বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিভ্রমণ থেকে

ফিলিপাইন (Philippines) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এখানে প্রায় ৭,৬৪১টি দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয় – লুজন, ভিসায়াস, এবং মিন্দানাও। দ্বীপগুলির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, মনোরম সৈকত, আগ্নেয়গিরি, প্রাচীন ধানক্ষেত, রঙিন উৎসব, আর আতিথেয়তাপূর্ণ মানুষ – সব মিলিয়ে এটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।

বিশ্ব মানচিত্রে ফিলিপাইনের অবস্থান
চিত্র:Ph locator map.png
ফিলিপাইনের মানচিত্র

ভূমিকা

[সম্পাদনা]

ফিলিপাইনের ইতিহাসে স্প্যানিশ উপনিবেশ, আমেরিকান শাসন, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি আছে। বর্তমানে এটি একটি বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র। এখানকার মানুষ অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন এবং ইংরেজি ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]

ফিলিপাইনকে ৩টি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়:

  • লুজন – রাজধানী ম্যানিলা, ঐতিহাসিক Intramuros, Banaue Rice Terraces, মায়ন আগ্নেয়গিরি।
  • ভিসায়াস – বোরাকাই, বোহোলের চকলেট হিলস, সেবু শহর।
  • মিন্দানাও – দাভাও, মাউন্ট আপো, কামিগুইন দ্বীপ।
চিত্র:Philippines regions map.png
ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চলসমূহ

প্রধান শহরসমূহ

[সম্পাদনা]
  • ম্যানিলা – রাজধানী শহর, আধুনিকতা ও ইতিহাসের মিশ্রণ।
  • সেবু সিটি – ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাস ও ভিসায়াসের কেন্দ্র।
  • দাভাও – মাউন্ট আপো ও প্রকৃতির সৌন্দর্য।
  • বাগুইও – পাহাড়ি শহর, ঠাণ্ডা আবহাওয়া।
  • ভিগান – ইউনেস্কো ঐতিহ্য শহর, স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য।

দেখার মতো স্থান

[সম্পাদনা]
  • বোরাকাই হোয়াইট বিচ – বিশ্বের সেরা সৈকতগুলির মধ্যে একটি।
  • পালাওয়ান এল নিডো – নীল জল, চুনাপাথরের পাহাড় ও দ্বীপপুঞ্জ।
  • বোহোল চকলেট হিলস – প্রাকৃতিক অদ্ভুত শঙ্কু আকৃতির পাহাড়।
  • বানাউ ধানক্ষেত – পাহাড় কেটে তৈরি প্রাচীন ধানক্ষেত।
  • মায়ন আগ্নেয়গিরি – নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির জন্য পরিচিত।
  • কামিগুইন দ্বীপ – ঝর্ণা, হট স্প্রিংস, আগ্নেয়গিরি।
বোরাকাই সৈকত
পালাওয়ান – এল নিডো
চিত্র:Chocolate Hills Bohol.jpg
চকলেট হিলস, বোহোল
বানাউ ধানক্ষেত
চিত্র:Mayon Volcano in Albay, Philippines.jpg
মায়ন আগ্নেয়গিরি

প্রবেশ

[সম্পাদনা]
বিমানযোগে
Ninoy Aquino International Airport (MNL, ম্যানিলা), Mactan-Cebu International Airport (CEB, সেবু), Davao International Airport (DVO)।
সমুদ্রপথে
কিছু আন্তর্জাতিক ক্রুজ জাহাজ সরাসরি ম্যানিলা ও সেবুতে আসে।
  • দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা-ফ্রি প্রবেশ সুবিধা রয়েছে।
  • দীর্ঘ সময় থাকার জন্য পর্যটন ভিসা প্রয়োজন।

চলাচল

[সম্পাদনা]
  • বিমান – দ্বীপগুলির মধ্যে ভ্রমণের জন্য দ্রুততম উপায়।
  • ফেরি ও নৌকা – দ্বীপান্তর পরিবহন।
  • বাস – বড় দ্বীপে দীর্ঘ যাত্রার জন্য।
  • জিপনি – স্থানীয় প্রতীকী পরিবহন।
  • ট্রাইসাইকেল – ছোট দূরত্বে ভ্রমণের জন্য।

করণীয়

[সম্পাদনা]
  • পালাওয়ানে ডাইভিং ও আইল্যান্ড হপিং।
  • বানাউ ধানক্ষেত ট্রেকিং।
  • বোরাকাই সৈকতে সানসেট উপভোগ।
  • দাভাওতে ফিলিপাইন ঈগল সেন্টার দেখা।
  • সেবুর সিনুলোগ উৎসবে যোগদান।

খাবার

[সম্পাদনা]
  • আদোবো – ভিনেগার ও সয়াসসে রান্না করা মাংস।
  • লেচন – ভাজা শুকরের মাংস।
  • সিনিগাং – টক স্বাদের স্যুপ।
  • হালো-হালো – বরফকুচি ও ফলের মিষ্টান্ন।
চিত্র:Lechon Philippines.jpg
ফিলিপাইনের বিখ্যাত লেচন
হালো-হালো, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন

পানীয়

[সম্পাদনা]
  • সান মিগুয়েল বিয়ার – স্থানীয় জনপ্রিয় বিয়ার।
  • তুবা – নারকেল রস থেকে তৈরি পানীয়।

থাকার ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

ম্যানিলা ও সেবুতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, পালাওয়ান ও বোরাকাইতে সমুদ্র তীরবর্তী রিসোর্ট, আর গ্রামাঞ্চলে সস্তা গেস্টহাউস প্রচলিত।

ব্যবহারিক তথ্য

[সম্পাদনা]
  • মুদ্রা – ফিলিপাইন পেসো (PHP)।
  • ভাষা – ফিলিপিনো (তাগালগ) ও ইংরেজি সরকারি ভাষা।
  • সেরা ভ্রমণের সময় – নভেম্বর থেকে এপ্রিল (শুকনো মৌসুম)।
  • ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক – প্রধান সেবা প্রদানকারী Globe ও Smart।

নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]
  • বড় শহরে পকেটমার থেকে সতর্ক থাকুন।
  • দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলে মাঝে মাঝে অস্থিতিশীলতা থাকে।
  • জরুরি নাম্বার: ৯১১
  • সিনুলোগ উৎসব (সেবু) – জানুয়ারি।
  • আতি-আতিহান উৎসব (কালিবো) – জানুয়ারি।
  • পানাগবেনগা (ফুল উৎসব) (বাগুইও) – ফেব্রুয়ারি।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]