ইলোকোস, সরকারিভাবে পরিচিত ইলোকোস অঞ্চল নামে এবং প্রশাসনিকভাবে অঞ্চল I হিসেবে চিহ্নিত, এটি ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এটি প্রাচীন শহর, ঐতিহাসিক স্থান, সমুদ্রসৈকত এবং প্রাকৃতিক আকর্ষণের জন্য পরিচিত।
প্রদেশসমূহ
[সম্পাদনা]শহরসমূহ
[সম্পাদনা]অন্যান্য গন্তব্য
[সম্পাদনা]জানুন
[সম্পাদনা]ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইলোকোস অঞ্চলের প্রথম বাসিন্দারা ছিলেন নেগ্রিতোরা। পরে একাধিক ধাপে অস্ট্রোনেশীয়রা এসে এই অঞ্চলের সরু উপকূলে বসতি স্থাপন করে তাদেরকে সরে যেতে বাধ্য করে। এই অস্ট্রোনেশীয় বসতিস্থাপনকারীরাই পরে করডিলেরার পাদদেশে বসবাসকারী তিংগুইয়ান জনগোষ্ঠীর, বর্তমান ইলোকোস নর্তে, ইলোকোস সুর ও উত্তর লা উনিয়নের ইলোকানো জনগোষ্ঠীর, পাঙ্গাসিনান প্রদেশ ও দক্ষিণ লা উনিয়নের পাঙ্গাসিনান জনগোষ্ঠীর (পাঙ্গাসিনেন্সে), এবং পশ্চিম পাঙ্গাসিনানের সাম্বল জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষে পরিণত হয়।
স্প্যানিয়ার্ডরা ১৬শ শতকে এসে পুরো অঞ্চলে খ্রিস্টান মিশন স্থাপন করে স্থানীয়দের ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করে। দক্ষিণের (আবাগাতান) ইলোকানো ও পাঙ্গাসিনানরা সহজেই স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসন মেনে নিলেও উত্তরাঞ্চলের (আমিয়ানান) ইলোকানোরা গভীর বিরাগ পোষণ করত এবং একের পর এক ব্যর্থ বিদ্রোহ চালায়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ১৭৬৩ থেকে ১৭৬৪ সালের মধ্যে সংঘটিত সিলাং বিদ্রোহ।
১৯৭০-এর দশকে ইলোকোস অঞ্চল, তখন যেখানে আবরা, বেঙ্গুয়েত এবং মাউন্টেন প্রদেশসহ ইগোরট-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা সম্প্রসারিত করে পাঙ্গাসিনান যোগ করা হয়, যা আগে মধ্য লুজনের অংশ ছিল। এরপর ব্যাপক ইলোকানো অভিবাসন শুরু হয়, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট (এবং নিজেও ইলোকানো) ফের্দিনান্দ মার্কোস উৎসাহিত করেছিলেন। এই অভিবাসন আবরা, বেঙ্গুয়েত, মাউন্টেন প্রদেশ এবং পাঙ্গাসিনানে গিয়ে পৌঁছায়, যা স্থানীয় ইগোরট ও পাঙ্গাসিনান জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ইগোরটরা ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহও চালায়। ১৯৮৭ সালে আবরা, বেঙ্গুয়েত ও মাউন্টেন প্রদেশকে নতুন করডিলেরা অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; এর মধ্যে বেঙ্গুয়েত ও মাউন্টেন প্রদেশে ইগোরটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকলেও উল্লেখযোগ্য ইলোকানো সংখ্যালঘু গড়ে ওঠে, অন্যদিকে আবরাতে ইলোকানোরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়। পাঙ্গাসিনান ইলোকোস অঞ্চলের সঙ্গেই থাকে, তবে কিছু স্থানীয় পাঙ্গাসিনান এখনও ইলোকানো অভিবাসীদের নিয়ে অসন্তুষ্ট। এজন্য অঞ্চলটিকে কেবল “ইলোকোস” নামে ডাকা (সরকারি নাম “ইলোকোস অঞ্চল”-এর পরিবর্তে) বিশেষ করে পাঙ্গাসিনানে জাতিকেন্দ্রিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উনবিংশ শতকেই এইসব এলাকায় ইলোকানো অভিবাসন ও বসতি স্থাপন শুরু হয়েছিল।
ভূগোল
[সম্পাদনা]ইলোকোস অঞ্চল করডিলেরা সেন্ট্রাল পর্বতমালা ও পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের (দক্ষিণ চীন সাগর) মাঝের সরু সমভূমি জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়াও অঞ্চলটি জাম্বালেস পর্বতের উত্তর-পূর্বে মধ্য লুজন সমভূমির উত্তরাংশে প্রসারিত।
অঞ্চলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জলভাগ হলো লিঙ্গায়েন উপসাগর, যেখানে অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হান্ড্রেড আইল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক’। অঞ্চলের উত্তরে রয়েছে লুজন প্রণালী।
পাঙ্গাসিনানের ভেতর দিয়ে আগ্নো নদী প্রবাহিত হয়ে লিঙ্গায়েন উপসাগরে গিয়ে মিশেছে। নদীটি লিঙ্গায়েন ও দাগুপান শহরের কাছাকাছি একটি প্রশস্ত বদ্বীপ তৈরি করেছে।
মানুষ
[সম্পাদনা]এই অঞ্চলের প্রায় ৫০,০০,০০০ মানুষের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো ইলোকানো, তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাঙ্গাসিনান, টাগালগ এবং ইগোরট জনগোষ্ঠীও বসবাস করে।
ইলোকানোরা, যারা এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠী, মূলত ইলোকোস নর্তে ও ইলোকোস সুর প্রদেশ থেকে এসেছে, যা একসাথে ‘ইলোকান্দিয়া’ নামে পরিচিত। তারা প্রধানত রোমান ক্যাথলিক, এবং পুরো উত্তর লুজন জুড়ে ৮০,০০,০০০ এরও বেশি ইলোকানো বাস করে। ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইতে বসবাসরত ফিলিপিনো-আমেরিকানদের বড় একটি অংশও ইলোকানো; তাঁদের অনেককেই যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিশ্রমিক হিসেবে আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে পাঙ্গাসিনান প্রদেশে প্রধান জনগোষ্ঠী হলো পাঙ্গাসিনান জনগণ। এদেরকে পাঙ্গাসিনেন্সে নামেও ডাকা হয়, যদিও পাঙ্গালাতোক শব্দটিকে তারা অবমাননাকর মনে করে। পাঙ্গাসিনানরা প্রদেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০%। তারা লবণ উৎপাদন এবং দুধ মাছের (বাঙ্গুস) চাষের জন্য পরিচিত। তারা পাঙ্গাসিনান ভাষায় কথা বলে, যা ইলোকানো ভাষার চেয়ে ইগোরট জাতিগোষ্ঠীর ইবালয় ও কালাঙ্গুয়া ভাষার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ।
এছাড়াও, কিছু ক্ষুদ্র ইগোরট জনগোষ্ঠীও ইলোকোস অঞ্চলে রয়েছে, বিশেষ করে তিংগুইয়ান (ইতনেগ) ও ইসনেগরা করডিলেরা পাদদেশে বসবাস করে। সামান্যসংখ্যক টাগালগ জনগণ পাঙ্গাসিনানের সেইসব অংশে থাকে যা টাগালগভাষী নুয়েভা এসিজার সীমানার কাছাকাছি। সাম্বল জনগণ পশ্চিম পাঙ্গাসিনানের সেইসব অংশে বাস করে যা জাম্বালেসের সীমানার লাগোয়া।
ভাষা
[সম্পাদনা]এখানে স্থানীয় ভাষাগুলির মধ্যে রয়েছে ইলোকানো এবং পাঙ্গাসিনান (যা পাঙ্গালাতোক নামেও পরিচিত, তবে এটি অবমাননাকর মনে করা হয়)। এছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম পাঙ্গাসিনানে সাম্বল, পশ্চিম পাঙ্গাসিনানে বলিনাও, এবং পাঙ্গাসিনানে ইগোরট জনগোষ্ঠীর ভাষা যেমন ইবালয় ও আব্রায় ইতনেগ (তিংগুইয়ান) ব্যবহৃত হয়। টাগালগ ভাষা নুয়েভা এসিজার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রথম ভাষা হিসেবে প্রচলিত এবং পুরো অঞ্চলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবেও বলা হয়।
ফিলিপাইনের অন্যান্য প্রধান জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় ইলোকানোদের ইংরেজি দক্ষতা ভালো বলে ধারণা করা হয়। এর কারণ হিসেবে ধরা হয় যে তারা ইংরেজি উচ্চারণে এমন কিছু ধ্বনি পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করতে পারে যা ফিলিপাইনের বেশিরভাগ অন্যান্য ভাষায় নেই, এমনকি টাগালগেও নেই। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ফিলিপিনো জনসংখ্যার মধ্যে ইলোকানোদের প্রাধান্যও এই ধারণার পেছনে একটি কারণ হতে পারে।
কীভাবে যাবেন
[সম্পাদনা]বাসে করে
[সম্পাদনা]যদিও তুলনামূলক ধীরগতি, তবুও বাসই এ অঞ্চলে যাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম, বিশেষ করে ম্যানিলা থেকে।
এ অঞ্চলে যাতায়াতকারী প্রধান বাস কোম্পানিগুলো হলো ভিক্টরি লাইনার (এর সহযোগী সংস্থা ফাইভ স্টার), ডমিনিয়ন ট্রানজিট, এবং পার্টাস। ভিক্টরি ও ফাইভ স্টার মূলত পাঙ্গাসিনানের গন্তব্যগুলোতে সেবা দেয়, অন্যদিকে ডমিনিয়ন ও পার্টাস ম্যানিলা নর্থ রোড হয়ে পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে।
গাড়িতে করে
[সম্পাদনা]দক্ষিণ দিক থেকে আসার প্রধান রুট হলো টোল সড়ক তারলাক-পাঙ্গাসিনান-লা উনিয়ন এক্সপ্রেসওয়ে (টিপিএলএক্স), যার চূড়ান্ত অংশ পোজোরুবিও, পাঙ্গাসিনান থেকে রোসারিও, লা উনিয়ন পর্যন্ত ২০২১ সালে সম্পন্ন হয়েছে। বিনামূল্যের বিকল্প হলো রুট ২, যেটিকে টিপিএলএক্স প্রতিস্থাপন করলেও এটি এখনও জনপ্রিয় এবং এর অনেক অংশকে ৪ থেকে ৬ লেনে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
মাহার্লিকা মহাসড়ক (রুট ১/এএইচ২৬) ইলোকোস নর্তকে কাগায়ান ভ্যালির সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর পাগুদপুদ সংলগ্ন অংশটি মনোরম দৃশ্যে ভরপুর। পাঙ্গাসিনান-নুয়েভা এসিজা সড়ক (রুট ১১৪) নুয়েভা ভিজকায়া থেকে পাঙ্গাসিনান পর্যন্ত গেছে। এটি দক্ষিণ কারাবালো পাহাড় অতিক্রম করে আঁকাবাঁকা সুন্দর পথে চলে। সড়কটি ২০২৩ সালে খোলা হয়েছে।
একাধিক মহাসড়ক ইলোকোস অঞ্চলকে করডিলেরার সঙ্গে যুক্ত করেছে, উত্তর থেকে দক্ষিণে: রুট ২০৪ (আবরা থেকে), রুট ২০৫ (মাউন্টেন প্রদেশ থেকে) এবং রুট ৫৪ (বাগিও থেকে)।
বিমানে করে
[সম্পাদনা]এ অঞ্চলে ফিলিপাইনের প্রধান এয়ারলাইন্সগুলোর নির্ধারিত ফ্লাইট রয়েছে কেবল লাওয়াগ বিমানবন্দরে (এলএও আইএটিএ), যেখানে ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স ও সেবু প্যাসিফিক সেবা প্রদান করে। লিঙ্গায়েন (কোনো আইএটিএ নেই), সান ফার্নান্দো (এসএফই আইএটিএ) এবং ভিগান (কোনো আইএটিএ নেই) বিমানবন্দরগুলো কেবল সাধারণ বিমান চলাচল ও ফ্লাইট প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে ভিগান বিমানবন্দর চার্টার সংস্থা প্লাটিনাম স্কাইস দ্বারা সেবা পায়।
ঘুরে দেখুন
[সম্পাদনা]বাস সেবা প্রচুর, এবং এ অঞ্চলের সব বড় শহরে বাস চলাচল করে। অঞ্চলের প্রধান সড়কগুলো হলো হাইওয়ে ২ (যার মধ্যে পাঙ্গাসিনানের ম্যাকআর্থার হাইওয়ে ও ম্যানিলা নর্থ রোড রয়েছে), ৫৫ (যা তারলাক শহর থেকে শুরু হয়) এবং ৫৭ (যা উর্দানেতা থেকে দাগুপান পর্যন্ত এবং লিঙ্গায়েন পর্যন্ত ম্যাকআর্থার হাইওয়ের অংশ)।
কী দেখবেন
[সম্পাদনা]হান্ড্রেড আইল্যান্ডস ন্যাচারাল পার্ক — পাঙ্গাসিনানের লিঙ্গায়েন উপসাগরে অবস্থিত এ জলাভূমিতে রয়েছে ১২৩টি ছোট ছোট অক্ষত দ্বীপ। এর মধ্যে তিনটি দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্নয়ন করা হয়েছে।
ভিগানের ঔপনিবেশিক বাড়িঘর — ভিগান তার পাথুরে রাস্তা ও স্প্যানিশ যুগের বাড়িঘরের জন্য বিখ্যাত। মেস্তিজো জেলা সেই যুগের প্রাসাদের উদাহরণ তুলে ধরে। এগুলো মূলত সে সময়কার বিশিষ্ট ইলোকানো-চীনা বণিক পরিবারের মালিকানাধীন ছিল, এজন্য নাম হয়েছে “মেস্তিজো” বা মিশ্র বংশোদ্ভূত।
স্প্যানিশ যুগের গির্জা — পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে স্প্যানিশ শাসনামলে স্থানীয়দের দ্বারা নির্মিত পুরনো ক্যাথলিক গির্জা। সবচেয়ে বিখ্যাত গির্জাগুলো রয়েছে ভিগান, পাওয়াই এবং মানাওগে।
কী করবেন
[সম্পাদনা]- হান্ড্রেড আইল্যান্ডসে দ্বীপ ভ্রমণ ও স্নরকেলিং। একটি মোটর ব্যাংকা (পাম্প নৌকা) ভাড়া করুন, সারাদিন দ্বীপ থেকে দ্বীপে ঘুরুন এবং ইচ্ছেমতো স্নরকেলিং করুন।
খাওয়া-দাওয়া
[সম্পাদনা]পানীয়
[সম্পাদনা]নিরাপত্তা
[সম্পাদনা]এরপর কোথায় যাবেন
[সম্পাদনা]{{#assessment:অঞ্চল|রূপরেখা}}
