উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান, যা নওগাঁ জেলার অন্তর্গত। এটি দেশের রাজধানী ঢাকা হতে ২৫০ কিমি উত্তরে নওগাঁ জেলায় অবস্থিত যা ২০১১ সালে স্থাপন করা হয়।

বিশেষত্ব[সম্পাদনা]

আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার আলতাদিঘী নামের একটি দিঘীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ছে সুবিশাল শালবন এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদে পরিপূর্ণ ২৬৪.১২ হেক্টর জমির একটি বনভূমির যার ঠিক মাঝখানেই রয়েছে প্রায় ৪৩ একর আয়তনের বিশাল দিঘীটি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে এটিকে “আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান” হিসাবে ঘোষণা করে এবং উদ্যানের পশের ১৭.৩৪ হেক্টর বনভুমিকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করে।

আলতাদিঘীটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অংশে অবস্থিত একটি প্রাচীন জলাশয়। দিঘীটির আয়তন ৪৩ একর। এই জলাশয় দৈর্ঘ্যে ১১০০ মিটার এবং প্রস্থে ৫০০ মিটার। পাহাড়ের মতো পাড়গুলি উঁচু এবং দক্ষিণ পাড় শালবনে ঢাকা। প্রাচীন দিঘীগুলির মধ্যে এটিই বোধ হয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সচল দিঘী। উল্লেখ্য বিশাল দিঘি রামসাগরের দৈর্ঘ্য এটির চেয়ে ১৫০ মিটার বেশি হলেও চওড়ায় ১৫০ মিটার কম। আর রামসাগর ১৭৫০ সালের দিকে খনন করা হয়। কিন্তু আলতাদিঘী হিন্দু-বৌদ্ধ যুগের দিঘী। প্রমাণের অভাবে এই জলাশয়ের ইতিহাস সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছু বলা যায় না। তবে এই জলাশয় জগদ্দল মহাবিহারের সমসাময়িক হতে পারে।

আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, শিয়াল, অজগর ও বানর পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, পোকামাকড়সহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে। বিশেষতঃ শালগাছকে আলিঙ্গণ করে গড়ে ওঠা উঁই পোকার ঢিবিগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

কীভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে সকাল সন্ধ্যা যেকোন সময় বেশ কয়েকটি বাস সরাসরি নওগাঁ যায়। ঢাকার গাবতলী এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নওগাঁ যাবার জন্য এসি-ননএসি বাস আছে। এর মধ্যে এসআর পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন উল্লেখযোগ্য।

নওগাঁ সদরের সাথে সরাসরি কোন রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। তবে নওগাঁ শহরের অদূরেই শান্তাহার রেল জংশন অবস্থিত। শান্তাহার পর্যন্ত রেলে গিয়ে, সেখান থেকে খুব সহজেই অটো রিকশা বা অন্য কোন বাহনে যাওয়া যায়। শান্তাহার থেকে নওগাঁ শহরের দূরত্ব প্রায় ৭ কিঃ মিঃ।

নওগাঁয় কোনো বিমানবন্দর নেই; নওগাঁ হতে প্রায় ৭০ কিঃমিঃ উত্তরে রাজশাহীতে 'শাহ মখদুম বিমানবন্দর' অবস্থিত। এখানে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে উড়োজাহাজ চলাচল করে। রাজশাহী থেকে বাস যোগে নওগাঁ যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

অপ্রতুলতা, নাব্যতা ও ক্ষীণতার কারণে এখানে কোনো নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

ঘুরে দেখুন[সম্পাদনা]

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়াতে পারেন; এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো -

  1. জগদ্দল মহাবিহার;
  2. ভীমের পান্টি;
  3. পাগল দেওয়ান মাজার]];
  4. পাগল দেওয়ান গণকবর ও বদ্ধভুমি;
  5. ভাঙ্গাদিঘী;
  6. আগ্রাদ্বিগুন ধাপ

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

ধামইরহাটে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্যে রয়েছে উন্নতমানের রেস্টহাউস।

কী খাবেন[সম্পাদনা]

নওগাঁতে কোন বিখ্যাত খাবারের দোকান নেই। এখানকার মিষ্টান্ন ও দই বেশ সুস্বাদু।

সতর্কতা[সম্পাদনা]

যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ করতে পারেন -

জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসি, ধামইরহাটঃ মোবাইল: ০১৭১৩-৩৭৪ ৩২৩।

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন