বিষয়বস্তুতে চলুন

44.34-85.58
উইকিভ্রমণ থেকে

মিশিগান (উচ্চারণ: "মিশ-উ-গিন") যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। এটি দেশটির মিডওয়েস্ট অঞ্চলের উত্তর দিকে এবং গ্রেট লেকস এলাকার কেন্দ্রে অবস্থিত। মিশিগান নানা দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সুন্দর অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় উদ্যান এবং ঘন বনভূমির জন্য পরিচিত। এখানে বিশাল হ্রদ ছাড়াও রয়েছে প্রায় ১২,০০০টি অভ্যন্তরীণ হ্রদ, ৩৮টি গভীর-জলের বন্দর এবং আলাস্কার পর সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা। এছাড়া অন্য যে কোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় মিশিগানে সবচেয়ে বেশি বাতিঘর আছে।

এই অঙ্গরাজ্যের কৃষিপণ্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানে চেরি, ব্লুবেরি, পিচ, আপেল ও আঙুরের মদ উৎপাদিত হয়। মিশিগানের শহরগুলোতে আছে বড় শিল্পনগরী, বিশ্ববিদ্যালয়নির্ভর শহর এবং অসংখ্য গ্রামীণ এলাকা।

ভূগোলের দিক থেকেও মিশিগান অনন্য। অঙ্গরাজ্যটি দুটি বড় উপদ্বীপ নিয়ে গঠিত, যা আবার পাঁচটি স্বতন্ত্র অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—আপার পেনিনসুলা (স্থানীয়দের কাছে পরিচিত "দ্য ইউ.পি." নামে), নর্দার্ন মিশিগান (বিগ র‍্যাপিডসের উত্তরের অংশ), ওয়েস্ট মিশিগান (লেক মিশিগানের বালুকাময় উপকূল বরাবর), সেন্ট্রাল মিশিগান বা "মিড-মিশিগান" এবং সাউথইস্ট বা "ডাউনস্টেট" অঞ্চল।

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]

শহরসমূহ

[সম্পাদনা]

মিশিগানের প্রধান নয়টি পর্যটন গন্তব্য হলো:

  • 1 ল্যানসিং – অঙ্গরাজ্যের রাজধানী, এখানে রয়েছে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি
  • 2 অ্যান আর্বার – মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসস্থল, ফুটবল, উৎসব ও শিল্পকলার জন্য বিখ্যাত
  • 3 ডেট্রয়েট – মিশিগানের প্রথম ও সবচেয়ে বড় শহর, "মোটর সিটি"
  • 4 গ্র্যান্ড র্যাপিডস – মিশিগানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, শান্ত-সুবিন্যস্ত একটি রক্ষণশীল নগরী
  • 5 হল্যান্ড – সমুদ্রসৈকত ও টিউলিপ উৎসবের জন্য খ্যাত
  • 6 কালামাজু – ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির শহর
  • 7 মারকুয়েট – আপার পেনিনসুলার সবচেয়ে বড় শহর, স্বতন্ত্র আকর্ষণের জন্য বিখ্যাত
  • 8 সগাটাক – শিল্পমনা সৈকত রিসোর্ট শহর
  • 9 সু সেন্ট মেরি – আপার পেনিনসুলার সীমান্ত শহর, যেখানে অবস্থিত সু লকস


অন্যান্য গন্তব্য

[সম্পাদনা]
স্লিপিং বেয়ার ডিউনসের তটরেখা
  • 10 আইল রয়েল ন্যাশনাল পার্ক
  • 11 কীউইনা পেনিন্সুলা – প্রাক্তন তামা খনির অঞ্চল, যা ইতিহাস, পাখির অভিবাসন, পাথর সংগ্রহ এবং শীতকালীন খেলাধুলার জন্য পরিচিত।
  • 12 ম্যাকিনাক দ্বীপ
  • 13 পিকচার্ রক্স ন্যাশনাল লেকশোর – আপার পেনিনসুলার মুনিসিং শহরের কাছে অবস্থিত।
  • 14 স্লিপিং বেয়ার ডিউনস ন্যাশনাল লেকশোর

জানুন

[সম্পাদনা]
হাতের মতো আকারের আপার ও লোয়ার পেনিনসুলা

লোয়ার পেনিনসুলা-তে (বিশেষ করে দক্ষিণে) মিশিগানের বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে আপার পেনিনসুলা—যা লেক মিশিগান ও আংশিকভাবে লেক হিউরন দ্বারা আলাদা—মূলত গ্রামীণ এলাকা। ১৯৫৭ সালের আগে এক পেনিনসুলা থেকে আরেকটিতে যেতে চাইলে গাড়ি ফেরি ব্যবহার করতে হতো, অথবা পুরো লেক মিশিগান ঘুরে যেতে হতো।

মিশিগানের মানচিত্র নিয়ে মানুষজন মজার এক পদ্ধতি ব্যবহার করে। ডান হাতটা (হতেল নিজের দিকে রেখে) তুললেই লোয়ার পেনিনসুলার মানচিত্রের মতো দেখা যায়। আবার বাম হাতটা (হতেল নিজের দিকে রেখে, আঙুল ডানদিকে) তুললে আপার পেনিনসুলার আকৃতি মেলে। তাই কোনো বাসিন্দা যদি হাতের আঙুল দিয়ে নিজের শহর দেখান, অবাক হওয়ার কিছু নেই। লোয়ার পেনিনসুলাকে অনেক সময় “দস্তানা” বলা হয়, আর আপার পেনিনসুলাকে সংক্ষেপে “ইউ.পি. (U.P.)” নামে ডাকা হয়। ইউ.পি.-র বাসিন্দারা নিজেদের “ইয়ুপার” (Yoopers) বলে গর্ব করেন। মজার ছলে তারা লোয়ার পেনিনসুলার মানুষদের “ট্রোল” বলে ডাকেন, কারণ তারা ম্যাকিন্যাক ব্রিজের দক্ষিণে থাকেন।

মিশিগানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি শিল্পের জন্য বিখ্যাত। পাশাপাশি logging (বন কাটা), তামা ও লোহার খনির ইতিহাসও রয়েছে। বর্তমানে গাড়ি শিল্প ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলো অন্যত্র চলে গেলেও কৃষি ও পর্যটন মিশিগানের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। এখানে চেরি, আপেল, ব্লুবেরি, নেভি বিন, পেটুনিয়া ফুলসহ নানা ফসল জন্মে। শীতকালে স্কি, স্নোবোর্ডিং ও স্নোমোবাইলিং এবং গ্রীষ্মকালে মাছ ধরা, সাঁতার, ক্যাম্পিং, সাইকেল চালানোসহ নানা বাইরের খেলাধুলা পর্যটকদের টানে। ফটোগ্রাফি, পাখি দেখা, হাইকিং, শিকার ও পালতোলা নৌকা ভ্রমণও বেশ জনপ্রিয়।

মিশিগানবাসীরা সাধারণত অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুভাবাপন্ন। তবে কিছু পর্যটনকেন্দ্রিক ছোট শহরে, বিশেষ করে হ্রদসংলগ্ন এলাকায়, স্থানীয়দের মধ্যে মাঝে মাঝে পর্যটকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখা যেতে পারে। কারণ আগে নির্জন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা এসব এলাকায় এখন কন্ডো, হোটেল ও বানিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

মিশিগানবাসী শব্দটি নিয়ে তারা গর্ববোধ করেন। তবে উচ্চারণ ও কথাবার্তায় অঞ্চলে ভেদে ভিন্নতা আছে। বড় শব্দ প্রায়ই ছোট করে বলা হয় (যেমন “probably” → “probly” বা “prolly”; “mirror” → “meer”)। অনেক সময় বাক্যের শেষে অপ্রয়োজনীয় preposition যুক্ত হয়। কোনো শব্দের মাঝখানে T অনেক সময় D-এর মতো উচ্চারিত হয়—বিশেষত পশ্চিম ইউ.পি.-তে। ইউ.পি.-র উচ্চারণ অনেকটা কানাডার ওন্টারিও অঞ্চলের মানুষের মতো শোনায়। তাই প্রাসঙ্গিকতা বোঝা এখানে খুব জরুরি।

লোয়ার পেনিনসুলার দক্ষিণ ও মধ্য অঞ্চলের মানুষজন প্রায়ই বলেন যে তারা “আপ নর্থ” যাচ্ছেন। সাধারণত এর মানে হলো উত্তরের বনাঞ্চল ও লেকের অঞ্চল। কখনও তারা ইউ.পির কথাও বোঝান, তবে সেক্ষেত্রে সাধারণত বলেন “ইউ.পি.-তে যাচ্ছি।”

মিশিগানের রাজ্য মহাসড়কগুলো M অক্ষর ও একটি সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত (যেমন M-৪৩)। আন্তঃরাজ্য ও মার্কিন মহাসড়ক কেবল সংখ্যা দিয়েই উল্লেখ করা হয় (যেমন ৯৪)। অনেক শহর ও জেলার সড়কেও নম্বর ব্যবহৃত হয়, তবে সেগুলো মহাসড়কের নম্বরের সঙ্গে মেলে না। তাই এখানে ভ্রমণের সময় মানচিত্র দেখে নেওয়া ভালো।

মিশিগানে কার্বনেটেড সফট ড্রিংক সাধারণত পপ নামে পরিচিত। “Coke” কেবল কোকাকোলার জন্যই ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের মতো সব ধরনের সফট ড্রিংককে “Coke” বলা হয় না। “Soda” শব্দটি ব্যবহারযোগ্য হলেও “soda pop” খুব কম শোনা যায়।

পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য

[সম্পাদনা]

কীভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]

বিমানে

[সম্পাদনা]

মিশিগানে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক কিংবা অঙ্গরাজ্যের বাইরের যাত্রীরা সাধারণত ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দর (ডিটিডব্লিউ  আইএটিএ)-এ নামেন, অথবা সেখান থেকে ছোট আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ধরেন। গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসের জেরাল্ড আর. ফোর্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জিআরআর  আইএটিএ) থেকেও প্রতিদিন নানা শহরে ফ্লাইট চলে। এছাড়াও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো থেকে শিকাগো, ক্লিভল্যান্ড, মিনিয়াপোলিসসেন্ট পল, মিলওয়াকি এবং সিনসিনাটিতে সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায়। সেগুলো হলো: ফ্লিন্টের বিশপ (এফএনটি  আইএটিএ), ল্যান্সিংর ক্যাপিটাল সিটি (এলএএন  আইএটিএ), কালামাজু/ব্যাটল ক্রিক (এজেডও  আইএটিএ), মাস্কিগন[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (এমকেজি  আইএটিএ), মিডল্যান্ড/বে সিটি/সাগিনাও (এমবিএস  আইএটিএ), ট্রাভার্স সিটির চেরি ক্যাপিটাল (টিভিসি  আইএটিএ), এবং মারকুয়েটের সোয়ার (এমকিউটি  আইএটিএ)।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]

মিশিগানে গাড়ি চালিয়ে প্রবেশ করা যায় নানা মহাসড়কের মাধ্যমে। ওহাইও থেকে আই–৭৫ সরাসরি চলে গেছে ডেট্রয়েট, ফ্লিন্ট, বে সিটিম্যাকিনো সিটি হয়ে, এবং শেষ হয়েছে ইউ.পি.-র শহর সু সেন্ট মেরিতেইন্ডিয়ানাইলিনয় থেকে আই–৯৪ প্রবেশ করে কালামাজু, ব্যাটল ক্রিক, জ্যাকসন, অ্যান আরবারডেট্রয়েট হয়ে গিয়ে পোর্ট হিউরন-এ শেষ হয়েছে। আই–১৯৬, আই–৯৪ থেকে শাখা হয়ে লেক মিশিগানের তীর ধরে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস পর্যন্ত গেছে। আই–৬৯ ইন্ডিয়ানা রাজ্যইন্ডিয়ানাপোলিস থেকে ঢুকে আই–৯৪ অতিক্রম করে ল্যান্সিং, ফ্লিন্টপোর্ট হিউরন পর্যন্ত চলে গেছে। ইউএস–১৩১ ইন্ডিয়ানার উত্তর অংশে আই–৮০/৯০ থেকে শুরু হয়ে কালামাজু, গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস, বিগ র‌্যাপিডস, ক্যাডিলাক হয়ে উত্তরে বিস্তৃত হয়েছে। ইউ.পি.-তে প্রবেশ করা যায় উইসকনসিন থেকে ইউএস–২ (ডুলুথ হয়ে) অথবা ইউএস–৪১ (গ্রিন বে বা মিলওয়াকি থেকে) দিয়ে। কানাডার অন্টারিও থেকে মিশিগানে আসার প্রধান সেতু ও সুরঙ্গপথ হলো ডেট্রয়েট (উইন্ডসর থেকে) এবং পোর্ট হিউরন (সারনিয়া থেকে)। এছাড়াও সু সেন্ট মেরির যমজ শহর হয়ে আরেকটি অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত সীমান্তপথ রয়েছে।

রেলে করে

[সম্পাদনা]

আমট্র্যাক প্রতিদিন শিকাগো থেকে তিনটি রুটে মিশিগানে ট্রেন চালায়। **পেরে মারকুয়েট** সেন্ট জোসেফহল্যান্ড হয়ে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস পর্যন্ত যায়। **উলভারিন** কালামাজু, জ্যাকসন, অ্যান আরবারডেট্রয়েট হয়ে পন্টিয়াক পর্যন্ত পৌঁছায়। **ব্লু ওয়াটার** কালামাজু, ল্যান্সিংফ্লিন্ট হয়ে পোর্ট হিউরন পর্যন্ত যায়। এছাড়া কালামাজু থেকে সেন্ট ইগনেস পর্যন্ত ইএস-১৩১ সড়ক ধরে সংযোগকারী বাসও চলাচল করে।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

আন্তঃনগর বাস সেবা প্রদান করে গ্রেহাউন্ড এবং মেগাবাস

নৌকা ও ফেরি

[সম্পাদনা]

লেক মিশিগান জুড়ে মৌসুমী গাড়ি ও যাত্রীবাহী ফেরি চালু রয়েছে, যা মিলওয়াকিম্যানিটোওক, উইসকনসিনকে যথাক্রমে মাস্কিগনলাডিংটনের সঙ্গে যুক্ত করে। আগে কানাডা থেকে সেন্ট ক্লেয়ার নদী পেরিয়ে দুটি ফেরি লাইন চালু ছিল; বর্তমানে উইন্ডসর–ডেট্রয়েট ট্রাক ফেরি কেবল বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয় (যা সেতু বা সুড়ঙ্গ দিয়ে নেওয়া যায় না)। তবে মেরিন সিটি–সোনরা (ডেট্রয়েট ও পোর্ট হিউরনের মাঝামাঝি) গাড়ি ফেরি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। লেক মিশিগান জুড়ে ফেরি রুটের সর্বশেষ মানচিত্র পাওয়া যাবে ফেরিরুটস ও সংশ্লিষ্ট ডেটাবেসে। (আরও দেখুন: মিশিগানের ফেরির তালিকা)

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

মার্কিন গাড়ি শিল্পের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়ায় মিশিগানে ভ্রমণ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি অন্তর্দহন ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল। মিশিগানের ভেতরে চলাফেরার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ব্যক্তিগত গাড়ি। আন্তঃরাজ্য, মার্কিন ও রাজ্য মহাসড়কগুলো ঘনভাবে বিস্তৃত দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানে, সেখান থেকে দক্ষিণ মিশিগানের অন্যান্য অংশে ছড়িয়েছে, উত্তর মিশিগান পর্যন্ত গিয়েছে এবং আপার পেনিনসুলাতেও কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে।

রেলে করে

[সম্পাদনা]

আমট্রাকের প্রতিদিন তিনটি ট্রেন শিকাগো থেকে ছাড়ে এবং দক্ষিণ মিশিগানের কয়েকটি শহরে যায় (দেখুন: “কীভাবে যাবেন”)।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

রাজ্যের সবচেয়ে বড় বাস নেটওয়ার্ক হলো ইন্ডিয়ান ট্রেইলস এবং মিশিগান ফ্লায়ার। মিশিগান ফ্লায়ার ইস্ট ল্যান্সিং, অ্যান আরবার এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এয়ারপোর্ট পর্যন্ত চলে। এই নেটওয়ার্ক রাজ্যের বেশিরভাগ শহরে পৌঁছে যায়। বড় শহরগুলোতে স্থানীয় বাস সার্ভিস আছে, আর ডেট্রয়েটে হালকা রেল পরিষেবাও রয়েছে। পরিবহন সম্পর্কিত আরও তথ্য পাওয়া যাবে এখানে

বিমানে করে

[সম্পাদনা]

অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের বেশিরভাগই ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দর থেকে হয়। রাজ্যের ছোট আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে সাধারণত নিয়মিত কোন নির্ধারিত ফ্লাইট নেই।


ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

মিশিগান প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এর বিশাল বড় হ্রদসমূহ বা মহাসাগরসদৃশ হ্রদসমূহ (বিশেষত সুপিরিয়র, মিশিগান, হিউরন এবং কিছুটা এরি হ্রদ), যেগুলোর জলসীমা রাজ্যের সরকারি মানচিত্রেও চিত্রিত হয়েছে। আপার পেনিনসুলা অঞ্চলে রয়েছে মিশিগানের বহু প্রাকৃতিক বিস্ময়, পিকচারড রক্স, ম্যাকিন্যাক আইল্যান্ড, আইল রয়্যাল, তাকওয়ামেনন জলপ্রপাত, পার্কুপাইন পর্বতমালা এবং সেনি জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

লোয়ার পেনিনসুলায় রয়েছে বিস্তৃত বনভূমি, নদী ও অভ্যন্তরীণ হ্রদ (যেমন হিউরন ও মানিস্টি জাতীয় বন), বিশালাকৃতির বালিয়াড়ি (যেমন স্লিপিং বেয়ার ডুনস) এবং অগণিত কিমি মনোরম উপকূলরেখা। শরতে, উত্তর মিশিগানের রঙবদলানো পাতার দৃশ্য দেখতে “কালার ট্যুর” বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

মিশিগানের নানা অতুলনীয় উপকূলবর্তী শহর ও পর্যটন এলাকার আবহ, সৌন্দর্য এবং আকর্ষণীয় স্থানসমূহ কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একটি বড় আকর্ষণ। এখানে একটি নির্দিষ্ট ৬% বিক্রয় কর (sales tax) রয়েছে, যা সাধারণত বিজ্ঞাপনে দেখানো মূল্যের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকে না (যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যের মতো)। তবে অধিকাংশ মুদিপণ্য ও অনেক ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস করমুক্ত।

প্রাচীন সামগ্রীর বাজার, দোকান ও প্রদর্শনী গ্রেট লেকস অঞ্চলে একটি বড় আকর্ষণ। নিচে বর্ণানুক্রমে কিছু নিয়মিত আয়োজিত বাজার ও প্রদর্শনীর তালিকা দেওয়া হলো:

বাজার ও প্রদর্শনী (নিয়মিতভাবে আয়োজিত বড় ইভেন্ট)

  • অ্যালেগান অ্যান্টিকস মার্কেট। প্রতি মৌসুমে ছয়টি শো হয়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসের শেষ রবিবার। নির্দিষ্ট তারিখ, দিকনির্দেশনা ও যোগাযোগের জন্য ওয়েবসাইটটি দেখুন।


কী করবেন

[সম্পাদনা]
পরকুপাইন পর্বতমালা স্টেট পার্ক

মিশিগান জলকেন্দ্রিক নানা ধরনের কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত। গ্রেট লেকস ও অভ্যন্তরীণ হ্রদগুলোতে মাছ ধরা, পালতোলা ও মোটরবোট চালানো জনপ্রিয়। গ্রীষ্মে গ্রেট লেকস অনেকের কাছে কিছুটা ঠান্ডা মনে হলেও সেগুলো এখনও জনপ্রিয় সৈকতগন্তব্য। উষ্ণ অভ্যন্তরীণ হ্রদগুলোতে সাঁতার কাটা আরও আরামদায়ক। বনাঞ্চল পেরিয়ে যাওয়া নদীগুলোয় ক্যানো চালানোও প্রচলিত। কিছু মানুষ লেক মিশিগানের ঢেউয়ে সার্ফিং করেন, যদিও তা ক্যালিফোর্নিয়া বা হাওয়াইয়ের সার্ফারদের কাছে ততটা আকর্ষণীয় নয়।

শীতকালে জলকেন্দ্রিক বিনোদনের জায়গা নেয় বরফ ও তুষার। অভিজ্ঞ শিকারীরা বরফ ভেদ করে মাছ ধরে। যদিও সমতল মিশিগান অভিজ্ঞ আলপাইন স্কিয়ারদের কাছে সীমিত মনে হতে পারে, এখানে অনেক ডাউনহিল স্কি রিসোর্ট আছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় রিসোর্টগুলো লোয়ার পেনিনসুলার চার্লেভয়/গ্র্যান্ড ট্র্যাভার্স অঞ্চলে। পশ্চিম আপার পেনিনসুলাতেও পাহাড়ি স্কি এলাকা রয়েছে-যেমন ওয়েকফিল্ডের ইন্ডিয়ানহেড ও বেসেমারের বিগ পাউডারহর্ন। উভয় উপদ্বীপেই ভালো ক্রস-কান্ট্রি স্কিয়িং করা যায়। আর বরফ পড়লেই ঢালু জায়গাগুলো শিশুদের জন্য স্লেজিং স্পটে পরিণত হয়।

ডেট্রয়েট শহরে রয়েছে চারটি প্রধান পেশাদার ক্রীড়া দল: টাইগার্স (বেসবল), লায়ন্স (আমেরিকান ফুটবল), রেড উইংস (হকি), এবং পিস্টন্স (বাস্কেটবল)। লায়ন্স ও টাইগার্স খেলে ডাউনটাউন-এ, আর রেড উইংস ও পিস্টন্স খেলে মিডটাউন-এ। জানুয়ারিতে শহরে অনুষ্ঠিত হয় নর্থ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল অটো শো। এছাড়া ডেট্রয়েটে রয়েছে চারটি বড় ক্যাসিনো, কনসার্ট ভেন্যু, ডেট্রয়েট সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা, ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অফ আর্ট, সক্রিয় নাট্যমঞ্চ এবং অসংখ্য জ্যাজ ক্লাব।

ল্যান্সিং-এ ঘুরে দেখা যায় সংস্কারকৃত (১৯৯২) স্টেট ক্যাপিটল বিল্ডিং। এখানে ও ইস্ট ল্যান্সিংয়ে রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ও সরকারি ভবন।

মিশিগানের ছোট শহরগুলোও ভ্রমণযোগ্য। মধ্য মিশিগানের ফ্রাঙ্কেনমুথ জার্মান অভিবাসীরা গড়ে তোলে। শহরে আছে জার্মান ধাঁচের দোকান ও রেস্তোরাঁ-সবচেয়ে পরিচিত জেহ্ন্ডারস, ব্যাভারিয়ান ইন এবং ব্রোনার্স। জেহ্ন্ডারস ভাজা মুরগির পারিবারিক ডিনারের জন্য বিখ্যাত; ব্যাভারিয়ান ইন জার্মান খাবারের জন্য পরিচিত। ব্রোনার্স দোকানে সারাবছর বড়দিনের সাজসজ্জা ও উপহার বিক্রি হয়, যেগুলোর অনেকই জার্মানি থেকে আমদানি করা। শহরে আরও রয়েছে কাস নদীর তীরে মনোরম দৃশ্য, ছোট দোকান এবং একটি কাভার্ড ব্রিজ।

লোয়ার ও আপার পেনিনসুলার ভ্রমণে অবশ্যই ঘুরে দেখতে হবে ম্যাকিনাও সিটি, সেন্ট ইগনেসম্যাকিনাক দ্বীপ। ম্যাকিনাক দ্বীপে রয়েছে ফোর্ট মিচিলিম্যাকিনাক, একটি পুরোনো কাঠকল, ফোর্ট ম্যাকিনাক, গ্র্যান্ড হোটেলসহ বহু দর্শনীয় স্থান। দ্বীপে কোনো গাড়ি চলাচল করে না-এখানে ঘোড়ার গাড়ি, সাইকেল ভাড়া বা হেঁটে ঘোরাই প্রধান উপায়। দ্বীপে যাওয়ার জন্য ফেরি সেবা ব্যবহার করতে হয়, যেখানে তিনটি আলাদা সংস্থা যাত্রী পরিবহন করে।

খাওয়া-দাওয়া

[সম্পাদনা]

আপনি যদি মিশিগানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন এবং “অবশ্যই খেতে হবে” ধরনের স্থানীয় বিশেষ খাবার চেখে দেখতে চান, তবে অন্তত চারটি জিনিস অবশ্যই চেষ্টা করা উচিত। আশ্চর্যের বিষয় হলো-এসব খাবার মূলত রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয়। তাই এগুলো আসল স্বাদে উপভোগ করতে চাইলে ট্র্যাভার্স সিটি থেকে শুরু করে আপার পেনিনসুলা পর্যন্ত ভ্রমণ করতে হবে।

বিশেষ খাবার

[সম্পাদনা]
ইউপার প্যাস্টি
  • পাস্টি (উচ্চারণে /ˈpæsti/, যা "nasty"-র সাথে মিলে, "hasty"-র সাথে নয়) হলো আপার পেনিনসুলার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। সাধারণত এতে গরুর মাংস, আলু, পেঁয়াজ আর কখনো কখনো রুটাবাগা থাকে। সব উপকরণ শক্ত ময়দার খোলসে মুড়িয়ে, পাশটা সুন্দর করে ভাঁজ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্যাস্টির উৎপত্তি ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল অঞ্চলে, যেখানে খনিশ্রমিকদের স্ত্রীরা রোববার রাতে খাবারের বাকি অংশ কেটে অর্ধচন্দ্রাকৃতির খামিরে মুড়িয়ে দিতেন, যা শ্রমিকরা পরে তাদের কোদালে গরম করে দুপুরে খেতেন। বর্তমানে আপারের মহাসড়কের ধারে পাস্টির দোকান পাওয়া যায়। কিছু দোকান সীমিত সময় খোলা থাকে, আবার কিছু দোকানের নিজস্ব ওয়েবসাইটও আছে। পাস্টি খাওয়ার নানা উপায় আছে: ঠান্ডা অবস্থায় হাতে ধরে, কেচাপ দিয়ে বা ছাড়া; অথবা গরম অবস্থায় কেচাপ বা ব্রাউন গ্রেভির সাথে।
  • মিশিগানের উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোতে দুধ, চিনি এবং সাধারণত চকোলেট দিয়ে তৈরি সমৃদ্ধ ও ক্রিমি ফাজ তৈরি হয়। তবে ভ্যানিলা, চিনাবাদাম মাখন, পুদিনা, প্রালিন, ক্র্যানবেরি এবং আরও অনেক স্বাদও পাওয়া যায়। রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ফাজ তৈরি হয় ম্যাকিনাক দ্বীপে ১৮৮৭ সাল থেকে, এখনও হাতে তৈরি হয়, দোকানের ভেতরে মার্বেলের টেবিলে আকার দেওয়া ও ঠান্ডা করা হয়।
  • মিশিগানে হ্রদের মাছ খুবই জনপ্রিয়, বিশেষ করে ওয়ালআই, রেইনবো ট্রাউট, হোয়াইটফিশ এবং লেক পার্চ। মিশিগানের বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ যারা সীফুড পরিবেশন করে, তাদের মেনুতে অন্তত একটি মাছ থাকে। এগুলো ভাজা, সেদ্ধ, ধোঁয়ায় শুকানো, সালাদে বা সিডারের ওপর মাখন মেশানো ম্যাশড আলুর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। হ্রদের মাছ সাধারণত লেক সুপিরিয়রের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত, তাই আপারের রেস্তোরাঁগুলোতে এগুলো বেশি দেখা যায়।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত টক জাতীয় চেরির ৭০ শতাংশেরও বেশি এবং মিষ্টি চেরির প্রায় ২০ শতাংশ মিশিগানে উৎপাদিত হয়। রাজ্যের প্রধান চেরি উৎপাদন অঞ্চল হলো ট্র্যাভার্স সিটির আশেপাশে, যেখানে প্রতি জুলাই মাসে একটি চেরি উৎসব হয়। বিশেষত শুকনো চেরি অনেক খাবারে যোগ করা হয় স্থানীয় স্বাদ আনতে। কিছু রেস্তোরাঁ “মিশিগান সালাদ” পরিবেশন করে, যেখানে শুকনো চেরি থাকে।

তবে এই চারটি খাবার মিশিগানের সবচেয়ে বেশি পরিচিত খাবার হলেও, এগুলো রাজ্যের একমাত্র বিশেষত্ব নয়।

  • কুদিগি ("কু-দা-গি") হলো এক ধরনের ইতালীয় সসেজ, যা অনেক সময় হোগি রুটিতে সসেজ-প্যাটি হিসেবে মোজারেলা চিজ ও টমেটো সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এটি আপারে জনপ্রিয় এবং উত্তর ইতালি থেকে আসা অভিবাসীরা আয়রন মাউন্টেন অঞ্চল, কপার কান্ট্রি এবং ইশপেমিংনেগুনির আশেপাশে বসতি স্থাপন করলে এই খাবার নিয়ে আসেন। কুদিগি মিষ্টি মসলা যেমন পাপরিকা, দারচিনি, লবঙ্গ ও জায়ফল দিয়ে স্বাদ দেওয়া হয়।
  • মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে, ফ্যাট টিউসডে ও লেন্টের শুরুতে জনপ্রিয় খাবার হলো পঁচকি ("পুনচ-কি")। এগুলো প্রতিবছর ডেট্রয়েটের মেট্রো এলাকার পোলিশ গ্রাম হ্যামট্রামকে তৈরি হয়। হ্যামট্রামকে তৈরি সংস্করণগুলো বড় ভাজা জেলি ডোনাটের মতো, উপরে চিনি ছিটানো বা গ্লেজ করা থাকে এবং সাধারণত কাস্টার্ড, ফল বা চকোলেট দিয়ে ভরা হয়। বিশেষ করে বরইয়ের পুর বেশ জনপ্রিয়। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের অনেক মুদি দোকানে ফেব্রুয়ারিতে অ্যাশ বুধবারের আগের দিন ও সপ্তাহগুলোতে পঁচকি পাওয়া যায়।

কৃষিভিত্তিক পর্যটন

[সম্পাদনা]
লোয়েল রিভারওয়াক উৎসবে বিক্রি হচ্ছে মিশিগানের টক চেরি

চেরি ছাড়াও মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল, যেখানে নানা ধরনের পণ্য উৎপাদিত হয়:

  • যুক্তরাষ্ট্রে আপেল উৎপাদনে মিশিগান তৃতীয় স্থানে। মৌসুমে দোকানগুলো আপেলে ভরে যায়।
  • রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল, লেক মিশিগানের তীরবর্তী এলাকা, প্রচুর ব্লুবেরি উৎপাদন করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদনের ৪৫ শতাংশ। যদিও চেরির মতো মেনুতে এগুলো সর্বত্র পাওয়া যায় না, তবে জুলাই থেকে অক্টোবরের মৌসুমে এই অঞ্চলে ভ্রমণ করলে রাস্তার ধারে স্টল ও “ইউ-পিক” খামার দেখা যায়।
  • মিশিগানের মোরেল মাশরুম[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] সারা রাজ্যে বুনোভাবে জন্মায়, তবে উত্তর লোয়ার পেনিনসুলায় বিশেষভাবে বেশি। স্থানীয়রা প্রায়ই মাশরুম খুঁজতে যান, এবং মিশিগানের মোরেল শেফদের কাছে খুব চাহিদাসম্পন্ন। প্রতি মে মাসে বয়ন সিটি এবং মেসিকে মোরেল উৎসব হয়।
  • মিশিগানের ছোট, মিষ্টি স্ট্রবেরির মৌসুম স্বল্পকালীন হলেও খুব সুস্বাদু। প্রতি বছর বেলভিলে জাতীয় স্ট্রবেরি উৎসব হয়।
  • তেমন আকর্ষণীয় না হলেও, মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রে সেলারি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, বিশেষ করে কালামাজুর আশেপাশে। এলাকাটিতে একটি সেলারি ব্যাখ্যামূলক কেন্দ্রও আছে, যেখানে এ অঞ্চলের সেলারি চাষের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়।
  • ম্যাপল সিরাপ মিশিগানে আদিবাসী আমেরিকান উপজাতিদের আগমনের সময় থেকেই ম্যাপল সিরাপ উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া এটি ম্যাপল ক্যান্ডির আকারেও পাওয়া যায়।

পানীয়

[সম্পাদনা]
মিশিগানের এক আঙুরখেত

ক্যালিফোর্নিয়া বা বিদেশি জাতের মতো খ্যাতি না পেলেও মিশিগানের ওয়াইন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (যেমন সেন্ট জুলিয়ান, টেবর হিল, ফেন ভ্যালি) এবং উত্তর-পশ্চিম লোয়ার পেনিনসুলায় (যেমন লিলানাউ সেলার্স, গুড হারবার, শাতো গ্র্যান্ড ট্র্যাভার্স) বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য আঙুরখেত রয়েছে।

স্ট্রোহ’স ছিল মিশিগানের ঐতিহ্যবাহী বিয়ার ব্র্যান্ডগুলোর একটি, যদিও বর্তমানে এটি রাজ্যের বাইরে তৈরি হয়। তবে এখন সারা মিশিগানে অসংখ্য স্থানীয় ব্রুয়ারি রয়েছে। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে বেল’স, আর্কেডিয়া, অ্যাটওয়াটার, মিশিগান ব্রুয়িং এবং ফাউন্ডার’স।

এখানে দুটি স্থানীয় সফট ড্রিংকস ব্র্যান্ড আছে, যেগুলোকে বাসিন্দারা “পপ” বলে। এগুলো হলো ফ্যাগো (স্ট্রবেরি স্বাদের “রেডপপ” সবচেয়ে জনপ্রিয়) এবং ভার্নোর’স জিঞ্জার এল (যার টক-মিষ্টি স্বাদ এবং পরিচিত গ্নোম প্রতীক রয়েছে)।

মিশিগানের আপেল ফসল থেকে প্রচুর আপেল সাইডার তৈরি হয়। শরতে সাইডার মিলগুলোতে সরাসরি কেনা যায়-গ্যালনে বা কাপে, গরম বা ঠান্ডা দুইভাবেই। সাধারণত কেক ডোনাটের সঙ্গে এটি খাওয়া হয়। অধিকাংশ মিল নিজেদের ডোনাটও তৈরি করে, যা দারুচিনি-চিনির আস্তরণে গরম গরম পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও আপেলের জ্যাম, বাটার ও রান্নার বইও বিক্রি হয়।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]

মিশিগানের বেশিরভাগ এলাকা নিরাপদ। তবে বড় শহরগুলোর মধ্যে ডেট্রয়েট, ফ্লিন্টসাগিনওতে অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি। তবুও দিনের বেলায় সাধারণত সমস্যা হয় না, আর রাতের বেলায় বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ টহল থাকে। শহরে রাতে বেরোলে স্বাভাবিক সতর্কতা অবলম্বন করাই যথেষ্ট।

গাড়ি চালিয়ে ঘুরতে চাইলে শীতকালে রাস্তার অবস্থা খেয়াল রাখা জরুরি। পশ্চিম লোয়ার মিশিগান ও আপার পেনিনসুলায় হ্রদের প্রভাবে প্রচুর তুষারপাত হয়।

ইউপির কিছু কাঠবাহি রাস্তা এখনও ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় গাইড ছাড়া এসব রাস্তায় না যাওয়াই ভালো। সঙ্গে জরুরি কিট (খাবার, পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা) রাখা উচিত। এসব রাস্তা সাধারণত সরু হয় এবং কাঠের ট্রাকগুলো দ্রুতগতিতে চলে।

পরবর্তী ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE মিশিগান has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:অঞ্চল|ব্যবহারযোগ্য}}