
অস্ট্রিয়া-ইতালির সীমান্তে অবস্থিত ১,৩৭০ মিটার উচ্চতার ব্রেনার গিরিপথ হলো আল্পস পর্বতমালা পেরোনোর একটি গিরিপথ।
এই গিরিপথ প্রাচীনকাল থেকে আল্পস পারাপারের অন্যতম পথ। আজ এটি ই৪৫ মহাসড়ক এবং ইনসব্রুক থেকে বোলজানো পর্যন্ত রেলপথ দ্বারা অতিক্রম করা হয়। বর্তমানে নির্মাণাধীন ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বেস টানেল এই রেলপথকে সমতল ও সংক্ষিপ্ত করবে। এটি ২০৩২ সালে চালু হওয়ার কথা।
গ্রীষ্মকালে ব্রেনার গিরিপথ পাহাড়ে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর জন্য একটি আনন্দদায়ক পথ।
জানুন
[সম্পাদনা]মাত্র ১,৩৭০ মি (৪,৪৯০ ফু) মিটার উচ্চতার টানেল নির্মাণের আগে এটি অন্যতম নীচু আল্পস পারাপারের পথ ছিল।
ব্রেনার হলো আল্পস পারাপারের ও প্রায়শই যানজটপূর্ণ মালবাহী ও যাত্রীবাহী পথগুলোর গুরুত্বপূর্ণ একটি। তাই অস্ট্রিয়া, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইস গটহার্ড টানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশাল একটি বেস টানেল নির্মাণ করছে। তবুও মালবাহী যান ও যাত্রীবাহী গাড়িগুলো স্থানীয় জনসংখ্যা ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে টিরল এবং দক্ষিণ টিরলের রাজনীতিতে এটি বারবার আলোচিত ঘটনা। কখনো কখনো রাজনৈতিক কারণে মহাসড়ক আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্রেনার ছিল অন্যতম প্রধান আল্পস পারাপারের পথ। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে সিমব্রি উপজাতিরা রোমান সাম্রাজ্য আক্রমণ করতে এই গিরিপথ ব্যবহার করেছিল। পরে সম্রাট সেপটিমিয়াস সেভেরাস নির্মিত রোমান সড়ক ভিয়া রায়েটিয়া প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। তুষারপাতে ধ্বংস, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারণে ব্রেনার পারাপার ছিল কষ্টকর ও বিপদসঙ্কুল। তবুও এটি অন্যতম ব্যস্ত আল্পস পারাপারের পথ ছিল। মার্টিন লুথার বা জোহান উলফগাং ফন গ্যোথের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইতালি ভ্রমণে এই পথ ব্যবহার করেছিলেন। জার্মান রাজারা যখন ইতালির শহরগুলোতে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বা রোমে পোপ দ্বারা সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হতে যেতেন তখন ব্রেনার ছিল তাদের পছন্দের পথগুলোর একটি, যদিও একমাত্র পথ নয়।
১৮৬৭ সালে ব্রেনার রেলপথ চালু হয়। এটি ছিল আল্পস অতিক্রম করা প্রথম রেলপথগুলির একটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অস্ট্রিয়া ও ইতালির সীমান্ত ব্রেনার গিরিপথে নির্ধারিত হয়। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে ব্রেনার মহাসড়ক নির্মিত হলে এটি ছিল মধ্য ইউরোপ থেকে ইতালি যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ। গ্রীষ্মকালে অসংখ্য জার্মান পর্যটক এখানে যানজটে আটকে পড়তেন।
যাওয়ার উপায়
[সম্পাদনা]গাড়িতে
[সম্পাদনা]গাড়িতে আসলে আপনাকে অস্ট্রিয়ান মহাসড়ক ব্যবহারের জন্য একটি ভিনিয়েট (স্থানীয়ভাবে যাকে "পিকার্ল" বলা হয়) কিনতে হবে। এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো অস্ট্রিয়ায় কোনো মহাসড়ক ব্যবহার না করা। তবে তা সাধারণত সময়সাপেক্ষ ও প্রায় অসম্ভব। কারণ ব্যস্ত সময়ে স্থানীয় রাস্তা বাইরের যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকে। ইতালিতে মহাসড়কে দূরত্বভিত্তিক যেমন টোল দিতে হয় তেমনি ব্রেনার মহাসড়কেও টোল দিতে হয়। অস্ট্রিয়ান ব্রেনার মহাসড়ক একটি "সন্ডারমাউটস্ট্রেক" অর্থাৎ তাত্ত্বিকভাবে এখানে ভিনিয়েট প্রয়োজন নেই, তবে নির্দিষ্ট টোল দিতে হবে। বাস্তবে, এই রাস্তায় উঠতে অন্য অস্ট্রিয়ান মহাসড়ক ব্যবহার করতেই হবে।
রেলে
[সম্পাদনা]ইনসব্রুক ও ভেরোনা তাদের দেশের রেল নেটওয়ার্কের সাথে ভালোভাবে যুক্ত। ইনসব্রুক থেকে জার্মানির মিউনিখ পর্যন্তও নিয়মিত ট্রেন চলে।
শহর ও নগর
[সম্পাদনা]- 1 ইন্সব্রুক — ছোট অস্ট্রিয়ান শহর। স্কি, পাহাড়ি হাঁটা ও পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ঘাঁটি।
- 2 গ্রিস আম ব্রেনার — স্কি ও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের কেন্দ্র। এখানে ঐতিহাসিক কয়েকটি গির্জা রয়েছে।
- 3 ব্রেনার — এটি প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার শহর। এখানে একটি আউটলেট বাজার, ফলের দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, হোটেল ও গ্যাস স্টেশন আছে।
- 4 ভিপিতেনো — বা ভিপিতেনো, মধ্যযুগীয় শহর। এটি প্রায় সাত হাজার জনসংখ্যার শহর।
- 5 বোলজানো — ইতালির শহর। শহরটি বড়দিনের বিশেষ বাজারের জন্য বিখ্যাত।
ঘোরাঘুরি
[সম্পাদনা]গাড়িতে
[সম্পাদনা]- ব্রেনার মহাসড়ক। যৌথ অস্ট্রিয়া-ইতালির মহাসড়কটি ই৪৫, ইতালিতে এ২২ এবং অস্ট্রিয়ায় এ১৩ নামে পরিচিত। এটি টোল রাস্তা এবং গাড়িতে গিরিপথ পার হওয়ার একমাত্র বাস্তব উপায়। বিশেষ করে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যখন অসংখ্য জার্মান পর্যটক ইতালিতে যান তখন এটি ভয়াবহ যানজটের জন্য কুখ্যাত। ইতালীয় অংশের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।
অস্ট্রিয়ার অংশে টোল €৯.৫০, ইতালির অংশে €১৫.৬০। - 1 ইউরোপ সেতু (ইউরোপা ব্রুক্কে)। উপত্যকার উপর অবস্থিত ১৯০ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি ১৯৬৩ সালে চালু হওয়া ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু সেতু ছিল। এখনও এটি ব্রেনার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইনসব্রুক থেকে আসা যানবাহন বহন করে।
- 6 ব্রেনারশ্ট্রাসে (বি১৮২)। পুরনো রাস্তা এবং (ব্রেনার মহাসড়ক নির্মাণের আগে পর্যন্ত) গিরিপথ পারাপারের একমাত্র রাস্তা। এটি আংশিকভাবে পুরনো ভিয়া রায়েটিয়া অনুসরণ করে। টোল দিতে হয় না। তবে ধীরগতির রাস্তা ও বেশি জ্বালানি খরচের কারণে আসলে কোনো সুবিধা নেই। তবে দৃশ্যপট সুন্দর এবং বাঁকানো রাস্তা চালকদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
হেঁটে
[সম্পাদনা]সাইকেলে
[সম্পাদনা]এই গিরিপথটি দূরপথ কিংবা ভ্রমণ সাইক্লিস্টদের দ্বারা প্রায়ই ব্যবহৃত ও আল্পস পারাপারের সবচেয়ে সহজ পথ। নরম ঢাল এবং তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতার কারণে এটি পরিবার, রিক্লাইনিং বা প্রতিবন্ধী সাইকেল, প্রবীণ, কম সক্ষম বা ভারী বোঝা বহনকারী সাইক্লিস্টদের জন্য উপযুক্ত। কষ্টকর শ্রম ছাড়াই আল্পসের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। নিচু উচ্চতার কারণে এটি সারা বছর প্রায় খোলা থাকে। শীতে এটি প্রায়শই আল্পস পার হওয়ার একমাত্র সাইকেলপথ, নাহলে সাইকেল ট্রেন বা বাসে তুলতে হয়।
রেলে
[সম্পাদনা]নতুন ব্রেনার বেস টানেল নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ট্রেন—স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—পুরনো ব্রেনার রেলপথ দিয়ে ইনসব্রুক থেকে ফ্রানজেনসফেস্ট/ফোর্তেজ্জা ও বোজেন/বোলজানো হয়ে ভেরোনা যায়। টিকিট কেনা যায় উভয় অস্ট্রিয়ান রেল এবং ইতালীয় রেল-এর ওয়েবসাইট থেকে। সরাসরি ইউরোসিটি ট্রেন ভেরোনা থেকে ইনসব্রুক যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। প্রায় ২০০ কিমি দূরত্বের জন্য এটি বেশ দীর্ঘ ভ্রমণ সময়। তাই টানেল খননের প্রকল্প ব্যয়বহুল হলেও কেন করা হচ্ছে তা বোঝা যায়।
{{#assessment:ভ্রমণপথ|রূপরেখা}}
