বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধ

উইকিভ্রমণ থেকে

প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধ (Pacific War) — বাংলা বিবরণ পরিচিতি ও নাম

ইংরেজিতে এটিকে Pacific War বলা হয়।

বাংলায় “প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধ” নামে পরিচিত।

এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বৃহৎ সামরিক মঞ্চ, যেখানে যুদ্ধ হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে।

জাপান তার সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনাগুলোকে এগিয়ে নিতে এ যুদ্ধ চালায়, এবং মিত্রশক্তি (Allies) তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

সময়সীমা

যুদ্ধ শুরু হয় ডিসেম্বর ৭, ১৯৪১ — জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

শেষ হয় ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ — জাপান আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করে।

এই সময়কালে যুদ্ধ চলেছে প্রায় ৪ বছর ও ৯–১০ মাস।

যুক্ত পক্ষ ও বিরোধী

জাপান – যুদ্ধ চালানো মূল শক্তি।

মিত্রশক্তি (Allies) – যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, চীন ও অন্যান্য দেশ।

যুদ্ধের মঞ্চে নৌ, বিমান ও স্থল বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল।

যুদ্ধ কৌশল ও ধারা

এক অন্যতম কৌশল ছিল Island Hopping (দ্বীপ‑দ্বীপ আগ্রাসন) — অর্থাৎ মিত্র বাহিনী সরাসরি সব দ্বীপ দখল না করে, কিছু স্ট্র্যাটেজিক দ্বীপ ধরে ধাপে ধাপে জাপানের নিয়ন্ত্রণ স্তর ভাঙে।

নৌ ও বিমান যুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল — জাপানের ক্যারিয়ার, যুদ্ধজাহাজ, এয়ারফিল্ড ইত্যাদি লক্ষ্য ছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধকে সাধারণত দুটি মেজর থিয়েটারে ভাগ করা হয়:  1. Pacific Ocean Theater  2. South West Pacific Theater

মুখ্য যুদ্ধ ও টার্নিং পয়েন্ট

নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ এবং তাদের গুরুত্ব:

যুদ্ধ তারিখ / সময় স্থান গুরুত্ব / ফলাফল Battle of Midway ৪–৭ জুন ১৯৪২ Midway Atoll মিত্র বাহিনী জাপানের নৌশক্তি ও বিমান শক্তিকে বড় ধাক্কা দেয় — যুদ্ধের ধারা পরিবর্তন করে Battle of the Coral Sea ৪–৮ মে ১৯৪২ অস্ট্রেলিয়া ও নিউ গিনি এলাকায় প্রথমবারকার বিমান–নৌ এক রূপযুক্ত যুদ্ধ, যেখানে সরাসরি জাহাজ একে অপরকে না দেখেই যুদ্ধ হয় Battle of the Philippine Sea ১৯–২০ জুন ১৯৪৪ ফিলিপিনীয় সাগর জাপানের বিমান বাহিনী বড় ক্ষতির মুখে পড়ে Battle of Okinawa ১ এপ্রিল – ২২ জুন ১৯৪৫ ওকিনাওয়া দ্বীপ যুদ্ধান্তে ভয়ংকর লড়াই; অন্যতম জনহানির স্থান ফলাফল ও প্রভাব

মিত্রশক্তি জয়লাভ করে।

জাপান সদর দপ্তর (Tokyo) ও অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে ব্যাপক পুনর্গঠন হয়।

যুদ্ধের ফলে লাখো সৈন্য ও নাগরিক প্রাণ হারায়; নানা দ্বীপ ও শহর ধ্বংস হয়।

জাপান আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আসে কিছু সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা ফিরে পায়।

এ যুদ্ধ শেষ করে রয়েছে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার — হিরোশিমা ও নাগাসাকি — যা জাপানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে।