশ ঠান্ডা থাকে। পানি পান করা ভালো, তবে সাথে অন্য যেকোনো পছন্দের পানীয় বা হালকা খাবারও সাথে নেওয়া ভালো। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ শীতকালেও পানির ওপর সূর্যের তাপ তীব্র হতে পারে।
ভেসে বেড়ান
[সম্পাদনা]ঐতিহ্যবাহী ফেলুক্কা ভ্রমণ সাধারণত তিন দিন ও দুই রাতের হয়, এটি কম ওম্বো পর্যন্ত যায়, তারপর সেখান থেকে মিনিবাসে করে ইদফু এবং এরপর লুক্সর যাওয়া যায়। আপনি চাইলে একদিনের জন্যেও ফেলুক্কা ভ্রমণ করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে শুধু একটি স্থানীয় গ্রাম ঘুরে আসা যাবে এবং নৌকাটি যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল সেই জায়গায় ফিরে আসবে। যদি আপনার সাথে একটি দল থাকে তাহলে আপনারা দুই রাতের জন্য ইদফু পর্যন্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন অথবা এর চেয়েও দীর্ঘ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারেন।
সতর্কতা
[সম্পাদনা]নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে যেতে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার জন্য নৌকার মাঝির আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি প্রয়োজন হবে। তাই আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে আসুন।
পরবর্তী গন্তব্য
[সম্পাদনা]লুক্সর থেকে আসওয়ান যাওয়ার জন্য ট্রেন এবং বিমান রয়েছে। পূর্বে কাফেলা করে যাওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে, তাই যাতায়াত আরও সহজ হয়েছে। আপনার ফেলুক্কা ভ্রমণ শেষে লুক্সরে ফেরার ব্যবস্থা আপনার মাঝিই করে দেবেন। অনেক সময় নদী থেকে ইদফু যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাস ব্যবহার করা হয় যা বেশ আনন্দদায়ক।
{{#assessment:ভ্রমণপথ|ব্যবহারযোগ্য}}