বিষয়বস্তুতে চলুন

-14-53
উইকিভ্রমণ থেকে

ব্রাজিল

পরিচ্ছেদসমূহ

ব্রাজিল (পর্তুগিজ: ব্রাসিল) হলো দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্র। ব্রাজিল এক বিস্ময়কর বৈচিত্র্যময় দেশ—মানুষ, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির দিক থেকে। রিও দে জেনেইরো, সালভাদর, ওলিন্দা এবং রেসিফির বিখ্যাত গ্রীষ্মকালীন কার্নিভাল থেকে শুরু করে আমাজন জঙ্গল আর ইগুয়াসু জলপ্রপাত-এর দুর্ধর্ষ প্রাকৃতিক শক্তি পর্যন্ত, সর্বত্রই ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে। এখানে একদিকে আছে কোলাহলময় মহানগর, অন্যদিকে শান্ত সমুদ্রতীর, আবার কোথাও আছে ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা—সবকিছুই একে অপরের খুব কাছাকাছি। ব্রাজিলের সংস্কৃতি, যা দেশজুড়ে বৈচিত্র্যময়, গড়ে উঠেছে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের, আফ্রিকান ও এশীয় জনগোষ্ঠীর (বিশেষত সালভাদরসাও পাওলো শহরে), এবং আদিবাসী প্রভাবের মিশ্রণে।

প্রকৃতির বিশালতা, সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য এবং উষ্ণ আতিথেয়তা মিলে এই দেশ আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে এক বিস্ময়কর ভ্রমণ অভিজ্ঞতায়!

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]

ব্রাজিল পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। এটি পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত, যেগুলো মূলত রাজ্যসীমার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, তবে প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিভাজনও অনেকটাই অনুসৃত হয়েছে।

ব্রাজিলের অঞ্চলসমূহ — মিথস্ক্রিয় মানচিত্র দেখান
ব্রাজিলের অঞ্চলসমূহ
 উত্তর (আক্রে, আমাপা, আমাজোনাস, পারা, রনডোনিয়া, রোরাইমা, তোকান্তিন্স)
আমাজন জঙ্গল, বৃষ্টিবন ও সীমান্তবর্তী জীবনযাত্রা, যেখানে আমেরিন্ডিয়ান প্রভাব দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। মাতো গ্রোসো রাজ্য (নিচে উল্লেখিত মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে) মূলত আমাজন অববাহিকার ভেতরেই অবস্থিত।
 উত্তর-পূর্ব (আলাগোয়াস, বাহিয়া, সেয়ারা, মারানহাও, পারাইবা, পারনামবুকো, পিয়াউই, রিও গ্রান্ডে দো নর্তে, সারজিপি)
প্রধানত সের্তানেজো সংস্কৃতি, যার সঙ্গে বাহিয়ার আফ্রো সংস্কৃতি, প্রাচীন আইবেরীয় লোককাহিনি এবং আদিবাসী ঐতিহ্য মিশে গেছে। দেশের সবচেয়ে সুন্দর উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে এটি পরিচিত। এখানে সবচেয়ে বেশি রোদ ও গরম থাকে, তবে এটি একইসঙ্গে দেশের সবচেয়ে শুষ্ক ও দরিদ্র এলাকা। "ফোরো" সঙ্গীতধারার রাজধানীও বলা হয় এ অঞ্চলকে।
 মধ্য-পশ্চিম (ফেডারেল জেলা, গোইয়াস, মাতো গ্রোসো, মাতো গ্রোসো দো সুল)
পান্তানাল জলাভূমি, বিশাল খামার, নতুন শহর, সেরাদো ঘাসভূমি এবং ফেডারেল জেলা যেখানে আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য রয়েছে। "সের্তানেজো" সঙ্গীতধারার জন্মভূমিও এটি।
 দক্ষিণ-পূর্ব (এস্পিরিতো সান্তো, মিনাস জেরাইস, রিও দে জেনেইরো, সাও পাওলো)
দেশের আধুনিকতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাও পাওলোরিও হলো ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শহর এবং শিল্প-অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। মিনাস জেরাইস রাজ্যে রয়েছে শতাব্দী-প্রাচীন ঔপনিবেশিক শহরসমূহ।
 দক্ষিণ (রিও গ্রান্ডে দো সুল, পারানা, সান্তা কাতারিনা)
উপত্যকা ও পাম্পার দেশ, যেখানে শক্তিশালী গাউচো সংস্কৃতি (যা উরুগুয়েআর্জেন্টিনার সঙ্গে ভাগ করা) ইউরোপীয় প্রভাবের সঙ্গে মিশেছে। উনিশ শতকে এখানে বিপুল সংখ্যক জার্মান, ইতালীয়, পোলিশ ও ইউক্রেনীয় অভিবাসী এসেছিলেন। এখানে আছে মাঝারি আকারের শহর ও গ্রামীণ বসতি।

শহরসমূহ

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলে রয়েছে বহু বৈচিত্র্যময় শহর—ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যমণ্ডিত ছোট শহর থেকে শুরু করে শান্ত সমুদ্রতীরবর্তী আশ্রয় এবং জনাকীর্ণ মহানগর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভ্রমণগন্তব্যগুলো হলো:

  • 1 ব্রাসিলিয়া – পরিকল্পিত রাজধানী শহর এবং স্থাপত্যের বিস্ময়। ঝুড়ি-আকৃতির গির্জা, আর্চেস প্রাসাদ (ন্যায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়) সহ অনেক অনন্য ভবন এখানে অবস্থিত।
  • 2 ফ্লরিয়ানোপলি – সান্তা কাতারিনা রাজ্যের আটলান্টিক উপকূলের দ্বীপে অবস্থিত শহর। লেক, ল্যাগুন, বালিয়াড়ি, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ৪০টিরও বেশি পরিচ্ছন্ন সৈকত রয়েছে এখানে। গ্রীষ্মকালে আর্জেন্টাইন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।
  • 3 ফর্তালিজা – ব্রাজিলের চতুর্থ বৃহত্তম শহর, সুন্দর সমুদ্রসৈকতের জন্য বিখ্যাত। ইরাসেমা সৈকতের বাজার একটি জনপ্রিয় স্থান। জেরিকোয়াকোয়ারা-সহ উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘুরে দেখার জন্য এটি একটি ভালো কেন্দ্র। ফোরো সঙ্গীত ও কৌতুকশিল্পীদের জন্য প্রসিদ্ধ।
  • 4 মানাউশ – আমাজনের হৃদয়ভূমিতে অবস্থিত শহর এবং আমাজোনাস রাজ্যের রাজধানী। এটি আমাজনের সবচেয়ে বড় শহর। এখানেই নেগ্রো ও সোলিমোইস নদী মিলিত হয়ে গঠন করেছে আমাজন নদী। আমাজন বনে প্রবেশের প্রধান দ্বার। এখান থেকে আনাভিলহানাস ও জাউ জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ করা যায়।
  • 5 পোর্তো আলেগ্রি – আর্জেন্টিনা ও সাও পাওলোর মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ব্রাজিলের "সবুজ ক্যানিয়ন" অঞ্চলের প্রবেশদ্বার।
  • 6 রেসিফি – উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর, ডাচদের দ্বারা প্রথম বসতি স্থাপিত। "ব্রাজিলের ভেনিস" নামে পরিচিত, এটি অনেক দ্বীপ ও সেতুর সমন্বয়ে গঠিত। ইতিহাস, শিল্প ও লোককাহিনিতে সমৃদ্ধ। কাছাকাছি ওলিন্দা, পোর্তো দে গালিনিয়াস এবং ফের্নান্দো দে নরোনহা দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার জন্যও এটি প্রধান প্রবেশদ্বার।
  • 7 রিউ দি জানেইরু – বিশ্ববিখ্যাত সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর। কর্কোভাদো পাহাড়ের ওপরে ছড়ানো হাতে দাঁড়ানো যীশু মূর্তি পর্যটকদের স্বাগত জানায়। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ব্রাজিলের রাজধানী।
  • 8 সালভাদোর, বাইয়া – ব্রাজিলের প্রথম রাজধানী, যেখানে দেশীয়, আফ্রিকান ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির অনন্য মিশ্রণ রয়েছে। এখানকার কার্নিভাল বিশ্ববিখ্যাত, এবং আফ্রিকান ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব গভীরভাবে লক্ষণীয়।
  • 9 সাও পাওলো – ব্রাজিলের সবচেয়ে বড়, ধনী এবং বহুজাতিক শহর। এখানে ইতালীয়, কোরীয়, জাপানি, জার্মান, রুশ, ক্যারিবীয় ও আরব জাতিগোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

অন্যান্য শহরও ভ্রমণকারীদের কাছে সমান জনপ্রিয়:

  • 10 বেলু ওরিজোঁতিমিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী, এখান থেকে রাজ্যের ঔপনিবেশিক অতীত ঘোরার জন্য উপযুক্ত সূচনাবিন্দু।
  • 11 বুজিওস ফ্রেম — আধুনিক সমুদ্রতীরবর্তী শহর, ২৫টি সৈকত নিয়ে গঠিত। রিও থেকে ১৯২ কিমি উত্তরে।
  • 12 ক্যাম্পো গ্রান্ডি — প্রচুর সবুজ আর অনেক পার্কের শহর।
  • 13 ক্যাম্পোস দো জর্দাও — সাও পাওলো রাজ্যের ইউরোপীয় ধাঁচের শহর। ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং শীতকালীন ধ্রুপদী সঙ্গীত উৎসবের জন্য বিখ্যাত।
  • 14 কোরুম্বাপান্তানাল অঞ্চলের "রাজধানী"।
  • 15 কোয়াইবা — পান্তানালের প্রধান প্রবেশদ্বার। কাছেই রয়েছে শাপাদা দোস গুইমারাইস-এর "ভেল দে নয়ভা" জলপ্রপাত, কুরভেলান্দিয়ার গুহা ও নদী, আর বারাও দে মেলগাসোতে মাছ ধরা।
  • 16 গ্রামাডো — রিও গ্রান্ডে দো সুল-এর পাহাড়ি অঞ্চলের একটি মনোমুগ্ধকর জার্মান-ধাঁচের শহর। "নাতাল লুজ" (বড়দিনের আলো উৎসব) এর জন্য খ্যাত, যা লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ বড়দিন উৎসব। এছাড়া চলচ্চিত্র উৎসবের জন্যও বিখ্যাত।
  • 17 জোয়াও পেসোয়া — ব্রাজিলের সবচেয়ে পূর্ববর্তী শহর, যেখানে সূর্যোদয় সবার আগে দেখা যায়। "জার্ডিম দাস আকাসিয়াস" (আকাসিয়া বাগান) নামে পরিচিত, এখনও কম পর্যটিত, উষ্ণ আবহাওয়া, আন্তরিক মানুষ এবং সুন্দর সৈকতের জন্য বিখ্যাত।
  • 18 মাসিও — উত্তর-পূর্ব উপকূলের শহরগুলির একটি, ক্যারিবীয় নীল জলের সৈকত রয়েছে এখানে।
  • 19 নাটাল — রোদে ভরা সৈকত ও বালিয়াড়ির শহর। "সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল ব্রাজিলিয়ান শহর" হিসেবে খ্যাত।
  • 20 ওলিন্ডা — ঔপনিবেশিক শহর, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা চর্চার জন্য বিখ্যাত, আর এর কার্নিভাল রিও ও সালভাদরের সমান খ্যাত। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের স্থাপত্যের কারণে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।
  • 21 ওরো প্রেতো — আরেকটি ঔপনিবেশিক শহর, যেখানে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় বারোক শিল্পকর্মের সংগ্রহ রয়েছে। সোনার যুগে এটি ছিল ব্রাজিলের আর্থিক কেন্দ্র। পুরো শহরটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।
  • 22 Penedo — রিও দে জেনেইরো রাজ্যের একটি ছোট শহর, সাও পাওলোর সীমান্তের কাছাকাছি। ফিনল্যান্ডের মানুষ এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং এখনো শহরে ফিনিশ ও পর্তুগিজ উভয় ভাষা ব্যবহৃত হয়।
  • 23 পোর্তো আলেগ্রি — ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় রিও গ্রান্ডে দো সুল রাজ্যের একটি নগরকেন্দ্র। সক্রিয় নাইটলাইফের জন্য পরিচিত।
  • 24 সাও লুইস — সপ্তদশ শতকে ফরাসিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, পরে অল্প সময়ের ডাচ শাসনের পর পর্তুগিজরা দখল করে। এখনও পর্তুগিজ প্রভাবিত ঔপনিবেশিক স্থাপত্য সংরক্ষিত রয়েছে। লোকসংস্কৃতির জন্যও বিখ্যাত। দ্বীপটি জ্যামাইকার সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিল রাখে এবং "ব্রাজিলের রেগে রাজধানী" নামে পরিচিত।
  • 25 ভিতরিয়া — রিও ও সালভাদরের মাঝামাঝি, পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত এক সুন্দর শহর।
  • 26 তা-কোয়া-রু-সুপালমাস (তোকান্তিন্স) শহরের কাছের পাহাড়ি অঞ্চল, ঝরনার জন্য বিখ্যাত।-->

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]
ইগুয়াসু জলপ্রপাত
  • 27 আমাজোনাস – জঙ্গলে ভ্রমণ, বন্যপ্রাণী, ভাসমান কাঠ, আর আমাজনের রহস্য।
  • 28 শাপাদা জিয়ামানচিনা ন্যাশনাল পার্ক
  • 29 শাপাদা দুশ ভেয়াদেইরুস ন্যাশনাল পার্কসেরাদো (ক্রান্তীয় সাভানা)র বন্যপ্রাণী ও দৃষ্টিনন্দন ঝরনা।
  • 30 ফার্নান্ডোডিনরোনহা – আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এক ক্রান্তীয় দ্বীপস্বর্গ। ১৯৯৭ সাল থেকে মেরিন ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে সুরক্ষিত এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত
  • 31 Ilha Grande
  • 32 ইগুয়াসু জলপ্রপাত – ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সীমান্তে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত জলপ্রপাত।
  • 33 মারাজো – বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির দ্বীপ।
  • 34 লিনসয়েস মারেনহেনসেস জাতীয় উদ্যান – মিঠাপানি ও বালিয়াড়ির উদ্যান; অর্ধেক বালিয়াড়ি, অর্ধেক হ্রদ।
  • 35 Pantanal – বিশ্বের বৃহত্তম জলাভূমি। এখানে রয়েছে ব্যাপক ইকো-ট্যুরিজম ও জীববৈচিত্র্য—কাইমান, জাগুয়ার, এনাকোন্ডা, দৈত্যাকার পিপীলিকাভুক, প্রাইমেট, দৈত্যাকার ওটার এবং পিরানহা।

জানুন

[সম্পাদনা]
রাজধানী ব্রাসিলিয়া
মুদ্রা ব্রাজিলীয় রিয়েল (BRL)
জনসংখ্যা ২১৩.৪ মিলিয়ন (2025)
বিদ্যুৎ ১২৭ ভোল্ট / ৬০ হার্জ and ২২০ ভোল্ট / ৬০ হার্জ (ইউরোপ্লাগ, IEC 60906-1)
দেশের কোড +55
সময় অঞ্চল ইউটিসি−০৫:০০ to ইউটিসি−০২:০০
জরুরি নম্বর 190 (পুলিশ), 192 (জরুরি চিকিৎসা সেবা), 193 (দমকল বাহিনী), ১৮৮ (crisis hotline)
গাড়ি চালানোর দিক ডান

ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ। এ দেশের রয়েছে ইতিহাস ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। নাইটলাইফ, দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাদা বালির সৈকত, অভ্যন্তরীণ নদীপথ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সবুজ বনভূমি—সবই এখানে বিদ্যমান।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

কলম্বাস আমেরিকায় আসার আগেই, বর্তমান ব্রাজিল অঞ্চলে তুপিগুয়ারানি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করত। পর্তুগিজদের উপনিবেশ স্থাপন শুরু হয়েছিল ষোড়শ শতকের শেষের দিকে। তারা পাউ ব্রাসিল নামক মূল্যবান কাঠ আহরণ করত, যেখান থেকে দেশের নামকরণ হয়েছে। অধিকাংশ আমেরিকা স্পেন দখল করলেও ব্রাজিল দখল করে পর্তুগাল। পূর্ব ব্রাজিল ছিল ইউরোপ থেকে এশিয়ার কেপ রুট-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী স্থান। ১৬৩০ থেকে ১৬৫৪ সাল পর্যন্ত কিছু অংশ ছিল ডাচ উপনিবেশ। তারা মরিশভিলসহ কয়েকটি শহর প্রতিষ্ঠা করে এবং বহু আখ বাগান তৈরি করে। ডাচরা পর্তুগিজদের সঙ্গে কঠিন জঙ্গলে যুদ্ধ করে, তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মাতৃভূমির সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। ১৬৫৬ সালে পর্তুগালের উপকূলে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। পরে ১৬৬৫ সালে হেগ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাতে পর্তুগাল এশিয়ার বেশিরভাগ উপনিবেশ হারায় এবং ডাচদের ৬৩ টন স্বর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়।

এরপর চার শতাব্দী ধরে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ—সোনা, রাবার ইত্যাদি—শোষণ চলতে থাকে। আখ, কফি এবং আফ্রিকান দাসশ্রমের ওপর ভিত্তি করে অর্থনীতি গড়ে ওঠে। দেশীয় মানুষদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা এবং শোষণ অব্যাহত থাকে। উনিশ ও বিশ শতকে দ্বিতীয় অভিবাসন ধারা শুরু হয়, যেখানে পর্তুগিজ, ইতালীয়, স্প্যানিশ, জার্মান (দক্ষিণে), জাপানি, আমেরিকান (মূলত সাও পাওলো রাজ্যে), পোলিশ এবং ইউক্রেনীয়রা (দক্ষিণে) যোগ দেয়। এভাবে আজকের জটিল ও অনন্য ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতি ও সমাজ গড়ে ওঠে।

ব্রাজিলের স্বাধীনতা ছিল স্প্যানিশভাষী প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ। ১৮০৮ সালে নেপোলিয়নের সেনারা পর্তুগাল আক্রমণ করলে রাজা ডম জোয়াও ষষ্ঠ (জন ষষ্ঠ) এবং রাজপরিবার রিও দে জেনেইরোতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি তার সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮১৫ সাল থেকে ব্রাজিল উপনিবেশ নয়, পর্তুগালের সমমর্যাদা পেতে শুরু করে। বিচ্ছেদ ছিল ধীরগতির এবং ডম জোয়াও ষষ্ঠের ছেলে প্রিন্স পেদ্রোর নেতৃত্বে হয়। তিনি রিওতে থেকে অস্থায়ী শাসক হন। দক্ষিণ আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সিমন বলিভার-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, ১৮২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পেদ্রো ব্রাজিলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সম্রাট ডম পেদ্রো প্রথম হিসেবে অভিষিক্ত হন। ছয় বছর পর, ১৮২৮ সালে দীর্ঘ যুদ্ধে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অংশগ্রহণের পর সিসপ্লাটিনা প্রদেশ স্বাধীন হয় এবং বর্তমান উরুগুয়ে গঠিত হয়।

১৮৮৯ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল ছিল সাম্রাজ্য—ডম পেদ্রো প্রথম ও তার ছেলে ডম পেদ্রো দ্বিতীয়ের অধীনে। এ সময়ে দেশটি একটি উদীয়মান আন্তর্জাতিক শক্তিতে পরিণত হয়। দাসপ্রথা ধীরে ধীরে সীমিত হতে থাকে এবং ১৮৮৮ সালে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়। সাম্রাজ্যের পতনের পর নামমাত্র প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৮৯৪ সাল পর্যন্ত সেনাশাসন ছিল কার্যকর। এরপর বহুবার সামরিক অভ্যুত্থান ও একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে, যা ১৯৮৫ সালে গিয়ে অবসান হয়।

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম, জনবহুল ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ব্রাজিল ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সামরিক একনায়কতন্ত্র কাটিয়ে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসে। বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক ব্যাপ্তি এবং শ্রমশক্তির কারণে আজ ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক নেতা, মেক্সিকোআর্জেন্টিনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে রাজনৈতিক দুর্নীতি, শ্রমবাজারে প্রবেশের উচ্চ বাধা এবং অপরাধ—বিশেষ করে বড় শহরে—গুরুতর সমস্যা হিসেবে থেকে গেছে।

"পিঙ্ক টাইড" নামে পরিচিত লাতিন আমেরিকার বামঘেঁষা রাজনীতির ঢেউ ব্রাজিলে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়েছে। শিক্ষায় ও রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী শ্রমবাজার, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ২০১৬ সালের অলিম্পিক চলাকালে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। তখন মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন ছিল ভয়াবহ। অনেক প্রতিবাদকারী প্রশ্ন তোলে—যেখানে মানুষ বস্তিতে থাকে, সেখানে দূরবর্তী এলাকায় কোটি কোটি ডলারের স্টেডিয়াম বানানো কতটা যৌক্তিক?

অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১৮ সালে চরম ডানপন্থী জনতাবাদী প্রার্থী জাইর বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষা বাতিল এবং আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধিকারের অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২২ সালে তিনি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার (সাধারণত লুলা নামে পরিচিত) কাছে পরাজিত হন। এরপর বলসোনারোর সমর্থকরা ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনে হামলা চালায়, যা অনেকের মতে ছিল এক ধরনের স্ব-অভ্যুত্থান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং তিনি বিচারমুখী হচ্ছেন।

ভূগোল

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Cvt ভূমির আয়তন নিয়ে ব্রাজিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। এর আকার সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রায় সমান এবং রাশিয়ার প্রায় অর্ধেক।

ব্রাজিলের ভূদৃশ্যের বৈশিষ্ট্য হলো—উত্তরের আমাজন সমতলভূমি জুড়ে বিশাল ক্রান্তীয় অরণ্য, আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে মালভূমি, টিলা ও পর্বতময় সমুদ্রতট। দেশের কৃষির মূলভিত্তি মধ্য-পশ্চিমের সাভানায়; অথচ জনসংখ্যার অধিকাংশ বসবাস করে আটলান্টিক উপকূলে, যেখানে প্রায় সব বড় শহরও অবস্থিত।

ব্রাজিলের সীমানায় সাও পেদ্রো ও সাও পাওলো দ্বীপপুঞ্জও রয়েছে, যা উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিমি দূরে এবং যেখানে কেবল একটি বাতিঘর নির্মিত হয়েছে। কাছেই রয়েছে সাবেক দণ্ডদ্বীপ ফের্নান্দো দে নরোনহা। উভয়ই বিষুবীয় আটলান্টিকে মিড-আটলান্টিক রিজে অবস্থিত। এস্পিরিতু সান্তু রাজ্যের অন্তর্গত ট্রিনদাদি ও মার্তিন ভাজ দ্বীপদ্বয় আগ্নেয় উৎসের। ডিম্বাকৃতির রোকাস এটল কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং অসাধারণ বন্যপ্রাণীর জন্য ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো আমাজন অঞ্চলের মারাজো দ্বীপ—এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদীদ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ৪৮,০০০ কিমি² (১৮,৫৩২.৯০ বর্গমাইল), অর্থাৎ সুইজারল্যান্ড-এর চেয়েও বড়। তবে বর্ষাকালে বৃহৎ অংশ প্লাবিত থাকায় দ্বীপে বসতি অল্প কয়েক জায়গায় সীমিত। বানানাল দ্বীপও বিশ্বের বৃহত্তম নদীদ্বীপগুলোর একটি; আয়তন প্রায় ২০,০০০ কিমি²। এটি তোকান্তিন্স রাজ্যের আরাগুয়াইয়া নদীর তীরে একটি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে, আর আকারে জ্যামাইকা-র কাছাকাছি।

সরকার ও রাজনীতি

[সম্পাদনা]

ব্রাজিল একটি ফেডারেল প্রজাতন্ত্র, যা আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল মডেল অনুসরণ করে। জনগণ সরাসরি একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে থাকেন, যিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান—উভয়ই। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর; সর্বোচ্চ একবার পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।

বিধান বিভাগ হলো জাতীয় কংগ্রেস, দ্বিকক্ষ পার্লামেন্ট—ফেডারেল সিনেট ও ডেপুটিদের চেম্বার নিয়ে। উভয় কক্ষের সদস্যই সরাসরি নির্বাচিত। সিনেটরদের মেয়াদ ৮ বছর; প্রতি ৪ বছরে এক-তৃতীয়াংশ বা দুই-তৃতীয়াংশ করে নবায়ন হয়। ডেপুটিদের চেম্বারের সদস্যরা প্রতি ৪ বছরে প্রতিটি রাজ্যের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে নির্বাচিত হন। বিচার বিভাগ গঠিত সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট, সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিস ও অন্যান্য উচ্চতর আদালত, ন্যাশনাল জাস্টিস কাউন্সিল এবং আঞ্চলিক ফেডারেল আদালতসমূহ নিয়ে। রাজনৈতিক ব্যবস্থা বহুদলীয়। জাতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কার্স’ পার্টি, ব্রাজিলিয়ান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট, ব্রাজিলিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্রেসি পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, লিবারেল পার্টি এবং ব্রাজিল ইউনিয়ন। ব্রাজিলীয় রাজনীতিতে দলবদলও খুবই সাধারণ ঘটনা।

ব্রাজিলীয় রাজনীতির অন্যতম বড় সমস্যা দুর্নীতি। ক্লায়েন্টেলিজম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাত আর সরকারি অর্থের ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যয় দেখানো—এসবই প্রচলিত। পাশাপাশি অত্যন্ত উন্মুক্ত বহুদলীয় কাঠামো ও দলসংখ্যার বাড়াবাড়ি ভাঙাচোরা রাজনীতি তৈরি করেছে, ফলে সরকার পরিচালনায় প্রেসিডেন্টকে নানা দলের জোটের সমর্থন নিতে হয়—এটিই “কোয়ালিশন প্রেসিডেন্সিয়ালিজম” নামে পরিচিত।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]
রিওর কার্নিভাল

মহাদেশসম আয়তন, বৈচিত্র্যময় ভূগোল, ইতিহাস ও মানুষের জন্য ব্রাজিলের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ ও বহুবর্ণ। এক ভাষায় (প্রায়) একতাবদ্ধ হলেও অঞ্চলভেদে স্বতন্ত্রতা এতটাই যে, অনেক জায়গা দেখতে আলাদা দেশের মতো লাগে।

সঙ্গীত ব্রাজিলিয় পরিচয়ের কেন্দ্রে। চোরো, সাম্বাবোসা নোভাকে স্বকীয় ব্রাজিলীয় ধারাই ধরা হয়। কাইপিরা সঙ্গীত সের্তানেজো—দেশের কান্ট্রি-ধারার—মূলে রয়েছে। এমপিবি (ব্রাজিলিয়ান পপুলার মিউজিক—এমপিবি) এক ছাতার নিচে নানা জাতীয় ঘরানাকে আনে। উত্তর-পূর্বের নাচ-ভিত্তিক প্রফুল্ল ধারা ফোরো এখন সারা দেশেই জনপ্রিয়। নতুন শহুরে ধারার মধ্যে আছে ফাঙ্ক—রিওর ফাভেলা থেকে আসা ভারী ইলেকট্রনিক বিট আর সাহসী র‌্যাপের নাচঘর-ধারা—এবং টেকনো-ব্রেগা, যা উত্তরের রাজ্যগুলোতে রোমান্টিক পপ, নাচের সুর ও ক্যারিবীয় ছন্দ মিশিয়ে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে।

কাপোয়েইরা হলো যুদ্ধকৌশল, নৃত্য, সঙ্গীত ও খেলার মিশ্রণ—যা আফ্রিকান দাসেরা এনেছিল, প্রধানত অ্যাঙ্গোলা থেকে। প্রাণবন্ত জটিল গতি ও বাদ্যসংগীতের সঙ্গে চর্চিত এই শিল্প আজ বহু শহরে দেখা যায়। পরে আগত জাপানি অভিবাসীরা ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট নিয়ে এসে যেটি রূপান্তরিত হয়ে অনন্য ধারায় পরিণত হয়েছে—ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিতসু

শাস্ত্রীয় সংগীতে আধুনিক যুগে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হেইতোর ভিলা-লোবো ও কামারগো গুয়ার্নিয়েরির কাজ—যারা ইউরোপীয় ধ্রুপ সঙ্গীতের উপাদানকে ব্রাজিলীয় ছন্দের সঙ্গে মিশিয়ে স্বতন্ত্র ব্রাজিলীয় স্কুল গড়েন। অন্যদিকে ক্লাউদিও সান্তোরো ভিয়েনার সেকেন্ড স্কুলের নীতিমালা অনুসরণ করেন। রোমান্টিক যুগে অ্যানতোনিও কার্লোস গোমেস—ইল গয়ারানিলো স্কিয়াভো-রচয়িতা—সবচেয়ে বড় নাম। ক্লাসিকাল যুগে যোজে মরিসিও নুনেস গার্সিয়া—যাজক, যিনি ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ—উভয় ধারায় লিখেছেন—অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের প্রথমভাগের ভিয়েনার ধাঁচে প্রভাবিত ছিলেন—সবচেয়ে বিশিষ্ট।

আফ্রিকান শিকড়ের কানডোম্বলেউমবান্দা ধর্ম বৈষম্য ও নিপীড়ন টিকে আজও উল্লেখযোগ্য অনুসারী ধরে রেখেছে। তাদের উপাসনালয় তেরেইরো—এর অনেকগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

আদিবাসী বৈশিষ্ট্য ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির সর্বত্র—রন্ধন থেকে শব্দভান্ডার। সব অঞ্চলে আজও বহু আদিবাসী গোষ্ঠী ও উপজাতি আছে—যদিও অনেকেই পাশ্চাত্য প্রভাবে বদলে গেছে এবং টিকে থাকা বহু আদিবাসী ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। আমাপা রাজ্যের ওয়াজাপি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ও চিত্রভাষা ইউনেস্কো তাদের অমূর্ত ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের শেষ ‘অসংস্পৃক্ত’ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই ব্রাজিলের ঘন আমাজন অরণ্যে বাস করে।

দেশের বৃহত্তম টিভি নেটওয়ার্ক গ্লোবো জাতীয় পরিচয় নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখে। আরও পাঁচটি বড় নেটওয়ার্ক হলো এসবিটি (দ্বিতীয় বৃহত্তম), রেকর্ডটিভি, ব্যান্ড, রেদেতিভি ও কুলতুরা (সার্বজনীন/শিক্ষামূলক)। স্থানীয়/আঞ্চলিক চ্যানেলও বহু আছে। কেবল ও স্যাটেলাইটের প্রসারে বিদেশি চ্যানেল দেখাও বাড়ছে। প্রতি ১০টি গৃহের ৯টিতে টিভি আছে—তথ্য ও বিনোদনের প্রধান উৎস—পরেরটি রেডিও। টিভিতে ক্রীড়া, চলচ্চিত্র, স্থানীয়/জাতীয় সংবাদ ও টেলেনোভেলা (ধারাবাহিক)—৬–১০ মাসের সিরিজ—দেশের বড় সাংস্কৃতিক রপ্তানি।

মানুষ

[সম্পাদনা]
বিশ্বখ্যাত কপাকাবানা সৈকত, রিওর দক্ষিণে

ইতিহাসজুড়ে ব্রাজিল বহু জাতি-ধর্ম ও চর্চাকে স্বাগত জানিয়েছে। এটি নানা জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ; এতে জাতিগত বিদ্বেষ ও বর্ণ-সংঘাত তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘ দাসত্ব আর আদিবাসীদের ওপর গণহত্যা—এর মাশুল রেখেছে। সাধারণত বৈষম্য বেশি দেখা যায় শ্রেণিভেদে; তবু গায়ের রং এখনও একটি বিভাজক। প্রায়শই দেখা যাবে—উপরের শ্রেণির ধনী মানুষ বেশি ফর্সা; মধ্যবিত্ত গড়পড়তা শ্যামলা; আর দরিদ্রের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। আজ অবশ্য আফ্রো-ব্রাজিলিয়ান ও আমেরিন্ডিয়ান জনগোষ্ঠী নাগরিক অধিকার ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বেশি সচেতন এবং শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক গতিশীলতার আশা জাগছে।

সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলিয়ানরা প্রাণবন্ত ও আনন্দপ্রিয়। দক্ষিণে মানুষ তুলনামূলক সংযত; রিও থেকে উত্তরদিকে মানুষ বেশি উচ্ছ্বাসী ও অবসরে মেতে থাকতে ভালোবাসে।

বন্ধুত্ব ও আতিথেয়তা ব্রাজিলিয়ানদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান; পরিবার-সম্পর্ক ও সামাজিক মেলামেশাও তাই গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিতদের প্রতি তারা খোলা, আপন ও অনেক সময় উদার। একবার পরিচয় হলে—যতক্ষণ না ভিন্ন কারণ দেখছেন—একজন ব্রাজিলিয়ান আপনাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতোই আপন করে নেবেন। বিদেশিদের প্রতি সম্মান ও মমতার খ্যাতিও রয়েছে—তবে পর্যটন যেমন দেশে তেমনি মানুষের অন্ধকার দিকও টেনে আনে।

আচরণে আঞ্চলিক তারতম্যও আছে:

  • সান্তা কাতারিনাতে স্প্যানিশভাষী পর্যটকদের জন্য দ্বিভাষিক সাইনবোর্ড ও স্বাগত–কমিটি দেখা যায়।
  • উত্তর-পূর্বের বৃহত্তম শহর সালভাদরে পর্যটকের মতো কথা/চলন/চেহারা দেখলেই (অন্য ব্রাজিলিয়ান হলেও) পার্কিং, রেস্তোরাঁ ইত্যাদিতে বেশি দাম চাওয়া হতে পারে।

অধিকাংশ ব্রাজিলিয়ান সৎ ও আন্তরিকভাবে বন্ধুসুলভ; কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো সুবিধা–বদলের রেওয়াজ—জেইতিনিও ব্রাজিলেইরো—চলছে। আপনি যদি খুব পর্যটকের মতো দেখান, লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন—যেমন বিক্রেতা বেশি দাম চাইতে পারে, ট্যাক্সিচালক দীর্ঘ রুটে নিতে পারে। এর মানে এই নয় যে কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না—বরং একটু সতর্কতা নিলেই চলে, বিশেষ করে কেউ যদি অতিরিক্ত বন্ধুসুলভ মনে হয়।

ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির “পশ্চিমা” শিকড় প্রধানত ইউরোপীয়—বিশেষ করে আইবেরীয়—যার প্রমাণ ঔপনিবেশিক শহর ও টাওয়ারের মাঝখানে ছড়ানো নতুন স্কাইস্ক্র্যাপার। তবে শহুরে সংস্কৃতি-স্থাপত্য, গণমাধ্যম, ভোক্তাবাদ, প্রযুক্তি–আশাবাদে ‘‘আমেরিকান ওয়ে অব লাইফ’’-এর প্রভাব স্পষ্ট। তবু ব্রাজিল এখনো আটলান্টিকের দিকে মুখ করা এক দেশ; বৌদ্ধিক অগ্রগামীরা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ইউরোপ—বিশেষত ফ্রান্স—এর দিকেই তাকান, যুক্তরাষ্ট্রর চেয়ে বেশি। শিক্ষা–ব্যবস্থাসহ বহু ক্ষেত্র ফরাসি অনুকরণ—উত্তর আমেরিকানদের কাছে প্রথমে অচেনা লাগতে পারে।

এই বিরাট দেশের বৈপরীত্য ইউরোপীয়সহ অধিকাংশ দর্শনার্থীকে একইসঙ্গে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে। সামাজিক–অর্থনৈতিক–পরিবেশগত সমস্যায় বহু স্থানীয়ের উদাসীনতা বিদেশিদের স্তম্ভিত করতে পারে। আধুনিক সুবিধা নিয়ে একটি শিক্ষিত পেশাজীবী–এলিট ও রাজনৈতিক শ্রেণি যেমন আছে, তেমনি শিশু–শ্রম, নিরক্ষরতা ও ন্যূনতম মানের আবাস এখনো বিদ্যমান—সাও পাওলো বা রিও–র মতো বিনিয়োগ–সমৃদ্ধ শহরেও।

কাঁচামাল, কৃষি ও জ্বালানিতে আত্মনির্ভরতা ভবিষ্যতের বড় সম্পদ—এ কথা ব্রাজিলিয়ানরা মানে। কিন্তু অধিকাংশের মত—শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আর উদ্যোগ–সুযোগের সমান প্রবেশাধিকার ছাড়া দারিদ্র্য–অনুন্নয়ন থেকে মুক্তি কঠিন।

একুশ শতকের শুরু থেকে চীন, বলিভিয়াহাইতি থেকে অভিবাসনের ঢেউ বেড়েছে।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

বিস্তীর্ণ দেশের জলবায়ুও ভিন্নতর; যদিও বেশিরভাগ এলাকা ক্রান্তীয়। আপনি সমুদ্ররেখা (ভূ-মধ্যরেখা) থেকে কত দূরে এবং কত উচ্চতায়—তার ওপর তাপমাত্রা অনেক বদলায়। উত্তর মাতো গ্রোসো থেকে পশ্চিম মারানহাও পর্যন্ত আমাজন অঞ্চলে ক্রান্তীয় বৃষ্টিবনের জলবায়ু—খুব ঘনঘন বৃষ্টি, উচ্চ তাপমাত্রা ও স্বল্প তাপমাত্রা–মাত্রা–পার্থক্য। প্রধান বর্ষাকাল প্রায় অবিশ্রান্ত, সাধারণত নভেম্বর–মার্চ। উত্তর–পূর্ব উপকূলে শীতকালে বৃষ্টি বেশি হয়।

উত্তর–পূর্বের অভ্যন্তরভাগ আধা–শুষ্ক—খুব গরম, বৃষ্টি অল্প এবং খরা ঘনঘন। মধ্য ব্রাজিলে ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু—অত্যন্ত শুষ্ক শীত, বছরের মাঝামাঝি আর্দ্রতা ৩০%–এর নিচে নেমে যায়; গরম ও বর্ষামুখর গ্রীষ্ম।

দক্ষিণ–পূর্বে উপকূল গরম–আর্দ্র; ক্রান্তীয় আটলান্টিক বায়ুমণ্ডলের প্রভাবে গ্রীষ্মে ঘনঘন বৃষ্টি। দক্ষিণ–পূর্বের উচ্চভূমি—৫০০–১,০০০ মিটার বা তার বেশি—পূর্ণ ক্রান্তীয় বেল্টের মধ্যে থেকেও সবচেয়ে কম তাপমাত্রা দেখা যায়; গড় ১৮°সেঃ–এর নিচে নেমে যায়। সাও পাওলোর দক্ষিণ ও দেশের তিন দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যে উপ–ক্রান্তীয় জলবায়ু—বছর জুড়ে বৃষ্টি তুলনামূলক সমান। গ্রীষ্ম খুব গরম—গড় প্রায় ৩০°সেঃ; শীত অনেক ঠাণ্ডা—প্রায়ই তুষারপাত ও নিম্ন তাপমাত্রা; কখনো ০°সেঃ–এরও নিচে। সান্তা কাতারিনারিও গ্রান্ডে দো সুল–এর সেরাস গাউশাস অঞ্চলের ১,০০০ মিটারের ওপরের বহু শহরে তাপমাত্রা আরও কমে; মাঝে মাঝে তুষারও পড়ে।

ব্রাজিল বিশ্বের ধর্মীয়–বৈচিত্র্যে অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে—এবং মানুষ নানা ধর্ম পালন করে।

সবচেয়ে বড় ধর্ম খ্রিস্টধর্ম—ব্রাজিলিয়ানদের অধিকাংশই রোমান ক্যাথলিক। ক্যাথলিক ধর্ম ষোড়শ শতকে পর্তুগিজরা এনেছিল এবং উনিশ শতক পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ছিল। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রোটেস্ট্যান্টও আছে—অধিকাংশই পেন্টেকোস্টাল; সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সংখ্যা বেড়েছে।

বৌদ্ধধর্ম এশীয় অভিবাসীরা নিয়ে এসেছে; আমেরিকায় বৃহত্তম বৌদ্ধ জনসংখ্যার একটি এখানে—২,৫০,০০০–এর বেশি অনুগামী।

ইহুদিধর্ম পঞ্চদশ–ষোড়শ শতকে এসেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর একটি ব্রাজিলে; দক্ষিণ আমেরিকায় সংখ্যায় দ্বিতীয়—১,২০,০০০–এর বেশি অনুসারী।

ইসলাম ব্রাজিলের বৃহত্তর সংখ্যালঘু ধর্মগুলোর একটি; ধারণা করা হয় পশ্চিম আফ্রিকার দাসেরা এনেছিল।

আফ্রো–ব্রাজিলীয় ধর্ম—যেমন উমবান্দা ও কানডোম্বলে—অনেক অনুসারী পেয়েছে; এখানে আফ্রিকান দেবতা (ওরিশা)দের সঙ্গে ক্যাথলিক সন্তদের সমন্বয় দেখা যায়। স্পিরিটিজম দেশটির তৃতীয় সর্বাধিক অনুশীলিত ধর্ম; সংখ্যায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্পিরিটিস্ট ব্রাজিলেই।

সরকারি ছুটি ও কর্মঘণ্টা

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলে নিম্নের ১৩টি জাতীয় ছুটি পালিত হয়:

  • নববর্ষ — ১ জানুয়ারি
  • কার্নাভাল — ফেব্রুয়ারি/মার্চ (পরিবর্তনশীল—ইস্টারের ৪০ দিন আগে। মূল ছুটি সোমবার–মঙ্গলবার, তবে আয়োজন শুরু হয় শনিবার থেকে এবং অ্যাশ বুধবার দুপুরে দোকান–সেবা স্বাভাবিক হয়।)
  • গুড ফ্রাইডে — মার্চ/এপ্রিল (পরিবর্তনশীল) ইস্টার রবিবারের দুই দিন আগে
  • তিরাদেঁতেস দিবস — ২১ এপ্রিল
  • শ্রমিক দিবস — ১ মে
  • করপুস ক্রিস্টি — মে/জুন (পরিবর্তনশীল) ইস্টারের ৬০ দিন পর
  • স্বাধীনতা দিবস — ৭ সেপ্টেম্বর
  • আমাদের লেডি অব আপারেসিদা (ব্রাজিলের পৃষ্ঠপোষক) ও শিশুদিবস — ১২ অক্টোবর
  • মৃতদের দিবস (ফিনাদোস) — ২ নভেম্বর
  • প্রজাতন্ত্র ঘোষণাদিবস — ১৫ নভেম্বর
  • বড়দিন — ২৫ ডিসেম্বর

কর্মঘণ্টা সাধারণত ০৮:০০ বা ০৯:০০–১৭:০০ বা ১৮:০০। ব্যাংক খোলা সোম–শুক্র ১০:০০–১৬:০০। রাস্তার দোকান সাধারণত শনিবার দুপুরে বন্ধ হয় এবং সোমবার খোলে। শপিং মল সাধারণত সোম–শনি ১০:০০–২২:০০/২৩:০০; রবি ১৫:০০–২১:০০। বড় শহরের কিছু মল রবিবারও খোলা থাকে—যদিও সব দোকান নাও খুলতে পারে। ২৪ ঘণ্টার দোকান/মার্কেটও কিছু জায়গায় পাওয়া যায়।

সময় অঞ্চল

[সম্পাদনা]
ব্রাজিলের সময় অঞ্চল: লালে ব্রাসিলিয়া সময় -২
বাদামিতে ব্রাসিলিয়া সময় -১ (ইউটিসি–৪)
সবুজে ব্রাসিলিয়া সময় (ইউটিসি–৩)
নীলে ব্রাসিলিয়া সময় +১ (ইউটিসি–২)।

ব্রাজিল চারটি মান সময় অঞ্চলে বিস্তৃত—ইউটিসি–২ থেকে ইউটিসি–৫ (ব্রাজিলীয় পরিভাষায় ‘‘ব্রাসিলিয়া সময় –২’’ থেকে ‘‘ব্রাসিলিয়া সময় +১’’)।

২০১৯ সাল থেকে ব্রাজিলে ডে–লাইট সেভিং সময় আর প্রযোজ্য নয়।

দর্শনার্থী তথ্য

[সম্পাদনা]

কীভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]
ব্রাজিলে প্রবেশের ভিসা–নীতির মানচিত্র; সবুজ/হালকা নীলে ভিসামুক্ত

ভিসা–সংক্রান্ত তথ্য

[সম্পাদনা]
ভ্রমণ সতর্কতা ভিসা-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ:
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ব্রাজিলে ব্যবসা বা পর্যটন উদ্দেশ্যে প্রবেশে ভিসা বাধ্যতামূলক হবে। তবে ই–ভিসা চালু আছে, ফলে ব্রাজিলীয় দূতাবাস/কনস্যুলেটে যেতে হবে না। আপনার পাসপোর্টে যদি আগে থেকেই বৈধ স্টিকার–ভিসা থাকে, সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ই–ভিসা লাগবে না। ব্রাজিলীয় দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়—তাদের ব্রাজিলে ফিরতে ব্রাজিলিয়ান পাসপোর্টই লাগবে। ই–ভিসার জন্য আবেদন করুন এই ওয়েবসাইটে
(তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ত্রুটি: অবৈধ সময়)

ব্রাজিল বহু দেশের সঙ্গে পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভিসা নীতি পালন করে—যে দেশ ব্রাজিলিয়ানদের ওপর ফি/নিয়ম আরোপ করে, ব্রাজিলও সাধারণত সেই দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেয়।

  • আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলে, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়েভেনেজুয়েলা—এই দেশের নাগরিকরা বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রবেশ করতে পারেন এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকতে পারেন।
  • মানচিত্রে সবুজ দেখানো দেশের অধিকাংশ পাসপোর্টধারীর জন্য ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা লাগে না—তবে ব্যতিক্রম আছে: সব ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যদেশ (৯০/১৮০ দিনের নীতি; ব্যতিক্রম—ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন), আলবেনিয়া (৯০/১৮০ দিন), ডোমিনিকা (৯০/১৮০ দিন), জর্জিয়া (৯০/১৮০ দিন), ইন্দোনেশিয়া (৩০ দিন), কাজাখস্তান (৩০ দিন), মন্টেনেগ্রো (৯০/১৮০ দিন), উত্তর মেসিডোনিয়া (৯০/১৮০ দিন), সেশেলস (৯০/১৮০ দিন), সিঙ্গাপুর (৩০ দিন), ইউক্রেন (৯০/১৮০ দিন), ভেনেজুয়েলা (৬০ দিন) এবং যুক্তরাজ্য। প্রয়োজনে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আপনার থাকার মেয়াদ ৯০ দিনের কম নির্ধারণ করতে পারেন—তখন পাসপোর্টের সিলের পাশে হাতে লিখে (যেমন ৬০/৩০ দিন) উল্লেখ করা হয়; না থাকলে ৯০ দিনই ধরা হবে।
রেসিফির পুরোনো শহরের রাস্তা
  • অন্যান্য সব দেশের নাগরিকদের ভিসা লাগবে[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]। ফি পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভিন্ন হয়; যেমন তাইওয়ানের নাগরিকদের জন্য মার্কিন$২০ (লিমার ব্রাজিল দূতাবাসের তথ্য) এবং প্রসেসিং সময় প্রায় ৫ দিন।
  • যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা ই–ভিসা–ও করতে পারেন।
  • ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রথমবার ব্রাজিলে প্রবেশ–বাধ্যতামূলক নিয়মটি এখন কেবল এ দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: অ্যাঙ্গোলা, বাহরাইন, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে, চীন, কিউবা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, ঘানা, গ্রীস, হন্ডুরাস, জাপান, জর্ডান, কোরিয়া, কুয়েত, লাওস, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, কাতার, সিরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও তিউনিসিয়া। ৯০ দিনের মধ্যে প্রথমবার প্রবেশ না করলে ভিসা অকার্যকর হবে—মেয়াদ যতই থাকুক।
  • আইনে প্রবেশের সময় ফেরত/বহির্গমন টিকিট দেখানো বাধ্যতামূলক। না থাকলে অনওয়ার্ড টিকিট (প্রায় মার্কিন$১২) বা সম্পূর্ণ ফেরতযোগ্য রিটার্ন টিকিট বুক করুন।
  • কিছু ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে এলে পীতজ্বর টিকা ও সনদ লাগতে পারে। অনুমতি ছাড়া প্রাণী, মাংস, দুগ্ধজাত, বীজ, গাছপালা, ডিম, মধু, ফল বা কোনো অপরিশোধিত খাদ্য আনা বেআইনি। বিস্তারিত: [vigiagro@agricultura.gov.br]।
  • ভূমি–সীমান্তের কয়েকটি ছোট শহরে কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই—সেখানে স্থানীয় পুলিশ (যাদের কাছে ইমিগ্রেশন সিল/কম্পিউটার নাও থাকতে পারে) আপনাকে নিকটবর্তী শহরের ফেডারেল পুলিশের দপ্তরে যেতে বলতে পারে।
প্রবেশ বনাম বহির্গমন সিল

ফেডারেল পুলিশ পাসপোর্টে সিল মারার পরই চেক করুন—সিলের ডানদিকে শেষ সংখ্যাটি ১ কি না। ১ মানে ‘প্রবেশ’, ২ মানে ‘বহির্গমন’। ভুল করে ২ পড়লে অন্য শহরে ভিসা বাড়াতে গেলে প্রথমে ভুল–সিলের শহরে ফিরে সংশোধন করতে বলবে।

ভূমি–সীমান্তে দিনভ্রমণে বেরিয়ে ফিরে এলে সিলের শেষ সংখ্যা ৫ (প্রবেশ) বা ৬ (বহির্গমন) হতে পারে—এটি মূল সিল (শেষে ১)–এর বৈধতায় প্রভাব ফেলে না।

  • পর্যটক ভিসা (ইমিগ্রেশনে অন–অ্যারাইভাল ভিসা সহ) পোলিসিয়া ফেডেরাল অফিসে বাড়ানো যায়; তবে শেনজেন এলাকার নাগরিকদের পর্যটক ভিসা বাড়ানো যায় না। সব রাজধনী, অধিকাংশ সীমান্তশহর ও আন্তর্জাতিক বন্দর–নগরে এই অফিস আছে। পর্যটক ভিসা একবারই, সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য বাড়ে; আর ৩৬৫ দিনের মধ্যে পর্যটক ভিসায় মোট ১৮০ দিনের বেশি থাকা যায় না। মেয়াদ শেষের প্রায় ১ সপ্তাহ আগে যোগাযোগ করুন। ফি আর$৬৭ (অক্টোবর ২০০৮)। ফেরত–টিকিট (ফেরতযোগ্য বুকিং) ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চাইতে পারে (ক্রেডিট কার্ড গ্রহণযোগ্য)। আবেদন করতে Emissão da Guia de Recolhimento[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] ফর্ম পূরণ করে বানকু দু ব্রাজিল–এ ফি জমা দিতে হয়—তবে আগে ফেডারেল পুলিশের অনুমতি নিন; নাহলে রিফান্ড পেতে ব্রাজিলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দরকার।
  • ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেলে প্রতিদিন আর$১০০ (জুলাই ২০২১ অনুযায়ী) করে, সর্বোচ্চ ১০০ দিন—অর্থাৎ সর্বোচ্চ আর$১০,০০০ জরিমানা। সীমান্তে পরিশোধ করতে হবে—সময় লাগতে পারে, তাই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থাকলে কয়েকদিন আগে পুলিশ দপ্তরে দিয়ে নিন—তারা ৮ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে বলবে। না দিলে পরেরবার প্রবেশে দিতে হবে। আগে জরিমানা দিয়েছেন বলে ভবিষ্যতে প্রবেশে সমস্যা হয় না—তবে রসিদ/পুরনো পাসপোর্টগুলি রাখুন। ৫ বছর পর পুরনো জরিমানা বাতিল হয়।

বিমানে করে

[সম্পাদনা]
দেশের ব্যস্ততম হাব—সাও পাওলো–গুয়ারুলোস (GRU)

ব্রাজিলের প্রধান দুই আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার সাও পাওলো–গুয়ারুলোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (GRU  আইএটিএ) ও রিও দে জেনেইরো–গালেয়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (GIG  আইএটিএ)। দুটিই নিজ নিজ শহরকেন্দ্রের কাছাকাছি; মেট্রো/বাসে সংযোগ আছে। কম সংখ্যায় বেলেম, বেলো হরিজন্তে, ব্রাসিলিয়া, ফোর্তালেজা, মানাউস, পোর্তো আলেগ্রে, রেসিফিকাম্পিনাস–এও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসে।

সবচেয়ে বড় ব্রাজিলীয় এয়ারলাইন লাতাম এয়ারলাইনস—আমেরিকা ও ইউরোপে সরাসরি উড়ান আছে। স্বল্প–মূল্যের গোলআজুল–ও ব্রাজিল ও দক্ষিণ আমেরিকার বহু শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালায়। ডেল্টা, ইউনাইটেড, আমেরিকান—এসব মার্কিন এয়ারলাইনও আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, নিউয়ার্ক, নিউ ইয়র্ক (জেএফকে) ও শিকাগো থেকে GRU–তে আসে; এয়ার কানাডা মন্ট্রিয়ালটরন্টো থেকে। ইউরোপ থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, কেএলএম, এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা, আইটিএ এয়ারওয়েজ, ইবেরিয়া ও টিএপি—লন্ডন (হিথ্রো), আমস্টারডাম, প্যারিস (শার্ল দ্য গোল), ফ্রাঙ্কফুর্ট, রোম, মাদ্রিদলিসবন—থেকে সাও পাওলো বা রিওতে ফ্লাইট চালায়।

ইউরোপ থেকে সাধারণত মাদ্রিদ/লিসবন রুটে বেশি ফ্রিকোয়েন্সি ও কম ভাড়া মেলে।

দেশের ভেতরে আকাশপথ ২০০৯–এর ৭ কোটি যাত্রী থেকে ২০১৯–এ প্রায় ১২ কোটিতে বেড়েছে—রাস্তার মান খারাপ ও রেল–নেটওয়ার্কের অভাবের প্রভাবও আছে। এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী; দীর্ঘ দূরত্বে সেরা বিকল্প। তবে সাও পাওলো–রিওর মতো বড় হাবগুলো ভিড়াক্রান্ত।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]

প্রধান সীমান্ত–পথগুলো:

কিছু সীমান্ত–শহরে—বিশেষত ফোজ দো ইগুয়াসু/সিউদাদ দেল এস্তে/পুয়ের্তো ইগুয়াসু—দিনভ্রমণে পাশের দেশে গিয়ে আসতে প্রবেশ/বহির্গমন সিল বা আনুষ্ঠানিকতা দরকার হয় না। একই স্থানগুলো ইমিগ্রেশন এড়াতে চাইলে (আইনবহির্ভূত) লোকেরা ব্যবহার করে—তবে ঝুঁকিপূর্ণ।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

দীর্ঘ–দূরত্বের বাসে ব্রাজিলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাতায়াত হয়। সরাসরি সংযোগ আছে বুয়েনস আইরেস, আসুনসিয়ন, মন্তেভিডিও, সান্তিয়াগোলিমার সঙ্গে। প্রথম তিনটির রুট সহজেই পাওয়া যায়; লিমার ক্ষেত্রে মাঝে বদলাতে হতে পারে। সাধারণত সাও পাওলো–কেন্দ্রিক হলেও পোর্তো আলেগ্রে, ফ্লোরিয়ানোপোলিস, কুরিতিবা বা পেলোতাস–এও ভালো সংযোগ আছে। দূরত্ব বিপুল—সাও পাওলো থেকে অনেক বিদেশি রাজধানীতে সড়কে যাত্রা ৩ দিনও লাগতে পারে। জাতীয় স্থল পরিবহন কর্তৃপক্ষের তালিকা[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] আছে; গ্রীন টোড বাস–ও ব্রাজিল ও আশেপাশে বাস–পাস দেয়।

নৌকায় করে

[সম্পাদনা]
আমাজনে ব্রাজিল–কলম্বিয়া নৌ–যাত্রা

আমাজন নদীপথে উত্তর ব্রাজিল থেকে পেরু, ভেনেজুয়েলাকলম্বিয়ায় নৌ–যোগাযোগ আছে।

ফরাসি গায়ানা থেকে ওইয়াপোক নদী নৌকায় পেরোতে প্রায় ১৫ মিনিট লাগে।

বলিভিয়ার গুয়ায়ারামেরিন থেকে রনডোনিয়ার গুয়াজার–মিরিন–এ মামোরে নদী পারাপার ৫–১০ মিনিট।

রেলে করে

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ যাত্রী–রেল প্রায় নেই বললেই চলে; সামরিক শাসনামলে নেটওয়ার্ক ভেঙে যায়। তবে কয়েকটি শহুরে/রাজ্য–ভিত্তিক পর্যটক–রেল আছে—দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্বে বেশি।

  • বেলো হরিজন্তে (মিনাস জেরাইস) থেকে ভিতোরিয়া (এস্পিরিতু সান্তু)—ভালে প্রতিদিন সকাল ০৭:৩০–এ বেলো হরিজন্তে এবং ০৭:০০–এ কারিয়াসিকা (ভিতোরিয়া থেকে ১০ কিমি) থেকে ট্রেন ছাড়ে; সময় প্রায় ১২½ ঘণ্টা; আসন সীমিত—ওয়েবসাইটে আগেভাগে কিনুন। এটি দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘ যাত্রী–লাইন—প্রায় ৭০০ কিমি।
  • সাও লুইস (মারানহাও) থেকে পারাউআপেবাস (পারা)—রুটের একটি অংশ আমাজন অরণ্য পেরোয়; এটি দেশের দীর্ঘতম যাত্রী–রেল—প্রায় ৯০০ কিমি। ভালে পরিচালিত। সাও লুইস থেকে সোম/বৃহ/শনি সকাল ০৮:০০; পারাউআপেবাস থেকে মঙ্গল/শুক্র/রবি সকাল ০৬:০০; সময় ১৫ ঘণ্টা।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

বড় শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াতে সময় লাগে অনেক—প্ল্যান accordingly।

বিমানে করে

[সম্পাদনা]
ব্রাজিল এয়ার পাস

দেশের ভেতরে বহু শহর দেখার ইচ্ছে থাকলে লাতাম/গোল–এর ‘‘ব্রাজিল এয়ার পাস’’ বিবেচনা করুন—৪ থেকে ৯টি টিকিট একসঙ্গে কেনা যায়, পরে দেশে থাকা অবস্থায় এয়ারলাইনের যেকোনো গন্তব্যে ব্যবহার করা যায়। ৪–কুপনের পাস সাধারণত প্রায় মার্কিন$৫৮০, ৯–কুপন প্রায় মার্কিন$১,১৫০। কেবল উত্তর–পূর্বের জন্য গোল–এর সাশ্রয়ী পাসও আছে। এগুলো দেশে আসার আগে কিনতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ফিরতি/অনওয়ার্ড টিকিটের প্রমাণ লাগবে।

আকাশপথ সারা দেশে ছড়ানো। অনেক রুটে পথে বহু স্টপ পড়ে—বিশেষত সাও পাওলো, রিও ও ব্রাসিলিয়া হাবে। কিছু বিমানবন্দর এখনো রাষ্ট্রায়ত্ত ইনফ্রায়েরো পরিচালিত; অনেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেসরকারিকরণ হয়েছে।

ফ্লাইট–দর তুলনার জন্য ব্রাজিলীয় বুকিং–এঞ্জিন আছে (কিছু ফি যোগ হয়); সরাসরি এয়ারলাইনে বুকিং সস্তা পড়ে।

এয়ারলাইন–পরিবেশ প্রায়ই বদলায়। বড় খেলোয়াড় লাতাম, গোলআজুল—সব রাজধানী ও বড় শহর কভার করে। আজুল–এর সহযোগী আজুল কনেক্তাভোএপাস[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] ছোট আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ছোট রুট চালায়; আরও আঞ্চলিক অপারেটর আছে।

অনেক ডোমেস্টিক ফ্লাইটে স্টপ এত বেশি যে এয়ারপোর্ট–ডিসপ্লেতে আপনার ফ্লাইট নম্বর না–ও থাকতে পারে—নিশ্চিত হতে গ্রাউন্ড স্টাফের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কিছু ডোমেস্টিক ফ্লাইট ‘‘ইন্টারন্যাশনাল’’—বিদেশ থেকে এসে কাস্টমস/ইমিগ্রেশন ছাড়া অভ্যন্তরে চলতে থাকে; সবাইকে পরের স্টপে ক্লিয়ার করতে হয়—দেশে ওঠা যাত্রীসহ। নতুন ইমিগ্রেশন ফর্ম নয়—আগমনের সময় পাওয়া ফর্মই দেখান।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: Driving in Brazil
সাও পাওলোর কাছে দুর্দান্ত হাইওয়ে...

ব্রাজিলে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম সড়ক–নেটওয়ার্ক—১.৬ মিলিয়ন কিমির বেশি। প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে—মিনাস জেরাইসের ঐতিহাসিক শহর, রিও–সানতোস হাইওয়ে, উত্তর–পূর্বের সৈকত—গাড়ি ভালো বিকল্প। এয়ারপোর্টে সাধারণ রেন্ট–এ–কার কোম্পানিগুলো আছে। পূর্ব/দক্ষিণ ও উপকূলে সড়ক ভালো; অন্যত্র ও মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে কাঁকর/মাটির রাস্তা—অফ–রোড গাড়ি জরুরি হতে পারে; বিশেষত আমাজনে নভেম্বর–মার্চ বর্ষায় অনেক রাস্তা দুর্গম/অচল। তাই ভালো মানচিত্র, দূরত্ব–সময়–পথ–তথ্য জেনে বেরোনো বাঞ্ছনীয়। গুইয়া কোয়াত্রো রোদাস মানচিত্র ২০১৫ পর্যন্ত স্টলে মিলত—এখন বন্ধ। অনেকে এখন গুগল ম্যাপসওয়েজ ব্যবহার করেন। কাগজে নিয়ম ইউরোপ/উত্তর আমেরিকার মতো; বাস্তবে নিয়মভঙ্গ ও সহনশীলতার কারণে ড্রাইভিং চ্যালেঞ্জিং।

...আর রোরাইমার আমাজন কেটে যাওয়া এমন রাস্তাও আছে

গাড়ির দূরত্ব কম রাখা, সুযোগ পেলেই ওভারটেক, টার্ন সিগন্যাল ছাড়া লেন–চেঞ্জ—সবই সাধারণ। বড় শহরে রাতে লাল–বাতিতে দাঁড়ালে ছিনতাই হতে পারে—তাই অনেকে (বাস–ড্রাইভারসহ) ক্রস–ট্রাফিক না দেখলে লাল–বাতি টপকে যায়। কেউ কেউ বিপরীতমুখী লেনও ব্যবহার করে ‘‘সময় বাঁচাতে’’। গ্রামে গবাদি–পশু রাস্তার ধারে থাকে—কখনো রাস্তা পেরোয়। পথচারীরা বড় ঝুঁকি নেয়; ড্রাইভাররা কমই গতি কমায়। সড়কের মান ভীষণ ওঠানামা করে; বিশাল গর্ত—রাতে ড্রাইভিং নিরুৎসাহিত করে। রাতের হাইওয়েতে ছিনতাই ও উত্তেজিত ট্রাক–ড্রাইভার (ঘুমভাঙা ওষুধে) ঝুঁকি বাড়ায়।

  • ডান–পাশে গাড়ি চালানো হয়।
  • সামনে থাকা গাড়ির বাঁ–সিগন্যাল—ওভারটেক না–করার সতর্কবার্তা; ডান–সিগন্যাল—পাশে থামবে/গতি কমাবে বা পাস–অনুমতি দিচ্ছে। বাঁ–সিগন্যাল ওভারটেকের ইঙ্গিতও—গতি বাড়াতে পারেন।
  • বিপরীত দিক থেকে হেডলাইট টিমটিম—সামনে সতর্কতা: প্রাণী/পুলিশ/স্পিড–রাডার ইত্যাদি।
  • বিশেষ করে বড় শহরে দরজা লক রাখুন; জানালা পুরো নামানো এড়ান; দৃশ্যমান স্থানে ব্যাগ/মূল্যবান রাখবেন না।

সাইকেলে করে

[সম্পাদনা]
রেলকমিউটারে চড়ে গ্রাভেল রাইডে যাচ্ছে সাইক্লিস্টরা
লং–ডিস্ট্যান্স বাসের লাগেজ কম্পার্টমেন্টে দুই সাইকেল

ছোট শহর/কসবে সাইকেল প্রচলিত—তবে গাড়ি/বাস–চালকদের সম্মান সবসময় মেলে না। শহরের বাইরে কম ট্রাফিকের ভালো রাস্তা মিলতে পারে। পিকআপে লিফট/লং–ডিস্ট্যান্স বাসে সাইকেল তোলা সহজ।

সাইকেল–পথ শহরে প্রায় নেই—তবে রিও দে জেনেইরোরেসিফির সমুদ্রতটে কিছু আছে।

দেশজুড়ে সাইক্লিং–গ্রুপ আছে—যেমন সাও পাওলোর সাম্পা বাইকার্স সাপ্তাহিক মিট করে।

আন্তঃরাজ্য বাস–ভ্রমণে জাতীয় আইনে লাগেজ ২৩ কেজি, ৩০০ ডিএম³ ও সর্বোচ্চ এক মিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে হলে বিনা–খরচে বহন–বাধ্যতামূলক। ওজন–বাড়তি ফি–নিয়ন্ত্রিত; আকার–বাড়তি নয়। সাইকেলের ওজন/আয়তন সাধারণত সীমার মধ্যে, কিন্তু একদিক একটু বড় হতে পারে—ফলে অনেক কোম্পানি বন্ধুত্বপূর্ণ/বাধাসৃষ্টিকারী—ড্রাইভারের সদিচ্ছাই প্রায়শ নিয়ম।

অনায়াসে সাইকেল নেওয়া কোম্পানির মধ্যে: ক্যাতারিনেন্সে, ১০০১, ভিয়াসাও কোমেতা, পাসারো মারোম। কড়াকড়ি করা কোম্পানি: ইউকাতুর, এক্সপ্রেসো নর্দেস্তে। আংশিক তালিকা ও রিভিউ:

নিয়ম অস্পষ্ট হলে সামনের চাকা খুলে ফ্রেমে বেঁধে প্লাস্টিক ব্যাগে প্যাক করলে বেশিরভাগ সময় সমস্যা হয় না।

কোম্পানির সঙ্গে নিয়ম জিজ্ঞেস করতে পারেন—লিখিত জবাব (ই–মেইল/মেসেজ) পেতে সময় লাগে ও প্রায়ই অস্পষ্ট/কঠোর উত্তর আসে; ফোন/সামনাসামনি জিজ্ঞেস করা ফলপ্রসূ।

রেলে করে

[সম্পাদনা]

সামরিক আমলে রেল–ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তঃরাজ্য যাত্রী–লাইন অল্প। তবে একই রাজ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটি শহুরে/স্বল্প–দূরত্বের পর্যটক–রেল (দক্ষিণ/দক্ষিণ–পূর্বে) চলছে।

আন্তঃনগর বাসে করে

[সম্পাদনা]
সাও পাওলোর তিয়েতে টার্মিনাল—বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম

দীর্ঘ–দূরত্বে অঞ্চল–পেরিয়ে যাতায়াতের সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক মাধ্যম। ব্রাজিলের বাস–টার্মিনাল (টার্মিনাল রোদোভিয়ারিও/এস্তাসাও রোদোভিয়ারিয়া/রোদোভিয়ারিয়া) ইউরোপ/উত্তর আমেরিকার রেলওয়ে স্টেশনের মতো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। দূরত্ব–সময় দেখে নিন—রিও থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে বাসে ২৪ ঘণ্টারও বেশি লাগতে পারে; সামর্থ্য থাকলে প্লেনে যাওয়া সার্থক।

লং–ডিস্ট্যান্স বাস–নেটওয়ার্ক খুব ভালো। প্রায় ১,০০,০০০–এর বেশি জনসংখ্যার যেকোনো শহর থেকে নিকটবর্তী রাজ্য–রাজধানী ও আশেপাশের বড় শহরে সরাসরি বাস থাকে। বাস–স্টেশন না থাকলে নিকটবর্তী শহরের টার্মিনালে যাওয়ার পাবলিক বাস থাকে।

কিছু রুটে টিকিট কিনতে স্টেশনে যেতে হতে পারে; বড় কোম্পানির অনলাইনে রিজার্ভ/বিক্রি আছে—আগেভাগে কিনতে হয়। কিছু শহরে ফোনে বুক করে আর$৩–৫ বাড়তি দিয়ে হোটেলে ডেলিভারি মেলে। এয়ারলাইনের মতো ডায়নামিক প্রাইসিং–ও শুরু হয়েছে—আগে কিনলে ৫০%–এর বেশি সাশ্রয়। পথে হাত তুলে বাস থামিয়ে ওঠা—সিট না থাকলে দাঁড়িয়ে (পূর্ণ ভাড়ায়)—গ্রহণযোগ্য; তবে প্যারাগুয়ে সীমান্ত/ফোজ দো ইগুয়াসু–মুখী কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ রুটে এটি কমে গেছে।

একটি কোম্পানি সারা দেশ কভার করে না—দুই শহরের সংযোগকারী কোম্পানি চিনতে হবে। বুসেরজাতীয় স্থল পরিবহন কর্তৃপক্ষ[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]–এর ওয়েবসাইটে টিকিট খোঁজা যায়। ফ্লিক্সবাস দেশজুড়ে চলে—আমাজন নদীপারের এলাকা বাদে

সাধারণত তিন ক্লাস: রেগুলার, এক্সিকিউটিভ ও ফার্স্ট–ক্লাস (পর্তুগিজে লেইতো)। রেগুলারে এ–সি থাকতে/না–থাকতে পারে। দীর্ঘ–রাতযাত্রায় এক্সিকিউটিভে বেশি জায়গা ও লেগ–সাপোর্ট থাকে। ফার্স্ট–ক্লাসে সারিতে তিনটি সিট—শোয়া আরামদায়ক। ৪ ঘণ্টার বেশি রুটে বাসে টয়লেট থাকে এবং কমপক্ষে প্রতি ৪ ঘণ্টায় খাবার/টয়লেট–স্টপ।

সাও পাওলো/রিওর মতো বড় শহরে একাধিক টার্মিনাল—প্রতিটি আলাদা রুট কভার করে; কোন টার্মিনাল থেকে ছাড়বে—আগে দেখে নিন।

অনেক শহরে টার্মিনাল শহরকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে/নির্জনে—রাতে ট্যাক্সি ধরার প্রস্তুতি নিন; লোকাল বাসও থাকে। বাইরে কেনা টিকিট থাকলেও কিছু টার্মিনালে বোর্ডিং–পাস আলাদা লাগে—কোম্পানির কাউন্টার থেকে (কখনো সামান্য ফি)। টার্মিনালে ফাস্ট–ফুড, ক্যাফে, ইন্টারনেট, টয়লেট, লাগেজ–স্টোর—সবই মেলে; বড় শহরে দাম বেশি হতে পারে (ছোট শহরে লাগেজ রাখায় আর$১; রেসিফির মতো রাজধানীতে আর$৫)।

আইন অনুযায়ী টিকিট কেনা ও বাসে ওঠার সময় আইডি চাইতে পারে—বিদেশির ক্ষেত্রে পাসপোর্ট। সব ড্রাইভার বিদেশি পাসপোর্ট পড়তে পারেন না—তাই টিকিট–নামের সঙ্গে পাসপোর্ট–নাম মিল আছে—এটি দেখিয়ে দিন।

রাইড শেয়ারিং করে

[সম্পাদনা]

অনেকেই জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর মধ্যে শেয়ার্ড রাইড অফার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ওয়েবসাইট হলো ব্লা–ব্লা–কার (BlaBlaCar)—এখানে ড্রাইভারদের রেটিং–সিস্টেমও আছে, যা ভ্রমণকে (ব্রাজিলীয় মানে) বেশ নিরাপদ করে। এভাবে পরিবহন খরচ প্রায় ৪০–৫০% পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায়। খরচের সাধারণ হিসাব—প্রতি ১০০ কিমিতে প্রায় আর$২০।

এটি অনেক সময় যথেষ্ট দ্রুতও—পথিমধ্যে অপ্রয়োজনীয় রেস্তোরাঁ–স্টপ ইত্যাদি ছাড়াই। ব্লা–ব্লা–কার ওয়েবসাইট ব্যবহার ফ্রি, আপনি সরাসরি ড্রাইভারকে টাকা দেন। ভবিষ্যতে (অন্য দেশের মতো) তারা প্রায় নিশ্চিতভাবেই চার্জ নিতে পারে। তবে সরকার এই ধরনের পরিষেবার (উবারসহ) কর–ব্যবস্থা চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত ফ্রি–ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে না।

অ্যাপে শেয়ার্ড–রাইডের দাম রেয়ালে (BRL) দেখতে চাইলে ইন্সটল করার পর মুদ্রা হিসেবে BRL বেছে নিন। যদি আপনার ফোনে আগেই অন্য মুদ্রা সেট করা থাকে, তাহলে অ্যাপ ডিলিট করে নতুন করে ইন্সটল করতে হবে।

ব্রাজিলিয়ানদের কথা বলতে ও মতামত দিতে প্রবল আগ্রহকে খাটো করে দেখবেন না—আড্ডা/আলোচনা যে কোনো বিষয়েই চলতে পারে। আপনার স্বভাব যদি ভিন্ন হয়, নীরব ড্রাইভ পছন্দ করেন ও শুধু গন্তব্যে পৌঁছোতে চান—তাহলে এটি আপনাকে চাপেও ফেলতে পারে।

সিটি–বাসে করে

[সম্পাদনা]
ব্লুমেনাউ–এর লোকাল বাস

বেশিরভাগ শহরেই বিস্তৃত বাস–সেবা আছে; এক শহরে একাধিক কোম্পানিও চলতে পারে। বাস–রুটের মানচিত্র প্রায় কখনোই থাকে না, আর অনেক সময় বাস–স্টপও চিহ্নহীন। বিভ্রান্তি ও সময়–নষ্টের জন্য প্রস্তুত থাকুন। বড়/ছোট শহরের নগর যাত্রী–পরিবহনের সময়সূচী এই সাইটে ও গুগল ম্যাপস–এ খোঁজা যায়—কিছু পরিষেবা যুক্ত রয়েছে।

বাসের উইন্ডশিল্ডের পেছনে তারা যেসব গন্তব্যে যায় সেগুলোর নাম লেখা থাকে। স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতে হতে পারে, তবে তারা সাধারণত নিজের চেনা রুট ছাড়া অন্য বাস–লাইন নাও জানেন।

বেশিরভাগ শহরে বাস থামাতে আপনাকেই হাত নেড়ে ইশারা করতে হয়। এতে সমস্যা নেই; কিন্তু বড় শহরে একই স্টপে ডজন–খানেক লাইন থামে—স্টপগুলো এত বাস নেওয়ার মতো নকশা করা নয়। ফলে সামনে আসা বাসগুলো অন্য বাসে আড়াল হয়ে দেখা যায় না। ড্রাইভাররাও নিশ্চিত না হলে গতি কমাতে চান না—ফলে আপনি ইশারা করার আগেই আপনার বাসটা চলে যেতে পারে বা আপনার ইশারা ড্রাইভার দেখতে নাও পেতে পারেন। অনেকেই ব্যস্ত রাস্তার মাঝামাঝি দিকটায় দাঁড়িয়ে থাকেন—যেন বাস–ড্রাইভারও তাকেই দেখেন, আপনিও বাসটিকে দেখেন। কোথাও কোথাও (যেমন মানাউসে) ড্রাইভাররা স্টপে ওঠানামার ইশারা–সিগন্যালও এড়িয়ে যেতে পারেন—যদি থামানো কষ্টসাধ্য হয়।

বেশিরভাগ সিটি–বাসে ড্রাইভার ছাড়াও একজন কন্ডাক্টর থাকেন। কন্ডাক্টর টার্নস্টাইল–এর পাশে টিলের পেছনে বসেন। তাঁকেই ভাড়া দিতে হয়; ভাড়ার পরিমাণ সাধারণত উইন্ডশিল্ডে লেখা থাকে। টার্নস্টাইলটি সরু—কোনো বোঝা থাকলে খুবই অস্বস্তিকর (দৌড়ুতে থাকা বাসে ভারী ব্যাকপ্যাক কাঁধে নিয়ে টার্নস্টাইল পার হওয়া ভাবুন!)। বড় বাসে টার্নস্টাইলের আগের অংশে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতীদের অগ্রাধিকার–আসন থাকে—চাইলে আপনি দাঁড়াতে/বসতে পারেন, তবে ভাড়া দিতেই হবে! গড় ভাড়া প্রায় আর$৩।

কন্ডাক্টরকে অনুরোধ করতে পারেন—গন্তব্যের কাছাকাছি এলে জানিয়ে দিতে। তিনি বুঝলে ও সাহায্য করতে চাইলে এটা কাজে লাগে।

বড় বাস ছাড়াও অনেক জায়গায় মিনিবাস/মিনিভ্যান (আলতেরনাতিভো) চলে—এগুলোর ভাড়া সরাসরি ড্রাইভারকে দিতে হয়।

নৌকায় করে

[সম্পাদনা]

উত্তর ব্রাজিলে বহু পথ নৌকায় যাওয়া যায়। আমাজন অরণ্য অসংখ্য নদীতে বিচ্ছিন্ন—অনেক শহরে সড়ক–সংযোগই নেই—তাই আমাজনে ঘোরাঘুরির প্রধান ও সহজ মাধ্যম নৌকাই। দেশের সেরা নৌ–সেবা এই আমাজনেই—স্পিডবোট, আরামদায়ক ইয়ট থেকে ছোট কাঠের নৌকা—সবই মেলে। প্রধান নাব্য নদী—আমাজন, আরাগুয়াইয়া, শিঙ্গু ও তাপাজোস। কোথাও কোথাও জলপ্রপাত থাকায় অঞ্চল–ভূগোল জানা জরুরি।

ই–হেইলিং করে

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলে কিছু ই–হেইলিং পরিষেবা আছে; এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উবার। উল্লেখযোগ্য পরিষেবাগুলো—

  • Uber
  • 99Pop যদি গুগল প্লে–স্টোরে অ্যাপটি না পান, তবে এখানে থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।
  • Cabify
পর্তুগিজ, ইংরেজি ও স্প্যানিশে সড়ক–সাইন
আরও দেখুন: Brazilian Portuguese phrasebook
অবাকথিত যোগাযোগ


ব্রাজিলিয়ানরা অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তায় প্রচুর ভঙ্গি–ইশারা ব্যবহার করেন—ফলে কিছু শব্দ/অভিব্যক্তির অর্থও এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

  • থাম্বস–আপ—মানে ‘‘সব ঠিক’’, ‘‘হ্যাঁ’’ বা ‘‘ধন্যবাদ’’–ও হতে পারে। এই অর্থে ‘‘OK’’ হাতভঙ্গি এড়ান—অশোভন ধরা হয়।
  • তর্জনী ডানে–বাঁয়ে নাড়া ও/অথবা দাঁতের পেছনে জিভ লাগিয়ে ২–৩ বার ক্লিক–শব্দ—মানে ‘‘না’’।
  • তর্জনী দিয়ে নিচের চোখের পাতার চামড়া টেনে নামানো—‘‘সাবধান’’।
  • বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনী–মধ্যমা ঘষা—‘‘দামি’’।
  • ক’বার আঙুল টোকা/স্ন্যাপ—‘‘দ্রুত’’ বা ‘‘অনেক দিন আগে’’।
  • ঠোঁট বুলিয়ে স্ন্যাপ—‘‘মজাদার’’; কোথাও কানের লতি চিমটি–কাটাও একই অর্থে।
  • তর্জনী–মধ্যমার মাঝে বুড়ো আঙুল ঢুকিয়ে মুঠি—ফিগা—এটি অঞ্চলে ভেদে কখনো শুভ, কখনো অশুভের ইশারা।
  • তালুর ওপর বুড়ো আঙুল ছুঁইয়ে হাত গোল–ঘোরানো—কোথাও ‘‘আমাকে ঠকানো হচ্ছে/মাথায় উঠেছে’’।
  • ‘‘হাশ’’ ভঙ্গি (শ্‌!) খুবই অশোভন—কারও দিকে ‘‘চুপ করো!’’ চিৎকারের সমতুল্য।
  • কারও দৃষ্টি টানার অনানুষ্ঠানিক উপায়—হিসহিসে শব্দ: প্সিউ!—অশোভন ধরা হয় না, তবে বারবার করলে বিরক্তিকর।

ব্রাজিলের সরকারি ভাষা পর্তুগিজ

ব্রাজিলীয় পর্তুগিজ ইউরোপীয় পর্তুগিজ থেকে যথেষ্ট আলাদা—উচ্চারণ, বানান, কিছু শব্দের অর্থ, আর ইংরেজি–ফরাসি–জার্মান–ইতালীয়–জাপানিজ থেকে বহু ঋণশব্দ আছে।

বেশিরভাগ ব্রাজিলিয়ান স্কুলে ইংরেজি পড়লেও গুরুত্ব থাকে ব্যাকরণ/লিখিত রচনায়—কথোপকথনে নয়। তাই দৈনন্দিন ইংরেজি জানেন এমন মানুষ তুলনামূলক কম। বড় হোটেল/ট্যুরিস্ট–এলাকার কেউ কেউ ইংরেজি বলতে পারেন; তরুণদের সম্ভাবনা বেশি। একা ভ্রমণে চাইলে ব্রাজিলীয় পর্তুগিজ–এ ভালো দখল থাকা দরকার।

স্প্যানিশ–ভাষীরা ব্রাজিলে, বিশেষত দক্ষিণে, মোটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারেন—উরুগুয়ে/আর্জেন্টিনা–সীমান্ত–ঘেঁষা বলে ও ওই দেশগুলোর পর্যটক থাকায়। তবে লিখিত ভাষা মিললেও কথ্য পর্তুগিজ স্প্যানিশ থেকে বেশ আলাদা। উদাহরণ—২০: স্প্যানিশে ভেইন্তে (BAYN–তে), ব্রাজিলীয় পর্তুগিজে ভিন্তি (VEEN–চি)। হেনতে/জেন্তে—স্প্যানিশে “HEN–তে”, ব্রাজিলীয়ে “ZHEN–চি”। CH, D, G, J, R, RR, T—এই অক্ষরগুলোর উচ্চারণ বিশেষ করে কঠিন—স্বরবর্ণের কথাই বা বাদ! বিশেষত শব্দের শুরুতে ‘‘R’’—অনেক সময় ‘‘হ’’–এর মতো শোনায়। তাই Roberto, Ronaldo, Rolando—হবে ‘‘হোবের্তু’’, ‘‘হোনাউদু’’, ‘‘হোলান্দু’’। Rio—“হি–উ”।

কিছু অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভাষাও প্রচলিত। আমাজনে আদিবাসী ভাষা—বিশেষত নিঙাগতু, তুকানোবানিওয়াআমাজোনাস রাজ্যের সাঁও গ্যাব্রিয়েল দা কাশোয়েরার পৌরসভায় সহ–সরকারি মর্যাদা পেয়েছে। দক্ষিণে জার্মান/ইতালীয় অভিবাসীদের শহরগুলোতে এ ভাষা/উপভাষার কিছু ব্যবহার আছে—যেমন সান্তা কাতারিনার পোমেরোদেতে জার্মান ও পোমেরানিয়ান সহ–সরকারি; রিও গ্রান্ডে দো সুলের সেরাফিনা কোরেয়া/কাশিয়াস দো সুলে সহ–সরকারি ভাষা টালিয়ান—উত্তর ইতালির ভেনেতো–উপভাষা। অভিবাসনের কারণে কিছু শহরে ইতালীয়, জাপানি, মান্দারিন চীনা, কোরিয়ান, আরবি, পোলিশ, ইউক্রেনীয়, ফরাসিহাইতিয়ান ক্রেওল–ও শোনা যায়।

ব্রাজিলের শ্রবণ–প্রতিবন্ধী সম্প্রদায়ের প্রধান ভাষা ব্রাজিলিয়ান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (LIBRAS)—ফরাসি সাইন–ল্যাঙ্গুয়েজ (LSF)–এর প্রভাবে গড়া, এক–হাতের বর্ণমালা ব্যবহার করে। ব্রিটিশ/অস্ট্রেলিয়ান/নিউজিল্যান্ড সাইন–ল্যাঙ্গুয়েজ–ব্যবহারকারীরা এখানে বুঝতে বড় অসুবিধায় পড়বেন—ভোকাব/ব্যাকরণ আলাদা এবং তারা দুই–হাতের বর্ণমালা ব্যবহার করেন।

প্রায় সব সিনেমা ও বিদেশি টিভি–শো পর্তুগিজে ডাব করা হয়। কিছু পে–টিভিতে ডুয়াল–অডিও (মূল শব্দ + সাবটাইটেল অন–অপশন) থাকে। ইংরেজি–অডিওতে সর্বশেষ ছবি দেখতে চাইলে বড় শহরের কিছু হলে পাওয়া যায়—খুঁজুন ‘‘Legendado’’ (মূল শব্দ + সাবটাইটেল) লেখা। সাবটাইটেল ছাড়া মূল ভাষায় চালানো শো বিরল।

দেখুন

[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক বিস্ময়

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলের বহু প্রাকৃতিক বিস্ময় সরকারি সুরক্ষায় জাতীয় উদ্যান–ব্যবস্থার অংশ—দেশের প্রায় সব ইকো–অঞ্চলেই (ক্রান্তীয় অরণ্য, সাভানা, নদী, পর্বত, উপকূলীয় জলাভূমি) ৬০–এর বেশি উদ্যান রয়েছে।

পান্তানালে এক জাগুয়ার
  • আমাজন রেইনফরেস্ট—বিশ্বের অবশিষ্ট বৃষ্টিবনের অর্ধেকেরও বেশি আমাজন অববাহিকায়; এর ৬০%–এর বেশি ব্রাজিলের উত্তরে—প্রায় এক বিলিয়ন একর—অবিশ্বাস্য জীববৈচিত্র্যসহ। এখানে আছে প্রায় ২৫ লক্ষ কীটপতঙ্গ, ৪০,০০০–এর বেশি উদ্ভিদ, ২,২০০ মাছ ও ২,০০০–এর বেশি পাখি–স্তন্যপায়ী। বিশ্বের প্রতিটি পাঁচটি পাখির মধ্যে একটি আমাজনে; মাছের ক্ষেত্রেও তাই—আমাজনের নদী–খালে।
  • আটলান্টিক অরণ্য (মাতা আতলান্তিকা)—উত্তর–পূর্বের রিও গ্রান্ডে দো নর্তে থেকে দক্ষিণের রিও গ্রান্ডে দো সুল পর্যন্ত আটলান্টিক উপকূলজুড়ে ক্রান্তীয়–উপক্রান্তীয় অরণ্য। দক্ষিণে আইকনিক আরাউকারিয়া পাইন থেকে উত্তর–পূর্বের ম্যানগ্রোভ, ডজন–ডজন ব্রোমেলিয়া/অর্কিড, আর কাপিবারা–সহ অদ্ভুত সব প্রাণী—বহু বৈচিত্র্য। এটি বিশ্ব জীবমণ্ডল সংরক্ষণ–অঞ্চল (বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ) ঘোষিত—মারমোসেট, লায়ন টামারিন, উলি স্পাইডার–বানরের মতো বহু মারাত্মক বিপন্ন প্রাণীর আবাস। দুঃখজনকভাবে উপনিবেশ–যুগ থেকে আখচাষ ও নগরায়ণে ব্যাপকভাবে উজাড়—এখন অবশিষ্ট মূল অরণ্য ১০%–এরও কম, তাও বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। তবু শত শত উদ্যান—১৩১ ফেডারেল, ৪৪৩ রাজ্য, ১৪ মিউনিসিপ্যাল—এর বিশাল অংশ রক্ষিত এবং ঘোরার জন্য উন্মুক্ত।
  • পান্তানাল—বিশ্বের বৃহত্তম ক্রান্তীয় জলাভূমিগুলোর একটি। এর ৮০% মাতো গ্রোসো দো সুল–এ, বাকিটা মাতো গ্রোসো (আর আংশিক বলিভিয়া/প্যারাগুয়ে)—মোট আয়তন প্রায় ১,৪০,০০০–১,৯৫,০০০ কিমি²। বর্ষায় ৮০% প্লাবিত হয়ে জলজ উদ্ভিদের অদ্ভুত বৈচিত্র্য ও ঘন বন্যপ্রাণ–সমাজকে টিকিয়ে রাখে।
  • জলপ্রপাত (কাচোয়েইরাস)—ব্রাজিলে নানা আকার–গঠনের অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাত। পারানার পূর্বে ইগুয়াসু জলপ্রপাত বিশ্বের অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর—দেখতেই হবে। বাহিয়ার চাপাদা দিয়ামান্তিনায় ৩৫৩ মিটার কাচোয়েইরা দা ফুমাসা দেশের দ্বিতীয় উচ্চতম—আমাজন অঞ্চলের দুর্গম কাচোয়েইরা দো আরাকা সর্বোচ্চ। আরও আছে রিও গ্রান্ডে দো সুল–এর কানেলার কাছে রাজ্য–উদ্যানে কারাকল ফলস; গোইয়াস–এর ফোরমোজার কাছে সহজগম্য ১৬৮ মিটার ইতাকিরা ফলস; মিনাস জেরাইস–এর সেতে লাগোয়াস–এর কাছে পার্কে দা কাসকাতার গর্জ। জাতীয় খ্যাতির বাইরেও বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ–পূর্বমধ্য–পশ্চিমের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই হাঁটাপথ দূরত্বে কোনো না কোনো ‘‘লোকাল–খ্যাত’’ জলপ্রপাত পাবেন।
ব্রাজিলের ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের দৃষ্টান্ত—ওরো প্রেতো

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

করবেন

[সম্পাদনা]

সমকামী ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

উচ্চ গ্রহণযোগ্যতা/সহনশীলতার কারণে ‘গে–ট্রাভেল’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রধান গন্তব্য—রিও দে জেনেইরো (দু’বার ‘‘বিশ্বের সেক্সিয়েস্ট ডেস্টিনেশন’’), সাও পাওলো (বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাইড প্যারেড), ফ্লোরিয়ানোপোলিস (সবচেয়ে ট্রেন্ডি), রেসিফি (রোদ–মজা–খোঁজা পর্যটকের ভিড় বাড়ছে)। তবে বড় শহরের বাইরে গ্রাম–অঞ্চলে সংস্কৃতি রক্ষণশীল/ক্যাথলিক—সতর্ক থাকুন।

কার্নাভাল

[সম্পাদনা]

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব—প্রতি বছর সারা দেশে—ফেব্রুয়ারির শেষ/মার্চের শুরুতে—প্রায় এক সপ্তাহ। ওলিন্দার বিশাল বোনেকো মুখোশ, সালভাদর–এর ত্রিওস ইলেত্রিকোস থেকে রিও দে জেনেইরো/সাও পাওলোর দানবীয় সাম্বা প্যারেড—বৈচিত্র্যময় উদযাপন। তুলনামূলক শান্ত চান? দেখুন ওরো প্রেতোর ইউনিভার্সিটি–স্টাইল স্ট্রিট–পার্টি বা ইলহা দো মেল–এর বিচ–স্পোর্টস পার্টি। অনেক আগে থেকেই বুকিং দিন!

ব্রাজিলে সৈকতের কোনো অভাব নেই

প্রায় পুরো উপকূলজুড়েই দারুণ সব সমুদ্রসৈকত—বিচ–লাইফ ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির বড় অংশ। এর সেরা উদাহরণ রিও দে জেনেইরো—ফ্লিপ–ফ্লপ–পায়ে আরাম–জীবন, ইপানেমাকোপাকাবানার মতো বিশ্বখ্যাত বিচ। অন্য অঞ্চলের সৈকতও কম নয়—উত্তর–পূর্বে জেরিকোয়াকোয়ারা, প্রাইয়া দো ফুতুরো, বোয়া ভিস্ত্যা, পোর্তো দে গালিনিয়াস, মরো দে সাও পাওলো—বিশেষত ইউরোপীয়দের ভিড়। স্থলবেষ্টিত মিনেইরো–রা গুয়ারাপারিতে ধনী–সেলিবদের সঙ্গে মিশে বা ইতাউনাস–এ বালিতে ফোরো নাচে; পউলিস্তারা কারাগুয়া/উবাতুবা–য় যায়। দক্ষিণে উইকএন্ড–ভ্রমণকারীরা ইলহা দো মেল/বালনেয়ারিও কাম্বোরিউতে ছুটে যায়; সান্তা কাতারিনা দ্বীপ–এর ৪২টি বিচে প্রতিবছর হাজারো আর্জেন্টাইন আসে। আরও শত শত সৈকত অপেক্ষায়। রিও–সাও পাওলোতে ন্যুড–বিচও আছে—ভুলবেন না!

খেলাধুলা

[সম্পাদনা]

ফুটবল

[সম্পাদনা]

ফুটবল ব্রাজিলে সর্বত্র ‘‘জাতীয় ধর্ম’’–সম—মহান দল/খেলোয়াড়ের ভিড়। বিশ্বখ্যাত মারাকানা সংস্কারে থাকলেও বেলো হরিজন্তের মিনেইরাঁও বা সাও পাওলোর মোরুম্বিতে ম্যাচ দেখতে পারেন। জাতীয় পুরুষ দল বিশ্বকাপ জিতেছে রেকর্ড ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২)—প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী আর্জেন্টিনার সঙ্গে তীব্র রেষারেষি।

শীর্ষ পেশাদার লিগ ব্রাজিলেইরাঁও—দর্শক–উত্তেজনায় ভরপুর। ‘‘বিগ টুয়েলভ’’—শহরভিত্তিক—

সব বড় ক্লাবেরই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে; সবচেয়ে পরিচিত—করিন্থিয়ান্স–পালমেইরাসের ‘‘পাউলিস্তা ডার্বি’’, ফ্লামেঙ্গো–ফ্লুমিনেন্সের ‘‘ফ্লা–ফ্লু’’, আর ফ্লামেঙ্গো–ভাস্কোর ‘‘ও ক্লাসিকো দোস মিলহোয়েস’’।

অন্যান্য খেলা

[সম্পাদনা]
  • ভলিবল—ফুটবলের পরে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ইনডোর ছাড়াও ব্রাজিলে নানান ধরন—
  • বিচ ভলিবল—প্রায় প্রতিটি বিচে খেলার জায়গা পাবেন; নিয়ম ইনডোর থেকে ভিন্ন (৬ জনের বদলে ২ জন)।
  • ফুটভলি—ব্রাজিলের উদ্ভাবন; বিচ ভলিবল কিন্তু বল–ও ‘‘হ্যান্ডস–অফ’’—ফুটবলের নিয়মে।
  • বিরিবোলবিরিগুই শহরে উদ্ভাবিত, পানির মধ্যে খেলা ভলিবল; ১.৩ মি গভীর পুলে, ৪–জনের দল, ওয়াটার–পোলো বলের মতো বলে।

কেনাকাটা করুন

[সম্পাদনা]

টাকা–পয়সা

[সম্পাদনা]
Brazilian reais-এর বিনিময় হার

জুলাই ২০২৫-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ R$৫.৪
  • €১ ≈ R$৬.৪
  • ইউকে£১ ≈ R$৭.৪

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

ব্রাজিলের মুদ্রা রেয়াল (উচ্চারণ ‘হে–আউল’); বহুবচন রেয়াইস (‘হে–আইস’); চিহ্ন "R$" (আইএসও: BRL); কথ্য ভাষায় ‘‘কন্তু’’ বা রিও গ্রান্ডে দো সুল–এ ‘‘পিলা’’ বলা হয়। এক রেয়াল = ১০০ সেন্তাভো

মুদ্রা: আর$০.০৫, ০.১০, ০.২৫, ০.৫০ ও আর$১ (একাধিক ডিজাইনে)। নোট: আর$২, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ২০০।

ছোট দোকান/স্ট্রিট–ভেন্ডরের কাছে আর$৫০/১০০/২০০–এর খুচরা না–ও থাকতে পারে—এই বড় নোট ব্যস্ত রেস্তোরাঁ/গ্রোসারিতে খরচ করে ছোট নোট–মজুত রাখুন। বড় শহরে কার্ড/পিক্স–এর প্রচলন বাড়ায় নগদ কমে যাচ্ছে।

এটিএম

[সম্পাদনা]

আপনার কার্ড–লোগো আছে এমন এটিএম খুঁজুন। বড় শাখার Banco do Brasil (প্রতি উত্তোলনে আর$৬.৫০)–এ সাধারণত একটি থাকে; Bradesco, Citibank, BankBoston, HSBC–র বেশিরভাগ এটিএম কাজ করে। Banco 24 Horas নেটওয়ার্ক বিদেশি কার্ড নেয় (প্রতি উত্তোলন আর$২৫)। একবারে সাধারণ সীমা: Bradesco–তে আর$৬০০; BB/HSBC/B24H–এ আর$১,০০০; দৈনিক আর$১,০০০। ভিন্ন ‘‘অ্যাকাউন্ট’’ (ক্রেডিট/চেকিং/সেভিংস) বেছে একাধিক লেনদেনে সীমা এড়ানো যায়। অনেক এটিএম রাত ২২:০০–এর পর বন্ধ থাকে বা আর$১০০–ই দেয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে ফ্রি উত্তোলন সম্ভব ছিল না; আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড কেবল Banco 24 Horas–এ কাজ করছিল।

ছোট শহরে বিদেশি কার্ড–সমর্থিত এটিএম নাও থাকতে পারে—তাই সবসময় পর্যাপ্ত নগদ রাখুন।

ক্রেডিট কার্ড

[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ ব্যবসা বড় কার্ড নেয়। তবে বহু অনলাইন–দোকান শুধুই ব্রাজিল–ইস্যুকৃত কার্ড নেয়—আন্তর্জাতিক লোগো থাকলেও। কার্ডে পেমেন্ট করলে প্রশ্ন শোনেন—"Crédito ou débito?" (ক্রেডিট না ডেবিট?)

মুদ্রা বিনিময়

[সম্পাদনা]

ডলার/ইউরো বদলানো যায় বড় এয়ারপোর্ট/লাক্সারি–হোটেল (রেট খারাপ), এক্সচেঞ্জ বুথ ও Banco do Brasil–এর বড় শাখায় (অন্য ব্যাংক নয়)—পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন–ফর্ম লাগে।

বিদেশি মুদ্রা–লেনদেনে অনেক ফেডারেল নিয়ম আছে; রেয়াল ছাড়া অন্য মুদ্রায় লেনদেন আইনত বেআইনি—তবু বড় শহর/সীমান্তে কোথাও কোথাও গ্রহণ করে, আর অনেক এক্সচেঞ্জ অফিস আধা–আইনসীমায় চলে। ডলার/ইউরো ছাড়া অন্য মুদ্রা বদলানো কঠিন—রেটও খারাপ। ব্যাংকে বদলাতে ভারী কমিশন লাগে—যেমন Banco do Brasil প্রতি ট্রান্সঅ্যাকশনে স্থির মার্কিন$১৫ নেয়। এছাড়া ব্যাকপ্যাক থাকলে ব্যাংকে ঢোকাও মুশকিল—সিকিউরিটি–ডোর/নিয়ম কড়া। ঢুকলেও বড় লাইন—৩০ মিনিটও লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে এটিএম–নির্ভর থাকাই উত্তম।

অন্যান্য

[সম্পাদনা]

পিক্স (PIX)—২০২০–এ ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চালু ইন্সট্যান্ট–ট্রান্সফার—ফ্রি, খুব দ্রুত ও জনপ্রিয়; তবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে ব্রাজিলীয় ব্যাংক–অ্যাকাউন্ট/CPF নম্বর দরকার। কিছু থার্ড–পার্টি অ্যাপ পিক্স–পেমেন্ট দেয়, কিন্তু সার্ভিস–ফি বেশি।

টাকা প্রেরণওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন [অকার্যকর বহিঃসংযোগ]–এর মাধ্যমে—অধিকাংশ শহরে Banco do Brasil–এ বা কিছু এক্সচেঞ্জ অফিসে ক্যাশ–আউট।

ট্রাভেলার্স চেক—কারেন্সি–এক্সচেঞ্জ ছাড়া ক্যাশ করা কঠিন।

টিপস (বখশিশ)

[সম্পাদনা]

কিছু ডেলিভারি/ট্যুরিজম–সেবায় বখশিশ দেয়া যেতে পারে—তবে খুব প্রচলিত নয়। ট্যাক্সিতে সাধারণত দরকার নেই—কখনো ভাড়া ‘‘রাউন্ড–আপ’’ করা হয়। অনেক রেস্তোরাঁয় ১০% সার্ভিস বিলেই থাকে—অতিরিক্ত টিপস লাগে না (মিউনিসিপ্যালিটি–ভেদে নিয়ম আলাদা)। বার–টেন্ডারকে টিপ দেওয়া রেওয়াজ নয়।

দক্ষিণ আমেরিকার তুলনায় ব্রাজিলকে ব্যয়বহুল ধরা হয়—তবে ইউরোপ/যুক্তরাষ্ট্র–এর চেয়ে সস্তা।

বাজেট–ট্রাভেলার দিনে আর$ ২৫০–৪০০–এ চলতে পারেন; কিছু বাড়তি আরামে আর$ ৭০০। হোস্টেল/ইন হোটেলের চেয়ে সস্তা—গড়ে আর$ ৪০–এর কাছাকাছি। দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্ম ও কার্নাভালের সময় খরচ বেড়ে যায়।

অঞ্চলভেদে দাম বদলায়—সাও পাওলো/রিও দে জেনেইরো–র মতো বড় রাজধানীগুলো সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

হালকা নিয়ে এসে কয়েকদিনে ‘‘ব্রাজিলীয় পোশাক’’ কিনে নেওয়া মন্দ নয়—পর্যটকের ছাপ কমে, আর বাড়ি ফিরে ‘‘সস্তায়–ভালো’’ কেনাকাটার গল্পও থাকবে! হাওয়াই–শার্ট/স্যান্ডেলে–মোজা পড়া—এগুলো ভিড়ে চোখে পড়ে। এখানে পোশাক–জুতা মান–ভালো/দাম–সস্তা—তবে বিদেশি ব্র্যান্ডে (উচ্চ আমদানি–কর) সুবিধা আশা করবেন না—ডিজেল/লেভিস/টমি ইত্যাদিতে সাশ্রয় নেই। ট্রাউজারের সাইজ–হিসেব: কোমর (সেমি) ÷ ২, তারপর পরের জোড় সংখ্যায় রাউন্ড–আপ।

শোরুমে ‘‘X ৫’’/‘‘X ১০’’—ধরনের দাম দেখবেন—এটি কিস্তি–প্রতি দাম। যেমন ‘‘আর$৫০ X ১০’’ মানে ১০ কিস্তিতে আর$৫০ (মাসিক)। নগদে দিলে মোট দাম কমও হতে পারে।

ইলেকট্রনিক্স কিনলে ভোল্টেজ/ফ্রিকোয়েন্সি দেখুন—ব্রাজিল ৬০Hz—ইউরোপ/অস্ট্রেলিয়ায় থাকলে ক্লক/নন–ব্যাটারি মোটর–আইটেম কেনা ঠিক হবে না। ভোল্টেজ রাজ্য/এমনকি একই রাজ্যের অঞ্চলেও ভিন্ন (নিচের বিদ্যুৎ অংশ দেখুন)।

স্থানীয় অ্যাপ্লায়েন্স/ইলেকট্রনিক্স দামী; না হলে মান খারাপ। আমদানি–কর–জনিত কারণে বিদেশি ইলেকট্রনিক্স খুবই ব্যয়বহুল; দেশীয় ভ্যারাইটি–ও কম।

চামড়াজাত পণ্যে (জুতা–সহ) ভালো ডিল মেলে—তবে সাইজ ভিন্ন। নারীদের পোশাকে বিকল্প বেশি—ভালো মান/দাম। স্ট্রিট–মার্কেটও ভালো—কিন্তু ‘‘Nike’’–জাত ব্র্যান্ড এড়ান—দাম বেশি, নকল হওয়ার সম্ভাবনাও। পণ্য ‘‘হাত–দিয়ে’’ দেখে নিন—স্পর্শে সন্দেহ হলে মানও সন্দেহ! লেবেল না থাকলে সাধারণত দেশীয়—তবে কিছু ব্রাজিলীয় পণ্য আমেরিকান/ইউরোপীয় সমমানের মতো শক্তপোক্ত নাও হতে পারে।

সুভেনির

[সম্পাদনা]
ওলিন্দা–র সুভেনির–দোকানের ভাস্কর্য

লাতিন আমেরিকা–জুড়েই যেমন, হাতে–তৈরি গহনা/অ্যাক্সেসরিজ সর্বত্রই—ট্যুরিস্ট–এরিয়ায় দাম বেশি। আফ্রো–ব্রাজিলীয় জনসংখ্যা–বহুল অঞ্চলে আফ্রিকান প্রভাবিত সুভেনির বেশি—কালো পুতুল–জাতীয়। হাভাইয়ানাস ফ্লিপ–ফ্লপ এখানে সস্তা/সহজলভ্য—সুপারমার্কেটে কিনুন; ছোট দোকানে অফ–ব্র্যান্ড/নকলও থাকে। জায়গা থাকলে দেশীয় সুতি–বোনা হ্যামক ব্যবহারিক ও সুন্দর। আরেকটি মজার জিনিস পেতেকা—হাতে খেলার শাটলককের মতো; নামেই এক ঐতিহ্যবাহী খেলায় লাগে—ভলিবলের সাদৃশ্য আছে।

খাবার

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: Brazilian cuisine

রন্ধনশৈলী

[সম্পাদনা]
সম্ভবত ব্রাজিলের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার—‘‘ফেজোয়াদা’’

ব্রাজিলের ভোজনসংস্কৃতি ভূগোল/সংস্কৃতির মতোই বিচিত্র—দেশজ উৎপাদনের ওপর—শস্য, গবাদি, সামুদ্রিক মাছ—ভিত্তি করে। কারও কারও কাছে এটি একটু অপরিণত মিশ্রণ; নিত্যভোজ অনাড়ম্বর/একঘেয়েও মনে হতে পারে। অনেক অনন্য আঞ্চলিক পদ আছে; আবার বহু পদ অভিবাসীরা এনে দেশীয় রুচিতে বদলে নিয়েছেন। ইতালিয়/চাইনিজ খাবারও যেমন এখানে ‘‘ব্রাজিলীয়ায়িত’’, তেমনই আমাজনের খাবার বিদেশিকে ‘‘অচেনা’’ লাগতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড লাঞ্চ—প্রাতো ফেইতো (কমেরশিয়াল/একজেকুতিভো নামেও)—ভাত, সস–মেশানো ব্রাউন বিনস, ছোট স্টেক; সঙ্গে কখনো ফারোফা, স্প্যাগেটি, সবজি, ফ্রেঞ্চ–ফ্রাই। বিফের বদলে চিকেন/ফিশ/অন্যান্য হয়।

উৎকৃষ্ট সামুদ্রিক খাবার উপকূলীয় শহরে—বিশেষত উত্তর–পূর্বে

  • দেশের জাতীয় খাবার ফেজোয়াদা—কালো–বিনস, শুকরের বিভিন্ন অংশ (কান, পা, চপ, সসেজ) ও বিফ (সাধারণত শুকনো) দিয়ে ভারী স্ট্যু; ভাতের সঙ্গে, কোলার্ড–গ্রিনস/কমলার স্লাইসে পরিবেশিত। সব রেস্তোরাঁয় মেলে না; যেগুলো দেয় তারা সাধারণত বুধ/শনিতে দেয়। পর্যটকের চিরাচরিত ভুল—প্রথম দেখায়ই বেশি খেয়ে ফেলা—এটি ভারী পদ; ব্রাজিলিয়ানরাও সংযমে খান।
  • ব্রাজিলীয় স্ন্যাক্স—লাঞ্চেস (স্যান্ডউইচ) ও সালগাদিনহোস (বাকি ঝাল–নোনতা)—বিভিন্ন পেস্ট্রি: কোশিনিয়া (ডিপ–ফ্রাইড ব্যাটার–কোটেড চিকেন), এমপাদা (টিনি পাই—এমপানাদার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না), পাস্তেল (ডিপ–ফ্রাইড টার্নওভার)। আরেকটি প্রচলিত স্ন্যাক মিস্টু কেংচি—টোস্টেড হ্যাম–চিজ স্যান্ডউইচ। পাঁও–দে–কেইজু—ম্যানিওক আটা ও চিজে বানানো রোল—বিশেষত মিনাস জেরাইস–এ জনপ্রিয়—এক কাপ কফির সঙ্গে ক্লাসিক জুটি।

আরও—

  • Farofa কাসাভা–আটা বেকন/পেঁয়াজ কুচির সঙ্গে নেড়ে ভাজা—রেস্টুরেন্টে সাদা ভাতের সঙ্গে আদর্শ কার্ব–সাইড। উইকিপিডিয়ায় Farofa (Q1397036)
  • Feijão verde গ্রিন–বিনস চিজ–গ্রাতাঁ। উইকিপিডিয়ায় Feijoada (Q878189)
  • Paçoca শুকনো–মাংস কাসাভা–আটার সঙ্গে বড় ওকলে (পিলাও) পেষা—কাউবয়–খাবার। উইকিপিডিয়ায় Paçoca (Q2002721)
  • Pastel ডিপ–ফ্রাইড পেস্ট্রি—চিজ/কিমা/হ্যাম–ভর্তি। উইকিপিডিয়ায় Pastel (food) (Q2003644)
  • Tapioca (Beiju de tapioca)। কাসাভা–স্টার্চ (ট্যাপিওকা) গরম–প্যানে জমে পাতলা প্যানকেক/ক্রেপের মতো—ডিস্ক–আকারে; কেউ অর্ধেক ভাঁজ করেন, কেউ রোল—রোকঁবোল–স্টাইলে। মিষ্টি/ঝাল—দুই রকম ফিলিং—সবচেয়ে প্রচলিত: নারকেল–কুচি/কনডেন্সড মিল্ক (মিষ্টি), বিফ–জার্কি/কোয়ালহো–চিজ, প্লেইন–চিজ, মাখন (নোনতা)। এখন ‘‘গুরমেঁ’’–রূপও পেয়েছে—নুটেলা/চকলেট/নাপোলিতানা (পিজা–চিজ/হ্যাম/টমেটো/ওরেগানো) ও চিকেন–শ্রেড/কাতুপিরি–চিজ প্রায় স্ট্যান্ডার্ড। উইকিপিডিয়ায় Tapioca (Q873761)
  • Brigadeiro ১৯৪০–এর দশকের ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট—কোকো–পাউডার, কনডেন্সড–মিল্ক, বাটার; ওপর থেকে চকলেট–স্প্রিঙ্কলস। উইকিপিডিয়ায় Brigadeiro (Q2914862)

আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালী (Regional cuisines)

[সম্পাদনা]
চুররাস্কো
  • দক্ষিণচুররাস্কো হলো ব্রাজিলিয়ান বারবিকিউ। সাধারণত এটি পরিবেশিত হয় “রোদিজিও” বা “এস্পেতো কোরিদো” (অর্থাৎ যত খুশি পদ্ধতিতে)। ওয়েটাররা বিশাল স্টিলের শিকে গাঁথা মাংস নিয়ে টেবিল থেকে টেবিলে ঘোরেন এবং আপনার প্লেটে কেটে দিয়ে যান (টং ব্যবহার করে স্লাইসটি ধরুন এবং ছুরির ধার ভোঁতা না করতে আপনার কাটলারি দিয়ে ব্লেডে চাপ দেবেন না)। ঐতিহ্যগতভাবে একটি ছোট কাঠের ব্লক দেওয়া হয়, যার এক পিঠ সবুজ ও আরেক পিঠ লাল। খেতে প্রস্তুত হলে সবুজ পিঠটা ওপরে রাখুন। আর পেট ভরে গেলে লাল পিঠটা ওপরে রাখুন… রোদিজিও রেস্টুরাঁয় সাধারণত মাংস ছাড়া আইটেমের জন্য আলাদা বুফেও থাকে; কিছু জায়গায় ডেজার্ট মূল বুফের অংশ নয় এবং আলাদা দামে ধরা হয়। বেশিরভাগ চুররাস্কারিয়া-তেও অন্য ধরনের খাবার মেলে, তাই আপনার সঙ্গীর মাংস না পছন্দ হলেও যেতে পারেন। ব্রাজিলের মানদণ্ডে এগুলো তুলনামূলকভাবে দামী; তবে উত্তর, মধ্যাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় দাম দক্ষিণ ও বড় শহরের তুলনায় অনেক কম এবং কম আয়ের লোকেরাও নিয়মিত খেতে যান।
  • মিনেইরোমিনাস জেরাইস–এর “খনিশ্রমিকদের” রান্না; শূকর ও শিম প্রধান, সঙ্গে কিছু সবজি। গোইয়াস অঞ্চলের খাবার স্বাদের দিক থেকে কাছাকাছি, তবে পেকিগুয়ারিরোবা–র মতো স্থানীয় উপাদান ব্যবহার হয়। মিনাস জেরাইসের রান্না বিশেষ “ঝাল–মশলাদার” না হলেও ঘরোয়া স্বাদের জন্য খুব প্রিয়।
  • বাহিয়া–র খাবার — উত্তর–পূর্ব উপকূলের বাহিয়ার খাবার পূর্ব আফ্রিকান ও ভারতীয় রান্না থেকে প্রভাবিত। নারিকেল, দেন্দে পাম অয়েল, ঝাল মরিচ ও সিফুড প্রধান উপকরণ। টিপস: কোয়েঞ্চি (quente) মানে খুব ঝাল, ফ্রিও (frio) মানে কম বা না–ঝাল। ঝাল চললে আকারাজে (চিংড়ি ভরা ভাজা পিঠার মতো) ও ভাতাপা (ঘন সিফুড–নারিকেলের ঝোল) চেষ্টা করতে পারেন।
  • এসপিরিতু সান্তুবাহিয়া— দুই রাজ্যেরই আলাদা আলাদা মোকেকা (টমেটোভিত্তিক সিফুড স্ট্যু) আছে; বিশেষ মাটির হাঁড়িতে রান্না করা হয়।
  • আমাজোনিয়া/উত্তরাঞ্চল — আদিবাসী খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব; নানা রকম অদ্ভুত স্বাদের মাছ, বনজ শাকসবজি ও বিস্ময়কর বৈচিত্র্যের ট্রপিক্যাল ফল।
  • সিয়ারা — দেশসেরা কাঁকড়ার জন্য বিখ্যাত। ফোর্তালেজার প্রাইয়া দো ফুটুরো সৈকতে প্রতি সপ্তাহান্তেই হাজার হাজার মানুষ ভাজা মাছ ও কাঁকড়া (সঙ্গে বরফঠান্ডা বিয়ার) খেতে ভিড় করেন।

ব্রাজিলিয়ান “ফিউশন” রন্ধনপ্রণালী (Brazilian "fusion" cuisines)

[সম্পাদনা]
  • পিজ্জা — ব্রাজিলে ভীষণ জনপ্রিয়। সাও পাওলো শহরে মাথাপিছু পিজ্জারিয়ার ঘনত্ব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। স্বাদের বৈচিত্র্য এতই বেশি যে অনেক রেস্তোরাঁয় ১০০–এরও বেশি ধরন থাকে। ইউরোপীয় “মোজারেলা” আর ব্রাজিলীয় “মুসারেলা” এক জিনিস নয়—রং, স্বাদ ও উত্স আলাদা; তবে মহিষের দুধের “মুসারেলা দে বুফালা”–ও প্রচলিত। ব্রাজিলীয় “মুসারেলা” হলদে রঙের ও স্বাদে একটু তীব্র। দক্ষিণে অনেক জায়গায় পিজ্জায় টমেটো সস থাকে না। ইতালীয় উৎসের অন্য খাবার, যেমন মাকারাঁও (ম্যাকারনি), লাসান্যা ইত্যাদিও খুব জনপ্রিয়।
  • মধ্যপ্রাচ্য/আরব (আসলে লেবানিজ) — সারা দেশে সহজলভ্য, মানও ভালো। কিবেএসফিহা–র মতো কিছু খাবার দেশীয় রূপ পেয়েছে এবং স্ন্যাকস/ফাস্টফুড দোকানেও মেলে। শাওয়ার্মা–ও পাবেন, যাকে ব্রাজিলিয়ানরা “চুররাস্কো গ্রেগো” (গ্রীক বারবিকিউ) বলে।
  • জাপানিসাও পাওলোতে টেম্পুরা, ইয়াকিসোবা, সুশি, সাশিমি—সবই প্রচলিত; দাম ইউরোপ/আমেরিকা/জাপানের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। বহু জাপানি রেস্তোরাঁয় রোদিজিও বা বুফে অপশন থাকে, মান প্রায় মেনুর সমান। তবে ব্রাজিলীয় সুশিতে প্রায়ই ক্রিম চিজ/মেয়োনিজ বেশি থাকে; ব্রেডেড “হট রোল”–ও খুব জনপ্রিয়। চীনা খাবারও আছে, তবে দেশীয় স্বাদে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। জাপানি খাবার দেওয়া রেস্তোরাঁ চীনা রেস্তোরাঁর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায়, বিশেষ করে সাও পাওলো রাজ্যে।

রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি (Restaurants)

[সম্পাদনা]
সালাদের বুফে
  • রেস্তোরাঁ সাধারণত বিলের সঙ্গে ১০% সার্ভিস চার্জ যোগ করে—এটাই প্রচলিত টিপ। এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে খারাপ সেবা না হলে তা কাটা অশোভন ধরা হয়। বাড়তি টিপ দিতে চাইলে ৫–১০ রিয়াল যথেষ্ট; ওয়েটার সত্যিই অবাক–খুশি হবে।
  • দুই ধরনের সেল্‌ফ–সার্ভিস প্রচলিত—রোদিজিও (all-you-can-eat বুফে; টেবিলে বারবিকিউ সার্ভ হয়) এবং পোর কিলো/কিলাঁও (ওজনভিত্তিক দাম)—বিশেষ করে দুপুরে। বুফে থেকে নিয়ে খাওয়ার আগে প্লেটটা ওজন করাতে হবে। দক্ষিণে ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় “গালেতো”–ও জনপ্রিয়—টেবিলে বিভিন্ন পাস্তা, সালাদ, স্যুপ ও মাংস (মূলত মুরগি) ধারাবাহিকভাবে পরিবেশন করা হয়।
  • আইনে ক্রেতা চাইলে রান্নাঘর দেখে আসতে পারেন—যদিও এটা খুব অপ্রচলিত এবং অনেক সময় অদ্ভুত বলে মনে হতে পারে।
  • কিছু রেস্তোরাঁ কেবল দুইজনের প্ল্যাটার পরিবেশন করে—মেনু দেখে বোঝা নাও যেতে পারে, ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করুন। অধিকাংশ জায়গায় মেইয়া–পোরসাও (অর্ধেক) নেওয়া যায়—মূল্যের প্রায় ৬০–৭০%। জোড়ায় বসলে অনেক সময় যুগলরা পাশাপাশি বসেন; বসার সময় আপনার পছন্দ জানিয়ে দিতে পারেন।
  • ফাস্টফুড খুব জনপ্রিয়; হ্যামবার্গার ও কাচোরো–কেংচি (শব্দশঃ “গরম কুকুর”—হটডগ)–এর দেশীয় সংস্করণ চেখে দেখতে পারেন। ব্রাজিলিয়ান স্যান্ডউইচে সাধারণত মেয়োনিজ, বেকন, হ্যাম, চিজ, লেটুস, টমেটো, কর্ন, মটর, কিসমিস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কেচাপ, ডিম, পিকল ইত্যাদি দেখা যায়। কমপ্লেতো বললে প্রদর্শিত সবকিছুই জুড়ে দেয়। সর্বত্র দেখা যায় x-burger (উচ্চারণ “শিস–বার্গার”); পর্তুগিজে “X”–এর উচ্চারণ “শিস/চিজ”, তাই এই নাম।
  • বড় চেইন—বব’স দেশজুড়ে আছে এবং ম্যাকডোনাল্ডসের প্রায় সমসাময়িক। হাবিব’স আরবি খাবারের সঙ্গে পিজ্জাও দেয়। বার্গার কিং, সাবওয়ে–ও বিস্তৃত।

পানীয় (Drink)

[সম্পাদনা]

অ্যালকোহল

[সম্পাদনা]
সৈকতে ‘‘কাইপিরিনিয়া’’

জাতীয় মদ কাচাসা (কাহ–শা–সা)—আখের রস থেকে বানানো প্রায় ৪০% অ্যালকোহল–সমৃদ্ধ স্পিরিট; দেশে প্রায় সব বারে মেলে। পরিচিত উৎপাদন–এলাকা মিনাস জেরাইস (ডিস্টিলারি ট্যুর আছে) ও পারাতিপিরাসসুনুঙ্গা শহর কানিনিয়া ৫১–এর জন্য বিখ্যাত—দেশের সর্বাধিক বিক্রিত ব্র্যান্ড। ফোর্তালেজার কাছে ইপিওকা ব্র্যান্ডের ইতিহাস নিয়ে মুজেউ দা কাচাসা আছে।

উত্তর–পূর্বে অনেকে কাচাসা নিট খান, কখনও মধু বা লেবুর রস মেশান। সবচেয়ে বিখ্যাত ককটেল কাইপিরিনিয়া—কাচাসা, চিনি, লেবুর রস ও বরফ। কাচাসার বদলে ভদকা হলে কাইপিরোস্কা/কাইপিভদকা; সাদা রাম হলে কাইপিরিসিমা; সাকে হলে কাইপিসাকে/সাকেরিনিয়া (সব জায়গায় নয়)। আরেকটি জনপ্রিয় মিশ্রণ কাপেতা—কাচাসা, কনডেন্সড মিল্ক, দারুচিনি, গুয়ারানা পাউডারসহ বিভিন্ন উপাদান। ব্র্যান্ডি বা গ্রাপা পছন্দ হলে এজড কাচাসা চেখে দেখুন—স্বাদে সমৃদ্ধ, সোনালি রঙ, সাধারণ স্বচ্ছ কাচাসার মতো নয়। আলামবিকি (স্থানীয় ডিস্টিলারি) পরিদর্শন মজার, আর দামও ভালো থাকে।

ব্রাজিলিয়ান হুইস্কি–ও চেষ্টা করতে পারেন—প্রায় ৫০% আমদানি–করা স্কচ (মল্ট অংশ) ও ৫০% দেশীয় গ্রেইন স্পিরিটের ব্লেন্ড। “ওয়াল স্ট্রিট”–জাতীয় আমেরিকান–ধাঁচের নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না—এটি বোরবন নয়। দামে সাশ্রয়ী, সাধারণ ব্রিটিশ ব্লেন্ডের মতোই মনে হয়।

আমদানি–করা মদ খুব দামী, তবে অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ব্রাজিলেই লাইসেন্সে তৈরি হয়—তাই সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা। বিমানবন্দরের ডিউটি–ফ্রিতেও কিনতে পারেন, তবে প্রায়ই বাইরে থেকে বেশি দামে পড়ে।

বিয়ার

[সম্পাদনা]

জার্মান অভিবাসীদের প্রভাবে বিয়ার–এর ঐতিহ্য দৃঢ়। বাজারের ৯০%–এর বেশি পিলসনার, এবং প্রায় বরফ–ঠান্ডা করে (শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি) খাওয়া হয়। জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ড: ব্রাহ্মা, আনটার্কটিকা, স্কল। ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড: বোহেমিয়া, কারাকু (স্টাউট), অরিজিনাল, সেরা মাল্টি (স্টাউট)। বিশেষ বার/সুপারমার্কেটে কিছু জাতীয় প্রিমিয়াম ক্র্যাফট ব্র্যান্ডও মেলে—বাডেন বাডেন, কোলোরাডো, আইজেনবাহ্‌ন, পেত্রা, তেরেসোপোলিস ইত্যাদি। স্থানীয় কারখানায় তৈরি হেইনেকেন, স্টেলা–জাতীয় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডও পাওয়া যায়; স্বাদ মূলের চেয়ে সামান্য আলাদা লাগতে পারে।

বারে বিয়ার খাওয়ার দুই ধরন—শপ/চপ (ড্রাফট ল্যাগার; প্রায় এক ইঞ্চি ফেনা থাকে—নিয়মিত বেশি হলে অভিযোগ করতে পারেন) এবং বোতলজাত। বোতল (৬০০ মি.লি. বা ১ লি.) সাধারণত টেবিলে সবাই ভাগ করে ছোট গ্লাসে ঢেলে খায়; বরফঠান্ডা রাখতে বোতল টেবিলেই স্টাইরোফোম ইনসুলেটরে রাখা হয়। ওয়েটাররা গ্লাস/বোতল বদলে যেতে থাকে—আপনি থামাতে বলার আগ পর্যন্ত—এটাকে “ট্যাপ” চার্জিং বলা যায়।

ওয়াইন

[সম্পাদনা]

রিও গ্রান্দে দো সুল দেশটির প্রধান ওয়াইন–অঞ্চল। দর্শনার্থীদের জন্য টেস্টিং ট্যুর ও সেলার–শপ আছে—যেমন সালতোন ওয়াইনারি (বেন্টো গনসালভেস শহরে)। নতুন অঞ্চল সাও ফ্রান্সিস্কো উপত্যকাপারনামবুকোবাহিয়ার সীমানায়। ব্রাজিলীয় ওয়াইন সাধারণত টাটকা, ফলের ঘ্রাণযুক্ত ও অ্যালকোহল–শক্তি তুলনামূলক কম। খুব সস্তা (৬ রিয়ালের নিচে) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন সাংগি দে বোই, কানসাঁও, সান্তা ফেলিসিদাদে—সাধারণত নিম্নমানের ধরা হয়।

মিনাস জেরাইস–এ লিকোর দে জাবুতিকাবা বা ভিনিও দে জাবুতিকাবা খুঁজে দেখুন—দেশজ কালচে রঙের ফল থেকে বানানো মিষ্টি পানীয়।

কফি ও চা

[সম্পাদনা]
সাও পাওলোতে এক কফিশপ

ব্রাজিলের কফি বিশ্বজোড়া খ্যাত—ঘন ও গাঢ়। কাফে এত জনপ্রিয় যে খাবারের নামেও জায়গা পেয়েছে—সকালের নাশতা কাফে দা মান্যা; বিকেলে হালকা খাবার কাফে দা তার্দে/কাফে কঁ পাওঁ। রেস্তোরাঁয় খাবারের শেষে ছোট কাপে ঘন মিষ্টি কাফেজিনিউ অনেক সময় বিনামূল্যে দেয় (ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করুন)। বোতলজাত ফিল্টার কফির বদলে এখন উন্নত রেস্তোরাঁয় বেশি দেখা যায় এসপ্রেসো।

চা (শা) সবচেয়ে সাধারণত হালকা কমলা রঙের আসাম ধাঁচে মেলে; কিছু বিশেষায়িত দোকানে আর্ল গ্রে ও গ্রিন টি–ও পাওয়া যায়।

মাতে—চায়ের মতোই, ক্যাফেইনে সমৃদ্ধ; টোস্টেড/ঠান্ডা সংস্করণ সারা দেশে, আর শিমাহাঁও (পড়শি স্প্যানিশভাষী দেশে যাকে “মাতে” বলা হয়) দক্ষিণে গরম–তিক্ত পানীয়, গাউশোদের প্রিয়। তেরেরে শিমাহাঁও–এর ঠান্ডা রূপ—মাতো গ্রোসো দো সুলমাতো গ্রোসোতে প্রচলিত।

সফট ড্রিংক

[সম্পাদনা]

কোলা চাইলে কোকা বা কোকা–কোলা বলুন; “কোলা” পর্তুগিজে আঠা—গ্লু—বোঝায়।

গুয়ারানা—আমাজনের দেশজ ফল থেকে বানানো জনপ্রিয় কার্বনেটেড পানীয়। বড় ব্র্যান্ড আনটার্কটিকাকুয়াত (কোকা–কোলার)। সান্তা কাতারিনাতে পুরেজা জনপ্রিয়; রিও গ্রান্দে দো সুল–এ ফ্রুকি; সাও পাওলোতে ডলিমারানিয়াওতে মিষ্টি গোলাপি গুয়ারানা জেসুস বিখ্যাত। আমাজোনাসে বারে–র ঠান্ডা বোতল চেখে দেখুন—মানাউসে এত জনপ্রিয় যে পরে আনটার্কটিকা কিনে নিয়েছে।

তুবাইনা—এক সময় খুব জনপ্রিয় ছিল, এখন দুর্লভ; একসময় “ব্রাহ্মা” বানাত—পরে কেবল বিয়ারে ফোকাস দেয়। কোথাও পেলে ট্রাই করুন।

মিনেইরিনিউ (বা মাতে কোরো)—গুয়ারানা ও চাপে–উ ডি কোরো পাতার মিশ্রিত পানীয়। অনেকের কাছে “ঘাসের” মতো স্বাদ; বয়স্করা (৭০+) বলেন ঔষধি গুণ আছে।

ফলের রস

[সম্পাদনা]

ফলের জুস খুব জনপ্রিয়; রিও দে জেনেইরোতে প্রায় প্রত্যেক মোড়ে জুস–বার।

  • গরম দিনে নারিকেল পানি (আগুয়া দে কোকু)–র জুড়ি নেই—কোকু জেলাদু বলে বরফঠান্ডা নারিকেলেই স্ট্র দিয়ে দেয়। খাওয়া হলে বিক্রেতাকে বললে অর্ধেক কেটে শাঁস খেতেও পারবেন।
  • আসাই—আমাজনের ফল; অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, সারা দেশে জনপ্রিয়। আমাজনে ভাত–মাছের সঙ্গে খায়; অন্যত্র গুয়ারানা পাউডার–কলা মিশিয়ে বরফঠান্ডা স্মুদি–জাতীয়ভাবে পরিবেশন করে—আইসক্রিম–জাতীয় টেক্সচার। আসাই আইসক্রিমও আছে।
  • মারাকুজা (প্যাশনফ্রুট)—শরীর রিল্যাক্স করে; ব্যস্ত দিনে সাবধানে।
  • কাজু (কাজুবাদাম–ফল),
  • গারাপা/কাল্দু দে কানা—টাটকা আখের রস,
  • আম (মাঙ্গা),
  • মাঙ্গাবা, উম্বু—সবই দুর্দান্ত।
  • ভিতামিনা—টাটকা ফল দিয়ে বানানো মিল্কশেক।

রাত্রিযাপন (Sleep)

[সম্পাদনা]
রাতে কাম্পিনাস

উচ্চ মৌসুম স্কুল–ছুটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে—ডিসেম্বর–জানুয়ারি (গ্রীষ্ম) সবচেয়ে ব্যস্ত। নিউ ইয়ার, কার্নাভাল (ফেব্রুয়ারি/মার্চ—Understand অংশ দেখুন) ও হলি–উইকে দাম আকাশছোঁয়া, বিশেষত রিও/সালভাদরের মতো উপকূলীয় শহরে। এসব সময়ে অনেকে ৩–৪ রাতের ন্যূনতম থাকা ও অগ্রিম পেমেন্ট–শর্ত রাখে।

হোটেল—দেশজুড়ে নানাধরনের; ট্যুরিজম বোর্ড ন্যূনতম সুবিধা–মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে, তবে ১–৫ তারকা–রেটিং আর বাধ্যতামূলক নয়—আপনার চাহিদা আগে দেখে নিন।

পৌসাদা—অর্থ “গেস্টহাউস”—হোটেলের চেয়ে সরল; রুম–সার্ভিস, লন্ড্রি কম। সংখ্যায় আরও ছড়ানো।

পান্তানাল–এ বুনো প্রকৃতিতে থাকলে সাধারণত ফাজেনদা (র‍্যাঞ্চ–উইথ–গেস্ট–ফ্যাসিলিটি)। মিনাস জেরাইস–এর ছোট শহরে জনপ্রিয় হোতাইস–ফাজেনদা—সাঁতার, ঘোড়া, হাঁটা, ফুটবল, ক্যাম্প—সব–সহ পল্লিবাংলার মতো আবাস।

এছাড়া নদী–খাল–হ্রদে বোট–হোটেল ট্রিপও মজার—অগম্য জায়গায় নিয়ে যায়; পান্তানালে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য আদর্শ। বড় নিরাপদ নৌকায় এ–কন্ডিশনড কেবিন (খুব দরকারি); ছোট অ্যালুমিনিয়াম নৌকা ও অভিজ্ঞ গাইড নিয়ে ২–৩ জন করে সেরা “পয়েন্টে” নিয়ে যায়।

যুব হোস্টেল (আলবারগেস দা জুভেন্তুদে)–এর সংখ্যাও বাড়ছে।

অনেক (হো)টেল তৃতীয়–পক্ষ বুকিং সাইট এড়ালে ছাড় দেয়—বিশেষ করে রিওতে। তাই সরাসরি ওয়েবসাইট/মেসেজে যোগাযোগ করুন।

“মোটেল” বনাম “হোটেল”

[সম্পাদনা]

ল্যাটিন আমেরিকায় মোটেল মানে রাস্তার পাশের মোটর–ইন নয়—স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়া, মূলত প্রেমিক–যুগলের গোপনীয়তা–নির্ভর জায়গা; জাপানি লাভ–হোটেল–এর মতো। হোটেল ভ্রমণকারীদের জন্য—পারিবারিক পরিবেশ। অনেক হোটেল নিবন্ধিত অতিথি ছাড়া কাউকে ভিতরে যেতে দেয় না—সুরক্ষা ও সামাজিক ভাবমূর্তির জন্য। তাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজনে স্থানীয়রা মোটেল ব্যবহার করেন—এখানে কোনো নেতিবাচক সামাজিক কলঙ্ক নেই। মান–দাম বৈচিত্র্যময়; অধিকাংশই পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন। নগদে গোপনীয়ভাবে লেনদেন প্রচলিত।

শিখুন (Learn)

[সম্পাদনা]
কুরিতিবার ফেডারেল ইউনিভার্সিটি

বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অঞ্চলভেদে ভিন্ন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত দেশসেরা ও গবেষণায় এগিয়ে—ইউনিভেরসিদাদে দে সাও পাওলো (ইউএসপি), ফেডারাল ইউনিভার্সিটি অব রিও দে জেনেইরো (ইউএফআরজে), ইউনিভেরসিদাদে দে ব্রাসিলিয়া (উএনবি), ইউএফএসসিইউএফআরজিএস উল্লেখযোগ্য। গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারির মধ্যে ম্যাকেনজি প্রেসবিটেরিয়ান ইউনিভার্সিটি, পিইউসি–সাও পাওলো (পিইউসিএসপি), পিইউসি–রিও, পিইউসি–পিআর, পিইউসিআরএস। জাতীয় প্রবেশিকা এনেম (Exame Nacional do Ensino Médio)–এর মাধ্যমে ভর্তি, কিছু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরীক্ষাও আছে। স্নাতক–স্নাতকোত্তরে মানসম্মত, আন্তর্জাতিক বিনিময়–প্রোগ্রামও প্রচুর।

এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে ভর্তি হতে স্টুডেন্ট ভিসা লাগবে—নিজ দেশের ব্রাজিলিয়ান দূতাবাস/কনসুলেটে। দেশে পৌঁছে ৩০ দিনের মধ্যে ফেডারেল পুলিশ–এ (Departamento da Polícia Federal) নিবন্ধন করে আরএনই (বিদেশি নাগরিক–আইডি) নিতে হবে; ভিসা নবায়নও সেখানেই।

বিদেশিদের জন্য পর্তুগিজ কোর্স বড় শহরের বাইরে কম; ভাষা–বিনিময় ভালো বিকল্প। সামান্য পর্তুগিজ জানলে মানুষ আরও আন্তরিক হবে। কুরিতিবা, সালভাদর, সাও পাওলো, রিও, বেলো হরিজন্তে, পোর্তো আলেগ্রি—২ সপ্তাহ বা তার বেশি মেয়াদের কোর্স আছে।

কাজ (Work)

[সম্পাদনা]

ব্রাজিল অভিবাসীবান্ধব—দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশের মানুষ এখানে কাজ করেন।

ডিসেম্বর ২০২৩–এ বেকারত্ব ছিল ৭.৫%—চাকরি প্রতিযোগিতামূলক। পর্তুগিজ জানা বড় বাড়তি–যোগ্যতা।

কাজ করতে হলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের Autorização de Trabalho (ওয়ার্ক পারমিট) দরকার—দেশে ঢোকার আগেই সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা স্পনসর করবেন। আইন অনুযায়ী কোম্পানিকে আপনার দক্ষতার যৌক্তিকতা দেখাতে হয় এবং আপনার বিকল্প প্রশিক্ষণও চালাতে হয়।

মাতৃভাষা ইংরেজি হলে ইংরেজি শেখানো–র পার্টটাইম কাজ পেতে পারেন—তবে ছুটির খরচ তোলার ভরসা করবেন না। অনানুষ্ঠানিক বাজারে ঝুঁকি আছে—চুক্তি ছাড়া বেতন, আইনি অধিকার দাবি কঠিন; বড় শহরে প্রতিদ্বন্দ্বী স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে পারে।

স্প্যানিশ–শিক্ষকের চাহিদাও বাড়ছে—বিশেষত বড় শহরে। স্কুলের বদলে ব্যক্তিগত ক্লাসে আয় বেশি—সংবাদপত্র (Folha de S. Paulo, Estado de S. Paulo, O Globo, Zero Hora) বা Veja–তে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন, বা ইউএসপি–র মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডে নোটিশ দিন।

বিস্তারিতের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] দেখুন।

সুস্থ থাকুন (Stay healthy)

[সম্পাদনা]

মধ্য–পশ্চিমে (জুন–সেপ্টেম্বর) আর্দ্রতা ৩০%–এর নিচে নামতে পারে—পর্যাপ্ত পানি খান।

রাস্তা/সৈকতের খাবার–এর স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে খারাপ ধারণা আছে—দিন বাড়লে ঝুঁকি বাড়ে। বোতল/ক্যান–জাত পানীয় নিরাপদ—অনেকে ক্যানের মুখ না ছোঁয়াতে স্ট্র ব্যবহার করেন। নষ্ট–হওয়া খাবার গরম–আর্দ্রতায় তাড়াতাড়ি খারাপ হয়—সতর্ক থাকুন।

ট্যাপের পানি শহরভেদে ভিন্ন—কোথাও দূষিত/লবণাক্ত/ক্লোরিন–গন্ধ, কোথাও পানযোগ্য; স্থানীয়রাও ফিল্টার করা পানি পছন্দ করেন।

এয়ারপোর্ট, বাসস্টেশন, সস্তা হোটেল ও মলের বেবেদৌরো (ড্রিঙ্কিং ফাউন্টেন) থাকলেও সবসময় ভরসাযোগ্য নয়। হোস্টেলের রান্নাঘরে সিলিন্ডার–ফিল্টার লাগানো কল খুঁজুন। দামি হোটেলে সাধারণত পাবলিক ফাউন্টেন থাকে না; মিনিবারে বোতলজাত পানি খুব দামী—বাইরে দোকান থেকে কিনুন।

আমাজন রেইনফরেস্ট

হলুদ জ্বর টিকা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক দরকার হতে পারে—বিশেষত মাতো গ্রোসো বা উত্তর (আমাজন) অঞ্চলে। পেরু, কলোম্বিয়া বা বলিভিয়া থেকে এলে হলুদ–জ্বর টিকার সনদ দেখাতে হয়। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা–র মতো কিছু দেশে ব্রাজিল ভ্রমণ–শেষে প্রবেশের সময়ও সনদ লাগে। উপকূলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আছে; জিকা ভাইরাস–ও ২০১৫–২০১৬–তে ব্যাপক ছিল।

বাস/এয়ারপোর্টে এ–কন্ডিশনের ঠান্ডা অনেক সময় প্রবল—হালকা জ্যাকেট রাখুন।

যৌন–স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রাজিলের সরকারি সচেতনতা কার্যক্রম ভালো; কার্নাভালের সময় কনডম বিনামূল্যে বিতরণ হয়।

স্বাস্থ্যসেবা

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলে সরকারি SUS (Sistema Único de Saúde) ও বড় বেসরকারি—দুই–ই আছে। সরকারি হাসপাতাল ভিড়াক্রান্ত; তবে যে–কেউ (বিদেশি–সহ) সেবা পান। বড় শহরে বেসরকারি সেবা ভালো কিন্তু দামী—ভ্রমণ–বীমা রাখুন। জরুরি অবস্থায় পর্যটককে সরকারি হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে প্রায়ই বেসরকারিতে স্থানান্তর করা হয়। ছোট শহরে সেবা সীমিত হতে পারে।

তীব্র জরুরিতে ১৯২ বা ১৯০–এ ফোন (SAMU)—পর্তুগিজ লাগবে—সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবে; আইসিইউ দরকার হলে ব্যবস্থা করবে। বীমা/নিজে–পেমেন্ট হলে বেসরকারিতে স্থানান্তর সম্ভব—আগে থেকেই পেমেন্ট–মোড (ইনস্যুরেন্স/ক্যাশ/গ্যারান্টি চেক) ঠিক করে নিন; অনেক জায়গায় কেবল নগদ নেয়।

বিশ্বাসযোগ্য হাসপাতাল (বিদেশিদের জন্য):

  • ব্রাসিলিয়া: Hospital Sírio-Libanês, Hospital Brasília
  • সাও পাওলো: Hospital Israelita Albert Einstein, Hospital Sírio-Libanês, Hospital Alemão Oswaldo Cruz
  • রিও দে জেনেইরো: Hospital Copa D’Or (কোপাকাবানা), Hospital Samaritano (বোটাফোগো)
  • পোর্তো আলেগ্রি: Hospital de Clínicas, Santa Casa Hospital Complex

দাঁতের চিকিৎসা সস্তা—মান বড় শহরে ভালো—স্থানীয়দের পরামর্শ নিন। ফার্মেসি প্রচুর; অনেক ওষুধ প্রেসক্রিপশন–ছাড়াই মেলে, অ্যান্টিবায়োটিক–জাতীয় কিছুতে প্রেসক্রিপশন লাগে। বড় ফার্মেসিতে কোভিড–টেস্ট–জাতীয় সেবাও থাকে।

নিরাপদ থাকুন (Stay safe)

[সম্পাদনা]
ভ্রমণ সতর্কীকরণ সতর্কীকরণ: ভেনেজুয়েলা, কলোম্বিয়াপেরু–সীমান্ত (বিশেষত নদীপথ) এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী—ড্রাগ–চোরাচালানকারী, জলদস্যু, বিদেশি গেরিলা—ঝুঁকি সৃষ্টি করে; সেখানে ভ্রমণ নিরাপদ নয়। রিও দে জেনেইরোসালভাদর মহনগরের বস্তিগুলোতেও (ফাভেলা) মাদক–গ্যাং ও অবৈধ মিলিশিয়ার সংঘাত আছে।
(সর্বশেষ হালনাগাদ: আগস্ট ২০২৫)

আইনত সবাইকে সবসময় ছবি–সহ আইডি রাখতে হয়—বিদেশির ক্ষেত্রে পাসপোর্ট। বাস্তবে রঙিন ল্যামিনেটেড ফটোকপিও পুলিশ মেনে নেয়। আইডি না থাকলে তল্লাশি/জরুরি–চিকিৎসায় সময় নষ্ট হতে পারে।

অপরাধ

[সম্পাদনা]

হিংসাত্মক অপরাধের হার খুব বেশি—কারজ্যাকিং, চুরি, অস্ত্রের মুখে ডাকাতি, এমনকি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরও অস্বাভাবিক নয়। দক্ষিণে তুলনামূলক কম, রিও দে জেনেইরো–সহ বড় শহরে বেশি।

নিজেকে কম ঝুঁকিতে রাখতে—ধনাঢ্যতার প্রকাশ করবেন না, পর্যটকের মতো আচরণ করবেন না, গ্যাজেট দেখিয়ে বেড়াবেন না, মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন, অচেনা এলাকা/রাতে বাইরে বেরোবেন না, সহজে কাউকে বিশ্বাস করবেন না। কিছুটা পর্তুগিজ জানলে অনেকেই সুযোগ নিতে ভয় পাবে।

অস্ত্র দেখিয়ে ডাকাতি হলে—প্রাণঘাতী প্রতিরোধ করবেন না; যা চায় দিয়ে দিন।

ফাভেলা বা আদিবাসী গ্রাম দেখতে চাইলে লাইসেন্সধারী বিশ্বাসযোগ্য ট্যুর নিন। রিও/সালভাদরের ফাভেলা ও আমাজনের নির্জন নদীপথে সশস্ত্র সংঘাত দীর্ঘদিনের সমস্যা—এলাকাগুলো এড়ালে সাধারণ পর্যটকের উদ্বেগের কারণ নেই। যে কোনো শহরের বস্তি এড়ান; উত্তর ও মধ্য–পশ্চিম সীমান্ত–এলাকাও।

দূরপাল্লার বাস সাধারণত নিরাপদ; তবে বড় শহরের বাস–টার্মিনাল নড়বড়ে এলাকায় পড়তে পারে।

জরুরি নম্বর ১৯০—অপরাধ–সম্পর্কিত।

ব্রাজিলে পাঁচ স্তরের পুলিশ আছে:

  • রাজ্যভিত্তিক মিলিটারি পুলিশ (Polícia Militar)—রাস্তায় টহল/প্রকাশ্য শৃঙ্খলা; রিও গ্রান্দে দো সুল–এ নাম ব্রিগাদা মিলিটার। ইউনিফর্ম রাজ্যভেদে ধূসর/নেভি/খাকি/কালো।
  • সিভিল পুলিশ (Polícia Civil)—অপরাধ–তদন্ত; সাধারণত সিভিল ড্রেসে।
  • রাজ্য/ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশ—সড়ক টহল।
  • ফেডারেল পুলিশ—বর্ডার/বন্দর/এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ।
  • অনেক শহরে মিউনিসিপাল গার্ড—পার্ক, সিটি–বিল্ডিং, স্কুলের নিরাপত্তা—কখনও সশস্ত্র।

বেশিরভাগ পুলিশ বিদেশি ভাষায় সাবলীল নন—মৌলিক পর্তুগিজ সহায়ক। ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না—ধরা পড়তে পারেন; আবার সকলকে শতভাগ ভরসাও করবেন না। ভদ্র–সহযোগিতাপূর্ণ থাকুন; প্রয়োজনে দূতাবাসের সাহায্য নিন।

সড়ক–নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]

হত্যাকাণ্ড ভয়ের শীর্ষে থাকলেও সড়ক–দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রায় ততটাই সাধারণ—মালয়েশিয়া/ভিয়েতনাম–এর মতো। বড় শহরে ট্রাফিক “সুশৃঙ্খল” মনে হলেও অনেক চালক গতি–সীমা মানেন না, মদ্যপান করে গাড়ি চালান কিংবা সিগন্যাল উপেক্ষা করেন। সবুজ সিগন্যাল/গাড়ি থামা দেখলেও রাস্তা পার হতে সতর্ক থাকুন—দুই গাড়ির মাঝ দিয়ে মোটরবাইক হুট করে আসতে পারে।

উত্তরে অনেক জায়গায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খারাপ; আইন–প্রয়োগ নরম। প্লেনে যাওয়া সম্ভব হলে খুব দীর্ঘ সড়ক–ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন।

প্রাকৃতিক ঝুঁকি

[সম্পাদনা]

বন্যা ও ভূমিধস

[সম্পাদনা]

আমাজনে ডিসেম্বর–মে বর্ষা—তীব্র বৃষ্টি ও বন্যা সাধারণ; কাঁচা রাস্তা কাদায় অচল। তবু জনবহুল পর্যটন–অঞ্চল ভ্রমণযোগ্য থাকে; শক্তিশালী জলপ্রপাত, ইগাপো ইত্যাদি দেখারও ভালো সময় হতে পারে। উত্তর–পূর্বের সেরতাঁও–এ বন্যা বিরল; তবু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিকল্পনা বদলাতে হতে পারে। মধ্য–পশ্চিমে সাধারণত অক্টোবরের শুরু–এপ্রিল বেশি বর্ষা। সালভাদর, রেসিফি, রিও, সাও পাওলো, বেলো হরিজন্তে—উপকূল ও দক্ষিণ–পূর্বে গ্রীষ্মে মুষলধারে বৃষ্টি—শহর ও পার্বত্য এলাকায় বন্যা/ভূমিধস হতে পারে; রাস্তায় বিঘ্ন ঘটায়।

ভূমিকম্প

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট–এর মাঝামাঝি হওয়ায় বড় ভূমিকম্প বিরল; বেশিরভাগই ৩.০–এর নিচে ও মানুষ টেরই পায় না।

হারিকেন

[সম্পাদনা]

নিরক্ষরেখার কাছে উইন্ড–শিয়ার–এর অভাব ও সাগরের নিম্ন তাপমাত্রার কারণে হারিকেন ব্রাজিলে খুবই বিরল। ২০০৪–এ হারিকেন কাতারিনা–ই একমাত্র উল্লেখযোগ্য উদাহরণ—রিও গ্রান্দে দো সুলসান্তা কাতারিনা উপকূলে আঘাত হানে—তবু এমন ঘটনা অত্যন্ত稀।

টর্নেডো

[সম্পাদনা]

রিও গ্রান্দে দো সুল, সান্তা কাতারিনা, পারানার মধ্য–দক্ষিণ ও সাও পাওলোর দক্ষিণ অংশ দক্ষিণ আমেরিকা টর্নেডো করিডর–এর অন্তর্ভুক্ত—যুক্তরাষ্ট্রের পরই ঝুঁকিপূর্ণ। আকাশ সবুজ–হলদে আভা নিলে/ফ্রেইট–ট্রেনের মতো গর্জন শুনলে আশ্রয় নিন। বিস্তারিত দেখতে tornado safety দেখুন।

দাবানল

[সম্পাদনা]

পান্তানালমধ্য–পশ্চিমে মে–অক্টোবর শুষ্ক মৌসুমে কম আর্দ্রতায় বনের আগুন লাগে। শ্বাসকষ্ট থাকলে স্থানীয় খবরে নজর রাখুন, আগুন–পীড়িত এলাকা এড়ান।

রাজনৈতিক অস্থিরতা

[সম্পাদনা]

বিক্ষোভ/মার্চ অস্বাভাবিক নয়। সম্ভাবনা দেখলেই এলাকা ছেড়ে যান—ছবি তুলতে/মদত দিতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়বেন না। বড় শহরে সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে—সাও পাওলো (লারগু দা বতাতা, আবেনিদা পাউলিস্তা, প্রাসা দা সে), রিও (সিনেলান্দিয়া, কোপাকাবানা), ব্রাসিলিয়া (এক্সো মনুমেন্তাল, এসপ্লানাদা দোস মিনিস্তেরিওস), পোর্তো আলেগ্রি (এস্কিনা দেমোক্রাতিক, হিস্টরিক ডিস্ট্রিক্ট)।

মানিয়ে চলুন (Cope)

[সম্পাদনা]

সংবাদপত্র

[সম্পাদনা]

প্রধান দৈনিক—ফোলিয়া দে এস. পাওলো, এসতাদাও দে এস. পাওলো (সাও পাওলো), ও গ্লোবো (রিও)। অন্য বড়গুলো—কোরেইউ ব্রাজিলিয়েন্সি, এস্তাদু দে মিনাস, জেরু হোরা। সাপ্তাহিক—ভেজা, ইস্তোয়ে, কার্তা ক্যাপিতাল

Agência Brasil ইংরেজি সংবাদ দেয়; Folha de S. Paulo–রও ইংরেজি–পোর্টাল আছে। The Rio Times[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] অনলাইন ইংরেজি পত্রিকা।

বিদ্যুৎ (Electricity)

[সম্পাদনা]
পুরনো ব্রাজিলীয় আউটলেট
IEC 60906-1 ব্রাজিলীয় আউটলেট
আরও দেখুন: Electrical systems

ব্রাজিলে ১১০ ও ২২০—দুই ভোল্টেজই চালু—রাজ্য/শহর/বাড়ি ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। সকেটের আকার একই—ভোল্টেজ আলাদা বোঝা যায় না।

সাধারণত সমতল (উত্তর আমেরিকান) ও গোল (ইউরোপীয়) প্লাগ—দুটোই লাগে। না মিললে সস্তা অ্যাডাপ্টার সর্বত্র মেলে। “শুকো” প্লাগ কখনও চওড়া—সস্তা T–অ্যাডাপ্টার জোরে লাগিয়ে নিলে চলে। গ্রাউন্ডিং–পিন বিরল; নতুন নর্থ–আমেরিকান পোলারাইজড প্লাগ–ও কখনও ঢোকে না—T–অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করুন। আর্জেন্টিনা সীমান্তের কাছে অস্ট্রেলিয়া/নিউজিল্যান্ড–ধাঁচের সকেটও দেখা যায়—সীমান্ত পার হলে আলাদা অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে।

২০০৯/২০১০–এ IEC 60906-1 চালু—নতুন বিল্ডিংয়ে বেশি। এটি ইউরোপ্লাগ–সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে সকেটটা একটু ভেতরে বসানো; আবারও T–অ্যাডাপ্টার সমাধান।

ফ্রিকোয়েন্সি ৬০ হার্জ—৫০ হার্জের ইলেকট্রিক–ঘড়ি গোলমাল করতে পারে। ছোট শহরে পিক–সিজনে/বজ্রঝড়ে ব্ল্যাকআউট হতে পারে—বড় শহরেও মাঝে–সাঝে।

‘‘সিপিএফ নম্বর’’ (CPF number)

[সম্পাদনা]

সিপিএফ নম্বর (Cadastro de Pessoas Físicas) ব্রাজিলের ব্যক্তিগত কর–পরিচিতি। ই–টিকিট/সেল্‌ফ–চেকআউট/ফ্লাইট/লয়্যালটি/ফোন–প্ল্যান—নানা ক্ষেত্রে লাগে। ক’দিনের বেশি থাকলে বা অনলাইনে কেনাকাটা করলে বিদেশ থেকেই সিপিএফের জন্য আবেদন করা ভালো—ফর্ম, পাসপোর্ট ও জন্মসনদ নিয়ে ব্রাজিলিয়ান দূতাবাস/কনসুলেটে ১০ মিনিটেই হয়ে যায়; নাগরিকত্ব/রেসিডেন্স/সম্পত্তি—কোনোটাই বাধ্যতামূলক নয়।

সম্মান (Respect)

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলিয়ানরা সাধারণত আবেগপ্রবণ, কৌতূহলী, আতিথেয়।

যোগাযোগের ধরণ

[সম্পাদনা]

খোলামেলা আলাপ–আলোচনায় স্বচ্ছন্দ; পাবলিক প্লেসে অচেনা মানুষও আলাপ জুড়তে পারে—উপেক্ষা করলে রূঢ় মনে হতে পারে। তবে ভাষায় কূটনৈতিক থাকুন—অতিসরল/আঘাতকর মন্তব্য এড়ান।

সময়–ধারণা

[সম্পাদনা]

সামাজিক আড্ডায় ১০–১৫ মিনিট দেরি স্বাভাবিক—অশ্রদ্ধা নয়। তবে অফিস/ব্যবসা–মিটিংয়ে নয়। আমন্ত্রণ ১৯:০০ মানে ১৯:০০–র আগে না আসা—কিছুটা পরে পৌঁছানো প্রচলিত। কনসার্ট/নাটক/দূরপাল্লার বাস যথাসময়ে শুরু/ছাড়ে। মেট্রো/সিটি–বাসের ইটিএ আনুমানিক।

স্পর্শকাতর বিষয়

[সম্পাদনা]

বর্ণবাদ—গুরুতর অপরাধ; ৬ মাস–৮ বছর জেল ও জরিমানা। ব্রাজিলিয়ানরা হিস্পানিক নন—তারা পর্তুগিজভাষী। বিদেশিরা ব্রাজিলের রাজনীতি নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা করলে খারাপ লাগতে পারে। ব্যক্তিগত বিশ্বাস/আয়/অবস্থা—জিজ্ঞেস করতে হলে ভালো পরিচিত হতে হবে। ১৯৬৪–১৯৮৫–র সামরিক শাসন—সংবেদনশীল বিষয়। পরিবার–কেন্দ্রিকতা প্রবল। আর্জেন্টিনা নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখাবেন না—খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বী।

এলজিবিটিকিউ পর্যটন

[সম্পাদনা]

২০১৩–তে সমলিঙ্গ–বিবাহ বৈধ; সাও পাওলো–র প্রাইড বিশ্বের সবচেয়ে বড়। বড় শহরে গে–সিন সমৃদ্ধ। তবে সমাজে সমকাম–বিদ্বেষ রয়ে গেছে—রাস্তার প্রকাশ্য স্নেহ–প্রদর্শনে মন্তব্য/দৃষ্টির সম্মুখীন হতে পারেন; শহরের কিছু এলাকায় খুবই গ্রহণযোগ্য, বিশেষ বার/ক্লাব প্রচুর। ছোট শহর/উত্তরাঞ্চল গ্রামীণ এলাকায় বেশি রক্ষণশীল।

ধর্মীয় আচরণবিধি

[সম্পাদনা]

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা—সোশ্যাল মিডিয়াতেও—৫ বছর পর্যন্ত জেল/জরিমানা। সাও পাওলোতে জরিমানা সর্বোচ্চ টেমপ্লেট:BRL। ধর্মপ্রচারের মতো আচরণ ভালো চোখে দেখা হয় না। ধর্মীয় স্থানে শালীন আচরণ–পোশাক বজায় রাখুন।

সামাজিক আচরণ

[সম্পাদনা]
রিও–র ‘‘ক্রিস্তো রেদেন্তোর’’
  • নারীদের মধ্যে ও নারী–পুরুষের মধ্যে গালে ‘‘এয়ার–কিস’’ খুবই সাধারণ; পুরুষ–পুরুষ হ্যান্ডশেক। (পরিবার/অত্যন্ত কাছের বন্ধু/ইতালীয় বংশোদ্ভূত ব্যতিক্রম হতে পারে।) শহরভেদে এক/দুই/তিনবার (ডান–বাম পালা করে)। ঠোঁট–ছোঁয়া কিস নয়—শব্দ করে গাল ছুঁয়ে এয়ার–কিস। না বুঝলেও বিদেশি জেনে কেউ রূঢ় ভাববে না। স্পষ্ট অগ্রাহ্য করা অপমানজনক।
  • অনেকে ভালো নাচেন; কথা বলতে বলতে কাছাকাছি দাঁড়ানো/কাঁধে–হাতে ছোঁয়া/আলিঙ্গন—স্বাভাবিক, সবসময় ফ্লার্ট নয়।
  • পানাহার সামাজিক জীবনের অংশ—নেশা–মুক্তরাও বারে যান। স্টেডিয়ামে মদ নিষিদ্ধ হতে পারে; ড্রিঙ্ক–ড্রাইভিং–আইন কড়া।
  • ঘরে ঢুকেই জুতো খোলা ব্রাজিলীয় রীতি নয়—হোস্ট বললে/ওনারা খুললে তবেই খুলুন।

টেবিল–আচরণ

[সম্পাদনা]
  • রেস্তোরাঁয় কোলাহল–আনন্দ স্বাভাবিক—বড় দলে শব্দ হয়।
  • সাধারণত কাঁটা–চামচ–ছুরি—তবে কিছু হাতে খাওয়া যায়; আশেপাশের লোক দেখুন/জিজ্ঞেস করুন।
  • ঢেঁকুর শোভন নয় (অত্যন্ত আপনজন ছাড়া)। শেষ হলে ছুরি–কাঁটা সমান্তরাল রাখেন। ওয়েটার প্রায়ই গ্লাস/বোতল নিজে থেকেই ভরে দেয়/সরায়।

সংযোগ (Connect)

[সম্পাদনা]

টেলিফোন

[সম্পাদনা]
কুরিতিবার পে–ফোন

ব্রাজিলের আইএসডি কোড ৫৫; এরিয়া–কোড ২ অঙ্ক; নম্বর ৮ বা ৯ অঙ্ক। (২০০৬–এর আগে ৭ অঙ্ক ছিল—কখনও ২/৩ যোগ করলে চলে; ৬–৯ দিয়ে ৮ অঙ্ক শুরু হলে সামনে ৯ যোগ করতে হতে পারে।) ২–৫ দিয়ে ৮ অঙ্ক—ল্যান্ডলাইন; ৬–৯ দিয়ে ৮/৯ অঙ্ক—মোবাইল।

জরুরি নম্বর:

  • ১৯০ — পুলিশ
  • ১৯২SAMU (অ্যাম্বুলেন্স)
  • ১৯৩ — ফায়ার সার্ভিস

৯১১ করলে পুলিশে রিডাইরেক্ট হয়।

বিদেশ থেকে ডায়াল: +৫৫–(এরিয়া কোড)–(নম্বর)

দেশের ভিতরে:

  • অন্য এরিয়া কোডে: ০–(ক্যারিয়ার কোড)–(এরিয়া কোড)–(নম্বর)
  • বিদেশে: ০০–(ক্যারিয়ার কোড)–(কান্ট্রি কোড)–(এরিয়া কোড)–(নম্বর)
  • লোকাল কলেক্ট: ৯০–৯০–(নম্বর)
  • আন্তঃএরিয়া কলেক্ট: ৯০–(ক্যারিয়ার কোড)–(এরিয়া কোড)–(নম্বর)
  • আন্তর্জাতিক কলেক্ট: ০০০১১১ বা Embratel ০৮০০–৭০৩–২১১১

পে–ফোনে প্রিপেইড কার্ড (২০/৪০/৬০/৭৫ ক্রেডিট)। সব বুথে সব কার্ড চলে। মোবাইলে কল খুব দ্রুত ক্রেডিট খরচ করে। যুক্তরাষ্ট্রে কল ~প্রতি মিনিটে এক রিয়াল। কোড–তালিকা: ডিডিআই/ডিডিডি[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]

মোবাইল নেটওয়ার্ক

[সম্পাদনা]

জাতীয় অপারেটর ৪টি—Vivo, Claro, Oi, TIM—সবাই GSM/HSPA+/LTE। ছোট অপারেটর: Nextel, ALGAR, Sercomtel ইত্যাদি। প্রিপেইড চিপ প্রে–পাগু নিউজস্ট্যান্ড/ড্রাগস্টোর/সুপারমার্কেট–এ মেলে। Vivo ৮৫০/১৮০০/১৯০০ মেগাহার্টজ; অন্যরা ৯০০/১৮০০ (কোথাও ১৯০০)। ৩জি বড় শহরে; কোথাও ৮৫০, কোথাও ২১০০ মেগাহার্টজ। LTE–তে ২৬০০ মেগাহার্টজ (B7), ৭০০ (B28) পরীক্ষাধীন। আনলক যেকোনো মোবাইল–শপে করানো যায়।

তবে প্রিপেইড সিম রেজিস্ট্রেশনে সাধারণত সিপিএফ লাগে; পর্যটক হলে পাসপোর্টে নিবন্ধন–সুবিধা দিতে পারে এমন দোকান খুঁজতে হবে। তৃতীয়–পক্ষ রিটেইলাররা পর্যটকের জন্য সিম/ডাটা/আনলিমিটেড লোকাল কল অ্যাক্টিভেট করে—ফি প্রায় ১৫০ রিয়াল পর্যন্ত। পর্তুগিজ জানলে অফিসিয়াল স্টোরে যাওয়াই সস্তা।

আন্তর্জাতিক রোমিংও ব্যবহারযোগ্য—ডায়ালিং ফরম্যাট মানুন (+দেশকোড… )। বড় অপারেটর সবাই এসএমএস আন্তর্জাতিকভাবে পাঠাতে/পেতে পারে।

টেলিভিশন

[সম্পাদনা]

ব্রাজিলের অ্যানালগ সিস্টেম PAL-M—ইউরোপ/অস্ট্রেলিয়ার PAL–এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আধুনিক টিভিতে সাধারণত NTSC–ও চলে। ২০২৩–এ অ্যানালগ বন্ধ হয়ে ISDB–ভিত্তিক ডিজিটাল সম্প্রচারে গিয়েছে; দেশজুড়ে ~৯০% কভারেজ। ৬টি জাতীয় নেটওয়ার্ক—Globo, RecordTV, SBT, Band, RedeTV, Cultura; বেশিরভাগ শহরে কেবল/স্যাটেলাইটও আছে।

ডিভিডি–প্লেয়ার NTSC–সামঞ্জস্যপূর্ণ; তবে রিজিয়ন–কোড মিলিয়ে নিন (ব্রাজিল রিজিয়ন ৪)। “DVD” শব্দটি প্লেয়ার/ডিস্ক—দুই–অর্থে ব্যবহৃত—স্পষ্ট করে বলুন।

ইন্টারনেট

[সম্পাদনা]

হোটেল, এয়ারপোর্ট, মলে বিনামূল্যে ওয়াই–ফাই প্রায়ই থাকে; খোলা হটস্পটও প্রচুর—কখনও ফেসবুক–লগইন লাগে। ভ্রমণে ইন্টারনেট–টিপসের জন্য দেখুন Internet access

ডাকঘর

[সম্পাদনা]

Correios নির্ভরযোগ্য; পোস্ট–অফিস সর্বত্র। দাম জিজ্ঞেস করলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে “prioritário” (প্রায়োরিটি) বলে—econômico (নরমাল)–দাম জিজ্ঞেস করুন; অনেক সময় গতিও সমান।

পরবর্তী গন্তব্য (Go next)

[সম্পাদনা]

স্থলসীমান্ত পার হয়ে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, কলোম্বিয়া, ফ্রেঞ্চ গিয়ানা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, গায়ানাভেনেজুয়েলায় যাওয়া যায়। সুরিনামে যাওয়ার গাড়ি–পথ নেই।


This TYPE ব্রাজিল has রূপরেখা অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:দেশ|রূপরেখা}}

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন