শৈবাল ফুল বা অ্যালগাল ব্লুম হল এমন এক প্রাকৃতিক ঘটনা, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির শৈবাল (বিশেষ করে অ্যালেক্সান্দ্রিয়াম, কারেনিয়া) এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়া (যা নীল-সবুজ শৈবাল নামে পরিচিত) — এরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বংশবৃদ্ধি করে। জলের মধ্যে বংশবৃদ্ধিকারী এই শৈবালগুলি প্রায়শই বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে, যার ফলে জল ব্যবহারযোগ্য থাকে না এবং তা বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে।
পরিচিতি
[সম্পাদনা]
শৈবাল সাধারণত অতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জলজ জীব। কিন্তু এদের ঘনত্ব এতটাই বেশি হয় যে তাদের উপস্থিতির কারনে জলের রঙও পরিবর্তিত হয়ে যায়। অনেক সময় জলের উপর এক ভাসমান অস্বচ্ছ স্তরের উপস্থিতি দেখা যায় যা আসলে অসংখ্য শৈবালের সমাগম। সায়ানোব্যাকটেরিয়া নামক শৈবালের উপস্থিতিতে জল সবুজ হয়ে ওঠে, আর কিছু শৈবালের কারণে জল লালচে রঙ ধারণ করে, (যাকে রেড টাইড বলা হয়)। অনেকে মনে করেন, বাইবেলে বর্ণিত সেই মহামারী ঘটনা যেখানে নীল নদীর জল রক্তে পরিণত হয়েছিল, তা প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ প্রজাতির অ্যাল্গাল ব্লুমের জন্যই হয়েছিল। তবে এই ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে দ্বিমত আছে।
শৈবালের বংশবিস্তার সাধারণত পুষ্টিকর পদার্থের আধিক্য ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে ঘটে। তবে এই ঘটনার সাথে ফুলের কোন সম্পর্ক নেই। তাদের বংশবিস্তার প্রক্রিয়া ভিন্ন।
তবে এই জীবগোষ্ঠীগুলো সব সময় ক্ষতিকর নয়। বরং শৈবালের বিশেষ প্রজাতি সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে পৃথিবীর অক্সিজেন-নির্ভর প্রাণের আবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। শৈবাল ও উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট, যা সূর্যালোক থেকে পুষ্টি তৈরি করতে সাহায্য করে তা সম্ভবত সায়ানোব্যাকটেরিয়ার থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ফুলের পরাগরেণুও বিপুল পরিমাণে জমে অ্যালগাল ব্লুমের মতো দেখাতে পারে তবে তা ক্ষতিকর নয়।
গন্তব্যস্থল
[সম্পাদনা]- 1 গ্রেট সল্ট লেক, উটা। এই হ্রদের সুবিশাল জলরাশির উপর দিয়ে লুসিন কাটঅফ নামক একটি রেলপথ অগ্রসর হয়, যা প্রোমন্টরি উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে হ্রদটিকে তিন ভাগে ভাগ করেছে: উত্তর-পূর্ব বাহু, উত্তর-পশ্চিম বাহু (যা গানিসন বে নামে পরিচিত) এবং দক্ষিণ বাহু। এই রেলপথ হ্রদের একাংশের উপর একটি অপ্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি করেছে, যা জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। বাঁধে জলপ্রবাহের জন্য তিনটি ৩০ মিটার প্রশস্ত ফাঁক রয়েছে, যা স্বাভাবিক জলপ্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত নয়। গানিসন বে অঞ্চলের সাথে সরাসরি কোনো নদী প্রবাহের যোগ না থাকায় হ্রদের এই অংশের জল অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি লবণাক্ত। এই অতিরিক্ত লবণাক্ততা ভিন্ন প্রজাতির শৈবালের জন্ম ও বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই বিবিধ প্রজাতির শৈবালের উপস্থিতির ফলেই এই অঞ্চলে বাঁধের দুই পাশে জলের রঙে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে একটি নতুন ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণ বাহুর জল উত্তর-পশ্চিম বাহুতে প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং ২০১৭ সালের এপ্রিল নাগাদ দুই বাহুর জলস্তর প্রায় সমান হয়ে আসে।
- 2 লা মাকারেনা, কলম্বিয়া। এই স্থান লিকুইড রেইনবো নামে পরিচিত একটি নদীর জন্য বিখ্যাত যার জলের রং লাল। তবে এই রঙের প্রকৃত কারন শৈবালের বংশবিস্তার নয়, বরং অপর এক উদ্ভিদ প্রাজাতি এর জন্য দায়ী। তবে এর গঠনপ্রকৃতি জলে ভাসমান শৈবালের মতোই।
- 3 ইরি হ্রদের পশ্চিমাংশ। এখানকার টোলেডো অঞ্চলের নিকটে, হ্রদের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে প্রায়শই শৈবালের আধিক্য দেখা যায়। হ্রদের জলের উপর শৈবালের ফুলের এই আস্তরন মাঝে মাঝে ক্লিভল্যান্ড অঞ্চল অবধি বিস্তার লাভ করে।
সাবধানতা
[সম্পাদনা]জলের মধ্যে সায়ানোব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকলে সেই জল কখনোই পান করা উচিত নয় এবং ফুটিয়ে নিলেও সেই জলের বিষাক্ত উপাদানসমূহ দূর হয় না। কোন জলাশয়ের জলে মাঝারি মাত্রায় শৈবালের উপস্থিতি থাকলে সেখানে সরাসরি সাঁতার কাটা বিপজ্জনক না হলেও ছোট শিশুদের সেই জল থেকে দূরে রাখাই ভালো, কারণ তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে জল পান করে ফেলতে পারে। পোষা প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর, যারা জিভ দিয়ে চেটে নিজেদের শরীর পরিষ্কার করে, সেইসময় তারা বিপুল পরিমাণে বিষাক্ত পদার্থ আহরণ করতে পারে। তাই পোষা কুকুকরকে জল থেকে দূরে রাখুন। শৈবাল আক্রান্ত জল ত্বকে জ্বালার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে, তাই সাঁতারের পর পরিষ্কার, দূষণমুক্ত জলে স্নান করাই শ্রেয়।
শামুক বা ঝিনুক জাতীয় কিছু প্রাণী যারা শৈবালকে আহার হিসাবে গ্রহন করে তাদের দেহে শৈবালের বিষাক্ত পদার্থ জমে থেকে। ফলে তারাও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।
অনেক স্থানে শৈবাল-আক্রান্ত জলাশয়ে স্নান নিষিদ্ধ এবং সেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করা উচিত। কিছু কিছু স্থানে কোন নিয়মাবলী লাগু না হলেও সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]{{#assessment:প্রসঙ্গ|রূপরেখা}}