ভেষজ ও মসলা হল এমন খাদ্য উপাদান যা স্বাদ বৃদ্ধির জন্য খাবার ও পানীয়তে অল্প পরিমাণে যোগ করা হয়। এছাড়াও চিকিৎসাগত উদ্দেশ্যে বা খাদ্য সংরক্ষণের উপাদান হিসেবে এদের ব্যবহার হয়।
মসলার গুরুত্ব বিশ্ব বাণিজ্যে বহু প্রাচীন। রেশম পথের মাধ্যমে মসলার ব্যাবসা-বাণিজ্য হত। আবিষ্কারের যুগে ইউরোপীয় অভিযান এবং তাদের উপনিবেশ স্থাপনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মসলা। এক সময় কিছু মসলার দাম অত্যন্ত বেশি ছিল। মধ্যযুগীয় লন্ডনে গোলমরিচের দাম ছিল স্বর্ণের চেয়েও বেশি! তবে আজকের দিনে অধিকাংশ মসলা সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
পরিচিতি
[সম্পাদনা]সাধারণত গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশগুলিতে খাবারে ব্যাবহৃত মসলাগুলি বৈচিত্র্যময় ও ঝাঁঝলো হয়। উদাহরনস্বরূপ; মেক্সিকো ও দক্ষিণ এশিয়ার রান্নায় প্রচুর পরিমাণে ভেষজ দ্রব্য ও মসলা ব্যবহৃত হয়।
মসলা খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এবং খাদ্য সংরক্ষণ ও ঔষধি গুণের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এদের উচ্চ মূল্য ও চাহিদার কারনে রেশম পথ এবং কেপ রুট -এর মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে মসলা বাণিজ্য বিস্তার লাভ করেছে।
গোলমরিচ
[সম্পাদনা]গোলমরিচ(পেপার) বা পাইপার নিগ্রাম গাছের উৎসস্থল হল ভারত। এই গাছের অপরিপক্ব ফল হল কালো ও সবুজ মরিচ। গাছের পরিপক্ব ফলগুলি সাদা রঙের হয়। পেপার শব্দটি এতটাই বহুল প্রচলিত যে অনেক ক্ষেত্রে কোনও গাছের ফল বা কোন ভিন্ন মসলাকেও পেপার হিসাবে সম্বোধিত করা হয় যেগুলোর সাথে গোলমরিচের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই।
কাঁচা মরিচ/কাঁচা লংকা
[সম্পাদনা]মিষ্টি বেল পেপার এবং ঝাল মরিচ ক্যাপসিকাম গণের অন্তর্গত। এদের উৎপত্তিস্থল মেসোআমেরিকা, যেখান থেকে এদের চাষ ও ব্যবহার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
গন্তব্যস্থল
[সম্পাদনা]- 1 গ্রেনাডা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের "মসলা দ্বীপ" নামে পরিচিত। এখানে বিপুল পরিমানে জায়ফল, লবঙ্গ, আদা, দারচিনি, ভ্যানিলা এবং কোকো উৎপাদন হয়।
- 2 ক্যান্ডি (শ্রীলঙ্কা)। ভারতের মহাসাগরে অবস্থিত অশ্রুবিন্দু আকৃতির এই দ্বীপ প্রকৃত দারচিনির উৎপত্তিস্থল। এখানে সুগন্ধযুক্ত এই মসলা বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয়। ক্যান্ডি অঞ্চলের আশেপাশেই বেশিরভাগ দারুচিনি চাষ করা হয় এবং সেখানে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।
- 3 মালাবার (ভারত)। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, যা মসলা বাণিজ্যের জন্য পরচিত।
- 4 মালুকু (ইন্দোনেশিয়া)। "মসলা দ্বীপ" নামে পরিচিত। এখানকার লবঙ্গ, জায়ফল ও মেস অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- 5 প্রোভেন্স (ফ্রান্স)। এই অঞ্চলটি ল্যাভেন্ডার এবং ফরাসি রান্নায় ব্যবহৃত ভেষজ—যেমন রোজমেরি, থাইম এবং বাসিল চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার ভেষজ উদ্যানগুলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হল গ্রীষ্মকাল।
- 6 জাঞ্জিবার (তানজানিয়া)। বিশ্বের অন্যতম কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি যেখানে জাফরান চাষ হয়।
{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}
