বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

কখনো কখনো ভ্রমণকারী ব্যক্তি কোনো নতুন ও অপরিচিত জায়গায় কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর এক ধরণের অদ্ভূত মানসিক চাপ অনুভব করতে শুরু করেন। সেখানে অপরিচিত স্থানীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির কারণে তিনি বিরক্ত হন। যার ফলে তিনি স্থানীয় মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণু হয়ে ওঠেন এবং ঘরছাড়া হওয়ার কষ্ট তাকে পেয়ে বসে। এসব কিছু মিলিয়ে ভ্রমণকারীর মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং চিন্তা-চেতনা বিগড়ে যায়। এই অবস্থাকেই সাংস্কৃতিক ধাক্কা বা কালচার শক বলা হয়।

যখন কেউ দীর্ঘ ভ্রমণে বের হয় অথবা এমন জায়গায় যায়, যা তার পরিচিত পরিবেশ ও সংস্কৃতির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা– তখন এই অভিজ্ঞতা হওয়ার সম্ভাবনা অধিক থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন মার্কিন ভ্রমণকারী ব্যক্তি যদি ইংরেজিভাষী কোনো কানাডীয় অঞ্চলে যায়, তাহলে তার কালচার শক বা সাংস্কৃতিক ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে। কিন্তু একই ব্যক্তি যদি ভারতে ভ্রমণ করে, তাহলে সেক্ষেত্রে তার এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। এছাড়া কখনও কখনও এমনও হয় যে, ভ্রমণকারী মনে করে, অমুক দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ করলে সে তেমন সাংস্কৃতিক ধাক্কার সম্মুখীন হবে না। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা যায় যে, অপ্রত্যাশিতভাবেই তার মানসিক অস্থিরতা শুরু হয়ে গেছে এবং সেখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি তাকে অস্বস্তিকর লাগতে শুরু করেছে। এমনকি নিজের দেশের অপরিচিত কোনো অঞ্চলে গিয়েও অনেকেই সাংস্কৃতিক ধাক্কার শিকার হয়, যা তাদের কাছে আরো বেশি বিস্ময়কর মনে হয়। কারণ এমনটা তারা একেবারেই কল্পনা করে না।

দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণকারীরা কখনো কখনো এর বিপরীত পরিস্থিতিতেও পড়তে পারেন। কারণ যখন তারা দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করে নিজেকে একটি নতুন সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে নিজের দেশে ফিরে আসেন, তখন তাদের কাছে অনেক কিছুই অদ্ভুত ও অচেনা মনে হতে পারে। অথচ এসব আগে সবসময় খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হতো। এই ধরণের অনুভূতিকে বিপরীত সাংস্কৃতিক ধাক্কা বা রিভার্স কালচার শক বলা হয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা নিয়ে জরিপ করলে দেখা যায়, নৃতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে মদ্যপানের হার সবচেয়ে বেশি। গবেষকরা মনে করেন যে, এর অন্যতম কারণ হলো বিপরীত সাংস্কৃতিক ধাক্কা অর্থাৎ নিজেকে ভিন্ন সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিয়ে দেশে ফিরে এসে নিজের সংস্কৃতিকে হঠাৎ অস্বাভাবিক মনে হওয়া।

অনুধাবন

[সম্পাদনা]

প্রথমবার নতুন কোনো সংস্কৃতির সংস্পর্শে এলে সাধারণত অনুভূতি জগতে একটি "মধুচন্দ্রিমা" পর্ব আসে এবং এই সময়ে চারপাশের সবকিছু অদ্ভুত রকমের আকর্ষণীয়, নতুন অভিজ্ঞতায় ভরপুর ও উত্তেজনাপূর্ণ মনে হয়। ব্যক্তিভেদে এ ধাপটি কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে; আবার কখনো কয়েক সপ্তাহও চলতে পারে।

কিন্তু এই পর্ব শেষ হলে অনেক ভ্রমণকারীর মধ্যেই ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে শুরু করে। কারণ সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ও নতুন পরিবেশের অজানা দিকগুলি তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এছাড়াও স্থানীয় রীতিনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে প্রায়শ ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। এসবের সঙ্গে ভাষার ব্যবধান যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এমনকি ভ্রমণকারী স্থানীয় ভাষা জানলেও তার শারীরিক ভঙ্গিমা, ভদ্রতা প্রকাশের পদ্ধতিগত ভিন্নতা কিংবা আলাপচারিতার ধরন ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে তখন ভ্রমণকারীর ওপর একাকীত্ব ভর করতে শুরু করে। এছাড়া নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর জন্য সৃষ্টি মানসিক চাপ শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে। আপনি তখন ক্লান্তি, বিরক্তি কিংবা হালকা অসুস্থতা বোধ করতে পারেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে। তখন সাংস্কৃতিক ধাক্কার প্রভাব অনেকটা কমে আসে। ভ্রমণকারী যখন নতুন পরিবেশে থাকতে থাকতে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও জীবনধারার ধরণ বুঝতে শুরু করে, তখনই সেই সংস্কৃতি তার কাছে স্বাভাবিক মনে হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রীতিনীতি, মানুষের আচরণ ও তাদের চিন্তাধারা তার কাছে বোধগম্য হয়ে যায়। একই সঙ্গে সে শেখে যে, কীভাবে অচেনা বা জটিল পরিস্থিতি সামলাতে হয়; কখন ধৈর্য ধরতে হবে; কখন মানিয়ে নিতে হবে এবং কখন নিজের কৌশল বদলাতে হবে। এভাবেই ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক ধাক্কা কমে আসে এবং নতুন সমাজ তার কাছে আর অচেনা থাকে না; বরং আপন পরিবেশে রূপ নেয়। একই সঙ্গে অন্য সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা তার নিজের সংস্কৃতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন ও উপলব্ধির জন্ম দেবে। এক অর্থে, ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ না পেলে নিজের সংস্কৃতিকে পুরোপুরি বোঝা যায় না।

ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা অনেক সময় অপরিচিত দেশ বা অঞ্চলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব দেখায়, যা স্থানীয়দের তাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। তাই সর্বদা আপনি একজন ভালো অতিথি এবং আপনার দেশের একজন সম্মানজনক দূত হয়ে থাকার চেষ্টা করুন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষকে শ্রদ্ধা করুন।

লক্ষণসমূহ

[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক ধাক্কার ফলে নানা রকম শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

  • ছোটখাটো সমস্যায় সহজেই অভিভূত হয়ে পড়া বা অকারণে ভেঙে পড়া;
  • একঘেয়েমি বা প্রচণ্ড বিরক্তিবোধ হওয়া;
  • অতিরিক্ত ঘুম, অধিক খাবার গ্রহণ বা অতিরিক্ত মদ্যপান /পানাহার করা;
  • নিজেকে অতিরিক্ত লজ্জাশীল, অনিরাপদ, একাকী, দুঃখিত বা দুর্বল বোধ করা;
  • মাথাব্যথাসহ অন্যান্য শারীরিক ব্যথা অনুভূত হওয়া;
  • বাড়ির প্রতি প্রচণ্ড টান বা নস্টালজিয়া (হোমসিকনেস);
  • স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি; অতিরিক্ত সমালোচনা করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে অতিমাত্রায় আদর্শময় হিসেবে কল্পনা করা;
  • বিরক্তি বা খিটখিটে মেজাজ, বিশেষ করে স্বাগতিক দেশের মানুষদের প্রতি;
  • স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় চিন্তিত হয়ে পড়া;
  • নিজেকে মানুষের থেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং গভীর একাকীত্ব বা অসহায়ত্ব অনুভূত হওয়া।

প্রস্তুতি

[সম্পাদনা]

নতুন কোনো সংস্কৃতির দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণের আগে, সেই সংস্কৃতি সম্পর্কে আগে থেকে জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ইতিহাস, সামাজিক রীতি-নীতি, জীবনযাত্রার পদ্ধতি, ভাষা এবং এর যে সকল বিষয়ে তোমার আগ্রহ রয়েছে—তাদের সম্পর্কে তোমার পড়াশোনা করা উচিত। পড়াশোনা বলতে কেবল ভাসাভাসা ধারণা বা চটকদার তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং চেষ্টা করো এমন উৎস থেকে পড়তে, যেখানে সেই সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে; যেখানে বোঝানো হয়েছে যে, স্থানীয়রা কেন এই সংস্কৃতি ধারণ করেছে বা তাদের এমন আচার-আচরণের পেছনে কী ধরনের প্রেরণা ও যুক্তি রয়েছে। তবে বিদেশ ভ্রমণে যদি অল্প দিনের জন্য যান, তখন হয়তো সেই দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে না। কিন্তু যদি আপনি পড়াশোনার জন্য বা দীর্ঘ সময় অবস্থানের জন্য বিদেশে যান, তবে আগে থেকে ওই সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া খুব উপকারী। অবশ্য বই পড়ে বা ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য কখনোই বাস্তব অভিজ্ঞতার সমান হয় না। তারপরও সামান্য ধারণা থাকলে নতুন জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, এমন উৎস থেকে তথ্য নেওয়া উচিত নয়, যা অন্য সংস্কৃতিকে খুব অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক উপস্থাপনায় তুলে ধরে অথবা শুধুই খারাপ ও সমস্যার দিক নিয়ে আলোচনা করে। এতে করে আপনার মনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এসবের পাশাপাশি মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলে বৈচিত্র্য রয়েছে এবং সকল সমাজ ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। তাই কোনো তথ্য পড়লেই সেটিকে পুরোপুরি সত্য ভেবে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই নানা ধরনের মানুষ আছে এবং সময়ের সাথ সাথে সংস্কৃতি বদলায়। ফলে আপনি বইয়ে যা পড়লেন, তা আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে নাও মিলতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত সাধারণীকরণে না গিয়ে খোলা মন নিয়ে থাকা উচিত। এতে নতুন সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো সহজেই বুঝতে পারবেন এবং মানিয়ে নেওয়াও সহজ হবে।

ভাষাগত ভিন্নতাই হলো সাংস্কৃতিক ধাক্কার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই কোথাও ভ্রমণের আগে কিছুটা হলেও স্থানীয় ভাষা শিখে নেওয়া উচিত। যদি স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ হয়, তবে কোনো শব্দগুচ্ছ (ফ্রেজবুক) থেকে কিছু মৌলিক বাক্য শিখে নেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় থাকতে হয়, তাহলে অবশ্যই কোনো ভাষা শেখার কোর্সে অংশ নেওয়া উচিত। যদিও আগে থেকে ভাষা সম্পর্কে বিশদ পড়াশোনা না থাকার কারণে ভ্রমণের আগমুহূর্তে পুরোপুরি সাবলীল হওয়া সম্ভব নয়, তবে এতে কিছু মৌলিক দক্ষতা অর্জিত হবে, যা ভ্রমণে অনেক কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে আপনার ব্যক্তিগত কাজকর্ম বা দৈনন্দিন প্রয়োজনে যেসব শব্দ ও বাক্য অধিক ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ওপর জোর দিন।

ইতিবাচক মনোভাব বা মানসিক প্রস্তুতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ আপনি যদি ভ্রমণের জন্য উজ্জীবিত, ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন এবং এর প্রতি উত্তেজিত থাকেন, তাহলে নিজেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে, কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা জোরপূর্বক বিদেশে ভ্রমণ করে—যেমন রাজনৈতিক কারণে নির্বাসিত মানুষ অথবা শুধুমাত্র চাকরি বা টাকার তাগিদ ভ্রমণকারী—তাদের পক্ষে নিজেদের ভিন্ন সংস্কৃতিতে মানিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। যদি আপনিও এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তাহলে দেশটির এমন কিছু দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন, যা আপনার কাছে পছন্দসই মনে হয় বা উক্ত দেশের ব্যাপারে কৌতূহল জাগায়। কোথাও দীর্ঘসময় থাকতে হলে নিজের মাঝে স্থানীয় সংস্কৃতির কিছু ভালো দিকের প্রশংসা করার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

আরো বেশ কিছু বিষয় সাংস্কৃতিক ধাক্কার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে; যেমন বয়স (বয়স যত কম হয়, ততই ভালো মানিয়ে নেওয়া যায়), শিক্ষার মান ( শিক্ষা যত বেশি হয়, ততই বেশি প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়), পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি, শারীরিক স্বাস্থ্য এবং পূর্ববর্তী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। তবে এগুলো শুধু সাধারণ প্রবণতা, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য যেমন মানসিক নমনীয়তা ও খোলা মন—এসবও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তুমি যদি মনে করো যে তুমি ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে পড়ছ, তবে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। সেই দেশের বিদেশিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করো, বই পড়ো, আর ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করো।

সবশেষে, নিজের ভেতরে যেসব পূর্বধারণা আছে—যদি শুরুতে সত্যি মনে হয়ও—তবুও সেখানকার মানুষদের সম্মানের সঙ্গে ব্যবহার করো। তুমি হয়তো এমন ভালো দিক তাদের ভেতরে দেখতে পাবে যা আগে কল্পনাও করোনি। কিন্তু যদি আগেই অবজ্ঞা বা রূঢ় আচরণ করো, তাহলে তারা তাদের ভালো দিক তোমাকে কখনোই দেখাবে না।

মস্তকাবরণ

[সম্পাদনা]
কিছু মানুষের কাছে— যেমন জাপানের একটি ছোট শহরের এই মহিলার মতো–বিদেশিরা খুব অদ্ভুত ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে হয়। কারণ তাদের শহর পর্যটক খুব কম যায়। ফলে বিদেশি মানুষ দেখলে তারা সবাই তাকিয়ে থাকে; বিনা কারণে হাসে অথবা আলাপ করতে চায়। তখন ওই বিদেশি হঠাৎ করেই সবার নযরে চলে আসেন। এভাবে হঠাৎ নজরে পড়া এবং আলাদা হয়ে দাঁড়ানোই অনেক সময় ভ্রমণকারী ব্যক্তির কাছে বিরক্তিকর বা বিভ্রান্তিকর মনে হয়, যাকে আমরা সাংস্কৃতিক ধাক্কা বলি।

বিদেশে গেলে সংস্কৃতিগত ধাক্কা (কালচার শক) লাগতে পারে—এই বিষয়টি আগেই মাথায় রাখা জরুরি। যদি এটি ঘটে, মনে রাখবেন এটি আসলে একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া, যেটি সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি স্বাভাবিক এবং সাধারণত সাময়িক।

চেষ্টা করুন স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখার। মনে রাখবেন, এই সংস্কৃতি স্থানীয়দের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অর্থবহ। আপনি যদি ভেতরের যুক্তি বুঝতে পারেন, তবে ধীরে ধীরে আপনার কাছেও সবকিছু যৌক্তিক মনে হবে। এ ক্ষেত্রে এমন একজন মানুষ খুঁজে নিন—হতে পারে কোনো স্থানীয় ব্যক্তি বা অভিজ্ঞ বিদেশি প্রবাসী—যার ওপর আপনি আস্থা রাখতে পারেন এবং যাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন যেসব ব্যাপার আপনি বুঝতে পারছেন না।

নিজের প্রতি ধৈর্য ধরুন। ভ্রমণের সময় অনেকেই মনে করেন, প্রতিটি ঘণ্টা নতুন অভিজ্ঞতা আর কাজকর্মে ভরিয়ে তুলতে হবে, যাতে সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগে। কিন্তু যদি আপনি সংস্কৃতিগত ধাক্কার মধ্যে থাকেন, অতিরিক্ত ব্যস্ততা কেবল আপনাকে আরও মানসিক চাপে ফেলবে। তাই প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নিন, ব্যক্তিগত সময় কাটান। আর যদি মনে হয় মাঝে মাঝে একটু বাড়তি খরচ করে আরামদায়ক হোটেলে থাকা, বা এমন কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া যেটি আপনাকে বাড়ির মতো অনুভূতি দেয়, তবে তা করতে দ্বিধা করবেন না। এতে মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন। (এ বিষয়ে আরও জানতে “rupees and whoopies” অংশ দেখুন।)

অন্যদিকে, পুরোপুরি স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে গুটিয়ে যাওয়া যাবে না। নিজের দেশের বন্ধু বা পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা ভালো, এতে মানসিক সমর্থন পাওয়া যায়। কিন্তু যদি তাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে একাকীত্বের অনুভূতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এমনকি যদি লজ্জা পান বা নিজেকে অচেনা মনে হয়, তবুও নিজেকে বাইরে যেতে এবং স্থানীয় সমাজের অংশ হতে উৎসাহিত করুন। প্রথমে অস্বস্তি লাগবে, কিন্তু সময়ের সাথে সহজ হয়ে যাবে।

যদি আপনাকে কয়েক মাস বা তার চেয়েও দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকতে হয়, তবে একটি সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক তৈরি করুন। এর ভেতরে অন্য ভ্রমণকারীও থাকতে পারে, যারা আপনার মতোই এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে খেয়াল রাখুন, যেন তারা কেবলমাত্র ভরসা হয়ে না দাঁড়ায় আর আপনাকে স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন না করে। এভাবে করলে মানিয়ে নিতে আরও বেশি সময় লাগবে।

সবশেষে, নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অশোভন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কারণ যদি আপনি রেগে যান এবং রূঢ় আচরণ করেন, তবে অনেক সময় এর ফল ভালো হয় না—হতে পারে আপনার লাগেজও ভুল জায়গায় পৌঁছে যাবে।

জাতিগত আবাসভূমি ও প্রবাসী মহল্লা

বিদেশে গেলে অনেকেই নিজের জীবনকে সহজ করতে এক ধরনের জাতিগত বা সাংস্কৃতিক আবাসভূমি খুঁজে নেন—যেমন প্রবাসীদের জন্য তৈরি বিশেষ মহল্লা বা কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিত আবাসিক কমপাউন্ড। এ রকম দৃশ্য অনেকেরই পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে আছে চায়নাটাউন—যা মূলত চীনা অভিবাসীদের আবাসভূমি। একইভাবে, বড় শহরগুলোতে বিশেষ প্রবাসী মহল্লা গড়ে উঠেছে যেখানে খাবার, বাসস্থান, জীবনযাপন, স্কুল, ভাষা—সবকিছুতেই “বাড়ির মতো” পরিবেশ পাওয়া যায়। এর কিছু এলাকাকে কোম্পানি বা সরকার সরাসরি বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়, আবার কিছু জায়গা সময়ের সাথে সাথে গড়ে ওঠে—বন্দর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র কিংবা পর্যটনকেন্দ্রের আশেপাশে। আবার কোনো কোনো এলাকা ব্যবসায়িক কারণে নয়, বরং ভ্রমণপিপাসু মানুষ, যেমন স্কি খেলোয়াড়, ডাইভার বা অবসরপ্রাপ্ত বিদেশিদের জটলা থেকে তৈরি হয়।

এমন মহল্লায় বসবাসকারীরা কালচার শক বা সংস্কৃতিগত ধাক্কার বহু সমস্যার হাত থেকে রেহাই পান। কিন্তু এরও মূল্য আছে—এগুলো মানুষকে স্থানীয় সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে রাখে। প্রবাসী আবাসভূমিতে থাকলে পরিচিত পরিবেশের স্বস্তিতে মানুষ অনেক সময় আটকে যায়, ফলে স্থানীয় ভাষা শেখা, সংস্কৃতি বোঝা কিংবা সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়া আর হয়ে ওঠে না। অনেকেই আছেন যারা বহু বছর বিদেশে থেকেও প্রকৃতপক্ষে দেশটির সংস্কৃতি বোঝেন না, আর ভাষাও ঠিকমতো বলতে পারেন না—কারণ তাঁরা তাঁদের প্রবাসী মহল্লার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

যাঁরা সত্যিই ভ্রমণ বা প্রবাসজীবনের মাধ্যমে নতুন দেশের সংস্কৃতি জানতে ও অনুভব করতে চান, তাঁদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো এসব আবাসভূমি এড়িয়ে চলা—অন্তত দৈনন্দিন জীবনের জন্য। মাঝে মাঝে আনন্দ বা স্বস্তির খাতিরে সেখানে যাওয়া যেতে পারে, তবে সবসময় সেখানে থাকলে অভিযোজনের গতি ধীর হয়ে যায় এবং নতুন ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার আগ্রহও কমে যায়।

বিদেশে দীর্ঘ সময় ধরে (কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর) বসবাস করার পর যখন কেউ নিজ দেশে ফিরে আসে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই একধরনের মানসিক ধাক্কার মুখোমুখি হতে হয়। একে বলা হয় “রিভার্স কালচার শক” বা “রি-এন্ট্রি শক”। ব্যাপারটা হচ্ছে—আপনি যেমন বিদেশে গিয়ে প্রথমে ভেবেছিলেন, “ওরা কেন আমাদের মতো করে করে না?” তেমনি দেশে ফিরে আবার মনে হতে পারে, “আমরা কেন ওদের মতো করি না?”। কারণ আপনি অনেকটাই ভুলে গেছেন আপনার নিজ দেশের কিছু নিয়মকানুন কেমন করে কাজ করে, আর সেই সঙ্গে আপনার অনুপস্থিতিতে দেশটাও অনেকখানি বদলে গেছে। এই মিলনবিচ্ছেদের দ্বন্দ্বই তৈরি করে রিভার্স কালচার শক।

রিভার্স কালচার শক সাধারণ কালচার শকের তুলনায় দ্রুত আসে, দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর অনেক সময় অনেক বেশি তীব্র আকারে প্রকাশ পায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা বিদেশি সংস্কৃতিতে সহজে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন, অনেক সময় তারাই দেশে ফিরে আবার মানিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন।

এর একটি বড় কারণ হলো—বিদেশে থাকতে থাকতে আপনি সেখানে মানিয়ে নিয়েছেন, আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে, ফলে নিজের দেশের পুরোনো অভ্যাসগুলোর অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বিদেশে প্রথমবার গেলে মানুষ আপনাকে মানিয়ে নেওয়ার সময় সহানুভূতিশীল থাকে, কিন্তু দেশে ফিরে আসার পর সাধারণত কেউ ভাবে না যে আপনাকেও আবার সময় নিয়ে মানিয়ে নিতে হবে। ফলে আপনি বুঝতে না বুঝতেই একা হয়ে পড়তে পারেন।

আরেকটি সমস্যা হলো “মেমরি বনাম রিয়েলিটি”—অর্থাৎ আপনি দেশে যেমনকে তেমন মনে রেখেছেন, বাস্তবে সেটা হয়তো আর আগের মতো নেই। আপনি যদি অনেকদিন বাইরে থাকেন, ততদিনে দেশে নতুন নিয়মকানুন এসেছে, অর্থনীতি বদলেছে, সামাজিক ধারা কিংবা সংস্কৃতিতেও নতুনত্ব এসেছে। আবার অনেক সময় বাইরে থাকতে থাকতে আমরা নিজ দেশকে খুব আদর্শ মনে করি, অনেক সমস্যাকেই ভুলে যাই। দেশে ফিরে যখন সেই বাস্তব সমস্যাগুলো চোখে পড়ে, তখন অস্বস্তি আরও বাড়ে। আবার কখনো বিদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের সমস্যাগুলো নতুনভাবে চোখে পড়ে। যদিও এই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আসলে আপনার জন্য একটি বড় উপহার, কিন্তু প্রথমে এটি চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনার বিদেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে থাকতে পারে। কিন্তু সতর্ক না হলে আপনি অহংকারী বা অন্যদের চোখে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারেন। যেমন বিদেশে সাংস্কৃতিক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করার সময় সাবধান হতে হয়, তেমনি নিজের দেশে ফিরে এসেও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সময় সতর্ক থাকা দরকার।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—ধৈর্য ধরতে হবে। নিজের প্রতি ধৈর্যশীল হতে হবে, আর নিজের দেশের প্রতিও ধৈর্য রাখতে হবে। ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করতে হবে এবং প্রয়োজনে সেই একই কৌশল ব্যবহার করতে হবে যা আপনি প্রথমবার বিদেশে গিয়ে কালচার শক কাটানোর সময় কাজে লাগিয়েছিলেন

বাড়ি ফেরা

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: বাড়ি ফেরা

বিদেশে দীর্ঘ সময়—হোক তা কয়েক মাস বা কয়েক বছর— থাকার পরে যখন কেউ নিজ দেশে ফিরে আসে, তখন সে প্রায়শ এক ধরনের মানসিক ধাক্কা বা অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যায়। এই অভিজ্ঞতাকে বলা হয় বিপরীত সাংস্কৃতিক ধাক্কা বা রিভার্স কালচার শক। প্রথমবার বিদেশে গেলে যেমন নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তেমন দেশে ফেরার পরও একরকম বিভ্রান্তি দেখা দেয়। উভয়ের মাঝে কেবল পার্থক্য হল, বিদেশে প্রথমদিকে একটি “মধুচন্দ্রিমা পর্ব” থাকে, যখন সবকিছু নতুন, অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর লাগে; কিন্তু দেশে ফিরে এলে এমন রোমাঞ্চ অনুভূত হয় না। বরং দ্রুতই এক ধরনের মানসিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কখনো কখনো এটি আগেকার সাংস্কৃতিক ধাক্কার চেয়েও বেশি কঠিন মনে হয়।

এর কারণ হলো, বিদেশে থাকতে থাকতে আপনি ধীরে ধীরে সেখানকার সমাজ, সংস্কৃতি, নিয়মকানুন ও অভ্যাসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। এর ফলে আপনার নিজের দেশের কিছু বিষয়, ধ্যানধারণা, এমনকি দৈনন্দিন আচরণও আপনার কাছে ধীরে ধীরে অপরিচিত হয়ে গেছে। ফলে নিজের দেশে ফেরার পর অনেক পরিচিত জিনিসও হঠাৎ অপরিচিত বা বেমানান মনে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিদেশে থেকে আপনি হয়তো নিজেকে করেছেন—“ওরা কেন আমাদের দেশের আচরণ করে না?” কিন্ত দেশে ফিরে এসে আপনার মনে উল্টো প্রশ্ন জাগতে পারে—“আমরা কেন ওদেশের মতো আচরণ করতে পারি না?” এমন মানসিক টানাপোড়েনই হলো বিপরীত সাংস্কৃতিক ধাক্কার মূল বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বাস্তবতা হলো, মানুষ সাধারণত মনে করে যে, আমি তো এই দেশেরই মানুষ। তাই আমার মানিয়ে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ফলে সে 'বিপরীত ধাক্কাকে' মোকাবেলা করার জন্যে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করে না। তাই খেয়াল রাখতে হবে যে, বিদেশে সবাই যেমন আপনাকে সহানুভূতি দিয়ে সসহায়তা করেছিল, দেশে ফিরে তেমন সহানুভূতি বা সহমর্মিতা আপনি নাও পেতে পারেন। ফলে আপনি এক ধরনের একাকিত্ব অনুভব করতে পারেন এবং আপনার মনে হতে পারে যে, কেউ আপনার চাওয়া বুঝতে পারছে না।

এছাড়াও বিদেশে থাকার সময় আপনার মনে দেশের একটি আদর্শ চিত্র তৈরি হতে পারে। আপনি হয়তো ভুলেই গেছেন যে, দেশে কিছু জটিলতা, সমস্যা বা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আবার আপনার অনুপস্থিতির সময় দেশে বড় পরিবর্তনও ঘটতে পারে—নতুন আইন, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক রীতি, এমনকি সাংস্কৃতিক প্রবণতাও বদলে যেতে পারে। তখন আপনার মনে গেঁথে থাকা দেশের চিত্রের সাথে বাস্তবতা মিলবে না, যা আপনার মানসিক অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এরসাথে বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতার কারণে আপনি নিজ দেশের সমস্যাগুলিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পাবেন, যা আগে কখনো আপনার চোখে পড়েনি। তবে এটাকে শুধু নেতিবাচক ভাবা উচিত নয়। কারণ এটি মূলত আপনার জন্য একটি উপহার। বিদেশে থেকে আপনার যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা আপনাকে নিজের সংস্কৃতি, সমাজ ও দেশকে নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। আপনি তুলনামূলকভাবে গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করতে পারবেন এবং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার দেশকে মূল্যায়ন করতে পারবেন। যদিও শুরুতে এটি বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক মনে হবে; তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করবে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, নিজের নতুন উপলব্ধি বা বিদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে কথা বলার সময় অহংকারী বা আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তি ধারণ করা যাবে না। আপনার অভিজ্ঞতা অবশ্যই মূল্যবান; কিন্তু অতিরিক্ত জোর দিয়ে কিছু বললে অন্যরা মনে করতে পারেন যে, আপনি তাদের ছোট করছেন। তাই বিদেশে অন্য সংস্কৃতির সমালোচনা করতে গিয়ে যেমন ভদ্রতা রক্ষা করতে হয়, দেশে ফিরেও সেই ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি। সবশেষে নিজের ও দেশের প্রতি সহনশীল হওয়া খুবই জরুরি। তাই ধীরে ধীরে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। চাইলে আপনি সেই কৌশলগুলি ব্যবহার করতে পারেন, যার মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে সাংস্কৃতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিলেন; যেমন কোনোকিছুতে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া, খোলামেলা আলোচনা করা, নিজের মানসিক চাপ কমানোর উপায় খোঁজা ইত্যাদি। এভাবে বিপরীত সাংস্কৃতিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ হবে।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This TYPE সাংস্কৃতিক ধাক্কা has ব্যবহারযোগ্য অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:প্রসঙ্গ|ব্যবহারযোগ্য}}