বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

মনপুরা উপজেলা বাংলাদেশের ভোলা জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। ৩৭৩.১৯ বর্গ কিমি আয়তনের এই উপজেলাটি ২২°০৬′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২২°২৬′ উত্তর অক্ষাংশের এবং ৯০°৫২′ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৯১°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত, যার উত্তরে তজুমদ্দিন উপজেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হাতিয়া উপজেলা ও পশ্চিমে লালমোহনচরফ্যাশন উপজেলা

কীভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার একটি দ্বীপ যা জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কি: মি: দুরত্বে সাগরের বুকে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে অবস্থিত। দেশের যেকোনো স্থান থেকে এখানে আসতে হলে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়।

ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চ যোগে মনপুরাতে আসা যায়। ঢাকার সদর ঘাট থেকে বিকাল সাড়ে ৫টায় হাতিয়ার উদ্দ্যেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়, যা সকাল ৭টায় মনপুরায় পৌছে। এছাড়াও ভোলা থেকে প্রথমে গাড়ীতে করে কুঞ্জের হাট, কুঞ্জের হাট থেকে মিশুক অথবা রিক্সা যোগে তজুমদ্দিন, তজুমদ্দিন ঘাট থেকে সি-ট্রাক যোগে মনপুরাতে আসা যায়।

  • রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট থেকে ঢাকা লঞ্চ যোগে - প্রতিদিন দুপুর ২টা, ঢাকা থেকে মনপুরা প্রতিদিন বিকাল ৫ ঘটিকায় লঞ্চ যাতায়াত করে।
  • হাজিরহাট লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ ঘটিকায় এবং রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ১১ ঘটিকায় সিট্রাক যোগে তজুমদ্দিন একটি সিট্রাক যাতায়াত করে। একই সিট্রাক প্রতিদিন বিকাল ৩ ঘটিকায় তজুমদ্দিন থেকে মনপুরার উদ্যেশ্যে ছেড়ে আসে।
  • সাকুচিয়ার জনতা লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিনি সকাল ৯ ঘটিকায় এবং দুপুর ২ ঘটিকায় চরফ্যাশনের উদ্যেশ্যে লঞ্চ যাতায়াত করে এবং চরফ্যাশন বেতুয়া ঘাট প্রতিদিন সকাল ১০ ঘটিকায় ও সাড়ে ১২টায় লঞ্চ মনপুরার জনতা ঘাটের উদ্যেশ্যে ছেড়ে আসে। বিকাল ৩ ঘটিকায় বেতুয়া থেকে ছেড়ে আসে, বিকাল ৪ ঘটিকায় দক্ষিণ সাকুচিয়া জনতা বাজার লঞ্চ ঘাটে ভীরে। সেখান থেকে মটর সাইকেল যোগে মনপুরা উপজেলা সদরে আসা যায়।

দর্শনীয় স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

  1. মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন
    মনপুরা শহরের প্রায় ৫ শত গজ পশ্চিমে মেঘনা নদীর কিনারায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় ল্যান্ডিং স্টেশনটি। ২০০৫ সালের শেষের দিকে ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ শুরু হয় যেনো যাত্রীবাহী সী-ট্রাক সহ অন্যান্য লঞ্চ-নোঙ্গরের পাশাপাশি যাত্রীদের উঠানামায় দারুণ সুবিধার্থে ল্যান্ডিং ষ্টেশনটি নির্মিত হয়। কিন্তু মেঘনার প্রচন্ড স্রোতের তীব্রতায় ল্যান্ডিং স্টেশনের সামনের ৪টি পিলার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একপর্যায়ে পিলারগুলো নদী থেকে উঠিয়ে পুনরায় স্থাপন করা হয়। সী-ট্রাকসহ অন্যান্য যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার পিলারের সাথে বেধে নঙ্গর করে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এটি নির্মিত হলেও বর্তমানে সে ব্যাপারে কোন কাজে আসছেনা। তবে, মনপুরাবাসী একদিকে নিরাশ হলেও অন্যদিকে বিকালের আড্ডায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন ল্যান্ডিং স্টেশনকে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী বিনোদন কেনদ্র হিসেবে এখানে ঘুড়তে আসে। পড়ন্ত বিকেলে এখানকার আড্ডায় পর্যটনের একটি উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন সূর্য অস্ত যাওয়ার অপরুপ দৃশ্য। এখানকার হাজার হাজার মানুষের মনকে প্রফুল্ল করতে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি বর্তমানে রাক্ষুসে মেঘনার যাতাকলে পিষ্ট। হাজিরহাট সদর থেকে পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং স্টেশনে যাওয়া যায়।
  1. উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন ক্রসডেম এলাকা
    মনপুরা উপজেলার একটি পর্যটন এলাকা হচ্ছে ক্রসডেম এলাকা। এখানে প্রায় সময় হরিন দেখা যায় এবং প্রতিদিন সূর্যাস্ত দেখা যায়। উপজেলা সদর থেকে ৫ কি:মি: দক্ষিনে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন; এটির শুরুতেই ক্রসডেম এলাকা। সদর থেকে রিক্সা, মোটর সাইকেল দিয়ে যাওয়া যায়।

থাকা ও রাত্রি যাপনের স্থান[সম্পাদনা]

মনপুরায় থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্যে রয়েছে উন্নতমানের -

  1. জেলা পরিষদ ডাকবাংলো - হাজিরহাট, মনপুরা, ভোলা; মোবাইল: +৮৮০১৯৩৪-১৭৫ ৩৬৯।
  2. পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাকবাংলো - হাজিরহাট, মনপুরা, ভোলা; মোবাইল: +৮৮০১৯২৩-৩৭৬ ৩৬৫।
  3. কারিতাস ডাক বাংলো - হাজিরহাট, মনপুরা, ভোলা; মোবাইল: +৮৮০১৯২৩-৩৭৬ ৩৬৫।

জরুরি নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ইউ.এন.ও. মনপুরা: ☎ ০৪৯২৬-৫৬০০১ (অফিস), মোবাইল: +৮৮০১৭১২-৬০২ ৪০৮;
  • ওসি মনপুরা: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩০৬।