বিষয়বস্তুতে চলুন

-12.043333-77.028333
উইকিভ্রমণ থেকে

লিমা

পরিচ্ছেদসমূহ

একই নামের অন্যান্য জায়গার জন্য দেখুন লিমা (দ্ব্যর্থতা নিরসন).

লিমা হলো পেরুর রাজধানী এবং দেশটির সবচেয়ে বড় শহর। ১৫৩৫ সালে স্প্যানিশ বিজেতা ফ্রান্সিসকো পিজারো শহরটি গড়ে তোলেন। আজকের লিমা এক অনন্য মিশ্রণ-একদিকে আধুনিক মহানগর, অন্যদিকে বিশাল কিন্তু সুশৃঙ্খল বস্তি এলাকা, আর পুরনো শহরকেন্দ্রে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের গির্জা ও মঠ। প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্প্যানিশ শাসনের কেন্দ্র ছিল লিমা, তাই শহরজুড়ে সেই স্থাপত্যের ছাপ এখনো টিকে আছে।

খাবারের দিক থেকেও লিমা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানে উপকূল, পাহাড় আর আমাজন অঞ্চল। তিন দিকের নানা উপকরণ একসঙ্গে মিলে পেরুভিয়ান রান্নাকে করেছে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ। ঠান্ডা সমুদ্রস্রোতের কারণে এই উপকূলীয় অঞ্চল মাছ আর সামুদ্রিক খাবারে ভরপুর, আর সেগুলোই লিমার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।

অঞ্চল

[সম্পাদনা]

নিম্নোক্ত পাতাগুলিতে কলিয়াও প্রদেশ ও লিমা প্রদেশ এবং তাদের অন্তর্গত জেলাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লিমার বিভিন্ন জেলা
 বাররাঙ্কো
রাত্রিকালীন জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত এক বোহেমিয়ান উপকূলীয় পাড়া।
 কলিয়াও
উপকূলবর্তী একটি শহর। এর অন্তর্গত জেলা হলো: কলিয়াও, লা পার্লা, লা পুন্তা, বেলাভিস্তা, ভেন্তানিয়া, কারমেন দে লা লেগুয়া ই রেইনোসো এবং মি পেরু।
 কেন্দ্রীয় লিমা
"লিমা জেলা" (দিস্ত্রিতো দে লিমা) নামেও পরিচিত। এতে সেন্ট্রো হিস্টোরিকো, প্লাজা মায়র (প্লাজা দে আর্মাস), প্লাজা সান মার্টিন, গির্জাসমূহ, ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, প্রেসিডেন্ট ভবন, সংসদ ভবন এবং কেনাকাটার রাস্তা রয়েছে। এছাড়াও লা ভিক্টোরিয়াও অন্তর্ভুক্ত।
 পূর্ব লিমা
এই অঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে: লা মোলিনা, সিয়েনেগুইয়া, আত ভিতার্তে, সান্তা আনিতা, সান হুয়ান দে লুরিগানচো, লুরিগানচো-চোসিকা এবং চাকলাকায়ো।
 পশ্চিম লিমা
চোররিওস, সান ইসিদ্রো, মাগদালেনা দেল মার, পুয়েবলো লিব্রে, সান মিগুয়েল, সান লুইস, জেসুস মারিয়া এবং ব্রেনিয়া।
 মিরাফ্লোরেস
উচ্চবিত্তদের আবাসস্থল, যেখানে রয়েছে রেস্তোরাঁ, রাত্রিকালীন বিনোদন এবং হোটেল। এটি লিমার সবচেয়ে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকা। এখানেই প্রধান পর্যটন সংস্থাগুলি, বড় বড় হোটেল, এয়ারলাইন্স অফিস এবং বিদেশি দূতাবাসগুলি অবস্থিত। কেনাকাটার জন্য এই জেলাটি মূলত মূল চিত্রকলার জন্য (লা পাজ অ্যাভিনিউ), প্রাচীন সামগ্রী ও সস্তা হস্তশিল্পের জন্য (পেতিত থোয়ার্স অ্যাভিনিউ) পরিচিত।
 দক্ষিণ লিমা
এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অন্তর্গত জেলা হলো: সান বোরখা, সান্তিয়াগো দে সুরকো, সান হুয়ান দে মিরাফ্লোরেস, ভিলা মারিয়া দেল ত্রুনফো, ভিলা এল সালভাদর, পাচাকামাক, লুরিন, পুন্তা হারমোসা, পুন্তা নেগ্রা, সান বার্তোলো, সান্তা মারিয়া দেল মার এবং পুকুসানা।
 উত্তর লিমা
"লিমা নোর্তে" বা "কোনো নোর্তে" নামেও পরিচিত। এখানে রয়েছে: কোমাস, কারাবাইয়ো, পুয়েন্তে পিয়েদ্রা, সান্তা রোসা, আনকন, সান মার্টিন দে পোরেস, লোস অলিভোস, রিমাক এবং ইনডিপেন্ডেনসিয়া।

জানুন

[সম্পাদনা]
লিমা
জলবায়ু চার্ট (ব্যাখ্যা)
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
০.১
 
 
৩০
২০
 
 
 
০.১
 
 
৩২
২৩
 
 
 
৪.১
 
 
৩৩
২৫
 
 
 
 
 
২৭
২০
 
 
 
০.১
 
 
২৫
১৯
 
 
 
০.২
 
 
২৩
১৮
 
 
 
০.৯
 
 
২০
১১
 
 
 
০.৮
 
 
২২
১৫
 
 
 
০.৬
 
 
২৪
১৭
 
 
 
০.২
 
 
২৬
১৭
 
 
 
 
 
২৮
১৮
 
 
 
০.৩
 
 
২৯
১৮
°C-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in mm
উৎস: w:লিমা#জলবায়ু
Imperial conversion
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
 
 
৮৬
৬৭
 
 
 
 
 
৯০
৭৩
 
 
 
০.২
 
 
৯১
৭৭
 
 
 
 
 
৮১
৬৮
 
 
 
 
 
৭৭
৬৬
 
 
 
 
 
৭৩
৬৪
 
 
 
 
 
৬৮
৫২
 
 
 
 
 
৭২
৫৯
 
 
 
 
 
৭৫
৬২
 
 
 
 
 
৭৯
৬২
 
 
 
 
 
৮২
৬৪
 
 
 
 
 
৮৪
৬৪
°F-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in inches

লিমা আজ এক দ্রুতবর্ধমান মহানগর, যেখানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস করে। কাজের খোঁজে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে অনেকেই এখানে আসেন, তবে সবার ভাগ্যে সাফল্য জোটে না। ফলে শহরের প্রান্তে গড়ে উঠেছে বিশাল বস্তি এলাকা, যেখানে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব প্রকটভাবে চোখে পড়ে।

তবু লিমার মূল আকর্ষণ তার ইতিহাস আর স্থাপত্যে। প্রাক-হিস্পানিক যুগের নিদর্শন থেকে শুরু করে ঔপনিবেশিক আমলের ভবন-সবই এখানে একসঙ্গে মেলে। শহরে রয়েছে একাধিক জাদুঘর, যেমন বিখ্যাত মুসেও লারকো, যেখানে দর্শনার্থীরা পেরুর হাজার বছরের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন। উপকূল ও অ্যান্ডিজ পর্বতমালার পাদদেশ ঘেঁষে যে মোচে, চাবিন আর ইনকার মতো সভ্যতাগুলো জন্ম নিয়েছিল, তাদের উত্তরাধিকার এখনও টিকে আছে লিমার নানা প্রত্নস্থানে। শহরের ভেতর ও আশপাশে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘হুয়াকা’ নামে পরিচিত, যা লিমার অতীতকে আজও জীবন্ত রাখে।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

লিমা এক উপত্যকার শহর, চারপাশ ঘিরে রয়েছে বিরাট শুষ্ক মরুভূমি। বছরে গড়ে ৩ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয় না। তবুও শহরটি আশ্চর্যজনকভাবে সবুজ। যা অনেক পার্ক ও গাছে ভরপুর, যদিও সেগুলি পুরোটাই পৌরসভার কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকে আছে।

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া সাধারণত রৌদ্রোজ্জ্বল ও গরম থাকে। এই সময় সূর্যতাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি হয় এবং আল্ট্রা ভায়োলেট (ইউভি) সূচক সর্বদাই চরম পর্যায়ে থাকে। এমনকি ৫০ ফ্যাক্টরের সানস্ক্রিন ব্যবহার করেও দীর্ঘক্ষণ রক্ষা পাওয়া যায় না। তাই যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত এলাকায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রখর রোদের নিচে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো ঘোরার সময় তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।

বছরের বাকি সময়টায় লিমার আকাশ সাধারণত মেঘলা থাকে এবং দিনের তাপমাত্রা ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে, তবে সেই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে তা আরও ঠান্ডা মনে হয়। শহরের রাস্তার বায়ু দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, কারণ রাস্তাগুলো বেশ পুরনো, ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা যানবাহন এবং আবহাওয়া একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি করে।

কীভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]
হোর্হে চাভেজ বিমানবন্দরের প্রধান টার্মিনালের একটি দৃশ্য

বিমানে করে

[সম্পাদনা]

বিমানবন্দরটি দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ শহরের সঙ্গে যেমন সংযুক্ত, তেমনি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট আসে আমস্টারডাম স্কিফল (এএমএস  আইএটিএ), বোগোতা, মাদ্রিদ বারাখাস (এমএডি  আইএটিএ), মেদেলিন, মায়ামি বিমানবন্দর (এমআইএ  আইএটিএ), কুইতো, সান্তিয়াগো এবং টরন্টো থেকে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট আসে আটলান্টা বিমানবন্দর (এটিএল  আইএটিএ), ফোর্ট লডারডেল, হিউস্টন জর্জ বুশ বিমানবন্দর (আইএএইচ  আইএটিএ), নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দর (ইডব্লিউআর  আইএটিএ) এবং লন্ডন গ্যাটউইক (এলজিডব্লিউ  আইএটিএ) থেকে।

লিমা হলো দেশটির জাতীয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের প্রধান কেন্দ্র। এখানে লাতাম, জেটস্মার্ট পেরু, স্কাই পেরু এবং স্টার পেরু পরিষেবা প্রদান করে (নীচে দেখুন)।

বিমানবন্দরে ওয়াইফাই (উইগো) পাওয়া যায়, তবে এটি বিনামূল্যে নয়, এর জন্য অর্থ প্রদান করতে হয়।

বিমানসংস্থা ও গন্তব্য

[সম্পাদনা]
  • লাতাম '(পূর্বে ল্যান ও ট্যাম এয়ারলাইন্স)' -এই সংস্থা উত্তর আমেরিকা, স্পেন এবং সমগ্র লাতিন আমেরিকার বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে পরিষেবা প্রদান করে। এর গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে: আন্তোফাগাস্তা, আরেকুইপা, আয়াকুচো, বার্সেলোনা, বোগোতা, ব্রাসিলিয়া, বুয়েনোস আইরেস–এজেইজা, কাহামার্কা, কালামা, কালি, ক্যানকুন, কার্তাহেনা, চিকলায়ো, কনসেপসিয়ন, কর্দোবা, কুসকো, ফোজ দো ইগুয়াসু, গুয়ায়াকিল, হাভানা, ইলো, ইকুইতোস, হায়েন, হাউহা, জুলিয়াকা, লা পাজ, লস অ্যাঞ্জেলেস, মাদ্রিদ, মেদেলিন–জেএমসি, মেন্ডোজা, মেক্সিকো সিটি, মায়ামি, মন্টেগো বে, মন্টেভিডিও, নিউ ইয়র্ক–জেএফকে, অরল্যান্ডো, পিউরা, পোর্তো অ্যালেগ্রে, পুকালপা, পুয়ের্তো মালদোনাদো, পুন্টা কানা, কুইতো, রিও দে জেনেইরো–গালেয়াও, রোসারিও, সাল্টা, সান হোসে (কোস্টা রিকা), সান মিগেল দে তুকুমান, সান্তা ক্রুজ দে লা সিয়েরা–ভিরু ভিরু, সান্তিয়াগো, সাও পাওলো–গুয়ারুলহোস, তাকনা, তালারা, তারাপোতো, ত্রুজিয়ো এবং তুমবেস।

অন্য অভ্যন্তরীণ পরিষেবা প্রদানকারীর মধ্যে রয়েছে:

  • এটিএসএ (আতালাইয়া, চাচাপোয়াস, হুয়ানুকো, তিংগো মারিয়া)
  • জেটস্মার্ট পেরু[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (আরেকুইপা, কাহামার্কা, চিকলায়ো, কুসকো, পিউরা, তারাপোতো, ত্রুজিয়ো)
  • স্টার পেরু (কাহামার্কা, চিকলায়ো, হুয়ানুকো, ইকুইতোস, পুকালপা, তারাপোতো)
  • স্কাই পেরু (আরেকুইপা, কুসকো, ইকুইতোস, জুলিয়াকা, হাউহা, পিউরা, পুকালপা, তারাপোতো, ত্রুজিয়ো, তুমবেস)

বিমানবন্দরে আগমন অনেক সময় বেশ বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ভোরবেলা বা গভীর রাতে একসঙ্গে এসে পৌঁছায়, তাই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পার হতে কখনও কখনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিমানের দরজা থেকে বেরিয়ে কাস্টমস শেষ করতে ২০ থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কাস্টমসের বাইরে সাধারণত ভিড় থাকে। অনেক সময় পুরো পরিবার প্রিয়জনকে স্বাগত জানাতে আসে, আর পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত গাড়ি বা ট্যাক্সি পরিষেবার চালকেরা যাত্রীদের নাম লেখা বোর্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য কাস্টমসের সামনে একটি বড় আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে নিজের মানুষকে খুঁজে নেওয়া যায়, এবং তাড়াহুড়ো বা চাপের মুখে পড়তে হয় না।

বাইরে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই অনেক আক্রমণাত্মক ট্যাক্সিচালক ঘিরে ধরবে। তারা অবিরত ডাকাডাকি করবে যতক্ষণ না আপনি সরে যান। যদি বাস বা শাটল ধরার পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকেই কোথায় যেতে হবে তা জেনে নিন এবং ট্যাক্সিচালকদের অযথা সাহায্য করার ভান করতে দেবেন না। আর যদি উবারের মতো রাইডশেয়ার বুক করে থাকেন, সতর্ক থাকুন, কিছু ট্যাক্সিচালক ভুয়া উবার চালক সেজে বসে থাকে, এমনকি মোবাইলেও উবার অ্যাপ দেখাতে পারে। নিরাপত্তার জন্য বুক করা চালকের নাম জেনে নিন এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তিনি আসল চালক।

ট্রানজিট

[সম্পাদনা]

যদি আপনি লিমা হয়ে ট্রানজিট করেন, তাহলে বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সংযোগ যাত্রীদের জন্য আলাদা একটি হল পাওয়া যায়। এই যাত্রীদের পেরুর ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস পার হতে হয় না। তবে নির্দিষ্ট একটি নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা কেবল সংযোগ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। এরপরই তারা আন্তর্জাতিক গেটগুলির সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন। ভিড়ের কারণে বিমানবন্দর প্রায়ই নির্দিষ্ট ফ্লাইটের জন্য গেট নির্ধারণ করে না, এবং তা প্রস্থান করার দু’ঘণ্টারও কম সময় আগে ঘোষণা করা হয়।

ট্যাক্সি

[সম্পাদনা]

বিমানবন্দরের ট্যাক্সি চালকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অনানুষ্ঠানিক ট্যাক্সিগুলি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ তারা যাত্রীদের বারবার বিরক্ত করে।

বিশ্বস্ত যাতায়াতের জন্য আপনি গ্রীন ট্যাক্সি, ট্যাক্সি৩৬৫ ইত্যাদি অনুমোদিত সংস্থার ডেস্ক থেকে (যা কাস্টমস রিসেপশন এলাকায় অবস্থিত) নির্দিষ্ট ভাড়ায় ট্যাক্সি নিতে পারেন। চাইলে আগে থেকেই অনলাইনে বিশ্বস্ত কোম্পানির মাধ্যমে বুক করা যায়। গ্রীন ট্যাক্সি ব্যবহার করলে সেন্ট্রো হিস্তোরিকো যেতে ভাড়া পড়ে প্রায় ৫৫ সোল (ফেব্রুয়ারি ২০১৮), আর মিরাফ্লোরেস যেতে লাগে প্রায় ৬৫ সোল (ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। এসব অনুমোদিত কোম্পানি নিরাপদ।

তবে বিমানবন্দরের সীমানা পেরোলেই ভাড়া অনেকটা কমে যায়, মিরাফ্লোরেস যেতে সাধারণত ২৫–৩০ সোলের বেশি লাগে না। কিন্তু সেগুলি নিরাপদ নয়। সাধারণভাবে বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা অনিরাপদ, আর ট্যাক্সি চালকরাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। টার্মিনালের ঠিক বাইরে, কিন্তু এখনো বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা ট্যাক্সিগুলি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং বাইরের চেয়ে কিছুটা কম ভাড়ায় পাওয়া যায়। নিচে নিরাপদে ট্যাক্সি ব্যবহার করার কয়েকটি টিপস দেওয়া হলো।

সবসময় নিশ্চিত হোন ভাড়া কোন মুদ্রায় বলা হচ্ছে। মনে রাখবেন, ২৫ সোল আর ২৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে পার্থক্য অনেক বড়।

এক্সপ্রেস বিমানবন্দর বাস

[সম্পাদনা]

ঘণ্টায় একবার এক্সপ্রেস বাস চলে বিমানবন্দর থেকে মিরাফ্লোরেসের চারটি স্টপে। একমুখী টিকিটের দাম ২০ সোল। শেষ বাস রাত ১০টায় ছাড়ে।

গাড়ি ভাড়া

[সম্পাদনা]

বিমানবন্দরে গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় এভিস, বাজেট, হার্টজ, ন্যাশনাল এবং সিক্সট, পাশাপাশি স্থানীয় কোম্পানির কাছ থেকেও। সব কোম্পানির (শুধু সিক্সট বাদে) বুথ পাওয়া যায় লাগেজ সংগ্রহ ও কাস্টমস শেষ করার পর কিন্তু আগমনী হলে প্রবেশের আগে। সিক্সট-এর ক্ষেত্রে একজন প্রতিনিধি আপনাকে আগমনী হলে রিসিভ করবে এবং গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাবে।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

অ্যারোডিরেক্টো[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] বাস সরাসরি বিমানবন্দরের ভেতর থেকেই ছাড়ে। এটি সরকারি বাস সেবা, যা শহরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে বিমানবন্দরকে যুক্ত করে। জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত মোট ছয়টি রুট চালু রয়েছে। মিরাফ্লোরেসে যেতে চাইলে "সুর" রুটের বাস ধরতে হবে। তবে বিমানবন্দরের আশেপাশের এলাকা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ, তাই মূল্যবান জিনিসপত্র থাকলে, বিশেষত রাতে, এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস লিমা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিটার্ন টিকিটে এর খরচ ১২ মার্কিন ডলার, আর বিমানবন্দরের ভেতর থেকে ট্যাক্সি নিলে একমুখী প্রায় ২০ মার্কিন ডলার লাগে। সরকারি বাসে মিরাফ্লোরেস যেতে সময় লাগে ১–৩ ঘণ্টা (ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে), কিন্তু ট্যাক্সি বা এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস লিমায় সময় লাগে এক ঘণ্টারও কম।

বেশিরভাগ কোম্পানির বাস টার্মিনাল লা ভিক্টোরিয়ার পাশের দে লা রিপুব্লিকা রাস্তায় (উত্তর ও দক্ষিণমুখী উভয় দিকেই) অবস্থিত। যদিও এই এলাকা তেমন ভালো নয়, কিছু স্টেশন লা ভিক্টোরিয়ার শহরতলিতে (আভেনিদা জাভিয়ের প্রাদো ও পাশেও দে লা রিপুব্লিকা বরাবর) রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। এখানে ক্রুজ দেল সুর, তেপসা, অরমেনিও, লিনিয়া, আইটিটিএসএ, মোভিল ট্যুরস, ফ্লোরেস এবং সিভা’র মতো স্বনামধন্য কোম্পানি পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কোম্পানি লা ভিক্টোরিয়াতেই একাধিক টার্মিনাল পরিচালনা করে। পাশাপাশি উত্তর লিমার টুপাক আমারু এলাকায় [গ্রান টার্মিনাল তের্রেস্ত্রে প্লাজা নর্তে] এবং দক্ষিণ লিমার আকোতঙ্গোর আশপাশেও তাদের শাখা রয়েছে।

যদি আপনি উত্তর লিমায় বা বিমানবন্দরের কাছাকাছি থাকেন, তবে আধুনিক গ্রান টার্মিনাল তের্রেস্ত্রে প্লাজা নর্তে ব্যবহার করতে পারেন, যা ভ্রমণকারীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। সেখানে পৌঁছাতে অ্যারোডিরেক্টো বাসে প্রায় ৫০ মিনিট সময় লাগে। অ্যারোডিরেক্টোই একমাত্র সরকারি বাস, যা বিমানবন্দরকে শহরের সঙ্গে ছয়টি ভিন্ন রুটে যুক্ত করে। সেখানে যেতে চাইলে "টার্মিনাল নর্তে" রুট ধরতে হবে।

লিমা থেকে নিয়মিত বাস চলে নিম্নলিখিত মহাসড়কগুলোয়:

কোম্পানি ও টার্মিনাল

[সম্পাদনা]

কিছু প্রধান বাস কোম্পানি ও তাদের টার্মিনাল ঠিকানা নিচে দেওয়া হলো:

  • এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস লিমা, লিমা বিমানবন্দর (লিমা বিমানবন্দরে তাদের দুটি টিকিট কাউন্টার রয়েছে), +৫১ ১ ৪৪৬ ৫৫ ৩৯, ইমেইল: লিমা বিমানবন্দরকে মিরাফ্লোরেস জেলার সঙ্গে সংযুক্ত করা সরকারি বাস সেবা। মিরাফ্লোরেসে তাদের ৭টি স্টপেজ রয়েছে। একজনের জন্য একমুখী ২০ সোল (এস/২০), একই ফ্লাইটে একাধিক যাত্রীর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১৫ সোল (এস/১৫)
  • কারাকল এসএ, (টিকিট অফিস) আভেনিদা ব্রাসিল ৪৮৭, লিমা ১৫০৪৬, +৫১ ১ ৪৩১-১৪০০ ভেলোজ দেল নর্তে (আর্জেন্টিনা), ট্রান্সপোর্তেস দে তাস চোয়াপা ও তুর বাস (চিলি), এক্সপ্রেসো বলিভারিয়ানো (কলোম্বিয়া), রুতাস দে আমেরিকা (ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলা) এবং লা প্রেফেরিদা (বলিভিয়া)-এর বুকিং এজেন্ট।
  • সিয়াল, আভ. রিপুব্লিকা দে পানামা ২৪৬৯-২৪৮৫, লা ভিক্টোরিয়া, +৫১ ১ ২০৭-৬৯০০
  • সিভা, আভ. পাসেও দে লা রিপুব্লিকা নং ৫৬৯ - লা ভিক্টোরিয়া (পাসেও দে লা রিপুব্লিকা ও আভেনিদা ২৮ দে হুলিওর সংযোগস্থল), +৫১ ১ ৪৮১-১১১১ তাদের এক্সক্লুসিভা ব্র্যান্ডও আছে। তথ্যের জন্য এই লিংক ব্যবহার করা যায়: http://civa.com.pe/contacto/ সস্তায় যাত্রা সুবিধা দিলেও মান নিম্নমানের।
  • ক্রোমোটেক্স, আভ. পাসেও দে লা রিপুব্লিকা নং ৬৫৯, লা ভিক্টোরিয়া, +৫১ ১ ৪২৪-৭৫৭৫ লিমা, আরেকুইপা, তাকনা, কুসকো ও ত্রুজিল্লোতে যাতায়াত করে। তাদের আরেকটি টার্মিনাল লিমায় অবস্থিত আভ. নিকোলাস দে আরিওলা নং ৮৯৮, উর্ব. সান্তা কাতালিনা, লা ভিক্টোরিয়া।
  • ক্রুজ দেল সুর, আভ. জাভিয়ের প্রাদো এস্তে ১১০৯, লা ভিক্টোরিয়া (জাভিয়ের প্রাদো এস্তে ও নিকোলাস আরিওলা, লা ভিক্টোরিয়া), +৫১ ১ ৩১১-৫০৫০, +৫১ ১ ৪৩১-৫১২৫, নিঃশুল্ক ফোন নম্বর: ০৮০১-১১১১ (অভ্যন্তরীণ), ৭২-০৪৪৪ (অভ্যন্তরীণ) আরেকুইপা, ইকা, কুসকো, পুনো, চিক্লায়ো, ত্রুজিল্লো, পিসকো, আরেকুইপা, তাকনা, কুসকো, লা পাজ, সান্তিয়াগো, বুয়েনোস আইরেস, কালি, নাস্কা, গুয়াইয়াকিল, কুইটো, বোগোতামানকোরাতে যাতায়াত করে।
  • এক্সক্লুসিভা, আভ. জাভিয়ের প্রাদো এস্তে নং ১১৫৫ - লা ভিক্টোরিয়া, +৫১ ১ ৪৮১-১১১১ তাদের সিভা ব্র্যান্ডও রয়েছে। তথ্যের জন্য এই লিংক ব্যবহার করুন: http://excluciva.com.pe/contacto/
  • ট্রান্সপোর্তেস ফ্লোরেস, পাসেও দে লা রিপুব্লিকা ৬২৭ ও ৬৮৮, লা ভিক্টোরিয়া এবং আভ. আন্তোনিও বাজো #১২৭৪, আভ. বাউজাতে ই মেজা সিড্রা ১ (মালামাল প্রেরণের জন্য)।, +৫১ ১ ৪৮০০৭২৫, +৫১ ১ ৩৩২-১২১২, +৫১ ১ ৪২৪-০৮৮৮
  • আইটিটিএসএ, আভ. পাসেও দে লা রিপুব্লিকা ৮০৯, +৫১ ৯৫৬ ৪৮৭-৯৮৯ শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলীয় শহর চিম্বোটে, চিক্লায়ো, পিউরা, সুল্লানা, পাইতা, তালারা, মানকোরা ও ত্রুজিল্লোতে যাতায়াত করে।
  • লিনেয়া, আভ. পাসেও দে লা রিপুব্লিকা ৯৪১-৯৫৯ অথবা প্লাজা নর্তে (জেরার্দো উঙ্গার নং ৬৯১৭ ইন্টেরিয়র এলবি-১২ - টোমাস ভালে ও তুপাক আমারু প্রবেশপথ), ০৮০১-০০-০১৫ (অভ্যন্তরীণ) শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলীয় শহর কাহামারকা, চিক্লায়ো, চিম্বোটে, হুয়ারাজ ও ত্রুজিল্লোতে যাতায়াত করে।
  • মোভিল ট্যুরস, পাসেও দে লা রিপুব্লিকা ৭৪৯, লা ভিক্টোরিয়া (জাতীয় স্টেডিয়ামের সামনে), +৫১ ১ ৭১৬-৮০০০ জাভিয়ের প্রাদো এস্তে ১০৯৩, লা ভিক্টোরিয়ায় তাদের আরেকটি স্টেশন রয়েছে, যা ক্লিনিকা রিকার্দো পালমার সামনে ও কিয়া গাড়ির শোরুমের পাশে অবস্থিত।
  • ওলতুরসা, আভ. আরামবুরু ১১৬০, সান ইসিদ্রো (আভ. রিপুব্লিকা দে পানামার সংযোগস্থলের দক্ষিণ-পূর্বে, দেরকো সেন্টার গাড়ির শোরুমের পাশে), +৫১ ১ ৭০৮-৫০০০
  • ওর্মেনিও, আভ. জাভিয়ের প্রাদো ওয়েস্ট নং ১০৫৭, লা ভিক্টোরিয়া, +৫১ ১ ৪৭২-৫০০০, +৫১ ১ ৪৭২-১৭১০
  • পেরু হপ, তাদের কোনো টার্মিনাল নেই, কারণ তারা হোস্টেল ও হোটেল থেকে যাত্রী ওঠানামা করায়। তাদের অফিস ঠিকানা: আভেনিদা লারকো ৮১২ (সান মার্টিন সংযোগস্থল), মিরাফ্লোরেস (ওভালো মিরাফ্লোরেস থেকে হাঁটার দূরত্ব), +৫১ ১ ২৪২ ২১৪০, ইমেইল: অফিস খোলা থাকে সোম-শনি ০৯:০০–২১:০০, রবি ১১:০০–১৯:০০ আরেকুইপা, ইকা, কুসকো, পুনো, লা পাজ, নাস্কা, হুয়াকাচিনা, পারাকাস, কোপাকাবানা-তে যাতায়াত করে। ভাড়ার দাম সাধারণ বাসের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবে তারা বিনামূল্যে ট্যুর ও ছাড় দেয়
  • টেপসা (TEPSA), আভ. জাভিয়ের প্রাদো এস্তে ১০৯১, লা ভিক্টোরিয়া (জাভিয়ের প্রাদো এস্তে ও পাসেও দে লা রিপুব্লিকার সংযোগস্থলের পশ্চিমে), +৫১ ১ ৬১৭-৯০০০, +৫১ ৯৯০ ৬৯০-৫৩৪

পেরুর রেল নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, বর্তমানে এটি প্রধানত পণ্য পরিবহন ও পর্যটকদের আকর্ষণ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ফেরোকারিল সেন্ট্রাল[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] মাঝে মাঝে হুয়ানকায়ো থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চালায়।

  • 1 দেসামপারাদোস রেলওয়ে স্টেশন (এস্তাসিয়ন দে দেসামপারাদোস)। (Q5201438)

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

গণপরিবহনে

[সম্পাদনা]
ভিলা এল সালভাদর মেট্রো স্টেশন

লিমার গণপরিবহন নেটওয়ার্কে একটি মাত্র মেট্রো লাইন, আধুনিক বাস, কোস্টার এবং কোম্বি (যা স্থানীয়রা "মিক্রো" বলে) অন্তর্ভুক্ত। বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই ব্যবস্থা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

মেট্রো

[সম্পাদনা]

2 লিমা মেট্রো (Q139738) এটি তুলনামূলক নতুন একটি সাবওয়ে সিস্টেম। ২০২২ সাল পর্যন্ত শুধু ১ নম্বর লাইন চালু রয়েছে, যা ১১টি জেলার মধ্যে ৩৩টি স্টেশনে সেবা দেয়। এটি একটি উঁচু রেললাইন, যা উত্তর-দক্ষিণ দিকে চলে এবং ঐতিহাসিক কেন্দ্র ও মিরাফ্লোরেস থেকে ২-৩ কিমি পূর্বে অবস্থিত। তাই এটি পর্যটকদের জন্য তেমন কার্যকর নয়।

২ নম্বর লাইনটি পূর্ব-পশ্চিম দিকে কলিয়াও পর্যন্ত যাবে এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়ার কথা। এটি চালু হলে পর্যটকদের জন্য মেট্রোর আকর্ষণ অনেক বাড়বে।

দ্রুতগামী বাস (মেট্রোপলিতানো)

[সম্পাদনা]

মেট্রোপলিতানো (Q5351589) এটি লিমার একটি আধুনিক দ্রুতগতির বাস সিস্টেম। এখানে বড় আকারের হুইলচেয়ার-বান্ধব “বাঁকানো” বাস চলে, যা মূলত আলাদা নির্দিষ্ট লেনে চলাচল করে। প্রায় প্রতি ১ কিলোমিটার পরপর স্টেশন রয়েছে, তাই সাধারণ বাসের তুলনায় এটি অনেক দ্রুত।

ব্যবস্থাটি সাবওয়ের মতো কাজ করে: যাত্রীরা কার্ড ব্যবহার করে টার্নস্টাইল দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে এবং গন্তব্যে পৌঁছে আবার টার্নস্টাইল দিয়ে বের হয়। আলাদা করে বের হওয়ার কার্ড লাগে না, কারণ ভাড়া নির্দিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী পরিবর্তন হয় না।

প্রধানত একটি মূল রুট রয়েছে, যা উত্তর প্রান্ত থেকে লিমার কেন্দ্র দিয়ে দক্ষিণে সান ইসিদ্রো ও মিরাফ্লোরেস পর্যন্ত যায়। শহরের কেন্দ্র অংশে এসে রুটটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়। এখানে এক্সপ্রেস, সীমিত স্টপেজ ও লোকাল-এমন ভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়।

যাত্রার জন্য রিচার্জযোগ্য কার্ড ব্যবহার করতে হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২২ অনুযায়ী, কার্ডের দাম এস/৪.৫০ (ফেরতযোগ্য নয়) এবং একবার ভাড়া এস/২.৫০। প্রথমবার কার্ড কিনতে ন্যূনতম এস/৫ দিতে হয় (কার্ডের জন্য এস/৪.৫০ এবং ভাড়ার জন্য এস/০.৫০)।

যদি অল্প কয়েকবার ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং কার্ড কিনতে না চান, তাহলে কাউকে সরাসরি এস/২.৫০ দিয়ে অনুরোধ করতে পারেন যাতে তিনি তার কার্ড ব্যবহার করে আপনাকে স্টেশনে ঢুকতে দেন। তবে সিস্টেম থেকে বের হতে কার্ডের দরকার হয় না।

কিছু স্টেশন উত্তরমুখী ও দক্ষিণমুখী বাসের জন্য একই প্ল্যাটফর্মে অবস্থিত, আবার কিছু স্টেশন আলাদা। তাই প্রবেশের আগে দিকনির্দেশনা ভালোভাবে দেখে নিন।

এছাড়া, মেট্রোপলিতানো কয়েকটি “ফিডার রুট” (rutas alimentadoras[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]) পরিচালনা করে। এগুলো উত্তর ও দক্ষিণ টার্মিনালের আশপাশের ছোট রাস্তায় চলে এবং যাত্রীদের প্রধান টার্মিনালে পৌঁছে দেয়। উত্তর দিকের রুটগুলো “এএন-” এবং দক্ষিণ দিকের রুটগুলো “এএস-” দিয়ে শুরু হয়।

লিমার গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ (আউতোরিদাদ দে ত্রান্সপোরতে উরবানো) তাদের ওয়েবসাইটে একটি স্মার্টফোন অ্যাপ[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] দিয়েছে, যেখানে মেট্রোপলিতানো এবং অন্যান্য পৌরসভার বাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

পৌরসভা বাস

[সম্পাদনা]

বিআরটি ছাড়াও, শহরে অন্তত কয়েকটি "ট্রাঙ্ক রুট" (রুটা ট্রনকাল) বা "করিডর" (কোরেদোরেস) বরাবর বড় আধুনিক বাস চালু রয়েছে। এগুলোকে বলা হয় কোরেদোরেস কমপ্লেমেনতারিওস[অকার্যকর বহিঃসংযোগ], যা বিআরটির সঙ্গে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার অংশ। মোট ৪টি করিডর রয়েছে, এর মধ্যে:

  • নীল (কোরেদোর আসুল): টাকনা, গার্সিলাসো ও আরেকুইপা এভিনিউ বরাবর। বিশেষভাবে উপকারী লিমার ডাউনটাউন থেকে সান ইসিদ্রো এবং মিরাফ্লোরেস যাওয়ার জন্য। রুট ৩০১ ... ৩০৬।
  • লাল (কোরেদোর রোহো): জ্যাভিয়ের প্রাডো – লা মারিনা – রেড বরাবর। (রুট ২০১ ... ২৫৭)
  • বেগুনি (কোরেদোর মোরাদো): (রুট ৪০৪ ... ৪১২)
  • হলুদ (কোরেদোর আমারিয়ো): (রুট ১০৭)

পৌরসভা বাসগুলোর স্পষ্টভাবে চিহ্নিত স্টপেজ (পারাদেরোস) রয়েছে, যেখানে অন্তত প্রধান করিডর বরাবর সাইনবোর্ড ও বেঞ্চ বসানো থাকে। বাসের রুট নম্বর সাধারণত তিন অঙ্কের হয় (যেমন ৩০১)। ভাড়া প্রায় এস/১.৫ এবং তা কার্ড দিয়ে দেওয়ার কথা। তবে, যদি যাত্রীর কাছে কার্ড না থাকে, তবে চালক নগদ ভাড়া নেবে এবং নিজের কার্ড দিয়ে স্ক্যান করবে।

এই বাসগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য স্প্যানিশ উইকিপিডিয়ার কোরেদোরেস কমপ্লেমেনতারিওস পাতায় পাওয়া যাবে।

বেসরকারি বাস

[সম্পাদনা]

দুঃখজনকভাবে, পৌরসভা বাসগুলো সর্বত্র চলে না; এগুলো বিমানবন্দরের কাছাকাছিও যায় না। তাই লিমার অধিকাংশ এলাকা এখনো মূলত ছোট বেসরকারি বাসের মাধ্যমেই পরিষেবা দিয়ে থাকে। যা বিভিন্ন কোম্পানি চালায়। এসব বাসের নম্বর সাধারণত এক বা দুইটি অক্ষর ও কয়েকটি সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিমানবন্দর থেকে মাগদালেনা, মিরাফ্লোরেস বা সুরকো যেতে চাইলে আপনি “লাস ফ্লোরেস ১৮” (আইএম-১৮) নামের বড় নীল বাসে উঠতে পারেন। ভাড়া মিরাফ্লোরেসে গেলে এস/২ এবং সুরকোতে গেলে এস/২.৫০।

প্রতিটি বাস বা ভ্যানের পাশে আপনি দেখতে পাবেন যে এটি কোন কোন প্রধান সড়ক বরাবর চলে। যদিও গুগল ম্যাপস আপনাকে বাসস্টপ কোথায় আছে তা দেখাবে, বাস্তবে এটি কেবল একটি প্রস্তাব। কারণ বাসস্টপ শারীরিকভাবে চিহ্নিত নয়, এবং সাধারণভাবে চালক যাত্রীদের প্রয়োজন ও বাইরের সম্ভাব্য যাত্রীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে যে কোনো জায়গায় বাস থামাতে পারে।

কন্ডাক্টর সাধারণত বাসের দরজা দিয়ে (যা সচরাচর কখনো বন্ধ হয় না) হেলে দাঁড়িয়ে গন্তব্যগুলোর নাম জোরে ডাকতে থাকে। যদি তা পরিষ্কার না লাগে, তবে কন্ডাক্টরের কাছেই জিজ্ঞাসা করা ভালো। তবে এখানে পকেটমারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

যদিও বেসরকারি বাসগুলোর কোনো "আনুষ্ঠানিক" মানচিত্র নেই, একটি যথেষ্ট ভালো নির্দেশিকা পাওয়া যায় উইকিরুটস সাইটে। এছাড়াও একটি স্মার্টফোন অ্যাপ রয়েছে, তু রুটা

ট্যাক্সিতে করে

[সম্পাদনা]

যদি দূরে যেতে হয়, পাশের এলাকার মধ্যে ট্যাক্সি ভাড়া পড়বে প্রায় ৭–১০ সোল (এস/৭–১০) বা ২–৩ মার্কিন ডলার, তবে শর্ত হচ্ছে আপনি যদি স্প্যানিশ ভাষা ভালোভাবে বলতে পারেন। দীর্ঘ ভ্রমণের খরচ প্রায় ২৪–৩৪ সোল (এস/২৪–৩৪) বা ৭–১০ মার্কিন ডলার হতে পারে। বিমানবন্দর থেকে মিরাফ্লোরেসে যাওয়ার যৌক্তিক ভাড়া প্রায় ৬৫ সোল (এস/৬৫) বা ২৫ মার্কিন ডলার, যদিও বিমানবন্দরের ভেতর থেকে উঠলে খরচ আরও বেশি হতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ট্যাক্সিতে মিটার থাকে না। বরং ভাড়াটা উঠার আগে ঠিক করতে হয় অথবা ফোনে বুকিং করার সময়েই দাম ঠিক করা ভালো। যদি রাস্তায় ট্যাক্সি ডাকেন, তবে কখনোই ভাড়া ঠিক করার আগে গাড়িতে উঠবেন না।

কোন ট্যাক্সি বেছে নেবেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন এবং চেষ্টা করুন এলোমেলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সিগুলো এড়িয়ে যেতে।

লিমায় ট্যাক্সি ব্যবহার করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এখানে ভাগাভাগি ট্যাক্সি (শেয়ারড ট্যাক্সি) নিষিদ্ধ, তবে কিছু "তাক্সি কোলেক্তিভোস পিরাটা" (অবৈধ শেয়ার ট্যাক্সি) চলাচল করে। তাই ট্যাক্সিতে উঠার আগে পেছনের সিট বা ডিকিতে কেউ লুকিয়ে আছে কি না দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

পেরুতে প্রথমবার ভ্রমণকারীদের ট্রাফিক সহ্য করতে যথেষ্ট সাহস প্রয়োজন। লিমায় বিশ্বের অন্যতম বেপরোয়া চালকরা থাকে এবং ট্যাক্সি চালকরা তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।

পেরুতে (ট্যাক্সি সহ) যেকোন যান্ত্রিক জিনিসপত্র কেবল তখনই মেরামত করা হয়, যখন সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেক গাড়িই খারাপ বা অনিরাপদ অবস্থায় চলে। জানালা বা গাড়ির বাহিরের অংশে লক্করঝক্কর ধরনের ট্যাক্সি খুবই সাধারণ দৃশ্য।

যদি কোনো বিশ্বস্ত ট্যাক্সি না ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে গণপরিবহন ব্যবহার করাই উত্তম।

ট্যাক্সি নিরাপদে ব্যবহার করার টিপস:

  • কোনো মূল্যবান জিনিস (গয়না সহ) প্রকাশ্যে দেখাবেন না এবং সাধারণ পোশাকে থাকার চেষ্টা করুন।
  • আত্মবিশ্বাসের সাথে স্প্যানিশে চালকের সাথে কথা বললে সুবিধা হয়।
  • ট্যাক্সি ডাকবার আগে কয়েকজনকে (ট্যাক্সি চালক নয়) স্বাভাবিক ভাড়ার কথা জেনে নিন। যদি চালক স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কম বলেন, তবে বুঝতে হবে তিনি অন্য কোনোভাবে টাকা আয় করার পরিকল্পনা করছেন।
  • মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট এমন জায়গায় রাখুন যেখানে চালক খুঁজতে পারবে না বা দেখতে পাবে না।
  • আপনি কোথায় যাচ্ছেন সেটা জানুন। অন্ততপক্ষে পথ চিনেন বলে ভান করুন। সবসময় খেয়াল রাখছেন এমন দেখান, তবে শান্ত থাকুন।
  • যদি চালক আলাপ শুরু করেন, তাহলে বলে দিন যে আপনাকে লোকজন অপেক্ষা করছে, আপনি স্থানীয় মানুষ চেনেন এবং এই প্রথমবার লিমায় আসেননি।
  • খেয়াল রাখুন চালক আপনার সাথে যোগাযোগ করছে কি না।
  • সন্দেহ হলে উঠবেন না। প্রচুর ট্যাক্সি পাওয়া যাবে। যদি উঠার পর সন্দেহ হয়, তবে নিরাপদ মনে হলে নেমে পুরো ভাড়া দিয়ে দিন। চাইলে চালককে নিজের নির্বাচিত অন্য রাস্তা ধরতে বলুন।
  • কখনোই আপনার ফোনে থাকা ঠিকানা বা দিকনির্দেশনা চালককে দেখাবেন না। ঠিকানাটা মুখস্থ রাখুন অথবা লিখে রাখুন।

কিছু ট্যাক্সি চালক যাত্রীকে নির্দিষ্ট জায়গায় না নিয়ে গিয়ে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারে, যেখানে অপরাধীরা অপেক্ষা করছে এবং তারা অস্ত্র (বন্দুক বা ছুরি) দেখিয়ে হুমকি দিতে পারে। হোটেল বা হোস্টেলে পৌঁছানোর আগেই পাসপোর্ট, টাকা, ব্যাগ সবকিছু হারাতে পারেন। যদিও শহরের কেন্দ্রের ট্যাক্সি তুলনামূলক নিরাপদ, তবে বিমানবন্দর, খারাপ এলাকা এবং বিশেষ করে বাসস্টেশনে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

রাইডশেয়ার

[সম্পাদনা]

ক্যাবিফাই এবং উবার উভয়ই লিমায় চালু আছে। তবে ব্যস্ততম সময়ে বা খুব ছোট যাত্রার সময় কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে বিমানবন্দরে রাইডশেয়ার অনুমোদিত নয়।

সাইকেলে করে

[সম্পাদনা]

বৃহত্তর লিমায় সাইকেল চালানো বেশ জনপ্রিয়। অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষ এবং কিছু জেলা প্রশাসন সাইকেল চালানো উৎসাহিত করে, যেমন কিছু সড়কে সাইকেল লেন (সাইক্লোভিয়া) তৈরি করা হয়েছে। তবুও, পুরো মহানগর এলাকায় বিশৃঙ্খল ট্রাফিকের কারণে এই কাজটি কিছুটা বিপজ্জনক। তবে কিছু রুট, যেমন সমুদ্রতট বরাবর পথ, বেশ উপভোগ্য।

সিটি বাইক লিমা নামের একটি সেবা রয়েছে, যা নামের তুলনায় বিভ্রান্তিকর। এটি আসলে সাইকেল ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা, যেখানে সাইকেল পার্কিং স্টেশন থেকে সাইকেল নেওয়া যায়। তবে ২০২২ সালের শুরু পর্যন্ত এটি কেবল মিরাফ্লোরেস জেলা জুড়েই কার্যকর ছিল। ভবিষ্যতে পাশের সান ইসিদ্রোতেও সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

লিমা শহরে অনেক সাইকেলের দোকান আছে। তবে সবচেয়ে বেশি দোকান রয়েছে শহরের কেন্দ্র থেকে কয়েক ব্লক দূরে, জিরোন লুনা পিজারো এলাকায়। আভেনিদা মিগেল গ্রাউ আর জিরোন আন্তোনিও রাইমোন্ডির মাঝের ওই অংশে, আর আশেপাশের ব্লকগুলোতেও একাধিক দোকান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। (মানচিত্রে অবস্থান দেখতে পারেন এখানে: https://goo.gl/maps/vw6MnDUpGiQkREcw8 )। তাই অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ কেনার জন্য এটি খারাপ জায়গা নয়। তবে এই এলাকাটি খুব ব্যস্ত, কারণ এখানে অনেক বাসস্টেশন রয়েছে। তাই পকেটমার ও অন্যান্য ঝামেলা থেকে সাবধান থাকুন।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]
আভেনিদা পাসেও দে লা রিপুব্লিকা, যার মাঝের ভাগে মেট্রোপলিতানো চলে

যদি আপনার অত্যন্ত কঠিন পরিবেশে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে সাধারণত লিমায় গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না। এখানে সর্বত্রই যানজট সাধারণ ঘটনা, রাস্তাঘাট জটিল ও বিভ্রান্তিকরভাবে সাজানো, শহরের অনেক এলাকার রাস্তার মান খারাপ এবং পেরুভিয়ান চালকদের বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ চালকদের মধ্যে গণ্য করা হয়। এমন খ্যাতি দেশটির রাজধানীতেও সত্য প্রমাণিত হতে পারে। তবে একটি গাড়ি থাকলে শহরের জটিল গণপরিবহন ব্যবস্থার ঝামেলা এড়ানো যায় এবং পাচাকামাক বা শহরের বাইরে দূরের জায়গাগুলোতেও সহজে যাওয়া সম্ভব হয়।

লিমার কিছু অংশে গাড়ি চালানো তুলনামূলক সহজ। কেন্দ্রীয় লিমায় উপনিবেশিক যুগের সরু রাস্তা, প্রচুর পথচারী চলাচল (বিশেষত সেন্ট্রো হিস্টরিকোর পায়ে হাঁটার রাস্তা ও বারিও চিনোতে রাস্তার হকারদের ভিড়) এবং পার্কিংয়ের অভাবের কারণে গাড়ি চালানো চাপের হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন এলাকার মতো মিরাফ্লোরেস, বাররাঙ্কো, সান বোরহা অথবা সান্তিয়াগো দে সুরকোতে চওড়া রাস্তা ও আলাদা পথচারী চলাচলের কারণে গাড়ি চালানো তুলনামূলক সহজ মনে হয়। তবে কোথায় যাচ্ছেন বা লিমার কোন অংশে আছেন তার উপর নির্ভর করে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। সাধারণত, আপনি যদি এমন জায়গায় থাকেন যেখানে গণপরিবহনের সহজ সুবিধা আছে এবং যাত্রার গন্তব্যও একইভাবে সহজলভ্য, তবে গাড়ি বাদ দিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করাই উত্তম।

লিমা হলো পেরুর মহাসড়ক নেটওয়ার্কের কেন্দ্র। এখানে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের পানআমেরিকানা মিলিত হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটের মধ্যে রয়েছে উপকূলঘেঁষা কোস্তা ভেরদে, আভেনিদা পাসেও দে লা রিপুব্লিকা (যা এল জানহোন বা "বড় খাল" নামে পরিচিত এবং যেখানে মেট্রোপলিতানো চলে), এবং আনিয়ো পেরিফেরিকো যা শহরকে ঘিরে চলে। বেশিরভাগ মহাসড়কেই বিভিন্ন অংশে টোল দিতে হয়। যদিও কিছু টোল ক্রেডিট কার্ডে দেওয়া যায়, তবে বিদেশি কার্ড বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করে না, তাই নগদ রাখাই ভালো। জিপিএস নেভিগেশন সাধারণত নির্ভুল এবং লিমায় চলাফেরার জন্য এটি খুবই কার্যকর।

পেইড পার্কিং পাওয়া যায় তবে দামি, সাধারণত ঘণ্টায় ৫–৭ সোল (এস/৫–৭)। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান (যেমন মুসেও লারকো ও পাচাকামাক) অতিথিদের জন্য বিনামূল্যে পার্কিং সুবিধা দেয়, বিশেষত শহরের বাইরে। নির্দিষ্ট রাস্তার পার্কিং সাধারণত বিনামূল্যে, তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে, যেমন কাইওতে ফোরতালেসা দেল রিয়াল ফেলিপের প্রবেশদ্বারের আশেপাশে রাস্তার পার্কিংয়ের খরচ ৫ সোল হলেও তা পুরো দিনের জন্য বৈধ। তবুও গাড়ির সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আবদ্ধ পার্কিং গ্যারেজ ব্যবহার করাই নিরাপদ। লিমার চালকরা প্রায়ই নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখে, যদিও জায়গাগুলো হলুদ রঙের কার্ব ও নিষিদ্ধ চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত থাকে। স্থানীয়দের অবৈধ পার্কিং দেখে ভুলেও একই কাজ করবেন না। আইন প্রয়োগ সবসময় না হলেও মাঝে মাঝে হয় এবং এতে আপনার গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

রাতে দেরিতে গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন, কারণ তখন চালকদের ট্রাফিক আইন ভাঙার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, যেমন লালবাতি অমান্য করা।

কী দেখবেন

[সম্পাদনা]
লিমার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের প্লাজা দেল আর্মাস
  • ঐতিহাসিক ডাউনটাউন, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
  • সিরকুইটো মাগিকো দেল আগুয়া (ম্যাজিক ওয়াটার ট্যুর), হলো এক দারুণ ঝর্ণা ও আলোর প্রদর্শনী। এটি অনুষ্ঠিত হয় পার্কে দে লা রিজার্ভা এবং পার্কে ফারমিন তাঙ্গুইসে, যেখানে রাত নামলেই পানির ফোয়ারা আর রঙিন আলো মিলিয়ে তৈরি করে মুগ্ধকর পরিবেশ।
  • পার্কে দেল আমোর (প্রেমিকদের পার্ক) মিরাফ্লোরেস এলাকায়।
  • কোস্টা ভের্দে, লিমার সবুজ উপকূল যা সান মিগুয়েল থেকে চোরিয়ো পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • পর্যটক-বান্ধব এলাকা বারানকো, মিরাফ্লোরেস এবং সান্তিয়াগো দে সুরকো
  • ঐতিহাসিক স্থানসমূহ : পুয়েবলো লিবরে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কনকিস্টাডর যুগের একটি খ্রিস্টান স্মারক ক্রস ক্রুজ দেল ভিয়াহেরো।
  • লিমার সেরা শপিং মলসমূহ: প্লাজা নর্তে, জকি প্লাজা, লারকোমার, মল আভেন্তুরা প্লাজা, রিয়েল প্লাজা সালাভেরি।
  • ঐতিহাসিক গির্জাসমূহ: লিমার ক্যাথেড্রাল, সান্তো দোমিঙ্গো (সান মার্টিন দে পোরেস), সান্তা রোজা (সান্তা রোজা দে লিমা), নাজারেনাস (সেনিয়র দে লস মিলাগ্রোস), সান ফ্রান্সিসকো।
  • যাদুঘর: প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস জাতীয় জাদুঘর[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (পুয়েবলো লিবরে), শিল্পকলা জাদুঘর[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (পাসেও কলোন), মিউজিও পেদ্রো দে অসমা (বারানকো), মিউজিও রাফায়েল লারকো (পুয়েবলো লিবরে)।
  • পার্কে কেনেডি, মিরাফ্লোরেসের কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি বিনোদন এলাকার মাঝখানে এবং অনেক বিড়ালের জন্য বিখ্যাত ছিল, যেগুলো এখানে বসবাস করত।
  • হুয়াকা পুক্ল্লানা: প্রাক-ইনকা যুগের লিমা সংস্কৃতির একটি মন্দির (প্রায় খ্রিস্টীয় ৫০০ সাল)। এটি মিরাফ্লোরেস জেলায় অবস্থিত এবং শহরের অন্যতম জনপ্রিয় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। খোলা থাকে প্রতিদিন (মঙ্গলবার ও রবিবার বাদে), সকাল ০৯:০০ থেকে বিকাল ১৫:৩০ পর্যন্ত। গাইডেড ট্যুর আবশ্যক। প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ১৫ সোল।

কী করবেন

[সম্পাদনা]
পাচাকামাকে সূর্যের মন্দির
  • বাইক ট্যুরস অব লিমা, কালে বলিভার ১৫০, মিরাফ্লোরেস, +৫১ ১ ৪৪৫-৩১৭২ সোম–শুক্র ০৯:৩০–১৮:০০; শনি রবি ০৯:৩০–১৪:০০ লিমায় রয়েছে নানা ধরনের ট্যুর। পাবলিক ও ব্যক্তিগত সাইকেল ট্যুর, হেঁটে শহর ঘোরার ট্যুর, এমনকি খাবারের ট্যুরও। প্রতিটি ট্যুরে থাকেন ইংরেজিভাষী গাইড, আর আগেই বুকিং করা বাধ্যতামূলক। ভ্রমণ পরামর্শের তালিকায় এগুলো লিমার সেরা কার্যক্রমের মধ্যে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে। বাইকিং ট্যুর ৩৫–৯০ মার্কিন ডলার, অন্যান্য দামের তারতম্য রয়েছে, অর্থ প্রদান মার্কিন ডলারে
  • দ্য লিমা গুরমে কোম্পানি, মিরাফ্লোরেস, লিমা, পেরু, +৫১ ১ ৪৪৬-৬৮২৯ ২৪ ঘণ্টা একটি মিলিত নগর ও রন্ধনশিল্প ট্যুর। পর্যটকেরা স্থানীয় বাজার পরিদর্শন করবে, রান্নার হাতে-কলমে ক্লাস করবে এবং শহরের প্রধান জেলা ও ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন পেরুভিয়ান খাবার চেখে দেখবে। লিমায় অল্প সময় থাকলে এই ট্যুর দারুণ উপযুক্ত।
  • এক্সকুইসিতো পেরু, আভে গ্রাউ ৭১৫, বারানকো, +৫১ ৯১৫ ১৫৫ ৪৩০ ২৪ ঘণ্টা লিমার বিভিন্ন অঞ্চলে মজাদার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ হাঁটা ফুড ট্যুরের মাধ্যমে পেরুভিয়ান খাবারের জগৎ আবিষ্কার করুন। আরেকুইপা ও কুসকোতেও পাওয়া যায়। ৫৯ থেকে ১৫৯ মার্কিন ডলার, খাবারের ট্যুরের ধরন অনুযায়ী
  • লোকনৃত্যের প্রদর্শনী, হিরোস দে তারাপাকা ১৬৮ (প্লাজা ফ্রান্সিসকো বোলোগনেসি থেকে আভে ব্রাসিলের প্রথম বাঁ পাশে), +৫১ ১ ৭১৫৬৯৬০, ইমেইল: দুপুরের শো: শুক্র শনি ১৩:০০–১৭:৩০; ফোকলোর রাত: মঙ্গল বুধ ২১:০০–০০:১৫; বৃহস্পতি ২১:৪৫–০১:৩৫; শুক্র শনি ২২:০০–১৪:০০ লাইভ লোকনৃত্যের প্রদর্শনী, সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবার। দুপুরের শো, ফোকলোর রাত ও নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ শো থেকে বেছে নিন। প্রতি জন ৩৯.৫০–৬৮ সোলের মধ্যে
  • মিরাবাস বাস ও রোড ট্রেন ট্যুর, পার্কে কেনেডি, মিরাফ্লোরেসে পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, +৫১ ১ ২৪২-৬৬৯৯ তথ্য কেন্দ্র খোলা প্রতিদিন ০৯:০০–১৯:০০ লিমা ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে নানা রকম থিমভিত্তিক বাস ট্যুর—দিনের বেলা যেমন, তেমনি রাতেরও। এসব ট্যুরে কারাল ও পাচাকামাকের মতো ঐতিহাসিক স্থানেও ভ্রমণের সুযোগ মেলে। এছাড়া শহরের কেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখানোর জন্য বিশেষ রোড ট্রেনও চালানো হয়। বেশিরভাগ বাস ট্যুর: প্রাপ্তবয়স্ক ৭০ সোল, শিশু (৪–১০ বছর) ৫০ সোল, ৪ বছরের নিচে ফ্রি। সিটি সেন্টার রোড ট্রেন: প্রাপ্তবয়স্ক ৫ সোল, শিশু (৪–১০ বছর) ৩ সোল, ৪ বছরের নিচে ফ্রি। অন্যান্য ট্যুর ১০–২২০ সোল প্রতি জন।
  • মিরাফ্লোরেস সৈকতে প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউয়ে সার্ফিং।
  • মিরাফ্লোরেস সৈকতের উপকূলের উপরে প্যারাগ্লাইডিং।
  • লুরিনে পাচাকামাক ভ্রমণ করুন (মিরাফ্লোরেস থেকে আধা ঘণ্টা দূরে), একটি পবিত্র প্রাক-ইনকা নগরী।
  • মামাকোনায় যান (লুরিন, পাচাকামাকের পেছনে) এবং উপভোগ করুন লাইভ শো, যেখানে থাকবে ক্যাবালো পেরুয়ানো দে পাসো ঘোড়া ও সুন্দর মারিনেরা নৃত্য। টিকিট পাওয়া যায় মিরাবাস অফিসে, মিরাফ্লোরেসের সেন্ট্রাল পার্কে।
  • মিরাফ্লোরেসে হুয়াকা পুক্ল্লানা ভ্রমণ করুন, যেখানে রয়েছে প্রাক-ইনকা যুগের ধ্বংসাবশেষ।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

মুদ্রা বিনিময়

[সম্পাদনা]

লিমাতে ইউরো আর মার্কিন ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রা বদলানো খুবই কঠিন। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মুদ্রাও (চিলি ছাড়া) সাধারণ মানি এক্সচেঞ্জ ও ব্যাংকে বদলানো যায় না। বিমানবন্দরে কিছুটা নমনীয় এক্সচেঞ্জ অফিস পাওয়া যেতে পারে, তবে ওরা প্রায়ই অযৌক্তিক সার্ভিস ফি আর বিনিময় হার নেয়।

মিরাফ্লোরেসে রাস্তায় ক্যাম্বিস্তার (cambistas) মাধ্যমে নিরাপদে টাকা বদলানো সম্ভব, তবে প্রতারণা এড়াতে কিছু সহজ নিয়ম মানতে হবে। প্রথমে নিশ্চিত হোন যে ক্যাম্বিস্তা ভেস্ট-ইউনিফর্ম পরে আছে, যা প্রমাণ করে যে সে একজন অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী ক্যাম্বিস্তা। সবসময় বিনিময় হার (tipo de cambio) জিজ্ঞেস করুন। বিশেষ করে যদি অনেক টাকা বদলান, তবে বিভিন্ন ক্যাম্বিস্তার সঙ্গে তুলনা করা ভালো। কিছু প্রতারক ক্যালকুলেটরে ফাঁকি দেয়, আর আপনি টেরও পাবেন না। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজস্ব ক্যালকুলেটর আনা, অথবা মোবাইল ফোনের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা। শেষে খেয়াল করুন যে ক্যাম্বিস্তা আপনাকে যে নোটগুলো দিচ্ছে তাতে তার সীল (sello) আছে কিনা। এভাবে, যদি কখনো নকল নোট বের হয়, আপনি ফিরে এসে অভিযোগ করতে পারবেন। ক্যাম্বিস্তার কাছ থেকে নকল নোট পাওয়া বিরল, তবে সীল চাইলে সততার উৎসাহ বাড়ে এবং আপনার জন্য একধরনের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

টাকা উত্তোলন

[সম্পাদনা]

সব জায়গার মতো লিমাতেও সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এটিএম থেকে সোলেস তোলা। লিমা শহরে সর্বত্র ব্যাংক আছে, আর কিছু ব্যাংকের এটিএমে নিরাপত্তা প্রহরী থাকে। তবে প্রায়ই ব্যাংক প্রতি উত্তোলনে অনেক টাকা ফি কেটে নেয়। তাই একবারে যতটা সম্ভব বেশি টাকা তোলা সাশ্রয়ী হয়। বিসিপি (BCP) কাহেরোস সাধারণত সর্বোচ্চ এস/৭০০ পর্যন্ত উত্তোলন করতে দেয়। ইন্টারব্যাংক অতিরিক্ত ফি নেয় (প্রায় ১৮ মার্কিন ডলার একটি ৫০ মার্কিন ডলারের লেনদেনে)।

এটিএম ব্যবহার করার সময় সবসময় সতর্ক থাকুন, কারণ কেউ আপনাকে অনুসরণ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে পারে।

দোকান

[সম্পাদনা]

বাদ্যযন্ত্র

[সম্পাদনা]

যদি পেরুর লোকবাদ্যযন্ত্র কেনার আগ্রহ থাকে, তবে কা. কান্তুয়ারিয়াসে চারাঙ্গো, কেনা, আন্তারা ইত্যাদি বিক্রি করে এমন দোকান আছে। সময় থাকলে এই দোকানগুলির মধ্যে কিছুতে শিক্ষক খুঁজে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে, যাতে আপনি কেনা যন্ত্র বাজানো শিখতে পারেন।

হস্তশিল্প

[সম্পাদনা]

হস্তশিল্প কিনতে চাইলে মিরাফ্লোরেসের আভেনিদা পেতিত থোয়ার্সে যান, যেখানে অসংখ্য হস্তশিল্পের দোকান আছে। অথবা, পুয়েব্লো লিব্রের আভেনিদা লা মারিনায় যেতে পারেন।

সুপারমার্কেট

[সম্পাদনা]

প্রধান সুপারমার্কেটগুলো হলো ওং, মেট্রো, প্লাজা ভেয়া, ভিভান্দা আর টটুস। এগুলো লিমার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে।

খাওয়া-দাওয়া

[সম্পাদনা]
লিমার উপকূলঘেঁষা কলাও বন্দরে গেলে চেখে দেখতে পারেন বিশেষ এক পদ-অক্টোপাস সেভিচে ।

স্প্যানিশ রাজপ্রতিনিধিদের সময়কাল থেকে লিমার ইতিহাসে রন্ধনশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিকভাবে শহরটির খ্যাতি অনেক বেড়েছে। এর একটি বড় কারণ হলো ২০০৬ সালের আন্তর্জাতিক গ্যাস্ট্রোনমি সম্মেলন (মাদ্রিদ ফুসিয়ন), যেখানে লিমাকে ঘোষণা করা হয়েছিল “আমেরিকার রন্ধনশিল্পের রাজধানী”। বর্তমানে লিমার খাবারের জগৎ আরও বৈচিত্র্যময়, যেখানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ধরণের রান্না পাওয়া যায়।

লিমার বহু রেস্তোরাঁর দেয়া সুযোগগুলোর (অফার) মধ্যে, অবশ্যই সেভিচে (ceviche) সবার প্রথমে চেখে দেখা উচিত। শুধু এটি পেরুর জাতীয় খাবার বলেই নয়, বরং এর অতুলনীয় স্বাদের জন্যও। পেরুর খাবারের প্রতি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেসিপি হিসেবে সেভিচে এখন বিশ্বের নানা টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে। তবে আসল স্বাদ উপভোগ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই লিমাতে থাকতেই এটি খেতে হবে, যেটিকে বলা হয় সেভিচের মক্কা। প্রায় প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি সেভিচেরিয়া আছে। তাছাড়া অধিকাংশ ক্রিওলো রেস্তোরাঁতেও মেনুতে সেভিচে থাকে। এমনকি দেশিটির উচ্চমানের নুভেল কুইজিন (nouvelle-cuisine) রেস্তোরাঁতেও এই পদটি পরিবেশন করা হয়।

কিছু জায়গায় পেরুর খাবার ঝাল ও ভারী হয়ে থাকে। খাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন কোনো খাবার পিকান্তে (ঝাল) কিনা, কারণ সাধারণত এর মানে দাঁড়ায় খুব ঝাল। একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার বেশ ভারী হতে পারে, যদিও তা সুস্বাদু ও তাজা উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে রান্না করা হয়।

খাবারের তালিকায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পায় চীনা ও জাপানি রান্না, যা যথারীতি পেরুভীয় প্রভাব বহন করে। চীনা রেস্তোরাঁ, যাদের বলা হয় চিফাস (chifas), শত শত নয়তো হাজার হাজার রয়েছে। এগুলো সাধারণত পাড়া-মহল্লার সরল রেস্তোরাঁ, যেখানে প্রচুর সামুদ্রিক খাবার ও মুরগির পদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে জাপানি রেস্তোরাঁ তত বেশি নেই, বরং তারা উচ্চমানের ও দামি। এদের মূল আকর্ষণ হলো সারা বছরব্যাপী সবচেয়ে তাজা ও বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক খাবার পরিবেশন করা।

ভ্রমণকারীরা যদি ফালাফেল বা শাওয়ারমা স্যান্ডউইচের খোঁজ করেন, তবে জেনে খুশি হবেন যে পার্কে কেনেডিতে একটি চমৎকার ক্যাফে রয়েছে, যেখানে এই ধরনের মধ্যপ্রাচ্যের খাবার যুক্তিসঙ্গত দামে পাওয়া যায়।

পুরো লিমা শহরজুড়েই কেএফসি, পিজা হাট, ম্যাকডোনাল্ডস, সাবওয়ে, পাপা জনস আর স্থানীয় চেইন বেম্বোসের মতো ফাস্টফুড দোকান সহজেই চোখে পড়বে। তবে বার্গার কিং, চিলিস আর টিজিআই ফ্রাইডেস তুলনামূলকভাবে কম, যদিও মিরাফ্লোরেস এলাকায় এগুলো পাওয়া যায়। আর হ্যাঁ, লিমায় এলে অবশ্যই বেম্বোসের পেরুভীয় ধাঁচের হ্যামবার্গার আর ঐতিহ্যবাহী পেরুভীয় স্যান্ডউইচ একবার চেখে দেখা উচিত। এতে আপনার প্রতিদিনের ফাস্টফুডে যোগ হবে একেবারে ভিন্ন স্বাদ।

পানীয়

[সম্পাদনা]
  • পিসকো সাওয়ার- হলো পেরুর জাতীয় পানীয়। আঙুর থেকে তৈরি বিশেষ এক ধরনের ব্র্যান্ডি, যাকে বলা হয় ‘পিসকো’, তা দিয়েই বানানো হয় এই অনন্য স্বাদের পানীয়টি। পেরু ভ্রমণে গেলে অন্তত একবার পিসকো সাওয়ারের স্বাদ নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভ্রমণকারীরা জেনে মজা পেতে পারেন যে চিলির মানুষ দাবি করে পিসকো সাওয়ার তাদের নিজস্ব পানীয়, কিন্তু আসলে তা নয়। শহরের বিভিন্ন বারে এই পানীয়ের কিছু ভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যায়। তবে সাবধান থাকতে হবে, এর সতেজ আর মিষ্টি স্বাদ আপনাকে সহজেই বেশি খাইয়ে ফেলতে পারে, আর দ্রুত মাতালও করে দিতে পারে।
  • ইনকা কোলা পেরুর সবচেয়ে জনপ্রিয় সফট ড্রিঙ্ক। এটি কয়েকটি সোডার মধ্যে একটি, যেটিকে কোকা কোলা হারাতে পারেনি (অবশেষে কোকা কোলা কোম্পানি এটি কিনে নেয়)। এটি হলুদ রঙের এক ধরনের ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, যার স্বাদ অনেকটা হিয়েরবা লুইসা-র মতো।
  • জুগোস লিমার সর্বত্রই দারুণ ফলের রস পাওয়া যায়। বাজারে মাত্র এস/০.৫০ থেকে শুরু করে এক গ্লাস টাটকা কমলার রস কেনা যায়, আর কিছুটা দামি রসও পাওয়া যায়। সুর্তিদোস, যেখানে একাধিক ফল একসঙ্গে মেশানো থাকে, সেগুলোও বেশ সুস্বাদু।
  • চিচা মোরাদা একটি সতেজ, বেগুনি রঙের অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি তৈরি হয় বেগুনি ভুট্টা, আনারস, দারুচিনি, লবঙ্গ ও চিনি একসঙ্গে সিদ্ধ করে।
  • এমোলিয়েন্তে একটি গরম পানীয়, যা বার্লি, ভেষজ, চিনি ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত রাতের বেলা ফেরিওয়ালারা এটি বিক্রি করে, প্রায় এস/১ মূল্যে। শীতকালে এটি বিশেষভাবে উপভোগ্য।
  • স্টারবাকস কফিও সর্বত্রই সহজলভ্য, আপনার যদি প্রতিদিনের ক্যাফেইনের প্রয়োজন মেটাতে হয়, তাহলে নিতে পারেন।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]

সুরকো, মিরাফ্লোরেস, সান বোরহা আর সান ইসিদ্রো শহরের সবচেয়ে সুন্দর আর নিরাপদ এলাকা। যদিও এসব এলাকায় থাকার খরচ পুরোনো শহরকেন্দ্র বা অন্য এলাকার চেয়ে বেশি হতে পারে, তবে বড় বাজেট হোটেলের কিছু সুযোগ-সুবিধা এখানে পাওয়া যায়।

মনে রাখতে হবে, পুরোনো শহর রাতে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]

যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখেন তবে হস্তক্ষেপ করবেন না, যদি না নিশ্চিত থাকেন আপনি আসলে কী করছেন। অনেক অপরাধী, এমনকি পকেটমারও, বন্দুক, ছুরি ইত্যাদি বহন করে এবং হুমকি অনুভব করলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।

সাধারণভাবে, লিমায় নিরাপদ থাকার একটি পরীক্ষিত উপায় হলো নিজেকে কিছুটা নিচু প্রোফাইলে রাখা। দামী ঘড়ি বাড়িতে রেখে যান, দামি স্যুট পরবেন না এবং রাস্তায় ট্যাক্সি ডাকতে গেলে ল্যাপটপ বহন করবেন না। আরামদায়ক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও হাসিখুশি মনোভাব বজায় রাখুন। যদি পর্যটকের মতো পোশাক পরে বাইরে যেতে হয়, তবে সরাসরি ট্যাক্সি ডাকুন, সামান্য অতিরিক্ত সময় ও খরচ আপনার নিরাপত্তার জন্য মূল্যবান হবে।

দেশটিতে পর্যটকদের বিরুদ্ধে খুব বেশি সহিংস অপরাধ না থাকলেও সুযোগসন্ধানী চুরি প্রচুর। সবসময় পকেটমারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। ব্যাগ, ক্যামেরা, ব্যাকপ্যাক বা সানগ্লাস থাকলে সবসময় নিজের কাছে রাখুন। ভিড়ের জায়গায় ব্যাকপ্যাক সামনে নিয়ে নিন এবং কেনাকাটা শক্ত করে ধরুন। সবসময় সতর্ক থাকুন এবং চারপাশের লোকজন খেয়াল করুন। অতিরিক্ত বন্ধুসুলভ কেউ এগিয়ে এলে, এমনকি করমর্দন করতে চাইলে, কথাবার্তা সীমিত রাখুন, একে করে তারা চলে যাবে। ভদ্র সাহায্যপ্রদ মানুষ স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত বন্ধুসুলভদের এড়িয়ে চলুন।

ফুটবল সহিংসতা

[সম্পাদনা]

বড় ফুটবল ম্যাচের আগে ও পরে স্টেডিয়ামের আশপাশ এড়িয়ে চলুন, কারণ "বারাস ব্রাভাস" (হুলিগানরা) সহিংস হতে পারে। সেখানে যেতে চাইলে পরামর্শ নিন। মাঝে মাঝে এমনকি পর্যটকপ্রিয় এলাকাতেও প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক গোষ্ঠী বা ধর্মঘটে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে মারামারি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে দ্রুত সরে যান, সম্ভব হলে বন্ধ দরজার আড়ালে আশ্রয় নিন। সাধারণত এসব যুবক প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না, তবে পুলিশের হস্তক্ষেপের আগে সর্বোচ্চ কেউ পাথর ছুঁড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্য এলাকা

[সম্পাদনা]

লিমার কিছু এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ। মিরাফ্লোরেস ও সান ইসিদ্রোতে ধনী পেরুভিয়ান ও পর্যটক বেশি থাকায় প্রচুর পুলিশি টহল থাকে। অন্যদিকে লা ভিক্টোরিয়া অনেক বিপজ্জনক। অভিজ্ঞ সঙ্গী ছাড়া বা দিনের বেলায় জনবহুল জায়গায় না হলে সেখানে না যাওয়াই ভালো। ডাউনটাউন লিমায় টহল থাকে, তবু সাবধান থাকুন। কায়াও (আলাদা শহর) রুক্ষ এলাকা, যাওয়ার আগে পরামর্শ নিন। বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা ভালো হলেও বাইরে লাগেজ নিয়ে বের হলে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

যৌনতা

[সম্পাদনা]

নিরাপত্তার জন্য পেরুর যৌন পরিবেশ বোঝা জরুরি। পেরু সাধারণত রক্ষণশীল হলেও বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্বে উন্মুক্ত। ফলে কিছু বিদেশি পুরুষ হঠাৎ স্থানীয় নারীদের আগ্রহের কেন্দ্র হতে পারেন, তবে আচরণের অঘোষিত সীমা লঙ্ঘন করলে প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন। নারীরা অনিচ্ছুক দৃষ্টি বা তাকানোর শিকার হতে পারেন, তবে অনেক দেশের তুলনায় সহিংসতা বা ধর্ষণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।

একটি সমস্যা হলো পেপেরা। এরা ১৬–২৫ বছর বয়সী নারী যারা ক্লাবে বিদেশিদের মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করে ডাকাতি করে। সাধারণত দু’জন মিলে কাজ করে, তবে বড় দলও থাকে। পুরুষ "পেপেরোরা" নারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে মাদক মিশিয়ে ডাকাতি ও ধর্ষণ করে। এসব সাধারণত মিরাফ্লোরেসের পার্কে কেনেডি, প্লাজা দে আর্মাসে দেখা যায়। বারটেকিলা রকডিস্কো ও আলবাজোস রেস্তোরাঁ ও পিসকো বার কুখ্যাত স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আরেকটি সাংস্কৃতিক ধারণা হলো "ব্রিচেরা" (বা "ব্রিচেরো")। প্রথম ধরণের ব্রিচেরা শুধুই প্রেম বা বিয়ের আশায় বিদেশিদের খোঁজে। দ্বিতীয় ধরণের ব্রিচেরা যৌনতার বিনিময়ে উপহার বা অর্থ চায়। এরা নির্ভরযোগ্যভাবে গর্ভনিরোধ ব্যবহার করে না, ফলে যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি। সম্পর্ক হলে অবশ্যই কন্ডম ব্যবহার করুন।

ট্যাক্সি

[সম্পাদনা]

যেকোনো ট্যাক্সি ধরবেন না, বিশেষত বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সময়। সাধারণ ভাড়ার (এস/৫০) জায়গায় এস/১০০–২০০ দাবি করা হয়। নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ট্যাক্সি ব্যবহার করুন।

কিছু ট্যাক্সিচালক ডাকাতি, অপহরণ বা সহযোগী হতে পারে। বেশিরভাগ চালক সৎ হলেও বিদেশি বা ধনী দেখালে সাবধান থাকুন। হোটেল থেকে ট্যাক্সি ডাকুন বা অফিসিয়াল "রেডিও ট্যাক্সি" নম্বর সংগ্রহে রাখুন। পর্যটক তথ্যকেন্দ্র থেকেও ট্যাক্সি ডাকা যায়।

উবার, ক্যাবিফাই, ইনড্রাইভ, বিট ও ইজি রাইড-শেয়ার অ্যাপ লিমায় চালু আছে। এগুলো সাধারণত ট্যাক্সির চেয়ে সস্তা ও নিরাপদ। বিট ও ইনড্রাইভে প্রস্তাবিত ভাড়া পাওয়া যায়, দর-কষাকষিও সম্ভব। স্থানীয়রাও এগুলো ব্যবহার করে, কারণ ট্যাক্সিচালকদের সঙ্গে দর-কষাকষি ঝামেলার।

দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ

[সম্পাদনা]

খুব কম হলেও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ পাসপোর্ট দেখতে চাইতে পারে, যদিও এখন আর পাসপোর্টে প্রবেশের সীল দেওয়া হয় না। তখন তারা জরিমানা বা থানায় নেওয়ার হুমকি দেয়। আসলে তারা অর্থ চায়। এক্ষেত্রে বিনয়ী হতে পারেন, কিন্তু দৃঢ় থাকুন। আসল পাসপোর্ট না দেখিয়ে মোবাইলে ছবি দেখানোই উত্তম।

সুবিধা ও সহায়তা

[সম্পাদনা]

দূতাবাস

[সম্পাদনা]

দূতাবাসগুলোর বেশিরভাগই সান ইসিদ্রোতে এবং কিছু রয়েছে সংলগ্ন হেসুস মারিয়ায়, লা ভিক্টোরিয়ায়, মিরাফ্লোরেসেলিমা জেলার বিভিন্ন স্থানে।

পরবর্তী গন্তব্য

[সম্পাদনা]
মাচু পিচ্চু
নাজকা রেখাচিত্র

আপনি যদি লিমা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা করেন, তবে বিমানবন্দরের ট্যাক্স ৩১ মার্কিন ডলার। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এই ট্যাক্স ৭.৪০ মার্কিন ডলার, যা টিকিট কেনার সময়ই যুক্ত হয়ে যায়। নিরাপত্তা তল্লাশী চৌকিতে প্রমাণ হিসেবে চেক-ইন কাউন্টার থেকে প্রতিটি টিকিটের পিছনে একটি স্টিকার নিতে হবে।

লিমার চারপাশের পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে অবস্থিত আবাসিক শহরগুলো থেকে অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায় এবং এগুলো কেন্দ্রীয় লিমা থেকে একদিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত ।

আপনি যদি আপনার পরবর্তী গন্তব্যে বিমানে যেতে চান, তবে "লাস ফ্লোরেস ১৮" (আইএম-১৮) বাসে বিমানবন্দরে যেতে পারেন (মিরাফ্লোরেস/মাগদালেনা/সুরকো থেকে) অথবা যেকোনো মাইক্রোবাসে উঠতে পারেন যার গায়ে "তোদো ফসেত্ত/আইরোপুয়ের্তো" লেখা আছে। মিরাফ্লোরেস থেকে যাত্রা প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় এবং ভাড়া দিতে হয় এস/২।

যদি আপনি দীর্ঘ দূরত্বের বাসে যেতে চান, তবে উপরের "#কীভাবে যাবেন" অংশে উল্লিখিত বাস কোম্পানি, তাদের টার্মিনালের অবস্থান এবং গন্তব্য তালিকা দেখুন।

লিমা থেকে কিছু জনপ্রিয় গন্তব্য হলো:

  • আরেকুইপা - দক্ষিণ পার্বত্য অঞ্চলের "সাদা শহর"।
  • কাহামার্কা - প্রতি ফেব্রুয়ারিতে রঙিন ‘‘কার্নাভাল’’ অনুষ্ঠিত হয়।
  • কুসকো - ইনকা সভ্যতার কেন্দ্র। ‘‘ক্রুজ দেল সুর’’ নামে বিলাসবহুল পর্যটক বাস দিনে দুইবার চলাচল করে। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান মাচু পিচ্চু কুসকো থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার ট্রেন ভ্রমণের দূরত্বে।
  • হুয়ানকাইও - আন্দেস পর্বতমালা পেরিয়ে মনোরম ট্রেনে পৌঁছানো যায়।
  • হুয়ারাজ - একটি পর্বতারোহণ কেন্দ্র।
  • ইকুইতোস - উত্তরের ‘‘সেলভা’’ (জঙ্গল) অঞ্চলের শহর।
  • ইকা - মরুভূমির শহর, যেখানে ‘‘হুয়াকাচিনা’’ নামের একটি মরূদ্যান রয়েছে।
  • মাতুকানা - এবং আনতানকাল্লো জলপ্রপাত।
  • নাজকা - প্রাচীন ও রহস্যময় নাজকা রেখাচিত্র-এর স্থান।
  • পিউরা - উত্তর উপকূলের একটি শহর।
  • পুকাল্লপা - বাস বা বিমানে পৌঁছানো যায় এবং এটি লিমার সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত একমাত্র প্রধান নদীবন্দর। এখান থেকে নৌকায় ইকুইতোস যাওয়াও সম্ভব।
  • তারমা - "আন্দেসের মুক্তো"।
  • ত্রুজিল্লো - উত্তর উপকূলের এক সুন্দর শহর।
  • তুম্বেস - উত্তর উপকূলের একটি শহর, যেখানে মনোমুগ্ধকর সৈকত রয়েছে।

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE লিমা has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:শহর|ব্যবহারযোগ্য}}