ফিলিপাইন বিপ্লব ছিল স্পেনীয় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিপিনো জনগণের এক বৃহৎ বিদ্রোহ। ফরাসি বিপ্লব এবং ইউরোপের অন্যান্য বিপ্লব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ফিলিপাইন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ১৮৯৮ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়। এই বিপ্লব স্পেনীয়দের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। কারণ একই সময়ে তারা কিউবা ও পুয়ের্তো রিকো-তেও তাদের উপনিবেশ হারায়। বিপ্লবের ফলে প্রথম ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। যা এশিয়ার প্রথম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও লিখিত সংবিধানসমৃদ্ধ প্রজাতন্ত্র ছিল। যদিও এর আগে হোক্কাইডো, জাপানে মেইজি পুনর্গঠনের (উনিশ শতকের মাঝামাঝি) পূর্বে স্বল্পস্থায়ী এজো প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে ফিলিপাইন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পায়। কারণ ১৮৯৮ সালের স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পর আমেরিকা দেশটি দখল করে রেখেছিল।
বোঝো
[সম্পাদনা]স্পেনীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য পতন শুরু হয় লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ দিয়ে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ফিলিপাইন উন্মুক্ত হলে ফিলিপিনো জাতীয়তাবাদ বৃদ্ধি পায়। ঔপনিবেশিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহগুলো দমন করা হয় কঠোরভাবে। ইউরোপে বিপ্লব চলছিল আর স্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা উদারপন্থার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিল। আগে ফিলিপাইনকে মেক্সিকোর মাধ্যমে স্পেন শাসন করত। কিন্তু মেক্সিকো ১৮১৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করার পর দেশটি সরাসরি মাদ্রিদ থেকে শাসিত হতে থাকে।
স্পেন তখন অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ১৮৬৮ সালের বিপ্লবের পর রানি ইসাবেলা দ্বিতীয়ের একচ্ছত্র রাজতন্ত্রের অবসান মাধ্যমে প্রথম স্প্যানিশ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। নবনিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল কার্লোস মারিয়া দে লা টরে উদারপন্থার ধারণা প্রবর্তন করেন। তবে তার শাসনকাল ১৮৭১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয় এরপর রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭২ সালে কাভিতে এক ফিলিপিনো বিদ্রোহ দমন করা হয় এবং ফিলিপিনো ধর্মযাজক মারিয়ানো গোমেজ, হোসে বার্গোস ও হাসিন্তো জামোরা—যারা গোমবুরজা নামে পরিচিত—বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং ম্যানিলার বাগুমবায়ানে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই মৃত্যুদণ্ড ফিলিপিনোদের নাড়িয়ে দেয়। হোসে রিজাল (তখন শিশু) পরবর্তীকালে তাদের স্মরণে এল ফিলিবুস্টেরিসমো রচনা করেন।
প্রচার আন্দোলন এবং বিপ্লবের পথে
[সম্পাদনা]গোমবুরজা-র মৃত্যুদণ্ডের পরও বিদ্রোহে অভিযুক্ত অনেক ফিলিপিনোকে স্পেনীয় দণ্ড উপনিবেশে পাঠানো হয়। অন্যরা বিশ্বব্যাপীরা বড় শহরে পালিয়ে যান। যেখানে তারা ফিলিপিনো ছাত্র ও অন্যান্য নির্বাসিতদের সঙ্গে মিলিত হন। তাদের অনেকে প্রচার আন্দোলন (কিলুসাং প্রোপাগান্ডা) গঠন করেন। এগুলো স্পেনীয় নিপীড়নের কড়া সমালোচনা করে এবং সংস্কারের দাবি জানায়।
প্রচার আন্দোলনের অন্যতম সদস্য ছিলেন হোসে রিজাল। যিনি নোলি মে তাঙ্গেরে এবং এল ফিলিবুস্টেরিসমো রচনা করেন—যেখানে তিনি স্পেনীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নিপীড়ন প্রকাশ করেন। আমেরিকা থেকে ফিরে এসে রিজাল লা লিগা ফিলিপিনা নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করেন। এই সংগঠন ঔপনিবেশিক প্রশাসনের সংস্কার চাইছিল। তবে স্পেনীয়রা তার ফিলিপাইনে ফেরার খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জাম্বোয়াঙ্গা প্রদেশের দাপিতান শহরে নির্বাসনে পাঠায়।
রিজাল নির্বাসনে যাওয়ার পর আন্দ্রেস বোনিফাসিওর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা কাতিপুনান গঠন করেন, যার পূর্ণ নাম কাতাস-তাসাঙ, কাগালাং-গালাং না কাতিপুনান ঙ মগা আনাক ঙ বায়ান (সংক্ষেপে কেকেক)। এটি ছিল একটি গোপন জাতীয়তাবাদী সংগঠন। যার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্পেনীয় ঔপনিবেশিক প্রশাসন উৎখাত। কার্যক্রম গোপন রাখতে সদস্যরা ছদ্মনাম ব্যবহার করত এবং কোড ভাষায় যোগাযোগ করত। নতুন সদস্যদের প্রাচীন রক্ত চুক্তির অনুকরণে সংগঠনে প্রবেশ করানো হতো। কাতিপুনানের সদস্যসংখ্যা বিতর্কিত হলেও এটি শ্রমজীবী শ্রেণিকে আকর্ষণ করে। ১৮৯৬ সালে তারা রিজালের সমর্থন চাইলে তিনি সশস্ত্র বিপ্লব সমর্থন করতে অস্বীকার করেন।
বিপ্লবের ধারা
[সম্পাদনা]১৮৯৬ সালের ১৫ আগস্ট স্পেনীয়রা কাতিপুনান আবিষ্কার করে। যার ফলে ২৪ আগস্ট পুগাদ লাওয়িনের ডাক বা বালিন্তাওয়াকের ডাক নামে পরিচিত ঘটনা ঘটে। যেখানে কাতিপুনানের সদস্যরা প্রতিবাদ হিসেবে তাদের সেডুলা (কমিউনিটি ট্যাক্স সার্টিফিকেট) ছিঁড়ে ফেলেন। ২৫ আগস্ট থেকে সংঘাত শুরু হয়।
গন্তব্য
[সম্পাদনা]- – বিপ্লবের শেষ পর্যায়ে স্পেনীয়দের শেষ ঘাঁটি। এটি একটি স্থানীয় গির্জা ছিল। যেখানে স্পেনীয় সৈন্যরা আত্মসমর্পণের আগে পর্যন্ত লুকিয়ে ছিল যা ফিলিপিনো বিপ্লবীরা ঘিরে রেখেছিল।
- – জাম্বোয়াঙ্গা দেল নর্তের শহর, যেখানে হোসে রিজাল নির্বাসিত ছিলেন।
- – ১৮৯৮ সালের আলাপানের যুদ্ধের স্থান।
- – ১৮৯৮ সালের স্বাধীনতা ঘোষণার স্থান এবং এমিলিও আগুইনালদোর জন্মস্থান।
- – বারাসোয়াইন গির্জার অবস্থান, যেখানে মালোলস কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- – পিনাগলাবানানের যুদ্ধের স্থান।
{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}