বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

জম্মু ও কাশ্মীর (ডোগরি: जम्मु और कश्मीर; উর্দু: جموں و کشمیر) হলো উত্তর ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এটি অপরূপ সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর একটি পার্বত্য অঞ্চল, যা পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বাইরের কার্যকলাপ এবং দর্শনীয় স্থান প্রদান করে।

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্র
 জম্মু বিভাগ
এর মন্দির, মাজার, প্রাসাদ এবং দুর্গের জন্য পরিচিত।
 কাশ্মীর উপত্যকা
অনেকে বলেন, এটি পৃথিবীর স্বর্গ। বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, সুন্দর উদ্যান, বিশাল হ্রদ, নির্মল জলধারা এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির জন্য বিখ্যাত।

এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শহরের তালিকা দেওয়া হল:

1 জম্মু — এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শীতকালীন রাজধানী।

2 শ্রীনগর — এটি গ্রীষ্মকালীন রাজধানী এবং বিখ্যাত ডাল লেকের তীরে অবস্থিত, যা তার ভাসমান হাউসবোটের জন্য পরিচিত।

3 গুলমার্গ — এখানে ভালো স্কিইং করার সুবিধা রয়েছে এবং এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ গন্ডোলা (রোপওয়ে) এর জন্য বিখ্যাত।

4 কাটরা, জম্মু ও কাশ্মীর — ত্রিকুটা পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এবং পবিত্র মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের তীর্থস্থান।

5 পহেলগাঁও — এটি একটি শান্ত ও স্নিগ্ধ স্থান, যা বিভিন্ন ট্রেকিং রুটের জন্য পরিচিত। অমরনাথ যাত্রার সূচনাও এখান থেকেই হয়।

6 পত্নীটোপ — জম্মুর একটি ছোট শৈলশহর।

7 সোনমার্গ — ট্রেকিং, মাছ ধরা এবং পর্বত আহরণের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় স্থান।

অন্যান্য গন্তব্যস্থল

[সম্পাদনা]
  • দচিগ্রাম জাতীয় উদ্যান: এটি অতি বিপন্ন কাশ্মীরি হরিণের (হাঙ্গুল) আবাসস্থল। এখানকার তৃণভূমি, আলপাইন তৃণক্ষেত্র, জলপ্রপাত এবং পাথুরে খাঁজ হিমালয়ের কালো ও বাদামী ভাল্লুক, শিয়াল ও চিতাবাঘের মতো বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং কাঠঠোকরা, পিগমি পেঁচা ও দারুচিনি চড়ুইয়ের মতো পাখিদের আশ্রয় দেয়।
  • দুধপথরি: এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যা মূলত গ্রীষ্মকালে ট্রেকিং এবং বরফ উপভোগ করার জন্য অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করে।
  • কিস্তওয়ার জাতীয় উদ্যান: এই উদ্যানের ভূখণ্ড খুবই রুক্ষ এবং খাড়া, আর এর সরু উপত্যকাগুলো সরাসরি হিমবাহের দিকে চলে গেছে। এই উদ্যানটি হিমালয়ান স্নোকক এবং বাদামী ভাল্লুকের মতো প্রাণীদের আশ্রয়স্থল।
  • সালিম আলি জাতীয় উদ্যান (সিটি ফরেস্ট জাতীয় উদ্যান): এই প্রাক্তন উদ্যানটিকে একটি গল্ফ কোর্সে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এক সময় এখানে চিতাবাঘ, হাঙ্গুল এবং কস্তুরী হরিণের মতো প্রাণী ছাড়াও প্রচুর সংখ্যক পাখির দেখা মিলত।


জানুন

[সম্পাদনা]
রমজান

রমজান হল ইসলামি বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামি উপবাস সাওম পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।

  • ১৮ ফেব্রুয়ারি – ১৯ মার্চ ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি)
  • ৮ ফেব্রুয়ারি – ৮ মার্চ ২০২৭ (১৪৪৮ হিজরি)
  • ২৮ জানুয়ারি – ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৮ (১৪৪৯ হিজরি)
  • ১৬ জানুয়ারি – ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৯ (১৪৫০ হিজরি)

আপনি যদি রমজানের সময় জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণ করার চিন্তা করে থাকেন, তবে রমজানে ভ্রমণ পড়ে দেখতে পারেন।

ভারত প্রজাতন্ত্রের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে এমন জম্মু ও কাশ্মীর

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীরের একটি সমৃদ্ধ এবং প্রাণবন্ত ইতিহাস রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মিলনস্থল। এই অঞ্চলটি একসময় হিন্দুধর্মের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে এবং এটি শিখ সাম্রাজ্য, মুঘল সাম্রাজ্য, দুররানি সাম্রাজ্য এবং আরও সম্প্রতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যর মতো অসংখ্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীতে, শামীরি রাজবংশের অধীনে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এর ফলস্বরূপ, লাদাখ ও লাক্ষাদ্বীপের পাশাপাশি এই অঞ্চলটি ভারতের হাতেগোনা কয়েকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে ভারত বিভাজনের সময় ভারতে যে সমস্ত দেশীয় রাজ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, কাশ্মীরকেও সেই রাজ্যগুলির মতোই তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছিল: ভারতে যোগদান, পাকিস্তানে যোগদান অথবা স্বাধীন থাকা। এটি সে সময় কাশ্মীরে একটি বড় রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করে, এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কোনটি হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঐকমত্য ছিল না।

এর কিছুদিন পরই পুঞ্চ শহরে পাকিস্তান-সমর্থিত একটি বিদ্রোহ শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ কাশ্মীর আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তান এর নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরিস্থিতির অবনতি দেখে কাশ্মীরের তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং ভারতের কাছে সাহায্য চান। ভারত এই শর্তে সামরিক সাহায্য দিতে রাজি হয় যে, কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যোগদান করতে হবে। এরপর মহারাজা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সেনারা ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে। বর্তমান সময়ে, কাশ্মীরের একটি বড় অংশ ভারত দ্বারা শাসিত হয়, আর বাকি অংশ পাকিস্তান ও চীন দ্বারা শাসিত হচ্ছে।

১৯৮০-এর দশক থেকে এই অঞ্চলে জঙ্গী সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, এবং এই অস্থিরতা একসময়কার সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কাশ্মীরি ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি সময় ছিল যখন একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের, জোরপূর্বক কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত করা হয়। আজ পর্যন্ত, প্রায় ৩,০০,০০০ থেকে ৬,০০,০০০ কাশ্মীরি পণ্ডিত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে। এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় এই অঞ্চলের অনেক রাজনৈতিক দল এবং পাকিস্তান সরকারও, যা ভারতের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার মাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়া জানায়।

কাশ্মীরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। পণ্ডিত ও বিশ্লেষকরা বারবার ভারতের নিন্দা করেছেন কারণ ভারত এই অঞ্চলে অপব্যবহারকারীদের বিচার করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পাকিস্তানকে নিন্দা করা হয় কারণ তারা এই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় ও সহায়তা দেয়।

যদিও কিছু কাশ্মীরি একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ কাশ্মীরের আশা করলেও, বেশিরভাগের প্রত্যাশা কেবল শান্তি।

ভূপ্রকৃতি

[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীরের আয়তন ৪২,২৪১ বর্গ কিলোমিটার (১৬,৩০৯ বর্গ মাইল)। এই অঞ্চলটি বেশ কয়েকটি উপত্যকার আবাসস্থল, যার মধ্যে বহুল পরিচিত কাশ্মীর উপত্যকাও রয়েছে। হিমালয় পর্বতমালা এই অঞ্চলকে লাদাখ থেকে পৃথক করেছে, আর পীর পাঞ্জাল পর্বতশ্রেণী কাশ্মীর উপত্যকাকে জম্মু বিভাগ থেকে আলাদা করেছে। উচ্চতার কারণে এখানকার শীতকাল বেশ ঠান্ডা হয়ে থাকে।

জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারি ভাষাগুলো হলো ডোগরি, ইংরেজি, কাশ্মীরি, হিন্দি এবং উর্দু। তবে, প্রধানত কাশ্মীর উপত্যকায় কাশ্মীরি এবং জম্মুতে ডোগরি ভাষা ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ মানুষই কিছুটা হিন্দি বলতে পারেন এবং সেখানে পাঞ্জাবিও শোনা যেতে পারে।

অভ্যান্তরে

[সম্পাদনা]
গুলমার্গ
পত্নীটপ

আকাশপথে

[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি বেসামরিক বিমানবন্দর রয়েছে। উভয় বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি বেঙ্গালুরু, দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের ফ্লাইট পাওয়া যায়।

  • জম্মু বিমানবন্দর, জম্মু
  • শেখ-উল-আলম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর , শ্রীনগর

রেলপথে

[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীরের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলওয়ে স্টেশন হলো জম্মু তাউই, যেখানে দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে, শ্রীনগরে শুধুমাত্র জম্মু থেকে আসা স্থানীয় ডেমু ট্রেন চলাচল করে।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]

গাড়িতে করে প্রবেশ করার দুটি পথ রয়েছে: একটি হলো জম্মু হয়ে শ্রীনগর পর্যন্ত যাওয়া এবং অন্যটি হলো লাদাখের লেহ হয়ে প্রবেশ করা।

ঘুরে বেড়ানোর উপায়

[সম্পাদনা]

বাসে করে

[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য সড়ক ও পরিবহন সংস্থা দ্বারা পরিচালিত সরকারি বাসগুলো জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের বেশিরভাগ স্থানে যাতায়াত করে। তারা গুলমার্গ, সোনমার্গ, ইউসমার্গ, উলার লেক, ইটিটি ট্যুর ইত্যাদির জন্য প্যাকেজ ভ্রমণ অফার করে। এখানে পর্যটন তথ্য কেন্দ্র রয়েছে, যা টিকিট এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে।

টেরেইন যানবাহনে

[সম্পাদনা]

টেরেইন ভেহিকলগুলো দ্রুতগামী, কিছুটা বেশি ব্যয়বহুল এবং অনেক বেশি দুর্গম স্থানে পৌঁছাতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে ভাড়ার জন্যেও এই ধরনের টেরেইন ভেহিকল পাওয়া যায়।

রেলপথে

[সম্পাদনা]
কাজিগুন্ডের তুষারাবৃত দৃশ্য, যা একটি স্থানীয় রেলগাড়ি থেকে তোলা।

জম্মু ও কাশ্মীরের রেল ভ্রমণ নিজেই একটি পর্যটনের অংশ। ২০২৩ সালে সম্পন্ন হওয়া কাশ্মীর রেলওয়ে জম্মুর সমভূমি থেকে শুরু হয়ে কাশ্মীর উপত্যকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পাহাড়ি শহর বারামুলাতে শেষ হয়। এটি পীর পাঞ্জাল পাহাড়ের উপর দিয়ে চলে এবং চেনাব নদীর উপর নির্মিত চেনাব সেতু অতিক্রম করে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে সেতু। এই রুটের পথ দুর্গম ভূখণ্ড, বড় ধরনের ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল এবং তীব্র শীত ও গরমের মতো চরম তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে গেছে।

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]
পাহালগামের কাছে বাইসারান সমভূমির দৃশ্য
  • 1 অমরনাথ গুহা হিন্দু ত্রিমূর্তির একজন, শিব হিন্দুদের কাছে একজন জীবন্ত দেবতা হিসেবে বিবেচিত। কিংবদন্তি বলে যে শিব তার সঙ্গী পার্বতীকে সৃষ্টির রহস্য অমরনাথের একটি গুহায় বর্ণনা করেছিলেন। তাদের অজান্তে, এক জোড়া ঘুঘু পাখি এই কথোপকথন শুনে ফেলে এবং রহস্য জানতে পারে, যারা বলে আসছে বারবার পুনর্জন্ম নেয় এবং গুহাটিকে তাদের চিরন্তন আবাসস্থল বানিয়েছে।
  • 2 বাহু কেল্লা বাহু কেল্লা রাজা বাহুলোচন দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জম্মুর ডোগরা শাসকরা এটিকে সংস্কার ও উন্নত করেন। এই দুর্গটি মূল শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি সম্ভবত জম্মুর সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা। দুর্গটি তাউই নদীর দিকে মুখ করে রয়েছে। দুর্গের ভেতরে দেবী কালীর একটি মন্দিরও আছে।
  • 3 ডাল লেক শ্রীনগরের হৃদয়ে অবস্থিত, এই সুন্দর হ্রদটি প্রাকৃতিক ঝরনা দ্বারা পুষ্ট হয়।
  • 4 গুলমার্গ (ফুলের উপত্যকা)। গুলমার্গ শ্রীনগর থেকে ৫২ কিমি দূরে অবস্থিত একটি ছোট পাহাড়ি স্টেশন। গ্রীষ্মকালে ট্রেকিং, ঘোড়ায় চড়া এবং পিকনিক উপভোগ করা যায়, শীতকালে এখানে স্কিয়ারদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা পাউডার তুষার এবং স্লোপ রয়েছে। এর পাশাপাশি, বিশ্বের সর্বোচ্চ কেবল কারও অবস্থান এই গুলমার্গে।
  • 5 মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দির শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী জির পবিত্র মন্দিরে তীর্থযাত্রা হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র তীর্থযাত্রাগুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত। শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী জি ত্রিকূট নামক তিন চূড়াবিশিষ্ট পাহাড়ের ভাঁজে ১,৫৬০ মিটার উচ্চতায় একটি পবিত্র গুহায় বাস করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই পবিত্র গুহাটি প্রতি বছর এক কোটিরও (১০ মিলিয়ন) বেশি ভক্তকে আকর্ষণ করে। যাত্রীদের কাটরা অবস্থিত বেস ক্যাম্প থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার ট্রেক করতে হয়। তাদের তীর্থযাত্রার সমাপ্তিতে, তারা তিনটি প্রাকৃতিক শিলা গঠন দেখতে পায়, যেগুলিকে পিণ্ডি বলা হয় এবং এগুলোকে পবিত্র গুহার ভিতরে মাতা দেবীর দর্শন (চিত্র বা প্রকাশ) হিসাবে বিবেচনা করা হয়। গুহার ভিতরে কোন মূর্তি বা প্রতিমা নেই।
  • 6 মোবারক মান্ডি প্রাসাদ মোবারক মান্ডি প্রাসাদ তিনটি ভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে নির্মিত: রাজস্থানি, মুঘল এবং গথিক। এই প্রাসাদের সবচেয়ে বিখ্যাত অংশ হলো 'শিশ মহল'। এখানে একটি ডোগরা শিল্প জাদুঘরও রয়েছে, যা বিভিন্ন পাহাড়ি ঘরানার ক্ষুদ্র চিত্রকলার এক মূল্যবান সংগ্রহশালা।
  • 7 মুঘল উদ্যান শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের চারপাশে এই সুন্দর বাগানগুলি অবস্থিত। রঙিন ফুল, ঝরনা এবং বিশাল চিনার গাছে সাজানো এই বাগানগুলোতে হাঁটাচলা করলে এক রাজকীয় অনুভূতি পাওয়া যায়।
  • 8 পীর বাবা দরগাহ এটি মুসলিম সাধুদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। প্রতি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে বিপুল সংখ্যায় প্রার্থনা করতে আসেন।
  • 9 রঘুনাথ মন্দির রঘুনাথ মন্দিরটি হিন্দু দেবতা রামের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এই মন্দিরের ভেতরের দেয়ালগুলো তিন দিক থেকে সোনা দিয়ে মোড়ানো। মন্দিরের গ্যালারিগুলো শালিগ্রাম (প্রতিমা হিসেবে ব্যবহৃত জীবাশ্ম) দ্বারা আবৃত। এর চারপাশে থাকা অন্যান্য মন্দিরগুলো রামায়ণের অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মন্দিরটি জম্মু শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।
  • 10 শ্রী অমরনাথ জি মন্দির (পবিত্র অমরনাথ গুহা)। এই মন্দিরটি শ্রীনগর থেকে ১৪৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। অমরনাথ এখানে একটি বরফের শিবলিঙ্গ রূপে বিরাজমান। পূর্ণিমার দিনে এই লিঙ্গের উচ্চতা প্রায় ১.৮ মিটার হয়।

যা যা করবেন

[সম্পাদনা]

কাশ্মীর উপত্যকায় ট্রেকিং

[সম্পাদনা]

শ্রীনগর অনেক ট্রেকিং অভিযানের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যা হিমালয়ের আলপাইন উচ্চতার হ্রদগুলোতে নিয়ে যায় এবং সেখানে দুঃসাহসিক পর্যটনের দারুণ সুযোগ রয়েছে। এই উচ্চতার আলপাইন হ্রদগুলোতে কোনো যানবাহন দিয়ে পৌঁছানো যায় না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশানসার লেক, নন্দকোল লেক, তারসার লেক, গাডসার লেক, সাতসার লেক এবং আরও অনেক হ্রদ। অনেক ট্রেকিং সংস্থা এই পর্বত হ্রদগুলোতে ট্রেকিং প্যাকেজ পরিচালনা করে থাকে।

শিকারায় চড়া

[সম্পাদনা]

শিকার হলো ডাল লেকের লিমুজিন (এক ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি)। নরম কুশনের উপর আরামে শুয়ে থাকুন এবং শিকারটি যখন লেকের চারপাশে ঘুরবে, তখন বিক্রেতারা তাদের নৌকা নিয়ে এসে হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করবে। গ্রীষ্মকালে আপনি জেট স্কি রাইডেরও সন্ধান করতে পারেন।

খাওয়া-দাওয়া

[সম্পাদনা]
  • কাশ্মীরি ওয়াজওয়ান: এখানকার বিখ্যাত খাবারগুলির মধ্যে একটি (রিস্তা, গোস্তাবা, কাবাব, ইয়াখনি, রোগান জোশ)। এই খাবারগুলো অবশ্যই চেষ্টা করবেন।
  • হারিসা ও তুজ: খায়াম চকে এই খাবারগুলো পাওয়া যায়।
  • মুঘল দরবার ও জন বেকারি: শ্রীনগরের লালচকে অবস্থিত এই দুটি দোকান সবচেয়ে বিখ্যাত মিষ্টান্ন ভান্ডার।
  • কাশ্মীরি কাহওয়া: কাশ্মীর উপত্যকা জাফরান দিয়ে তৈরি এই পানীয়টির জন্য বিখ্যাত।
  • শুকনো ফল ও আপেল: কাশ্মীর শুকনো ফল এবং আপেলের জন্যও সুপরিচিত।
  • কালাদি কুলচা: মতি বাজারে এক ধরনের বিশেষ দুধের পণ্য (পনিরের মতো)।
  • ফালওয়ান দি হাট্টি: গান্ধী নগরের একটি বিখ্যাত মিষ্টির দোকান।
  • কাচালু: পাক্কা ডাঙ্গার কাছে গিরধারী দোকানে কাচালু খেতে পারেন।
  • ভালো নন-ভেজ: পাপ্পে দি হাট্টি এবং পাপ্পে দ্য গ্রেট- রেসিডেন্সি রোড, এবং পাঞ্জতীর্থিতে পরস রাম দে হাট্টিতে ভালো নন-ভেজ পাওয়া যায়।

পানীয়

[সম্পাদনা]

এখানে দুটি বিশেষ স্থানীয় পানীয় রয়েছে:

  • কাহওয়া: এটি জাফরান এবং শুকনো ফল দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পানীয়।
  • নুন চা: এটি গোলাপী রঙের এবং লবণাক্ত চা।

নিরাপদে থাকুন

[সম্পাদনা]
সতর্কতা টীকা: জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control) বরাবর এলাকায় ভ্রমণ করা অনিরাপদ, কারণ সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড রয়েছে। এই অঞ্চলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি আছে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আইনগত পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলের নাগরিক অস্থিরতা কিছুটা কমেছে।
(তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে- ডিসে ২০২৩)

বিদ্রোহী কার্যকলাপের কারণে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা এবং গণ-অবাধ্যতা প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ করে শ্রীনগরের আশেপাশে। বিক্ষোভ এবং সমাবেশ দ্রুত সহিংস রূপ নিতে পারে।

জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশ পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ, বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control) যা এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আজাদ কাশ্মীর থেকে আলাদা করেছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষও সাধারণ ঘটনা। তাই ভ্রমণের আগে বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে নিন।

সামরিক স্থাপনার ছবি তুলবেন না, কারণ এর ফলে আপনি গুরুতর বিপদে পড়তে পারেন।

সম্মান প্রদর্শন

[সম্পাদনা]

কাশ্মীরের অনেক মানুষের মতো এখানকার মানুষও তিনটি ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত—কেউ পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে, কেউ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে এবং কেউ ভারতের সঙ্গে থাকার পক্ষে। এই অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিস্থিতি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এড়িয়ে চলা। এই ধরনের আলোচনা অনেককে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষরা সাধারণত কাশ্মীরি মুসলিমদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। পাকিস্তানের প্রতি তাদের আনুগত্য আছে বলে মনে করা হয়, যার কারণে প্রায়শই তাদের "মিথ্যাবাদী", "স্বার্থপর" ইত্যাদি বলে তকমা দেওয়া হয়। তাদের সম্পর্কে এমন গতানুগতিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু কাশ্মীরি জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন জানাতে পারেন এবং আপনি যদি তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন বলেন, তবে তারা রেগেও যেতে পারেন।