উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
Bangladesh (orthographic projection).svg
রাজধানী ঢাকা
মুদ্রা বাংলাদেশী টাকা (BDT)
জনসংখ্যা ১৬৫.৭ মিলিয়ন (2021)
বিদ্যুৎ ২২০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (টাইপ এ, ইউরোপ্লাগ, টাইপ ডি, বিএস ১৩৬৩, টাইপ কে)
দেশের কোড +880
সময় অঞ্চল বাংলাদেশ মান সময়, ইউটিসি+০৬:০০
জরুরি নম্বর 999
গাড়ি চালানোর দিক বাম
উইকিউপাত্তে সম্পাদনা করুন

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমার অবস্থিত। এছাড়াও দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। বাংলাদেশের ভূখন্ড ভৌগলিকভাবে একটি উর্বর বদ্বীপের অংশ বিশেষ। বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গত্রিপুরায় দীর্ঘ সময় ধরে বাঙালি জাতি বাস করছে। এই অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ট অধিবাসীদের মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। প্রাচীন "বঙ্গ" ভূখন্ডের পূর্বাংশের অংশ পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত, যা বর্তমানে বাংলাদেশ নামের দেশ। পৃথিবীতে যে ক'টি রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পায় তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশের বর্তমান সীমান্ত তৈরি হয়েছিল ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনাবসানে, বঙ্গ (বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি) এবং ব্রিটিশ ভারত বিভাগ করা হয়েছিল। বিভাগের পরে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চল তখন পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত, যেটি নবগঠিত দেশ পাকিস্তানের পূর্ব অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। পাকিস্তান অধিরাজ্যে থাকাকালীন "পূর্ব বাংলা" থেকে "পূর্ব পাকিস্তান"-এ নামটি পরিবর্তিত করা হয়েছিল। শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ঘটেছে দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ; এছাড়াও প্রলম্বিত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পুনঃপৌনিক সামরিক অভ্যুত্থান এদেশের রাজনৈতিক সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বারংবার ব্যাহত করেছে। গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার ধারাবাহিকতা অদ্যাবধি বর্তমান। সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিক প্রগতি ও সমৃদ্ধি সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম যদিও আয়তনের হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯৪তম; ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর নবম। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলেরও কম এই ক্ষুদ্রায়তন দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫.৫৯ কোটির বেশি অর্থাৎ প্রতি বর্গমাইলে জনবসতি ২৪৯৭ জন।

জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ছিল ১১,৯৮,৯২৩ কোটি টাকা (চলতি বাজারমূল্যে) যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৃদ্ধি লাভ করে ১৩,৫০,৯২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের মাথাপিছু বার্ষিক আয় পূর্ববর্তী বৎসরের ১,০৪৪ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১,১৯০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে মর্মে সরকারি প্রাক্কলন করা হয়েছে, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৯২,৫১০ টাকা। দারিদ্রের হার ২৬.২০ শতাংশ, অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১১.৯০ শতাংশ, এবং বার্ষিক দারিদ্র হ্রাসের হার ১.৫ শতাংশ। এই উন্নয়নশীল দেশটি প্রায় দুই দশক যাবৎ বার্ষিক ৫ থেকে ৬.২ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জনপূর্বক "পরবর্তী একাদশ" অর্থনীতিসমূহের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের পরিবর্ধন বাংলাদেশের এই উন্নতির চালিকাশক্তিরূপে কাজ করছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে কাজ করেছে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ত্বরিত বিকাশ এবং একটি সক্ষম ও সক্রিয় উদ্যোক্তা শ্রেণীর আর্বিভাব। বাংলাদেশের রপ্তানীমুখী পোশাক শিল্প সারা বিশ্বে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। জনশক্তি রপ্তানীও দেশটির অন্যতম অর্থনৈতিক হাতিয়ার।

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাবিমসটেক-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়া দেশটি জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব শুল্ক সংস্থা, কমনওয়েলথ অফ নেশনস, উন্নয়নশীল ৮টি দেশ, জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংঘের সক্রিয় সদস্য।

অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ খুব ছোট একটি দেশ, যার ৮ টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে:

বাংলাদেশের বিভাগ
  রংপুর বিভাগ
মন্দির, সংস্কৃতি, এবং গ্রামীণ জীবনধারা সমৃদ্ধ অঞ্চল।
  রাজশাহী বিভাগ
আম, সিল্ক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত।
  ময়মনসিংহ বিভাগ
সংস্কৃতি, জাতিগত ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এবং গ্রামীণ জীবনধারা সমৃদ্ধ অঞ্চল।
  সিলেট বিভাগ
অবিরাম চা বাগান এবং সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর অঞ্চল।
  ঢাকা বিভাগ
রাজধানী শহর।
  খুলনা বিভাগ
শান্ত, ধীর গতির এলাকা; সুন্দরবনের বাড়ী।
  বরিশাল বিভাগ
নদী, ধান ক্ষেত, এবং সবুজ জমির অঞ্চল।
  চট্টগ্রাম বিভাগ
পাহাড়, বন, এবং সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত মনোরম একটি অঞ্চল।

প্রবেশ[সম্পাদনা]

যে দেশগুলির নাগরিকদের ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য ভিসার প্রয়োজন হয় না: অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, ভূটান, ডোমিনিকা, ফিজি, গাম্বিয়া, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, জ্যামাইকা, গায়ানা, হন্ডুরাস, লেসোথো, মালাউই, মালদ্বীপ, মন্টসেরাট, পাপুয়া নিউগিনি, সেন্ট কিট্‌স ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জ, সেশেল, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, উরুগুয়ে, ভ্যাটিকান সিটি এবং জাম্বিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের বর্তমান ভিসা ডাটাবেসের আওতায় ৯০ দিনের আগমনের ভিসার জন্য ৫০ মার্কিন ডলার দিতে হয়।

পরিবহন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। তাই বাংলাদেশের প্রাচীনতম যাতায়াত পথ হিসেবে গণ্য করা হয় নৌপথ বা জলপথকে। নৌপথের নদীপথ এবং সমুদ্রপথ উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নদীমাতৃক দেশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থায় নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ, তবে বহির্বিশ্বের সাথে যাতায়াত ব্যবস্থায় সমুদ্রপথ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রায় ৮৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০০ কিলোমিটার সারা বছর নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার শুধু বর্ষাকালে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলো নৌচলাচলের জন্য বেশি উপযোগী। এ অঞ্চলেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলো অবস্থিত: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, খুলনা প্রভৃতি। নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই (৯৪%) নৌকালঞ্চে এবং বাকিরা (৬%) স্টিমারে যাতায়াত করেন। দেশের সমুদ্রপথ মূলত ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের প্রধান দুইটি সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, মোংলা সমুদ্র বন্দর এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর একাজে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের স্থল যোগাযোগের মধ্যে সড়কপথ উল্লেখযোগ্য। সড়কপথের অবকাঠামো নির্মাণ এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভৌগোলিক অবকাঠামোর মধ্যে বেশ ব্যয়বহুল। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে পাকা রাস্তার পরিমাণ ছিলো ১৯৩১.১৭ কিলোমিটার, ১৯৯৬-১৯৯৭ সালের দিকে তা দাঁড়ায় ১৭৮৮৫৯ কিলোমিটারে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে দেশের জাতীয় মহাসড়ক ৩৪৭৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪২২২ কিলোমিটার এবং ফিডার/জেলা রোড ১৩২৪৮ কিলোমিটার। দেশের সড়কপথের উন্নয়নের জন্য "বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন" (বিআরটিসি) নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছে। সড়কপথে প্রায় সব জেলার সাথে যোগাযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (ব্রিজ, কালভার্ট) নির্মিত না হওয়ায় ফেরি পারাপারের প্রয়োজন পরে। সড়কপথে জেলাভিত্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় বড় যানবাহন যেমন: ট্রাক, বাস ব্যবহৃত হলেও আঞ্চলিক বা স্থানীয় পর্যায়ে ট্যাক্সি, সিএনজি, মিনিবাস, ট্রাক ইত্যাদি যান্ত্রিক বাহন ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও বহু পুরাতন আমলের অযান্ত্রিক বাহন যেমন: রিক্সা, গরুর গাড়ি, ঠেলা গাড়িও ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া স্থলভাগে রেলপথ সবচেয়ে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের সময় বাংলাদেশে রেলপথ ছিলো ২৮৫৭ কিলোমিটার। ২০০৮-২০০৯ সালের হিসাবমতে, বাংলাদেশে রেলপথ রয়েছে ২৮৩৫ কিলোমিটার। এদেশে মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ-দু'ধরনের রেলপথ রয়েছে। রেলপথ, রেলস্টেশনের দ্বারা পরিচালিত হয়, এছাড়া বিভিন্ন স্টেশনকে জংশন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। রেলপথকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বাংলাদেশকে ট্রান্স এশীয় রেলওয়ে জালের সঙ্গে সংযোজনের জন্য চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ অবধি ১২৮ কিলোমিটার রেলসড়ক স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে (২০১৩)। এই রেলসড়ক মিয়ানমারের গুনদুম রেলস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

এছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে বাংলাদেশে আকাশপথে বা বিমানপথে যাতায়াতের ব্যবস্থাও রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমান যাতায়াত ব্যবস্থায় দেশের ভিতরকার বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াত করা যায়, আর আন্তর্জাতিক বিমান যাতায়াত ব্যবস্থায় শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্দেশে গমনাগমন করা যায়। ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজারেও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত ছিলো ডাক আদান-প্রদানভিত্তিক। কিন্তু কালের আবর্তনে টেলিগ্রাফ, টেলিফোন এবং পরবর্তিতে মোবাইল ফোনের প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

পর্যটন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের যোগাযোগ ও পর্যটন খাত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। আগস্ট, ১৯৭৫ সালে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে এটি পুণরায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিভাগে পরিণত হয়। ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে পৃথকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খোলা হয়। ২৪ মার্চ, ১৯৮২ সালে এ মন্ত্রণালয়কে বিলুপ্ত করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়। এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে উক্ত মন্ত্রণালয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা অদ্যাবধি তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

কিনুন[সম্পাদনা]

অর্থ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশি টাকা-এর বিনিময় হার

জানুয়ারি ২০২০ তারিখ অনুসারে:

  • ইউএস$১ ≈ Tk৮৫
  • €১ ≈ Tk৯৫
  • ইউকে£১ ≈ Tk১১০
  • ভারতীয় ₹১ ≈ Tk১.২


বিনিময় হার ওঠানামা করে। এগুলোর এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান হার XE.com থেকে পাওয়া যাবে।

এর দাম কতো হবে?


  • ২-লিটার পানির বোতর: ২৫ টাকা
  • এক কাপ চা: ৫ টাকা
  • সংবাদপত্র: ৮ টাকা
  • ক্যান্ডি বার: ১৫ টাকা
  • কোক/পেপসি: ৩৫ টাকা
  • এক জোড়া রেডিমেড প্যান্ট: ৭০০/৮০০ টাকা

বাংলাদেশের মুদ্রা হচ্ছে বাংলাদেশী টাকা, যা "টাকা" বা "৳" (আইএসও কোড: বিডিটি) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। উইকিভ্রমণে মুদ্রা বোঝাতে এর নিবন্ধে টাকা ব্যবহার করবে।

হালনাগাদকৃত বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে, যা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বিভিন্ন অর্থ বিনিময়ের দোকানে এই হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশের যে কোন মানি এক্সচেঞ্জ শপ বা ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করা যাবে। কিছু হোটেল বৈদেশিক মুদ্রাও গ্রহণ করবে তবে তাদের বিনিময় হার ভালো নাও হতে পারে। ব্যাংকের পরে মানি এক্সচেঞ্জ দোকানগুলোই সেরা বিনিময় হার সরবরাহ করে। বেশিরভাগ বাণিজ্যিক এবং খুচরা প্রতিষ্ঠান অর্থ আদান-প্রদানের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করবে না। শুধুমাত্র স্থানীয় মুদ্রা বা ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড গ্রহণ করা হবে।

এটিএম বাংলাদেশের সকল শহরে এবং এমনকি ছোট শহরগুলিতেও ব্যাপকভাবে উপলব্ধ এবং সেগুলি স্থানীয় মুদ্রায় নগদ তুলতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই অটোমেটেড টেলার মেশিনগুলি (এটিএম) সমস্ত মাস্টারকার্ড এবং ভিসা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড গ্রহণ করে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক যেমন ইসলামী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এইচএসবিসি এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম নেটওয়ার্ক রয়েছে। কেউ কেউ তাদের নিজস্ব ক্লায়েন্টদের জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস এটিএম নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে। এইচএসবিসি এটিএম বেশ কিছু হোটেলে পাওয়া যাবে তবে শুধুমাত্র ভিসা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড এবং এইচএসবিসি গ্লোবালঅ্যাক্সেস কার্ড গ্রহণ করে। বেশিরভাগ এটিএমই সাধারণত ব্যবহার করা বেশ নিরাপদ কারণ বেশিরভাগই একটি ভবনের ভিতরে থাকে এবং একজন নিরাপত্তা রক্ষী দাঁড়িয়ে বা এর দরজায় পাহারা দেয়।

পিওএস (পয়েন্ট অফ সেল) টার্মিনালগুলো সমস্ত শহর এবং এমনকি ছোট শহরগুলোর দোকানে ও ব্যাপকভাবে উপলব্ধ। এই মেশিনগুলি আমেরিকান এক্সপ্রেস, ডিসকভার, ডাইনার্স ক্লাব, জেসিবি, মাস্টারকার্ড এবং ভিসা সহ সমস্ত প্রধান ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড গ্রহণ করে।

কেনাকাটা[সম্পাদনা]

অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের দোকান হল আড়ং, যাদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় আউটলেট রয়েছে। এখান থেকে বাংলাদেশের স্মারক হিসেবে ও নির্দিষ্ট দামে স্টাইলিশ পাঞ্জাবি, কুর্তা বা সালোয়ার কামিজ কেনার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা। মহিলারা একটি মার্কেটে প্রায় ৪০০ টাকায় বা দোকানে ৮০০-১৫০০ টাকা দিয়ে একটি সুতির সালোয়ার কামিজ কিনতে পারেন। সিল্ক আরও ব্যয়বহুল।

শপিং মলগুলো স্থানীয় এবং বিদেশীদের কাছে জনপ্রিয়। বাংলাদেশে বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম শপিং মল রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে অবস্থিত, যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক এবং পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। এগুলোর ভিতরে প্রচুর হস্তশিল্প এবং বুটিক দোকান রয়েছে। ইস্টার্ন প্লাজা এবং মোতালিব প্লাজা সর্বশেষ আনলক করা স্মার্টফোন; স্মার্টফোন ওয়ারেন্টি সাপোর্ট বা মেরামত এবং স্যামসাং, এইচটিসি, অপ্পো ইত্যাদির মতো প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির সমস্ত ধরণের স্মার্টফোন ও আনুষঙ্গিক গ্যাজেটের জন্য জনপ্রিয়। আইফোনের জন্য বাংলাদেশে অ্যাপলের নিজস্ব পরিবেশক রয়েছে। সারা দেশে এবং আরও অসংখ্য শপিং মল রয়েছে। কখনও কখনও বিদেশীদের কাছ থেকে বেশি দাম চাওয়া হতে পারে, তবে আপনার কাছ থেকে সাধারণত এমন দাম চাওয়া হবে না, যা আপনি দিতে পারবেন না। সাধারণত স্থানীয়রা যা দাম প্রদান করে তার চেয়ে সামান্য বেশি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ আইটেমের দামের পার্থক্য প্রায়শই কয়েক মার্কিন সেন্টের ব্যাপার।