হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যান হাওয়াই দ্বীপ রাজ্যের বড় দ্বীপে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
অবলোকন
[সম্পাদনা]হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যান সারা বছর, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
এখানে আসলে হাওয়াইয়ের মানুষের আধ্যাত্মিকতা এবং বিশ্বাসের গভীর প্রভাব দেখা যায়। তারা আগ্নেয়গিরিকে দেবী পেলের আবাসস্থল হিসেবে পবিত্র মনে করে। এটি একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, তাই এখানে সতর্কতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে জানা গেছে যে, প্রাচীন হাওয়াইয়ানরা আনুমানিক ১২০০ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পুনা এবং কা'উ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। প্রথম বসতি উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপন হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এখনও নিম্নভূমি ও উচ্চভূমির বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন বসতিগুলোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। পরে, উপকূলীয় গ্রামগুলোকে পাহাড়ী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল, যাতে উচ্চভূমির সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব হতো।
হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৭৯০ সালে কিলাউইয়ার বিস্ফোরক অগ্ন্যুৎপাতে একদল যোদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা অন্যতম। মৃত যোদ্ধাদের পায়ের ছাপ ছাইয়ের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তাদের শেষ যাত্রার সাক্ষী। কা'উ মরুভূমিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় লাভার অঞ্চলে বসবাসের নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানে ১৪,০০০টিরও বেশি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।
১৮২৩ সালে রেভারেন্ড উইলিয়াম এলিস ছিলেন প্রথম ইউরোপীয় যিনি এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। অসংখ্য অগ্ন্যুৎপাত এবং লাভা প্রবাহ অভিযাত্রী ও বিজ্ঞানীদেরকে আকর্ষণ করেছিল। এই প্রাথমিক পরিদর্শনের ধ্বংসাবশেষ এখনো পার্কের বিভিন্ন পথ এবং ঐতিহাসিক রাস্তায় রয়েছে। ঐতিহাসিক ১৮৭৭ সালের ভলক্যানো হাউস ছিল পার্কের প্রথম গেস্টহাউসগুলোর একটি, যেখানে থেকে কিলাউইয়া ক্যালডেরা দেখা যায়। বর্তমানে এটি কিলাউইয়া আর্ট সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৪১ সালের ভলক্যানো হাউস এখনো পার্কের দর্শনার্থীদের থাকার জায়গা প্রদান করে। ইউএসজিএস হাওয়াইয়ান ভলক্যানো অবজারভেটরি (HVO) ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা পার্ক প্রতিষ্ঠার আগেই স্থাপিত হয়েছিল। ১৯১২ সালের HVO-এর একটি অংশ, হুইটনি সিসমোগ্রাফ ভল্ট, আজও বিদ্যমান। একটি পুরনো পুলু কারখানার ধ্বংসাবশেষ জঙ্গলে লুকিয়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পার্কের কিছু অংশ বোমাবর্ষণের অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ঐতিহাসিক কিলাউইয়া মিলিটারি ক্যাম্প, যা পার্ক প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাস আগে তৈরি হয়েছিল, সামরিক কর্মীদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি যুদ্ধবন্দী শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পার্কটি ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২০-এর দশকে পার্কের জন্য প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরি করা শুরু হয় এবং ১৯৩০-এর দশকে সিভিলিয়ান কনজারভেশন কর্পসের মাধ্যমে আরও উন্নয়ন সাধিত হয়।
ভূদৃশ্য
[সম্পাদনা]এখানকার ভূদৃশ্য বৈচিত্র্যময়। এখানে আগ্নেয়গিরির লাভা, শুষ্ক বন, রেইনফরেস্ট এবং পাথুরে সৈকত দেখা যায়। ক্যালডেরা, পিট ক্র্যাটার, লাভা টিউব, ফাটল, ভূ-তাপীয় ভেন্ট এবং প্রবহমান লাভা—এগুলো হল আগ্নেয়গিরির কিছু রূপ। ক্যালডেরা হল একটি বড়, অবতল আকৃতির আগ্নেয়গিরির নিম্নভূমি, যা ভেতরের ভেন্টের তুলনায় অনেক বড় হয়। পিট ক্র্যাটার হল একটি গর্ত যা ভূ-পৃষ্ঠের দেবে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে এবং এটি লাভার নির্গমন পথ নয়।
পাঁচটি আগ্নেয়গিরি দিয়ে হাওয়াই দ্বীপটি গঠিত: কোহালা, মাউনা কেয়া, হুয়ালালাই, মাউনা লোয়া এবং কিলাউইয়া। যেসব আগ্নেয়গিরি আর কখনও অগ্ন্যুৎপাত করবে না, সেগুলোকে বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়। যেসব সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ইতিহাসে (হাওয়াইয়ে গত ২০০ বছরে) অগ্ন্যুৎপাত করেনি, তারা হয়তো আবার অগ্ন্যুৎপাত করতে পারে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোই অগ্ন্যুৎপাত করেছে।
কোহালা, এই দ্বীপের প্রাচীনতম আগ্নেয়গিরি, প্রায় ৬০,০০০ বছর আগে শেষ অগ্ন্যুৎপাত করেছিল এবং এটি বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়।
মাউনা কেয়া ৩,৬০০ বছর আগে শেষ অগ্ন্যুৎপাত করেছিল এবং এটি সুপ্ত।
হুয়ালালাই, মাউনা লোয়া, এবং কিলাউইয়া সক্রিয়।
হুয়ালালাই গত ২,১০০ বছরে সাতবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। একমাত্র ঐতিহাসিক অগ্ন্যুৎপাতগুলো হয়েছিল ১৮০০ এবং ১৮০১ সালে। মাউনা লোয়া ১৯৮৪ সালে শেষবার অগ্ন্যুৎপাত করেছিল এবং হিলোর দিকে লাভা পাঠিয়েছিল। কিলাউইয়া ১৯৮৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাত করেছে। আগস্ট ২০১৮ অনুযায়ী, এখন পার্কে কোনো দৃশ্যমান ম্যাগমা নেই।
লোইহি, একটি ডুবো আগ্নেয়গিরি, দ্বীপ থেকে ১৫ মাইল (২৪ কিমি) দক্ষিণ-পূর্বে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,১৭৮ ফুট (৯৬৯ মিটার) নিচে অবস্থিত। লোইহি সম্ভবত আরও ২,৫০,০০০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠে পৌঁছাবে না। ভূমিকম্প, ভূ-তাপীয় ভেন্ট এবং নতুন লাভা প্রবাহ এটিকে সক্রিয় বলে নির্দেশিত করে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ
[সম্পাদনা]
হাওয়াইয়ান দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর সবচেয়ে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গোষ্ঠী। পার্কটি ১৯° উত্তর অক্ষাংশে, সর্বকনিষ্ঠ এবং বৃহত্তম দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। ১৩,৬৭৭ ফুট উচ্চতার মাউনা লোয়ার চূড়া থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত এই পার্কটি সাতটি ভিন্ন পরিবেশগত জীবন অঞ্চলে বিভক্ত, যা বিভিন্ন ধরনের বাস্তুতন্ত্র এবং আবাসস্থলকে রক্ষা করে। এখানে স্থানীয় হাওয়াইয়ান প্রজাতির মধ্যে রয়েছে মাংসাশী শুঁয়োপোকা, হ্যাপি-ফেস মাকড়সা, রঙিন হাওয়াইয়ান হানিক্রিপার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ফড়িং, নতুন লাভা প্রবাহে আকৃষ্ট ঝিঁঝিঁ পোকা, বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং মাত্র একটি স্থানীয় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী—বাদুড়।
হাওয়াইয়ান উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর আগে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বিকশিত হতে শুরু করেছিল এবং হাওয়াইয়ের ৯০%-এরও বেশি স্থানীয় স্থলচর উদ্ভিদ ও প্রাণী শুধুমাত্র এই দ্বীপপুঞ্জেই পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অনেক প্রজাতি পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় আরো দ্রুত বিলুপ্তি ঘটাচ্ছে, এমনকি গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের তুলনাতেও। ফলস্বরূপ, পার্কটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে জীববিজ্ঞানের এবং বিবর্তনীয় অধ্যয়নের জন্য একটি চমৎকার পরীক্ষাগার। আজ, পার্কটি ঐ প্রথম উপনিবেশ স্থাপনকারীদের বংশধরদের আশ্রয় দেয়, এটি পুদিনার মতো কিন্তু গন্ধহীন উদ্ভিদ এবং কাঁটাবিহীন বিছুটি জাতীয় উদ্ভিদ বিশিষ্ট উদ্যান যা উদ্ভিদভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া জীবনযাপনের জন্য অভিযোজিত।
তাদের সুরক্ষিত অবস্থার সত্ত্বেও, পার্কের প্রজাতির ভান্ডার নানা ধ্বংসাত্মক হুমকির সম্মুখীন। এর মধ্যে রয়েছে আবাসস্থলের অবক্ষয়, আক্রমণাত্মক উদ্ভিদ, পাখির ম্যালেরিয়া, দাবানল, বন্য বিড়াল ও শুকর, এবং আমদানিকৃত ছাগল, ভেড়া, ইঁদুর, বেজি, পিঁপড়ে ও বোলতা। তিনটি বিপন্ন প্রজাতি, নেনে, হাওয়াইয়ান পেট্রেল এবং হকসবিল কচ্ছপকে পুনরুদ্ধারের জন্য জাতীয় পার্ক সেবা এবং তার সহযোগীরা কার্যক্রম চালাচ্ছে, যারা সক্রিয়ভাবে আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, বাসা পাহারা, হুমকি ও জনসংখ্যার প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং বহিরাগত বন্যপ্রাণী অপসারণে নিযুক্ত রয়েছে।
জলবায়ু
[সম্পাদনা]কিলাউইয়ার চূড়ায় (৪০০০ ফুট উচ্চতা) আবহাওয়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় এবং বছরের যেকোনো সময় বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা থাকতে পারে। উচ্চতা অনুযায়ী তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়। আগ্নেয়গিরির চূড়ায় তাপমাত্রা সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি কম হতে পারে। চেইন অফ ক্র্যাটারস রোডের শেষে উপকূলীয় সমভূমি, যেখানে লাভা সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে, প্রায়শই গরম, শুষ্ক এবং বাতাসপূর্ণ থাকে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
| হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যান | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| জলবায়ু চার্ট (ব্যাখ্যা) | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পর্যটকদের জন্য তথ্য
[সম্পাদনা]প্রবেশের উপায়
[সম্পাদনা]গাড়িতে
[সম্পাদনা]হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যান হাওয়াইয়ের বড় দ্বীপে অবস্থিত।
হিলো থেকে: হাইওয়ে ১১ ধরে ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে (প্রায় ৪৫ মিনিটের পথ)।
কাইলুয়া-কোনা থেকে: হাইওয়ে ১১ ধরে ৯৬ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে (২-২.৫ ঘণ্টার পথ), অথবা হাইওয়ে ১৯ ও ১১ হয়ে ওয়াইমিয়া ও হিলোর মধ্য দিয়ে ১২৫ মাইল (২.৫-৩ ঘণ্টার পথ)।
বাসে
[সম্পাদনা]হেলে অন বাস সিস্টেম (কাউ/হিলো বা কোনা/হিলো রুটের ভলক্যানো স্টপ)। পার্কে আসার জন্য শুধুমাত্র একটি সীমিত কাউন্টি বাস পরিষেবা রয়েছে, যা সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চলে, ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। দ্বীপের বেশিরভাগ বাসের মতোই এটি যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য তৈরি। বাস রুটটি হিলোকে কাউ-এর সাথে সংযুক্ত করে এবং সকালে কয়েকবার ও বিকেলে কয়েকবার চলাচল করে।
বিমানে
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক এবং মূল ভূখণ্ডের বিমান সংস্থাগুলো হিলো এবং কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিষেবা প্রদান করে। হিলো এবং কোনা বিমানবন্দরে আন্তঃদ্বীপ বিমান সংস্থাগুলোও পরিষেবা দেয়।
ফি এবং অনুমতিপত্র
[সম্পাদনা]প্রবেশ ফি সাত দিনের জন্য বৈধ থাকে; এই সময়ে সপ্তাহজুড়ে সীমাহীন পুনঃপ্রবেশ সম্ভব। ২০২০ সালের হিসাবে ফি নিম্নরূপ—
- $১৫ — পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে আগত একজন দর্শনার্থী। পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা মোটরসাইকেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে একজনের জন্য প্রযোজ্য। ১৫ বছর বা তার কম বয়সীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
- $২৫ — মোটরসাইকেল।
- $৩০ — ব্যক্তিগত যানবাহন। একটি একক ব্যক্তিগত, অ-বাণিজ্যিক যানবাহন ও তার সব যাত্রী প্রবেশাধিকার পাবে। সংগঠিত অলাভজনক দল (সেবা সংস্থা, স্কাউট, চার্চ গ্রুপ, কলেজ/স্কুল ক্লাব)—এই পারমিট তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
- $৫৫ — হাওয়াই ট্রাই-পার্ক পাস । প্রথম ব্যবহারের তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত হাওয়াই ভলক্যানোস, হালেয়াকালা এবং পু‘উহনুয়া ও হনাউনাউ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশাধিকার দেয়।
আমেরিকা দ্য বিউটিফুল পাস (আন্তঃসংস্থা পাস নামেও পরিচিত) হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্কসহ সব জাতীয় উদ্যান, এবং কিছু জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও জাতীয় বনে প্রবেশাধিকার দেয়। ব্যক্তিগত যানবাহনে একসঙ্গে ভ্রমণ করলে একটি পাসেই পুরো দল প্রবেশ করতে পারে; পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে হলে এক পাসে সর্বোচ্চ চারজন প্রবেশ করতে পারেন। পাসের ধরনগুলো—
- বার্ষিক পাস (জারির তারিখ থেকে ১২ মাসের জন্য বৈধ): যে কেউ কিনতে পারেন। নিয়মিত মূল্য $৮০; ৬২ বছর বা তদূর্ধ্ব মার্কিন নাগরিক/স্থায়ী বাসিন্দার জন্য $২০; আর বর্তমানে কর্মরত সামরিক সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে (কমন অ্যাক্সেস কার্ড—CAC বা মিলিটারি আইডি প্রদর্শন করতে হবে)।
- আজীবন পাস (ধারকের সারাজীবনের জন্য বৈধ): ৬২ বছর বা তদূর্ধ্ব মার্কিন নাগরিক/স্থায়ী বাসিন্দার জন্য $৮০; প্রাক্তন সামরিক সদস্য (ভেটেরান) ও ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলোর জন্য বিনামূল্যে। যোগ্যতার প্রমাণপত্র দিতে হবে। এই পাসে পার্কের কিছু সুবিধায় ৫০% ছাড়ও মেলে।
- অ্যাক্সেস পাস (ধারকের সারাজীবনের জন্য বৈধ): স্থায়ী অক্ষমতা-সম্পন্ন মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে। নাগরিকত্ব ও স্থায়ী অক্ষমতার প্রমাণপত্র প্রয়োজন। এ পাসেও পার্কের কিছু সুবিধায় ৫০% ছাড় প্রযোজ্য।
- স্বেচ্ছাসেবী পাস: ইন্টারএজেন্সি পাস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কোনো ফেডারেল সংস্থায় ২৫০ ঘণ্টা বা তার বেশি স্বেচ্ছাসেবা করলে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক বিনামূল্যের পাস (শিক্ষাবর্ষে সেপ্টেম্বর থেকে পরের বছরের আগস্ট পর্যন্ত বৈধ): ধারক এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত, অ-বাণিজ্যিক যানবাহনের সব যাত্রী প্রবেশ করতে পারবেন। নিবন্ধন আবশ্যক ‘এভরি কিড আউটডোরস’ ওয়েবসাইটে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস প্রতি বছর পাঁচ দিনে সব জাতীয় উদ্যানে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়—
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস (জানুয়ারির তৃতীয় সোমবার); আগামী পালনের দিন: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
- ন্যাশনাল পার্ক সপ্তাহের প্রথম দিন (এপ্রিলের তৃতীয় শনিবার); আগামী পালনের দিন: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
- ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (২৫ আগস্ট)
- ন্যাশনাল পাবলিক ল্যান্ডস ডে (সেপ্টেম্বরের চতুর্থ শনিবার); আগামী পালনের দিন: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
- ভেটেরান্স ডে (১১ নভেম্বর)
যাতায়াত ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]| টীকা: আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে, উচ্চ মাত্রার সালফার ডাই অক্সাইডের জন্য পার্কের কিছু এলাকা বন্ধ রাখা হতে পারে। |

পার্কের অভ্যন্তরে কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। ভিজিটর সেন্টারে সমস্ত রাস্তা, ট্রেইল এবং আকর্ষণ সম্বলিত মানচিত্র ও ব্রোশিওর পাওয়া যায়।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]পার্কের সমস্ত আকর্ষণ ঘুরে দেখতে অনেকেই বেশ কয়েক দিন সময় কাটাতে পারেন। এখানে বেশ কিছু চমৎকার হাইকিং ট্রেইল রয়েছে, যেখানে হাওয়াইয়ান ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপের প্রায় সব ধরনের বৈচিত্র্য দেখা যায়। আপনি যদি ভাগ্যবান হন, তবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও দেখতে পেতে পারেন (আপনি অবস্থার হালনাগাদ তথ্যের জন্য পার্কের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন)।
1 কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টার (পার্কের প্রবেশপথের কাছে)।
প্রতিদিন সকাল ৭:৪৫ - বিকাল ৫টা। কর্মীদের কাছে মানচিত্র এবং পরিস্থিতি ও লাভা প্রবাহের সর্বশেষ তথ্য রয়েছে। এখানে দ্বীপ গঠন; ডানা, বাতাস এবং ঢেউয়ের মাধ্যমে জীবনের আগমন; সমুদ্র থেকে চূড়া পর্যন্ত বাস্তুতন্ত্র; রেইনফরেস্টের দৃশ্য ও শব্দ; আক্রমণাত্মক প্রজাতি; এবং যারা সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখছে তাদের উপর প্রদর্শনী রয়েছে। এর সাথে মিশে আছে হাওয়াইয়ের আদিবাসী মানুষের 'মানাও' (প্রজ্ঞা) এবং 'মো'ওলেলো' (গল্প)। বর্ন অফ ফায়ার, বর্ন অফ দ্য সি নামক একটি চলচ্চিত্র সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় অডিটোরিয়ামে দেখানো হয়। রেঞ্জারদের দ্বারা পরিচালিত চমৎকার প্রোগ্রামগুলো সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করুন।
- ভলক্যানো আর্ট সেন্টার গ্যালারি (কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারের সংলগ্ন)।
প্রতিদিন সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা। স্থানীয় এবং আদিবাসী হাওয়াইয়ান শিল্প প্রদর্শনকারী একটি আর্ট গ্যালারি। স্যুভেনিয়র হিসেবে শিল্পকর্মও কেনা যেতে পারে, যদিও সেগুলো ব্যয়বহুল।
প্রবেশ বিনামূল্যে।
- 2 ক্রেটার রিম ড্রাইভ। একটি ৬-মাইল দীর্ঘ আংশিক লুপ রোড যা পশ্চিমের উয়েকাহুনা থেকে দক্ষিণে চেইন অফ ক্র্যাটারস রোড পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি সুন্দর দৃশ্যের ওভারলুক এবং ছোট ছোট হাঁটার পথের সুযোগ করে দেয়। এটি একসময় চূড়ার ক্যালডেরা ঘিরে একটি সম্পূর্ণ লুপ ছিল, কিন্তু ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতে পর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশটি (উয়েকাহুনা থেকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে চেইন অফ ক্র্যাটারস রোড পর্যন্ত) স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যখন রাস্তার কিছু অংশ ক্র্যাটারে ধসে পড়েছিল। এটি একটি মৌলিক ভ্রমণ এবং সকল দর্শনার্থীর এই পথে গাড়ি চালানো উচিত।

- 3 থার্সটন লাভা টিউব (হাওয়াইয়ান নাম: নাহুকু), ক্রেটার রিম ড্রাইভ। প্রায় ৩৫০-৫০০ বছর আগে লাভা প্রবাহিত হয়ে যাওয়ার পর গঠিত একটি টিউব। রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে একটি ছোট পিট ক্র্যাটারে নেমে ২০-৪০ মিনিটের একটি লুপ ট্রেইল, ৪০০ ফুট (১২০ মিটার) দীর্ঘ (আলোকিত) টিউবের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া এবং রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে ফিরে আসা একটি সার্থক অভিজ্ঞতা। আলোকিত পথের বাইরেও টিউবটি অন্ধকারে বিস্তৃত, তবে ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতে অন্ধকার অংশটি বন্ধ রয়েছে। এই এলাকায় কাছের পার্কিং এলাকা (৩০ মিনিটের সময়সীমা) থেকে অথবা কিছুটা দূরের কিলাউইয়া ইকি পার্কিং লট থেকে পৌঁছানো যায়।
- 4 চেইন অফ ক্র্যাটারস রোড। এই রাস্তাটি ২০ মাইলে ৩,৭০০ ফুট নিচে নেমে গেছে এবং যেখানে ২০০৩ সালের একটি লাভা প্রবাহ রাস্তা অতিক্রম করেছিল সেখানে শেষ হয়েছে। পরিবর্তনশীল আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে, রাস্তার শেষ থেকে সক্রিয় লাভা প্রবাহ দেখার সুযোগ থাকতে পারে। চেইন অফ ক্র্যাটারস রোড বরাবর কোনো খাবার, জল বা জ্বালানী পাওয়া যায় না।
পু'উলোয়া পেট্রোগ্লিফ ফিল্ডস। চেইন অফ ক্র্যাটারস রোডের ১৬.৫ মাইল পোস্টে অবস্থিত। হাওয়াইয়ান ভাষা থেকে "পু'উলোয়া"-র অনুবাদ "দীর্ঘ পাহাড়" বা "দীর্ঘ জীবনের পাহাড়"। এটি হাওয়াইয়ের জনগণের কাছে এবং বিশেষ করে কালাপানার মানুষের কাছে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ ঢালে পানাও নুই-এর 'আহুপুয়া'আ' (একটি প্রাচীন হাওয়াইয়ান ভূমি বিভাগ)-তে অবস্থিত, পু'উলোয়া হলো সেই স্থান যেখানে কঠিন লাভাতে খোদাই করা পেট্রোগ্লিফ নামে পরিচিত অবিশ্বাস্য সংখ্যক চিত্র রয়েছে। পু'উলোয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে ২৩,০০০-এরও বেশি পেট্রোগ্লিফ চিত্র রয়েছে; যার মধ্যে কাপিউল বা গর্তযুক্ত মোটিফ (মোটের ৮৪%), বৃত্ত, অন্যান্য জ্যামিতিক এবং রহস্যময় নকশা, মানুষের প্রতিকৃতি, ক্যানোর পাল এবং এমনকি পালকযুক্ত পোশাকের মোটিফও রয়েছে। চেইন অফ ক্র্যাটারস রোডের ১৬.৫ মাইল পোস্টে একটি পার্কিং এলাকা থেকে এখানে প্রবেশ করা যায়। পার্কিং এলাকা থেকে পু'উলোয়ার বোর্ডওয়াকে পৌঁছানোর জন্য একটি মৃদু ঢেউখেলানো পাহোয়েহো লাভা বেডরক ট্রেইলের উপর দিয়ে ০.৭-মাইল হাঁটতে হয়।
দ্য ফুটপ্রিন্টস। হাইওয়ে ১১-এর সংলগ্ন কাউ ডেজার্ট ট্রেইলহেড থেকে অথবা ক্রেটার রিম ড্রাইভ থেকে কাউ ডেজার্ট ট্রেইল দিয়ে এখানে যাওয়া যায়। ১৭৯২ সালের যোদ্ধাদের পায়ের ছাপ আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। এলাকায় প্রবেশ করার পর দর্শনার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠিত ট্রেইলের উপর থাকতে অনুরোধ করা হয়। এই এলাকার ছাইয়ের স্তরগুলো ভঙ্গুর এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এলাকার সাংস্কৃতিক এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে সম্মান করুন। পাথর নাড়াবেন না বা গাছপালা তুলবেন না।
1 হোলেই সি আর্চ ভিউপয়েন্ট (চেইন অফ ক্র্যাটারস রোডের ঠিক শেষে।)। চেইন অফ ক্র্যাটারস রোডের শেষে এই পর্যবেক্ষণ স্থানটি থেকে সমুদ্র এবং আগ্নেয়গিরির খাড়া পাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। যে আর্চটির নামে এই স্থানের নামকরণ, সেটি ৯০ ফুট উঁচু এবং পূর্ব দিকে তাকালে দেখা যায়।
বিনামূল্যে।
করণীয়
[সম্পাদনা]
- হাইকিং পার্কের ট্রেইলগুলো সহজ হাঁটা (বার্ড পার্ক/কিপুকা পুয়াউলু বা থার্সটন লাভা টিউব/নাহুকু) থেকে শুরু করে কিলাউইয়া ইকি বা মাউনা ইকীর মতো দীর্ঘ হাইকিং পর্যন্ত বিভিন্ন অসুবিধার স্তরের। অন্যান্য ট্রেইলগুলো বন্য এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে যায় এবং শুধুমাত্র যারা সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতা এবং শীতকালীন সরঞ্জামসহ সঠিকভাবে সজ্জিত, তাদের জন্যই উপযুক্ত। বেশিরভাগ ট্রেইল ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং অনুসরণ করা সহজ। বন্য ট্রেইলগুলো সাধারণত 'আহু' (পাথরের স্তূপ) দ্বারা চিহ্নিত করা থাকে। ডেভাস্টেশন এবং ওয়ালড্রন লেজ ট্রেইলগুলো পাকা এবং হুইলচেয়ার ও স্ট্রলারের জন্য প্রবেশযোগ্য। ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কিছু ট্রেইল বন্ধ রয়েছে।
কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারে (প্রতিদিন সকাল ৭:৪৫ - বিকাল ৫টা) কর্তব্যরত রেঞ্জাররা হাইকারদের ট্রেইলের তথ্য, মানচিত্র এবং অনুমতিপত্র দিয়ে সহায়তা করবেন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য লিঙ্ক: দিনের হাইকিং, রাতের হাইকিং।
কেনাকাটা
[সম্পাদনা]- হাওয়াই প্যাসিফিক পার্কস অ্যাসোসিয়েশন বইয়ের দোকান (ভিজিটর সেন্টারের সংলগ্ন)। হাওয়াইয়ের প্রাকৃতিক এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত বই এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক উপকরণের এক বিশাল সংগ্রহ এখানে রয়েছে। এই অলাভজনক সহযোগী সংস্থা পার্কের লক্ষ্য এবং কর্মসূচিতে সহায়তা করে। পার্কের জ্যাগার জাদুঘরেও তাদের একটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।
খাবার-দাবার
[সম্পাদনা]পার্ক থেকে ১-২ মিনিট উত্তরে ভলক্যানো ভিলেজ শহরে আরও কিছু সুস্বাদু রেস্তোরাঁ রয়েছে।
1 ভলক্যানো হাউস হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ (কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারের রাস্তার ওপারে), ☏ +১ ৮০৮ ৯৬৭-৭৩২১, ইমেইল: volcanohouse@verizon.net। ঐতিহাসিক এই হোটেলটি কিলাউইয়া ক্যালডেরার ধারে অবস্থিত।
কিলাউইয়া মিলিটারি ক্যাম্প - ক্র্যাটার রিম ক্যাফে (৯৯-২৫২ ক্র্যাটার রিম ড্রাইভ, ভলক্যানো) - পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে সস্তা এবং প্রচুর পরিমাণে খাবারের জন্য।
পানীয়
[সম্পাদনা]স্থানীয় বার থেকে অথবা তথ্য কেন্দ্রের একটি মেশিন থেকে পানীয় সংগ্রহ করা যায়।
থাকার ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]আবাসন
[সম্পাদনা]পার্কের উত্তরে, মাত্র ১–২ মিনিট দূরের মনোরম শহর ভলক্যানো ভিলেজ-এ আরও বেশ কিছু আবাসনের বিকল্প রয়েছে।
- 5 কিলাউইয়া মিলিটারি ক্যাম্প (কেএমসি), ৯৯-২৫২ ক্রেটার রিম ড্রাইভ, ☏ +১ ৮০৮ ৯৬৭-৮৩৩৩, ইমেইল: usarmy.kmc-reservations@mail.mil। আগমন: বিকেল ৩টা, প্রস্থান: সকাল ১১টা। সক্রিয় বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্য এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের বেসামরিক কর্মীদের (GS) জন্য—এখানে ৯০টি এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের কেবিন/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যা প্রতি রাতের ভাড়ায় (প্রতি রাত) দেওয়া হয়।
6 ভলক্যানো হাউস হোটেল, ১ ক্রেটার রিম ড্রাইভ, ☏ +১ ৮৪৪-৫৬৯-৮৮৪৯, ইমেইল: frontdesk@hawaiivolcanohouse.com। পার্কের ভেতরে কিলাউইয়া ক্রেটারের ধারঘেঁষা একটি ঐতিহাসিক হোটেল; ৩৩টি অতিথিকক্ষ রয়েছে। এটি নামাকানিপাইও ক্যাম্পগ্রাউন্ডে গ্রামীণ ক্যাম্পার কেবিনও পরিচালনা করে। প্রতিটি কেবিনে ৪ জন ঘুমাতে পারেন (১টি ডাবল বেড ও ২টি বাঙ্ক-স্টাইল টুইন বেড)। প্রতিটি কেবিনে একটি পিকনিক টেবিল ও আউটডোর বারবিকিউ গ্রিল আছে; ঝরনার ব্যবস্থা রয়েছে। রিজার্ভেশন প্রয়োজন—যোগাযোগের তথ্য ভলক্যানো হাউসের মতোই।
ক্যাম্পিং
[সম্পাদনা]নামাকানিপাইও ও কুলানাওকুয়াইকি এই দুইটি ড্রাইভ ইন (গাড়িতে প্রবেশযোগ্য) ক্যাম্পগ্রাউন্ড রয়েছে; পাশাপাশি হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্কে বহু ব্যাককান্ট্রি হাইকিং/ক্যাম্পিং এলাকা আছে। এসব ক্যাম্পগ্রাউন্ডে ক্যাম্পিং বিনামূল্যে, তবে পার্কে প্রবেশের ফি প্রদান করা হয়েছে এর প্রমাণ দেখাতে হয়।
ড্রাইভ-ইন ক্যাম্পিং আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে উপলব্ধ। কোনো রিজার্ভেশন বা পারমিটের প্রয়োজন নেই, এবং চেক ইন প্রয়োজন নেই। এক মাসে সর্বোচ্চ ৭ দিন ও বছরে ৩০ দিনের বেশি থাকা যাবে না।
7 কুলানাওকুয়াইকি। মোট ৯টি সাইট তার মধ্যে ২টি হুইলচেয়ার প্রবেশযোগ্য। কুলানাওকুয়াইকি হিলিনা পালি রোডের ধারে, ৩,২০০ ফুট (৯৭৫ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে পিকনিক টেবিলসহ ৯টি ওয়াক ইন (পায়ে হেঁটে প্রবেশযোগ্য) ক্যাম্পসাইট রয়েছে। একটি প্রবেশযোগ্য ভল্ট টয়লেট আছে; তবে জলের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ক্যাম্পফায়ার অনুমোদিত নয় শুধু জ্বালানি সহ ক্যাম্পিং স্টোভ ব্যবহার করুন। এলাকাটি অতিশুষ্ক থাকলে ও আগুনের ঝুঁকি বেশি হলে ক্যাম্পগ্রাউন্ড বন্ধ থাকতে পারে। বিপন্ন নেনে পাখির সুরক্ষায় এখানে কুকুর বা পোষা প্রাণী অনুমোদিত নয়।
প্রতি সাইট ১০ ডলার (২০২০ সালের হার)।
8 নামাকানিপাইও (ক্যাম্পগ্রাউন্ডটি হিলো থেকে হাইওয়ে ১১ ধরে ৩১.৫ মাইল দক্ষিণে।)। ১৬টি সাইট; সবই আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে। নামাকানিপাইও ক্যাম্পগ্রাউন্ড ৪,০০০ ফুট উচ্চতায়, লম্বা ইউক্যালিপটাস ও ওহিয়া গাছে ঘেরা বড়, খোলা ঘাসভূমিতে অবস্থিত। এখানে শৌচাগার, জল, পিকনিক টেবিল ও বারবিকিউ পিট আছে। ক্যাম্পফায়ার কেবল বারবিকিউ পিটে অনুমোদিত। সর্বোচ্চ ৭ দিন থাকা যাবে। অধিকাংশ সুবিধা যৌথ, এবং স্বতন্ত্র সাইটের সংখ্যা সীমিত।
প্রতি তাঁবু-সাইট ১৫ ডলার (২০২০ সালের হার)।
প্রত্যন্ত অঞ্চল
[সম্পাদনা]দিনভিত্তিক সব হাইকার এবং রাতের জন্য ব্যাককান্ট্রি ব্যবহারকারীদের অবশ্যই কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারে (প্রতিদিন সকাল ৭:৪৫ বিকেল ৪:৪৫) নিবন্ধন করে বিনামূল্যের পারমিট নিতে হবে। পারমিট ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে দেওয়া হয় এবং আপনার হাইকের আগের দিন থেকেই জারি করা হয় তার আগে নয়। ক্যাম্পগ্রাউন্ডে রাত্রীযাপনের মেয়াদ সীমিত। নির্দিষ্ট ক্যাম্পগ্রাউন্ডের অবস্থান ও অনুমোদিত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারের রেঞ্জারদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ন্যূনতম প্রভাব রেখে ক্যাম্পিং
[সম্পাদনা]- সকল হাইকার যা নিয়ে আসবেন, সবই আবার সঙ্গে করে ফেরত নেবেন।
- আবর্জনা মাটির নিচে বা পিট টয়লেটে ফেলবেন না সঙ্গে করে নিয়ে যান।
- লিভ-নো-ট্রেস ক্যাম্পিং অনুশীলন করুন।
জল
[সম্পাদনা]- পার্কে প্রাকৃতিক ঝর্ণা/জলধারা নেই; তাই ব্যাকপ্যাকারদের নিজেদের জল সঙ্গে আনতে হতে পারে।
- কিছু ক্যাম্পগ্রাউন্ডে জল সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে। তাদের বর্তমান জলের স্তর সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারে পাওয়া যায়, পারমিট নেওয়ার সময়ই জেনে নিন।
ট্রেইলের অবস্থা
[সম্পাদনা]- পাথুরে ভূভাগে হাইকিং কঠিন ও শ্রমসাধ্য।
- লাভার উপর হাঁটার সময় হাইকিং বুট সর্বোত্তম সুরক্ষা দেয়; লম্বা প্যান্ট ধারালো, কাঁচের মতো লাভায় পড়লে কিছুটা সুরক্ষা দেয়।
- মাঝারি উচ্চতার ট্রেইলে প্রতি মাইলে প্রায় অর্ধ ঘণ্টা সময় ধরুন; উচ্চতা বাড়লে আরও বেশি সময় রাখুন।
- দৃশ্য উপভোগ ও জলপানের বিরতির জন্য অতিরিক্ত সময় যোগ করুন।
- ‘আহু’ (পাথরের স্তূপ) ট্রেইল মার্কারগুলো প্রথমে আশেপাশের কালো লাভা থেকে আলাদা করা কঠিন হতে পারে; তবে ট্রেইলগুলো ভালোভাবে চিহ্নিত এবং হাইকাররা দ্রুতই এই স্তূপগুলো চিনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
- সূর্যের আলো তীব্র হতে পারে টুপি, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ট্রেইলে থাকা এড়াতে সকালের দিকে ট্রেক শুরু করুন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি
[সম্পাদনা]- অনেক হাইক উন্মুক্ত লাভা ক্ষেত্র ও ঘন বৃষ্টিবনের মধ্য দিয়ে যায়।
- নিজের গতিতে চলুন, প্রচুর জল পান করুন।
- অতিরিক্ত পোশাক ও স্লিপিং ব্যাগ জলরোধীভাবে প্লাস্টিকে প্যাক করুন; রেইনগিয়ার অপরিহার্য।
- উষ্ণ ও শুকনো থাকুন; হাইপোথার্মিয়া (শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে নেমে যাওয়া) মারাত্মক হতে পারে।
- ধারালো লাভায় আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখুন।
আগ্নেয়গিরির বিপদ
[সম্পাদনা]- যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে।
- ট্রেইলের ধারে লাভা উদগীরণের মতো অসম্ভাব্য ঘটনায় ক্রিয়াকলাপের উজান/উর্ধ্বমুখী দিকে সরে যান।
- ভূমির ফাটল, পাতলা ভূত্বক ও লাভা টিউব এলাকায় সতর্ক থাকুন এগুলোর সংখ্যা অনেক।
আগুনের ঝুঁকি
[সম্পাদনা]- কিছু ট্রেইল অত্যন্ত দাহ্য ঘাস ও ঝোপঝাড়যুক্ত এলাকা দিয়ে যায়।
- খোলা আগুন ও ধূমপান নিষিদ্ধ।
সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ
[সম্পাদনা]- প্রাচীন হাওয়াইয়ানদের রেখে যাওয়া সব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও শিল্পকর্মকে সম্মান করুন।
- কোনো পাথর নাড়াবেন না, কোনো পাথরের কাঠামো (যেমন লাভা ট্রি, দেয়াল, ‘হেইয়াউ’ প্রাচীন মন্দির, বা পেট্রোগ্লিফ শিলালিপি) আরোহন/পরিবর্তন করবেন না।
- গুহায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।
- সব উদ্ভিদ, প্রাণী, পাথর এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক, প্রত্নতাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য আইন দ্বারা সুরক্ষিত অপসারণ, আঘাত বা ধ্বংস করা যাবে না।
কুকুর ও আগ্নেয়াস্ত্র
[সম্পাদনা]- বন্য এলাকায় কুকুর ও আগ্নেয়াস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
যাওয়ার আগে পরিকল্পনা জানান
[সম্পাদনা]- রওনা হওয়ার আগে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে রেখে যান।
- তাকে বোঝান, আপনি ট্রেইলে হারিয়ে গেলে বা আহত হলে তিনিই আপনার সাহায্যের প্রাথমিক সংযোগ; নির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ না পেলে অনুপস্থিত বলে রিপোর্ট করবেন।
- হারিয়ে গেলে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন; দৃষ্টি আকর্ষণে উজ্জ্বল রং ও প্রতিফলক উপকরণ ব্যবহার করুন।
- একজন হাইকার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর রেঞ্জাররা অনুসন্ধান শুরু করে।
- হারিয়ে যাওয়া বা অনুপস্থিত হাইকার রিপোর্ট করতে হাওয়াই কাউন্টি ৯১১-এ কল করুন।
ব্যাককান্ট্রি থেকে চেক-আউট
[সম্পাদনা]- হাইক শেষে কিলাউইয়া ভিজিটর সেন্টারে এসে রেঞ্জারকে জানান যে আপনার হাইক সম্পন্ন হয়েছে।
- আগ্নেয়গিরির গতিশীল প্রকৃতির কারণে পারমিট জারি করা হয়; অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কারা ঝুঁকিতে থাকতে পারেন এর তথ্য রেঞ্জারদের জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধ
[সম্পাদনা]পার্কের ভিতর থেকে কোনো প্রাকৃতিক উপাদান নেবেন না বা সেগুলোর কোনো ক্ষতি করবেন না।
আপনি যদি হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যানে যান, তবে আপনি নিঃসন্দেহে আগ্নেয়গিরির হাওয়াইয়ান দেবী পেলের কথা শুনবেন। একটি জনশ্রুতি আছে যে, যারা হাওয়াই থেকে, শুধু পার্ক থেকেই নয়, আগ্নেয়গিরির পাথর নিয়ে গেছে, তারা বিভিন্ন দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছে; বিশ্বাস করা হয় যে এটি পেলের ক্রোধ। যাই হোক, একটি জাতীয় উদ্যান থেকে পাথর বা অন্যান্য উপাদান নেওয়া বেআইনি। ধর্মীয়, নৈতিক এবং পরিবেশগত কারণে দ্বীপগুলো থেকে কোনো পাথর, বালি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক জিনিস নেওয়া অনৈতিক এবং নিন্দনীয়। শুধু ছবি তুলুন, রেখে যান শুধু পদচিহ্ন।
নিরাপদে থাকুন
[সম্পাদনা]
- মজবুত জুতো এবং লম্বা প্যান্ট পরুন। প্রচুর পরিমাণে জল সাথে রাখুন এবং ঘন ঘন পান করুন। অন্ধকারের পর হাইকিং এড়িয়ে চলুন।
- চিহ্নিত ট্রেইলেই থাকুন! গাছপালা বা সিন্ডার মাটির গভীর ফাটল লুকিয়ে রাখতে পারে। খাড়া পাড়, ফাটল এবং বাষ্প ভেন্টের কাছে সতর্কতা অবলম্বন করুন যেখানে কিনারা পিচ্ছিল এবং/অথবা অস্থির হতে পারে। ছোট শিশুদের সব সময় নজরে রাখুন।
- ফাটল ও গর্ত, আলগা পাথর এবং পাতলা লাভার ভূত্বকের উপর দিয়ে হাইকিং করা আপনার আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লাভাতে পড়লে গুরুতর ক্ষত হতে পারে।
- আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া (আগ্নেয় গ্যাস) আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। যাদের হৃদপিণ্ড বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে এবং শিশু, ছোট বাচ্চা এবং গর্ভবতী মহিলারা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের হালেমা'উমা'উ ক্র্যাটার, সালফার ব্যাংকস এবং অন্যান্য এলাকা যেখানে আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া উপস্থিত রয়েছে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেকোনো সময় ঘটতে পারে এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি দূর থেকেও, গ্যাস এবং ফলআউট (পেলের চুল, পিউমিস এবং সিন্ডার) ফুসফুস এবং চোখের জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।
পার্ক রেঞ্জারদের নির্দেশ মেনে চলুন এবং রাস্তা ও ট্রেইলের চিহ্নগুলো মান্য করুন।
- বন্ধ এলাকায় কখনোই প্রবেশ করবেন না। বড় ধরনের ভূমিধসের সম্ভাবনার কারণে পার্কের কিছু এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থার কারণে বন্ধ করে দেওয়া এলাকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বন্ধ এলাকার মানচিত্র (২০০৬ সালের তথ্য) দেখুন।
- পার্কে কোনো নিরাপদ সৈকত বা সাঁতারের জায়গা নেই। তীব্র বাতাস, খাড়া ও অস্থির সমুদ্রের পাড় এবং উঁচু ঢেউ আশা করুন।
- সর্বশেষ তথ্যের জন্য এনপিএস সতর্কতা দেখুন।
পরবর্তী গন্তব্য
[সম্পাদনা]
এই পার্ক ভ্রমণ গাইডটি মাউন্ট কিনাবালুর জন্য একটি ব্যবহারযোগ্য নিবন্ধ। এতে পার্ক সম্পর্কে তথ্য, প্রবেশের উপায়, কয়েকটি আকর্ষণ এবং পার্কে থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। একজন সাহসী ব্যক্তি এই নিবন্ধটি ব্যবহার করতে পারেন, তবে দয়া করে পৃষ্ঠাটি সম্পাদনা করে এটি উন্নত করতে বিনা দ্বিধায় এগিয়ে যান।
