ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল এই অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের একটি প্রচেষ্টা। বঙ্গদেশ থেকে শুরু হয়ে এই উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনটি অবশেষে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে এই স্বাধীনতা আন্দোলনটি ছিল অহিংস। তবে, কিছু নেতা হিংসার পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং সুভাষচন্দ্র বসুর মতো নেতারা তাঁদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বিদেশী সাহায্যও গ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর মতো বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের লেখার মাধ্যমে দেশপ্রেমের ভাবনা ছড়িয়ে দেন, যা তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। পুরুষ, মহিলা, যুবক, হিন্দু, মুসলমান, সকলেই এতে যোগ দিয়েছিল। বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোও এই আন্দোলনে সামিল হয়। স্বাধীন ভারত নিয়ে তাদের ভাবনাচিন্তা আলাদা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ শাসন শেষ করার লক্ষ্যে তারা সবাই একজোট ছিল।
এই উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে। এই আইনের ফলে দেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। তবে, কিছু মুসলমান একটি স্বাধীন মুসলিম দেশ তৈরির জন্য আরেকটি আন্দোলন শুরু করেন। এর একটি কারণ ছিল তাদের ভয়। তারা মনে করত যে গান্ধী ও অন্যরা একটি হিন্দু শাসিত দেশ তৈরি করবেন, যেখানে হিন্দুদেরই প্রাধান্য থাকবে। তাই, ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশকে হিন্দু-প্রধান ভারত এবং মুসলিম-প্রধান পাকিস্তান—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা দেশের কিছু রাজনীতিবিদের কাছে আনন্দের ছিল। কিন্তু ভারত ভাগ একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হন। ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য-এর অধীনে একটি অধিরাজ্য ছিল এবং ব্রিটিশ রাজাই ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান। ঐ দিন দেশ নিজেকে একটি "সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র" হিসেবে ঘোষণা করে (পরে ১৯৭৭ সাল থেকে এটি "সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র" হয়)। রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। ১৫ই আগস্ট (স্বাধীনতা দিবস), ২৬শে জানুয়ারি (প্রজাতন্ত্র দিবস) এবং ২রা অক্টোবর (গান্ধী জয়ন্তী, গান্ধীর জন্মদিন)—এই তিনটি দিনই প্রতি বছর "জাতীয় ছুটির দিন" হিসেবে পালন করা হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারত সামনের সারিতে ছিল।
দেখুন
[সম্পাদনা]বাংলাদেশ
[সম্পাদনা]ভারত
[সম্পাদনা]- 1 আলিপুর জাদুঘর (পূর্বের আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার), ১৭, জাজেস কোর্ট রোড, কলকাতা। এটি স্বাধীনতা আন্দোলনের উপর নির্মিত একটি জাদুঘর। এখানে মূলত আন্দোলনের সশস্ত্র বিপ্লবীদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে এটি একটি কারাগার ছিল। শ্রী অরবিন্দ এবং সুভাষচন্দ্র বসুর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এখানে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।
- 2 আনন্দ ভবন জাদুঘর (স্বরাজ ভবন), মোতিলাল নেহেরু মার্গ, প্রয়াগরাজ, ইমেইল: jlnmfald@dataone.in।
মঙ্গল-রবি ০৯:৩০-১৩:০০ এবং ১৩:৩০-১৭:০০; সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে এখানে জানতে পারবেন। এখানে নেহেরু পরিবারের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র এবং পারিবারিক ছবি দেখতে পাওয়া যায়। আনন্দ ভবনের পাশেই রয়েছে স্বরাজ ভবন। এটি নেহেরু পরিবারের পৈতৃক বাসস্থান। এখানকার ভিডিও শোর মাধ্যমে নেহেরু পরিবার সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়। ব্রিটিশ আমলে আনন্দ ভবন এবং স্বরাজ ভবন দুটিই সংসদের মতো কাজ করত।
ভারতীয়দের জন্য ₹৫ (শুধুমাত্র প্রথম তলার জন্য), বিদেশীদের জন্য ₹২০০। - 3 গান্ধী আশ্রম (সবরমতী আশ্রম), আহমেদাবাদ, ☏ +৯১ ৭৯ ২৭৫৫৭২৭৭, ফ্যাক্স: +৯১ ৭৯ ২৭৫৬০৫৬৯, ইমেইল: admin@gandhiashramsabarmati.org।
সকাল ৮টা-সন্ধ্যা ৭টা। সবরমতী আশ্রম একসময় মহাত্মা গান্ধীর বাসস্থান ছিল। তিনি ১৯১৫ সালে এই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সবরমতী নদীর একটি শান্ত ও নিরিবিলি তীরে অবস্থিত। গান্ধীর জীবদ্দশায় এটিকে সত্যাগ্রহ আশ্রম বলা হত। ব্রিটিশদের আরোপিত লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গান্ধীজি ১৯৩০ সালে তাঁর বিখ্যাত 'ডান্ডি অভিযান' এখান থেকেই শুরু করেছিলেন। এই আশ্রমে এখনও গান্ধীর শুরু করা কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। এখানে একটি হস্তশিল্প কেন্দ্র, একটি হাতে তৈরি কাগজের কারখানা এবং একটি চরকা তৈরির কারখানা রয়েছে।
বিনামূল্যে। - 4 জালিয়ানওয়ালাবাগ, অমৃতসর।
প্রতিদিন সকাল ৬টা-সন্ধ্যা ৬টা (গ্রীষ্মকালে), সকাল ৭টা-বিকেল ৫টা (শীতকালে)। এটি ১৯১৯ সালের অমৃতসর হত্যাকাণ্ডের স্থান। পরে এটিকে একটি পার্ক ও স্মৃতিসৌধে পরিণত করা হয়। সেই বছরের ১৩ই এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতীয় সেনারা এখানে সমবেত নিরস্ত্র পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের উপর গুলি চালায়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে গুলি চলেছিল এবং মোট ১৬৫০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। এতে ১৫৭৯ জন মানুষ মারা যান। দেওয়াল এবং আশেপাশের ভবনগুলিতে এখনও গুলির চিহ্ন দেখা যায়। গুলির বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ একটি কুয়োয় ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং ডুবে মারা যান। পার্কের ভিতরের সেই কুয়োটিও এখন একটি সংরক্ষিত সৌধ।
বিনামূল্যে। - 5 নেতাজি ভবন, ৩৮/২, এলগিন রোড, কলকাতা, ☏ +৯১ ৩৩ ২৪৮৬-৮১৩৯, +৯১ ৩৩ ২৪৮৬ ৮০৭০ (ফ্যাক্স)।
মঙ্গল–রবি সকাল ১১টা–বিকেল ৫টা। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনের স্মৃতিতে এটিকে একটি স্মারক এবং গবেষণা কেন্দ্র হিসাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
₹২০ (প্রাপ্তবয়স্ক), ₹১০ (শিশু)। - 6 নেতাজি জন্মস্থান সংগ্রহালয়, কটক। এটি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মস্থান।
- 7 লালকেল্লা, দিল্লি। এটি একটি লাল বেলেপাথরের দুর্গ এবং প্রাসাদ। মুঘল সম্রাট শাহজাহান ১৬৪৮ সালে এটি তৈরি করেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এটি একটি জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ঐ দিন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এই দুর্গের লাহোর গেটের উপরে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেই থেকে প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক দুর্গের প্রধান ফটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন এবং এর চূড়া থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
পাকিস্তান
[সম্পাদনা]বিশ্বব্যাপি
[সম্পাদনা]আরও দেখুন
[সম্পাদনা]{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}
