এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > ভারত > পূর্ব ভারত > পশ্চিমবঙ্গ > উত্তরবঙ্গ, ভারত > দার্জিলিং জেলা > দার্জিলিং

দার্জিলিং

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

দার্জিলিং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এই শহর নিম্ন হিমালয়ের মহাভারত শৈলশ্রেণীতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭,১০০ ফু (২,১৬৪.১ মি) উচ্চতায় অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাধীনে থাকলেও দার্জিলিং জেলার প্রধান শহর দার্জিলিংয়ের স্থানীয় প্রশাসনে আংশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা রয়েছে।কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম সৌন্দর্য এবং টাইগার হিলের চিত্তাকর্ষক সূর্যোদয় দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করেন।

কীভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

নিকটতম রেলস্টেশন শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর থেকে বাসেও পৌঁছনো যায় শিলিগুড়ি। বিমানে গেলে বাগডোগরায় নামতে হবে।

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ৮০ কিমি। শেয়ার জিপ বা গাড়িভাড়া করে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছানো যায়। বাসও যায়। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের হেরিটেজ টয়ট্রেনে চড়েও দার্জিলিং যাওয়া যায়।

দার্জিলিং শহরের আশপাশে ঘোরার জন্য মরসুমে ডি.জি.এইচ.সি. কন্ডাক্টেড ট্যুরের ব্যবস্থা করে। টয় ট্রেনের জয় রাইডেও বেড়িয়ে নেওয়া যায় দার্জিলিং থেকে ঘুম

কী দেখবেন[সম্পাদনা]

জাপানিজ টেম্পল এবং পেস প্যাগোডা: শহরের খুব কাছেই এই টেম্পল টি। জীপে যেতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিটের মত। এই বৌদ্ধ মন্দির টি জাপানী সাধুর অর্থায়নে তৈরি বলে একে জাপানি টেম্পল বলা হয়।প্রথমে সিড়ি বেয়ে উঠতেই একটি মন্দির চোখে পড়বে যেটার দরজায় বিশাল গোল্ডেন কালারের দুটি সিংহ মূর্তি আছে এবং এর ভিতরে বড় জাপানি সাধুর মূর্তি রয়েছে। ডান দিকে চোখে পড়বে পেস প্যাগোডা। পেস প্যাগোডার অর্ধেক টা উপড়ে উঠার সিড়ি আছে।পুরো প্যাগোডা এলাকাটি নীরব এবং শান্ত এবং ইহা একটি ধর্মীয় পবিত্র স্থান।

ঘুম মনেস্ট্রি:টাইগার হিলে যাবার পথে এই মন্দিরটি পড়বে হাইওয়ের পাশেই। মেইন রোড থেকে সিড়ি দিয়ে কিছুটা নিচে নেমে যেতে হয়।ভিতরে বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি আছে।

রক গার্ডেন:শহর থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট নিচে নেমে যেতে হবে এই বাহারি ঝর্নার বাগান দেখতে হলে। ঝর্নার প্রতিটা স্টেপ দেখার জন্য আছে সুন্দর পথ ও সিঁড়ির ব্যবস্থা। চাইলে একদম উপড় পর্যন্ত উঠে ঝর্ণা ও তার আশপাশ এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। আছে বাহারি ফুলের বাগান এখানে। এছাড়াও নেপালিদের সাজে সাজার জন্য ভাড়ায় নেপালী পোশাক পাওয়া যায় এখানে।

গঙ্গামায়া পার্ক: রক গার্ডেনের রাস্তা ধরে ৩ কিমি সামনেই এই পার্ক।

চা-বাগান:শহরের খুব কাছেই এই দৃষ্টি নন্দন চা বাগান টি। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় তা হলো এর আশেপাশের চা দোকানে বসে এক কাপ চা পান করা।

দার্জিলিং রুপয়/ক্যাবল কার:চা-বাগান থেকে ফেরার পথেই তেঞ্জিং রক পাড় হলেই দার্জিলিং ক্যাবল কার।এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যেতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে।

তেনজিং রক: হিমালয় মাউন্টেন ইন্সটিটিউট এর একটু সামনেই চা বাগানের আগেই পড়বে তেনজিং রক। তেনজিং রক একটি বিশাল পর্বতের ছোট খাটো নমুনা।একটি পাথরের টুকরোই পুরো পর্বতের ন্যায় দেখতে।

হিমালয় মাউন্টেন ইন্সটিটিউট, মিউজিয়াম ও চিড়িয়াখানা:এখানে একসাথে আছে চিড়িয়াখানা, মাউন্টেন ইন্সটিটিউট ও মিউজিয়াম। একজন পর্বত আরোহির পাহাড়ে কি কি কাজ, কিভাবে ট্রেকিং, ক্লাইম্বি করবে, কোথায় কিভাবে পারাপার হবে, এভারেস্ট জয়ীদের বিভিন্ন স্মৃতি চিনহ সহ আরো অনেক ইতিহাস সংরক্ষিত আছে এই মিউজিয়ামে।

টাইগার হিল: শহর থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই টাইগার হিল পয়েন্ট। পর্যটকের দেখার সুবিধার্থে এখানে একটি ঘর ও বানিয়ে রাখা হয়েছে গোলাকার যেখানে দাঁড়িয়ে সবাই সূর্যোদয় দেখতে পারে।পৃথিবীর তৃতীয় সরবোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা কে এখান থেকে দেখা যায়।

বাতাসিয়া লুপ:টাইগার হিলে যাবার পথেই পরবে অপরূপ সুন্দর এর জায়গাটি।এখানেই দার্জিলিং এর টয় ট্রেন ৩৬০ ডিগ্রীতে ঘুরে আবার ঘুম ষ্টেশনের দিকে যায়।

দার্জিলিং মল:শহরের সবচেয়ে উচু চূড়ার নাম মল চূড়া। এখান থেকে আশেপাশের প্রকৃতি খুব ভালোভাবে দর্শন করা যায় এবং আকাশ পরিস্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও দেখা যায় এই চূড়া থেকে।

আভা আর্ট গ্যালারী: দার্জিলিং শহরের মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে জাপানিজ প্যাগোডা দেখতে যেতে পথেই পরবে আভা আর্ট গ্যালারী।উজ্জ্বল লাল ও হলুদ বর্ণের এই বিল্ডিং এর ভিতরেই আর্ট গ্যালারিটি।

পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্কঃ এই চিড়িয়াখানায় রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ড, তিব্বতীয় নেকড়ে সহ পূর্ব হিমালয়ের প্রচুর বিপদগ্রস্ত ও বিলুপ্ত পক্ষী ও প্রাণীদের দেখতে পাওয়া যায়। ধীরধাম মন্দিরঃ এটি কাঠমান্ডুর বিখ্যাত পশুপতিনাথ মন্দিরের অনুরূপ।

বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামঃ এই জাদুঘর গাছপালা ও পশুপাখিদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্দরে প্রবেশ করায়।

লাওডস্ বোটানিকাল গার্ডেনঃ এই উদ্যানে অর্কিড, রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া, প্রিমুলা, ফার্ন সহ নানা জাতের হিমালয়ান উদ্ভিদ পাওয়া যায়।

লেবং রেস কোর্সঃ এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট এবং সর্বোচ্চ রেস কোর্স।

অবজারবেটরি হিলঃ ধীরধাম মন্দির এবং বৌদ্ধ সংরক্ষণালয় এই পর্যবক্ষেণ পাহাড়ের উপর অবস্থিত।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

মল চূড়ার উপর অনেক খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে। দুয়েকটা মুসলিম হোটেলও আছে। খাবারের সিস্টেম প্যাকেজ আকারে। মানে ভাত, মাছ, ডাল ৮০-১২০ রুপি এরকম। সকালের খাবারে রুটির সাথেও ডিম/সব্জির এমন প্যাকেজ পাওয়া যাবে। খাবারের দাম খুব একটা বেশি নয়। এছাড়াও আধুনিক সব খাবার ই পাওয়া যায় দার্জিলিংয়ে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, দার্জিলিং শহর খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। মানে রাত ৮-৯ টা নাগাদ হোটেল খোলা পাবেন। তার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই সময়ের আগেই ডিনার সেরে ফেলতে হবে।

রাত্রি যাপন[সম্পাদনা]

দার্জিলিং শহরে পর্যটকদের জন্য ভালো মানের কিছু আবাসিক হোটেল ও হলিডে হোম রয়েছে।

  • দার্জিলিং-এ পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের দার্জিলিং ট্যুরিস্ট লজ।
  • দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের ম্যাপেল লজ ও লুইস জুবিলি লজ।
  • দার্জিলিং-এ বেনফিসের হোটেল হিমালয়।
  • সেন্ট্র্যাল হেরিটেজ, রবারটসন রোড, ফোনঃ ০৩৫৪-২২৫৮৭২১/২২/২৩
  • দ্য এলগিন্, এইচ.ডি.লামা রোড, ফোনঃ ০৩৫৪-২২৭২২৬/২৭
  • পাইনরীজ হোটেল, দ্যা মল রোড, ফোনঃ ০৩৫৪-২২৫৪০৭৪
  • দার্জিলিং জিমখানা রিসর্ট, দ্যা মল রোড চৌরাস্তা, ফোনঃ ০৩৫৪২২৫২৩২৮
  • হোটেল সোনার বাংলা দার্জিলিং, রবার্টসন রোড, ফোনঃ ০৩৫৪-২২৫৮৩৬৯

এছাড়াও দার্জিলিংএ শহর জুড়েই নানান মান ও দামের বেসরকারি হোটেল এবং হলিডে হোম রয়েছে।

এরপরে যান[সম্পাদনা]

বিষয়শ্রেণী তৈরি করুন