উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পাথরঘাটা উপজেলা বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার একটি উপজেলা।

কিভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

সড়ক পথে[সম্পাদনা]

ঢাকার গাবতলি থেকে সরাসরি পাথরঘাটার বাস আছে, ভাড়া পড়বে ৬৫০ টাকা। এছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ থেকেও সকাল এবং সন্ধ্যায় অনেকগুলো বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া পড়বে বাস ভেদে ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। ভ্রমণের অন্তত পাঁচ কিংবা ছয় ঘন্টা আগে টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট বুক করা উচিত। এছাড়া ফোনে কিংবা অনলাইনেও টিকেট বুক করা যায়।

নৌপথে[সম্পাদনা]

লঞ্চে আরাম দায়ক ভ্রমন করতে চাইলে বরগুনা বা বরিশালের লঞ্চে উঠতে হবে। বরিশালের লঞ্চে উঠলে বরিশাল নেমে পাথরঘাটার বাস বা কাকচিড়ার লঞ্চে উঠতে হবে। বরিশাল থেকে পাথরঘাটার বাস প্রতি ঘন্টায় ছেড়ে যায়, ভাড়া ১৮০ টাকা। বরগুনার লঞ্চে উঠলে কাকচিড়া ঘাটে নেমে মটর সাইকেল বা অটোরিক্সা ভাড়া করে পাথরঘাটা যাওয়া যাবে। তবে সহজ পথ হলো বরগুনার লঞ্চে যাওয়া। বরগুনার লঞ্চে ঢাকা থেকে কাকচিড়ার ডেকের ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

লালদিয়া বন ও সমুদ্রসৈকত[সম্পাদনা]

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে লালদিয়ার বন। এ বনের পূর্বে বিশখালী নদী এবং পশ্চিমে বলেশ্বর নদী । দুই নদী ও সাগরের মোহনা এ বনকে ঘিরে রেখেছে । বন সংলগ্ন পূর্ব প্রান্তে সমুদ্র সৈকত । এখানে বিভিন্ন রকমের পাখির কলকাকলি এবং সমুদ্রের গর্জন শুনে পর্যটকরা হবেন বিমোহিত এবং ফিরে আসবেন বারে বারে।

হরিণঘাটা[সম্পাদনা]

পাথরঘাটা উপজেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হরিণঘাটা । এখানে সমুদ্রের কোলঘেষে একটি সুন্দর বনভূমি রয়েছে।

একদিকে বিস্তীর্ণ সাগরের হাতছানি আর অন্যদিকে অকৃত্রিম বনের মাঝে ছড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহ যাদের মুগ্ধ করে তাদের জন্য এই দেশের মাঝেই বেড়ানোর চমত্কার একটি স্থান হতে পারে হরিণঘাটা। বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ প্রান্তে বরগুনা জেলায় অবস্থিত এই হরিণঘাটায় এসে একদিকে যেমন উপভোগ করা যায় সাগরের মাঝে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মোহনীয় দৃশ্য, তেমনি দেখা মেলে নানা প্রজাতির গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা সবুজ নিসর্গ আর হরেক রকম বণ্যপ্রাণীরও। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা সদর তালতলী থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা বাজারের পাশ থেকেই এই বনের শুরু। স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে হরিণঘাটার এই বন ফাতরার বন নামে পরিচিত হলেও ২০১০ সালে বনবিভাগের আমতলী রেঞ্জের টেংরাগিরি (সখিনা) বিটের এ জায়গাটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে এর নাম দেওয়া হয় টেংরাগিরি বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এ বনের পূর্ব দিকে রয়েছে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন, উত্তর পাশে রাখাইনদের বেশ কিছু বসতি এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ বন নানান গাছপালায় সমৃদ্ধ। কেওড়া, গরাণ, গেওয়া, ওড়া প্রভৃতি শ্বাসমূলীয় গাছ বনের প্রধান বৃক্ষ। এ ছাড়া বনে দেখা মেলে চিত্রা হরিণ, বানর, বন বিড়াল, বন্যশুকরসহ নানান বন্যপ্রাণীর। এ ছাড়া নানা প্রজাতির পাখি আর গুঁইসাপসহ একাধিক প্রজাতির সাপেরও আবাসস্থল এই বন। তবে হরিণঘাটায় অবস্থিত এই বনের সবেচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো বনের ভেতর সর্পিলাকারে ছড়িয়ে থাকা একাধিক খাল। জোয়ারের সময় যখন খালগুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকে তখন ছোট ছোট নৌকায় করে উপভোগ করা যায় বনের মধ্যকার সবুজের সমারোহ। এ ছাড়া এই বনাঞ্চলের ঠিক পাশেই থাকা লালদিয়ার চর নামে পরিচিত সমুদ্র সৈকতও পর্যটকদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। হরিণঘাটার বনের ঠিক শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগর ও বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই সৈকতে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম বলে এখানে নানা প্রজাতির পাখির নির্বিঘ্ন বিচরণ চোখে পড়ে। এ ছাড়া সৈকতে ঘুরে বেড়ানো লাল কাঁকড়ার দলও প্রায়শই তৈরি করে দেখার মতো এক দৃশ্য। হরিণঘাটার বন বা লালদিয়ার চরে আসতে হলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সড়ক বা নদীপথে প্রথমে বরগুনা আসতে হবে। তারপর সেখান থেকে বাস, টেম্পু বা নৌকায় করে তালতলী হয়ে যাওয়া যাবে হরিণঘাটায়।

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

পাথরঘাটা উপজেলায় মোটামুটি মানের কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত ডাক বাংলো আছে।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

এখানে ভালো মানের বেশ কয়েকটি রেস্তোরা রয়েছে। যেখানে সব ধরনের খাবার পাওয়া যাবে।