বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে
আরও দেখুন: ইউরোপীয় ইতিহাস

রুশ সাম্রাজ্য (Российская Империя/রসিস্কায়া ইম্পেরিয়া) ছিল আধুনিক যুগের বৃহত্তম স্থলসংলগ্ন দেশ। এটি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়ার পূর্বসূরি। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এটি সর্বোচ্চ বিস্তৃতি লাভ করে, যার মধ্যে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের বড় অংশ ( ফিনল্যান্ডপোল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত), সমগ্র সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চল, অল্প সময়ের জন্য আলাস্কা, এমনকি আজকের ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দক্ষিণে ফোর্ট রস অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যেতে যেতে জার শাসনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে কমতে থাকে। এছাড়াও চীনে কিছু চুক্তিভিত্তিক এলাকা ছিল। বিশ্ব ইতিহাসে শুধু মঙ্গোল সাম্রাজ্যব্রিটিশ সাম্রাজ্যর স্থলভাগের বিস্তার রুশ সাম্রাজ্যের চেয়ে বড় ছিল।

যদিও দুইটি বিশ্বযুদ্ধ ও সোভিয়েত যুগের ধ্বংসতাণ্ডব রুশ সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের অনেকাংশেই ধ্বংস করে দেয়, তবুও এখনো বহু নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থান টিকে আছে।

রাশিয়া ঐতিহাসিক ভ্রমণ বিষয়সমূহ:
রুশ সাম্রাজ্যসোভিয়েত ইউনিয়ন

জানুন

[সম্পাদনা]
রুশ সাম্রাজ্যের ছোট প্রতীকচিহ্ন

যদিও রুশ সাম্রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭২১ সালে ঘোষণা করা হয়, এর আগেই নবম শতক থেকে বিভিন্ন রুশ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

রুরিক বংশ

[সম্পাদনা]

অষ্টম ও নবম শতকে ভাইকিং অভিযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী রুশ নদীপথ ব্যবহার করে আরব মুসলিমদের এবং বাইজেন্টাইন গ্রিক সাম্রাজ্যের কাছে, ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে। রাশিয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণের সময় ভাইকিংরা স্থানীয় স্লাভিক গোষ্ঠীগুলির সাথে যোগাযোগে আসে এবং সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে। কিংবদন্তিতে বলা হয়, এরা ভ্যারাঙ্গিয়ানদের (ভাইকিংদের) সমুদ্রের ওপারে তাড়িয়ে দেয়, তাদের খাজনা দিতে অস্বীকার করে এবং নিজেরাই শাসন শুরু করে", কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেতরকার দ্বন্দ্ব ও বিভাজনে ভুগতে থাকে।

সুইডিশ ভাইকিং রুরিক ৮৬২ সালে রাশিয়ার প্রথম রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

এই বিভেদ মেটাতে তারা এক ভাইকিং প্রধান, রুরিককে আবার শাসন করার আমন্ত্রণ জানায়। রুরিক ৮৬২ সালে প্রথম রুশ রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রথমে স্টারায়া লাদোগায় দরবার বসালেও পরে নভগোরদে চলে যান। তাঁর উত্তরসূরি নভগোরদের ওলেগ দক্ষিণে রাজ্য সম্প্রসারণ করে এবং কিয়েভ জয় করার পর রাজধানী সেখানেই সরিয়ে নেন। এর ফলে সাম্রাজ্যের নাম হয় কিয়েভান রুস। আধুনিক রাশিয়া, ইউক্রেন এবং বেলারুশ সবাই নিজেদের শিকড় কিয়েভান রুসে খুঁজে পায়। এই দাবিই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বড় বিরোধের উৎস, কারণ ইউক্রেনীয়রা প্রায়ই অভিযোগ করে যে রাশিয়ানরা তাদের ইতিহাস আত্মসাৎ করছে।

প্রথম সহস্রাব্দের শেষে ইউরোপীয় পৌত্তলিক ধর্ম বিলীন হতে থাকে খ্রিস্টধর্মের প্রসারের কারণে। নিজের সাম্রাজ্যের জন্য নতুন ধর্ম খুঁজতে গিয়ে রুরিকের প্রপৌত্র ভ্লাদিমির দ্য গ্রেট (সেন্ট ভ্লাদিমির অব কিয়েভ) ইসলাম, ইহুদি ধর্মখ্রিস্টধর্ম—এই তিন ধর্মের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান যাতে তারা তাঁকে ধর্মান্তরিত করতে বোঝাতে পারে। প্রথমে ভ্লাদিমির ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন মুসলমানদের মদ্যপান ও শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ, তিনি বলেন—"মদ্যপান রুশদের আনন্দ। এ সুখ ছাড়া আমরা থাকতে পারব না।" এরপর তিনি ইহুদি ধর্ম বিবেচনা করেন। তবে জেরুজালেম ধ্বংস এবং ইহুদিদের বিচ্ছুরণ দেখে তিনি একে প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তাঁর মনে হয় ঈশ্বর তাঁদের ত্যাগ করেছেন।

রুসের বাপ্তিস্ম

অবশেষে ভ্লাদিমির দূত পাঠান বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে খোঁজ নিতে। দূতেরা মুসলিম ভলগা বুলগারদের আনন্দহীন দেখেন, ক্যাথলিক জার্মানদের অতিরিক্ত গম্ভীর বলে মনে করেন। কিন্তু কনস্টান্টিনোপলের গ্রিক অর্থোডক্স হাগিয়া সোফিয়া গির্জা দেখে তাঁরা বলেন—"আমরা আর বুঝতে পারছিলাম না যে আমরা স্বর্গে নাকি পৃথিবীতে।" এর পরই সিদ্ধান্ত হয়। ৯৮৮ সালে ভ্লাদিমির পূর্ব অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্মে খেরসোনেসাসে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি কিয়েভে ফিরে এসে দনিপার নদীতে তাঁর জনগণকে বাপ্তিস্ম (খ্রিস্টধর্মের প্রধান দীক্ষা) দেন। আজও একে "রুশের বাপ্তিস্ম" নামে স্মরণ করা হয়। এর ফলে রাশিয়া খ্রিস্টধর্ম ও বাইজেন্টাইন-গ্রিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করে, যা দেশটির উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

পরবর্তী শতকে রুশ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে বাণিজ্য করে সমৃদ্ধ হয়। একাদশ শতকে ইয়ারোস্লাভ দ্য ওয়াইজের শাসনামলে স্বর্ণযুগে পৌঁছায়, যিনি প্রথমবারের মতো লিখিত আইন প্রণয়ন করেন। তবে দ্বাদশ শতকে এটি বিভক্ত হয়ে যায় প্রায় ডজনখানেক স্বাধীন রাজ্যে। এর ফলে ১২২০-এর দশকে মঙ্গোল আক্রমণ সহজ হয়।

পরবর্তী আড়াই শতাব্দী রুশ রাজ্যগুলো সোনালী অশ্বারোহী বাহিনীর করদ রাজ্য হিসেবে "তাতার শাসন" ভোগ করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিল মস্কো, যারা মঙ্গোলদের দূত ও কর আদায়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করত। এ অবস্থান ব্যবহার করে মস্কো অন্য রুশ রাজ্যগুলির ক্ষতিতে নিজের প্রভাব বাড়ায়। ১৪৮০-এর দশকে দিমিত্রি দনস্কয়ের নেতৃত্বে মস্কো মঙ্গোলদের পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করে।

মস্কোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নভগোরদ, যা উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ায় একটি স্বাধীন বণিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে টিকে ছিল, জার্মান হানসিয়াটিক লীগের মতো। ত্রয়োদশ শতকে নভগোরদের শাসক আলেকজান্ডার নেভস্কি জার্মান ও সুইডিশ আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে রুশ স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তবে ১৪৭৮ সালে মস্কো নভগোরদ দখল করে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রুশ স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে।

ইলিয়া রেপিনের ইভান দ্য টেরিবল তাঁর ছেলেকে হত্যা করছেন

১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ও অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্মের কেন্দ্র, উসমানীয় সাম্রাজ্যের হাতে পতিত হয়। এর ফলে রাশিয়া হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থোডক্সের দেশ। মস্কোর রাজপুত্ররা নিজেদেরকে বাইজেন্টাইন সম্রাটদের উত্তরসূরি মনে করে "তৃতীয় রোম" ও "সমস্ত রুসের জার" ঘোষণা করে। (জার বা সিজার এবং জার্মান কাইজার—সবই রোমান সম্রাটের উপাধি সেজার থেকে এসেছে।) মস্কোর গ্র্যান্ডউক ইভান তৃতীয় "দ্য গ্রেট" শেষ বাইজেন্টাইন সম্রাটের ভাগ্নি সোফিয়া পালাইওলগিনাকে বিয়ে করেন তাঁর দাবি জোরদার করতে।

প্রথম জার হিসেবে ইভান চতুর্থ "দ্য টেরিবল" (Ива́н Гро́зный​ ইভান গ্রোজনি, আক্ষরিক অর্থে "ইভান বজ্রধ্বনি", রূপকভাবে "ভয়ঙ্কর" বা "ভীতিপ্রদ ইভান") এবং তাঁর গোপন পুলিশ ওপ্রিচনিনা এক সন্ত্রাসের শাসন শুরু করেন। এক রাগের মাথায় ইভান নিজেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করেন। আরেক ছেলে, উত্তরাধিকারীহীন ফিয়োদর ১৫৯৮ সালে মারা গেলে রুরিক বংশের ৭০০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। উত্তরাধিকারী না থাকায় রাশিয়া গৃহযুদ্ধ ও বিদেশি আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে—এই সময়কে পরে বলা হয় "সমস্যার সময়"। ১৬১৩ সালে মস্কোর প্যাট্রিয়ার্ক তাঁর নিজ পুত্র মিখাইল রোমানভকে জার মুকুট পরালে এ যুগের সমাপ্তি ঘটে।

রোমানভরা

[সম্পাদনা]

১৭০০ সালের দিকে রাশিয়া তখনও ইউরোপীয় রাজনীতিতে প্রান্তিক দেশ ছিল। দেশটি প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে ছিল এবং অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত। আর্খানগেলস্কে সাদা সাগরের একমাত্র বন্দর থাকার কারণে রাশিয়া পশ্চিম ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ইউরোপীয়রা এটিকে সভ্যতার তুলনায় বর্বরই মনে করত। যিনি এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটান তিনি ছিলেন অসাধারণ জার পিটার প্রথম, যিনি ‘পিটার দ্য গ্রেট’ নামে পরিচিত এবং প্রথম রুশ নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। ১৬ ও ১৭ শতকে সুইডিশ সাম্রাজ্য পূর্ব দিকে বিস্তার লাভ করে প্রায় বাল্টিক সাগর ঘিরে ফেলে। ১৬৯৯ সালে রাশিয়া পোল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তোলে সুইডেনকে প্রতিহত করার জন্য, আর তখনই মহাযুদ্ধ ‘‘গ্রেট নর্দার্ন ওয়ার’’ শুরু হয়। সুইডেনের রাজা চার্লস দ্বাদশ রুশ তৃণভূমির গভীরে অভিযান চালান, কিন্তু ১৭০৯ সালে পোলতাভায় পরাজিত হন। এতে রাশিয়া বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ দখল করতে সক্ষম হয়।

সম্রাট পিটার প্রথম ‘‘দ্য গ্রেট’’

তবে পিটারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশকে আধুনিক করতে তিনি ইউরোপে এক বছরের দীর্ঘ ভ্রমণ করেন উন্নত জ্ঞান অর্জনের জন্য। পরে তিনি ‘‘পেট্রাইন সংস্কার’’ নামে পরিচিত একটি কর্মসূচি চালু করেন। সংস্কারগুলো প্রশাসন থেকে শুরু করে অর্থনীতি, এমনকি পোশাকেও প্রভাব ফেলে। তিনি রুশ অভিজাতদের লম্বা দাড়ি কেটে পশ্চিম ইউরোপীয় স্টাইল গ্রহণ করতে বাধ্য করেন। তিনি রুশ চার্চকেও কার্যত নিজের সরকারের অধীনস্ত করে দেন যেন সংস্কারের বিরোধিতা কমে। তবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য ছিল নেভা নদীর মোহনায় নবদখলকৃত ভূমিতে একটি নতুন রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গ গড়ে তোলা। এটি ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়েছিল এবং রাশিয়ার ‘‘পশ্চিমের জানালা’’ হিসেবে গড়ে ওঠে। এখান থেকে পশ্চিম ইউরোপের চিন্তাধারা রাশিয়ায় আসে এবং রাশিয়া বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়। এভাবেই রাশিয়া এক মহান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিজের নতুন ইউরোপীয় পরিচয় জোরদার করতে পিটার ‘‘সারডম অব অল রাস’’ শিরোনাম বাদ দিয়ে পশ্চিমা ধাঁচের ‘‘রুশ সাম্রাজ্য’’ (Российская империя) নাম গ্রহণ করেন।

যখন রুশ নেতারা পশ্চিমমুখী হচ্ছিলেন, তখন অর্থনৈতিক সুযোগসন্ধানী ও অভিযাত্রীরা চোখ রাখেন পূর্বদিকে। সাইবেরিয়া ছিল বিস্তীর্ণ অঞ্চল, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ—বিশেষত পশমের জন্য বিখ্যাত। তবে অতি শিকারের ফলে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে তারা আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। যেখানে শিকারি ও অভিযাত্রীরা যেতেন, সেখানে উপনিবেশকারীরাও যেতেন। এভাবে ধাপে ধাপে রাশিয়া সাইবেরিয়ারুশ সুদূরপ্রাচ্য জয় ও উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৬ শতকের শেষ দিকে এ অভিযান শুরু হয় এবং ১৬৩৯ সালে রাশিয়ানরা প্রশান্ত মহাসাগরে পৌঁছে যায়। এই সময়ে অধিকাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়। ডেনিশ বংশোদ্ভূত রুশ নৌ-অধিনায়ক ভিটাস বেরিং ১৭২৮ সালে কমচাটকা দাবি করেন এবং ১৭৪১ সালে আলাস্কা পৌঁছান, তবে তিনি ফেরার পথে মারা যান। ১৮৬৭ সালে আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করা হয়।

পিটারের উত্তরসূরিরা তার সামরিক সম্প্রসারণ ও সাংস্কৃতিক আধুনিকায়নের নীতি অব্যাহত রাখেন। এরমধ্যে রাশিয়া শিল্পকলারও অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পকলায়ক্যাথরিন দ্য গ্রেট বিশেষভাবে ‘‘রুশ ইন্টেলিজেনশিয়াকে" উৎসাহিত করেন, যারা ছিলেন পশ্চিম ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন এক বুদ্ধিজীবী শ্রেণি। তবুও জনসংখ্যার বেশিরভাগই দরিদ্র ও জমিহীন থেকে যায় এবং সার্ফপ্রথা ১৮৬১ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল। ক্যাথরিনের শাসনামলে রাশিয়া অটোমান সাম্রাজ্যপোল্যান্ড-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথকে যুদ্ধে পরাজিত করে। এর ফলে সাম্রাজ্যের সীমানা পশ্চিমে ক্রিমিয়া, বেলারুশ, কেন্দ্রীয় ইউক্রেনলিথুয়ানিয়ায় প্রসারিত হয়। বিশেষত অটোমানদের ওপর বিজয় রাশিয়ার মহাশক্তি হিসেবে মর্যাদা সুদৃঢ় করে।

ভাসিলি ভেরেশচাগিনের আঁকা ‘‘ন্যাপোলিয়ন বরোদিনোর কাছে’’

১৯ শতকের গোড়ায় রাশিয়া ন্যাপোলিয়নিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা রুশ ইতিহাসে ‘‘প্রথম মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ’’ নামে পরিচিত (দ্বিতীয়টি ১৩০ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ)। ১৮১২ সালে ন্যাপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেন এবং প্রাচীন রাজধানী মস্কো দখল করে পুড়িয়ে দেন। কিন্তু ফরাসি সেনারা রুশ শীতের জন্য প্রস্তুত ছিল না। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও রুশ গেরিলা হামলার ফলে ন্যাপোলিয়নের গ্রঁদ আর্মি ধ্বংস হয়ে যায়। ন্যাপোলিয়নের বিরুদ্ধে বিজয়ী শক্তিগুলোর অন্যতম হিসেবে রাশিয়া ইউরোপের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। ভিয়েনা শান্তি চুক্তিতে রাশিয়া সুইডেন থেকে ফিনল্যান্ড লাভ করে এবং পোল্যান্ডকে রাশিয়া, প্রুশিয়াঅস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়।

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব, ন্যাপোলিয়নিক যুদ্ধ এবং ১৮২৫ সালের ব্যর্থ ডেসেমব্রিস্ট বিদ্রোহ রুশ শাসকদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পশ্চিম ইউরোপের উদার চিন্তাধারা তাদের রাজতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই রুশ শাসকরা আরও রক্ষণশীল পথে অগ্রসর হন এবং আলোকায়ন আদর্শ ও ‘‘ইন্টেলিজেনশিয়ার" একাংশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান। সেই ইন্টেলিজেনশিয়ার ভেতরও বিভাজন তৈরি হয়—‘’জাপাদনিকি’’ (অর্থাৎ ‘‘পশ্চিমপন্থী’’) এবং ‘‘স্লাভোফাইলদের" মধ্যে। জাপাদনিকিরা মনে করত রাশিয়া এখনও মধ্যযুগীয় ও অসভ্য, তাই আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। অপরদিকে স্লাভোফাইলরা মনে করত পশ্চিম ইউরোপের আলোকায়ন দর্শন ভোগবাদী ও উপরিভৌমিক, আর তারা বরং রাশিয়ার ‘‘অনন্য’’ অর্থডক্স আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য লালন করতে চাইত। কঠোর সরকারি সেন্সরের কারণে এই সাংস্কৃতিক বিতর্ক অনেকটাই সাহিত্য মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা রুশ সাহিত্যের ‘‘সোনালি যুগ’’ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের পর রাশিয়া চীনের সঙ্গে ১৮৫৮ সালের আইগুন চুক্তি করে, যার মাধ্যমে আমুর নদীর উত্তরের সব এলাকা রাশিয়াকে ছেড়ে দিতে হয়। ১৮৬০ সালে পেকিং কনভেনশনের পর চীনকে উসুরি নদীর পূর্বের ভূমিও রাশিয়াকে দিতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে চীনের উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার কেটে যায়, চীনা জনগণকে সেই অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং ভ্লাদিভস্তক, খাবারোভস্কনাখোদকা শহর প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর রাশিয়া চীনকে একাধিক চুক্তিবন্দরে ছাড় দিতে বাধ্য করে। এগুলোতে রুশ নাগরিকরা বহির্দেশীয় অধিকার বলে ভোগ করত এবং চীনা আইন প্রযোজ্য ছিল না। ১৮৯৬ সালে হানকৌ ও হারবিনে, ১৮৯৮ সালে দালিয়ানে এবং ১৯০০ সালে তিয়ানজিনে প্রথম ছাড় পাওয়া যায়। আ

১৮৬১ সালে জার আলেকজান্ডার দ্বিতীয় রাশিয়ায় দাসপ্রথা (সার্ফডম) বাতিল করেন। কিন্তু জমির বেশিরভাগই অভিজাতদের দখলে থেকে যায়। প্রাক্তন দাসদের অল্প জমি দেওয়া হলেও তাদেরকে মালিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ সুদের ভারী কর দিতে হতো। ফলে বেশিরভাগ কৃষক প্রকৃত অর্থে মুক্ত না হয়ে ঋণদাস বা মজুরে পরিণত হয়। এই সংস্কারে হতাশ হয়ে অনেক ‘‘জাপাদনিকি’’ নিঃশব্দ প্রতিবাদ ছেড়ে সহিংসতায় ঝুঁকে ‘‘নৈহিলিস্ট’’ হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার আরও দমনমূলক হয়, আর অনেক ‘‘স্লাভোফাইল’’ ‘‘প্যান-স্লাভিজম’’ নামক সাম্রাজ্যবাদী মতবাদে ঝুঁকে পড়ে।

রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর বা ভারত মহাসাগরে একটি বরফমুক্ত বন্দর অধিকার করা। এই লক্ষ্য পূরণে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে ‘‘গ্রেট গেম’’’’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। রাশিয়া আফগানিস্তান বাদে প্রায় পুরো মধ্য এশিয়া দখল করে নেয়। এছাড়া তারা ১৯ শতকের শুরুতে পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং ককেশাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। রুশ সম্প্রসারণ প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকের ক্রিমিয়ার যুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের জোট রাশিয়াকে কৃষ্ণসাগর দখল থেকে বিরত রাখে। আরও একটি বড় ব্যর্থতা আসে ১৯০৪–১৯০৫ সালের রুশ-জাপান যুদ্ধে, যা পশ্চিমা শক্তির ওপর প্রথম পূর্ব এশীয় বিজয় ছিল কলম্বাসের অভিযানের পর থেকে। এর ফলে সাখালিন দ্বীপের দক্ষিণ অর্ধেক এবং লিয়াওদং উপদ্বীপে রুশ উপনিবেশ জাপানের দখলে চলে যায়।

রুশ বিপ্লবসমূহ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

জাপানের কাছে পরাজয় ১৯০৫ সালের রুশ বিপ্লবের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে সম্রাটের অনেক ক্ষমতা নতুনভাবে গঠিত সংসদ ‘‘স্টেট দুমার" হাতে অর্পিত হয়।

১৯১৪ সালে সারায়েভোতে স্লাভ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দকে হত্যা করে। এর ফলে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য সার্বিয়ার বিরুদ্ধে আল্টিমেটাম জারি করে। রাশিয়া তখন তার ‘‘ভ্রাতৃসম’’ সার্বদের পাশে দাঁড়ায় (তৎকালীন ‘‘প্যান-স্লাভিক’’ ধারণা ছিল প্রচলিত)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানি অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তার জোটের অঙ্গীকার রক্ষা করে। এতে শুরু হয় এক ধ্বংসাত্মক সংঘাত, যা আজ ‘‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ’’ নামে পরিচিত। যদিও জার্মান সেনারা রুশ ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে এবং রুশ জনগণ অনাহারের দিকে ধাবিত হয়, তবু জার যুদ্ধ বন্ধ করতে একগুঁয়ে ছিলেন। ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপ্লবে রূপ নেয়, যাতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয় এবং অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। তবে এই সরকারও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে এবং একই বছরের অক্টোবর বিপ্লবে তা উৎখাত হয়। এর মাধ্যমে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিক সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিত্তি স্থাপন করে।

জার ও তার পরিবারকে বন্দি করে ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলশেভিকরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। তাঁদের চিহ্নহীন কবর দেওয়া হয়, যা যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ২০০৭ সালে পুনরাবিষ্কৃত হয়। ‘‘সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসমূহের ইউনিয়ন’’ (ইউএসএসআর) নামেও পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন কয়েক দশকের মধ্যে একটি বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয় এবং ১৯৯১ সালে ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত তা টিকে ছিল।

সাম্রাজ্যের পতনের পরবর্তী ইতিহাসের জন্য দেখুন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধকালীন ইউরোপ। সাম্রাজ্যের সাবেক ভূখণ্ডে বর্তমানে যে দেশগুলো রয়েছে, তাদের সম্পর্কে জানতে দেখুন রাশিয়া, ককেশাস, মধ্য এশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ

গন্তব্য

[সম্পাদনা]

ইউরোপীয় রাশিয়ার তুলনায় মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম রাশিয়া, এবং ইউক্রেন—এগুলোতেই অধিকাংশ ঐতিহাসিক নগরী অবস্থিত। তবে আবিষ্কারের যুগে রাশিয়া পূর্বদিকে বিস্তৃত হয়েছিল, আর সাইবেরিয়া (এর মধ্যে রুশ সুদূরপ্রাচ্যও আছে) অঞ্চলের অধিকাংশ বসতি ইউরোপীয় রাশিয়ার তুলনায় তুলনামূলকভাবে নতুন।

অনেক প্রাচীন রুশ নগরীতে একটি ‘ক্রেমলিন’ (кремль) থাকে—মূলত ছোট-বড় দুর্গ বা কেল্লা—কোথাও ভালোভাবে টিকে আছে, কোথাও কম। সবচেয়ে বড় এবং দূরদূরান্তে সবচেয়ে বিখ্যাতটি হলো মস্কোরটি, যেখানে আধুনিক রুশ সরকারের কার্যালয়। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘‘দ্য ক্রেমলিন’’ নামে পরিচিত, যা রাশিয়ার (এবং পূর্বতন সোভিয়েত) সরকারের প্রতিশব্দ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মানচিত্র
রুশ সাম্রাজ্যের মানচিত্র
  • 1 মস্কো সাম্রাজ্যিক ইতিহাসের অধিকাংশ সময়ের রাজধানী। এখনও রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অগণিত ঐতিহাসিক ও আধুনিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
  • 2 সেন্ট পিটার্সবার্গ ১৭০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত, ১৮শ শতকের গোড়া থেকে বলশেভিক বিপ্লব পর্যন্ত রুশ রাজধানী ছিল। প্রতিষ্ঠার সময় রাশিয়ার ওই ভূমির দাবি খুবই দুর্বল ছিল, আর জায়গাটি ছিল প্রায় কারও আগ্রহহীন মশায় ভরা জলাভূমি। শহরতলির কিছু অংশ—যেমন পেতেরহফ, পাভলোভস্ক, গাচিনাপুশকিন—অতিমাত্রায় জাঁকজমকপূর্ণ সাম্রাজ্যিক প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত।
  • 3 নভগোরদ ৯ম শতক থেকে পরিচিত। কিয়েভে সরানোর আগে এটি একসময় রাস’ রাষ্ট্রের রাজধানী ছিল, পরে নভগোরদ প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্র। এখানকার ক্রেমলিনে ‘‘রাশিয়ার সহস্রবর্ষ’’ স্মারকটি রয়েছে—কিয়েভীয় রাসের প্রতিষ্ঠার ১০০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৮৬২ সালে উন্মোচিত, যেখানে রুশ ইতিহাসের বহু ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য আছে।
  • 4 কাজান তাতারস্তানের রাজধানী। এখানে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত একটি ক্রেমলিন আছে।
  • 5 পেত্রোজাভোদস্ক পিটার দ্য গ্রেটের নির্দেশে ১১ সেপ্টেম্বর ১৭০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত লৌহকারখানা ও কামান কারখানাকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এটি কারেলিয়ার রাজধানী। কাছের কিঝি দ্বীপে মধ্যযুগীয় কাঠের স্থাপত্যের মুক্ত-আকাশ জাদুঘর রয়েছে।
  • 6 প্সকভ একটি মধ্যযুগীয় নগরী—ক্রেমলিন ও একটি ক্যাথেড্রাল আছে।
  • 7 সেভাস্তোপোল গ্রিক-রোমান যুগে ‘খেরসোনেসাস টাউরিক্যা’ নামে পরিচিত। ৯৮৮ সালে এখানেই ভ্লাদিমির দ্য গ্রেট বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন। ১৩ ও ১৪ শতকে মঙ্গল বাহিনী বহুবার লুট করে এবং শেষ পর্যায়ে সব বাসিন্দা চলে যায়; ১৭৮৩ সালে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় কৃষ্ণসাগরীয় রুশ নৌবহরের ঘাঁটি হিসেবে। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে এখানেই বিখ্যাত অবরোধ সংঘটিত হয়। এখনও কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি।
  • 8 ওরেনবুর্গ ১৭৪৩ সালে সীমান্তবর্তী কৌশলগত সঙ্গমস্থলে প্রতিষ্ঠিত দুর্গনগরী। ১৭৭৩–১৭৭৪ সালের পুগাচভ বিদ্রোহে বড় ভূমিকা রাখে এবং পরবর্তীতে মধ্য এশিয়ায় রুশ সামরিক অভিযানগুলোর ঘাঁটি ছিল।
  • 9 পোকরভস্কোয়ে তুরা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত এই গ্রামেই রহস্যময় গ্রিগরি রাসপুতিনের জন্ম।
  • 10 শ্লিসেলবুর্গ ১৩২৩ সালে এখানে ওরেশেক দুর্গ নির্মিত হয় এবং একই বছরে সুইডেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • 11 স্তারায়া লাদোগা রাশিয়ার প্রথম রাজধানী বলে ধরা হয়। হাইপাটিয়ান কোডেক্স মতে, ভ্যার্যাগ নেতা রুরিক ৮৬২ সালে লাদোগায় এসে রাজধানী স্থাপন করেন। পরে তিনি রাজধানী নভগোরদে সরান, আর তাঁর উত্তরসূরি নভগোরদের ওলেগ তা কিয়েভে স্থানান্তর করেন।
  • 12 স্মোলেন্স্ক রাশিয়ার অন্যতম ঐতিহাসিক শহর। আংশিকভাবে টিকে থাকা ক্রেমলিনটি প্রথমে ইভান চতুর্থ ‘‘দ্য টেরিবল’’-এর আদেশে কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছিল; পরে ফিওদর প্রথম ও বরিস গদুনভের আমলে বর্তমান পাথরের কাঠামোয় রূপ পায়। (Q2337)
  • গোল্ডেন রিং প্রাচীন নগরীগুলোর একটি শৃঙ্খল।
সেরগিয়েভ পোসাদের ক্রেমলিন
  • 21 আর্খানগেলস্ক ২০শ শতক পর্যন্ত আটলান্টিকমুখী রাশিয়ার প্রধান সমুদ্রবন্দর।
  • 22 ইয়েকাতেরিনবুর্গ জার নিকোলাই দ্বিতীয় ও তাঁর পরিবারকে এখানে বন্দি রাখা হয় এবং পরে সোভিয়েত বিপ্লবীরা তাদের হত্যা করে। ২০০৩ সালে হত্যাস্থলে একটি গির্জা নির্মিত হয়।
  • 23 তোবোলস্ক (তিউমেন ওব্লাস্ত)। ১৫৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত—সাইবেরিয়ার প্রথম রাজধানী—উরালের পূর্বে একমাত্র অক্ষত পাথরের ক্রেমলিন এখানে।
  • 24 তুলা রাশিয়ার প্রথম আধুনিক অস্ত্র কারখানার স্থান—পিটার দ্য গ্রেট ১৭১২ সালে আদেশ দেন। উৎকৃষ্টমানের অস্ত্র, মেশিন টুল, সামোভার, অ্যাকর্ডিয়ন ও জিঞ্জারব্রেডের জন্য বিখ্যাত; প্রতিটিরই নিজস্ব জাদুঘর রয়েছে।
  • 25 ভিবর্গ আগে ছিল সুইডিশ বন্দর; ১৭১০ সালে পিটার দ্য গ্রেট দখল করেন এবং যুদ্ধশেষে সাম্রাজ্যে যুক্ত হয়। শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে সুন্দর একটি সুইডিশ দ্বীপ-দুর্গ রয়েছে।
  • কৃষ্ণসাগর রিসর্টসমূহ সাম্রাজ্যের বাকি অংশে বছরের বড় সময়জুড়ে বরফ-ঢাকা সাদা ভূমি, তাই সবচেয়ে উষ্ণ উপকূল—কৃষ্ণসাগরের ধার—রাজপরিবারের প্রিয় অবকাশযাপনস্থল ছিল। জাররা ক্রিমিয়ার ইয়াল্তার কাছে অঞ্চলের লিভাদিয়া ও মাসান্দ্রা প্রাসাদে ছুটি কাটাতেন; আর অভিজাতদের কেউ কেউ আবখাজিয়ার তে গ্রীষ্মকালীন বাসভবন গড়েন। দেশের ভেতরের ছিল রাজবংশের আরেক প্রিয় আশ্রয়—স্পা আর লেসার ককেশাসের মনোরম অরণ্যের জন্য। আরও দক্ষিণে , র উদ্ভিদ উদ্যানগুলোর সূচনা সাম্রাজ্যিক আমলেই।
  • ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথ — মস্কো থেকে প্রশান্ত উপকূলের ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত, রাশিয়াকে একসূত্রে গাঁথা বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ এবং ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর নির্মাণপ্রকল্প। যা সাম্রাজ্যের পতনের ঠিক আগে ১৯১৬ সালে সম্পন্ন হয়।
  • 26 খাবারোভস্ক আমুর ও উসুরি নদীর মিলনস্থলে গড়ে ওঠা বড় ও প্রাণবন্ত সীমান্তনগরী ট্রান্সকে সাইবেরিয়ান যাত্রার বড় আকর্ষণ বলা হয়। খ্যাতিমান ফার ইস্টার্ন মিউজিয়ামগুলোর আবাসও এখানে বটে।
  • 27 ভ্লাদিভস্তক মূলত চীনের অংশ—শাসক মানচুদের ঐতিহ্যবাহী মাতৃভূমি। ১৮৫৮ সালে আইগুন চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া এলাকাটি দখল করে এবং ১৮৬০ সালের ২০ জুন (২ জুলাই) সাইবেরীয় নৌবহরের পরিবহন জাহাজ ‘‘মানঝুর’’ লেফটেন্যান্ট-কমান্ডার আলেকসি কারলোভিচ শেফ্‌নারের নেতৃত্বে পৌঁছালে শহরটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা পায়। আজ এটি ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথের পূর্ব প্রান্তিক টার্মিনাস এবং প্রশান্ত মহাসাগরে রাশিয়ার প্রধান নৌঘাঁটি।
  • 28 কিয়েভ (কিয়েভ)। রুশ ইতিহাসে কিয়েভের গুরুত্ব রুশ-ইউক্রেনীয় টানাপোড়েনের একটি বড় কারণ—আর তা শহরের বিপুল ঐতিহাসিক নিদর্শনেও প্রতিফলিত: সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল, পেচেরস্ক লাভরা মঠ (উভয়ই ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান), কিয়েভ দুর্গ ও পুনর্নির্মিত গোল্ডেন গেট।
  • 29 পোলতাভা যুদ্ধ ইতিহাস জাদুঘর (পোলতাভা রাজ্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণাগার যুদ্ধক্ষেত্র), স্ট্রিট শ্‌ভেডস্‌কা মোহিলা (Шведська Могила вул.,), ৩২ (শহর থেকে উত্তর-পূর্বে ৫ কিমি। জিগিনা স্কোয়ার হয়ে বেশ কয়েকটি মার্শরুতকা যায়; বাস ৪ ও ৫ সরাসরি ‘‘দ্য মিউজিয়াম অব দ্য হিস্টরি অব পোলতাভা ব্যাটল’’ স্টপে যায়।)। রবি, মঙ্গল–বৃহস্পতি ০৯.০০–১৭.০০, শনি ০৯.০০–১৬.০০, সোম বন্ধ ১৭০৯ সালে এখানকার যুদ্ধেই পিটার দ্য গ্রেট সুইডিশ রাজা চার্লস দ্বাদশকে পরাজিত করেন—ইউরোপে রাশিয়ার মহান শক্তি হয়ে ওঠার মোড় ঘোরানো ঘটনা। এখানে একটি জাদুঘর ও সুইডিশ সমাধিক্ষেত্র আছে। সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ক্ষেত্রের আয়তন ১,৯০৬ একর। এলাকার ভেতরে ৪টি প্রাচীন বসতি ও ৩০টির বেশি সমাধি-টিলা (খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ ও খ্রিষ্টাব্দ ১০০০) রয়েছে।
  • 30 মিকোলাইভ (নিকোলায়েভ)। রুশ সাম্রাজ্য ও পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় এটি ছিল প্রধান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্র। শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রিগরি পোটেমকিন। তিনি সেন্ট নিকোলাস অব মাইরার নাম অনুসারে শহরের নাম দেন “নিকোলায়েভ”। স্বাধীনতার পর শহরের সরকারি নাম হয় ইউক্রেনীয় রূপের ইংরেজি উচ্চারণ “Mykolaiv”।

আজও শহরে আছে জাহাজ নির্মাণ ইতিহাসের নানা নিদর্শন—যেমন মিউজিয়াম অব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড দ্য ফ্লিট, পোটেমকিনের আবক্ষ মূর্তি, আর জাহাজ নির্মাণ স্মৃতিস্তম্ভ।

  • 31 কারোস্তা রুশ সাম্রাজ্য ও পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ছিল। ১৯৯২ সালে, লাতভিয়া স্বাধীনতা পাওয়ার পর ঘাঁটিটি পরিত্যক্ত হয়। সাম্রাজ্যিক যুগের টিকে থাকা স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেন্ট নিকোলাস নেভাল ক্যাথেড্রাল, জলাধার টাওয়ার, এবং কয়েকটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ।
  • 32 জর্জিয়ান মিলিটারি হাইওয়ে ১৯শ শতকের শুরুতে সাম্রাজ্যের ককেশাসে বিস্তারকালে সামরিক বাহিনী বর্তমান রূপে সড়কটির নির্মাণ শুরু করে। এই পথ ইউরোপ–এশিয়ার সীমানা ধরা গ্রেট ককেশাস পাহাড়শ্রেণি অতিক্রম করে, যা এক মহাকাব্যিক যাত্রার অনুভূতি দেয়।

তবে রাশিয়া–জর্জিয়ার সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দিলে পুরো পথ একটানা অতিক্রম করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।

  • 33 কুশকা (বর্তমানে সেরহেতাবাত)। ১৮৮৫ সালে রুশ সাম্রাজ্যের বাহিনী আফগানিস্তানের অংশবিশেষ দখল করে। এই ঘটনা ইতিহাসে “পান্জদেহ ঘটনাক্রম” নামে পরিচিত, যা ছিল “গ্রেট গেম”-এর শেষ দিকের বিশ্বজোড়া আলোচিত অধ্যায়। পরে প্রচারণায় কুশকাকে রুশ সাম্রাজ্য এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের “দক্ষিণতম বিন্দু” হিসেবে প্রচার করা হয়।

১৯১৩ সালে, রোমানভ রাজবংশের ত্রিশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে ১০ মিটার উঁচু একটি পাথরের ক্রুশ স্থাপন করা হয়, যাতে এই দাবিকে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় রাখা যায়।

  • 34 তাশখন্দ ১৮৬৫ সালের মে মাসে রুশ সাম্রাজ্য তাশখন্দ দখল করে এবং পরে এটিই রুশ তুরকিস্তানের রাজধানী হয়। প্রথম গভর্নর-জেনারেল ছিলেন জেনারেল কনস্তান্তিন পেত্রোভিচ ফন কৌফ্‌মান। ১৮৬৮ সালে তিনি বুখারাসমরখন্দ জয় করেন, আর ১৮৭৩ সালে খিভা অধিকার করেন। তাঁর সমাধি এখনো তাশখন্দ অর্থোডক্স ক্যাথেড্রালে সংরক্ষিত আছে।
  • 35 হেলসিঙ্কি ফিনল্যান্ড যখন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, তখন গ্র্যান্ড ডাচি অব ফিনল্যান্ডের রাজধানী হওয়ার পর কেন্দ্রীয় হেলসিঙ্কি সেন্ট পিটার্সবার্গের অনুরূপ স্থাপত্যশৈলীতে গড়ে ওঠে।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রাশিয়ার বাইরে ১৯শ শতকের রুশ সাহিত্য ও নথিপত্রের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ সংরক্ষিত আছে।

  • 36 ওয়ারশ ১৮শ শতক জুড়ে পোল্যান্ড তার স্বাধীনতা হারিয়ে প্রুশিয়া (পরে জার্মানি), অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও রাশিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়। আধুনিক পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ তখন রুশ অধিকারে ছিল। এই সময়ে শহরে বহু রুশ অর্থোডক্স গির্জা নির্মিত হয়। ১৯১৮ সালে পোল্যান্ড স্বাধীনতা ফিরে পেলে অধিকাংশ গির্জা ভেঙে ফেলা হয়। তবে দুটি গির্জা এখনো টিকে আছে—সেন্ট মেরি মাগদালিন ক্যাথেড্রাল ও সেন্ট জন ক্লাইমাকাস অর্থোডক্স চার্চ, যেগুলো এখনও পূর্ব অর্থোডক্স গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • 37 কার্স এই তুর্কি শহরের বহু সুন্দর সারিবাঁধা বাড়ি ১৮৭৮–১৯১৮ সালে রুশ শাসনামলের। তখন পুরনো শহরের বড় অংশ জালবৎ পরিকল্পনায় নতুন করে গড়া হয়, স্থানীয়রা যেটিকে ‘‘বাল্টিক শৈলী’’ বলে। কার্সে রুশ স্থাপত্যের মধ্যে আছে একটি মসজিদ—যা এক সময় রুশ অর্থোডক্স গির্জা ছিল (মূল দুটি গম্বুজ নেই)। কাছের -এর পাইন অরণ্যে আছে জার নিকোলাস দ্বিতীয়ের হাতে (শাসনকাল ১৮৯৪–১৯১৭) নির্মিত, এখন জীর্ণ এক শিকার-লজ। যদিও স্থানীয়রা তা ভুলভাবে ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের (শাসনকাল ১৭৬২–১৭৯৬) নামে ডাকে। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বহু জার্মান গ্রাম; তারা ভল্গা জার্মানদের বংশধর। ২০১১ সালে শেষ সদস্যের মৃত্যুতে ওই সম্প্রদায় বিলুপ্ত; এখন কেবল একটি লুথেরান কবরস্থান অতীতের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে।
  • 38 হারবিন উত্তর-পূর্ব চীনের একসময়ের রুশ ছাড়কৃত এলাকা আজও বহু রুশ উপনিবেশিক স্থাপনার সাক্ষী।

অঞ্চলটি নিতান্ত তীব্র শীতের জন্য পরিচিত; শীতের চরম সময়ে এখানে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বখ্যাত হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল। রুশ খাবারের জন্যও এ শহর বিখ্যাত, যদিও স্বাদে যুক্ত হয়েছে বেশ খানিকটা স্থানীয় রূপ। উইকিপিডিয়ায় Harbin

দালিয়ানের প্রাক্তন রুশ উপনিবেশিক সিটি হল
  • 39 দালিয়ান প্রাক্তন রুশ ছাড়কৃত এলাকা আজকের চীনের একটি বড় বন্দরনগরী। তখন এটি পশ্চিমাদের কাছে “দাল্‌নি” (Дальний) নামে পরিচিত ছিল। শহরের “রাশিয়ান স্ট্রিট”-এ এখনও বহু রুশ উপনিবেশিক স্থাপনা রয়েছে, যা আজ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

শহরের লুশুংকৌ জেলা রুশ শাসনামলে “পোর্ট আর্থার” (Порт-Артур) নামে পরিচিত ছিল, যেখানে রুশ নৌঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল।

  • 40 তিয়ানজিন (Tientsin)। আজকের বেইজিং-এর প্রধান সমুদ্রবন্দর—১৯০০–১৯২৪ সালে বহু দেশের পাশাপাশি রুশদেরও ছাড়কৃত এলাকা ছিল; ১৯২৪ সালে রুশ সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি সোভিয়েত ইউনিয়ন তা চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়। আজও সাবেক রুশ কনস্যুলেট দপ্তর সেই যুগের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
  • 41 হানকৌ (Hankow)। আজকের উহান-এর অংশ—১৯শ ও ২০শ শতকের গোড়ায় এখানে বহু বিদেশি ছাড়কৃত এলাকা ছিল, যার একটি ১৮৮৬–১৯২০ কালের রুশ এলাকার। আজ যে নিদর্শনটি সবচেয়ে চোখে পড়ে তা হলো হানকৌ অর্থোডক্স চার্চ—সাবেক ব্রিটিশ ও রুশ এলাকার সীমানায় অবস্থিত।
  • 42 সিটকা (আলাস্কা)। ১৭৯৯ সালে রাশিয়ান-আমেরিকান কোম্পানির আলেক্সান্দর বারানোভ প্রতিষ্ঠা করেন—রুশ আলাস্কার রাজধানী হয়। রাশিয়া যখন আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্রি করে, ১৮ অক্টোবর ১৮৬৭ তারিখে সিটকার ক্যাসেল হিলে হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়। (Q79804)
  • 43 ফোর্ট রস (ক্যালিফোর্নিয়া)। ১৮১২ সালে রাশিয়ান-আমেরিকান কোম্পানি এখানে পশম ব্যবসার জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপন করে।

কিন্তু আশপাশের সামুদ্রিক পশম-প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে ১৮৪১ সালে কেন্দ্রটি জন সাটারের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এটি গভীর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং জাতীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন (ন্যাশনাল হিস্টোরিক ল্যান্ডমার্ক) হিসেবে স্বীকৃত।

  • 44 রুশ ফোর্ট এলিজাবেথ, রুশ ফোর্ট এলিজাবেথ স্টেট হিস্টোরিকাল পার্ক, কাউয়াই কাউয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ১৯শ শতকে নির্মিত একটি দুর্গ। হাওয়াইয়ে টিকে থাকা শেষ রুশ দুর্গ—অন্যগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে দুর্গটি প্রায় ধ্বংসপ্রায়, তবে বাইরের প্রতিরেখা এখনও দেখা যায় ও ঘুরে দেখা সম্ভব। (Q4174808)

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE রুশ সাম্রাজ্য has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:প্রসঙ্গ|ব্যবহারযোগ্য}}