এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > চট্টগ্রাম বিভাগ > কক্সবাজার জেলা > মহেশখালী উপজেলা

মহেশখালী উপজেলা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মহেশখালী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ এলাকা।

জানুন[সম্পাদনা]

কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ২১°২৮´ থেকে ২১°৪৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫১´ থেকে ৯১°৫৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অবস্থিত মহেশখালী উপজেলার আয়তন ৩৮৮.৫০ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৫৪ সালে মহেশখালী থানা গঠিত হয় এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। এ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

কিংবদন্তি অনুসারে, ছোট মহেশখালীর তৎকালীন এক প্রভাবশালী বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ সিকদার, মাঝে মাঝেই পাহাড়ে হরিণ শিকার করতে যেতেন। একদিন হরিণ শিকার করতে গিয়ে সারা দিন এদিক-ওদিক ঘুরেও শিকারের সন্ধান না পেয়ে একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ কিছু একটার শব্দে তার তন্দ্রা টুটে যায়। শব্দ অনুসরণ করে তিনি দেখতে পান যে, একটি গাভী একটি মসৃণ শিলাখণ্ডের উপর বাট থেকে দুধ ঢালছে; এই গাভীটি তাঁরই গোয়ালঘর থেকে কিছুদিন আগে হারিয়ে যায়। গাভী আর সেই সুন্দর শিলাখণ্ডটি নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। সেদিন রাতেই তিনি স্বপ্নে দেখতে পান, এক মহাপুরুষ তাঁকে বলছেন যে, শিলাখণ্ডটি একটি দেব বিগ্রহ। এ বিগ্রহ যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন সেখানে রেখে তার উপর একটি মন্দির নির্মাণ করতে হবে। মন্দিরের নাম হবে আদিনাথ মন্দির। এ আদিনাথের (শিবের) ১০৮ নামের মধ্যে "মহেশ" অন্যতম। আর এই মহেশ নাম হতেই এই স্থান পরবর্তীতে মহেশখালী হয়ে যায়। আবার, এটি প্রায় ২০০ বছর আগে মহেশখালী নামে পরিচিত হয়ে উঠে, বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর দ্বারাই এটির নামকরণ হয়েছিল বলেও অনেকের ধারণা।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মহেশখালী উপজেলার জনসংখ্যা ৩,২১,২১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৬৯,৩১০ জন এবং মহিলা ১,৫১,৯০৮ জন। এ উপজেলার ৯০.০৮% মুসলিম, ৭.৮০% হিন্দু, ১.৩০ বৌদ্ধ এবং ০.৮২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

কিভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

মহেশখালী যাবার জন্য প্রথমেই যেতে হবে কক্সবাজারে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার স্থলপথ, রেলপথ কিংবা আকাশপথে যাওয়া যায়। গ্রীন লাইন, নেপচুন, সোহাগ পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৬৮০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা; সৌদিয়া, এস আলম, ইউনিক, চ্যালেঞ্জার প্রভৃতি নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা। কক্সবাজার থেকে কস্তুরি ঘাট যেতে হবে রিক্সায়। মহেশখালী ঘাট বললেও সবাই চেনে। কস্তুরি ঘাট থেকে মহেশখালী স্পিড বোট কিংবা লঞ্চেও যাওয়া যায়। স্পিড বোটে ১৫ মিনিটের রাস্তার এ ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা আর লঞ্চে ১৫ টাকা, সময় নিবে ঘন্টাখানেক।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • বড় রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ মন্দির মহেশখালী স্টেশন থেকে বৌদ্ধ মন্দিরে রিক্সাযোগে যাওয়া যায়। সোনালী রঙের দু’টি বৌদ্ধ মন্দির দেখতে খুবই সুন্দর। এছাড়া এখানেই রয়েছে ব্রোঞ্জ নির্মিত বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি। এর সামনেই রয়েছে উপজাতিদের তৈরি তাঁতবস্ত্রের দোকান।
  • আদিনাথ মন্দির বৌদ্ধ মন্দির থেকে মহেশখালীর আকর্ষণ আদিনাথ মন্দিরে রিক্সায় আধাঘণ্টা সময়ের দূরত্বে আদিনাথ মন্দিরের পাদদেশ। মন্দিরটি কয়েকশ’ বছরের পুরনো। মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দিরটি। ভূমি থেকে ৬৯টি সিঁড়ি অতিক্রম করে মন্দিরে পৌঁছতে হবে। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে অষ্টভুজা দুর্গা মন্দির। এ মন্দিরের একটু সামনেই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে আরেকটি মন্দির।
  • লিডারশীপ ইউনিভার্সিটি কলেজ মহেশখালী জেটিঘাট বা আদিনাথ জেটিঘাট থেকে রিক্সা বা মটরগাড়ী যোগে যাওয়া যায়।
  • সোনাদিয়া সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সদর থেকে কস্তুরা ঘাট বা ৬নং ঘাটা বা উত্তর নুনিয়াছড়া সরকারি জেটি ঘাট থেকে স্পীড বোট বা কাটের বোটে করে সোনাদিয়া যাওয়া যায়।

এছাড়া মহেশখালীর আদিনাথ বাজার, জয়ের খাতা, হরিয়ার চরা, জেমঘাট, পাকুয়া, মাতার বাড়ি, পশ্চিমপাড়া প্রভৃতি জায়গাগুলোও চমৎকার।

থাকার ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মহেশখালীতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে। হোটেল সি গার্ডেন ভালোমানের হোটেল। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতেও ভালোমানের হোটেল আছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল শৈবাল, লাবণী, প্রবাল ছাড়াও বেসরকারি হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল সী গাল, হোটেল সী প্যালেস, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, জিয়া গেস্ট হাউজ, সোহাগ গেস্ট হাউজ, গ্রীন অবকাশ রিসোর্ট, নিট বেল রেস্টহাউজ রয়েছে। এ সকল হোটেলে ৩০০ থেকে ৩০০০ টাকায় রাত্রিযাপন করা যায়।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

আদিনাথ মন্দির থেকে নেমে আসলেই জেলে পাড়া। জেলেদের জীবনযাপনের সাথে মেশার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। সমুদ্রের পাড়ে দেখা যায় বিচিত্র শামুক আর ঝিনুক। যে-কোন রেস্তোঁরায় কম দামে মজাদার রূপচাঁদা কিংবা কোরালের ন্যায় মজার মজার সামুদ্রিক মাছ খাবার ব্যবস্থা আছে। শুঁটকিও খাওয়া যায়।