বিষয়বস্তুতে চলুন

3071
উইকিভ্রমণ থেকে
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > পাকিস্তান

পাকিস্তান

পরিচ্ছেদসমূহ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান (উর্দু: پاکستان) হলো এমন এক দেশ যা পশ্চিম, মধ্য, দক্ষিণ এবং পূর্ব—এই চার অঞ্চলের সীমানা ছুঁয়ে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের জন্য আলাদা আবাসভূমি হিসেবে পাকিস্তানের উদ্ভব ঘটে। ১৯৬০-এর দশকে হিপ্পি ট্রেইলের কল্যাণে পাকিস্তানের পর্যটন শিল্প ছিল চূড়ান্ত সমৃদ্ধির সময়ে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশক থেকে দেশটি অস্থির অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং বহু দেশ একে অনিরাপদ গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তবুও পাকিস্তান তার অনন্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে। ইতিহাসপ্রেমীরা মোহেনজো-দারো, হরপ্পা ও ট্যাক্সিলার মতো প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে মুগ্ধ হতে পারেন। স্থাপত্যপ্রেমীরা মুঘল যুগের স্থাপত্যশিল্পে চোখ ভরিয়ে নিতে পারেন। আর সাহসী ভ্রমণকারীরা কে২ সহ অসংখ্য সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তান একটি ফেডারেল প্রজাতন্ত্র, যার চারটি প্রদেশ রয়েছে: পাঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান। পাকিস্তান সরকার বাস্তবে কাশ্মীরের দুটি অংশেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে: আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিত-বালতিস্তান (পূর্বে উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা নামে পরিচিত)।

পাকিস্তানের মানচিত্র
 গিলগিত-বালতিস্তান
বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের অংশ এটি। এখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ কিছু পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য ভরপুর এই অঞ্চল ট্রেকিংয়ের সুযোগের দিক থেকে সহজেই নেপালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
 খাইবার পাখতুনখোয়া
মূলত পশতুন অধ্যুষিত এই অঞ্চল পাহাড়ি ও দুর্গম হলেও এখানকার মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ। উত্তর পাখতুনখোয়া পাকিস্তানের সবচেয়ে সুন্দর এলাকাগুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়। এ অঞ্চলে পূর্বের ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়া (এফএটিএ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 আজাদ কাশ্মীর
বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের অংশ এটি। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য একে অনেক সময় “পৃথিবীর স্বর্গ” বলা হয়।
 পাঞ্জাব
দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও কৃষি-উর্বর অঞ্চল। এখানে বহু ঐতিহাসিক মাজার ও মসজিদ রয়েছে।
 সিন্ধ
দেশের সবচেয়ে শিল্পায়িত অঞ্চল। বেশিরভাগ পর্যটক করাচি বা মহেঞ্জোদারোর প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ দেখতে যান। তবে সুফিবাদের প্রভাবিত সিন্ধের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতিও রয়েছে।
 বেলুচিস্তান
সবচেয়ে বড় এবং দুর্গম প্রদেশ। এখানে অবকাঠামোর অভাব এবং নিম্ন-স্তরের বিদ্রোহী পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণ কঠিন হতে পারে। তবে এ অঞ্চলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুনিপার বন, সুন্দর প্রাকৃতিক সমুদ্রতট এবং সুস্বাদু ফলের জন্য খ্যাত স্থান রয়েছে।

শহরসমূহ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের ৯টি উল্লেখযোগ্য শহরের তালিকা নিচে দেওয়া হলো। অন্যান্য শহর তাদের অঞ্চলভিত্তিক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • 1 ইসলামাবাদ – ফেডারেল রাজধানী; অপেক্ষাকৃত নতুন পরিকল্পিত শহর, যেখানে অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ রয়েছে
  • 2 ফয়সালাবাদ – পাঞ্জাবের একটি প্রধান শহর, টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিখ্যাত
  • 3 করাচি – আর্থিক রাজধানী ও দেশের সবচেয়ে বড় শহর; এটি একটি শিল্পবন্দর নগরী এবং সিন্ধ প্রদেশের রাজধানী
  • 4 লাহোর – মুঘলদের শহর, ইতিহাসসমৃদ্ধ প্রাণবন্ত নগরী; অবশ্যই ভ্রমণযোগ্য
  • 5 মুলতান – “পীরদের শহর”, নীল পটারি, কাচের শিল্পকর্ম এবং খুসসা নামের ঐতিহ্যবাহী জুতার জন্য প্রসিদ্ধ
  • 6 মুজাফফারাবাদ – আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী এবং চিত্রানুরূপ সুন্দর শহর
  • 7 পেশাওয়ার – খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী; খাইবার পাসে যাওয়ার প্রবেশদ্বার
  • 8 কোয়েটা – বেলুচিস্তানের রাজধানী শহর
  • 9 শিয়ালকোট – ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনের শহর, এটি রপ্তানি শিল্পের জন্য খ্যাত এবং এ অঞ্চলের প্রাচীনতম শহরগুলির একটি


অন্যান্য গন্তব্য

[সম্পাদনা]
মহেঞ্জোদারো
  • 10 কারাকোরাম মহাসড়ক – ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের অংশ; এটি উত্তর দিকে চীন পর্যন্ত সংযোগকারী প্রধান সড়ক
  • 11 মারী – ইসলামাবাদ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত জনপ্রিয় হিমালয়ান পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র
  • 12 খেওড়া লবণ খনি – বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম লবণ খনি; ইসলামাবাদ থেকে দক্ষিণে মোটরওয়ে দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে
  • 13 মহেঞ্জোদাড়ো – সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান (প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্ব)
  • 14 তক্ষশীলা – গন্ধারা যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান (১ম সহস্রাব্দ খ্রিস্টপূর্ব ও ১ম খ্রিস্টাব্দ)
  • 15 চাঙ্গা মাঙ্গা – ১২,৪২৩ একর জুড়ে বিস্তৃত একটি কৃত্রিম বনভূমি
  • 16 নানকানা সাহিবশিখধর্মের প্রবর্তক গুরু নানকের জন্মস্থান

আরও দেখুন: ভারতীয় উপমহাদেশের পবিত্র স্থানসমূহ এবং পাকিস্তানের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা

জানুন

[সম্পাদনা]
রাজধানী ইসলামাবাদ
মুদ্রা পাকিস্তানি রুপি (PKR)
জনসংখ্যা ২২৩.৭ মিলিয়ন (2021)
বিদ্যুৎ ২৩০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (ইউরোপ্লাগ, টাইপ ডি, বিএস ১৩৬৩, বিএস ৫৪৬)
দেশের কোড +92
সময় অঞ্চল ইউটিসি+০৫:০০, Asia/Karachi
জরুরি নম্বর 1122 (জরুরি চিকিৎসা সেবা), 15 (পুলিশ), +92-16 (দমকল বাহিনী)
গাড়ি চালানোর দিক বাম

পাকিস্তান আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ৩৩তম বৃহত্তম দেশ। দেশটির জনসংখ্যা ২০৭.২ মিলিয়নেরও বেশি, ফলে এটি বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক জনবহুল দেশ।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: মুঘল সাম্রাজ্য, ব্রিটিশ রাজ

পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন মানবসভ্যতা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির প্রাচীনতম নিদর্শন খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০০ সালে মেহেরগড়-এ পাওয়া যায়। বর্তমান বেলুচিস্তানের মেহেরগড় ছিল একটি ছোট কৃষিগ্রাম, যা নতুন প্রস্তর যুগে কৃষিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬০০ সালের দিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি পরিত্যক্ত হয় এবং উত্তরসূরি হিসেবে আবির্ভূত হয় সিন্ধু সভ্যতা, যা সিন্ধু নদীর তীরে বিকশিত হয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২৩শ শতাব্দীর মধ্যে এই সভ্যতা বর্তমান পাকিস্তানের বড় অংশজুড়ে বিস্তৃত হয়। প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ার পাশাপাশি এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। তাদের উন্নত নগর পরিকল্পনা, সড়ক ও স্থাপত্যের নিদর্শন মহেঞ্জোদারো আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে সংরক্ষিত। খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ সালের দিকে খরা ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই সভ্যতার পতন ঘটে। বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের মতে, বৈদিক জনগণ এই পতনের সময় দক্ষিণ এশিয়ায় আসে এবং উত্তর ভারতের বড় অংশ দখল করে হিন্দুধর্মের ভিত্তি স্থাপন করে। তাদের প্রভাব আজকের তক্ষশীলা শহরেও দেখা যায়। পরবর্তীতে প্রথম পারস্য সাম্রাজ্য আকেমেনীয়দের পতনের পর মেসিডোনিয়ার হেলেনীয় রাজা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পাকিস্তান অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে পাঞ্জাবের বড় অংশ দখল করেন।

লাহোরের শালিমার উদ্যান, একটি মুঘল উদ্যান

১৮শ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ছিল মুঘল সাম্রাজ্যর একটি প্রধান ইসলামিক কেন্দ্র। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এটি দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে ব্রিটিশরা ১৭০০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করে। আজও পাকিস্তানের অনেক স্থানে ঔপনিবেশিক নিদর্শন বিদ্যমান।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হলে পাকিস্তান নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়। যদিও ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী তাঁর নাউ অর নেভার ঘোষণায় প্রথমবার এই নামটি ব্যবহার করেছিলেন। প্রথমদিকে পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত ছিল—পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে ও বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ আজও চলমান। এ নিয়ে তিনটি বড় যুদ্ধ ও একাধিক সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলা এবং কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমন অভিযান সংঘটিত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ছিল শান্তিপূর্ণ, সহনশীল, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধশালী। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে এটি পশ্চিমা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে। তবে ১৯৮০-এর দশক থেকে পাকিস্তানের চিত্র বদলে যায় এবং আজকের পাকিস্তান একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের জনগণ মূলত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বংশধরদের সমন্বয়ে গঠিত—ইসলাম প্রচারের পর আগত আরব, বুখারা ও সমরখন্দ থেকে আসা পারসিক, মধ্য এশিয়া থেকে আগত তুর্কি এবং স্থানীয় সিন্ধুবাসী যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। পাঞ্জাবি, সিন্ধি, সারাইকি, পশতুন, মোহাজির ও বেলুচরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বহন করে।

ভূগোল

[সম্পাদনা]
কাশ্মীর বিরোধ

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধ রয়েছে। ভারত ভাগের সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও হিন্দু শাসকের অধীনে থাকা এ অঞ্চল বিভক্ত হয়নি। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতার পর থেকে চারবার যুদ্ধ করেছে এবং বহুবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

তবে উইকিভয়েজ কেবল ভ্রমণকারীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। মানচিত্র ও বর্ণনা কেবল বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে, রাজনৈতিক অবস্থান নয়। যেখানে পাকিস্তানি ভিসা নিয়ে যাওয়া যায়, সেটি পাকিস্তানের অংশ হিসেবে ধরা হয়, আর যেখানে ভারতীয় ভিসা প্রয়োজন, সেটি ভারতের অংশ হিসেবে ধরা হয়।

আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও ভ্রমণের আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত, বিশেষত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকা এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ সেখানে সেনা উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি ও চলাচল সীমিত।

পাকিস্তান প্রাচীন খাইবারবোলান পথের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত। এছাড়া কারাকোরাম মহাসড়ক দিয়ে পশ্চিম চীনের সঙ্গেও সংযোগ রয়েছে। এই সব পথ এবং পাকিস্তানের কিছু বন্দর প্রাচীন সিল্ক রোডের অংশ ছিল।

আরব সাগরের তীরে অবস্থিত পাকিস্তানের পশ্চিমে আফগানিস্তানইরান, পূর্বে ভারত, উত্তর-পূর্বে চীন। ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তবে আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে অনেক মিলও আছে।

পাকিস্তানে সমুদ্র, মরুভূমি (সিন্ধ ও পাঞ্জাব), সবুজ পাহাড় (উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ), শুষ্ক পাহাড় (বেলুচিস্তান), বরফঢাকা পর্বত, নদী, উর্বর কৃষিজমি, জলপ্রপাত ও বনভূমি সবই রয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলে হিমালয়, কারাকোরাম ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা বিস্তৃত। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কেটু, যার উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার—এটি বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত। পাঞ্জাব প্রদেশ সমতল ভূমি, যেখানে নদীগুলো মিলে সিন্ধু নদে পতিত হয়। সিন্ধ অঞ্চল থর মরুভূমি ও কির্থার পাহাড়শ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত। বেলুচিস্তান মালভূমি শুষ্ক ও পাহাড়বেষ্টিত। পাকিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে।

আবহাওয়া

[সম্পাদনা]

এখানে মূলত গরম ও শুষ্ক মরুভূমি জলবায়ু বিদ্যমান। উত্তর-পশ্চিমে নাতিশীতোষ্ণ আর উত্তরে হিমবাহ অঞ্চল। জুলাই ও আগস্টে ভারী বর্ষণে সিন্ধু নদে বন্যা দেখা দেয়। পাঞ্জাব অঞ্চল উর্বর ও আর্দ্র গরম আবহাওয়াপূর্ণ।

পাকিস্তানের জলবায়ু উষ্ণমণ্ডলীয় থেকে নাতিশীতোষ্ণ পর্যন্ত পরিবর্তনশীল। দক্ষিণে শুষ্ক উপকূলীয় অঞ্চল, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে অল্প বা কোনো বৃষ্টিপাত হয় না। চারটি মৌসুম রয়েছে: ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি ঠান্ডা ও শুষ্ক শীতকাল; মার্চ–মে গরম ও শুষ্ক বসন্ত; জুন–সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিকাল; অক্টোবর–নভেম্বর মৌসুমী বৃষ্টির পশ্চাদপসরণ। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বছরভেদে ভিন্ন হয় এবং প্রায়ই খরা ও বন্যার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।

রাজনীতি

[সম্পাদনা]
পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা

পাকিস্তান একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র, যা ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের আদলে গঠিত। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। রাষ্ট্রপতি পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হলেও তার ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সরকার পরিচালনা করেন। সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট—জাতীয় পরিষদ (নিম্নকক্ষ) সরাসরি নির্বাচিত হয়, আর সেনেট (উচ্চকক্ষ) পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়। সরকার গঠন ও বাজেট পাশের ক্ষমতা জাতীয় পরিষদের হাতে। কোনো দল পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রায়ই জোট সরকার গঠিত হয় এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। পাকিস্তানের বিচার বিভাগ শক্তিশালী ও স্বাধীন, এবং গণমাধ্যম মুক্ত।

তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সেনাবাহিনীর প্রভাব সবসময়ই প্রবল। অনেক প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তে সেনাপ্রধানের মতামত মানতে হয়েছে। অতীতে একাধিকবার সামরিক শাসন জারি হয়েছে।

পাকিস্তান একটি ফেডারেল রাষ্ট্র, যা বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত। প্রতিটি প্রদেশের নিজস্ব আইনসভা ও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে।

রাজনৈতিক আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রায়শই ঘটে, তবে ভ্রমণকারীদের এসবের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বড় ঝুঁকি হলো সন্ত্রাসবাদ, যা যেকোনো স্থানে ঘটতে পারে। কিছু অঞ্চল অতিরিক্ত বিপজ্জনক, তাই ভ্রমণ এড়ানো উচিত (বিস্তারিত জানতে "নিরাপত্তা" অধ্যায় দেখুন)।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]
রমজান

রমজান হল ইসলামি বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামি উপবাস সাওম পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।

  • ১ মার্চ – ২৯ মার্চ ২০২৫ (১৪৪৬ হিজরি)
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি – ১৯ মার্চ ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি)
  • ৮ ফেব্রুয়ারি – ৮ মার্চ ২০২৭ (১৪৪৮ হিজরি)
  • ২৮ জানুয়ারি – ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৮ (১৪৪৯ হিজরি)
  • ১৬ জানুয়ারি – ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৯ (১৪৫০ হিজরি)

আপনি যদি রমজানের সময় পাকিস্তান ভ্রমণ করার চিন্তা করে থাকেন, তবে রমজানে ভ্রমণ পড়ে দেখতে পারেন।

পাকিস্তান বহু জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল হওয়ায় এটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইসলামিক মূল্যবোধ মিলেমিশে রয়েছে। সংস্কৃতিতে উত্তর ভারত, আফগানিস্তান ও ইরানের প্রভাব স্পষ্ট।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও এখানে খ্রিস্টান, হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও রয়েছে।

আইন অনুযায়ী পাকিস্তানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। তবে সমাজ মূলত পুরুষতান্ত্রিক এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নারীরা বৈষম্যের শিকার। সেখানে তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত।

তবুও নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং মুসলিম বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। পাকিস্তান বিমানবাহিনীও নারী যুদ্ধবিমান চালক নিয়োগ শুরু করেছে।


ছুটির দিন

[সম্পাদনা]
অনুষ্ঠানতারিখবিবরণ
কাশ্মীর সংহতি দিবস ৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। পাকিস্তানে প্রতিবছর এই দিনটি কাশ্মীরের একটি অংশে ভারতের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। পাকিস্তানের দৃষ্টিতে কাশ্মীর সংহতি দিবসের উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশ করা, যাদের তারা ভারতীয় শাসন থেকে মুক্তির সংগ্রামী মনে করে। সারা দেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান দিবস ২৩ মার্চ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হওয়ার স্মারক, যার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিরাজ্য থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয় এবং বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হয়। এটি একটি প্রধান জাতীয় ছুটি এবং পাকিস্তানিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন, আরেকটি হলো ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। রাজধানী ইসলামাবাদে সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক কুচকাওয়াজ হয়, যা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পরিচালনা করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি জাতীয় পুরস্কার ও পদক প্রদান করেন। মুহাম্মদ ইকবাল ও মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দেশের বড় শহরগুলোতে জাতীয় পর্যায়ে সামরিক ও বেসামরিক কুচকাওয়াজ এবং উদযাপন হয়, যা দেখার মতো।
শ্রমিক দিবস ১ মে কর্মজীবীদের অর্জন উদযাপন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের স্মরণে বার্ষিক ছুটি। বড় শহরগুলোতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতা দিবস ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীনতা লাভ এবং নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠনের স্মারক জাতীয় দিবস। এ দিন উদযাপনের মধ্যে থাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনা। আগস্ট মাস শুরু হতেই দেশজুড়ে বিশেষ দোকান ও স্টল বসে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, পোস্টার, জাতীয় বীরদের ছবি এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির জন্য। যানবাহন, ভবন, বাড়ি ও রাস্তাগুলো জাতীয় পতাকা ও সাজসজ্জায় সজ্জিত হয়। প্রদীপ, মোমবাতি, তেলের প্রদীপ ও আতশবাজি দিয়ে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর সাজানো হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধে গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
ইকবাল দিবস ৯ নভেম্বর জাতীয় কবি মুহাম্মদ ইকবালের জন্মদিন।
কায়েদে আজমের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মদিন।
আশুরা মুহররম ৯ ও ১০ ইমাম হোসেন ইবনে আলীর শাহাদাতের শোকার্ত শিয়া মুসলমানদের শোকের সমাপ্তি। এ দিনে শিয়া সম্প্রদায় দেশজুড়ে সমবেত হয়ে ইমাম হোসেনের শাহাদাতের শোক পালন করে। সেমিনার, মিছিল, মাতমি জলুস, মজলিস ইত্যাদি আয়োজন করা হয়।
ঈদুল ফিতর শাওয়াল ১ সবচেয়ে বড় উৎসব, যা মুসলমানরা রমজান মাসের রোজা শেষে উদযাপন করে। খাবার প্রধান আকর্ষণ, এবং সৌভাগ্য থাকলে কোনো বাড়িতে আমন্ত্রণ পেলে ভোজে অংশ নেওয়া যায়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কয়েক দিন বন্ধ থাকে, কখনো এক সপ্তাহ পর্যন্ত। (সরকারি ছুটি সাধারণত দুই দিন হলেও বাস্তবে ৩০ রমজান থেকে শুরু করে ২–৩ শাওয়াল পর্যন্ত অফিস বন্ধ থাকে।)
ঈদুল আজহা ১০ জিলহজ্জ কুরবানির উৎসব, যা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছার স্মারক। পশু কোরবানি করা হয় এবং মাংস বা খাবার গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরিবারগুলো বড় ভোজ ও অনুষ্ঠানে একত্রিত হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী রবিউল আউয়াল ১২ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন।

ভ্রমণতথ্য

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: উর্দু বাক্যপুস্তিকা

ফেডারেল স্তরে, উর্দু এবং ইংরেজি পাকিস্তানের সরকারি ভাষা। উর্দুই পাকিস্তানের সাধারণ যোগাযোগের ভাষা। উর্দু হিন্দির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এটি আরবি লিপিতে লেখা হয় এবং হিন্দির তুলনায় এতে আরবি ও ফারসি থেকে বেশি শব্দ গৃহীত হয়েছে।

প্রায় ৩৭% জনগণের মাতৃভাষা হলো পাঞ্জাবি। ভারতের বিপরীতে পাকিস্তানে পাঞ্জাবি শাহমুখি লিপিতে লেখা হয়, যা আরবি লিপির একটি রূপভেদ।

এছাড়া দেশজুড়ে বহুল ব্যবহৃত অন্যান্য ভাষার মধ্যে রয়েছে পশতু, সিন্ধি, সিরায়কি, বেলুচি, পোথোহারি, হিন্দকো, ব্রাহুই, খোয়ার, শিনা, বুরুশাস্কি, ওয়াখি প্রভৃতি।

ইংরেজি ভাষাজ্ঞান শিক্ষা, পেশা, বয়স ও অঞ্চলভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। বড় শহর, অভিজাত শ্রেণি, পর্যটনকেন্দ্র, অধিকাংশ থানায় এবং সরকারি কার্যালয়ে ইংরেজি তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হয়।

পাকিস্তানের ভাষা ও জাতিগোষ্ঠী

কীভাবে যাবেন

[সম্পাদনা]
ভ্রমণ সতর্কতা ভিসা-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ:
ইসরাইল-এর নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
(তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ডিসে ২০১২)
পাকিস্তানের ভিসা নীতির মানচিত্র। লন-সবুজ রঙে চিহ্নিত দেশগুলোতে ব্যবসায়িক ভিসা অন অ্যারাইভাল পাওয়া যায়; আর ফিরোজা রঙে চিহ্নিত দেশগুলোতে ব্যবসায়িক বা গ্রুপ ট্যুরিস্ট ভিসা অন অ্যারাইভাল পাওয়া যায়।

ই-ভিসা ব্যবস্থা ১৯১টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু। এটি শুধু বিমানবন্দরে নাকি স্থল সীমান্তেও কার্যকর—তা পরিষ্কার নয়।

২৪টি "পর্যটক-বান্ধব দেশ" (টিএফসি)-এসব দেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট/অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে এলে এক মাসের ভিসা অন অ্যারাইভাল পেতে পারেন। সেই ট্যুর অপারেটর পাকিস্তানে অবস্থানকালে ভ্রমণকারীদের দায়িত্ব নেবে। এ ধরনের ভিসা নবায়নও ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমেই করতে হবে। দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আইসল্যান্ড, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, সিঙ্গাপুর, স্পেন, সুইডেন, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র

অন্য দেশের অধিকাংশ নাগরিকদের, বা যারা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে ভ্রমণ করতে চান না, তাদের অগ্রিম ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সাধারণত ভিসা ৩০–৯০ দিনের জন্য দেওয়া হয়, নাগরিকত্ব ও আবেদনস্থলের ওপর নির্ভর করে। কখনও কখনও ডাবল-এন্ট্রি ভিসাও দেওয়া হয়, তবে আবেদনকালে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে এই প্রয়োজনীয়তা জানাতে হবে। নিজ দেশের পাকিস্তান মিশনে ভিসা নেওয়া সাধারণত সহজ, কারণ তারা ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই ভিসা দেওয়ার অনুমতি পায়। ফলে প্রক্রিয়ার গতি বাড়ে।

কয়েকটি দেশের নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল পান: আইসল্যান্ডমালদ্বীপ ৩ মাসের জন্য, হংকং, নেপালসামোয়া ১ মাসের জন্য। টোঙ্গাত্রিনিদাদ ও টোবাগো নাগরিকদের জন্য থাকার কোনো সময়সীমা নেই।

কিছু দেশের নাগরিকরা ব্যবসায়িক ভিসা অন অ্যারাইভাল পেতে পারেন (ইসলামাবাদ, লাহোর, পেশোয়ার, কোয়েটা বা করাচি বিমানবন্দরে), যদি স্থানীয় হোস্ট কোম্পানি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয় অথবা পাকিস্তানের বাণিজ্য সংস্থার সুপারিশকৃত আমন্ত্রণপত্রের ব্যবস্থা করে। চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক প্রদত্ত সুপারিশপত্রও গ্রহণযোগ্য।

বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা (এবং তাঁদের স্ত্রী/স্বামী) ৫ বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা পান, যেখানে একটানা এক বছরের জন্য থাকতে পারবেন। পাকিস্তান অরিজিন কার্ড (পিওসি) বা ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানিজ (নিকপ) থাকলে কোনো ভিসা প্রয়োজন হয় না।

ভারতের সঙ্গে ওয়াঘা সীমান্তের অনুষ্ঠান

ইসরাইলের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কারণ পাকিস্তান (এবং অধিকাংশ মুসলিম দেশ) ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে অন্য দেশের পাসপোর্টধারী ইহুদিদের প্রবেশে কোনো বাধা নেই। অনলাইনে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, ইসরাইলি ভিসা বা সীল পাকিস্তানে প্রবেশে সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না, যদিও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। সাধারণত ইসরাইলি নাগরিকদের পাকিস্তানি ভিসা দেওয়া হয় না, তবে ব্যতিক্রমও হয়েছে—যেখানে ইসলামাবাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এনওসি নিয়ে পরে পাকিস্তানি ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, যদি তাঁদের পাসপোর্ট বা টিকিটে ভারতের ট্রানজিট বা বোর্ডিংয়ের প্রমাণ থাকে।

ইস্তাম্বুলের- পাকিস্তান কনসুলেট কেবল তুরস্কের বাসিন্দাদের ভিসা দেয়; অন্যদের জন্য তা আঙ্কারা থেকে সম্ভব হতে পারে।

ইরানের জাহেদান কনসুলেট আর ভিসা দেয় না, সেখানে যেতে হবে তেহরান দূতাবাসে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে দিল্লিতে পাকিস্তানি পর্যটক ভিসা সবার জন্যই বন্ধ।

২০১৯ সালের মে মাস থেকে বিশকেকের পাকিস্তানি দূতাবাস মাঝে মাঝে অ-কিরগিজ নাগরিকদের ভিসা দেয়। কাগজপত্রের ঝামেলা থাকলেও প্রক্রিয়াটি দ্রুত—সাধারণত ২–৩ দিনেই সম্পন্ন হয়।

ভারতীয় নাগরিকরা

[সম্পাদনা]
ভ্রমণ সতর্কতা ভিসা-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ:
২৪ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা স্থগিত।
(তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদকৃত এপ্রিল ২০২৫)

ভারতীয় নাগরিকদের পাকিস্তানি ভিসা শুধুমাত্র ইসলামাবাদের-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দেওয়া হয়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও বাছাইকৃত, অনেকেই মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও হতাশ হন। প্রক্রিয়াটি অনেকাংশে রেফারেন্সের ওপর নির্ভরশীল।

গুজবের বিপরীতে, ভারতীয় নাগরিকরা পাকিস্তানি পর্যটক ভিসা পান না।

বিমানে

[সম্পাদনা]
স্কার্দু বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭

করাচি, লাহোরইসলামাবাদ পাকিস্তানে প্রবেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অন্য ৯টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে কোয়েটা, পেশোয়ার, সিয়ালকোট, মুলতান, ফয়সালাবাদ, গোয়াদার, রহিম ইয়ার খান, দেরা গাজি খানস্কার্দু-তে। করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদ থেকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় বিমানসংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক রুটে ভালো সংযোগ প্রদান করে। একসময় এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান এয়ারলাইন, কিন্তু দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এখন সমস্যায় আছে। তবুও এটি দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন এবং সবচেয়ে বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

পিআইএ সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে আবুধাবি, বাকু, বাহরাইন, বেইজিং, দুবাই, দোহা, ইস্তাম্বুল, জেদ্দা, কুয়েত, কুয়ালালামপুর, রিয়াদ, শারজাহ, মদিনা, মাসকাট ও টরন্টো-পিয়ারসনে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ লন্ডন থেকে ইসলামাবাদ ও লাহোরে সরাসরি ফ্লাইট চালায়, আর ভার্জিন আটলান্টিক লন্ডন ও ম্যানচেস্টার থেকে ইসলামাবাদে এবং লন্ডন থেকে লাহোরে ফ্লাইট চালায়।

বেশিরভাগ ফ্লাইট আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে, যেখানে প্রচুর প্রবাসী পাকিস্তানি কাজ করেন। এসব ফ্লাইটের ভাড়া তুলনামূলক সাশ্রয়ী। পিআইএ ছাড়াও এয়ারব্লু ও সেরিন এয়ারসহ বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোও বহু উপসাগরীয় শহর থেকে ফ্লাইট চালায়।

রেলে করে

[সম্পাদনা]
সমঝোতা এক্সপ্রেস

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ও ইরানের রেল সংযোগ আছে। তবে এসব ট্রেন দ্রুত বা কার্যকর নয়। তাড়াহুড়ো থাকলে বাস বা বিমান ভ্রমণ উত্তম। তবুও ট্রেন ভ্রমণ এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

ভারত থেকে:

  • সমঝোতা এক্সপ্রেস মঙ্গলবার ও শুক্রবার দিল্লি থেকে লাহোর যায় আটারি/ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে। এটি ভ্রমণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প। তবে এই ট্রেনে সন্ত্রাসী হামলায় বহু হতাহতের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে। তাই সীমান্ত পর্যন্ত ট্যাক্সি বা বাস নেওয়া অধিক নিরাপদ।
  • থর এক্সপ্রেস রাজস্থান রাজ্যের ভগত কি কোঠি থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচি পর্যন্ত চলে। ৪০ বছর বন্ধ থাকার পর ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়, তবে এটি বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

ইরান থেকে: কেবল একটি লাইন রয়েছে জাহেদান থেকে কোয়েটা পর্যন্ত। যাত্রী পরিবহন ২০১৪ সালের দিকে বন্ধ হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় চালু হবে, কিন্তু জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত তা হয়নি। বর্তমানে শুধু মালবাহী ট্রেন চালু। মরুভূমির ধুলোঝড়ে লাইন প্রায়ই বন্ধ থাকে ও দীর্ঘ বিলম্ব হয়।

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডসিল্ক রোড দিয়ে পাকিস্তান অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে যাতায়াত করত। এটি ভ্রমণের আকর্ষণীয় কিন্তু সময়সাপেক্ষ উপায়। নতুন মহাসড়ক তৈরি হয়েছে এবং আরও সম্প্রসারণ পরিকল্পনাধীন। বর্তমানে বিশ্বমানের মোটরওয়ে পেশোয়ার, ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতানফয়সালাবাদকে যুক্ত করেছে। তবে চালকদের আচরণ এখনও অনিয়ন্ত্রিত এবং পুলিশের প্রয়োগও খামখেয়ালি।

চীন থেকে: কারাকোরাম মহাসড়ক পাকিস্তানকে চীনের- সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি কারাকোরাম ও হিমালয় পর্বতমালা অতিক্রম করে গিয়েছে। গওয়াদার বন্দর চালুর পর বাণিজ্যিক যান চলাচল বৃদ্ধির কারণে মহাসড়কটি ১০ মিটার থেকে ৩০ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা হয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে:

  • খাইবার পাস পেশোয়ারকে জলালাবাদকাবুলের সঙ্গে যুক্ত করে। বহু বছর বিদেশি পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে তাত্ত্বিকভাবে খোলা। ২০২২ সালে অন্তত একবার বিপরীত দিকেও যাতায়াতের খবর পাওয়া গেছে। এখানে সশস্ত্র প্রহরা ও ভ্রমণ পারমিট বাধ্যতামূলক। সীমান্ত পার হলে আফগানিস্তানের ভেতরে কাবুল পর্যন্ত যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করে এগোনো উচিত।
  • বোলান পাস কোয়েটাকে কান্দাহারের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিদেশি পর্যটকদের জন্য বন্ধ। কেবল স্থানীয় ও সাহায্যকর্মীদের জন্য খোলা।

বাসে করে

[সম্পাদনা]

ভারত থেকে: দিল্লি-লাহোর আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস চালু আছে। ভাড়া ₹২৪০০, খাবারসহ। টিকিট সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না, কয়েক দিন আগে দিল্লি গেটে পাকিস্তানি ও ভারতীয় ভিসার ফটোকপি জমা দিতে হয়। বাসটি সকাল ০৬:০০-এ ছাড়ে, তবে চেক-ইনের জন্য ০৪:০০-এ উপস্থিত হতে হয়। অনেক ভ্রমণকারী জানান, স্থানীয় পরিবহন জোড়া দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে হেঁটে যাওয়া অনেক সাশ্রয়ী, দ্রুত এবং সহজ।

চীন থেকে: কাশগর থেকে কারাকোরাম মহাসড়ক হয়ে পাকিস্তানে বাস যায়।

ইরান থেকে:

  • জাহেদান-কোয়েটা রুট: ইরানের মিজভা সীমান্ত দিয়ে, যা জাহেদান থেকে আধঘণ্টার পথ। পাকিস্তানি সীমান্ত শহর তাফতান-এ রয়েছে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, হোটেল ইত্যাদি সুবিধা। বর্তমানে আধাসামরিক পুলিশ বিদেশিদের বাসে না পাঠিয়ে নিজেদের পিকআপে কোয়েটা পর্যন্ত নিয়ে যায়। পথে দালবান্দিন-এ রাত কাটাতে হয়।
  • রিমদান-গোয়াদার রুট: ২০২২ সাল থেকে মাঝে মাঝে গাড়িহীন ভ্রমণকারীরা গাবদ-কুম্ব সীমান্ত দিয়ে পার হতে পেরেছেন। এখনো (২০২৫ সালের শুরুতে) এটি তাফতান রুটের মতো দীর্ঘ প্রহরী-এসকর্ট প্রক্রিয়া তৈরি করে না। সীমান্ত থেকে করাচিগামী বাস পাওয়া যায়, তবে শুক্রবারে সীমান্ত বন্ধ থাকে। যানবাহনসহ ভ্রমণকারীরা এখানে পার হতে পারেন না।

তাত্ত্বিকভাবে, পিশিন-মান্ড রুটও গাড়িহীনদের জন্য ব্যবহারযোগ্য, তবে এখনো এটির কোনো বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায়নি।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]

কিছু মোটরওয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সংখ্যা বাড়ায় পাকিস্তানে চলাফেরা করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। শহরগুলোতে সড়ক নেটওয়ার্ক ভালো হলেও গ্রামীণ এলাকায় তা দুর্বল। অনেক ছোট রাস্তা নেই, আর গুগল ম্যাপস প্রায়ই শুকিয়ে যাওয়া নদীর খাতকে ছোট রাস্তা হিসেবে দেখায়। তাই দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণের সময় গুগল আর্থ দিয়ে রুট মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

বিমানে

[সম্পাদনা]
বিমানবন্দর

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বহু অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চালায় এবং এটি একমাত্র সংস্থা যেটি উত্তরাঞ্চলের ভ্রমণ বা পর্বতারোহীদের আগ্রহের তিনটি বিমানবন্দর—চিত্রল, গিলগিতস্কার্দু—তে ফ্লাইট চালায়। ইসলামাবাদ থেকে সাধারণত প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট থাকে, তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এগুলো প্রায়ই বাতিল হয় এবং প্রায়ই অতিরিক্ত বুকিং হয়—সুতরাং সিট নিশ্চিত করতে আগেভাগেই পৌঁছানো ভালো।

অন্য অভ্যন্তরীণ বিমানসংস্থার মধ্যে আছে সেরিনএয়ার এবং এয়ারব্লু

রেলে করে

[সম্পাদনা]
পাকিস্তান রেলওয়ের নেটওয়ার্ক মানচিত্র

পাকিস্তান রেলওয়ে যাত্রীবাহী রেল সেবা দেয়। স্টেশনগুলোতে সাধারণত ইংরেজিতে সময়সূচি থাকে না, তবে টিকিট বিক্রেতারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাখ্যা করতে পারেন। ভাড়ার একাধিক শ্রেণি আছে, সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে।

এয়ার-কন্ডিশন্ড স্লিপার ক্লাস সবচেয়ে ব্যয়বহুল, এবং ভাড়া বিমানভাড়ার কাছাকাছি। এ ভাড়ার সঙ্গে বিছানাপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে। এয়ারকন্ডিশন্ড কামরা শুধু জনপ্রিয় রুটে (যেমন করাচি-লাহোর) পাওয়া যায়। স্লিপার বার্থগুলো প্রশস্ত ও আরামদায়ক এবং কামরাগুলো কার্পেটযুক্ত।

বাসে করে

[সম্পাদনা]
হাইওয়ে নেটওয়ার্ক

পাকিস্তানে শহরের মধ্যে ভ্রমণের বড় অংশ বাসে হয়। বাসে ভ্রমণ প্রায়শই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক। দেউউ কোম্পানি কয়েকটি বড় শহরের মধ্যে নিয়মিত বাস চালায়। এসব বাসে এয়ারকন্ডিশন থাকে এবং টিকিট একদিন আগে বুক করতে হয়। এগুলো তুলনামূলক সস্তা হলেও শহরের বড় বাসস্ট্যান্ডগুলো থেকে ছেড়ে যাওয়া মিনিবাস বা সাধারণ বড় বাসের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ ব্যয়বহুল। সাধারণ বাস সার্ভিসে ভাড়া প্রায়শই (যদিও সব সময় নয়) সরাসরি বাসেই দেওয়া হয়, এয়ারকন্ডিশন থাকে না, পায়ের জায়গা কম থাকে, তবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। ভ্রমণের সময় স্থানীয় যাত্রীদের সৌজন্য ও আলাপচারিতার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। বড় শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস প্রায় অবিরত ছেড়ে যায়, তাই সাধারণ বাসে আগে থেকে টিকিট কাটা সম্ভব বা প্রয়োজনীয় নয়। বড় শহরের মধ্যে ভ্রমণের জন্য ছোট বাস বড় বাসের তুলনায় ভালো, কারণ বড় বাস পথে যাত্রী তুলতে গিয়ে ধীরে চলে।

স্থানীয় পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। শহরভেদে আয়োজন ভিন্ন হলেও সাধারণত প্রতিটি শহরে সক্রিয় বাস সেবা থাকে, যার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ভিন্নমাত্রায় থাকে।

বুককারু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাস টিকিট কেনা যায়।

পাকিস্তানে আন্তঃনগর বাস পরিচালনাকারী বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফয়সাল মুভার্স, স্কাইওয়েজ[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]নিয়াজি এক্সপ্রেস

গাড়িতে করে

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে বাম দিক দিয়ে গাড়ি চলে। যানবাহনের সংস্কৃতি পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক আলাদা। ইসলামাবাদ-লাহোর মহাসড়কের (৩৫০ কিমি) অবস্থা ভালো, তবে দেশের বাকি রাস্তা পশ্চিমা মানের তুলনায় খারাপ। ট্রাফিক প্রায়শই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল। অনেক চালকের লাইসেন্স বা বীমা থাকে না। রাতের পর গাড়ি চালানো এড়ানো উচিত।

কী দেখবেন

[সম্পাদনা]
দুদিপসার হ্রদ, কাঘান উপত্যকা, খাইবার-পাখতুনখোয়া, পাকিস্তান
রাকাপোশি, নাগর
কাচুরা হ্রদ

পাকিস্তানের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা ও টাকশিলার মতো প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে শুরু করে হিমালয়ের পাহাড়ি স্টেশনগুলো। এগুলো শীতকালীন খেলাধুলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টানে। পাকিস্তানে রয়েছে ৭,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতার অনেক পর্বতশৃঙ্গ, বিশেষত কেটু (K2), যা অভিযাত্রী ও পর্বতারোহীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেশের উত্তরাংশে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য যেমন পুরোনো দুর্গ। হুনজা ও চিত্রল উপত্যকায় এখনও বসবাস করছে ইসলাম-পূর্ব এনিমিস্ট কালাশা সম্প্রদায়, যারা নিজেদের আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বংশধর দাবি করে। ঐতিহাসিক খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের রোমাঞ্চ চিরন্তন ও কিংবদন্তিসম। পাঞ্জাব প্রদেশে রয়েছে আলেকজান্ডারের জেলাম নদীর যুদ্ধক্ষেত্র ও ঐতিহাসিক লাহোর শহর। লাহোর পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী, যেখানে রয়েছে মুঘল স্থাপত্যের বহু নিদর্শন যেমন বাদশাহী মসজিদ, শালিমার উদ্যান, জাহাঙ্গীরের সমাধি ও লাহোর দুর্গ। পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য দেশটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের হটস্পট করতে পারত, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা, সেবার নিম্নমান ও অস্বচ্ছলতা পর্যটকের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে, যেখানে অতীতের নানা স্থাপত্যশৈলী ও প্রভাবের সমন্বয় ঘটেছে।

বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে ছয়টি প্রধান সাংস্কৃতিক স্থান রয়েছে, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো: মহেঞ্জোদারোর সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দীর বৌদ্ধ ধ্বংসাবশেষ তাকত-ই-বাহি এবং পাশের সাহরি-বাহলোলের ধ্বংসাবশেষ, গান্ধার সভ্যতার টাকশিলা নগরীর ধ্বংসাবশেষ, লাহোর দুর্গ ও শালিমার উদ্যান, ঠাট্টা-এর প্রাচীন নগরীর স্থাপত্য এবং প্রাচীন রোহতাস দুর্গ।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তান বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির দেশ—সমতলভূমি থেকে মরুভূমি, বনভূমি, পাহাড় ও মালভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণে আরব সাগরের উপকূল থেকে উত্তরে কারাকোরাম পর্বতমালা পর্যন্ত এই বিস্তৃতি। দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষত গিলগিত-বালতিস্তানখাইবার-পাখতুনখোয়ার উত্তরাংশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে রয়েছে হিন্দুকুশ, কারাকোরাম ও হিমালয়ের অংশবিশেষ। এখানেই রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর মধ্যে কয়েকটি, যেমন কেটু (মাউন্ট গডউইন অস্টিন, উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার), যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত। পাকিস্তানে রয়েছে ৫টি ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ, অনেকগুলো ৭,০০০ মিটারের বেশি, এবং মেরু অঞ্চলের বাইরে সবচেয়ে বড় হিমবাহসমূহ। অর্ধেকেরও বেশি শৃঙ্গ ৪,৫০০ মিটারের ওপরে এবং পঞ্চাশটিরও বেশি শৃঙ্গ ৬,৫০০ মিটারের ওপরে। পাকিস্তান প্রশাসিত আজাদ কাশ্মীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ—বরফঢাকা পর্বত, বনভূমি, নদী, ঝরনা, উপত্যকা, সবুজ মালভূমি ও নানান জলবায়ুর সমন্বয়ে এটি এক অনন্য পর্যটনকেন্দ্র। খাইবার-পাখতুনখোয়া অভিযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে দুর্গম পর্বত, উপত্যকা, পাহাড়ি অঞ্চল ও উর্বর কৃষিজমি। পাকিস্তানে প্রায় ২৯টি জাতীয় উদ্যান রয়েছে।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আকর্ষণ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের জনপ্রিয় স্মৃতিস্তম্ভগুলো হলো:

  • পাকিস্তান মনুমেন্ট
  • মিনার-ই-পাকিস্তান
  • কায়েদ-এ-আজম রেসিডেন্সি
  • মুহাম্মদ ইকবালের সমাধি
  • মাজার-ই-কায়েদ

জাদুঘর ও শিল্পগ্যালারি

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, জীবনীভিত্তিক, ঐতিহ্য, সামরিক, প্রাকৃতিক ইতিহাস থেকে শুরু করে পরিবহনবিষয়ক জাদুঘর—প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই দর্শনীয় জাদুঘর আছে। সবচেয়ে বেশি জাদুঘর পাওয়া যায় বড় শহরগুলোতে, তবে লাহোর অনন্য, কারণ সেখানে রয়েছে লাহোর জাদুঘর। করাচিতেও রয়েছে বেশ কিছু ভালো জাদুঘর, যেমন পাকিস্তান জাতীয় জাদুঘর, পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যাংক জাদুঘর ও শিল্পগ্যালারি, ম্যাগনিফিসায়েন্স সেন্টার, পিএএফ জাদুঘর ও পাকিস্তান মেরিটাইম জাদুঘর। পরিবহন-সংক্রান্ত জাদুঘর দেখতে চাইলে ইসলামাবাদের পাকিস্তান রেলওয়ে হেরিটেজ মিউজিয়াম প্রধান আকর্ষণ।

যা করবেন

[সম্পাদনা]
উত্তর পাকিস্তানে জিপ ভ্রমণ

পাকিস্তান হাইকিং ও ট্রেকিংয়ের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্য। গিলগিত-বালতিস্তান পর্বতারোহী, ট্রেকার ও পর্যটকদের কাছে "পর্বতের স্বর্গরাজ্য" নামে পরিচিত। এখানে বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ পর্বত রয়েছে—৮,০০০ মিটারের ওপরে পাঁচটি, ৭,০০০ মিটারের ওপরে অসংখ্য, এবং মেরু অঞ্চল ছাড়া সবচেয়ে বড় হিমবাহ।

এখানে ঘোড়ায় চড়া খুব সস্তা। সাইক্লিংয়ের প্রচুর সুযোগও রয়েছে।

জলভিত্তিক বিনোদনের জন্য একমাত্র জায়গা করাচি—এখানে স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং, নৌকা ভ্রমণ, মাছ ধরা এমনকি ক্রুজ ডাইনিং-ও করা যায়।

এছাড়া বিভিন্ন বাজার ও হাটে কেনাকাটা করা যায়, বাজেট নিয়ে তেমন চিন্তা না করেই। একটি সমীক্ষায় করাচিকে বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

মুদ্রা

[সম্পাদনা]
পাকিস্তানি রুপি-এর বিনিময় হার

জুলাই ২০২৫-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ রুপি ২৮৫
  • €১ ≈ রুপি ৩৩০
  • ইউকে£১ ≈ রুপি ৩৮০
  • ভারতীয় ₹১০০ ≈ রুপি ৩৩০

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

পাকিস্তানের জাতীয় মুদ্রা হলো পাকিস্তানি রুপি, প্রতীক Rs (আইএসও কোড পিকেআর)। এক রুপি সমান ১০০ পয়সা। উদাহরণস্বরূপ, “৫ রুপি ৭৫ পয়সা” সাধারণত লেখা হয় রুপি “৫.৭৫”। সবসময় কিছু খুচরা নোট সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ দোকানি বা ড্রাইভার অনেক সময় খুচরা না থাকার অজুহাত দেন। ভালো কৌশল হলো ছোট নোট (রুপি ১০-১০০) মানিব্যাগে বা পকেটে রাখা, আর বড় নোট (রুপি ৫০০-৫,০০০) আলাদা রাখা। এতে সহজে বোঝা যাবে না আপনার কাছে কত মুদ্রা আছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ী দাবি করেন, তাদের কাছে রুপি ৫০০ বা ১,০০০ মুদ্রার খুচরা নেই। অনেক সময় এটা মিথ্যা হয়, যাতে তারা বড় নোট রাখতে না হয়। তাই সম্ভব হলে সঠিক খুচরা থাকলেই কেনাকাটা করা উত্তম।

রুপি হিসেবে ১, ২, ৫ ও ১০-এর মুদ্রা (কয়েন) পাওয়া যায়। এগুলো চা কেনা, ভিক্ষুককে দেওয়া বা বাসভাড়া/অটো-রিকশার ভাড়ার জন্য কাজে আসে। ব্যাংকনোট আছে রুপি ১০ (সবুজ), ২০ (কমলা-সবুজ), ৫০ (বেগুনি), ১০০ (লাল), ৫০০ (গাঢ় সবুজ), ১,০০০ (গাঢ় নীল), ও ৫,০০০ (সরিষা রঙে)। রুপি ৭৫ মুদ্রার নোটও আছে, তবে সেটি সাধারণত সংগ্রাহকের জিনিস হিসেবেই গণ্য করা হয়।

এটিএম বেশিরভাগ জায়গায় থাকলেও আন্তর্জাতিক কার্ড (আমেরিকান এক্সপ্রেস, মাস্টারকার্ড, ভিসা) সচরাচর গ্রহণ করে না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যতিক্রম, যা বিদেশি কার্ড সচরাচর গ্রহণ করে। (ডিসেম্বর ২০২২)

মুদ্রার পরিবর্তন

[সম্পাদনা]

ক্যাশে কেনাকাটা করতে চাইলে আগে বিদেশি মুদ্রা রুপিতে বদলে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আছে, পাসপোর্ট চাওয়ার নিয়ম থাকলেও তা অনেক সময় মানা হয় না। বড় শহরের প্রধান শপিং এলাকায় সহজেই মানি এক্সচেঞ্জ দোকান পাওয়া যায়। আপনি কত মুদ্রা বদলাতে চান সেটা বলুন এবং 'সর্বোত্তম রেট' চান, কারণ বোর্ডে দেখানো রেট অনেক সময় দর কষাকষির মাধ্যমে কমানো যায়, বিশেষত বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে।

বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, স্যুভেনির শপ এবং সব অভিজাত রেস্তোরাঁ ও হোটেলেই আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড (আমেরিকান এক্সপ্রেস, মাস্টারকার্ড, ভিসা) গ্রহণ করা হয়। তবে ছোট দোকান প্রায়শই তাদের ২-৩% চার্জ আপনাকে দিতে চাইবে। শহর ও বড় শহরতলির চেইন স্টোর এবং অনেক রেস্তোরাঁয় ক্রেডিট কার্ড চলে, কিন্তু ছোট ব্যবসায়ী ও পরিবার-চালিত দোকানে সাধারণত নেয় না। তাই হাতে কিছু নগদ মুদ্রা রাখা ভালো।

পাকিস্তানের বাইরে রুপি বদলের রেট সাধারণত খারাপ। তবে যেখানে বড় পাকিস্তানি জনসংখ্যা আছে (যেমন দুবাই), সেখানে ভালো রেট মেলে। দেশ ছাড়ার আগে বাড়তি রুপি খরচ করে ফেলা উত্তম।

বেশিরভাগ এটিএম থেকে একবারে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ রুপি তোলা যায়। পাকিস্তানের বড় ব্যাংক যেমন এইচবিএল, এমসিবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান ও ইউনাইটেড ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি এটিএম আছে এবং তারা বিদেশি কার্ডও গ্রহণ করে সামান্য ফি নিয়ে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক যেমন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডও বড় শহরে প্রচুর শাখা রয়েছে। কমপক্ষে দুটি আলাদা প্রদানকারীর ব্যাংক/ক্রেডিট কার্ড রাখা ভালো, যাতে একটি কার্ড বন্ধ হয়ে গেলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়।

পাকিস্তানিরা সাধারণত লাখ (১,০০,০০০) এবং কোটি (১,০০,০০,০০০) ব্যবহার করে। এগুলো সংস্কৃত থেকে এলেও পাকিস্তানি ইংরেজিতে এতটাই প্রচলিত যে অনেকেই জানেন না এগুলো আন্তর্জাতিক ইংরেজি নয়। সংখ্যায় কমা বসানোর ধরনও আলাদা। যেমন এক কোটি লেখা হয় ১,০০,০০,০০০। প্রথমে তিন অঙ্ক পরে, তারপর প্রতি দুই অঙ্ক পরে কমা বসে। শুরুতে এটি অচেনা লাগলেও লakh এবং কোটি হিসেবে ভাবলে সহজ মনে হবে।

ভারতীয় সংখ্যাসাধারণ সংখ্যাইংরেজি ফরম্যাটপাকিস্তানি ফরম্যাট
১০০১০০Hundred (হান্ড্রেড)সাও
১,০০০১০০০Thousand (থাউজেন্ড)হাজার
১,০০,০০০১০০,০০০Hundred Thousand (হান্ড্রেড থাউজেন্ড)এক লাখ
১০,০০,০০০১,০০০,০০০Million (মিলিয়ন)দশ লাখ
১,০০,০০,০০০১০,০০০,০০০Ten Million (টেন মিলিয়ন)এক কোটি

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]
ঐতিহ্যবাহী বাজার

পাকিস্তান, বিশেষত করাচি, দুনিয়ার অন্যতম সস্তা কেনাকাটার জায়গা হিসেবে পরিচিত। এখানে নানা ধরনের বাজারে বাজেটের মধ্যে প্রচুর জিনিস পাওয়া যায়:

  • বস্ত্র ও পোশাক যেমন জামা, বিছানার চাদর, শার্ট, টি-শার্ট খুব সস্তায় পাওয়া যায়। বিশ্বখ্যাত অনেক ব্র্যান্ড (অ্যাডিডাস, লেভিস, স্লাজেঞ্জার, হ্যাংটেন, ওয়ালমার্ট ইত্যাদি) তাদের কাপড় প্রস্তুত করে ফয়সালাবাদ-এ, যেখানে দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেক্সটাইল শিল্প রয়েছে। একটি লেভিস জিন্স (বা অন্য ব্র্যান্ড) কিনতে খরচ হবে আনুমানিক রুপি ১,৪০০-২,৫০০।
  • চামড়ার জিনিসপত্র যেমন জুতা, জ্যাকেট ও ব্যাগ পাকিস্তানের বিশেষত্ব। স্পুটনিক, শু প্ল্যানেট, সার্ভিস, মেট্রো, গ্যাপ শু, লোটাস, স্টেপ-ইন, জেবিস এ ধরনের দোকানে কম দামে ভালো মানের জুতা পাওয়া যায়।
  • খেলাধুলার সরঞ্জাম যেমন ক্রিকেট ব্যাট, বল, কিট, ফুটবল, স্পোর্টসওয়্যার প্রভৃতি। এত কম দামে এত ভালো মানের সরঞ্জাম অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। সিয়ালকোট বিশ্বের ৯০% খেলাধুলার সরঞ্জাম তৈরি করে এবং ফিফা বিশ্বকাপে সরবরাহ দেয়।
  • বাদ্যযন্ত্র পাকিস্তানে কম খরচে ভালো মানের বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয়। একটি অ্যাকুস্টিক গিটার পাওয়া যায় মাত্র রুপি ২,০০০-এ।
  • শল্যচিকিৎসা সরঞ্জাম
  • কম্পিউটার সামগ্রী
  • চীনা পণ্য বিশেষত ইলেকট্রনিকস ও ক্যামেরা, যা পাকিস্তান থেকে পুনঃরপ্তানি হয়ে সস্তায় পাওয়া যায়।
  • কার্পেট ও গালিচা পাকিস্তানে গালিচা তৈরির প্রাচীন ঐতিহ্য আছে এবং আজও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হয়।
  • কাঠের খোদাই যেমন সজ্জিত থালা, বাটি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।
  • গহনা যেমন হার, বালা ইত্যাদি পাকিস্তানে খুবই সস্তা।
  • রত্ন ও হস্তশিল্প: (সিন্ধুর আজরাক, মুলতানের নীল মাটির পাত্র, করাচির মৃৎশিল্প), কাঁচ, পিতল, মার্বেল সামগ্রী, ক্রিস্টাল ও প্রাচীন জিনিস, এছাড়া পাশমিনা, গালিচা, উলেন শাল ইত্যাদি, যেগুলোর দাম ১৫ মার্কিন ডলার থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। দামাদামি করতে ভুলবেন না।
  • বই পাকিস্তানের প্রতিটি বড় শহরে উর্দু বাজার রয়েছে।
  • স্মারক যেমন শামুক দিয়ে তৈরি সজ্জাসামগ্রী।
  • খাবারদাবার যেমন সোয়াতের মধু, বিস্কুট, দেশীয় চকলেট—ভালো মানের ও সস্তা। ডিমার্ট, মাকরো, মেট্রো, হাইপারস্টার ইত্যাদি দোকান থেকে কিনতে পারেন।
  • বাড়ির সামগ্রী
  • রান্নাঘরের জিনিসপত্রকাটলারি
  • শিল্পকলা প্রেমীরা স্থানীয় কাউকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরুন। করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদের আর্ট গ্যালারিগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন শিল্পকর্ম পাওয়া যায়। শিল্পপ্রেমীদের সবগুলোতেই যাওয়া উচিত।

বড় শহরে সাধারণত দোকান খোলা থাকে সকাল ০৯:০০ থেকে রাত ২৩:০০ পর্যন্ত। ছোট শহর ও গ্রামে আগে খুলে আগে বন্ধ হয়।

দরদাম

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে রাস্তার ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে দর কষাকষি করা প্রত্যাশিত, তবে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নয়। দরদাম না করলে অনেক সময় আপনি বেশি দামে কিনে ফেলবেন। তবে বিদেশের তুলনায় তবু তা সস্তা মনে হতে পারে। বড় শহরগুলোতে পশ্চিমা ধাঁচের খুচরা চেইন স্টোর গড়ে উঠছে, যেখানে দাম কিছুটা বেশি হলেও নকল জিনিস কেনার ভয় থাকে না। যত বেশি দর করবেন, তত বেশি সাশ্রয় হবে। কয়েকবার পর বুঝবেন, দরদাম করাও মজার।

কোনো দোকানে বেশি সময় কাটালে ভালো দাম পাওয়া যায়। দোকানির সঙ্গে পরিচিত হলে ও নানা প্রশ্ন করলে, তিনি যখন মনে করবেন যথেষ্ট মুনাফা পাচ্ছেন, তখন আপনাকে আসল দামের কাছাকাছি জিনিস দেবেন, ‘বিদেশি দাম’ নয়। এক দোকান থেকে অনেক কিছু কিনলে ভালো দাম পাওয়া যায়, আলাদা আলাদা দোকানে দরাদরি করার চেয়ে। যদি দেখেন স্থানীয়রা কোনো দোকান থেকে কিনছে, তবে হয়তো আসল পাকিস্তানি দামই পাওয়া যাচ্ছে। চুপচাপ কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, “এটার জন্য আপনি কত মুদ্রা দেবেন?”

পাকিস্তান সাধারণত ভ্রমণকারীদের কাছে সস্তা মনে হয়, যদিও আফগানিস্তানের তুলনায় বেশি দামি। করাচি সাধারণত দেশের বাকি অংশের চেয়ে ব্যয়বহুল। তবে অপরদিকে, বিলাসবহুল হোটেল ও বিমানভাড়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। পাঁচ তারকা হোটেলের সবচেয়ে অভিজাত কক্ষও এক রাতের ভাড়া রুপি ২০,০০০-এর নিচে।

বখশিশ পাকিস্তানে ভালো অভ্যাস হিসেবে গণ্য হয়। হোটেল কর্মচারী, ট্যাক্সি চালক, ডেলিভারি কর্মী—ভালো সেবা দিলে তারা ছোটখাটো টিপস পেলে খুশি হয়।

খাবার

[সম্পাদনা]
চাপলি কাবাব পাকিস্তানের জনপ্রিয় বারবিকিউ খাবারগুলির একটি
চিকেন টিক্কা একটি জনপ্রিয় পদ
আরও দেখুন: মধ্যপ্রাচ্যের রান্না, দক্ষিণ এশীয় রান্না

পাকিস্তানি রান্না দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন আঞ্চলিক রান্নার এক সুন্দর মিশ্রণ। এদেশের খাবার সুগন্ধি, কখনও ঝাল, এবং তেল বেশি ব্যবহার করার কারণে স্বাদে ভারী হয়। পাকিস্তানি খাবারের মধ্যে মুঘল, আফগান, মধ্য এশীয় ও পারসিক প্রভাব রয়েছে। অনেক দেশে ভারতীয় ও পাকিস্তানি খাবার একসঙ্গে পরিবেশন করা হয়, তাই হয়তো আগে থেকেই এটির স্বাদ চেনা থাকতে পারে। পাকিস্তানের ভেতরেও অঞ্চলভেদে খাবারের স্বাদ ও ধরণ আলাদা। পশ্চিমা দেশগুলোতে যেসব পাকিস্তানি বা ভারতীয় রেস্তোরাঁ থাকে, তাদের বেশিরভাগ খাবার মুঘলাই ও পাঞ্জাবি রান্না থেকে অনুপ্রাণিত, যদিও সেগুলো কতটা আসল তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

দেশের পূর্ব দিকের পাঞ্জাব ও সিন্ধ প্রদেশের খাবার উত্তর ভারতের মতো, যা সাধারণত ঝাল ও নিরামিষ পদ অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যদিকে বেলুচিস্তান, আজাদ কাশ্মীর, গিলগিত-বালতিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়াসহ পার্বত্য অঞ্চলের খাবারে মাংস, তেল ও হালকা মসলা বেশি ব্যবহৃত হয়—যা আফগানিস্তান, ইরান ও মধ্য এশিয়ার প্রভাব বহন করে। মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী পাকিস্তানে শূকরের মাংস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রধান খাবারের মধ্যে থাকে তরকারি, যা সাধারণত রুটি বা ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়। সালাদকে এখানে মুখরোচক হিসেবে নয়, বরং মূল খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। খাবারের শেষে থাকে তাজা ফল বা মিষ্টান্ন। মাংস পাকিস্তানি রান্নায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। ছাগল, গরু ও মুরগি বিশেষ জনপ্রিয়—বিশেষ করে কাবাব বা নিহারির মতো খাবারে। সাগরপাড়ি দেশ হলেও এখানে সামুদ্রিক খাবার তেমন জনপ্রিয় নয়। খাবারের ঝালের মাত্রা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। তাই খাওয়ার আগে আপনার পছন্দ জানিয়ে দেওয়াই ভালো।

পাকিস্তানি খাবার ঝাল হিসেবে খ্যাত। প্রচুর মরিচ ও মসলা ব্যবহারের কারণে নতুনদের চোখে পানি আসতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের খাবার তুলনামূলকভাবে মৃদু। স্থানীয় খাবার উপভোগ করতে চাইলে ধীরে ধীরে শুরু করা উচিত। কয়েক সপ্তাহ পর ঝাল খাওয়ার অভ্যাস হয়ে যাবে। চাইলে কম ঝালের অনুরোধ করতে পারেন। বেশিরভাগ ভ্রমণকারীই ঝাল খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে তা পছন্দ করেন।

স্থানীয় খাবার উপভোগ করতে হলে ধীরে শুরু করুন। একসাথে সবকিছু চেষ্টা করবেন না। কয়েক সপ্তাহ পর আপনি ঝাল খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। যদি ঝাল ছাড়া কোনো পদ অর্ডার করতে চান, তবে সরাসরি তা বলে দিন। বেশিরভাগ ভ্রমণকারী অন্তত কিছু ঝাল খাবার চেখে দেখতে আগ্রহী হন এবং শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগই আবিষ্কার করেন যে এই ঝালের কষ্ট নেওয়া আসলেই সার্থক।


রান্নার ধরণ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের রান্নায় আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ব্যাপক। গ্রাম ও শহরে স্থানীয় স্বাদ ও উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ তৈরি হয়। মূল খাবারের মধ্যে থাকে শাকসবজি বা ডাল দিয়ে রান্না করা তরকারি (সালান) এবং মাংসের নানা পদ। জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে কারাহি, বিরিয়ানি, টিক্কা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেগুলো সাধারণত নান, চাপাটি বা রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়।

মুঘল সম্রাটদের রাজকীয় রান্নাঘর থেকে আসা মুঘলাই রান্না পাকিস্তানি খাবারের বড় অংশ। উত্তর ভারতের রান্নার সঙ্গে মিল থাকলেও পাকিস্তানে মাংস বেশি ব্যবহৃত হয় এবং ঘি-এর পরিবর্তে তেল বেশি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ রান্নায় প্রচুর মসলা, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ ও গরম মসলা ব্যবহার হয়। চাপাটি ও ভাত প্রধান খাবার। ভাত কখনও সাদা, কখনও মসলা দিয়ে ভাজা, আবার মিষ্টান্নেও ব্যবহৃত হয়।

রুটির বিভিন্ন ধরন

[সম্পাদনা]

পাকিস্তান গম উৎপাদনকারী দেশ, তাই এখানে প্রচুর ধরনের রুটি পাওয়া যায়, যেগুলোকে সাধারণভাবে ‘রুটি’ বলা হয়। এর মধ্যে আছে চাপাটি (গমের আটা দিয়ে বানানো খামিরবিহীন রুটি), পরোটা (তেল-ঘি দিয়ে ভাজা স্তরযুক্ত রুটি), নান (মাটির তন্দুরে সেঁকা), পুরি (ডিপ ফ্রাই করা ফোলা রুটি) এবং আরও অনেক কিছু। একটি সাধারণ খাবারে এক বা একাধিক ঝোল থাকে, যা রুটির টুকরো ছিঁড়ে নিয়ে সেই ঝোলে ডুবিয়ে খাওয়া হয়। পাকিস্তানের মধ্যভাগের মানুষজন সাধারণত নান, রুটি, ভাত এবং ডাল খেয়ে থাকেন, যা নানা পদ্ধতিতে রান্না করা হয় এবং সাধারণত ঝাল হয়। পাশাপাশি সাধারণত পরিবেশন করা হয় মসলা মেশানো দই (রায়তা), টাটকা চাটনি বা অতিরিক্ত ঝাঁঝালো আচার—যা অনেক বিদেশি ভ্রমণকারীর কাছে আলাদা স্বাদের অভিজ্ঞতা। আচার সাধারণত ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়, একা খাওয়া হয় না।

পাকিস্তানিরা গমের আটা দিয়ে তৈরি রুটি প্রতিদিনের প্রধান খাদ্য হিসেবে খায়। এখানে নানা ধরনের রুটি তন্দুরে তৈরি হয়। তন্দুরি রান্না পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চল উভয় স্থানেই প্রচলিত এবং প্রতিবেশী ইরান ও আফগানিস্তানের প্রভাব রয়েছে এ প্রথায়।

করাচিতে তন্দুরে বানানো পেশাওয়ারি নান

ফ্ল্যাটব্রেড বা চাপা রুটির ধরনগুলো (সমষ্টিগতভাবে নান বলা হয়) হলো:

  • নান — নরম ও পুরু রুটি, যা সাধারণত মাটির তন্দুরে তৈরি হয় এবং ঘরে চুলায় বানানো কঠিন। সাধারণত খামির দিয়ে ফুলানো হয় এবং সাদা আটা দিয়ে বানানো হয়। কিছু ভিন্ন ধরনের নানের (যেমন রোহানী, পেশাওয়ারি) ওপরে তিল ছিটানো হয়। নান সাধারণত ঘরে তৈরি হয় না। বিভিন্ন ধরনের নান, ভর্তা দেওয়া বা সাধারণ, পাকিস্তানের সর্বত্র পাওয়া যায় এবং প্রায় প্রতিটি শহরের নিজস্ব বিশেষত্ব থাকে। নান খুবই বহুমুখী রুটি, যেকোনো খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ‘সাধা নান’ অনেক অঞ্চলে সকালের নাশতায় শ্রী-পায়া বা নিহারির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
  • রুটি — পাকিস্তানের সর্বত্রই অত্যন্ত জনপ্রিয়। তন্দুরে বানানো রুটি যেকোনো খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার নিজেদের তন্দুর ব্যবহার করে, যাদের তন্দুর নেই তারা যৌথ তন্দুর ব্যবহার করে। শহরে ‘‘নানবাই’’ বা ‘‘তন্দুর’’ দোকান প্রচুর আছে, যেখানে থেকে পরিবারের জন্য তাজা রুটি সরবরাহ করা হয়। ঘরে বানানো রুটি নানের মতো সুস্বাদু না হলেও সস্তা ও সহজলভ্য।
  • চাপাটি — ঘরে বানানো রুটি, নানের তুলনায় অনেক পাতলা এবং সাধারণত অপরিশোধিত আটা দিয়ে বানানো হয়। শহুরে ঘরোয়া রান্নায় সবচেয়ে প্রচলিত রুটি। এগুলো ‘তাওয়া’ নামক লোহার পাতে সেঁকা হয়। চাপাটি হলো গমের আটা দিয়ে বানানো পাতলা, খামিরবিহীন রুটি। টরটিলা চাপাটির কাছাকাছি হলেও চাপাটি তুলনামূলকভাবে মোটা। ‘‘রুমালি রুটি’’ হলো এক প্রকার ভিন্নতা, যা খুব বড় এবং পাতলা হয়।
  • পরোটা — রুটির অত্যন্ত তৈলাক্ত রূপ। সাধারণত বাইরে খাওয়ার জন্য সুস্বাদু হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে, কারণ এটি প্রায়ই তেলে ভেজা থাকে। খাঁটি ঘি দিয়ে তৈরি পরোটা সবচেয়ে সুস্বাদু হয়। এটি স্তরযুক্ত রুটি, সাধারণত তাওয়ায় তৈরি হয়, যদিও গ্রামাঞ্চলে তন্দুরে বানানো পরোটাও প্রচলিত। এর আটা পেস্ট্রির ময়ানের মতো হয়। পরোটা সম্ভবত পাঞ্জাব থেকে উদ্ভূত, যেখানে কৃষকরা সকালের নাশতায় পরোটা, টাটকা মাখন ও মাটির দই খেতেন। বর্তমানে পরোটা পুরো পাকিস্তানে সকালের খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। সাধারণ স্তরযুক্ত পরোটার পাশাপাশি আলু পরোটা, মুলা পরোটা এবং কিমা পরোটা ইত্যাদিও বেশ প্রচলিত।
  • শিরমাল — হালকা মিষ্টি, হালকা তেল মাখানো রুটি, যার গায়ে চৌকো আকৃতি ফুটিয়ে দেওয়া হয়। এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ও মূল্যবান। সাধারণত নিহারির সঙ্গে খাওয়া হয়। শিরমালের একটি সংস্করণে শুকনো ফল ও ক্যান্ডি দেওয়া হয়, যা উৎসবমুখর খাবার হিসেবে বিবাহ অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। এটি শিশুদের কাছে বিশেষ প্রিয়।
  • তাফতান — শিরমালের মতো তবে এর চারপাশ ফুলে ওঠা থাকে। এটি একটি খামির ওঠানো রুটি, যাতে জাফরান ও এলাচের গুঁড়ো মেশানো হয় এবং তন্দুরে সেঁকা হয়। পাকিস্তানে বানানো তাফতান ইরানের তুলনায় বেশি মিষ্টি ও সমৃদ্ধ।
  • কুলচা — নানের এক প্রকার, যা সাধারণত ছোলা ও আলুর সঙ্গে খাওয়া হয় এবং পাঞ্জাবের শহরাঞ্চলে জনপ্রিয়।
  • রোহানী নান — (আক্ষরিক অর্থে ‘‘মাখন নান’’) এটি একটি জনপ্রিয় নান, যার ওপরে তিল ছিটানো হয় এবং সামান্য তেল দিয়ে সেঁকা হয়।
  • পুরি — সকালের খাবারের একটি রুটি, যা সাদা আটা দিয়ে তৈরি হয় এবং তেলে ভাজা হয়। সাধারণত সুজি হালুয়া এবং/অথবা ছোলা-আলুর তরকারির সঙ্গে খাওয়া হয়। এটি মূলত শহুরে ধারণা, গ্রামীণ পাকিস্তানে পুরি প্রচলিত নয়। তবে ‘‘হালুয়া-পুরি’’ এখন শহুরে পাকিস্তানে সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিনের জনপ্রিয় নাশতা, যা কখনও ঠেলাগাড়িতে বা বিশেষ দোকানে বিক্রি হয়।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, ‘‘নান’’ সাধারণত ঝোল বা নরম তরকারি যেমন শোরবা ও ডাল খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানে খাওয়ার সময় কাঁটা-চামচ সাধারণত ব্যবহৃত হয় না (ভাত খাওয়া বা বাইরে খাওয়ার ব্যতিক্রম ছাড়া)। নান ছুরি দিয়ে কাটতে গেলে আশেপাশের মানুষ মজা পেতে পারে।

শোরবা বা ঝোলের নানা ধরন রয়েছে, যেগুলো গণনা করাও কঠিন।


নিরামিষ পদ

[সম্পাদনা]

জনপ্রিয় ও প্রচলিত নিরামিষ পদগুলো হলো:

  • ডাল – হলুদ (হলুদ/লাল মসুর দিয়ে তৈরি) অথবা বাদামি (হালকা টক) মসুরের তরকারি। সাধারণত কম মশলা দিয়ে রান্না হয়। সব শ্রেণির মানুষের কাছে প্রচলিত।
  • এক্স + কি সবজি – এখানে ‘এক্স’ মূল উপাদান ধরে তৈরি নিরামিষ তরকারি।

অন্যান্য নিরামিষ পদ হলো আলু গোবি, বেগুন, করলা, ভিন্ডি এবং শাক।

ডাল/ডালজাতীয় পদ

[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধরনের ডাল বা শিমজাতীয় খাদ্য পাকিস্তানি খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাল (যাকে ডাল বলা হয়) ও ছোলা (চানা) ঘরোয়া রান্নায় জনপ্রিয় হলেও ঐতিহ্যগতভাবে সেগুলোকে সস্তা খাদ্য হিসেবে ধরা হয়। এই কারণে বিশেষ অতিথি আপ্যায়নে বা উৎসবে সাধারণত পরিবেশন করা হয় না। তবে পাকিস্তানি রান্নার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ডাল বা শিমের সঙ্গে মাংস মেশানো, যা ভারতীয় রান্নায় তেমন দেখা যায় না, কারণ ভারতের বড় অংশের মানুষ নিরামিষভোজী।

  • হালিম – ছোট ছোট মাংস বা মুরগির টুকরো, ডাল এবং গম দিয়ে রান্না করা ঘন স্ট্যু জাতীয় খাবার।

ভাতের পদ

[সম্পাদনা]
সিন্ধি বিরিয়ানি: করাচির সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ

পাকিস্তানে ভাত একটি প্রধান খাদ্য। বাসমতি ভাত সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ভাতের পদ সারা দেশে জনপ্রিয়। অনেক সময় ভাত অন্যান্য পদ মিশিয়ে খাওয়া হয়। সবচেয়ে সহজ ভাতের পদ হলো সাদা ভাত (চাওল), যা ডালের সঙ্গে খাওয়া হয়। খিচুড়ি হলো ডাল দিয়ে রান্না করা ভাত। কারি-চাওল হলো সাদা ভাতের সঙ্গে কারি খাওয়া।

বিরিয়ানি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। এটি গরু, খাসি, মুরগি, মাছ বা চিংড়ি দিয়ে রান্না করা হয়। বিরিয়ানির অনেক রকমভেদ আছে যেমন লাহোরি ও সিন্ধি বিরিয়ানি। তাহিরি হলো নিরামিষ বিরিয়ানির একটি ধরন, যা সমানভাবে জনপ্রিয়। ভাত ছাড়া প্রায় সব প্রধান খাবার রুটি দিয়ে খাওয়া হয়। খাওয়ার সময় ডান হাতে রুটির ছোট টুকরো ছিঁড়ে নিয়ে প্রধান খাবার তুলে খাওয়া হয়। আম, গাজর, লেবু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আচারও খাওয়ার স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। বিরিয়ানির সৌরভ আসে জাফরান ও অন্যান্য মশলা থেকে। খাইবার-পাখতুনখোয়ায় অতিথি আপ্যায়নে মশলাদার ভাতের সঙ্গে ধীরে ভাজা খাসির মাংস পরিবেশন করা হয়। এই ধরনের পোলাওতে শুকনো ফল, বাদাম ও আস্ত মশলা যেমন লবঙ্গ, জাফরান, এলাচ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারের মূল উৎস মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য।

ভাতের তৈরি খাবারের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের পোলাও:

  • মুর্গ পোলাও – মুরগি ও মাংসের ঝোল মিশিয়ে রান্না, ফলে ভাত বাদামি হয়।
  • ইখনি পোলাও – মাংস ও ঝোল মিশিয়ে রান্না করা ভাত।
  • মটর পোলাও – মটর দিয়ে তৈরি পোলাও।
  • মাশ পোলাও – মুগডাল, খেজুর, গম ও এপ্রিকট দিয়ে তৈরি হালকা টক-মিষ্টি নিরামিষ পোলাও।
  • খিচুড়ি
  • জর্দা
  • বিরিয়ানি (সবচেয়ে জনপ্রিয়)

মাংসের পদ

[সম্পাদনা]
সিখ কাবাব

পাকিস্তানি রান্নায় মাংসের ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রান্নার তুলনায় অনেক বেশি। গরু, খাসি, মুরগি ও সামুদ্রিক মাছ প্রায় সব রান্নায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণত মাংস ৩ সেমি আকারের টুকরো করে তরকারি হিসেবে রান্না হয়। কিমা মাংস ব্যবহার করা হয় কাবাব, কিমা ও অন্যান্য পদে। সবচেয়ে জনপ্রিয় মাংস হলো খাসি, গরু ও মুরগি। কাবাব ও নিহারির মতো পদে এগুলো বিশেষভাবে পছন্দের। ডাল, শিমজাতীয় খাবার ও ভাতের সঙ্গেও মাংস রান্না হয়।

তন্দুরি চিকেন পাকিস্তানি পাঞ্জাবে উদ্ভূত একটি জনপ্রিয় পদ, যা মাটির ওভেনে (তন্দুর) রান্না হয়।

কিছু জনপ্রিয় মাংসের পদ হলো:

  • ভাজা মুরগি (চরগা) – পুরো মুরগি ভেজে তৈরি।
  • আলু গোশ্ত – আলু ও খাসির মাংস দিয়ে তৈরি ঝোল।
  • নিহারি – গরু বা খাসির মাংস কয়েক ঘণ্টা ধরে রান্না করা হয়। সাধারণত নান, শীরমাল বা তাফতান রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়। এটি খুবই ঝাল ও তেল-ঝাল মশলা যুক্ত একটি তরকারি।
  • পায়া (সিরি পায়া) – গরু বা খাসির পা, মাথা ও অস্থিমজ্জা দিয়ে তৈরি ঝোল। সাধারণত নাস্তার সময় নানের সঙ্গে খাওয়া হয়।
  • কোরমা – মুরগি বা খাসি দিয়ে তৈরি মুঘলাই উৎসের একটি পদ, সাধারণত নান বা রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়।

বারবিকিউ ও কাবাব

[সম্পাদনা]

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাকিস্তানে মাংস ও গ্রিল করা মাংস রান্নার প্রচলন আছে। বেলুচিস্তানের সাজ্জি নামক পদ ভুনা খাসি দিয়ে তৈরি হয়, যা পরে সারা দেশে জনপ্রিয় হয়েছে। এছাড়া বড় আগুনে আস্ত মুরগি ধীরে ভেজে খাওয়ারও প্রচলন আছে। কাবাব পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান খাবার। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের কাবাব তৈরি হয়। যেমন পেশোয়ারের চাপলি কাবাব, সিন্ধি অঞ্চলের মশলাদার কাবাব, করাচির বিহারি কাবাব ইত্যাদি। সাধারণত লবণ ও ধনে দিয়ে আফগানি কাবাব বানানো হয়, আবার লাহোর, গুজরানওয়ালা ও সিয়ালকোটে মশলাদার কাবাব বেশি জনপ্রিয়।

কিছু জনপ্রিয় কাবাবের ধরন:

  • চিকেন টিক্কা – মশলাদার গ্রিল করা মুরগি।
  • সিখ কাবাব – মশলা মিশিয়ে লম্বা শিকে গাঁথা কিমা গরুর মাংস।
  • শামী কাবাব – মসুর ডাল ও কিমা দিয়ে বানানো নরম গোল কাবাব।
  • চাপলি কাবাব – পেশোয়ারের বিখ্যাত ঝাল গোল কাবাব।
  • চিকেন কাবাব – হাড়সহ বা হাড়ছাড়া মুরগির কাবাব।
  • ল্যাম্ব কাবাব – খাসির মাংসের টুকরো দিয়ে বানানো।
  • বিহারি কাবাব – বিহারি স্টাইলে মশলাদার গরুর কাবাব।
  • টিক্কা কাবাব – দই ও মশলায় মেরিনেট করে শিকে গাঁথা কাবাব।
  • বুটি কাবাব – নরম মাংসের টুকরো দিয়ে বানানো কাবাব, অনেক সময় কাঁচা পেঁপে দিয়ে নরম করা হয়।
  • শাওয়ারমা – নানরুটির সঙ্গে মাংসের কাবাব, চাটনি ও সালাদ পরিবেশন।
  • শাশলিক – মেরিনেট করা খাসির মাংসের টুকরো গ্রিল করা।
  • বেলুচি সাজ্জি – কয়লার আগুনে ভাজা খাসির আস্ত মাংস।

অন্যান্য কাবাব হলো চরগা, ধাগা কাবাব, গোला কাবাব, রেশমি কাবাব ও সাজ্জি।

মিষ্টান্ন

[সম্পাদনা]
ফালুদা

জনপ্রিয় মিষ্টান্নগুলোর মধ্যে আছে পেশোয়ারি আইসক্রিম, শির খুরমা, কুলফি, ফালুদা, খীর, রসমালাই, ফিরনি, জর্দা, শাহী টুকড়া ও রাবড়ি। এছাড়া গুলাব জামুন, বরফি, কালাকন্দ, জিলাপি, পাঞ্জিরি খুবই জনপ্রিয়। পাকিস্তানের মিষ্টির তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের হালুয়া যেমন মালতানি, সোহান হালুয়া ও হাবশি হালুয়া।

ঈদুল ফিতরে ভাতের বদলে ভাজা সেমাই দিয়ে তৈরি খির বেশ জনপ্রিয়। গাজরিলা হলো কুচানো গাজর দিয়ে তৈরি এক ধরনের মিষ্টি খাবার, যা দুধ, চিনি, সবুজ এলাচ দিয়ে রান্না করা হয় এবং উপরে বাদাম ও শুকনো ফল দিয়ে সাজানো হয়। এটি শীতকালে পাকিস্তানে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

  • আইসক্রিমের নানা স্বাদ পাওয়া যায়, যেমন কুলফি।
  • ফালুদা হলো গোলাপজল, সেমাই, কুলফি, পেস্তা বাদাম মিশিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পানীয়।
  • মিষ্টি (শিরিনি/মিঠাই) পাকিস্তানের সব জায়গায় সমানভাবে জনপ্রিয়। বড় টুকরো না খেয়ে ছোট ছোট করে খাওয়া ভদ্রতার নিদর্শন।
  • কুলফি হলো দুধ, ক্রিম ও বাদাম দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিম।
  • করাচির চামান আইসক্রিম পার্লার খুবই বিখ্যাত।
  • হালুয়া বিভিন্নভাবে তৈরি হয় – ডিম, গাজর, আটা বা শুকনো ফল দিয়ে। গাজরের হালুয়া (গাজর কা হালওয়া) বেশ জনপ্রিয়।
  • ফিরনি বা খীর অনেকটা কাস্টার্ডের মতো তবে ভিন্নভাবে রান্না হয়।
  • গুলাব জামুন – ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টি, সাধারণত ঈদ, বিয়ে ও আনন্দঘন মুহূর্তে খাওয়া হয়।

পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে স্থানীয় রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন যেমন কেএফসি, পিজা হাট, ম্যাকডোনাল্ডস, সাবওয়ে, ন্যান্ডোস, পাপা জনস, ডোমিনোজ ইত্যাদি রয়েছে। ইউরোপীয় চেইন উত্তর আমেরিকানদের চেয়ে বেশি প্রচলিত।

স্ন্যাকস (পাকিস্তানি ফাস্ট ফুড)

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানি স্ন্যাকস বলতে পাকিস্তানের এমন কিছু খাবারকে বোঝায় যা দ্রুত প্রস্তুত করা যায়, মশলাদার, সাধারণত ভাজা হয় এবং সকাল বা বিকেলে চা-র সঙ্গে কিংবা প্রধান খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়। কোনো কোনো স্ন্যাকস স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ, তাই এর প্রস্তুত প্রণালী ও জনপ্রিয়তা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। এসব স্ন্যাকস সাধারণত ফুটপাত, বাজার, রেলস্টেশন এবং এ ধরনের জায়গায় ফেরিওয়ালারা বিক্রি করেন, তবে রেস্তোরাঁতেও পরিবেশিত হয়। জনপ্রিয় কিছু স্ন্যাকস হলো দই ভালা, চাট, চানা মসালা, বন কাবাব, পকোড়া এবং পাপড়। আরও রয়েছে কচুরি, নানান রকম পকোড়া (নিম পকোড়া বা বেসন পকোড়া), গোলগাপ্পে, সামোসা (সবজি বা গরুর কিমার), भेलपुरी, ডাল সিউ এবং এগ রোল। পেস্তা, চিলগোজার মতো বাদামও ঘরে খাওয়া হয়। এসব খাবার সাধারণ খাবারের তুলনায় ছোট এবং সাধারণত খাবারের ফাঁকে খাওয়া হয়।

অন্যান্য

[সম্পাদনা]
  • পাকিস্তানি চাইনিজ খাবার
    • চিকেন মাঞ্চুরিয়ান সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে ভাজা মুরগির টুকরো কেচাপ-ভিত্তিক লাল সসে দেওয়া হয়। সাধারণত এটি ডিম ভাজা ভাত বা চিকেন ভাজা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বাসমতি চালই বেশি ব্যবহৃত হয়।
    • চাইনিজ স্যুপ—চিকেন কর্ন স্যুপ এবং হট অ্যান্ড সাওয়ার স্যুপ ঘরে, রেস্তোরাঁয় এবং টেলিভিশনে সর্বত্র প্রচলিত। এগুলির সঙ্গে ভিনেগার (সিরকা) ও মরিচ পরিবেশন করা হয়।
    • নুডলস—চিকেন চাউমিন ও চপসুই জনপ্রিয়। রান্নার সময় প্রচুর সয়া সস, আজিনোমোটো, ভিনেগার ও মরিচের সস ব্যবহার করা হয়, সঙ্গে থাকে সবজি, হাড়ছাড়া মুরগি বা কিমা। তেলে ভাজার মাত্রা চীনা নুডলসের তুলনায় বেশি।

পাকিস্তানি আচার-চাটনি

[সম্পাদনা]
বিভিন্ন রকমের চাটনি

পাকিস্তানি খাবারে ব্যবহৃত জনপ্রিয় আচার-চাটনি:

  • চাটনি
    • পেঁয়াজ চাটনি
    • টমেটো চাটনি
    • ধনেপাতা চাটনি
    • পুদিনা চাটনি
    • তেঁতুল চাটনি (ইমলি চাটনি)
    • কাঁচা আমের চাটনি
    • কাঁচা লেবুর চাটনি
    • রসুন, নারকেল ও বাদাম দিয়ে বানানো রসুন চাটনি
  • আচার
    • আমের আচার
    • লেবুর আচার
    • গাজরের আচার
    • ফুলকপির আচার
    • কাঁচামরিচের আচার
    • রসুনের আচার
    • গোঙ্গুরা আচার
    • হায়দরাবাদি আচার
শসা ও পুদিনা দিয়ে বানানো রায়তা
  • সস
    • রায়তা – শসা ও দইয়ের ডিপ

খাওয়ার নিয়ম

[সম্পাদনা]
টিপস

পাকিস্তানে টিপস প্রায় সর্বত্রই প্রত্যাশিত—বিশেষ করে রেস্তোরাঁয়। বসে খাওয়ার রেস্তোরাঁয় সাধারণত ৫–১০% টিপস দিন।

পাকিস্তানে হাতে (কাঁটা–চামচের বদলে) খাওয়া খুব সাধারণ। বিশেষত শহরের বাইরে একটি মূল নিয়ম মানুন—শুধু ডান হাতে খান। অবশ্যই খাওয়ার আগে–পরে হাত ধুয়ে নিন।

সব ধরনের রুটির ক্ষেত্রে কৌশল এক—তর্জনী দিয়ে রুটি চেপে ধরে মধ্যমা ও বুড়ো আঙুল দিয়ে টুকরো ছিঁড়ুন। টুকরোটা ঝোলে ডুবিয়ে বা খাবারের সঙ্গে তুলে মুখে দিন। ভারতে যেমন ভাত হাতে খাওয়া বেশি, পাকিস্তানে ভাত খেতে চামচও বেশ চল—বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে বা ভাতের পদে।

পানীয়

[সম্পাদনা]

নলকূপের পানি পান করার জন্য নিরাপদ নয়। তবে কিছু স্থানে পানি পরিশোধক বসানো থাকে, যা পানি নিরাপদ করে। সবসময় বোতলজাত পানি চাইতে হবে এবং বোতলের ঢাকনার সিল অক্ষত আছে কিনা দেখতে হবে। অনেক অসাধু বিক্রেতা পুরোনো বোতল ব্যবহার করে তাতে নলকূপের পানি ভরে বিক্রি করে। একুয়াফিনা (পেপসিকো) ও নেসলে’র মতো বোতলজাত পানির ব্র্যান্ড সহজলভ্য, ১.৫ লিটার বোতলের দাম প্রায় রুপি ৮০। সুযোগ থাকলে বোতলজাত পানি পান করাই শ্রেয়, আর বরফ দেওয়া খাবার/পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। অর্ধনগর বা গ্রামীণ এলাকায় সেদ্ধ করা পানি চাইতে পারেন।

স্থানীয় লিমকা কোলা চেষ্টা করতে পারেন, বোতল খোলার সময় ‘‘পপ’’ শব্দ হয়। পাকিস্তানের নিজস্ব সফট ড্রিংক ব্র্যান্ড পাকোলা নানা স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। লসসি অবশ্যই খেতে হবে, এটি দই থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পানীয়, যা কখনো সোজা, কখনো মিষ্টি, কখনো ফল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। রুহ-আফজা একটি লালচে, মিষ্টি, ভেষজ পানীয়। আখের রস চাপ দিয়ে বের করা হয় এবং টাটকা খাওয়াই উত্তম। ফালুদাগোলা গাণ্ডাও জনপ্রিয়, যেখানে বরফকুচির সঙ্গে নানা সিরাপ মেশানো হয়।

লসসি তৈরি হচ্ছে
  • চা (স্থানীয়ভাবে চাই নামে পরিচিত) পুরো পাকিস্তানেই জনপ্রিয়।
    • লাল চা ও সবুজ চা (সবজ চাই বা কাওয়া) সাধারণ এবং এতে এলাচ ও প্রচুর চিনি দেওয়া হয়। সবুজ চায়ের সঙ্গে লেবু দিলে স্বাদ আরও বাড়ে।
    • কাশ্মীরি চা (পিঙ্ক টি) হলো দুধ-চা, যেখানে পেস্তা, বাদাম ও অন্যান্য বাদাম দেওয়া হয়। এটি বিয়ে, বিশেষ অনুষ্ঠান ও শীতে জনপ্রিয়।
  • কফিও সব শহরে সহজলভ্য।

দক্ষিণ পাকিস্তানের গরম অঞ্চলে মিষ্টি পানীয় দিনভর পাওয়া যায়। ফল ঝুলানো ফেরিওয়ালাদের খুঁজুন। অনেক দোকানে দুধ/দইয়ের লসসি পাওয়া যায়। ‘‘মিঠি লসসি’’ চাইলে মিষ্টি স্বাদের দই পানীয় পাবেন। ‘‘নোনতা লসসি’’ও পাওয়া যায়, যা আরবীয় ‘‘লাবান’’-এর মতো। এছাড়া ‘‘আমের লসসি’’ খুবই ঘন ও মিষ্টি, এতে দই, আমের পাল্প ও টুকরো মেশানো হয়।

মদ্যপান সাধারণভাবে অপছন্দনীয়। মুসলমানদের পাকিস্তানে মদ কেনা, রাখা ও পান নিষিদ্ধ।

অ-মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোকান বা বিলাসবহুল হোটেলের বারে দেশি-বিদেশি মদ পাওয়া যায়। দেশে বড় কালোবাজারও আছে, যেখানে পুলিশ সাধারণত চোখ বুজে থাকে। তবে এর ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।

মুরি ব্রুয়ারি পাকিস্তানের একমাত্র নামকরা দেশীয় মদ প্রস্তুতকারী, যারা বিয়ার তৈরি করে। ব্র্যান্ডটি সারাদেশে সহজলভ্য। তারা অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়ও তৈরি করে।

করাচিতে মদ কেনার ব্যাপারে শিথিলতা বেশি, সেখানকার ওয়াইন শপে সব ধরনের মদ পাওয়া যায়। সিন্ধুর অন্যান্য অঞ্চলেও নির্দিষ্ট মদের দোকান থেকে কেনা যায়। বিদেশি পর্যটকরা চাইলে মুরি ব্রুয়ারির গ্রাহকসেবা বিভাগে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন: +৯২ ০৫১-৫৫৬৭০৪১-৭

চায়ের ধরন

[সম্পাদনা]
কাশ্মীরি চা

পাকিস্তানিরা প্রচুর চা পান করে, যা স্থানীয়ভাবে ‘‘চাই’’ নামে পরিচিত। যে কোনো জায়গায় কোনো না কোনো ধরনের চা পাওয়া যায়। দুধ চা এবং সবুজ চা উভয়ই জনপ্রিয়। পাকিস্তানি রান্নায় চা অন্যতম বহুল পানীয়। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্বাদ ও ধরন রয়েছে।

  • করাচিতে মহাজির রান্নার প্রভাবে মশলাযুক্ত চা (মসলা চাই) জনপ্রিয়।
  • দুধপতি চাই ঘন দুধ-চা, যেখানে চা-পাতা দুধ ও চিনি দিয়ে সেদ্ধ করা হয়। এতে এলাচও দেওয়া হতে পারে। পাঞ্জাবে এটি বেশি খাওয়া হয়।
  • ‘‘সবজ চাই’’ ও ‘‘কাওয়া’’ যথাক্রমে জনপ্রিয়। কাওয়া খাইবার-পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানের পশতু এলাকায় খাবারের পর পরিবেশন করা হয়। কাশ্মীরে কাওয়া-তে জাফরান ও বাদাম যোগ করা হয়।
  • সুলাইমানি চা হলো লেবু মেশানো কালো চা।
  • কাশ্মীরি চাই বা ‘‘নুন চাই’’ গোলাপি দুধ-চা, এতে পেস্তা ও এলাচ দেওয়া হয়। বিশেষত বিয়ে, অনুষ্ঠান ও শীতে জনপ্রিয়।
  • পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল (চিত্রল, গিলগিট-বালতিস্তান) এ নোনতা মাখন মেশানো তিব্বতি ধাঁচের চা খাওয়া হয়।

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার রেওয়াজ আছে।

অন্যান্য পানীয়

[সম্পাদনা]

চা ছাড়াও পাকিস্তানি রান্নায় আরও অনেক অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় প্রচলিত। ২০শ শতকে কফি ও সফট ড্রিংকও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন প্রায়ই সফট ড্রিংক খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়।

  • লসসি – দুধ ও দই মিশ্রিত, মিষ্টি বা নোনতা হতে পারে। পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী পানীয়।
  • গোলা গাণ্ডা – বরফকুচির ওপর নানা স্বাদের সিরাপ।
  • আখের রস (গন্নে কা রাস) – গরমকালে অনেক স্থানে পাওয়া যায়, পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের রসও মেলে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ অপরিষ্কার বরফ ও যন্ত্রপাতির কারণে এতে জীবাণু থাকতে পারে।
  • লেমোনেড (নিম্বু পানি)।
  • শরবত – পানি ও সিরাপের মিশ্রণ।
  • সিকাঞ্জাবিন – লেবুর শরবত, এতে পুদিনা যোগ করা হয়।
  • বাদামের শরবত
  • শরবত-ই-সন্দল – চন্দন কাঠের নির্যাস থেকে তৈরি পানীয়।
  • কাশ্মীরি চাই/গোলাপি চাই – গোলাপি রঙের দুধ চা, মিষ্টি বা নোনতা উভয় স্বাদেই পাওয়া যায়।
  • সাথু – পাঞ্জাবের জনপ্রিয় পানীয়।
  • থাড়াল – সিন্ধুর একটি মিষ্টি পানীয়।
  • সরদাই – নানা বাদাম ও কিশমিশের মিশ্রণ।
  • সাত্তু – লাহোরের জনপ্রিয় পানীয়।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]
মুরিতে রাত

পাকিস্তান একটি মধ্যম আয়ের দেশ, যেখানে উল্লেখযোগ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও দেশীয় পর্যটন শিল্প রয়েছে। ফলে সব ধরণের বাজেটের জন্য হোটেল পাওয়া যায়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা প্রায়ই পাকিস্তানের হোটেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হতাশ হন—বিছানার চাদর সাধারণত পরিষ্কার থাকলেও বাথরুম অনেক সময় নোংরা থাকে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রায়ই দেখা যায়, হোটেলে আপনি একাই অতিথি।

বাজেট সবচেয়ে সস্তা হোটেলগুলো সাধারণত বাস ও রেলস্টেশনের মতো ব্যস্ত পরিবহনকেন্দ্রের আশেপাশে পাওয়া যায়। শুধু দৃষ্টিনন্দন লবিতে ভরসা করবেন না—রুম দেখুন এবং বিছানা, টয়লেট, লাইট ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিন। এই শ্রেণীতে গরম পানি ও এয়ার কন্ডিশনারকে বিলাসিতা হিসেবে গণ্য করতে হবে।

মধ্যম মান এই শ্রেণীতে নানা রকম হোটেল থাকে—যা প্রায়ই ভ্রমণ গাইডবুক বা অনলাইনে তালিকাভুক্ত থাকে। সব মধ্যম মানের হোটেলেই এ/সি ও গরম পানি থাকে, তবে জেনারেটর আছে কিনা দেখে নিন—বিদ্যুৎ ছাড়া এ/সি কোনো কাজে আসবে না! মুদ্রা দেওয়ার আগে অবশ্যই রুম দেখে নিন—রাস্তার পাশে নয়, ধূমপানমুক্ত রুম চাইতে পারেন—এবং দরদাম করে ভালো রেট নিন। পিটিডিসি (সরকারি পরিচালিত) হোটেলগুলোও এই শ্রেণীতে পড়ে, যা প্রায়ই শহরের প্রাচীনতম হোটেল, দারুণ লোকেশনে হলেও পুরোনো সুবিধাসম্পন্ন। তবুও এগুলো ভালো বিকল্প, আর ছাড়ও পাওয়া যায়। এই শ্রেণীর দাম সাধারণত প্রতি রাত রুপি ২,০০০-৬,০০০।

উচ্চমান এই শ্রেণীতে পড়ে সেরেনা, পার্ল কন্টিনেন্টালমেরিয়ট। সেরেনা হোটেল প্রায় সবসময়ই উৎকৃষ্ট, তবে পার্ল কন্টিনেন্টাল কিছুটা ভিন্নধর্মী—যেমন রাওয়ালপিন্ডি-রটি কিছুটা নোংরা, আর মুজাফফরাবাদিরটি দারুণ। উচ্চমানের হোটেলগুলোতে নিরাপত্তা খুব দৃশ্যমান—প্রবেশপথে প্রহরীদের ছোট সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। এই হোটেলগুলোর দাম রুপি ৬,০০০ থেকে শুরু, আর বড় শহরের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে অন্তত প্রতি রাত রুপি ১০,০০০ খরচ হয়।

সরকারি বিশ্রামাগার অনেক ভ্রমণ গাইডবুকে উল্লেখ আছে, যা সাধারণত গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য তৈরি। এগুলোর অনেকই স্বাধীনতার আগে নির্মিত এবং পুরোনো ইংরেজি আভিজাত্য ধারণ করে। আগে সাহসী পর্যটকরা প্রায় রুপি ১,০০০ দিয়ে এসব স্থানে রাত কাটাতে পারতেন। তবে বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বনবিভাগ এগুলো নিয়ে আর আগ্রহী নয়—ফোনে যোগাযোগ হয় না, ট্যুরিস্ট অফিসে কোনো তথ্য থাকে না। তাই সরকারি বিশ্রামাগারে থাকতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে হবে।

একাকী নারী ভ্রমণকারী হোটেল খুঁজতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েন। বাজেট এবং অনেক মধ্যম মানের হোটেল মূলত পুরুষদের জন্য নির্ধারিত, বিশেষ করে শহরে। অনেক হোটেল মালিক একা নারীর থাকার ব্যাপারে অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে তাদের মধ্যম-উচ্চ বা উচ্চমানের হোটেলেই থাকতে হয়, যা বাজেট দ্রুত শেষ করে ফেলে। অনেক জায়গায় ‘‘হোটেল’’ বলতে সাধারণ মানের আবাসিক স্থান বোঝানো হয়, আর ‘‘গেস্ট হাউস’’ বলতে মাঝারি মানের জায়গা, যেখানে পরিষেবা কিছুটা ভালো। আবার রেস্তোরাঁকেও অনেক সময় ‘‘হোটেল’’ বলা হয়, যা মজার এক বিভ্রান্তি তৈরি করে।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]
ভ্রমণ সতর্কীকরণ সতর্কীকরণ:

অনেক পশ্চিমা সরকার খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের কিছু অংশ, পেশোয়ার শহর ও শহরের দক্ষিণের জেলাগুলো, বেলুচিস্তান প্রদেশের কিছু অংশ, কারাকোরাম মহাসড়ক এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ১০–৫০ কিমি ভেতরের এলাকায় ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দেয়; আরও কিছু এলাকায় অত্যাবশ্যক নয় এমন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলে। আফগানিস্তানসীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো (বিশেষ করে সাবেক ফেডারেলিভাবে শাসিত উপজাতীয় এলাকা—ফাটা) বিদেশিদের যাতায়াতপূর্ণ স্থানে সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যান্য গন্তব্যের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক এবং সাধারণভাবে ভ্রমণের জন্য অনিরাপদ হিসেবে বিবেচিত।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখনও শীতল, এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই সীমান্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে—সর্বশেষ এমনটি ঘটেছিল মে ২০২৫ সালে।

(সর্বশেষ হালনাগাদ: ত্রুটি: অবৈধ সময়)

জরুরি অবস্থায় যেকোনো ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে পুলিশ ডাকতে ১৫ নম্বরে কল করুন। অ্যাম্বুলেন্স পেতে ল্যান্ডলাইন বা মোবাইল থেকে ১১৫ এবং ১১২২ নম্বরে ডায়াল করুন।

দেশজুড়ে কয়েকটি উগ্রপন্থী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তান তথাকথিত তালিবান আন্দোলন (টিটিপি) দেশটির শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল করতে সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নিয়েছে—বেশিরভাগ হামলা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে হলেও স্কুল, মসজিদ, গির্জা ও গণজমায়েতের মতো বেসামরিক লক্ষ্যে হামলাও হয়েছে।

সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র মাঝে মাঝে মানুষকে পণবন্দি করেছে। অর্থনৈতিক সংকট, মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও গ্রীষ্মকালের দুর্যোগে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে।

বড় শহরগুলোতে সচ্ছল এলাকার নিরাপত্তা ও স্বল্প-আয় এলাকার নিরাপত্তার মধ্যে বড় ফারাক থাকতে পারে। সতর্ক থাকুন এবং অন্ধকারে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।

পশ্চিমা ভ্রমণকারীদের মসজিদের কাছাকাছি অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষত জুমার নামাজের সময় ও বড় ধর্মীয় উৎসবে। কিছু মসজিদ ভালোভাবে সুরক্ষিত এবং খ্যাতনামা দর্শনীয় স্থান হলেও, কিছু মসজিদে উগ্রধারার প্রভাব থাকতে পারে। ভ্রমণের আগে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে নিন।

সন্ত্রাসবাদ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও তথাকথিত পশ্চিমা প্রতিষ্ঠান (যেমন ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেল) লক্ষ্য করে বেশ কিছু বোমা হামলা হয়েছে, এবং নির্বাসন থেকে ফেরার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর প্রকাশ্য হত্যা দেখেছে দেশটি। ২০১৪ সালের পর সফল সামরিক অভিযানের কারণে এসব হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাধারণ ভ্রমণকারীর জন্য পাকিস্তানে আতিথেয়তার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যা অনেক সময় ‘পশ্চিমা’ বৈরিতার ধারণায় ব্যাহত হয়। সামাজিক আন্দোলনগুলো সহজেই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং রাজনৈতিক সমাবেশ সবসময় স্পর্শকাতর। ভ্রমণের আগে দূতাবাস থেকে নিষিদ্ধ এলাকা, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিন এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখুন।

সামরিক কনভয় থেকে দূরে থাকুন—এসব কনভয় আত্মঘাতী হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য। একইভাবে সামরিক বা গোয়েন্দা স্থাপনার কাছে যাওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে।

উচিত কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি না থাকলে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করলে আপনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।

সংবেদনশীল এলাকা

[সম্পাদনা]

আজাদ কাশ্মীর ও ভারতের প্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বিদেশি পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দেশীয় পর্যটকেরা যদিও আজাদ কাশ্মীর ভ্রমণে অবাধ, তবু জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।

সাবেক ফেডারেলিভাবে শাসিত উপজাতীয় এলাকা (ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস—ফাটা) সমেত উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা সব অঞ্চল বিদেশি পর্যটকদের কখনোই ভ্রমণ করা উচিত নয়, কারণ এসব এলাকায় পাকিস্তান সরকারের কর্তৃত্ব খুবই সীমিত বা নেই এবং জরুরি অবস্থায় সরকার আপনার সহায়তায় এসে উঠতে নাও পারতে পারে। প্রয়োজনে সেখানে যেতে হলে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন, আপনার দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করুন—বিশেষ অনুমতি নেওয়ার ব্যাপারে তারা নির্দেশনা দিতে পারবে।

সোয়াত উপত্যকার প্রাকৃতিক দৃশ্য

বেলুচিস্তান সাধারণভাবে বিপজ্জনক এবং ভ্রমণোপযোগী নয় বলে ধরা হয়। এই প্রদেশে যেতে অনেক বিদেশি নাগরিকের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নিতে হয়। এনওসি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আপনার দূতাবাস সহায়তা করতে পারে।

সংবেদনশীল এলাকা ও এনওসি, ‘নোট ভারবাল’ এবং অন্যান্য অনুমতি–কাগজপত্রের নিয়মগুলি প্রায়ই বদলায়। বিদেশিদের কাশ্মীরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নথিবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে এনওসি-সংক্রান্ত সবচেয়ে কড়া নিয়মটি রয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে কূটনীতিকরাই মূলত এনওসি ব্যবহার করেন এবং নীতিগতভাবে সাধারণ পর্যটক অব্যাহতি পাওয়ার কথা। তবে বাস্তবে, বিমানে বা বাস থেকে নামার সময়ও আপনাকে এনওসি দেখাতে বলা হতে পারে।

ইসলামাবাদের কাছে কাহুটা যাওয়ার সড়কের মতো কোথাও কোথাও ইংরেজিতে এই ধরনের সাইনবোর্ড দেখা যায়—“এই পয়েন্টের পর থেকে বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ”। এমন সাইন দেখলে এবং অতিক্রম করা জরুরি হলে অন্তত কাছের থানা/পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অনুমতি নিন (উর্দু জানলে সুবিধা হবে), না হলে ফিরে গিয়ে বিকল্প পথ নিন। সাধারণত নিষিদ্ধ এলাকাগুলো পারমাণবিক বা সামরিক স্থাপনার আশপাশে থাকে। ইসলামাবাদের দক্ষিণ-পূর্বে কাহুটা ও সল্ট রেঞ্জে অ্যাম্ব মন্দিরের কাছে সাকেসার হিল স্টেশন—এ দুই জায়গা ভ্রমণকারীদের অজান্তেই সীমাবদ্ধ এলাকায় পড়তে পারে। সীমাবদ্ধ এলাকায় ধরা পড়লে সময় নষ্ট, বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা থাকে।

বেপরোয়া চালকরা

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১০ সালে দেশের সড়কে ৩০,১৩১টি মৃত্যুর হিসাব দিয়েছিল—প্রতি তিনটি গাড়ির বিপরীতে প্রায় একটি মৃত্যুর সমান ঝুঁকি। চালকেরা বেপরোয়া গাড়ি চালান এবং আইন বা অন্য দেশে প্রচলিত সৌজন্যতার ধার ধারেন না। “বলীয়ানই ন্যায়”—এমন মানসিকতা প্রায়ই ট্রাক–ট্রাক বা ট্রাক–বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ ডেকে আনে।

যৌন আচরণ ও আইন

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে যৌনকর্ম আইনি স্বীকৃতি পায় না।

সমকামী ব্যক্তিদের খুব সতর্ক থাকা উচিত, কারণ পাকিস্তানে সমকামিতা এখনও অবৈধ এবং শাস্তি গুরুতর হতে পারে। পাকিস্তানের আইনে “অপ্রাকৃত যৌন সংসর্গ” অপরাধ (এর সংজ্ঞায় সমকামিতাও পড়ে) এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। বাস্তবে সমকামিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার তুলনামূলক কম—প্রমাণস্বরূপ অনেক মহানগর এলাকায় প্রাণবন্ত সমকামী রাতের জীবন বিদ্যমান।

সুস্থ থাকুন

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের স্বাস্থ্যবিধি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় দুর্বল।

বিদেশি ভ্রমণকারীদের কড়া পরামর্শ দেওয়া হয় যেন তাঁরা কখনোই কলের পানি না খান। পাকিস্তানের অনেক স্থানীয় বাসিন্দারাও সেদ্ধ বা বিশুদ্ধ পানি পান করেন। তাই অবশ্যই সেদ্ধ, ছাঁকা বা বোতলজাত পানি পান করুন। কলের পানিতে প্রচুর জীবাণু থাকতে পারে। বরফ সাধারণত কলের পানি থেকেই তৈরি হয়, যা এড়ানো আরও কঠিন। সরাসরি দুধ খেলে অবশ্যই সেদ্ধ করে ঠান্ডা করতে হবে। অপরিশোধিত দুগ্ধজাত খাবার যক্ষ্মার জীবাণু ছড়াতে পারে। বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড যেমন নেসলে মিল্ক প্যাক, হালীব মিল্ক এবং অলপার্স বাজারে পাওয়া যায়।

ডেঙ্গু জ্বরম্যালেরিয়া দুটোই মশাবাহিত রোগ, তাই মশার কামড় থেকে বাঁচা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে ম্যালেরিয়া প্রচলিত, সেখানে প্রোফাইল্যাকটিক ওষুধ যেমন প্রোগুয়ানিল, ডক্সিসাইক্লিন বা মেফলোকুইন খেতে হবে। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং ২,৫০০ মি (৮,২০০ ফু) মিটারের ওপরে তা প্রায় নেই বললেই চলে।

ডেঙ্গুর কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বর্ষাকালে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশেষভাবে ছড়ায় এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। দিনে কামড়ানো মশা ডেঙ্গু ছড়ায় এবং পাঞ্জাব প্রদেশে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায় ৫০°সে পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, তাই শরীরে পানির অভাব রোধে নিয়মিত পানি পান করতে হবে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বর্ষা শুরু হলে তাপমাত্রা কমে প্রায় ৩০°সে হয়, তবে আর্দ্রতা বেশি থাকে।

কখনোই বেশিক্ষণ বাইরে রাখা খাবার খাবেন না। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। জনশূন্য অভিজাত রেস্তোরাঁর খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

কিছু পাকিস্তানি খাবার খুব ঝাল হতে পারে। আপনি ঝাল সহ্য করতে না পারলে অবশ্যই আগেই আপনার স্বাগতিক, রাঁধুনি বা ওয়েটারকে জানিয়ে দিন।

সম্মান

[সম্পাদনা]
শালওয়ার কামিজের বিভিন্ন রং

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ও ভারতের সংস্কৃতি অনেকটাই অভিন্ন। তাই ভারত প্রবন্ধে বর্ণিত নানা শিষ্টাচার পাকিস্তান ভ্রমণের সময়ও প্রযোজ্য হবে।

পাকিস্তানি সংস্কৃতিতে অতিথিপরায়ণতার (উর্দুতে মেহমাননওয়াজি) ঐতিহ্য অত্যন্ত দৃঢ়। অতিথিদের খুব যত্নসহকারে আপ্যায়ন করা হয়। তবে বিদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় তাঁদের কখনো কখনো সন্দেহের চোখে দেখা হয় বা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকানো হয়। তবুও অধিকাংশ পাকিস্তানি আন্তরিক, বন্ধুভাবাপন্ন এবং উদার, এবং বিদেশি ও অন্যান্য সংস্কৃতির প্রতি তাঁদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় চীনা নাগরিকরা পাকিস্তানে বিশেষভাবে আন্তরিক অভ্যর্থনা পেতে পারেন।

ধর্ম ও আচার

[সম্পাদনা]
  • ধর্ম নিয়ে আলোচনায় সবসময় সম্মানজনক ও ইতিবাচক সুর বজায় রাখতে হবে। অনেক পাকিস্তানি গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ, তাই নেতিবাচক মন্তব্য সহজেই তীব্র প্রতিক্রিয়া আনতে পারে।
  • সম্ভব হলে রমজান মাসে মিটিং না রাখা ভালো। এ সময় কাজের সময় কম থাকে এবং রোজাদাররা অতিথিকে চা দিতে পারবেন না, যা পাকিস্তানি আতিথেয়তার অংশ। নামাজের সময়ও মিটিং রাখা হয় না। রমজানকালে ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রবন্ধ দেখতে পারেন।
  • মসজিদ বা ধর্মীয় স্থানে ঢোকার সময় অবশ্যই জুতো খুলতে হবে। প্রায়ই নির্দিষ্ট জায়গায় সামান্য অর্থের বিনিময়ে জুতো রাখা যায়। মহিলারা সাধারণত পাকিস্তানের মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না। যেখানে অনুমতি আছে, সেখানে তাঁদের শালীন পোশাক (লম্বা স্কার্ট, ওড়না, হাতা ও পা ঢাকা কাপড়) পরতে হয় এবং মাথা ঢেকে রাখতে হয়। পুরুষদেরও শালীন পোশাক পরতে হয়; শর্টস অশোভন বলে গণ্য হয়। অনেক মসজিদ অমুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ, তাই ভেতরে ঢোকার আগে জেনে নেওয়া উত্তম।

শিষ্টাচার

[সম্পাদনা]
  • পাকিস্তানিরা সাধারণভাবে নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে যোগাযোগ করে। তারা সামাজিক পরিস্থিতিতে সম্মানজনক ও ভদ্র হওয়ার চেষ্টা করে, তবে কথাগুলো সাধারণত সরাসরি অর্থেই গ্রহণ করা হয়। তাই ইঙ্গিতপূর্ণ বা প্রবাদপ্রসঙ্গ ব্যবহার করলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। যা বলতে চান, তা পরিষ্কার ও সরাসরি বলাই ভালো।
  • ব্যক্তিগত প্রশ্ন (যেমন আপনার পারিবারিক জীবন, বেতন, শিক্ষা বা জীবনযাপন) করা পাকিস্তানিদের কাছে অশোভন নয়, বরং কারও সম্পর্কে ভালোভাবে জানার উপায়। অনেক সময় তারা আপনার কাজকর্ম নিয়ে উপদেশও দিতে পারে, তা চাইলে বা না চাইলে। বিরক্ত হবেন না, কারণ এতে তারা আপনাকে হেয় করতে চান না। প্রশ্নটি বেশি ব্যক্তিগত মনে হলে ঘুরিয়ে উত্তর দিয়ে এগিয়ে যান।
  • পরিবারিক মূল্যবোধ পাকিস্তানিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা অসীম। কারও পারিবারিক বিষয়ে অনর্থক মন্তব্য করবেন না। একইভাবে, নিজের চেয়ে বয়সে অনেক বড় কাউকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করাও শোভন নয়।
  • দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো, পাকিস্তানেও কারও বাড়িতে গেলে অতিথিকে চা, মিষ্টি, নাস্তা ও উপহার দেওয়া হয়। এগুলো প্রত্যাখ্যান করলে তারা অপমানিত হতে পারে, তাই গ্রহণ করাই ভালো।
  • আতিথেয়তার নিদর্শন হিসেবে আপনাকে বারবার খেতে বলা হবে। এটি তাদের সম্মানের প্রকাশ। প্লেট পুরো খালি করলে আবার পরিবেশন করবে, আর বেশি ফেলে রাখলে বুঝবে আপনি খাবারটি পছন্দ করেননি। তাই সামান্য কিছু ফেলে রেখে বলুন আপনি পেট ভরে খেয়েছেন, আর খাবারের প্রশংসা করুন।
  • কারও বাড়িতে খালি হাতে যাবেন না। দামি উপহার জরুরি নয়, তবে মিষ্টির মতো সহজ কিছু নিয়ে গেলে ভালো ধারণা তৈরি হবে।
  • ডান হাত দিয়ে খাওয়া, হাত মেলানো, অর্থ দেওয়া-নেওয়া এবং সবকিছু দেওয়া-নেওয়া করা উচিত। বাম হাত রাখা হয় জুতা বা শৌচাগার ব্যবহারের কাজে।
  • ভিন্ন লিঙ্গের মানুষ একে অপরকে সম্ভাষণের সময় হাত মেলায় না। পুরুষরা করমর্দনের সময় বাম হাত বুকের ওপর রাখে। শহুরে পাকিস্তানে পুরুষ ও নারী একে অপরকে ‘‘আদাব’’ জানায়—মাথা নত করে হাত কপালে ছোঁয়ানো হয়। পুরুষরা কোনো অচেনা মহিলার সঙ্গে হাত মেলানো বা শারীরিক স্পর্শ করা উচিত নয়।
  • ব্যবসা ও লেনদেনের কাজ ধীরে চলে এবং তার আগে আড্ডা, পারিবারিক আলাপ ইত্যাদি হয়। ধৈর্য ধরতে হবে। বিরক্তি বা তাড়াহুড়া দেখানো অভদ্রতা হিসেবেই গণ্য হবে।
  • পাকিস্তানিরা সাধারণত রক্ষণশীল পোশাক পরে। তবে মহানগরে আধুনিক পোশাক দেখা যায়। মহিলাদের জনসমক্ষে লম্বা স্কার্ট বা ট্রাউজার পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। হিজাব বা আাবায়া বাধ্যতামূলক নয়। পাকিস্তানি নারীরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী সালওয়ার কামিজ পরেন। বড় শহরে মহিলাদের জিন্স বা খাকি পরে দেখা অস্বাভাবিক নয়, বিশেষ করে কেনাকাটা বা বিনোদনকেন্দ্রে। পুরুষদের পোশাকে কড়াকড়ি কম, তবে শর্টস খুব একটা দেখা যায় না। অশালীন পোশাক পড়লে নারীরা অযাচিত দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।
  • মানুষের অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মতো পাকিস্তানেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা খুব মূল্যবান। পর্যটক-বহির্ভূত এলাকায় ছবি তুললে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে।
  • নিজে থেকে অপরিচিত কাউকে পরিচয় করানো অভদ্রতা বলে ধরা হয়। বরং কোনো পারস্পরিক পরিচিতির মাধ্যমে পরিচয় করানো ভালো। অপরিচিতরা সাধারণত উর্দুর ‘‘আনুষ্ঠানিক’’ ভঙ্গি ব্যবহার করে কথা বলে, আর অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গি ব্যবহার করলে তা অশোভন বলে মনে হবে। প্রবীণ বা অচেনা কাউকে বসে থাকা অবস্থায় পরিচয় করানো হলে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো শোভন আচরণ। কারও সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে চান, তা জিজ্ঞেস করাই ভালো।
  • পাকিস্তানিরা অতিথির অনুরোধ পূরণ করতে নিজেদের কষ্ট হলেও রাজি হয়ে যায়, এবং তারা জোর দিয়েই বলে যে এতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এর বিনিময়ে অতিথিরও কর্তব্য থাকে সৌজন্যতা প্রদর্শন করা।
  • রেস্তোরাঁয় বা কেনাকাটায় বিল দেওয়ার সময় হোস্টের সঙ্গে সৌজন্যমূলক তর্ক করার রীতি আছে। এর নিয়ম কিছুটা জটিল।
    • ব্যবসায়িক লাঞ্চ/ডিনারে আগে থেকেই ঠিক থাকে কে বিল দেবে, তাই তর্কের প্রয়োজন নেই। তবে যদি ব্যক্তিগতভাবে কেউ আপনাকে আমন্ত্রণ করে, আপনাকে বিল দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং জোরাজুরি করতে হবে। অনেক সময় দুই পক্ষ মজার ছলে বিল টানাটানি করে। প্রথমবার আপনি হয়তো বিল দিতে পারবেন না, কিন্তু পরেরবার অবশ্যই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিল খুব বড় অঙ্ক না হলে ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দেবেন না।
    • কেনাকাটার সময়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আপনি নিজের জন্য কিছু কিনলেও হোস্ট অনেক সময় বিল দিতে চাইবে। অঙ্ক কম হলে হয়তো তারা দিয়ে দেবে। তবে সাধারণত আপনাকেই বিল দেওয়া উচিত। যদি হোস্ট বিল দিয়ে ফেলে, তাহলে ভদ্রভাবে জোর করে হলেও তার হাতে মুদ্রা তুলে দেওয়া প্রথাগত।
    • তবে যদি শুরুতেই হোস্ট বলে দেয় যে এটি তার পক্ষ থেকে আপ্যায়ন, তাহলে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

এড়িয়ে চলার বিষয়

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানিরা সাধারণত বুঝতে পারবেন যে, আপনি তাঁদের দেশে কী কী উপযুক্ত/অনুপযুক্ত হিসেবে গণ্য হয় তা পুরোপুরি জানেন না। তাই আপনার ভুলত্রুটি তাঁরা সাধারণত সহনশীলভাবেই নেবেন। তবে এটুকু বলা দরকার যে, দেশে অবস্থানকালে আপনাকে নিচের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত।


রাজনীতি

[সম্পাদনা]
  • ভারত নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহী হওয়া থেকে বিরত থাকুন: পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী, উত্তেজনাপূর্ণ এবং প্রায়শই সহিংস সম্পর্ক রয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও উদ্বাস্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারত সম্পর্কে প্রশংসা বা ইতিবাচক কিছু বলার চেষ্টা করলে কিছু পাকিস্তানির তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ইন্দো-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। শুধু মনে রাখবেন, এটি অনেক সময় তীব্র ও আবেগপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সাধারণ পাকিস্তানিদের ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ নেই; অধিকাংশ পাকিস্তানি কেবল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি চায়।
  • রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় সতর্ক থাকুন: পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবে অশান্ত একটি দেশ। সামাজিক প্রতিবাদ প্রায়শই সহিংসতায় রূপ নেয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশ সাধারণত সংবেদনশীল হয়। একজন ভ্রমণকারী হিসেবে আপনি লক্ষ্য করবেন পাকিস্তানিরা কতটা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কত বৈচিত্র্যময় মতামত প্রকাশ করে। তবে পাকিস্তানি সংবাদ না-জানলে আপনাকে অজ্ঞ মনে হতে পারে। তাই আলোচনায় অংশ নিতে দ্বিধা করবেন না, তবে মনে রাখবেন—অতিথি হিসেবে আপনার অবস্থান সংবেদনশীল।
  • পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিয়ে আলোচনায় সতর্ক হোন: সেনাবাহিনী দেশটিতে অত্যন্ত সম্মানিত, তাই এর সমালোচনা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
  • কাশ্মীর অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ইস্যু। এ বিষয়ে প্রায় সব পাকিস্তানির দৃঢ় মতামত রয়েছে। গিলগিত-বালতিস্তানকে পূর্ণাঙ্গ প্রদেশে রূপান্তরের প্রসঙ্গও অতীতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কাশ্মীর সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তুললে আপনার মতামতের ওপর নির্ভর করে তা উত্তেজনাপূর্ণ বা এমনকি বৈরী বিতর্কে পরিণত হতে পারে। কিছু পাকিস্তানি নির্দিষ্ট কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠনকে (বিশেষত জইশ-ই-মোহাম্মদ) সমর্থন জানাতে পারে এবং এগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন বললে তারা বিরক্ত হতে পারে।
  • যদিও বেলুচিস্তানের বিদ্রোহী আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে, অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এখনো পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

সংযোগ

[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের জন্য কান্ট্রি কোড হলো +৯২, যা দেশের বাইরে থেকে ফোন করার সময় ব্যবহার করতে হয়। বড় জেলার ফোন নম্বর সাধারণত সাত অঙ্কের হয় এবং তার আগে দুই অঙ্কের শহর কোড থাকে। ছোট জেলায় ফোন নম্বর ছয় অঙ্কের হয় এবং তার আগে তিন অঙ্কের শহর কোড থাকে। এভাবে সারা দেশে (শুধুমাত্র আজাদ কাশ্মীর ব্যতীত) মোট নয় অঙ্কের নম্বর চালু রয়েছে। তবে সব মোবাইল নম্বরই সাত অঙ্কের হয় এবং এগুলো শুরু হয় চার অঙ্কের নেটওয়ার্ক কোড "০৩XX" দিয়ে, যেখানে XX হলো নির্দিষ্ট সেলুলার কোম্পানির কোড। তাই পাকিস্তানের মোবাইল নম্বর নির্দিষ্ট কোনো শহরের সঙ্গে নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো সেলুলার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত থাকে। এজন্য শহর কোডের সঙ্গে মোবাইল প্রিফিক্স ডায়াল করার প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য দেশের মতো এখানেও বিদেশ থেকে কল করার সময় শহর বা মোবাইল কোডের শুরুর শূন্য বাদ দিতে হয় এবং দেশের কোড '৯২' যোগ করতে হয়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডা থেকে টেলিনর নম্বর ৭৬৫ ৪৩২১ ডায়াল করলে নম্বর হবে ০১১ ৯২৩৪৫ ৭৬৫ ৪৩২১ এবং ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্য থেকে পেশোয়ারের ল্যান্ডলাইন ২৩৪-৫৬৭৮ ডায়াল করলে হবে ০০ ৯২ ৯১ ২৩৪-৫৬৭৮।

পাকিস্তান থেকে বিদেশে কল করার জন্য আন্তর্জাতিক এক্সেস কোড হলো 00।

পিটিসিএল (PTCL) ল্যান্ডলাইন ও ওয়্যারলেস ফোন সেবা প্রদান করে।

দেশজুড়ে অসংখ্য পাবলিক কল অফিস (পিসিও) রয়েছে। প্রায় ৫০% মুদি দোকানেই একটি পিসিও থাকে, যেখানে সাধারণত ফোন ও ফ্যাক্স পরিচালনার জন্য একজন থাকে। কলের সময় অনুযায়ী চার্জ নিতে হয় এবং কল শেষ করার পর ফি দিতে হয়।

মোবাইল ফোন

[সম্পাদনা]
যেখান থেকে কল করা হচ্ছেমূল্যপদ্ধতিউদাহরণ
একই শহরস্থানীয়নম্বর123-4567
ভিন্ন শহরএসটিডি (STD)0-এরিয়া কোড-নম্বর051 123-4567
বিদেশ থেকেআইএসডি (ISD)+92-এরিয়া কোড-নম্বর+92 51 123-4567

পাকিস্তানে প্রধান মোবাইল (জিএসএম) সেবা প্রদানকারীরা হলো:

পাকিস্তানের সব মোবাইল অপারেটর জিএসএম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, ফলে এক নেটওয়ার্কের হ্যান্ডসেট অন্য নেটওয়ার্কেও ব্যবহার করা যায়।

কয়েক বছর আগেও মোবাইল ফোন ছিল একধরনের স্ট্যাটাস সিম্বল। তবে ২০০২ সালের পর থেকে টেলিকম খাতে প্রবল উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় সবাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নানা ধরণের প্ল্যান অফার করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে জ্যাজ, ওয়ারিদ টেলিকম, টেলিনর, ইউফোন এবং জং (চায়না মোবাইল)। দেশে থাকার সময় একটি মোবাইল ফোন কিনে প্রিপেইড সংযোগ ব্যবহার করা সহজ ও সুবিধাজনক। সাধারণত নতুন একটি সস্তা মোবাইল ফোন প্রায় ২,০০০ রুপিতে পাওয়া যায় এবং প্রিপেইড সংযোগের খরচ হয় ১৫০-৪০০ রুপি।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সিম কিনতে হলে ভিসা, রেসিডেন্ট পারমিট, পাকিস্তানের ঠিকানা এবং একটি লিখিত ঘোষণা জমা দিতে হয় যে আপনি নম্বরটি কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করবেন না। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে অবৈধ বা অচিহ্নিত সিম রাখা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ইন্টারনেট

[সম্পাদনা]

দেশজুড়ে প্রায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে সাইবার ক্যাফে পাওয়া যায় এবং প্রতি ঘণ্টার চার্জ প্রায় ৪০-৫০ রুপি। অধিকাংশ কম্পিউটার এখনো উইন্ডোজ এক্সপি বা উইন্ডোজ ৭ চালায়, তাই নতুন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে একটু ধৈর্য ধরতে হয়। বেশিরভাগ ক্যাফেতে ইন্টারনেটের গতি মোটামুটি ভালো।

ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলে সহজেই জিপিআরএস সুবিধাযুক্ত মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করা যায়, যা পাঁচটি মোবাইল অপারেটরই প্রদান করে। জ্যাজ শহরাঞ্চলে ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট সেবা দেয়, টেলিনরও অধিকাংশ শহরে ৩জি সুবিধা দেয়। জিপিআরএস/এজ ডেটার খরচ সাধারণত প্রতি এমবি ১০-১৮ রুপি, তবে জং প্রতি ঘণ্টায় ১৫ রুপির প্যাকেজ দেয়। বেশি ডেটা ব্যবহার করলে আনলিমিটেড প্যাকেজ কেনা ভালো, যা সব নেটওয়ার্কেই পাওয়া যায়। ওয়ার্ল্ড কলইউফোন ইউএসবি মডেমও সরবরাহ করে। সব অপারেটরই ৩জি ও ৪জি সেবা দেয়।

ওয়াটিন, উই-ট্রাইব এবং কিউবি হলো ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। জাতীয় টেলিকম কোম্পানি পিটিসিএল (PTCL) দ্রুতগতির ইন্টারনেটের জন্য ইউএসবি ইভো ডিভাইস সরবরাহ করে।

হোটেল, মল, ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টে অসংখ্য ওয়াই-ফাই হটস্পট রয়েছে।

পাকিস্তানেই প্রথমবার ৫জি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। নভেম্বর ২০২২ সালের পর দেশে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি চালু হবে।

This TYPE পাকিস্তান has রূপরেখা অবস্থা TEXT1 TEXT2

{{#assessment:দেশ|রূপরেখা}}