বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

মহান হিমালয় পথ নেপাল এ অবস্থিত। পর্বতমালা সম্পর্কিত সাধারণ তথ্যের জন্য দেখুন হিমালয়

মহান হিমালয় পথ হলো একটি দীর্ঘপথের পদযাত্রা পথ। যা একদিন পূর্ব তিব্বতের নামচে বাওয়া থেকে পশ্চিম প্রান্তে পাকিস্তানের নাগা পার্বত পর্যন্ত সমগ্র। যা বৃহৎ হিমালয় পর্বতশ্রেণী জুড়ে বিস্তৃত হবে। জুন ২০১১ সাল নাগাদ এটি নেপাল এবং ভুটান এ সম্পূর্ণরূপে শেষ করা হয়েছে পাশাপাশি নথিভুক্ত হয়েছে।

নেপাল

[সম্পাদনা]

উত্তরাংশের পথ পূর্ব থেকে পশ্চিমে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত পদযাত্রা অঞ্চল অতিক্রম করে।যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে মাকালু বারুন, সোলুখুম্বু (এভারেস্ট অঞ্চল), রোলওয়ালিং হিমাল (গৌরিশঙ্কর সংরক্ষণ এলাকা), হেলাম্বু, লাংটাং, গণেশ হিমাল এবং মানাসলু অঞ্চল, অন্নপূর্ণা, দোলপা, রারা হ্রদ এবং হুমলা এবং শেষ হয় তিব্বত সীমান্তে হিলসায়।

২০০৮ সালের শরৎ আর ২০০৯ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মে রবিন বউস্টেড ও তার দল (পেমা সিড়িং শেরপা, লাকপা শেরপা এবং কার্মা শেরপা) প্রথম এই পথ ধরে হেঁটে এসে নথিভুক্ত করেছিলেন।

নেপাল সরকার বর্তমানে জোরালোভাবে প্রচার করছে দূরবর্তী সম্প্রদায়ে পর্যটন আয়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য। পর্যটন হলো একমাত্র শিল্প যেখানে ভোক্তারা উৎপাদকদের কাছে আসে। তাই এটি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কার্যকর হাতিয়ার। এজন্য মহান হিমালয় পথকে একটি "দায়িত্বশীল পর্যটন" গন্তব্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পর্যটকদের স্থানীয় গাইড, বাহক এবং স্থানীয় খাবার-আবাসনের ওপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রস্তুতি নাও

[সম্পাদনা]

পুরো পথ হাঁটতে হলে উৎকৃষ্ট লজিস্টিকস ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। পথের ধরন ও হাঁটার গতি অনুযায়ী এটি শেষ করতে ৫৭ দিন থেকে ১৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই বেশিরভাগ মানুষ আলাদা আলাদা মৌসুমে পথের কিছু অংশে পদযাত্রা করে।

অনুমতিপত্র

[সম্পাদনা]

নেপালের পদযাত্রার অনুমতিপত্র ব্যবস্থা জটিল বলা যায়। জনপ্রিয় পথগুলোর জন্য সাধারণত একটি জাতীয় উদ্যানের অনুমতিপত্র। একটি টিআইএমএস (পদযাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি) কার্ডই যথেষ্ট।

নিষিদ্ধ এলাকা অনুমতিপত্র

[সম্পাদনা]
  • বাইহাং কাণ্ডা, সাইপাল, ধুলি: প্রথম ৭ দিনের জন্য ৯০ মার্কিন ডলার এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ১৫ মার্কিন ডলার
  • দারচুলা ব্যাস ভিডিসি: প্রথম ৭ দিনের জন্য ৯০ মার্কিন ডলার এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ১৫ মার্কিন ডলার
  • দোলাখা গৌরিশঙ্কর ও লামাবাগার: ৭ দিনের জন্য ১০ মার্কিন ডলার
  • উচ্চ দোলপা: প্রথম ১০ দিনের জন্য ৫০০ মার্কিন ডলার এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার
  • নিম্ন দোলপা: ৭ দিনের জন্য ১০ মার্কিন ডলার
  • গোরখা – ছেকামপার ও চুঞ্চেত ভিডিসি (সিরদিবাস, লোকপা, চুমলিং, ছেকামপার, নাইল, ছুলে): সেপ্টেম্বর–নভেম্বর প্রথম ৮ দিনের জন্য ৩৫ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর–আগস্ট প্রথম ৮ দিনের জন্য ২৫ মার্কিন ডলার
  • মানাসলু: সেপ্টেম্বর–নভেম্বর প্রথম ৭ দিনের জন্য ৭০ মার্কিন ডলার এবং পরে প্রতিদিন ১০ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর–আগস্ট প্রথম ৭ দিনের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার এবং পরে প্রতিদিন ৭ মার্কিন ডলার
  • হুমলা (সিমিকোট ও ইয়ারি), লিমি ও মুচু ভিডিসি এবং তিব্বতের টাঙেখোলা, ধর্মা ভিডিসি পথে: প্রথম ৭ দিনের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার এবং পরে প্রতিদিন ৭ মার্কিন ডলার
  • মানাং নার, ফু এবং তিলচে গ্রামের উত্তরাঞ্চল, থোছে ভিডিসি: সেপ্টেম্বর–নভেম্বর প্রতি ৭ দিনের জন্য ৯০ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর–আগস্ট প্রতি ৭ দিনের জন্য ৭৫ মার্কিন ডলার
  • মুগু, দোলপু, পুলু ও ভাঙ্গড়ি: প্রথম ৭ দিনের জন্য ৯০ মার্কিন ডলার এবং পরে প্রতিদিন ১৫ মার্কিন ডলার
  • উচ্চ মুস্তাং: প্রথম ১০ দিনের জন্য ৫০০ মার্কিন ডলার এবং পরে প্রতিদিন ৫০ মার্কিন ডলার
  • রাসুয়া থুমান ও তিমুরে: ৭ দিনের জন্য ১০ মার্কিন ডলার
  • মাকালু অঞ্চল (কিমাথাংকা, চেপুয়া, হাতিয়া ও পাওাখোলা ভিডিসি): প্রথম ৪ সপ্তাহের জন্য প্রতি ৭ দিনে ১০ মার্কিন ডলার, পরে প্রতি ৭ দিনে ২০ মার্কিন ডলার
  • সোলুখুম্বু এভারেস্ট অঞ্চল (থামে থেকে নামচে ভিডিসির নাংপালা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল): প্রথম ৪ সপ্তাহের জন্য প্রতি ৭ দিনে ১০ মার্কিন ডলার, পরে প্রতি ৭ দিনে ২০ মার্কিন ডলার
  • তাপলেজুঙ কাঞ্চনজঙ্ঘা অঞ্চল (ওলাংচুংগোলা, লেলেপ, পাপুং ও ইয়ামফুদিন ভিডিসি): প্রতি ৭ দিনের জন্য ১০ মার্কিন ডলার

সংরক্ষণ এলাকা ও জাতীয় উদ্যান

[সম্পাদনা]
  • অন্নপূর্ণা সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্প (এসি এপি) (ফিল্ড চেকপোস্ট থেকে ইস্যু হলে দ্বিগুণ ফি) – বিদেশি: ২,০০০ নেপালি রুপি, সার্ক দেশ: ২০০ নেপালি রুপি
  • কাঞ্চনজঙ্ঘা সংরক্ষণ এলাকা – বিদেশি: ১,০০০ নেপালি রুপি, সার্ক দেশ: ২০০ নেপালি রুপি
  • লাংটাং জাতীয় উদ্যানের প্রধান পদযাত্রা পথ (লাংটাং উপত্যকা, হেলাম্বু, গোসাইকুন্ড হ্রদ অঞ্চল) – বিদেশি: ১,০০০ নেপালি রুপি, সার্ক দেশ: ১০০ নেপালি রুপি
  • মাকালু-বারুন জাতীয় উদ্যান – ১,০০০ নেপালি রুপি
  • মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্প (এমসি এপি) – বিদেশি: ২,০০০ নেপালি রুপি, সার্ক দেশ: ২০০ নেপালি রুপি
  • সাগরমাথা জাতীয় উদ্যান – ১,০০০ নেপালি রুপি

অংশগুলো ভৌগোলিক ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। যেখানে অনেক অঞ্চলই একটি ‘হিমাল’। অনেক জনপ্রিয় দীর্ঘ পথের মতো নয় বরং যেখানে যানবাহনে পৌঁছানো সম্ভব।এখানে অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার মাথা বা বিমানবন্দর থেকে হেঁটে যেতে হয়। কোন অংশ হাঁটবেন তা নির্ভর করে সময়, মৌসুম এবং আপনার সক্ষমতার ওপর (শারীরিক ফিটনেস, বরফ ও তুষারে দক্ষতা এবং উচ্চতায় খাপ খাওয়ানো)।

কাঞ্চনজঙ্ঘা

[সম্পাদনা]

কাঞ্চনজঙ্ঘা বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে ১২ দিনের পদযাত্রা। এরপর প্রায় ২০ দিনে মাকালু বেস ক্যাম্পে সংযোগ পাওয়া যায়।

মাকালু বারুন

[সম্পাদনা]

মাকালু বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে ১২ দিন লাগে। এরপর এভারেস্ট অঞ্চলে যেতে ৭ দিন এবং লুকলার বিমানবন্দরে পৌঁছাতে আরও ৩ বা ৪ দিন।

এভারেস্ট রোলওয়ালিং

[সম্পাদনা]

লুকলা থেকে উড়ে এসে প্রায় ২৫ দিনে বারাবিসে বা কাঠমান্ডু-লাসা মহাসড়কের দ্য লাস্ট রিসর্টে পৌঁছানো যায়।

হেলাম্বু ও লাংটাং

[সম্পাদনা]

বারাবিসে থেকে স্যাব্রু বেসি পর্যন্ত ১৭ দিন লাগে, তিলমান পাসসহ।

গণেশ মানাসলু

[সম্পাদনা]

স্যাব্রু বা আরুগাট (প্রচলিত মানাসলু পদযাত্রা শুরু বিন্দু) থেকে প্রায় ১৮–২০ দিন। অন্নপূর্ণা সার্কিটের অংশ নিয়ে যমসম পর্যন্ত গেলে প্রায় ২৫ দিন লাগে।

অন্নপূর্ণা, মুস্তাং

[সম্পাদনা]

অন্নপূর্ণা সার্কিট প্রায় ২ সপ্তাহ লাগে যমসম পর্যন্ত। যদিও রাস্তা তৈরি হওয়ায় সময় কমছে। মুস্তাং পদযাত্রা সাধারণত ১০ দিন (সর্বনিম্ন অনুমতি মেয়াদ) যমসম থেকে। সারিবুং, নার ও ফু (৬,৩২৮ মিটার) হয়ে মুস্তাংয়ের উচ্চ পথ অনুসন্ধানমূলকভাবে কাঠমান্ডু থেকে ৩০ দিনে করা যায়।

দোলপা

[সম্পাদনা]

যমসম থেকে ফকসুন্ডো হ্রদ ও জুপাল পৌঁছাতে ১৭–২০ দিন লাগে। দোলপা থেকে মুগু পর্যন্ত দীর্ঘতর উঁচু পথও আছে।

রারা জুমলা

[সম্পাদনা]

ফকসুন্ডো হ্রদ থেকে প্রায় এক সপ্তাহে জুমলা হয়ে রারা হ্রদ পৌঁছানো যায়।

হুমলা

[সম্পাদনা]

রারা থেকে প্রায় এক সপ্তাহে সিমিকোট ও পরের সপ্তাহে সীমান্তে যাওয়া যায়। এছাড়াও, অসাধারণ লিমি উপত্যকার পদযাত্রা সিমিকোট থেকে প্রায় দুই সপ্তাহে সম্পন্ন করা যায়।

দূর পশ্চিম

[সম্পাদনা]

এগুলো আনুমানিক সময় এবং খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা, পথ বাছাই ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে। কাঠমান্ডু থেকে যাতায়াতের সময় ধরা হয়নি। কাছের গন্তব্যের জন্য সাধারণত এক দিন লাগে আর বিমানে যেতে হলে দুই থেকে তিন দিন।

প্রবেশ করো

[সম্পাদনা]

কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অথবা ভারত বা চীন থেকে স্থলপথে আসো। কোন অংশে পদযাত্রা করবে তার ওপর নির্ভর করে কাঠমান্ডুতে অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। এর জন্য এক কর্মদিবস (রবিবারসহ) সময় লাগে। এটি একটি নিবন্ধিত পদযাত্রা সংস্থা বা সরবরাহকারীর মাধ্যমে করতে হয়।

কাঠমান্ডু থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বা সড়কপথে পদযাত্রা শুরুর জায়গায় যেতে হয়।

নিরাপদ থাকো

[সম্পাদনা]

একলা হাঁটা কখনোই ভালো নয়। নেপাল সাধারণত পর্যটকদের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়। হামলা বা ডাকাতির ঘটনা খুব বেশি শোনা যায় না তবে মাঝে মাঝে ঘটে। প্রতিবছর একা ভ্রমণকারীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হয়তো পথ থেকে পিছলে পড়ে বা দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গিয়ে। দলে ভ্রমণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে যায়।

পদযাত্রার সময় অবশ্যই মানচিত্র, দিকচিহ্ন যন্ত্র, বাঁশি, টর্চলাইট এবং অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী সঙ্গে রাখো। সবসময় কাউকে জানিয়ে রাখো কোথায় যাচ্ছো আর কবে ফিরে আসবে।

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]

কোন জায়গা থেকে পথ ছেড়ে যাচ্ছো তার ওপর নির্ভর করে তোমাকে হাঁটতে হবে রাস্তার মাথা বা স্থানীয় বিমানবন্দর পর্যন্ত। সেখান থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে।