চীন (中国; Zhōngguó) বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। এর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস এখানকার মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ, শিল্পকলা এবং স্থাপত্যের সাথে মিশে আছে। অতীতের রাজবংশগুলোর রেখে যাওয়া প্রকৌশল কৃতিত্বের মাঝেও সেই ছাপ স্পষ্ট। সাংহাই এবং শেনচেনের মতো ব্যস্ত ও আধুনিক শহরগুলো ছাড়াও চীনে রয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার। যেমন গুইলিনের অদ্ভুত সুন্দর কার্স্ট ভূদৃশ্য বা হুয়াংশানের গ্রানাইট শৃঙ্গ, যা যুগ যুগ ধরে চিত্রশিল্পী ও কবিদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উনবিংশ ও বিংশ শতকের অস্থির সময় কাটিয়ে চীন আজ আবার এক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। দেশের এই দ্রুত উন্নতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব বাড়ছে। শত বছরের পুরোনো প্যাগোডাকে পেছনে ফেলে যখন আকাশছোঁয়া দালান আর কারখানা গড়ে ওঠে, তখন কিছু সমস্যা তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে এখানকার মানুষদের মধ্যে এক প্রবল উৎসাহ ও আশাবাদ কাজ করে। আপনি এখন চীন ভ্রমণ করলে একদিকে যেমন হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারবেন, তেমনই দেশের এই বদলে যাওয়ার চলমান প্রক্রিয়াটিও অনুভব করতে পারবেন।
অঞ্চলসমূহ
[সম্পাদনা]চীনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনুযায়ী দেশটিতে ২২টি প্রদেশ (省 শেং) রয়েছে, যেগুলোর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় আছে। এছাড়াও রয়েছে ৫টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (自治区 জিঝিকু), যার প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত। এই প্রদেশ, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং চারটি পৌরসভা (直辖市 ঝিক্সিয়াশি) নিয়েই মূল ভূখণ্ড চীন (中国大陆 ঝোংগুও দালু বা 中国内地 ঝোংগুও নেইদি) গঠিত।
|
উইকিভ্রমণে হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ান বিষয়ে আলাদা আলাদা নিবন্ধ রয়েছে। এই জায়গাগুলোর নিজস্ব অভিবাসন, ভিসা ব্যবস্থা এবং মুদ্রা প্রচলিত আছে। তাই এই তিনটি জায়গার মধ্যে যাতায়াত করতে গেলে, বা এদের যেকোনো একটি থেকে মূল ভূখণ্ড চীনে যেতে হলে, অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায় না। |
উইকিভ্রমণের উদ্দেশ্যে, এই প্রদেশগুলিকে নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলিতে বিভক্ত করা হয়েছে:

| উত্তর-পশ্চিম চীন (শাআনশি, গানসু, নিংজিয়া, ছিংহাই, শিনচিয়াং) এটি এক ঐতিহাসিক সীমান্তবর্তী অঞ্চল, যার তৃণভূমিগুলো ধীরে ধীরে মরুভূমি আর পাহাড়ে মিশে গেছে। প্রাচীন রেশম পথ এখান দিয়েই চীনকে ইউরোপের সাথে যুক্ত করত। উত্তর-পশ্চিম চীন বহু মুসলিম ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর আবাস, যারা একসময় এখানে স্বাধীন রাজ্য গড়ে তুলেছিল। |
| উত্তর চীন (শানতুং, শানশি, অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া, হনান, হপেই, বেইজিং, তিয়ানজিন) উর্বর হোয়াংহো নদীর অববাহিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উত্তর চীনের সমভূমিই ছিল চীনা সভ্যতার সূতিকাগার। হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলটি চীনা সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল এবং এখানেই আধুনিক রাজধানী বেইজিং অবস্থিত। |
| উত্তর-পূর্ব চীন (লিয়াওনিং, চিলিন, হেইলুংচিয়াং) পশ্চিমে ঐতিহাসিকভাবে মাঞ্চুরিয়া নামে পরিচিত উত্তর-পূর্ব চীন মূলত তৃণভূমি, বিশাল অরণ্য এবং দীর্ঘ তুষারময় শীতের দেশ। রাশিয়া, কোরিয়া ও জাপানের সাংস্কৃতিক প্রভাব থাকায় এখানে আধুনিক শহরের পাশাপাশি অবহেলিত পুরোনো শিল্প শহরও দেখতে পাওয়া যায়। |
| দক্ষিণ-পশ্চিম চীন (তিব্বত, সিছুয়ান, ছুংছিং, ইউন্নান, কুইচৌ) এই অঞ্চলটি নানা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, চোখধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অল্প খরচে ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। |
| দক্ষিণ-মধ্য চীন (আন্তে, হুপেই, হুনান, চিয়াংশি) এই অঞ্চলে রয়েছে ইয়াংৎসি নদীর অববাহিকা, বিস্তীর্ণ খামার, পর্বত, গভীর নদী গিরিখাত এবং নাতিশীতোষ্ণ ও উপক্রান্তীয় বন। |
| দক্ষিণ চীন (কুয়াংতুং, কুয়াংশি, হাইনান) এই অঞ্চলটি চীনের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বর্তমানে এটি উৎপাদন ও প্রযুক্তির এক শক্তিশালী ঘাঁটি। |
| পূর্ব চীন (চিয়াংসু, সাংহাই, চচিয়াং, ফুচিয়েন) "মাছ ও ভাতের দেশ" হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সব জল-নগরী এবং এটিই বর্তমানে চীনের নতুন বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক কেন্দ্র। |
শহরসমূহ
[সম্পাদনা]চীনে অসংখ্য শহর থাকলেও, নিচে ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় নয়টি শহরের একটি তালিকা দেওয়া হলো। বাকি শহরগুলোর নাম প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত নিবন্ধে পাওয়া যাবে।
- 1 বেইজিং (北京) — এই শহরটি একাধারে দেশের রাজধানী এবং প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বিখ্যাত নিষিদ্ধ নগরী, গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান এখানেই অবস্থিত।
- 2 ছেংতু (成都) — এটি সিছুয়ান প্রদেশের রাজধানী এবং এর পরিচিতি মূলত ঝাঁঝালো-ঝাল খাবার, বৃহৎ পান্ডা ও চীনের বৃহত্তম এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য।
- 3 কুয়াংচৌ (广州) — চীনের অন্যতম সমৃদ্ধ ও উদার শহর। ক্যান্টোনিজ সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলীর কেন্দ্র।

- 4 হাংচৌ (杭州) — পশ্চিম হ্রদকে কেন্দ্র করে নির্মিত, একটি
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, এবং মহাখালের দক্ষিণ প্রান্ত। - 5 হারপিন (哈尔滨) — হেইলুংচিয়াংয়ের রাজধানী, যা তার তীব্র শীতকালে বরফ ও তুষার ভাস্কর্য উৎসবের আয়োজন করে।
- 6 কাশগর (চীনা: 喀什, উইগুর: قەشقەر) — উইগুর সংস্কৃতির কেন্দ্র এই শহরটিতে রয়েছে সুন্দর ও ভালোভাবে সংরক্ষিত এক পুরোনো শহর এবং বিখ্যাত ঈদগাহ মসজিদ।
- 7 নানচিং (南京) — আদি মিং রাজবংশের শুরুর দিকে এবং চীন প্রজাতন্ত্রের সময়কালে এটি চীনের রাজধানী ছিল। শহরটি তার বহু ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য এক বিখ্যাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
- 8 সাংহাই (上海) — এটি চীনের বৃহত্তম শহর ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। শহরটি তার বিশ্বযুদ্ধের আগের ফরাসি, ব্রিটিশ ও আমেরিকান ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, একবিংশ শতকের অত্যাধুনিক সব আকাশছোঁয়া দালান এবং কেনাকাটার বিপুল সুযোগ-সুবিধার জন্য বিখ্যাত।
- 9 শিআন (西安) — চীনের এই প্রাচীনতম শহরটি একসময় দেশের রাজধানী ছিল। এটি প্রাচীন রেশম পথের শেষ প্রান্ত এবং বিখ্যাত টেরাকোটা যোদ্ধাদের আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত।
উচ্চ-গতির রেল ব্যবহার করে আপনি এই শহরগুলোর মধ্যে খুব দ্রুত যাতায়াত করতে পারেন। বিশেষ করে হাংচৌ-সাংহাই-সুজৌ-নানজিং রেলপথটি এই ঐতিহাসিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখার জন্য খুব সুবিধাজনক।
অন্যান্য গন্তব্য
[সম্পাদনা]চীনের কিছু সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ হলো:
- 10 চীনের মহাপ্রাচীর (万里长城) — ৮,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই প্রাচীন প্রাচীরটি চীনের এক শ্রেষ্ঠ প্রতীকী নিদর্শন।
- 11 হাইনান (海南) — একটি ক্রান্তীয় স্বর্গীয় দ্বীপ যা পর্যটন-ভিত্তিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
- 12 জিউঝাইগৌ প্রকৃতি সংরক্ষিত এলাকা (九寨沟) — এই স্থানটি তার বহু-স্তরীয় জলপ্রপাত, রঙিন হ্রদ এবং বৃহৎ পান্ডাদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
- 13 লেশান — তার বিশাল নদীতীরবর্তী পর্বত-খোদাই করা বুদ্ধ এবং নিকটবর্তী এমেই পর্বতের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত।
- 14 মাউন্ট এভারেস্ট — নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত, এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত।
- 15 তাই পর্বত (泰山 তাই শান) — চীনের পাঁচটি পবিত্র তাওবাদী পর্বতের মধ্যে একটি, এবং চীনে সবচেয়ে বেশি আরোহণ করা পর্বত।
- 16 তিব্বত (西藏) — এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তিব্বতি বৌদ্ধ এবং এখানকার সংস্কৃতিও ঐতিহ্যবাহী তিব্বতি ঘরানার। সব মিলিয়ে জায়গাটিকে এক ভিন্ন জগৎ বলে মনে হয়।
- 17 ইউনগাং গুহা (云冈石窟) — পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই গুহা ও প্রকোষ্ঠের সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি। এগুলোর ভেতরে সব মিলিয়ে প্রায় ৫১,০০০ বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।
- 18 গুইলিনের কার্স্ট (桂林) — পর্বতের ভূদৃশ্য অত্যন্ত বিস্ময়কর। দীর্ঘকাল ধরে এটি চীনা চিত্রকলার একটি প্রধান বিষয়।
চীনের ৫০টিরও বেশি স্থান ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় রয়েছে।
জানুন
[সম্পাদনা]চীন ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সেরা সভ্যতা। বহু শতাব্দী ধরে এটি একটি নেতৃস্থানীয় দেশ হিসাবে পরিচিত ছিল। তাদের এমন প্রযুক্তি ছিল যা পশ্চিমা বিশ্ব আধুনিক যুগের শুরু পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। কাগজ, বারুদ এবং কম্পাস হলো চীনা আবিষ্কারের এমন কিছু উদাহরণ যা আজও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে চীন তার ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় ধরে প্রতিবেশী ভিয়েতনাম, কোরিয়া এবং জাপানে তার সংস্কৃতির অনেক কিছু রপ্তানি করেছে। এই দেশগুলির সংস্কৃতিতে এখনও চীনা প্রভাব দেখা যায়।
চীনা সভ্যতা হাজার হাজার বছরের উত্তাল উত্থান-পতন ও বিপ্লব, স্বর্ণযুগ এবং নৈরাজ্যের সময়কাল সহ্য করেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে সংস্কারের মাধ্যমে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক উত্থানের মধ্য দিয়ে চীন তার বিশাল এবং পরিশ্রমী জনসংখ্যার উপর ভর করে আবার একটি প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্বশক্তি হিসাবে তার স্থান ফিরে পেয়েছে। চীনা সভ্যতার গভীরতা এবং জটিলতা তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যসহ মার্কো পোলো এবং গটফ্রিড লাইবনিজের মতো পশ্চিমা ব্যক্তিত্বদের বিগত শতাব্দীতে মুগ্ধ করেছে। এবং এটি আজকের ভ্রমণকারীদেরও একইভাবে উত্তেজিত এবং বিস্মিত করে চলেছে।
চীনা ভাষায় চীন হলো ঝং গুও, আক্ষরিক অর্থে "কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র"। তবে প্রায়শই এটিকে আরও কাব্যিকভাবে "মধ্যবর্তী রাজ্য" হিসাবে অনুবাদ করা হয়। অন্য সব জায়গার মানুষদের ওয়াইগুওরেন (外国人, "বাইরের দেশের মানুষ") বা কথ্য ভাষায় লাওওয়াই বলা হয়। লাওওয়াই মানে "পুরানো বহিরাগত", যেখানে "পুরানো" শব্দটি শ্রদ্ধেয় বা সম্মানিত অর্থে ব্যবহৃত হয় (বাস্তবে এই শব্দগুলি বেশিরভাগই শ্বেতাঙ্গ বা পশ্চিমা মানুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, এবং চীনা বংশোদ্ভূত কোনো বিদেশীর জন্য প্রায় কখনোই ব্যবহৃত হয় না)।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]- বিপ্লব-পূর্ব চীন সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সাম্রাজ্যিক চীন দেখুন।
প্রাচীন চীন
[সম্পাদনা]কিংবদন্তি অনুসারে চীনা সভ্যতার উৎস তিন সার্বভৌম এবং পাঁচ সম্রাটের (三皇五帝) কাছে খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও বেশিরভাগ আধুনিক ঐতিহাসিক তাদের পৌরাণিক চরিত্র হিসাবেই গণ্য করেন।
চীনা সভ্যতার লিখিত ইতিহাস হোয়াংহো নদীর উপত্যকা থেকে শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। এই অঞ্চলটিকে "চীনা সভ্যতার সূতিকাগার" বলা হয়। শিয়া রাজবংশ (夏朝, আনুমানিক ২০৭০-১৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) হলো প্রাচীন ঐতিহাসিক ইতিবৃত্তে বর্ণিত প্রথম রাজবংশ। যদিও আজ পর্যন্ত এর অস্তিত্বের কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিছু প্রত্নতত্ত্ববিদ এরলিতৌ বসতিগুলিকে শিয়া রাজবংশের সাথে যুক্ত করেছেন। তবে এটি একটি বিতর্কিত মত।
শাং রাজবংশ (商朝, আনুমানিক ১৬০০-১০৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) হলো চীনের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে নিশ্চিত হওয়া রাজবংশ। তারা শুধুমাত্র হোয়াংহো নদীর অববাহিকা জুড়ে শাসন করত। সেই সময়ে বর্তমান চীনে আরও অন্যান্য সভ্যতা ছিল। যেমন তাই হ্রদের আশেপাশে নিম্ন ইয়াংৎসি অঞ্চলে লিয়াংঝু সংস্কৃতি এবং সিছুয়ানে সেই নদীর আরও উজানে একটি সভ্যতা যার প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হলো সানশিংদুই। শাং এবং সানশিংদুইয়ের লোকেরা ছিল ব্রোঞ্জ যুগের সংস্কৃতি। অন্যদিকে লিয়াংঝু ছিল তার অঞ্চলের শেষ নব্যপ্রস্তরীয় সংস্কৃতি।

শাংদের পর আসে ঝৌ রাজবংশ (周朝, ১০৪৬-২৫৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। তারা তাদের সাম্রাজ্যকে দক্ষিণে ইয়াংৎসি নদীর অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিল। ঝৌরা তাদের শাসন ব্যবস্থা হিসাবে সামন্ততন্ত্র গ্রহণ করেছিল। সামন্ত প্রভুরা নিজ নিজ অঞ্চলে উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন নিয়ে শাসন করত। এমনকি তারা নিজস্ব সেনাবাহিনীও বজায় রাখত। একই সময়ে তারা রাজার কাছে কর দিত এবং তাকে চীনের প্রতীকী শাসক হিসাবে স্বীকার করত।
ঝৌ যুগের দ্বিতীয়ার্ধে চীন কয়েক শতাব্দীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়েছিল। বসন্ত ও শরৎ যুগে (春秋时代, ৭৭০-৪৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অসংখ্য ছোট ছোট রাজ্যের সামন্ত প্রভুরা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছিল। এবং পরে যুদ্ধরত রাজ্যগুলির যুগে (战国时代, ৪৭৫-২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) এটি সাতটি বড় রাজ্যে স্থিতিশীল হয়। এই উত্তাল সময়ে চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের জন্ম হয়েছিল। যেমন কনফুসিয়াস, মেনসিয়াস এবং লাওজি (লাও-ৎজু নামেও পরিচিত)। তারা চীনা চিন্তা ও সংস্কৃতিতে যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। এছাড়াও সামরিক কৌশলবিদ সান জুর আর্ট অফ ওয়ার আজও অধ্যয়ন করা হয়।
সাম্রাজ্যিক চীন
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: মার্কো পোলোর পথে
২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ছিন শি হুয়াং অর্থাৎ "ছিনের প্রথম সম্রাট" চীনকে একীভূত করেন। তাঁর ছিন রাজবংশ (秦朝, ২২১-২০৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) চীনে এক কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং দেশজুড়ে ঐক্য আনতে ওজন, পরিমাপ, অক্ষর ও মুদ্রার মান নির্ধারণ করে দেয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের পর ২০৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ক্ষমতায় আসে হান রাজবংশ (汉朝, ২০৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ-২২০ খ্রিস্টাব্দ), যা চীনের প্রথম স্বর্ণযুগের সূচনা করে। এই রাজবংশের নামানুসারেই আজও চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী নিজেদের "হান" বলে পরিচয় দেয় এবং চীনা অক্ষরকে "হান অক্ষর" (汉字 হানজি) বলা হয়। হানদের শাসনামলেই রেশম পথ চালু হয় এবং কাগজের আবিষ্কার হয়। এই সময়ে সাম্রাজ্যটি দক্ষিণে আরও প্রসারিত হয়ে বর্তমান ফুচিয়েন, কুয়াংতুং এবং উত্তর ভিয়েতনাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
২২০ খ্রিস্টাব্দে হান রাজবংশের পতনের পর চীনে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তিন রাজ্যের যুগ (三国时期, ২২০-২৮০) শুরু হয়, যখন দেশটি ওয়েই (魏, ২২০-২৬৫), শু (蜀, ২২১-২৬৩) এবং উ (吴, ২২২-২৮০) নামে তিনটি পৃথক রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে ২৮০ খ্রিস্টাব্দে চিন রাজবংশ (晋朝, ২৬৫-৪২০) চীনকে পুনরায় একীভূত করলেও সেই ঐক্য স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং দেশটি দ্রুতই আবার গৃহযুদ্ধ ও বিভাজনে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ৪২০ থেকে ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চীন দক্ষিণ ও উত্তর রাজবংশ (南北朝) নামে দুটি ভাগে বিভক্ত থাকে। অবশেষে ৫৮১ সালে সুই রাজবংশ (隋朝, ৫৮১-৬১৮) চীনকে আবার একীভূত করে। সুই শাসনামল তাদের বিশাল সব জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বিখ্যাত। যেমন মহাখাল নির্মাণ ছিল এক বিরাট প্রকৌশল নিদর্শন, যা ধীরে ধীরে উত্তরের বেইজিং ও দক্ষিণের হাংচৌকে যুক্ত করে। এই খালের কিছু অংশে আজও নৌচলাচল করে।

৬১৮ খ্রিস্টাব্দে সুই রাজবংশের পতনের পর ক্ষমতায় আসে তাং রাজবংশ (唐朝, ৬১৮-৯০৭), যা চীনা সভ্যতার দ্বিতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করে। চীনা কবিতার বিকাশ, বৌদ্ধধর্মের প্রসার এবং উন্নত রাষ্ট্রনীতির জন্য এই সময়কাল বিখ্যাত হয়ে আছে। ৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তাং রাজবংশের পতনের পর চীন আবার বিভক্ত হয়ে পড়লেও ৯৬০ খ্রিস্টাব্দে সং রাজবংশের (宋朝, ৯৬০-১২৭৯) অধীনে পুনরায় একীভূত হয়। পরে ১১২৭ সালে জুরচেনরা সংদের হুয়াই নদীর দক্ষিণে তাড়িয়ে দিলে, তারা লিনানকে (临安 লিনান, আধুনিক হাংচৌ) কেন্দ্র করে ‘দক্ষিণ সং’ নামে শাসন চালিয়ে যায়। সামরিকভাবে দুর্বল হলেও সংদের শাসনামলই ছিল চীনের অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগ। তাদের অর্জিত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শিল্প বিপ্লবের আগে পশ্চিমেও দেখা যায়নি। এরপর ইউয়ান রাজবংশ (元朝, ১২৭১-১৩৬৮, মঙ্গোল সাম্রাজ্যের চারটি বিভাগের একটি) প্রথমে জুরচেনদের এবং পরে ১২৭৯ সালে সংদের পরাজিত করে খানবালিক (大都 দাদু, আধুনিক বেইজিং) থেকে তাদের বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করত।
মঙ্গোলদের পরাজিত করার পর, মিং রাজবংশ (明朝, ১৩৬৮-১৬৪৪) জাতিগত হানদের দ্বারা শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। মিং যুগটি বাণিজ্য এবং অনুসন্ধানের জন্য পরিচিত ছিল। চেং হোর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত এবং আরব বিশ্বে অসংখ্য সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে তিনি এমনকি আফ্রিকার পূর্ব উপকূলেও পৌঁছেছিলেন; দেখুন সামুদ্রিক রেশম পথ। বেইজিংয়ের বিখ্যাত ভবন, যেমন নিষিদ্ধ নগরী এবং স্বর্গের মন্দির, এই সময়ে নির্মিত হয়েছিল। শেষ রাজবংশ, ছিং রাজবংশ (清朝, ১৬৪৪-১৯১১), ছিল জাতিগত মাঞ্চু যারা শিনচিয়াং এবং তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে চীনা সাম্রাজ্যকে প্রায় তার বর্তমান সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিল।
উনিশ শতকে ছিং রাজবংশের পতন শুরু হলে চীনকে প্রায়শই "এশিয়ার রুগ্ন ব্যক্তি" (東亞病夫/东亚病夫) বলে অভিহিত করা হতো। পশ্চিমা শক্তি ও জাপান এসময় দেশটিকে প্রায় ছিন্নভিন্ন করে ফেলে, যা চীনাদের কাছে "অপমানের শতাব্দী" হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমারা ও জাপানিরা গুয়াংজু, সাংহাই এবং তিয়ানজিনে নিজেদের চুক্তি বন্দর প্রতিষ্ঠা করে। চীন শুধু হংকং বা তাইওয়ানের মতো অঞ্চলই হারায়নি, ভিয়েতনাম, কোরিয়া এবং রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের মতো করদ রাজ্যগুলোর ওপর থেকেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এই সময়েই সমুদ্রপথে যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বিদেশের সাথে যোগাযোগ বাড়ে, আর তার ফলেই চীনাদের বিনুনি, মাঞ্চু রীতির চুলের বাঁধন বা মাগুয়া (এক ধরনের মাঞ্চু পোশাক) ইত্যাদি চেহারা বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। ছিং রাজবংশের পতন এবং চীন প্রজাতন্ত্রের সময়কার অস্থিরতার কারণে বহু চীনা নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবাসী চীনা সম্প্রদায় গড়ে তোলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে দেশত্যাগ করা এই চীনাদের বেশিরভাগই ছিলেন ফুচিয়েন, কুয়াংতুং বা হাইনান প্রদেশের বাসিন্দা। তাই বিদেশী চীনাদের ঐতিহ্য জানতে হলে এই প্রদেশগুলোই ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা।
প্রজাতন্ত্র এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনের বিপ্লবী গন্তব্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধ, লং মার্চ
দুই হাজার বছরের পুরোনো সাম্রাজ্যিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯১১ সালে সান ইয়াত-সেন চীন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১৯১৬ সালে প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ও স্ব-ঘোষিত সম্রাট ইউয়ান শি-কাইয়ের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে পড়ে এবং দেশজুড়ে নৈরাজ্য ছড়িয়ে যায়। এসময় যুদ্ধবাজরা চীনের বিভিন্ন অঞ্চল দখলে নিয়ে পরস্পরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ে ছাত্র বিক্ষোভ "চৌঠা মে আন্দোলনের" জন্ম দেয়, যা চীনা সমাজে কথ্য ভাষার ব্যবহার, বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের বিকাশের মতো সংস্কারের ডাক দেয়। এই আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোড়ন থেকেই ১৯১৯ সালে পুনর্গঠিত কুওমিনতাং (কেএমটি) এবং ১৯২১ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) জন্ম নেয়। এই আন্দোলনই স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিনকে চীনের প্রথম প্রমিত কথ্য ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে দেয়।
১৯২৮ সালের মধ্যে পূর্ব চীনের বেশিরভাগ অংশ কেএমটি শাসনের অধীনে এলেও সিসিপি ও কেএমটি-র মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যার ফলে সিসিপি লং মার্চের মতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শাআনশির ইয়ান'আনে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যদিও ১৯২০ ও ৩০-এর দশকে সাংহাই পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এক সমৃদ্ধ নগরী হয়ে উঠেছিল, কিন্তু দেশের বিশাল গ্রামীামীণ ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে নাগরিক অস্থিরতা, চরম দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধবাজদের সংঘাতের মতো ভয়াবহ সমস্যাগুলো লেগেই ছিল।
জাপান ১৯৩১ সালে মাঞ্চুরিয়ায় মানচুকুও নামে একটি পুতুল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৩৭ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে পুরোদমে আক্রমণ চালায়। জাপানিরা অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে এক নৃশংস শাসন ব্যবস্থা চালু করে, যার চরম পরিণতি ছিল ১৯৩৭ সালের নানজিং গণহত্যা। পশ্চিমে ছুংছিংয়ে পিছু হটার পর, কেএমটি জাপানিদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার জন্য সিসিপির সাথে একটি দুর্বল চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর কেএমটি এবং সিসিপি উত্তর চীনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সচেষ্ট হয়, যা পরবর্তী গৃহযুদ্ধের মঞ্চ প্রস্তুত করে। ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চলা এই গৃহযুদ্ধে কুওমিনতাং পরাজিত হয়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, এই আশায় যে একদিন তারা মূল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করবে।
একটি লাল চীন
[সম্পাদনা]
১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর মাও সেতুং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (中华人民共和国) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ভারী শিল্পায়ন এবং ব্যাপক কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সোভিয়েত মডেলকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার একটি প্রাথমিক সময়ের পর, চীন একটি মূলত কৃষিভিত্তিক সমাজে মার্কসবাদকে অভিযোজিত করার পরীক্ষা শুরু করে।
১৯৫৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনে নানা সামাজিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়, যা দেশকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। 'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড'-এর লক্ষ্য ছিল দ্রুত শিল্পায়ন ও সমষ্টিগত ব্যবস্থার প্রচলন করা। অন্যদিকে 'সাংস্কৃতিক বিপ্লব'-এর উদ্দেশ্য ছিল শৃঙ্খলা, "চার পুরোনো" (প্রথা, সংস্কৃতি, অভ্যাস, ধারণা) বিষয়ের বিলোপ এবং মাও সেতুং-এর চিন্তাধারার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের মাধ্যমে সমাজকে বদলে ফেলা। এই দুটি আন্দোলনকেই চীনে বিপর্যয়কর ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রভাব আজও স্পষ্ট। ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের অনেক উপাদান হংকং, ম্যাকাও, তাইওয়ান ও প্রবাসী চীনাদের মধ্যে টিকে থাকলেও মূল ভূখণ্ডে তা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
মাও ১৯৭৬ সালে মারা যাওয়ার পর ১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিং চীনের সর্বোচ্চ নেতা হন। দেং এবং তাঁর সহযোগীরা ধীরে ধীরে বাজার-ভিত্তিক সংস্কার এবং বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁদের একটি বড় উদ্যোগ ছিল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা, যেখানে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে উৎসাহ দিতে কর ছাড়সহ নানা সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়। এই অঞ্চলগুলো এখনও সক্রিয় এবং বেশ সমৃদ্ধ।
১৯৭৮ সাল থেকে চীনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এক অসাধারণ সাফল্য। তবে মুদ্রাস্ফীতি, আঞ্চলিক আয়বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশগত সমস্যা, গ্রামীণ দারিদ্র্য এবং শিনচিয়াং ও তিব্বতের জাতিগত সংঘাতের মতো গুরুতর সমস্যাগুলো এখনও রয়ে গেছে। বিশেষত, ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই ১৯৮৯ সালে বড় আকারের রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছিল, যার ফলে শহুরে বেইজিংয়ে বিক্ষোভকারীদের রক্তাক্তভাবে দমন করা হয়। এই ঘটনাটি তিয়ানানমেন স্কয়ার হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত এবং চীনে এটি আজও একটি সংবেদনশীল বিষয়, যার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
হু জিনতাও (রাষ্ট্রপ্রধান ২০০২-২০১২) "সমন্বিত সমাজ" নীতি ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য ছিল সুষম অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং দেশের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানো। নব্বইয়ের দশক থেকেই চীন দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে এবং ২০১০ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে চীন একটি প্রধান রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজের স্থান আরও পাকা করে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন তার আন্তর্জাতিক প্রভাবও বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ২০১৩ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেন, যা মূলত পুরোনো রেশম পথ ধরে পরিবহণ পরিকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সম্প্রসারণ করার একটি প্রচেষ্টা। যদিও শি জিনপিং-এর প্রশাসনকে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর চেয়ে বেশি স্বৈরাচারী বলে সমালোচনা করা হয়, কিন্তু তাঁর সময়ে চীনের আন্তর্জাতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং দুর্নীতিও অনেকটা কমেছে। এছাড়া, পশ্চিম চীনের অনুন্নত এলাকাগুলোতে এখন পরিকাঠামো ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারি বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। চীন এখন একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ।
প্রাক্তন ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এবং পর্তুগিজ উপনিবেশ ম্যাকাও যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ১৯৯৯ সালে চীনের সাথে পুনরায় যুক্ত হয়। "এক দেশ, দুই ব্যবস্থা" নীতির অধীনে এগুলি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (SARs) হিসেবে ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। যেহেতু ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই দুটি অঞ্চলের নিজস্ব ভিসা, মুদ্রা এবং আইন রয়েছে এবং এগুলো প্রায় ভিন্ন দেশের মতোই কাজ করে, তাই এই নিবন্ধে তাদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি।
সরকার ও রাজনীতি
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা প্রদেশ এবং অঞ্চল
চীন একটি একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা শাসিত। দেশের "সর্বোচ্চ নেতা" হলেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, যিনি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতির মতো আরও কয়েকটি পদে আসীন থাকেন। স্টেট কাউন্সিল হলো দেশের নির্বাহী বিভাগ, যার প্রধান হলেন প্রিমিয়ার, যিনি সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রীর মতো) দায়িত্ব পালন করেন। চীনের আইনসভাটি প্রায় ৩,০০০ প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এককক্ষ বিশিষ্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি), যা বিশ্বের বৃহত্তম আইনসভা। তবে এনপিসিকে প্রায়শই একটি নামমাত্র সংস্থা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বিলে ভেটো দেয়নি এবং এর সদস্যরাও ক্ষমতার অভাব নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
সাংবিধানিকভাবে চীন একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। প্রশাসনিকভাবে মূল ভূখণ্ড চীন ২২টি প্রদেশ, ৫টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ৪টি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত পৌরসভায় বিভক্ত। প্রাদেশিক সরকারগুলোর নিজস্ব আইনসভা থাকলেও তাদের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন সীমিত। তবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলো প্রদেশগুলোর চেয়ে বেশি ক্ষমতা ভোগ করে, যেমন তারা অতিরিক্ত সরকারি ভাষা বা ছুটির দিন ঘোষণা করতে পারে। সরাসরি নিয়ন্ত্রিত পৌরসভাগুলো কোনো প্রদেশের অংশ নয়, বরং এগুলো সরাসরি বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ। প্রাদেশিক স্তরের নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী অঞ্চল, কাউন্টি এবং টাউনশিপের মতো প্রশাসনিক স্তর রয়েছে।
বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (SAR) হিসেবে হংকং এবং ম্যাকাও নীতিগতভাবে নিজেদের শাসনব্যবস্থা নিজেরাই পরিচালনা করে; শুধুমাত্র পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে। যদিও বাস্তবে তাদের এই স্বায়ত্তশাসন সীমিত। হংকংয়ে একটি সক্রিয় স্বাধীনতা আন্দোলন থাকলেও ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির পর তা মূলত চাপা পড়ে গেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ মনে করে। কিন্তু তাইওয়ানের সরকার (চীন প্রজাতন্ত্র) ১৯৪৯ সাল থেকেই মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কাগজে-কলমে উভয় সরকারই নিজেদের সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার বলে দাবি করে। তাইওয়ানে স্বাধীনতার পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে, কিন্তু চীন সরকার বারবার হুমকি দিয়েছে যে দ্বীপটি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে সামরিক হামলা চালানো হবে। এ বিষয়ে আরও জানতে চীনা প্রদেশ এবং অঞ্চল দেখুন।
মানুষ ও রীতিনীতি
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনের সংখ্যালঘু সংস্কৃতি
১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে চীন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষের আবাসস্থল। এটি এমন এক বৈচিত্র্যময় দেশ, যেখানে অঞ্চলভেদে সংস্কৃতি, ভাষা, রীতিনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায় এবং প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে।
চীনের অর্থনৈতিক চিত্রটিও বেশ বৈচিত্র্যময়। একদিকে বেইজিং, গুয়াংজু ও সাংহাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলো আধুনিক ও সম্পদশালী। অন্যদিকে, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও গ্রামে বাস করে, যদিও চীনের মাত্র ১০ শতাংশ জমি চাষযোগ্য। গ্রামের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা এখনও কায়িক শ্রমে বা পশুর সাহায্যে চাষাবাদ করেন এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন কৃষক কাজের খোঁজে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। চীনে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ২০১৬ সালের শেষেও প্রায় ৪৩ মিলিয়ন মানুষ সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত, যাদের বার্ষিক আয় ছিল ¥২,৩০০ (প্রায় US$৩৩৪)। এর বিপরীতে, ধনীরা বিপুল হারে জমিজমা ও অন্যান্য সম্পত্তি কিনছে। সাধারণত, দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলো বেশি সম্পদশালী, আর অভ্যন্তরীণ, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকাগুলো তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
চীনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি হান চীনারা হলেও তারা সাংস্কৃতিকভাবে এক নয়; তারা এমন সব ভিন্ন ভিন্ন উপভাষা ও ভাষায় কথা বলে যা পরস্পরের কাছে বোধগম্য নয়। অনেক প্রথা ও দেব-দেবী শুধু নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল বা গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চান্দ্র নববর্ষ বা অন্যান্য জাতীয় উৎসব উদযাপনের রীতিও অঞ্চলভেদে ব্যাপকভাবে পাল্টে যায়। বিয়ে, জন্মদিন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো সামাজিক অনুষ্ঠানের রীতিতেও অনেক পার্থক্য দেখা যায়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ঐতিহ্যবাহী চীনা ধর্মের অস্তিত্ব প্রায় মুছে গিয়েছিল। যদিও তার কিছু রেশ এখনও টিকে আছে, তবে বর্তমান চীনের শহুরে সমাজ মূলত ধর্মনিরপেক্ষ, যেখানে ধর্ম দৈনন্দিন জীবনের এক অন্তঃস্রোত মাত্র। সম্প্রতি একবিংশ শতাব্দীতে তরুণ মধ্যবিত্ত চীনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
দেশের বাকি ১০ শতাংশ মানুষ ৫৫টি স্বীকৃত সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে বৃহত্তম হলো ঝুয়াং, মাঞ্চু, হুই এবং মিয়াও (মং), যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা রয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে কোরিয়ান, তিব্বতি, মঙ্গোল, উইগুর, কাজাখ ও রাশিয়ানরা অন্যতম। কোরিয়ার বাইরে সবচেয়ে বেশি কোরিয়ান এবং মঙ্গোলিয়ার চেয়েও বেশি মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত মানুষ চীনেই বাস করে। অনেক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হান সংস্কৃতির সাথে মিশে গিয়ে নিজেদের ভাষা ও প্রথা হারিয়েছে। তবে তিব্বতি ও উইগুররা তাদের সংস্কৃতি ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ রক্ষণশীল। কিছু এলাকায় মঙ্গোল, কাজাখ, কির্গিজ ও তিব্বতিদের মতো জনগোষ্ঠী এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী যাযাবর জীবনযাপন ধরে রেখেছে। তবে নতুন প্রজন্ম শিক্ষা ও ভালো চাকরির জন্য শহরে চলে আসায় এই ধারায় পরিবর্তন আসছে। এমনকি যারা এখনও যাযাবর জীবনযাপন করেন, তারাও ঘোড়ার বদলে মোটরসাইকেলের মতো অনেক আধুনিক সুবিধা গ্রহণ করছেন।
শুভ সংখ্যা
[সম্পাদনা]অনেক চীনা মানুষ শব্দের মিল বা ছন্দের ওপর ভিত্তি করে কোনো কিছুকে শুভ বা অশুভ মনে করে। এই কারণেই বেশ কিছু সংখ্যা তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, "ছয়" সংখ্যাটি ব্যবসার জন্য খুব শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ ম্যান্ডারিন ভাষায় এর উচ্চারণ "মসৃণ" বা "স্বচ্ছন্দ" শব্দের মতো, আর ক্যান্টোনিজে এর অর্থ "সৌভাগ্য"। "আট" সংখ্যার উচ্চারণ "সমৃদ্ধি" শব্দের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে, "নয়" সংখ্যাটি একসময় সম্রাটের সাথে যুক্ত ছিল এবং এর উচ্চারণ "দীর্ঘস্থায়ী" শব্দের মতো শোনায়।
অন্যদিকে, "চার" সংখ্যাটিকে চীনারা অশুভ মনে করে এবং এড়িয়ে চলে। এর কারণ হলো, ম্যান্ডারিন, ক্যান্টোনিজসহ বেশিরভাগ চীনা উপভাষায় "চার" এর উচ্চারণ "মৃত্যু" শব্দের উচ্চারণের খুব কাছাকাছি। এই বিশ্বাসের কারণেই অনেক ভবনে চার নম্বর তলা বা চার নম্বর ঘর রাখা হয় না।
জলবায়ু ও ভূখণ্ড
[সম্পাদনা]
চীনের জলবায়ু অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়; দক্ষিণে ক্রান্তীয় আবহাওয়া থেকে উত্তরে প্রায় মেরু অঞ্চলের মতো ঠাণ্ডা। যেমন হাইনান দ্বীপটি প্রায় জামাইকার অক্ষাংশে অবস্থিত, আবার উত্তরের বড় শহর হারবিন মন্ট্রিয়লের অক্ষাংশে পড়ায় সেখানকার জলবায়ুও একই রকম। উত্তর চীনে চারটি ঋতু স্পষ্ট, যেখানে গ্রীষ্মকাল প্রচণ্ড গরম আর শীতকাল হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডার। তুলনায় দক্ষিণ চীন বেশ মনোরম ও আর্দ্র থাকে। তবে দেশের যত উত্তর ও পশ্চিমে যাওয়া যায়, আবহাওয়া ততই শুষ্ক হতে থাকে। পূর্ব চীন ছাড়িয়ে তিব্বতের মালভূমি বা গানসু, অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া ও শিনচিয়াংয়ের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ও মরুভূমিতে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় যে এখানকার ভূখণ্ড কতটা বিশাল ও কঠোর।
কমিউনিস্ট শাসনামলে ইয়াংৎসি নদীর উত্তরের ভবনগুলোতে শীতকালে সরকারিভাবে ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু নদীর দক্ষিণে এই নিয়ম ছিল না। ফলে সাংহাই বা নানজিংয়ের মতো শহরে, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়, সেখানেও ঘর গরম করার ব্যবস্থা থাকত না। এই নিয়ম এখন আর নেই, কিন্তু তার প্রভাব আজও দেখা যায়। উত্তরের ভবনগুলোতে সরকার বাষ্প-চালিত কেন্দ্রীয় হিটিং ব্যবস্থা সরবরাহ করে, কিন্তু দক্ষিণের মানুষকে ব্যক্তিগত বাতানুকূল যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। সাধারণত, একই রকম জলবায়ুতে থাকা সত্ত্বেও চীনারা পশ্চিমাদের চেয়ে কম হিটিং এবং ভবনে কম তাপ নিরোধক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এবং বেশি গরম জামাকাপড় পরে। স্কুল, অ্যাপার্টমেন্ট বা অফিসের ঘরগুলো গরম থাকলেও করিডোর ঠাণ্ডা থাকে। দোতলা কাঁচের জানালার ব্যবহারও খুব কম। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা ক্লাসের ভেতরেই শীতের জ্যাকেট পরে থাকে এবং গরম অন্তর্বাস পরাটা খুবই স্বাভাবিক। বাতানুকূল যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও তা প্রায়শই করিডোরে ব্যবহার করা হয় না এবং অনেক সময় দরজা-জানালা খোলা রেখেই চালানো হয়।
চীনের মধ্য ও দূর পশ্চিমে রয়েছে অসংখ্য পর্বতশ্রেণী, উচ্চ মালভূমি এবং মরুভূমি, আর পূর্বাঞ্চলে মূলত সমভূমি, ব-দ্বীপ এবং পাহাড় দেখা যায়। গুয়াংজু ও হংকং সংলগ্ন পার্ল নদী বদ্বীপ এবং সাংহাইয়ের কাছের ইয়াংৎসি ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলো বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যেমনটা বেইজিং এবং হোয়াংহো নদী সংলগ্ন উত্তর চীনের সমভূমিও। নেপাল সীমান্তে অবস্থিত তিব্বতের মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৫০ মিটার) হলো পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু। আবার, উত্তর-পশ্চিম চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের তুরপান নিম্নভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৪ মিটার নিচে অবস্থিত, যা মৃত সাগরের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্থান।
পরিমাপের একক
[সম্পাদনা]চীনের সরকারি পরিমাপ ব্যবস্থা হলো মেট্রিক, কিন্তু আপনি কথ্য ব্যবহারে কখনও কখনও ঐতিহ্যবাহী চীনা পরিমাপ ব্যবস্থা শুনতে পাবেন। দৈনন্দিন ব্যবহারে আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভরের একক চিন (斤), যা বর্তমানে মূল ভূখণ্ড চীনে ০.৫ কেজির সমান। বেশিরভাগ চীনারা জিজ্ঞাসা করলে তাদের ওজন চিনে বলবে, এবং বাজারে খাবারের দাম প্রায়শই প্রতি চিনে বলা হয়। একটি চিন ঐতিহ্যগতভাবে ১৬ লিয়াংয়ে (两) বিভক্ত ছিল, কিন্তু মূল ভূখণ্ড চীনে এটি এখন ১০ লিয়াং। এই এককগুলির আধুনিক মূল ভূখণ্ড চীনা সংস্করণগুলি তাইওয়ান, হংকং এবং ম্যাকাওয়ের প্রতিরূপগুলির থেকে ভিন্ন। তাই আপনি যদি সেই এলাকাগুলি থেকে আসেন তবে সঠিক রূপান্তরগুলি জেনে নিতে ভুলবেন না।
ছুটির দিন
[সম্পাদনা]|
চন্দ্র নববর্ষের তারিখ
ড্রাগন বছরের শুরু ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:২৫ এ হয়েছিল এবং লুনার নিউ ইয়ার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এ ছিল
জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে, জ্যোতিষচক্রের পরিবর্তন লুনার নিউ ইয়ারের প্রথম দিনে ঘটে না, বরং এটি লি চুন (立春 lì chūn)-এ ঘটে, যা ঐতিহ্যগত চীনা বসন্তের শুরু। |
চীন বছরে দুটি সপ্তাহব্যাপী ছুটি পালন করে, যাকে গোল্ডেন উইক বলা হয়। এই সপ্তাহগুলিতে, চীনা নববর্ষ (জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি) এবং জাতীয় দিবসের (১লা অক্টোবর) আশেপাশে, লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিক বাড়ি ফিরে আসে এবং লক্ষ লক্ষ অন্যান্য চীনারা দেশের মধ্যে ভ্রমণ করে (তবে পরিষেবা খাতের অনেকেই অতিরিক্ত বেতনের জন্য থেকে যায়)। প্রধান ছুটির সময়গুলিতে রাস্তায়, রেলে বা বিমানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। আপনি যদি সেই সময়ে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন তবে আগে থেকেই ভালোভাবে পরিকল্পনা করুন, বিশেষ করে পরিবহন এবং পশ্চিম চীন বা পূর্ব উপকূল থেকে ভ্রমণের জন্য। প্রতিটি পরিবহন মাধ্যমেই প্রচণ্ড ভিড় হয়; টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায় এবং এর জন্য আপনাকে অনেক বেশি খরচ করতে হবে। বেশি দামের কারণে বিমানের টিকিট কিছুটা দেরিতে বিক্রি হয়। চীনা নববর্ষের সময়টি পৃথিবীতে মানুষের বৃহত্তম বার্ষিক স্থানান্তর।

চীনের সাতটি জাতীয় ছুটি রয়েছে:
- নববর্ষ (元旦 ইউয়ানদান) — ১লা জানুয়ারি
- বসন্ত উৎসব (春节 চুন চিয়ে), যা চীনা নববর্ষ নামেও পরিচিত — ১ম চান্দ্র মাসের ১ম দিন, জানুয়ারীর শেষ থেকে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি (২০২২ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি)
- সমাধি পরিষ্কার করার দিন (清明节 ছিংমিং চিয়ে) — বসন্ত বিষুব থেকে ১৫তম দিন, ৪ থেকে ৬ এপ্রিল (২০২২ সালে ৫ই এপ্রিল)। কবরস্থানগুলি লোকে লোকারণ্য থাকে যারা তাদের পূর্বপুরুষদের সমাধি পরিষ্কার করতে এবং বলিদান করতে যায়। কবরস্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তায় খুব যানজট হতে পারে।
- শ্রমিক দিবস (劳动节 লাওদং চিয়ে) — ১লা মে
- ড্রাগন বোট উৎসব (端午节 দুয়ানউ চিয়ে) — ৫ম চান্দ্র মাসের ৫ম দিন, মে মাসের শেষ থেকে জুন (২০২২ সালে ৩রা জুন)। নৌকাবাইচ এবং চালের ডাম্পলিং (粽子 জংজি, আঠালো চালের ভাপানো পুঁটুলি) খাওয়া এই উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী অংশ।
- মধ্য-শরৎ উৎসব (中秋节 ঝংছিউ চিয়ে) — ৮ম চান্দ্র মাসের ১৫তম দিন, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের শুরু (২০২২ সালে ১০ই সেপ্টেম্বর)। এর বিশেষ খাবার মুনকেকের (月饼 ইউয়েবিং) নামে এটিকে "মুনকেক উৎসব"ও বলা হয়। লোকেরা বাইরে মিলিত হয়, টেবিলে খাবার রাখে এবং পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকায়।
- জাতীয় দিবস (国庆节 গুওছিং চিয়ে) — ১লা অক্টোবর
চীনা নববর্ষ এবং জাতীয় দিবসের ছুটি গোল্ডেন উইক নামে পরিচিত, যা বেশ কয়েকদিন ধরে চলে। প্রায় সব কর্মীই চীনা নববর্ষে অন্তত এক সপ্তাহের ছুটি পান, কেউ কেউ দুই বা তিন সপ্তাহও পেয়ে থাকেন। কর্মরত চীনাদের অনেকেই বছরে শুধু এই সময়েই ছুটি পান এবং ভ্রমণে বের হন। ছাত্রছাত্রীরা পায় চার থেকে ছয় সপ্তাহের ছুটি।
চীনা নববর্ষ হলো পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার ঐতিহ্যবাহী সময়, তাই এসময় প্রায় পুরো দেশই স্থবির হয়ে যায়। অনেক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় বন্ধ থাকে।
জুলাই মাসের শুরুতে প্রায় ২০ মিলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বাড়ি ফেরে এবং আগস্টের শেষে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসে। এই সময়গুলোতেও রাস্তাঘাট, ট্রেন এবং বিমান চলাচল খুব ব্যস্ত থাকে।
হান চীনা-অধ্যুষিত অঞ্চলের বাইরে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী উৎসবের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। যেমন, শিনচিয়াং এবং নিংজিয়াতে উভয় ঈদই সরকারি ছুটির দিন। তিব্বতে লোসার বা তিব্বতি নববর্ষে ছুটি থাকে। আবার সংক্রান, যা থাইল্যান্ডের নববর্ষ হিসেবে পশ্চিমে পরিচিত, সেটি শিশুউয়াংবান্না এবং দেহং-এর মতো দাই জাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু অঞ্চলের নিবন্ধগুলো দেখুন।
এখানে কিছু অন্যান্য জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রয়েছে:
- লণ্ঠন উৎসব (元宵节 ইউয়ানশিয়াও চিয়ে বা 上元节 শাংইউয়ান চিয়ে) — ১ম চান্দ্র মাসের ১৫তম দিন, ঐতিহ্যগতভাবে চীনা নববর্ষের শেষ দিন, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের শুরু (২০২২ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি)। কোয়ানজেউর মতো কিছু শহরে, এটি একটি বড় উৎসব যেখানে সারা শহরে জমকালো লণ্ঠন থাকে।
- ডাবল সেভেন্থ ডে (七夕 ছিশি) — ৭ম চান্দ্র মাসের ৭ম দিন, সাধারণত আগস্ট (২০২২ সালে ৪ঠা আগস্ট)। এই রোমান্টিক ছুটিটি ভালবাস দিবসের মতো।
- ডাবল নাইনথ ফেস্টিভ্যাল বা চংইয়াং উৎসব (重阳节 চংইয়াং চিয়ে) — ৯ম চান্দ্র মাসের ৯ম দিন, সাধারণত অক্টোবর (২০২২ সালে ৪ঠা অক্টোবর)
- শীতকালীন অয়নান্ত (冬至 দংঝি) — ২১ থেকে ২৩ ডিসেম্বর (২০২২ সালে ২২শে ডিসেম্বর)
বড় শহরগুলোতে কিছু পশ্চিমা উৎসবেরও আমেজ পাওয়া যায়। বড়দিনের সময় ইংরেজি ও চীনা ভাষায় বিশেষ সঙ্গীত শোনা যায়। দোকানপাট সাজানো হয় এবং সেখানকার কর্মীরা লাল-সাদা এলফ টুপি পরে। চীনা খ্রিস্টানরা সরকারিভাবে অনুমোদিত প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক গির্জাগুলোতে প্রার্থনার আয়োজন করে। ভালোবাসার দিনে অনেক রেস্তোরাঁ বিশেষ খাবারের আয়োজন করে।
লম্বা ছুটির (বিশেষ করে দুটি গোল্ডেন উইক এবং শ্রমিক দিবসের) মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য প্রায়শই লাগোয়া সপ্তাহান্তের কাজের দিন ও ছুটির দিন অদলবদল করা হয়। এর ফলে, বড় ছুটির আগে বা পরে, স্বাভাবিক সময়ে খোলা থাকা জায়গাগুলো বন্ধ থাকতে পারে, বা বন্ধের দিনেও খোলা থাকতে পারে।
সময় অঞ্চল
[সম্পাদনা]ভৌগোলিকভাবে পাঁচটি সময় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও, সমগ্র চীন সরকারিভাবে বেইজিং সময় (ইউটিসি+৮) অনুসরণ করে। তবে, অস্থির প্রদেশ শিনচিয়াংয়ে, যদিও সরকারি সময় বেইজিং সময়, কিছু জাতিগত উইগুর ব্যবহারিকতার জন্য বা বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার চিহ্ন হিসাবে ইউটিসি+৬ সময় অঞ্চল ব্যবহার করে।
পড়ুন
[সম্পাদনা]- জাং চ্যাংয়ের লেখা ওয়াইল্ড সোয়ানস (আইএসবিএন ০০০৭১৭৬১৫৫) - যুদ্ধবাজদের দিন থেকে মাওয়ের যুগের শেষ পর্যন্ত তিন প্রজন্মের একটি জীবনী, যা চীনের জাতীয়তাবাদ এবং কমিউনিজমের অধীনে জীবনকে চিত্রিত করে। এই বইটি চীনে নিষিদ্ধ।
- জোনাথন স্পেন্সের লেখা দ্য সার্চ ফর মডার্ন চায়না - শেষ মিং থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আধুনিক চীনের উপর একটি প্রামাণ্য ইতিহাস বই।
- ফেই জিয়াওতোংয়ের লেখা ফ্রম দ্য সয়েল, গ্রামীণ চীন এবং মানুষের সম্পর্কের উপর কেন্দ্র করে লেখা একটি বই।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]চীন সম্পর্কিত প্রসঙ্গ চীন বিষয়শ্রেণীটি পাওয়া যায়নি |
আলাপচারিতা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা বাক্যাংশ বই

চীনের সরকারি ভাষা হলো স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিন, যা বেইজিং উপভাষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং চীনা ভাষায় পুতোংহুয়া (普通话) বা "সাধারণ ভাষা" নামে পরিচিত। সরকার, গণমাধ্যম এবং সারাদেশে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিন ব্যবহৃত হয়। যদিও ভাষাটি প্রমিত, তবে অঞ্চলভেদে এর উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যম ম্যান্ডারিনে অনুষ্ঠান প্রচার করলেও, অনেক অঞ্চলের নিজস্ব স্থানীয় ভাষায় গণমাধ্যম রয়েছে। এই নির্দেশিকায় ব্যবহৃত সমস্ত পরিভাষা, বানান এবং উচ্চারণ স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিনের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
চীনা ভাষা লেখা হয় চীনা অক্ষর (汉字, হানজি) ব্যবহার করে। বর্ণমালার মতো প্রতিটি ধ্বনির জন্য আলাদা চিহ্ন না থেকে, এখানে প্রতিটি অক্ষরই একটি অর্থপূর্ণ শব্দাংশ বা শব্দকে বোঝায়। প্রথমে দেখতে কঠিন মনে হলেও, এই অক্ষরগুলো তৈরির পেছনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। বেশিরভাগ অক্ষরই একাধিক মূল উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রায়শই তার উচ্চারণ ও অর্থ সম্পর্কে ধারণা দেয়। একই অক্ষর জাপান ও কোরিয়াতেও ব্যবহৃত হয়, যদিও তাদের উচ্চারণ ভিন্ন। ১৯৫০-এর দশকে নিরক্ষরতা দূর করার লক্ষ্যে চীন সরলীকৃত অক্ষর চালু করে, যেমন 龜-এর বদলে 龟। তবে হংকং, ম্যাকাও, তাইওয়ান এবং প্রবাসী চীনারা এখনও ঐতিহ্যবাহী অক্ষরই ব্যবহার করেন। ফলে "ব্যাংক"-এর মতো শব্দ 银行 এবং 銀行—দুইভাবেই লেখা হতে পারে। চীনা অক্ষরের টানা হাতের লেখা বিভিন্ন শৈলীর হতে পারে, কোনোটি হয়তো কিছুটা চেষ্টা করলে বোঝা যায়, আবার কোনোটি একেবারেই দুর্বোধ্য মনে হতে পারে।
ম্যান্ডারিনকে রোমান হরফে লেখার প্রমিত পদ্ধতি হলো পিনয়িন (汉语拼音 হানিউ পিনয়িন)। এটি বেশ যৌক্তিক একটি ব্যবস্থা, যদিও এর কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যেমন কিছু বর্ণের উচ্চারণ ইংরেজি থেকে আলাদা (যেমন q অনেকটা "ch" এবং x অনেকটা "sh"-এর মতো)। ম্যান্ডারিন একটি টোনাল বা সুরপ্রধান ভাষা। অর্থাৎ, অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝানোর জন্য প্রতিটি শব্দাংশকে সঠিক সুরে উচ্চারণ করতে হয়—উচ্চ, ঊর্ধ্বগামী, পতন-ঊর্ধ্বগামী, পতনশীল বা নিরপেক্ষ। পিনয়িনে এই সুরগুলো বিশেষ চিহ্ন (যেমন mā, má, mǎ, mà, ma) দিয়ে বোঝানো হয়। অল্প অনুশীলনেই পিনয়িন ব্যবহার করে ম্যান্ডারিন শব্দের সঠিক উচ্চারণ শেখা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, চীনা ভাষায় একই উচ্চারণের বিভিন্ন অর্থের শব্দ অনেক থাকায়, পিনয়িন শুধু উচ্চারণে সাহায্য করে, কিন্তু লিখিত যোগাযোগের জন্য চীনা অক্ষরই অপরিহার্য।
যদিও সারা চীনে চীনা ভাষা একইভাবে লেখা হয়, কিন্তু কথ্য ভাষার ক্ষেত্রে রয়েছে অসংখ্য উপভাষা, যার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিন কেবল একটি। এই উপভাষাগুলো একে অপরের থেকে এতটাই আলাদা, যেমনটা ইংরেজি ভাষা ডাচ থেকে বা ফরাসি ভাষা ইতালীয় থেকে ভিন্ন; অর্থাৎ এদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও, একটির সাথে আরেকটির অর্থ বোঝা যায় না। ফলে, দুজন ভিন্ন উপভাষার মানুষ একই লেখা পড়তে পারলেও, তাদের উচ্চারণ আলাদা হওয়ায় তারা পরস্পরের সাথে কথা বলতে পারেন না। তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়ার কারণে, বেশিরভাগ মানুষই এখন স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিনে স্বচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন, যদিও অনেকের কথায় স্থানীয় টান লক্ষ করা যায়। কিছু কিছু অঞ্চলে পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্থানীয় উপভাষার চেয়ে ম্যান্ডারিন বলার প্রবণতা বেশি।
স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত উত্তরের উপভাষাগুলোকেও ম্যান্ডারিন হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং চীনের বেশিরভাগ মানুষ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য প্রধান উপভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংহাই ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কথিত উ এবং কুয়াংতুং-এর ইউয়ে, যার অন্তর্গত হলো ক্যান্টোনিজ (কুয়াংতুং, হংকং ও ম্যাকাওতে কথিত)। ফুচিয়েন প্রদেশের মিন গোষ্ঠীর উপভাষাগুলো হলো মিনান (হোক্কিয়েন), ফুচৌ উপভাষা, তেওচিউ এবং হাইনানিজ। দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন অংশে হাক্কা উপভাষা প্রচলিত থাকলেও এর সাথে উত্তরের উপভাষাগুলোর মিল বেশি। ম্যান্ডারিনের মতোই, এই সবকটি ভাষাই সুরপ্রধান বা টোনাল।
বেশিরভাগ চীনা নাগরিক দ্বিভাষিক বা এমনকি ত্রিভাষিকও হন; তাঁরা ম্যান্ডারিনের পাশাপাশি নিজেদের আঞ্চলিক বা স্থানীয় উপভাষায় কথা বলেন। তবে কিছু বয়স্ক বা কম শিক্ষিত মানুষ হয়তো কেবল স্থানীয় উপভাষাটিই জানেন। যদিও চীনের বেশিরভাগ জায়গায় স্ট্যান্ডার্ড ম্যান্ডারিন দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু স্থানীয় উপভাষার দু-একটি কথা বলতে পারলে সেখানকার মানুষ বেশ খুশি হয় এবং এর ফলে দোকানপাট বা রেস্তোরাঁয় আপনি বিশেষ সমাদরও পেতে পারেন।
চীনা উপভাষা ছাড়াও চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা প্রচলিত আছে। যেমন, পশ্চিমে উইগুর, কির্গিজ ও কাজাখ-এর মতো তুর্কীয় ভাষা এবং তিব্বতি ভাষা রয়েছে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মাঞ্চু, মঙ্গোলীয় ও কোরিয়ান ভাষাভাষী মানুষ বাস করে। দক্ষিণেও এমন অনেক সংখ্যালঘু জাতি রয়েছে যাদের নিজস্ব ভাষা আছে। বয়স্ক মানুষজন ছাড়া এই সব অঞ্চলের বেশিরভাগ বাসিন্দাই ম্যান্ডারিন বলতে পারেন। যেসব এলাকায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি, সেখানে স্থানীয় ভাষাকে ম্যান্ডারিনের পাশাপাশি সহ-সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং রাস্তায় দ্বিভাষিক সাইনবোর্ডও দেখা যায়।
চীনের প্রধান সাংকেতিক ভাষা হলো চীনা সাংকেতিক ভাষা (CSL)। সরকার কর্তৃক এর একটি প্রমিত রূপ রয়েছে। তবে সাংহাই ও বেইজিং কেন্দ্রিক দুটি আঞ্চলিক উপভাষাও বধির সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত আছে, যা প্রমিত রূপের সাথে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে CSL হংকং, তাইওয়ান বা মালয়েশিয়ার সাংকেতিক ভাষার মতো নয়। অন্যদিকে, তিব্বতি সাংকেতিক ভাষা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সাংকেতিক ভাষা, যা সরকার সেখানকার আঞ্চলিক সাংকেতিক ভাষার ওপর ভিত্তি করে প্রমিত করেছে।
ইংরেজি
[সম্পাদনা]চীনা ছাত্রছাত্রীরা প্রাথমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ইংরেজি শেখে এবং স্নাতক ডিগ্রি পেতে তাদের একটি ইংরেজি পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। তবে তাদের পড়াশোনার মূল জোর থাকে ব্যাকরণ ও লেখার ওপর; বলা বা শোনার চর্চা তুলনায় অনেক কম হয়। তাই সাধারণ দু-একটি শুভেচ্ছা বাক্য অনেকে বুঝলেও, স্বচ্ছন্দ্যে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে এমন স্থানীয় মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
বিমানবন্দর, হোটেল বা জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কর্মীরা অনেক সময় কাজলাজ গোছের ইংরেজি বলতে পারেন। তবে চীনের পর্যটন শিল্প মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। একারণে বেইজিং, সাংহাই বা শিয়ানের মতো বড় আন্তর্জাতিক শহরগুলোর বাইরে হোটেল বা পর্যটন কেন্দ্রেও ইংরেজি জানা কর্মী নাও পেতে পারেন।
দীর্ঘদিন সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং পশ্চিমা প্রবাসীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোভিড মহামারীর পর চীনে সার্বিকভাবে ইংরেজি জানার হার কমেছে। ভাষার সমস্যা মেটাতে অনেক চীনা নাগরিক অনুবাদক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন। আপনার ক্ষেত্রেও এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে (তবে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে অ্যাপটি চীনে নিষিদ্ধ নয়)।
ইংরেজিতে কথা বলার সময়, সহজ শব্দ ব্যবহার করুন এবং ধীরে কথা বলুন। চীনা ব্যাকরণ ইংরেজির চেয়ে অনেক সহজ, কারণ এতে ক্রিয়াপদ বা সর্বনামের মতো শব্দগুলোর রূপ তেমন বদলায় না। তাই ইংরেজিতে সরাসরি কিছু বলা, যেমন "আমাকে দুটি বিয়ার দিন", চীনাদের পক্ষে বোঝা সহজ। তুলনায় "আমরা কি দয়া করে দুটি বিয়ার পেতে পারি?"-এর মতো ঘুরিয়ে বলা বাক্য বুঝতে তাদের অসুবিধা হতে পারে।
যদিও চীনে, বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে, এখন ইংরেজি সাইনবোর্ড বা খাবারের তালিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়, কিন্তু এগুলোর বেশিরভাগই ভুল ইংরেজিতে লেখা থাকে। এই ধরনের লেখাকে "চিংলিশ" বলা হয়, যা পড়া কঠিন হলেও এর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকায় প্রায়শই অর্থ বোঝা যায়। অনেক সময় চীনা কোনো প্রকাশভঙ্গির হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়, যা অনেকটা শব্দ-ধাঁধার মতো। সামান্য চেষ্টা করলে এর অর্থ হয়তো বোঝা যায়, কিন্তু কখনও কখনও তা এতটাই বিভ্রান্তিকর হয় যে কিছুই বোঝা যায় না।
অনেক জায়গায় ইংলিশ কর্নার বা ইংরেজি কথোপকথনের অনানুষ্ঠানিক আসরের দেখা মিলত, যা ছিল স্থানীয়দের সাথে মেশার একটি চমৎকার উপায়। সাধারণত স্কুল-কলেজে শুক্রবার বিকেলে এবং পার্ক, বইয়ের দোকান বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রবিবারে এই আসর বসত। এখানে হ্যালোইন, থ্যাঙ্কসগিভিং বা বড়দিনের মতো পশ্চিমা উৎসব ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হতো। তবে গত দশকে অনলাইনে ভাষা বিনিময়ের জনপ্রিয়তা বাড়ায় এই আসরগুলো কমে এসেছে এবং ছোট শহরগুলো থেকে প্রায় হারিয়েই গেছে।
অন্যান্য বিদেশী ভাষা
[সম্পাদনা]যদিও ইংরেজির মতো নয়, চীনে আরও কিছু বিদেশী ভাষা কার্যকর। কোরিয়ান দেশের উত্তর-পূর্বে জাতিগত কোরিয়ান সংখ্যালঘুদের দ্বারা একটি মাতৃভাষা হিসাবে কথিত হয়, যখন মঙ্গোলীয় অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়ায় জাতিগত মঙ্গোল সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা। জাপানি আন্তর্জাতিক ব্যবসায় কিছু পেশাদারদের দ্বারা কথিত হয়। জার্মান ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাদারদের জন্য একটি জনপ্রিয় ভাষা। রাশিয়ান প্রায়শই রাশিয়ান সীমান্তে অবস্থিত শহরগুলির বাসিন্দাদের দ্বারা কথিত হয়। আরবি সাধারণত মুসলিম ধর্মীয় নেতারা অধ্যয়ন করেন।
প্রবেশ
[সম্পাদনা]অভিবাসন
[সম্পাদনা]- মূল নিবন্ধ: চীনের ভিসা আবশ্যকতা
চীনের ভিসা আবশ্যকতা অত্যন্ত জটিল। আপনি যদি ভিসামুক্ত প্রবেশ বা ভিসা ছাড়া ট্রানজিটের পরিকল্পনা করেন, তবে ভালোভাবে পড়ে নিন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনি সমস্ত শর্ত পূরণ করছেন, অন্যথায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আপনি যদি ভিসার জন্য আবেদন করেন, তবে ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার সমস্ত নথি ঠিকঠাক আছে, অন্যথায় এমনকি একটি প্রয়োজনীয় নথি অনুপস্থিত থাকলেও আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে, চীন সরকার দ্রুত তার ভিসা আবশ্যকতা উদার করছে। হংকং এবং ম্যাকাওয়ের নিজস্ব ভিসা আবশ্যকতা রয়েছে; বিস্তারিত জানতে সেই নিবন্ধগুলি দেখুন।
মূল ভূখণ্ড চীনে প্রবেশ বা প্রস্থানের সময়, হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ানের নাগরিকদের অভিবাসনে বিদেশী লেন নয়, চীনা নাগরিকদের লেন ব্যবহার করতে হয়।
চীনে আসা বিদেশীদের স্থানীয় পুলিশের কাছে তাদের থাকার ঠিকানা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। সাধারণত হোটেল কর্তৃপক্ষই অতিথিদের হয়ে এই কাজটি করে দেয়। তবে হোটেলের বাইরে অন্য কোথাও, যেমন বন্ধুদের সাথে থাকলে, এই দায়িত্ব আপনাকে নিজেকেই নিতে হতে পারে। চীনে প্রবেশের পর প্রথমবার যেখানে থাকবেন, সেখানে অবশ্যই নিবন্ধন করিয়ে নেবেন, কারণ এই নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতে চীনা ভিসা পেতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুল্ক
[সম্পাদনা]১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পর্যটকরা শুল্ক ছাড়াই ১.৫ লিটার পর্যন্ত মদ এবং ৪০০টি সিগারেট, ২০টি সিগার বা ৫০০ গ্রাম তামাক আনতে পারেন। তবে হংকং বা ম্যাকাও হয়ে মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে এই অনুমোদিত পরিমাণ অর্ধেক হয়ে যায়।
অন্যান্য জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে, বিদেশীরা ¥২,০০০ এবং চীনা নাগরিকরা ¥৫,০০০ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পান। তবে চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি অনুযায়ী, হংকং বা ম্যাকাও থেকে ফেরা চীনা নাগরিকদের জন্য এই ছাড়ের পরিমাণ ¥১৫,০০০ (তবে হেংছিন বন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে নয়)। এর সাথে শুল্কমুক্ত দোকান থেকে কেনা জিনিসপত্রের জন্য আরও অতিরিক্ত ¥৩,০০০ ছাড় পাওয়া যায়।
আপনি যদি ¥২০,০০০-এর বেশি চীনা মুদ্রা বা US$৫,০০০-এর বেশি মূল্যের বিদেশি মুদ্রা আনা-নেওয়া করেন, তবে তা অবশ্যই শুল্ক বিভাগে জানাতে হবে। যাঁরা চীনে ব্যবসা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দেশ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার আগে কিছু কাগজপত্র জমা দিয়ে প্রমাণ করতে হতে পারে যে অর্থটি বৈধভাবে অর্জিত এবং সমস্ত কর পরিশোধ করা হয়েছে।
বিমানে
[সম্পাদনা]|
হংকং এবং ম্যাকাও হয়ে ট্রানজিট
আপনি যদি হংকং বা ম্যাকাও বিমানবন্দরে নামেন, তাহলে সেখানে এমন ফেরি পরিষেবা রয়েছে যা আপনাকে সরাসরি চীনের অন্যান্য গন্তব্যে, যেমন শেনচেনের শেকৌ বা বাও'আন বিমানবন্দর, ম্যাকাও বিমানবন্দর বা ঝুহাই পৌঁছে দিতে পারে। এর জন্য আপনাকে হংকং বা ম্যাকাওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে "প্রবেশ" করতে হবে না। বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ বাস যাত্রাবিরতিরত যাত্রীদের ফেরি ঘাটে নিয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের অভিবাসন প্রক্রিয়াটি বিমানবন্দরে না হয়ে সরাসরি ফেরি যেখানে পৌঁছায়, সেই গন্তব্যে সম্পন্ন হয়। তবে প্রতিটি ফেরির সময়সূচি আলাদা হওয়ায়, গভীর রাতে পৌঁছালে অন্য বাস বা ফেরি ধরার জন্য আপনাকে হংকং বা ম্যাকাওয়ে প্রবেশ করতে হতে পারে। যেমন, হংকং বিমানবন্দর থেকে কাউলুনের হংকং চায়না ফেরি ঘাট হয়ে ঝুহাই যেতে হলে, আপনাকে হংকং-এর অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। হংকং-এর ফেরি পরিষেবা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। |
মূল ভূখণ্ড চীনে প্রবেশের প্রধান আন্তর্জাতিক পথগুলি হলো বেইজিং (PEK আইএটিএ ও PKX আইএটিএ, সমস্ত বিমানবন্দরের জন্য BJS আইএটিএ), সাংহাই (PVG আইএটিএ) এবং গুয়াংজু (CAN আইএটিএ)। চীনে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের বিস্ফোরক বৃদ্ধি দেশে আন্তর্জাতিক পথের সংখ্যা বাড়িয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলিও প্রায়শই তাদের শহরগুলিতে পরিষেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক বিমান রুটগুলিতে ভর্তুকি দেয়, তাই এই পরিষেবাগুলি অনেক সস্তা হতে পারে। বিশেষ করে, চেংদু (CTU আইএটিএ ও TFU আইএটিএ), ছুংছিং (CKG আইএটিএ), কুনমিং (KMG আইএটিএ) এবং উরুমছি (URC আইএটিএ) প্রধান চীনা হাব হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে, যেখান থেকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ওশেনিয়া এবং মধ্য এশিয়ার গন্তব্যে বিমান চলাচল করে।
চীনা নববর্ষ, চীনের গোল্ডেন উইক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির আশেপাশে বিমানের টিকিট ব্যয়বহুল বা পাওয়া কঠিন হয়।
আপনি যদি এমন কোনো শহরে বাস করেন যেখানে একটি বড় আকারের বিদেশী চীনা সম্প্রদায় রয়েছে, তবে সেই সম্প্রদায়ের কারো সাথে সস্তা বিমানের খোঁজ করুন বা চীনাদের দ্বারা পরিচালিত ভ্রমণ সংস্থাগুলিতে যান। কখনও কখনও শুধুমাত্র চীনা সংবাদপত্র বা ভ্রমণ সংস্থাগুলিতে বিজ্ঞাপিত বিমানের খরচ ইংরেজিতে পোস্ট করা ভাড়ার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়। তবে আপনি যদি গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তবে আপনি একই ছাড়যুক্ত মূল্য পেতে পারেন।
২০২০ সাল থেকে ভারত সরকার চীন ও ভারতের মধ্যে সমস্ত সরাসরি বিমান পরিষেবা বন্ধ রেখেছে এবং মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত এই পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আপাতত ভ্রমণকারীদের হংকং অথবা ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো শহরে নেমে সেখান থেকে অন্য বিমানে যেতে হচ্ছে।
বিমান সংস্থা
[সম্পাদনা]তিনটি বৃহত্তম, এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা হলো পতাকাবাহী এয়ার চায়না[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (中国国际航空), এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস (中国东方航空) ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস (中国南方航空), যেগুলির ভিত্তি যথাক্রমে বেইজিং, সাংহাই এবং গুয়াংজুতে। অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে জিয়ামেনএয়ার (厦门航空), হাইনান এয়ারলাইনস (海南航空), শেনচেন এয়ারলাইনস (深圳航空) এবং সিছুয়ান এয়ারলাইনস (四川航空)। চীনা বিমান চলাচল নিয়ম অনুযায়ী বিমান চলার সময় ফ্লাইট মোডে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, এবং কিছু বড় বিমানে এমনকি ওয়াইফাইও থাকতে পারে।
হংকং-ভিত্তিক ক্যাথি প্যাসিফিক অনেক আন্তর্জাতিক গন্তব্য থেকে মূল ভূখণ্ডের সমস্ত প্রধান শহরে সংযোগ করতে পারে। চীনে ভালো সংযোগসহ অন্যান্য এশীয় বাহকদের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, জাপান-ভিত্তিক জাপান এয়ারলাইনস এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ, দক্ষিণ কোরিয়া-ভিত্তিক কোরিয়ান এয়ার এবং এশিয়ানা এয়ারলাইনস, এবং তাইওয়ান-ভিত্তিক চায়না এয়ারলাইনস এবং ইভা এয়ার। বিস্তারিত জানতে নির্দিষ্ট শহরের নিবন্ধগুলি দেখুন। চীনে পৌঁছনো এবং এর মধ্যে ঘোরার জন্য কিছু অতিরিক্ত বিকল্পের জন্য এশিয়ায় ছাড়ের বিমান সংস্থা দেখুন।
ট্রেনে
[সম্পাদনা]একসময় পশ্চিম ইউরোপ থেকে ট্রেনে করে চীনে ভ্রমণ করা সম্ভব ছিল, কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এটি আর সম্ভব নয়। কোভিড-১৯-এর সময় স্থগিত হওয়া বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পরিষেবাও এখনও পুনরায় শুরু হয়নি।
- মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া — উলানবাটর এবং এরেনহোটের মধ্যে দৈনিক ট্রেন রয়েছে (৬৮১-৬৮৬), হোহহোট সপ্তাহে দুবার (৪৬৫২/৩/৪/১, মঙ্গোলিয়ায় ০৩৩/৪ বলা হয়), এবং বেইজিং সপ্তাহে একবার (কে২৩/৪, বা ০২৩/৪)। কিন্তু রাশিয়ার দিকে, শুধুমাত্র সুইফেনহে এবং গ্রোদেকোভো, পোগ্রানিচনির মধ্যে ৪০১/২ শাটল ট্রেনটি প্রতিদিন চালু আছে। চীনের দিকে যাওয়া অন্যান্য সমস্ত ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে ট্রেন পরবর্তী সূচনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে, যা যুদ্ধ শেষ হওয়ার উপর নির্ভরশীল।
- কাজাখস্তান ও মধ্য এশিয়া — শিয়েন এবং আলমাটির মধ্যে একটি পর্যটন ট্রেন, ওয়াই২৯/৩০, ২০২৫ সালে চলতে শুরু করেছে, যা খোরগোসে ইন্টারচেঞ্জ করে। ০৫৪/৩ ট্রেনটি আস্তানা থেকে দোস্তিক পর্যন্ত চলে; যাত্রীদের তারপর উরুমছিতে যাওয়ার জন্য আলাশানকোউতে ৫৮০১-৬ ট্রেনে সীমান্ত পারাপার করতে হয়।
- লাওস — কুনমিং এবং ভিয়েনতিয়েনের মধ্যে দুটি দৈনিক ট্রেন চলে, ডি৮৭/৮৮ (কুনমিং দক্ষিণ স্টেশন থেকে) এবং ডি৮৩-৮৬ (কুনমিং স্টেশন থেকে), যেগুলি লাওসের ভ্যাং ভিয়েং, লুয়াং প্রাবাং, মুয়াং সাই, এবং বোতেনে এবং চীনের মোহন, শিশুউয়াংবান্না, পু'র এবং ইউশিতে থামে।
- ভিয়েতনাম — গিয়া লাম, হ্যানয় থেকে কুয়াংশির নানিংে ট্রেন টি৮৭০১/৮৭০২ (ভিয়েতনামে এমআর১/২), যেখান থেকে আপনি বেইজিংয়ের জন্য জেড৫/৬ ট্রেনে স্থানান্তর করতে পারেন। বিকল্পভাবে, আপনি হ্যানয় থেকে লাও কাইতে ট্রেন নিতে পারেন, হেঁটে বা ট্যাক্সি করে সীমান্ত পেরিয়ে হেকৌতে যেতে পারেন, এবং হেকৌ উত্তর থেকে কুনমিংয়ে ট্রেন ধরতে পারেন।
- হংকং — ঘন ঘন দৈনিক উচ্চ-গতির রেল পরিষেবা হংকংয়ের পশ্চিম কাউলুন স্টেশনকে শেনচেন এবং গুয়াংজুর সাথে সংযুক্ত করে, যেগুলির দূরপাল্লার পরিষেবাগুলি সাংহাই, বেইজিং, চেংদু, ছুংছিং, কুনমিং এবং শিয়েনের মতো চীনের প্রধান শহরগুলিতে চলতে থাকে। প্রতি শুক্র থেকে সোমবার পর্যন্ত সাংহাই এবং বেইজিংয়ে রাতের বেলায় উচ্চ-গতির স্লিপার ট্রেনও রয়েছে। হংকং এবং মূল ভূখণ্ড চীনের অভিবাসন পরীক্ষা উভয়ই পশ্চিম কাউলুন স্টেশনে করা হয়, তাই সেগুলির জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখতে ভুলবেন না। বিকল্পভাবে, আপনি এমটিআর ইস্ট রেল নিয়ে লো উ বা লোক মা চৌতে যেতে পারেন এবং পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার হতে পারেন। উভয় সীমান্ত পারাপারই মূল ভূখণ্ড চীনের দিকে শেনচেন মেট্রোর স্টেশনগুলির সাথে সংযুক্ত; লো উর ক্ষেত্রে লুওহু, এবং লোক মা চৌর ক্ষেত্রে ফুতিয়ান চেকপয়েন্ট। শেনচেন রেলওয়ে স্টেশন লো উ/লুওহু সীমান্ত পারাপারের সংলগ্ন, যা দূরপাল্লার ট্রেনে স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক।
- ম্যাকাও — ম্যাকাও রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত নয়, কিন্তু ঝুহাই রেলওয়ে স্টেশন ম্যাকাওয়ের পোর্তাস দো সেরকো থেকে গংবেই সীমান্ত পারাপারের সংলগ্ন। ম্যাকাও এলআরটির হেংছিন লাইন ঝুহাইয়ের হেংছিন পোর্টে পরিষেবা দেয়, যা হেংছিন রেলওয়ে স্টেশনের সাথে সংযুক্ত, যেখান থেকে আপনি ঝুহাই স্টেশনের দিকে যাওয়া শহরতলির ট্রেনে স্থানান্তর করতে পারেন। ম্যাকাও এবং মূল ভূখণ্ড অভিবাসন ও শুল্ক পরীক্ষা উভয়ই হেংছিন পোর্টে করা হয়।
সড়কপথে
[সম্পাদনা]চীনের সাথে ১৪টি দেশের স্থল সীমান্ত রয়েছে। মূল ভূখণ্ড চীনের সাথে হংকং এবং ম্যাকাওয়ের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলগুলিরও স্থল সীমান্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্তের মতোই। পশ্চিম চীনের বেশিরভাগ সীমান্ত পারাপার প্রত্যন্ত পার্বত্য গিরিপথে অবস্থিত। এগুলিতে পৌঁছনো এবং পার হওয়া কঠিন হলেও, যারা চেষ্টা করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য প্রায়শই শ্বাসরুদ্ধকর মনোরম দৃশ্য অপেক্ষা করে। দক্ষিণ থেকে পশ্চিম হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে:
হংকং
[সম্পাদনা]হংকং থেকে মূল ভূখণ্ড চীনে সড়কপথে সীমান্ত পারাপারের বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য হংকং নিবন্ধটি দেখুন। সাইকেলে করে মূল ভূখণ্ড চীনে প্রবেশ শুধুমাত্র হিউং ইউয়েন ওয়াই/লিয়ান্তাং সীমান্ত পারাপার দিয়ে অনুমোদিত।
আপনি যদি শেনচেনের বাইরে ভ্রমণের পরিকল্পনা না করেন তবে লোক মা চৌ/হুয়াংগাং পারাপারে কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য আগমনী ভিসা পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য সমস্ত পারাপারের জন্য আগে থেকেই ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে।
ম্যাকাও
[সম্পাদনা]দুটি সীমান্ত পারাপার হলো পোর্তাস দো সেরকো/গংবেই এবং লোটাস ব্রিজ। আপনি যদি ঝুহাইয়ের বাইরে ভ্রমণ না করেন তবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা পোর্তাস দো সেরকোতে আগমনী ভিসা পেতে পারেন।
ভিয়েতনাম
[সম্পাদনা]
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর জন্য, চীনে যেকোনো স্থল যাত্রার উৎস হলো হ্যানয়। এখানে ৮টি প্রধান পারাপার রয়েছে—চারটি কুয়াংশিতে এবং বাকিগুলি ইউন্নানে:
লাওস
[সম্পাদনা]লুয়াং নামথা থেকে আপনি মেংলায় যাওয়ার বাস পেতে পারেন। আপনাকে আগে থেকেই একটি চীনা ভিসা নিতে হবে কারণ আগমনের পর ভিসা পাওয়ার কোনো উপায় নেই (২৪০-ঘণ্টার TWOV শুধুমাত্র রেলপথে প্রবেশের জন্য বৈধ)। ২০১১ সাল থেকে, লানতুই/মেংকাং চেকপয়েন্টও একইভাবে তৃতীয় দেশের জন্য খোলা হয়েছে।
এছাড়াও, লুয়াং প্রাবাং থেকে কুনমিং পর্যন্ত একটি সরাসরি চীনা স্লিপার-বাস সংযোগ রয়েছে (প্রায় ৩২ ঘণ্টা)। লুয়াং নামথা থেকে আসা মিনিবাস এবং স্লিপার বাস যখন সীমান্তে মিলিত হয় তখন আপনি এই বাসে উঠতে পারেন। তবে ¥২০০-এর বেশি দেবেন না।
মায়ানমার (বার্মা)
[সম্পাদনা]মায়ানমার থেকে চীনে মুসে/রুইলি, পাং সেং/ওয়ান্ডিং, কানপিতেতি/হৌকিয়াও, চিনশুইহাও/মেংদিং, মংলা/দালুও এবং পাং খাম/মেংলিয়ান সীমান্ত পথগুলো দিয়ে প্রবেশ করা যায়। তবে এর জন্য মায়ানমার কর্তৃপক্ষের (অথবা পাং খামের ক্ষেত্রে, ওয়া কর্তৃপক্ষের) কাছ থেকে আগেভাগেই অনুমতি নিতে হয়। সাধারণত এই অনুমতি শুধু সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দা অথবা কোনো ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে ঘুরতে আসা পর্যটকদেরই দেওয়া হয়।
ভারত
[সম্পাদনা]ভারতের সিকিম ও দক্ষিণ তিব্বতের মধ্যে অবস্থিত নাথু লা পাসটি বর্তমানে পর্যটকদের জন্য খোলা নেই এবং এই পথে যাতায়াতের জন্য উভয় দেশ থেকেই বিশেষ অনুমতি লাগে। তবে ২০০৬ সাল থেকে এটি আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই আশা করা যায় ভবিষ্যতেও পর্যটকদের জন্য এটি খুলে দেওয়া হতে পারে।
গুঞ্জি/পুলান সীমান্ত পথটি আরেকটি বিকল্প, তবে এটি শুধু বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী বা সীমান্ত ব্যবসায়ীদের জন্যই খোলা।
নেপাল
[সম্পাদনা]নেপাল থেকে তিব্বতে যাওয়ার রাস্তাটি মাউন্ট এভারেস্টের কাছ দিয়ে এবং আশ্চর্যজনক পার্বত্য দৃশ্যের মধ্য দিয়ে গেছে। নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশ শুধুমাত্র প্যাকেজ ট্যুরের পর্যটকদের জন্য সম্ভব। তবে তিব্বত থেকে নেপালে ভ্রমণ করা সম্ভব। গাইডেড ট্যুরে, ভ্রমণকারীরা কোডারি/ড্রাম বা ইয়ালি/বুরাংয়ে নামতে পারেন।
পাকিস্তান
[সম্পাদনা]উত্তর পাকিস্তান থেকে পশ্চিম চীনে যাওয়ার কারাকোরাম মহাসড়ক বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় রাস্তা। এটি শীতকালে কয়েক মাসের জন্য পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। কম সংখ্যক স্থল ভ্রমণকারী এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে সীমান্ত পার হওয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয়। প্রাথমিক শুল্ক পরীক্ষা ঘটনাস্থলেই করা হয়, যখন অভিবাসন এবং শুল্ক পরীক্ষা শহরতলির তাশকুরগানে করা হয়। কুনারজাব পাস পেরিয়ে কাশগর (চীন) এবং সুস্তের (পাকিস্তান) মধ্যে একটি বাস চলাচল করে।
তাজিকিস্তান
[সম্পাদনা]চীন এবং তাজিকিস্তানের মধ্যে কুলমা/কারাসুতে একটিমাত্র সীমান্ত পারাপার রয়েছে, যা মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহের কার্যদিবসে খোলা থাকে। শিনচিয়াংয়ের কাশগর এবং তাজিকিস্তানের খোরোগের মধ্যে সীমান্ত জুড়ে একটি বাস চলাচল করে। এই পারাপার চেষ্টা করার আগে আপনার চীনা এবং তাজিক উভয় ভিসা ঠিকঠাক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
কিরগিজস্তান
[সম্পাদনা]কিরগিজস্তান থেকে তোরুগার্ত পাস পার হওয়া সম্ভব, কিন্তু রাস্তাটি বন্ধুর এবং পাসটি প্রতি বছর শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) খোলা থাকে। কাশগর থেকে সম্পূর্ণ পারাপারের ব্যবস্থা করা সম্ভব, তবে নিশ্চিত করুন যে আপনার সমস্ত ভিসা ঠিকঠাক আছে।
বিকল্পভাবে, যদিও কম মনোরম, তোরুগার্তের দক্ষিণে ইরকেশতামে একটি মসৃণ পারাপার রয়েছে।
কাজাখস্তান
[সম্পাদনা]আলমাটির সবচেয়ে কাছের সীমান্ত পারাপার হলো খোরগোসে। আলমাটি থেকে উরুমছি এবং ইনিংে প্রায় প্রতিদিন বাস চলে। আগমনী ভিসা পাওয়া যায় না তাই এই পারাপার চেষ্টা করার আগে আপনার চীনা এবং কাজাখ উভয় ভিসা ঠিকঠাক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। আরেকটি প্রধান পারাপার হলো আলাশানকোউতে (কাজাখ দিকে দোস্তিক)। এছাড়াও তুষার পর্বতের আগ্রহের জন্য মায়কাপশাগাই/জেমিনাই, বাখতি এবং খোলঝাত/দুলাতা রয়েছে।
মঙ্গোলিয়া
[সম্পাদনা]মঙ্গোলিয়া এবং চীনের মধ্যে বিদেশীদের জন্য চারটি সীমান্ত পারাপার খোলা রয়েছে:
- সোনবুইর/আরশান (অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া)
- জামিন উদ/এরেনহোট (অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া)
- বিচিগ/ঝুয়েন গাদাবুকি বা জুন খাতাবচ (শিলিংগোল, অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া)
- বুলগান/তাকেশিকেন (শিনচিয়াং)
অন্যান্য পারাপার যা নাগরিকদের জন্য খোলা রয়েছে সেগুলি হলো: খাবিরগা/আরিহাশাতে, বায়িনখুশু/এবুদুগ, গ্যাসোনসুখাইতু/গানকিমোদু, সিবকুরুন/সেকে, খানজি/মান্দুলা অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়ায়, অথবা বুর্গাস্তাই/লাওমিয়াও, বুলগান তাগ/উলাসিতাই, সাগসাই/হংশানজুই শিনচিয়াংয়ে।
রাশিয়া
[সম্পাদনা]সবচেয়ে জনপ্রিয় সীমান্ত পারাপার হলো মানঝৌলিতে অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়ায়, যা জাবাইকালস্ককে সংযুক্ত করে, দালিয়ান এবং নোভোসিবির্স্কের মধ্যে বাসগুলি এখান দিয়ে পার হয়। আরও পূর্বে, সুইফেনহে (পোগ্রানিচনি), হেইহে (ব্লাগোভেশচেনস্কে), এবং হুনছুনতে (ক্রাসকিনো) স্থল সীমান্ত পারাপার রয়েছে। পারাপার চেষ্টা করার আগে আপনার রাশিয়ান এবং চীনা উভয় ভিসা ঠিকঠাক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
উত্তর কোরিয়া
[সম্পাদনা]দানদোং/সিনুইজু সীমান্ত পারাপার দিয়ে উত্তর কোরিয়া থেকে স্থলপথে পার হওয়া বেশ সহজ যদি আপনি এটি আপনার উত্তর কোরিয়ান সফরের অংশ হিসাবে ব্যবস্থা করে থাকেন। ইয়ালু এবং তুমেন নদীর ধারে অন্যান্য সীমান্ত পারাপারগুলি পর্যটকদের জন্য খোলা নাও থাকতে পারে। আপনার ট্যুর সংস্থাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই পারাপার চেষ্টা করার আগে আপনার চীনা এবং উত্তর কোরিয়ান ভিসা ঠিকঠাক আছে।
অন্যান্য
[সম্পাদনা]ভ্রমণকারীরা আফগানিস্তান এবং ভুটানের সাথে সীমান্ত পার হতে পারে না।
নৌকায়
[সম্পাদনা]সমুদ্র এবং নদীপথে চীনে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু নৌকা পরিষেবা রয়েছে:
- হংকং এবং ম্যাকাও: হংকং এবং ম্যাকাও থেকে গুয়াংজু, শেনচেন এবং ঝুহাইয়ের মতো পার্ল নদী ব-দ্বীপের বাকি অংশে নিয়মিত ফেরি এবং হোভারক্রাফট পরিষেবা রয়েছে। হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরি পরিষেবাগুলি আগত যাত্রীদের হংকং অভিবাসন এবং শুল্ক পার না করেই সরাসরি মূল ভূখণ্ড চীনে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
- জাপান: জাপানের ওসাকা এবং কোবে থেকে সাংহাইয়ে একটি ফেরি পরিষেবা রয়েছে। পরিষেবাটি ঋতু অনুসারে সপ্তাহে একবার বা দুবার চলে এবং প্রায় ২ দিন সময় লাগে।
- রাশিয়া: হেইহে এবং ব্লাগোভেশচেনস্ক, ফুয়ুয়ান এবং খাবারোভস্কের মধ্যে আমুর নদী জুড়ে ফেরিও রয়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়া: সিউলের কাছে একটি বন্দর ইনছন থেকে সাংহাই এবং তিয়ানজিনে একটি ফেরি পরিষেবা রয়েছে। আরেকটি লাইন ইনছন থেকে ছিংতাও বা ওয়েইহাই পর্যন্ত অথবা ইনছন থেকে দালিয়ান পর্যন্ত চলে।
- তাইওয়ান: কিনমেন থেকে জিয়ামেনে ঘণ্টায় ফেরি চলাচল করে (প্রতিদিন ১৮টি যাত্রা), যাত্রার সময় বন্দর অনুসারে ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা লাগে। কিনমেন এবং কোয়ানজেউয়ের মধ্যে প্রতিদিন ৩টি যাত্রাসহ একটি নিয়মিত ফেরিও রয়েছে। মাৎসু এবং ফুচৌকে সংযোগকারী একটি ফেরি দিনে দুবার চলে, যাত্রার সময় প্রায় ২ ঘণ্টা। তাইওয়ানের প্রধান দ্বীপ থেকে, তাইচুং এবং কেলুং থেকে কোস্কো স্টারে করে সপ্তাহে জিয়ামেন এবং দামাইউ, তাইঝৌতে যাত্রা রয়েছে।
- থাইল্যান্ড: গোল্ডেন পিকক শিপিং কোম্পানি মেকং নদীতে সপ্তাহে তিনবার চিয়াং সায়েন (থাইল্যান্ড) থেকে ইউন্নানের চিংহংয়ে একটি স্পিডবোট চালায়। যাত্রীদের লাওস বা মায়ানমারের জন্য ভিসার প্রয়োজন হয় না, যদিও যাত্রার বেশিরভাগ অংশই এই দেশগুলির সীমান্তবর্তী নদীতে হয়। টিকিটের দাম ¥৬৫০।
- প্রমোদতরী: শরৎকালে, বেশ কিছু ক্রুজ লাইন তাদের জাহাজ আলাস্কা থেকে এশিয়াতে নিয়ে আসে এবং অ্যাঙ্কোরেজ, ভ্যানকুভার বা সিয়াটল থেকে ছেড়ে যাওয়া ভালো সংযোগ সাধারণত পাওয়া যায়।
ঘুরে দেখুন
[সম্পাদনা]|
তিব্বত প্রবেশ অনুমতিপত্র
বিদেশী এবং তাইওয়ানি ভ্রমণকারী যারা তিব্বত ভ্রমণ করতে চান, তাদের ভ্রমণের আগে একটি তিব্বত প্রবেশ অনুমতিপত্র নিতে হবে। এবং এগুলি সাধারণত শুধুমাত্র গাইডেড ট্যুরের জন্য জারি করা হয়। গাইডেড ট্যুরে যোগদান না করে তিব্বতি সংস্কৃতি অভিজ্ঞতা করার একমাত্র উপায় হলো ছিংহাই, সিছুয়ান, ইউন্নান এবং গানসুর তিব্বতি অঞ্চলগুলি অন্বেষণ করা। |
গুগল ম্যাপস চীনে কাজ করে না এবং ভিপিএনের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা হলেও এর কভারেজ এবং ডেটার মান প্রায়শই অসম্পূর্ণ থাকে। তাছাড়া, চীন নিরাপত্তার কারণে নিজস্ব স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা ব্যবহার করে, যা কখনও কখনও বিদেশী মানচিত্র অ্যাপ ব্যবহার করার সময় সমস্যা সৃষ্টি করে। চীনারা নিজেরা সবচেয়ে বেশি যে দিকনির্দেশনা অ্যাপটি ব্যবহার করে তা হলো বাইদু ম্যাপস। যদিও এটি শুধুমাত্র চীনা ভাষায় উপলব্ধ। এম্যাপ কার্যত সমগ্র চীনের জন্য সিটিম্যাপারের মতো এবং এটি অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় ডিভাইসেই ইংরেজিতে উপলব্ধ। এটি এমনকি আপাতদৃষ্টিতে গ্রামীণ স্থানেও সমস্ত গণপরিবহন এবং প্রস্তাবিত গাড়ির রুট তালিকাভুক্ত করে। যদিও কখনও কখনও নির্দিষ্ট কিছু রুট শুধুমাত্র বাইদু ম্যাপে পাওয়া যায়, তাই উভয়ই রাখাটা ভালো। অ্যাপল ম্যাপস এম্যাপের ডেটা ব্যবহার করে এবং এটি নির্ভরযোগ্য, যদিও অন্যগুলিতে থাকা কিছু বৈশিষ্ট্য এর মধ্যে নেই। বিকল্প পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ওপেনস্ট্রিটম্যাপ ডেটার উপর ভিত্তি করে তৈরি অন্যান্য মানচিত্র অ্যাপ বা একটি স্থানীয় জিপিএস ভাড়া করা। আরও তথ্য জিপিএস নেভিগেশনে রয়েছে।
লম্বা রাস্তার নামের সাথে প্রায়শই রাস্তার অংশ নির্দেশ করার জন্য একটি মধ্যম শব্দ দেওয়া হয়: উত্তর (北 বেই), দক্ষিণ (南 নান), পূর্ব (东 দং), পশ্চিম (西 শি), বা মধ্য (中 ঝং)। উদাহরণস্বরূপ, হোয়াইট হর্স স্ট্রিট বা বাইমা লুকে (白马路) বাইমা বেইলু (白马北路 "হোয়াইট হর্স উত্তর স্ট্রিট"), বাইমা নানলু (白马南路 "হোয়াইট হর্স দক্ষিণ স্ট্রিট"), এবং বাইমা ঝংলুতে (白马中路 "হোয়াইট হর্স মধ্য স্ট্রিট") বিভক্ত করা হতে পারে। তবে, কিছু শহরে, এই নামগুলি একটি রাস্তার অংশ নির্দেশ করে না। জিয়ামেনে, হুবিন বেই লু এবং হুবিন নান লু (লেকসাইড রোড উত্তর এবং লেকসাইড রোড দক্ষিণ) সমান্তরাল, যা হ্রদের উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে পূর্ব-পশ্চিমে চলে। নানজিংে, ঝংশান লু, ঝংশান বেই লু এবং ঝংশান দং লু তিনটি পৃথক প্রধান রাস্তা।
বিমানে
[সম্পাদনা]
চীন একটি বিশাল দেশ, তাই আপনি যদি শুধুমাত্র পূর্ব উপকূল ভ্রমণের পরিকল্পনা না করেন তবে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের কথা বিবেচনা করুন। পশ্চিম চীনে যাতায়াতের জন্য বিমান ভ্রমণ বিশেষভাবে কার্যকর কারণ সেখানে জনসংখ্যা কম এবং উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্ক আরও সীমিত। বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে তিনটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক বাহক রয়েছে: এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন, এবং চায়না ইস্টার্ন, এবং আঞ্চলিক বাহক যেমন হাইনান এয়ারলাইনস, শেনচেন এয়ারলাইনস, সিছুয়ান এয়ারলাইনস এবং সাংহাই এয়ারলাইনস।
হংকং বা ম্যাকাও এবং মূল ভূখণ্ড চীনের শহরগুলির মধ্যে বিমানগুলিকে আন্তর্জাতিক বিমান হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং এগুলি বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই হংকং বা ম্যাকাওয়ে পৌঁছালে বা সেখান থেকে প্রস্থান করলে, সীমান্তের ঠিক ওপারে শেনচেন বা ঝুহাই থেকে বা সেখান পর্যন্ত বিমান ভ্রমণ করা সাধারণত অনেক সস্তা, অথবা গুয়াংজু, যা একটু দূরে কিন্তু আরও বেশি গন্তব্যে বিমান পরিষেবা দেয়।
অভ্যন্তরীণ বিমানের দামগুলি স্ট্যান্ডার্ড হারে নির্ধারিত হয়, কিন্তু ছাড় সাধারণ, বিশেষ করে ব্যস্ত রুটগুলিতে। বেশিরভাগ ভালো হোটেল এবং অনেক হোস্টেলে একটি ভ্রমণ টিকিট পরিষেবা থাকে এবং টিকিটের দাম থেকে আপনাকে ১৫-৭০% পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে। সমস্ত চীনা শহরে ভ্রমণ সংস্থা এবং বুকিং অফিস প্রচুর রয়েছে এবং সেগুলিও একই রকম ছাড় দেয়। ছাড়ের কথা বিবেচনা না করলেও, চীনে বিমানে ভ্রমণ ব্যয়বহুল নয়।
চীনের মধ্যে ভ্রমণের জন্য, চীনে বা চীনা ওয়েবসাইটগুলি থেকে টিকিট কেনা সবচেয়ে ভালো (এগুলির প্রায়শই ইংরেজি সংস্করণ থাকে)। একটি কার্যকর অ্যাপ/ওয়েবসাইট হলো সিটি্রিপ, যা ট্রেন/বিমানের টিকিট কেনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করার একমাত্র উপায়। আপনি যদি কোনো চীনা বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কেনেন তবে তারা আপনার বিমানের পরিবর্তন সম্পর্কে আপনাকে জানাতে যোগাযোগ করবে। আপনি যদি আপনার টিকিট বিদেশ থেকে কিনে থাকেন তবে আপনার পরিকল্পিত বিমানের দু-এক দিন আগে বিমানের স্থিতি পরীক্ষা করে নিতে ভুলবেন না। চীনা ওয়েবসাইটগুলিতে, বিমানের তারিখের দু মাস আগে পর্যন্ত দাম বেশি থাকে, তারপর সাধারণত বড় ছাড় পাওয়া যায় যদি না কোনো নির্দিষ্ট বিমান ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বুক হয়ে যায়।
অব্যক্ত বিমান বিলম্ব সাধারণ, আংশিকভাবে কারণ আকাশসীমার উপর কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। স্বল্প-দূরত্বের ভ্রমণের জন্য, আপনি উচ্চ-গতির রেলের মতো বিকল্পগুলি বিবেচনা করতে পারেন। বিমান বাতিল হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। আপনি যদি কোনো চীনা বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কেনেন তবে তারা সম্ভবত আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে (যদি আপনি যোগাযোগের তথ্য দিয়ে থাকেন) যাতে আপনাকে বিমানের পরিকল্পনার পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে পারে। আপনি যদি আপনার টিকিট বিদেশ থেকে কিনে থাকেন তবে বিমানের দু-এক দিন আগে বিমানের স্থিতি পরীক্ষা করে নিন।
চীনা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা রেকর্ড এখন চমৎকার। ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের কোনো বড় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং চীনা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ক্রু বা রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার দ্বারা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে খুব কঠোর।
এছাড়াও আপনার চেক করা লাগেজের রসিদগুলি না হারানোর বিষয়ে নিশ্চিত হন, কারণ লাগেজের দাবি হল থেকে বের হওয়ার আগে সেগুলি আপনার লাগেজের ট্যাগের সাথে মেলানো হবে।
২৮শে জুন ২০২৫ থেকে, অভ্যন্তরীণ বিমানে আনার জন্য পাওয়ার ব্যাংকগুলিতে চায়না কম্পালসরি সার্টিফিকেশন (সিসিসি বা ৩সি সার্টিফিকেশন) থাকতে হবে।
ট্রেনে
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে রেল ভ্রমণ


ট্রেন ভ্রমণ চীনাদের জন্য দূর-দূরত্বের পরিবহনের প্রধান পদ্ধতি, যার একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে। বিশ্বের মোট রেল ট্র্যাফিকের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চীনে হয়।
চায়না রেলওয়ে হাই-স্পিড (সিআরএইচ) বিশ্বের দীর্ঘতম উচ্চ-গতির রেলপথের নেটওয়ার্ক, এবং এটি বিশ্বের একমাত্র উচ্চ-গতির স্লিপার ট্রেন সরবরাহ করে। যদি আপনার রুট এবং বাজেট অনুমতি দেয়, তবে এগুলি প্রায়শই ঘোরার সেরা উপায়। সিআরএইচ ট্রেনগুলি সরঞ্জাম এবং পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে শীর্ষস্থানীয়, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও।
বেশিরভাগ উচ্চ-স্তরের ট্রেনে, চীনা এবং ইংরেজিতে রেকর্ড করা ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ট্রেনগুলিতে ইংরেজিতে ঘোষণা থাকে না। ট্রেনে আপনার মূল্যবান জিনিসপত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন কারণ গণপরিবহনে চুরি একটি সমস্যা। মোশন সিকনেস পিল এবং ইয়ার প্লাগ সুপারিশ করা হয়।
দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে একটি বুফে বা ডাইনিং কার থাকে, যা প্রায় ¥২৫-এ মাঝারি মানের গরম খাবার পরিবেশন করে। মেনুটি সম্পূর্ণ চীনা ভাষায় থাকে। কিছু স্টেশন আপনাকে তাদের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগে থেকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার অনুমতি দেয়, যা আপনার ট্রেন সেখানে থামলে আপনার আসনে পৌঁছে দেওয়া হবে। বেশিরভাগ ট্রেন কারে একটি গরম ফুটন্ত জলের ডিসপেনসার থাকে যাতে আপনি চা, স্যুপ এবং ইনস্ট্যান্ট নুডলস আনতে পারেন।
বসার বা শোবার জায়গায় ধূমপান অনুমোদিত নয় তবে সাধারণ ট্রেনগুলিতে প্রতিটি গাড়ির শেষে বারান্দায় অনুমোদিত, যখন উচ্চ-গতির ট্রেনগুলিতে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্টেশন ভবনগুলির ভিতরে নির্দিষ্ট ধূমপান ঘর বা প্ল্যাটফর্ম ছাড়া ধূমপান নিষিদ্ধ।
টিকিট কেনার তথ্যের জন্য চীনে রেল ভ্রমণ দেখুন। অভ্যন্তরীণ ট্রেনগুলির জন্য আর কাগজের টিকিট জারি করা হয় না; সমস্ত টিকিট ইলেকট্রনিক এবং আপনার আইডির সাথে সংযুক্ত, যা প্রস্থান এবং আগমন উভয় সময়েই পরীক্ষা করা হবে।
চীনা ট্রেন স্টেশনগুলি বিমানবন্দরের মতো কাজ করে, তাই শেষ মুহূর্তে একটি ট্রেন ধরার উপর নির্ভর করবেন না: গেটগুলি প্রস্থানের কয়েক মিনিট আগে বন্ধ হয়ে যায়! নিরাপদ থাকার জন্য, কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সেখানে থাকুন, বা আপনি যদি একটি বড় ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করেন তবে ৩০ মিনিট আগে। নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক জায়গায় অপেক্ষা করছেন, কারণ প্রায়শই ট্রেনটি মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য থামবে। চীনা ট্রেনগুলি সাধারণত সময়নিষ্ঠ এবং পোস্ট করা সময়সূচী অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে; আপনি যদি এক মিনিটও দেরি করেন তবে আপনি ট্রেনটি মিস করবেন।
অনেক শহরে সাধারণ এবং উচ্চ-গতির ট্রেনগুলির জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্টেশন রয়েছে। উচ্চ-গতির রেলওয়ে স্টেশন এবং নতুন স্টেশনের নামগুলি সাধারণত শহরের নাম এবং মূল দিক (যেমন হেংইয়াংদং, "হেংইয়াং পূর্ব") বা এটি যে জেলায় পরিষেবা দেয় (যেমন বেইজিং ফেংতাই, "বেইজিং ফেংতাই") নিয়ে গঠিত হয়।
বাসে
[সম্পাদনা]পাবলিক সিটি বাস (公共汽车 গংগংছিছে) বা দূরপাল্লার বাস (长途汽车 ছাংতুছিছে) দিয়ে ভ্রমণ করা সাশ্রয়ী এবং শহরের মধ্যে ও স্বল্প দূরত্বের পরিবহনের জন্য আদর্শ।
সিটি বাস শহরভেদে ভিন্ন হয়। তবে আপনি যদি বাসের রুট বুঝতে পারেন তবে এগুলি সস্তা এবং প্রায় সর্বত্রই যায়। বাসগুলিতে সাধারণত পরবর্তী স্টপের জন্য রেকর্ড করা ঘোষণা থাকে - যেমন 'শিয়া ই ঝান - ঝং শান লু' (পরবর্তী স্টপ ঝংশান রোড) বা 'শাংহাই নান হুও ছে ঝান দাও লে' (সাংহাই দক্ষিণ রেলওয়ে স্টেশন - এখন পৌঁছচ্ছে)। বেইজিং বা হাংচৌয়ের মতো কিছু প্রধান শহরে, অন্তত কিছু প্রধান রুটে ইংরেজি ঘোষণাও থাকে। ভাড়া সাধারণত ¥১-৩ হয় অথবা শহরতলিতে গেলে আরও বেশি। বেশিরভাগ বাসে প্রবেশপথের পাশে একটি ধাতব ক্যাশবাক্স থাকে যেখানে আপনি আপনার ভাড়া ফেলতে পারেন (কোনো খুচরা ফেরত দেওয়া হয় না - তাই ¥১-এর মুদ্রা জমিয়ে রাখুন) অথবা দীর্ঘ রুটে একজন কন্ডাক্টর থাকেন যিনি ভাড়া সংগ্রহ করে টিকিট ও খুচরা ফেরত দেন। অনেক শহরে এখন আপনি উইচ্যাটে 乘车码 খুঁজে একটি কিউআর কোড দিয়ে নগদবিহীন অর্থ প্রদান করতে পারেন। আপনাকে আপনার পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে, এবং প্রতিটি শহরের জন্য এটিকে পুনরায় অনুমোদন করতে হবে। চালক সাধারণত আরামের চেয়ে গতিকে অগ্রাধিকার দেন, তাই শক্ত করে ধরে থাকুন।

কোচ বা দূরপাল্লার বাস, শহরতলি বা ছোট শহরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে, যদিও ট্রেনগুলির সাথে তাদের তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে এবং প্রায়শই ট্রেনগুলিই ভালো বিকল্প হয়। পূর্ব উপকূলের বড় শহরগুলি থেকে ছেড়ে যাওয়া কোচগুলি সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং নরম আসনযুক্ত হয়। বাসের কর্মীরা সহায়ক হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তারা বিমান সংস্থার কর্মীদের চেয়ে বিদেশীদের সাথে অনেক কম পরিচিত।
গ্রামীণ চীনে কোচ বা বাসের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। বাস শনাক্ত করার জন্য স্টেশনের চিহ্নগুলি চীনা ভাষায় থাকবে। কোচের লাইসেন্স প্লেট নম্বরটি টিকিটে ছাপা থাকে, এটি বাসের পিছনে স্প্রে-পেইন্ট করা থাকবে। ছাড়ার এবং পৌঁছনোর নির্ধারিত সময়গুলি শুধুমাত্র আনুমানিক, বাসটি ভর্তি হলে ছেড়ে যায়, নির্ধারিত সময়ে নয়। প্রায়শই, চীনের অনেক এলাকায় গ্রামীণ কোচই পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম এবং আপনি যদি সরাসরি পরিবহন ছাড়া আরও প্রত্যন্ত এলাকা ভ্রমণ করতে চান তবে তারা সাধারণত রুটের যেকোনো জায়গায় থামতে ইচ্ছুক থাকে। বাসের রুটের বেশিরভাগ জায়গা থেকে হাত দেখিয়েও বাস থামানো যায়। এক্সপ্রেসওয়ের বাসের জন্য, আপনাকে হয়তো অপারেটরের সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হতে পারে, যা আপনাকে টোল গেটে উঠতে/নামতে দিতে পারে। বাকি পথের টিকিটের দাম আলোচনা সাপেক্ষ।
টিকিট পাওয়াটা সহজ। বড় বাস স্টেশনগুলিতে টিকিট কাউন্টার থাকে যারা ছাপা টিকিট বিক্রি করে যেখানে আপনার বাসের ছাড়ার সময়, বোর্ডিং গেট এবং লাইসেন্স প্লেট নম্বর দেখানো থাকে। টিকিট কেনার জন্য আপনার পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে, এবং প্রায়শই আপনাকে নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
চীনের শহরগুলির মধ্যে, আপনি এখন চায়না টি-ইউনিয়ন ব্যবহার করে গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন, যা চীনে ব্যবহৃত একটি কন্ট্যাক্টলেস পরিবহন কার্ড। কার্ডধারীরা চীনে যেকোনো আচ্ছাদিত পরিষেবাতে গণপরিবহনের ভাড়া দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারে, যার মধ্যে বেইজিং, তিয়ানজিন, হপেই, এবং সাংহাই অন্তর্ভুক্ত। চায়না টি-ইউনিয়ন টিকিট হংকং, ম্যাকাও বা তাইওয়ানে বৈধ নয়।
সাবওয়েতে
[সম্পাদনা]চীনের বেশিরভাগ প্রধান শহরে এখন সাবওয়ে/মেট্রো (地铁 দিথিয়ে) ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলি সাধারণত আধুনিক, পরিষ্কার, দক্ষ এবং এখনও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু, চেংদু এবং শেনচেনে ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সিস্টেমগুলির কয়েকটি রয়েছে।
স্টেশন প্ল্যাটফর্মে এবং ট্রেনগুলিতে সাধারণত চীনা এবং ইংরেজিতে সাইনেজ থাকে যেখানে সেই লাইনের সমস্ত স্টেশন তালিকাভুক্ত করা থাকে। স্টেশন এবং ট্রেনগুলিতে ম্যান্ডারিন এবং ইংরেজিতে, এবং কখনও কখনও স্থানীয় ভাষায় ঘোষণা করা হয়। অনেক মানচিত্র (বিশেষ করে ইংরেজি সংস্করণ) দ্রুত সম্প্রসারণের সাথে তাল মেলাতে পারেনি। একটি দ্বিভাষিক সাবওয়ে মানচিত্রের জন্য অনলাইনে দেখুন যা আপনি সাথে রাখতে পারেন।
চীনা সাবওয়ে স্টেশনগুলিতে প্রায়শই টার্নস্টাইলের আগে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট থাকে, যেখানে আপনাকে আপনার ব্যাগগুলি একটি এক্স-রে স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে চালাতে হবে। পকেটমাররা স্টেশন থামার সময় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই আপনার জিনিসপত্রের দিকে মনোযোগ দিন।
স্টেশনগুলিতে সাধারণত এক্সিট এ, বি, সি১, বা সি২-এর মতো লেবেলসহ অসংখ্য প্রস্থান পথ থাকে। মানচিত্রে আপনি প্রতিটি প্রস্থান পথ স্টেশনের আশেপাশে স্পষ্টভাবে লেবেলযুক্ত দেখতে পাবেন। স্টেশনের চিহ্নগুলি আপনার প্রস্থান পথ খুঁজে পাওয়া সহজ করে তোলে।
অনেক শহরে, সাবওয়ে এবং সিটি বাসগুলি ট্রানজিট কার্ডের পরিবর্তে উইচ্যাট/আলিপে-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেমের দিকে ঝুঁকছে: একটি শহরের ট্রানজিট সিস্টেমের উইচ্যাট এবং আলিপের মধ্যে নিজস্ব "মিনি-অ্যাপ" থাকবে, যা আপনি আপনার ভাড়া দেওয়ার জন্য একটি কিউআর কোড স্ক্যান করতে ব্যবহার করেন। যদি এটি আপনার জন্য কাজ করে, তবে স্বল্পমেয়াদী থাকার জন্য সাবওয়ে রাইড এবং স্থানীয় বাসের জন্য অর্থ প্রদানের এটিই সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে।
ট্যাক্সিতে
[সম্পাদনা]ট্যাক্সি (出租车 ছুজুছে বা 的士 দিশি, ক্যান্টোনিজ-ভাষী এলাকায় "দেগ-সি" উচ্চারিত) যুক্তিসঙ্গত মূল্যের: ন্যূনতম ভাড়া ¥৫-১৪, প্রতি কিমি চার্জ ¥২-৩। শহরের কেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগ যাত্রার খরচ ¥১০-৫০ হবে। লাগেজের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই, তবে অনেক শহরে রাতে ভাড়া বেশি হয়। ট্যাক্সি ফি সাধারণত নিকটতম পূর্ণ ইউয়ানে রাউন্ড আপ করা হয়। টিপস প্রত্যাশিত নয়, তবে স্বাগত, বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রার পর।
ট্যাক্সি সাধারণত ফোন অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার করা হয়, এবং রাইড-হেলিং পরিষেবাগুলির প্রতিযোগিতার কারণে রাস্তায় ট্যাক্সি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইড-হেলিং অ্যাপ, দিদি ছুশিং, ইংরেজিতেও উপলব্ধ।
বিমানবন্দর টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন এবং সীমান্ত পারাপারে অনানুষ্ঠানিক ট্যাক্সি দালালরা অনভিজ্ঞ ভ্রমণকারীদের শিকার করে। তারা একটি নির্দিষ্ট মূল্য আলোচনা করার চেষ্টা করবে, এবং সাধারণত মিটার ভাড়ার ২ থেকে ৩ গুণ চার্জ করবে। তাদের এড়িয়ে চলুন এবং পরিবর্তে সরকারি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড খুঁজুন।
ব্যস্ত সময়ে ট্যাক্সি পাওয়াটা একটু কঠিন হতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি হলে এটি সত্যিই কঠিন হয়ে যায়। ব্যস্ত সময় ছাড়া, বিশেষ করে রাতে, কখনও কখনও ১০% থেকে ২০% ছাড় পাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি এটি আগে থেকে আলোচনা করেন, এমনকি মিটার চালু রেখে এবং রসিদ চেয়েও।
সামনের যাত্রীর আসনে বসাটা গ্রহণযোগ্য, এবং আপনি যদি চীনা ভাষায় যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়েন তবে এটি কার্যকর। কিছু ট্যাক্সি গিয়ারবক্সের নিচে ট্যাক্সি মিটার লাগিয়ে রাখে, যা আপনি শুধুমাত্র সামনের আসন থেকে দেখতে পারেন। সেখানে আপনি একটি কার্যকরী সিট বেল্ট পাওয়ারও ভালো সুযোগ পাবেন; পিছনের সিট বেল্টগুলি সাধারণত নিষ্ক্রিয় থাকে।
যদিও এটি অবৈধ, চালকরা জিজ্ঞাসা না করেই ধূমপান শুরু করতে পারে। কিছু শহরে চালকদের জন্য একাধিক যাত্রী তোলার চেষ্টাও সাধারণ যদি তাদের গন্তব্য একই দিকে হয়। প্রত্যেক যাত্রী পুরো ভাড়া দেয় কিন্তু এটি ব্যস্ত সময়ে খালি ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষার সময় বাঁচায়।
এমনকি প্রধান শহরগুলিতেও, ইংরেজিতে কথা বলতে পারে এমন ট্যাক্সিচালক খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আপনি যদি ম্যান্ডারিন ভালোভাবে উচ্চারণ করতে না পারেন, তবে আপনার গন্তব্যটি চালককে দেখানোর জন্য চীনা অক্ষরে লিখিয়ে নিন। আপনার হোটেল এবং রেস্তোরাঁর বিজনেস কার্ড এর জন্য কার্যকর। দক্ষিণ এবং পূর্ব উপকূলীয় প্রদেশগুলির প্রধান শহরগুলিতে, অনেক ট্যাক্সিচালক ম্যান্ডারিন বলতে পারে কিন্তু স্থানীয় উপভাষা বলতে পারে না।
বেশিরভাগ চালক সৎ এবং ভাড়া যুক্তিসঙ্গত কিন্তু কিছু খারাপ চালকও রয়েছে যারা আপনার চীনা ভাষার দক্ষতার অভাবকে তাদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। ভাড়ার পার্থক্য সাধারণত ন্যূনতম হবে। যদি আপনার মনে হয় যে আপনার হোটেলে যাওয়ার পথে আপনাকে গুরুতরভাবে ঠকানো হয়েছে, এবং সেখানে একজন দারোয়ান থাকে, তবে আপনি তার বা ডেস্ক কর্মীদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে পারেন। শহরগুলিতে, চালকের আইডির (ড্যাশবোর্ডে পোস্ট করা) বা লাইসেন্স প্লেট নম্বরের ছবি তোলা এবং তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করার হুমকি দেওয়া বেশ কার্যকর হতে পারে।
কিছু শহরে, ট্যাক্সি সংস্থাগুলি চালকদের জন্য একটি তারকা-রেটিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে, যা ০ থেকে ৫ পর্যন্ত হয়, যা যাত্রীর আসনের সামনে ড্যাশবোর্ডে চালকের নেম-প্লেটে প্রদর্শিত হয়। যদিও কোনো বা কম তারকা থাকাটা অগত্যা একজন খারাপ চালককে নির্দেশ করে না, অনেক তারকা থাকাটা সাধারণত শহরের ভালো জ্ঞান এবং আপনাকে সবচেয়ে ছোট পথে আপনার জিজ্ঞাসিত জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে নির্দেশ করে। চালকের দক্ষতার আরেকটি সূচক একই নেম-প্লেটে পাওয়া যায়: চালকের আইডি নম্বর। একটি ছোট সংখ্যা আপনাকে বলে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, এবং তাই শহরের বিষয়ে তার জ্ঞান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভব হলে বড় ট্যাক্সি সংস্থাগুলি ব্যবহার করুন, কারণ ছোট সংস্থাগুলিতে বেশি অসৎ চালক থাকে।
ট্যাক্সি খোঁজার ক্ষেত্রে চীনারা কখনও কখনও প্রতিযোগী হয়। যে ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট গাড়ি থামায়, সে অগত্যা সেই রাইডের অধিকারী নয়। স্থানীয়দের ট্র্যাফিকের আরও সামনে গিয়ে গাড়ি আটকানো বা ট্যাক্সিতে ওঠার চেষ্টা করার সময় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়াটা সাধারণ। যদি এলাকায় রাইডের জন্য অন্যরা প্রতিযোগিতা করে, তবে গাড়ি থামানোর সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার গাড়িতে পৌঁছনো এবং প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। সব সময় আপনার সিট বেল্ট পরুন (যদি আপনি তা খুঁজে পান)।
কিছু ট্যাক্সিচালক, বিশেষ করে যারা কিছুটা ইংরেজি বলতে পারে, তারা বেশ কৌতূহলী এবং বাকপটু হতে পারে, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ের ট্র্যাফিকের (高峰 গাওফেং) সময়।
সাইকেলে
[সম্পাদনা]
টেমপ্লেট:প্রধান সাইকেল (自行车 জিজিংছে) একসময় চীনে পরিবহনের সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম ছিল। কিন্তু এটিকে মূলত দারিদ্র্যের প্রতীক হিসাবে দেখা হতো এবং মোটর গাড়ির জন্য এটিকে বর্জন করা হয়েছিল। তবে ২০২০-এর দশক থেকে তরুণ মধ্যবিত্ত চীনাদের মধ্যে শখ হিসাবে সাইকেল চালানো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এবং অনেক শহরে সেই জনগোষ্ঠীর জন্য নিবেদিত সাইকেল ট্র্যাক রয়েছে।
চীনের বড় শহরগুলিতে ডকলেস রাইডশেয়ার বাইক একটি সহজলভ্য ব্যবস্থা। আপনি আপনার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যেকোনো উপলব্ধ বাইক আনলক করতে পারেন। ব্যবহারের সময় প্রতি ৩০ মিনিটে ¥১-২ প্রদান করতে হয়। এবং আপনার পছন্দ মতো প্রায় যেকোনো জায়গায় সেগুলি রেখে দিতে পারেন। ডকলেস বাইকগুলি টেকসই করে তৈরি করা হয়, যার অর্থ এগুলি ভারী, громоздкий এবং গিয়ারবিহীন। তবে ভ্রমণকারীদের জন্য এগুলি পরিবহনের একটি সস্তা, সুবিধাজনক এবং মনোরম মাধ্যম হতে পারে।
চীনে সাইক্লিস্টদের জন্য দুটি প্রধান বিপদ রয়েছে:
- মোটর যান চলাচল; গাড়ি এবং মোটরসাইকেল প্রায়শই কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই সামনে চলে আসে। এবং অনেক এলাকায় বিশেষ করে মোটরসাইকেল এবং বৈদ্যুতিক মোপেডগুলি প্রায়শই পথ ছেড়ে দেওয়ার চিহ্ন এবং লাল বাতি উপেক্ষা করে। চীনে লাল বাতিতে গাড়ি ডানদিকে মোড় নিতে পারে।
- চীনের শহরগুলিতে সাইকেল চুরি ব্যাপক। যদিও সিসিটিভির ব্যাপক স্থাপনার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে।
চীন একটি বিশাল দেশ এবং এটি গুরুতর সাইক্লিস্টদের জন্য পর্বত এবং মরুভূমি জুড়ে বাইক চালানোর চ্যালেঞ্জ সরবরাহ করে। এক্সপ্রেসওয়েতে সাইকেল নিষিদ্ধ কিন্তু অন্যথায় আপনি বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তায় সাইকেল চালাতে পারেন। তিব্বতের মধ্য দিয়ে সাইকেল চালানো সম্ভব কিন্তু বিদেশীদের একটি স্থানীয় ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে একটি বাইকিং ট্যুর বুক করতে হবে।
গাড়িতে
[সম্পাদনা]টেমপ্লেট:প্রধান চীনের প্রধান সড়কগুলি সাধারণত ভালো মানের হয়। যদিও গ্রামীণ ছোট রাস্তাগুলির মান অঞ্চলভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে, উপকূলীয় প্রদেশগুলিতে রাস্তার মান সবচেয়ে ভালো। এবং আপনি যত পশ্চিমে যাবেন ততই মান কমতে থাকবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সাধারণত আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট স্বীকার করে না। এবং বিদেশীদের চীনা লাইসেন্স ছাড়া চীনে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় না। হংকং এবং ম্যাকাওয়ের লাইসেন্সগুলিকেও বিদেশী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এবং সেগুলির একটি থাকলেও আপনি মূল ভূখণ্ডে গাড়ি চালাতে পারবেন না। বিদেশী যানবাহন আমদানি করা কঠিন। একটি অস্থায়ী লাইসেন্স পাওয়ার কিছু উপায় রয়েছে: বিস্তারিত জানতে চীনে গাড়ি চালনা নিবন্ধটি দেখুন।
চীনের বড় শহরগুলোতে গাড়ি ভাড়া করার প্রচলন নেই বললেই চলে। সেখানকার উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রায় সবখানে পৌঁছানো যায়। তবে চীনের কিছু গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখার জন্য গাড়িই সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কিন্তু এখানকার গাড়ি চালানোর ধরণ পশ্চিমাদের থেকে অনেকটাই আলাদা। এখানে ভাড়ার গাড়ির সাথে প্রায়শই চালক থাকেন। চীনে গাড়িতে ঘোরার জন্য সম্ভবত এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
মোটরসাইকেলে
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে গাড়ি চালনা#মোটরসাইকেল
মোটরসাইকেল ট্যাক্সি সাধারণ, বিশেষ করে ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকায়। এগুলি সাধারণত সস্তা এবং কার্যকর কিন্তু ভীতিকর। ভাড়া আলোচনা সাপেক্ষ।
মোটরসাইকেল চালানোর নিয়ম শহরভেদে ভিন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে ৫০সিসি মোপেড ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চালানো যায়। যদিও অনেক শহর এখন অসংখ্য দুর্ঘটনার কারণে সেগুলিকে নিষিদ্ধ বা পুনঃশ্রেণীবদ্ধ করেছে। একটি 'প্রকৃত' মোটরসাইকেল চালানো অনেক কঠিন। আংশিকভাবে কারণ আপনার একটি চীনা লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে। আংশিকভাবে কারণ এগুলি অনেক শহরে নিষিদ্ধ। এবং আংশিকভাবে কারণ অটোমোবাইল এবং বৈদ্যুতিক স্কুটারের উপর মনোযোগ দেওয়ার কারণে উৎপাদন এবং আমদানি ধীর হয়ে গেছে। সাধারণ চীনা মোটরসাইকেল হলো ১২৫সিসি, প্রায় ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে এবং এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রুজার শৈলীর। এগুলি সাধারণত ধীর, চালাতে সাধারণ এবং খেলার সম্ভাবনা কম। ইঞ্জিনের আকারের উপর সরকারি বিধিনিষেধের অর্থ হলো স্পোর্টস বাইক বিরল কিন্তু এখনও পাওয়া যায়। আরেকটি জনপ্রিয় পছন্দ হলো একটি ১২৫সিসি স্বয়ংক্রিয় 'ম্যাক্সি' স্কুটার যা হন্ডা সিএন২৫০-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি - এটি একটি মোপেডের চেয়ে একটু দ্রুত এবং দীর্ঘ দূরত্বে আরও আরামদায়ক কিন্তু স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশনের সুবিধা রয়েছে যা স্টপ-স্টার্ট শহুরে ট্র্যাফিক সামলানো অনেক সহজ করে তোলে।
বেশিরভাগ শহরে কোনো না কোনো ধরনের মোটরসাইকেল বাজার থাকবে। এবং প্রায়শই আপনাকে নকল বা অবৈধ লাইসেন্স প্লেটসহ একটি সস্তা মোটরসাইকেল বিক্রি করবে। যদিও মোটরসাইকেলে একজন বিদেশী একটি বিরল দৃশ্য এবং এটি পুলিশের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। 'প্রকৃত' বাইকে হেলমেট অপরিহার্য কিন্তু স্কুটারে ঐচ্ছিক। আপনার অবশ্যই একটি লাইসেন্স প্লেট থাকতে হবে: এগুলি মোটরসাইকেলে হলুদ বা নীল বা স্কুটারে সবুজ হয় এবং বাইকটি নিজে নিবন্ধন করতে কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ হতে পারে। নকল প্লেটগুলি কম দামে সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ।
পেডিক্যাবে (রিকশা)
[সম্পাদনা]|
নামে কী আসে যায়?
পেডিক্যাব এবং রিকশা শব্দ দুটি প্রায়শই চীনে বিদেশীরা একে অপরের পরিবর্তে ব্যবহার করে, কিন্তু এগুলি দুটি ভিন্ন পরিবহন মাধ্যমকে বোঝায় - যার মধ্যে একটির আর অস্তিত্ব নেই। কুখ্যাত রিকশা ছিল দুটি চাকার একটি যন্ত্র যার সামনে দুটি খুঁটি ছিল, যা চালক যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে হেঁটে বা দৌঁড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ধরে রাখত। এগুলি উনিশ শতকের শেষের দিকে proliferated হয়েছিল কিন্তু ১৯৫০-এর দশকের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। চীনা কর্মীদের দ্বারা চালিত রিকশায় পশ্চিমা অভিজাতদের পোলো খেলার ভিডিও রিকশার শোষণমূলক প্রকৃতি প্রদর্শন করেছিল। রিকশার একটি দূরবর্তী আত্মীয় এখনও দেখা যায় যখন ছোট বা কম উন্নত শহরগুলিতে দিনমজুররা তাদের রিকশার মতো গাড়ি নিয়ে প্রতিদিন সকালে নির্মাণ সামগ্রী, কয়লা বা অন্যান্য ছোটখাটো জিনিসপত্র সরবরাহ করার কাজের জন্য অপেক্ষা করে। রিকশার স্থান নিয়েছে পেডিক্যাব: একটি তিন চাকার যান যা অনেকটা সাইকেলের মতো চালানো হয়। |
কিছু মাঝারি আকারের শহরে, স্বল্প দূরত্ব ভ্রমণের জন্য পেডিক্যাব অনেক বেশি সুবিধাজনক একটি মাধ্যম। সানলুনছে (三轮车), চীনা শব্দটি যা প্যাডেল-চালিত এবং মোটর-চালিত উভয় রিকশার জন্য ব্যবহৃত হয়, গ্রামীণ চীন এবং বড় শহরগুলির কম উন্নত (অর্থাৎ, কম পর্যটন) এলাকায় সর্বত্র দেখা যায়। আগে থেকে ভাড়া আলোচনা করা আবশ্যক।
অতিরিক্ত চার্জের রিপোর্টগুলি সম্ভবত পর্যটন গন্তব্যে কাজ করা প্রতারকদের বোঝায়, বিশেষ করে বেইজিংয়ের সিল্ক অ্যালি, ওয়াংফুজিং এবং লাও শে টি হাউসে। হয়তো সাধারণ নিয়মটি হওয়া উচিত, "পর্যটন ফাঁদের কাছে কিছু বিক্রি করা যে কারো থেকে সতর্ক থাকুন।"
আপনি যদি সাধারণ চীনা পরিবারগুলিকে "সানলুন" ব্যবহার করতে দেখেন — উদাহরণস্বরূপ, বেইজিং চিড়িয়াখানা এবং নিকটতম সাবওয়ে স্টপের মধ্যে ভ্রমণ করতে — তবে এটি নিরাপদ। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য কোনো পুরানো ফ্যাশনের পোশাক পরা কোনো সানলুন ব্যবহার করবেন না। সে আপনার কাছ থেকে প্রচলিত হারের দশগুণ চার্জ করার চেষ্টা করবে।
পেডিক্যাব থেকে উন্নত বা রূপান্তরিত বিদ্যুতায়িত তিন চাকার সানলুন সাংহাইয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে মনে হয়।
দেখুন
[সম্পাদনা]চীনের আকর্ষণ অফুরন্ত এবং আপনার দেখার মতো জিনিসের অভাব কখনও হবে না। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলিতে, একটি শহর দেখা শেষ হলে, পরবর্তী শহরটি সাধারণত অল্প সময়ের ট্রেন যাত্রার দূরত্বে থাকে।
আপনি ইতিহাসপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমী বা এমন কেউ হোন না কেন যিনি শুধু একটি সুন্দর সৈকতে আরাম করতে চান, চীনে সবই রয়েছে। বেইজিংয়ের মহিমান্বিত নিষিদ্ধ নগরী থেকে শুরু করে জিউঝাইগৌয়ের শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য পর্যন্ত সবই এখানে আছে। আপনি যদি চীনে বহু বছর ধরেও বাস করেন, তবুও দেখবেন যে দেশের অন্য কোনো অংশে আবিষ্কার করার মতো নতুন কিছু সবসময়ই রয়েছে। সম্ভবত এর বিশাল আকার এবং দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে, ইতালি এবং স্পেনের পর চীনেই বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক সংখ্যক ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে।
চীন দুটি জৈব-অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত। উত্তর ও পশ্চিমে ইউরেশীয় বন্যপ্রাণী দেখা যায়, এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে দক্ষিণ এশীয় বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়।
চীনে ঘোরার সময় আপনার পরিচয়পত্র সাথে রাখতে ভুলবেন না। কারণ টিকিট কেনা এবং পর্যটন আকর্ষণগুলিতে প্রবেশ করার জন্য আপনার এটির প্রয়োজন হবে। এটি সাধারণত হংকং এবং ম্যাকাওয়ের বাসিন্দাদের জন্য হোম রিটার্ন পারমিট, তাইওয়ানের নাগরিকদের জন্য তাইওয়ান কম্প্যাট্রিয়ট পাস, বা বেশিরভাগ বিদেশীদের জন্য পাসপোর্ট। বেইজিংয়ের নিষিদ্ধ নগরী বা নানজিংয়ের সান ইয়াত-সেন সমাধিসৌধের মতো কিছু জনপ্রিয় আকর্ষণের জন্য টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে সংরক্ষণ করতে হবে। টিকিট জালিয়াতি রোধ করার জন্য টিকিটগুলি আপনার পরিচয়পত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। তাই নিশ্চিত করুন যে প্রবেশপথে আপনি যে পরিচয়পত্রটি দেখাচ্ছেন তা আপনার টিকিট কেনার সময় ব্যবহৃত পরিচয়পত্রের সাথে মিলে যায়।

কার্স্ট ভূদৃশ্য
[সম্পাদনা]ঐতিহ্যবাহী চীনা শিল্পীদের পছন্দের অদ্ভুত আকারের পর্বত এবং অবিশ্বাস্য শিলা গঠনসহ খাড়া ঢালযুক্ত জঙ্গলময় পাহাড়গুলি কোনো সৃজনশীল কল্পনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বেশিরভাগ অংশই কার্স্ট নামে পরিচিত জটিল ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা গঠনে আবৃত। কার্স্ট হলো এক ধরণের চুনাপাথরের গঠন যার নামকরণ করা হয়েছে স্লোভেনিয়ার একটি এলাকার নামে। চুনাপাথরের স্তর ক্ষয় হওয়ার সাথে সাথে, ঘন শিলা বা ভিন্ন পাথরের পকেটগুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে শৃঙ্গ তৈরি করে। পাহাড়ের নিচে গুহা তৈরি হয় যা ধসে পড়ে সিঙ্কহোল এবং ভূগর্ভস্থ নদীতে নিয়ে যাওয়া চ্যানেল তৈরি করতে পারে। এর সবচেয়ে অস্বাভাবিক অবস্থায়, কার্স্ট ক্ষয় হয়ে চূড়া, খিলান এবং পথের গোলকধাঁধা তৈরি করে। এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ ইউন্নানের কুনমিংয়ের কাছে প্রস্তর অরণ্যে (石林 শিলিন) পাওয়া যায়। চীনের কিছু সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটন এলাকায় দর্শনীয় কার্স্ট ভূদৃশ্য রয়েছে — গুয়াংশির গুইলিন এবং ইয়াংশুও, হুনানের ঝাংজিয়াজিয়ে, এবং মধ্য ও পশ্চিম কুইচৌ প্রদেশের বেশিরভাগ অংশ।
পবিত্র পর্বতমালা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনের পবিত্র স্থান
|
চীনা পর্বতমালা
লিনেল ডেভিস, যিনি চীন এবং পশ্চিমের মধ্যে ব্যবহারিক সাংস্কৃতিক পার্থক্যের উপর আক্ষরিক অর্থেই বইটি লিখেছেন, চীনা পর্বতমালা সম্পর্কে বলেছেন: "পশ্চিমাদের কাছে চীনা পর্বতমালা বিভ্রান্তিকর মনে হয় কারণ এগুলি বন্য অদম্য প্রকৃতির অভিজ্ঞতা দেয় না। তারা আশা করে যে পর্বতগুলি নিচ থেকে উপরে পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে বাঁধানোর পরিবর্তে প্রাকৃতিক হবে। তারা খুব বয়স্ক মানুষ এবং খুব ছোট বাচ্চাদের পাহাড়ে চড়তে দেখার আশা করে না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে চীনের প্রতিটি স্থানীয় এলাকায় একটি 'পর্বত' রয়েছে এমনকি যদি এটি বেশ ছোট হয় এবং এমনকি যদি মানুষদের নিজেদেরই এটি তৈরি করতে হয়। চূড়া থেকে দেখার মতো কিছুই নেই বা দৃশ্যটি মেঘ এবং কুয়াশায় হারিয়ে গেছে (এমেই এবং হুয়াংশান, উদাহরণস্বরূপ) এমন কয়েকটি অভিজ্ঞতার পর, আমি বোঝার চেষ্টা শুরু করি যে মানুষ আসলে পাহাড়ে চড়ার সময় কী করে। আমার উপসংহার হলো যে চীনে মানুষ পাহাড়ে চড়ে কারণ এটি করার অভিজ্ঞতাটি আনন্দদায়ক। আমি মনে করি তারা প্রকৃতির সাথে তাদের সংযোগ অনুভব করার জন্যও এটি করে, তার উপর তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়।" – লিনেল ডেভিস, ডুয়িং কালচার |
পর্বতগুলি চীনা ভূ-বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবং চীনা বৌদ্ধধর্ম এবং তাওবাদে ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ অনেক পর্বত রয়েছে। এই পর্বতগুলি প্রায়শই চীনা ঐতিহাসিক নাটকগুলিতে একটি জনপ্রিয় পটভূমি হিসাবে কাজ করে। এবং ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন চীনা সমরকলা সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত। আজও, এই পর্বতগুলিতে অনেক তাওবাদী এবং বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। এবং এগুলি মনোরম পটভূমি হিসাবে কাজ করে যা অনেক দেশীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
পাঁচটি মহান পর্বত
[সম্পাদনা]পাঁচটি মহান পর্বত (五岳) চীনা ভূ-বিজ্ঞানে পাঁচটি মূল দিকের সাথে যুক্ত। এবং বিশ্বাস করা হয় যে এগুলি চীনা পুরাণে বিশ্বের স্রষ্টা পানগুর (盘古) শরীর থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
- মাউন্ট হেং (恒山), শানশি প্রদেশের উত্তরের পর্বত (北岳)। আক্ষরিক অর্থে "চিরন্তন পর্বত"।
- মাউন্ট হেং (衡山), হুনান প্রদেশের দক্ষিণের পর্বত (南岳)। আক্ষরিক অর্থে "ভারসাম্য রক্ষাকারী পর্বত"।
- তাই পর্বত (泰山), শানতুং প্রদেশের পূর্বের পর্বত (东岳)। আক্ষরিক অর্থে "শান্তিপূর্ণ পর্বত"।
- মাউন্ট হুয়া (华山), শাআনশি প্রদেশের পশ্চিমের পর্বত (西岳)। আক্ষরিক অর্থে "চমৎকার পর্বত"।
- মাউন্ট সং (嵩山), হনান প্রদেশের মধ্যের পর্বত (中岳)। এছাড়াও বিখ্যাত শাওলিন মঠ (少林寺)-এর আবাসস্থল, যা ঐতিহাসিকভাবে তার যোদ্ধা সন্ন্যাসীদের জন্য বিখ্যাত। আক্ষরিক অর্থে "উচ্চ পর্বত"।
বৌদ্ধধর্মের চারটি পবিত্র পর্বত
[সম্পাদনা]
বৌদ্ধধর্মের চারটি পবিত্র পর্বত (四大佛教名山) ঐতিহ্যগতভাবে চারটি ভিন্ন বোধিসত্ত্বের সাথে যুক্ত, যারা চীনা বৌদ্ধধর্মে পূজিত হন। আজও, এই পর্বতগুলি বিশিষ্ট বৌদ্ধ মন্দিরসহ মনোরম স্থান হিসাবে রয়ে গেছে।
- মাউন্ট উতাই (五台山), ঐতিহ্যগতভাবে বোধিসত্ত্ব মঞ্জুশ্রীর (文殊菩萨) সাথে যুক্ত, শানশি প্রদেশে অবস্থিত।
- মাউন্ট এমেই (峨眉山), ঐতিহ্যগতভাবে বোধিসত্ত্ব সামন্তভদ্রের (普贤菩萨) সাথে যুক্ত, সিছুয়ান প্রদেশে অবস্থিত।
- মাউন্ট পুতুও (普陀山), ঐতিহ্যগতভাবে বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরের (观音菩萨) সাথে যুক্ত, যিনি চীনা বৌদ্ধধর্মে সবচেয়ে জনপ্রিয় বোধিসত্ত্ব, চচিয়াং প্রদেশে অবস্থিত। এটি একটি পর্বত নয়, বরং চীনা উপকূলের একটি দ্বীপ।
- মাউন্ট জিহুয়া (九华山), ঐতিহ্যগতভাবে বোধিসত্ত্ব ক্ষিতিগর্ভের (地藏菩萨) সাথে যুক্ত, আন্তে প্রদেশে অবস্থিত।
তাওবাদের চারটি পবিত্র পর্বত
[সম্পাদনা]যদিও চীনা লোকধর্মে অনেক পবিত্র পর্বত রয়েছে, তাওবাদের চারটি পবিত্র পর্বত (四大道教名山), পাঁচটি মহান পর্বতের সাথে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র বলে মনে করা হয়। এগুলি বিশিষ্ট তাওবাদী মন্দিরসহ মনোরম স্থান হিসাবে রয়ে গেছে।
- মাউন্ট উদাং (武当山), বেশিরভাগ চীনাদের দ্বারা তাওবাদীদের জন্য সমস্ত পবিত্র পর্বতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র বলে মনে করা হয়, হুপেই প্রদেশে অবস্থিত। ঐতিহ্যগতভাবে চীনা সমরকলার একটি প্রধান কেন্দ্র এবং শাওলিন মঠের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (যদিও একটি বন্ধুত্বপূর্ণ) হিসাবে গণ্য করা হয়।
- মাউন্ট লংহু (龙虎山) ইংতান শহরের ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, চিয়াংশি প্রদেশে অবস্থিত। লংহু চীনের অষ্টম বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান, বিশ্ব জিওপার্ক, জাতীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বৈত ঐতিহ্যবাহী স্থান, জাতীয় AAAAA গ্রেড পর্যটন আকর্ষণ এবং জাতীয় কী কালচারাল রিলিকস প্রোটেকশন ইউনিট। লংহু পর্বত একটি সাধারণ দানশিয়া ভূদৃশ্য এবং চীনে চীনা তাওবাদের একটি জন্মস্থান, এবং ২০০৭ সালে বিশ্ব জিওপার্ক নেটওয়ার্কে যোগদান করে।
- মাউন্ট ছিউন (齐云山) আন্তে প্রদেশে অবস্থিত।
- মাউন্ট ছিংছেং (青城山) সিছুয়ান প্রদেশে অবস্থিত।
ফুল
[সম্পাদনা]
যদিও জাপানের চেরি ফুল বেশি পরিচিত, তবে চীনের প্লাম ফুল (梅花 মেই হুওয়া) এবং পিচ ফুল (桃花 তাও হুওয়া) প্রায়শই সৌন্দর্যের দিক থেকে চেরি ফুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বিবেচিত হয়। প্লাম সাধারণত শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা অংশে ফোটে, প্রায়শই ভারী তুষারপাতের সময়। তাই এটি সহনশীলতার প্রতীক। এবং এটি একসময় মূল ভূখণ্ড চীন শাসনকারী চীন প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ফুল ছিল। অন্যদিকে পিচ ফুল বসন্তে ফোটে। এই গাছগুলি অনেক পার্কে দেখা যায়, বিশেষ করে চীনের উত্তর এবং পূর্বাংশে। তবে দক্ষিণে উচ্চতর স্থানেও এগুলি দেখা যায়। উভয় ফুলই ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিতে অত্যন্ত সম্মানিত। এবং এগুলি প্রায়শই ঐতিহ্যবাহী চীনা শিল্প ও কারুশিল্পে দেখা যায়।
পিওনিও (牡丹花 মা দান হুয়া) অত্যন্ত সম্মানিত। এবং এটি সম্মান ও সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে। প্লাম এবং পিচ ফুলের মতো নয়, পিওনি গাছে না হয়ে ঝোপে ফোটে। এগুলি সাধারণত বসন্তের শেষের দিকে থেকে গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ফোটে।
অন্যান্য স্থান
[সম্পাদনা]চীনের বিপ্লবের স্থানগুলি আমাদের চীনের বিপ্লবী গন্তব্য নিবন্ধে দেখা যাবে।
চীনে উল্লেখযোগ্য বৌদ্ধ স্থানগুলি আমাদের বৌদ্ধধর্ম নিবন্ধে পাওয়া যাবে।
ভ্রমণপথ
[সম্পাদনা]কিছু ভ্রমণপথ সম্পূর্ণরূপে চীনের মধ্যে ভ্রমণের জন্য:
- ছাং চিয়াং নদীর পাশ দিয়ে ভ্রমণ
- হুয়াংহো নদীর পাশ দিয়ে ভ্রমণ
- চীনের মহাখালের ধারে
- বৈদ্যুতিক স্কুটারে এরহাই হ্রদ ভ্রমণ
- স্থলপথে হংকং থেকে কুনমিং
- লং মার্চ
- স্থলপথে তিব্বত ভ্রমণ
- ছিংহাই-তিব্বত রেলপথ
- ইউন্নান পর্যটক ট্রেইল
অন্যান্যগুলি আংশিকভাবে চীনে অবস্থিত:
- রেশম পথ - চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রাচীন ক্যারাভান পথ
- কারাকোরাম মহাসড়ক - পশ্চিম চীন থেকে হিমালয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত
- মার্কো পোলোর পথে
করুন
[সম্পাদনা]মালিশ
[সম্পাদনা]সারা চীনে উচ্চ মানের এবং ন্যায্য মূল্যের মালিশ পাওয়া যায়। একজন চুল ধরে মাথা মালিশ করে দেয়, কানের মোম পরিষ্কার করে এবং ঘাড় ও বাহু মালিশ করে দেয়। পায়ের মালিশের (足疗 জুলিয়াও) উপলব্ধতা প্রায়শই একটি খালি পায়ের ছাপের ছবিসহ চিহ্ন দ্বারা বোঝানো হয়।
সম্পূর্ণ শরীরের মালিশ দুটি প্রকারে দেওয়া হয়। আনমো (按摩) হলো সাধারণ মালিশ এবং তুইনা (推拿) আকুপাংচারে ব্যবহৃত মেরিডিয়ানগুলির উপর মনোযোগ দেয়। এই তিন ধরনের মালিশ প্রায়শই মিশ্রিত থাকে এবং অনেক জায়গায় তিনটিই দেওয়া হয়। মালিশ অন্ধদের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা। সেরা মানের মালিশ প্রায়শই অন্ধ কর্মীসহ (盲人按摩 ম্যাংগ্রেন আনমো) ছোটখাটো জায়গায় পাওয়া যায়। সবচেয়ে বিশেষজ্ঞ মালিশ পাওয়া যায় মালিশ হাসপাতাল বা সাধারণ চীনা ঔষধ হাসপাতালে।
কিছু মালিশের জায়গা আসলে পতিতালয়। চীনে বেশ্যাবৃত্তি অবৈধ কিন্তু বেশ সাধারণ এবং প্রায়শই মালিশের আড়ালে এটি চালানো হয়। বেশিরভাগ উষ্ণ প্রস্রবণ বা সনা প্রতিষ্ঠানে একজন ব্যবসায়ীর আরামের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিষেবা দেওয়া হয়। অনেক হোটেল আপনার ঘরে মালিশের অফার দেয় এবং একবার সে ঘরে এলে অতিরিক্ত পরিষেবা প্রায় সবসময়ই পাওয়া যায়। গোলাপী আলো বা ছোট স্কার্ট পরা অনেক মেয়ে সাধারণত ইঙ্গিত দেয় যে সেখানে শুধু মালিশের চেয়েও অনেক বেশি কিছু পাওয়া যায় (এবং প্রায়শই তারা ভালো মালিশও করতে পারে না)। একই নিয়ম অনেক হেয়ার সেলুনেও প্রযোজ্য যা মালিশ পার্লার বা পতিতালয় হিসাবেও কাজ করে।
গোলাপী আলো ছাড়া জায়গাগুলিতে সাধারণত ভালো মালিশ দেওয়া হয় এবং যৌন পরিষেবা দেওয়া হয় না। যদি প্রতিষ্ঠানটি অন্ধদের দ্বারা মালিশের বিজ্ঞাপন দেয় তবে এটি প্রায় নিশ্চিতভাবে বৈধ।
মালিশ নেওয়ার সময় ব্যবহার করার জন্য প্রাথমিক বাক্যাংশের জন্য চীনা বাক্যাংশ বই#মালিশ নেওয়া দেখুন।
স্পা
[সম্পাদনা]চীনে স্পা সাধারণত জমকালো হয়। এগুলি প্রায়শই একাধিক তলা জুড়ে বিস্তৃত থাকে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার jjimjilbang-এর মতো। প্রবেশমূল্য দিয়ে আপনি ঝরনা, উত্তপ্ত ইনডোর পুল, সনা, অ-অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ও তাজা ফলের একটি প্রশংসাসূচক বুফে এবং শোবার জায়গার মতো সুবিধাগুলি ব্যবহার করতে পারেন। এখানে প্রবেশ করার সময় আপনাকে ঝরনা নিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পোশাক পরতে হবে। লিঙ্গ-পৃথক পুলগুলিতে স্নানকারীদের নগ্ন হতে হতে পারে। তবে সহ-শিক্ষামূলক পুলগুলিতে সাঁতারের পোশাকের প্রয়োজন হবে। কয়েকটিতে বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য গেম আর্কেড এবং/অথবা ইনডোর খেলার মাঠও থাকতে পারে। কয়েকটিতে একটি খাওয়ার জায়গা থাকতে পারে যেখানে খাবারের সময় গরম খাবার পরিবেশন করা হয়। এর জন্য সাধারণত অতিরিক্ত খরচ হবে। স্পাগুলিতে প্রায় সবসময়ই বিভিন্ন ধরণের বডি স্ক্রাবিং এবং/অথবা মালিশ পরিষেবা দেওয়া হয়। এর জন্য প্রবেশমূল্যের উপরে অতিরিক্ত খরচ হবে।
গণস্নানাগার (澡堂 জোওটাং) উত্তর-পূর্বে একটি স্থানীয় ঐতিহ্য। যদিও ঐতিহ্যবাহী সুবিধাগুলি সাধারণত খুব সাদামাটা হয় এবং প্রধানত বয়স্করা ব্যবহার করেন, আধুনিক সুবিধাগুলি যা তরুণরা পছন্দ করে তা নামে ছাড়া কার্যত স্পা-ই। এখানে আপনি একটি স্পা থেকে প্রত্যাশিত সমস্ত সুবিধা পাবেন। উত্তর-পূর্ব চীনা-শৈলীর গণস্নানাগারগুলিতে, ঐতিহ্যবাহী বা আধুনিক যাই হোক না কেন, তাদের সুবিধাগুলির মধ্যে সবসময় একটি বডি স্ক্রাব (搓澡 কুওজো) পরিষেবা থাকবে।
পরিবেশন শিল্পকলা
[সম্পাদনা]- মূল নিবন্ধ: চীনা পরিবেশন শিল্পকলা
একটি বড় এবং বৈচিত্র্যময় দেশ হওয়ায়, চীন ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক উভয় ধরনের পরিবেশন শিল্পকলার আবাসস্থল। যদিও কিছু নৃত্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়, এমন কিছুও রয়েছে যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অঞ্চলে জনপ্রিয়। এবং বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুদেরও নিজস্ব অনন্য ঐতিহ্য রয়েছে। দুটি শিল্প যা দেশব্যাপী জনপ্রিয়, এবং আন্তর্জাতিকভাবেও নিয়মিত পরিবেশিত হয়, তা হলো বেইজিং অপেরা (京剧 জিংজু) এবং ইউয়ে অপেরা (越剧 ইউয়েজু)।
২০১০-এর দশক থেকে চীনের পপ সংস্কৃতি ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এবং আজ এটি হংকং এবং তাইওয়ানের মতো ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলিকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে। চীনা পপ সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং নাটকগুলি বড় অঙ্কের ব্যবসা যা স্থানীয়ভাবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতিগত চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি অনুগত অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এবং বেশিরভাগ শীর্ষ হংকং এবং তাইওয়ানের গায়ক ও অভিনেতারা মূল ভূখণ্ড চীনে চলে এসেছেন যেখানে তারা অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। চীনে ট্যালেন্ট প্রদরস্শনী খুব জনপ্রিয়। এবং প্রায়শই এতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ গায়কদের একজন অভিজ্ঞ সুপারস্টারের দ্বারা পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা
[সম্পাদনা]চীনে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা করার সময়, কিছু ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা শেখার কথা বিবেচনা করুন। চীনে ভ্রমণ করা সর্বোপরি, শিল্পের নিজ দেশে মাস্টার অনুশীলনকারীদের কাছ থেকে সরাসরি মূল বিষয়গুলি শেখার, বা ইতিমধ্যে অর্জিত দক্ষতাগুলিকে পরিমার্জন করার একটি অনন্য সুযোগ। অনেক শহরে নতুনদের জন্য অ্যাকাডেমি রয়েছে। এবং চীনা না জানাটা সাধারণত কোনো সমস্যা নয় কারণ আপনি উদাহরণ এবং অনুকরণের মাধ্যমে শিখতে পারেন। ক্যালিগ্রাফি (书法 শুফা), একটি পরিভাষা যা অক্ষর লেখা এবং স্ক্রোল পেইন্টিং (অর্থাৎ, ক্লাসিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ এবং এই জাতীয়) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি জনপ্রিয় জাতীয় শখ হিসাবে রয়ে গেছে। অনেক ক্যালিগ্রাফার শহরের পার্কগুলিতে ফুটপাতে জল দিয়ে লিখে অনুশীলন করে। অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা যেখানে ক্লাস দেওয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চীনা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা (এইগুলি বিক্রি করে এমন দোকানগুলিতে জিজ্ঞাসা করুন কারণ অনেকেই ক্লাস দেয়), চীনা রন্ধনশৈলী রান্না করা, বা এমনকি বেইজিং অপেরা (京剧 জিংজু) গাওয়া। ফি সাধারণত পরিমিত, এবং প্রয়োজনীয় উপকরণগুলির জন্য খুব বেশি খরচ হবে না। এর একমাত্র শর্ত হলো যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় থাকা এবং পর্যাপ্ত সম্মান প্রদর্শন করা; পর্যটন আকর্ষণ হিসাবে এই ক্লাসগুলিতে যোগদান না করাই ভালো।
ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক শিল্পের মতোই, যাদের সময় এবং আগ্রহ রয়েছে তারা চীনের বিখ্যাত সমরকলা অধ্যয়নে আগ্রহী হতে পারেন। কিছু, যেমন তাই চি (太极拳 তাইজিছুয়ান), খুব ভোরে যেকোনো শহরের পার্কে গিয়ে অন্যদের অনুসরণ করে প্রাথমিক স্তরে শেখা যায়। আপনি সম্ভবত অনেক আগ্রহী শিক্ষক খুঁজে পাবেন। তবে, একটি প্রকৃত লড়াইয়ে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করার মতো পর্যায়ে সমরকলা শিখতে হলে একজন মাস্টারের অধীনে বছরের পর বছর অধ্যয়ন এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা প্রায়শই শৈশব থেকে শুরু করতে হয়।
ইংরেজিতে, চীনা সমরকলাকে প্রায়শই "কুং ফু" বলা হয় এবং আমরা নিচে সেই ব্যবহারটিই অনুসরণ করছি। তবে চীনা ভাষায়, সমরকলার জন্য সাধারণ শব্দটি হলো উশু (武術), যখন গংফু (功夫, "কুং ফু") হলো অনুশীলনকারীদের দ্বারা অর্জিত দক্ষতা বা শক্তিকে বোঝায়।
চীনা সমরকলাকে ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর এবং দক্ষিণ শৈলীতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। উত্তরের শৈলীগুলি সাধারণত সম্পূর্ণ প্রসারিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে শক্তিশালী আঘাতের উপর জোর দেওয়ার জন্য পরিচিত। এবং দক্ষিণের শৈলীগুলি সাধারণত শরীরের কাছাকাছি থেকে দ্রুত আঘাতের জন্য পরিচিত। উত্তরের চীনা সমরকলাকে আরও দুটি দলে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় যেগুলির নামকরণ করা হয়েছে দুটি পার্বত্য এলাকার মঠের নামে যা কুং ফুর কেন্দ্র — সং পর্বতের শাওলিন মন্দির এবং উদাং পর্বতমালা। শাওলিন হলো কঠিন বা বাহ্যিক শৈলী যা গতি এবং শক্তির উপর জোর দেয়, যখন উদাং হলো নরম বা অভ্যন্তরীণ শৈলী যা শ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং মসৃণ চলাচলের উপর জোর দেয়। অবশ্যই এটি ততটা সহজ নয়; শাওলিন বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত মসৃণভাবে চলাচল করে এবং একজন উদাং মাস্টারের প্রচুর গতি এবং শক্তি থাকে।
কুং ফুর অন্যান্য সুপরিচিত কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে কোয়ানজেউ, ফুচিয়েনের দক্ষিণ শাওলিন, দালির কাছে উ ওয়েই মন্দির এবং ফোশানের উইং চুন (ব্রুস লির শৈলী)।
সাংহাইয়ের একটি শারীরিক শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সমরকলা জাদুঘর রয়েছে।
স্কয়ার নৃত্য
[সম্পাদনা]
পাবলিক পার্ক, স্কয়ার বা প্লাজায়, বা প্রকৃতপক্ষে শহরের যেকোনো জায়গায় যা বেড়া দেওয়া নয় এবং যথেষ্ট বড় (যেমন একটি পার্কিং লট), আপনি ক্রমবর্ধমানভাবে, খুব ভোরে এবং শেষ সন্ধ্যায়, (বেশিরভাগ) বয়স্ক মহিলাদের দল দেখতে পাবেন যারা কাছাকাছি একটি পোর্টেবল স্পিকার থেকে আসা একটি ডান্স বিটের সঙ্গীতের সাথে হালকা ব্যায়াম করছেন। এই কার্যকলাপটিকে গুয়াংছাংউ (广场舞) বলা হয়, যা ইংরেজিতে মোটামুটিভাবে "স্কয়ার নৃত্য " হিসাবে অনূদিত হয়, কারণ এটি যেখানে হয় (একই নামের ঐতিহ্যবাহী আমেরিকান লোকনৃত্যের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না)। এটি ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এমন মহিলাদের (যারা দামা (大妈), বা ইংরেজিতে "ড্যান্সিং গ্র্যানিস" নামে পরিচিত) মধ্যে উদ্ভূত হয়েছিল যাদের সবেমাত্র অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এটি ছিল ফিট থাকার, সামাজিকতা করার এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তাদের নিজেদের যৌবনকে স্মরণ করার একটি উপায় (প্রকৃতপক্ষে, ব্যবহৃত অনেক গানই সেই যুগের প্রজ্ঞাপন, বা বর্তমান চীনা পপ হিট)। ২০১৫ সালের মধ্যে শব্দ এবং স্থানের সমস্যাগুলি কিছু শহরে হিংসাত্মক সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছিল এবং সরকারকে মানসম্মত নাচের রুটিন চালু করতে, তারপর তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল। এটি অন্তত একটি আধুনিক লোক ঘটনা হিসাবে দেখতে আকর্ষণীয়, এবং প্রকৃতপক্ষে কিছু দল তাদের রুটিনের জন্য পোশাক এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে।
মাঝে মাঝে কিছু পর্যটককে, বিশেষ করে মাঞ্চুরিয়ার শহরগুলিতে ঘুরতে আসা রাশিয়ানদের, এই নাচের সাথে যোগ দিতে দেখা যায়। তবে এই বিষয়টিকে সবসময় ভালো চোখে দেখা হয় না, কারণ অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই প্রতিযোগিতার জন্য নাচেন এবং অনুশীলনের উপযুক্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই খোলা জায়গায় অভ্যাস করেন। আপনারও যদি যোগ দেওয়ার ইচ্ছা হয়, তবে এমন দলেই ভিড়ে যান যাদের দেখে মনে হয় শুধু আনন্দের জন্যই নাচছে (অর্থাৎ, যাদের কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বা কঠিন নাচের ভঙ্গি নেই)। আর গিয়ে একদম পেছনের সারিতে দাঁড়ান, যেখানে নতুনরা দলনেতাকে দেখে নাচের ধাপগুলো শিখে নেয়। তবে এমন জায়গায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, বা অন্তত খুব সতর্ক থাকুন, যেখানে অল্প একটু জায়গার মধ্যে বেশ কয়েকটি দল একসঙ্গে নাচছে। এ নিয়ে প্রায়শই তাদের মধ্যে জায়গা দখলের লড়াই বাধে। তার উপর, একজন বিদেশীকে নাচতে দেখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে; অন্য দলগুলো আপনাকে দেখে ভাবতে পারে যে আপনি তাদের দলের সদস্য ভাঙিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
বলরুম নৃত্যও মোটামুটি প্রচলিত; পশ্চিমা-শৈলীর স্কয়ার নৃত্য বা লাইন নৃত্য কম প্রচলিত কিন্তু অজানা নয়।
ঐতিহ্যবাহী বিনোদন
[সম্পাদনা]চীনের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী খেলা রয়েছে যা প্রায়শই চা বাগান, পাবলিক পার্ক বা এমনকি রাস্তাতেও খেলা হয়। খেলোয়াড়রা প্রায়শই দর্শকদের ভিড় আকর্ষণ করে।
- চীনা দাবা (象棋 শিয়াংছি) বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খেলা দাবার একটি প্রকার। এটি কোরিয়ান দাবার (কোরিয়ান: 장기 জাঙ্গি) মতো হলেও এর থেকে আলাদা। তবে এটি জাপানি দাবা (জাপানি: 将棋 শোগি) এবং আন্তর্জাতিক দাবা থেকে বেশ ভিন্ন। যদিও তাদের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে যে একটির ভালো খেলোয়াড় অন্যটি সহজে শিখতে পারবে। এটি চীনে একটি খুব জনপ্রিয় বিনোদন। এবং আপনি প্রায়শই পার্কগুলিতে বয়স্ক চীনাদের একে অপরের সাথে এই খেলা খেলতে দেখবেন। স্কুল টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে পেশাদার টুর্নামেন্ট পর্যন্ত অসংখ্য জাতীয় টুর্নামেন্টও রয়েছে। এবং শীর্ষ খেলোয়াড়রা প্রায়শই বড় সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন, বড় পুরস্কার এবং খেলাটি নিয়ে অসংখ্য টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
- গো (围棋 ওয়েইছি, আক্ষরিক অর্থে "ঘিরে ফেলার খেলা") একটি কৌশলগত বোর্ড গেম। খেলোয়াড়রা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি অঞ্চল ঘিরে ফেলার জন্য তাদের গুটি রাখে। যদিও নিয়মগুলি সহজ, কৌশল এবং পদ্ধতি খুবই জটিল। পেশাদার গো খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ বড় সেলিব্রিটি। বড় পুরস্কারসহ টুর্নামেন্ট এবং খেলাটি নিয়ে কিছু টিভি অনুষ্ঠানও রয়েছে।
- মাহজং (麻将 মাজিয়াং) একটি জনপ্রিয় খেলা। এটি প্রায় সবসময়ই অর্থের বিনিময়ে খেলা হয়। এই খেলায় বিভিন্ন চীনা প্রতীক ও অক্ষরসহ ঘুঁটি ব্যবহার করা হয়। খেলোয়াড়রা ঘুঁটি তোলে ও ফেলে। তাদের লক্ষ্য থাকে নির্দিষ্ট ধরনের ঘুঁটির একটি সেট মেলানো। এর নিকটতম পশ্চিমা প্রতিরূপ হলো তাসের খেলা। তবে সাদৃশ্য খুব বেশি নয়। উদাহরণ হিসেবে রামি বা ক্যানাস্তার কথা বলা যেতে পারে।
খেলার পদ্ধতি মোটামুটি একই রকম। তবে চীনে মাহজংয়ের নিয়ম অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। এটি তাইওয়ানীয় ও জাপানি সংস্করণ থেকেও বেশ আলাদা। হংকংয়ে ক্যান্টোনিজ মাহজং খেলা হয়। এই নিয়ম পার্ল নদী ব-দ্বীপের কুয়াংতুং প্রদেশে প্রচলিত নিয়মের মতোই। চীন সরকারের একটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত প্রমিত মাহজং সংস্করণ রয়েছে। এটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়। ভিন্ন নিয়মে খেলে বড় হওয়া মানুষদের প্রতি ন্যায্য বিচার করার জন্যই এটি করা হয়েছে। তবে এই সংস্করণটি সরকারি প্রতিযোগিতার বাইরে খুব কমই খেলা হয়।
খেলাধুলা
[সম্পাদনা]চীনের জাতীয় ক্রীড়া (全国运动会) হলো চীনের প্রাদেশিক-স্তরের ইউনিটগুলির মধ্যে একটি বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যার মধ্যে হংকং এবং ম্যাকাও অন্তর্ভুক্ত। প্রাদেশিক দলগুলি ছাড়াও, চীনা সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন চীনা শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলও রয়েছে। এখানে আপনি অলিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ীসহ চীনের সেরা কিছু ক্রীড়াবিদকে প্রাদেশিক গৌরবের জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখতে পারেন। এটি প্রতি চার বছর পর পর, গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পরের বছর অনুষ্ঠিত হয়, এবং এতে সমস্ত অলিম্পিক খেলার পাশাপাশি উশুও অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরবর্তী জাতীয় ক্রীড়া ৯-২১ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবং এটি কুয়াংতুং, হংকং এবং ম্যাকাও দ্বারা যৌথভাবে আয়োজিত হবে।
ফর্মুলা ১ চীনা গ্রাঁ প্রি বসন্তকালে, মার্চ বা এপ্রিলে, সাংহাই আন্তর্জাতিক সার্কিটে অনুষ্ঠিত হয়।
কেনাকাটা
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]|
চীনা ইউয়ান-এর বিনিময় হার
জুলাই ২০২৫-এর হিসাবে:
বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায় |
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারি মুদ্রা হলো চীনা ইউয়ান। এটি রেনমিনবি (人民币 rénmínbì, "জনগণের অর্থ") নামে পরিচিত। এর প্রতীক হলো ¥ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা কোড CNY। চীনে সমস্ত দাম ইউয়ানে দেওয়া হয়; চীনা অক্ষরটি হলো 元 (yuán), বা আর্থিক প্রেক্ষাপটে (যেমন চেক এবং ব্যাংকনোট) 圆। একটি দাম উদাহরণস্বরূপ, ২০ 元, ২০ rmb, RMB ২০, ২০ ইউয়ান বা ¥২০ হিসাবে দেখানো হতে পারে; আমরা এখানে শেষোক্ত রূপটি ব্যবহার করছি। অনানুষ্ঠানিক কথ্য চীনা ভাষায় এবং কখনও কখনও কথ্য ইংরেজিতে, এর পরিবর্তে 块 (kuài) ব্যবহার করা হতে পারে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে "buck" বা যুক্তরাজ্যে "quid" ব্যবহার করা হয়। কিছু চীনা সফটওয়্যার একটি বড় "পূর্ণ প্রস্থের" অক্ষর (¥) প্রদর্শন করবে যাতে এটি জাপানি ইয়েন থেকে আলাদা করা যায়, যা একই প্রতীক ব্যবহার করে।
চীনা ইউয়ান হংকং এবং ম্যাকাওয়ের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলগুলিতে বৈধ মুদ্রা নয়। তারা তাদের নিজস্ব মুদ্রা জারি করে। তবে অনেক ব্যবসা চীনা মুদ্রাও গ্রহণ করবে, যদিও একটি প্রতিকূল বিনিময় হারে।
|
সংক্ষিপ্ত সহায়িকা
|
এক ইউয়ানে ১০ জিয়াও (角) থাকে। ¥০.১ মূল্যের একটি মুদ্রায় তাই 壹角 ("১ জিয়াও") লেখা থাকবে, এবং ¥৩.৭-এর মতো একটি দাম তাই "৩ কুয়াই ৭" হিসাবে পড়া হবে। জিয়াও দ্রুত বিলুপ্তির পথে, যদিও আপনি খুচরা হিসাবে মাঝে মাঝে ১ বা ৫ জিয়াও মুদ্রা বা নোট পাবেন। কথ্য ম্যান্ডারিনে, জিয়াওকে সাধারণত মাও (毛) বলা হয়। এক মাওয়ের দশ ভাগের এক ভাগ হলো একটি ফেন (分); আপনি দামে এই অঙ্কটি দেখতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি নগদে অর্থ প্রদান করেন তবে এটি রাউন্ড অফ করা হবে।
কথ্য ভাষায়, শেষের এককটি বাদ দেওয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উ বাই সান, আক্ষরিক অর্থে "পাঁচ শত তিন", মানে ৫৩০ বা "পাঁচ শত তিন দশ"। ৫০৩ সংখ্যাটি উ বাই লিং সান হিসাবে পড়া হবে, আক্ষরিক অর্থে "পাঁচ শত শূন্য তিন"। একইভাবে ই ছিয়েন বা, আক্ষরিক অর্থে "এক হাজার আট", মানে ১৮০০। বড় সংখ্যা ব্যবহার করার সময়, চীনা ভাষায় দশ হাজারের জন্য একটি শব্দ রয়েছে, ওয়ান (万), এবং তাই উদাহরণস্বরূপ ৫০,০০০ হয়ে যায় উ ওয়ান, উ শি ছিয়েন নয়।
- মুদ্রা: ¥০.১ (১ জিয়াও; অনুজ্জ্বল রূপালী বা চকচকে রূপালী), ¥০.৫ (৫ জিয়াও; সোনালী বা চকচকে রূপালী), ¥১ (রূপালী)
- নোট: ¥০.১ (১ জিয়াও), ¥০.৫ (৫ জিয়াও), ¥১, ¥৫, ¥১০, ¥২০, ¥৫০, ¥১০০
অনেক চীনা মুদ্রা নোটের আকারে থাকবে – এমনকি ছোট খুচরা টাকাও। কিছু এলাকায় বিল বেশি প্রচলিত, অন্যগুলিতে মুদ্রা, কিন্তু উভয়ই যেকোনো জায়গায় গৃহীত হয়। এমনকি জিয়াও, যা এক ইউয়ানের মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ, বিল (সবচেয়ে ছোট) এবং দুটি ভিন্ন মুদ্রা উভয় রূপেই বিদ্যমান। বিপরীতভাবে, এক ইউয়ান একটি মুদ্রা এবং দুটি ভিন্ন বিল হিসাবে বিদ্যমান। আপনার উভয় সংস্করণ চেনা এবং সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
সব ব্যবসা নগদ গ্রহণ করে না, এমনকি যদি আইনত করতে বাধ্য হয়, এবং প্রায়শই তাদের কাছে কোনো খুচরা টাকা থাকে না। আপনি যদি নগদ ব্যবহার করতে চান, তবে ছোট অঙ্কের বিল (¥১, ¥৫, ¥১০, ¥২০) এবং মুদ্রা প্রস্তুত রাখুন। আপনি একটি ব্যাংকে ছোট অঙ্কের বিল এবং মুদ্রা ভাঙাতে পারেন। বেশিরভাগ ব্যাংকে, আপনি একটি "পকেট মানি ব্যাগ" (零钱包) ভাঙাতে পারেন, যাতে বিভিন্ন ছোট অঙ্কের বিল এবং মুদ্রা থাকে। আপনি ডিফল্ট কনফিগারেশন বা একটি কাস্টম কনফিগারেশন নির্বাচন করতে পারেন, এবং ভাঙানোর পরিমাণ ¥১০০-এর এককে হয়। প্রতিটি ব্যাংকের "পকেট মানি ব্যাগের" জন্য ভিন্ন ডিজাইন রয়েছে। আপনি যদি ব্যাংকে অপেক্ষা করতে না চান বা ব্যাংক বন্ধ থাকে, তবে আপনি সুপারমার্কেট বা সুবিধাজনক দোকানগুলিতে পকেট মানি ভাঙাতে পারেন কারণ সুপারমার্কেট বা সুবিধাজনক দোকানগুলি সবসময় প্রচুর পকেট মানি প্রস্তুত রাখে।
বিদেশী মুদ্রা
[সম্পাদনা]হংকং ডলার বা মার্কিন ডলারসহ বিদেশী মুদ্রা, কিছু পাঁচ-তারা হোটেল এবং হংকং-শেনচেন সীমান্তের কিছু দোকান ছাড়া, ইউয়ানের বিকল্প হিসাবে খুব কমই দেখা যায়। অনেক দোকান অন্য মুদ্রা গ্রহণ করবে না।
জালিয়াতি
[সম্পাদনা]মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপের জনপ্রিয়তার কারণে, নকল ব্যাংকনোট আগের চেয়ে কম সমস্যা তৈরি করে, তবে আপনার এখনও সেগুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। ¥২০, ¥৫০ এবং ¥১০০-এর ব্যাংকনোটগুলি প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যখন আপনাকে খুচরা হিসাবে এই বিলগুলির একটি দেওয়া হয়, তখন এটি পরীক্ষা করে নিন। প্রধানত বিভিন্ন অংশের গঠন, ধাতব লাইন, ভিন্ন আলোতে রঙের পরিবর্তন ইত্যাদি দেখতে হয়। প্রত্যেকের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে, তাই শুধু জিজ্ঞাসা করুন।
আপনি যখন কোনো দোকান বা ট্যাক্সিতে ¥৫০ বা ¥১০০-এর ব্যাংকনোট দিয়ে অর্থ প্রদান করেন, তখন আপনি যে ব্যাংকনোটটি দিচ্ছেন তার শেষ কয়েকটি সংখ্যা লিখে রাখা সামাজিকভাবে গৃহীত। এটি এই ক্ষেত্রে কাজে দেয় যদি তারা দাবি করে যে আপনার ব্যাংকনোটটি নকল, তবে এই মনে রাখা সংখ্যাগুলি নিশ্চিত করবে যে তারা আপনাকে একই নোটটি ফেরত দিচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধু মুদ্রা বিনিময়কারী ভ্রমণকারীদের নকল নোট দেয়। নোট পরীক্ষা করার অভিজ্ঞতা না থাকলে ব্যাংকে যান। প্রধান সীমান্ত পারাপারগুলিতে প্রায়শই বড় ব্যাংকগুলির একটি দ্বারা পরিচালিত একটি মুদ্রা বিনিময় কাউন্টার থাকে; এগুলি ব্যবহার করা নিরাপদ।
ক্যাশিয়ারদের ব্যাংকনোট পরীক্ষা করাটা সাধারণ এবং কিছু দামী সুপারমার্কেটে এমনকি নকল নোট শনাক্ত করতে পারে এমন মেশিনও থাকে। এটি চীনে একটি প্রমিত অভ্যাস এবং এতে অপমানিত হওয়ার কিছু নেই।
এটিএম থেকে নকল নোট পাওয়াটা সাধারণ নয়, তবে কিছু লোক এখনও চিন্তিত থাকে। আপনি যদি চিন্তিত হন, তবে ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আপনার টাকা তুলুন এবং বলুন "আমি জিয়াবি (নকল) নিয়ে চিন্তিত"। ব্যাংক কর্মীরা এটি বোঝেন।
মুদ্রা বিনিময়
[সম্পাদনা]যদিও এখনও সীমাবদ্ধ, ইউয়ান অনেক দেশে, বিশেষ করে এশিয়ায়, সহজেই রূপান্তরযোগ্য। হংকং ডলার, মার্কিন ডলার, কানাডিয়ান ডলার, ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, জাপানি ইয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং সিঙ্গাপুর ডলার চীনে সহজেই বিনিময় করা যায়। মুদ্রা শুধুমাত্র প্রধান ব্যাংকগুলিতে (বিশেষ করে ব্যাংক অফ চায়না), বা বিমানবন্দর বা উচ্চ-মানের হোটেলগুলিতে সাধারণত পাওয়া যায় এমন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুদ্রা বিনিময়কারীদের সাথে পরিবর্তন করা উচিত, যদিও পরেরগুলি সাধারণত ভয়ানক বিনিময় হার দেয়। ব্যক্তিগত মুদ্রা বিনিময়কারী বিরল।
মুদ্রা বিনিময়ের জন্য আপনার কালোবাজার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ জালিয়াতি একটি প্রধান সমস্যা, বিশেষ করে বাজারের মুদ্রা বিনিময়কারী এবং বড় ব্যাংকগুলির আশেপাশে ঘোরাফেরা করা লোকদের সাথে।
চীনে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। একটি ব্যাংকে, বিনিময় প্রক্রিয়া করতে সাধারণত ৫ থেকে ৬০ মিনিট সময় লাগে। প্রধান শহরগুলির ব্যাংক শাখাগুলি সাধারণত পদ্ধতিটি জানে এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত কাজ করে, যখন প্রাদেশিক শহরগুলির প্রধান শাখাগুলিতেও অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে, এবং আপনার পাসপোর্ট ফটোকপি এবং স্ক্যান করা হবে। আপনি যদি বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন তবে বিনিময়ের রসিদটি রাখুন। "এক্সচেঞ্জ" লোগোসহ সব ব্যাংক অ-গ্রাহকদের জন্য বা সমস্ত মুদ্রা নগদে বিনিময় করবে না। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড শুধুমাত্র তার গ্রাহকদের জন্য নগদ বিনিময় করবে এবং শুধুমাত্র মার্কিন ডলার এবং হংকং ডলার নগদে করবে (তবে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা দ্রুত এবং এমনকি একটি পর্যটন ভিসাতেও সম্ভব, এবং তারা বেশিরভাগ স্থানীয় ব্যাংকের চেয়ে ভালো নগদ বিনিময় হার দেয়)।
মার্কিন মুদ্রা ইউয়ানে বিনিময় করাটা সহজ হতে পারে, তবে বিনিময় প্রক্রিয়া করার আগে বিলগুলি ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করা হবে বলে আশা করুন। চীন প্রবেশের আগে ইউয়ান কেনার সুযোগ, উদাহরণস্বরূপ হংকং বা ভিয়েতনাম থেকে স্থলপথে আসার সময়, নেওয়া উচিত, কারণ বিনিময় হার ভালো থাকে। বিপরীত দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য — সীমান্তের ঠিক ওপারে বিক্রি করলে প্রায়শই আরও অনুকূল হার পাওয়া যায়। আপনি শুধুমাত্র স্থানীয় মুদ্রায় সর্বাধিক ¥২০,০০০ নগদ আমদানি বা রপ্তানি করতে পারেন, এবং বিদেশী মুদ্রায় US$৫,০০০ নগদের বেশি অঙ্কের জন্য কাগজপত্রের প্রয়োজন।
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ব্যাংক আপনাকে একটি চীনা এটিএমে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ অগ্রিম নেওয়ার অনুমতি দেবে। তবে, এই ধরনের লেনদেনের জন্য হার প্রায়শই প্রতিকূল হয় এবং এতে উচ্চ পরিষেবা চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আপনার কাছে যদি নগদ মেশিনের অ্যাক্সেস না থাকে তবে পাউন্ড স্টার্লিং, মার্কিন ডলার বা জাপানি ইয়েনের মতো একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা সাথে রাখাটা কার্যকর।
আপনি যদি চীনে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা করেন, যেমন কাজ বা পড়াশোনার জন্য, তবে আপনি একটি চীনা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইতে পারেন। আরও তথ্যের জন্য চীনে কাজ করা#ব্যাংকিং দেখুন।
মোবাইল পেমেন্ট
[সম্পাদনা]
ভিসা এবং মাস্টারকার্ড খুব কমই গৃহীত হয় তাই উইচ্যাট পে (微信支付 ওয়েক্সিন ঝিফু) এবং আলিপে (支付宝 ঝিফুবো) সেট আপ করা অপরিহার্য। উভয় পরিষেবা এখন আপনার দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভিসা এবং মাস্টারকার্ডের মতো বিদেশী ব্যাংক কার্ড লিঙ্ক করা সমর্থন করে। আপনি যদি একটি অস্থায়ী সিম কার্ড ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন, তবে আপনি পৌঁছনোর পর আপনার কার্ড লিঙ্ক করার জন্য অপেক্ষা করুন।
উইচ্যাট পে এবং আলিপে উভয়ই লিঙ্ক করাটা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ বেশিরভাগ বিক্রেতা এক বা উভয় প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করে। আলিপে+ আঞ্চলিক ই-ওয়ালেটের মাধ্যমেও পেমেন্টের অনুমতি দেয়, যার মধ্যে রয়েছে আলিপেএইচকে (হংকং এসএআর, চীন), কাস্পি.কেজেড (কাজাখস্তান), এমপে (ম্যাকাও এসএআর, চীন), টাচ 'এন গো ই-ওয়ালেট (মালয়েশিয়া), হিপে (মঙ্গোলিয়া), নায়াপে (পাকিস্তান), চাঙ্গি পে (সিঙ্গাপুর), ওসিবিসি ডিজিটাল (সিঙ্গাপুর), কাকাও পে, নাভের পে, টস পে (দক্ষিণ কোরিয়া), এবং ট্রুমনি (থাইল্যান্ড)।
নির্দেশনার জন্য, দ্য বেইজিংগার এই পরিষেবাগুলি সেট আপ করার জন্য একটি সচিত্র নির্দেশিকা সরবরাহ করে।
একটি ব্যাকআপ হিসাবে, পর্যাপ্ত চীনা নগদ সাথে রাখুন, কারণ ইউএসডি বা ইউরোর মতো বিদেশী মুদ্রা খুব কমই গৃহীত হয়। ব্যাংকগুলিতে বিদেশী মুদ্রা বিনিময় করাটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, কখনও কখনও দু ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। বিকল্পভাবে, আপনি বেশিরভাগ এটিএম থেকে নগদ তুলতে পারেন।
চীনা পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলি পুরোপুরি ব্যবহার করার জন্য একটি চীনা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন, কিন্তু আলিপে এখন বিদেশী ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের একটি আইডি নিবন্ধন না করেই বছরে ২,০০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার অনুমতি দেয়। নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত একক লেনদেন করতে পারে, যার বার্ষিক সীমা ৫০,০০০ ডলার। উইচ্যাটও নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের জন্য বিদেশী কার্ড গ্রহণ করে, যেমন প্রিপেইড ফোন ব্যালেন্স রিলোড করা বা ডেলিভারি অর্ডার করা, যদিও প্রয়োজনীয়তাগুলি ঘন ঘন পরিবর্তিত হতে পারে।
অন্যান্য এনএফসি পেমেন্ট বিকল্প, যেমন অ্যাপল পে, ব্যাপকভাবে গৃহীত হয় না। এনএফসি টার্মিনালগুলি সাধারণত শুধুমাত্র কন্ট্যাক্টলেস ইউনিয়নপে কার্ডের সাথে কাজ করে। যদিও বড় শহরগুলির কিছু দোকান অ্যাপল পে গ্রহণের বিজ্ঞাপন দেয়, এটি সাধারণত একটি ইউনিয়নপে কার্ডের প্রয়োজন হয় এবং ভিসা, মাস্টারকার্ড বা অ্যামেক্সের সাথে কাজ করবে না। গুগলের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল ভূখণ্ড চীনে গুগল পে সম্পূর্ণ अनुपलब्ध।
এটিএম
[সম্পাদনা]অনেক এটিএম শুধুমাত্র চীনা ব্যাংক কার্ড গ্রহণ করবে। চারটি বড় ব্যাংকের মধ্যে তিনটির এটিএম বিদেশী (ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স, ডাইনার্স) কার্ড গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে: ব্যাংক অফ চায়না (বিওসি), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ চায়না (আইসিবিসি), এবং চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক (সিসিবি)। যদিও অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম প্রচুর রয়েছে, তারা ভিসা/মাস্টারকার্ড/সিরাস গ্রহণ করার কথা বললেও এবং একটি ইংরেজি বিকল্প থাকলেও, তারা একটি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের সাথে কাজ করার সম্ভাবনা কম যদি না এটিএম অপারেটর একটি বিদেশী বড় নামের ব্যাংক (এইচএসবিসি, সিটিব্যাংক, ব্যাংক অফ ইস্ট এশিয়া) হয়।
ভ্রমণের আগে, আপনার দেশের ব্যাংক এই ধরনের লেনদেনে একটি মুদ্রা রূপান্তর ফি (প্রায়শই ০-৩% এর মধ্যে) চার্জ করে কিনা তা জেনে নিন। সম্ভব হলে আগে থেকে একটি শূন্য রূপান্তর ফি অ্যাকাউন্ট খোলাটা সার্থক।
যদি আপনার সমস্যা হয় কারণ এটিএমের একটি ৬-সংখ্যার পিন প্রয়োজন এবং আপনার পিন মাত্র চার অঙ্কের, তবে এর আগে দুটি শূন্য যোগ করে চেষ্টা করুন। আপনি যদি এমন কোনো শহরে নিজেকে খুঁজে পান যেখানে একটি ব্যাংক অফ চায়না শাখা রয়েছে কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক-সক্ষম এটিএম নেই, তবে ব্যাংকের ভিতরে একটি ক্রেডিট কার্ডে ৩% মূুল্যের বিনিময়ে নগদ অগ্রিম পাওয়া সাধারণত সম্ভব। শুধু জিজ্ঞাসা করুন।
ইউনিয়নপে, স্থানীয় এটিএম কার্ড নেটওয়ার্ক, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এটিএম কার্ড নেটওয়ার্কের সাথে চুক্তি করেছে। যদি আপনার কার্ডটি আওতাভুক্ত হয়, তবে চীনের যেকোনো এটিএম আপনার কার্ড থেকে উত্তোলন এবং ব্যালেন্স অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করবে। যদিও ইউনিয়নপে এটিএম এবং/অথবা ডেবিট কার্ড এখন বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাংক দ্বারা জারি করা হয়, আমেরিকাতে এনওয়াইসিই এবং পালসের সাথে সংযুক্ত এটিএম কার্ডগুলি (ডিসকভার কার্ড থেকে নগদ অগ্রিমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য), কানাডাতে ইন্টারঅ্যাক, এবং যুক্তরাজ্যে লিঙ্ক আওতাভুক্ত।
যদি আপনার ব্যাংক গ্লোবাল এটিএম অ্যালায়েন্সের অংশ হয়, তবে ব্যাংক অফ নানজিং হলো ফি-মুক্ত উত্তোলনের জন্য স্থানীয় অংশীদার, ব্যাংক অফ আমেরিকা ছাড়া, যেখানে চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক হলো স্থানীয় অংশীদার, এবং বার্কলেস, যার কোনো স্থানীয় অংশীদার নেই।
ক্রেডিট কার্ড
[সম্পাদনা]
স্টার-রেটেড বা চেইন হোটেল, প্রধান সুপারমার্কেট এবং উচ্চ-শ্রেণীর রেস্তোরাঁগুলির বাইরে, ভিসা এবং মাস্টারকার্ডের মতো বিদেশী ক্রেডিট কার্ডগুলি সাধারণত গৃহীত হয় না এবং বেশিরভাগ লেনদেনের জন্য নগদ বা মোবাইল পেমেন্টের প্রয়োজন হবে। অনেক ডিপার্টমেন্ট দোকান এবং বড় মুদি দোকানে চীনা ব্যাংক কার্ডের জন্য পয়েন্ট-অফ-সেল টার্মিনাল থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ বিদেশী কার্ড সমর্থিত নয়।
বেশিরভাগ চীনা ব্যাংক এবং অনেক ব্যবসায়ী ইউনিয়নপে সিস্টেম ব্যবহার করে, তাই ইউনিয়নপে সমর্থনকারী একটি বিদেশী কার্ড সম্ভবত ব্যাপকভাবে গৃহীত হবে। বেশ কয়েকটি দেশে এখন এমন ব্যাংক রয়েছে যা ইউনিয়নপে ক্রেডিট কার্ড জারি করে, এবং ইউনিয়নপে ডিসকভার এবং জেসিবি (জাপান ক্রেডিট ব্যুরো) কার্ডও সমর্থন করে। ভিসা, মাস্টারকার্ড এবং আমেরিকান এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে কম প্রচলিত। বেশিরভাগ সুবিধাজনক দোকান ইউনিয়নপে গ্রহণ করে, যেমন বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ চেইন, উচ্চ-মূল্যের আইটেম বিক্রি করা দোকান, মুদি দোকানের চেইন এবং বেশিরভাগ এটিএম। ২০১৭ সালে, রিপোর্ট করা হয়েছিল যে চিপসহ নতুন ডিসকভার কার্ডগুলির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করতে হয়েছিল বা বেশিরভাগ পিওএস মেশিনে একেবারেই কাজ করেনি। আপনার একমাত্র অর্থপ্রদানের পদ্ধতি হিসাবে ক্রেডিট কার্ডের উপর নির্ভর করবেন না।
একটি আন্তর্জাতিক কার্ডের জন্য সাইন আপ করার কথা বিবেচনা করুন যা ইউনিয়নপের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে। আপনার যদি হংকংয়ে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে তবে আপনি একটি ইউনিয়নপে কার্ডসহ একটি অতিরিক্ত রেনমিনবি অ্যাকাউন্ট খুলতে সক্ষম হতে পারেন যা মূল ভূখণ্ডে ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক।
ডেবিট কার্ডের মতোই, চীনা খুচরা কেরানিরা সাধারণত চিপ-এবং-পিন কার্ডের জন্য পিন প্রবেশের জন্য কার্ডধারীর কাছে পিওএস ক্রেডিট কার্ড টার্মিনাল উপস্থাপন করবে। শুধুমাত্র স্বাক্ষরকারী দেশগুলির দর্শকদের সেই বিষয়টি কেরানিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা উচিত (যখন চিপ-এবং-স্বাক্ষর কার্ডগুলি বেশিরভাগ টার্মিনালকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিন প্রম্পটটি এড়িয়ে যেতে বাধ্য করবে), এবং যথারীতি রসিদে স্বাক্ষর করা উচিত।
খরচ
[সম্পাদনা]পশ্চিমা পর্যটকদের জন্য চীন সাশ্রয়ী। যদিও এটি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ অংশের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেশি ব্যয়বহুল। আপনি যদি হংকং বা ম্যাকাও না যান, তবে চীন সাধারণত শিল্পোন্নত দেশগুলির চেয়ে একজন পর্যটকের দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক কম ব্যয়বহুল। আপনি যদি স্থানীয় খাবার খান, গণপরিবহন ব্যবহার করেন এবং বাজেট হোটেল বা হোস্টেলে থাকেন, তবে প্রতিদিন ¥২০০-৩০০ একটি ভালো ব্যাকপ্যাকার বাজেট। তবে, আপনি যদি একটি বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে চান এবং শুধুমাত্র পশ্চিমা খাবার খেতে ও বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে চান, তবে প্রতিদিন ¥৩,০০০-ও যথেষ্ট হবে না। একটি সাধারণ নিয়ম হিসাবে, মৌলিক জিনিসপত্র তুলনামূলকভাবে সস্তা, কিন্তু বিলাসবহুল জিনিসের দাম অত্যাধিক, এমনকি জাপান এবং পশ্চিমা দেশগুলির মান অনুযায়ীও। বিশেষ করে পশ্চিমা-ব্র্যান্ডের পণ্যগুলি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, কখনও কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই জিনিসের জন্য আপনি যা দেবেন তার দ্বিগুণেরও বেশি।
আপনি কোথায় যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে দামের মধ্যে একটি উচ্চ মাত্রার পার্থক্য রয়েছে। সাংহাই, বেইজিং এবং গুয়াংজুর মতো প্রধান শহরগুলিতে সাধারণত ছোট শহর এবং দেশের গ্রামীণ, অভ্যন্তরীণ অংশগুলির চেয়ে বেশি খরচ হয়। শেনচেন এবং ঝুহাইয়ের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল শহরগুলিও জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। তা সত্ত্বেও, অনেক হংকং বা ম্যাকাওয়ের বাসিন্দা (যারা যথাক্রমে শেনচেন এবং ঝুহাইয়ের সীমান্তের ঠিক ওপারে বাস করে, এবং যারা সাধারণত মূল ভূখণ্ডের লোকদের চেয়ে বেশি সম্পদশালী), প্রায়শই এই শহরগুলিতে কেনাকাটা করতে, গলফ খেলতে এবং মালিশের মতো পরিষেবা উপভোগ করতে যান কারণ দাম অনেক কম।
বখশিশ
[সম্পাদনা]একটি সাধারণ নিয়ম হিসাবে, চীনে বখশিশ দেওয়ার প্রথা নেই। যদিও বখশিশ দেওয়াকে খুব কমই অপমানজনক বলে মনে করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে একটি বখশিশকে এমনভাবে দেখা হতে পারে যে একটি সম্পর্ক বন্ধুত্বের উপর নয়, অর্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। আপনার টেবিলে বখশিশ রেখে গেলে, একজন ওয়েটারকে আপনার "ভুলে যাওয়া" টাকা ফেরত দিতে আপনার পিছনে ছুটে আসতে দেখাটা সাধারণ।
চীনে, পরিষেবার প্রতি প্রশংসা সাধারণত পরোক্ষ উপায়ে প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি ধূমপায়ী হন, তবে আপনার কাছ থেকে পরিষেবা কর্মী বা ব্যবস্থাপককে একটি সিগারেট দেওয়ার আশা করা হয়। আপনি যদি তা না করেন তবে আপনাকে স্বার্থপর এবং অহংকারী হিসাবে দেখা হবে। একজন বারটেন্ডার বা পানশালার মালিককে একটি পানীয় কিনে দেওয়াটা সাধারণ।
একটি হোটেলে, রুম সার্ভিস, বিমানবন্দর পরিষেবা, ট্যাক্সি বা অন্য কিছুর জন্য বখশিশ না দেওয়াটাই প্রথাগত। যদিও যে হোটেলগুলি নিয়মিত বিদেশী পর্যটকদের পরিষেবা দেয় তারা ট্যুর গাইড এবং সংশ্লিষ্ট চালকদের জন্য বখশিশ দেওয়ার অনুমতি দিতে পারে। শেনচেনের মতো কিছু এলাকার মালিশকারীরা বখশিশ চাইতে পারে বলে শোনা যায়। তবে, যদি তারা পীড়াপীড়ি করে, তবে বেশিরভাগ চীনারা এটিকে চাঁদাবাজি এবং একটি অনৈতিক অভ্যাস হিসাবে দেখে, তাই আপনি যদি কোনো বখশিশ দিতে না চান তবে দৃঢ় থাকুন।
ট্যাক্সিচালকরা যদি আপনার যাত্রার জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করে তবে কয়েক ইউয়ান বাড়িয়ে দিলে তারা প্রশংসা করে; তবে, এটি কোনোভাবেই আবশ্যক নয়।
কেনাকাটা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে কেনাকাটা
|
রপ্তানি নিষিদ্ধ পুরাকীর্তি
চীন সরকার ১৯১১ সালের আগের পুরাকীর্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। ১৯১১ সালে ছিং রাজবংশকে উৎখাতকারী বিপ্লব হয়েছিল। এই আইন লঙ্ঘন করলে भारी জরিমানা এবং এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। |
কেনাকাটা চীনে একটি জাতীয় বিনোদন।
বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের দোকান, উচ্চমানের বিপণিবিতান এবং সুপারমার্কেটগুলিতে, দামে ইতিমধ্যে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং যেকোনো বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুতরাং, চিহ্নিত মূল্য থাকা যেকোনো জিনিস সেই দামে বা, সম্ভবত, কিছুটা কমে বিক্রি হয়, বিশেষ করে যদি আপনি নগদে অর্থ প্রদান করেন এবং আপনার ক্রয়ের জন্য রসিদের প্রয়োজন না হয়। অচিহ্নিত পণ্যের জন্য, দর কষাকষির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। হংকং, ম্যাকাও, তাইওয়ান এবং বিদেশী দেশগুলির পর্যটকরা মূল ভূখণ্ড চীন ছাড়ার সময় ভ্যাটের আংশিক ফেরত দাবি করতে পারেন, যদি তারা নির্দিষ্ট বন্দর দিয়ে প্রস্থান করেন। দেখুন চীনে কেনাকাটা#ভ্যাট ফেরত।
চীন হস্তনির্মিত সামগ্রী নির্মাণে পারদর্শী। এর দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত এখানকার উৎকৃষ্ট কারুশিল্পের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। দ্বিতীয়ত এখানকার শ্রম এখনও তুলনামূলকভাবে সস্তা। আপনাকে "পুরাকীর্তি" হিসেবে দেখানো সামগ্রীর প্রায় সবটাই নকল। সেগুলি দেখতে যতই বিশ্বাসযোগ্য হোক না কেন তা নকলই হয়। বিক্রেতা আপনাকে যাই বলুক না কেন তা বিশ্বাস করবেন না।

- চীনামাটি: চীনামাটি উৎপাদনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চীন আজও চমৎকার চীনামাটির জিনিস তৈরি করে।
- আসবাবপত্র: চীন প্রাচীন আসবাবপত্রের একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
- শিল্প এবং চারুকলা: ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলা আধুনিক শিল্প এবং মহান কাজের হাতে আঁকা প্রতিরূপ।
- জেড চীনে আজ দুই ধরনের জেড পাওয়া যায়: এক ধরনের ফ্যাকাশে এবং প্রায় বর্ণহীন এবং এটি চীনে খনি থেকে তোলা বিভিন্ন পাথর থেকে তৈরি হয়। অন্য ধরনটি সবুজ রঙের এবং এটি মায়ানমার (বার্মা) থেকে আমদানি করা হয় - যদি আসল হয়!
- কার্পেট: চীন মঙ্গোলিয়ান, নিংজিয়া, শিনচিয়াং, তিব্বতি এবং আধুনিক প্রকারসহ অসাধারণ বৈচিত্র্যময় কার্পেট তৈরির ঐতিহ্যের আবাসস্থল।
- মুক্তা ও মুক্তার গয়না: চাষ করা আকোয়া এবং মিঠা পানির মুক্তা ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয় এবং চীনের বাজারগুলিতে বিক্রি হয়।
- অন্যান্য শিল্প ও কারুশিল্প: ক্লইসনে যা ধাতব ভিত্তির উপর রঙিন মিনার কাজ। এছাড়াও আছে লাক্ষাকর্ম গীতাভিনয়ের মুখোশ ঘুড়ি এবং ছায়া পুতুল। সমাজতান্ত্রিক-বাস্তববাদী প্রচারপত্র কাঠের খোদাই ও কাগজ কাটার শিল্পকর্মও দেখা যায়। বিদ্বানদের পাথর আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ। এগুলি হলো আলংকারিক পাথর যার কিছু প্রাকৃতিক এবং কিছু কৃত্রিম হয়। এরকম আরও অনেক শিল্পকর্ম এখানে বিদ্যমান।
- পোশাক: চীন পোশাক, জুতো এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদক। চীনের যেকোনো জায়গায় সাশ্রয়ী মূল্যের দর্জি রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চীনা পোশাকও রয়েছে, এবং একটি ক্রমবর্ধমান পুনরুজ্জীবন আন্দোলন চলছে।
- ব্র্যান্ড-নামের পণ্য: আসল ব্র্যান্ডেড বিদেশী পণ্য পশ্চিমা দেশগুলির চেয়ে সস্তা হবে না। নকল বা জাল ব্র্যান্ড-নামের পণ্যের অনেক উৎস রয়েছে।
- সফটওয়্যার, সঙ্গীত এবং চলচ্চিত্র: চীনে বেশিরভাগ সিডি (সঙ্গীত বা সফটওয়্যার) এবং ডিভিডি অননুমোদিত কপি।
- বিপন্ন প্রজাতি: কেনা এড়িয়ে চলুন — প্রবাল, হাতির দাঁত এবং বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির অংশ। যে কেউ এই ধরনের পণ্য কিনলে চীন থেকে সেগুলি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বা অন্য কোনো দেশে সেগুলি আমদানি করার চেষ্টা করার সময় যথেষ্ট জরিমানা এবং/অথবা জেলের ঝুঁকি থাকে।
- ইলেকট্রনিক্স: চীনা সংস্থাগুলি কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সে উদ্ভাবক। বিশেষ করে, তারা ফটোগ্রাফির জন্য ড্রোনে বিশ্বনেতা হয়ে উঠেছে। শেনচেন তার ইলেকট্রনিক্স বাজারের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত।
দর কষাকষি
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে কেনাকাটা#দর কষাকষি, দর কষাকষি

দর কষাকষি চীনে একটি জাতীয় বিনোদন। আপনি প্রায় যেকোনো কিছুর উপর দর কষাকষি করতে পারেন। কখনও কখনও মূল্য পরিশোধের আগে শেষ মুহূর্তে একটি ভোজনালয়েও ছাড় চাওয়া সম্ভব। আপনি বিশেষভাবে বড় মাপের খাবারের ফরমায়েশ দিলে অনেক ভোজনালয় বা পানশালা স্বেচ্ছায় একটি বা দুটি পদ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। যেমন একটি কেটিভিতে ফলের থালা দেওয়া হয়। বিপণীকেন্দ্রগুলিতে দর কষাকষির সুযোগ কম থাকে। কিন্তু "আমি কি একটি উপহার পাব" এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে কোনো ক্ষতি নেই।
দাম প্রায় সবসময়ই লেখা থাকে। কিন্তু সেই দাম যথেষ্ট বাড়ানো থাকে। সাধারণত তা আসল দামের দুই থেকে তিন গুণ হয়। পর্যটন কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্মারকচিহ্ন কেনা প্রায়শই ভালো।
আলোচনা শুরু করার সময় কত দাম প্রস্তাব করবেন তা বলা কঠিন। শহর পণ্য বা বিপণির উপর নির্ভর করে প্রস্তাবিত দাম ভিন্ন হয়। সাধারণত লেখা দাম বা বিক্রেতার প্রথম প্রস্তাবের পাঁচ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ দাম দেওয়া হয়। যদি কেউ আপনাকে অবিশ্বাস্যরকম বড় ছাড়ের প্রস্তাব দেয় তবে একটি বিষয় বুঝতে হবে। এটি পণ্যের নিম্নমানের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণ নিয়ম হলো ঘুরে দেখা এবং তুলনা করা। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় চাওয়াটা সাধারণ। কিন্তু স্থানীয়দের জন্য তৈরি কোনো জায়গায় পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় চাওয়াটা বোকামি মনে হতে পারে।
পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ব্যবসায়ীদের কথা গুরুত্ব সহকারে নেবেন না। আপনি যখন পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় চাইবেন তখন তারা আতঙ্কিত হওয়ার ভান করতে পারে। তারা আপনাকে অবজ্ঞাও দেখাতে পারে। এটি তাদের একটি প্রিয় অভিনয়।
মৌলিক সামগ্রী
[সম্পাদনা]আপনার আবাসনের হাঁটা পথের মধ্যে কোনো বিপণিবিতান না থাকলে সুবিধাজনক দোকানে যাওয়া ভালো। এই বিপণিবিতান বিষয়ে পরবর্তী বিভাগে আলোচনা করা হয়েছে। মৌলিক সরবরাহ ও সদাইপত্র কেনার জন্য সুবিধাজনক দোকান প্রায় সবসময়ই সেরা বিকল্প। চীনের প্রধান শৃঙ্খলগুলির মধ্যে কেদি অলডেজ ফ্যামিলি মার্ট ও ৭-ইলেভেন অন্তর্ভুক্ত। অনেক সুবিধাজনক দোকানে পৃথক কাগজের রুমালের মোড়ক বিক্রি হয়। চীন ভ্রমণের জন্য এটি একটি অপরিহার্য জিনিস। এর কারণ হলো অনেক সাধারণ শৌচাগারে শৌচপত্র থাকে না। চীনের কিছু ছাড়ের এবং মাঝারি বাজারের বিভাগীয় বিপণিতেও সদাইপত্রের একটি অংশ থাকে।
পশ্চিমা পণ্য
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে কেনাকাটা#ব্র্যান্ড-নামের পণ্য
বেইজিং সাংহাই গুয়াংজু ও শেনচেনের মতো বড় প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে। সেখানে ওই সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সদাইপত্রের দোকান দেখা যায়। তারা সাধারণত আমদানি করা জলখাবার মদ্যপ পানীয় এবং বিশেষ খাদ্যদ্রব্য মজুত রাখে। মাংস ও পনিরের মতো জিনিসও এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলি প্রায়শই খুব ব্যয়বহুল হয়।
বেশ কিছু পশ্চিমা মালিকানাধীন বিপণি-শৃঙ্খল চীনে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার ওয়াল-মার্ট (沃尔玛 ওয়ো'রমি) জার্মানির মেট্রো (麦德龙 মাইডেলং) এবং ফ্রান্সের ক্যারেফোর (家乐福 জিয়ালেফু)। সবগুলিতেই কিছু পশ্চিমা খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়। সেগুলির মূল্য প্রায়শই বেশি হয়। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়। শহরের আকার ছোট হলে তাদের শাখাগুলিতে বিদেশী পণ্যের জোগান কমে যায়। মেট্রো সম্ভবত এগুলির মধ্যে সেরা। বিশেষ করে এখানে সাধারণত মদ্যপ পানীয়ের একটি চমৎকার সম্ভার থাকে। এশীয় মালিকানাধীন শৃঙ্খলও রয়েছে। এর মধ্যে আছে জাপানের এইওএন (永旺 Yǒngwàng) তাইওয়ানের আরটি-মার্ট (大润发 দারুনফা) দক্ষিণ কোরিয়ার লোটে মার্চ (乐天玛特 লেটিয়ানমেট) এবং ফিলিপিন্সের এসডব্লিউ। এগুলিতেও আমদানি করা পণ্য পাওয়া যায়। কিছু বড় চীনা শৃঙ্খলও বিদেশী পণ্যের সীমিত সম্ভার রাখে। যেমন বেইজিং হুয়ালিয়ান (北京华联 বেইজিং হুয়ালিয়ান) এর একটি উদাহরণ।
তামাক
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে কেনাকাটা#তামাক টেমপ্লেট:প্রধান
ধূমপান বেশ সাধারণ এবং সিগারেট (香烟 xiāngyān) সাধারণত সস্তা। সিগারেট ছোট পাড়ার দোকান, সুবিধাজনক দোকান, সুপারমার্কেটের কাউন্টার এবং ডিপার্টমেন্ট দোকান থেকে কেনা যায়। রোলিং তামাক এবং কাগজ শহুরে চীনে বিরল। লাইটার (打火机 dǎhuǒjī) সাধারণত সস্তা (প্রায় ¥১) কিন্তু নিম্নমানের। জিপ্পো পাওয়া যায় কিন্তু ব্যয়বহুল।
চীনে ধূমপান একটি সামাজিক কার্যকলাপের মতো। একটি বার বা রাতের খাবারে খুব কম চীনারাই টেবিলের চারপাশে, বা অন্তত পুরুষদের সিগারেট অফার না করে নিজে জ্বালায় কারণ খুব কম চীনা মহিলাই ধূমপান করে; দর্শকদেরও একই কাজ করা উচিত। একটি দামী ব্র্যান্ড থাকাটা একটি স্ট্যাটাস সিম্বল।
আহার
[সম্পাদনা]- মূল নিবন্ধ: চীনা রন্ধনশৈলী
চীনে খাবার অঞ্চলভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই "চীনা খাবার" শব্দটি একটি সাধারণ संज्ञा মাত্র। এটি "পশ্চিমা খাবার" শব্দটির মতোই একটি ব্যাপক ধারণা। তবুও এর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। চীনে রন্ধনশিল্পের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এখানকার পদগুলিতে সূক্ষ্মভাবে অনেক স্বাদ সুগন্ধ এবং রঙের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। প্রতিটি অঞ্চল নিজেদের উপলব্ধ উপাদানের উপর ভিত্তি করে নিজস্ব রন্ধনশৈলী ও কৌশল তৈরি করেছে। তাই শীতল অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে আপনি মশলাদার মাংস-ভরা পদ পাবেন। উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায় ধীরে ধীরে রান্না করা সামুদ্রিক খাবারের ঝোল। গুয়াংজুর মতো ব্যস্ত দক্ষিণ বন্দরগুলিতে দ্রুত ভাজা তাজা সবজির চল রয়েছে। উত্তর-পূর্বে এর কুখ্যাত কঠোর শীতের কারণে সহজ এবং তৃপ্তিদায়ক মাংসের পদ তৈরি হয়। এমনকি অনেক স্থানীয় চীনারাও তাদের নিজ অঞ্চলের বাইরের খাবারকে "বিদেশী" বলে মনে করে।
দক্ষিণ চীনে ভাত (米饭 মাফান) একটি প্রধান খাদ্য। এটি অনেক খাবারের সাথে পরিবেশন করা হয়। এটি এতটাই প্রচলিত যে এর মূল শব্দ 饭 (ফ্যান)-এর দুটি অর্থ হয়। এর একটি অর্থ খাবার এবং অন্যটি রান্না করা শস্য। এটি সাধারণ সাদা ভাত হিসেবে পরিবেশন করা হয়। তখন এটিকে সহ পদ হিসেবে খাওয়া হয়। অথবা মূল পদের ঝোল শুষে নেওয়ার জন্য ভিত্তি হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। ভাতকে বিভিন্ন উপাদানের সাথে ভেজে ফ্রায়েড রাইস তৈরি করা হয়। এটি একটি দ্রুত ও সুস্বাদু পথখাবার। বাড়িতে বেঁচে যাওয়া খাবার ব্যবহারের এটি একটি সাধারণ উপায়। ভাত দিয়ে কঞ্জি (粥 ঝোউ) বানানো হয়। এটি একটি সাধারণ প্রাতঃরাশ। নুডলস (面 মিয়ান) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান খাদ্য। এটি চাল বা গম থেকে তৈরি হয়। এটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিবেশন করা হয়। সয়াবিন থেকে সয়া সস তৈরি হয়। এটি চীনা রান্নায় একটি অপরিহার্য উপকরণ। সয়াবিন দিয়ে তোফু (豆腐 দউফু) তৈরি করা হয়। এটি শুধু স্বাদহীন সাদা খণ্ড হিসেবেই পাওয়া যায় না বরং এর আরও অনেক রূপ আছে। কিছু তোফু মাংসের মতো স্বাদযুক্ত ও মুচমুচে হতে পারে। অন্যান্য কিছু তোফুর গন্ধ বেশ তীব্র হয় যা অনেকটা নীল পনিরের মতো।
চীনা ভোজনরসিকরা সতেজতার উপর জোর দেয় তাই আপনার খাবার সম্ভবত আপনি অর্ডার করার সাথে সাথেই রান্না করা হবে। কয়লা বা গ্যাসের আগুনে গরম কড়াইতে রান্না করা হয় বলে এমনকি রাস্তার খাবারও সাধারণত খাওয়ার জন্য নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে তাজা প্রস্তুত রাস্তার খাবার প্রায়শই ৫-তারা হোটেলের বুফে লাইনে বসে থাকা খাবারের চেয়ে নিরাপদ। তবুও, সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করুন: যদি এটি একটি তীব্র গরমের দিন হয় এবং কাবাব বিক্রেতার কাঁচা মাংস কাউন্টারে ফ্রিজ ছাড়া বসে থাকে, তবে আপনি হয়তো অন্য কোথাও যেতে চাইবেন।
বিভিন্ন ধরনের চীনা খাবার দ্রুত, সস্তা, সুস্বাদু, হালকা খাবার সরবরাহ করে। চীনের শহরগুলিতে সর্বত্র রাস্তার খাবার এবং বহনযোগ্য বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিক্রি হওয়া জলখাবার পাওয়া যায়, যা প্রাতঃরাশ বা জলখাবারের জন্য ভালো। এবং পশ্চিমা-শৈলীর ফাস্ট ফুড সম্ভবত দেশীয় প্রকারের মতোই জনপ্রিয়।
চীনে Yelp এবং TripAdvisor কার্যত অজানা, যখন মিশেলিন গাইড শুধুমাত্র সাংহাই এবং গুয়াংজুকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং বেশিরভাগ চীনা মানুষ এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেয় না। পরিবর্তে, বেশিরভাগ চীনা মানুষ রেস্তোরাঁর রেটিংয়ের জন্য দাঝনং দিয়ানপিয়ানংয়ের উপর নির্ভর করে, কিন্তু এর অসুবিধা হলো এটি শুধুমাত্র চীনা ভাষায় উপলব্ধ।
শিষ্টাচার
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা রন্ধনশৈলী#সম্মান
চীন চপস্টিকের (筷子 kuàizi)জন্মস্থান, যা বেশিরভাগ চীনা খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয়। চীনা রন্ধনশৈলী চপস্টিক ব্যবহার করে খাওয়ার জন্য বিকশিত হয়েছে, যেখানে প্রায় সমস্ত খাবার কামড়ের আকারের টুকরো বা সহজে আলাদা করা যায় এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়। চপস্টিক দিয়ে খাওয়া শেখাটা আশ্চর্যজনকভাবে সহজ একটি দক্ষতা, যদিও এতে পারদর্শী হতে কিছুটা সময় লাগে। কিছু চপস্টিক নির্দেশিকা সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত:
- খাবারের বাটিতে চপস্টিক কখনোই খাড়া করে রাখবেন না (অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচারের কথা মনে করিয়ে দেয়), আপনার চপস্টিক থেকে অন্য কারো চপস্টিকে কিছু দেবেন না (আরেকটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার), বা চপস্টিক দিয়ে আপনার বাটিতে আঘাত করবেন না (ভিক্ষুকের কথা মনে করিয়ে দেয়)।
- সবসময় চপস্টিক জোড়া হিসাবে ব্যবহার করুন, একটি চিমটার সেটের মতো; কখনোই একবারে একটি চপস্টিক ব্যবহার করবেন না (বা প্রতিটি হাতে একটিও নয়), সেগুলিকে আপনার মুষ্টিতে একটি ছুরি বা ছোরাের মতো ধরবেন না, বা একটি ছুরি দিয়ে যেমন কাটেন তেমনভাবে খাবার "কাটার" চেষ্টা করবেন না। চপস্টিক দিয়ে খাবার গেঁথে নেওয়া সাধারণত অভদ্রতা এবং এটি শুধুমাত্র শেষ উপায় হিসাবেই করা উচিত।
- চপস্টিক দিয়ে প্লেট বা বাটি সরানো অভদ্রতা।
- চপস্টিক দিয়ে কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করা অভদ্রতা। (সাধারণভাবে মানুষের দিকে ইঙ্গিত করাই অভদ্রতা; চপস্টিক দিয়ে করাটা আরও বেশি অভদ্রতা।) এমনকি টেবিলে চপস্টিক রাখার সময়ও, সেগুলিকে এমনভাবে কোণ করে রাখুন যাতে সেগুলি কারো দিকে নির্দেশ না করে।
- সাধারণ নিয়ম হলো, খাওয়ার সময় আঙুল দিয়ে খাবার স্পর্শ না করা। এমনকি ভাজা মুরগির মতো খাবারও চপস্টিক দিয়ে তুলে, যতটা সম্ভব কম স্পর্শ করে, সাবধানে খাওয়া হয়। খাবারের ছোট কাঁটা বা হাড় মুখ থেকে সরাসরি প্লেট বা বাটিতে ফেলতে হয়; হাত বা চপস্টিক দিয়ে সেগুলো বের করাটা অশোভন। যেসব খাবার হাত দিয়ে খাওয়ার নিয়ম, সেগুলোর জন্য অনেক সময় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের দস্তানা দেওয়া হয়।
সহজে খাওয়ার জন্য যেকোনো খাবারের বাটি হাতে তুলে নেওয়াটা স্বাভাবিক, এবং আপনি আপনার চপস্টিক ব্যবহার করে শেষ কয়েকটি কামড় মুখে ঢোকানোর জন্য ভাতের বাটি সরাসরি আপনার মুখে লাগাতে পারেন। স্যুপ এবং জাউয়ের জন্য চামচ ব্যবহৃত হয়, এবং একটি স্যুপে নুডলস খাওয়ার জন্য সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহ্যবাহী চীনা ভোজনে, পদগুলি পারিবারিক শৈলীতে ভাগ করে নেওয়া হয়, এবং বড় টেবিলে প্রায়শই পদগুলি ঘোরানোর জন্য একটি লেজি সুসান থাকে।
- যৌথ চপস্টিক (公筷 gōngkuài) সবসময় দেওয়া হয় না; যদি না থাকে, তবে আপনার বাটিতে খাবার স্থানান্তরিত করার জন্য আপনার নিজের চপস্টিক ব্যবহার করুন। রেস্তোরাঁ থেকে যৌথ চপস্টিক অনুরোধ করাটা অভদ্রতা নয়, তবে এটি আপনাকে আনুষ্ঠানিকতার প্রতি কঠোর বলে মনে করাতে পারে।
- প্রতিটি যৌথ পদ একবারে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির দ্বারা পরিবেশন করা উচিত। যখন তারা পরিবেশন করছে তখন একটি দূরের পদে পৌঁছনোর জন্য কারো উপর দিয়ে হাত বাড়াবেন না; তাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- একবার আপনি আপনার প্লেটে কিছু রাখলে, তা আর ফেরত দেবেন না। কনফুসিয়াস বলেছেন, যা আপনি চান না তা অন্য কারো জন্য রেখে যাবেন না।
- টেবিলের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত খাওয়া শুরু করবেন না।
আপনার খাবারের সাথে একটি ফরচুন কুকি পাওয়ার আশা করবেন না; এটি কঠোরভাবে একটি পশ্চিমা প্রথা। (ফরচুন কুকি আসলে ক্যালিফোর্নিয়াতে বিশ শতকের প্রথম দিকে কোনো এক সময় উদ্ভাবিত হয়েছিল।) বেশিরভাগ চীনারা এর নামও শোনেনি।
আঞ্চলিক রন্ধনশৈলী
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা রন্ধনশৈলী#আঞ্চলিক রন্ধনশৈলী
বিভিন্ন ধরনের চীনা খাবারের যথেষ্ট আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা রয়েছে, যার ফলে আপনি হয়তো এর মধ্যে কয়েকটি নাম চিনতে পারবেন:
- ক্যান্টোনিজ রন্ধনশৈলী (কুয়াংতুং থেকে), বিদেশে সবচেয়ে বহুল পরিচিত চীনা খাবার। এটি খুব সাদামাটা বা খুব মশলাদার কোনোটিই নয়। ক্যান্টোনিজ রান্নায় প্রায় যেকোনো কিছুকেই উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এবং প্রায়শই খুব গরম কড়াইতে দ্রুত ভেজে বা ভাপিয়ে খাবারের সতেজতা বজায় রাখা হয়। ডিম সাম, সিউ মেই (রোস্ট করা মাংস, যার মধ্যে রোস্ট হাঁস, ক্রিসপি স্কিন রোস্ট পোর্ক, চার সিউ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত), চীনা সসেজসহ মাটির পাত্রের ভাত এবং ওয়ান্টন নুডলস হলো সবচেয়ে বিখ্যাত ক্যান্টোনিজ পদগুলির মধ্যে কয়েকটি।
- হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলী (পূর্বাঞ্চল থেকে সাংহাইয়ের দিকে), উত্তর এবং দক্ষিণ চীনা রান্নার শৈলীর একটি ভালো মিশ্রণ হিসাবে বিবেচিত হয়। পদগুলিতে সাধারণত একটি প্রধান উপাদানের উপর জোর দেওয়া হয়, যা এই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়শই সামুদ্রিক খাবার হয়; স্বাদ প্রায়শই মিষ্টি হয়, এবং প্রায় কখনোই মশলাদার হয় না। এর সবচেয়ে বিখ্যাত পদগুলির মধ্যে রয়েছে জিয়াওলংবাও (স্যুপ ডাম্পলিং), লাল করে রান্না করা শুকরের পেটের মাংস, ড্রাঙ্কেন চিকেন, এবং মিষ্টি ও টক ম্যান্ডারিন মাছ।
- সিছুয়ান বা সেচুয়ান রন্ধনশৈলী (পশ্চিম অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে), তার মালা স্বাদের জন্য অনেক বিদেশীদের কাছে জনপ্রিয়। এতে ঝনঝনে অবশতার জন্য (মা) সিছুয়ান গোলমরিচ এবং ঝালের জন্য (লা) লঙ্কা ব্যবহার করা হয়। প্রচুর মাংস, সংরক্ষিত খাবার এবং লঙ্কার তেল ব্যবহার করে এটি কুং পাও চিকেন, মাপো তোফু, দুইবার রান্না করা শুকরের মাংস এবং দানদান নুডলসের আসল রূপের জন্য বিখ্যাত।
- তেওচিউ রন্ধনশৈলী (কুয়াংতুংয়ের ছাওশান অঞ্চল থেকে), হংকং এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে সুপরিচিত। বিশেষ করে তার সেদ্ধ মাংস এবং ভাপানো পদের জন্য পরিচিত।
অন্যান্য প্রধান ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি এবং ভিনেগারযুক্ত শানতুং, নরম ফুচিয়েন, মশলাদার হুনান, ভেষজ আন্তে, এবং উপাদেয় চচিয়াং। চীনে জাতিগত সংখ্যালঘু রন্ধনশৈলীর মধ্যে রয়েছে কোরীয়, উইগুর, তিব্বতি, মঙ্গোলীয়, এবং ইউন্নানের বিভিন্ন রন্ধনশৈলী। অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব চীনা রন্ধনশৈলী মঙ্গোলীয় এবং রাশিয়ান উভয় রন্ধনশৈলী দ্বারা প্রভাবিত এবং এতে আলুর ডাম্পলিং এবং এক ধরণের বোর্শটের মতো পদ অন্তর্ভুক্ত। সাংহাই এবং হারবিনে এমনকি অনন্য চীনা-শৈলীর পশ্চিমা খাবারও পাওয়া যায়।
খাদ্যাভ্যাসের সীমাবদ্ধতা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা রন্ধনশৈলী#খাদ্যাভ্যাসের সীমাবদ্ধতা
যাদের খাদ্যাভ্যাসে সীমাবদ্ধতা রয়েছে চীনে তাদের জন্য সময়টা কিছুটা কঠিন হতে পারে। উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এমন এলাকার বাইরে হালাল খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে আপনি লানঝৌ নুডলসের (兰州拉面 লানঝো লামিয়ান) ভোজনালয়গুলি দেখতে পারেন। সেখানে আরবিতে (حلال) বা চীনা ভাষায় (清真 কিংঝেন) হালালের চিহ্ন থাকতে পারে। বিকল্প আরেকটি পথ হলো উইগুর রন্ধনশৈলী। এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। চীনের প্রতিটি প্রধান শহরে অন্তত একটি উইগুর পরিচালিত শূলপক্ব মাংসের দোকান থাকবে। সেখানে ভেড়ার মাংসের শূলপক্ব (羊肉串 yáng ròu chuàn) এবং এক ধরনের রুটি (馕 náng) বিক্রি হয়। আপনি চীনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে একটি সুবিধা পেতে পারেন। বেশিরভাগ প্রধান চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের জন্য হালাল ভোজনালয় রয়েছে। কোশের খাবার চীনে প্রায় অজানা। এজন্য আপনার ভ্রমণের আগে কিছুটা উন্নত পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে। প্রধান চীনা শহরগুলিতে চাবাদ কেন্দ্র রয়েছে। আপনি এর জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। নিরামিষ ভোজনালয় প্রায়শই প্রধান বৌদ্ধ মন্দিরগুলির কাছে পাওয়া যায়। এর জন্য 素 (sù) অক্ষরটি বা 卍 প্রতীকটি খুঁজুন। এই প্রসঙ্গে 卍 একটি বৌদ্ধ প্রতীক। কিন্তু অন্য জায়গায় আপনাকে সম্ভবত বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করতে হবে। এটি সবসময় পাওয়া নাও যেতে পারে। চীনা নিরামিষ রান্নায় দুধ এবং ডিমের ব্যবহার কম হয়। একারণে এর বেশিরভাগই ভেগানদের জন্য উপযুক্ত। তবে বিশেষ করে মিষ্টান্নের ক্ষেত্রে মনোযোগ দেবেন। সাধারণ ভোজনালয়ে সতর্ক থাকবেন। আপনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে বলবেন। কারণ শাকসবজি ও তোফুর পদে অ-নিরামিষ উপাদান থাকতে পারে। যেমন ঝিনুকের রস নোনা মাছ শুকনো চিংড়ি বা কিমা করা শুকরের মাংস মেশানো থাকতে পারে। এছাড়াও রুটিজাতীয় পণ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন। কারণ ঐতিহ্যবাহী চীনা পিঠে বা মিষ্টি প্রায়শই চর্বি দিয়ে তৈরি হয়। খাবার অ্যালার্জি (食物过敏 shíwù guòmǐn) সম্পর্কে সচেতনতা সীমিত। এবং গ্লুটেন-মুক্ত খাবার কার্যত পাওয়াই যায় না।
শুকরের মাংস চীনে সবচেয়ে জনপ্রিয়। সেখানে মাংস বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত অক্ষরটি হলো 肉। এই অক্ষরের আগে অন্য কোনো পরিচায়ক শব্দ না থাকলে ধরে নিতে হবে এটি শুকরের মাংস। অন্যান্য মাংসের ক্ষেত্রে বিশেষক অক্ষর ব্যবহার করা হয়। যেমন গরুর মাংসের জন্য 牛肉 মুরগির মাংসের জন্য 鸡肉 এবং খাসির মাংসের জন্য 羊肉 লেখা হয়।
পানীয়
[সম্পাদনা]চীনারা পান করতে ভালোবাসে। কিন্তু আপনি যদি খুব বেশি মদ্যপানে অভ্যস্ত না হন তবে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। চীনাদের সাথে পান করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সাধারণভাবে একটি বিষয় লক্ষণীয়। দক্ষিণ চীনের চেয়ে উত্তর চীনে ভারী মদ্যপানের প্রচলন বেশি।
চীনে মদের আইন প্রায় নেই বললেই চলে। আইনত মদ্যপানের বয়স আঠারো বছর। কিন্তু এই নিয়মটি মূলত প্রয়োগ করা হয় না। আপনাকে কখনো পরিচয়পত্র দেখাতে হবে না। মদ্যপ পানীয় যেকোনো স্থান থেকে কেনা যায় এবং যেকোনো স্থানেই তা পান করা যায়।
টোস্টিং
[সম্পাদনা]"গানবেই" (干杯, আক্ষরিক অর্থে "গ্লাস খালি করো") বলে টোস্ট করা হয়। পানীয়গুলি ছোট গ্লাসে পরিবেশন করা হয় (এমনকি বিয়ারও সাধারণত বড় শট গ্লাসে পান করা হয়), এবং ঐতিহ্যগতভাবে টোস্টের জন্য আপনার পুরো গ্লাসটি খালি করা উচিত।
চীনা টোস্টগুলি সাধারণত এক-একজনের মধ্যে হয়, পুরো টেবিলের সাথে জড়িত কিছু নয়। বেশিরভাগ খাবারে, একজন দর্শক আশা করতে পারেন যে টেবিলের প্রত্যেকে তাকে একটি টোস্ট অফার করবে। দর্শকদেরও টোস্ট অফার করা উচিত এবং শুধু গ্রহণ করা উচিত নয়। এর মানে হলো, আপনি যদি এক ডজন লোকের সাথে রাতের খাবারে বাইরে যান, তবে আপনাকে প্রায় দুই ডজন টোস্ট পান করার জন্য আশা করা হবে এবং চাপ দেওয়া হবে। সৌভাগ্যবশত, বিয়ারে আটকে থাকাটা ঠিক আছে, এবং চীনা বিয়ারে সাধারণত কম অ্যালকোহল থাকে।
আপনি যদি প্রতিবার পান করার আগে কাউকে টোস্ট অফার না করেন তবে এটি অভদ্রতা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে, অন্তত খাবারের শুরুতে। ধূমপানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; যখনই আপনি একটি জ্বালাতে চান তখন প্যাকটি চারপাশে অফার করুন।
আপনি যদি হালকাভাবে পান করতে চান কিন্তু তবুও সামাজিক থাকতে চান, তবে টোস্ট করার আগে "'সুইবিয়েন" (随便) বা "পেংবেই" (碰杯) বলুন, তারপর গ্লাসের শুধুমাত্র একটি অংশ পান করুন। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা টোস্ট না করে, পুরো কোম্পানির সাথে তিনটি টোস্ট (ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বের প্রতীক) করাও সম্ভব হতে পারে।
অ্যালকোহল
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনা রন্ধনশৈলী#অ্যালকোহলযুক্ত
সর্বজনীন শব্দ জিউ (酒, "অ্যালকোহল") বেশ কয়েকটি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিয়ার (啤酒 পিজিউ) চীনে একটি সাধারণ পানীয়। এটি প্রায় প্রতিটি ভোজনালয়ে পরিবেশন করা হয় এবং অনেক মুদি দোকানেও বিক্রি হয়। এর সবচেয়ে বিখ্যাত মার্কা হলো ছিংতাওয়ের সিংতাও (青島 Qīngdǎo)। এই শহরটি একসময় একটি জার্মান উপনিবেশ ছিল।
স্থানীয়ভাবে তৈরি আঙুরের ওয়াইন (葡萄酒 পুতাওজিউ) সাধারণ এবং এর বেশিরভাগই যুক্তিসঙ্গত মূল্যের, কিন্তু সাধারণত পশ্চিমা ওয়াইনের সাথে এর সামান্যই মিল থাকে। চীনারা তাদের ওয়াইন লাল এবং খুব মিষ্টি পছন্দ করে, এবং সেগুলি সাধারণত বরফের উপর বা স্প্রাইটের সাথে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। তবে, ২০২০-এর দশকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, এবং শানতুংয়ের ইয়ানতাই এলাকা, নিংজিয়ার হেলান পর্বতমালা, এবং শিনচিয়াংয়ের ইলি উপত্যকা এবং তুরপান-হামি অববাহিকার কিছু ওয়াইন মাঝারি মানের ইউরোপীয় ওয়াইনের সাথে পাল্লা দিয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং প্রকারের চালের ওয়াইন রয়েছে। এগুলির বেশিরভাগই একটি জলীয় চালের পুডিংয়ের মতো, সেগুলি সাধারণত মিষ্টি হয় এবং স্বাদের জন্য সামান্য পরিমাণে অ্যালকোহল থাকে।
বাইজিউ (白酒 Báijiǔ) হলো পাতিত মদ, সাধারণত ৪০% থেকে ৬০% অ্যালকোহল থাকে, যা জোয়ার এবং কখনও কখনও অঞ্চল অনুসারে অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি হয়। কুইচৌ প্রদেশের eponymous শহর থেকে মাওতাই বা মৌতাই (茅台 Máotái), হলো চীনের জাতীয় মদ। মাওতাই এবং এর দামী জ্ঞাতিভাইরা (যেমন তাইওয়ানের কিনমেন থেকে কাওলিয়াং) তাদের তীব্র সুগন্ধের জন্য সুপরিচিত এবং আসলে পশ্চিমা পরিষ্কার মদের চেয়ে মিষ্টি কারণ জোয়ারের স্বাদটি সংরক্ষিত থাকে — একভাবে।
চীনা ব্র্যান্ডি (白兰地 বাইলান্দি) চমৎকার মূল্যের, ওয়াইনের মতোই দাম। বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড রয়েছে; সবগুলিই পানযোগ্য এবং অনেক দর্শক এগুলিকে বাইজিউয়ের চেয়ে বেশি সুস্বাদু মনে করে।
চীনারা বিভিন্ন তথাকথিত ঔষধি মদেরও বড় ভক্ত, যেগুলিতে সাধারণত বহিরাগত ভেষজ এবং/অথবা প্রাণীর অংশ থাকে। এগুলির কিছুর দাম সাধারণ পরিসরে থাকে এবং জিনসেংয়ের মতো উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে, যখন অন্য আরও বহিরাগতগুলিতে সাপ, বোলতা এবং নবজাতক ইঁদুর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এগুলি যথেষ্ট সুস্বাদু হতে পারে, যদি মিষ্টতার দিকে ঝোঁক থাকে। মনে রাখবেন যে কিছু ঔষধি মদ শুধুমাত্র বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
বার, ডিস্কো এবং কারাওকে
[সম্পাদনা]বড় শহরগুলিতে পশ্চিমা ধাঁচের পানশালা পাওয়া যায়। বিশেষ করে শেনচেন সাংহাই ও বেইজিংয়ের মতো ধনী এবং বিশ্বজনীন শহরগুলিতে এমনটা বেশি দেখা যায়। সেখানে আপনি ঐতিহ্যবাহী আইরিশ বা ইংরেজ পানশালার নিখুঁত প্রতিরূপ খুঁজে পেতে পারেন। এই পানশালাগুলি তাদের পশ্চিমা প্রতিরূপগুলির মতোই হয়। বেশিরভাগ জায়গাতেই সরাসরি পাত্র থেকে বিভিন্ন প্রকার বিদেশী যবের সুরা পরিবেশন করা হয়। এখানে বিভিন্ন মানের খাবারও পাওয়া যায়। প্রায়শই সরাসরি গান পরিবেশনকারী বাদক দলও থাকে। এগুলি মূলত প্রবাসীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। একারণে সেখানে খুব বেশি চীনাদের দেখতে পাওয়ার আশা করবেন না। স্থানীয় সুরার তুলনায় আমদানি করা যবের সুরা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে।
আপনি বন্ধুদের সাথে কয়েকটি পানীয়ের জন্য বাইরে যেতে চাইলে একটি স্থানীয় ভোজনালয় বেছে নিতে পারেন। সেখানে প্রায় ৫ ইউয়ানে ৬০০ মিলিলিটার বোতলের সুরা পান করতে পারবেন। এটি হবে এক প্রকার চীনা যবের সুরা। এতে প্রায় তিন শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এখানে মার্কা বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। এটি আপনাকে গরমও পরিবেশন করা হতে পারে। বেশিরভাগ মাঝারি থেকে উচ্চ-মানের ভোজনালয়ে জমায়েতের জন্য ছোট ব্যক্তিগত কক্ষ থাকে। সাধারণত পাঁচজনের বেশি অতিথি হলে এগুলি বিনামূল্যে দেওয়া হয়। আপনি বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত থাকলেও কর্মীরা আপনাকে তাড়াহুড়ো করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করবে না। অনেক বাসিন্দা একটি সুন্দর ও সাশ্রয়ী সন্ধ্যার জন্য বাইরের ভোজনালয় বা রাস্তার ধারের দোকানে যান। তারা ঝলসে প্রস্তুত করা মাংসের (烧烤 শাওকাও) দোকানেও যেতে পছন্দ করেন।
ডিস্কো এবং বিনোদনসহ জমকালো বারগুলিতে, আপনি সাধারণত একবারে ¥১০০-এর বিয়ার কেনেন; এতে আপনি ৪টি আমদানি-ব্র্যান্ডের বিয়ার (হাইনেকেন, বাড, করোনা, সল ইত্যাদি) থেকে শুরু করে ১০টি স্থানীয় বিয়ার পেতে পারেন। কয়েকটি জায়গায় ককটেল পাওয়া যায়; তার চেয়েও কম জায়গায় ভালো ককটেল পাওয়া যায়।
অন্যান্য পানীয় শুধুমাত্র বোতলে বিক্রি হয়, গ্লাসে নয়। রেড ওয়াইনের দাম ¥৮০-২০০-এর মধ্যে (বরফ এবং স্প্রাইটের সাথে পরিবেশন করা হয়) এবং মাঝারি মানের আমদানি করা হুইস্কি (অত্যন্ত বিরলভাবে সিঙ্গেল মল্ট) এবং কনিয়াক, ¥৩০০-৮০০। উভয়ই প্রায়শই মিষ্টি বোতলজাত সবুজ বা লাল চায়ের সাথে মেশানো হয়। নকল "ব্র্যান্ড নাম" পণ্যগুলি বেশ সাধারণ এবং আপনার পরের দিনটি নষ্ট করে দিতে পারে।
এই জায়গাগুলিতে প্রায়শই বার গার্ল থাকে, আকর্ষণীয় তরুণী যারা প্রচুর পরিমাণে পান করে এবং আপনাকে আরও বেশি পান করানোর জন্য মদ্যপানের খেলা খেলতে চায়। আপনি যা কিনবেন তার উপর তারা একটি কমিশন পায়। সাধারণভাবে, এই মেয়েরা আপনার সাথে বার ছেড়ে যাবে না; তারা পেশাদার ফ্লার্টার, পতিতা নয়।

কারাওকে (卡拉OK কালা'ওকেই) চীনে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটিকে বিস্তৃতভাবে দুটি বিভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে বেশি প্রচলিত হলো সাধারণ কারাওকে কক্ষ বা কেটিভি। এখানে আপনি একটি ঘর ভাড়া করেন। তারপর আপনার বন্ধুদের নিয়ে আসেন। তারা আপনাকে একটি ধ্বনিবর্ধক যন্ত্র দেয় এবং মদ্যপ পানীয় সরবরাহ করে। ছাত্রদের মধ্যে এটি অত্যন্ত পছন্দের। উপযুক্ত সঙ্গী থাকলে এগুলি বেশ সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক হয়। তবে একটি স্মরণীয় রাতের জন্য আপনার অন্তত কয়েকজন সঙ্গীর প্রয়োজন।
এর থেকে ভিন্ন হলো স্বতন্ত্রভাবে সন্দেহজনক বিশেষ কেটিভি আসর। এটি মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য। তারা এখানে অতিথিদের বিনোদন দেন বা নিজেরাও কিছুটা হালকা হন। এখানে তারা অর্থের বিনিময়ে সবকিছুরই যোগান দেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায়শই জমকালো হয়। অতিরঞ্জিত রোমান এবং মিশরীয় শৈলী এখানে সাধারণ ব্যাপার। এখানে ছোট পোশাক পরা পেশাদার কারাওকে নারীরা আপনার সাথে যোগ দেবে। তারা সঙ্গ দেওয়ার জন্য ঘণ্টায় মূল্য নেয়। তাদের পরিষেবা কেবল খারাপভাবে গান গাওয়া বা আপনার পানীয় পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এসব জায়গায় যাবেন না। যদি না আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত হন যে অন্য কেউ খরচ বহন করছে। এর খরচ সহজেই শত শত ডলারে পৌঁছতে পারে। এমনকি আপনি কোনো অশালীন কার্যকলাপে লিপ্ত না হলেও এমনটা হতে পারে।
সূর্যাস্তের পর রাস্তায় সবেমাত্র আলাপ হওয়া কোনো সহজলভ্য চেহারার মহিলার কাছ থেকে কোনো রেস্তোরাঁ বা বারে যাওয়ার আমন্ত্রণ কখনই গ্রহণ করবেন না। বড়জোর, একটি ভিন্ন জায়গার পরামর্শ দিন। যদি সে অস্বীকার করে, তবে তাকে সেখানেই ছেড়ে দিন। খুব সম্ভবত, সে আপনাকে অনেক দারোয়ানসহ একটি শান্ত ছোট জায়গায় নিয়ে যাবে এবং আপনি নিজেকে একটি সাধারণ খাবার এবং বিয়ারের বিলের সাথে আটকা পড়া দেখতে পাবেন যা আপনার ¥১,০০০ বা তারও বেশি খরচ করাবে। এবং দারোয়ানরা আপনাকে বিল না দেওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দেবে না।
চা
[সম্পাদনা]চীন হলো চা সংস্কৃতির জন্মস্থান। এবং এখানে প্রচুর পরিমাণে চা (茶 ছা) পাওয়া যায়। সবুজ চা (绿茶 লুইছা) কিছু রেস্তোরাঁয় বিনামূল্যে (অঞ্চল অনুসারে) বা অল্প ফিয়ের বিনিময়ে পরিবেশন করা হয়। আরও তথ্যের জন্য, চীনা রন্ধনশৈলী#চা দেখুন।
সবচেয়ে প্রচলিত প্রকারগুলি হলো:
- গানপাউডার চা (珠茶 ঝু ছা): একটি সবুজ চা যার নামকরণ করা হয়েছে এটি তৈরি করতে ব্যবহৃত গুটিয়ে থাকা পাতার চেহারার উপর ভিত্তি করে
- জুঁই চা (茉莉花茶 মোলিহুয়া ছা): জুঁই ফুলের সুগন্ধযুক্ত সবুজ-চা
- উলং (烏龍 উলং): একটি অর্ধ-গাঁজানো পার্বত্য চা।
বিশেষায়িত চা ঘরগুলিতে ফ্যাকাশে, উপাদেয় সাদা চা (白茶 বাইছা) থেকে শুরু করে শক্তিশালী গাঁজানো এবং পুরানো পু'এর চা (普洱茶 পু'এরছা) পর্যন্ত বিশাল বৈচিত্র্যের চা পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগ চায়ের দোকান আপনাকে বসতে এবং বিভিন্ন প্রকারের চা চেখে দেখতে দিয়ে খুশি হবে। "টেন ফু টি" একটি জাতীয় চেইন।
চীনা চা চিনি বা দুধ ছাড়াই পান করা হয়। তবে, প্রায় সব শহরেই আপনি প্রচুর পরিমাণে হংকং শৈলীর "মিল্ক টি" (奶茶 নাইছা), এবং হয়তো তিব্বতি "মাখন চা" পাবেন। তাইওয়ানিজ বাবল টিও (珍珠奶茶 ঝেনঝু নাইছা) জনপ্রিয়; "বাবলগুলি" হলো ট্যাপিওকার বল এবং প্রায়শই দুধ বা ফল মেশানো হয়।
কফি
[সম্পাদনা]কফি (咖啡 কাফেই) শহুরে চীনে জনপ্রিয়, যদিও ছোট শহরগুলিতে এটি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। বেশ কিছু কফি শপের চেইনের অনেক শহরে শাখা রয়েছে। অনেক ছোট স্বাধীন কফি শপ বা স্থানীয় চেইন রয়েছে। চীনা রন্ধনশৈলী#কফি দেখুন।
ঠান্ডা পানীয়
[সম্পাদনা]পশ্চিমে যে অনেক পানীয় সাধারণত ঠাণ্ডা বা বরফসহ পরিবেশন করা হয়, চীনে সেগুলি ঘরের তাপমাত্রায় পরিবেশন করা হয়। কোনো রেস্তোরাঁয় বিয়ার বা সোডা চাইলে, এটি ঘরের তাপমাত্রায় আসতে পারে, যদিও বিয়ার সাধারণত ঠাণ্ডাই পরিবেশন করা হয়, অন্তত গ্রীষ্মকালে। জল সাধারণত গরম পরিবেশন করা হবে। এটি আসলে ভালো, কারণ শুধুমাত্র ফোটানো (বা বোতলজাত) জলই পানের জন্য নিরাপদ।
ছোট মুদি দোকান এবং রেস্তোরাঁগুলি ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রি করে, শুধু কুলারটি খুঁজুন (যদিও এটি আসলে ঠাণ্ডা নাও হতে পারে)। আপনি একটি রেস্তোরাঁয় একটি ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন। বেশিরভাগ ছোট রেস্তোরাঁ কিছু মনে করবে না—যদি তারা লক্ষ্যও করে—এবং চীনে "কর্ক" চার্জের মতো কিছু নেই। বেশিরভাগ লোক চা পান করবে, যা এমনিতেও বিনামূল্যে, তাই রেস্তোরাঁটি সম্ভবত আপনার পানীয়ের ব্যবহার থেকে লাভের আশা করছে না।
বরফ চাওয়াটা এড়িয়ে চলাই ভালো। অনেক, হয়তো বেশিরভাগ, জায়গায় বরফই থাকে না। তাদের কাছে যে বরফ থাকে তা সম্ভবত অপরিশোধিত কলের জল থেকে তৈরি এবং ডায়রিয়ার ভয়ে থাকা ভ্রমণকারীদের জন্য অনিরাপদ হতে পারে।
রাত্রিযাপন
[সম্পাদনা]
পর্যটকদের জন্য থাকার জায়গার প্রাপ্যতা সাধারণত ভালো এবং এর মধ্যে যৌথ ডর্ম রুম থেকে শুরু করে ৫-তারা বিলাসবহুল হোটেল পর্যন্ত সবকিছু রয়েছে। আপনি যদি আপনার দূরপাল্লার ভ্রমণটি রাতের বেলায় নির্ধারণ করেন তবে স্লিপার ট্রেনও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে (উপরের যাতায়াত বিভাগটি দেখুন)।
২০২৪ সাল থেকে আইন অনুযায়ী চীনের সীমাবদ্ধ এলাকাগুলির বাইরের যেকোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল বিদেশীদের গ্রহণ করতে বাধ্য। বাস্তবে, অনেক হোটেল, বিশেষ করে সস্তা বা প্রত্যন্ত এলাকার হোটেলগুলি, হয়তো এই সূচনা পায়নি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানে না, বা সহজভাবে এই ঝামেলায় যেতে চায় না। আপনি তাদের চীনা ভাষায় সরকারি ঘোষণাটি[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] দেখিয়ে আপনার ভাগ্য চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু Trip.com-এর মতো একটি ইংরেজি-ভাষার বুকিং পরিষেবা ব্যবহার করলে এই ঝামেলা এড়ানো যায়, কারণ যে হোটেলগুলি সেখানে তালিকাভুক্ত হতে চায় সেগুলি প্রায় সবসময়ই বিদেশী-বান্ধব। শোনা যায়, হোটেলগুলি আইন মেনে চলতে অস্বীকার করলে জননিরাপত্তা ব্যুরোর হস্তক্ষেপের অনুরোধ করে সাফল্য পাওয়া গেছে (বা অন্তত অন্য হোটেলে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে)।
যেকোনো আবাসন আপনার ছাড়পত্রের একটি অনুলিপি তৈরি করবে। কেউ কেউ আপনার প্রবেশাজ্ঞার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখবে। তাদের কর্তৃপক্ষের সাথে এই তথ্য জানানোর কথা রয়েছে। কিছু বিরল ক্ষেত্রে আবাসন কর্তৃপক্ষ আপনাকে সাথে নিয়ে স্থানীয় থানায় যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিভুক্তিকরণের জন্যই তারা এটি করে থাকে।
আপনি যদি কোথায় খুঁজবেন এবং কী খুঁজছেন তা না জানেন তবে একটি চীনা শহরে পৌঁছে হোটেল খুঁজে পাওয়া কঠিন। সাধারণভাবে, তারকা রেটিং বা দাম কোনোটিই হোটেলের মানের সঠিক সূচক নয়, তাই বুকিংয়ের আগে গবেষণা করুন। আপনি যদি একটি ঘরের জন্য ¥১৮০ বা তার বেশি দিতে ইচ্ছুক হন, তবে আপনার সম্ভবত একটি খুঁজে পেতে খুব একটা সমস্যা হবে না। সাধারণত ট্রেন বা বাস স্টেশনের কাছে সস্তা হোটেল থাকে। আপনি যদি শহরে পৌঁছনোর পর শোবার জায়গা খোঁজার পরিকল্পনা করেন, তবে সন্ধ্যা ৬টার আগে পৌঁছনোই ভালো, নইলে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গাগুলি রাতের জন্য বুক হয়ে যাবে। আপনি যদি বাসস্থান খুঁজে পেতে একেবারেই দিশেহারা হন, তবে স্থানীয় পুলিশ (警察) বা জননিরাপত্তা ব্যুরো (公安局) আপনাকে অন্তত এক রাতের জন্য একটি জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
দাম প্রায়শই আলোচনা সাপেক্ষ, এবং দেয়ালে তালিকাভুক্ত দাম থেকে প্রায়শই একটি বড় ছাড় পাওয়া যায়, এমনকি ভালো হোটেলেও, "সর্বনিম্ন দাম কত?" (最低多少 zuìdī duōshǎo) জিজ্ঞাসা করে। কয়েকদিনের বেশি থাকার সময়, সাধারণত একটি কম দৈনিক হার আলোচনা করাও সম্ভব। তবে, ব্যস্ত চীনা ছুটির মরসুমে দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায় এবং ঘর পাওয়া কঠিন হয়। অনেক চেইন এবং স্বাধীন হোটেলের সদস্যপদ কার্ড রয়েছে যা ঘন ঘন অতিথিদের জন্য ছাড় দেয়।
কখনও কখনও, হোটেল অতিথিরা ঘরের দরজার নিচ দিয়ে ঠেলে দেওয়া স্বল্প পোশাক পরা মহিলাদের ছবিসহ বিজনেস কার্ড পেতে পারেন যা "মালিশ" পরিষেবার অফার দেয় (আসলে বেশ্যাবৃত্তির একটি শ্রুতিমধুর প্রতিশব্দ, যা অবৈধ)। পুলিশ হোটেলগুলিতে এলোমেলোভাবে বেশ্যাবৃত্তি-বিরোধী অভিযান চালাতে পারে, এবং গ্রাহক ও প্রদানকারী উভয়ই ফৌজদারি দণ্ডের সম্মুখীন হবেন।
একটি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ইন্টারনেটে একটি ঘর বুক করা আপনার গন্তব্যে পৌঁছনোর পর থাকার জায়গা নিশ্চিত করার একটি সুবিধাজনক ও দ্রুত পদ্ধতি। এর জন্য অন্তর্জালে অসংখ্য স্থান রয়েছে। চীনে ঋণপত্রের ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয়। বিশেষ করে ছোট ও স্বল্পমূল্যের আবাসনগুলিতে এটি প্রায়ই দেখা যায় না। এই ধরনের আবাসনগুলি সাধারণত নগদে মূল্য পরিশোধ করতে বলে। অনেক আবাসন আবার অগ্রিম হিসেবে কয়েকশ ইউয়ান নগদ নিরাপত্তা জামানত চায়। কিছু অন্তর্জাল পরিষেবা আপনাকে ঋণপত্র ছাড়াই ঘর সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়। সেখানে আপনি আবাসনে পৌঁছে নগদ অর্থ প্রদান করতে পারেন। চীনা ছুটির দিনগুলিতে ঘর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন এই পদ্ধতিটি একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হতে পারে। কিন্তু পর্যটনের ভিড় যখন কম থাকে তখন প্রায় সর্বত্রই প্রচুর ঘর পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছনোর পর ঘর খুঁজে নেওয়াও সহজ হয়। এটি অন্তর্জালে ঘর সংরক্ষণ করার মতোই সুবিধাজনক।
সারা চীনে, প্রস্থান সাধারণত দুপুরে হয়, এবং প্রায়শই অর্ধ দিনের খরচ দিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় প্রস্থানের সম্ভাবনা থাকে।
চীনে ক্যাম্পিং একটি আইনি ধূসর এলাকায় রয়েছে, কিন্তু সাধারণভাবে, কর্তৃপক্ষ আপনাকে বন্য পরিবেশে ক্যাম্পিং করতে বাধা দেবে না যতক্ষণ না আপনি সীমাবদ্ধ এলাকা থেকে দূরে থাকেন এবং পরিবেশের ক্ষতি না করেন। একটি শহরের খুব কাছাকাছি ক্যাম্পিং করা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ পুলিশ সেই বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকে, এবং আপনাকে হয়তো আপনার তাঁবু খুলতে এবং একটি হোটেলে নিয়ে যেতে বাধ্য করা হতে পারে। চীনে নির্দিষ্ট ক্যাম্পগ্রাউন্ড এখনও কিছুটা বিরল, কিন্তু আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। আরভি ক্যাম্পিংও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, এবং কিছু অগ্রিম পরিকল্পনা করে আরভি দিয়ে চীন অন্বেষেষণ করা সম্ভব।
স্বল্প খরচের বাসস্থান
[সম্পাদনা]অনেক অতি-সস্তা বিকল্প নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার কারণে উন্নত দেশগুলির বেশিরভাগ ভ্রমণকারীকে আকর্ষণ করবে না। সবচেয়ে সস্তা পরিসরের হোটেলগুলিতে জিজ্ঞাসা করা গুরুত্বপূর্ণ যে গরম জল দিনে ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায় কিনা (有没有二十四个小时的热水 yǒuméiyǒu èrshisì ge xiǎoshí de rèshuǐ), এবং ঝরনা, সিঙ্ক এবং টয়লেট আসলে কাজ করে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন। একটি ব্যস্ত রাস্তার পাশের একটি ঘর আপনাকে দেরিতে জাগিয়ে রাখতে পারে এবং তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে।
- হোস্টেল (青年旅社) হলো সবচেয়ে আরামদায়ক স্বল্প-খরচের বিকল্প। এগুলি সাধারণত বিদেশীদের পরিষেবা দেয়। এখানে ইংরেজিভাষী কর্মী থাকেন। শহরের চারপাশে স্বল্প খরচে সুবিধাজনক যাতায়াত ব্যবস্থাও থাকে। এগুলির মধ্যে কিছু দামী আবাসনের চেয়েও বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত হয়। যুবাবাসগুলিতে একটি আরামদায়ক আন্তর্জাতিক পরিবেশ পাওয়া যায়। এটি অন্যান্য ভ্রমণকারীদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য একটি ভালো জায়গা। এখানে কিছু মাঝারি মানের পশ্চিমা খাবারও পাওয়া যায়। যেকোনো আকারের বেশিরভাগ শহরে অন্তত একটি যুবাবাস উপলব্ধ। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রচুর যুবাবাস রয়েছে। তবে পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়তার কারণে ঘরগুলি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। যুবাবাসগুলিতে প্রায়শই অন্তর্জালের মাধ্যমে ঘর সংরক্ষণ করা যায়। তবে আপনার সংরক্ষণের একটি মুদ্রিত লিপি সাথে আনা উচিত। কারণ সব যুবাবাস কর্তৃপক্ষ জানে না যে আপনি তাদের ঘর অন্তর্জালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারেন। এমনকি খরচের একটি অংশও যে প্রদান করতে পারেন সে বিষয়েও তারা অবগত নাও থাকতে পারে। বেইজিংয়ের অনেক যুবাবাস হুতং এলাকার মধ্যে অবস্থিত। হুতং হলো ঐতিহ্যবাহী রাস্তা ও স্থাপত্যের গোলকধাঁধায় ঘেরা উঠোনযুক্ত বাড়ি। বেইজিংয়ের অনেক হুতং ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবুও যেগুলি টিকে আছে তা বাঁচানোর একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের ফলে পর্যটকদের জন্য যুবাবাস এবং মাঝারি পরিসরের ভ্রমণকারীদের জন্য অভিজাত আবাসনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
- ডর্ম রুম (宿舍) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসীমায় পাওয়া যায়। গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের কাছে এবং কিছু আবাসনের অংশ হিসেবেও এগুলি থাকে। শয়নকক্ষের সাথে বেশিরভাগ ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা মিশ্র হয়। হট্টগোলকারী বা মাতাল কক্ষসঙ্গী পাওয়া সাধারণ ঘটনা। যৌথ স্নানাগারে অভ্যস্ত হতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশেষত আপনি যদি ঐতিহ্যবাহী উপবিষ্ট শৌচাগার বা শীতল স্নানে অভ্যস্ত না হন তবে সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় একমাত্র স্বল্প খরচের বিকল্প হয়তো শয়নকক্ষই। বিশেষ করে চীনের কিছু পবিত্র পর্বতের চূড়ায় বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্রের ভিড়ে এমনটাই দেখা যায়।
- ঝুসু (住宿) এর সহজ অনুবাদ হলো বাসস্থান। এটি যেকোনো ধরনের শোবার জায়গাকে বোঝাতে পারে। তবে যেসব জায়গার বাইরের দেয়ালে 住宿 লেখা থাকে সেগুলিই সবচেয়ে স্বল্পমূল্যের। একটি ঝুসু কোনো আবাসন নয়। এগুলি মূলত বাড়ি রেস্তোরাঁ এবং রেল ও বাস প্রান্তিকের নিকটবর্তী ভাড়ার ঘর। ঝুসু ঘরগুলি সাদামাটা হয়। এখানকার স্নানাগারগুলি প্রায় সবসময়ই যৌথ থাকে। এর মূল্য বেশ কম হতে পারে। খরচ মাত্র কয়েক ডজন রেনমিনবি পর্যন্তও হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ঝুসুতে বিদেশীদের ঘর ভাড়া দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু অনেক সময় তত্ত্বাবধায়ক অতিথি পেতে আগ্রহী থাকে। তখন তারা যে কাউকেই ভাড়া দিতে ইচ্ছুক থাকে। ঝুসুর বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কখনো কোনো ইংরেজি চিহ্ন থাকে না। একারণে আপনি চীনা পড়তে না পারলে অক্ষরগুলি ছাপিয়ে নিতে পারেন। ঝুসু খুব নিরাপদ নাও হতে পারে। সুতরাং আপনার জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখবেন।
- স্পা: স্বাস্থ্যনিবাসের খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে তা ২৫ ইউয়ানের মতো কমও হতে পারে। একটি স্বাস্থ্যনিবাসে সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রবেশ করা যায়। তবে গভীর রাতে প্রবেশ করে দুপুরের আগে বেরিয়ে গেলে আপনি ৫০ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় বিকল্প। যারা কোনো শহরে মাত্র এক রাতের জন্য ভ্রমণ করেন তারা আবাসনের খরচ বাঁচাতে এটি ব্যবহার করেন। স্বাস্থ্যনিবাসগুলিতে বিছানা বা হেলানো আরামকেদারা থাকে। ব্যাগ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের জন্য একটি ছোট তালাবন্ধ আলমারি দেওয়া হয়। আপনি অল্প জিনিসপত্র নিয়ে ভ্রমণ করলে এটি একটি আদর্শ ব্যবস্থা। এখানে কোনো গোপনীয়তা থাকে না। কারণ সবাই এক ঘরে ঘুমায়। তবে এটি একটি শয়নকক্ষের চেয়ে বেশি নিরাপদ। কারণ পরিচারকরা এলাকাটি পাহারা দেয়। আপনার জিনিসপত্রও তালাবন্ধ আলমারিতে রাখা থাকে। যদি অভ্যর্থনাকর্মীরা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করার জন্য কোনো অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করে তবে প্রতারিত হবেন না। আপনি কেবল নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকবেন। তাহলেই তারা পিছু হটবে।
সাশ্রয়ী হোটেল
[সম্পাদনা]সাশ্রয়ী আবাসনগুলি প্রায় একচেটিয়াভাবে চীনা গ্রাহকদের পরিষেবা দেয়। এখানে সাধারণত ইংরেজিভাষী কর্মী থাকে না। গ্রামীণ এলাকায় তাদের অনেকেই বিদেশী অতিথিদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা ব্যবহারের পদ্ধতি জানে না। একারণে তারা বিদেশীদের গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক থাকে। তবে ২০২৪ সালের আইন অনুযায়ী তারা বিদেশীদের গ্রহণ করতে বাধ্য। এজন্য অভ্যর্থনা কর্মীদের সাথে দৃঢ় অথচ নম্র আচরণ করুন। আপনি কিছুটা চীনা বলতে পারলে তাদেরকে থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজি করানো সহজ হবে।
সবচেয়ে সস্তা চীনা সাশ্রয়ী আবাসন ঝাওদাইসুও (招待所) নামে পরিচিত। ঝুসুর মতোই এগুলিও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাসস্থান। তবে এগুলি একইভাবে সাদামাটা এবং ব্যবহারিক হয়। এখানে প্রায়শই যৌথ স্নানাগার থাকে। কিছুটা বেশি উন্নত মানের সাশ্রয়ী আবাসন এবং চীনা ব্যবসায়িক আবাসনগুলিতে ইংরেজি চিহ্ন থাকতেও পারে আবার নাও পারে। তাদের নামে সাধারণত লুইগুয়ান (旅馆) বিনগুয়ান (宾馆) অথবা জিউদিয়ান (酒店) শব্দগুলি থাকে। লুইগুয়ান শব্দের অর্থ ভ্রমণ আবাসন। বিনগুয়ান এবং জিউদিয়ান উভয়েরই অর্থ আবাসন। ঘরের বিকল্পগুলির মধ্যে সাধারণত নিজস্ব স্নানাগার সহ এক ও দুই শয্যার ঘর থাকে। এছাড়াও যৌথ স্নানাগার সহ শয়নকক্ষও পাওয়া যায়। কিছু সাশ্রয়ী আবাসনে বিনামূল্যে প্রসাধন সামগ্রী এবং অন্তর্জাল ব্যবহারের সুবিধা থাকে। ছোট শহরগুলিতে এক রাতের থাকার খরচ ২৫ ইউয়ানের মতো সস্তাও হতে পারে। বড় শহরগুলিতে ঘরের খরচ সাধারণত ৮০ থেকে ১২০ ইউয়ান হয়। এই আবাসনগুলি বেশ কোলাহলপূর্ণ হতে পারে। এর কারণ হলো গ্রাহক এবং কর্মীরা ভোর পর্যন্ত হলঘর জুড়ে একে অপরকে চিৎকার করে ডাকতে পারে। একটি যৌথ স্নানাগার সহ ঘরে আপনাকে স্নান বা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। সেই শৌচাগারগুলি সবসময় সন্তোষজনক অবস্থায় থাকে না। ছোট সাশ্রয়ী আবাসনগুলিতে পরিচালনাকারী পরিবারটি গভীর রাতে ফটক বন্ধ করে দিতে পারে। বিশেষত যখন তাদের মনে হয় আর কোনো অতিথি আসবে না। আপনার পৌঁছাতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা আগে থেকে জানিয়ে রাখুন। নইলে আপনাকে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ফোন করতে হতে পারে। এমনকি দরজায় ধাক্কা দেওয়া বা ফটক টপকে ভেতরে যাওয়ার প্রয়োজনও পড়তে পারে।
মাঝারি মানের হোটেল
[সম্পাদনা]এগুলি সাধারণত বড় পরিষ্কার এবং আরামদায়ক হয়। ঘরের ভাড়া ১৫০ ইউয়ান থেকে ৩০০ ইউয়ানের বেশি পর্যন্ত হতে পারে। প্রায়শই একই আবাসনে আরও ব্যয়বহুল এবং বিলাসবহুল ঘরও পাওয়া যায়। এখানকার দ্বৈত শয্যার ঘরগুলি সাধারণত বেশ ভালো ও পশ্চিমা মানের হয়। ঘরের সাথে একটি পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত স্নানাগার থাকে যেখানে গাত্রমার্জনী এবং বিনামূল্যে প্রসাধন সামগ্রী দেওয়া হয়। ভাড়ার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির প্রাতঃরাশ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অন্যথায় প্রায় ১০ ইউয়ান দিয়ে প্রাতঃরাশের কুপন কেনা যায়।
সারা চীনে পশ্চিমা-মানের বেশ কিছু মাঝারি পরিসরের আবাসন গড়ে উঠছে। নিম্নলিখিত শৃঙ্খলগুলি এর অন্তর্ভুক্ত। এই সবকটি আবাসনেই ১৫০ থেকে ৩০০ ইউয়ান পরিসরে ঘর রয়েছে। অন্তর্জালের মাধ্যমে এগুলিতে অগ্রিম ঘর সংরক্ষণ করা যায়:
- ৭ ডেজ ইনস (7天连锁酒店)।
- জিনজিয়াং ইনস (锦江之星)।
- জিআই হোটেল (全季酒店)।
- হোম ইনস (如家快捷酒店)।
- গ্রিন ট্রি ইনস (格林豪泰酒店)। (ইংরেজি)
- সুপার ৮ মোটেলস বাই উইন্ডহাম (速8酒店)।
বিলাসবহুল
[সম্পাদনা]উচ্চ প্রান্তে ম্যারিয়ট হায়াত হিলটন ও শাংরি-লার মতো আন্তর্জাতিক আবাসন শৃঙ্খল এবং অবকাশযাপন কেন্দ্র রয়েছে। তাদের চীনা প্রতিযোগীরাও এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান। তারা বিলাসবহুল বাসস্থানের জন্য প্রতি রাতে শত শত বা হাজার হাজার ইউয়ান মূল্য ধার্য করে। এই সুবিধার মধ্যে চব্বিশ ঘণ্টা কক্ষ পরিষেবা উপগ্রহ দূরদর্শন স্বাস্থ্যনিবাস এবং পশ্চিমা প্রাতঃরাশের আয়োজন অন্তর্ভুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অনেকে খাবার ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থ নিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ একটি জলের বোতলের জন্য তারা ২০ ইউয়ান নেয়। অথচ সুবিধাজনক দোকানে এর দাম মাত্র ২ ইউয়ান। মাঝারি মানের বাসস্থানে অন্তর্জাল (তারযুক্ত বা বেতার) সাধারণত বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিন্তু উচ্চমানের আবাসনগুলিতে এটি প্রায়শই একটি সशुल्क পরিষেবা হয়ে থাকে।
ব্যবসার মন্দার সময় ৪০০ থেকে ৭০০ ইউয়ান পরিসরের কিছু আবাসন তাদের মূল্য কমাতে রাজি থাকে। চীনা তিন এবং চার-তারা আবাসনগুলিতে প্রায়শই পাঁচ দিনের বেশি থাকার জন্য সাশ্রয়ী প্রস্তাব বা মোট মূল্যের সুবিধা পাওয়া যায়। আপনি যদি কোনো পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে সফরে চীনে আসেন তবে একটি বিশেষ সুবিধা হতে পারে। সংস্থাটি হয়তো আপনাকে তালিকাভুক্ত মূল্যের অল্প খরচে একটি সত্যিকারের বিলাসবহুল আবাসনে ঘর খুঁজে দিতে পারবে।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে পড়াশোনা
ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিতে শিক্ষার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজন্য যারা চীনে উন্নতমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে চান তাদের জন্য সুযোগের কোনো অভাব নেই। এই ব্যবস্থার একটি অসুবিধা হলো এর তীব্র প্রতিযোগিতা। চীনা ছাত্রছাত্রীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সফল হওয়ার জন্য তাদের পরিবার ও সমবয়সীদের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপের সম্মুখীন হয়।
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিভিন্ন ধরণের কোর্স অফার করে। এবং তাদের মধ্যে কয়েকটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে স্থান পায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চীনা ভাষার কোর্সের জন্য ন্যূনতম উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনকারী ছাত্রদের গ্রহণ করে। এই কোর্সগুলি সাধারণত ১ বা ২ বছর স্থায়ী হয়। ছাত্রছাত্রীরা তাদের কোর্স শেষ করার পর সার্টিফিকেট পায়। যে সব ছাত্রছাত্রী চীনা বলতে পারে না এবং চীনে আরও পড়াশোনা করতে চায় তাদের সাধারণত একটি ভাষা-প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।
চীনে চীনা ভাষা শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স এবং বিশেষ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। আপনার নিজ দেশ বা চীন সরকার থেকে বৃত্তি পাওয়া যেতে পারে। যেকোনো শহরে যেখানে একটি বড় আকারের প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে, সেখানে আপনি ব্যক্তিগত ক্লাসও খুঁজে পেতে পারেন, যা আপনি চীনে কাজ করার পাশাপাশি নিতে পারেন। ম্যান্ডারিনের মতো জনপ্রিয় না হলেও, স্থানীয় উপভাষা এবং জাতিগত সংখ্যালঘু ভাষাগুলি অধ্যয়নেরও কিছু সুযোগ রয়েছে।
কাজ
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে কাজ করা
চীন এতটাই উন্নত হয়েছে যে এটি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। যদিও বিদেশীদের জন্য শ্রম বাজারে প্রবেশ করা কঠিন, যারা চীনে জীবন অভিজ্ঞতা করতে চান তাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। চীনে পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় কাজ করা অবৈধ। এবং যদিও অতীতে অনেক বিদেশী এটি করে পার পেয়ে যেত, চীন সরকার এই প্রথার উপর কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে; আপনাকে সক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার নিয়োগকর্তা আপনার জন্য যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ইংরেজি-ভাষা শিক্ষাদান, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তিগত চাকরি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করা। বেশিরভাগ চাকরির জন্য, চীনা অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিদেশীদের কর্ম ভিসা মঞ্জুর করার আগে কমপক্ষে একটি স্নাতক ডিগ্রি এবং ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এবং আপনার যদি এটি না থাকে তবে আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। বিস্তারিত জানতে চীনে কাজ করা দেখুন।
নিরাপদে থাকুন
[সম্পাদনা]যদিও চীন সাধারণত পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, সরকারের কিছু স্বৈরাচারী দিক রয়েছে। এবং চীনে মানবাধিকার বিষয়টি অত্যন্ত বিতর্কিত। চীনা সংবিধানে যা-ই লেখা থাকুক না কেন, বাস্তবে কিছু স্বাধীনতা যেমন বাকস্বাধীনতা, গোপনীয়তা, তথ্যের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা এবং ন্যায্য বিচারের অধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানিমূলক কিছু করছেন, আপনার ভ্রমণের সময় এগুলির বেশিরভাগই আপনাকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা কম — বিশেষ করে যেহেতু প্রয়োগও কিছুটা খেয়ালখুশি মতো হয় — কিন্তু যদি করে, তবে শাস্তি গুরুতর হতে পারে। চীন বিচারবহির্ভূত আটক, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করার জন্য পরিচিত। প্রায়শই "পণবন্দী কূটনীতি" হিসাবে সমালোচিত, ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আটক এবং প্রয়োগ কখনও কখনও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। চীনা দ্বৈত নাগরিক এবং অন্য দেশের নাগরিক যারা চীনা বংশোদ্ভূত, তাদের "প্রস্থান নিষেধাজ্ঞা"র শিকার হতে হয়েছে, চীনে আটকে রাখা হয়েছে, কখনও কখনও বছরের পর বছর, যাতে তারা সরকারি তদন্তে সহযোগিতা করতে বা তাদের আত্মীয়দের চীনে ফিরে আসতে চাপ দিতে বাধ্য হয়।
যতক্ষণ আপনি ভালো আচরণ করছেন এবং মাদক বা রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হচ্ছেন না, আপনার কোনো সমস্যা হওয়া উচিত নয়। এমনকি ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল এড়িয়ে যাওয়া বা সম্ভাব্য विध्वंसक উপাদান অ্যাক্সেস করাও সাধারণ পর্যটকদের জন্য সাধারণত উপেক্ষা করা হয়। তবে, আপনি যদি সরকারের রোষানলে পড়েন, তবে একটি আপৎকালীন পরিকল্পনা থাকাটা ভালো।
পুলিশ
[সম্পাদনা]
প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যার সাথে আপনার দেখা হবে তা হলো জননিরাপত্তা পুলিশ (公安, gōng'ān; 警察, jǐngchá), বা বেসামরিক পুলিশ (民警, mínjǐng)। আপনি অফিসারদের তাদের ইউনিফর্ম দ্বারা চিনতে পারবেন, যা সাধারণত হালকা নীল শার্ট এবং গাঢ় নীল ছুঁচলো টুপি নিয়ে গঠিত, যদিও ট্র্যাফিক পুলিশ সাদা ছুঁচলো টুপি পরে। অফিসারদের ডিউটিতে থাকাকালীন তাদের পুলিশ পরিচয়পত্র বহন করতে হয়, এবং অনুরোধে জনসাধারণের কাছে তা উপস্থাপন করতে হয়। চীনের পুলিশ অফিসাররা সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড টহলের সময় আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে না। বেশিরভাগ পুলিশ অফিসার পেশাদার এবং কাছে গেলে সহায়ক হন, যদিও ভাষার বাধা বিদেশী পর্যটকদের জন্য একটি সমস্যা হতে পারে।
পিপলস আর্মড পুলিশ (PAP) (武警, wǔjǐng), হলো চীনা সামরিক বাহিনীর একটি শাখা যার আইন প্রয়োগকারী দায়িত্ব রয়েছে। তারা বিমানবন্দর, দূতাবাস এবং সরকারি ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহারা দেয়, এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক পুলিশকে সহায়তা করে। তাদের সৈন্যরা সামরিক ইউনিফর্ম পরে যার বাম হাতার ইন্সিগনিয়া প্যাচের উপরে 中国武警 অক্ষরগুলি থাকে। বেশিরভাগ পিএপি সৈন্যরা পেশাদার এবং কাছে গেলে সহায়ক হন, তবে আপনার খুব বেশি ইংরেজি ভাষার দক্ষতার আশা করা উচিত নয়।
চেংগুয়ান (城管, chéngguǎn) কর্মীদের পৌর সরকার নিযুক্ত করে। জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরক্ষীদের সহায়তা করাই তাদের কাজ। তাদের পোশাক জননিরাপত্তা আরক্ষী কর্মকর্তাদের মতোই দেখতে। তবে সেই পোশাকের রঙ কিছুটা গাঢ় নীল। তাদের গ্রেপ্তারের কোনো ক্ষমতা নেই। চেংগুয়ান কর্মকর্তাদের নিম্নমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নৃশংস হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে। কখনও কখনও তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবেও বদনাম আছে।
চীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাই কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন না। যদি আপনাকে ঘুষের জন্য বলা হয়, তবে আপনি একটি রিপোর্ট করার জন্য কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশনের (সিসিডিআই) হটলাইন ১২৩৮৮-এ কল করতে পারেন, বা অনলাইনে তা করতে পারেন, তবে ওয়েবসাইটটি শুধুমাত্র চীনা ভাষায়।
চীনে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পুলিশের মতোই পোশাক পরে, এবং প্রায়শই তাদের যানবাহনে আলো এবং সাইরেন ব্যবহার করে, কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই।
অপরাধ
[সম্পাদনা]রাস্তার অপরাধের ক্ষেত্রে চীন একটি অত্যন্ত নিরাপদ দেশ। এই ব্যাপারে এটি বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশের সাথে তুলনীয়। সাধারণত মহিলাদের জন্য গভীর রাতে একা রাস্তায় ঘোরাফেরা করা কোনো সমস্যা নয়। তবুও কম অপরাধ মানে অপরাধহীনতা নয়। সুতরাং আপনার সর্বদা সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হিংসাত্মক অপরাধ অত্যন্ত বিরল। তবে প্রতারণা এবং সুবিধাবাদী চুরির ঘটনা বেশি ঘটে। শহরাঞ্চলে এবং কিছু গ্রামাঞ্চলে ক্যামেরার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নজরদারি করা হয়।
পকেটমারি ভিড়ের জায়গায় একটি সমস্যা। পিক আওয়ারে গণপরিবহনে থাকাকালীন বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন।
সাইকেল চুরি একটি সমস্যা হতে পারে। স্থানীয় লোকেরা যা করে তাই অনুসরণ করুন। ধরে নেবেন আপনার দামী তালা মোটেই সাহায্য করবে না; পেশাদার চোররা কার্যত যেকোনো তালা ভাঙতে পারে। সুপারমার্কেট বা শপিং সেন্টারের বাইরে বাইক পার্কিং সাধারণ, এবং সাধারণত প্রতিদিন ¥১-২ চার্জ করা হয় (সাধারণত ২০:০০-২২:০০ পর্যন্ত)। আপনার যদি একটি বৈদ্যুতিক বাইসাইকেল বা স্কুটার থাকে, তবে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন কারণ ব্যাটারি প্যাক বা চার্জার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সম্ভব হলে, সিসিটিভি দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা একটি বাইক পার্ক খুঁজুন, কারণ চুরি হয়ে গেলে পুলিশের পক্ষে আপনার বাইক খুঁজে বের করা সহজ হবে।
বিদেশীরা যে প্রধান অপরাধগুলির জন্য সমস্যায় পড়ে তা হলো মাদক ব্যবহার (চীনের বাইরে আসার আগে মাদক ব্যবহারসহ — তারা কখনও কখনও গাঁজার জন্য চুল পরীক্ষা করে) বা অবৈধভাবে কাজ করা, যার পরিণতি সাধারণত একটি ছোট সাজা, জরিমানা এবং নির্বাসন। আপনাকে যদি আরও গুরুতর অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়, তবে তদন্তের প্রথম ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই পুলিশ, প্রসিকিউটর এবং আপনার আইনজীবীরা তদন্ত করবে, আলোচনা করবে এবং আপনি দোষী কিনা তা সিদ্ধান্ত নেবে। পুলিশ গ্রেপ্তারের সাথে সাথেই কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ (বা নির্যাতন) ব্যবহার করে কারণ একটি স্বীকারোক্তি আদায় করাটা দোষী সাব্যস্ত করার সবচেয়ে দ্রুত উপায়। চীনা আইন আপনার জিজ্ঞাসাবাদের সময় আপনার আইনজীবীকে উপস্থিত থাকতে নিষেধ করে। আপনার চুপ থাকার অধিকার নেই এবং পুলিশের প্রশ্নের সত্য উত্তর দিতে আপনি বাধ্য। যদি আপনার মামলা বিচারে যায়, তবে আপনার দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা নিছকই একটি আনুষ্ঠানিকতা (২০১৩ সালে ৯৯.৯% ফৌজদারি মামলার বিচার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছিল), এবং বিচারকের একমাত্র ভূমিকা হলো আপনার শাস্তি নির্ধারণ করা। আপনার জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোনো নথিতে স্বাক্ষর করাটা একটি অত্যন্ত খারাপ ধারণা হবে, বিশেষ করে যদি আপনি কী স্বাক্ষর করছেন তা না বোঝেন। আপনার বিনীতভাবে জোর দেওয়া উচিত যে আপনাকে কনস্যুলার পরিষেবা এবং একজন অনুবাদকের অ্যাক্সেস দেওয়া হোক।
প্রতারণা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: সাধারণ প্রতারণা, পকেটমার
চীনারা সাধারণভাবে বিদেশীদের প্রতি অতিথিপরায়ণ, এবং তাদের দেশে আসা পর্যটকদের উপর একটি ভালো ছাপ ফেলতে চায়। তবে, পর্যটন হট স্পটগুলিতে প্রতারকরাও সক্রিয় থাকে।
উচ্চ মূল্য অগত্যা একটি প্রতারণা নির্দেশ করে না। একটি টিহাউস বা বারে, প্রতি কাপ বা পাত্র চায়ের জন্য ¥৫০-২০০ (গরম জল রিফিলসহ) এবং প্রতি বোতল বিয়ারের জন্য ¥১৫-৬০ অস্বাভাবিক নয়। চা চেখে দেখার জন্যও প্রতি স্যাম্পলের জন্য উচ্চ মূল্য চার্জ করা হতে পারে। বেইজিং এবং সাংহাইয়ের পর্যটন অংশগুলি বিভিন্ন প্রতারণার জন্য কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। আপনি যদি প্রতারিত হওয়া এড়াতে আগ্রহী হন, তবে নিম্নলিখিতগুলি ভালো সাধারণ নিয়ম:
- প্রতারকদের সাধারণ পর্যটন স্থানের বাইরে সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা কম
- যদি কোনো পর্যটন এলাকায় কোনো ব্যক্তি আপনার কাছে এসে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় (টিহাউস বা অন্য কিছু) যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত উৎসাহ দেখায়, তবে আপনার সম্ভবত বেশি দাম দিতে হবে এবং হয়তো অন্য কোথাও ভালো সময় কাটাতে পারবেন
- যদি আপনি অস্বস্তি বোধ করেন, হেঁটে চলে যান।
- বেশিরভাগ সাধারণ চীনা মানুষ ইংরেজি বলতে পারে না, তাই যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার কাছে এসে ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করে তবে সতর্ক থাকুন।
পুলিশ বিদেশীদের এই উপায়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার বিষয়ে সংবেদনশীল। চীনে, আপনার একটি "ফা পিয়াও" (发票, আক্ষরিক অর্থে রসিদ/চালান) চাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে যা কর বিভাগ দ্বারা জারি করা একটি বিক্রয় চালান। একজন মালিকের আপনাকে এটি দিতে অস্বীকার করাটা আইনের বিরুদ্ধে। প্রতারণার ক্ষেত্রে, তারা সাধারণত এটি দিতে অস্বীকার করবে কারণ এটি তাদের চাঁদাবাজির দামের আইনি প্রমাণ।
দুর্ঘটনার প্রতারণাও ঘটে, এবং এমনকি যারা সত্যিকারের দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করে এমন 'ভালো সামারিটান'-দেরও তাদের সাহায্য করা লোকদের দ্বারা ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করা হয়েছে। এই প্রতারণাগুলি বিদেশীদের উপর খুব একটা চেষ্টা করা হয় না, তবে একটি যানবাহন ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকুন এবং সবসময় আপনার যাত্রা একটি ড্যাশবোর্ড বা বাইসাইকেল ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করুন।
আপনি যদি নিজেকে প্রতারিত হতে বা হয়েছেন বলে মনে করেন তবে ১১০ নম্বরে ফোন করুন এবং অবিলম্বে এটি রিপোর্ট করুন। সন্দেহজনক ফোন কলগুলি ৯৬১১০-এর মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে। পুলিশ আপনাকে বা আপনার পরিবারের সদস্যদের সম্ভাব্য প্রতারণার সম্মুখীন হলে এই নম্বর থেকে এলাকা কোড প্রিফিক্সসহ (যেমন আপনি যদি বেইজিংয়ে থাকেন তবে ০১০-৯৬১১০) সতর্ক করতে পারে।
যানচলাচল
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: চীনে গাড়ি চালনা

সাধারণভাবে, চীনে গাড়ি চালানো স্নায়ু-বিধ্বংসী থেকে শুরু করে পুরোপুরি বেপরোয়া পর্যন্ত হতে পারে। যানচলাচল বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। গাড়িগুলিকে লাল বাতিতে ডানদিকে মোড় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং হাঁটার সংকেত নির্বিশেষে পথচারীদের জন্য থামে না। গাড়ি চালক, সাইকেল চালক এবং বৈদ্যুতিক স্কুটার চালকরা সবাই ধরে নেয় যে তাদের সবারই একবারে পথ চলার অধিকার/অগ্রাধিকার রয়েছে। পথচারী পারাপারগুলি চালকের জন্য একটি নির্দেশিকা যেখানে পথচারীদের পার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে, শহরগুলিতে, চালকদের যথেষ্ট ক্ষতি করার মতো দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করার সম্ভাবনা কম। স্থানীয়রা যা করে তাই করুন: আত্মবিশ্বাসের সাথে রাস্তা পার হন, আপনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকুন, জানুন যে গাড়ি, বাইক এবং স্কুটারগুলি থামার পরিবর্তে চলতে থাকবে।
চীনে একটি গাড়ি চালানোর জন্য একটি চীনা ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন, এবং একটি পাওয়াটা সাধারণ পর্যটকদের জন্য অনেক জটিল একটি প্রক্রিয়া। আপনি যদি আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধায় দৌড়াতে চান তবে চীনে গাড়ি চালনা দেখুন।
চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ, এবং সেগুলি পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির চেয়ে অনেক শান্ত। রাস্তা পার হওয়ার আগে ভালোভাবে দেখে নিতে ভুলবেন না।
সন্ত্রাসবাদ
[সম্পাদনা]যদিও বিরল, চীনে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, বেশিরভাগই শিনচিয়াংয়ে, যেখানে উইগুর ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা একটি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ রয়েছে, যদিও প্রদেশের বাইরেও বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হামলা হয়েছে। সমস্ত প্রধান ট্রেন স্টেশন, মেট্রো স্টেশন এবং দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলিতে বিমানবন্দর-শৈলীর নিরাপত্তা রয়েছে। আপনার ব্যাগ এক্স-রে করা হবে এবং জলের বোতলগুলি ব্যাগ থেকে বের করে আলাদাভাবে স্ক্যান করতে হবে, তবে আপনার পকেট খালি করার প্রয়োজন নেই।
ভিক্ষাবৃত্তি
[সম্পাদনা]চীনারা ঐতিহ্যগতভাবে ভিক্ষাবৃত্তিকে অসমর্থন করে, তাই বেশিরভাগ জায়গায় ভিক্ষাবৃত্তি একটি বড় সমস্যা নয়। তবে, এটি দৃশ্যপট থেকে কখনই দূরে নয় এবং বিশেষ করে প্রধান পর্যটন আকর্ষণগুলির বাইরে এবং প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ।
শিশু ভিক্ষুকদের সম্পর্কে সচেতন থাকুন যারা শিশু পাচারের শিকার হতে পারে। যদিও এটি কম সাধারণ হয়ে উঠছে, আপনার তাদের কোনো টাকা দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
চীনে, স্থানীয় লোকেরা সাধারণত শুধুমাত্র তাদেরকেই টাকা দেয় যারা স্পষ্টতই অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা হারিয়েছে। পেশাদার ভিক্ষুকদের স্পষ্ট বিকৃতি থাকে, এবং কিছু সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের অঙ্গহানি করে বলে জানা গেছে কারণ এটি করুণা চাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়। আপনি যদি তাদের কিছু দিতে চান, তবে মনে রাখবেন যে সর্বনিম্ন ঘণ্টায় মজুরি ¥১১ থেকে ¥২৪ (২০২০) পর্যন্ত হয়।
ভণ্ড বৌদ্ধ সন্ন্যাসী
[সম্পাদনা]স্থানীয় বৌদ্ধ রীতিনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ বিদেশী পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক প্রতারণার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেক ভণ্ড সন্ন্যাসী এবং মন্দির অসতর্ক পর্যটকদের শিকার করে। চীনে বৌদ্ধধর্ম সাধারণত মহাযান শাখা অনুসরণ করে, যার সন্ন্যাসীদের নিরামিষাশী হতে হয়, এবং সাধারণত মন্দিরগুলিতে তাদের নিজস্ব খাবার জন্মায়, বা মন্দিরের অনুদান ব্যবহার করে তাদের খাবার কেনে। যেমন, তারা সাধারণত ভিক্ষার জন্য বাইরে যায় না। প্রধান ব্যতিক্রম হলো ইউন্নানের দাই জাতিগত সংখ্যালঘু, যারা বেশিরভাগই থেরবাদ বৌদ্ধ। যদিও থেরবাদ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জন্য সকালে ভিক্ষার জন্য যাওয়াটা প্রথাগত (যেহেতু তাদের দুপুরের পর খাওয়ার অনুমতি নেই), তাদের টাকা গ্রহণ বা এমনকি স্পর্শ করার অনুমতি নেই, এবং ভিক্ষার পাত্রগুলি শুধুমাত্র খাবার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। আপনি যদি কোনো "সন্ন্যাসীকে" আর্থিক অনুদান চাইতে দেখেন, তবে সে ভণ্ড।
সন্ন্যাসীরা ধর্মীয় জিনিসপত্রও বিক্রি করে না (এগুলি সাধারণ মানুষ বিক্রি করে), এবং তারা টাকার বিনিময়ে "বুদ্ধের আশীর্বাদ"ও দেয় না, বা আপনি অনুদান না দিলে আপনাকে অভিশাপও দেয় না। বেশিরভাগ মন্দিরের প্রধান হলে একটি অনুদান বাক্স থাকবে যাতে ভক্তরা চাইলে অনুদান দিতে পারে, এবং সন্ন্যাসীরা কখনই জনসাধারণের মধ্যে অনুদান চাইতে যাবে না। ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ দর্শন অনুসারে, একজন ব্যক্তি দান করতে চায় কিনা এবং কতটা করতে চায় তা সম্পূর্ণভাবে তার উপর নির্ভর করে, এবং আসল বৌদ্ধ মন্দিরগুলি কখনই অনুদান চাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার কৌশল ব্যবহার করবে না, বা পরিষেবার বিনিময়ে কোনো পরিমাণ অর্থ চাইবে না।
প্রকৃতি
[সম্পাদনা]
একটি বড় দেশ হওয়ায়, চীন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় টাইফুন গ্রীষ্ম এবং শরৎ মাসে উপকূলে আঘাত হানে, যা শারীরিক ধ্বংস এবং প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে। বন্যাও হয়, বিশেষ করে বড় নদীগুলির আশেপাশে। দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতকালীন ঝড় হয়। দেশের বেশিরভাগ অংশই ভূমিকম্প এবং টর্নেডোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
চীনে বিভিন্ন ধরণের বিষাক্ত সাপ রয়েছে। হাইকিং করার সময় সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো সাপের কামড়ের জন্য অবিলম্বে চিকিৎসা নিন। উজ্জ্বল সবুজ বাঁশ ভাইপার (Trimeresurus stejnegeri) বিশেষভাবে কুখ্যাত।
অবৈধ মাদক
[সম্পাদনা]চীনে মাদক অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ নরম (যেমন গাঁজা) এবং কঠিন (যেমন হেরোইন) মাদকের মধ্যে পার্থক্য করে না। শুধু মাদকের জন্য পজিটিভ পরীক্ষা হওয়াটাই একটি অপরাধ, এমনকি যদি সেগুলি দেশের বাইরে সেবন করা হয়, এবং চুল পরীক্ষা শেষ সেবনের কয়েক মাস পরেও পজিটিভ আসতে পারে। যদিও আপনি সাধারণত অল্প পরিমাণে মাদক রাখার জন্য একটি আটক (১৫ দিন পর্যন্ত), জরিমানা এবং নির্বাসন নিয়ে পার পেয়ে যেতে পারেন, মাদক পাচার মৃত্যুদণ্ডযোগ্য। আপনার যদি মাদক ব্যবহারের রেকর্ড থাকে, তবে আপনাকে নির্দেশিত পুলিশি অভিযানের শিকার হতে হতে পারে। বিদেশীরা ঘন ঘন যায় এমন বার এবং নৈশক্লাবগুলিতেও লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান চালানো হয়।
চীনারা সাধারণত মাদককে জাতীয় অপমানের সাথে যুক্ত করে (আফিম যুদ্ধের পর সীমাহীন আফিম প্রবেশের কারণে); মাদক পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করা বা মাদক উদারীকরণের পক্ষে কথা বললে সম্ভবত আপনাকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা হবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী
[সম্পাদনা]চীনে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে, আপনি হয়তো দেখবেন কিছু আইটেম (বিশেষ করে মিডিয়া) কাস্টমস দ্বারা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশে সহজেই কেনার জন্য উপলব্ধ। বিমানবন্দরে চীন প্রবেশের সময় আপনার জিনিসপত্র নীচের মতো অবৈধ আইটেমগুলির জন্য তল্লাশি করা হতে পারে, যদিও বাস্তবে এটি বিরল।
- কর্তৃপক্ষ দ্বারা চীনা-বিরোধী বলে মনে করা উপাদানগুলি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর একটি বেশ বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে, তবে এর মধ্যে দালাই লামা, তিব্বতি সিংহ-পর্বত পতাকা এবং ফালুন গং ধর্মীয় গোষ্ঠী, শিনচিয়াং, তিব্বত, হংকং এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতা আন্দোলন বা তিয়ানানমেন স্কয়ার বিক্ষোভ সম্পর্কিত সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একটি সাধারণ নিয়ম হিসাবে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনামূলক কিছু আনবেন না; যদি কিছু সাহিত্যে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (中共) হিসাবে উল্লেখ করা হয়, তবে এটি হয় তাইওয়ান থেকে (চীনা সরকারকে উল্লেখ করার সময় স্থানীয় সরকারি পরিভাষা হিসাবে), এবং/অথবা এর অবস্থান সম্ভবত পার্টির সমালোচনামূলক। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ হলো সিপিসি; "সিসিপি" সংক্ষিপ্ত রূপটি ব্যবহারকারী প্রকাশনাগুলিকে সরকারের সমালোচক বলে ধরে নেওয়া হতে পারে এবং বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
- দ্য এপোক টাইমস (大紀元時報) এবং মিং হুই টাইমস (明慧周刊/明慧周報) হলো ফালুন গং সাহিত্যের দুটি উদাহরণ। ফালুন গং গোষ্ঠী চীনা ইউয়ান বিলগুলিতে ধর্ম প্রচারমূলক শব্দ মুদ্রণ করার জন্য পরিচিত, তাই অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে আপনার বিলগুলি পরীক্ষা করার কথা বিবেচনা করুন।
- চীনা আঞ্চলিক দাবির পরিপন্থী মানচিত্র, যেমন তাইওয়ানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বা মূল ভূখণ্ড চীন থেকে পৃথক হিসাবে রঙ করা, বা অরুণাচল প্রদেশ (দক্ষিণ তিব্বত) কে ভারতের অংশ হিসাবে চিহ্নিত করা, এগুলিও সীমান্তে পরীক্ষা করা হয় এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- সমস্ত পর্নোগ্রাফির উপর একটি ভারী জরিমানা আরোপ করা হয় এবং দেশে আনা পিসের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে জরিমানা গণনা করা হয়।
ধর্ম
[সম্পাদনা]চীন সরকারিভাবে নাস্তিক, এবং আধুনিক চীনা সমাজ সাধারণভাবে ধর্মনিরপেক্ষ।
পর্যটক এবং ব্যক্তিগত নাগরিকরা চাইলে সাধারণত তাদের ধর্ম পালন করতে স্বাধীন। তবে, সরকারি জায়গায় ধর্মপ্রচার নিষিদ্ধ এবং এর ফলে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড হতে পারে।
চীনে ক্যাথলিকরা রাষ্ট্র-অনুমোদিত চাইনিজ প্যাট্রিয়টিক ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশন (中国天主教爱国会 Zhōngguó Tiānzhǔjiào Àiguó Huì), যা ভ্যাটিকান থেকে পৃথকভাবে পরিচালিত হয়, এবং অবৈধ আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চের মধ্যে বিভক্ত। প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চগুলির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম।
ফালুন গং চীনে অবৈধ এবং ব্যাপকভাবে সেন্সর করা হয়। এটিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করলে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]চীনে বিনা উস্কানিতে হিংসাত্মক বর্ণবাদী হামলার ঘটনা প্রায় শোনাই যায় না। তবে বিদেশীরা, বিশেষ করে শ্যামবর্ণের মানুষেরা, প্রায়ই কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন এবং তাদের সম্পর্কে নানা গতানুগতিক ধারণা প্রচলিত আছে। যদিও কথিত আছে যে শ্বেতাঙ্গ বিদেশীরা স্থানীয়দের চেয়ে বেশি খাতিরযত্ন পায়, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাদের জন্যওচীনাদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। এই বর্ণবাদী মনোভাব বয়স্ক ও কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিতদের মধ্যে এটি প্রায় নেই বললেই চলে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক চীনা নাগরিক মার্কিন সরকারের ওপর বেশ নাখোশ। তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ চীনারাই আমেরিকান পর্যটকদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং তাদের স্বাগত জানায়। এমনকি যারা কট্টরপন্থী, তারাও সাধারণত কোনো দেশের সরকারের কাজের জন্য সেখানকার সাধারণ পর্যটকদের দায়ী করে না।
ঐতিহাসিক সংঘাত এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে, অনেক চীনারা জাপানের প্রতি একটি প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। জাপানিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সাধারণ, এবং জাপানিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ঘটতে দেখা গেছে। জাপানিদের সংবেদনশীল স্থান যেমন নানজিং গণহত্যা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের সময় সতর্ক থাকা এবং সংযত থাকা উচিত। ১৮ই সেপ্টেম্বরের (যে তারিখে মুকদেন ঘটনা ঘটেছিল) মতো সংবেদনশীল তারিখে, অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ভিড় এড়িয়ে চলাই ভালো। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ম্যানুয়াল সিরিজ জারি করেছে যাতে একটি সফরের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদি আপনার ত্বকের রঙ আপনার দেশের কারো জন্য মানুষের অনুমানের সাথে না মেলে, এবং বিশেষ করে যদি আপনি জাতিগতভাবে চীনা হন, তবে আপনাকে আপনার পাসপোর্টের দেশের লোক হিসাবে বিবেচনা করা নাও হতে পারে। এই ভিত্তিতে কখনও কখনও আগমনী ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
চীনারা ঐতিহ্যগতভাবে ইহুদিদের উচ্চ সম্মানের চোখে দেখে, তবে ফিলিস্তিনের প্রতি চীনের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের কারণে ২০২৩ সালের ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের ফলে ইহুদি-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে। রাস্তায় ইহুদিদের প্রতি উস্কানিবিহীন হয়রানি বা হিংস্রতা অত্যন্ত বিরল।
এলজিবিটি ভ্রমণকারী
[সম্পাদনা]চীন সাধারণত গে এবং লেসবিয়ান ভ্রমণকারীদের জন্য একটি নিরাপদ গন্তব্য। চীনে সমকামিতার বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই, যদিও মিডিয়াতে সমকামী-থিমযুক্ত বিষয়বস্তুর উপর সেন্সরশিপ রয়েছে, এবং যেকোনো ধরনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত (যেমন প্রাইড ফ্ল্যাগ প্রদর্শন) কর্তৃপক্ষ দ্রুত দমন করে। প্রধান শহরগুলিতে গে বার পাওয়া যায়, তবে গ্রামীামীণ এলাকায় অনুপস্থিত। চীনা সমাজ এখনও পশ্চিমের তুলনায় বেশ রক্ষণশীল, এবং বেশিরভাগ মানুষই প্রকাশ্যে তাদের যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক। সমলিঙ্গের বিবাহ এবং ইউনিয়ন সরকার দ্বারা স্বীকৃত নয়।
প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্ক প্রকাশ করলে সমকামী যুগলদের হয়তো অবাক চাহনি বা কানাঘুষার শিকার হতে হতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমকামী পর্যটকদের সাধারণত বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না এবং তাঁদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হিংসাত্মক হামলার ঘটনা প্রায় শোনাই যায় না। সাধারণত বড় শহরগুলোর তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়ে অনেক বেশি উদার। বিশেষ করে চেংদু শহরটি তো চীনের ‘সমকামী রাজধানী’ হিসেবেই পরিচিত।
হোটেল এবং গেস্টহাউসের কর্মীরা মনে করতে পারে যে একটি সমকামী দম্পতি একটি বড় বিছানাসহ একটি ঘর রিজার্ভ করলে কোনো ভুল হয়েছে এবং আপনাকে অন্য ঘরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে, আপনি যদি জোর দেন যে এটি কোনো সমস্যা নয়, তবে তারা সাধারণত পিছু হটবে।
রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পরেই কেবল তাঁদের আইনি লিঙ্গ পরিচয় বদলাতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী গণশৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব এখনও ততটা উদার নয়, রূপান্তরকামী মানুষদের ওপর বিনা প্ররোচনায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা হিংসার ঘটনা একেবারেই বিরল।
সুস্থ থাকুন
[সম্পাদনা]ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: শৌচাগার


প্রধান শহরগুলির বাইরে, পাবলিক শৌচাগারগুলি হালকা অপ্রীতিকর থেকে শুরু করে পুরোপুরি বিরক্তিকর পর্যন্ত হতে পারে। শহরগুলিতে, এটি জায়গাভেদে ভিন্ন হয়। প্রধান পর্যটন আকর্ষণ, আন্তর্জাতিক হোটেল, অফিস ভবন এবং উচ্চ-শ্রেণীর ডিপার্টমেন্ট দোকানগুলির ভিতরে উচ্চ মানের বাথরুম পাওয়া যায়। বিদেশী রেস্তোরাঁ চেইন, বা পানীয় বিভাগে তালিকাভুক্ত যেকোনো কফি চেইনের শৌচাগারগুলি সাধারণত কমবেশি পরিষ্কার থাকে। যখন সাধারণ রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলির শৌচাগারগুলি সবেমাত্র গ্রহণযোগ্য, হোটেল রুমের শৌচাগারগুলি সাধারণত পরিষ্কার থাকে। পাবলিক টয়লেট বিনামূল্যে। পুরুষ (男 নান) এবং মহিলাদের (女 নু) জন্য সবসময় আলাদা সুবিধা থাকে, তবে কখনও কখনও দোকানগুলির সামনে কোনো দরজা থাকে না।
চীনের গণপরিসরে পশ্চিমাদের পরিচিত কমোড বা বসে ব্যবহার করার শৌচাগার বেশ বিরল। হোটেলের ঘরে সাধারণত কমোডই থাকে, কিন্তু যেসব জায়গায় পশ্চিমাদের আনাগোনা কম, সেখানে কমোডের চেয়ে স্কোয়াট টয়লেট বা প্যান বেশি দেখতে পাবেন। অবশ্য শহরাঞ্চলের অনেক বাড়িতেই এখন কমোড ব্যবহার করা হয়। ম্যাকডোনাল্ড'স বা স্টারবাকসের মতো পশ্চিমা চেইনগুলোতে সাধারণত ওয়েস্টার্ন টয়লেট বা কমোড থাকলেও, সেখানে টয়লেট পেপার না-ও থাকতে পারে।
আপনার নিজের টিস্যু পেপার (卫生纸 উইশেংঝু, বা 面纸 মিয়ানঝু) সাথে রাখুন কারণ এটি খুব কমই সরবরাহ করা হয়। আপনি এটি বার, রেস্তোরাঁ, সুবিধাজনক দোকান এবং ইন্টারনেট ক্যাফে থেকে ¥২-এ কিনতে পারেন। ব্যবহৃত কাগজ টয়লেটের পাশের বালতিতে ফেলুন; এটিকে ফ্লাশ করবেন না কারণ এটি প্রায়শই দুর্বল প্লাম্বিং সিস্টেম ব্লক করে দিতে পারে। পাবলিক শৌচাগারে সাবানও নাও থাকতে পারে।
চীনারা সাধারণত আবাসনের স্নানপাত্রের পরিচ্ছন্নতার ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। চীনে থাকাকালীন আপনারও এই বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যেসব আবাসনে স্নানপাত্র থাকে সেখানে অনেক সময় একটি বিশেষ জিনিস দেওয়া হয়। এটি হলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের আস্তরণ। আপনি স্নানের জন্য স্নানপাত্র ব্যবহার করতে চাইলে এই আস্তরণগুলি অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
সুযোগ পেলেই সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন। সাথে সবসময় একবার ব্যবহারযোগ্য জীবাণুনাশক টিস্যু বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। এই টিস্যুগুলো সাধারণত যেকোনো বড় দোকান বা প্রসাধনীর দোকানেই পাওয়া যায়।
খাবার
[সম্পাদনা]প্রতিটি প্রধান শহরে একটি পরিদর্শন ব্যবস্থা রয়েছে যার অধীনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ফলাফল (ভালো, মাঝারি বা খারাপ) স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হয়। এটি কতটা কার্যকর তা বলা কঠিন। রেস্তোরাঁগুলি সাধারণত আপনি অর্ডার করার সময় গরম খাবার প্রস্তুত করে। এমনকি সবচেয়ে ছোট রেস্তোরাঁতেও, গরম পদগুলি সাধারণত পুনরায় গরম না করে তাজা প্রস্তুত করা হয় এবং খুব কমই স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
রাস্তার খাবার কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যেন তা আপনার চোখের সামনেই ভালোভাবে রান্না করা হয়। যেসব দোকানে স্থানীয়দের ভিড় বেশি, সেখান থেকেই খাবার কেনার চেষ্টা করবেন। এছাড়া ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকে মোড়া, একবার ব্যবহারযোগ্য চপস্টিক আছে কিনা, তা দেখে নেবেন।
রাস্তার খাবার এবং রেস্তোরাঁর খাবার উভয় থেকেই সামান্য পেটের অস্বস্তি হতে পারে, তবে স্থানীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি চলে যায় বলে বলা হয়। বমি বমি ভাবের বিরুদ্ধে আদা কার্যকর হতে পারে।
পানীয়
[সম্পাদনা]চীনারা সরাসরি কলের জল পান করে না, এমনকি শহরগুলিতেও। সমস্ত হোটেলে একটি বৈদ্যুতিক কেটলি থাকে যা আপনি কলের জল ফোটানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন অথবা বাণিজ্যিক মিনারেল ওয়াটারের একটি সিল করা প্লাস্টিকের বোতল দেওয়া হয়। কলের জল ফোটানোর পরে পানের জন্য নিরাপদ।
কিছু অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যবসায় রান্না এবং ধোয়ার জন্য জলের মান উন্নত করার জন্য বেশ বড় জলের ফিল্টার লাগানো থাকে। এটি এখনও কলের জলকে পানের যোগ্য করে তোলে না, তবে এটি জলের মানকে অনেক উন্নত করে।
বোতলে পরিশোধিত পানীয় জল সর্বত্র পাওয়া যায়, এবং এটি সাধারণত বেশ সস্তা। একটি ছোট বোতলের জন্য ¥২ সাধারণ দাম। ক্যাপের সিলটি ভাঙা নয় তা পরীক্ষা করে নিন। বিয়ার, ওয়াইন এবং কোমল পানীয়ও সস্তা এবং নিরাপদ।
চীনের অনেক নদী রাসায়নিক দ্বারা দূষিত হয়েছে যা ফিল্টার খুব একটা সাহায্য করতে পারে না, যদিও এটি শুধুমাত্র দীর্ঘ সময় ধরে পান করলেই বিপজ্জনক হওয়া উচিত।
দূষণ
[সম্পাদনা]|
ধোঁয়াশা
বেশিরভাগ ধোঁয়াশা বা কুয়াশা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণা (PM2.5) দিয়ে গঠিত। এই কণাগুলির আকার ২.৫ মাইক্রন বা তার চেয়েও ছোট হয়। N95 মুখোশ ধোঁয়াশার বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা দেয়। এর কারণ হলো এগুলি ০.১ থেকে ০.৩ মাইক্রন আকারের সূক্ষ্ম কণার বিরুদ্ধে কমপক্ষে পঁচানব্বই শতাংশ কার্যকর। এই মুখোশগুলি ০.৭৫ মাইক্রন বা তার চেয়ে বড় কণার বিরুদ্ধে ৯৯.৫ শতাংশ কার্যকর। চীনের বেশিরভাগ জিনিসের মতোই এক্ষেত্রেও একটি বিষয় মনে রাখবেন। ৩এম-এর মতো একটি নির্ভরযোগ্য মার্কা শনাক্ত করা জরুরি। |

দূষণ এবং ভারী ধোঁয়াশা অনেক বড় শহর ও নগরে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা, এবং এমনকি গ্রামাঞ্চলও এর থেকে মুক্ত নয়। তবে, কঠোর পরিবেশ সুরক্ষা আইন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাপক গ্রহণের কারণে, পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, এবং বেইজিং আর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর নয়।
আপনি যদি শুধুমাত্র স্বল্প সময়ের জন্য চীনে থাকেন এবং আপনার কোনো পূর্ব-বিদ্যমান শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা না থাকে তবে ধোঁয়াশার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আপনার স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা কম। আপনি যদি চিন্তিত হন, তবে আপনার ভ্রমণের আগে একজন চিকিৎসা পেশাদারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করুন।
কিছু স্থানে সাধারণত বায়ুর মান ভালো থাকে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চতর উচ্চতা বা সমতল ভূমি। যেমন ইউন্নান ও সিছুয়ানের কিছু অংশ শিনচিয়াং অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া এবং তিব্বত। হাইনানের মতো দূরবর্তী দ্বীপগুলির বাতাসও নির্মল। এই জালস্থানটি বেশিরভাগ বড় শহরের দূষণের বিস্তারিত ঘণ্টায় ঘণ্টায় তথ্য সরবরাহ করে।
আপনি অনেক কোলাহলও শুনতে পাবেন। নির্মাণ এবং সংস্কার একটি সার্বক্ষণিক কার্যকলাপ। চীনা এবং দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের কান এটি ফিল্টার করতে এবং সহ্য করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যসেবা
[সম্পাদনা]|
বিদেশীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা
বেশিরভাগ প্রধান চীনা শহরে ক্লিনিক এবং হাসপাতাল রয়েছে যা বিদেশীদের জন্য বেশি উপযুক্ত, যেখানে ইংরেজিভাষী এবং পশ্চিমা-যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী রয়েছেন। যদিও ব্যয়বহুল, আপনি যখন কোনো এলাকায় উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য থাকার পরিকল্পনা করেন তখন সেগুলি শনাক্ত করাটা সার্থক। অ-জরুরি চিকিৎসার জন্য, আপনি হংকং, তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় ভ্রমণের কথা বিবেচনা করতে পারেন যেখানে উচ্চ মানের চিকিৎসা পাওয়া যায় যা হয়তো বিশেষভাবে বেশি ব্যয়বহুল নাও হতে পারে। |
চীনাদের জন্য নির্মিত চিকিৎসালয়গুলির মান সাধারণত পশ্চিমা মানের মতো নয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দামী চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন। সাধারণ সর্দির মতো ছোটখাটো অসুস্থতার জন্যও চীনে শিরাপথে ওষুধ প্রয়োগ একটি সাধারণ ব্যবস্থাপত্র। চিকিৎসকদের মধ্যে উদারভাবে অণুজীবনাশক ঔষধ দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। বেশিরভাগ স্থানীয় বাসিন্দা সামান্য অসুস্থতার জন্যও চিকিৎসালয়ে যান। সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসাকেন্দ্রের ধারণা প্রায় নেই বললেই চলে। আপনার জরুরি অবস্থার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে নগদ অর্থ হাতে রাখা উচিত। কারণ অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে না পারলে চিকিৎসায় বিলম্ব হতে পারে।
রোগীবাহী যানের পরিষেবা ব্যয়বহুল। এর জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে হয়। রাস্তায় এই যানকে খুব একটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। একারণে এটি বিশেষভাবে দ্রুতগামীও নয়। এই পরিষেবার মান অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। দরিদ্র অঞ্চলের চিকিৎসাকর্মীরা প্রায়শই অপর্যাপ্তভাবে সজ্জিত থাকেন। তাদের প্রশিক্ষণও নিম্নমানের হয়। জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভাড়ার গাড়ি নিয়ে যাওয়া প্রায়শই অনেক দ্রুত হয়।
সাধারণ থেরাপিউটিক ড্রাগস — যেমন পেনিসিলিন বা ইনসুলিন — সাধারণত একটি প্রেসক্রিপশনসহ একজন ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে পাওয়া যায় এবং পশ্চিমা দেশগুলির চেয়ে যথেষ্ট সস্তা। আপনি সাধারণত বাক্সের সাথে আসা নির্দেশাবলী দেখতে চাইতে পারেন। পশ্চিমা ঔষধকে শ ইয়াও (西药) বলা হয়। কম সাধারণ ড্রাগগুলি প্রায়শই আমদানি করা হয়, তাই ব্যয়বহুল।
বড় শহরগুলিতে ঔষধের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, এবং এমনকি 'স্ট্যান্ডার্ড' সর্দির ঔষধ যেমন অ্যাসিটামিনোফেন/প্যারাসিটামল বা ডেক্সট্রোমেথরফ্যানের জন্যও একটি প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হতে পারে। অপিয়েটগুলির জন্য সবসময় একটি প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন, যদিও ভায়াগ্রার জন্য কখনই প্রয়োজন হয় না।
ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকায় অনেক ঔষধ, বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিকসহ, প্রায়শই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়।
|
সাধারণ লক্ষণ
আরও জানতে চীনা বাক্যাংশ বই দেখুন। |
বেশিরভাগ চীনা ডাক্তার এবং নার্স, এমনকি বড় শহরগুলিতেও, খুব কম বা কোনো ইংরেজিই বলবেন না। তবে, চিকিৎসা কর্মী প্রচুর পরিমাণে রয়েছে এবং হাসপাতালে অপেক্ষার সময় সাধারণত কম – সাধারণ ক্লিনিকে (门诊室 মেনঝেনশি) সাধারণত ১০ মিনিটেরও কম, এবং জরুরি কক্ষে (急诊室 জিঝেনশি) কার্যত কোনো অপেক্ষার সময়ই নেই।
বেশিরভাগ প্রধান চীনা শহরে ব্যক্তিগত পশ্চিমা-শৈলীর ক্লিনিক এবং হাসপাতাল রয়েছে যা একটি উচ্চ মানের সেবা প্রদান করে। ডাক্তার এবং নার্সরা ইংরেজি বলবেন (অন্যান্য বিদেশী ভাষার জন্য প্রায়শই ব্যাখ্যার পরিষেবা উপলব্ধ থাকে), এবং প্রায়শই পশ্চিমা দেশগুলি থেকে নিয়োগ করা হয় বা সেখানে তাদের চিকিৎসা যোগ্যতা অর্জন করে। তারা পশ্চিমে যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারদের কাছ থেকে পরিচিত পশ্চিমা চিকিৎসা পাওয়ার একটি সহজ এবং আরামদায়ক উপায় সরবরাহ করে, যদিও আপনি এই পরিষেবাগুলির জন্য একটি মোটা অঙ্কের প্রিমিয়াম প্রদান করবেন যা শুধুমাত্র পরামর্শের জন্যই ¥১,০০০ থেকে শুরু হয়। আপনার বীমা এর সম্পূর্ণ বা আংশিক আওতাভুক্ত করবে কিনা তা আগে থেকে পরীক্ষা করে নিন।
যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের জন্য, হংকং, তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় ভ্রমণের কথা বিবেচনা করা সার্থক কারণ চিকিৎসার মান এবং সেবা পশ্চিমা মানের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিশ্চিত করুন যে ইনজেকশন বা ত্বক ভেদ করার প্রয়োজন এমন যেকোনো পদ্ধতির জন্য ব্যবহৃত সূঁচগুলি নতুন এবং অব্যবহৃত; প্যাকেটটি খোলা হচ্ছে তা দেখার জন্য জোর দিন। চীনের কিছু অংশে সূঁচগুলি পুনরায় ব্যবহার করাটা গ্রহণযোগ্য, যদিও জীবাণুমুক্ত করার পর।
আকুপাংচার চিকিৎসার জন্য চীনে সাধারণত একবার ব্যবহারযোগ্য সূঁচই ব্যবহার করা হয়, তবে আপনি চাইলে নিজের সূঁচও নিয়ে যেতে পারেন। এই একবার ব্যবহারযোগ্য জীবাণুমুক্ত আকুপাংচার সূঁচগুলো (无菌針灸針) অনেক ঔষধালয়েই পাওয়া যায় এবং ১০০টি সূঁচের একটি প্যাকেটের দাম সাধারণত ¥১০-২০-এর মধ্যে থাকে। একজন আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ যথেষ্ট দক্ষ হলে, সূঁচ ফোটানো বা বের করার সময় হয় খুব সামান্য রক্তপাত হবে, অথবা একেবারেই হবে না।
চীনে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা (TCM) ব্যবস্থা সর্বত্র প্রচলিত থাকলেও, এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বেশ শিথিল এবং এখানকার চিকিৎসকদের ক্ষতিকর ভেষজ ওষুধ দেওয়ার ঘটনাও শোনা যায়। তাই আপনি যদি এই ধরনের কোনো চিকিৎসকের কাছে যেতে চান, তাহলে আগে থেকে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন এবং প্রয়োজনে কোনো বিশ্বস্ত স্থানীয় বন্ধুর সাহায্য নিন। এর চেয়ে হংকং বা তাইওয়ানে যাওয়াটা বেশি নিরাপদ, কারণ সেখানে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।
সংক্রামক রোগ
[সম্পাদনা]চীনে স্বল্প সময়ের চেয়ে বেশি দিনের জন্য ভ্রমণ করলে, হেপাটাইটিস এ এবং টাইফয়েডের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়াটা ভালো হতে পারে কারণ এগুলি দূষিত খাবারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এবং জাপানি এনসেফালাইটিস যা গ্রামীণ এলাকায় ছড়ায়।
দক্ষিণ চীনের কিছু অংশে মশা রয়েছে যেগুলি ডেঙ্গু জ্বর ছড়ায়।
২০১৯ সালের সরকারি অনুমান অনুযায়ী, চীনে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এইচআইভি/এইডস নিয়ে বসবাস করছে। প্রতি চারজন সংক্রামিত ব্যক্তির মধ্যে একজন তাদের অবস্থা জানেন না। যৌনকর্মী, যৌনকর্মীদের ক্লায়েন্ট এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি সংক্রামিত গোষ্ঠী।
চীনে নতুন রোগ কখনও কখনও একটি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে এর ঘনবসতিপূর্ণ অংশগুলিতে। বার্ড ফ্লুর ঘটনা ঘটেছে: কম রান্না করা পোল্ট্রি বা ডিম এড়িয়ে চলুন।
সম্মান প্রদর্শন
[সম্পাদনা]| “ | 入乡随俗 Rù xiāng suí sú যখন কোনো গ্রামে প্রবেশ করবে, তখন সেখানকার প্রথা অনুসরণ করো। |
” |
—চীনা প্রবাদ (ইংরেজিভাষীরা হয়তো বলবেন "When in Rome...") | ||
|
মানুষের নাম ব্যবহার
চীনে নাম একটি জটিল বিষয় হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু ছাড়া, নামগুলি সবসময় পূর্ব এশীয় নামকরণের ক্রম অনুসরণ করে অর্থাৎ আগে পদবি, তারপর আসল নাম; এটি সাধারণত ইংরেজিতেও করা হয়। তাই 陈晓明 (Chén Xiǎomíng) নামক কোনো ব্যক্তির পদবি হবে "চেন" এবং আসল নাম "শিয়াওমিং"। অনেক চীনা ইংরেজি নাম গ্রহণ করে, যা তাদের চীনা নামের সাথে কোনো সম্পর্ক নাও রাখতে পারে (এবং কখনও কখনও বেশ অস্বাভাবিক শব্দ বা অ-শব্দ হয়)। তাদের ইংরেজি নাম ব্যবহার করার সময়, তারা সম্ভবত তাদের নাম পশ্চিমা নামের ক্রমে পরিবর্তন করবে (আসল নামের পর পদবি)। প্রাপ্তবয়স্ক বন্ধু এবং শিশুদের আসল নামে সম্বোধন করাটা সাধারণত ঠিক আছে, যদিও তাদের পুরো নাম ব্যবহার করাও সাধারণ। আনুষ্ঠানিক পরিস্থিতিতে, সাধারণ নিয়ম হলো ব্যক্তিদের তাদের পদবিসহ একটি উপাধি দিয়ে, বা দ্ব্যর্থতা দূর করার জন্য প্রয়োজনে তাদের পুরো নামসহ একটি উপাধি দিয়ে সম্বোধন করা। পেশাগত উপাধিগুলি এমনকি কর্মক্ষেত্রের বাইরেও ব্যবহৃত হয়, তাই একজন শিক্ষককে ক্লাসের বাইরেও "টিচার ঝাং" (张老师 Zhāng Lǎoshī) বলা হতে পারে, এবং একজন ব্যবস্থাপক বা ব্যবসার মালিককে "বস হুয়াং" (黄老板 Huáng Lǎobǎn) বলা হতে পারে। বিভিন্ন প্রচলিত সাধারণ উপাধিগুলির মধ্যে রয়েছে শিয়েনশেং (先生, "মি." বা "স্যার"), তাইতাই (太太, "ম্যাডাম" বা "মিসেস"), এবং নুইশি (女士, "মিস")। অনানুষ্ঠানিক উপসর্গ লাও- (老, "বয়স্ক" বা "বড়") এবং শিয়াও- (小, "তরুণ" বা "ছোট") সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে আপনি যদি ব্যক্তিটিকে ভালোভাবে না চেনেন তবে তাদের এগুলি বলা এড়িয়ে চলা উচিত।
পারিবারিক সম্পর্কের জন্য ব্যবহৃত নামগুলি (যেমন বড় বোন, চাচা) প্রায়শই পরিচিত এবং এমনকি অপরিচিতদের জন্যও আপনার সাথে তাদের বয়সের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত প্রসঙ্গ থেকে স্পষ্ট হবে, কিন্তু সাধারণভাবে যখন কেউ অন্য কোনো ব্যক্তিকে "ভাই ঝাং" বা "চাচি ঝাং" হিসাবে উল্লেখ করে, এমনকি ইংরেজিতেও, তারা সম্ভবত কোনো পরিবারের সদস্যকে বোঝাচ্ছে না। জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রায়শই তাদের নিজস্ব নামকরণের প্রথা এবং সম্বোধনের পদ্ধতি থাকে, যা কখনও কখনও হান সংখ্যাগরিষ্ঠদের থেকে খুব ভিন্ন হতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো জিজ্ঞাসা করা যে কেউ কীভাবে সম্বোধিত হতে চায়। |
চীনের বেশিরভাগ অংশে বিদেশীরা এখনও একটি বিরল দৃশ্য, যার মানে হলো আপনি সেখানকার মানুষের সাথে কীভাবে আচরণ করছেন তা হয়তো আপনার দেশ বা এমনকি সাধারণভাবে বিদেশীদের সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরি করতে পারে। আইন অনুসরণ করুন, নম্র হন, এবং একটি ভালো ছাপ ফেলার চেষ্টা করুন কারণ এটি চীনে বিদেশীদের সাধারণ খ্যাতির উপর প্রভাব ফেলে।
- জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো নয় যেখানে মাথা নত করা অত্যন্ত সাধারণ, চীনে এই প্রথাটি আধুনিক যুগে টিকে থাকেনি, এবং এখন শুধুমাত্র বিবাহ অনুষ্ঠান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং স্কুলে শিক্ষকদের অভিবাদন জানানোর মতো নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। কাউকে অভিবাদন জানানোর সময় একটি হালকা হ্যান্ডশেক দিন, যার সাথে একটি সামান্য মাথা নত করাও যেতে পারে।
- বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং সন্ন্যাসিনীদের বুকের স্তরে আপনার করতল একসাথে রেখে আপনার বুড়ো আঙুল এবং আঙুলগুলি উপরের দিকে নির্দেশ করে (থাই ওয়াইের মতো) অভিবাদন জানানো উচিত, এবং এমিতুওফো (阿弥陀佛) বলার সময় আপনার মাথা সামান্য নত করা উচিত।
- চীনে ব্যক্তিগত স্থান বলতে গেলে প্রায় নেই। লিফট এবং বাস খুব ভিড় হতে পারে। কারো আপনার খুব কাছাকাছি আসা বা আপনাকে ধাক্কা দিয়ে কিছু না বলাটা সাধারণ এবং গ্রহণযোগ্য। রাগ করবেন না, কারণ তারা অবাক হবে এবং সম্ভবত বুঝতেই পারবে না আপনি কেন অপমানিত হয়েছেন।
- বিজনেস কার্ড বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলি উভয় হাতে দেওয়া এবং নেওয়া হয়।
- বিশেষ করে বিজনেস কার্ডের সাথে খুব সম্মানজনক এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আচরণ করা হয়। আপনি কারো বিজনেস কার্ডের সাথে কেমন আচরণ করছেন তা দেখে বোঝা যায় আপনি সেই ব্যক্তির সাথে কেমন আচরণ করবেন। একটি বিজনেস কার্ড গ্রহণ করার সময়, উভয় হাত ব্যবহার করে কোণা থেকে ধরুন, আপনার মাথা সামান্য নত করুন, এবং কার্ডটি পড়তে এবং ব্যক্তির নামের উচ্চারণ নিশ্চিত করতে সময় নিন। একটি কার্ডে কিছু লেখা, ভাঁজ করা, বা আপনার পিছনের পকেটে রাখাটা (যেখানে আপনি এর উপর বসবেন!) অসম্মানজনক; কার্ডগুলি অক্ষত রাখার জন্য একটি সুন্দর কেস একটি পকেটের চেয়ে ভালো।
- তরুণ চীনাদের মধ্যে ধূমপান ক্রমবর্ধমানভাবে কম সাধারণ, তবে এটি এখনও অত্যন্ত প্রচলিত, বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে। "ধূমপান নিষেধ" চিহ্নগুলি কিছু জায়গায় নিয়মিতভাবে উপেক্ষা করা হয়, এবং কারো একটি লিফটে বা এমনকি হাসপাতালেও ধূমপান করাটা অস্বাভাবিক নয়। কিছু শহর এখন বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে, তবে প্রয়োগ ভিন্ন হয়। বেইজিংয়ে দেশের অন্যতম কঠোর ধূমপান আইন রয়েছে: ছাদ আছে এমন যেকোনো জায়গায় আপনার ধূমপান করার অনুমতি নেই; আবারও, প্রয়োগ অসম্পূর্ণ। পশ্চিমা রেস্তোরাঁগুলিই মনে হয় একমাত্র যারা এই নিষেধাজ্ঞা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করে। দূরপাল্লার বাস যাত্রার জন্য মাস্ক একটি ভালো ধারণা হতে পারে।
- আপনি যদি ধূমপান করেন, তবে আপনি যাদের সাথে দেখা করেন তাদের একটি সিগারেট অফার করা সবসময়ই নম্রতা বলে মনে করা হয়। এই নিয়মটি প্রায় একচেটিয়াভাবে পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য, তবে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন একটি ক্লাবে, মহিলাদের সিগারেট অফার করাটা ঠিক আছে।
- বাড়িতে এবং কিছু অন্য ভবনে, চপ্পল বা স্যান্ডেল বাড়ির ভিতরে পরা হয়। যদি আপনার আয়োজকরা বাড়িতে চপ্পল পরে থাকে, এবং বিশেষ করে যদি মেঝেতে কার্পেট থাকে, তবে প্রবেশ করার আগে আপনার জুতো খুলুন এবং একজোড়া চপ্পল চেয়ে নিন, এমনকি যদি আপনার আয়োজক বলে যে আপনার তা করতে হবে না।
- চীনা সংস্কৃতিতে মুখ রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, এবং এই ধারণাটি ব্যক্তির বাইরেও তার পরিবার (বর্ধিত পরিবারসহ), এবং এমনকি দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সরাসরি ভুল ধরিয়ে দিলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদি আপনাকে তা করতে হয়, তবে ব্যক্তিটিকে একপাশে ডেকে নিন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের বলুন।
- ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিতে নম্রতাকে খুব মূল্য দেওয়া হয়, এবং আপনার কৃতিত্ব নিয়ে বড়াই করা সাধারণভাবে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না। অন্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোনো প্রশংসাও বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করা প্রথাগত; প্রশংসার উত্তরে "ধন্যবাদ" বলবেন না কারণ এটি অহংকারী বলে মনে হবে।
- চীনারা কখনও কখনও তাদের নিজেদের দেশের সমালোচনা করে, কিন্তু আপনাকে নিজে থেকে তা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ একই কথা একজন বিদেশীর দ্বারা বলা হলে তা ততটা ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না।
- চীনা সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বয়স্কদের বিশেষ সম্মানের সাথে দেখা হয়। গণপরিবহনে চড়ার সময়, আপনার কাছ থেকে বয়স্ক যাত্রীদের জন্য আপনার আসন ছেড়ে দেওয়ার আশা করা হয়; তা করতে ব্যর্থ হলে আপনার সহযাত্রীদের কাছ থেকে তিরস্কার জুটতে পারে, এবং এর ফলে আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে লজ্জিত করা হতে পারে।
- স্বস্তিকা ৫ম শতাব্দী থেকে বৌদ্ধ মন্দিরগুলিতে ধর্ম, সর্বজনীন সম্প্রীতি এবং বিপরীতের ভারসাম্যকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যান্য এশীয় দেশগুলির মতোই, এটি নাৎসিবাদকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
- মন্দির পরিদর্শনের সময়, দেবতাদের মূর্তির দিকে আপনার তর্জনী দিয়ে নির্দেশ করবেন না, কারণ এটি খুব অভদ্র। পরিবর্তে আপনার বুড়ো আঙুল বা একটি উপরের দিকে মুখ করা খোলা করতল ব্যবহার করুন। মন্দিরে প্রবেশ করার সময় দোরগোড়ায় পা দেবেন না; সবসময় এটি টপকে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। যে মন্দিরগুলিতে তিনটি দরজা রয়েছে, সেখানে সবসময় ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করুন এবং বাম দরজা দিয়ে প্রস্থান করুন (ভিতরের দিকে মুখ করে)।
- একটি ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটের বাইরে, দামী রেস্তোরাঁসহ বেশিরভাগ জায়গায় সাধারণ পোশাক গ্রহণযোগ্য। মন্দিরগুলি সাধারণত দর্শকদের শালীনভাবে পোশাক পরার আশা করে। স্লিভলেস বা লো-কাট টপগুলি অস্বাভাবিক এবং চোখে পড়তে পারে। সৈকতে বা পুলে, বিকিনির চেয়ে রক্ষণশীল সাঁতারের পোশাক অনেক বেশি সাধারণ। তবে, মহিলারা সাধারণত জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে চীনে আরও স্বাধীনভাবে পোশাক পরতে পারে।
- গ্রামীণ এলাকায়, মৃতদের জন্য নির্মিত উপাসনালয় এবং সমাধিপ্রস্তর রাস্তার পাশে থাকাটা স্বাভাবিক। কবরস্থান বা সমাধিপ্রস্তরের ছবি তুলবেন না। ধরা পড়লে এটি উল্লেখযোগ্য শত্রুতার জন্ম দেবে কারণ এটি একটি সম্প্রদায়ের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়, এবং এর ফলে আপনাকে এলাকা থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হতে পারে।
উপহার
[সম্পাদনা]কারও বাড়িতে আমন্ত্রিত হলে ছোট্ট কোনো উপহার নিয়ে যাওয়াটা সবসময়ই প্রশংসনীয়। সাধারণত ফল, ভালো মানের মদ বা নিজের দেশের তৈরি কোনো সুন্দর জিনিস উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। উপহার নেওয়ার পর যিনি দিয়েছেন, তাঁর সামনেই সেটি খুলে দেখাটা অভদ্রতা বলে মনে করা হয়, যদি না তিনি নিজেই আপনাকে খুলতে বলেন। তাই তাঁর চলে যাওয়ার পর আড়ালে সেটি খোলাই শ্রেয়।
সাংস্কৃতিক মান্যতার কারণে কিছু জিনিস চীনে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় না। যেমন, কালো ও সাদা রং শোকের প্রতীক হওয়ায় এড়িয়ে চলা হয়; কাঁচি বা ছুরি উপহার দিলে সম্পর্কচ্ছেদের ইঙ্গিত বোঝায়; আর আয়নাকে অনেকেই দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করে। এছাড়াও একই উচ্চারণের ভিন্নার্থক শব্দের কারণেও কিছু জিনিস উপহার হিসেবে নিষিদ্ধ। যেমন "চার" (四 সি)-এর উচ্চারণ "মৃত্যু" (死 সি)-র মতো, "নাশপাতি" (梨 লি) ও "ছাতা" (伞 সান)-এর উচ্চারণ "বিচ্ছেদ" (离 লি, 散 সান)-এর মতো, এবং "ঘড়ি উপহার দেওয়া" (送钟 সোং ঝোং) কথাটির উচ্চারণ "শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া" (送终 সোং ঝোং)-র মতো শোনায়। তবে এই নিয়মগুলো অঞ্চল ও প্রজন্ম ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই উপহার কেনার আগে কোনো স্থানীয় ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া বা অনলাইনে নিষিদ্ধ উপহারের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।
টাকা উপহার দিতে হলে তা সবসময় একটি লাল খামে (红包 হংবাও) ভরে দেওয়া উচিত, কখনই খোলা টাকা হাতে দেওয়া উচিত নয়।
খাওয়া-দাওয়া এবং পানীয়
[সম্পাদনা]চীনা সংস্কৃতিতে খাওয়া-দাওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। অতিথিদের সম্মান জানাতে বা সম্পর্ক গভীর করতে বাইরে একসাথে খাওয়া-দাওয়া একটি বহুল প্রচলিত রীতি। আনুষ্ঠানিক ভোজের আসরে বসার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে, যেখানে আয়োজক বা সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি প্রধান আসনে বসেন। টেবিলের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত আপনার খাওয়া শুরু করা উচিত নয়। তবে টেবিলের আদব-কায়দা স্থান ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়। কখনও হয়তো দেখবেন কেউ রেস্তোরাঁর মেঝেতে থুতু ফেলছে বা আপনার সামনেই দাঁত খোঁচাচ্ছে, কিন্তু এই ধরনের আচরণ সর্বত্র গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পরিস্থিতি বুঝে অন্যদের দেখে শেখাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
আয়োজকরা সাধারণত প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি খাবারের আয়োজন করেন, কারণ অতিথিকে পেট ভরে খাওয়াতে না পারাটা লজ্জার বিষয় বলে মনে করা হয়। যদিও এই নিয়ম অঞ্চলভেদে আলাদা, তবে সাধারণত প্লেটের সব খাবার খেয়ে ফেলার অর্থ হলো আপনি এখনও ক্ষুধার্ত, যা আয়োজককে আরও খাবার আনতে উৎসাহিত করতে পারে। আবার প্লেটে খুব বেশি খাবার রেখে দিলে বোঝায় যে, খাবারটি হয়তো আপনার পছন্দ হয়নি। তাই প্লেটে ঠিক কতটা খাবার রাখবেন, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ কৌশলের ব্যাপার।
যখন আপনাকে একটি পানীয় অফার করা হয়, তখন আপনার কাছ থেকে এটি গ্রহণ করার আশা করা হয় নতুবা আপনার বন্ধুরা আপনাকে চাপ দিতে থাকবে। "আমি ঔষধ খাচ্ছি"-এর মতো অজুহাত "আমার পান করতে ইচ্ছা করছে না"-এর চেয়ে ভালো। টোস্ট করাটা সাধারণ, এবং সাধারণত একটি টোস্ট প্রত্যাখ্যান করাটা অভদ্রতা বলে মনে করা হয় (যদিও আপনি প্রতিটি টোস্টের সাথে ছোট চুমুক নিতে পারেন)।
চীনে একটি শক্তিশালী মদ্যপানের সংস্কৃতি রয়েছে, বিশেষ করে ব্যবসায়, এবং অ্যালকোহল প্রত্যাখ্যান করলে কখনও কখনও অপমান করা হতে পারে। তবে, বিদেশীদের এই বিষয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। যদি কড়া বাইজিউ আপনার জন্য খুব বেশি হয়ে যায়, তবে এর পরিবর্তে একটি বিয়ার বেছে নেওয়ার কথা বিবেচনা করুন।
বিল পরিশোধ
[সম্পাদনা]যদিও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিল ভাগ করে নেওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে, কিন্তু চীনে এখনও একজনের পক্ষ থেকে পুরো বিল মিটিয়ে দেওয়ার রীতিই প্রচলিত, বিশেষ করে যদি উপস্থিতদের মধ্যে সামাজিক বা আর্থিক ব্যবধান স্পষ্ট থাকে। যেমন, আশা করা হয় যে পুরুষরা মহিলাদের, বয়োজ্যেষ্ঠরা কনিষ্ঠদের, ধনীরা গরীবদের, আয়োজকরা অতিথিদের এবং উপার্জনকারী ব্যক্তিরা ছাত্রছাত্রীদের মতো অনুপার্জনকারীদের আপ্যায়ন করবেন। এমনকি সমবয়সী বা একই আর্থিক অবস্থার বন্ধুরাও বিল ভাগ না করে বরং পালা করে একে অপরকে আপ্যায়ন করতে বেশি পছন্দ করে।
চীনাদের মধ্যে বিল দেওয়ার জন্য রীতিমতো কাড়াকাড়ি বা প্রতিযোগিতা করা একটি সাধারণ দৃশ্য। এক্ষেত্রে আপনারও বিল দেওয়ার জন্য এগিয়ে যাওয়া এবং "এবার আমি দিচ্ছি, পরেরবার তুমি দেবে" ধরনের কথা বলাটা সামাজিক সৌজন্যতার অংশ বলে মনে করা হয়। তবে বিদেশীদের ক্ষেত্রে চীনারা বেশ উদার। আপনি যদি আলাদাভাবে নিজের বিল দিতে চান, তাহলে তারা সাধারণত কিছু মনে করে না, কারণ তাদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে "বিদেশীরা নিজেদের বিল নিজেরাই দিতে পছন্দ করে"।
রাজনীতি
[সম্পাদনা]আপনার নিরাপত্তার জন্য, আপনি যদি যেকোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়া এড়িয়ে চলেন এবং চীনাদের সাথে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলেন তবেই সবচেয়ে ভালো। বেশিরভাগ চীনারা তাদের দেশের রাজনীতি সম্পর্কে উদাসীন এবং এটি নিয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আলোচনার বিষয় পরিবর্তন করবে।
- বেশিরভাগ চীনারা লজ্জিত যে তাদের দেশকে গত দুই শতাব্দী ধরে জাপান এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির সাথে অসম চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছিল, এবং একবিংশ শতাব্দীতে চীনের একটি মহান শক্তি হিসাবে মর্যাদা পুনরুদ্ধারে তাদের সরকারের দ্বারা করা অগ্রগতির জন্য গর্বিত। অনেক চীনারা বিকল্প পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও সচেতন, কিন্তু আপনি যদি এগুলি নিয়ে আলোচনা করতে চান তবে আপনার সাবধানে অগ্রসর হওয়া উচিত।
- তিব্বত, শিনচিয়াং, তাইওয়ান বা হংকংয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করা অবৈধ, তাই আপনার এগুলি নিয়ে আলোচনা করা এড়িয়ে চলা উচিত। বেশিরভাগ চীনা মানুষ এই বিষয়গুলিতে তাদের সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করে, এবং এই আন্দোলনগুলির পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করাটা আপনার আয়োজকদের খারাপ নজরে পড়া ছাড়া আর কিছুই করবে না।
- হংকং এবং তাইওয়ান চীনের অংশ নয় এমন পরামর্শ দেবেন না। আপনি যদি হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ানকে বাদ দিতে চান তবে শুধু "চীনের" (中国 ঝোংগুও) পরিবর্তে "মূল ভূখণ্ড" (大陆 ডালু) বা "মূল ভূখণ্ড চীন" (中国大陆 ঝোংগুও ডালু) শব্দটি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। চীনে তাইওয়ানকে "তাইওয়ান প্রদেশ" (台湾省), এবং হংকং ও ম্যাকাওকে "হংকং, চীন" (中国香港) এবং "ম্যাকাও, চীন" (中国澳门) হিসাবে উল্লেখ করাটাও একটি সাধারণ অভ্যাস।
- উইগুর গণহত্যা এবং দাসত্বের অভিযোগগুলি সংবেদনশীল বিষয় যা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা না করাই ভালো। এগুলিকে বেশিরভাগ চীনারা মিথ্যা অভিযোগ হিসাবে দেখে যা পশ্চিমা সরকারগুলি ভূ-রাজনৈতিক কারণে তৈরি করেছে।
- চীন জড়িত থাকা যেকোনো আঞ্চলিক বিবাদ নিয়ে আলোচনা করা এড়িয়ে চলুন, কারণ অনেক চীনার এই বিষয়গুলি নিয়ে তীব্র অনুভূতি রয়েছে। আপনি যদি এই ধরনের কোনো আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন, তবে নিরপেক্ষ থাকাই ভালো।
- জাপান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ও চীনের সাথে অন্যান্য যুদ্ধে তার ভূমিকা একটি সংবেদনশীল এবং আবেগপূর্ণ বিষয় যা এড়িয়ে চলাই ভালো। উদীয়মান সূর্যের পতাকা প্রদর্শন করবেন না কারণ এটি জাপানি সাম্রাজ্যবাদের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত, এবং এটি পশ্চিমে নাৎসি পতাকার সমতুল্য। কিছুটা কম পরিমাণে, উভয় কোরিয়ার সাথে ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক বিবাদগুলিও সংবেদনশীল।
- জাপানি সামরিক বাহিনী যেখানে যুদ্ধাপরাধ করেছিল, বিশেষ করে নানজিংয়ে, এবং চীন-জাপান সম্পর্ক উত্তেজনাকর থাকাকালীন সময়ে পোশাকের মতো জাপানি সাংস্কৃতিক প্রতীক প্রদর্শন করা এড়িয়ে চলুন।
- চীনের সাম্প্রতিক উন্নয়নের জন্য, চীনা সরকার তার স্বৈরাচারী প্রকৃতি সত্ত্বেও তার জনগণের মধ্যে দৃঢ় সমর্থন উপভোগ করে। "তাদের সবাইকে ব্রেইনওয়াশ করা হয়েছে" বা "তারা শুধু কথা বলতে খুব ভয় পায়"-এর মতো সাধারণ পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গিগুলি বিষয়গুলিকে অতিসরল করে তোলে।
- অন্যদিকে, সংশোধন-বিরোধী কমিউনিস্ট (যারা সংস্কার এবং উন্মুক্তকরণ নীতিকে পুঁজিবাদী পশ্চাদপসরণ হিসাবে দেখে) থেকে শুরু করে কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধী গণতন্ত্রপন্থী কর্মী পর্যন্ত সবসময়ই ভিন্নমতাবলম্বী রয়েছে, কিন্তু তারা সাধারণত লো-প্রোফাইল থাকে যদি না কোনো বড় ঘটনা ঘটে যা তাদের পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে।
- অনেক চীনার জাতিগত জাতীয়তাবাদের একটি তীব্র অনুভূতি রয়েছে। আপনি যদি জাতিগতভাবে চীনা হন, এমনকি যদি আপনি বিদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং বড় হন, তবে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন, কারণ আপনার কাছ থেকে এখনও আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে চীনা সরকারের সাথে সারিবদ্ধ করার আশা করা হতে পারে, এবং অন্যথায় করলে আপনাকে "জাতিদ্রোহী" হিসাবে চিহ্নিত করা হতে পারে।
- চীনের জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে, এবং সংখ্যালঘু ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সম্পর্ক বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে, এবং প্রায়শই সেই নির্দিষ্ট সংখ্যালঘুদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। একজন পর্যটক হিসাবে, আপনাকে সাধারণত স্থানীয়দের সাথে এগুলি নিয়ে আলোচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মনে রাখবেন যে তাদের সংখ্যালঘু ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত হওয়াটা নিজে থেকেই চীন থেকে স্বাধীনতা চাওয়ার ইঙ্গিত দেয় না। কিছুটা একই পরিমাণে, এটি কুয়াংতুংয়ের ক্যান্টোনিজ ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সত্য।
ভিন্ন সাংস্কৃতিক নিয়ম
[সম্পাদনা]বিদেশী পর্যটকরা যখন চীনাদের অভদ্র বলে অভিযোগ করেন, তখন চীনারা প্রায়শই অবাক হন। বরং তাদের অনেকেই মনে করেন যে বিদেশীরাই হয়তো বেশি অভদ্র। আসলে মূল বিষয়টি হলো, চীনের রীতিনীতি ও মূল্যবোধ পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে অনেকটাই আলাদা। একারণে কিছু চীনা আচরণ যেমন বিদেশীদের কাছে খাপছাড়া মনে হতে পারে, তেমনই বিদেশীদের আচরণও চীনাদের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে। চীনের মানুষ সাধারণত নম্র না হয়েও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়; যা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর ঠিক উল্টো, যেখানে মানুষ বন্ধুত্বপূর্ণ না হয়েও বাহ্যিকভাবে বেশ নম্র হতে পারে। তবে বড় শহরগুলোর তরুণ ও শিক্ষিত প্রজন্মের আচরণ প্রায়শই পশ্চিমা সংস্কৃতির কাছাকাছি।

- চীনারা প্রায়শই আইনকানুনসহ এমন সব নিয়ম উপেক্ষা করে যা তারা মানতে চায় না। এর একটি বড় উদাহরণ হলো বিপজ্জনক ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো (দেখুন চীনে গাড়ি চালনা), যেমন ভুল লেনে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, রাতে হেডলাইট না জ্বালানো, ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করা এবং যত্রতত্র রাস্তা পারাপার।
- দোকান, বড় বাজার, রেস্তোরাঁ, বাস এমনকি হাসপাতালেও থুতু ফেলা একটি সাধারণ ঘটনা। ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী, কফ গিলে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যদিও সার্স মহামারী ও অলিম্পিকের সময় সরকার এই অভ্যাস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু এটি এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
- অনেকেই হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকেন না এবং জনসমক্ষে নাক খোঁটাও একটি সাধারণ ব্যাপার।
- চীনের বেশিরভাগ এলাকাই জাতিগতভাবে প্রায় একরকম হওয়ায়, বিদেশি চেহারার মানুষদের দেখলেই প্রায়শই "হ্যালো" বা "ওয়াইগুওরেন" (外国人 "বিদেশী") বলে ডাকা হয়। লাওওয়াই (老外) ডাকটিও বেশ প্রচলিত। বড় শহরগুলোর বাইরে এই ঘটনা খুবই সাধারণ এবং যেকোনো বয়সের মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, দিনে বহুবার আপনাকে এভাবে ডাকতে পারে।
- একইভাবে, এটাও খুব স্বাভাবিক যে কেউ আপনার দিকে টিভি দেখার মতো একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকবে। এই তাকানোর পেছনে সাধারণত কৌতূহলই থাকে, কোনো শত্রুতা নয়।
- চীনারা জনসমক্ষে বেশ জোরে কথা বলে, যা চীনে পা রাখার পরেই আপনার প্রথম চোখে পড়তে পারে। চীন একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী, যেখানে কোলাহল জীবনের প্রতীক। তাই জোরে কথা বলার মানে এই নয় যে বক্তা রেগে আছেন। দীর্ঘ বাস বা ট্রেন যাত্রার জন্য কানে দেওয়ার তুলো বা ইয়ারপ্লাগ সাথে রাখতে পারেন।
- চীনের জন্য একটি বিশেষ ও সাম্প্রতিক ঘটনা হলো এয়ার রেজ বা বিমানে হট্টগোল। বিমান ছাড়তে দেরি হলেই (যা প্রায়শই হয়) যাত্রীদের অনেকে ভালো ক্ষতিপূরণের আশায় বিমান সংস্থার কর্মীদের সাথে আগ্রাসী আচরণ করেন।
- চীনে লাইনে দাঁড়ানোর ধারণাটি এখনও সেভাবে প্রচলিত হয়নি। নিজের কাজ হাসিল করার জন্য আপনাকে শক্ত হতে হবে, এমনকি প্রয়োজনে অন্যদের মতো হালকা ধাক্কাধাক্কিও করতে হতে পারে। ট্যাক্সি ধরার সময় দেখবেন, অন্যেরা আপনার সামনে দিয়ে গিয়ে আগেই ট্যাক্সি ধরে নিচ্ছে।
- চলন্ত সিঁড়িতে বা এসকেলেটরে অন্যদের পেছনে দাঁড়ানোর সময় সতর্ক থাকবেন, কারণ অনেকেই নামার সময় পেছনে না তাকিয়েই হঠাৎ থেমে যায়। বড় দোকানগুলোতে এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কর্মী রাখা হয়।
- চীনারা, বিশেষ করে দলবদ্ধভাবে থাকলে, যখনই সম্ভব লিফট ব্যবহার করতে পছন্দ করে। তাই শপিং মলে শিশুদের গাড়ি বা মালপত্র নিয়ে ঘোরার সময় আপনাকে বেশ ধৈর্য ধরতে হতে পারে।
মানিয়ে নিন
[সম্পাদনা]
চীনে বিদ্যুৎ ২২০ ভোল্ট/৫০ হার্জ। এখানকার সকেটে সাধারণত দুই-পিন (ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান) এবং তিন-পিন (অস্ট্রেলিয়ান) প্লাগ সাপোর্ট করে। তবে যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করার আগে দেখে নিন সেটি ২২০ ভোল্ট (অনেক দেশে ব্যবহৃত ১১০ ভোল্টের দ্বিগুণ) সমর্থন করে কিনা। তা না হলে হেয়ার ড্রায়ার বা রেজারের মতো যন্ত্র পুড়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সব ধরনের প্লাগ ব্যবহার করার জন্য ইউনিভার্সাল এক্সটেনশন কর্ডও সহজলভ্য।
চীনে কাপড় কাচার পরিষেবা বা লন্ড্রি খুঁজে পাওয়া কঠিন বা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে। ভালো মানের হোটেলে প্রতিটি পোশাক কাচার জন্য ¥১০-৩০ খরচ হতে পারে। আবার অনেক সস্তা হোটেলে এই পরিষেবা থাকেই না, যদিও ইউন্নান পর্যটন পথের মতো কিছু পর্যটন এলাকায় এটি সহজলভ্য এবং প্রায়শই বিনামূল্যে। বড় শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল ছাড়া বেশিরভাগ এলাকাতেই ছোটখাটো লন্ড্রির দোকান পাওয়া যায়। দোকানের দরজায় 洗衣 (xǐyī) লেখা দেখে অথবা ছাদে শুকোতে দেওয়া কাপড় দেখে সহজেই এই দোকানগুলো চেনা যায়, যেখানে কাপড় প্রতি খরচ প্রায় ¥২-৫। ছোট শহরগুলোতেও ড্রাই ক্লিনিং-এর (干洗 gānxǐ) দোকান সহজলভ্য। তবে কিছু জায়গায় আপনাকে হাতেই কাপড় কাচতে হতে পারে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। তাই পলিয়েস্টার বা সিল্কের মতো সহজে শুকিয়ে যায় এমন কাপড় ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। খেয়াল রাখবেন, হোটেলে কাপড় কাচতে দিলে তারা প্রায়শই সব অতিথির বা হোটেলের অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে আপনার কাপড় একসাথে धोए, তাই হালকা রঙের পোশাক নিজের হাতে কেচে নেওয়াই নিরাপদ।
সরকারি ভবন ও গণপরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ, তবে রেস্তোরাঁ এবং বারে (কেটিভিসহ) এই নিয়ম সাধারণত খাটে না। এর অনেকগুলোই ধূমপানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যদিও বেশ কিছু বহুজাতিক চেইন রেস্তোরাঁয় ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা সারা দেশেই কার্যকর, কিন্তু সাংহাই ও বেইজিংয়ে আইন সবচেয়ে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, অন্যান্য জায়গায় ততটা নয়। অনেক জায়গায়, যেমন রেল স্টেশন, হাসপাতাল বা বিমানবন্দরে, ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট ঘর পাওয়া যায় এবং কিছু দূরপাল্লার ট্রেনের বগির শেষেও ধূমপানের আলাদা জায়গা থাকে। অধূমপায়ীদের জন্য সুবিধা বেশ কম; বড় ও দামি হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়া বেশিরভাগ জায়গাতেই অধূমপায়ীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা নেই। তবে অনেক আধুনিক ভবনে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে ছাদের নির্গমন পথ দিয়ে ধোঁয়া বাইরে চলে যায় এবং ঘরে জমে থাকে না। চীনা ভাষায় 'আমি কি ধূমপান করতে পারি?' বলতে চাইলে বলুন 'kěyǐ chōuyān ma?' এবং 'ধূমপান নিষেধ!' বোঝাতে বলুন 'bù kěyǐ chōuyān!'।
চীনে ভ্রমণের আগে সরকারি ছুটির দিনগুলো সম্পর্কে জেনে রাখা খুব জরুরি। দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে পাহাড়ে হাঁটার পথগুলো, অন্য সময়েও বেশ জনবহুল থাকে। কিন্তু সপ্তাহান্তে বা সরকারি ছুটির দিনে স্থানীয় পর্যটকদের ভিড়ে এই জায়গাগুলোতে হাঁটাচলাই মুশকিল হয়ে পড়ে। ফলে আপনি হয়তো শান্ত পরিবেশে পাহাড়ে হাঁটার পরিকল্পনা করে গিয়ে দেখলেন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনেই কেটে যাচ্ছে! তাই ভ্রমণের আগে জাতীয় ছুটির তারিখগুলো দেখে নিয়ে সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
গণমাধ্যম
[সম্পাদনা]|
অনুগ্রহ করে এটি ঠিক করুন!
চায়না ডেইলি, জাতীয়ভাবে বিতরণ করা ইংরেজি সংবাদপত্র, কখনও কখনও হতাশ পর্যটকদের কাছ থেকে চীনের গঠনমূলক সমালোচনা প্রকাশ করে। আপনি যদি মনে করেন যে ভ্রমণকারীদের জন্য চীনের কোনো কিছু ঠিক করা প্রয়োজন, তবে letters |
মাওয়ের পর চীনে গণমাধ্যম যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় হয়েছে। স্বাধীন আউটলেটগুলি সিনহুয়া (অনেক ফরম্যাটে প্রকাশ করা প্রেস এজেন্সি), সিসিটিভি (৪০টিরও বেশি টিভি চ্যানেল), এবং পিপলস ডেইলি সংবাদপত্রের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির সাথে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা করছে। এই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলি সাধারণ খবরের ক্ষেত্রে নির্ভুল থাকে। তবে সম্পাদকীয় পক্ষপাতিত্বের ক্ষেত্রে সর্বদা সরকারের পক্ষ নেয়।
চীনের প্রতিটি প্রদেশ ও শহরের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। এই চ্যানেলগুলো সাধারণত স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ থাকে বা তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এবং মূলত স্থানীয় খবরাখবর ও ঘটনাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। এদের মধ্যে কিছু চ্যানেল স্থানীয় উপভাষা বা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভাষাতেও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।
তবে চীনের সংবাদমাধ্যম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। কোন খবর প্রচার করা হবে বা কোন মতামত প্রকাশ করা যাবে, তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের মতো কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোন বিষয়ে কতটা বলা যাবে, তার কোনো স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সংবাদমাধ্যমগুলো নিজেরাই অনেক বিষয় সতর্কভাবে এড়িয়ে চলে, যাকে ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ বলা যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে টেক্সট মেসেজিং এবং অনলাইন সংবাদের জনপ্রিয়তা, যদিও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এগুলোকেও সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়।
চীনের কিছু স্থানীয় ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম রয়েছে। সিজিটিএন চ্যানেল একটি বিশ্বব্যাপী ইংরেজি চ্যানেল যা বেশিরভাগ শহরে ২৪/৭ উপলব্ধ। এর ফরাসি এবং স্পেনীয় সংস্করণও রয়েছে। সিসিটিভি ৪-এ প্রতিদিন ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদকাস্ট থাকে।
চায়না ডেইলি (সাধারণত সংযত, যদিও কিছুটা নীরস) এবং গ্লোবাল টাইমস (একটি কুখ্যাত জাতীয়তাবাদী ট্যাবলয়েড) হলো দুটি রাষ্ট্রীয় ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র যা হোটেল, সুপারমার্কেট এবং নিউজস্ট্যান্ডে পাওয়া যায়। এছাড়াও কয়েকটি ইংরেজি ম্যাগাজিন রয়েছে যেমন চায়না টুডে এবং ২১স্ট সেঞ্চুরি।
বিদেশী ম্যাগাজিন এবং সংবাদপত্র সাধারণত বইয়ের দোকান বা নিউজস্ট্যান্ডে পাওয়া যায় না, শীর্ষ হোটেলগুলি ছাড়া।
যোগাযোগ
[সম্পাদনা]ভিপিএন
[সম্পাদনা]|
কোন ইন্টারনেট সাইটগুলি উপলব্ধ?
নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটের তালিকাটি গোপন, প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়, এবং মোবাইল বা ওয়াইফাই সংযোগ অনুসারে ভিন্ন হয়। ব্লক করা সাইটগুলির মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত:
চীনা বিকল্পগুলির (প্রায়শই শুধুমাত্র চীনা ভাষায়) মধ্যে রয়েছে সার্চ এবং ম্যাপের জন্য বাইদু, মেসেজিংয়ের জন্য উইচ্যাট, মাইক্রোব্লগিংয়ের জন্য ওয়েইবো, এবং ভিডিও শেয়ারিংয়ের জন্য বিলিবিলি এবং ফটো ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের জন্য জিয়াওহংশু। বিং এবং আউটলুকের মতো বিদেশী পরিষেবাগুলি উপলব্ধ। টিকটকের আসল চীনা সংস্করণ, যা দোইন নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক সংস্করণ (যা চীনে ব্লক করা) থেকে সম্পূর্ণ পৃথক সার্ভারে চলে। এর মানে হলো আন্তর্জাতিক বিষয়বস্তু চীনা সংস্করণে দেখা যায় না এবং বিপরীতভাবেও। সংবাদ মাধ্যমগুলির জালস্থান (যেমন বিবিসি সিএনএন) অবরুদ্ধ করা হতে পারে। বিশেষ করে কোনো সংবেদনশীল খবর প্রকাশের পর এমনটা করা হয়। উইকিপিডিয়া ধারাবাহিকভাবে অবরুদ্ধ থাকে। তবে অন্যান্য উইকিমিডিয়া জালস্থানে প্রবেশের সুযোগ পরিবর্তনশীল। এই তথ্য অক্টোবর ২০২৪ অনুযায়ী।। এই অনলাইন প্রতিবন্ধকটি সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর জন্য চীনা বার্তাগুলিকেও যাচাই করে। এর মধ্যে অসংকেতায়িত ও সংকেতায়িত উভয় প্রকার বার্তাই (যেমন কিউকিউ উইচ্যাট) অন্তর্ভুক্ত। এটি ব্যবহারকারীদের অবরুদ্ধ করতে পারে অথবা তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে। এর প্রয়োগ পদ্ধতি বর্তমান ঘটনাগুলির উপর ভিত্তি করে ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়।। |
চীনের গ্রেট ফায়ারওয়াল ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং উইকিপিডিয়াসহ আরও অনেক জনপ্রিয় ওয়েব পরিষেবা ব্লক করে। ইন্টারনেট বিধিনিষেধ এড়াতে এবং জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলি অ্যাক্সেস করতে, ভ্রমণকারীরা প্রায়শই ভিপিএন পরিষেবা ব্যবহার করে। সেপ্টেম্বর ২০২৪ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট অনুযায়ী মুলভ্যাড এবং অ্যাস্ট্রিলকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়। এক্সপ্রেস এবং নর্ডের মতো জনপ্রিয় ভিপিএন পছন্দগুলি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয় না। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির সময়, ভিপিএন পরিষেবাগুলিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চীনে পৌঁছনোর আগে ভিপিএন ইনদোকান করতে ভুলবেন না; অবতরণের পর তা করার চেষ্টা করাটা সমস্যাজনক হতে পারে কারণ পরিষেবাটি ইতিমধ্যে ব্লক করা থাকতে পারে।
সেন্সরশিপ এড়ানোর অন্যান্য উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে ফ্রিগেট, টর (একটি ওবিএফএস৪ ব্রিজসহ), এবং সাইফনের মতো সফটওয়্যার। প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন ভ্রমণকারীদের সনাক্তকরণের ঝুঁকি কমাতে তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত V2ray রিলে সেট আপ করাটা ভালো। সংবেদনশীল সময়ে, যেমন মার্চ মাসে চীনের আইনসভার বার্ষিক সভা, প্রতি চতুর্থ অক্টোবরে সিসিপি কংগ্রেস, এবং অক্টোবরে জাতীয় দিবস এবং জুন মাসে তিয়ানানমেন হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকীর মতো সময়ে সেন্সরশিপ প্রায়শই কঠোর করা হয়।
আরেকটি উপায় হলো সহজভাবে একটি অ-মূল ভূখণ্ড চীনা সিমে রোমিং করা কারণ মোবাইল ডেটা সাধারণত বিদেশী গেটওয়ের মাধ্যমে রাউট করা হয়। ই-সিম প্রদানকারীদের একটি সমৃদ্ধ বাজার রয়েছে যারা বিভিন্ন বিদেশী নেটওয়ার্কে রোমিং অ্যাক্সেস পুনরায় বিক্রি করে, এবং তাইওয়ান ও হংকংয়ের মোবাইল প্রদানকারীরা "গ্রেটার বে" এবং মূল ভূখণ্ড রোমিং সিমগুলি মূল ভূখণ্ড চীনে এগিয়ে যাওয়া ভ্রমণকারীদের কাছে বাজারজাত করে। ৩এইচকে একটি জনপ্রিয় স্বল্প-খরচের হংকং রোমিং সিম প্রদানকারী যা বিদেশী গ্রাহকদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ।
টেলিফোন
[সম্পাদনা]চীনে থাকাকালীন বার্তা পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা এবং মোবাইলে টাকা লেনদেনের জন্য উইচ্যাট (微信 ওয়েক্সিন) ব্যবহার করা জরুরি। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উইচ্যাট এখন চীনে पारंपरिक এসএমএস-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর টিকিট কেনার জন্যও এটি খুব কাজের।
মোবাইল ফোন
[সম্পাদনা]মোবাইল ফোন চীনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং ভালো পরিষেবা দেয়, শক্তিশালী ৪জি এবং ৫জি নেটওয়ার্কসহ। আন্তর্জাতিক রোমিং ব্যয়বহুল (¥১২-৩৫/মিনিট), কিন্তু রোমিং ডেটা সেন্সরবিহীন। আপনার প্রদানকারীর সাথে রেটগুলি পরীক্ষা করুন বা কয়েকদিনের বেশি থাকলে একটি প্রিপেইড চীনা সিম কার্ড বিবেচনা করুন। সিম কার্ডের জন্য সাধারণত একটি পাসপোর্ট এবং প্রদানকারীর প্রধান অফিসে নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়।
- প্রধান প্রদানকারী: চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম এবং চায়না টেলিকম।
- বেশিরভাগ সিম দেশব্যাপী কাজ করে, কোনো অভ্যন্তরীণ রোমিং চার্জ ছাড়াই।
- মোবাইল ডেটা প্ল্যানগুলি সাশ্রয়ী, ৩জিবির জন্য প্রতি মাসে ¥২৯ থেকে শুরু।
আন্তর্জাতিক কলের জন্য, আপনাকে চায়না মোবাইলের "১২৫৯৩" বা চায়না ইউনিকমের "১৭৯১১"-এর মতো নির্দিষ্ট পরিষেবাগুলি সক্রিয় করতে হবে। উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ায় রেটগুলি প্রায় ¥০.৪/মিনিট।
এলাকা কোড
[সম্পাদনা]মূল ভূখণ্ড চীনের জন্য দেশের কোড হলো ৮৬। হংকংয়ের জন্য, এটি ৮৫২, ম্যাকাওয়ের জন্য ৮৫৩, এবং তাইওয়ানের জন্য ৮৮৬।
- প্রধান শহরগুলির একটি দুই-সংখ্যার এলাকা কোড রয়েছে (যেমন, বেইজিং: (০)১০ + ৮ সংখ্যা)। অন্যান্য এলাকাগুলি তিন-সংখ্যার কোড ব্যবহার করে (যেমন, ঝুহাই: (০)৭৫৬ + ৭ সংখ্যা)।
- মোবাইল নম্বরগুলি ১ দিয়ে শুরু হয় এবং ১১ সংখ্যার হয়।
দূরপাল্লার কলের জন্য একটি ০ যোগ করুন।
ব্যবসায়িক পরিষেবা
[সম্পাদনা]ছাপা, স্ক্যানিং, ফটোকপি বা এই ধরনের অন্যান্য কাজের জন্য যেকোনো শহরের অলিগলিতে বা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে অনেক দোকান পাওয়া যায়। দোকানের বাইরে সাধারণত 复印 (ফুয়িন) কথাটি লেখা থাকে, যার অর্থ "ফটোকপি"। সাধারণত, প্রিন্ট করতে প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ¥২ এবং ফটোকপি করতে ¥০.৫ খরচ হয়। সব দোকানে ইন্টারনেট সংযোগ নাও থাকতে পারে, তাই আপনার দরকারি ফাইল পেন ড্রাইভে করে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
ডাক
[সম্পাদনা]ডাক পরিষেবা চায়না পোস্ট (中国邮政) দ্বারা সরবরাহ করা হয়, যা সাধারণত নির্ভরযোগ্য। চীনের মধ্যে একটি এক্সপ্রেস মেল খাম পাঠানোর খরচ সাধারণত ¥২৩।
হংকং এবং ম্যাকাও পৃথক ডাক ব্যবস্থা পরিচালনা করে। মূল ভূখণ্ড চীনের স্ট্যাম্প হংকং বা ম্যাকাও থেকে মেইল পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা যায় না, এবং বিপরীতভাবেও।
কুরিয়ার পরিষেবা
[সম্পাদনা]কোনো জিনিসপত্র পাঠানোর জন্য ব্যক্তিগত কুরিয়ার পরিষেবা (快递 kuàidì) ব্যবহার করতে পারেন। চীনের প্রধান কুরিয়ার সংস্থাগুলো বেশ নির্ভরযোগ্য এবং দেশের ভেতরে পার্সেল পাঠানোর খরচও সাধ্যের মধ্যে। চীনের বৃহত্তম কুরিয়ার সংস্থা হলো এসএফ এক্সপ্রেস (顺丰)। বেশিরভাগ প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই এদের শাখা রয়েছে, যারা আপনার মালপত্র সরাসরি আপনার হোটেলে পাঠিয়ে দিতে পারে। এমনকি কিছু স্কি-কেন্দ্রেও তাদের পরিষেবা রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি স্কি করার সরঞ্জাম কুরিয়ারে পাঠিয়ে ট্রেনে বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে পারেন। অন্যান্য প্রধান কুরিয়ার সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াইটিও এক্সপ্রেস (圆通), ইউন্ডা এক্সপ্রেস (韵达), জেডটিও এক্সপ্রেস (中通), এসটিও এক্সপ্রেস (申通), দেপ্পন এক্সপ্রেস (德邦) এবং জেডি লজিস্টিকস (京东)।
বিদেশে কোনো জিনিসপত্র পাঠানোর জন্য ফেডেক্স, ডিএইচএল বা ইউপিএসের মতো বড় আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সংস্থাগুলো ব্যবহার করাই শ্রেয়, কারণ চীনেও এদের নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাওয়া যায়।
জরুরি নম্বর
[সম্পাদনা]নিম্নলিখিত জরুরি টেলিফোন নম্বরগুলি চীনের সমস্ত এলাকায় কাজ করে; একটি সেল ফোন থেকে এগুলিতে কল করা বিনামূল্যে।
- টহল পুলিশ: ১১০
- ট্র্যাফিক পুলিশ: ১২২
- প্রতারণা জিজ্ঞাসা: ৯৬১১০
- দমকল বিভাগ: ১১৯
- (সরকারি মালিকানাধীন) অ্যাম্বুলেন্স/ইএমএস: ১২০
- (কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন) অ্যাম্বুলেন্স: ৯৯৯
- ডিরেক্টরি জিজ্ঞাসা: ১১৪
- ভোক্তা সুরক্ষা: ১২৩১৫
১১২ এবং ৯১১ আপনাকে জরুরি পরিষেবা কর্মীদের সাথে সংযুক্ত করে না।
পুলিশের সাথে ১২১১০XXX-এ এসএমএস বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে, যেখানে XXX হলো আপনি যে অঞ্চলের শহরে অবস্থিত তার এলাকা কোড। আরও তথ্যের জন্য এই তালিকাটি দেখুন।
{{#assessment:দেশ|ব্যবহারযোগ্য}}