এই ভ্রমণসূচি বর্ণনা করছে কায়রো, মিশর থেকে নায়রোবি, কেনিয়া পর্যন্ত স্থলপথে পাবলিক যানবাহন ব্যবহারের রুট। এটি মূলত একমাত্র সহজলভ্য স্থলরুট যা পশ্চিমীদের জন্য উত্তর আফ্রিকা থেকে পূর্ব আফ্রিকা যেতে ব্যবহৃত হয়, এবং তাই ইউরোপ বা এশিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়া বেশিরভাগ স্থলভ্রমণকারীর জন্য এই পথই অতিক্রম করতে হয় (আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল দিয়ে যাওয়াও সম্ভব, কিন্তু অনেক কঠিন)। এই রুটটি মিশর, (উত্তর) সুদান, ইথিওপিয়া এবং কেনিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।
ভিসা
[সম্পাদনা]এই অঞ্চলের প্রায় সকল দেশই ভিসার জন্য মার্কিন ডলার পছন্দ করে এবং অন্যান্য যদিও গ্রহণ করে তার মুদ্রামাণ অনেক কম দিয়ে থাকে।
মিশর: প্রায় সব পশ্চিমী নাগরিক আগমনের সময়ই ১৫ ডলারের(খরচ USD 15) বিনিময়ে ভিসা পেতে পারেন। আসওয়ানে ফেরি ব্যবহার করে আসলেও এটি প্রযোজ্য (অন এরাইভাল ভিসা), যদিও এতে কিছু বিলম্ব হতে পারে। কিছু দূতাবাস (যেমন খার্তুম) প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রিম মিশরীয় ভিসা ইস্যু করে, অন্যান্য দূতাবাস (যেমন- আদ্দিস) কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সপ্তাহখানিক সময় নেয়।
সুদান: বেশিরভাগ পশ্চিমীরা কার্যত কয়েক দিনের মধ্যে কায়রো বা আসওয়ানে সুদানি ভিসা পেতে পারেন, খরচ USD 100, তবে এর জন্য প্রয়োজন “পরিচয়পত্র” বা আপনার দূতাবাসের লিখিত বিবৃতি যে এমন কোনো পরিচয়পত্র নেই। কিছু দূতাবাস এমন কিছু ইস্যু করতে অনীহা দেখাতে পারে। আমেরিকানরা আসওয়ান (মিশর) থেকে সুদানী ভিসা নিতে চাইলে, আগে ইউএস দূতাবাসের মাধ্যমে অনুমতি নিতে হবে, যা প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নেয়। (কায়রো দূতাবাসে সাধারণত প্রয়োজন হয় না।) (নভেম্বর ২০১৮)
আদ্দিস আবাবায়, পশ্চিমীরা, আমেরিকানসহ, মিশরীয় ভিসা দেখিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুদানি ট্রানজিট ভিসা পেতে পারেন (অগ্রিম ভিসা প্রদর্শনই যথেষ্ট নয়) অথবা সুদান থেকে আপনার নিজ দেশ ফেরার টিকিট দেখিয়ে। আমেরিকানদের জন্য খরচ ইউএসডি ২০০ ডলার, অন্যান্য জাতীয়দের জন্য সম্ভবত কম লাগতে পারে। ট্রানজিট ভিসা দুই সপ্তাহ অবস্থানের জন্য বৈধ (খার্তুমে সম্প্রসারণযোগ্য) এবং এক মাসের মধ্যে প্রবেশের জন্য; প্রবেশ বাধ্যতামূলকভাবে ইথিওপিয়ার সীমান্ত দিয়েই হতে হবে না, তবে কেউ সাধারণত যে পথে প্রবেশ করেছেন, দেশ ত্যাগের জন্য অন্য পথে বের হতে হয়।
সুদানে প্রবেশের পর ৩ দিনের মধ্যে আপনার ভিসা “নিবন্ধন” করা বাধ্যতামূলক; এটি সীমান্তগুলোতে বা খার্তুমে করা যায়, কোথায় নিবন্ধন করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে ৩০-৬০ ইউএস ডলার লাগতে পারে। ৩ দিনের সময়সীমা কতটা কঠোর তা পরিষ্কার নয়, কিন্তু পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, কারণ দেশের বাইরে বের হতে হলে এটি প্রয়োজন হবে।
ইথিওপিয়া: ইথিওপিয়ান ভিসা শুধুমাত্র আদ্দিস আবাবা বিমানবনরে উপলব্ধ অথবা আপনার নিজ দেশে। আপনি যদি ইতিমধ্যে পথেই থাকেন তাহলে আপনার হয়তো পাসপোর্ট বাড়ি থেকে কাউকে দিয়ে DHL করে ইথিওপিয়ান দূতাবাসে পাঠাতে হবে। আপনার দূতাবাস হয়ত প্রথমবার প্রবেশের খরচের চেয়ে সামান্য একটু বেশি নিয়ে, বহুবার প্রবেশ ভিসা দিতে পারে। নিউ ইয়র্কে ৭০ ইউএস ডলারের বিনিময়ে ২৪ ঘণ্টাযর মধ্যে ভিসা ইস্যু করা হয়।
কেনিয়া: কেনিয়ার ভিসা আগমনের সময় পাওয়া যায় (On arrival visa)। তিন দিনের জন্য ২০ ইউএস ডলার খরচ হয়, তবে আপনি সাধারণত ৫০ ইউএস ডলার বিনিময়ে পর্যটক ভিসা নিতে চাইবেন। আপনি যদি কেনিয়া দিয়ে তানজানিয়া বা উগান্ডায় যান এবং কেনিয়ায় ফেরত আসেন, তবে নতুন পর্যটক ভিসা প্রয়োজন হবে না।
রুট
[সম্পাদনা]কায়রো-আসওয়ান (১ দিন)
[সম্পাদনা]শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনগুলো কায়রো থেকে আসওয়ান পর্যন্ত দিনে ও রাতে চলে, এতে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। দ্বিতীয় শ্রেণীর ভাড়া ৫৫ ইজিপশিয়ান পাউন্ড, প্রথম শ্রেণী ১৬৫ ইজিপশিয়ান পাউন্ড, স্লিপারে ইউএস ৬০ ডলার। দ্বিতীয় শ্রেণীও বেশ আরামদায়ক। ট্রেন প্রায়ই পূর্ণ থাকে, তাই আগেভাগে বুকিং করা ভালো। কিছু ট্রেনে বিদেশীদের জন্য সীমাবদ্ধতা আছে; এই ক্ষেত্রে কায়রো বা আসওয়ানের টিকিট অফিস থেকে সরাসরি কেনা যায় না, তবে সাধারণত কনডাক্টরের কাছ থেকে কিনতে বলা হয়। এতে কয়েক পাউন্ড বেশি খরচ হয় এবং সংরক্ষিত আসন থাকে না। তাই আপনি এসব ট্রেনে চড়তে চাইলে কোন মিশরীয় বা এজেন্সি এর মাধ্যমে টিকেট কিনে নিতে পারেন। কায়রো (টুরগোমান গ্যারেজ) থেকে আসওয়ান পর্যন্ত বাসও আছে, সময় প্রায় একই লাগে এবং খরচ হয় ৮০ ইজিপশিয়ান পাউন্ড।
নীল নদের উপর নৌকা ভ্রমণ, ট্রেন/বাসের তুলনায় ধীরে এবং ব্যয়বহুল কিন্তু চিত্তাকর্ষক। এই নৌকাগুলো বড় বিলাসবহুল নৌকা থেকে মিশরীয় ঐতিহ্যবাহী ফেলুক্কা যেগুলো একটু ছোট নৌকা, এরকম বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে ।
প্রস্তাবিত স্টপ/ডিট্যুর:
লুক্সর — প্রাচীন মিশরের রাজধানী, বিশাল মন্দির, প্রাচীন রাজকীয় সমাধি, মরুভূমি ও নদীর চমৎকার দৃশ্য
আসওয়ান — আসওয়ান বাঁধের পাশেই এক শান্ত শহর
আসওয়ান-ওয়াদি হালফা (২ দিন)
[সম্পাদনা]প্রতি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আসওয়ান থেকে ওয়াদি হালফা, সুদান যাওয়ার ফেরি ছাড়ে, যা পরের সকালে পৌঁছায়। কায়রো বা আসওয়ান থেকে টিকেট কেনা যায়। ফেরির টিকিট কিনতে সুদানী ভিসা প্রয়োজন হবে। ফেরির ডক উঁচু বাঁধের ঠিক পরেই, স্থানীয় ট্রেন বা শেয়ার্ড ট্যাক্সি ১০ ইজিপশিয়ান পাউন্ড বা আরও কমে পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণীর যাত্রীগণকে ৫০০ ইজিপশিয়ান পাউন্ড খরচ করতে হয় এবং বেডসহ কামরাগুলো ভাগাভাগি করতে হয়, দ্বিতীয় শ্রেণীর যাত্রীগণ ২২৩ ইজিপশিয়ান পাউন্ড খরচে প্যাডেড পেয়ে থাকেন। বেশিরভাগ দ্বিতীয় শ্রেণীর যাত্রীগণ ডেকে ঘুমানোর জন্য ব্যাগ/ম্যাট ব্যবহার করেন (সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে একবারে লাইফবোট গুলোর নিচে, কারণ এই এগুলোই একমাত্র জায়গা যেখানে সবসময় ছায়া থাকে), এই কারণে দ্বিতীয় শ্রেণীর অনেক সিট খালি থাকে যে আপনি চাইলে হয়ত এগুলোর কয়েকটি জুড়ে শুয়ে থাকতে পারবেন। উল্টো দিকে, ফেরি প্রতি বুধবার বিকেল ৪টায় ওয়াদি হালফা থেকে ছাড়ে, পরের দিন সকালে আসওয়ানে পৌঁছায়। এই দিকে ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, দ্বিতীয় শ্রেণীর ভাড়া ৯৬ সুদানী পাউন্ড অথবা প্রথম শ্রেণীর জন্য ১৯৫ সুদানী পাউন্ড। যেকোন দিক থেকেই নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘন্টা আগেই আপনাকে আনুষ্ঠানিক কার্য সাধন ও ভাল সিট পাওয়ার জন্য ফেরী বন্দরে পৌছানো উচিত। ফেরিতে সামান্য শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা/ কিছু হাওয়া চলাচল ব্যবস্থা এমনভাবে আছে যাতে গরমেও বসার জায়গা সহনীয় পর্যায়ে ঠান্ডা থাকে।
ওয়াদি হালফা-খার্তুম (১ দিন)
[সম্পাদনা]
আপনাকে হয়ত ফেরি পৌঁছানোর পর সম্ভবত ওয়াদি হালফায় রাত কাটাতে হবে, পরের দিন খার্তুম যাওয়ার বাস ধরতে অথবা অন্য দিক দিয়ে ওয়াদি হালফা পর্যন্ত ভ্রমণ করে ফেরি ছেড়ে দেওয়ার আগের দিন। সেখানে আরামদায়ক, আধুনিক, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাস আছে যেগুলো প্রায় ১০-১২ ঘণ্টায় যাত্রাসময় নেয়, খরচ হয় প্রায় ৮৫ সুদানীজ পাউন্ড। খার্তুমে শহর কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ কিমি দক্ষিণে, সাজানা বাস স্টেশনে, বাসগুলো আসে/যায়। উভয় দিক থেকেই বাসগুলো সকাল ৪-৫টায় ছাড়ে। সাপ্তাহিক একবার ট্রেনও যায়। যদিও খার্তুম পৌছানোর জন্য ট্রেন হল এক শ্রেষ্ঠ মাধ্যম, এটি বাসের তুলনায় ধীর ও কম নির্ভরযোগ্য।
প্রস্তাবিত স্টপ/ডিট্যুর:
খার্তুম — সুদানের রাজধানী
মেরো — মিশরের তুলনায় কম পরিচিত, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য পিরামিড
খার্তুম-গন্ডার (১ দিন)
[সম্পাদনা]খার্তুম থেকে গেদারেফ (আল কাদিরিফ) বাস মিনা বারি বাস স্টেশন থেকে ছাড়ে, যা শহর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭ কিমি দক্ষিণে। এরপর গেদারেফ হতে ট্যাক্সি নিয়ে মিনিবাস স্টেশনে যেতে হবে এবং গালাবাত সীমান্তের মিনিবাস ধরতে হবে। ইথিওপীয়ান প্রান্তের মেতেমা সীমান্ত পার হয়ে গন্ডার পর্যন্ত মিনিবাস পাওয়া যায়; শিহেদি-তে যানবাহন পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। উভয় দিক থেকেই ভ্রমণ আগেভাগেই শুরু করতে (৬টা/ আরও আগে) করা প্রয়োজন যাতে এক দিনে পৌঁছানো যায়। বিশেষত উত্তরের দিকে জেনে রাখা দরকার গেদারেফ-খার্তুম শেষ বাস ১৫:০০(দুপুর ৩ টা) নাগাদ ছাড়ে। মিনিবাসগুলো পূর্ণ হলে ছাড়ে।
প্রস্তাবিত স্টপ/ডিট্যুর:
গন্ডার —
গন্ডার-আদ্দিস আবাবা (১ দিন)
[সম্পাদনা]বেশিরভাগ বাসগুলো গন্ডার থেকে আদ্দিস আবাবা পর্যন্ত যেতে দুই দিন নিবে, কিন্তু হোটেল/আবাসন থেকে মিনিবাস ব্যবস্থা করতে সাহায্য করতে পারে যা এক দিনে পৌঁছে। আপনি হয়ত গন্ডার আগেভাগে গন্ডার বাস স্টেশনে গিয়েও এইরকম যানবাহন পেতে পারেন। এতে খরচ হবে প্রায় ৩০০ ইথিওপীয়ান বীর; ধীরগতির বাসে খরচ কম হবে। লালিবেলা ও সম্ভবত আক্সুম দেখার জন্য ডিট্যুর চাইতে পারেন।
প্রস্তাবিত স্টপ/ডিট্যুর:
আক্সুম —
লালিবেলা —
অ্যাডিস আবাবা-মোয়াল (২ দিন)
[সম্পাদনা]দক্ষিণগামী বাসগুলো আদ্দিসের কালিটি বাস স্টেশন থেকে ছাড়ে, যা শহর থেকে বেশ খানিকটা দক্ষিণে। মোয়ালহতে কেনিয়ার সীমান্তে যাওয়ার বাসে খরচ হবে ২০০ ইথিওপিয়ান বিরের খরচে এবং সম্ভবত ডিলা-তে, রাত্রিকালীন যাত্রাবিরতি দেয়। আওয়াসা বাস থামার জন্য আরো শান্তিদায়ক এবং পর্যটক প্রিয় জায়গা কিন্তু এতে মোয়াল এক দিনে পৌঁছানো কঠিন। কখনো শাশামেনে বা হাগেরে মারিয়াম বা ইয়েবলো-তে গাড়ি পরিবর্তন বা আটকে যেতে হতে পারে।
মোয়াল-নায়রোবি (১ দিন)
[সম্পাদনা]মোয়াল সীমান্ত সকাল ৮টায় খোলে। নায়রোবি যাওয়ার বাস সাধারণত ৯টায় ছাড়ে, কখনও ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, নায়রোবিতে পরের দিন সকাল ৭ টায় পৌছায়। তাই যদি আগের দিন রাতে মোয়ালে পৌছিয়ে নাও থাকেন তারপরও এটি ধরতে পারার সম্ভাবনা আছে, এবং সবকিছু যদি ভাগ্যবান হন, আদ্দিস আবাবা হতে নাইরোবি দুই দিন এবং দুই রাতেই পৌছাতে পারেন (এক রাত হেগ্রে মারিয়াম/ইয়েবেলোতে কাটিয়ে)। বাসে খরচ হয় প্রায় ২৫০০ কেনিয়ান শিলিং এবং ইথিওপিয়ান বাসের তুলনায় অনেক আরামদায়ক (আমেরিকান নন-এসি গ্রেহাউন্ড এর সাথে তুলনীয়)। যদিও রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে, মোয়াল থেকে দক্ষিণ লেইসামিস পর্যন্ত রাস্তা অনেক খানাখন্দ যুক্ত কাঁচা। আপনার যাত্রার পর হতে ১২ ঘন্টা পর পাকা রাস্তায় পৌছাবেন।
উত্তর সম্প্রসারণ
[সম্পাদনা]আলেকজান্দ্রিয়া এর সাথে কায়রোকে ট্রেন, বাস এবং মিনিবাস প্রায় ২-৩ ঘণ্টার যাত্রার মাধ্যমে যুক্ত করে। ভিসেমার লাইন ফেরি ভেনিসের সঙ্গে স্থগিত আছে, তাই ইউরোপ ও মিশরের মধ্যে কোন সমুদ্র যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। ইসরায়েল ও কায়রোর মধ্যে বাস যোগাযোগ আছে, কিন্তু ইস্রায়েলি পাসপোর্ট স্ট্যাম্প সমস্যার কারণে এটিও মৃতপ্রায় (যা সুদান, সিরিয়া,লেবানন এবং আরও কিছু দেশে প্রবেশানুমতি না দেয়ার কারণ হতে পার) । ইসরায়েল এড়াতে মিশরের নুয়েইবা থেকে জর্ডানের আকাবা পর্যন্ত ফেরি আছে, যা দিয়ে অ্যামান-কায়রো এক দিনে যাত্রা সম্ভব, সিনাই বা পেত্রা ডিট্যুর উপভোগ করা যায়। সাধারণত জর্ডান থেকে ইউরোপ সিরিয়া ও তুরস্ক দিয়ে যাত্রা করা যায়, তবে সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
দক্ষিণ সম্প্রসারণ
[সম্পাদনা]নায়রোবি থেকে কেপ টাউন যাওয়ার দ্রুততম পথ সম্ভবত তানজানিয়া-এ প্রবেশ করে, এরপর জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে দিয়ে জোহানেসবার্গ ও কেপ টাউন। উগান্ডা/রুয়ান্ডা/বুরুন্ডি, মালাউই/মোজাম্বিক, বতসোয়ানা/নামিবিয়া বা মিশ্রিত পথও সহজলভ্য।
নিরাপদ থাকুন
[সম্পাদনা]২০১৪ অনুযায়ী, ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট [অকার্যকর বহিঃসংযোগ] দক্ষিণ সুদান, সুদানের দক্ষিণ অংশ এবং সিনাই ভ্রমণ পরামর্শ দেয় না। এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি আছে।
মিশরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ২০১১ বিপ্লবের পর বেশ শান্তিপূর্ণ। পশ্চিম ও দক্ষিণ সুদান সশস্ত্র সংঘাতের অধীনে। ২০১৯ খার্তুমে বৃহৎ সরকারবিরোধী প্রতিবাদ নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছে। ইথিওপিয়া-এরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অনিরাপদ, তবে বর্ণিত রুটের বাইরে। উত্তরের কেনিয়ায় আইনশৃঙ্খলা সমস্যা ছিল, এখন যানবাহন কনভয়ে যেতে হয় না।
নায়রোবি সহ এই অঞ্চলে ডাকাতি/হিংসাত্মক অপরাধের ঝুঁকি আছে; রাতে একা হাঁটা বা বড় অঙ্কের টাকা বহন না করা ভালো। প্রতারণা প্রচুর; অপরিচিতদের বিশ্বাস করবেন না।
ভ্রমণকারীরা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ নেওয়া উচিত। না নিলে কমপক্ষে রাতের ঘুমে মশারি ব্যবহার করা উচিত। DEET মিশ্রিত কীটনাশক ব্যবহার করা ভালো, তবে কিছু দেশে পাওয়া কঠিন।
এই সব দেশে সাধারণত পানযোগ্য নলির পানি নেই।