বিষয়বস্তুতে চলুন

-28137
উইকিভ্রমণ থেকে
ওশেনিয়া > অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া

পরিচ্ছেদসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। একে বলা হয় ল্যান্ড ডাউন আন্ডার, কারণ এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেটি পুরো একটি মহাদেশকে দখল করে আছে। এখানে আদিবাসী সংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৬৫,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, আবার আধুনিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের ফলে এটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়েছে। দেশটি তার প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্মুক্ত প্রান্তর, সমুদ্রসৈকত, মরুভূমি, অরণ্য এবং আউটব্যাকের জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে অত্যন্ত নগরায়িত-বহুজাতিক শহরের সমাহারে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত শহর হলো সিডনি, যা বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দরের তীরে অবস্থিত।

অঞ্চল

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া ছয়টি রাজ্য ও নয়টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সবগুলো একসঙ্গে ঘুরে দেখা প্রায় অসম্ভব, কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যের তুলনায় অনেক বড়, বরং আয়তনে কানাডার প্রদেশগুলোর কাছাকাছি। ব্রিসবেন থেকে শার্ক বে পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ কিমি (৩,১০০ মা) কিমি দূরত্ব, যা মাদ্রিদ থেকে মুরমানস্ক, কায়রো থেকে নাইরোবি বা মেইন থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দূরত্বের সমান।

অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য/অঞ্চল ও প্রধান মহাসড়ক
 নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এএসটি)
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য, যেখানে রয়েছে সিডনি—দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শহর। রাজ্যটি ঘিরে রয়েছে পরিকল্পিত রাজধানী শহর ক্যানবেরা। নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূল জুড়ে রয়েছে সমুদ্রসৈকতঘেঁষা জনপদ। একটু ভেতরে রয়েছে ব্লু মাউন্টেইনস এবং স্নোয়ি মাউন্টেইনসের পর্বতশ্রেণী। আরও ভেতরে রয়েছে বিশাল কৃষি সমভূমি, যা শেষে মিলেছে আউটব্যাকের সঙ্গে।
 নর্দান টেরিটরি (এনটি)
উলুরুঅ্যালিস স্প্রিংসের লাল মরুভূমি থেকে শুরু করে ডারউইনন্যাশনাল পার্কের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দান টেরিটরি অপূর্ব সুন্দর এবং ধারণার তুলনায় অনেক সহজলভ্য।
 কুইন্সল্যান্ড (কিউএলডি)
রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে গোল্ড কোস্ট থেকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ পর্যন্ত সমুদ্রতটের রূপ, এবং প্রাণচঞ্চল ব্রিসবেন শহর। এখানেই আছে ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্কের উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য এবং হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জের রিসোর্ট। ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল এবং আরও ভেতরে বিশাল আউটব্যাক।
 দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া (এসএ)
বিশ্ববিখ্যাত বারোসা ভ্যালির উৎকৃষ্ট মদ, ফ্লিন্ডারস রেঞ্জেসের সৌন্দর্য ও আউটব্যাক, আর অ্যাডিলেড—"চার্চের শহর"—এর সংস্কৃতি ও উৎসবের জন্য খ্যাত। এটাই একমাত্র রাজ্য যা কারাগার উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বসতিদের দ্বারা গড়ে উঠেছে।
 তাসমানিয়া (টাস.)
বাস প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাসমানিয়া হলো একটি পর্বতময় রাজ্য। পশ্চিমে ক্র্যাডল মাউন্টেইনের দুর্দান্ত সৌন্দর্য, পূর্বে সমুদ্রসৈকত, আর দক্ষিণে রয়েছে অরণ্য। হোবার্ট ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইউরোপীয় বসতি, এবং বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো সংরক্ষিত আছে।
 ভিক্টোরিয়া (ভিক.)
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট মূল ভূখণ্ডের রাজ্য ভিক্টোরিয়া নানা বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও অভিজ্ঞতা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নাটকীয় ঢেউয়ের সৈকত, উর্বর কৃষিভূমি ও সুন্দর জাতীয় উদ্যান সবই এখানে রয়েছে। মেলবোর্ন হলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র—বিশ্বমানের কেনাকাটা, ফ্যাশন, খাদ্য এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ।
 পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া (ডব্লিউএ)
একটি বিশাল রাজ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে রাজধানী শহর পার্থ। দক্ষিণে রয়েছে মার্গারেট রিভার-এর আঙুরক্ষেত এবং অ্যালবানির মনোরম দৃশ্যাবলি। উত্তরে রয়েছে ব্রুমের উষ্ণমণ্ডলীয় সৈকত। দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট জনপদ, রাস্তার ধারে অবকাঠামো, খনিশ্রমিকদের বসতি ও জাতীয় উদ্যান।

দ্বীপপুঞ্জ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ তাসমানিয়া, যা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যও বটে। দেশজুড়ে মোট ৮,২২২টি দ্বীপ রয়েছে। প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • 1 লর্ডহাউ দ্বীপ - প্রকৃতির অপূর্ব প্রদর্শনী, সিডনি থেকে দুই ঘণ্টার ফ্লাইট, নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ।
  • 2 নরফোক দ্বীপ - নিউজিল্যান্ডের মাঝপথে, প্রকৃতি ও সৈকতের জন্য খ্যাত।
  • 3 ক্রিসমাস দ্বীপমালা - লাল কাঁকড়ার অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত, পার্থ থেকে ফ্লাইট যায়।
  • 4 কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ - প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ, জনবসতিপূর্ণ, পার্থ থেকে ফ্লাইটে যাওয়া যায়।
  • 5 টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ - আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র, কেপ ইয়র্ক ও পাপুয়া নিউ গিনির মাঝে। ভ্রমণের জন্য ঐতিহ্যগত মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। ফ্লাইট কেয়ার্নস থেকে।
  • 6 ক্যাঙ্গারু দ্বীপ - অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মধুর খামার, আঙুরক্ষেত ও সৈকত রয়েছে।
  • 7 রটনেস্ট দ্বীপ - প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, ৬৩টি সৈকত ও ২০টি উপসাগর রয়েছে। পার্থের কাছে অবস্থিত এবং "কোয়োকা" প্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
  • 8 কিং দ্বীপ - তাসমানিয়ার উত্তরে বাস প্রণালীতে।
  • 9 হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ - সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধ পর্যটন গন্তব্য।

এছাড়াও রয়েছে বহু জনশূন্য দ্বীপ যেমন করাল সি দ্বীপপুঞ্জ, কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ, অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ এবং দূরবর্তী আন্টার্কটিক দ্বীপ যেমন হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং ম্যাকুয়ারি দ্বীপ

রাতে সিডনির দৃশ্য
  • 10 ক্যানবেরা - তুলনামূলক ছোট, পরিকল্পিত জাতীয় রাজধানী; এখানে বহু জাদুঘর রয়েছে
  • 11 অ্যাডিলেড - "চার্চের শহর", শান্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী, বিশ্বখ্যাত আঙুরক্ষেতের কাছেই
  • 12 ব্রিসবেন - রৌদ্রোজ্জ্বল কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী, সুন্দর বালুকাময় সৈকতের প্রবেশদ্বার
  • 13 কেয়ার্নস - গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, পোর্ট ডগলাস, ডেইন্ট্রি ন্যাশনাল পার্ক ও বহু সৈকত ও রিসোর্টের প্রবেশদ্বার; বিশ্রাম ও ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থান
  • 14 ডারউইন - অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী
  • 15 হোবার্ট - ছবির মতো সুন্দর ও শান্ত তাসমানিয়ার রাজধানী, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় কারাগার বসতি
  • 16 মেলবোর্ন - অস্ট্রেলিয়ার কফি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার রাজধানী; প্রায়শই সবচেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের শহর বলা হয়; শিল্পকলা, খাবার ও ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ
  • 17 পার্থ - পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী মহাদেশীয় শহর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে
  • 18 সিডনি - অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম শহর, অপেরা হাউসের আবাসস্থল এবং মনোরম উপসাগর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অসংখ্য সৈকতের জন্য খ্যাত

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]
দ্য টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস
  • 19 ব্লু মাউনটেইন্স জাতীয় উদ্যান - নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি পর্বতময় জাতীয় উদ্যান, যেখানে "থ্রি সিস্টার্স" শিলারূপ আছে
  • 20 ক্র্যাডল মাউন্টেন-লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক - তাসমানিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান; এখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গভীরতম হ্রদ ও মনোরম পাহাড়
  • 21 ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্ট - বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত অরণ্য; এখানে রয়েছে ক্যাসোয়ারি পাখির বৃহত্তম জনসমষ্টি
  • 22 গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ - কুইন্সল্যান্ড উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা
  • 23 গ্রেট ওশান রোড - ভিক্টোরিয়ার মনোমুগ্ধকর উপকূলীয় সড়ক; "টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস" শিলা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে
  • 24 কাকাডু জাতীয় উদ্যান - নর্দান টেরিটরির দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান; উষ্ণমণ্ডলীয় ভ্রমণ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের স্থান
  • 25 ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জেস ন্যাশনাল পার্ক – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রতীকী জাতীয় উদ্যান; প্রাকৃতিক অ্যম্ফিথিয়েটার ও এডিয়াকারান যুগের জীবাশ্ম রয়েছে
  • 26 পুরনুলুলু জাতীয় উদ্যান – "বাঙ্গল বাঙ্গল রেঞ্জের" খাড়া শিলা, ২৫০ মিটার উঁচু
  • 27 উলুরু-কাটা টজুটা ন্যাশনাল পার্ক - উলুরু (আয়ার্স রক) ও কাটা টজুটা (দ্য ওলগাস) শিলারূপ, যা "রেড সেন্টারের" প্রতীক

জানুন

[সম্পাদনা]
রাজধানী ক্যানবেরা
মুদ্রা Australian dollar (AUD)
জনসংখ্যা ২৭.৩ মিলিয়ন (2024)
বিদ্যুৎ ২৩০±১০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (AS/NZS 3112)
দেশের কোড +61
সময় অঞ্চল ইউটিসি+১০:০০
জরুরি নম্বর 000
গাড়ি চালানোর দিক বাম

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট-প্রায় ২৫ মিলিয়ন, তবে তা বাড়ছে। জি২০-এর সদস্য এ দেশটির জীবনমান উচ্চ এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে শীর্ষে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ

অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে ৬৫,০০০ বছর ধরে আদিবাসীরা বসবাস করছে। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বিভিন্ন তরঙ্গে এসে এখানে পৌঁছায়। শেষ বরফ যুগের পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ভূমি ও প্রকৃতির সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আত্মীয়তাভিত্তিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে নানা সংস্কৃতি গড়ে তোলে। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলীয় আদিবাসীরা শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারা বজায় রেখেছে, আর কিছু অঞ্চলে আধা-স্থায়ী সমাজ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে সমৃদ্ধ শিল্পকলা, কাহিনি ও সংগীতের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের বর্তমান জনপ্রিয় ধারণা মূলত মরুভূমির মানুষের উপর ভিত্তি করে, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে (কালাহারির বুশম্যানদের মতো)। তবে অনেক আদিবাসীই বনভূমি ও জলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করত। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল।

যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনে ঝিনুক ও সামুদ্রিক শশার বাজার ইন্দোনেশীয় জেলেদের অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে আসতে উৎসাহিত করেছিল, ইউরোপীয়দের কাছে এটি অজানা ছিল ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত। তখন ডাচ বণিকরা এশিয়ার পথে চলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। সুলাওয়েসির মাকাসারিদের আগমন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু ইন্দোনেশীয় সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। ইসলামের প্রচারও প্রথম বিদেশি ধর্ম হিসেবে এখানে প্রবেশ করে। আরনহেম ল্যান্ড ও কিম্বারলির শিলাচিত্রগুলোতে বহু ইসলামি উপাদান দেখা যায়।

ডাচদের কাছে এই শুষ্ক ও প্রতিকূল দেশটি আকর্ষণীয় ছিল না। তারা একে সমৃদ্ধ পূর্ব ইন্ডিজের (আধুনিক ইন্দোনেশিয়া) দিকে যাওয়ার একটি চিহ্নমাত্র হিসেবে দেখত। পরবর্তীতে ফরাসি ও ব্রিটিশরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘুরে দেখার উদ্যোগ নেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন উপসাগর, নদী ও ভূখণ্ডে ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ নামকরণ হয়। তবে অনেক জায়গার নাম স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে, আর বহু স্থানে ইউরোপীয় নাম বাতিল করে বা দ্বৈতভাবে আদিবাসী নাম সংযোজন করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন জেমস কুক ১৭৭০ সালে এন্ডেভার অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল মানচিত্রে চিহ্নিত করেন। তিনি ২৯ এপ্রিল ১৭৭০-এ বোটানি বেতে প্রথম অবতরণ করেন। এরপর তিনি উত্তরের দিকে যাত্রা করে ২২ আগস্ট ১৭৭০-এ টরেস প্রণালীর পজেশন আইল্যান্ড-এ ব্রিটিশ মুকুটের পক্ষে পূর্ব উপকূল দখলের ঘোষণা দেন এবং এর নামকরণ করেন নিউ সাউথ ওয়েলস। যদিও কুককে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় আবিষ্কারক বলা হয়, তিনি প্রকৃতপক্ষে ডাচদের চেয়ে দেড় শতাব্দীরও বেশি পরে এসেছিলেন।

তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থার দণ্ডিত উপনিবেশের ধ্বংসাবশেষ। এটি অস্ট্রেলিয়ার দণ্ডিত উপনিবেশসমূহ-এর অংশ এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত

১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার ফিলিপের নেতৃত্বে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপিত হয় বর্তমান সিডনিতে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রথম গভর্নর হন। উপনিবেশ স্থাপনের ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে তাদের জনসংখ্যা কমে যায় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। শুরুতে পুরো মহাদেশের পূর্বাংশ নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয়-১৮২৫ সালে তাসমানিয়া (তখন ভ্যান ডিমেন’স ল্যান্ড), ১৮৩৬ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ১৮৪১ সালে নিউজিল্যান্ড, ১৮৫১ সালে ভিক্টোরিয়া, ১৮৫৯ সালে কুইন্সল্যান্ড। মহাদেশের পশ্চিমাংশে ইউরোপীয়রা অনেক দেরিতে আসে-১৮২৬ সালে অ্যালবানিতে নৌঘাঁটি স্থাপন করে। ১৮২৯ সালে পার্থ-এ সোয়ান রিভার কলোনি গড়ে ওঠে, যার নাম ১৮৩২ সালে পরিবর্তিত হয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ব্রিটিশ দণ্ডিত উপনিবেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৭৮৮-এর পর অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে আসে, বিশেষত ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড থেকে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় কিছু দণ্ডিত উপনিবেশ ছিল বিক্ষিপ্ত আকারে, তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি স্বাধীন অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে ওঠে। ১৮৫০-এর দশকে সোনার খনির সময় এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকেও বহু মানুষ আসে। যদিও পরবর্তীতে "হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি" অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ধারা শুরু হয়। এর ফলে ২০শ শতকের শেষ নাগাদ অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পরিণত হয়।

১৯০১ সালে বিভিন্ন উপনিবেশ একত্রিত হয়ে "কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া" গঠন করে। নিউজিল্যান্ড তখন এই ফেডারেশনে যোগ দেয়নি। নতুন দেশটি কৃষি ও শিল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটায় এবং ছোট জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ কোরিয়ার যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়। অস্ট্রেলীয় সেনারা কঠিন যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

১৯৮৬ সালে "অস্ট্রেলিয়া অ্যাক্ট" পাশ হয়, যা ব্রিটিশ সংসদের অস্ট্রেলিয়ার উপর বাকি আইনি ক্ষমতা শেষ করে দেয়। তবে কানাডার মতো এখানেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন, যার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল।

২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আদিবাসী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। এর ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্বীকৃতি পায় এবং ভূমি অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে বহু এলাকা আদিবাসীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সংসদে আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই বছর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত করা হয়।

ভূগোল

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়া কি দুটি মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি তিনটি?

অস্ট্রেলিয়ার সীমানা নিয়ে দ্বিধা আছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সীমানা নিয়ে বিতর্ক নেই, তবে দক্ষিণ মহাসাগরকে কোথা থেকে শুরু ধরা হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষিণ মহাসাগর ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু ধরা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় (সরকারি দপ্তরসহ) দক্ষিণ উপকূল থেকেই একে ধরা হয়। তাই উইকিভ্রমণের অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত নিবন্ধগুলোতে অস্ট্রেলিয়ান প্রেক্ষাপট ধরা হয়।

নর্দার্ন টেরিটরিতে লাল ক্যাঙ্গারু

অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ এবং বৃহত্তম দ্বীপ। এটি ওশেনিয়ার ভূমির প্রধান অংশ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তাসমানিয়াসহ কিছু ছোট দ্বীপ রয়েছে। মোট আয়তন ৭,৬৮২,৩০০ বর্গকিমি (২,৯৬৬,১৫২ বর্গমাইল), যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের সমান। তবে এর জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দশমাংশও নয়। ফলে শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব সহজে আন্দাজ করা যায় না। পশ্চিমে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগর, যা নিউজিল্যান্ডকে পৃথক করে, আর উত্তর-পূর্বে প্রবাল সাগর। উত্তর দিকে পাপুয়া নিউগিনি, তিমুর-লেস্তেইন্দোনেশিয়া রয়েছে, যেগুলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে পাপুয়া নিউগিনি মাত্র  কিমি (২.৫ মা) দূরে।

অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত নগরায়িত। জনসংখ্যার অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড; তবে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া

দেশটির বহু এলাকা কৃষিকাজের জন্য বন উজাড় করা হয়েছে, তবে বহু প্রাকৃতিক বন সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় উদ্যান ও অনাবাদী জমিতে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে জল ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা, দূষণ, বহিরাগত প্রাণীর আক্রমণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, এবং গ্রেট ব্যারিয়ার রিফসহ উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

আবহাওয়া

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যময়। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বছরে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি রোদ পড়ে। উত্তরাংশ গরম ও ক্রান্তীয়, দক্ষিণাংশ নাতিশীতোষ্ণ। উপকূলে বেশি বৃষ্টি হয়, আর কেন্দ্রীয় অংশ শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক। ডারউইন শহরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শীতকালেও সচরাচর ৩০°সে (৮৬°ফা) এর নিচে নামে না, আর রাতে সাধারণত ১৫–২০°সে (৬০–৭০°ফা) থাকে। অস্ট্রেলিয়ার শীত উত্তর গোলার্ধের সমান অক্ষাংশের তুলনায় হালকা। দেশের অধিকাংশ অংশে কখনোই তুষারপাত হয় না। তবে দক্ষিণ-পূর্বের স্নোই মাউন্টেনস ও তাসমানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়।

অস্ট্রেলিয়া যেহেতু দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত, তাই এখানে জুন-আগস্ট হলো শীতকাল এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি হলো গ্রীষ্মকাল। উত্তরাঞ্চলে শীতকালেই শুষ্ক মৌসুম থাকে, আর দক্ষিণে গ্রীষ্মকালে শুষ্কতা দেখা যায়। পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে বৃষ্টি সারা বছর প্রায় সমানভাবে হয়।

উত্তর গোলার্ধের ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো-এখানে সূর্য ও নক্ষত্র বিপরীত দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) চলে। ফলে উত্তর ঢালগুলো বেশি সূর্যালোক পায়। হাঁটা বা ট্রেকিং করার সময় এ কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দিক-নির্ণয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী। মাথাপিছু জিডিপি উন্নত দেশগুলোর সমান।

দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬০% আসে সেবা খাত থেকে-এর মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা ও আর্থিক সেবা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যটন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প, যা বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করে এবং মোট রপ্তানির অন্তত ১১% জোগান দেয়।

প্রাথমিক শিল্প, বিশেষত খনি ও কৃষি, ২০শ ও ২১শ শতকে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। লোহার আকরিক ও কয়লা সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, তার সঙ্গে গম, গরুর মাংস ও উলও উল্লেখযোগ্য। খনি খাত চীনা ও ভারতীয় অর্থনীতির ওঠানামার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি। এখানে হাতের কাজ করা শ্রমিক বা কারিগরের আয় প্রায়শই শ্বেত-কলার পেশাজীবীদের চেয়েও বেশি হয়।

রাজনীতি

[সম্পাদনা]
ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউস

অস্ট্রেলিয়ায় একটি ফেডারেল সরকারব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ছয়টি রাজ্য ও দুটি অঞ্চলের সরকার আছে, পাশাপাশি একটি জাতীয় সরকারও রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সাগরে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বহিঃঅঞ্চল রয়েছে, যেগুলো উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং অনেক সময় মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয় না। রাজ্যভেদে আইনের কিছু পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা প্রায় একই রকম।

জাতীয় সংসদ ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে কিছু অংশ আমেরিকান কংগ্রেস পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল পর্যায়ে সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত-সেনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতিটি সংসদ সদস্য (এমপি) একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। জনবহুল রাজ্যগুলোতে বেশি আসন থাকে, তাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের মতোই প্রতিটি রাজ্য থেকে সমানসংখ্যক সিনেটর নির্বাচিত হয়-প্রতিটি রাজ্য থেকে ১২ জন করে, আর নর্দার্ন টেরিটরি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি থেকে ২ জন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সরকারের প্রধান এবং সেই রাজনৈতিক দলের (বা দলীয় জোট) নেতা যাদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগেও নির্বাচন দিতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস অস্ট্রেলিয়ার রাজাও বটে এবং তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। ফেডারেল পর্যায়ে রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন গভর্নর-জেনারেল। রাজা ও গভর্নর-জেনারেলের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক, সরকারের আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার জন্য গণভোট হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল-কারণ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী অপসারণ করতে পারবেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতন্ত্র ধারণার প্রতি সাধারণ সমর্থন আছে, বাস্তবে তা এখনও বড় অগ্রাধিকার নয়।

অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) নির্বাহী বিভাগ হিসেবে কাজ করে এবং এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের দুই কক্ষ থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বিচার বিভাগ পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট, যা ১৯৮৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের পরিবর্তে সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজ্য ও অঞ্চল সরকারগুলোও প্রায় একইভাবে পরিচালিত হয়-তাদের নিজস্ব সংসদ আইনসভা হিসেবে কাজ করে, প্রিমিয়ার (অঞ্চলগুলোতে চিফ মিনিস্টার) সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজস্ব বিচার বিভাগ থাকে। প্রতিটি রাজ্যে একজন গভর্নর থাকেন, যিনি রাজাকে প্রতিনিধিত্ব করেন-তাদের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক।

অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল হলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি (এএলপি বা শুধু “লেবার”) এবং লিবারেল পার্টি (স্থানীয়ভাবে বলা হয় দ্য লিবস)। তারা একসময় ন্যাশনাল পার্টির (যা “কোয়ালিশন” নামে পরিচিত) সঙ্গে জোটে ছিল, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এ জোট ভেঙে যায়। তবুও, কিছু রাজ্যে তারা এখনও কোয়ালিশন হিসেবে কাজ করে (কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরিতে তারা একটি একক দল হিসেবে পরিচালিত হয়)। ছোট দলগুলোর মধ্যে আছে গ্রিনস (জিআরএন) এবং টিল ইন্ডিপেনডেন্টস।

মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টি তার নামের বানান “Labor” ব্যবহার করে “Labour” নয়, কারণ এর প্রেরণা এসেছে আমেরিকান শ্রমিক আন্দোলন থেকে। গ্রিনস একটি পরিবেশবাদী দল, যাদের লেবারের চেয়েও বামপন্থী মনে করা হয়।

লিবারেল পার্টি একটি মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল দল, যেখানে “লিবারেল” বলতে মুক্তবাজার অর্থনীতি বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় “লিবারেল” শব্দটি ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যা অন্য ইংরেজিভাষী দেশের থেকে ভিন্ন। তারা সাধারণত ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে কাজ করে-ন্যাশনাল পার্টি মূলত গ্রামীণ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং পরিবেশ রক্ষার বিপক্ষে বেশি রক্ষণশীল। ২০১০-এর দশকের শেষ থেকে লিবারেল পার্টি শহুরে ধনী অঞ্চলের টিল ইন্ডিপেনডেন্টসের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, কারণ লিবারেলদের পরিবেশনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডানপন্থার আরও কিছু দল রয়েছে, যেমন পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন (পিএইচওএন বা ওএনপি) এবং ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস (টিওপি), যা আগে ইউনাইটেড অস্ট্রেলিয়া পার্টি (ইউএপি) নামে পরিচিত ছিল। তারা কেবল সেনেটে আসন পেয়েছে, এর বাইরে বড় সাফল্য পায়নি।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে প্রায় সব ধরনের ধর্ম ও জীবনধারা অনুশীলন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, আরেক-চতুর্থাংশের অন্তত একজন বিদেশি-জন্ম পিতা-মাতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অভিবাসনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের পর অর্ধশতকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ এখন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহর, যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের মানুষের বসবাস রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের মাঝেও অস্ট্রেলিয়ানদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়বোধ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গর্ব রয়েছে।

সব বড় শহরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি শহরের নিজস্ব পরিচয় আছে-সিডনি নিজেকে “আরবান নেচার ক্যাপিটাল” বলে প্রচার করে; মেলবোর্ন শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত; ব্রিসবেনকে বলা হয় বহুসাংস্কৃতিক নগর গ্রামগুলোর সমষ্টি। অ্যাডিলেড উৎসব, ওয়াইন সংস্কৃতি ও জার্মান প্রভাবের জন্য খ্যাত; পার্থ সমুদ্রসৈকত, আরামদায়ক জীবনযাপন ও আন্তর্জাতিক ফ্রিঞ্জ আর্টস উৎসবের জন্য পরিচিত; আর হোবার্ট তার ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত, বিশেষত প্রাক্তন দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত অ্যাংলো-সেল্টিক সংস্কৃতি বহন করে, যেখানে কিছু কিছু জায়গায় স্বল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীও রয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ অঞ্চল ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায় এবং তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় পণ্য ভাগাভাগি করে।

মেলবোর্নের চায়না টাউন

প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান নিজেদেরকে আদিবাসী (অ্যাবোরিজিনাল) হিসেবে পরিচয় দেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪%। তারা শহরেও বাস করে, আবার গ্রামীণ আদিবাসী সম্প্রদায়েও থাকে। যদিও নতুন ভ্রমণকারীর কাছে তা খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু যারা চাইবেন তাদের জন্য আদিবাসী সংস্কৃতি জানার অনেক সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বিপরীতে, ব্রিটিশ বন্দিশিবির থেকে আসা অপরাধীদের বংশধররা সংখ্যালঘু। এমনকি দণ্ড-পরিবহনের সময়কালেও মুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু অঞ্চলে একেবারেই অপরাধী পাঠানো হয়নি। তবুও, কারও যদি অপরাধীর বংশধর হিসেবে পরিচিতি থাকে, সেটিকে অনেক সময় “অস্ট্রেলিয়ান রয়্যালটি” হিসেবে সম্মানের প্রতীক ধরা হয়।

অস্ট্রেলিয়ানরা ইউরোপের কিছু সংস্কৃতির তুলনায় সামাজিকভাবে বেশি রক্ষণশীল হতে পারে, তবে ধর্মীয় চর্চায় সাধারণত শিথিল। সম্বোধনের ধরন অনানুষ্ঠানিক ও পরিচিতভাবাপন্ন। অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান আপনাকে প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই আপনার নাম ধরে ডাকবে এবং আশা করবে আপনিও তাদের একইভাবে সম্বোধন করবেন।

ছুটির দিন

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়া দিবসে পার্থে আতশবাজি প্রদর্শনী

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ছুটির দিনগুলো হলো:

  • ১ জানুয়ারি: নববর্ষ
  • ২৬ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়া দিবস-১৭৮৮ সালে প্রথম বহরের সিডনি কোভে আগমনের বার্ষিকী
  • ইস্টার সপ্তাহান্ত (গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার): মার্চ বা এপ্রিল মাসে চার দিনের ছুটি, পশ্চিমা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত। অনেকে গির্জায় যান না; বরং এই সময়ে ভ্রমণ করেন, ফলে হোটেল ও বিমানের টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
  • ২৫ এপ্রিল: আনজাক দিবস (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আর্মি কর্পস), যুদ্ধ-সেনাদের স্মরণে
  • জুনের দ্বিতীয় সোমবার: রাজাধিরাজের জন্মদিন (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে পালিত হয়, এর এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস উদযাপিত হয়)
  • ২৫ ডিসেম্বর: বড়দিন
  • ২৬ ডিসেম্বর: বক্সিং ডে

বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন দিনে শ্রমিক দিবস পালিত হয়। বেশিরভাগ রাজ্যে অতিরিক্ত দু’একটি রাজ্য-নির্দিষ্ট ছুটি রয়েছে। ভিক্টোরিয়াদক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াতে ঘোড়দৌড় উপলক্ষে ছুটি থাকে (মেলবোর্ন কাপ ও অ্যাডিলেড কাপ)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জুন মাসের প্রথম সোমবার ‘পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দিবস’ উদযাপিত হয়, তবে রানির জন্মদিন দেশের অন্য অংশের থেকে ভিন্ন তারিখে পালিত হয়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে। ভিক্টোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) গ্র্যান্ড ফাইনালের আগের শুক্রবারও ছুটি থাকে।

যদি কোনো সরকারি ছুটি শনিবার বা রবিবারে পড়ে, তবে সাধারণত সোমবার (প্রয়োজনে মঙ্গলবারও) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আসল উৎসব বা দোকানপাট বন্ধ থাকার দিন থাকে মূল তারিখেই। অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বন্ধ থাকে। সুপারমার্কেট ও অন্যান্য দোকান কিছু সরকারি ছুটিতে সীমিত সময়ে খোলা থাকতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সানডে ও আনজাক দিবসের সকাল প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।

অস্ট্রেলিয়া দিবস জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক আদিবাসী ও প্রগতিশীল মানুষ একে ‘আক্রমণ দিবস’ বলেন, কারণ এই দিনটি ব্রিটিশ দখল ও উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা নির্দেশ করে। প্রতিবছর এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে স্থানীয় সরকারগুলো নানা উদযাপন ও বারবিকিউর আয়োজনও করে।

সরকারি ছুটির বাইরেও জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন রয়েছে, যেমন:

  • এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল: অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। পাবগুলো দর্শকে ভরে যায় এবং অনেকে ঘরে বসে বড়সড় আয়োজন করে। সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার বা অক্টোবরের প্রথম শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
  • এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল: ন্যাশনাল রাগবি লীগের ফাইনাল ম্যাচ, যা কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ রবিবার বা অক্টোবরের প্রথম রবিবার হয়।

ছুটির ভিড়ের সময়

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান সারা বছর খোলা থাকে, তবে অফ-সিজনে সময়সূচী সীমিত হতে পারে। বড়দিন ও নববর্ষে কিছু জায়গা বন্ধ থাকে।

গ্রীষ্মকালীন স্কুলের ছুটি বড়দিনের আগে শুরু হয় এবং পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকে। এসময় ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ভিড়পূর্ণ (যদি না আপনি উত্তর অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেন)। সমুদ্রসৈকতের আশেপাশের ছুটির বাড়িগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই বুক হয়ে যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ ইস্টার ছুটিও ভিড়পূর্ণ হয়, কারণ অভিভাবকরা শীত আসার আগে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যান।

অস্ট্রেলীয় কিশোররা নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুল শেষের পর তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘স্কুলিজ’’ উদযাপন করে। তখন তারা কিছু শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমায়, যেমন বায়রন বে (নিউ সাউথ ওয়েলস), গোল্ড কোস্ট (কুইন্সল্যান্ড), রটনেস্ট দ্বীপ (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া), ভিক্টর হারবার (দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া) এবং মর্নিংটন উপদ্বীপ (ভিক্টোরিয়া)।

ব্রোকেন হিলের কাছে একটি সড়কচিহ্ন, যেখানে সময় অঞ্চল পার্থক্য উল্লেখ রয়েছে

ডে-লাইট সেভিংস চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ সাতটি সময় অঞ্চল এবং অন্য সময়ে পাঁচটি সময় অঞ্চল থাকে। সময় অঞ্চলের সীমারেখা সবসময় রাজ্যের সীমারেখা অনুসরণ করে না। যেমন, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন শহরগুলো নিউ সাউথ ওয়েলসে হলেও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুসরণ করে। আবার লর্ড হাও দ্বীপ, যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের অংশ, তার নিজস্ব সময় অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনেক আউটব্যাক সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে নর্দার্ন টেরিটরির সময় (এনটি) অনুসরণ করে।

অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল (GMT থেকে)

পূর্বে তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া সর্বদা একই সময় মেনে চলে। কুইন্সল্যান্ড ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, ফলে এ সময়ে তারা অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।

মধ্যাঞ্চলে, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন (নিউ সাউথ ওয়েলস), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি শীতে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে। তবে নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, কিন্তু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটন পালন করে। ডে-লাইট সেভিংস চলাকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা এগিয়ে যায়। নর্দার্ন টেরিটরি সারা বছর কুইন্সল্যান্ডের থেকে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে, কিন্তু ডে-লাইট সেভিংস সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।

পশ্চিমে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া শীতে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে এবং ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না। ডে-লাইট সেভিংস সময়ে এটি তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায় (তবে কুইন্সল্যান্ডের থেকে দুই ঘণ্টা পিছিয়েই থাকে), দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিল ও সিলভারটনের থেকে আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে এবং নর্দার্ন টেরিটরির থেকে দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।

এছাড়াও একটি অস্বাভাবিক +৮:৪৫ সময় অঞ্চল রয়েছে, যাকে অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ওয়েস্ট স্ট্যান্ডার্ড টাইম (এসি‌ডব্লিউএসটি বা সিডব্লিউএসটি) বলা হয়, যা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তের কিছু শহরে ব্যবহৃত হয়। এটি সরকারি সময় নয়, তবে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়। মহাসড়কে ঘড়ি বদলানোর সাইনবোর্ডও রয়েছে, এমনকি অ্যাপল আলাদা একটি অঞ্চল (‘‘ইউক্লা’’ নামে) রেখেছে। আরও জটিল ব্যাপার হলো, সিডব্লিউএসটি অঞ্চলের একমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় শহর বর্ডার ভিলেজ ডে-লাইট সেভিংস পালন করে এবং +৯:৪৫ মেনে চলে, যা ইউক্লার থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাকিদের থেকে ৪৫ মিনিট পিছিয়ে। তবে বাস্তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সবই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইউক্লা শহরে হওয়ায় ভ্রমণকারীদের ওপর এর প্রভাব প্রায় নেই।

অত্যন্ত দুর্গম আউটব্যাক পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লা শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হলেও তারা এসিএসটি (নর্দার্ন টেরিটরির সময়) মেনে চলে, যা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। যেহেতু নর্দার্ন টেরিটরি ডে-লাইট সেভিংস পালন করে না, তাই এসব শহরও করে না।

অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলের কোনো সরকারি সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। কখনও কখনও EST, CST, WST এবং ডে-লাইট সেভিংসে EDT, CDT ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও AEST ইত্যাদি ব্যবহার হয়, যেখানে ‘‘A’’ উপসর্গ দিয়ে উত্তর আমেরিকার একই নামের সময় অঞ্চল থেকে আলাদা করা হয়।

যেসব রাজ্যে ডে-লাইট সেভিংস পালিত হয়, সেখানে এটি অক্টোবরের প্রথম রবিবার শুরু হয় এবং এপ্রিলের প্রথম রবিবার শেষ হয়।

রাজ্য/অঞ্চলমান সময়ডে-লাইট সেভিংস সময়
হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জইউটিসি+৫প্রযোজ্য নয়
কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জইউটিসি+৬.৫প্রযোজ্য নয়
ক্রিসমাস দ্বীপইউটিসি+৭প্রযোজ্য নয়
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াইউটিসি+৮প্রযোজ্য নয়
ইউক্লা, ককলেবিডি, মাদুরা, মুন্দ্রাবিলাইউটিসি+৮.৪৫প্রযোজ্য নয়
বর্ডার ভিলেজ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াইউটিসি+৮.৪৫ইউটিসি+৯.৪৫
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ব্রোকেন হিলসিলভারটনইউটিসি+৯.৫ইউটিসি+১০.৫
নর্দার্ন টেরিটরি, ব্ল্যাকস্টোন, ইরুন্যতজু, ওয়ারাকুর্না, ওয়ানার্ন, কিউইরকুরা ও টজুকুর্লাইউটিসি+৯.৫প্রযোজ্য নয়
কুইন্সল্যান্ডইউটিসি+১০প্রযোজ্য নয়
নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, তাসমানিয়া, এসি‌টিজার্ভিস বে টেরিটরি ইউটিসি+১০ইউটিসি+১১
লর্ড হাও দ্বীপইউটিসি+১০.৫ইউটিসি+১১
নরফোক দ্বীপইউটিসি+১১প্রযোজ্য নয়

বিদ্যুৎ

[সম্পাদনা]

প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ২৩‍০ ভোল্ট এবং প্লাগের ধরণ হলো টাইপ আই (যেখানে লাইভ ও নিউট্রাল পিন দুটি তির্যক এবং আর্থ পিন সোজা থাকে)। একে সাধারণভাবে “দুই-চল্লিশ ভোল্ট সকেট” নামেও ডাকা হয়। হোটেলের বাথরুমে প্রায়ই টাইপ সি ও এ সকেট থাকে যেগুলোতে “শুধুমাত্র শেভারের জন্য” লেখা থাকে। এগুলো ১১০ ভোল্টে রূপান্তর করে দেয়, যা উত্তর আমেরিকান ধাঁচের সকেটের শেভারের জন্য ব্যবহারযোগ্য। ভোল্টেজ ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই শুধু একটি কনভার্সন প্লাগ প্রয়োজন হবে। এই ধরনের প্লাগ সহজেই সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর কিংবা বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করা যায়। তবে উত্তর আমেরিকা বা অন্য ১১০ ভোল্টের দেশ থেকে আসলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভোল্টেজ সহনশীলতা পরীক্ষা করে তারপর কনভার্সন প্লাগ ব্যবহার করা উচিত।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার বিষয়বস্তু

ভ্রমণকারীর তথ্য

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন রূপ
অস্ট্রেলীয় পরিভাষা

যদিও অস্ট্রেলীয় ইংরেজি মার্কিন ও ব্রিটিশ ইংরেজির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তবুও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব কিছু পরিভাষা রয়েছে। অস্ট্রেলীয় স্ল্যাং-এর বিপরীতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, টেলিভিশনে এবং এমনকি সরকারি পর্যায়েও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর অনেকগুলো প্রতিবেশী পাপুয়া নিউ গিনিতে ব্যবহৃত হয়, আর নিউজিল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর-এর লোকদের কাছেও কিছু পরিচিত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ওশেনিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে অন্য কোনো ইংরেজিভাষী দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।

the bush
বনাঞ্চল। ‘‘বুশ’’ শব্দের উৎপন্ন শব্দগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন বনের আগুনকে বলা হয় ‘‘বুশফায়ার’’
Commonwealth government
গোটা দেশের সরকার
esky
কুলার বক্স
doona
কমফর্টার বা ডুভে
fairy floss
কটন ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); ক্যান্ডি ফ্লস (যুক্তরাজ্য)
football (বা footy)
অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল বা রাগবি লীগ (অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলকে বলা হয় ‘‘সকার’’)
footpath
ফুটপাত (যুক্তরাষ্ট্রে sidewalk; যুক্তরাজ্যে pavement)
hotel
বার, পাব
icy pole
পপসিকল
lollies
মিষ্টি বা ক্যান্ডি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে candy; যুক্তরাজ্যে sweets)
mob
কোনো আদিবাসী সম্প্রদায়, তবে বন্ধুবান্ধবের একটি দল বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়
peak hour
ব্যস্ত সময় বা রাশ আওয়ার
powerpoint
বৈদ্যুতিক সকেট
road train
অতি দীর্ঘ ট্রাক
service station (বা servo)
গ্যাস স্টেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র); পেট্রল স্টেশন (যুক্তরাজ্য); পেট্রল শেড (দক্ষিণ এশিয়া)
thongs
ফ্লিপ-ফ্লপ; নিউজিল্যান্ডে ‘‘জ্যান্ডালস’’
ute (উচ্চারণ ‘‘ইউট’’)
পিকআপ ট্রাক
yabby
ক্রেফিশ বা ক্রেফিস/ক্রেফিস

ইংরেজি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বজনীনভাবে প্রচলিত ভাষা। অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির উচ্চারণ ও বাগধারা স্বতন্ত্র। এটি মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিকশিত হলেও ২০শ শতকে আমেরিকান প্রভাব এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে।

তবে অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ হওয়ায় বড় শহরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শোনা যায়। অভিবাসী সম্প্রদায়ের এলাকাগুলোতে তাদের ভাষার আধিক্য দেখা যায়। বিদেশি ভাষা স্কুলে শেখানো হলেও সাধারণত প্রাথমিক স্তরের পর তা অগ্রসর হয় না।

অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে মূলত ব্রিটিশ বানান অনুসরণ করা হয়। তবে এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান উভয় পরিভাষার মিশ্রণ আছে। যেমন eggplant (aubergine নয়), boot (trunk নয়), toll-free (freephone নয়), take-away (takeout নয়) এবং truck (lorry নয়)। আমেরিকান শব্দ সবার কাছে বোধগম্য হলেও ব্রিটিশ শব্দ অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বা বয়স্ক প্রজন্ম বুঝতে পারে।

কিছু শব্দ একান্তই অস্ট্রেলিয়ান, যেমন thongs বলতে বোঝায় ফ্লিপ-ফ্লপ, অন্তর্বাস নয়। আবার chips শব্দটি একসঙ্গে fries এবং crisps দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

গ্রামীণ এলাকায় লোকদের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে ভারী এবং কিছু পুরোনো স্ল্যাং এখনও ব্যবহৃত হয়। শহরের শিক্ষিত মানুষদের উচ্চারণ অনেকটা ব্রিটিশ ধাঁচের। তবে ভ্রমণকারীদের অস্ট্রেলিয়ান স্ল্যাং ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল ব্যবহার হাস্যকর বা অসম্মানজনক শোনাতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে খুব বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নেই। তবে কিছু শব্দের উচ্চারণ যেমন dance, renaissance ভিন্ন হয়। সুইমিং পোশাককে নিউ সাউথ ওয়েলস-এ cossies বা swimmers, কুইন্সল্যান্ডে togs এবং অন্যান্য অঞ্চলে bathers বলা হয়। বহু আদি অধিবাসী ও টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের মানুষ ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।

জার্মান, ইতালীয়, জাপানি ও পিজান্তজাতজারা ভাষায় একটি সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এটি বেশ অস্বাভাবিক।

অস্ট্রেলিয়ায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেই থাকে। তবে এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ভিয়েতনামি ও চীনা ভাষায় রেস্তোরাঁ মেনু ও সাইন দেখা যায়। কেয়ার্নসগোল্ড কোস্ট এলাকায় জাপানি ও চীনা ভাষার কিছু সাইনও আছে, বিশেষত পর্যটকদের জন্য। সমুদ্রসৈকতে সতর্কতামূলক সাইন কখনও কখনও একাধিক ভাষায় লেখা থাকে।

যাঁরা একেবারেই ইংরেজি জানেন না তাঁদের জন্য যোগাযোগ কঠিন। কিছু ভ্রমণ সংস্থা চীনা, জাপানি, ভিয়েতনামি, জার্মান, ইতালীয়, ফরাসি, ইন্দোনেশীয় ও কোরিয়ান ভাষায় ট্যুর প্যাকেজ দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্প্যানিশ, মালয় ও পর্তুগিজ ভাষাতেও গাইডেড ট্যুর পাওয়া যায়। তবে হিন্দি, আরবি বা সোয়াহিলি ভাষার ট্যুর বিরল।

আদিবাসী ভাষাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ আদিবাসী ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে দুঃখজনকভাবে এর প্রচলন খুবই কম। বর্তমানে মাত্র ৪৬টি ভাষা দৈনন্দিনভাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় ৪২,৩০০ মানুষ কথা বলে। এসব ভাষা মূলত গ্রামীণ আউটব্যাক অঞ্চলের সম্প্রদায় এবং টরেস প্রণালীর দ্বীপগুলোতে বেশি শোনা যায়। আদিবাসী ভাষাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ভাষার সংখ্যা অনেক এবং এগুলো বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে ও একে অপরের সাথে বোধগম্য নয়। কোনো আদিবাসী ভাষা শেখা কেবল নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকাতেই উপকারী হবে। প্রায় সব আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রাই ইংরেজি বলতে পারেন, যদিও কিছু দূরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ভাষাটিতে সাবলীল নাও হতে পারেন। আদিবাসী ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিওল-ভিত্তিক ভাষাও প্রচলিত, যেমন অস্ট্রেলীয় ক্রিওল অথবা টরেস প্রণালী ক্রিওল

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংকেতভাষা হলো অজলান (Auslan – Australian Sign Language)। এটি ব্রিটিশ সংকেতভাষা (BSL) থেকে বিকশিত এবং নিউজিল্যান্ড সংকেতভাষার সঙ্গে মিল আছে। তবে ফরাসি সংকেতভাষা পরিবারভুক্ত ভাষাভাষীরা (যেমন আমেরিকান বা আইরিশ সংকেতভাষা) অজলান সহজে বুঝতে পারবেন না।

যেভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]
  অস্ট্রেলিয়া
  বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা
  ই-ভিজিটর বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি
  ই-ভিজিটর
  ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি
  ভিসা প্রয়োজন

প্রবেশের শর্তাবলি

[সম্পাদনা]

সকলেই (নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্যতীত) ভ্রমণের আগে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

আপনি যদি ৯০ দিনের কম সময়ের জন্য ছুটিতে আসেন, তবে আপনার নাগরিকত্বের ভিত্তিতে তিন ধরনের ভিসার একটি আবেদন করতে পারবেন।

ইটিএ এবং ই-ভিজিটরের মতো, ভিজিটর ৬০০ ভিসাও সাধারণত তিন মাসের জন্য ইস্যু হয়। তবে এই ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্যও দেওয়া যেতে পারে। তিন মাসের বেশি থাকতে চাইলে আপনার ভ্রমণের কারণ ও নিজ দেশের সাথে সম্পর্ক প্রমাণ করতে সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে এবং সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হতে পারে। আপনার নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টার অস্ট্রেলিয়ান স্পনসর চাওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে। ফি হলো ১৯০ ডলার। ইটিএ ও ই-ভিজিটর ভিসা ১২ মাসে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাই যোগ্য হলে সহজ উপায় হলো তিন মাস থাকা, তারপর নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা কাছাকাছি কোনো দেশে কয়েকদিন যাওয়া, পরে ফিরে এসে নতুন করে ৯০ দিন শুরু করা। তবে বারবার করলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০০ ভিসা ১৮ মাস, তিন বছর বা পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের থাকার অনুমতি দেওয়া হয় ১৮ মাসে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইটিএ ও ই-ভিজিটর সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদিত হয়। তবে জটিলতা থাকলে আপনার আবেদন হাতে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে, এতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। জটিল জাতীয় পরিচয় বা কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে (ছোট অপরাধও) আগে থেকেই সময় রেখে আবেদন করা জরুরি।

আপনি যদি কাজ, পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে চান, সঠিক ধরনের ভিসা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। পর্যটন ভিসা দিয়ে এগুলো বৈধ হবে না। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভিসা বাতিল, বহিষ্কার এবং পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

সব ধরনের পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আপনাকে আর্থিকভাবে নিজের ভ্রমণ ব্যয় বহন করতে সক্ষম প্রমাণ করতে হবে এবং চরিত্রগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন করার আগে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন।

নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়া ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। পৌঁছানোর পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পেশাল ক্যাটেগরি নিউজিল্যান্ড সিটিজেন ভিসা (সাবক্লাস ৪৪৪) পাবেন, যদি তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা না থাকে। এই ভিসায় তারা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো সময় বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে অপরাধমূলক রেকর্ড বা যক্ষ্মা থাকলে ভিসা অস্বীকার হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা কিন্তু এই ভিসার যোগ্য নন; তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট অনুযায়ী ভিসা নিতে হবে।

যাদের কাছে বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) রয়েছে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ব্যতীত), তারা চাকরি না করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।

অজৈব গুঁড়ো বহনে সীমাবদ্ধতা

অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করা যাত্রীরা বিমানের কেবিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলি বা ৩৫০ গ্রাম অজৈব গুঁড়ো বহন করতে পারবেন।

আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া হয়ে ট্রানজিট করেন, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা এয়ারসাইডে থাকেন, পরবর্তী যাত্রার নিশ্চিত টিকিট থাকে, গন্তব্যের সঠিক নথিপত্র থাকে এবং আপনি নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অ্যান্ডোরা, আর্জেন্টিনা, ব্রুনেই, কানাডা, সাইপ্রাস, ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া, ফিজি, আইসল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কিরিবাতি, লিশটেনস্টাইন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মোনাকো, নাউরু, নরওয়ে, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ কোরিয়া (আরওকে), সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, টোঙ্গা, টুভালু, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভানুয়াতু বা ভ্যাটিকান সিটির নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে না। অন্য সবাইকে ট্রানজিট ভিসা (সাবক্লাস ৭৭১) বিনামূল্যে নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশের নাগরিক (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ) স্মার্টগেট ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতে করা চেকের চেয়ে অনেক দ্রুত, তবে ভিসা প্রয়োজনীয়তার বাইরে নয়।

অস্ট্রেলিয়া এখন আর অধিকাংশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে ভিসার সীল দেয় না বা ভিসার স্টিকার দেয় না; সব রেকর্ড ইলেকট্রনিকভাবে রাখা হয়। চাইলে আপনি ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সীল চাইতে পারেন, তবে আলাদা কাউন্টারে যেতে হতে পারে। ভিসার শর্ত যাচাই করতে পারবেন অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশনের ভেভো ওয়েবসাইট বা মাইভেভো অ্যাপের মাধ্যমে।

শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় পশু ও উদ্ভিদ-জাত পণ্য (যেমন খাবার, কাঠের তৈরি জিনিস, বীজ ইত্যাদি) আনার ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টাইন আইন রয়েছে। এই ধরনের সব জিনিসই ঘোষণা করতে হবে, এমনকি এগুলো অনুমোদিত হলেও। লাগেজ প্রায়ই স্ক্যান করা হয় এবং কুকুর দ্বারা পরীক্ষা করা হতে পারে। যদি অসাবধানতাবশত ঘোষণা না করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ২৬৬৪ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হতে পারে। ঘোষণা করা জিনিস পরীক্ষা করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা রাখা, ধ্বংস করা, ফেরত দেওয়া বা আপনার খরচে কোয়ারেন্টাইন ট্রিটমেন্ট করা হতে পারে। (পরে আপনাকে জিনিসটি সংগ্রহ করতে হতে পারে।) প্রক্রিয়াজাত ও সিল করা চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টান্ন সাধারণত ঘোষণা ও পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়। শিশুর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ শিশু খাদ্যও অনুমোদিত। তবে খাবারের উৎপত্তি দেশ ও আপনি যে রাজ্য দিয়ে প্রবেশ করছেন তার উপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: কৃষি ও জলসম্পদ বিভাগ

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভ্রমণকারীরা শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ ২.২৫ লিটার মদ্যপ পানীয়, ২৫টি সিগারেট, ২৫ গ্রাম অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য (সিগারসহ), ২টি ভেপ (রিইউজেবল বা ডিসপোজেবল) এবং সর্বোচ্চ ২০০ মিলি ভেপ তরল অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে কেউ এসব আনতে পারবেন না। আর শুল্কমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ওই শ্রেণির সব পণ্যের উপর কর দিতে হবে, কেবল অতিরিক্ত অংশে নয়।

কিছু ঝিনুক, প্রবাল এবং সুরক্ষিত প্রজাতি থেকে তৈরি জিনিসপত্র আনা নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র বা প্রজাতি থেকে আসা জিনিসের ব্যবসা বন্ধ করা।

মুদ্রার ক্ষেত্রে আনা-নেওয়ার কোনো সীমা নেই। তবে যদি ১০,০০০ ডলার (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সঙ্গে থাকে, তাহলে তা ঘোষণা করতে হবে এবং কিছু কাগজপত্র পূরণ করতে হবে। ঘোষণা না করলে জরিমানা, মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা বা এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারে।

বিমানে করে

[সম্পাদনা]
সিডনি বিমানবন্দর-এ দুটি কান্তাস বিমান। আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করে।

অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তাই বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে ভ্রমণ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রবেশদ্বারসমূহের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য বিমানবন্দর হলো সিডনি (SYD  আইএটিএ), মেলবোর্ন (MEL  আইএটিএ), ব্রিসবেন (BNE  আইএটিএ) ও পার্থ (PER  আইএটিএ)। এছাড়াও সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় অ্যাডিলেড, কেইর্নস, ডারউইন ও গোল্ড কোস্টেও।

সিডনি থেকে অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডে যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এশিয়ার অনেক দেশের থেকে ফ্লাইটে সময় লাগে ৭ থেকে ১১ ঘণ্টা, যুক্তরাষ্ট্রকানাডার পশ্চিম অংশ থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা, জোহানেসবার্গ থেকে ১৪ ঘণ্টা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ১৩–১৬ ঘণ্টা এবং পশ্চিম ইউরোপ থেকে (একটি স্টপসহ) সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ যাত্রার কারণে ইউরোপ থেকে আসা অধিকাংশ ভ্রমণকারীকে একবার কোথাও স্টপ-ওভার করতে হয়। সাধারণত সিঙ্গাপুর, হংকং, দুবাই, দোহা, ব্যাংকক অথবা কুয়ালালামপুর-এ এই বিরতি নেওয়া হয়।

২০১৮ সালের মার্চ থেকে কান্তাস (Qantas) লন্ডন হিথরো থেকে পার্থ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মাত্র ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়-এটি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি রুট। কান্তাস ভবিষ্যতে সিডনি থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মধ্যে আরও কিছু সরাসরি দীর্ঘপথের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।

যদি আপনাকে কোনো গেটওয়ে শহরে নেমে ঘরোয়া ফ্লাইটে পরিবর্তন করতে হয়, তবে সিডনি, ব্রিসবেনপার্থ-এ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল আলাদা, যার কারণে ট্রানজিট করতে কিছুটা সময় ও ঝামেলা হতে পারে-এই বিষয়ে গাইড দেখে নেওয়া উচিত। তবে মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, ডারউইন, কেইর্নস এবং গোল্ড কোস্ট-এ একই টার্মিনাল ভবনে বা হাঁটার দূরত্বে অভ্যন্তরীণ গেট অবস্থিত।

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বিমানসংস্থা হলো জাতীয় পতাকাবাহী কান্তাস (Qantas)। এদের সাথে রয়েছে তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেটস্টার (Jetstar), যারা বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (Virgin Australia) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালায়। ইউরোপ থেকে যারা আসছেন, তাদের জন্য সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স এবং হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific) কান্তাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা উপসাগরীয় বিমানসংস্থাগুলোর বিকল্প হতে পারে।

কিছু রুটে ছাড়মূল্যের বিমানসংস্থা যেমন এয়ারএশিয়া এক্স, এয়ারএশিয়া (মালয়েশিয়া), এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সনুসা, থাই এয়ারওয়েজ, বাতিক (মালয়েশিয়া), বাতিক (ইন্দোনেশিয়া), এবং স্কুট ফ্লাইট পরিচালনা করে।

২০২২ সাল থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত বিদেশি বিমানসংস্থা অস্ট্রেলিয়ান বিমানসংস্থার অংশীদার হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে এয়ার কানাডাইউনাইটেড এয়ারলাইন্স[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]

ব্যক্তিগত বিমান পরিবহন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া জেট চার্টার এবং জেটকর্প অস্ট্রেলিয়া[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] সারা বছর বিভিন্ন ধরণের বিমান ব্যবহার করে সরাসরি ব্যক্তিগত ফ্লাইট সরবরাহ করে। জনপ্রিয় চার্টার বিমানবন্দরগুলির মধ্যে রয়েছে সিডনি ব্যাংকস্টাউন বিমানবন্দর, গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দর এবং মেলবোর্ন এসেন্ডন বিমানবন্দর।

আপনি যদি নিজস্ব ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বা অস্ট্রেলিয়া থেকে যান, তবে আপনাকে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে এবং সর্বোচ্চ ৭ দিন আগে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুরোধ জমা দিতে হবে। যদি আপনার নির্ধারিত বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক না হয়, তবে আপনাকে ন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং কমিটি (এনপিপিসি)-র মাধ্যমে বিমান ও সমুদ্র অনুমোদন পোর্টাল-এ আবেদন করতে হবে, যা আগমনের বা প্রস্থানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে জমা দিতে হয়।

সমুদ্রপথে

[সম্পাদনা]

ক্রুজ শিপ সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ক্রুজিং মৌসুমে আসে, এ সময় প্রায় ১০টি জাহাজ বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। আপনি ক্রুজ শিপে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফেরত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন। হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, প্রিন্সেস ক্রুজেস এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রুজ অফার করে।

নিজস্ব ইয়টে করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে বর্ডার ফোর্সে সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং অনুমোদিত প্রবেশ বন্দর-এ পৌঁছাতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ফেরি পরিষেবা নেই।

স্থলপথে

[সম্পাদনা]

একসময় কিছু ট্যুর অপারেটর লন্ডন থেকে সিডনি পর্যন্ত স্থলপথে ভ্রমণের সুযোগ দিত, যেখানে কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি ছোট বিমান যাত্রা ছিল। বর্তমানে কেবল মাডভেঞ্চার এই ধরনের ট্যুর পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘ রুট, যেমন: ২৬ সপ্তাহে ইরান–পাকিস্তান–ভারত হয়ে আসা, ২৬ সপ্তাহে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, ৬৪ সপ্তাহে আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া, অথবা আফ্রিকা–মধ্যপ্রাচ্য–ককেশাস–মধ্য এশিয়া।

যারা স্বাধীনভাবে স্থলপথে আসতে চান, তারা ইউরোপ থেকে ট্রেন বা বাসে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে পার্থে (৩,৫০০ কিমি ফ্লাইট) যেতে পারেন। আরও সাহসী ভ্রমণকারীরা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বালি পর্যন্ত পৌঁছে, সেখান থেকে ডারউইনে (২,০০০ কিমি ফ্লাইট) উড়তে পারেন। আরেকটি পথ হলো ফেরিতে ওয়েস্ট টিমোর, তারপর বাসে দিলি এবং সেখান থেকে ডারউইনে ফ্লাইট-যেখানে মাত্র ৭০০ কিমি আকাশপথ ভ্রমণ করতে হয়।

ডারউইনে কার্গো শিপ বা বার্জে (এএনএল এবং সোয়ায়ার সংস্থা) ভ্রমণ অনুমোদিত নয় (জুন ২০১৬)। তবে কেউ চাইলে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে মালবাহী জাহাজে যাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া আয়তনে বিশাল, তবে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় শহরগুলির বাইরে বহু ঘণ্টা ভ্রমণ করেও সভ্যতার চিহ্ন নাও পাওয়া যেতে পারে।

কোয়ারেন্টাইন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় ফলমূল ও সবজি (মধুসহ) এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ কৃষি কোয়ারেন্টাইন অঞ্চলগুলিতেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকে। তাই বড় শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে গেলে গাড়িতে অতিরিক্ত ফল-সবজি বহন না করাই ভালো। বিস্তারিত জানতে দেখুন অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারস্টেট কোয়ারেন্টাইন ওয়েবসাইট।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো, গাড়িবিহীন অস্ট্রেলিয়া
দ্য গ্রেট ওশেন রোড
মধ্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট হাইওয়ের একটি অংশ

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সড়ক ও মহাসড়কের একটি ভালো নেটওয়ার্ক আছে এবং গাড়ি চলাচলের খুবই প্রচলিত মাধ্যম। সিডনি, মেলবোর্ন, পার্থ ও দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে গণপরিবহন মোটামুটি নির্ভরযোগ্য হলেও দেশের বাকি অংশে ঘুরে বেড়াতে হলে গাড়ি থাকাই সুবিধাজনক, অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

অস্ট্রেলিয়ার জনঘনত্ব কম এবং দেশটি বিশাল-তাই প্রধান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গাড়িতে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ সিডনি থেকে পার্থ (৪,০০০ কিমি) বা অ্যাডিলেড থেকে ডারউইন (৩,০০০ কিমি) যেতে গাড়িতে অন্তত অর্ধ-সপ্তাহ ধরে চালাতে হবে; বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য উড়োজাহাজে যাওয়াই উত্তম। ইউরোপীয় দৃষ্টিতে এটি মাদ্রিদ থেকে মস্কোর দূরত্বের সমান, আর উত্তর আমেরিকার দৃষ্টিতে মায়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সমান।

মেলবোর্ন, ক্যানবেরা, সিডনি ও ব্রিসবেন বিভক্ত ডুয়াল ক্যারেজওয়ে দিয়ে যুক্ত-তবে পথের অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ ফ্রিওয়ে মানের নয়, তাই কোথাও কোথাও এখনও সমতল সংযোগস্থল আছে। অধিকাংশ অন্যান্য মহাসড়ক এক লেনে একমুখী চলাচলের, এবং রাজ্যভেদে প্রতি ৫–২০ কিমি পরপর ওভারটেকিং লেন থাকে। ছোট কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করা সড়ক (বা মানচিত্রে শর্টকাটের মতো দেখালেও) অনেক সময় সরু বা কাঁচা হতে পারে এবং সাধারণত ধীরগতির।

অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বড় বিপদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও ভারী ট্রাক উল্লেখযোগ্য। গোধূলি বা রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন-এই সময় প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বড় আঞ্চলিক এলাকায় পাকা (সিলড) ডুয়াল-লেন সড়ক আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষিত মাটির রাস্তা কিংবা শুধু ট্র্যাকও থাকতে পারে। দূরত্ব ও গতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট হয় এবং জ্বালানি লিটারে বিক্রি হয়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা টুউম্বার নগরাঞ্চলের বাইরে সড়ক বা সেতুতে টোল নেই।

অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি বামে চালানো হয়। যারা ডানে চালাতে অভ্যস্ত বিদেশি চালক, প্রথম দিকে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।

সাধারণভাবে বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের পর তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালানো যায়। লাইসেন্সটি যদি ইংরেজিতে না হয়, তবে আপনার লাইসেন্সের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) থাকতে হবে। লাইসেন্সিং বিধি ও সড়কনিয়ম রাজ্যভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয়।

অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান অঞ্চলে ডিফল্ট গতিসীমা-নির্মিত/আবাসিক এলাকায় ৫০ কিমি/ঘণ্টা এবং গ্রামীণ সড়কে ১০০ কিমি/ঘণ্টা; তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে (NT) শহুরে ডিফল্ট ৬০ কিমি/ঘণ্টা, আর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA) ও NT-তে গ্রামীণ ডিফল্ট ১১০ কিমি/ঘণ্টা। বিশেষ করে আউটব্যাকে অনেক প্রধান গ্রামীণ সড়কের সাইনবোর্ডে ১১০ কিমি/ঘণ্টা সীমা দেওয়া থাকে। তবে রাস্তার মান খারাপ ও ওভারটেকিংয়ের সীমিত সুযোগের কারণে গড় গতি সচরাচর ৮০ কিমি/ঘণ্টার বেশি হয় না। যে সব জাতীয় মহাসড়ক পর্বতমালা পেরিয়ে ছোট শহর দিয়ে যায়, সেখানে গড়ে ৬০ কিমি/ঘণ্টা তুলতেও কষ্ট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় গতিসীমা খুব কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়-সীমা সামান্য ছাড়ালেও ভারী জরিমানার নোটিস পেতে পারেন।

যে কেউ ভাল-মেইনটেন করা সড়ক ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরের দিকে যাচ্ছেন, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া, আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা যাচাই করা, এবং পর্যাপ্ত অতিরিক্ত জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত টায়ার, দেশলাই, খাদ্য ও পানি নেওয়া। কিছু দূরবর্তী সড়কে মাসে গড়ে একটিরও কম গাড়ি যেতে পারে।

জাতীয় মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলের বাইরে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না-জরুরি অবস্থার জন্য পূর্বসতর্কতা নিন।

গরম ও পানিশূন্যতা বছরের যে কোনো সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে গাড়ির সঙ্গেই থাকুন এবং আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। এই পরামর্শকে হালকাভাবে নেবেন না-প্রতি বছরই দূরবর্তী এলাকায় গাড়ি বিকল হওয়ার পর পানিশূন্যতায় স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। যদি গাড়ি ছেড়ে যেতেই হয় (ধরা যাক বিকল হয়ে পড়ার পর অন্য কারও গাড়িতে উঠে নিলেন), তাহলে স্থানীয় থানায় ফোন করে জানিয়ে দিন-নয়তো আপনার জন্য অযথা অনুসন্ধান শুরু হতে পারে।

গাড়ি ভাড়া

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিসহ অনেক আউটলেটে নানান ধরনের ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রধান আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে এন্টারপ্রাইজ, আলামো, ন্যাশনাল, অ্যাভিস, বাজেট, হার্টজ, থ্রিফটি, সিক্সট এবং ইউরোপকার। বেশিরভাগ ভাড়াদাতা সংস্থা আগে থেকে বিশেষ চুক্তি না করলে তাদের গাড়ি ফেরিতে তোলার বা নর্দার্ন টেরিটরি (NT) ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA)-র সীমানা পার করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ছোট শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক ছোট আউটলেট থেকে একমুখী ভাড়ায় অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় আরও অনেক দেশীয় ব্র্যান্ডও আছে-যেমন রেডস্পট, ইস্ট কোস্ট, জুসি ও নোবার্ডস। ছোট গাড়িগুলো ম্যানুয়াল (স্টিক-শিফট) হতে পারে, আর বড় গাড়ির অধিকাংশই অটোমেটিক।

বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পারভ্যানের বিন্যাস আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, জুসি এই ক্যাম্পারভ্যানটিকে রুফটপ ডাবল বেড থাকার কারণে ৪-বার্থ বলে

আপনার কাছে অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে, কিছু ভাড়াদাতা সংস্থা পর্যটকদের জন্য প্রণীত বিনামূল্যের ড্রাইভার নলেজ টেস্ট নিতে বলতে পারে, যেখানে মৌলিক সড়কনিয়ম থাকে; অথবা তারা আপনাকে সংক্ষিপ্ত একটি ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করতে পারে।

ক্যাম্পারভ্যান

[সম্পাদনা]

ক্যাম্পারভ্যান হলো এমন যান যা সাধারণত একটি মিনি-ভ্যানকে মোটরহোমে (বিনোদনমূলক যান) রূপান্তর করে তৈরি করা হয়; এগুলো মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার অগণিত তরুণ ব্যাকপ্যাকারদের চাহিদা মেটায় যারা দেশজুড়ে ঘোরেন। সিডনি থেকে কেয়র্নস পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে এই যান বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো নিবন্ধে ক্যাম্পারভ্যান ভাড়া বা কেনা সম্পর্কে আরও তথ্য আছে।

কখনও কখনও এক শহর থেকে আরেক শহরে রিলোকেশনের প্রয়োজন থাকা ক্যাম্পারভ্যান নামমাত্র খরচে-প্রতিদিন মাত্র ১ মার্কিন ডলার পর্যন্তেও-বুক করা যায়। কখনও কখনও ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানির খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমন অফার খুঁজতে পারেন-কোসিটস, ড্রাইভনাও, ট্রান্সফারকারইমুভা

কারপুলিং

[সম্পাদনা]

কারপুলিং অস্ট্রেলিয়া ঘোরার জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী উপায়-বিশেষ করে ব্যাকপ্যাকার ও বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। এতে জ্বালানির খরচ ভাগ করা যায় এবং একই পথে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে সংযোগ ঘটে। দেশে সাধারণত ব্যবহৃত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো রুরাইড, কোসিটস, লিফটশেয়ারকারপুলওয়ার্ল্ড। অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা বদলাতে পারে-ভ্রমণ পরিকল্পনায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম দেখে নেওয়া ভালো।

ট্যাক্সিতে করে

[সম্পাদনা]

বড় শহর ও নগরীগুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিস আছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) রাস্তায় দাঁড়িয়েই ট্যাক্সি ডাকা যায়। উবারদিদি বড় শহরগুলোতে চালু। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাক্সি খুঁজে পেতে সহায়ক কয়েকটি স্মার্টফোন অ্যাপও আছে-যেমন মাইড্রাইভার, গো-ক্যাচ[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]

শহরের বাইরে ছোট শহরগুলোতে ট্যাক্সি সেবার পরিমাণ সীমিত হতে পারে, আবার খুব ছোট বা দূরবর্তী শহরে একেবারেই নাও থাকতে পারে।

উড়োজাহাজে

[সম্পাদনা]
মেলবোর্ন বিমানবন্দরে কান্তাস ও জেটস্টারের উড়োজাহাজ

দেশের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাতায়াত খুবই জনপ্রিয়। প্রধান ব্যবসায়িক করিডর (মেলবোর্ন–সিডনি–ব্রিসবেন) পথে দিনের বেলায় প্রায় প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়ে-প্রায় বাস সার্ভিসের মতোই ঘন।

সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক রুটেই সাধারণত সেরা ভাড়া পাওয়া যায়; আর ফ্লাইট কম থাকা দূরবর্তী রুটগুলোতে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হয়। কান্তাস অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দেয়-শুধু ফুল-সার্ভিস বলে অপশনটি বাদ দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান এয়ারলাইনের সংখ্যা হাতে গোনা-তাই দেশীয় রুটে দামের তুলনা করতে সময় লাগবে না:

  • কান্তাস-ফুল-সার্ভিস জাতীয় বাহক; সব বড় শহর ও কিছু বড় আঞ্চলিক শহরে (কান্তাসলিংক দেখুন) ফ্লাইট আছে;
  • ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া-দেশজুড়ে ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন; বড় শহর ও কয়েকটি বড় আঞ্চলিক শহরে উড়ে;
  • জেটস্টার-কান্তাসের ডিসকাউন্ট শাখা; সীমিত পরিষেবা ও নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা।

আঞ্চলিক গন্তব্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস সেবা দেয়-ভাড়া তুলনামূলক বেশি ও ছাড় কম আশা করুন।

চার্টার

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: সাধারণ বিমান চলাচল

নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ার হাজারো বিমানবন্দরের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটিতেই যায়। চার্টার বিমানের বহু বিকল্প আছে-এগুলো ছোট শহর বা অফশোর দ্বীপেও সরাসরি নিয়ে যেতে পারে। একই দলে ৩ জন বা তার বেশি হলে খরচ প্রায়ই নির্ধারিত ফ্লাইটের সমতুল্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান প্রাইভেট পাইলটস লাইসেন্স ব্যক্তিগত পাইলটকে যাত্রী বহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে প্লেন ভাড়া ও জ্বালানির খরচ আদায়ের অনুমতি দেয়; তবে যাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বাণিজ্যিকভাবে উড়তে দেয় না। তারপরও স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবগুলোর ওয়েবপেজ দেখলে দেখবেন, রৌদ্রোজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটিতে কেউ প্লেন ও জ্বালানির খরচ ভাগ করলে বেসরকারি পাইলটরা প্রায়ই উড়তে আগ্রহী থাকেন।

রেলে করে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় রেল ভ্রমণ, অস্ট্রেলিয়া পাড়ি রেলে
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আন্তঃনগর রেলপথের মানচিত্র

অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেন খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়: সাধারণত গাড়ির চেয়ে ধীর, বিমানের চেয়ে ব্যয়বহুল, আর বাসের চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে। রাজ্যগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয়হীনতা, বিশাল দূরত্ব আর তুলনামূলক কম জনসংখ্যার কারণে জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক ধীরগতির এবং মূলত পণ্যবাহী। তবুও আন্তঃনগর রেলভ্রমণ বেশ দৃশ্যাবলিময় হতে পারে এবং দেশকে নতুন কোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। কিছু ছোট শহরে যাওয়ার জন্য এটি সাশ্রয়ীও হতে পারে-সেসব রুটে বিমানের ভাড়া রাজ্য রাজধানীগুলোর রুটের তুলনায় প্রায়ই বেশি পড়ে।

বর্তমান অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী রেল সেবা রাজ্য রাজধানীকে আঞ্চলিক শহরের সঙ্গে যুক্ত করে-যেমন বেন্ডিগো থেকে মেলবোর্ন, বা কেয়র্নস থেকে ব্রিসবেন। দুইটি আন্তমহাদেশীয় রুট (অ্যাডিলেড–ডারউইন ও সিডনি–পার্থ) বিলাসবহুল, পর্যটকমুখী সেবা-যাদের হাতে সময় ও বাজেট দুটোই বেশি। আপনি যদি রেলপ্রেমী না হন, তবে সাধারণত উড়োজাহাজ বা গাড়িই দ্রুত ও সাশ্রয়ী।

তাসমানিয়ায় কোনো যাত্রীবাহী রেল নেই। নর্দার্ন টেরিটরিতে কেবল ডারউইন থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি লাইন আছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ক্যানবেরার কেন্দ্রের কাছেই একটি মাত্র স্টেশন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় রেলসেবা প্রধানত অ্যাডিলেডের শহরতলি নেটওয়ার্কে সীমিত; তবে মেলবোর্নগামী ট্রেন ভিক্টোরিয়া-সীমানা পর্যন্ত কয়েকটি দেশীয় শহরে থামে।

দূরপাল্লার ট্রেন অপারেটর

[সম্পাদনা]
ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক

অস্ট্রেলিয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন একটি বেসরকারি ও চারটি রাজ্য সরকারি অপারেটরের মিশেলে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে সব দূরপাল্লার অপারেটরকে কভার করে এমন কেন্দ্রীয় টিকিটিং সেবা নেই-একাধিক অপারেটরের রুটে গেলে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হবে।

  • জার্নি বিয়ন্ড-বেসরকারি বিলাসবহুল পর্যটক ট্রেন অপারেটর; দ্য গ্যান অ্যাডিলেড থেকে অ্যালিস স্প্রিংস হয়ে ডারউইন পর্যন্ত (শুধু মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে), দ্য ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক সিডনি থেকে অ্যাডিলেড হয়ে পার্থ পর্যন্ত, এবং দ্য ওভারল্যান্ড অ্যাডিলেড থেকে মেলবোর্ন পর্যন্ত চালায়। ওভারল্যান্ড ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত-তাই জার্নি বিয়ন্ডের অন্যান্য সেবার চেয়ে সস্তা-তবে এতে স্লিপার কোচ নেই, পুরো যাত্রা দিনের মধ্যেই শেষ হয়।
  • ট্রান্সপোর্ট নিউ সাউথ ওয়েলস (Transport NSW)-সিডনিকে কেন্দ্র করে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)-এ সেবা; আশেপাশের শহরে ইন্টারসিটি ট্রেন, আর দূরপাল্লায় এনএসডব্লিউ ট্রেনলিংক (NSW TrainLink) মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা ও রাজ্যের দূরবর্তী আঞ্চলিক কেন্দ্রে যায়। রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায় এবং এসব রুটে রেল+কোচ মিলিয়ে কম্বিনেশন টিকিট তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
  • ভি/লাইন (V/Line)-মেলবোর্নকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ট্রেন; রেলে না-যাওয়া শহরে কোচও চালায়। মেলবোর্ন–অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন–ক্যানবেরা রুটে ট্রেন+কোচ মিলিত সেবা আছে।
  • কুইন্সল্যান্ড রেল-ব্রিসবেনকে কেন্দ্র করে কুইন্সল্যান্ডের দূরপাল্লার রেল; ফ্ল্যাগশিপ স্পিরিট অব কুইন্সল্যান্ড ব্রিসবেন–কেয়র্নস রুটে। এছাড়া ইনল্যান্ডার টাউনসভিলমাউন্ট আইসা এবং স্পিরিট অব দ্য আউটব্যাক ব্রিসবেন–রংগ্রীচ (রকহ্যাম্পটন হয়ে) রুটে চলে।
  • ট্রান্সডব্লিউএ (Transwa)-ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সরকারের অপারেটর; পার্থ থেকে কালগুর্লিবানবারি পর্যন্ত ট্রেন চালায়। রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে যেখানে আগে রেল ছিল সেখানে ট্রান্সডব্লিউএ অনেক কোচ সেবাও চালায়।

মোটোরেল সেবা

[সম্পাদনা]

একসময় অস্ট্রেলিয়ায় মোটোরেল প্রচলিত ছিল-ট্রেনের পেছনে বিশেষ বগিতে নিজের গাড়ি তোলা যেত। বর্তমানে এই সেবা কেবল জার্নি বিয়ন্ডের অ্যাডিলেড–পার্থ বা অ্যাডিলেড–ডারউইন রুটে আছে। মাঝপথের কোনো স্টেশনে গাড়ি নামানো যায় না।

রেল পাস

[সম্পাদনা]

সারা অস্ট্রেলিয়ার সব ট্রেনে চলার মতো কোনো একক রেল পাস নেই। তবে আপনি যদি রেল-উৎসাহী হন এবং ব্যাপক রেলভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, কয়েকটি পাসে সাশ্রয় হতে পারে। কিনবার আগে ভ্রমণসূচি ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। দেশের ট্রেন কম-ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে এবং আঞ্চলিক শহরে পৌঁছাতে সময়টা অস্বস্তিকর হতে পারে।

  • ডিসকভারি পাস-সব NSW ট্রেনলিংক (ট্রেন ও কোচ) সেবায় প্রযোজ্য। নিউ সাউথ ওয়েলস জুড়ে, উত্তরে ব্রিসবেন এবং দক্ষিণে মেলবোর্ন পর্যন্ত যেতে পারবেন।
  • কুইন্সল্যান্ড রেল কোস্টাল পাস ও কুইন্সল্যান্ড রেল এক্সপ্লোরার পাস।

স্থানীয় গণপরিবহন

[সম্পাদনা]
সিডনির এক শহরতলি ট্রেন
বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কে সেবাপ্রাপ্ত মেলবোর্ন

সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, উলংগংনিউক্যাসেল-এসব শহরে উপনগর রেল ও বাস শহুরে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত। মেলবোর্ন, অ্যাডিলেড, সিডনি, নিউক্যাসেল, ক্যানবেরা ও গোল্ড কোস্টে ট্রামও চলে; সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে ফেরি আছে। সিডনিতে দেশের একমাত্র মেট্রো লাইন চালু। বাকি রাজধানী শহরগুলোতে কেবল বাসসেবা আছে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শহরভিত্তিক গাইড দেখুন।

কোচে করে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় কোচ ভ্রমণ

অস্ট্রেলিয়ায় (আন্তঃনগর) কোচ ভ্রমণ সস্তা ও সুবিধাজনক, যদিও আন্তঃরাজ্য দূরত্ব দীর্ঘ বলে ভীতিজনক মনে হতে পারে। গ্রেহাউন্ডের নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়; এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্য পরিচালিত কোচ নেটওয়ার্ক আছে-যেগুলো রাজ্যের রেলব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে একীভূত, তবে একক পরিষেবা হিসেবেও বুক করা যায়। অন্যান্য রাজধানী শহর থেকে পার্থে কোনো কোচ সেবা নেই।

  • ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস, ১৩০০ ৭৩০ ৭৪০ (স্থানীয় হার), +৬১ ৩ ৮৩১৮ ০৩১৮ (আন্তর্জাতিক কলার), ইমেইল: ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিকে যুক্ত করে সেবা দেয়।
  • গ্রেহাউন্ড, ১৩০০ ৪৭৩ ৯৪৬ (স্থানীয় হার), ইমেইল: গ্রেহাউন্ড প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ১,১০০-র বেশি গন্তব্যে যায়। টিকিটিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে, যার মধ্যে সারাদেশে ১৫–১২০ দিনের জন্য সীমাহীন ওঠা–নামার পাস (“হুইমিট পাস”) এবং মেলবোর্ন–কেয়র্নস রুটে ৭–৩০ দিনের “ইস্ট কোস্ট হুইমিট” অন্তর্ভুক্ত।
  • মারিজ, +৬১ ১৩ ২২ ৫১, ইমেইল: মারিজ ক্যানবেরা–সিডনি, এনএসডব্লিউ দক্ষিণ উপকূলতুষারাচ্ছন্ন ঢাল রুটে সেবা দেয়।
  • প্রিমিয়ার মোটর সার্ভিসেস প্রিমিয়ার পূর্ব উপকূল জুড়ে বাস চালায়—দক্ষিণ এনএসডব্লিউর ইডেন থেকে শুরু করে দূর-উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কেয়র্নস পর্যন্ত। গন্তব্য গ্রেহাউন্ডের চেয়ে কম হলেও বাসসমূহ মানসম্মত এবং ভাড়া গ্রেহাউন্ডের তুলনায় প্রায় ১০% কম।

নৌপথে

[সম্পাদনা]
পোর্ট মেলবোর্নে স্পিরিট অব তাসমানিয়া II

সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ফেরি সেবা আছে। আঞ্চলিক এলাকার কিছু ছোট সড়কে এখনও নদী বা খাল পার হতে পন্টুন (পান্ট) চলাচল করে। ব্যারিয়ার রিফের দ্বীপগুলোতে কিছু নির্ধারিত নৌসেবা আছে, আর কয়েকটি ক্রুজ জাহাজও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপ্রান্ত ঘুরে যায়।

তবে বড় আন্তঃনগর ফেরি সেবা বিরল। মনে রাখবেন-বেশিরভাগ গাড়িভাড়া কোম্পানি তাদের গাড়ি ফেরিতে তুলতে দেয় না।

লিফটে করে

[সম্পাদনা]

তাসমানিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরি ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে লিফট নেওয়া (হিচহাইকিং) অবৈধ; শাস্তি শূন্য (সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি) থেকে শুরু করে কুইন্সল্যান্ডে ৩,২০০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সব রাজ্যেই ফ্রিওয়েতে বাঁধের ধারে দাঁড়ানো বা হাঁটা নিষিদ্ধ-ফলে বাস্তবে অনেক জায়গায় লিফট নেওয়া বেআইনি হয়ে যায়।

জরুরি অবস্থায় বাধ্য হলে কোনো চালক আপনাকে নিকটতম শহর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারেন। (অনেক আন্তঃনগর মহাসড়ক ও ফ্রিওয়েতে জরুরি ফোন থাকে।)

তারপরও গ্রামীণ এলাকায় লিফট চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সকাল সকাল বেরোনোই উত্তম। শহরের প্রধান এক্সিটের কাছে-তবে রাস্তায় নয়-দাঁড়ানো সবচেয়ে ভালো।

সাইকেলে

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় শহরের মধ্যে দূরপাল্লায় সাইকেলে যাতায়াত খুব একটা দেখা যায় না; অধিকাংশ দূরপাল্লার মহাসড়কে সাইক্লিস্টদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ সিডনি–ব্রিসবেন সাইকেলে যেতে ২–৩ সপ্তাহ ধরতে হবে-প্রতিদিন প্রায় ৮০–১০০ কিমি করে।

তবু সাহসী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘপথ সাইকেলে কভার করেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখেন। নালারবরসহ বিচ্ছিন্ন মহাসড়কেও দীর্ঘপথ সাইকেলযাত্রী দেখা যায়।

কিছু রাজ্যে পুরনো রেলপথকে রেল ট্রেলে রূপান্তর করা হয়েছে। রেল ট্রেল অস্ট্রেলিয়া ওয়েবসাইটে মূল মহাসড়কের বাইরে ভালো রুটের তথ্য আছে; ‘মারে–টু–দ্য–মাউন্টেন্স’ ট্রেল মানের দিক থেকে সেরা এবং পথে দেখার/করার বিষয়ও বেশি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্টেন বাইকারদের জন্য দীর্ঘ ট্রেল উন্নয়ন করা হয়েছে-মুন্ডা বিদ্দি ট্রেল বহুদিন ধরে বুশল্যান্ডের ভেতর দিয়ে যায় এবং রুটে রাতযাপনের জন্য কুঁড়েঘর (হাট) আছে।

যেখানেই সাইকেল চালান-রাজধানী শহরগুলোর নগর বিস্তার ছেড়ে বেরোলেই পরিকল্পনা করে বেরোন এবং রসদ সঙ্গে নিন।

নিউ সাউথ ওয়েলসে সাইক্লিং নিবন্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস-নির্দিষ্ট তথ্য দেখুন।

হাইকিং

[সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং ও বুশওয়াকিং

অস্ট্রেলিয়ার কিছু ভূদৃশ্য কেবল হেঁটেই সঠিকভাবে অনুভব করা যায়। তাসমানিয়ায় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের ওভারল্যান্ড ট্র্যাক ও সাউথ কোস্ট ট্র্যাক-এ দু’টি হাঁটার/হাইকিং-ভিত্তিক ছুটির “টু–ডু” আইটেমের চমৎকার উদাহরণ। বাইসেন্টেনিয়াল ন্যাশনাল ট্রেল বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেলগুলোর একটি-যা উত্তর কুইন্সল্যান্ডের কুকটাউন থেকে ভিক্টোরিয়ার হিলসভিল পর্যন্ত গেছে।

দেখুন

[সম্পাদনা]

বন্যপ্রাণী

[সম্পাদনা]
একটি কোয়ালা
আরও দেখুন: অস্ট্রেলেশীয় বন্যপ্রাণী

অস্ট্রেলিয়ার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ বহু মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফল-একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে থলি-ওয়ালা স্তন্যপায়ী (মার্সুপিয়াল) আর ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী (মনোট্রিম) বড় একটি দল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী-আইকনগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু (জাতীয় প্রতীক) ও কোআলা উল্লেখযোগ্য। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হবে না যদি প্রাকৃতিক আবাসে এদের কিছু না-দেখেন।

বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা

[সম্পাদনা]
  • প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে বন্যপ্রাণী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা রয়েছে। তবে ছোট শহর যেমন মিলডুরা বা মোগো-তে কিংবা হ্যামিল্টন দ্বীপ-এও প্রাণী উদ্যান দেখা যায়। সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওয়ারাওয়ং ফনা স্যাংচুয়ারি ঘুরে আসতে পারেন, আর সিডনির টারোঙ্গা চিড়িয়াখানায় কোয়ালা দেখার সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতিতে

[সম্পাদনা]
একটি তাসমানিয়ান ডেভিল
  • ক্যাঙ্গারুওয়ালাবি অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল সিডনির রাস্তায় তাদের দেখা না মিললেও শহরতলির আশেপাশে সাধারণত দেখা যায়।
  • ওম্বাটইকিডনাও প্রচুর আছে, তবে তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে লুকিয়ে থাকার কারণে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ক্যাঙ্গারু দ্বীপে প্রচুর ইকিডনা দেখা যায়।
  • কোয়ালা সারা দেশের বনভূমিতে থাকে, তবে গাছে উঁচুতে থাকায় খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দিনের বেলা ভালোভাবে দেখা যায়, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার পেইনসভিল কাছের রেমন্ড দ্বীপে। এছাড়া গ্রেট ওশেন রোডের ওটওয়ে কোস্ট বা সানশাইন কোস্টের নুসা জাতীয় উদ্যান এলাকায়ও ভালো সুযোগ থাকে।
  • এমু মূলত মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। কুরাওইন্যা জাতীয় উদ্যানে গেলে অবশ্যই তাদের দেখা মিলবে।
  • ক্যাসোয়ারি মূলত উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে থাকে, তবে এরা মারাত্মকভাবে বিপন্ন প্রজাতি হওয়ায় দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
  • প্লাটিপাস সাধারণত ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডের নদীখাতে পাওয়া যায়। ভোর বা সন্ধ্যায় তাদের দেখার সম্ভাবনা বেশি। বোম্বালা, ডেলিগেট বা ভিক্টোরিয়ার স্কিপটন এ প্লাটিপাস সংরক্ষণ এলাকায় চেষ্টা করা যেতে পারে।

অপরাধীদের স্থান

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য শাস্তি-উপনিবেশ হিসেবে। সেই সময়ের বন্দী পরিবহনের স্মৃতি বহন করে এমন বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনও টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থার এবং পার্থ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার নিকটবর্তী ফ্রিম্যান্টল-এ অবস্থিত ফ্রিম্যান্টল কারাগার। এছাড়াও পুরো দেশ জুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ছড়িয়ে রয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভ

[সম্পাদনা]
সিডনি অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলির একটি

অস্ট্রেলিয়ায় বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো সারা বিশ্বেই বিখ্যাত। রেড সেন্টার-এ অবস্থিত উলুরু থেকে শুরু করে সিডনির সিডনি হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউস পর্যন্ত।

অস্ট্রেলিয়ার ছোট শহরগুলোর একটি ঐতিহ্য হলো বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করা, যা স্থানীয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে দেখতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার বড় জিনিসপত্র

অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিবন্ধিত রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো (ইউনেস্কো) স্বীকৃত ২১টি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি ধর্মীয় দেশ নয়, তবে কিছু কিছু গির্জা সুপরিচিত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। এর উদাহরণ হলো সিডনির সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং অ্যাডিলেডের সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল।

জাতীয় উদ্যান

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ এলাকা, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় উদ্যান
ভিক্টোরিয়ার গ্রেট অটওয়ে ন্যাশনাল পার্কে বিউশ্যাম্প ফলস

অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতির সেরা রূপের অনেকটাই দেখা যায় এর জাতীয় উদ্যানগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০-রও বেশি জাতীয় উদ্যান আছে, যা দেশটিকে পৃথিবীতে সর্বাধিক জাতীয় উদ্যানসমৃদ্ধ দেশ করে তুলেছে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় বাছাই করা কঠিন হতে পারে, তবে কিছু উদ্যান ভ্রমণকারীদের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। কিছু জাতীয় উদ্যান-যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্যানটিও রয়েছে-অতিদূরবর্তী এলাকায়, যেখানে যাওয়ার কোনো পাকা সড়ক নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো চারচাকা চালিত গাড়িতে অফ-রোড ড্রাইভিং। এ ধরনের যাত্রায় যাওয়ার আগে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির যথেষ্ট মজুতসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিন, এবং জরুরি অবস্থার কথা ভেবে উচ্চ খরচ সত্ত্বেও একটি স্যাটেলাইট ফোন ভাড়া নেওয়া অত্যন্ত সুপারিশকৃত। কুইন্সল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কনজারভেশন পার্কও আছে-এগুলোও অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষিত এলাকা, তবে জাতীয় পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুত্বপ্রাপ্ত নয়।

নিউ সাউথ ওয়েলসে, সিডনির পশ্চিমে অবস্থিত এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ব্লু মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক না গেলে কোনো ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না-এখানে আছে বহু আদিবাসী পবিত্র স্থান, ভিউপয়েন্ট, পাহাড় ও মালভূমি। রাজ্যের আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে সিডনির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্রতীরের পুরোনো প্রিয় রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক, মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের আবাস কোশিয়াস্কো ন্যাশনাল পার্ক, গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টের জন্য ডরিগো ন্যাশনাল পার্ক বা নিউ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক, আর জনাকীর্ণতা এড়াতে চাইলে অদ্ভুত কিন্তু দারুণ “ওয়ালস অব চায়না” ভূরূপের জন্য অপেক্ষাকৃত নির্জন মাঙ্গো ন্যাশনাল পার্ক

নর্দার্ন টেরিটরিতে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো কাকাডু ন্যাশনাল পার্ক এবং উলুরু-কাতা জুটা ন্যাশনাল পার্ক-দুটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রতীকসম নিদর্শন। অন্য জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে বহু জলপ্রপাতের আবাস লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক, ক্যাথরিন গর্জের জন্য নিটমিলুক, আর গিরিখাত ও ক্যানিয়নের জন্য তজোরিতজা / ওয়েস্ট ম্যাকডোনেল ন্যাশনাল পার্কওয়াটারকা ন্যাশনাল পার্ক

কুইন্সল্যান্ডে, নর্দার্ন টেরিটরির মতোই সবচেয়ে বিশ্ববিখ্যাত দুটি উদ্যান হলো ডেইন্ট্রি রেইনফরেস্টগ্রেট ব্যারিয়ার রিফ-একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত বর্ষাবনের জন্য, আরেকটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থার জন্য। আরও জনপ্রিয় উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে গন্ডোয়ানা রেইনফরেস্টসমৃদ্ধ ল্যামিংটন ন্যাশনাল পার্ক, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বালিয়াড়ি দ্বীপ এবং বালুর ওপর বন গজানোর একমাত্র উদাহরণের জন্য গ্রেট স্যান্ডি ন্যাশনাল পার্ক, এবং সাদা বালুকাবেলার জন্য হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জ। তুলনামূলক অখ্যাত হলেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানগুলোর মধ্যে আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদাপ্রাপ্ত বুজামুল্লা ন্যাশনাল পার্ক এবং ভূদৃশ্য ও শিলাচিত্রের জন্য কার্নারভন ন্যাশনাল পার্ক

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যানগুলোর ধরন বৈচিত্র্যময়, আর সবচেয়ে স্বীকৃত হলো ইকারা-ফ্লিন্ডার্স রেঞ্জস ন্যাশনাল পার্ক-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া বললেই অনেকের মাথায় প্রথম এটিই আসে। আরও আছে জীবাশ্মের বিশ্ব ঐতিহ্য নারাকুর্ট গুহা ন্যাশনাল পার্ক এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাবরিজিনাল সাংস্কৃতিক স্থানের জন্য দ্য কুরঙ

তাসমানিয়ায় প্রকৃতির বন্যতা সবচেয়ে বেশি; এখানকার উদ্যানগুলোর প্রায় অর্ধেকের একটু কমই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী-ফলে কোনটা দেখবেন তা বেছে নেওয়া কঠিন। ক্র্যাডল মাউন্টেন–লেক সেন্ট ক্লেয়ার ন্যাশনাল পার্ক সবচেয়ে প্রতীকী উদ্যান, আর রাজ্যের সবচেয়ে বড় উদ্যান সাউথওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্ক। সহজে পৌঁছানো যায় এমন পাহাড় চাইলে হার্টজ মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ক বা মাউন্ট ফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক সাধারণত সেরা পছন্দ; শেষেরটি ও বেন লোমন্ড ন্যাশনাল পার্ক স্কি ও স্নো-স্পোর্টসের জন্যও পরিচিত। ভিন্ন ধরনের উদ্যান চাইলে সমুদ্রসৈকতের জন্য ফ্রেসিনেট ন্যাশনাল পার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সমুদ্রক্লিফের জন্য তাসমান ন্যাশনাল পার্ক দেখুন।

ভূখণ্ডের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হয়েও ভিক্টোরিয়ার অফার অনেক। সবচেয়ে পরিচিত পোর্ট ক্যাম্পবেল ন্যাশনাল পার্ক-পার্কের নাম যতটা না পরিচিত, তার বিখ্যাত “টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস” ভূরূপই বেশিরভাগ দর্শনার্থী টেনে আনে। আরও আছে উইলসন্স প্রোমন্টরি-মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দুর আবাস-আর গোলাপি লেকের জন্য মারে সানসেট ন্যাশনাল পার্ক

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া-বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপ-জাতীয় অঞ্চল-দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। সবচেয়ে পরিচিত নাম্বুং ন্যাশনাল পার্ক তার পিনাকলস মরুভূমির জন্য; আরও আছে কালবারি ন্যাশনাল পার্ককারিজিনি ন্যাশনাল পার্ক-দুটিতেই অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘন শিলাচিত্রসম্ভারের একটি হওয়ার জন্য মুরুজুগা ন্যাশনাল পার্কও উল্লেখযোগ্য। পুরনুলুলু ন্যাশনাল পার্কশার্ক বে-দুটিই ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী, পার্থ থেকে দূরে হলেও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য। আর যদি মনে করেন সব সুন্দর দৃশ্যই জমিতে-তা হলে ভুল ভাবছেন। নিনগালু মেরিন পার্ক (আর এক্সমাউথকোরাল বে) সমুদ্রজীবনপ্রেমীদের জন্য অফারের শেষ নেই।

মহাকাশ

[সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: অস্ট্রেলিয়ায় আকাশভ্রমণ

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল, খোলা আউটব্যাক এলাকাগুলো মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। তবে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় এখানে নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ভিন্ন-কারণই বা দক্ষিণ গোলার্ধ। শহর থেকে শুরু করে দূর আউটব্যাক পর্যন্ত নানা ধরনের অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম সাইট আছে।

মেলবোর্নে এএফএল ম্যাচ দেখা একদমই ‘মাস্ট’

রাজধানী থেকে ছোট্ট শহর-অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ sport/খেলাধুলা। তুলনামূলক ছোট জনসংখ্যা সত্ত্বেও অলিম্পিকে ধারাবাহিক সাফল্যই এর প্রমাণ। বেশিরভাগ ম্যাচই সাপ্তাহিক ছুটির সময় (শুক্রবার রাত থেকে সোমবার রাত) হয়। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা সাধারণত ভদ্র; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার দলগুলোর ভক্তরাও একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখেন-চিৎকার-চেঁচামেচি হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা খুবই বিরল।

ফুটবল

অস্ট্রেলিয়ায় "football/ফুটবল" শব্দটি দ্ব্যর্থক; জায়গা ও আলাপসঙ্গীর ওপর অর্থ বদলে যায়। তবে একা "football" (ফুটবল) বলা হলে তা প্রায় কখনোই এসোসিয়েশন ফুটবল বোঝায় না—অস্ট্রেলিয়ায় সেটি "সকার" নামে পরিচিত। সাধারণভাবে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে "football" (ফুটবল) বা "footy" (ফুটি) বলতে রাগবি লিগ বোঝায়, আর অস্ট্রেলিয়ার বাকি অংশে বোঝায় অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল

অযোগ্য/কোয়ালিফাই না করা rugby/রাগবি শব্দটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্বদা রাগবি ইউনিয়ন বোঝায়—কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে রাগবি লিগ বেশি জনপ্রিয়। তাই যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “ফুটবল না রাগবি পছন্দ?”, তারা আসলে রাগবি লিগ না রাগবি ইউনিয়ন—এটা জানতে চায়।

  • ভিক্টোরিয়ায় শীতকালে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল (অজি রুলস, কিছু জায়গায় শুধু “ফুটি”) এক কথায় জীবনযাত্রার অংশ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি ম্যাচ দেখে নিন। ভিক্টোরিয়ায় জন্ম ও জনপ্রিয়তা হলেও জাতীয় প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ (এএফএল)-এ সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ ও গোল্ড কোস্টের দলও আছে, আর ২০২৮ সাল থেকে হোবার্ট থেকেও একটি দল যুক্ত হবে। এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনাল প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হয়-এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে দেখা ইভেন্ট। এখন এএফএল নারীদের লিগ এএফএল উইমেনসও চালায়-পুরুষদের মতো জনপ্রিয় না হলেও ভালো দর্শকসমর্থন পায়। পরের নারীদের মৌসুমে (২০২০) পুরুষদের বর্তমান বাজারের সব শহর মিলিয়ে ১৪টি দল খেলেছিল।
  • গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-অস্ট্রেলিয়া ও অন্তত দুইটি সফরকারী দলের মধ্যে-সব রাজধানী শহরে ঘুরে-ঘুরে হয়। ঐতিহ্য চাইলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের নিউ ইয়ার্স টেস্ট বা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বক্সিং ডে টেস্ট দেখুন। কয়েক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিনোদনের জন্য টি-টোয়েন্টি দেখতে পারেন। ঘরোয়া লিগ বিগ ব্যাশ লিগ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। একদিনের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সাধারণত দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা/১১টা (ডে-নাইটার), আর ঘরোয়া বেশিরভাগ ও মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। অস্ট্রেলিয়া ডে ওডিআই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি অ্যাডিলেডে হয়। দ্য অ্যাশেজ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ-প্রতি ৩-৪ বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ায়, আর তখন ম্যাচগুলো সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেডে হয়।
  • অস্ট্রেলিয়ান ওপেন-চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের একটি-প্রতি জানুয়ারিতে মেলবোর্ন শহরকেন্দ্রের কাছে মেলবোর্ন পার্ক কমপ্লেক্সে, প্রধান স্টেডিয়াম রড লেভার এরিনা-সহ অনুষ্ঠিত হয়।
নিউক্যাসলে হান্টার স্টেডিয়াম
  • রাগবি ইউনিয়ন–এর সুপার রাগবি ম্যাচ দেরি গ্রীষ্ম/শরতে ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনিতে হয়-অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের দল অংশ নেয়। জাতীয় দল ওয়ালাবিজ শীতকালে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে আতিথ্য দেয়; ‘দ্য রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ’ (আগে ট্রাই নেশন্স)-এ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলে।
  • রাগবি লিগ মূলত নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের শীতকালীন খেলা; প্রিমিয়ার প্রতিযোগিতা ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল)। দল আছে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন, কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন, নর্থ কুইন্সল্যান্ড ও গোল্ড কোস্টে; নিউজিল্যান্ডের একটি দলও আছে; বাকিরা সিডনির উপশহর ও নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক শহর (নিউক্যাসল, ক্যানবেরা) থেকে। মৌসুম শেষ হয় সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায় এনআরএল গ্র্যান্ড ফাইনাল দিয়ে। দেশের রাগবি লিগ ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো স্টেট অব অরিজিন-নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের বার্ষিক সিরিজ; দুইটি সিডনি ও ব্রিসবেনে, তৃতীয়টি কখনো মেলবোর্ন বা পার্থে। অনেকের মতে, অরিজিন সিরিজের খেলার মান রাগবি লিগ বিশ্বকাপের চেয়েও উঁচু।
  • নেটবল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নারীদের খেলা; ঘরোয়া সুপার নেটবলে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ হয় (এটি নিউজিল্যান্ড-সমন্বিত আগের ট্রান্সন্যাশনাল লিগের বদলি)। জাতীয় দল বিশ্বসেরাদের একটি; ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
  • সকার জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে-ইউরোপীয় মানে পৌঁছাতে চায়-আর শখের স্তরে খুবই জনপ্রিয়। বহু অভিবাসী ও তাঁদের সন্তানরা ইউরোপীয় ফুটবলসংস্কৃতি থেকে আসায় আগ্রহ বেশি। জাতীয় দল সকারুস ২০১৫ সালে এশিয়া কাপ জিতে খেলাটির প্রোফাইল অনেক বাড়ায়। গ্রীষ্মে পেশাদার এ-লিগ হয়-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দল নিয়ে। বেশিরভাগ শহরে শীতে সেমি-প্রো “স্টেট লিগ” হয়-অনেক ক্লাব নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী/অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঘিরে গড়ে ওঠা (যেমন নিউক্যাসলের ব্রডমিডো ম্যাজিক-স্থানীয় ম্যাসেডোনীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে)। নারীদের সকার দর্শকে কম হলেও সমর্থন ভালো; জাতীয় দল ম্যাটিল্ডাস নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলে। নারীদের লিগ হলো ডব্লিউ-লিগ।
  • এফ১ গ্রাঁ প্রি-মার্চে মেলবোর্নের আলবার্ট পার্ক লেক ঘিরে সিটি স্ট্রিট সার্কিটে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি ও সহায়ক রেসগুলো হয়।
  • সুপারকার্স চ্যাম্পিয়নশিপ শক্তিশালী ট্যুরিং কারের জনপ্রিয় রেসিং সিরিজ-মার্কিন এনএএসকারের তুলনা টানা যায়, তবে এখানে ওভাল নয়, রোড/স্ট্রিট সার্কিট। মার্চ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে ইভেন্ট হয়; অক্টোবরের ঐতিহ্যবাহী বাথার্স্ট ১০০০ সবচেয়ে বিখ্যাত।
  • ঘোড়দৌড় অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দর্শকখেলা-সব রাজধানীতে নিয়মিত রেস হয়। ক্যালেন্ডারের সেরা ইভেন্ট বার্ষিক মেলবোর্ন কাপ-বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দৌড়গুলোর একটি। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে এদিন সরকারি ছুটি; সারা দেশেই অনেকেই শুধু এই দৌড় দেখার জন্য টিভি চালায়।

ভ্রমণপথ

[সম্পাদনা]

যা করবেন

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলির জন্য বিখ্যাত (ছবিতে বন্ডাই বিচ)
গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির একটি, যেখানে বিশ্বের সেরা কিছু সৈকত রয়েছে এবং কাছেই থিম পার্কের সমাহার

সাঁতার

[সম্পাদনা]
  • সার্ফে: অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অন্তহীন বালুকাময় সৈকত রয়েছে। সিডনির বিশ্ববিখ্যাত বন্ডাই বিচ বা গোল্ড কোস্টের সার্ফার্স প্যারাডাইস-এ ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিন। অথবা নিজের মতো নিরিবিলি সৈকত খুঁজে নিন (তবে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, টহল দেওয়া সৈকতগুলোই তুলনামূলক নিরাপদ)। ট্রপিক্যাল নর্থ অঞ্চলে প্রবালপ্রাচীর ঢেউ ঠেকিয়ে দেয় বলে ঢেউ ছোট ও পানিও উষ্ণ থাকে। দক্ষিণে সাউদার্ন ওশান থেকে ঢেউ এসে বড় হয় এবং পানি ঠান্ডা থাকে। (আর মাঝখানে সবটাই একেবারে ‘‘ঠিকঠাক’’)।
  • শান্ত ট্রপিক্যাল সাগরে: ব্রুমের কেবল বিচ প্রতিদিন জোয়ারে পরিষ্কার হয়, নিখুঁত বালু ও উষ্ণ পানি – শীতকালে যাওয়া ভালো।
  • উষ্ণ প্রস্রবণে: ডারউইনের দক্ষিণে বেরি স্প্রিংস ও মাতারাঙ্কার মতো অনেক প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ আছে, যেগুলো তালগাছ ও ট্রপিক্যাল সবুজে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রিসোর্টও এমন প্রাকৃতিক পুল বানাতে পারবে না।
  • মিঠাপানির হ্রদে: অভ্যন্তরীণ অস্ট্রেলিয়া শুকনো হলেও অনেক জায়গায় হ্রদ আছে। কেয়ার্নসের অভ্যন্তরে আথারটন টেবিলল্যান্ডস বা কুরাওইনিয়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখুন। কুমিরের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • নদীতে: গরম থাকলে আর পানি থাকলেই সেখানে সাঁতারের জায়গা থাকবে। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় সাঁতার কাটা গর্ত বা দড়ি দিয়ে লাফ দেওয়ার জায়গা জেনে নিন। কুমিরের ব্যাপারে সাবধান।
  • মানবসৃষ্ট পুলে: নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার ছোট শহরে স্থানীয় সুইমিং পুল গ্রীষ্মের রবিবারে কমিউনিটি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সিডনি ও নিউক্যাসলের সমুদ্রপাড়ের অনেক উপশহরে কংক্রিট/শিলা কেটে বানানো ‘বাথস’ আছে যেখানে সমুদ্র সৈকতের পাশে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
  • সৈকতে! পানির ধারে নিজের জায়গা খুঁজে নিন আর তোয়ালে পেতে বসুন। শীতে ট্রপিক্যাল নর্থে, গ্রীষ্মে দক্ষিণে। তবে সব সময় সূর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

বুশওয়াকিং

[সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: অস্ট্রেলিয়ায় হাইকিং

বুশওয়াকিং অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বিনোদন। জাতীয় উদ্যান ও রেইনফরেস্টে বুশওয়াকিং করা যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয় আদিবাসীদের নেতৃত্বে গাইডেড বুশওয়াক হয়, যেখানে তাদের সংস্কৃতি জানার দুর্দান্ত সুযোগ মেলে।

ডাইভিং

[সম্পাদনা]
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এক স্কুবা ডাইভার একটি জায়ান্ট ক্ল্যাম দেখছে

খেলাধুলা

[সম্পাদনা]
  • গলফ
  • রক ক্লাইম্বিং
  • মাউন্টেন বাইকিং: স্নোয়ি মাউন্টেনস বা ক্যানবেরার ব্ল্যাক মাউন্টেনে ট্রেইল চেষ্টা করুন, অথবা পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুন্ডা বিদ্দি ট্রেইলে কয়েকদিন ধরে সাইকেল চালান।
  • ঘোড়ায় চড়া: ইউরোপীয় উপনিবেশকদের আগমনের পর থেকে ঘোড়া অস্ট্রেলিয়ার জীবনের অংশ। বিশাল দূরত্ব ও কঠিন পরিবেশ পাড়ি দিতে ঘোড়ার উপর নির্ভরশীলতা অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আজ ঘোড়ায় চড়া এখানে বিনোদন, কাজ, গরু সামলানো থেকে শুরু করে কোটি ডলারের রেসিং শিল্প পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরতলি ও গ্রামে ছোট পোনি খামার ও প্রিয় ঘোড়াগুলো দেখা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ানদের ঘোড়ার প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ।

অস্ট্রেলিয়া স্কি-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বমানের নয়, কারণ পাহাড়গুলো তুলনামূলক নিচু এবং তুষার অনিশ্চিত। তবে দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় উন্নত স্কি সুবিধা আছে। তাসমানিয়াতেও সঠিক আবহাওয়া হলে কয়েক মাস স্কি করা যায়। দেখুন অস্ট্রেলিয়ায় শীতকালীন খেলা

সার্ফ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোণায়ও ভালো সার্ফ ব্রেক খুঁজে পাবেন, আর সেখানেও সার্ফার থাকবে। অস্ট্রেলিয়ানরা সার্ফ ভালোবাসে এবং ঢেউ থাকলেই তারা সেখানে থাকে। কেয়ার্নস থেকে কারাথা পর্যন্ত শীর্ষ প্রান্ত ছাড়া প্রায় প্রতিটি উপকূলে সার্ফিং হয়।

রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ

[সম্পাদনা]

জুয়া

[সম্পাদনা]
নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট শহর বেরিগানে বেরিগান কাপ ঘোড়দৌড়

অস্ট্রেলিয়ানদের বলা হয়, যদি দুটো মাছি দেয়ালে উঠতে থাকে, তবে দেখবেন কোনো অজি ইতিমধ্যে বাজি ধরেছে।

  • ক্যাসিনো: মেলবোর্নের ক্রাউন ক্যাসিনো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়। তবে কেয়ার্নস, লন্সেস্টন, এলিস স্প্রিংস, গোল্ড কোস্ট, টাউনসভিলসহ প্রতিটি রাজধানী শহরে ক্যাসিনো আছে।
  • ঘোড়দৌড়ের দিন: সব রাজধানী শহরে সপ্তাহান্তে ঘোড়দৌড় হয়। পরিবার-সহ আয়োজন হয়, ফ্যাশন ও সামাজিকতা তার অংশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় প্রতিটি পাবেই ট্যাব থাকে। এছাড়া গ্রেহাউন্ড দৌড় ও ট্রটিং সন্ধ্যায় হয়। ছোট শহরের বার্ষিক দৌড় উৎসব স্থানীয়দের কাছে বড় অনুষ্ঠান। বার্ডসভিল রেস বিখ্যাত। আর প্রতি নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মেলবোর্ন কাপের সময় রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।
  • অদ্ভুত দৌড়: গিরগিটি দৌড়, আখ-ভেক দৌড়, উট দৌড়, কাঁকড়া দৌড়। এগুলোর উপর বাজি ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলে।
  • টু-আপ: আনজাক ডে (২৫ এপ্রিল)-এ স্থানীয় আরএসএল ক্লাবে কয়েন ছুঁড়ে বাজি ধরা হয়।
  • স্লট মেশিন: বিশ্বে মোট স্লট মেশিনের এক-চতুর্থাংশ অস্ট্রেলিয়ায়। এর অর্ধেকের বেশি নিউ সাউথ ওয়েলসে। মদ্যপানাগার ও ক্লাবগুলোতে ‘‘ভিআইপি লাউঞ্জ’’ নামে গেমিং রুম থাকে। তবে আসক্ত হবেন না।
  • ট্যাব: প্রতিটি শহর ও শহরতলিতে টোটালিসেটর এজেন্সি বোর্ড (ট্যাব) শাখা থাকে। সেখানে গিয়ে খেলাধুলায় বাজি ধরতে পারেন, যদিও পরিবেশ সাধারণত নিরানন্দময়।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। তাই শিশুদের প্রবেশ অনেক স্থানে সীমিত।

রয়্যাল শো

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডে বার্ষিক রয়্যাল শো হয়। এগুলো কৃষি প্রদর্শনী হলেও বিনোদন, মেলা ও রাইড থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফেয়ারের মতো এগুলো বসন্ত বা শরতে অনুষ্ঠিত হয়।

কিনুন

[সম্পাদনা]
সিডনির পিট স্ট্রিট মল-দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার জায়গাগুলোর একটি
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় কেনাকাটা

অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি ক্যাশলেস সমাজ-প্রায় সব ব্যবসায় ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড নেয়। ছোট ভ্রমণে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। নগদ এখনও গ্রহণযোগ্য, তবে কেবল-কার্ড নেয় এমন ব্যবসা বাড়ছে।

ক্যাফে, মদ্যপানাগার ও রেস্টুরেন্টে কার্ডে ১–২% সারচার্জ সাধারণ (এবং আইনি)-ক্যাশ বদলালে এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হতে পারে।

মুদ্রা

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলীয় ডলার-এর বিনিময় হার

মে ২০২৪-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ $1.5
  • €১ ≈ $1.6
  • ইউকে£১ ≈ $1.9
  • CA$1 ≈ $1.1
  • NZ$1 ≈ $0.9
  • জাপানি ¥100 ≈ $0.9

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

গোল্ড কয়েন

না, এগুলো আসল স্বর্ণমুদ্রা নয়। $১ বা $২ অস্ট্রেলীয় কয়েনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘‘গোল্ড কয়েন’’ বলা হয়। অলাভজনক জাদুঘর ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘‘গোল্ড কয়েন ডোনেশন’’ চায়—মানে একটি $১ বা $২ কয়েন, অথবা তার চেয়েও বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হলো ডলার। প্রতীক ‘‘$’’ বা ‘‘A$’’ (আইএসও কোড: AUD)। এটি ১০০ সেন্ট (c)-এ বিভক্ত। এই গাইডে ‘‘$’’ চিহ্ন মানে অস্ট্রেলীয় ডলার, যদি ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে।

মুদ্রা রয়েছে ৫¢, ১০¢, ২০¢, ১২-পাশের ৫০¢, $১ এবং ছোট্ট $২। নোট রয়েছে $৫ (বেগুনি), $১০ (নীল), $২০ (লাল), $৫০ (হলুদ) ও $১০০ (সবুজ)। $১০০ নোট বিরল এবং অনেক দোকানে ব্যবহার করা কঠিন। আধুনিক অস্ট্রেলীয় নোট কাগজে নয়, প্লাস্টিক পলিমারে মুদ্রিত। পুরোনো কাগজের নোট (অত্যন্ত বিরল) অনেক ব্যবসায়ী গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে অধিকাংশ ব্যাংকে এগুলো নতুন নোটের সঙ্গে বিনামূল্যে বদলানো যায়। নগদে লেনদেনে ৫ সেন্টের গুণিতক না হলে মুদ্রার অঙ্ক নিকটবর্তী ৫ সেন্টে রাউন্ড করা হয়। কার্ডে পরিশোধ করলে আসল অঙ্কই চার্জ হয়।

অস্ট্রেলীয় ডলার অন্য কোনো মুদ্রার সঙ্গে বাঁধা নয় এবং এটি বিশ্ব বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বহুল লেনদেন হয়। এর বিনিময় হার প্রায়ই ওঠানামা করে, প্রতিদিন ১–২% পরিবর্তন স্বাভাবিক ব্যাপার।

মুদ্রা বিনিময়

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলীয় ডলার নোট একটি মানিব্যাগে

অস্ট্রেলীয় ডলার একটি প্রধান বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়, তাই সারা বিশ্বের মানি চেঞ্জার ও ব্যাংকে সহজলভ্য।

অস্ট্রেলিয়ায় মানি চেঞ্জাররা মুক্ত বাজারে কাজ করে। তারা নির্দিষ্ট কমিশন, শতাংশ ফি, লুকানো বিনিময় হার ফি বা সবকিছুর সমন্বয় চার্জ করতে পারে। ভালো রেট পাওয়ার জন্য বড় ব্যাংক ব্যবহার করুন এবং বিমানবন্দর বা পর্যটনকেন্দ্র এড়িয়ে চলুন। তবে সেরা ও সবচেয়ে খারাপ রেট ছোট ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসতে পারে। তাই তুলনা করে পরিবর্তন করুন। মুদ্রা বদলানোর আগে অবশ্যই রেট জেনে নিন। সাধারণত পরিচয়পত্র (যেমন পাসপোর্ট) লাগবে।

বড় শহরে মুদ্রা বিনিময় আউটলেট প্রচুর আছে এবং ব্যাংকও বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় করে। বিমানবন্দরের আউটলেটগুলো সাধারণত সবচেয়ে খারাপ রেট দেয়-প্রায় ১০% ক্ষতি হতে পারে। ব্যাংক সাধারণত ২.৫% পার্থক্য নেয়, সঙ্গে $৫–৮ কমিশন। ‘‘কমিশন ফ্রি’’ অফারগুলোতেও রেট খারাপ হয়। সব ব্যাংকের রেট একই হবে ধরে নেবেন না। সিডনি বিমানবন্দরে ট্যুরিস্ট ব্রোশিওরে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কমিশন-ফ্রি ভাউচারও পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিএরিয়াস, মায়েস্ট্রো, মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড দিয়ে অস্ট্রেলীয় মুদ্রা তোলার এটিএম থাকে।

ব্যাংকিং

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ, যদি আপনার স্থানীয় ঠিকানা থাকে। পরিচয় প্রমাণ (যেমন পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম খুচরা ব্যাংক হলো-ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (NAB), অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ), কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং ওয়েস্টপ্যাক

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই এটিএম আছে। এগুলো বেসরকারীকরণ করা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে। সাধারণত প্রায় $২। এটিএম স্ক্রিনে ফি দেখাবে এবং আপনি লেনদেন বন্ধ করতে পারবেন। আপনার ব্যাংকও বিদেশে মুদ্রা তোলার জন্য আলাদা ফি নিতে পারে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল মুদ্রার মান

অস্ট্রেলীয় ডলার বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল মুদ্রাগুলোর একটি। এর দাম লোহার আকরিক ও কয়লার মতো পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ওঠানামা করে। গত ১০ বছরে ‘‘অজি’’ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৫০ সেন্ট থেকে $১.৫০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তাই ভ্রমণের খরচ কখনও যুক্তিসঙ্গত, কখনও ভীষণ ব্যয়বহুল হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। রাজধানী শহরে ডরম শেয়ার করলে প্রতি রাতে প্রায় $৫০, কেয়ার্নসের মতো জায়গায় $৩০ হতে পারে। রাজধানীর শহরতলিতে বা গ্রামে একটি সাধারণ মোটেল ডাবল রুম প্রায় $১০০ থেকে শুরু। রাজধানী শহরের সিটি সেন্টারে হোটেল ডাবল রুম প্রায় $২০০ থেকে শুরু।

গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় $৬৫। গণপরিবহনের ডে-পাস শহরভেদে $৯–২০।

ক্যাফেতে একবেলা খাবার প্রায় $১৫–২০। রেস্তোরাঁয় প্রধান খাবার $২৫ থেকে শুরু।

সাধারণ টেকঅ্যাওয়ে খাবার-বার্গার, স্যান্ডউইচ বা কয়েক স্লাইস পিৎজা প্রায় $১০। একটি বিগ ম্যাক $৭.৯০। পাই বা সসেজ রোল $৫ থেকে।

লো-এন্ড পাব-এ হাউস বিয়ারের ছোট গ্লাস (২৮৫ মিলি) প্রায় $৮ এবং ওয়াইনের গ্লাস $১০। টেকঅ্যাওয়ে হিসেবে ২৪ ক্যান বিয়ারের কেস অন্তত $৪৫, এক বোতল ওয়াইন $১০ থেকে।

পূর্বাঞ্চলীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া সাধারণত একপথে $১৫০, তবে সময়মতো বুকিং করলে $৬০ পর্যন্ত কমতে পারে। দেশ পেরোতে প্রায় $৩৫০ লাগে। স্টেট-রান ট্রেনে কিছুটা সস্তা, বাসে আরও কম। তবে বেসরকারি লাক্সারি ট্রেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

সমুদ্রসৈকত বা শহরের পার্কে প্রবেশ সাধারণত ফ্রি। কিছু জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে প্রতিদিন $৬–২০ চার্জ হয়। দূরবর্তী পার্কগুলো ফ্রি। জাদুঘরে সাধারণত $১০, থিম পার্কে প্রায় $৭০।

অস্ট্রেলিয়ায় ১০% ‘‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST)’’ রয়েছে, যা অপরিশোধিত খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাদে সব পণ্যে প্রযোজ্য। ভোক্তার জন্য প্রদর্শিত দামের মধ্যেই জিএসটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। রসিদে আলাদা করে উল্লেখ থাকে। ট্যুরিস্ট রিফান্ড স্কিমের মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা জিএসটি ফেরত পেতে পারেন।

ক্রেডিট কার্ড

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। মাস্টারকার্ডভিসা সবচেয়ে প্রচলিত। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবও বড় দোকানে ও সুপারমার্কেটে নেওয়া হয়। সার্কাস বা মায়েস্ট্রো লোগোযুক্ত কার্ডও কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ান ডেবিট কার্ড ‘‘ইএফটপস’’ সিস্টেমে চলে। ইউনিয়নপে, আলিপে ও উইচ্যাট পে ক্রমশ প্রচলিত হচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য নয়।

কনট্যাক্টলেস কার্ড, অ্যাপল পে, গুগল পে, স্যামসাং পে প্রচলিত। $১০০-এর বেশি হলে পিন প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রেডিট কার্ডে পিন থাকে। বিদেশি কার্ডে পিন না থাকলে সাইন করা যায়, তবে দোকানিরা অনেক সময় জানেন না। তাই সম্ভব হলে পিন রাখুন।

কার রেন্টাল, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন, কিছু ডিসকাউন্ট রিটেইলার ও সার্ভিস স্টেশনে ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ নেওয়া হয়। ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁতেও বাড়ছে। আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ডিনার্স ক্লাবে বেশি (২–৪%), ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সাধারণত ১.৫%।

দরকষাকষি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ দোকানে দরকষাকষি প্রচলিত নয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানের রেট দেখালে অনেক সময় ছাড় দেয়। দামি পণ্য বা একাধিক জিনিস কিনলে ছাড় চাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, জুয়েলারিতে ১০% ছাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অকারণে দরদাম করলে তা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয় এবং ব্যর্থ হবে।

বকশিশ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় বকশিশ প্রচলিত নয়, তবে চাইলে দিতে পারেন।

রেস্তোরাঁর দামে সার্ভিস ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। চমৎকার সার্ভিস পেলে সামান্য বকশিশ দিতে পারেন। কিছু রেস্তোরাঁ কার্ড পেমেন্টে টিপস যোগ করার সুযোগ দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। কিছু জায়গায় ‘‘টিপস’’ লেখা বাটি থাকে, তবে অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান কোনো টিপস দেন না। বারটেন্ডারদের সাধারণত টিপস দেওয়া হয় না।

হোটেল কর্মী, পোর্টার, ট্যুর গাইড, ফুড ডেলিভারি বা হেয়ারড্রেসার-কেউই বকশিশ আশা করেন না। ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও না, তবে অনেক সময় যাত্রীরা ভাড়া পরের ডলারে রাউন্ড করে দেন।

ক্যাসিনোতে গেমিং কর্মীদের টিপস দেওয়া নিষিদ্ধ-এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে টিপস দেওয়া অপরাধ গণ্য হয়।

বাণিজ্যিক সময়

[সম্পাদনা]
দ্য স্ট্র্যান্ড আর্কেড, সিডনি

অস্ট্রেলিয়ার মৌলিক ব্যবসায়িক সময় সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা। এক রাত দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে-বেশিরভাগ শহরে শুক্রবারে রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্রিসবেন, মেলবোর্ন ও সিডনিতে বৃহস্পতিবারে। রবিবার ট্রেডিং বড় শহরে প্রচলিত, তবে গ্রামীণ এলাকায় নয়।

বড় সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত সপ্তাহের দিনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে (কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত)। ৭/১১-এর মতো কনভেনিয়েন্স স্টোর বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা।

ফাস্ট ফুড চেইনগুলোও ২৪ ঘণ্টা বা গভীর রাত পর্যন্ত খোলা। শহরের ফুড কোর্টগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট বেশি সময় খোলা থাকে।

সার্ভিস স্টেশন বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা খোলা, তবে গ্রামীণ এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর ও রবিবার বন্ধ থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার সপ্তাহান্ত শনিবার ও রবিবার। বড় শহরে সপ্তাহান্তে দোকান প্রায় সর্বত্র খোলা থাকে, তবে সময় কিছুটা কম। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ব্যতিক্রম, যেখানে রবিবার বড় দোকান খোলার ওপর সীমাবদ্ধতা আছে। ছোট শহরে রবিবার ও শনিবার বিকেলের পর দোকান বন্ধ থাকে। পর্যটক-নির্ভর শহরে সপ্তাহান্তে খোলা থাকে, তবে সোমবার-মঙ্গলবার দোকান বন্ধ থাকে।

পর্যটক এলাকায় দোকান অনেক সময় দেরি পর্যন্ত খোলা থাকে। যেমন ডার্লিং হারবার-এ প্রতিরাতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক সোমবার–শুক্রবার সকাল ৯টা–বিকাল ৪টা খোলা থাকে, শুক্রবারে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে এটিএম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এবং মুদ্রা বিনিময় আউটলেটের সময় আরও দীর্ঘ।

খাওয়া

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলীয় খাবার

অস্ট্রেলীয় খাবার মূলত ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশ ও আইরিশ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রভাবে গড়ে উঠেছিল। তবে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অভিবাসনের ইতিহাস থাকায় অস্ট্রেলীয় খাবারে এসব সংস্কৃতির প্রভাব এখন ব্রিটিশ ও আইরিশ প্রভাবের তুলনায় আরও স্পষ্ট। বিপুল সংখ্যক এশীয় অভিবাসীর আগমনও অস্ট্রেলীয় খাবারে নিজের ছাপ রেখেছে; অনেক অস্ট্রেলীয় শেফ পশ্চিমা খাবারের সঙ্গে এশীয় স্বাদ মিশিয়ে পরিবেশন করেন।

বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজেদের স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। তবে এরা অনেক অদ্ভুত উপাদান ব্যবহার করায় এগুলো মূলধারার অস্ট্রেলীয় খাবারের অংশ হয়নি। তবু ফাইন ডাইনিং-এ ক্রমশ আরও বেশি অস্ট্রেলীয় সেলিব্রিটি শেফ তাদের খাবারে স্থানীয় স্বাদ ব্যবহার করছেন।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ায় টেবিল ম্যানার ইউরোপীয় নিয়ম অনুসারে হয়।

কোথায় খাবেন

[সম্পাদনা]
বিওয়াইও - নিজের পানীয় আনুন

BYO-এর মানে হলো Bring Your Own (নিজের অ্যালকোহল আনা)। অস্ট্রেলিয়ার বহু শহুরে এলাকায় ছোট, সস্তা রেস্তোরাঁ আছে, যেগুলো মদের লাইসেন্স পায়নি, তবে ক্রেতাদের বাইরে থেকে আনা ওয়াইন খাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি সাধারণত রেস্তোরাঁ থেকে ওয়াইন কেনার চেয়ে অনেক সস্তা। কিছু BYO রেস্তোরাঁ বিয়ারও অনুমতি দেয়, তবে বেশিরভাগই শুধু ওয়াইন। কর্কেজ ফি দিতে হয়—যা ২ থেকে ১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে, কখনও মাথাপিছু হিসাবেও হয়। যে রেস্তোরাঁগুলো মদ বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানে সাধারণত BYO অনুমোদিত নয়।

বার্গার কিং কোথায় গেল?

ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অবাক হন দেখে যে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বার্গার কিং নেই। এখানে বার্গার কিং-এর নাম হলো "হাঙ্গরি জ্যাকস"। কারণ অ্যাডিলেডে ইতিমধ্যেই "বার্গার কিং" নামে একটি ছোট দোকান ছিল, তাই ট্রেডমার্ক সমস্যার কারণে নতুন নাম নিতে হয়েছিল।

২০০১ সালে "হাঙ্গরি জ্যাকস" বার্গার কিং নাম ব্যবহারের অধিকার পেলেও, পুরোনো নামটি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ায় তারা "হাঙ্গরি জ্যাকস"-ই রেখে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার শহর ও নগরগুলোতে বাইরে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। ভালো আন্তর্জাতিক খাবারের রেস্তোরাঁ ছাড়াও আছে-

  • পাব-এখানে সাধারণত লাঞ্চ ও ডিনারে পরিবেশন করা হয় মজবুত অজি খাবার যেমন স্টেক, বার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, চিকেন পার্মিজানা। খাবার সাধারণত প্রধান কাউন্টার থেকে আলাদা কোনো বিস্ত্রো বা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়।
  • ক্লাব-যেমন বোলিং ক্লাব, লীগস ক্লাব, আরএসএল (RSL) ক্লাব, শহর ও নগরে প্রচুর দেখা যায়। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশি প্রচলিত। অধিকাংশই ভিজিটরদের অনুমতি দেয় এবং প্রায়ই সুলভ দামে খাবার মেলে। সাধারণত দ্রুত, বিনামূল্যের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থাকে।
  • ক্যাফে-প্রায় প্রতিটি শহর ও উপশহরে ক্যাফে বা কফিশপ থাকে। এগুলোতে সকালের নাস্তা, হালকা খাবার ও কেক পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগই বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
  • বেকারি-রুটি, পাই বা সসেজ রোল কেনার জন্য ভালো জায়গা।
  • ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ-ম্যাকডোনাল্ড’স (বা ম্যাকাস), সাবওয়ে, কেএফসি প্রচলিত। বার্গার কিংয়ের পরিবর্তে আছে হাঙ্গরি জ্যাকস। রেড রুস্টার অস্ট্রেলীয় চেইন, যারা বারবিকিউ চিকেন পরিবেশন করে। ওপোর্টো হলো ন্যান্ডোস-এর অস্ট্রেলীয় সংস্করণ।
  • টেকঅ্যাওয়ে-মিল্ক বার, সুশি স্টোর ও অন্যান্য দোকানে সুশি, পাই, রোস্ট চিকেন, হ্যামবার্গার, ফিশ অ্যান্ড চিপস, গাইরোস ও কাবাব মেলে।
  • ফুড কোর্ট-বেশিরভাগ শপিং সেন্টারে ফুড কোর্ট থাকে, এমনকি ছোট শহরগুলোতেও।
  • পিকনিক-অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া সাধারণত এমন যে খাবার নিয়ে নিকটবর্তী পার্ক, নদী, লেক বা সৈকতে বসে খাওয়া যায়।
  • বারবিকিউ-অস্ট্রেলিয়ানদের প্রিয় শখ। অনেক পার্কেই বিনামূল্যে বারবিকিউর ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই “শ্রিম্প অন দ্য বারবি” খায়-আসলে এখানে শ্রিম্পকে প্রন বলা হয়। স্টেক, চপ, সসেজ, চিকেন ফিলে, মাছ ও কাবাব সাধারণত বারবিকিউ করা হয়।
  • ওয়াইনারি-অনেক ওয়াইনারির নিজস্ব রেস্তোরাঁ থাকে, যেখানে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান খাবার পরিবেশন করা হয়, আর সঙ্গে থাকে তাদের নিজস্ব ওয়াইন। সাধারণত শুধু লাঞ্চে খোলা থাকে, তবে কিছু উচ্চমানের জায়গায় মাল্টিকোর্স ডেগাস্টেশন ডিনারও হয়।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার উডল্যান্ডসের জ্যাকঅ্যাডার লেকে আউটডোর বারবিকিউ। অস্ট্রেলিয়ার বহু পার্কেই একই ধরনের সুবিধা আছে।
মেলবোর্ন সিবিডির সেন্টার প্লেসে সারি সারি ক্যাফে

স্থানীয় খাবার

[সম্পাদনা]
সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় ক্যাঙ্গারু ফিলে
আরও দেখুন: অস্ট্রেলীয় খাবার#আদিবাসী খাবার (বুশ টাকার)

দুঃখজনক হলেও সত্যি, অস্ট্রেলীয় রেস্তোরাঁয় স্থানীয় খাবার খুব বেশি পাওয়া যায় না। এগুলো সুপারমার্কেট বা দেশের দূরবর্তী এলাকায় কিছুটা মেলে। ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাদ্যতালিকায় বিপন্ন প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সীমিত এবং আপনার জন্য অপ্রাপ্য।

  • ক্যাঙ্গারু-অনেক সুপারমার্কেট ও কসাইখানায় পাওয়া যায়। মিডিয়াম-রে পর্যন্ত বারবিকিউ করা ভালো, নইলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর স্বাদ গরুর মাংসের মতো, মাঝে মাঝে পর্যটন এলাকার রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ক্যাঙ্গারু আছে, এরা পরিবেশের ক্ষতি কম করে এবং কম কার্বন নিঃসরণ করে।
  • কুমির-নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাংস শীর্ষ প্রান্তে সহজেই পাওয়া যায়। হোয়াইট মিট, যার স্বাদ মুরগির মতো।
  • ইমু-কম ফ্যাটযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ কসাইখানায় পাওয়া যায়। মালেনি-তে পাই হিসেবে বা দ্য রক্স-এ পিজ্জায় চেষ্টা করতে পারেন।
  • পসাম-মূলত তাসমানিয়ায় খাওয়া হয়, বিশেষ করে ব্রুনি আইল্যান্ডে।
  • বুশ মুদ্রার-অনেক ট্যুরে আপনাকে বেরি, বাদাম, মূল, পিঁপড়ে ও গ্রাবসের মতো খাবার চেখে দেখার সুযোগ দেয়। ম্যাকাডেমিয়া বাদাম একমাত্র অস্ট্রেলীয় উদ্ভিদ যা বাণিজ্যিকভাবে খাবারের জন্য চাষ হয়। কিছু স্বাদ অর্জিত রুচি হলেও স্থানীয় মসলা অবশ্যই চেষ্টা করার মতো এবং এখন ক্রমশ ফাইন ডাইনিং-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কৃষক বাজার ও উন্মুক্ত উৎসবে বুশ মুদ্রার আইসক্রিমও কখনও কখনও মেলে।

খাবারের বাইরেও

[সম্পাদনা]
ক্রিম ও রাস্পবেরি দিয়ে সাজানো পাভলোভা

অস্ট্রেলিয়ায় এমন অনেক ব্রিটিশ-প্রভাবিত খাবার আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত নয়, তবে অবশ্যই চেখে দেখার মতো।

  • ভেজিমাইট-এক ধরনের নোনতা ইস্ট-ভিত্তিক স্প্রেড। টোস্টে পাতলা করে মাখানো সবচেয়ে ভালো। কিনতে না চাইলে যেকোনো কফিশপে সকালের নাস্তায় পাবেন। পাতলা করে মাখানোই রহস্য-মাখন ভুলবেন না। যুক্তরাজ্যের মার্মাইট বা সুইজারল্যান্ডের সেনোভিসের মতো স্বাদ।
  • টিম-ট্যাম-চকলেট বিস্কুট স্যান্ডউইচ, ভেতরে ফাজ-ফিলিং। টিম-ট্যাম স্লাম অবশ্যই চেষ্টা করার মতো-দুই প্রান্ত কামড় দিয়ে কাপে চা বা কফি দিয়ে স্ট্র হিসেবে ব্যবহার করুন।
  • ল্যামিংটন-চকলেট আইসিং-এ ডোবানো ও নারকেলের গুড়ায় গড়ানো স্পঞ্জ কেক। কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর লর্ড ল্যামিংটনের নামে নামকরণ।
  • পাভলোভা-মেরিঙ্গ কেক, উপরে ক্রিম ও টাটকা ফল দিয়ে সাজানো। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বারবিকিউ-র শেষে পরিবেশন হয়। নিউজিল্যান্ড-এর সঙ্গে প্রায়ই এই রেসিপির উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক হয়।
  • এনজ্যাক বিস্কুট-নারকেল, ওটস, আটা, চিনি ও গোল্ডেন সিরাপের মিশ্রণে তৈরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের পাঠানো হতো বলে কথিত।
  • ড্যাম্পার-ড্রোভার ও স্টকম্যানদের প্রচলিত সোডা ব্রেড। ময়দা, পানি আর লবণ দিয়ে তৈরি। সাধারণত আগুনের ছাইয়ে রান্না হতো।
  • চিকো রোল-ডিপ-ফ্রাই করা স্ন্যাক, নামের সত্ত্বেও চিকেন থাকে না। এতে থাকে মাটন, সবজি, চাল, বার্লি ও মসলা। মোটা খোলস ফুটবল ম্যাচে খাওয়ার উপযোগী করে বানানো।
  • অস্ট্রেলিয়ান মিট পাই-অনেকের কাছে জাতীয় খাবার। এর একটি ভিন্নতা হলো পাই ফ্লোটার, যেখানে পাই রাখা হয় ঘন মটরশুঁটির স্যুপে।


অন্যান্য রান্না

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় নিম্নোক্ত কুইজিন ব্যাপক (প্রায়শই সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতির মানুষের হাতেই)-

  • ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার-ফিশ-অ্যান্ড-চিপস সর্বত্র; ফ্লেক (ছোট হাঙর), ফ্ল্যাটহেড, বারামুন্ডি, কিং জর্জ হুইটিং জনপ্রিয়-ইউকে-র ভিন্ন, এখানে কেচাপ/টার্টার সস প্রচলিত। ব্রিটিশ/আইরিশ-স্টাইল পাবও সাধারণ-তবে মেনুতে থাকে চিকেন পারমা/স্নিটজেল/পাস্তা।
  • চাইনিজ-পুরোনো প্রজন্মের কাছে ‘‘টেকঅ্যাওয়ে’’-এর সমার্থক-আজও অজি-স্টাইল চাইনিজ প্রচুর; বড় শহরে ‘‘চায়নাটাউন’’ বা চীনা-অধ্যুষিত উপশহরে দারুণ অথেন্টিক অপশন; ক্যান্টনিজ ডিম সাম মলে নিবেদিত রেস্টুরেন্টে।
  • থাই-প্রায় সর্বত্র; বিশেষ করে সিডনি থাই খাবারের জন্য বিশ্বসেরা গন্তব্যগুলোর একটি।
  • ইতালিয়ান-অস্ট্রেলিয়ার বড় অভিবাসী সম্প্রদায়-ক্যাফে কালচারের জনক-লাইগন স্ট্রিট (মেলবোর্ন), লাইকার্ট (সিডনি)। অজি-স্বাদের ইটালিয়ান থেকে শুরু করে হাই-এন্ড রিজিওনাল-সবই আছে।
  • গ্রিক-ইতালিয়ানের মতো বিস্তৃত না হলেও সব শহর/টাউনে ভালো অপশন আছে।
  • লেবানিজ/মধ্যপ্রাচ্য-বিশেষ করে সিডনিতে। মানুশ-হালকা, স্বাস্থ্যকর পিৎজা-জাতীয়। **ফিউশন ডিশ** ‘‘হালাল স্ন্যাক প্যাক’’ (এইচএসপি)-দোনার কাবাব মাংস + চিপস + নানা সস/চিজ-স্টাইরোফোম বক্সে-জাতীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাডিলেডে ‘‘এবি’’ পূর্বাঞ্চলের এইচএসপি-র মতো-তবে সবসময় হালাল নাও হয়।
  • ইন্ডিয়ান-বেশিরভাগ শহরে ভালো মিড-রেঞ্জ অপশন।
  • জাপানি-বেন্টো/উডন/সুশি ট্রেন-অনেক সময় কোরিয়ানদের পরিচালনায়; কোরিয়ান রেস্টুরেন্টও (বিশেষত সিডনি/মেলবোর্ন) প্রচুর।
  • ভিয়েতনামিজ-ফো/চা জিও সহজলভ্য।
  • জার্মান-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া/কুইন্সল্যান্ডে জার্মান বসতির ইতিহাস পুরোনো-শহর ও ঐতিহাসিক টাউনে জার্মান রেস্টুরেন্ট-স্নিটজেল (অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত চিকেন/বিফ), বিভিন্ন সসেজ বুচারিতে সহজলভ্য।
  • এশিয়ান ফিউশন-নতুন ধারার বিভিন্ন এশীয়-অনুপ্রাণিত ডিশ।

আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান

[সম্পাদনা]

আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান হলো সাম্প্রতিক রান্নাশৈলী, যা ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁয় দেখা যায়। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শৈলী মিশিয়ে তৈরি, সঙ্গে ঝোপঝাড় থেকে সংগৃহীত স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়।

শাকাহারি খাবার

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় শাকাহারি খাদ্য সহজলভ্য এবং অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে অন্তত একটি বা দুটি শাকাহারি পদ থাকে। অনেক রেস্টুরেন্টে আবার একটি পুরো শাকাহারি মেনু বিভাগও থাকে। নিরামিষভোজীরা কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তবে বড় শাকাহারি মেনু যেসব রেস্টুরেন্টে থাকে, সেখানে কিছু নমনীয়তা আশা করা যায়। বড় শহরগুলোতে এবং পূর্ব উপকূলের ব্যাকপ্যাকার-বান্ধব উপকূলীয় শহরগুলোতে শাকাহারি ও নিরামিষভোজী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। কুরান্ডা শহর বা বায়রন বে উপকূলীয় শহর শাকাহারিদের জন্য একপ্রকার স্বর্গরাজ্য। তবে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে নর্দান টেরিটরি, উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর কুইন্সল্যান্ডে শাকাহারিদের জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেই, তবে অধিকাংশ শহরেই একটি না একটি চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট থাকে যারা সেদ্ধ ভাত ও সবজি পরিবেশন করে। বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে নিরামিষভোজীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে একেবারে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট, নিরামিষ পোশাকের দোকান ও নিরামিষ সুপারমার্কেট রয়েছে।

মেলবোর্নে 'স্ম্যাশড অ্যাভো'

দ্রুত পাওয়া যায় এমন কিছু শাকাহারি বিকল্প:

  • ‘স্ম্যাশড অ্যাভো’ হল অ্যাভোকাডো ও ফেটা চিজের মিশ্রণ, টোস্টের উপর পরিবেশন করা হয় এবং সাথে ডিম থাকে। এটি জনপ্রিয় প্রাতঃরাশের একটি আইটেম, এবং (অন্যায়ভাবে) বিলাসী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
  • সুসি দোকানগুলোতে সর্বত্রই সুসি রোল ও টফু পকেট পাওয়া যায়।
  • ভিয়েতনামি স্প্রিং রোলের (বান মি) শাকাহারি সংস্করণও সহজলভ্য।
  • কোরিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে মাংসবিহীন ভাতের বাটি (যেমন: বিবিমবাপ) পাওয়া যায়।
  • পাই দোকানগুলোতে পালং শাক ও রিকোটা চিজ ভরা রোল থাকে।
  • অধিকাংশ ফুড কোর্টে একটি নির্দিষ্ট সালাদ কাউন্টার থাকে।

দূরবর্তী আউটব্যাক এলাকাগুলোতে শাকাহারি বিকল্প খুবই সীমিত (প্রচুর প্রক্রিয়াজাত মাংসের পাই, আর কিছুই নয়), তাই আগেই কিছু শাকাহারি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস

[সম্পাদনা]

যারা কোশের বা হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা রাজধানী শহরগুলোতে সহজেই বিশেষায়িত কসাই দোকান এবং উপযুক্ত মেনু ও রান্নার ধাঁচবিশিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন। তবে রাজধানীর বাইরে কঠোর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। পশ্চিম সিডনি ও মেলবোর্নের মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ফাস্ট ফুড চেইনগুলো প্রায়ই হালাল অনুমোদিত খাবার সরবরাহ করে।

অ্যালার্জি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত বাদাম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো সাধারণ অ্যালার্জির বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিকল্প পরিবেশন করে। সন্দেহ থাকলে ওয়েটারদের জিজ্ঞেস করুন।

গ্লুটেন-মুক্ত খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপারমার্কেট, বেকারি ও রেস্টুরেন্টে গ্লুটেন-মুক্ত পণ্যগুলোর কোনো অভাব নেই, যদিও এসব পণ্যের দাম সাধারণ পণ্যের তুলনায় প্রায়ই বেশি।

বাজার

[সম্পাদনা]
সিডনি ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক খাবার

মেলবোর্নের কুইন ভিক্টোরিয়া মার্কেট, অ্যাডেলেইডের সেন্ট্রাল মার্কেট এবং পার্থের কাছে ফ্রিম্যান্টল মার্কেট হলো অস্ট্রেলিয়ার ইউরোপীয় ধাঁচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। সিডনি ফিশ মার্কেট পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত সামুদ্রিক খাবারের বাজার।

অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহর এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক শহরে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট স্থানে একদিন (সাধারণত শনিবার বা রবিবার) ‘ফার্মার’স মার্কেট’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাজারে প্রধানত টাটকা ফল ও সবজি বিক্রি হয়, কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাজার স্টল থেকে সরাসরি মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু কসাই তাদের পণ্যের প্রদর্শনশালাসহ গাড়ির বুট থেকে বিক্রি করেন। এসব বাজারের মূল আকর্ষণ হলো কম দামে টাটকা ফলমূল পাওয়া। পর্যটকদের জন্য এটি অর্থসাশ্রয়ী ও সুস্বাদু ফল কেনার ভালো সুযোগ-এটা নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং মৌসুম কোনটা। যেমন কুইন্সল্যান্ড বা নর্দান টেরিটরিতে গেলে আম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর তাসমানিয়ায় গেলে আপেল বেশি পাবেন। আঞ্চলিক এলাকায় বাজার সাধারণত শহরের বাইরের কোনো মাঠে বা খেলার মাঠে বসে, আর রাজধানী শহরগুলোর বাজার শহরের মাঝেই হওয়ায় যাতায়াত সহজ হলেও দাম তুলনামূলক বেশি হয়। বিস্তারিত জানার জন্য গন্তব্য সম্পর্কিত গাইডগুলো দেখুন।

পানীয়

[সম্পাদনা]

বিয়ার

[সম্পাদনা]

বিয়ার অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যদিও বিদেশে ফোস্টারসকে অস্ট্রেলীয় বিয়ার হিসেবে প্রচার করা হয়, এটি বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ানরা খুব কমই পান করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিয়ার নিয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাত অত্যন্ত প্রবল এবং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বিয়ার রয়েছে: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কুপার্স ও ওয়েস্ট এন্ড, ভিক্টোরিয়ায় কার্লটন ও ভিবি (VB), নিউ সাউথ ওয়েলসে টুহিস, কুইন্সল্যান্ডে XXXX (উচ্চারণ “ফোর-এক্স”), তাসমানিয়ায় বোয়াগস ও ক্যাসকেড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সোয়ান। মাইক্রোব্রুয়ারিগুলিও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যেকোনো ভালো পাবে সাধারণত ছয়টি বিয়ার ট্যাপে থাকে: সামান্য মিষ্টি প্যাসিফিক এলে ও তুলনামূলক হপযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান প্যালে এলে খুঁজে দেখুন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন আমদানিকৃত বোতলজাত বিয়ারও সাধারণত সকল পাবেই পাওয়া যায়, শুধুমাত্র একেবারে সাধারণ পাবগুলো বাদে।

ব্রিসবেনের XXXX ব্রুয়ারি

"লাইট (লাইট)" বিয়ার বলতে কম অ্যালকোহলযুক্ত বিয়ার বোঝায়, কম ক্যালোরি নয়। এতে পূর্ণ শক্তির বিয়ারের তুলনায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক এবং এটি কম হারে করযুক্ত হওয়ায় দামে তুলনামূলক সস্তা। কম ক্যালোরিযুক্ত বিয়ারকে “লো কার্ব” নামে বিক্রি করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের বিয়ার ঠান্ডা অবস্থায় পান করতে পছন্দ করে, তাই খসড়া বিয়ার পরিবেশনের গ্লাস বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায় যেন গ্রীষ্মের তাপে উষ্ণ হয়ে ওঠার আগেই গ্লাস শেষ করা যায়। গ্লাসের নামকরণ রাজ্যভেদে এতটাই ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট: প্রায় সব জায়গায় সকুনার (SKOO-নার) ৪২৫ মি.লি., তবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তা ২৮৫ মি.লি., যা অন্যান্য স্থানে মিডি বা পট নামে পরিচিত, তবে ডারউইনে একে বলা হয় হ্যান্ডল, আবার অ্যাডিলেইডে “পট” বলতে বোঝায় ৫৭০ মি.লি. পূর্ণ পাইন্ট, এবং “পাইন্ট” মানে যা অন্যত্র “সকুনার”। প্রতিটি রাজ্যের গাইডে স্থানীয় বিয়ার ও এই বিভ্রান্তিকর পরিভাষার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

বোতলের নামকরণ অপেক্ষাকৃত সহজ: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সাধারণ সাইজ হলো ৩৭৫ মি.লি. স্টাবি এবং ৭৫০ মি.লি. লংনেক বা ট্যালি। ক্যানজাত বিয়ারকে বলা হয় টিনি, আর ২৪ ক্যান নিয়ে গঠিত প্যাকেটকে বলে স্ল্যাব, বক্স, কার্টন, ব্যাগ বা কেস

হান্টার ভ্যালির দ্রাক্ষাক্ষেত্র

অস্ট্রেলিয়া শিল্প পরিসরে উচ্চমানের মদ উৎপাদন করে, যেখানে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলি স্থানীয় বোতল দোকানে সরবরাহ করে ও বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করে। ছোট ছোট বুটিক ওয়াইনারি এবং ক্ষুদ্র সরবরাহকারীরাও প্রচুর রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় খুব ভালো লাল ও সাদা মদ প্রায়ই ১৫ মার্কিন ডলারেরও কম দামে পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে ছোট দোকানেও সাধারণত ৫০টির বেশি ধরনের মদ থাকে।

বারোসা ভ্যালি (অ্যাডিলেইডের কাছে), হান্টার ভ্যালি (সিডনির কাছে), ইয়াররা ভ্যালি (মেলবোর্নের কাছে) এবং মার্গারেট রিভার (পার্থের কাছে) অঞ্চলগুলো বিশেষভাবে মদ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং সেখানে সরাসরি ওয়াইনারিতে গিয়ে চেখে দেখার সুযোগ আছে। এছাড়াও উত্তর ভিক্টোরিয়া, মাজি এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সোয়ান ভ্যালি ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকল্যারেন ভ্যালি, ক্লেয়ার ভ্যালিকুনাওয়াররা অঞ্চলেও বহু ধরনের মদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে আপনি খুব একটা মদ্য-পথ থেকে দূরে থাকবেন না।

যেখানে সম্ভব স্থানীয় মদ চেখে দেখুন এবং স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী বেছে নিন। লেবেল বা দামের ফাঁদে পা না দেওয়াই ভালো-সেরা মদ সাধারণত সবচেয়ে দামী বা আকর্ষণীয় লেবেলযুক্তটি নয়। তবে যদি কোনো রেস্টুরেন্টে মদ সরাসরি একটি কাস্ক (৪ লিটারের কন্টেইনার) থেকে দেয়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াইনারিতে মদ সাধারণত দোকানের তুলনায় ২০% বেশি দামে বিক্রি হয়।

যদি আপনি এখনও বিদেশি মদ পছন্দ করেন, তাহলে মার্লবোরো অঞ্চলের নিউজিল্যান্ডের মদ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার রেস্টুরেন্ট ও বোতল দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।

আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় দ্রাক্ষা চাষ ও চেখে দেখা

স্পিরিট

[সম্পাদনা]

বুন্ডাবার্গ রাম (বান্ডি) হলো একটি অস্ট্রেলীয় ডার্ক রাম, যা বিশেষভাবে কুইন্সল্যান্ডে জনপ্রিয়। কুইন্সল্যান্ডের অনেক মানুষ অন্য কোনো ব্র্যান্ডের রাম ছুঁয়েও দেখেন না। এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত দেশীয় মদ, যা বুন্ডাবার্গে ব্যাপকহারে উৎপাদিত হয় এবং সর্বত্র সহজলভ্য।  

অনেক বছর ধরে অন্য অস্ট্রেলীয় ডিস্টিলড স্পিরিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো, যেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে আসত। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যেই ডিস্টিলারি আছে, এবং নতুন নতুন ডিস্টিলারি দ্রুত গড়ে উঠছে। অ্যাডিলেডের জিন ডিস্টিলারি ৭৫° এবং অ্যাডিলেড জিন কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্মান অর্জন করেছে। তাসমানিয়ার ক্ষুদ্র সুলিভান’স কোভ ডিস্টিলারি ২০১৪ সালে আলোচনায় আসে, যখন তাদের একটি হুইস্কি ‘‘বিশ্বের সেরা সিঙ্গল মল্ট’’ উপাধি লাভ করে। এটি অস্ট্রেলিয়ান হুইস্কি শিল্পে ছোটখাটো উত্থান ঘটায়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তারা একই কৃতিত্ব পুনরায় অর্জন করে। তাদের ২০১৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওক বোতলের দাম যদি ৮,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার আপনার কাছে বেশি মনে হয়, তবে হোবার্টের মনোরম জলপথ এলাকায় অবস্থিত লার্ক ডিস্টিলারিতে ঘুরে আসতে পারেন। সিডনির আর্চি রোজ-এ জিন ব্লেন্ডিং অভিজ্ঞতা বুক করতে পারেন, উলংগং থেকে ১৫১ ইস্ট ভদকা কিনতে পারেন কিংবা কুনুনুরাতে কয়েক দিন থাকার পর নিশ্চিতভাবেই আপনার অর্ড রিভার রামের প্রয়োজন হবে।  

মিক্সড ড্রিঙ্কসও পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভদকা, স্কচ, বোরবন এবং অন্যান্য হুইস্কি মিশ্রণ। স্পিরিটস বোতল ও ক্যানজাত প্রি-মিক্সড আকারেও বিক্রি হয়, তবে সেগুলোর উপর বেশি কর আরোপিত হয়। তাই নিজে মিশিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সস্তা। সব মদ্যপানাগার ও বারে স্পিরিটস পরিবেশন করা হয়, তবে সব রেস্তোরাঁয় নয়। সাধারণ একটি স্পিরিটস মিশ্রণ (যেমন ভদকা ও কমলার রস) একটি বার বা নাইটক্লাবে প্রায় ১২ অস্ট্রেলীয় ডলার খরচ হয়, তবে দাম প্রায় ৯ থেকে ১৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

আইনগত দিক

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র মদপানের বৈধ বয়স হলো ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম হলে নিজের জন্য অ্যালকোহল কেনা বেআইনি, তেমনি কারো হয়ে অ্যালকোহল কেনাও বেআইনি যদি সে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম হয়। একমাত্র বৈধ প্রমাণপত্র হলো অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স, রাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স-প্রমাণপত্র (proof-of-age card), কীপাস কার্ড (Keypass) কার্ড অথবা পাসপোর্ট। তাই অ্যালকোহল বা তামাকজাত দ্রব্য কিনতে চাইলে এবং আপনার চেহারা ২৫ বছরের নিচে মনে হলে অবশ্যই সঙ্গে পরিচয়পত্র বহন করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বিক্রেতারা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চান। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি এবং তাসমানিয়ায় বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদেশি পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল পাসপোর্ট বা বৈধ অস্ট্রেলিয়ান পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। ছবি বা ফটোকপি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১৮ বছরের কম বয়সে কোনো মদ্যপানাগার বা ক্লাবের জুয়া খেলার অংশে প্রবেশ করা বেআইনি। তবে অনেক মদ্যপানাগার বা ক্লাবে আলাদা লাউঞ্জ, রেস্টুরেন্ট বা বিস্ট্রো অংশ থাকে, যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে থাকলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যতক্ষণ তারা বারের কাছে না যায় বা এদিক-সেদিক না ঘোরাফেরা করে। শহরের কিছু পাব-এ ভিডিও গেমস ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠও থাকে। গ্রামীণ এলাকার কিছু পাবের পেছনে খোলা জায়গা থাকে, যেখানে বাচ্চারা দৌড়ঝাঁপ করতে পারে।

সাধারণত আপনি পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতে পারেন (যেমন একটি বোতল ওয়াইন বা বিয়ার)। তবে কিছু জনসমাগমস্থলে যেমন পার্ক বা ফুটপাথে 'স্ট্রিট ড্রিঙ্কিং' নিষিদ্ধ। এসব স্থানে সাধারণত সাইনবোর্ড থাকে। যেখানে প্রকাশ্যে মাতলামির সমস্যা হয়েছে, সেসব জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বেশি। তবে আপনি যদি দুপুরে পরিবার নিয়ে পিকনিকের ঝুড়ি ও চাদর বিছিয়ে বসে ওয়াইনের বোতল খুলেন, তবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অ্যালকোহল শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী স্থানে (যেমন পাব, ক্লাব ও অনেক রেস্টুরেন্ট) বসে পান করার জন্য কেনা যায়। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিনতে হলে বোতলশপ থেকে নিতে হয়। কিছু রাজ্যে সুপারমার্কেটেও অ্যালকোহল বিক্রি হয়। যেখানে বিক্রি হয় না, সেসব রাজ্যে বোতলশপ ও বড় সুপারমার্কেট সাধারণত পাশাপাশি থাকে। যদিও রাজ্যভেদে লাইসেন্স আইন ও সময়সূচী ভিন্ন, তবুও সাধারণত সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বোতলশপ, সুপারমার্কেট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদি দোকান ও মদ্যপানাগার থেকে অ্যালকোহল কেনা যায়। এর বাইরে প্রায় অসম্ভব-সিডনি বা মেলবোর্নের মাঝখানে না হলে। তাই যদি বাড়িতে পার্টির পরিকল্পনা থাকে, আগে থেকে স্থানীয় দোকানের খোলা-বন্ধের সময় দেখে মজুত রাখা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো জ্বালানি স্টেশন বা ২৪ ঘণ্টা খোলা কনভিনিয়েন্স স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না।

প্রকাশ্যে মাতলামি কতটা সহনীয় তা ভিন্ন ভিন্ন। মদ্যপানাগার ও ক্লাবের আশেপাশে রাতে এটা বেশি দেখা যায়, দিনে কম। প্রকাশ্যে মাতলামি আইনত অপরাধ, কিন্তু পুলিশ কেবল বিরক্তিকর আচরণ করলে ব্যবস্থা নেয়। কখনও রাতভর হেফাজতে থাকতে হতে পারে অথবা অভিযোগ গঠন হতে পারে।

অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো অস্ট্রেলিয়ায় কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ এলোমেলোভাবে শ্বাসপরীক্ষা (breath test) করে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে লাইসেন্স বাতিলসহ নানা কিছু। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা অনুমোদিত ০.০৫%। তবে ভারী যানবাহন চালক ও নতুন/কচি চালকদের ক্ষেত্রে সীমা আরও কম বা শূন্য। পুলিশ নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেছে কিনা তা পরীক্ষা করার ক্ষমতাও রাখে। এসব পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানো ফৌজদারি অপরাধ। নিষিদ্ধ মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে। শনিবার ও রবিবার ভোরে এলোমেলো শ্বাসপরীক্ষা বিশেষভাবে সাধারণ, এবং অনেকেই আগের রাতের পান করার কারণে ধরা পড়েন।

একসঙ্গে পানীয় কেনা

[সম্পাদনা]
পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডের দূরবর্তী অঞ্চলে বার্ডসভিল হোটেল

অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন বিশ্বের আরও অনেক জায়গায়, একসঙ্গে বসে মদ্যপানের সময় পালাক্রমে পানীয় কেনা একটি প্রচলিত রীতি। কোনো পাব-এ গেলে এবং প্রথমবার বারে গেলে সাধারণত আশা করা হয় যে আপনি আপনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও পানীয় কিনবেন। পরবর্তীতে দলের অন্য কেউ নতুন করে যোগ দিলে সেও আপনার জন্য এমনটা করবে। এ প্রথাটিকে বলা হয় a shout (শাউট)। এতে একটি অলিখিত নিয়ম হলো, আপনিও পরবর্তী রাউন্ডে পাল্টা পানীয় কিনবেন এবং সন্ধ্যা জুড়ে দলের অন্যদের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পান করবেন।

যদি আপনার রাউন্ডের কারো গ্লাস খালি থাকে এবং তারা আপনার আগেই পানীয় কিনে দিয়ে থাকে, তবে আপনাকেই ঘোষণা করতে হবে যে এবার আপনার শাউট, এবং আপনিই বার-এ যাবেন। কেউ যদি আপনাকে পানীয় কিনে দিতে চায়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে না দেয় যে ইতিমধ্যেই আপনাকে কিনে দিয়েছে, তবে বলা উচিত যে আপনি একটি শাউটে আছেন এবং বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তবে যদি সে আপনাকে এবং আপনার দলের সবাইকে পানীয় কিনে দেয়, তবে সে শাউটে যুক্ত হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় এক শাউট থেকে অন্য শাউটে চলে যাওয়াকে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয় না।

যদি বড় দলে থাকেন এবং আপনি পানীয় নিতে অস্বীকার করেন, তবুও আপনার পালা এলে আপনাকেই পুরো দলের জন্য কিনতে হবে। কোনো রাউন্ড এড়াতে চাইলে, সেটা নিজের শাউটের সময় করুন। সাধারণত একটি রাউন্ডে কিনে দিয়ে পরে নিজে পানীয় না নেওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অনেক সময় আপনাকে না জিজ্ঞেস করেই পানীয় কিনে দেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে আগেই পানীয় পেলে পরে সে বলতে পারে যে এবার আপনার শাউট। কোনো শাউটে যোগ না দিলে অনেক দলে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এড়ানোর সেরা উপায় হলো বলা যে আপনি গাড়ি চালাবেন এবং শুধু নিজের জন্য কিনবেন। এটি এক রাউন্ড শেষে সমতা থাকলে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্য উপায়ও।

অ্যালকোহলবিহীন পানীয়

[সম্পাদনা]

মাইলো (Milo) হলো একটি মাল্ট ও চকলেট পানীয়, যা প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় উদ্ভাবিত হয় এবং বর্তমানে নেস্‌লে (Nestlé) তা তৈরি করে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো সুপারমার্কেটেই এটি পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিশালী কফি সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষত মেলবোর্ন শহরে, যেখানে প্রচুর ইতালীয় অভিবাসী রয়েছে। মজার বিষয় হলো, বলা হয় ইতালির বাসিন্দারা মেলবোর্নে এলে মনে করেন কফি তাদের শহরের তুলনায় খারাপ, তবে ইতালির অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ভালো। এমনকি জ্বালানি স্টেশন ও ফাস্টফুড দোকানেও ভালো মানের কফি পাওয়া যায়। স্থানীয় কফি শপগুলির জনপ্রিয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক চেইন এখানে নেই-যেমন স্টারবাকসের মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে মেলবোর্ন ও সিডনিতে, অন্য কোথাও নয়। তাই চেইন না দেখে অবাক হবেন না, বরং স্থানীয় স্বাদই চেষ্টা করুন।

চা অস্ট্রেলিয়ায় কফির মতো জনপ্রিয় নয়, তবে সহজেই পাওয়া যায়। যেসব জায়গায় কফি বিক্রি হয়, প্রায় সবখানেই চাও বিক্রি হয়। কিছু অভিজাত হোটেলে ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি আফটারনুন টি পরিবেশন করা হয়। আবার ডেভনশায়ার চা অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহান্তের বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন, যেখানে অনেক বেকারিই এটি পরিবেশন করে। কুইন্সল্যান্ড-এ ছোট পরিসরে চা উৎপাদনও হয়।

শিখুন

[সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: বিদেশে পড়াশোনা#অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য, বিশেষত পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভারত থেকে আগতদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজিভাষী পরিবেশ। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কাজের ভিসার সুযোগও নাগরিকত্বের পথে সহায়ক হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে এমন ভিসা ক্লাসে থাকতে হবে যা এ অনুমতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-গবেষকদেরও সাধারণত উপযুক্ত ভিসা নিতে হয়, এমনকি ভ্রমণ ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য এলেও। খুব স্বল্পমেয়াদি বা খণ্ডকালীন কোর্সের জন্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলেট বা দূতাবাসে খোঁজ নেওয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়া বারিস্টা প্রশিক্ষণ নেওয়ারও চমৎকার জায়গা। এখান থেকে সনদপ্রাপ্তরা নিজ দেশে ফিরে কফি শপে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন। এ ধরনের কোর্স সাধারণত পর্যটক ভিসায় করা যায়।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]
নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়্যারাঙ্গোবিলি নদীর তীরে ক্যাম্পিং

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে সহজেই আবাসন পাওয়া যায়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বিষয়ে যেমন ব্যয় বেশি, এখানকার আবাসনের খরচও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কিছুটা বেশি।


হোটেল

[সম্পাদনা]
কখন ‘হোটেল’ হোটেল নয়?

অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে হোটেল বলতে বহু সময়ে যে জিনিসটিকে দুনিয়ার অন্য জায়গায় পাব বলা হয়, সেটাই বোঝায়। গ্রামীণ এলাকার হোটেলগুলোতে (পাব) সাধারণত সাইটেই থাকার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু শহরের বেশিরভাগ হোটেলে তা থাকে না। যেসব গ্রামীণ ‘হোটেল’-এ পাব নেই, সেগুলোকে সাধারণত মোটেল বলা হয়।

সব রাজ্যের রাজধানী শহরগুলোতে বহু ৪ বা ৫-তারকা হোটেল আছে-উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, বার, রুম-সার্ভিস ও অন্যান্য প্রিমিয়াম আতিথেয়তা সেবাসহ। প্রতি রাতের জন্য প্রায় ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ ধরতে পারেন। তবে বড় কোনো কনসার্ট বা ইভেন্টের সময়-যেমন সিডনিতে নিউ ইয়ার্স ইভ-দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বা সব রুম বিক্রি হয়ে যেতে পারে। ২ বা ৩-তারকা হোটেলও ভেতর শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক বড় বড় চেইনগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই উপস্থিত, বিশেষ করে আকোর (Accor) প্রায় সব দামের পরিসরেই দৃঢ় উপস্থিতি রাখে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বাধীন চেইনের মধ্যে আছে রিজেস (Rydges)

বেন্ডিগোর শ্যামরক হোটেল

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পাব-এই কোনো না কোনো ধরনের থাকার ব্যবস্থা থাকে। এগুলো একেবারে সাধারণ মানের অগোছালো কক্ষ থেকে শুরু করে নতুন সংস্কারকৃত বুটিক ধাঁচের থাকার জায়গা পর্যন্ত হতে পারে। ভাড়া দেখে সাধারণত কেমন সুবিধা পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। এমনকি উন্নত পাবগুলোতেও ব্যক্তিগত বাথরুম থাকা এখনও বিরল। কক্ষগুলো সাধারণত দ্বিতীয় তলায়, সরাসরি বারের উপরে থাকে, ফলে বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার রাতে অনেক শব্দ হতে পারে।

বড় শহরের বাইরে পাবকে সাধারণত হোটেল বলা হয়। মোটেলে কোনো পাবলিক বার থাকে না। তবে যদি কোনো মোটেলের সঙ্গে বার যুক্ত থাকে তবে সেটিকে হোটেল/মোটেল বলা হয়।

খুব ছোট শহরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় পাব-ই একমাত্র থাকার ব্যবস্থা দেয়। এসব পাবের থাকার জায়গা সাধারণত সাশ্রয়ী ধাঁচের হয়, যেখানে বাথরুম শেয়ার করতে হয়, তবে কক্ষগুলো ব্যক্তিগত হয়।

সিডনির কেন্দ্রস্থলেও পাব-এ থাকার সুযোগ পাওয়া যায়, ফলে বিয়ার খেয়ে সহজেই কক্ষে ফিরে যাওয়া যায়।

আপনি যদি একা ভ্রমণ করেন এবং আলাদা কক্ষ চান, তবে পাবগুলো সাধারণত সিঙ্গেল রুম দেয় যা ডাবল রুমের তুলনায় ছাড়ে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ মোটেল এক বা দুইজন মিলে থাকুক না কেন একই ভাড়া নেয়।

মোটেল

[সম্পাদনা]

সাধারণত মোটেল ধাঁচের থাকার জায়গায় একটি বা একাধিক বিছানা-সমৃদ্ধ আলাদা কক্ষ থাকে, সঙ্গে ব্যক্তিগত শাওয়ার ও টয়লেট। অনেক মোটেলেই ফ্যামিলি রুম থাকে, যেখানে একটি ডাবল বেড ও দুটি সিঙ্গেল বেড একই কক্ষে দেওয়া হয়।

শহরের মোটেলগুলোর কক্ষভাড়া সাধারণত ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু হয়। সাধারণত এক বা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে খরচ একই হয়, তবে অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি ধার্য হয়। শিশুদের জন্য ফি বিনামূল্য থেকে শুরু করে প্রতিজন সর্বোচ্চ ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। শান্ত মৌসুমে মোটেলগুলো প্রায়শই হঠাৎ ছাড় (standby discount) দিয়ে থাকে।

বেশিরভাগ মোটেল সকালে অতিরিক্ত ফির বিনিময়ে রান্না করা বা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট কক্ষে সরবরাহ করে। কিছু মোটেলে রেস্টুরেন্ট থাকে বা রাতের খাবার সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো কক্ষে টোস্টার থাকে এবং কেটলি প্রায় সর্বত্র দেওয়া হয়।

হোস্টেল ও ব্যাকপ্যাকার

[সম্পাদনা]

সাশ্রয়ী হোস্টেল ধাঁচের থাকার জায়গা-এ সাধারণত শেয়ার করা বাথরুম থাকে এবং প্রায়শই ডরমিটরিও থাকে। ভাড়া প্রতিরাতে জনপিছু প্রায় ২০–৩০ ডলার। এসব হোস্টেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সজ্জিত রান্নাঘর থাকে, যেখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ ও খাবার রাখার জায়গা থাকে। বেশিরভাগ হোস্টেলে বসার ঘরের মতো জায়গা থাকে, যেখানে সোফা, খাবার টেবিল ও টেলিভিশন থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল চেইন রয়েছে। একই ব্র্যান্ডের হোস্টেলে বহু রাত থাকলে তাদের ডিসকাউন্ট কার্ড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেগুলো সাধারণত থাকার খরচে লয়্যালটি বোনাস এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ ট্যুরে ছাড় দিয়ে থাকে।


হলিডে পার্ক

[সম্পাদনা]
হলিডে পার্কের মানক কেবিন
যে কোনো সম্মানিত অস্ট্রেলীয় হলিডে পার্কে একটা “জাম্পিং পিলো” (দেয়ালবিহীন বিশাল ট্রামপোলিন/বাউন্সি ক্যাসল) থাকেই

হলিডে পার্ক অস্ট্রেলিয়ান অবকাশ সংস্কৃতির এক বিশাল অংশ-নিজস্ব যান থাকলে থাকার দারুণ উপায়। এগুলো মূলত পুরোনো কারাভ্যান পার্কের আপগ্রেডেড সংস্করণ, তবে নতুন মার্কেটিং অনুযায়ী এখন সাধারণ ভ্রমণকারীদেরও সমানভাবে সেবা দেয়। একটি সাধারণ হলিডে পার্কে থাকে-

  • কেবিন-বিছানা, রান্নাঘর, টিভি, ওয়াই-ফাইসহ সবকিছুসহ, যাদের নিজস্ব ‘চাকা-ওয়ালা ঘর’ নেই তাদের জন্য। বেশিরভাগ কেবিনে ৪ বা ততোধিক জন থাকতে পারেন; ভাড়া সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।
  • পাওয়ার্ড সাইট-কারাভ্যান/ক্যাম্পারভ্যান/মোটরহোম/আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল) পার্কিংয়ের জন্য। কিছু পার্কে এন-স্যুইট সাইটও থাকে-ছোট ব্যক্তিগত বাথরুমে শাওয়ার ও টয়লেটসহ।
  • আনপাওয়ার্ড সাইট-নিজের তাঁবু ফেলতে চাইলে; সাধারণত রাতপ্রতি প্রায় ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে শুরু।

যেখানেই থাকুন না কেন, দাম সাধারণত শেয়ারড সুবিধাগুলোর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে-বারবিকিউ (বিবিকিউ), শাওয়ার, রান্নাঘর, স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও জাম্পিং পিলো। সারা দেশে বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে টপ পার্কস/ডিসকভারি পার্কস এবং বিগ ৪ (BIG4)-তবে স্বাধীন পার্কও নেহাত কম নয়।

তবে হলিডে পার্ক বেছে নেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা-

  • সাধারণত শহরের প্রান্তে থাকে; নিজের গাড়ি না থাকলে খুব সুবিধাজনক নাও লাগতে পারে।
  • অধিকাংশ পার্ক পরিবার-কেন্দ্রিক-আপনার বাচ্চা থাকলে দারুণ, কিন্তু নির্জনতা চাইলে খুব পছন্দ নাও হতে পারে।
  • স্কুলের ছুটিতে রেট অনেক বেড়ে যায়, একাধিক রাতের ন্যূনতম থাকা বাধ্যতামূলক করে এবং ভালো পার্কগুলো আগেভাগেই সোল্ড-আউট হয়ে যায়।
  • বুকিং বদলাতে চাইলে সাধারণত সুবিধা নেই-বেশিরভাগ রিজার্ভেশন নন-রিফান্ডেবল।

ক্যাম্পিং

[সম্পাদনা]

হলিডে পার্ক-এ তো বটেই, ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল পার্কগুলোও প্রায়ই সস্তা বা বিনা খরচে ক্যাম্পসাইট দেয়-ধরা হয় আপনি নিজের দায়িত্বে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সামলাবেন। সাধারণত টয়লেট থাকে, কখনও কখনও ঠাণ্ডা শাওয়ারও থাকে। জনপ্রিয় পার্কগুলোতে পেইড ক্যাম্পিং পারমিট লাগে; গ্রীষ্মের ছুটিতে বিখ্যাত স্পটগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় এমনটা খুবই স্বাভাবিক যে রাজধানীসহ যেকোনো জায়গায় থাকুন, এক ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যেই কোনো ন্যাশনাল পার্ক বা রিক্রিয়েশন এরিয়ায় পৌঁছে এমন জায়গা পাওয়া যায় যেখানে কোনো না কোনোভাবে ক্যাম্পিং করা সম্ভব। ক্যাম্পিং পারমিটের জন্য সাধারণত প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ৫–১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগে এবং জনপ্রিয় ন্যাশনাল পার্কে (যেমন: উইলসন্স প্রমোন্টরি ন্যাশনাল পার্ক, কোসিউস্কো ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি) আলাদা প্রবেশ-ফিও থাকতে পারে। তবে জনবসতি ও পর্যটক-কেন্দ্র থেকে দূরের অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ ও ক্যাম্পিং দুটোই ফ্রি।

অন্যান্য কিছু ক্যাম্পিং এলাকা সরকার বা স্থানীয় জমির মালিকেরা চালান-সাধারণত সময়ভেদে প্রতি জনে প্রতি রাত প্রায় ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধরতে পারেন।

কেউ কেউ সমুদ্রসৈকতে রাত কাটানো বা হাইওয়ে রেস্ট-এলাকায় তাঁবু ফেলেও চেষ্টা করেন। তবে বেশিরভাগ রেস্ট-এলাকা ও সৈকতেই ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ; অনেক জায়গায় রাতভর গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ-এভাবে ‘ফ্রি’ থাকার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে। সাধারণ নিয়ম হলো, আপনি যত বেশি জনবসতি বা পর্যটন এলাকার কাছাকাছি, কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিরক্তির সম্ভাবনাও তত বেশি।

দর্শনীয়তার চেয়ে ক্যাম্পিং-অভিজ্ঞতাই যদি বেশি চান, তাহলে স্টেট ফরেস্ট প্রায়ই ন্যাশনাল পার্কের চেয়ে সুবিধাজনক-এখানে নিজেরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন (কোথাও কোথাও গাছ কাটারও সীমিত অনুমতি থাকে) এবং ক্যাম্পিং নির্দিষ্ট সাইটে সীমাবদ্ধ নাও হতে পারে। স্টেট ফরেস্টে সাধারণত পোষ্য প্রাণী আনা, খোলা আগুন জ্বালানো, মোটরবাইক চালানো ও ফোর-হুইল ড্রাইভিং-এসব কার্যকলাপ চলতে পারে, যেগুলো ন্যাশনাল পার্কে সাধারণত নিষিদ্ধ। স্টেট ফরেস্টে থাকা সাধারণত ফ্রি, তবে কোথায় জনসাধারণের প্রবেশ অনুমোদিত তা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল (আরভি) নিয়ে ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অনেক ক্যাম্পসাইট আরভি ও কারাভ্যান-বান্ধব-যদিও পাওয়ার সাপ্লাই ও মেইনস-ওয়াটার সংযোগ থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। আরভি/কারাভ্যান পার্কিং-স্লটের সংখ্যা সীমিত হতে পারে, তাই আগে থেকেই স্লট রিজার্ভ করা যায় কি-না দেখে নিন।

ফার্ম স্টে

[সম্পাদনা]

নামের মতোই-চলমান খামারে কেবিন বা হোমস্টেড-আবাসন। সাধারণত দুই বা ততোধিক দিনের জন্য উপযোগী। চাইলে খামারের কাজকর্মে সামান্য অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতের খাবার হোমস্টেডে পরিবেশন করা হয় এবং কেবিনে ব্রেকফাস্ট-প্যাক দেওয়া হয়।

হলিডে হোম

[সম্পাদনা]

হলিডে হোম হলো মালিকের ব্যক্তিগত বাড়ি, যা তিনি ভাড়া দেন-স্থানীয় রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট বা বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কখনও চমৎকার লোকেশনে থাকে, কখনও আবার শহর/শহরতলির আবাসিক এলাকায়। ন্যূনতম ভাড়া সাধারণত কমপক্ষে ২ রাত-ব্যস্ত সময়ে তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ন্যূনতম সুবিধা হিসেবে থাকে শোবার ঘর, লাউঞ্জ ও বাথরুম।

নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) হেনটি শহরের হেনটি সেন্ট্রাল হোটেল ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসন দেয়-এ রকম হোটেল বহু গ্রামীণ শহরেই আছে

অস্ট্রেলিয়ায় বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট সাধারণত প্রিমিয়াম ধাঁচের আবাসন-সপ্তাহান্তে যুগলদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের মতো এখানে এটাকে সস্তা আবাস হিসেবে ধরা হয় না; স্থানীয় মোটেলই সাধারণত তুলনায় সস্তা পড়ে।

কখনও বাড়ির অতিরিক্ত রুম, তবে অনেক সময়ই উদ্দেশ্যনির্মিত ভবন। সাধারণত আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন রুম, একটি শেয়ারড কমন-এলাকা এবং রান্না করা সকালের নাস্তা আশা করতে পারেন। হয়তো ব্যক্তিগত সুবিধাও থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থাকা হলে-বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ছাড় মেলে।

রিসোর্ট সমূহ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় অনেক আসল রিসোর্ট আছে। এদের মধ্যে অনেকেরই লেগুন পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ, শিশুদের ক্লাব এবং নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। হুইটসানডেস দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট রয়েছে, কিছু রিসোর্ট পুরো দ্বীপ জুড়েই। পোর্ট ডগলাস-এও বিশ্বমানের অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে।

সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট

[সম্পাদনা]

সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় খুবই জনপ্রিয় আবাসনের ধরন, যা শহরের কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিংবা স্কি রিসোর্ট-সবখানেই পাওয়া যায়। অতিথিরা চাইলে মাত্র এক রাত থেকেও উঠতে পারেন, আবার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের জন্য বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ হোটেলের তুলনায় বড় হয়, যেখানে সাধারণত রান্নাঘর, ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার এবং আলাদা শোবার ঘর থাকে। পরিবারের জন্য বা বড় দলের জন্য এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।

অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলগুলো সাধারণত প্রাতঃরাশ দেয় না বা রেস্টুরেন্ট থাকে না, তবে কাছেই (প্রায়শই পাশের ভবনেই) অতিথিদের জন্য ক্যাফে থাকে। বড় চেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেরিটন স্যুইটস এবং আদিনা

হাউসবোট

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার মনোরম গ্রামীণ নদীগুলোতে হাউসবোট ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো বন্য প্রকৃতিতে সময় কাটানোর এক দারুণ সুযোগ দেয়। সাধারণত এদের মধ্যে রান্নাঘর থাকে, তাই অতিথিরা নিজেই রান্নার উপকরণ নিয়ে যেতে পারেন।

স্টেশন ওয়াগন ও ভ্যান

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ স্থানে গাড়ির ভেতরে ঘুমানো আইনত নিষিদ্ধ। তবে জানালার চারপাশে পর্দা টাঙালে অনেক সময়ে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রায় ১,০০০ ডলারে একটি ট্রেড ভ্যান কেনা যায়, আর নির্ভরযোগ্য ভ্যান কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩,০০০–৪,০০০ ডলার। একটি গদি, বালিশ, পোর্টেবল গ্যাস চুলা, রান্নার সামগ্রী এবং ২০ লিটার পানির কন্টেইনার যোগ করলে যাত্রা শুরু করা যায়। তবে ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার। তাই ঝুঁকির দায় নিজেকেই নিতে হবে। পরিকল্পনা করে থাকলে সাধারণত ধরা পড়তে হয় না। স্থানীয়দের বিরক্ত না করা এবং পার্কিং বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু এলাকায় রাতারাতি পার্কিং নিষিদ্ধ হলেও তা খুবই বিরল। তবে শহরে পার্কিং ইন্সপেক্টররা কঠোর, তাই ১০০ ডলারের বেশি জরিমানা অস্বাভাবিক নয়।

অস্ট্রেলিয়ার সব শহর ও নগরে বিনামূল্যে পাবলিক টয়লেট আছে। অনেক পার্কে এবং বেশিরভাগ সমুদ্রসৈকতে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক বারবিকিউ রয়েছে। জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে মিষ্টি পানির শাওয়ারও থাকে, যাতে সাঁতার শেষে সমুদ্রের লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। অল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য সমুদ্রেই ধোওয়া এবং শাওয়ারে কুলি করাই যথেষ্ট (তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানি দূষণ করা যাবে না)। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব নলকূপের পানিই পানযোগ্য, যেগুলো নয়, সেগুলো চিহ্নিত করা থাকে। সার্ভিস স্টেশনগুলোতে সাধারণত নল থাকে, তাই প্রতিবার জ্বালানি ভরার সময় পানি ভরেও নেওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সেরা অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হতে পারে এমন একটি রাস্তা ধরে যাওয়া, যা মানচিত্রে সমুদ্রসৈকত, ঝরনা বা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়। হয়তো সেখানে নির্জন এক স্বর্গীয় জায়গা পাবেন। সৌভাগ্যক্রমে আপনার সঙ্গে থাকবে শোবার জায়গা, খাবার ও পানি।

ছোট দলে ভ্রমণ করলে মাথাপিছু জ্বালানির খরচও কমে যায়, যা সাধারণত সবচেয়ে বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়।

ভ্রমণ উপভোগ করুন এবং জমি ও প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনার আবর্জনা, বোতল এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সঠিকভাবে ফেলে দিন।

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা অতিরিক্ত কোনো অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন, কিন্তু অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ভিসা প্রয়োজন হয়। পর্যটন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় পারফর্ম করা যেকোনো সেবার জন্য প্রদত্ত যেকোনো ধরনের পারিশ্রমিক-হোক তা অর্থমূল্য কিংবা অন্য কিছু (যেমন: থাকা ও খাওয়া)-‘পেমেন্ট’ হিসেবে গণ্য হয়, অর্থাৎ এই ধরনের কাজ পর্যটন ভিসার আওতায় অবৈধ। স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনুমোদিত, যদি তা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিসাধারীরা একাডেমিক টার্ম চলাকালীন (যখন ক্লাস চলে) প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, এবং ছুটির সময় পূর্ণ সময় কাজ করতে পারেন। এর মানে, ক্লাস চলাকালে প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে কাজ করলে গ্রেফতার, কারাবাস, দেশে ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। যেসব ভিজিটর অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক নন (এতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত, যদি তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক না হন), তারা অস্ট্রেলিয়ার বেকারদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিতে পারেন না এবং সরকারের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার সুযোগ খুব সীমিত বা সাধারণত নেই বললেই চলে।

পারিশ্রমিক ও কর

[সম্পাদনা]

অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তা পারিশ্রমিক সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন, তাই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়, যেমন: কমনওয়েলথ ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।

আপনাকে দ্রুত একটি ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN)-এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্স অফিসের ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে সাধারণত আরও দ্রুত পাওয়া যায়। TFN ছাড়াও কাজ শুরু করা সম্ভব, কিন্তু দ্রুত এটি সংগ্রহ না করলে নিয়োগকর্তা আপনার আয় থেকে সর্বোচ্চ হারে কর কেটে রাখবে। TFN ব্যাংকে নিবন্ধন না করালে সুদের আয় থেকেও সর্বোচ্চ হারে কর কাটা হবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক বছর চলে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, এবং প্রতি বছরের কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। কর সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কোনো ট্যাক্স এজেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। myGov অ্যাকাউন্ট খুলে এটিকে ATO-র সঙ্গে লিঙ্ক করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করা যায় (যদি আপনার কাছে প্রাসঙ্গিক অস্ট্রেলিয়ান আইডি না থাকে, তবে ATO-কে ফোন করে সাহায্য নিতে হতে পারে)।

আপনার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে ATO একটি মেডিকেয়ার লেভি হিসেবে ২% হারে কর কেটে রাখবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য ব্যয় হয়। কিছু বিদেশি কর্মী এই কর থেকে অব্যাহতি পান; যদি আপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়, তাহলে মেডিকেয়ার এনটাইটেলমেন্ট স্টেটমেন্ট-এর জন্য আবেদন করুন, যাতে কর রিটার্নে তা দেখিয়ে রিফান্ড পাওয়া যায়। আগেভাগেই আবেদন করুন, কারণ এই স্টেটমেন্ট পেতে সময় লাগতে পারে এবং কর রিটার্ন জমা দিতে গেলে এটি লাগবে।

অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তারা আপনার আয়ের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে সুপারঅ্যানুয়েশন (অবসরের সঞ্চয়) ফান্ডে জমা রাখেন। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ভিসায় থাকা, অথচ অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক নন-এমন ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সময় এই অর্থ ফেরত নিতে পারেন। একে বলা হয় “ডিপার্টিং অস্ট্রেলিয়া সুপারঅ্যানুয়েশন পেমেন্ট (DASP)”, এবং আপনি এটি অনলাইনে আবেদন করে পেতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই সঞ্চয় তাঁদের “কিউইসেভার” অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারেন; এ জন্য নিজ নিজ প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।


ওয়ার্কিং হলিডেমেকার স্কিম

[সম্পাদনা]
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আঙ্গুরক্ষেত

অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য একটি ওয়ার্কিং হলিডেমেকার কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম প্রবেশের দিন থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যায়। এই সময় কাজ করা যাবে, তবে কোনো এক নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ ৬ মাস। মূল ধারণা হলো ছুটি কাটানো, যার খরচ মেটানো হবে অস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি কাজের আয়ে। আগ্রহীদের জন্য উপকারী দক্ষতার মধ্যে রয়েছে: অফিসের কাজ শেখা, যাতে অস্থায়ী চাকরিতে কাজে লাগে; অথবা আতিথেয়তা খাতে (বার বা রেস্টুরেন্টে) কাজ করার দক্ষতা। বিকল্প হিসেবে মৌসুমি কাজ যেমন ফল সংগ্রহ রয়েছে, তবে এসব কাজ সাধারণত বড় শহরের বাইরে করতে হয়। মৌসুমি কাজে ৩ মাস কাজ করলে দ্বিতীয় ১২ মাসের ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা অনলাইনে আবেদন করা যায়, তবে আবেদনকালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যাবে না। খরচ ৬৩৫ ডলার (এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী)। বিভাগের তথ্যমতে, অর্ধেক আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৯০ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াকৃত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ভিসাটি ‘‘এভিডেন্সড’’ করে নিতে বলা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তাকে দেখানো যায়।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫,০০০ ডলার থাকা সুপারিশ করা হয়। কারণ অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশি এবং কাজ পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

কর্মভিসা

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার কর্মভিসার নিয়ম প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন, কনস্যুলেট, দূতাবাস বা অভিবাসন বিভাগের ওয়েবসাইট দেখা উচিত।

সরাসরি কর্মভিসা (সাবক্লাস ৪৫৭, ১৮৬ ও ১৮৭) পাওয়ার সহজ উপায় হলো কোনো অস্ট্রেলীয় নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করা। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার দক্ষতা সম্পন্ন কাউকে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত বৈধ কর্মভিসার শর্ত উল্লেখ থাকে। ভিসা পেতে কয়েক মাস লাগতে পারে এবং অনুমোদনের আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত চিকিৎসকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (যেমন টিবি পরীক্ষা করার জন্য বুকের এক্স-রে) দিতে হয়। দক্ষ নিয়োগকর্তা ও ভালো অভিবাসন আইনজীবী থাকলে ৪৫৭ ভিসা এক সপ্তাহেই অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ভিসা শুধু স্পনসর নিয়োগকর্তার জন্য বৈধ এবং চাকরি শেষ হলে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হয়।

রিজিওনাল স্পনসর্ড মাইগ্রেশন স্কিম (আরএসএমএস) ভিসা (সাবক্লাস ১৮৭) তুলনামূলক সহজ, তবে ‘‘আঞ্চলিক’’ এলাকায় থাকতে ও কাজ করতে হয়। এসব এলাকা মূলত গ্রামীণ বা বড় শহর থেকে দূরে, যদিও অ্যাডিলেড এই তালিকায় রয়েছে।

যদি বিশেষ দক্ষতা থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে বাঁধা না থাকতে চান, তবে স্কিল্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯, ১৯০, ৪৮৯) নেওয়া যেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) পেতে পারেন। এটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছরের জন্য বৈধ হয়, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেজরের উপর নির্ভর করে। তবে মেজরটি অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার ‘‘চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায়’’ থাকতে হবে, যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়। এই ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণে পড়াশোনার শুরু নয়, স্নাতক হওয়ার সময়কার তালিকাই কার্যকর।

অভিবাসন

[সম্পাদনা]

বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিবাসনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এটি কর্মভিসার তুলনায় সময়সাপেক্ষ। কর্ম বা শিক্ষাভিসাধারীও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন, যদিও স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পাওয়া যায় না। প্রচুর অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা রয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। চার বছরের বৈধ বসবাস শেষে, যার অন্তত এক বছর স্থায়ী বসবাস হতে হবে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।

স্বেচ্ছাসেবক

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভ্রমণকারীদের স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ দেয়। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ভলান্টিয়ার্স, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড, গ্যাপ ৩৬০, এক্সট্রিম গ্যাপ ইয়ার, এবং ফ্রিপ্যাকার্স

সম্মান ও আচরণ

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রতার রীতি

অস্ট্রেলিয়ায় আপনি যে ধরনের গ্রাহকসেবার মুখোমুখি হবেন—হোক সেটা কোনো ক্যাফের বারিস্টা, বারের বারটেন্ডার, হোটেলের রিসেপশনিস্ট কিংবা ট্যাক্সিচালক—প্রায় সবক্ষেত্রেই এমন সংলাপে শুরু হয়:

  • আপনি: হাই, কেমন যাচ্ছো?
  • তিনি: ভালো, ধন্যবাদ, আপনি কেমন?
  • আপনি: আমি এক কাপ ফ্ল্যাট হোয়াইট/এক গ্লাস ফ্যাট ইয়াক/দুইজনের একটি ঘর/টুুম্বায় যেতে চাই...

হ্যাঁ, এটা এমনকি একেবারে অচেনা লোকজনের সাথেও প্রযোজ্য। এবং হ্যাঁ, এই দুই লাইনের পর আপনি সরাসরি নিজের প্রয়োজনটা বলতে পারেন—নিজের জীবনকাহিনি বলার দরকার নেই। কিন্তু পুরোপুরি এটা এড়িয়ে গেলে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাবতে পারে।

সাধারণভাবে, অস্ট্রেলীয়দের সংস্কৃতিগত অজ্ঞতার কারণে অপমান বা কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা খুব কম।

অস্ট্রেলিয়ায় সম্বোধন বেশ সহজ-সরল ও খোলামেলা। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে, এমনকি নিজের চেয়ে অনেক বছর বয়সী ব্যক্তিকেও প্রথম নামে ডাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকে সদ্য পরিচিত লোককেও ডাকনামে ডাকতে পছন্দ করেন। এমন ডাকনামে ডাকা সাধারণত বন্ধুত্বের প্রকাশ, অবজ্ঞা নয়।

অস্ট্রেলিয়ায় খোলামেলা পোশাক পরা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। সৈকতে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরা স্বাভাবিক, এবং সৈকতের পাশের দোকানেও এটি মানা যায়। তবে এর বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে অন্তত একটি শার্ট ও পায়ে কিছু পরা উচিত। অধিকাংশ সৈকত কার্যত টপ-ঐচ্ছিক (টপলেস) হলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় বা পানিতে নামার সময় প্রায় সব নারীই টপ পরে থাকেন। কিছু সৈকত সম্পূর্ণ নগ্নতায় অনুমোদিত, যেগুলো সাধারণত আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে থাকে। থং বিকিনি (যা অস্ট্রেলিয়ায় 'জি-স্ট্রিং বিকিনি' নামে বেশি পরিচিত, কারণ এখানে 'থং' মানে স্যান্ডেল) নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অনুমোদিত, যদিও এগুলো এখনও ততটা প্রচলিত নয়। কিছু আউটডোর সুইমিং পুলে নারীদের জন্য "টপ আবশ্যক" নীতিমালা রয়েছে।

যখন উপাসনালয়, যেমন গির্জা পরিদর্শন করবেন, তখন একটু ঢেকে থাকা ভালো। গরমে সাধারণত টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট যথেষ্ট, তবে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পুরুষদের জন্য দীর্ঘহাতা শার্ট, টাই ও ফুলপ্যান্টই ব্যবসায়িক পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য-even যদি আবহাওয়া খুব গরম হয়।

অস্ট্রেলিয়ান কথ্য ভাষা বা স্ল্যাং অনুকরণ করার চেষ্টা করলে তা অনেক সময় যোগাযোগের চেয়ে বিদ্রুপ বলেই মনে হতে পারে। যদি আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে হাসি পেতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করে কথা বলেন, তবে এমন কোনো মন্তব্যের সাথে একমত হওয়া অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। নিজের কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব করা সচরাচর ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।

অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক শ্রেণি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিক বা কারিগরদের (যাদের “ট্রেডিজ” বলা হয়) অনেক বেশি সম্মান ও ভালো বেতন দেওয়া হয়। কাজের ধরন দেখে কাউকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। হোটেল কর্মচারী, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ট্যাক্সিচালক ও দোকানের কর্মচারীদেরও সমানভাবে সম্মান করার প্রত্যাশা করা হয়।

হারিয়ে গেলে বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয়ই দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী থাকেন। তবে শহুরে এলাকায় অনেকেই "মাফ করবেন" শুনলে ধরে নেন আপনি অর্থ চাচ্ছেন, এবং এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। হাতে মানচিত্র থাকা, ব্যাকপ্যাকারদের মতো দেখানো বা সরাসরি নিজের প্রয়োজনে যাওয়া-এসব সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা

[সম্পাদনা]
উলুরু

আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা সম্ভবত ৬৫,০০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েন এবং বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। ইউরোপীয় বসতির পর থেকে তাঁদের প্রথাগত জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন। তাই এই বিষয়ে সর্বদা সংবেদনশীল হওয়া উচিত। আদিবাসীরা বিভিন্ন ‘জাতি’ বা সম্প্রদায়ভুক্ত যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রয়েছে এবং বসতির আগেই তাঁরা প্রায় ২৫০টি ভাষায় কথা বলতেন।

পর্যটকদের জন্য আদিবাসী ভূমিতে প্রবেশের নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন। কিছু এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়, আবার কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি বা পারমিট লাগে, এবং কিছু এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জনপ্রিয় এলাকাগুলোর পারমিট নেওয়া সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র এবং এতে আপনার সফরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত সেই ভূমিকে আদিবাসী ভূমি হিসেবে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি। কিছু আদিবাসী জমি পরিষদ অনলাইনে পারমিট প্রদান করে।

কিছু সম্প্রদায় বা এলাকা আদিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যদিও পর্যটন আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উপকারী, তবু সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বসবাস ও পর্যটন এলাকাকে আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে। ম্যাপে কোনো এলাকা "মুক্ত প্রবেশযোগ্য" দেখালেও, অনুরোধ না মানা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনেক সময় বেআইনিও হতে পারে। নির্জন এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে যাচাই করে নিন জায়গাটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত কিনা এবং পারমিট প্রয়োজন কি না।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন উলুরু স্থানীয় আনানগু জনগণের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও একসময় এটি পর্বতারোহণের জন্য জনপ্রিয় ছিল, আনানগু জনগণ বহুদিন ধরে পর্যটকদের তা না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন, এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি বেআইনি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কেউ সেখানে চড়ে আহত বা নিহত হন, তাহলে এর দায় তাঁদের ওপর পড়ে। তাই দয়া করে উলুরুতে না চড়ুন। “এয়ারস রক” নামটি বিদেশে প্রচলিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিতরে প্রায় কেউই এটি ব্যবহার করে না এবং এটি বলা অনুচিত।

জাতিগত প্রসঙ্গে বলতে হলে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শব্দ হলো ইন্ডিজেনাস অস্ট্রেলিয়ান (Indigenous Australians)। আদিবাসী জনগণ (Aboriginal people) সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে আদিবাসী (Aboriginal) শব্দটি একা ব্যবহার এড়ানো ভালো-অনেকে এতে নেতিবাচক অর্থ খুঁজে পান। অ্যাবরিজিন বা অ্যাবো শব্দগুলো অত্যন্ত অবমাননাকর এবং ব্যবহার করা উচিত নয়। নেটিভ শব্দটি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও, ইন্ডিজেনাস শব্দটি ব্যবহার করাই উত্তম। টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা নিজেদের “আদিবাসী” নয় বরং “টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার” হিসেবে পরিচয় দেন।

আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের সাথে আচরণের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত:

  • অনেক আদিবাসীর কাছে অস্ট্রেলিয়া দিবস একটি “অবৈধ দখলের দিন”, তাই এই দিনে প্রতিবাদ হয়।
  • কোনো মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করা বা ছবি না দেখানো ভালো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে নিয়ম আলাদা হলেও, অপমান এড়াতে এগুলো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
  • আদিবাসী ব্যক্তিদের ছবি তুলতে গেলে, বিশেষ করে আর্নহেম ল্যান্ডনর্দার্ন টেরিটরি-র মতো দূরবর্তী এলাকায়, অবশ্যই আগে অনুমতি নিতে হবে।
  • উলুরু বা থ্রি সিস্টার্সের মতো পবিত্র আদিবাসী স্থানগুলোকে অসম্মান করবেন না-যেমন সেখানে চড়া, ভাঙচুর, লেখালেখি ইত্যাদি। এগুলো যে কতটা ক্ষতি করেছে পর্যটকরা, তার হিসেব মেলানো কঠিন।
  • যদিও আইনের চোখে আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সমান অধিকার পেয়েছে, বাস্তবে আদিবাসীরা প্রায়ই অন্যদের তুলনায় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং আজও নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আদিবাসীদের পুলিশি নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৪%-এরও কম হলেও, কারাবন্দি পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩০% আদিবাসী। এই বিষয়গুলো সাধারণত এড়িয়ে যাওয়াই ভালো

এএনজ্যাক দিবস

[সম্পাদনা]

যদিও অস্ট্রেলীয়রা সাধারণত মজা করে কথা বলেন, ২৫ এপ্রিল পালিত এএনজ্যাক দিবস ব্যতিক্রম। এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্রতি কোনো অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য করলে তা অত্যন্ত আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং বিদেশিদেরকেও যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভে কেবল খেলা করেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সমালোচনা সহ্যযোগ্য হলেও, এই দিনে নয়।

আধুনিক অস্ট্রেলীয় সমাজ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ সংখ্যালঘু। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে মাত্র ৪৩% মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, আর ৩৮% বলেছে তাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ক্রমবর্ধমান, যা অভিবাসনের কারণে বাড়ছে।

অস্ট্রেলীয়রা সাধারণভাবে সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল। হিজাব, কিপ্পা বা ক্রুশের মতো ধর্মীয় প্রতীকধারী পোশাক সাধারণত অপমান বা হয়রানির শিকার হয় না, যদিও ইসলামবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ধর্মীয় বৈষম্য কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। সাধারণভাবে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয় না এবং ধর্ম প্রচার বা অন্যদের বিরক্ত করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

বড় শহরগুলোতে হালাল খাদ্য পাওয়া সহজ। অনেক রেস্তোরাঁ হালাল খাবার সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সার্টিফিকেটও থাকে। বড় সুপারমার্কেটেও হালাল পণ্যের জন্য আলাদা বিভাগ থাকে।

ব্রিটিশ উত্তরাধিকার

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়াকে কেবলমাত্র রৌদ্রোজ্জ্বল যুক্তরাজ্য বলা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাথে তুলনা করাটা সব সময় আপত্তিকর নয়, তবে মানুষ পছন্দ করে যখন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]

জরুরি পরিস্থিতি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো টেলিফোন থেকে বিনামূল্যে ডায়াল করা যায় 000 নাম্বারটি (যাকে ‘ট্রিপল জিরো’ বা ‘ট্রিপল ও’ বলা হয়)। এই নম্বরে ফোন করলে জরুরি অপারেটর আপনাকে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক, উপকূলরক্ষী বা অ্যাম্বুলেন্স সেবার সাথে সংযুক্ত করবে, নির্ভর করবে আপনি কোন সেবা চান তা জানানোর ওপর।

যদি পরিস্থিতি জরুরি না হয়, তাহলে ০০০ নম্বরে ফোন করবেন না। এর পরিবর্তে পুলিশ সহায়তা লাইনে ফোন করতে পারেন: 131 444। এর মধ্যে শব্দ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ করাও অন্তর্ভুক্ত। বিষাক্ত দ্রব্য সংক্রান্ত পরামর্শ, যা সাপ, মাকড়সা ও পোকামাকড় কামড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করে, পাওয়া যায় এই নম্বরে: 131 126। নিকটবর্তী চিকিৎসা সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানার জন্য ফোন করুন 1800 022 222 (তাসমানিয়া ব্যতীত)।

বন্যা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার প্রয়োজন হলে প্রতিটি রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিসের (Northern Territory বাদে) সাথে যোগাযোগ করুন 132 500 নম্বরে। আপনাকে স্থানীয় ইউনিটের সাথে যুক্ত করা হবে এবং সেখান থেকে সহায়তা সংগঠিত হবে। তবে জীবন হুমকির মুখে পড়লে অবশ্যই ০০০-তে ফোন করতে হবে।

সব মোবাইল ফোন থেকেই ০০০ ডায়াল করা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো এই নম্বরটিকে জরুরি নাম্বার হিসেবে চিনতে পারে এবং যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সম্পন্ন করতে পারে। তবে, যদি আপনার ফোনটি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আনা হয়ে থাকে, তাহলে ইউনিভার্সাল এমার্জেন্সি নাম্বার 112 ব্যবহার করাই ভালো। ১১২ নম্বরে কল করলে এটি যেকোনো উপলব্ধ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, এমনকি ফোন রোমিং না করলেও বা সিম না থাকলেও কাজ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ান ফোনেও কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৩জি নেটওয়ার্ক থাকবে না, তাই ফোনে VoLTE কলিং এবং এমার্জেন্সি কল ওভার VoLTE সাপোর্ট থাকতে হবে (কিছু ফোন শুধু ৩জি বা ২জি ব্যবহার করে); একটি ফোন এই সেবার জন্য উপযোগী কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ ০০০ নম্বরে শুধু জরুরি অবস্থায়ই ফোন করা উচিত। তবে যদি ফোনটি অস্ট্রেলিয়ান সিম দিয়ে কাজ করে, তাহলে তা যথেষ্ট।

যাদের শ্রবণ বা বাক সমস্যা আছে এবং যারা TTY যন্ত্র ব্যবহার করেন, তারা ডায়াল করতে পারেন 106। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা ইন্টারনেট রিলে সার্ভিসের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।

স্থায়ী ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে কল করলে জরুরি পরিষেবা আপনাকে খুঁজে বের করতে কল ট্রেস করতে পারে। তবে মোবাইল ফোন থেকে করা কল, বিশেষ করে শহরের বাইরে, সঠিকভাবে ট্রেস করা কঠিন, তাই শান্তভাবে ও পরিষ্কারভাবে আপনার অবস্থান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নম্বরের নম্বর বিন্যাসের কারণে প্রায় ৬০% কল ভুলবশত করা হয়।

আপনার সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে না পারলে সম্ভবত কেউ আপনার ফোন কলে সাড়া দেবে না। যদি আপনি সহায়তা প্রয়োজন হলেও কথা বলতে না পারেন, আপনাকে একটি স্বয়ংক্রিয় মেনুতে পাঠানো হবে এবং আপনাকে ৫৫ চাপতে বলা হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আপনি ভুল করে ফোন করেননি। এরপর আপনাকে পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

১১২ ব্যতীত অন্য দেশের জরুরি নাম্বার (যেমন '৯১১', '১৭' বা '১০০') অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করে না

গাড়ি চালানো

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি চালানো

বাস্তবতা মনে রাখুন। অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় পথচারী, চালক বা যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যটকদের জন্য অন্য যেকোনো মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি।

মদ্যপান বা মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অধিকাংশ রাজ্যে রক্তে অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রা শূন্য থেকে ০.০৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এলোমেলোভাবে রক্ত ও শ্বাস পরীক্ষা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ, তাই শহর ও গ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও বেশি হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ইউরোপ, এশিয়া বা উত্তর আমেরিকার ফ্রি-ওয়ে বা মোটরওয়ে চালানোর অভ্যস্ত হন। বড় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের হলেও গ্রামীণ এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়কগুলোতে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গতি সীমা রাজ্য, এলাকা ও সড়কভেদে পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম না করে দৈনিক ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ক্লান্তি ও স্ট্রেস এড়ানো যায়। কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেয়। অনেক সময় এম, এ নম্বরযুক্ত রুট ও জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত বিশ্রামস্থল থাকে, তবে কাঁচা রাস্তা, রাজ্য সড়ক, বি বা সি শ্রেণির মহাসড়কে এ ধরনের সুযোগ খুব কম।

শহর বা গ্রামের মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় বন্যপ্রাণীর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। অনেক সময় গাড়ির আলো বা শব্দে ভয় পেয়ে ক্যাঙারুরা আচমকা গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সড়কের পাশে গাছপালা বা ঝোপঝাড় থাকলে, আর ভোর বা গোধূলির সময় (যখন বন্যপ্রাণী সবচেয়ে সক্রিয়) গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও শহুরে এলাকায় বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি নেই বললেই চলে, ক্যানবেরায় পার্কগুলোর কারণে প্রায়ই ক্যাঙারু রাস্তা পার হয়।

শহরের মানুষ সাধারণত ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তায় দৌড়ে যায়, লাল বাতি আসার আগেই রাস্তা পার হয় বা গাড়ির গতি বুঝে দৌড়ে চলে যায়। যদিও অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামে, হলুদ বাতি দেখে গাড়ি না থেমে চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই ফুটপাথ থেকে রাস্তায় নামার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে গাড়িগুলো পুরোপুরি থেমেছে। যারা ডান পাশে গাড়ি চালানোর অভ্যস্ত, তাদের জন্য সঠিক দিকে তাকানো শিখতে একটু সময় লাগতে পারে।

সমুদ্রসৈকত

[সম্পাদনা]
সিডনির বন্ডাই সৈকতে এক লাইফগার্ড

প্রতি বছর প্রায় ১০–২০ জন বিদেশি পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় ডুবে মারা যান। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই সমুদ্রসৈকতে ঘটে এবং পরিসংখ্যান বলছে, পর্যটকদের জন্য এই ঝুঁকি স্থানীয়দের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্তারিত জানতে দেখুন বিচ নিরাপত্তা ওয়েবসাইট

সৈকতে গেলে অবশ্যই লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে সাঁতার কাটুন। এগুলোই চিহ্নিত করে যে এলাকা পেট্রল করা হচ্ছে। সব সৈকত সার্বক্ষণিকভাবে পেট্রল করা হয় না, এমনকি প্রতিদিনের সব সময়েও না। অনেক সময় শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে বা গ্রীষ্মে পেট্রল থাকে, তাও নির্দিষ্ট সময়ে। পতাকা না থাকলে ধরে নিন, সেখানে কেউ নজরদারি করছে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক সৈকতেই কোনো নজরদারি নেই। যদি আপনি সাঁতার কাটেন, তাহলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকুন, পানির অবস্থা যাচাই করুন, নিজের সাঁতারের সীমা বুঝুন, এবং কখনো একা সাঁতার কাটবেন না।

অনেক সৈকতে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যায়, যা অপ্রস্তুত সাঁতারুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সন্দেহ হয়, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন।

হার্ড সার্ফবোর্ড, সার্ফ স্কি, কায়াক ইত্যাদি লাল ও হলুদ পতাকার মাঝখানে ব্যবহার করা যায় না। এগুলো কেবল নীল ‘সার্ফক্রাফট পারমিটেড’ পতাকার বাইরে ব্যবহার করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী রিপ কারেন্ট থাকে, যেগুলো সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই রিপ হলো এমন একপ্রকার পানির ধারা যা সৈকতের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে যায় এবং প্রায় চোখে দেখা যায় না। অনেক স্থানীয় মানুষ এগুলো চিনতে পারেন। যদি আপনি সন্দিহান হন, কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। এই ধারাগুলো শান্ত পানির মতো দেখায় বলে অনেকেই ভুল করে সেখানেই সাঁতার কাটেন, তারপর ফিরে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান।

রিপ চেনার লক্ষণগুলো হলো: আশপাশের তুলনায় ঢেউ কম থাকা; ফেনা যা ব্রেক জোনের বাইরে গিয়ে পড়ে; বাদামি-বালির রঙের পানি; দুই পাশে ঢেউ ভাঙা হলেও মাঝখানে না ভাঙা।

যদি আপনি কোনো পেট্রল করা সৈকতে রিপে আটকে যান, শক্তি সংরক্ষণ করুন, ভাসুন বা পানির উপর ভেসে থাকুন এবং একটি হাত তুলে সাহায্যের সংকেত দিন। লাইফসেভাররা আপনাকে উদ্ধারে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগেই সাহায্য চান। স্থানীয় সাঁতারু বা সার্ফাররাও দ্রুত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও পতাকা সাধারণত রিপ মুক্ত এলাকায় বসানো হয়, তবে কখনো কখনো সেগুলোর কাছেও রিপ চলে আসতে পারে।

যদি আপনি কোনো অপেট্রল সৈকতে রিপে পড়েন, শান্ত থাকুন এবং তির্যকভাবে (সৈকতের সমান্তরালে) সাঁতার কাটুন, স্রোতের বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ রিপ কয়েক মিটার চওড়া হয়, তাই স্রোত থেকে বেরিয়ে গেলে আপনি তীরে ফিরে আসতে পারবেন। কখনো একা সাঁতার কাটবেন না। মনে রাখবেন, সঠিক কৌশল সব পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাবে না। সৈকতের পেছনে ভেঙে পড়া ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকা কঠিন, কয়েক সেকেন্ড পরপরই ঢেউ আছড়ে পড়ে। একবার রিপে পড়লে আপনি চোখের পলকে ৫০ মিটার সমুদ্রের গভীরে চলে যেতে পারেন। অপেট্রল সৈকতে থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং কখনো নিজের সাঁতারের গভীরতা অতিক্রম করবেন না।

সৈকতের সংকেতচিহ্নগুলোতে প্রায়ই একটি সংখ্যা বা আলফানিউমেরিক কোড থাকে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানালে তারা দ্রুত আপনাকে খুঁজে পাবে।

কুমিরবক্স জেলিফিশ নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যায়। অনেক অস্ট্রেলীয় সৈকতেই হাঙর থাকে। নিচের বিপজ্জনক প্রাণী বিভাগে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। পেট্রল করা সৈকতগুলোতে হাঙরের গতিবিধি নজরদারি করা হয়। যদি সৈকতে একটি ধারাবাহিক সাইরেন বাজে এবং লাল ও লাল-সাদা চতুর্থাংশ পতাকা দেখানো হয়, তাহলে ধরে নিন, হাঙর দেখা গেছে। দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি সংক্ষিপ্ত সাইরেন বাজানো হবে, যা সাধারণত নিরাপদে পানিতে ফেরার সংকেত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল দেশ এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে।

উত্তর অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ঘটে, এবং এই সময়ে ভ্রমণ করলে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তার তীব্রতা এবং আপনার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। দুর্বল ঘূর্ণিঝড়ে কেবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হতে পারে, আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড় জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, আপনাকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে এবং আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এমনকি দুর্বল ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপও দূরবর্তী এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে, যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

গড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি শহরে প্রতি ৩০ বছরে একবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জনসংখ্যা কম হওয়ায় অনেক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলেও কোনো বড় শহরে এর প্রভাব পড়ে না।

তবুও, যদি আপনি ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোর ঘূর্ণিঝড় তথ্য পৃষ্ঠা দেখে নিন এবং ভ্রমণের সময় নিয়মিতভাবে সেখানে নজর রাখুন যাতে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়।

বন্যা

[সম্পাদনা]

উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘‘বর্ষাকাল’’ হয়, যখন প্রবল বর্ষণ ও নিয়মিত বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উপকূলবর্তী কিছু এলাকা এক–দুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না পানি নেমে যায়। তবুও জনবহুল ও পর্যটক–কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এ সময় ভ্রমণ করা খারাপ নয়। অস্বাভাবিকভাবে বড় বন্যা না হলে দর্শনার্থীরা ঝর্ণাধারা ও অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে পারেন, যা ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক ও অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে বন্যা খুবই বিরল, কয়েক দশক পরপর ঘটে। তাই সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হবে। যদি অন্তর্দেশীয় বা আউটব্যাক এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে এবং অঞ্চলটি বন্যাগ্রস্ত হয়, তবে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভূমি সমতল হওয়ায় পানি নেমে যেতে সপ্তাহ লেগে যায়, জমি কাদাময় হয়ে থাকে। চারপাশে জমা পানি থাকায় পোকামাকড় ও মশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরা কীটনাশককেও সহজে সহ্য করে। সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রার সময় অনেক বাড়ে। অনেক আকর্ষণীয় স্থান মূল সড়ক থেকে অল্প দূরের কাঁচা রাস্তায় অবস্থিত, যা অচল হয়ে পড়ে যদিও মূল সড়ক খোলা থাকে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে গেলে দেখা যাবে ভূমি তখনও সবুজ, হ্রদ–নদী প্রবাহমান এবং পাখিজীবন সক্রিয়।

দেশের দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের শীতকালে। তবে সাধারণত একবারে এত বৃষ্টি হয় না যে বন্যা সৃষ্টি করবে। রাজধানী শহরগুলোতে বন্যার তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না, প্রায় কখনোই না।

আকস্মিক বন্যা
[সম্পাদনা]

প্রায় প্রতি বছরই পূর্বাঞ্চলের বহু শহরে অন্তত একবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে। এটি বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতরেই থাকা উচিত এবং এসইএস (এসইএস) ও এবিসি (এবিসি) স্থানীয় রেডিওর পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কখনোই বন্যার পানিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিবছর বহু গাড়ি ধ্বংস হয় কারণ চালকেরা পানির গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতাকে হেলাফেলা করেন। শেষ পর্যন্ত যেন আপনাকে সেতুর নিচে ভেসে পুলিশি উদ্ধার অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।

আকস্মিক বন্যার সময় প্রায়ই বড় বড় শিলাবৃষ্টি হয়, যা গাড়ি নষ্ট করতে পারে। তাই গাড়ি আচ্ছাদিত স্থানে (তবে ভূগর্ভস্থ নয়) পার্ক করুন।

এটি সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ঝড়ের আশঙ্কার কথা শোনা যাবে এবং bom.gov.au তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা প্রকাশ করবে।

পানির যোগান

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শুষ্ক দেশ; বিশাল মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে এবং আবহাওয়া খুব গরম হতে পারে।

যখন জনবসতি থেকে দূরে, পাকা রাস্তা ছেড়ে ভ্রমণ করবেন, তখন আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে-যেখানে হয়তো টানা এক সপ্তাহও অন্য কোনো গাড়ি দেখা যাবে না। তাই সঙ্গে নিজের পানির যোগান রাখা অত্যন্ত জরুরি (প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য ৪ গ্যালন বা ৭ লিটার)। মানচিত্রে 'কূপ', 'ঝরনা' বা 'ট্যাংক' লেখা দেখে ভুলবেন না-এগুলো প্রায় সবই শুকিয়ে গেছে, আর ভেতরের অনেক হ্রদই আসলে শুকনো লবণাক্ত ভূমি।

বেশিরভাগ শহর ও নগরে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেমন গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া বা সরকারি গোসলখানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। হোটেল বা আবাসিক স্থানে প্রায়ই অতিথিদের গোসল ছোট করতে অনুরোধ করা হয়।

বহু আঞ্চলিক শহরের সরকারি বাথরুমে পানীয়-অযোগ্য পানি থাকে। “Do not drink” বা “Non-potable” লেখা ট্যাপ থেকে কখনোই পানি খাবেন না-এসব সাধারণত অপরিশোধিত ভূগর্ভস্থ পানি।

অস্ট্রেলিয়া কোনো প্লেট সীমান্তে অবস্থিত নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়। এগুলো সাধারণত ছোট মাত্রার হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানি প্রায় ঘটে না।

দাবানল

[সম্পাদনা]

দাবানল (বুশফায়ার) অস্ট্রেলিয়ার অনেক অঞ্চলে ঋতুভিত্তিক বিপদের মধ্যে একটি। বিশেষ করে যদি আপনি বুশল্যান্ড বা গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণে যান, তবে আগে থেকেই অগ্নি-ঝুঁকির মাত্রা এবং কোনো আগুন সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে খুব বিপজ্জনক দিনে বুশফায়ার প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-বিশেষত যদি আপনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন বা মজবুত কোনো ভবনের সুরক্ষা না থাকে।

যদি দাবানলের মধ্যে আটকা পড়েন, বেশিরভাগ আগুন দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাবে। আপনাকে এমন আশ্রয় খুঁজতে হবে যা ধোঁয়া এবং তীব্র তাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। সবচেয়ে ভালো হলো ঘরবাড়ি, তারপর গাড়ি, তারপরে খোলা জায়গা, গুহা বা সৈকত। যতটা সম্ভব সবকিছু ভিজিয়ে ফেলুন। নিচু হয়ে থাকুন এবং মুখ ঢেকে রাখুন। আগুন না-ধরতে পারে এমন কাপড় (যেমন উলের জামাকাপড় বা কম্বল) দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তাপের সামনে খোলা ত্বক কমিয়ে আনুন। যদি কলের পানি থাকে, আগে থেকেই সংগ্রহ করুন; আগুন কাছে এলে পানির চাপ নাও থাকতে পারে।

ডানপাশে দেখানো আগুনের ঝুঁকি সূচকটি (Fire Danger Rating) জানায়, আগুন লাগলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা কতটা তা বলে না।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অগ্নি-ঝুঁকির চিহ্ন স্থাপন করা আছে
  • **Severe (গুরুতর):** গরম, শুষ্ক এবং বাতাস প্রবাহিত আবহাওয়া। এ সময় আগুন শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কেবল প্রস্তুত ভবন ও সক্রিয় প্রতিরক্ষাই নিরাপত্তা দিতে পারে। আগুনের প্রথম ইঙ্গিতেই এলাকা ছেড়ে দিন।
  • **Extreme (চরম):** গরম, শুষ্ক ও প্রবল বাতাসের সময় যে আগুন শুরু হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন, অনিশ্চিত ও দ্রুতগামী হয়। কেবল বিশেষভাবে নির্মিত ও সক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষিত ঘরবাড়ি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। বনভূমি, ঘন ঝোপঝাড় বা শুকনো ঘাস এড়িয়ে চলুন। নিরাপত্তার জন্য এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়।
  • **Catastrophic/Code red (বিপর্যয়কর/কোড রেড):** দাবানল বা ঘাসের আগুনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। বনাঞ্চল বা ঘন বুশ থেকে দূরে থাকুন। এ সময় এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়াই অত্যন্ত পরামর্শযোগ্য। উল্লেখযোগ্য যে, অনেক স্থানীয় মানুষ বছরের এই কয়েকটি "বিপর্যয়কর" দিনে নিজেদের আউটব্যাকের বাড়িঘর ছেড়ে বড় শহরে আশ্রয় নেন।

জাতীয় উদ্যান ও রাজ্য বন

[সম্পাদনা]

অগ্নি-ঝুঁকি চরম বা তার বেশি হলে জাতীয় উদ্যানগুলো বিশেষত ব্যাককান্ট্রি এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই গ্রীষ্মে ক্যাম্পিং বা হাইকিং পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি। কোনো উদ্যানে আগুন লাগলে সাধারণত পুরো উদ্যানই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যদি এমন সময় উদ্যানে থাকেন, সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো আগের রাতেই বা সকালে এলাকা ছেড়ে যাওয়া। আগুনের খবর শুনলে বা ধোঁয়া দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

সক্রিয় অগ্নিকাণ্ড চলাকালে বা অগ্নি মৌসুমে ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

শহরের বাইরে অগ্নি মৌসুমে গাড়ি চালালে স্থানীয় এবিসি রেডিওতে টিউন করুন। বুশফায়ার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর সতর্কতাসংকেত বাজে এবং তারপর আপডেট দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তাও আসতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি ও অগ্নি ব্যবস্থাপনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তাই যে রাজ্যে আছেন তার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। যেমন ইমার্জেন্সি ডব্লিউএ এবং ভিকইমার্জেন্সি সাইটে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি তালিকাভুক্ত থাকে।

এক পর্যায়ে হয়তো আপনার পক্ষে আর এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

অগ্নি মৌসুমে আপনার পরিকল্পনায় দুটি পালানোর পথ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শপিং সেন্টার বা জনবহুল শহরের মূল সড়কগুলো চরম বা কোড রেড দিনের জন্য নিরাপদ, যতক্ষণ না রেডিওতে অন্য কিছু ঘোষণা হয়।

কখনো কখনো পুরো শহর সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন আগুন দেখা না গেলেও আগেভাগেই চলে যাওয়া উচিত। কারণ আগুনের ভেতর দিয়ে সরতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। সেরা উপদেশ হলো, চলে যান এবং আগুন দেখার জন্য থেকে যাবেন না।

আগুন জ্বালানো

[সম্পাদনা]

যে আগুন জ্বালাচ্ছেন তা বৈধ এবং নিয়ন্ত্রণে আছে কি না নিশ্চিত করুন। অগ্নি সেবাদানকারী সংস্থা সম্পূর্ণ অগ্নি-নিষেধাজ্ঞা (Total Fire Ban) জারি করে যখন অগ্নি ঝুঁকি চরম হয়। তখন বাইরে কোনো আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকাংশ উদ্যানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, এবং স্থানীয় ঝুঁকি মাত্রা জেনে নেওয়া আপনার দায়িত্ব। জাতীয় উদ্যানে এসব দিনে বনরক্ষী বা পুলিশ টহল দেয় যাতে কেউ খোলা আগুন না জ্বালায়। নিয়ন্ত্রণহীন আগুন লাগালে জরিমানা বা এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।

বিষাক্ত ও বিপজ্জনক প্রাণী

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: পোকার উপদ্রব

অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর অনেক মারাত্মক কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীরা শহুরে পরিবেশে এদের প্রায় দেখেন না, এমনকি বুশ এলাকাতেও এরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে। অস্ট্রেলিয়ায় কামড় ও হুলের কারণে যে মৃত্যুগুলো ঘটে, তার বিশাল অংশই মৌমাছি ও বোলতার হুলে অ্যালার্জি থেকে হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচলিত আছে, যা প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ানরা রসিকতার ছলে বলেন। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জেলিফিশ ও কুমির সম্পর্কে সতর্কবার্তাগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এবং জাতীয় উদ্যান ও বুশল্যান্ডে সাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।

যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করেন, তবে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ থাকে। একই সঙ্গে সাপ বা মাকড়সার কামড়ের পর কী করতে হবে তা আগে থেকেই শিখে নেওয়া ভালো।

অস্ট্রেলিয়ার শহুরে এলাকায় সাপের দেখা পাওয়া খুব একটা সাধারণ নয়। তবে ঘাসভূমি, জাতীয় উদ্যান এবং অন্যান্য বুশল্যান্ডে এগুলো বেশ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত সাপ মানুষকে এড়িয়ে দূরে সরে যেতে চায়। তাই হাঁটার সময় যদি সামনে সাপ দেখতে পান, তবে সেটির চারপাশ ঘুরে যান বা অন্য দিকে চলে যান। ঘন ঝোপঝাড় বা ঘাসে অন্ধভাবে ঢোকা উচিত নয়, কারণ সাপ সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপ মানুষকে ভয় পায় এবং আপনি দেখার আগেই সাপ পালিয়ে যায়।

কোনোভাবেই কোনো সাপ ধরতে চেষ্টা করবেন না, এমনকি সেটি বিষহীন বলে বিশ্বাস করলেও নয়। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়েছিল, অথবা হাঁটার সময় অসাবধানতায় পায়ে দিয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় কিছু মারাত্মক বিষধর সাপ রয়েছে। তাই সব সাপকেই সম্মানজনক দূরত্বে রাখুন এবং কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দুর্গম স্থানে গেলে সাপের কামড়ের জন্য উপযোগী ফার্স্ট-এইড কিট সঙ্গে রাখুন। যদি কামড় খান, তবে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থানের চারপাশ শক্ত করে বেঁধে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তা নিন। ক্ষত পরিষ্কার করবেন না, কারণ বিষের নমুনা পরীক্ষা করে কোন অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকেন, তবে অন্য কাউকে সাহায্য চাইতে পাঠান। কিছু সাপের (বিশেষ করে টাইপান) বিষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারে। তবে ক্ষত অবশ করে রাখলে এবং বিশ্রাম নিলে বিষ ছড়িয়ে পড়া কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ হাসপাতালেই বহুমুখী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়, যাতে সব বিপজ্জনক অস্ট্রেলীয় সাপের প্রতিষেধক অন্তর্ভুক্ত থাকে।

মাকড়সা

[সম্পাদনা]
সিডনির ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সতর্ক ভঙ্গিতে

অস্ট্রেলিয়া মাকড়সার জন্য বিখ্যাত হলেও, মাকড়সায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সা দেখা সাধারণ ব্যাপার এবং বেশিরভাগ মাকড়সাই ক্ষতি করে না। বাগান করার সময় বা শুকনো পাতা ধরার সময় গ্লাভস পরা উচিত। বাইরে রাখা কাপড়, জুতা ইত্যাদি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝেড়ে নেওয়া দরকার। পাথরের নিচে বা গাছের ফোকরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু মাকড়সা ঘরেও পাওয়া যায়, যেমন বড় আকারের লোমশ হান্টসম্যান মাকড়সা, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, বরং আরশোলা জাতীয় কীটপতঙ্গ কমায়। বাগানের অরব উইভিং মাকড়সাদের বড় বড় জাল ঝামেলার হলেও বিপজ্জনক নয়।

তবে কিছু মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হলো সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা, যা মূলত সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পূর্বাঞ্চলে পাথর ও শুকনো পাতার নিচে পাওয়া যায়। এদের আকার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত কালো রঙের। ফানেল-ওয়েব অঞ্চলে যদি মাকড়সার কামড় লাগে, দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এরা বেশিরভাগ সময় ভূগর্ভে থাকে (আর্দ্র গর্তের বাইরে আধ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না), তাই খোলা জায়গায় এদের দেখা পাওয়া বিরল। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে।

রেড-ব্যাক মাকড়সা (পেটের ওপর লাল দাগ দিয়ে সহজেই চেনা যায়) অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ। এর কামড়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যদিও ফানেল-ওয়েবের মতো জরুরি নয়। রেড-ব্যাক সাধারণত অন্ধকার কোণে লুকিয়ে থাকে এবং ঘরের ভেতরে সচরাচর দেখা যায় না। তবে বাইরে শেড, টেবিল-চেয়ারের নিচে বা পাথরের তলায় এরা লুকাতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সব সময় ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে যে মাকড়সা কামড়েছে তাকে চিনে রাখা ভালো-ছবি তুলে রাখা বা ধরে রাখা যেতে পারে যাতে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া যায়। তবে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

জেলিফিশ

[সম্পাদনা]

উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি বা উত্তর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকারীদের অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় বক্স জেলিফিশের প্রাণঘাতী হুলের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। এরা পানিতে ধরা পড়া কঠিন এবং অগভীর পানিতেও থাকে। এদের হুলের ব্যথা প্রচণ্ড কষ্টকর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার লাগালে বিষক্রিয়া কিছুটা কমে, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত এরা তীরের কাছেই থাকে, তবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং অনেকে সেখানকার পানিতে সাবধানতা ছাড়াই সাঁতার কাটে। স্থানীয় বিশ্বস্ত তথ্য নেওয়া জরুরি।

ইরুকান্দজি হলো আরেক ধরনের ক্ষুদ্র (নখের সমান আকারের) জেলিফিশ, যা উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পানিতে এবং আশেপাশের ইন্দো-প্যাসিফিক দ্বীপে পাওয়া যায়। এরা চোখে দেখা কঠিন এবং কামড় বিপজ্জনক হলেও খুব বিরল। বক্স জেলিফিশের মতো এরা রিফ অঞ্চলে থাকে। প্রথম কামড় টের নাও পাওয়া যেতে পারে। এরা প্রাণঘাতী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং কয়েকদিন প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। পানির বাইরে আসার পর যদি বমিভাব বা তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

জেলিফিশ প্রতিরোধী "স্টিঙ্গার-স্যুট" কিনতে প্রায় ১০০ ডলার লাগে বা সপ্তাহে ২০ ডলারে ভাড়া নেওয়া যায়।

নীল-চক্র অক্টোপাস

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের পাথুরে জোয়ারভাটা পুকুরে ছোট নীল-চক্র অক্টোপাস পাওয়া যায়। সাধারণত বালুমাখা বেইজ রঙের হলেও হুমকির মুখে এদের গায়ে উজ্জ্বল নীল বৃত্ত দেখা যায়। এরা বিরল ও ভীরু। পাথরের নিচে বা জোয়ারভাটা পুকুরে হাত না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানেই এরা লুকিয়ে থাকে। এদের বিষ খুবই শক্তিশালী এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে যদি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস না দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় নীল-চক্র অক্টোপাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।

কুমির

[সম্পাদনা]
লোনা পানির কুমির

উত্তর কুইন্সল্যান্ড, নর্দার্ন টেরিটরি ও উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লোনা পানির কুমিরের প্রাণঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিং সাউন্ড থেকে কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন পর্যন্ত এরা সমুদ্র, নদীর মোহনা ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এরা প্রায় ২৫ ফুট লম্বা হয় এবং হঠাৎ আক্রমণ করতে পারে। নামের সাথে "লোনা পানি" থাকলেও এরা মিঠা পানিতেও থাকে। স্থলে এরা সাধারণত স্থির থাকে, তবে হঠাৎ দ্রুতগতিতে নড়তে পারে। আক্রমণের বেশিরভাগই প্রাণঘাতী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। নিরাপদ না বলা পর্যন্ত এসব অঞ্চলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে একটি কুমির-আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

মিঠা পানির কুমির তুলনামূলক ভীতু এবং মানুষ এড়িয়ে চলে। তবে হঠাৎ ভয় পেলে বা ডিম রক্ষার সময় আক্রমণ করতে পারে। এদের কামড়ে আঘাত লাগে, তবে ছোট চোয়াল ও দাঁতের কারণে সচরাচর প্রাণঘাতী হয় না।

বিপজ্জনক উদ্ভিদ

[সম্পাদনা]

জিম্পি গাছ (Dendrocnide moroides), যাকে স্টিংগিং ট্রি নামেও ডাকা হয়, একটি দংশনকারী উদ্ভিদ। এর পাতায় ও ডালে থাকা অতি সূক্ষ্ম দংশনকারী লোম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। এই গাছ প্রধানত উত্তর-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে, বিশেষ করে রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবনের ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায়। তবে জিম্পি গাছ এবং এ ধরনের আরও প্রায় পাঁচটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে পূর্ব অস্ট্রেলিয়াতেও দেখা যায়। এ ধরনের এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে হাঁটার সময় ভ্রমণকারীদের কড়াভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন কোনো কারণেই এই গাছে হাত না দেন।

অপরাধ ও পুলিশ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় অপরাধের হার অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। ভ্রমণকারীদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চুরি, ব্যাগ কেড়ে নেওয়া বা পকেটমারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। কিছু শহরে রাতের বেলায় বিপজ্জনক এলাকা আছে, তবে সেগুলো সচরাচর পর্যটকদের যাওয়ার জায়গা নয়।

অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সাধারণত সহজলভ্য ও বিশ্বস্ত। কোনো আক্রমণ, চুরি বা অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো উচিত।

অস্ট্রেলিয়ায় দুই ধরনের পুলিশ রয়েছে: রাজ্য/আঞ্চলিক পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সাধারণত ভ্রমণকারীরা রাজ্য পুলিশের সাথেই যোগাযোগ করে। এএফপি মূলত সরকারি বিশেষ দায়িত্বে থাকে, তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এএফপিই মূল পুলিশ বাহিনী হিসেবে কাজ করে, নাম ‘‘এসি-টি পুলিশিং’’।

অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে (যেমন কাস্টমস অফিসার) ঘুষ দেওয়া গুরুতর অপরাধ, এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।

গাড়ি রেখে গেলে অবশ্যই তালা দেওয়া, জানালা বন্ধ করা এবং গাড়ির ভেতরে মোবাইল, জিপিএস বা ব্যাগের মতো দৃশ্যমান কিছু না রাখা উচিত। চোরেরা প্রায়ই কাচ ভেঙে এসব নিয়ে যায়।

প্রতারণা

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতারণামূলক কার্যকলাপ খুব বেশি দেখা যায় না। ভ্রমণকারীদের সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে অপরাধীরা এটিএমে কারসাজি করে মুদ্রা আটকে রাখে বা কার্ডের তথ্য নেয়। এটিএম ব্যবহার করার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে অবিলম্বে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। পিন নম্বর দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন, যাতে স্কিমিং ডিভাইস বা ক্যামেরা রেকর্ড করতে না পারে।

এটিএম স্কিমিং বিরল এবং সহজেই এড়ানো যায়-বিশ্বস্ত ব্যাংকের (এএনজেড, কমনওয়েলথ, ওয়েস্টপ্যাক, ন্যাব) এটিএম ব্যবহার করুন অথবা ব্যাংকের ভেতরের এটিএম ব্যবহার করুন, যেগুলো সাধারণত ২৪/৭ খোলা থাকে এবং বাইরে থেকে নিরাপদ।

এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও) কখনোই স্পটিফাই বা আইটিউনস গিফট কার্ড দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে বলে না। এই ধরনের প্রতারণা বিশেষত প্রবীণ ও অজ্ঞ মানুষদের লক্ষ্য করে করা হয়। কোলস, উলি, মায়ার, টার্গেট, বিগ ডব্লিউ, কেমার্ট ইত্যাদি দোকানে প্রায়শই ক্যাশ কাউন্টারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে, যা পড়ে রাখা ভালো।

বর্ণবৈষম্য

[সম্পাদনা]
ড্রাইভারের গাড়ির নম্বরপ্লেট তাকে "ওগ" বলার আমন্ত্রণ নয়

অস্ট্রেলিয়া বাইরে থেকে একটি বহুসংস্কৃতিমূলক এবং জাতিগতভাবে সহিষ্ণু সমাজ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও জাতিগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবুও, দেশটির ঔপনিবেশিক ইতিহাস পুরোপুরি অতিক্রম করা যায়নি, তাই বর্ণবৈষম্য একটি সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। আদিবাসীদের জমি দখল, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, রাষ্ট্র-সমর্থিত বর্ণবাদ, এমনকি আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা (যা "চুরি হওয়া প্রজন্ম" নামে পরিচিত) বিশ শতক পর্যন্ত চলেছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফলে সাদা-প্রাধান্যভিত্তিক অভিবাসননীতি বাতিল হয়েছে, আদিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর বড় বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

তবে সবাই এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়, বিশেষ করে আদিবাসীরা এখনও ব্যাপক বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত হঠাৎ করে জাতিগত গালাগালির শিকার হন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহিংস ঘটনা আরও বিরল।

ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে জাতিগত পরিচয় নিয়ে কিছু শব্দ ব্যবহার করে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি "পম" (ব্রিটিশ), "ইয়াঙ্ক" (আমেরিকান), "পাকি" (ভারতীয় উপমহাদেশীয়), "ওগ" (দক্ষিণ ইউরোপীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের লোক), এবং "কারি মান্চার" (দক্ষিণ ভারতীয়) শব্দ শুনতে পারেন। বিশেষত ব্রিটিশরা এই শব্দগুলোকে অপমানজনক মনে করে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বেশি সহজভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনোই আদিবাসীদের "আবো", "নেটিভ ট্রাইবস", "অ্যাবরিজিনস" বা "নুগাস" বলা যাবে না, এগুলো অত্যন্ত বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় কিছু অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন ও অ্যান্টি-মাল্টিকালচারাল গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালায়। ভ্রমণকারীদের এদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাতে কোনো পাব-এ গিয়ে কারও জাতিগত মতামত খোঁচাতে চাইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মেলবার্নের পশ্চিমাঞ্চলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পৃক্ত কিছু অপরাধ ঘটেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এতে বর্ণবাদী মনোভাব আরও উসকে দিয়েছে।

"অজি" (ওজি) শব্দটি অস্ট্রেলিয়ানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করলে অপমানজনক নয়, তবে তারা সাধারণত নিজেদের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং "অজি রুলস" জাতীয় খেলা বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে "অজি, অজি, অজি - ওই, ওই, ওই" ধ্বনি উঠলে কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করেন, আবার কেউ যোগ দেন। এটি প্রায়শই তাদের সামাজিক অবস্থান বা মদ্যপ অবস্থার উপর নির্ভর করে।

সিডনি, মেলবার্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড, গোল্ড কোস্ট, নিউক্যাসল, হোবার্ট বা ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া বহুসংস্কৃতিমূলক মনে হলেও, গ্রামীণ এলাকাগুলো সাধারণত কম বৈচিত্র্যময় এবং তাদের অ্যাংলো-সেল্টিক ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকে। যারা বাইরে থেকে "অজি" বলে মনে হয় না, তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। তবে এটি সাধারণত অভিবাসীদের (বিশেষত ভিয়েতনামি, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত) বিরুদ্ধে হয়, পর্যটকদের বিরুদ্ধে নয়।

তামাক

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ ধূমপায়ীদের জন্য। এক প্যাকেট বৈধ সিগারেটের দাম ৫০ ডলারেরও বেশি। ভেপ পাওয়া গেলে তার দাম প্রায় ৬০ ডলার। কালোবাজারি ঢিলা তামাক "চপ-চপ" নামে পরিচিত, আর অবৈধভাবে আনা চীনা সিগারেটও দোকানে গোপনে বিক্রি হয়।

অবৈধ মাদক

[সম্পাদনা]

অপিয়াম, হেরোইন, অ্যামফেটামিন (স্পিড), কোকেইন ("কোক"), এলএসডি এবং এক্সট্যাসি ("মলি") অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্যে রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাদক পাচারে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হয়, আর গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য দেশের সাথে মাদক পাচারের তথ্য শেয়ার করে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এমন দেশগুলোর সাথেও।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গাঁজা ("মারিজুয়ানা"/"উইড"/"পট"/"গাঞ্জা") ব্যবহার ফেডারেল স্তরে বৈধ হলেও প্রেসক্রিপশন পাওয়া জটিল প্রক্রিয়া, যা পর্যটকদের জন্য কার্যত অসম্ভব। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ক্যানবেরা) ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বৈধ করেছে, তবে বাণিজ্যিক বিক্রি অনুমোদিত নয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নর্দার্ন টেরিটরিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিমাণ রাখা অপরাধ নয়, তবে জরিমানা হয়। অন্যান্য সব রাজ্যে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং বিদেশিদের জন্যও শাস্তি সমান কঠোর। মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ, এতে গ্রেফতার, মামলা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।

কোনো অবস্থাতেই অবৈধ মাদক অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না, এমনকি গাঁজাও নয়। এর শাস্তি দীর্ঘমেয়াদী জেল, এমনকি যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রায়ই মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেন, যা যাত্রীদের লাগেজে মাদক শনাক্ত করে। এমনকি কেউ ভ্রমণের আগের দিন গাঁজা খেলেও তা শনাক্ত করতে পারে, ফলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে পড়তে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ার নিকটে থাকার কারণে এখানে হেরোইন কোকেইনের চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বড় শহরের কিছু এলাকায় ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে পর্যটন এলাকায় নয়, বরং অপ্রচলিত গলিতে।

অস্ত্র

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র রাখার নিয়ম খুবই কঠোর। সাধারণত গ্রামীণ এলাকার শিকারি, কৃষক ও ক্রীড়া শুটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে কোনো ধরনের অস্ত্র রাখার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ। একক গুলি চালানো রাইফেল, শটগান বা পিস্তল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল। শহরের অপরাধী গ্যাংদের হাতে মাঝে মাঝে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তবে ভ্রমণকারীরা সচরাচর এদের সম্মুখীন হয় না।

অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। ভ্রমণের আগে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা পুলিশ পারমিট নিতে হয়।

এলজিবিটি ভ্রমণকারী

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: এলজিবিটি ভ্রমণ

অস্ট্রেলিয়ায় বয়সসীমা সমানভাবে নির্ধারিত-সব রাজ্যে ১৬ বছর, তবে তাসমানিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ বছর। সমলিঙ্গ বিবাহ ২০১৭ সালে বৈধ হয়েছে, যখন ডাকযোগে হওয়া এক গণভোটে ৬১% মানুষ সমর্থন জানায়।

সমকামিতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতোই। সিডনি বিশ্বের অন্যতম সমকামী-বান্ধব শহর হলেও কুইন্সল্যান্ড ও নর্দার্ন টেরিটরির মতো রক্ষণশীল গ্রামীণ এলাকায় সতর্ক থাকা ভালো। যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা আইনত নিষিদ্ধ এবং ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি সহায়তা সীমিত হতে পারে। ট্রান্সজেন্ডাররাও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।

সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সমকামী সংস্কৃতির কেন্দ্র এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বের অন্যতম বড় সমকামী উৎসব সিডনি গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত-সহস্র মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করতে আসে। অ্যালিস স্প্রিংস-এ এপ্রিল-মে মাসে "অ্যালিস ইজ ওয়ান্ডারল্যান্ড ফেস্টিভাল" হয়। মেলবোর্ন-এ প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার মিডসামা ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হয়।

সুস্থ থাকুন

[সম্পাদনা]
১৯৩৭ সালের "সানবেকার" অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি।

অস্ট্রেলিয়ার অক্ষাংশে সূর্যের আলোয় থাকলে প্রায়ই রোদে পোড়া (সানবার্ন) হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের ত্বকের ক্যান্সারের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। রোদে পোড়া হলে জ্বর জ্বর লাগতে পারে, শরীর খারাপ হতে পারে এবং সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, পোড়ার তীব্রতার উপর নির্ভর করে। এর মানে হলো রোদে পোড়া না সারানো পর্যন্ত আপনি বাইরে সূর্যের নিচে যেতে পারবেন না। তাই সমুদ্রসৈকতে ছুটির প্রথম দিনেই রোদে পোড়া হলে পুরো ভ্রমণের আনন্দ কমে যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিষ্কার দিনে মাত্র ১৫ মিনিটে রোদে পোড়া হতে পারে-even ছায়ায় দাঁড়িয়েও। তাই সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৫০+), জামা-কাপড় এবং টুপি ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

সানস্ক্রিন প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর আবার মাখুন, বিশেষ করে ঘামলে বা সাঁতার কাটলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের সব জায়গা ভালোভাবে ঢেকে দিন। দুপুরবেলার অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) সকাল বা বিকেলের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হতে পারে, তাই সবচেয়ে গরম সময়ে রোদ এড়ানোই ভালো। প্রতিদিনের ইউভি পূর্বাভাস অনলাইনে আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেওয়া হয়।

স্প্রে সানস্ক্রিন বোতল থেকে ছিটিয়ে দেওয়া সহজ হওয়ায় জনপ্রিয়, তবে এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের তুলনায় অনেক কম কার্যকর।

আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যান, একটি সান-টেন্ট কেনার কথা ভাবতে পারেন (ডিসকাউন্ট বা হার্ডওয়্যার দোকানে ২০ ডলারেরও কমে পাওয়া যায়)। অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে সাধারণত ছাতা ভাড়া পাওয়া যায় না, আর এগুলো অনেকটাই খোলা জায়গায় থাকে।

খাদ্য প্রস্তুতি

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মান অনেক উঁচু। রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোর খাদ্য প্রস্তুতির মান বজায় রাখতে হয়। খাদ্যে বিষক্রিয়ার হার অন্যান্য উন্নত দেশের সমান।

শহরের কলের পানি সবসময় পান করার জন্য নিরাপদ। মাঝে মাঝে রিসাইকেল করা পানি ট্যাপ দেখতে পাবেন যা শুধু গাছে পানি দেওয়ার জন্য, এগুলো বেগুনি রঙের হয়। শহরে ও পর্যটনকেন্দ্রে পাবলিক পানির ফোয়ারা ও বোতল ভরার স্টেশন সাধারণত থাকে। পানির স্বাদ ও কঠোরতা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন হয়। যেমন অ্যাডিলেড শহরে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হয়, যার স্বাদ খারাপ হলেও পান করার জন্য নিরাপদ। অনেক পরিবার পানি পরিশোধক জগ ব্যবহার করে। বোতলজাত পানি সর্বত্র সহজলভ্য। গরম দিনে শহরে পানি বহন করা ভালো, আর হাইকিং বা শহরের বাইরে ভ্রমণে এটি একেবারেই প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী আউটব্যাকে অনেক জায়গায় কলের পানি পরিশোধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে সেদ্ধ করার বিকল্প হিসেবে পানি জীবাণুনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণে বের হলে কতটুকু পানি নিতে হবে, ভেঙে পড়লে কীভাবে সামলাবেন-এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, প্রায় প্রতিবছরই কেউ না কেউ আউটব্যাকে তৃষ্ণায় মারা যায়। গাড়ি বিকল হলে গাড়ির কাছে থাকুন, কারণ এতে ছায়া পাওয়া যায় এবং আপনাকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো সংক্রামক রোগ নেই যা বিশেষ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো, যদি আপনি ভ্রমণের ৬ দিনের মধ্যে কোনো হলুদ জ্বর আক্রান্ত দেশ থেকে আসেন, তাহলে প্রবেশের সময় হলুদ জ্বরের টিকার প্রমাণ দেখাতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সারা বছর মশা থাকে, আর দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে। জানালা ও দরজায় জাল লাগানো থাকে এবং বাজারে প্রতিরোধক সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলে মশার মাধ্যমে "রস রিভার ভাইরাস" ছড়ায়, যা কয়েক সপ্তাহ অসুস্থ রাখতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরও হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়ায় ম্যালেরিয়া নেই।

চিকিৎসা

[সম্পাদনা]
রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিসের বিমান

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর হলো ০০০। যেকোনো চিকিৎসা জরুরিতে এই নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা ডাকতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা মান উন্নত দেশের মতো। বিশেষ করে, এখানে রক্ত দেওয়া নিরাপদ, কারণ সব দাতার রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য রোগ পরীক্ষা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ঘনত্ব কম; অনেক জায়গা চিকিৎসা সুবিধা থেকে অনেক দূরে। এসব জায়গায় রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস কাজ করে। ৫,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার ছোট শহরে জরুরি চিকিৎসার জন্য ছোট হাসপাতাল থাকে। বড় শহরে রুটিন ও কিছু জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বেস হাসপাতাল থাকে। জটিল চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রাজধানী শহরে নেওয়া হয়।

রাজধানী শহরগুলোতে মেডিকেল সেন্টার থাকে, যেখানে সপ্তাহান্তে বা রাত অবধি চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে ছোট শহরে সময় নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হতে পারে। জরুরি না হলে হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।

  • বিষ সংক্রান্ত তথ্য হটলাইন, ১৩ ১১ ২৬ (শুধু অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে) ভুলবশত কোনো ওষুধ বা বিষ গ্রহণ করলে বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া মাকড়সার কামড়ের মতো বিষয়ে কী চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও বলে দেয়। তবে তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা হলে অবশ্যই '০০০' নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন।

চিকিৎসা খরচ ও ভ্রমণ বিমা

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা কর-অর্থায়িত মেডিকেয়ার ব্যবস্থার সুবিধা নেন। বিদেশি শ্রমিক বা শিক্ষার্থীদের (যদি পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে) সাধারণত ভিসার শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিতে হয়। স্বল্প মেয়াদের বিদেশি ভ্রমণকারীদের ভ্রমণ বিমা থাকা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বেসরকারি হাসপাতাল বা দাঁতের চিকিৎসা কাভার করে না, এগুলোর জন্য আপনাকে বেসরকারি বিমা নিতে হবে।

বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, স্লোভেনিয়া, সুইডেনযুক্তরাজ্য থেকে আগত পর্যটকেরা বিনামূল্যে জরুরি মেডিকেয়ার চিকিৎসা পান। তবে শর্ত ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কেবল হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে পান, অন্যরা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ভর্তুকি পান। তবে বেসরকারি হাসপাতালে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না, সব খরচ নিজেকেই বহন করতে হয় বা ভ্রমণ বিমা দিয়ে দিতে হয়।

যদি আপনার দেশের সঙ্গে কোনো পারস্পরিক স্বাস্থ্যচুক্তি না থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যেতে প্রায় ৮০ ডলার খরচ হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদা। হাসপাতালে ভর্তি না হলেও ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, আর ভর্তি হলে ১,০০০ ডলারেরও বেশি লাগতে পারে। উদ্ধার ও রয়্যাল ফ্লাইং ডাক্তার সার্ভিস বিনামূল্যে হলেও, ছোট শহর থেকে রাজধানীতে বা দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও অ্যাম্বুলেন্স ও এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে পান না। স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারও বিক্রি করে। তবে সেগুলো প্রায়ই শুধু নিজের রাজ্যে কার্যকর থাকে, তাই অন্য রাজ্যে ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হোন। দেশীয় ভ্রমণ বিমা সাধারণত চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স ব্যয় কাভার করে না। জরুরিতে মেডিকেয়ার অ্যাম্বুলেন্স খরচ (১,০০০ ডলার থেকে শুরু) দেয় না; শুধু অ্যাম্বুলেন্স কাভারসহ বেসরকারি বিমাই এই ব্যয় বহন করবে।

সাপ ও মাকড়সার বিষের প্রতিষেধক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার না হলেও এর খরচ ১০,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।

সংযোগ

[সম্পাদনা]

টেলিফোন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক কল

[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক কলের প্রধান অ্যাক্সেস কোড বা প্রিফিক্স হলো ০০১১। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ০০১১ প্রিফিক্সের পরিবর্তে প্লাস চিহ্ন "+" ব্যবহার করা যায়।

ডায়ালিং কোড

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক কল করার জন্য দেশের কোড হলো +৬১। বিদেশ থেকে কল করার সময় এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হবে। একই এরিয়া কোডের মধ্যে কল করলে এরিয়া কোড ব্যবহার করা ঐচ্ছিক।

নরফোক দ্বীপ ও অস্ট্রেলিয়ান-অ্যান্টার্কটিক ঘাঁটির জন্য +৬৭২ কোড ব্যবহার করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার কোড নয়। বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট নিবন্ধ দেখুন।

অস্ট্রেলিয়ার এরিয়া কোড তালিকা:

  • ০২ = সেন্ট্রাল ইস্ট (নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ)
  • ০৩ = সাউথ ইস্ট (দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া)
  • ০৪ = সারা দেশে মোবাইল ফোন (কল চার্জ বেশি)
  • ০৭ = নর্থ ইস্ট (কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু অংশ)
  • ০৮ = সেন্ট্রাল ও ওয়েস্ট (পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নর্দান টেরিটরি ও পশ্চিম নিউ সাউথ ওয়েলস)

লোকাল কল বিনামূল্যে।

  • বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরে কল করতে চাইলে ফরম্যাট হবে +৬১ ৮৮০৮০৩৩০০ (শুরুতে "০" দেবেন না; প্রয়োজনে "+" এর পরিবর্তে আপনার দেশের আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স ব্যবহার করুন)।
  • অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে চাইলে প্রথমে আন্তর্জাতিক প্রিফিক্স (০০১১ বা "+") চাপুন, এরপর দেশের কোড, গন্তব্যের এরিয়া কোড, তারপর স্থানীয় নম্বর। বেশিরভাগ দেশে এরিয়া কোডের শুরুতে থাকা "০" বাদ দিতে হয় (অস্ট্রেলিয়ার মতো)।

উদাহরণ: মোরি ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের স্থানীয় নম্বর হলো ৬৭৫৭-৩৩৫০। মোরি যেহেতু সেন্ট্রাল ইস্ট অঞ্চলে পড়ে, তাই এরিয়া কোড হবে ০২। সিডনি বা একই এরিয়া কোড থেকে কল করলে শুধু ৬৭৫৭-৩৩৫০ ডায়াল করলেই হবে। ব্রিসবেন বা অন্য কোনো ভিন্ন এরিয়া কোড অঞ্চল থেকে কল করলে ০২ ৬৭৫৭-৩৩৫০ ডায়াল করতে হবে। আপনি আপনার এরিয়া কোড না জানলেও এরিয়া কোড লিখে দিলে কাজ করবে। বিদেশ থেকে কল করতে হলে +৬১ ২ ৬৭৫৭-৩৩৫০ ডায়াল করতে হবে।

বিশেষ নম্বর

[সম্পাদনা]
  • ১৩ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো লোকাল কল রেটে চার্জ হয়, এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা দেয়। এগুলো ৬ বা ১০ সংখ্যার হতে পারে। যেমন, ১৩০০ ৭৯৬ ২২২ নম্বরে কল করলে অলবারি ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনে সংযুক্ত হবেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার যেখানেই থাকুন না কেন। তবে ১৩১ ০০৮ নম্বরে কল করলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ট্যাক্সি সেবার সাথে সংযোগ দেবে। ১৩ ২২ ৩২ কল করলে নিউ সাউথ ওয়েলস রেলওয়ে (সিডনি) বা ভিক্টোরিয়া রেলওয়ের (মেলবোর্ন)- সাথে সংযোগ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে এই নম্বরগুলোতে কল করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।
  • ১৮ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো পে-ফোন বা ল্যান্ডলাইনে বিনামূল্যে, এবং প্রায়ই হোটেল রিজার্ভেশন বা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশনের জন্য ব্যবহার হয়।
  • ১৯ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো প্রিমিয়াম, এবং এদের কল চার্জ অত্যন্ত বেশি হতে পারে। কল করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।
  • ১২ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বরগুলো ক্যারিয়ার সেবা, এবং আপনি কোন নেটওয়ার্কে আছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, ১২ ৪৫৬ হলো টেলস্ট্রার সাধারণ তথ্য সেবা। ভোডাফোন একই ধরনের সেবা দেয় ১২৩ নম্বরে। এগুলোও প্রিমিয়াম সেবা হতে পারে।

বিশেষ নম্বরগুলোতে আন্তর্জাতিক কল অনেক সময় কাজ করতে পারে-শুধু নম্বরের আগে +৬১ কোড যোগ করে চেষ্টা করুন। অনেক সময় আলাদা সরাসরি আন্তর্জাতিক নম্বরও দেওয়া থাকে।

রিভার্স চার্জ (কলেক্ট) কল করা খুব ব্যয়বহুল এবং সমস্যাজনক হতে পারে। টেলস্ট্রা পাবলিক ফোন থেকে ১২৫৫০ ব্যবহার করতে পারেন, অথবা যেকোনো ফোন থেকে ১৮০০ NO CASH ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেই নম্বরে কল করছেন সেটি অবশ্যই চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে (সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা বড় টেলকোর মোবাইল)।

মোবাইল ফোন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক রয়েছে-টেলস্ট্রা, অপটাস এবং ভোডাফোন। প্রতিটি নেটওয়ার্কের আবার অনেক রিসেলার আছে। এরা সবাই এলটিই (৪জি) এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে; ৩জি ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে এবং ২০২৪ সালের শেষে এটি আর চালু থাকবে না। সাধারণভাবে টেলস্ট্রা সবচেয়ে ভালো কাভারেজ দেয়, তবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুলও। ভোডাফোন সাধারণত সস্তা, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জনশূন্য বা জনবসতি কম এমন এলাকা, বিশেষ করে প্রধান সড়কের বাইরে, অনেক সময় কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। আপনি যদি গভীর বুশ অঞ্চলে যান, তবে স্যাটেলাইট ফোন হয়তো একমাত্র সমাধান। মনে রাখবেন, সব ধরনের মোবাইল ফোন দিয়ে যেকোনো নেটওয়ার্কে জরুরি কল করা যায়-এমনকি স্থানীয় সিম না থাকলেও বা রোমিং সক্রিয় না থাকলেও। স্যাটেলাইট ফোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

বিদেশি সিম কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক রোমিং সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার ৪জি নেটওয়ার্কে সহজেই কাজ করে, তবে এটি আপনার নিজ দেশের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির উপর নির্ভর করে। ৫জি নেটওয়ার্ক ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে চলে, তাই আপনার ফোনের সামঞ্জস্যতার উপর নির্ভর করে কাভারেজ ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণের আগে আপনার স্থানীয় অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন। বিদেশি নাগরিকরা সহজেই অস্ট্রেলিয়ার প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন, তবে সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্টের মতো ছবি-সংবলিত আইডি লাগতে পারে।

একটি সস্তা প্রিপেইড মোবাইল ফোন ও সিমসহ প্রায় ৪০ মার্কিন ডলারে অধিকাংশ দোকান, সুপারমার্কেট ও পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সিম কিনতে চাইলে দাম প্রায় ২–৩ ডলার। প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সব সুপারমার্কেট, সংবাদপত্রের দোকান, কিছু এটিএম এবং অন্যান্য আউটলেটে পাওয়া যায়।

ডেটা, এসএমএস ও কল সময় মিলিয়ে অসংখ্য ধরনের প্যাকেজ, সিম ও ফোন বান্ডল কেনা যায়। কিছু অপারেটর কলের মিনিট বা এসএমএস আলাদা না দেখিয়ে প্যাকেজে একটি নির্দিষ্ট অর্থমূল্য দেয়, এবং আপনাকে আলাদা করে কল, এসএমএস ও ডেটা রেট দেখে হিসাব করতে হয়। এক প্ল্যান থেকে আরেক প্ল্যানে এ রেট ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান নির্বাচন করা জরুরি, কারণ প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত কল বা ডেটা ব্যবহার করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। প্রচলিত সিম কার্ডের বিকল্প হিসেবে ভ্রমণকারীরা বাজটেল-এর মতো স্থানীয় প্রদানকারীদের ই-সিমও নিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডেটা-সেবা দেয়।

৩জি বন্ধ হওয়ার কারণে আপনার বর্তমান ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারযোগ্য হবে কি না তা নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ে-ফোনে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সমর্থন থাকতে হবে, প্রস্তুতকারককে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার অন্তত একটি অপারেটরের কনফিগারেশন ফাইল ফোনে লোড করতে হবে, ফোনটিকে জরুরি কলের জন্য এলটিই-তে সমর্থন করতে হবে, এবং সার্ভিস প্রদানকারীকে সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফোনটি অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হয় কিনা তা সামঞ্জস্যতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ রপ্তানি অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো ভিন্নতা থাকতে পারে। অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত, রোমিং (অর্থাৎ নিজের দেশের সিম নিয়ে আসা) কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা পরিষ্কার নয়। আপনি হয়তো শুধুমাত্র ডেটা প্ল্যান কিনতে পারবেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহার ও এসএমএস গ্রহণের সুযোগ দেবে (কিন্তু পাঠানো যাবে না), তবে কল করা বা ধরা যাবে না-এখনো তা নিশ্চিত নয়। হয়তো আপনাকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ফোন কিনতে হবে। তবে ওয়াই-ফাই এতে প্রভাবিত নয়, তাই শহর ও গ্রামে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব।

স্যাটেলাইট ফোন

[সম্পাদনা]
একটি সাধারণ টেলস্ট্রা পে-ফোন

দূরবর্তী এলাকায় ব্যবহার উপযোগী স্যাটেলাইট ফোন অস্ট্রেলিয়ায় ভাড়া পাওয়া যায়। ইরিডিয়াম, গ্লোবালস্টার ও থুরাইয়া সেবা চালু আছে। ভাড়ায় নিতে সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়, কল চার্জ আলাদা। শুধু বার্তা পাঠানোর ডিভাইস সপ্তাহে প্রায় ৮০ ডলারে পাওয়া যায়।

এই যন্ত্রগুলো কেবল বিশেষায়িত বিক্রেতাদের কাছেই পাওয়া যায়, আর তা-ও সাধারণত বড় শহরগুলোতে (আপনি যে দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে পারেন তার বাইরে)। তবে চাইলে আপনি যাত্রার আগে নিজ দেশ থেকেই এসব যন্ত্র কিনতে বা ভাড়ায় নিতে সক্ষম হবেন।

স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে জরুরি কল করা যায়, এর জন্য সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে সস্তা ফোনের দাম প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার, যা একটি পিএলবির (পার্সোনাল লোকেটর বিকন) চেয়ে সামান্য বেশি মাত্র।

গণফোন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শহর ও উপশহরে অন্তত একটি করে গণফোন থাকে। প্রায় সব রেলস্টেশনেই গণফোন থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সব গণফোন থেকে স্থানীয় ল্যান্ডলাইন ও মোবাইলে কল ফ্রি। আন্তর্জাতিক কল করার জন্য টেলস্ট্রা বা সংবাদপত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষের কলিং কার্ড ব্যবহার করা যায়। যেকোনো টেলস্ট্রা গণফোন থেকে পুরোনো ধাঁচের মোবাইল ফোনের মতো কীপ্যাড ব্যবহার করে বিনামূল্যে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যায়। ফোনের ডিসপ্লেতে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ওয়াইফাই

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব ধরনের আবাসন, যেমন যুব হোস্টেল ও ক্যারাভান পার্ক থেকে শুরু করে ৫-তারকা হোটেল পর্যন্ত, ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে। অধিকাংশ ক্যাফে, শপিং মল এমনকি কিছু গণপরিবহন যেমন ট্রেন ও ফেরিতেও ওয়াই-ফাই থাকে। পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পাবলিক লাইব্রেরি সবচেয়ে ভালো জায়গা। ইন্টারনেট ক্যাফে প্রায় বিলুপ্ত, যদিও কিছু গেমিং ক্যাফে এখনো আছে।

বড় শহরগুলোতে শপিং মল ও বড় দোকানে ফ্রি ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়, এবং ক্রমশই গণপরিবহনেও এটি চালু হচ্ছে। সিডনির ফেরি ও অ্যাডিলেডের ট্রাম ফ্রি ওয়াই-ফাই সরবরাহ করে।

রেডিও ও টেলিভিশন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার দুটি জাতীয় পাবলিক সম্প্রচারক রয়েছে: এবিসি এবং এসবিএস। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) স্থানীয় রেডিও, ট্রিপল জে (যুব/ইন্ডি সংগীত) ও এবিসি ক্লাসিক এএম/এফএম রেডিওতে সম্প্রচার করে এবং পাঁচটি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করে। স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (এসবিএস) ছয়টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি অ্যানালগ রেডিও স্টেশনে বেশি জাতিগত, দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার করে। উভয় সম্প্রচারকই জনবহুল অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এবিসির রেডিও কভারেজ বেশি। রাজধানীগুলোতে ডিএবি+ ডিজিটাল রেডিওও পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় তিনটি ফ্রি-টু-এয়ার বাণিজ্যিক টিভি নেটওয়ার্ক রয়েছে: সেভেন, নাইন এবং টেন। শহর ও নগরের প্রায় সব আবাসনেই এসব চ্যানেল পাওয়া যায়। কেবল টিভির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান আগে ফক্সটেল ছিল, যা এখনো অনেক হোটেলে প্রচারিত হয়, তবে বর্তমানে নেটফ্লিক্স ও এর স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্যানকায়ো স্পোর্টস বেশি জনপ্রিয়।

শহর যত বড়, রেডিও স্টেশনও তত বেশি। গ্রামীণ শহরে সাধারণত একটি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন এবং এবিসি থাকে। গ্রামীণ শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে প্রায়ই সব রেডিও সিগনাল হারাতে পারেন। তাই আগে থেকেই গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করা ভালো। জরুরি অবস্থা বা বুশফায়ার ঝুঁকির সময় ভ্রমণের সময় এবিসির সম্প্রচারে মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংবাদ

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জাতীয় ব্রডশিট পত্রিকা হলো দ্য অস্ট্রেলিয়ান, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংবাদে বিশেষায়িত দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ। এছাড়াও রাজ্যভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিডনিভিত্তিক দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এবং দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, এবং মেলবোর্নভিত্তিক দ্য এজহেরাল্ড সান

ডাক ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
এক্সপ্রেস (হলুদ) ও সাধারণ (লাল) অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্স

অস্ট্রেলিয়া পোস্ট অস্ট্রেলিয়ার ডাকসেবা পরিচালনা করে। লাল রঙের অস্ট্রেলিয়া পোস্টের ডাকবাক্সে চিঠি ফেলা যায়, যা পোস্ট অফিস ও অন্যান্য অনেক জায়গায় থাকে। ডাকটিকিট সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়, কিছু টিকিট সংবাদপত্র বিক্রেতা ও হোটেলেও মেলে। অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে একটি সাধারণ চিঠি বা পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় ১.৭০ ডলার (২৫০ গ্রাম পর্যন্ত), আর আন্তর্জাতিক ডাকের খরচ ৩.০০ থেকে ৩.৭০ ডলার (২০ গ্রাম পর্যন্ত)। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডাক পাঠাতে খরচ হয় ২.৪০ ডলার, তবে খামে "শুধু কার্ড" লিখতে হয়। ‘ডোমেস্টিক’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টিকিট আলাদা, কারণ আন্তর্জাতিক ডাক করমুক্ত। তাই সঠিক টিকিট ব্যবহার করা জরুরি। পার্সেল, এক্সপ্রেস পোস্টসহ অন্যান্য সেবাও পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানার ধরন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো:

প্রাপকের নাম
(প্রয়োজন হলে) ইউনিট নম্বর বা ভবনের নাম
বাড়ির নম্বর ও সড়কের নাম
শহর বা নগর, রাজ্যের ২ বা ৩ অক্ষরের সংক্ষিপ্ত রূপ, পোস্টকোড

যেকোনো শহর বা নগরে পোস্তে রেস্তান্তে ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক গ্রহণ করা যায়। চিঠি প্রাপকের পূর্ণ নাম লিখে c/o Post Restante হিসেবে পাঠাতে হয়। ডাক সংগ্রহের জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন

This country travel guide to অস্ট্রেলিয়া has guide অবস্থা. It has a variety of good, quality information about the country, including links to places to visit, attractions, arrival and departure info. Please contribute and help us make it a star!

{{#assessment:country|guide}}