মার্কা উপত্যকা লাদাখ (ভারতের) একটি জনপ্রিয় ট্রেক। এটি লাদাখের প্রত্যন্ত বৌদ্ধ রাজ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার এক অসাধারণ ভ্রমণ। এই ট্রেক চলাকালীন পর্যটকরা সুন্দর বৌদ্ধ মঠ, পাহাড়ি গ্রাম, নিমালিং-এর উচ্চতর চারণভূমি এবং কাংইয়াতসে উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ অতিক্রম করে। মার্কা উপত্যকা হেমিস জাতীয় উদ্যানের অংশ।
বোঝো
[সম্পাদনা]- সময়কাল: শুরু ও শেষ বিন্দুর উপর নির্ভর করে ৫ থেকে ৮ দিন হয়। সবচেয়ে ছোট পথে এই ট্রেক শুরু হয় চিলিং গ্রাম থেকে এবং শেষ হয় শাং সুমদো গ্রামে।
- মৌসুম: মে মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
জনপ্রিয় ট্রেকটি সুন্দর মার্কা উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলে। সাধারণত এটি একদিকে (চিলিং থেকে শাং সুমদো) করা হয়। কারণ বিপরীত দিকে গেলে গংমারু লা-এর উঠান খুব খাড়া ও কষ্টকর। এতে মনে হয় যেন পথে কম পর্যটক আছে। যদিও বাস্তবে অনেক পর্যটক থাকে। এটি তুলনামূলকভাবে সহজ ট্রেক। পথে পথে অনেক গ্রাম ও কোথাও কোথাও চা ঘরও মেলে। কেবল গংমারু লা পার হওয়ার আগের রাতে তাঁবু এবং ভালো স্লিপিং ব্যাগ দরকার হয়। কারণ গ্রীষ্মকালেও সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে।
প্রকৃতি
[সম্পাদনা]মার্কা উপত্যকা হিমালয়ের জান্সকার এবং লাদাখ পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত। এই উপত্যকা হিমালয়ের সমান্তরালে চলে গেছে। এখানে রয়েছে সুন্দর, নির্জন ও অনুর্বর দৃশ্যাবলি। এই দৃশ্যাবলি লাদাখের সাথে যুক্ত, যাকে “লিটল তিব্বত” বলা হয়। প্রকৃতির রূপ অত্যন্ত নাটকীয় এবং আকর্ষণীয়।
আবহাওয়া
[সম্পাদনা]নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে। জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪ °সে নেমে যায়। মার্চ থেকে মে এর শুরু পর্যন্ত প্রচুর রোদ পাওয়া যায়। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষা ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সবচেয়ে ভালো সময় মার্চ–জুন এবং সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর।
প্রবেশের উপায়
[সম্পাদনা]আপনি কতদিন হাঁটতে চান তার উপর নির্ভর করে এই ট্রেকের তিনটি প্রধান প্রবেশ ও প্রস্থান পথ রয়েছে:
- 1 চিলিং সুমদা – পথের সবচেয়ে পশ্চিমের গ্রাম।
- – লেহ শহরের কাছের এই পর্বতপথ শেষে ট্রেইলে গিয়ে মিশেছে। তবে দেখা যায় অনেকেই এই পথ ব্যবহার করতে চান না।
- 2 রুমবক – একটি গ্রাম। এখান থেকে সরাসরি মারখা উপত্যকার মাঝামাঝি অংশে যাওয়ার ট্রেইল রয়েছে।
- – পথের সবচেয়ে পূর্বের গ্রাম।
- 3 স্কিউমারখা (স্কিউমারখা) – আপনি চাইলে শীঘ্রই কিংবা পরে এই জায়গায় পৌঁছাবেনই।
- 4 স্কিউকায়া –একটি যমজ গ্রাম। যেখানে ১১শ শতাব্দীর একটি বৌদ্ধ গুম্ফা রয়েছে।
হেঁটে
[সম্পাদনা]পথের ধারের হোমস্টেতে থেকে কোনো সরঞ্জাম, ঘোড়া-খচ্চর ইত্যাদি ছাড়া কেবল এই পুরো ট্রেক নিজে করা সম্ভব। তবে একা করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে
[সম্পাদনা]কঠিন দরাদরির জন্য প্রস্তুত থাকুন। গাইড, রাঁধুনি, খচ্চর, ঘোড়সওয়ার, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ এবং নিরামিষ খাবারসহ ৮ দিনের একটি ট্রেকে জনপ্রতি মাত্র ₹১,০০০ থেকে ₹২,০০০ পর্যন্ত খরচ হয়। আপনার হাতে সময় থাকলে কোনো এজেন্সির মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি লেহ শহরের দোকান থেকে সরঞ্জাম কেনা। পাশাপাশি তিব্বতি শরণার্থী শিবির থেকে গাইড, রাঁধুনি, খচ্চর ও ঘোড়সওয়ার ভাড়া করলে অনেক সস্তা হবে।
বিদেশিদের সাধারণত “বিদেশি মূল্য” দিতে হয় এবং উপরে উল্লেখিত ভারতীয় মূল্য (₹১,০০০ প্রতিদিন প্রতি ব্যক্তি) পাওয়া খুবই কঠিন। তবে লেহ শহরে এতগুলো এজেন্সি একই ট্রেক অফার করায় চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
আপনার এজেন্সি সাবধানে বেছে নিন। কিছু এজেন্সি আবর্জনা ফেলে রেখে যায়। সেই কারণে এমন এজেন্সি খুঁজুন যারা নিজেদের আবর্জনা আবার সঙ্গে নিয়ে আসে।
করণীয়
[সম্পাদনা]নিচে সংক্ষিপ্ত রুমবক-হেমিস ভ্রমণপথের বর্ণনা দেওয়া হলো:
- ইন্দুস নদীর সেতু পার হয়ে জিপ রাস্তা ধরে নির্জন ও অনাকর্ষণীয় সমতল ভূমি অতিক্রম করুন। এখানে গরম বেশি পড়ে। তাই চেষ্টা করুন সূর্য উপরে ওঠার আগেই অতিক্রম করতে।
- প্রায় ৭ কিলোমিটার পরে ঝিংগচান উপত্যকার দিকে মোড় নিতে হবে। এখানে কিছু গাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।ঝিংগচান গ্রাম একটি ছোট বসতিপূর্ণ এলাকা। যেখানে অল্প কয়েকটি ঘর এবং কিছু শিবিরস্থান রয়েছে।
- আরও কিছু কিলোমিটার হাঁটলে পৌঁছবেন রুমবক গ্রামে। এটি প্রথম রাত কাটানোর জন্য ভালো জায়গা (স্পিতোক থেকে হাঁটতে ৬–৭ ঘণ্টা)।
- ইউরুৎসে গ্রাম হলো পথের প্রথম গ্রাম।
- লারৎসা শিবিরস্থান, সুন্দর দৃশ্য সহ তাঁবু খাটানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা। (রুমবক থেকে হাঁটতে ৪–৫ ঘণ্টা)।
- এখান থেকে প্রায় এক ঘণ্টার পথ কান্ডা লা (৪,৮৭০ মিটার)। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে তাকালে দেখা যাবে কয়েক কিলোমিটার দূরের শিংগো গ্রাম (শিবিরস্থানসহ)।
- রাত কাটানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো স্কিউ ইয়ক্মা এবং স্কিউ গঙ্মা গ্রামের আশেপাশে। (লারৎসা থেকে হাঁটতে ৬–৭ ঘণ্টা)।
- এখান থেকে মারখা গ্রাম পর্যন্ত পথ ১৭ কিলোমিটার। পথ লম্বা হলেও কঠিন নয়। পথে প্রথমে আসবে পেনৎসে শিবিরস্থান, নাকদি গ্রাম, সারা গ্রাম এবং চালাক গ্রাম। এরপর রয়েছে লাত্থো শিবিরস্থান।
- এর কিছু পরেই আসবে মারখা গ্রাম। এখানে অনেক শিবিরস্থান রয়েছে। (স্কিউ থেকে হাঁটতে ৭–৮ ঘণ্টা)।
- এরপর যাবে তেত্সা গ্রাম, উমলুং এবং দা-আমো শিবিরস্থান হয়ে। তারপর রয়েছে হাংকার গ্রাম (৪,০০০ মিটার), যা মারখা উপত্যকার সবচেয়ে উঁচু স্থায়ী বসতি।
- এখান থেকে রাস্তা উঠে গেছে ন্যিমালিং সমভূমির দিকে। এটি উঁচু ও দুর্গম এলাকা। তাই পথ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণ শিবিরস্থান হলো চিগু শিবিরস্থান এবং ন্যিমালিং শিবিরস্থান (মারখা থেকে হাঁটতে ৭–৮ ঘণ্টা)। তবে সমভূমির যেকোনো জায়গায়ও শিবির স্থাপন করা সম্ভব।
- এখান থেকে শুরু হয় ভ্রমণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ। ধীরে চলতে ও উচ্চতাজনিত অসুস্থতার সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখুন।
- পরিষ্কার পথ ধরে উঠতে হবে গোংমারু লা (৫,১৩০ মিটার) পর্যন্ত (ন্যিমালিং শিবিরস্থান থেকে হাঁটতে ২ ঘণ্টা)। গিরিপথ থেকে নেমে এলে পৌঁছবেন লারৎসা শিবিরস্থান এবং চুস্কিউর্মো শিবিরস্থান-এ। যা চকদো গ্রামর একেবারে বাইরে (ন্যিমালিং শিবিরস্থান থেকে হাঁটতে ৬ ঘণ্টা)।
- এখান থেকে সহজেই নেমে যেতে পারবেন ওজাং গ্রাম পেরিয়ে হেমিস গ্রাম পর্যন্ত। এখানে রয়েছে বিখ্যাত গুম্ফা, খাবারের দোকান ও বাজার। চাইলে এখানে শিবির গেড়ে থাকতে পারেন অথবা সরাসরি বাসের লেহে ফিরে যেতে পারেন।
থাকা
[সম্পাদনা]হোমস্টের খরচ (২০২৩ অনুযায়ী) জন প্রতি রাত ₹২,০০০। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাতে থাকা,খাওয়া, সকালে নাশতা ও পরের দিনের জন্য প্যাকড লাঞ্চের ব্যবস্থা। গাইড থাকলে তার থাকার ও খাওয়ার খরচ আলাদা হয় না। তবে খরচ বাঁচাতে চাইলে নিজের তাঁবু নিয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
{{#assessment:ভ্রমণপথ|রূপরেখা}}
