বিষয়বস্তুতে চলুন

1.29103.82
উইকিভ্রমণ থেকে
এশিয়া > দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া > সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর

পরিচ্ছেদসমূহ

সিঙ্গাপুর (চীনা: 新加坡; মালয়: Singapura; তামিল: சிங்கப்பூர்) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি নগর-রাষ্ট্র। ১৮১৯ সালে ব্রিটিশ বাণিজ্য উপনিবেশ হিসেবে আধুনিক সিঙ্গাপুর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি এখানে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়; জমজমাট হকার সেন্টার এবং ২৪ ঘণ্টার কফি শপে এশিয়ার নানা অঞ্চলের সাশ্রয়ী খাবার পাওয়া যায়। সুউচ্চ অট্টালিকা ও আধুনিক পাতাল রেল ব্যবস্থা, চীনা, মালয় ও ভারতীয় প্রভাব মিশ্রিত এশীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, উষ্ণমণ্ডলীয় আবহাওয়া, সুস্বাদু খাবার, ভালো কেনাকাটার সুযোগ এবং প্রাণবন্ত নৈশজীবন—সব মিলিয়ে এই "উদ্যান নগর" ভ্রমণকারীদের জন্য এক অসাধারণ বিরতি বা পুরো অঞ্চলে প্রবেশের দ্বার হিসেবে পরিচিত।

দেশটির সুনিয়ন্ত্রিত ও পূর্বানুমেয় পরিবেশ নিয়ে অনেকের কাছে খানিকটা একঘেয়েমির সুনাম রয়েছে। তথাপি ‘‘এশিয়ার সুইজারল্যান্ড’’ নামে খ্যাত সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশৃঙ্খলা, অস্বচ্ছলতা ও দারিদ্র্য থেকে অনেকের কাছে এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ প্রদান করে। চকচকে পরিচ্ছন্নতার আড়াল সরিয়ে এবং প্রচলিত পর্যটন পথ থেকে সরে গেলে দ্রুতই বোঝা যায়—বিশ্বের অল্প কয়েকটি নগর-রাষ্ট্রের একটি সিঙ্গাপুর, যেখানে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে।

সিঙ্গাপুরকে কখনও লিটল রেড ডট বলা হয় (প্রথমে ইন্দোনেশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. জে. হাবিবি এটি অবমাননাকর অর্থে ব্যবহার করেছিলেন), আবার কখনও সিংহ নগরী বলা হয় (যা মূল সংস্কৃত নামের আক্ষরিক অনুবাদ)। ছয় মিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে এটি একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। সিঙ্গাপুর একটি ঘনবসতিপূর্ণ নগরী; আসলে এটি মোনাকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ। তবে অন্যান্য অনেক ঘনবসতিপূর্ণ দেশের তুলনায় সিঙ্গাপুরের ৫০% এরও বেশি এলাকা সবুজে আচ্ছাদিত, যেখানে রয়েছে ৫০টিরও বেশি প্রধান উদ্যান এবং ৪টি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা। এর ফলে দেশটি প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউয়ের স্বপ্নের মতো এক মনোমুগ্ধকর উদ্যানের নগরীতে রূপ নিয়েছে। সারা দ্বীপজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ আবাসিক টাউনশিপ। শহরের কেন্দ্র অংশ দক্ষিণে অবস্থিত এবং এতে রয়েছে অরচার্ড রোডের কেনাকাটা অঞ্চল, রিভারসাইড, নতুন মেরিনা বে এলাকা এবং সুউচ্চ ভবনঘেরা শেন্টন ওয়ে আর্থিক জেলা। এসবকেই সংক্ষেপপ্রিয় সিঙ্গাপুরে সিবিডি (সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট) নামে অভিহিত করা হয়।

সিঙ্গাপুর সিবিডি

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
সিঙ্গাপুর নগরকেন্দ্রের মানচিত্র। স্থির মানচিত্র

 রিভারসাইড (সিভিক জেলা)
সিঙ্গাপুরের ঔপনিবেশিক কেন্দ্র। এখানে জাদুঘর, ভাস্কর্য ও থিয়েটার রয়েছে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, বার ও ক্লাবও আছে, যেগুলো মূলত বোট কুই ও ক্লার্ক কুইয়ের সিঙ্গাপুর নদীর তীরে অবস্থিত।
 অরচার্ড রোড
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক অসংখ্য শপিং মল। পূর্ব প্রান্তে রয়েছে ব্রাস বাসাহ জেলা শিল্প ও সংস্কৃতির একটি চলমান প্রকল্প।
 মেরিনা বে
মেরিনা বে স্যান্ডস সমন্বিত রিসোর্ট (হোটেল, ক্যাসিনো, শপিং মল, কনভেনশন সেন্টার ও জাদুঘর) দ্বারা প্রাধান্যপ্রাপ্ত এলাকা। এখানে রয়েছে ভবিষ্যতধর্মী গার্ডেন্স বাই দ্য বে ও মেরিনা ব্যারাজ। সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার ও এসপ্ল্যানেড থিয়েটারসহ মেরিনা বে গড়ে তুলেছে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রতীকী আকাশরেখা।
 বুগিস ও কামপং গ্লাম
বুগিস ও কামপং গ্লাম সিঙ্গাপুরের প্রাচীন মালয় অঞ্চল। দিনে কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয় হলেও রাতে এলাকাটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
 চায়নাটাউন
এলাকাটি র‍্যাফলস কর্তৃক চীনা বসতির জন্য নির্ধারিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি একটি চীনা ঐতিহ্যবাহী এলাকা, যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সংস্কারকৃত দোকানঘরগুলো এখন স্থানীয় ও প্রবাসীদের জন্য আধুনিক আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 লিটল ইন্ডিয়া
শহরের মূল কেন্দ্রের উত্তরে অবস্থিত একটি ছোট্ট ভারতীয় অঞ্চল।

সিঙ্গাপুরের বাইরের অংশ

[সম্পাদনা]
মানচিত্র
সিঙ্গাপুরের বাইরের এলাকার মানচিত্র। স্থির মানচিত্র

সিঙ্গাপুরের মূল নগরকেন্দ্রের বাইরে দেখার মতো আরও অনেক কিছু রয়েছে—এইচডিবি (গৃহায়ন ও উন্নয়ন বোর্ড) আবাসিক এলাকা, যেখানে জনপ্রিয় হকার খাবার থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা পর্যন্ত বিদ্যমান। এছাড়াও পূর্ব উপকূল ও সেন্তোসার পার্ক ও সমুদ্রসৈকতে অবসর কাটানো যায়।

 সেন্টোসা ও হারবারফ্রন্ট
এটি একসময় সামরিক দুর্গ ছিল, বর্তমানে যা একটি জনপ্রিয় রিসোর্ট দ্বীপে রূপান্তরিত হয়েছে। সেন্টোসাকে প্রায়শই সিঙ্গাপুরের ডিজনিল্যান্ড বলা হয়, যেখানে যুক্ত হয়েছে ক্যাসিনো এবং ইউনিভার্সাল স্টুডিওস থিম পার্ক। অপর পাড়ে রয়েছে মাউন্ট ফ্যাবার এবং সাউদার্ন রিজেস, যেখানে স্থানীয় বানরদের সাথে একটি শহুরে গাছের চূড়ায় হাঁটা। এ নিবন্ধে সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ দ্বীপগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর কয়েকটিতে পর্যটকদের জন্য ফেরি যোগে পৌঁছানো যায়।
 পূর্ব উপকূল
দ্বীপের পূর্বাঞ্চল মূলত আবাসিক এলাকা। এখানে রয়েছে চাঙ্গি বিমানবন্দর, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত এবং অসংখ্য বিখ্যাত খাবারের দোকান। এই অঞ্চলে রয়েছে গেইলাং সেরাই, যা সিঙ্গাপুরের মালয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এবং পুলাউ উবিন দ্বীপ, যা সিঙ্গাপুরের অতীতের গ্রামীণ চিত্র সংরক্ষণ করছে।
 উত্তর ও পশ্চিম
দ্বীপের উত্তরাংশ উডল্যান্ডস এবং পশ্চিমাংশ জুরং নামে পরিচিত। এগুলো মূলত সিঙ্গাপুরের আবাসিক ও শিল্পাঞ্চল। এ অঞ্চলের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হলো ম্যান্ডাই কমপ্লেক্স, যেখানে সিঙ্গাপুরের চারটি প্রধান চিড়িয়াখানা অবস্থিত।
 বালেস্তিয়ার, নিউটন, নোভেনা ও তোয়া পায়োহ
এখানে সাশ্রয়ী আবাসন ও বার্মিজ মন্দির রয়েছে, যা কেন্দ্রস্থ সিঙ্গাপুর থেকে সহজে পৌঁছানো যায়। তোয়া পায়োহ সিঙ্গাপুরের প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার একটি, যেখানে ঘুরে দেখা যায় স্থানীয় হাউজিং এস্টেট ও সিঙ্গাপুরের নিজস্ব শহরকেন্দ্র নকশা।

ঠিকানা

[সম্পাদনা]

শহরের কেন্দ্রে সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবস্থা ইংরেজিভাষী অন্যান্য দেশের মতোই প্রায় একই (যেমন: 17 Orchard Road)। তবে শহরতলির নতুন আবাসিক এলাকাগুলোর ঠিকানা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে: একটি সাধারণ ঠিকানা হতে পারে "Blk 505 Bedok Nth Ave 3 #19-315"। এখানে "Blk 505" হলো আবাসিক ভবনের নম্বর (Blk = Block), "Bedok Nth Ave 3" হলো রাস্তার নাম ও নম্বর, আর "#19-315" অর্থ ১৯তম তলায় ৩১৫ নম্বর ফ্ল্যাট। ভবন নম্বর এবং রাস্তার নম্বর—উভয়ের প্রথম অঙ্কই এলাকাটির কোড নির্দেশ করে (এক্ষেত্রে ৫), যা সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করতে সুবিধা দেয়। সিঙ্গাপুরে ছয় অঙ্কের পোস্টাল কোড ব্যবহৃত হয়, যেখানে শেষ তিন অঙ্ক নির্দিষ্ট একটি ভবনকে নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, "Blk 181 Bedok North Rd" হলো "Singapore 460181"। ঠিকানায় প্রায়ই মালয় শব্দও পাওয়া যায়: সবচেয়ে প্রচলিত শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে Jalan (Jln) অর্থাৎ "রাস্তা", Lorong (Lor) অর্থাৎ "গলি", Bukit (Bt) অর্থাৎ "পাহাড়" এবং Kampong (Kg) অর্থাৎ "গ্রাম"।

ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য কার্যকর কিছু অনলাইন টুল হলো StreetDirectory.com, GoThere.sg এবং OneMap.sg। এসব সাইটে ঠিকানা লিখতে গেলে "Blk" এবং ইউনিট নম্বর বাদ দেওয়াই যথেষ্ট: শুধু "505 Bedok Nth Ave 3" লিখাই যথেষ্ঠ।

জানুন

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুর সিবিডি আকাশরেখা

সিঙ্গাপুর হলো এশিয়ার এক ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, যেখানে চীনা, মালয়, ভারতীয় এবং সারা বিশ্বের বিপুলসংখ্যক কর্মী ও প্রবাসীরা বসবাস করেন। মাত্র এক ঘণ্টায় দেশটি এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে অতিক্রম করা যায়। ২০১৫ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনকারী সিঙ্গাপুর প্রায়শই সামাজিক উদ্বেগের চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশাল প্রকল্প যেমন মেরিনা বে স্যান্ডস এবং রিসর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্টোসা নির্মাণের মাধ্যমে ভূমির ক্রমাগত পুনঃব্যবহার ও পুনঃউন্নয়নকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং দেশটি এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তবে একইসঙ্গে বালেস্তিয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে—যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে প্রথম সিঙ্গাপুরের লিখিত ইতিহাসের উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রিক ও চীনা গ্রন্থে যথাক্রমে সাবানা এবং পু লুও চুং নামে দ্বীপটির অস্পষ্ট অবস্থান বর্ণিত হয়। কিংবদন্তি মতে, শ্রীবিজয়ান রাজপুত্র সাং নিলা উৎমা ত্রয়োদশ শতকে দ্বীপটিতে অবতরণ করেন। তিনি সেখানে এক অদ্ভুত প্রাণী দেখেন, যেটিকে তিনি সিংহ ভেবেছিলেন। এরপর তিনি শহরটির নাম দেন ‘‘সিঙ্গাপুরা’’—সংস্কৃত ভাষায় যার অর্থ ‘সিংহ নগরী’। তবে বাস্তবে সিঙ্গাপুর বা মালয় অঞ্চলে কখনও সিংহ ছিল না; প্রাণীটি সম্ভবত বাঘ বা বন্য শূকর ছিল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, এর অন্তত দুই শতক আগে থেকেই দ্বীপটিতে বসতি গড়ে উঠেছিল। তখন এর নাম ছিল তেমাসেক, যার জাভানি অর্থ ‘‘সমুদ্র নগরী’’। এটি শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল। কিন্তু প্রায় ১৪০০ সালের দিকে শ্রীবিজয়ার পতনের পর তেমাসেকও সিয়ামমজাপাহিত সাম্রাজ্যের সংঘর্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং গুরুত্ব হারায়। পরে ‘‘সিঙ্গাপুরা’’ নামে এটি আবার স্বল্প সময়ের জন্য মালাক্কা ও পরবর্তীতে জহর সুলতানাতের বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু পর্তুগিজ আক্রমণে বসতিটি ধ্বংস হয় এবং দ্বীপটি আবারও বিস্মৃতির অন্ধকারে ডুবে যায়।

আধুনিক সিঙ্গাপুরের গল্প শুরু হয় ১৮১৯ সালে, যখন ব্রিটিশ কর্মকর্তা স্যার থমাস স্ট্যামফোর্ড র‍্যাফেলস জহুর সুলতানাতের এক সিংহাসন দাবিদারের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশরা তাকে সমর্থন করবে, আর এর বিনিময়ে দ্বীপে বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের অধিকার পাবে। যদিও ওলন্দাজরা আপত্তি জানায়, শেষ পর্যন্ত ১৮২৪ সালে ইংরেজ-ওলন্দাজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যাতে মালয় অঞ্চলের প্রভাববলয় ভাগ হয়ে যায়। এর ফলে বর্তমান মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া সীমান্ত গঠিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে ডাচরা সিঙ্গাপুরের দাবী ছেড়ে দেয় এবং মালাক্কা ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেয়; বিনিময়ে ব্রিটিশরা সুমাত্রার উপনিবেশ ডাচদের হাতে দেয়।

রাজধানী সিঙ্গাপুর
মুদ্রা সিঙ্গাপুর ডলার (SGD)
জনসংখ্যা ৫.৮ মিলিয়ন (2021)
বিদ্যুৎ ২৩০ ভোল্ট / ৫০ হার্জ (বিএস ১৩৬৩)
দেশের কোড +65
সময় অঞ্চল ইউটিসি+০৮:০০, Singapore Standard Time, Asia/Singapore
জরুরি নম্বর 995 (দমকল বাহিনী, জরুরি চিকিৎসা সেবা), 999 (পুলিশ)
গাড়ি চালানোর দিক বাম

মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত হওয়ায়, র‍্যাফেলসের সবচেয়ে বড় কৌশল ছিল সিঙ্গাপুরকে ‘‘মুক্ত বন্দর’’ ঘোষণা করা—যেখানে বাণিজ্যে কোনও শুল্ক নেওয়া হতো না। ওলন্দাজদের ভারী কর থেকে বাঁচতে অসংখ্য ব্যবসায়ী এখানে আসতে শুরু করে এবং অল্প সময়েই সিঙ্গাপুর এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়। পেনাংমালাক্কার সঙ্গে এটি মিলে ‘‘স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস’’ নামে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের একটি রত্নে পরিণত হয়। পরে মালয়ের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পাম তেল ও রাবার প্রক্রিয়াজাত হয়ে সিঙ্গাপুর দিয়ে রপ্তানি হতে থাকে, যা অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। ১৮৬৭ সালে ‘‘স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস’’ ব্রিটিশ ভারতের অংশ থেকে পৃথক হয়ে সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউন কলোনি হিসেবে শাসিত হতে থাকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ‘‘ফর্ট্রেস সিঙ্গাপুর’’কে শক্তিশালী ব্রিটিশ ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো। সমুদ্রপথ রক্ষায় বিশাল দুর্গ থাকলেও আসল নৌবহর ব্রিটেনেই আটকে ছিল। জাপানিরা কৌশলে মালয় উপদ্বীপ বাইসাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করে আসে। উত্তর দিক থেকে আক্রমণের জন্য ব্রিটিশরা প্রস্তুত ছিল না। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ের যুদ্ধে সরবরাহ ফুরিয়ে গেলে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২ সালে সিঙ্গাপুর আত্মসমর্পণ করে। উপনিবেশের শাসকেরা চাঙ্গি কারাগারে বন্দী হন এবং পরবর্তী নির্মম দখলদারিত্বে হাজার হাজার সিঙ্গাপুরবাসী প্রাণ হারান। ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশরা ফিরে এলেও স্পষ্ট হয়ে যায়, তাদের শাসনের দিন শেষের পথে।

১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরকে স্বশাসনের অধিকার দেওয়া হয়। ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশরা চলে গেলে এটি সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দেয়। কিন্তু ১৯৬৪ সালের দুটি রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর চীনা সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটি মালয় আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে হওয়ায় সিঙ্গাপুরকে বহিষ্কার করা হয়। ফলস্বরূপ ৯ আগস্ট ১৯৬৫ সালে দ্বীপটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়—এবং আধুনিক ইতিহাসে একমাত্র দেশ হিসেবে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভ করে। পরবর্তী ২৫ বছর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউর কঠোর নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোয়। প্রাকৃতিক সম্পদ প্রায় না থাকলেও দেশটি এশিয়ার অন্যতম ধনী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং চার এশীয় বাঘের একটি হিসেবে পরিচিতি পায়। শাসক পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) এখনও সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক স্বাধীনতার ভারসাম্য ভবিষ্যতে কীভাবে রূপ নেবে, তা সময়ই বলবে।

আধুনিক সময়ে সিঙ্গাপুর নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশ্বশক্তির স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। এর ফলে সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সংবেদনশীল বৈঠকের জন্য ‘‘এশিয়ার সুইজারল্যান্ড’’ নামে পরিচিত হয়েছে। যেমন—২০১৫ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জিউর বৈঠক, এবং ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের ঐতিহাসিক বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

সিঙ্গাপুর নিজেকে একটি বহুজাতি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে গর্ব করে, যেখানে দেশটি আয়তনে আকারে ছোট হলেও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য রয়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সিঙ্গাপুরীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ হলো চীনা (প্রায় ৭৫%), যাদের মধ্যে প্রধান হল হক্কিয়েন, তিওচিউ এবং ক্যান্টনিজ ভাষাভাষীরা। এই সম্প্রদায়ের প্রচলিত ভাষা হিসেবে মান্দারিন ব্যবহৃত হয়। চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য উপভাষার গ্রুপ রয়েছে, যেমন হাকা, হাইনানিজ, ফুচৌ এবং হেংহুয়া। মালয়রা—যাদের মধ্যে আদি সিঙ্গাপুরীয় বাসিন্দাদের বংশধরসহ বর্তমান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই থেকে আগতরা অন্তর্ভুক্ত—যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪%। ভারতীয়রা (যাদের মধ্যে আধুনিক পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা থেকে আগতরাও রয়েছেন) প্রায় ৯%। ভারতীয়দের মধ্যে তামিলরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী, তবে মালয়ালম, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, সিন্ধি ও হিন্দির মতো অন্যান্য ভারতীয় ভাষাভাষীও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আছেন। বাকি জনসংখ্যা হলো নানা সংস্কৃতির মিশ্রণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউরেশিয়, যারা ইউরোপীয় ও এশীয় বংশোদ্ভূত, এবং পেরানাকান বা স্ট্রেইটস চাইনিজরা, যাদের শিকড় চীনা ও মালয় মিশ্রণে। আরও কিছু ছোট সম্প্রদায় রয়েছে—যেমন পারসি, আরব (যাদের বেশিরভাগের বংশধর আধুনিক ইয়েমেনের হাদরামাউত অঞ্চল থেকে) এবং ইহুদি (যাদের অধিকাংশের পূর্বপুরুষ আধুনিক ইরাকের বাগদাদ থেকে; যদিও বর্তমানে স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়কে ছাড়িয়ে গেছে ইসরায়েল ও পাশ্চাত্যের প্রবাসী ইহুদিরা)।

মেরিনা বে স্যান্ডস এবং সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার

সিঙ্গাপুর সবসময় উন্মুক্ত দেশ ছিল, এবং এখানকার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাইরে থেকে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বার্মিজ, জাপানি, থাইসহ আরও অনেকে। এখানে প্রচুর ফিলিপিনোও বসবাস করে, যাদের অনেকে সেবাখাতে বা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। রবিবারে, তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, শহরের বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে—বিশেষত অরচার্ড রোডের লাকি প্লাজা নামের শপিং মলে—আনন্দে ভরা হাসি-খুশি ও গল্পে মেতে ওঠা ফিলিপিনা নারীদের দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও ভারত থেকে অভিবাসনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসন্তোষ এবং কেবল মান্দারিন-ভাষী জনসংখ্যার বড় অংশ তৈরি হয়েছে।

কিছু পরিমাপে সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের সবচেয়ে ধর্মীয়ভাবে বৈচিত্র্যময় দেশ বলা হয়, কারণ এখানে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বৌদ্ধধর্ম সবচেয়ে বড় ধর্ম, যেখানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগণ নিজেদের বৌদ্ধ হিসেবে পরিচয় দেয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ধর্ম হলো খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, হিন্দুধর্ম ও তাওবাদ। এই "পাঁচটি প্রধান" ধর্মের বাইরে সরকারিভাবে স্বীকৃত আরও কয়েকটি ধর্ম রয়েছে—যেমন শিখধর্ম, জরথুস্ত্রবাদ, ইহুদি ধর্ম, বাহাই ধর্ম ও জৈনধর্ম। প্রায় ১৭% সিঙ্গাপুরীয় কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেন না (স্থানীয়ভাবে যাদের বলা হয় "ফ্রি থিঙ্কার")।

আবহাওয়া

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুর
জলবায়ু চার্ট (ব্যাখ্যা)
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
২২২
 
 
৩১
২৪
 
 
 
১০৫
 
 
৩২
২৫
 
 
 
১৫২
 
 
৩২
২৫
 
 
 
১৬৪
 
 
৩২
২৫
 
 
 
১৬৪
 
 
৩২
২৬
 
 
 
১৩৫
 
 
৩২
২৬
 
 
 
১৪৭
 
 
৩১
২৫
 
 
 
১৪৭
 
 
৩১
২৫
 
 
 
১২৫
 
 
৩২
২৫
 
 
 
১৬৮
 
 
৩২
২৫
 
 
 
২৫২
 
 
৩১
২৫
 
 
 
৩৩২
 
 
৩১
২৪
°C-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in mm
উৎস: w:সিঙ্গাপুর#আবহাওয়া
Imperial conversion
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
৮.৭
 
 
৮৭
৭৬
 
 
 
৪.১
 
 
৮৯
৭৬
 
 
 
 
 
৯০
৭৭
 
 
 
৬.৫
 
 
৯০
৭৮
 
 
 
৬.৫
 
 
৯০
৭৮
 
 
 
৫.৩
 
 
৮৯
৭৮
 
 
 
৫.৮
 
 
৮৯
৭৮
 
 
 
৫.৮
 
 
৮৯
৭৮
 
 
 
৪.৯
 
 
৮৯
৭৭
 
 
 
৬.৬
 
 
৮৯
৭৬
 
 
 
৯.৯
 
 
৮৮
৭৬
 
 
 
১৩
 
 
৮৭
৭৬
°F-এ গড় উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
Precipitation+Snow totals in inches

সিঙ্গাপুর নিরক্ষরেখার ১°১৭' উত্তর দিকে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয়। সারা বছর আবহাওয়া প্রায় একই রকম থাকে—বেশিরভাগ সময়ই রৌদ্রজ্জ্বল, ঋতু পরিবর্তনের তেমন কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়, সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং প্রবলভাবে নামে, তবে সচরাচর এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় না। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর সময় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়, তখন অনেক সময় টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হতে পারে। সারা বছরই বজ্রঝড় দেখা যায়, যেগুলি সাধারণত দিনের যেকোনো সময় হতে পারে। তাই সবসময় ছাতা সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ—যা আপনাকে রোদ থেকেও বাঁচায়, আবার বৃষ্টি থেকেও।

মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেশী সুমাত্রার জঙ্গলে আগুন লাগলে ঘন কুয়াশার মতো ধোঁয়া সিঙ্গাপুরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এটি নিয়মিত নয়, হঠাৎ আসে এবং দ্রুতই মিলিয়েও যায়। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে জাতীয় পরিবেশ সংস্থা জাতীয় পরিবেশ সংস্থা]-র ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া ভালো।

তাপমাত্রা গড়ে থাকে প্রায়:

  • ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দিনে ৩১ °সে (৮৮ °ফা), রাতে ২৪.৫ °সে (৭৬.১ °ফা)
  • বছরের বাকি সময় দিনে ৩২.৫ °সে (৯০.৫ °ফা), রাতে ২৫.৫ °সে (৭৭.৯ °ফা)

সিঙ্গাপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে, ১৯.৪ °সে (৬৬.৯ °ফা)। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে, ৩৭ °সে (৯৯ °ফা)

উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, সঙ্গে বাতাসের অভাব এবং রাতে তাপমাত্রা না কমার কারণে শীতপ্রধান অঞ্চলের পর্যটকদের জন্য এটি বেশ কষ্টকর হতে পারে। এক ঘণ্টার বেশি সময় বাইরে থাকলে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, বিশেষত হাঁটাহাঁটি বা সামান্য ব্যায়াম করলে। সিঙ্গাপুরবাসীরাও যথার্থ কারণেই এই গরম এড়িয়ে চলেন। অনেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্ল্যাটে থাকেন, অফিস করেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে, মেট্রো চড়েন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত-কোচে, যান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলে—যেগুলো আবার প্রায়শই ভূগর্ভস্থ টানেলের মাধ্যমে একটি অপরটির সঙ্গে যুক্ত। সেখানে তারা কেনাকাটা করেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, ব্যায়াম করেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত-ব্যায়ামাগারে। কেবল ভোরবেলা বা রাতে বাইরে বের হন। তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থেকে বাঁচতে চাইলে তাদের এই অভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।

পরিমাপের একক

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে প্রায় সব ক্ষেত্রেই মেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যিক পদ্ধতির দুটি ব্যবহার এখনো দেখা যায়—সম্পত্তির আয়তন এখনো বর্গফুটে পরিমাপ করা হয়, আর পোশাকের বিজ্ঞাপনে মাপ ইঞ্চিতে উল্লেখ করা হয়।

রাজনীতি

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র, যা ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার ব্যবস্থার আদলে গড়ে উঠেছে। তবে ব্রিটেনের মতো এখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ নেই; সিঙ্গাপুরের সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট। এতে ৯৭ জন সরাসরি নির্বাচিত সদস্য থাকে, যাদের সংসদ সদস্য (এমপি) বলা হয়। এছাড়াও কিছু সংখ্যক মনোনীত সদস্য (এনএমপি) থাকেন, যাদের ভোটাধিকার সীমিত। যদি কোনো নির্বাচনে বিরোধী দল অন্তত ১২টি আসন না জেতে, তবে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে সংসদে নেওয়া হয় যাতে বিরোধী পক্ষের সংখ্যা কমপক্ষে ১২ হয়। এদের “সেরা পরাজিত” বা নন-কনস্টিটিউয়েন্সি সংসদ সদস্য (এনসিএমপি) বলা হয়।

রাষ্ট্রপতি সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপ্রধান এবং তিনি প্রতি ছয় বছর অন্তর সরাসরি নির্বাচিত হন। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে আগে সরকারি মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে হবে, অথবা কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিংবা পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য মানুষের সংখ্যা অনেক সীমিত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক; সরকারের কার্যকর ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান এবং সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন প্রাপ্ত দলের নেতা হন। স্বাধীনতার পর থেকে একমাত্র শাসক দল হলো পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি), যা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি মধ্য-ডানপন্থী দল। সংসদ নির্বাচন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হয়, যদিও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় আগাম নির্বাচনও ডাকা যেতে পারে। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা বিরোধীদের জন্য শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন করে তোলে। তা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের নির্বাচন সাধারণত দুর্নীতি ও কারচুপিমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হলো মধ্য-বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি), যারা ২০১১ সাল থেকে সংসদে নির্বাচিত আসন ধরে রেখেছে। সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় ইউনিফর্ম ব্যবহার। পিএপি প্রার্থীরা সাদা পোশাক পরেন, যা পরিচ্ছন্ন শাসনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরা হালকা নীল শার্ট ও কালো প্যান্ট পরেন, যা শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংহতির প্রতীক।

ছুটির দিন

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর একটি ধর্মনিরপেক্ষ নগররাষ্ট্র হলেও এর বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর কারণে এখানে চীনা, মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান উৎসব পালিত হয়।

গং শি ফা চাই সিঙ্গাপুর ধাঁচে

সিঙ্গাপুরে চীনা নববর্ষ পালনের ধরন কিছুটা ভিন্ন, বিশেষ করে খাবারের দিক থেকে, যা উত্তর চীনের গরম হটপট থেকে বেশ আলাদা। সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো বাক কওয়া, এক ধরনের মিষ্টি স্বাদের বারবিকিউ করা শুকরের মাংস। এর পরেই জনপ্রিয় ইউ শেং, কুচি করা শাকসবজি ও কাঁচা মাছের সালাদ, যা সবাই মিলে আকাশের দিকে ছুড়ে আনন্দের সঙ্গে খাওয়া হয়। পছন্দের মিষ্টান্নের মধ্যে রয়েছে মুচমুচে আনারসের টার্ট আর আঠালো ভাপে বানানো নিয়ান গাও কেক। লাল খামে টাকা (আং পাও) দেওয়ার প্রথা এখনো প্রচলিত, তবে চীনের মতো নয়—সিঙ্গাপুরে কেবল বিয়ের পর থেকেই দিতে হয়।

চায়নাটাউনে নববর্ষের সাজসজ্জা

বছরের সূচনা হয় ১ জানুয়ারির নববর্ষ দিয়ে, যা পশ্চিমাদের মতোই আতশবাজি ও শহরের নানা স্থানে পার্টির মাধ্যমে উদযাপিত হয়। বিশেষভাবে জনপ্রিয় সেন্টোসা দ্বীপের সৈকতে আয়োজিত বন্য ও মজার ফোম পার্টি

চন্দ্র নববর্ষের তারিখ

ড্রাগন বছরের শুরু ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:২৫ এ হয়েছিল এবং লুনার নিউ ইয়ার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এ ছিল

  • সর্প বছর শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২২:১০ এ এবং লুনার নিউ ইয়ার হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৫
  • অশ্ব বছর শুরু হবে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০২ এ এবং লুনার নিউ ইয়ার হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে, জ্যোতিষচক্রের পরিবর্তন লুনার নিউ ইয়ারের প্রথম দিনে ঘটে না, বরং এটি লি চুন (立春 lì chūn)-এ ঘটে, যা ঐতিহ্যগত চীনা বসন্তের শুরু।

চীনা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রভাবে সবচেয়ে বড় উৎসব হলো চীনা নববর্ষ, যা রাজনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য নামে চন্দ্র নববর্ষ বলা হয়। এটি সাধারণত জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে হয়। এই সময় ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় মনে হলেও ছোট দোকান ও খাবারের স্থানগুলো প্রায় ২–৩ দিনের জন্য বন্ধ থাকে। তবে সেভেন-ইলেভেনের মতো কনভিনিয়েন্স স্টোর, সুপারমার্কেট, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সিনেমা, ফাস্টফুড চেইন আর উচ্চমানের রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। পুরো উৎসব ১৫ দিন ধরে চলে, তবে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময় হলো নবচন্দ্রের আগের রাত। তখন গং শি ফা চাই (“অভিনন্দন ও সমৃদ্ধি”) শুভেচ্ছা, লাল ঝালর, কমলা লেবু, বছরের রাশিচক্রের প্রাণীর প্রতীক সর্বত্র দেখা যায়, আর চায়নাটাউন ভরে ওঠে ভিড় আর উৎসবমুখর সাজসজ্জায়। প্রথম দুই দিন পরিবারের সঙ্গে কাটানো হয়, তারপর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়—তবে প্রায় ১০ দিন পর আয়োজিত রঙিন চিংগে শোভাযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি টানে।

চীনা চন্দ্র পঞ্জিকার পঞ্চম মাসের পঞ্চম দিনে পালিত হয় ড্রাগন বোট উৎসব, যা এক চীনা লোকনায়ককে স্মরণ করে। এ সময় সাধারণত চালের পিঠা (বাক চাং) খাওয়া হয়, যা সিঙ্গাপুরে অনেক সময় বাঁশপাতার বদলে সুগন্ধি পাণ্ডান পাতায় মোড়ানো হয়। এছাড়া এই দিনে সিঙ্গাপুর নদীতে ড্রাগন বোট দৌড়ও অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তম মাসে—সাধারণত আগস্টে—পালিত হয় হাংরি ঘোস্ট উৎসব, যখন বিশ্বাস করা হয় পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসে। এ সময় “হেল মানি” পোড়ানো হয় এবং খাবার নিবেদন করা হয়, আর মানুষ একত্র হয়ে ভোজ, নাটক ও চীনা অপেরা উপভোগ করে। এর কিছুদিন পরেই আসে মিড-অটাম ফেস্টিভ্যাল, যা অষ্টম মাসের পূর্ণিমায় (সেপ্টেম্বর/অক্টোবর) পালিত হয়। তখন গার্ডেনস বাই দ্য বে ও চীনা গার্ডেন ভরে ওঠে লণ্ঠনের আলোয়, আর সবাই আনন্দের সঙ্গে খায় ঐতিহ্যবাহী মুনকেক, যা সাধারণত পদ্মবীজের পেস্ট, বাদাম ইত্যাদি দিয়ে ভরা থাকে।

হিন্দুদের আলো উৎসব দীপাবলি, যা এখানে দীপাবলি নামেই পরিচিত, অক্টোবর বা নভেম্বরে পালিত হয় এবং লিটল ইন্ডিয়া সেজে ওঠে আলোয়। জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে পালিত হয় থাইপুসাম, তামিল হিন্দু উৎসব, যেখানে ভক্তরা শরীর ভেদ করে কাঁধে কাভাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। এ যাত্রা শুরু হয় লিটল ইন্ডিয়ার শ্রী শ্রীনিবাসা পেরুমল মন্দির থেকে এবং শেষ হয় ট্যাঙ্ক রোডের শ্রী থান্ডায়ুথাপানি মন্দিরে। নারী ভক্তরা সাধারণত দুধভর্তি কলস বহন করেন। দীপাবলির প্রায় এক সপ্তাহ আগে পালিত হয় থিমিথি, যেখানে পুরুষ ভক্তরা চায়নাটাউনের শ্রী মারিয়াম্মান মন্দিরে অগ্নিপথে হাঁটেন।

রমজান

রমজান হল ইসলামি বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামি উপবাস সাওম পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।

  • ১৮ ফেব্রুয়ারি – ১৯ মার্চ ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি)
  • ৮ ফেব্রুয়ারি – ৮ মার্চ ২০২৭ (১৪৪৮ হিজরি)
  • ২৮ জানুয়ারি – ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৮ (১৪৪৯ হিজরি)
  • ১৬ জানুয়ারি – ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৯ (১৪৫০ হিজরি)

আপনি যদি রমজানের সময় সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করার চিন্তা করে থাকেন, তবে রমজানে ভ্রমণ পড়ে দেখতে পারেন।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র রমজান মাস শেষে পালিত হয় হারি রায়া পুয়াসা (ঈদুল-ফিতর), যা বিশেষভাবে পূর্বাঞ্চলের গেইলাং সেরাই এলাকায় আলো ঝলমলে সাজসজ্জার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। আরেকটি উৎসব হলো হারি রায়া হাজি (ঈদুল-আযহা), যখন মুসলিমরা হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। সিঙ্গাপুরের মসজিদগুলোতে তখন কোরবানি দেওয়া হয়, আর গরিবদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়।

বড়দিনও সিঙ্গাপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এ সময় অরচার্ড রোড ভরে ওঠে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জায়। খ্রিস্টান পরিবারগুলো সাধারণত ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ বড়দিনের খাবার খান—হ্যাম, টার্কি, ইউল লগ বা বড়দিনের কেক। তবে ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের রয়েছে ভিন্নধর্মী খাবারের ঐতিহ্য, যেখানে ডেভিলস কারির মতো নিজস্ব কিছু পদ থাকে। ২০১১ সাল থেকে স্থানীয় রাব্বির অনুরোধে ডিসেম্বর মাসে বড়দিনের সাজসজ্জার পাশাপাশি অরচার্ড রোডে হানুকার জন্য একটি মেনোরাও স্থাপন করা হচ্ছে।

বৌদ্ধদের বেসাক দিবস, যা গৌতম বুদ্ধ শাক্যমুনির জন্মদিন উপলক্ষে পালিত হয়, এবং খ্রিস্টানদের গুড ফ্রাইডেও সরকারি ছুটির দিন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হলো ৯ আগস্টের জাতীয় দিবস, যখন পুরো সিঙ্গাপুর জুড়ে পতাকা উড়ে এবং স্বাধীনতা উদযাপনে চমকপ্রদ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

সিঙ্গাপুরে প্রতি বছর অসংখ্য অনুষ্ঠান ও উৎসব আয়োজিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিঙ্গাপুর ফুড ফেস্টিভ্যাল, সিঙ্গাপুর ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স, সিঙ্গাপুর আর্টস ফেস্টিভ্যাল, চিংগে প্যারেড, ওয়ার্ল্ড গুরমে সামিট এবং জুকআউট

সিঙ্গাপুরে বড়দিনও ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়। এ সময় বিখ্যাত অরচার্ড রোডসহ শহরের প্রধান সড়ক ও শপিং মলগুলো আলোকসজ্জা ও রঙিন সাজসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে। এছাড়া প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে আকর্ষণ করে সিঙ্গাপুর জুয়েল ফেস্টিভ্যাল, যেখানে মূল্যবান রত্ন, বিখ্যাত অলংকার এবং আন্তর্জাতিক জুয়েলার ও ডিজাইনারদের অসাধারণ সৃষ্টি প্রদর্শিত হয়।

পর্যটক তথ্য

[সম্পাদনা]
আরও দেখুন: চীনা বাক্যাংশ বই, মালয় বাক্যাংশ বই, তামিল বাক্যাংশ বই, ইংরেজি ভাষার বৈচিত্র্য
আপনার পাড়ার মানুষ কারা?

প্রধান তিন জাতিগোষ্ঠী — চীনা, মালয় ও ভারতীয় — নিয়মিত আলোচনায় আসে। তবে সিঙ্গাপুরে আরও অনেক সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের নিজস্ব এলাকা (বা শপিং মল) রয়েছে:

আরব: অবশ্যই আরব স্ট্রিট
বার্মিজ: নর্থ ব্রিজ রোডের পেনিনসুলা প্লাজা
মূল ভূখণ্ডের চীনা: গেইলাং (সিঙ্গাপুরের “নতুন চায়নাটাউন”)
ফিলিপিনো: অরচার্ড রোডের লাকি প্লাজা
ফরাসি: সেরাঙ্গুন গার্ডেন্স
ইউরেশীয়: কাটং
ইন্দোনেশীয়: সিটি প্লাজা, পায়া লেবার এমআরটি’র কাছে
জাপানি: রবার্টসন কুয়ে, বিশেষত গ্রেট ওয়ার্ল্ড সিটি শপিং মল, এছাড়া সামারসেট এমআরটির বিপরীতে কাপেজ প্লাজা ও অরচার্ড রোডের তাকাশিমায়া
কোরিয়: তানজং পাগার রোড
পেরানাকান চীনা: কাটং
থাই: অ্যাপেরিয়া মল (ল্যাভেন্ডার স্ট্রিট) এবং সিটি গেট (বিচ রোড)
ভিয়েতনামী: জু চিয়াত রোড

ইংরেজি, চীনা, মালয় ও তামিল ভাষায় লেখা একটি সাইনবোর্ড

মালয় ভাষা সংবিধানে “জাতীয় ভাষা” হিসেবে উল্লেখিত হলেও, বাস্তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষা হলো ইংরেজি। সিঙ্গাপুরের প্রায় সব তরুণ-তরুণীই কমবেশি ইংরেজি বলতে পারে। তবে সিঙ্গাপুরের নিজস্ব কথ্যরূপ সিঙ্গলিশ মাঝে-মাঝে বোঝা কঠিন হতে পারে। এতে চীনা উপভাষা, মালয়, তামিলসহ নানা ভাষার শব্দ মিশে গেছে, আর ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ ও অর্থও অনেক সময় ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। বাক্য গঠনের ধরনও আলাদা, কারণ প্রথম বক্তারা ছিলেন মূলত চীনা, ফলে সিঙ্গলিশ বাক্যগুলোতে চীনা ব্যাকরণের প্রভাব স্পষ্ট। জটিল ব্যঞ্জনধ্বনি সহজ করে বলা হয়, আর্টিকেল ও বহুবচন বাদ দেওয়া হয়, ক্রিয়ার কাল পরিবর্তে ক্রিয়া-বিশেষণ ব্যবহৃত হয়, প্রশ্নের গঠন চীনা সিনট্যাক্স অনুযায়ী হয় এবং ইংরেজির বাইরের পার্টিকেল (বিশেষ করে বহুল পরিচিত "lah") যুক্ত হয়:

সিঙ্গলিশ বাক্য ও তাদের ইংরেজি অর্থ
সিঙ্গলিশ ইংরেজি
You wan beer or not? -- Dunwan lah, dring five bottle oreddi. তুমি কি বিয়ার চাও? -- না, ধন্যবাদ; আমি ইতিমধ্যে পাঁচ বোতল খেয়ে ফেলেছি।
Later wan go mall lepak abit? -- Ok, steady lah! তুমি কি পরে কিছুক্ষণের জন্য মলে আরাম করতে চাও? -- ঠিক আছে!
He today taiko, kena tekan by his boss, so jialat. আজ তার বস তাকে 'ভাগ্যবান' বলে তিরস্কার করেছেন, মনে হচ্ছে তিনি খুব সমস্যায় পড়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে ভাষা শিক্ষার প্রচারণার কারণে তরুণ প্রজন্ম প্রয়োজনে সরকার যাকে বলে সেই “ভালো ইংরেজি” (ব্রিটিশ ধাঁচের) ব্যবহার করতে সক্ষম। অনেক সচ্ছল পরিবার তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়। কারও মনে কষ্ট না দিতে চাইলে শুরুতেই মানক ইংরেজিতে কথা বলা উত্তম। যদি দেখেন অন্যজন বুঝতে পারছেন না, তখন প্রয়োজনে সহজ কথ্য রূপে যেতে পারেন। অকারণে সিঙ্গলিশ শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো। সঠিকভাবে করলে মজা লাগতে পারে, তবে ভুলভাবে করলে তা অসম্মানজনক শোনাবে।

প্রায় ৩৫% সিঙ্গাপুরবাসী ঘরে ইংরেজি ব্যবহার করেন। সিঙ্গাপুরের অন্য সরকারি ভাষাগুলো হলো মান্দারিন চীনা, মালয়, এবং তামিল, যা যথাক্রমে চীনা, মালয় ও ভারতীয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত। সরকারি কার্যালয়গুলোতে সব সেবা চারটি ভাষাতেই দেওয়া বাধ্যতামূলক। ইংরেজির মতো সিঙ্গাপুরে ব্যবহৃত মান্দারিনও বিশেষ রূপে বিকশিত হয়েছে, যেখানে চীনা উপভাষা, মালয় ও ইংরেজি শব্দ ঢুকে গেছে। তবে স্কুলে সবাইকে মানক মান্দারিন শেখানো হয়। চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে মান্দারিন জ্ঞানের ভিন্নতা রয়েছে—অনেকে সাবলীলভাবে বলতে বা বুঝতে সমস্যায় পড়েন। বিভিন্ন চীনা উপভাষা (মূলত হোক্কিয়েন, তবে টিওচিউক্যান্টনিজ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচলিত) প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে শোনা যায়, কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রায় হারিয়ে গেছে। ১৯৮০-এর পরে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ মানুষ এগুলো বলতে পারে না, যদি না দাদু-দিদার সঙ্গে বড় হয়ে থাকে। ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পাঞ্জাবি ভাষাও প্রচলিত, বিশেষত শিখদের মধ্যে।

সিঙ্গাপুরে চীনা ভাষার সরকারি লিপি হলো সরলীকৃত লিপি, যা চীনের মূল ভূখণ্ডে ব্যবহৃত হয়। তাই সরকারি প্রকাশনা (স্থানীয় সংবাদপত্রসহ) ও সাইনবোর্ড সবই সরলীকৃত চীনা লিপিতে লেখা হয়, এবং স্কুলেও এটাই শেখানো হয়। তবে কিছু প্রবীণ মানুষ ঐতিহ্যবাহী লিপি পছন্দ করেন, আর হংকং ও তাইওয়ানের জনপ্রিয় সংস্কৃতির কারণে তরুণরাও অনেক সময় সেটির সঙ্গে পরিচিত থাকে।

প্রবেশ

[সম্পাদনা]

ইমিগ্রেশন

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ৯০ দিন বা তার কম সময়ের জন্য ভিসা ছাড়াই সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন।

বৈধ এপেক বিজনেস ট্রাভেল কার্ড (এবিটিসি) থাকা ভ্রমণকারীরা ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন।

অধিকাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ৩০ দিন বা তার কম সময়ের জন্য ভিসা ছাড়া থাকতে পারেন। অর্থাৎ, যদি আপনার দেশের নাম এখানে উল্লেখ না থাকে, তবে সেটাই প্রযোজ্য।

নিম্নলিখিত দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে আগে থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তারা এটি অনলাইনে, সিঙ্গাপুরে কোনো স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে, অথবা সিঙ্গাপুরের দূতাবাস/কনস্যুলেট থেকে আবেদন করতে পারেন: আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, বেলারুশ, মিশর, জর্জিয়া, ভারত, ইরান, ইরাক, জর্দান, কাজাখস্তান, কসোভো, লেবানন, লিবিয়া, কিরগিজস্তান, মালি, মরক্কো, নাইজেরিয়া, মলদোভা, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, এবং ইয়েমেন

কিছু সাবেক সোভিয়েত দেশের (জর্জিয়া, ইউক্রেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রমণ্ডল) নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা পেতে পারেন, যদি তাদের কাছে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার বৈধ বিমান টিকেট থাকে। যে কোনো পরিবহন ব্যবহারে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করা যায়, তবে বের হতে হবে বিমানে। একই ধরনের সুবিধা ভারতের নাগরিকদের জন্যও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে, যদি তাদের কাছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকে (অন্যান্য শেনগেন ভিসা গণ্য হবে না), এবং তাদের কাছে অন্য দেশে যাওয়ার বিমান, ফেরি বা ক্রুজ টিকিট থাকে। ভারতীয় নাগরিকরা এই সুবিধায় যেকোনো পরিবহন মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে পারেন, যদিও এক্ষেত্রে তাদেরকে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করতে হবে বিমান বা সমুদ্রপথে।

চাঙ্গি বিমানবন্দরে ট্রানজিটের জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ না আপনি সিকিউর এরিয়া ছেড়ে যাচ্ছেন এবং আপনার সংযোগ ফ্লাইট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে প্রবেশকারী সকল ভ্রমণকারীকে, এমনকি সিঙ্গাপুরের নাগরিকদেরও, তাদের আগমনের সর্বোচ্চ ৩ দিন আগে থেকে অনলাইনে এসজি আগমন কার্ড পূরণ করতে হয়। আপনি যদি বিমানের ভেতরে নামার আগে এটি পূরণ না করে থাকেন, তবে ইমিগ্রেশন ডেস্কের কাছে থাকা কম্পিউটার ব্যবহার করেও তা করতে পারবেন। ফর্ম পূরণের পর একটি ইমেইলে বারকোড পাঠানো হবে, যা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে স্ক্যান করা যাবে, অথবা নিশ্চিতকরণ পাতার স্ক্রিনশট ব্যবহার করা যাবে।

সকল ভ্রমণকারী স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারেন্স গেট ব্যবহার করতে পারবেন, এর জন্য কোনো প্রি-এনরোলমেন্টের প্রয়োজন হবে না। শিশু (৬ বছরের কম) থাকা পরিবারগুলোর জন্য ম্যানুয়াল কাউন্টারও খোলা আছে। সিঙ্গাপুর আর ভিজিটরদের পাসপোর্টে স্ট্যাম্প দেয় না: আপনার প্রবেশের শর্তাবলি এসজি আগমন কার্ডে দেওয়া ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে।

আফ্রিকাদক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর নাগরিকদের, এবং যারা সম্প্রতি আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণ করেছেন, তাদের সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটনের জন্য ভ্রমণ করতে আসা কিছু দরিদ্র দেশের একক মহিলারা ভিসা পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন, কারণ অনেক সময় “অবৈধ কর্মকাণ্ডের” (সম্ভবত পতিতাবৃত্তি) ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়। তথাকথিত হিপ্পি ধরনের পর্যটকরাও কাস্টমসের অতিরিক্ত নজরে পড়তে পারেন, যদিও প্রবেশের জন্য মাথা কামানো বা চুল কাটা আর বাধ্যতামূলক নয়।

যেসব পুরুষ অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন বা তাদের পারমিটের মেয়াদ ১৪ দিনের বেশি অতিক্রম করেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বেত্রাঘাতের (তিন বেত্রাঘাত) শাস্তি দেওয়া হয়।

শুল্ক

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ

সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ তালিকায় শুধু পর্নোগ্রাফি, আগ্নেয়াস্ত্র আর মাদকদ্রব্যই নয়, আরও অনেক কিছু রয়েছে। যদিও এর সবগুলো নিয়ম বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ হয় না।

  • আবর্জনা ফেলা
  • ধূমপান নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান করা
  • চিকিৎসাবহির্ভূত চুইংগাম/বাবল গাম (সাধারণত কঠোরভাবে মানা হয় না)
  • স্যাটেলাইট ডিশ/পরিবর্তিত রেডিও রিসিভার
  • ফ্রি-স্ট্যান্ডিং বিলবোর্ড
  • হাতকড়া, এমনকি যদি তা গোলাপি বা নরম পশমী হয়
  • কবুতর বা বানরকে খাওয়ানো
  • বিদেশি পতাকা প্রদর্শন করা
  • মালয়েশিয়ার সংবাদপত্র

সিঙ্গাপুরে অত্যন্ত কঠোর মাদক আইন কার্যকর রয়েছে, এবং মাদক পাচারের অপরাধে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা বিদেশিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এমনকি আপনি সিঙ্গাপুরে প্রবেশ না করেও শুধু ট্রানজিটে থাকলেও (অর্থাৎ ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস পার না হয়ে শুধু ফ্লাইট পরিবর্তন করার সময়) যদি মাদকের মালিকানায় ধরা পড়েন, তবে সিঙ্গাপুরের আইন এবং মৃত্যুদণ্ডের আওতায় পড়বেন। খেসারি (পপি) বীজও নিষিদ্ধ, কারণ এতে মরফিন থাকে এবং তা নিয়ন্ত্রিত পদার্থ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রস্রাব পরীক্ষায় বা আপনার মালপত্রে সোয়াব পরীক্ষায় মাদক শনাক্ত হলে, এমনকি আপনার কাছে মাদক না পাওয়া গেলেও, সিঙ্গাপুরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বহিষ্কার করা হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে অনুমতি ছাড়া বিস্ফোরক বা অস্ত্র আনা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। কিছু ধরনের অস্ত্র যেমন শুরিকেন, নানচাকু, সুইচব্লেড ছুরি, প্রজাপতি ছুরি এবং চেইন হুইপ আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং এগুলোর জন্য কখনোই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না।

আপনার সঙ্গে যে কোনো প্রেসক্রিপশন ওষুধ নিয়ে আসলে তার প্রেসক্রিপশন অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। যদি আপনি ৩ মাসের বেশি পরিমাণের কোনো ওষুধ আনতে চান, বা কোনো সেডেটিভ (যেমন ভ্যালিয়াম/ডায়াজেপাম), শক্তিশালী ব্যথানাশক (যেমন কোডিনযুক্ত ওষুধ), অথবা ক্যানাবিডিওল (সিবিডি) সমন্বিত ওষুধ আনতে চান, তাহলে অন্তত ১০ কার্যদিবস পূর্বে সিঙ্গাপুর হেলথ সায়েন্সেস অথরিটির অনুমোদন নিতে হবে।

শুল্কমুক্ত মদের অনুমোদিত পরিমাণ হলো এক লিটার করে ওয়াইন, বিয়ার ও স্পিরিট। তবে চাইলে স্পিরিটের এক লিটারের পরিবর্তে এক লিটার ওয়াইন বা বিয়ার আনা যেতে পারে। মালয়েশিয়া থেকে প্রবেশকারীরা কোনো বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধা পান না। ১৮ বছরের নিচে কেউ অ্যালকোহল আনতে পারবে না। সিগারেটের ক্ষেত্রে কোনো শুল্কমুক্ত সুবিধা নেই: সিঙ্গাপুরে আইনসম্মতভাবে বিক্রি হওয়া সব সিগারেটে "SDPC" সিলমোহর থাকতে হবে এবং কঠোর প্যাকেজিং নিয়ম মানতে হবে। অচিহ্নিত সিগারেটের জন্য ধরা পড়লে প্রতি প্যাকেটে ৫০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। বিদেশ থেকে সিগারেট আনলে সেটিকেও সিঙ্গাপুরে বিক্রি হওয়া সিগারেটের মতো প্যাকেজিং মানতে হবে। কাস্টমসে ঘোষণা করলে আপনি ট্যাক্স দিয়ে সিগারেট রাখতে পারেন অথবা চাইলে শুল্ক কর্মকর্তারা সেগুলো আপনার বিদায়ের আগ পর্যন্ত রেখে দেবেন। চিকিৎসাবহির্ভূত চুইংগাম আনা বেআইনি, যদিও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কয়েকটি পিস আনলে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ই-সিগারেট (ভেপ) আনা সম্পূর্ণ বেআইনি; এগুলো কাস্টমসে ঘোষণা করে জমা দিতে হবে, না করলে বড় অংকের জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে টাকা আনা-নেয়ার কোনো সীমা নেই। তবে ২০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আনলে বা নিয়ে গেলে কাস্টমসে তা ঘোষণা করতে হবে। ঘোষণা সিঙ্গাপুর অ্যারাইভাল কার্ডে বা এই ওয়েবসাইটে করা যায়। ঘোষণা না করলে গ্রেপ্তার, ভারী জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।

অশ্লীল সামগ্রী, চুরি করা (পাইরেটেড) পণ্য, এবং যিহোবার সাক্ষি ও ইউনিফিকেশন চার্চের ধর্মীয় প্রকাশনা সিঙ্গাপুরে আনা নিষিদ্ধ। স্থল ও সমুদ্রপথে প্রবেশকারীদের সব ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। নীতিগতভাবে, সব ধরনের বিনোদনমূলক মাধ্যম—যেমন চলচ্চিত্র বা ভিডিও গেম—সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া আনা যায় না, তবে আসল (চুরি করা বা নকল নয়) পণ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রায় কখনোই কার্যকর হয় না।

বিমানযোগে

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় বিমান চলাচল কেন্দ্র, তাই আপনি যদি মালয় উপদ্বীপ বা ইন্দোনেশিয়ার বাটাম/বিনতান থেকে না আসেন, তবে সিঙ্গাপুরে প্রবেশের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আকাশপথে। দেশের জাতীয় বিমান সংস্থা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, যেটি গ্রাহকসেবার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইন্স হিসেবে পরিচিত। সিঙ্গাপুরের আরেকটি স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা হলো স্কুট

এশিয়ার প্রায় সব বড় বিমানসংস্থার সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট রয়েছে। সর্বাধিক জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন্স এয়ারএশিয়া সিঙ্গাপুর থেকে বিস্তৃত রুট নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। এছাড়াও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। সিঙ্গাপুর বিশেষভাবে জনপ্রিয় "ক্যাঙ্গারু রুটে", যা অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করে। কান্তাস এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ লন্ডন ও সিডনির মাঝপথে সিঙ্গাপুরকে তাদের রিফুয়েলিং স্টপ হিসেবে ব্যবহার করে।

স্থানীয় বিমানবন্দরের বাইরে, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে ভ্রমণকারীরা জোহর বাহরু (JHB  আইএটিএ), বাটাম (BTH  আইএটিএ) বা তানজুং পিনাংয়ের (TNJ  আইএটিএ) ফ্লাইট বিবেচনা করতে পারেন, যেহেতু এসব ফ্লাইট সাধারণত চাঙ্গি বা সেলেতার বিমানবন্দরের ফ্লাইটের চেয়ে সস্তা হয়। অসুবিধা হলো আপনাকে দুইবার কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পার হতে হবে এবং এসব বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরে কোনো সরাসরি গণপরিবহন নেই, তাই নিজেই যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে কুয়ালালামপুর (KUL  আইএটিএ) হয়ে আসতে পারেন, যেটি উল্লেখিত তিনটির তুলনায় অনেক বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সাথে সংযুক্ত। কুয়ালালামপুর থেকে বাসে সিঙ্গাপুর যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগে।

চাঙ্গি বিমানবন্দর

[সম্পাদনা]
জুয়েল চাঙ্গি বিমানবন্দরের রেইন ভর্টেক্স
মূল নিবন্ধ: সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর

1 সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর (SIN  আইএটিএ) হলো প্রধান বিমানবন্দর, যা সব বাণিজ্যিক জেট ফ্লাইট পরিচালনা করে। এটি নিয়মিতভাবে "সেরা বিমানবন্দর" র‌্যাঙ্কিংয়ে আসে এবং আকারে বড়, আরামদায়ক ও সুসংগঠিত, যেখানে অভিবাসন ও লাগেজ বিতরণ অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন হয়। বিমানবন্দরটি চারটি প্রধান টার্মিনালে (T1, T2, T3 এবং T4) বিভক্ত।

গ্র্যাব/গোজেক রাইডশেয়ার বা ট্যাক্সি শহরে যাওয়ার দ্রুততম উপায়, যার খরচ প্রায় $২০–৩০ হয়, এর মধ্যে $৫ বিমানবন্দর সারচার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে (অফ-পিক সময়ে $৩)। রাত ১টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে অতিরিক্ত ৫০% সারচার্জ প্রযোজ্য। এমআরটি-তে, শহরে যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে, তানাহ মেরাহ স্টেশনে সহজ ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সফার সহ। কাগজের টিকিট আর পাওয়া যায় না, দর্শনার্থীদের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে হবে অথবা টিকিট অফিস থেকে একটি ইজি-লিঙ্ক কার্ড কিনতে হবে। সিটি হল পর্যন্ত একজন প্রাপ্তবয়স্কের ভাড়া $২.১৪, এবং ট্রেন সকাল ৫:৩১ (রবিবার ও ব্যাংক হলিডেতে ৫:৫৯) থেকে রাত ১১:১৮ পর্যন্ত চলাচল করে। বিস্তারিত জানতে দেখুন সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর

সেলেতার বিমানবন্দর

[সম্পাদনা]
সেলেতার বিমানবন্দরের টার্মিনাল

2 Seletar Airport (XSP  আইএটিএ) সব টার্বোপ্রপ ফ্লাইট এবং সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। ১৯২৮ সালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং ১৯৩০ সালে প্রথমবারের মতো বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হয়। সেলেতার ছিল সিঙ্গাপুরের প্রথম বিমানবন্দর। বর্তমানে সেলেতারে একমাত্র বাণিজ্যিক ফ্লাইট হলো ফায়ারফ্লাইয়ের দৈনিক ছয়টি ফ্লাইট, যা কুয়ালালামপুর শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি সুবাং বিমানবন্দর (কুয়ালালামপুরের মূল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়) থেকে ছাড়ে। ১০২ নম্বর বাস হৌগাং এমআরটি (নর্থ-ইস্ট লাইন) থেকে সরাসরি বিমানবন্দরে যায়, তবে বেশিরভাগ যাত্রী ট্যাক্সি ব্যবহার করেন। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ভাড়ায় অতিরিক্ত ৩ ডলার সারচার্জ প্রযোজ্য।

ট্রেনে

[সম্পাদনা]

মালয়েশিয়ার কেরেতাপি তানাহ মেলায়ু (মালয়ান রেলওয়ে বা কেটিএমবি) নেটওয়ার্কের একসময়কার দক্ষিণ প্রান্ত ছিল কেন্দ্রস্থ তানজং পাগার রেলওয়ে স্টেশন, যা এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেটিএমবি ট্রেনগুলো মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু শহরের জেবি সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে থামে। সিঙ্গাপুরে একমাত্র অবশিষ্ট রেলস্টেশন হলো উডল্যান্ডস, যা কজওয়ের ঠিক পাশে অবস্থিত। এখান থেকে একটি শাটল সার্ভিস জেবি সেন্ট্রালের সঙ্গে সংযুক্ত। যাত্রাপথ মাত্র ৫ মিনিট, তবে সিঙ্গাপুর থেকে শুরু হওয়া একমুখী টিকিটের দাম ৫ ডলার, আর বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে শুরু হলে ৫ রিঙ্গিত (আরএম)। উডল্যান্ডসে উভয় দেশের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ট্রেনে ওঠার আগে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, জোহর বাহরু থেকে যাত্রার সময় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন জেবি সেন্ট্রালে সম্পন্ন হয় এবং সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন পরীক্ষা হয় উডল্যান্ডসে পৌঁছার পর। ইমিগ্রেশন সময় হিসাব করলে, জোহর বাহরু থেকে উডল্যান্ডস যেতে ৩০–৬০ মিনিট সময় লাগে, আর উডল্যান্ডস থেকে জোহর বাহরু যেতে প্রায় ৩০ মিনিট। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে নতুন সীমান্ত-পারাপার র‌্যাপিড ট্রানজিট চালু হলে এই সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন সংযোগটি এমআরটি ব্যবস্থার সাথেও যুক্ত থাকবে।

শাটল ট্রেনগুলো জেবি সেন্ট্রাল থেকে উডল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে ছাড়ে ০৫:০০, ০৫:২৫, ০৫:৫৫, ০৬:২০, ০৭:৩০, ০৮:৪০, ০৯:৫০, ১১:২০, ১২:৫০, ১৪:২০, ১৫:৩০, ১৬:৪০, ১৭:৫০, ১৯:০০, ২০:১০, ২১:২০, ২২:৩০ সময়ে এবং উডল্যান্ডস থেকে জেবি সেন্ট্রালের উদ্দেশ্যে ছাড়ে ০৭:২০, ০৮:৩০, ০৯:৪০, ১০:৫০, ১২:২০, ১৩:৫০, ১৫:২০, ১৬:৩০, ১৭:৪০, ১৮:৫০, ২০:০০, ২১:১০, ২২:২০, ২৩:৩০ সময়ে। গেট নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে খোলা হয় এবং ১০ মিনিট আগে বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহের কর্মদিবসে জেবি সেন্ট্রাল থেকে ভোরবেলার ট্রেন এবং উডল্যান্ডস থেকে সন্ধ্যার ট্রেনগুলো মূলত সিঙ্গাপুরে কর্মরত যাত্রীদের জন্য, এবং এগুলো টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার ৩০ দিন আগেই শেষ হয়ে যায়। সপ্তাহান্তে উডল্যান্ডস থেকে সকালের ট্রেন ও জেবি সেন্ট্রাল থেকে বিকেল–সন্ধ্যার ট্রেনগুলো দিনভ্রমণকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং সাধারণত যাত্রার কয়েক দিন আগেই টিকিট শেষ হয়ে যায়। যাত্রার দিন টিকিট অবশিষ্ট থাকলে ছাড়ার ১৫ মিনিট আগে পর্যন্ত বিক্রি হয়, তবে আগেভাগেই টিকিট কেনা নিরাপদ।

জেবি সেন্ট্রাল–উডল্যান্ডস রুটে, জেবি সেন্ট্রালের প্রস্থান গেটে (গেট এ) টার্নস্টাইল বসানো আছে; টিকিটে থাকা বারকোড বা কিউআর কোড (মোবাইলেও থাকতে পারে) স্ক্যান করে প্রবেশ করতে হয়। উডল্যান্ডস–জেবি সেন্ট্রাল রুটে অনলাইনে কেনা টিকিট ছাড়ার আগে কেটিএমবি টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বদল করতে হয়।

জোহর বাহরুর বাইরের ট্রেন চলাচলের বিস্তারিত জানতে দেখুন জোহর বাহরু#ট্রেনে এবং মালয়েশিয়া#ট্রেনে

উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্টের সঙ্গে উডল্যান্ডস এমআরটি স্টেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্ট থেকে ক্রানজি, মার্সিলিং বা উডল্যান্ডস এমআরটি স্টেশনে যাওয়ার জন্য বাস পাওয়া যায়। প্রতিটি এমআরটি স্টেশনের বাস নম্বর স্পষ্টভাবে সাইনবোর্ডে লেখা থাকে। তবে এমআরটি স্টেশন থেকে ট্রেন চেকপয়েন্টে যেতে হলে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে যেন বাসটি "উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্টে" যায়, "উডল্যান্ডস চেকপয়েন্টে" নয়। কারণ পরেরটি কেবল সড়কযানের জন্য এবং ট্রেনে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ নেই। যেসব বাস উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্টে থামে সেগুলো হলো ১৭০ (ক্রানজি এমআরটি থেকে), ৮৫৬ (উডল্যান্ডস ও মার্সিলিং এমআরটি থেকে), ৯০৩ ও ৯১১ (উডল্যান্ডস এমআরটি থেকে)। যদিও ৯১২ (উডল্যান্ডস এমআরটি থেকে) এই পথে যায়, তবে খুব দীর্ঘ রুট ধরে যায়, তাই সুপারিশ করা হয় না। ১৭০ নম্বর বাস সাধারণত আগে "উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্টে" থামে, তারপর "উডল্যান্ডস চেকপয়েন্টে" যায়। তবে পিক আওয়ারে ভারী যানজট হলে কখনও কখনও বাস সরাসরি "উডল্যান্ডস চেকপয়েন্টে" চলে যায়। যদি নিশ্চিত না থাকেন, বাসে ওঠার সময় চালককে জিজ্ঞেস করে নিন।

নৌপথে

[সম্পাদনা]

ফেরির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ প্রদেশ এবং মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সিঙ্গাপুরে দুটি আন্তর্জাতিক ফেরি টার্মিনাল রয়েছে: 1 হারবারফ্রন্ট (যা সেন্টোসার কাছে অবস্থিত) এবং (যা চাঙ্গি বিমানবন্দরের কাছাকাছি)।

হারবারফ্রন্ট ফেরি টার্মিনালটি হারবারফ্রন্ট সেন্টার শপিং মলের ভেতরে অবস্থিত, যা পাশের ভিভোসিটি থেকে আলাদা। এখানে নামতে হলে হারবারফ্রন্ট এমআরটি স্টেশনে নেমে আসতে হবে।

তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনাল চাঙ্গি বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। এখানে পৌঁছাতে হলে তানাহ মেরাহ এমআরটি স্টেশনে নেমে এক্সিট বি দিয়ে বেরিয়ে বাস ৩৫/৩৫এম ধরতে হবে। বিকল্পভাবে, বেদক এমআরটি স্টেশনে নেমে পাশের বেদক বাস ইন্টারচেঞ্জ থেকেও একই বাস ধরা যায়। তবে যদি সরাসরি তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনালে পৌঁছান, ট্যাক্সি পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে, কারণ একই সময়ে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করেন। অনেক সময় কাছাকাছি এমআরটি স্টেশনে পৌঁছাতে কয়েক স্টপ বাস ৩৫/৩৫এম ধরা দ্রুত হয়। সপ্তাহের কর্মদিবসে যদি বাস ৩৫ ব্যবহার করেন, তবে গন্তব্য ভালো করে দেখে নেবেন। এই বাসটি রুটে ফেরি টার্মিনালে দুইবার থামে এবং লজিস্টিক পার্ক এএলপিএসে প্রবেশ করতে হলে আগেই নিবন্ধন করতে হয়। এছাড়া তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনাল থেকে চাঙ্গি বিমানবন্দর পর্যন্ত $৪ ডলার ভাড়ার একটি শাটল সার্ভিসও চালু আছে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে

[সম্পাদনা]

ইন্দোনেশিয়ার ফেরি সেবাগুলো বিভিন্ন কোম্পানি পরিচালনা করে, যাদের সময়সূচি প্রায়ই পরিবর্তিত হয়। সিঙ্গাপুর ক্রুজ সেন্টার একটি রিয়েল-টাইম সময়সূচি প্রকাশ করে, যেখানে কোন কোন ফেরি চালু আছে তা সহজে জানা যায়।

বাটাম ফেরি

বাটাম থেকে: বাতু আমপার, সেকুপাং এবং ওয়াটারফ্রন্ট সিটি (তেলুক সেনিম্বা) থেকে ফেরি চলে হারবারফ্রন্ট ফেরি টার্মিনালে। নংসাপুরা থেকে ফেরি আসে তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনালে। বাটাম সেন্টার থেকে ফেরি দুই টার্মিনালেই যায়।

বিনতান থেকে: বিনতান থেকে ফেরি আসে তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনালে। তানজুং পিনাংয়ের জন্য প্রতিদিন ৪ বা ৫টি ট্রিপ চলে, একমুখী ভাড়া প্রায় $৩০ (ট্যাক্স ও সারচার্জসহ)।

  • ম্যাজেস্টিক ফাস্ট ফেরি $৩১ একমুখী (ফি সহ)
  • সিন্দো ফেরি, ইমেইল: $২৭-২৯ একমুখী (ফি সহ; প্রচারমূলক ও স্বাভাবিক ভাড়া)
  • বিনতান রিসোর্ট ফেরি, +৬৫ ৬৫৪২ ৪৩৬৯ সপ্তাহের কর্মদিবসে তানাহ মেরাহ টার্মিনাল থেকে ৫টি ফেরি, সপ্তাহান্তে সংখ্যা বেড়ে ৭টি $৩৪.৬০/৫০.২০ একমুখী/দুইমুখী (পিক আওয়ারে), $২৬.৬০/৩৯.২০ একমুখী/দুইমুখী (অফ-পিক; ট্যাক্স ও ফুয়েল সারচার্জসহ)

কারিমুন থেকে: কারিমুন থেকে ফেরি আসে হারবারফ্রন্ট ফেরি টার্মিনালে। তানজুং বালাইের জন্য প্রতিদিন একটি ট্রিপ চলে, তবে কেবল জোড় সংখ্যক দিনে। ভাড়া $৫০ একমুখী (ট্যাক্স ও সারচার্জসহ)।

  • সিন্দো ফেরি, ইমেইল: $২৭-২৯ একমুখী (ফি সহ; প্রচারমূলক ও স্বাভাবিক ভাড়া)

মালয়েশিয়া থেকে

[সম্পাদনা]

মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ফেরি পরিষেবা আশ্চর্যজনকভাবে সীমিত। বিশেষ করে বোর্নিওতে কোনো পরিষেবা নেই। আগে চাঙ্গি পয়েন্ট থেকে পেঙ্গেরাং পর্যন্ত "বামবোট" অন-ডিমান্ড ভিত্তিতে চলাচল করত, তবে এখন আর তা চালু নেই।

জোহর: থেকে আসা ফেরিগুলো তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনাল ব্যবহার করে।

  • বাটাম ফাস্ট তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনাল থেকে দেশারু কোস্ট ফেরি টার্মিনাল এবং তানজুং পেঙ্গেলিহ, পেঙ্গেরাং, জোহর পর্যন্ত ফেরি পরিষেবা চালু রয়েছে।

ক্রুজ

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর বিশ্বভ্রমণ ও আঞ্চলিক ক্রুজগুলোর একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এসব ক্রুজের অনেকগুলোতেই যাত্রীরা এখানে সারাদিন বা রাতভর অবস্থানের সময়ে ওঠানামা করেন, আবার কিছু ক্রুজ মাত্র একদিনের জন্য এখানে থামে। বিস্তারিত জানার জন্য ক্রুজ কোম্পানি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ক্রুজ জাহাজগুলো সিঙ্গাপুর ক্রুজ সেন্টার (যা হারবারফ্রন্ট ফেরি টার্মিনালের অংশ) এবং মেরিনা বে ক্রুজ সেন্টার ব্যবহার করে।

সিঙ্গাপুর–জোহর এক্সপ্রেস বাস

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং আরও অনেক শহর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের বাস সিঙ্গাপুরে আসে উডল্যান্ডস চেকপয়েন্ট ও টুয়াসের সেকেন্ড লিংক দিয়ে। হাট ইয়াই, থাইল্যান্ড থেকেও সরাসরি কোচে সিঙ্গাপুরে আসা যায়, যাত্রায় প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে। সিঙ্গাপুরে কোনো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নেই; বিভিন্ন কোম্পানির বাস শহরের নানা জায়গা থেকে ছাড়ে। প্রধান অপারেটরগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যারোলাইন, +৬৫ ৬২৫৮ ৮৮০০ বিলাসবহুল বাস যেখানে খাবার পরিবেশন করা হয়, পাওয়ার সকেট, লাউঞ্জ এরিয়া ইত্যাদি রয়েছে। কুয়ালালামপুর ও পেতালিং জায়ার উদ্দেশ্যে চলে। যাত্রা শুরু হয় হারবারফ্রন্ট সেন্টার থেকে। এক দিকে ভাড়া $৪৭ থেকে
  • প্রথম কোচ, +৬৫ ৬৮২২ ২১১১ অতিরিক্ত সুবিধা নেই, তবে বাসে পায়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে এবং সেকেন্ড লিংক ব্যবহার করে। আরেকটি সুবিধা হলো সহজ গণপরিবহন: সিঙ্গাপুরে নোভেনা স্কোয়ার (নোভেনা এমআরটি) থেকে ছাড়ে এবং কুয়ালালামপুরে (কেজে ১৬) ব্যাংসার এলআরটি স্টেশনের পাশে নেমে যায়। $33/55 একমুখী/দ্বিমুখী
  • নাইস, +৬৫ ৬২৫৬ ৫৭৫৫ প্রতিদিন ২০টিরও বেশি সার্ভিস চলে কুয়ালালামপুরের পুরনো রেলস্টেশন থেকে। ডাবল-ডেকার নাইস ২ বাস (২৭ আসন) ভাড়া ৮০ রিঙ্গিত, বিলাসবহুল নাইস++ বাস (১৮ আসন) ভাড়া ৮৮ রিঙ্গিত। যাত্রা শুরু হয় ডুনিয়ার্ন রোডের কপথর্ন অর্কিড হোটেল থেকে।
  • ট্রান্সন্যাশনাল, +৬০ ২ ৬২৯৪ ৭০৩৪ (মালয়েশিয়া) মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাস অপারেটর। সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি পেনিনসুলার বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চালায়। যাত্রা শুরু হয় ল্যাভেন্ডার স্ট্রিট থেকে। এক্সিকিউটিভ/ইকোনমি বাস ৮০/৩৫ রিঙ্গিত
  • ট্রান্সস্টার, +৬৫ ৬২৯৯ ৯০০৯ ট্রানস্টারের স্লিপার-সুবিধাযুক্ত সলিটায়ার ($৬৩) এবং লেদার সিটওয়ালা ফার্স্ট ক্লাস ($৪৯) কোচে রয়েছে আরামদায়ক আসন, মালিশ চেয়ার, অনবোর্ড অ্যাটেনডেন্ট, ভিডিও অন ডিমান্ড এবং ওয়াই-ফাই। তুলনামূলক সাধারণ সুপারভিআইপি/এক্সিকিউটিভ বাসের ভাড়া $২৫/২৯। মালাক্কাজেন্টিং পর্যন্তও সরাসরি সার্ভিস রয়েছে। বাস ছাড়ে গোল্ডেন মাইল কমপ্লেক্স, বিচ রোড (ল্যাভেন্ডার এমআরটির কাছে) থেকে।

কুয়ালালামপুর মহানগর এলাকায় আরও অনেক বাস অপারেটর 3 টার্মিনাল বেরসেপাডু সেলাটান থেকে ছাড়ে।

বেশিরভাগ অন্যান্য অপারেটর তিনটি যৌথ বুকিং পোর্টালের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছে।

  • রেডবাস, +৬৫ ৩১৫৮ ২৮৮৮, ইমেইল: রেডবাস সিঙ্গাপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে বাস টিকিট পাওয়া যায়।
  • ইজিবুক, +৬৫ ৬৪৪৪ ০৭৪৫ ছয়টি বাস কোম্পানি যুক্ত আছে, এর মধ্যে অন্যতম সাশ্রয়ী অপারেটর কনসর্টিয়াম।
  • বাস অনলাইন টিকিট আরও ছয়টি কোম্পানি যুক্ত আছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফাইভস্টার এক্সপ্রেস, হাসরি এক্সপ্রেস এবং এয়ারএশিয়া-সম্পর্কিত স্টারমার্ট।

সাধারণভাবে, যত বেশি ভাড়া দেবেন, আপনার যাত্রা তত দ্রুত এবং আরামদায়ক হবে। দামি বাসগুলো সময়মতো ছাড়ে, সেকেন্ড লিংক ব্যবহার করে এবং পথে কোথাও থামে না; আর সবচেয়ে সস্তা বাসগুলো সময়মতো ছাড়ে না, সবসময় যানজটপূর্ণ কজওয়ে ব্যবহার করে এবং পথে আরও কয়েকটি শহরে থামতে পারে। জনপ্রিয় যাত্রার সময়গুলো যেমন শুক্রবার সন্ধ্যা (সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া), রবিবার সন্ধ্যা (মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর), চীনা নববর্ষ, হরিরায়া ঈদুল ফিতর ইত্যাদিতে আগে থেকেই টিকিট বুক করা ভালো। এছাড়া সীমান্তে প্রত্যাশিত যানজটের কারণে অতিরিক্ত কিছু সময় ধরে নেওয়া উচিত; যানজটের অবস্থা দেখা যায় ওয়ানমোটরিং ওয়েবসাইটের ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে।

সরাসরি "আন্তর্জাতিক বাস" ধরার বিকল্প হিসেবে, আপনি চাইলে কাছের জোহর বাহরু পর্যন্ত গিয়ে, সেখান থেকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহরে চলাচলকারী দূরপাল্লার এক্সপ্রেস বাস ধরতে পারেন 4 লার্কিন সেন্ট্রাল থেকে। এতে শুধু বেশি বিকল্পই পাবেন না, ভাড়াও অনেক কম পড়বে, কারণ এখানে সিঙ্গাপুর ডলারের সমপরিমাণ নয়, বরং মালয়েশিয় রিঙ্গিত হিসেবে স্থানীয় ভাড়া দিতে হবে। তবে এর অসুবিধা হলো—প্রথমে জোহর বাহরুতে পৌঁছানো এবং তারপর শহরের প্রান্তে অবস্থিত লারকিন টার্মিনালে যাওয়া—যা অন্তত এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় খরচ করবে। আরেকটি সমস্যা হলো উৎসবের মৌসুমে স্থানীয় বাসের আসন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

দূরপাল্লার বাস ছাড়াও, নিয়মিত পাবলিক বাসও আছে যা জোহর বাহরু ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে যাতায়াত করে। নিচের টেবিলে রুটগুলো দেওয়া হলো:

জোহর বাহরু থেকে উডল্যান্ডস পর্যন্ত, জোহর–সিঙ্গাপুর কজওয়ের মাধ্যমে

জোহর বাহরু ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে নিয়মিত বাস পরিষেবা
লাইনসিঙ্গাপুরে থামার স্থানজে.বি.তে থামার স্থানসর্বোচ্চ ভাড়া (জে.বি. থেকে সিঙ্গাপুর) সর্বোচ্চ ভাড়া (সিঙ্গাপুর থেকে জে.বি.)
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-১শুধুমাত্র ক্রাঞ্জি এমআরটিলারকিন জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমেএমওয়াইআর ২.৬০ এসজিডি ২.৬০
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-২শুধুমাত্র কুইন স্ট্রিট (বুগিস এমআরটি)লারকিন জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমেএমওয়াইআর ৪.৮০ এসজিডি ৪.৮০
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-৫নিউটন সার্কাস মাত্র (নিউটন এমআরটি)লারকিন জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমেএমওয়াইআর ৪.৬০ এসজিডি ৪.৬০
এসবিএস ট্রানজিট ১৭০কুইন স্ট্রিট, বুকিত পাঞ্জাং এমআরটি (ডাউনটাউন লাইন, বুকিত টিমাহ রোড) এবং ক্রাঞ্জি এমআরটির মাধ্যমেলারকিন জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমেএকই এসজিডি ভাড়া এসজিডি ২.০৮ (কার্ড)
এসবিএস ট্রানজিট ১৭০এক্সশুধুমাত্র ক্রাঞ্জি এমআরটিশুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টএকই এসজিডি ভাড়া এসজিডি ১.০৫ (কার্ড)
এসবিএস ট্রানজিট ১৬০জুরং ইস্ট এমআরটি, ক্রাঞ্জি এমআরটির মাধ্যমেশুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টএকই এসজিডি ভাড়া এসজিডি ১.৮৮ (কার্ড)
এসএমআরটি ৯৫০উডল্যান্ডস এমআরটি, মার্সিলিং এমআরটির মাধ্যমেশুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টএকই এসজিডি ভাড়া এসজিডি 1.25 (কার্ড)
সিঙ্গাপুর-জোহর এক্সপ্রেস (এসজেই)শুধুমাত্র কুইন স্ট্রিট (বুগিস এমআরটি)লারকিন জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমেএমওয়াইআর ৩.৪০ এসজিডি ৩.৩০
ট্রান্সটার টিএস১ (দিনে ১০ বার) চাঙ্গি বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩, ১, ৪, এক্সপো এমআরটি, উডল্যান্ডস এমআরটি, মার্সিলিং এমআরটির মাধ্যমে শুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্ট এমওয়াইআর ১৩.০০ এসজিডি ১১.০০
Transtar TS8 (দিনে ১৩-১৪ বার) রিসর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্টোসা, আউটরাম পার্ক এমআরটি, গ্রেট ওয়ার্ল্ড এমআরটি, অরচর্ড এমআরটি, স্টিভেন্স এমআরটির মাধ্যমে শুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্ট এমওয়াইআর ১০.০০ এসজিডি ৮.০০
এসি৭ ইয়িশুন এমআরটি, সেম্বাওয়াং এমআরটির মাধ্যমে শুধুমাত্র জে.বি. সিআইকিউ চেকপয়েন্ট এমওয়াইআর ৬.০০ এসজিডি ২.৫০

ইস্কান্দার পুতেরি থেকে টুয়াস পর্যন্ত, মালয়েশিয়া–সিঙ্গাপুর সেকেন্ড লিঙ্কের মাধ্যমে

ইস্কান্দার পুতেরি এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যে ঘন ঘন চলাচলকারী বাস
লাইনসিঙ্গাপুরে স্টপইস্কান্দার পুতেরিতে স্টপসর্বোচ্চ ভাড়া (আইপি থেকে এসজি) সর্বোচ্চ ভাড়া (এসজি থেকে আইপি)
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-৩ জুরং ইস্ট এমআরটি পার্লিং মল, বুকিত ইন্দাহ ১, বুকিত ইন্দাহ ২, হরাইজন হিলস (২য় লিঙ্ক সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমে) এমওয়াইআর ৬.০০ এসজিডি ৫.০০
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-৩এস কোনো স্টপ নেই (মালয়েশিয়ায় ২য় লিংক সিআইকিউ চেকপয়েন্টের সিডব্লিউ৩-এর সাথে সংযুক্ত) তামান উংকু তুন আমিনা, সুতেরা মল, নুসা বেস্টারি, বুকিত ইন্দাহ ১, বুকিত ইন্দাহ ২ (২য় লিংক সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমে) এমওয়াইআর ৭.০০ এসজিডি ৫.০০
কজওয়ে লিংক সিডব্লিউ-৭ টুয়াস লিংক এমআরটি শুধুমাত্র গেলাং পাতাহ সেন্ট্রাল (২য় লিংক সিআইকিউ চেকপয়েন্টের মাধ্যমে) এমওয়াইআর ৪.৫০ এসজিডি ৪.৫০
ট্রান্সস্টার টিএস৬ (প্রতিদিন ৬বার) দ্য স্টার ভিস্তা (বুওনা ভিস্তা এমআরটি) ওয়ান-নর্থ এমআরটি, টুয়াস লিংক এমআরটির মাধ্যমে গেলাং পাতাহ সেন্ট্রাল শুধুমাত্র এমওয়াইআর 8.০০ এসজিডি ৬.০০

জোহর বাহরু এবং ইস্কান্দার পুতেরি থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো উপরের টেবিলে উল্লেখিত বাসগুলি ব্যবহার করা। বাস রুটগুলোর একটি নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়: সিঙ্গাপুর পরিচালিত বাস (এসবিএস ট্রানজিট, এসএমআরটি, এসজেই, ট্রান্সটার) মালয়েশিয়ায় শুধু একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে থামে, আর মালয়েশিয়া পরিচালিত কজওয়ে লিংক[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] বাসগুলি সিঙ্গাপুরে শুধু একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে থামে। টার্মিনালের কথা বাদ দিলে, সব বাস দুইবার থামে—একবার সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন এবং একবার মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে। উভয় ইমিগ্রেশন পয়েন্টে আপনাকে সমস্ত লাগেজ নিয়ে বাস থেকে নামতে হবে এবং পাসপোর্ট ও শুল্ক পরীক্ষা অতিক্রম করতে হবে, তারপর আপনার টিকেট দেখিয়ে পরবর্তী বাসে ওঠা যাবে। অপ্রচলিত সময়ে দুই চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে ন্যূনতম ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে, ব্যস্ত সময়ে গড়ে ১ ঘণ্টা, এবং দীর্ঘ ছুটির সময়ে প্রায় ২ ঘণ্টা লাগতে পারে।

সিঙ্গাপুর শহরের কেন্দ্র থেকে জোহর বাহরু পর্যন্ত ট্রেনে ভ্রমণ সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে চাইলে সহজতম উপায় হলো শহরের ভেতর থেকে এমআরটি ট্রেনে উঠে উডল্যান্ডস এমআরটি-তে নামা, এরপর এসএমআরটি ৯৫০ বাসে উঠে জোহর বাহরু চেকপয়েন্টে যাওয়া। অন্য একটি উপায় হলো ক্রানজি এমআরটি-তে নামা, তারপর এসবিএস ১৭০এক্স বাসে উঠে জোহর বাহরু চেকপয়েন্টে যাওয়া।

অন্যদিকে, অফিস সময়ের ভিড় এড়াতে ১৭০এক্স এবং ৯৫০ বাস রুট না নিয়ে, অন্য এসবিএস বা এসএমআরটি বাস ব্যবহার করা যায় যেগুলো উডল্যান্ডস ট্রেন চেকপয়েন্ট বাসস্টপে যায়। সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরে উঁচু ফুটব্রিজ দিয়ে হেঁটে উডল্যান্ডস চেকপয়েন্টে পৌঁছানো যায়।

ট্যাক্সিতে

[সম্পাদনা]
জোহর-সিঙ্গাপুর সীমান্ত পারাপার ট্যাক্সি

সাধারণ সিঙ্গাপুরের ট্যাক্সি মালয়েশিয়ায় পারাপার করতে পারবে না এবং একইভাবে মালয়েশিয়ায় ট্যাক্সিও সিঙ্গাপুরে পারাপার করতে পারবে না। তবে বিশেষ লাইসেন্সধারী সিঙ্গাপুরান ট্যাক্সি শুধুমাত্র লার্কিন বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যেতে পারবে এবং এগুলো জোহর ট্যাক্সি সার্ভিস +৬৫ ৬২৯৬ ৭০৫৪ থেকে বুক করা যায় ($৮০ একদিকে)। মালয়েশিয়ার ট্যাক্সি, যা মালয়েশিয়ার যেকোনো জায়গায় যেতে পারে, বান সান স্ট্রিটের ট্যাক্সি টার্মিনাল থেকে নেওয়া যায় ($৬০ চার্টার, বা যদি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করেন $১৫ প্রতি ব্যক্তি)। উল্টো দিকে, সিঙ্গাপুরের দিকে গেলে, আপনি লার্কিন থেকে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রের যেকোনো স্থানে পৌঁছানোর জন্য সিঙ্গাপুরান ট্যাক্সি নিতে পারেন ($৬০), আর মালয়েশিয়ার ট্যাক্সি কেবল বান সান স্ট্রিট পর্যন্ত যাবে (RM১২০)। মূল সুবিধা হলো এখানে আপনাকে উভয় প্রান্তে শুল্ক অফিসের মধ্য দিয়ে আপনার মালপত্র বা নিজেকে বহন করতে হবে না; শুধু গাড়িতে বসে যেতে পারবেন।

প্রাইভেট "লিমুজিন" পরিবহন সেবাগুলো সিঙ্গাপুরের যেকোনো স্থান থেকে মালয়েশিয়ার যেকোনো স্থানে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ দেয়। এই সেবাগুলো লাইসেন্সবিহীন এবং সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তবে যাত্রী হিসেবে এতে যাওয়া বেআইনি নয়। সাধারণ ভাড়া হলো ৪ জন যাত্রী সহ টয়োটা ইনোভা গাড়ির জন্য সিঙ্গাপুর থেকে জোহর বাহরু $১০০।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]
দ্য কজওয়ে, অন্য পাশে জোহর বাহরু

সিঙ্গাপুরকে পেনিনসুলার মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুইটি স্থলপথের ক্রসিং যুক্ত করে:

2 কজওয়ে হলো একটি খুবই জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত ব্যস্ত প্রবেশদ্বার, যা সিঙ্গাপুরের উত্তরাঞ্চলের উডল্যান্ডসকে সরাসরি জোহর বাহরু শহরের কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সীমান্ত পারাপার, যেখানে একটি গড় দিনে প্রায় ৩,৫০,০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা (মালয়েশিয়ার দিকে), রবিবার সন্ধ্যা (সিঙ্গাপুরের দিকে) এবং দীর্ঘ ছুটির সময়গুলিতে কজওয়েতে সাধারণত প্রচণ্ড জ্যাম দেখা যায়। কজওয়ে পার হয় ট্রেন, বাস, ট্যাক্সি, গাড়ি এবং মোটরসাইকেল। জ্যাম এড়ানোর একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ট্রেন ব্যবহার করা, দেখুন #ট্রেনে। তবে সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং জনপ্রিয় বিকল্প হলো বিভিন্ন বাস সার্ভিস ব্যবহার করা, দেখুন #বাসে

মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিতীয় ক্রসিংটি নামে পরিচিত, যা পশ্চিম সিঙ্গাপুরের তুয়াস এবং পশ্চিম জোহরের ইস্কান্দার পুতেরির মধ্যে নির্মিত। এটি কজওয়ের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং (সাধারণত) কম জ্যামযুক্ত। মূলত মালাক্কা, কুয়ালালামপুর, ইপোহ এবং পেনাং থেকে আসা এক্সপ্রেস বাস সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমাঞ্চলের আরও দূরের মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এটি কজওয়ের তুলনায় সুবিধাজনক, কিন্তু শুধুমাত্র জোহর বাহরু থেকে আসলে এটি বড় ব্যাক ডিটুর। এই ক্রসিংয়ে যে বাস সার্ভিসগুলো চলে তা কজওয়ের মতো ঘন নয়, এবং কেবল মালয়েশিয়ার "লিমুজিন" ট্যাক্সিই পার হতে পারে (সাধারণত $১০০ বা তার বেশি খরচ হয়, দেখুন #ট্যাক্সিতে)।

বিদেশি নিবন্ধিত গাড়ি নিয়ে সিঙ্গাপুরে ড্রাইভ করা জটিল এবং ব্যয়বহুল, যেখানে রাস্তা কর, বীমা, টোল ট্রান্সপন্ডার এবং আরও অনেক কিছু সামলাতে হয়। দুই দিকেই, রেন্টাল কার সংস্থা তাদের গাড়ি সীমান্ত পার করাতে দেয় না বা অতিরিক্ত চার্জ নেয়, তাই পরামর্শ দেওয়া হয় সীমান্তের অন্য পাশে গাড়ি রেখে বিমান বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করা। যদি আপনার নিজস্ব গাড়ি থাকে এবং তা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক হন, তবে প্রশাসনিক বিস্তারিত জানার জন্য ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সিঙ্গাপুরে প্রবেশ এবং প্রস্থান নির্দেশনাটি দেখুন।

বাইসাইকেলে

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে সাইকেল চালিয়ে প্রবেশ কেবল কজওয়ে দিয়ে সম্ভব। আপনি মোটরসাইকেল লেন ব্যবহার করতে পারেন এবং ম্যানুয়াল মোটরসাইকেল কাউন্টারে প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একবার সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ার হয়ে গেলে, এক্সপ্রেসওয়ে-এ ওঠার র‍্যাম্প এড়াতে হবে, যা রোড সাইনগুলিতে BKE (বুকিত তিমাহ এক্সপ্রেসওয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ) হিসেবে নির্দেশিত থাকবে। যেহেতু সেকেন্ড লিঙ্ক উভয় দিকেই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সংযুক্ত, সাইকেল আইনত এটি ব্যবহার করতে পারবে না।

পায়ে হেঁটে

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে পদে প্রবেশ কেবল কজওয়ে হয়ে সম্ভব। প্রস্তুত থাকুন দীর্ঘ হাঁটার জন্য, কারণ মালয়েশিয়ার কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কমপ্লেক্স এখন ২ কিমি অভ্যন্তরে। পূর্ববর্তী চেকপয়েন্টের মতো নয়, বর্তমান মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট পদচারীদের জন্য তৈরি নয়; ফলে মালয়েশিয়ার পাশের কোনো পদচারী পথ নেই এবং আপনাকে দ্রুতগামী ও বিপজ্জনক যানবাহনের পাশে রাস্তায় হাঁটতে হবে। সেকেন্ড লিঙ্কে পদচারীদের চলাচল অনুমোদিত নয়; তাছাড়া উভয় পাশেই হাঁটার দূরত্বের মধ্যে তেমন কিছু নেই।

ঘুরে দেখুন

[সম্পাদনা]
সিটি সেন্টারের এমআরটি লাইনগুলোর ভৌগোলিক মানচিত্র

সিঙ্গাপুরে চলাফেরা করা খুব সহজ: জনপরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহারবান্ধব, ভাড়ায় সাশ্রয়ী এবং ঘনবসতিপূর্ণ প্রায় সব এলাকাকেই কভার করে। এছাড়াও, ট্যাক্সি বা রাইডশেয়ার সেবার ভাড়া তুলনামূলকভাবে যুক্তিসংগত এবং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ডাকা যায়। সিটিম্যাপার সিঙ্গাপুর, গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপস — সবকটিই ট্রেন ও বাসে দ্রুততম রুট বের করতে পারে এবং যেকোনো দুটি পয়েন্টের মধ্যে ট্যাক্সি ভাড়ার আনুমানিক হিসাবও জানিয়ে দেয়।

ভাড়া

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের জনপরিবহন ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন, দূরত্ব-ভিত্তিক ভাড়া পদ্ধতি চালু রয়েছে। অর্থাৎ, আপনার যাত্রা শুরুর স্থান এবং গন্তব্যের উপর ভিত্তি করে ভাড়া নির্ধারিত হয়। আপনি gothere.sg-এ গিয়ে বা gothere অ্যাপ ডাউনলোড করে আনুমানিক ভাড়া জেনে নিতে পারেন।

সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটি কনট্যাক্টলেস ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করা। এগুলোর মাধ্যমে আপনি যেকোনো ট্রেন বা বাসে, এমনকি সেন্টোসা এক্সপ্রেসেও, প্রবেশ এবং বের হবার সময় ট্যাপ করতে পারবেন। মোবাইল ফোনে যদি অ্যাপল পে বা গুগল পে-তে ভিসা বা মাস্টারকার্ড সংযুক্ত থাকে, তাহলেও একইভাবে ব্যবহার করা যাবে। বিদেশি কার্ড ব্যবহার করলে প্রতিদিন অতিরিক্ত $০.৬০ ফি কাটা হয়, তবে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের (যেমন: পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আট দিন) জন্য এটি এখনো সাশ্রয়ী, কারণ আলাদা করে $৫ খরচ করে ইজিলিংক বা নেটস প্রিপেইড কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভ্রমণের সব হিসাব দেখতে বা স্টেটমেন্ট ডাউনলোড করতে চাইলে একটি ট্রানজিটলিঙ্ক সিম্পলি গো অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

বিকল্প হিসেবে, যেকোনো ট্রেন স্টেশন বা সেভেন-ইলেভেন দোকান থেকে একটি ইজিলিংক বা নেটস প্রিপেইড কার্ড কিনতে পারেন। ইজিলিংক কার্ডের দাম $১২ (এর মধ্যে $৬ কার্ডের মূল্য এবং $৭ ব্যালান্স) এবং নেটস কার্ডের দাম $১০ (এর মধ্যে $৫ কার্ডের মূল্য ও $৫ ব্যালান্স)। এই কার্ডগুলোতে রিচার্জ করা যায় ট্রেন স্টেশনের টিকিট মেশিনে নগদ টাকা বা সিঙ্গাপুরের ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে, কনভিনিয়েন্স স্টোরে নগদে, অথবা ইজিলিংক অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে। সিঙ্গাপুর ছাড়ার সময় কার্ডে টাকা অবশিষ্ট থাকলে যেকোনো ট্রানজিটলিঙ্ক টিকিট অফিসে গিয়ে রিফান্ড নিতে পারবেন, তবে $৫ প্রসেসিং ফি কেটে রাখা হবে। কার্ডগুলো পাঁচ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।

সিঙ্গাপুর ট্যুরিস্ট পাস (এসটিপি) দিয়ে আপনি সীমাহীন যাতায়াত করতে পারবেন — ১/২/৩ দিনের জন্য যথাক্রমে $১৭/২৪/২৯ খরচে। কিছু আকর্ষণীয় স্থানে ছাড়ও পাওয়া যায়। তবে, যেহেতু সাধারণত প্রতিটি যাত্রার খরচ $১.০০-২.৫০-এর মধ্যে হয়, তাই এসটিপি শুধুমাত্র তখনই লাভজনক হবে যখন আপনি খুব ঘন ঘন জনপরিবহন ব্যবহার করবেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এটি সাধারণ ইজিলিংক প্রিপেইড কার্ডের মতো কাজ করবে।

এমআরটির জন্য কাগুজে টিকিট এখন আর পাওয়া যায় না। যদিও বাসে এখনও কাগুজে টিকিট পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর দাম বেশি, কেনা ঝামেলাপূর্ণ কারণ চালককে আলাদাভাবে ভাড়া নিরূপণ করতে হয়, ট্রান্সফার করা যায় না এবং খুচরো ফেরত পাওয়া যায় না। তাই সরাসরি কার্ড ব্যবহার করাই ভালো।

সাত বছরের নিচে শিশুদের জন্য ভাড়া ফ্রি। আলাদা টিকিট লাগে না, তবে বয়স প্রমাণ হিসেবে একটি বিনামূল্যের শিশু কনসেশন কার্ড যেকোনো টিকিট অফিস থেকে নেওয়া যায়। এটি দিয়ে ফেয়ার গেট ট্যাপ করে খোলা যাবে। সাত বছরের বেশি বয়সী শিশুদের পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়, কারণ ছাত্র ভাড়া শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের স্কুল আইডি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

ট্রেনে

[সম্পাদনা]
এমআরটি ও এলআরটি সিস্টেমের মানচিত্র

সিঙ্গাপুরের গণপরিবহন ব্যবস্থার মূল ভরসা হলো এমআরটি (গণ দ্রুত পরিবহন) এবং এলআরটি (হালকা রেল পরিবহন)। এগুলো দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও তুলনামূলকভাবে সস্তা যাতায়াতের মাধ্যম, এবং এদের নেটওয়ার্ক ভ্রমণকারীদের আগ্রহের প্রায় সব জায়গাই কভার করে। নর্থ-ইস্ট লাইন, সার্কেল লাইন, ডাউনটাউন লাইনসহ সব নতুন লাইন সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ এবং চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। চাইলে ট্রেনের একেবারে সামনে গিয়ে টানেলের ভিউ দেখার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ভ্রমণকারীদের কাছে এমআরটি খুবই কার্যকর, তবে এলআরটি মূলত বুকিত পানজাং, পুংগল ও সেনগকাংয়ের আবাসিক এলাকায় চালু থাকায় সাধারণত পর্যটকদের এটি ব্যবহার করার সুযোগ কমই হয়।

স্টেশনগুলো পরিচ্ছন্ন এবং ফ্রি টয়লেট রয়েছে। সব এমআরটি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা আছে, তাই লাইনে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। তবে এলআরটি স্টেশনগুলোতে দরজার চারপাশে কেবল আধা-উচ্চতার নিরাপত্তা ব্যারিয়ার থাকে।

স্টেশন বা ট্রেনের ভেতরে খাওয়া-দাওয়া (এমনকি পানি পান করাও) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, এবং এর জন্য $৫০০ জরিমানা হতে পারে। এসকেলেটর ব্যবহার করার সময় অবশ্যই বাম পাশে দাঁড়াতে হবে, যাতে ডান পাশ দিয়ে তাড়াহুড়ো করা লোকজন সহজে যেতে পারে।

স্থানীয়রা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো সিস্টেমকে সহজভাবে "এমআরটি" বলে ডাকেন। "মেট্রো" বা "সাবওয়ে" শব্দগুলো তেমন প্রচলিত নয় এবং সাধারণত বোঝাও যায় না।

নৌকায়

[সম্পাদনা]
বামবোট

পর্যটকদের জন্য তৈরি বামবোট সিঙ্গাপুর নদীতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে। এখানে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট যাত্রার ভাড়া শুরু $৩ থেকে, আর সিবিডি-র সুউচ্চ অট্টালিকার দৃশ্যসহ ক্রুজের ভাড়া শুরু $১৩ থেকে।

চাঙ্গি পয়েন্ট ফেরি টার্মিনাল থেকে পুলাউ উবিন-এ ($৪ একমুখী) বামবোট চলাচল করে। পুলাউ উবিন সিঙ্গাপুরের উত্তর-পূর্ব উপকূলের ছোট্ট একটি দ্বীপ, যেখানে ধীরগতির গ্রামীণ জীবনের স্বাদ পাওয়া যায়—সিঙ্গাপুরে যা বিরল। দক্ষিণের দ্বীপগুলোর মধ্যে সিস্টার্স’ আইল্যান্ডস, কুসু আইল্যান্ড এবং সেন্ট জন’স আইল্যান্ডে ফেরি যায় মারিনা সাউথ পিয়ার থেকে, যা একই নামের এমআরটি স্টেশনের পাশে অবস্থিত। পুলাউ হান্তু জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলেও সেখানে কোনো নির্ধারিত ফেরি নেই। যেতে হলে আপনাকে মারিনা সাউথ পিয়ার বা ওয়েস্ট কোস্ট পিয়ার থেকে নৌকা ভাড়া করতে হবে।

সিঙ্গাপুর বাস

বাস সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্থানকে সংযুক্ত করে, তবে এমআরটির তুলনায় এগুলো ধীরগতির এবং এগুলির ব্যবহার কিছুটা কঠিন। দীর্ঘ দূরত্বের বাসে বারবার বিভিন্ন স্টপেজে থামে এবং ধীর গতির কারণে একই দূরত্বের যাত্রা এমআরটির তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি সময় নিতে পারে। তবে বাসের প্রধান সুবিধা হলো, অন্ধকার ভূগর্ভস্থ টানেলের পরিবর্তে শহরের দৃশ্য দেখা যায়—বিশেষ করে যদি আপনি ডাবল-ডেকারের সামনের সিট পেতে পারেন, যা সিঙ্গাপুরের বাসের একটি বড় অংশ। এছাড়া, যেহেতু বাস স্টপের সংখ্যা এমআরটি স্টেশনের চেয়ে অনেক বেশি, তাই বাস প্রায়শই আপনাকে আপনার গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে দিতে পারে, যা সমতাত্বীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় বড় সুবিধা। সিঙ্গাপুরের সব পাবলিক বাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে।

যেহেতু ট্রাফিক পরিস্থিতির কারণে বাস কখনো অনিয়মিত সময়ে আসে, তাই পরবর্তী বাস কখন আসবে তা জানার জন্য এবং আপনার যাত্রা পরিকল্পনা করার জন্য বাস আগমনের সময় নির্ধারণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা ভালো। সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে MyTransportSG এবং Singabus। অধিকাংশ ট্রাঙ্ক বাস সার্ভিস প্রতি ১০–১৫ মিনিটে আসে, আর এক্সপ্রেস বাস সার্ভিস (যার নামের তিনটি সংখ্যা থাকে এবং ৫ দিয়ে শুরু হয় যেমন ৫০২ অথবা ইংরেজি e দিয়ে শেষ হয় যেমন 851e) সাধারণত ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় পরপর আসে। ফিডার বাস সাধারণত ৫–১৫ মিনিটে একবার করে আসে।

সিঙ্গাপুরে চারটি প্রধান বাস অপারেটর রয়েছে: এসবিএস ট্রানজিট, এসএমআরটি বাস, টাওয়ার ট্রানজিট এবং গো-অ্যাহেড।

ট্যাক্সিতে

[সম্পাদনা]
বিভিন্ন রঙের ট্যাক্সি

ট্যাক্সিতে ভাড়া মিটারে নেওয়া হয় এবং সাধারণত দাম যুক্তিসঙ্গত ও ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। সপ্তাহের কর্মদিবসে ব্যস্ত সময়ের বাইরে শহরের ভেতরে যাতায়াত সাধারণত ১০ ডলারের বেশি হয় না। এমনকি চাঙ্গি থেকে জুরং পর্যন্ত পুরো দ্বীপ পাড়ি দিলেও ভাড়া ৩৫ ডলারের বেশি হবে না। যদি ৩ বা ৪ জন একসাথে ভ্রমণ করেন, অনেক সময় এমআরটি’র তুলনায় ট্যাক্সি নেওয়াই সস্তা ও দ্রুত হয়। সবচেয়ে বড় কোম্পানি ComfortDelgro-এর একটি CDG Zig বুকিং অ্যাপ আছে, যার মাধ্যমে আপনি রাইড-হেইলিং সেবার মতো ট্যাক্সি ডাকতে ও ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন। চাইলে নির্দিষ্ট মূল্যে “কমফোর্টরাইড” বেছে নিতে পারেন, যেখানে মিটার চালু থাকে না। এছাড়াও +৬৫ ৬-DIAL-CAB (3425-222) নম্বরে ফোন করে একীভূত বুকিং সিস্টেমের মাধ্যমেও ট্যাক্সি ডাকা যায়। তবে সরাসরি রাস্তায় বা নির্দিষ্ট ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ডাকলে অতিরিক্ত ২.৩০–৩.৩০ ডলার বুকিং ফি দিতে হয় না।

সব কোম্পানির ভাড়া কাঠামো প্রায় একই। প্রাথমিক ভাড়া (ফ্ল্যাগ-ডাউন রেট) ৪.৪০–৫.০০ ডলার, যা প্রথম ১ কিমি পর্যন্ত প্রযোজ্য। এরপর প্রতি ৪০০ মিটার (প্রথম ১০ কিমি পর্যন্ত) বা ৩৫০ মিটার (১০ কিমির পর) ভ্রমণে ০.২৬ ডলার করে যুক্ত হয়। তবে কিছু অতিরিক্ত চার্জ খেয়াল রাখতে হবে। কর্মদিবসে সকাল ৯:৩০-এর আগে বা বিকেল ৫টার পরে ভাড়ার ওপর ২৫–৫০% অতিরিক্ত যুক্ত হয়। একইভাবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ২৫% অতিরিক্ত যুক্ত হয়। বিমানবন্দর, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বা ফেরি টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করলে ৩–৮ ডলার পর্যন্ত বাড়তি ফি দিতে হতে পারে। ব্যস্ত সময়ে ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ERP) সারচার্জ বা সিটি এরিয়া ফি-ও যোগ হতে পারে, যা ভাড়াকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। এসব অতিরিক্ত চার্জ সবসময় মিটারের ডানদিকের নিচে দেখানো থাকে, রসিদে ছাপানো হয় এবং জানালায় লাগানো একটি স্টিকারে বিস্তারিত লেখা থাকে। যদি সন্দেহ হয় যে চালক ভুলভাল ভাড়া নিচ্ছেন, তবে সরাসরি কোম্পানিকে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে গেলে অতিরিক্ত ফি নেই, কেবল বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করলে এই চার্জ প্রযোজ্য। সব ট্যাক্সিতেই কার্ড গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক চালক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট নিতে চান না। তাই ওঠার আগে জেনে নিন। ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করলে ১০% সারচার্জ দিতে হয়, আর অন্য কার্ড বা অ্যাপ-ভিত্তিক পেমেন্টে ০.৩০ ডলার যোগ হয়। সিঙ্গাপুরে সাধারণত টিপস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (CBD)-এ ট্যাক্সি কেবল ট্যাক্সি স্ট্যান্ড (যেমন শপিং মলের বাইরে) বা নিজস্ব ড্রাইভওয়ে-সহ ভবন (প্রায় সব হোটেল) থেকে যাত্রী তুলতে পারে। শহরের বাইরে অবশ্য আপনি যেকোনো জায়গা থেকে ট্যাক্সি ডাকতে বা ফোনে ডেকে নিতে পারবেন।

প্রায় সব ট্যাক্সিতেই নেভিগেশন সিস্টেম থাকে, যা আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কিছু চালক হয়তো জানতে চাইবেন কোন রাস্তায় যেতে চান; বেশিরভাগই "যেটা দ্রুত হবে" বললেই সন্তুষ্ট থাকবেন।

রাইডশেয়ারে

[সম্পাদনা]

রাইডশেয়ার অ্যাপগুলো সিঙ্গাপুরে প্রায় ট্যাক্সির জায়গা নিয়েছে। সবচেয়ে বড় দুটি সেবা হলো গ্রাব এবং গোজেক। ভাড়া সাধারণত যুক্তিসঙ্গত—শহরের ভেতরে অফ-পিক সময়ে ভাড়া সাধারণত $১০–২০-এর মধ্যে থাকে। তবে ব্যস্ত সময়ে (যেমন শুক্রবার রাতে বা বৃষ্টি হলে) সার্জ ফেয়ারের কারণে ভাড়া অনেক বেশি হতে পারে। তাদের অ্যাপে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড গ্রহণ করা হয়, পাশাপাশি নগদেও ভাড়া পরিশোধ করা যায়। অন্যান্য রাইডশেয়ার অ্যাপের মধ্যে রয়েছে রাইড এবং টাডা। সবচেয়ে ভালো ভাড়া পেতে চাইলে কয়েকটি অ্যাপ ডাউনলোড করে যাত্রার খরচ তুলনা করে দেখুন, কারণ দিনের সময়ভেদে কোন কোম্পানি সস্তা তা পরিবর্তিত হতে পারে।

গাড়িতে

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুরের এক্সপ্রেসওয়ের সাধারণ সড়ক চিহ্ন
প্যান আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে (পিআইই) ধরে ক্রানজি এক্সপ্রেসওয়েতে যেতে চান? তাহলে ডানদিকে “পিআইই (কেজেই)”। নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনে যাচ্ছেন? তাহলে সোজা এগিয়ে যান।

সিঙ্গাপুরে ভ্রমণকারীদের জন্য গাড়ি ভাড়া করা খুব একটা জনপ্রিয় নয়, কারণ এখানে প্রায় পুরো দ্বীপ জুড়ে গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। সারাদিন ট্যাক্সি ব্যবহার করাই সাধারণত গাড়ি ভাড়ার চেয়ে সস্তা। বড় ভাড়া সংস্থাগুলির সবচেয়ে ছোট গাড়ির জন্য দৈনিক খরচ প্রায় ১০০ ডলার থেকে শুরু হয়। স্থানীয় সংস্থাগুলি কিছুটা সস্তা হতে পারে এবং মাঝে মাঝে সপ্তাহান্তে ভালো অফার পাওয়া যায়। এর সঙ্গে জ্বালানি (প্রতি লিটার প্রায় ৩ ডলার), ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ইআরপি) চার্জ অন্তর্ভুক্ত নয়। অনেক ভাড়া সংস্থা মালয়েশিয়ায় গাড়ি নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ করে বা একেবারেই নিষেধ করে। যদি মালয়েশিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে জোহর বাহরু থেকে গাড়ি ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি সাশ্রয়ী। সেখানে ভাড়াও অর্ধেক দামে এবং জ্বালানিও অনেক সস্তা, পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও গাড়ি ফেরত দেওয়ার সুযোগও থাকে। এতে চোর বা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশের অযাচিত নজর থেকেও বাঁচা যায়, যা সিঙ্গাপুরের নাম্বার প্লেট দেখে প্রায়ই হয়ে থাকে।

ইংরেজিতে লেখা বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা আসিয়ান দেশগুলির লাইসেন্স সিঙ্গাপুরে প্রবেশের তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত বৈধ। এর পরে বিদেশি লাইসেন্সকে সিঙ্গাপুরের লাইসেন্সে রূপান্তর করতে হয়। অন্য দেশের লাইসেন্স বৈধ রাখতে হলে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (আইডিপি) অথবা দূতাবাস কর্তৃক প্রদত্ত অফিসিয়াল ইংরেজি অনুবাদ থাকা প্রয়োজন।

সিঙ্গাপুরে বাম দিকে গাড়ি চালানো হয় (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো)। বৈধ ড্রাইভিং বয়স ১৮ বছর। এখানে সড়কের অবস্থা চমৎকার এবং অধিকাংশ চালক ট্রাফিক আইন মেনে চলে, কারণ আইন প্রয়োগ খুব কড়া। তবে ভদ্রতা কম এবং কখনও কখনও অসতর্ক চালনা দেখা যায়। প্রধান এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ গতি সীমা ৯০ কিমি/ঘণ্টা (৫৬ মাইল প্রতি ঘণ্টা), কেবল কাল্লাং–পায়া লেবার এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০ কিমি/ঘণ্টা (৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টা)। মাঝারি সড়কে সাধারণত ৫০ কিমি/ঘণ্টা (৩১ মাইল প্রতি ঘণ্টা)। এক্সপ্রেসওয়ে সাধারণত সংক্ষিপ্ত নামেই পরিচিত— যেমন প্যান আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে হলো “পিআইই”, ইস্ট কোস্ট পার্কওয়ে হলো “ইসিপি” ইত্যাদি। পার্কিং সহজেই পাওয়া যায়, তবে প্রায় কখনও বিনামূল্যে নয়। পার্কিং খরচ সময়, দিন ও জায়গাভেদে ভিন্ন হয়— সিবিডি এলাকার বেসরকারি পার্কিংয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩ ডলার, আর সরকারি পার্কিংয়ে ঘণ্টায় ১ ডলার। সাধারণত ক্যাশকার্ড দিয়ে পরিশোধ করতে হয়।

ইআরপি টোল দিতে ক্যাশকার্ড দরকার হয়, যা ভাড়া সংস্থাই দেয়, তবে যথেষ্ট ব্যালেন্স আছে কিনা তা নিশ্চিত করা চালকের দায়িত্ব। বিভিন্ন সময়ে ইআরপি গেট সক্রিয় হয়— সকালে সিবিডিতে ঢোকার রাস্তায়, আর সন্ধ্যায় সিবিডি থেকে বেরোনোর রাস্তায়। সক্রিয় গেট পার হওয়ার সময় পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে আপনার নিবন্ধিত ঠিকানায় নোটিশ যাবে এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ফি দিতে হবে। সময়মতো না দিলে জরিমানা বেড়ে যাবে।

অবশেষে এটিই এক ‘‘ফাইন সিটি’’

যদিও সিঙ্গাপুর খুবই নগরায়িত, তবুও রাতের বেলা বনাঞ্চলের সড়কে বন্য প্রাণী দেখা যেতে পারে। যদি প্রাণীর সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটে, তবে আইন অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তা না করলে ৩,০০০ ডলার (পুনরাবৃত্ত হলে ৫,০০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যদি প্রাণীটি জীবিত থাকে, তাহলে এনপার্কস অ্যানিমাল রেসপন্স সেন্টার +৬৫-১৮০০-৪৭৬-১৬০০ বা এসিআরইএস ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ হটলাইন +৬৫-৯৭৮৩-৭৭৮২ এ ফোন করতে হবে। প্রাণীটি মারা গেছে নিশ্চিত হলে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সি (এনইএ)-কে জানিয়ে মৃতদেহ সরাতে হবে +৬৫-১৮০০-২২৫৫-৬৩২

সব যাত্রীকে সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক এবং গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো সহ্য করা হয় না। সর্বোচ্চ রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.০৮%। রাতে পুলিশি চেকপোস্ট বসে, ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং জেলও হতে পারে। আইনি সীমা না ছাড়ালেও যদি অ্যালকোহলের কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমেছে বলে পুলিশ মনে করে, তবে আপনাকে অভিযুক্ত করা যেতে পারে। সড়কে পুলিশ চেকপোস্ট ও স্পিড ক্যামেরা সর্বত্র রয়েছে। জরিমানা ডাকযোগে চালক বা ভাড়া সংস্থাকে পাঠানো হয়, আর সংস্থা বাড়তি চার্জসহ আপনার কাছ থেকে আদায় করে। ট্রাফিক অপরাধে থামালে ঘুষ দেওয়ার চিন্তাও করবেন না— সিঙ্গাপুরে দুর্নীতি একটি গুরুতর অপরাধ।

বুড়ো আঙুল দিয়ে

হেঁটে লিফট নেওয়া বা হিটচহাইকিং সিঙ্গাপুরে কার্যত অজানা। দেশের আকার ছোট এবং গণপরিবহন সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় এর প্রয়োজনও নেই।

বাইসাইকেলে

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর বেশিরভাগই সমতল এবং কয়েকটি স্থান ছাড়া বড় কোনো উঁচুনিচু নেই। তবুও বাইসাইকেলে যাতায়াত করা চ্যালেঞ্জিং। সাধারণ সড়কে বাইসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন খুবই কম, আর গাড়িচালকদের কাছ থেকে বাইসাইকেল আরোহীরা খুব একটা ভদ্র ব্যবহার পান না। সড়ক, বাইসাইকেল লেন, পথচারীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা ট্র্যাক কিংবা হাঁটার পথ—সব স্থানেই বাইসাইকেল চালানো যায়, তবে প্রতিটির নিজস্ব ঝুঁকি আছে। কোথাও বাইসাইকেলে লেন থাকলে শুধুমাত্র পথচারী-পথে বাইসাইকেলে চালানো আইনত নিষিদ্ধ।

সড়কে নির্দিষ্ট বাইসাইকেলে লেন খুব কম, শুধু তানাহ মেরা কোস্টাল রোড আর ওয়েস্ট ক্যাম্প রোডে পাওয়া যায়। সাধারণত সড়কের বামদিকের লেন (যা প্রায়ই বাস লেন) ব্যবহার করতে হয়। পথে যাত্রী ওঠানামার জন্য থেমে থাকা গাড়ির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। সাইকেল চালাতে আলাদা লাইসেন্স লাগে না, কিন্তু ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানা ও তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। দুর্ঘটনা বা অন্য গাড়িচালকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালে কর্তৃপক্ষ ও আদালত প্রায়শই বাইসাইকেল আরোহীকে গাড়িচালকের মতোই বিবেচনা করে। কিছু সড়ক যেমন এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ রাস্তা এবং নির্দিষ্ট কিছু উঁচু সেতুতে বাইসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ। তবে বাইসাইকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের লেন ব্যবহার করে কজওয়ে পার হয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়া যায়। সড়কে বাইসাইকেল চালালে হেলমেট বাধ্যতামূলক, আর রাতে সামনের দিকে সাদা আলো ও পেছনে লাল আলো থাকতে হবে। সড়কে বাইসাইকেল চালানোর জন্য কোনো গতিসীমা নেই।

সড়কের বাইরের বাইসাইকেল নেটওয়ার্কে রয়েছে আলাদা অফ-রোড সাইকেল পথ এবং পার্ক কানেক্টর নেটওয়ার্ক (পিসিএন)। এগুলো মূলত পাঁচ ফুট প্রশস্ত ট্র্যাক, যা দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পার্ককে সংযুক্ত করে। এগুলো বাইসাইকেলের চিহ্ন বা “পিসিএন” লিখে চিহ্নিত থাকে। আরেকটি জনপ্রিয় রুট হলো রেল করিডর, যা এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ান রেলপথ ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। বাইসাইকেল লেনে সর্বোচ্চ গতি সীমা ২৫ কিমি/ঘণ্টা; তবে যেখানে পথচারী লেনের সঙ্গে মিশে যায়, সেখানে সর্বোচ্চ গতি সীমা ১০ কিমি/ঘণ্টা। শুধুমাত্র পথচারী লেনে বাইসাইকেলের জন্যও সর্বোচ্চ গতি ১০ কিমি/ঘণ্টা। বাস্তবে পথচারীরাও প্রায়ই বাইসাইকেল লেনে হাঁটে, তাই প্রয়োজনে গতি আরও কমাতে হয়। বাইসাইকেল পথের হালনাগাদ মানচিত্র ও রাস্তা পারাপারের মতো তথ্য এই গুগল ম্যাপে পাওয়া যাবে। শহরের বাইরে যেমন এমআরটি স্টেশন, আবাসিক এলাকা, বড় শপিংমল ও টাউন সেন্টারের কাছে সহজেই বাইসাইকেল পার্কিং পাওয়া যায়। তবে শহরের কেন্দ্রস্থলে তা তুলনামূলক কম।

তবুও অনেক যাত্রী বাইসাইকেলকে শেষ অংশের সংযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। শেয়ার্ড বাইসাইকেল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া যায়, যেমন HelloRide.SG বা Anywheel। সাধারণত এগুলো নির্দিষ্ট বাইসাইকেল পার্কিং জায়গায় রাখা হয়— যেমন ট্রেন স্টেশন থেকে গন্তব্যের কাছাকাছি নির্দিষ্ট পার্কিং পয়েন্টে। ভাঁজ করা যায় এমন বাইসাইকেল (সর্বোচ্চ মাপ ১২০ সেমি × ৭০ সেমি × ৪০ সেমি) ট্রেন ও বাসে দিনের যেকোনো সময় নিয়ে ওঠা যায়।

হেঁটে

[সম্পাদনা]

হাঁটার জন্য সিঙ্গাপুর খুবই উপযোগী একটি শহর। প্রধান ব্যবসায়িক এলাকা ও বড় রাস্তাগুলোতে ফুটপাত এবং পথচারী পারাপার ব্যবস্থা ভালোভাবে রক্ষিত এবং পর্যাপ্ত আছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে গাড়িচালকরা সাধারণত সাবধানী এবং চিহ্নিত পারাপারের জায়গায় পথচারীদের আগে যেতে দেন। তবে জেব্রা ক্রসিংয়ের বাইরে রাস্তা পার হওয়া (জেওয়াকিং) আইনত অপরাধ, এর জন্য ২৫ ডলার জরিমানা বা সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। তবুও এটি প্রচলিত, এবং সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে না হলে শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না।

তবে একটি বড় অসুবিধা হলো এখানকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গরম আর আর্দ্রতা। এতে অনেক ভ্রমণকারী ঘেমে ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই স্থানীয়দের মতোই একটি ছোট তোয়ালে, পানির বোতল এবং রোদ থেকে বাঁচতে একটি ছাতা সঙ্গে রাখা ভালো। বর্ষার সময় দুপুরের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টিও বেশ সাধারণ। তাই সকালে তাড়াতাড়ি বের হওয়া, মাঝে মাঝে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকান, ক্যাফে বা জাদুঘরে ঢুকে ঠান্ডা হওয়া বা বৃষ্টি থেকে আশ্রয় নেওয়া এবং দুপুরের আগেই শপিংমল বা হোটেলের সুইমিংপুলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করাই শ্রেয়। বিকল্পভাবে, সন্ধ্যার পর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে। ভালো দিক হলো, সূর্য প্রায়ই মেঘ বা সড়কের গাছের ছায়ায় ঢেকে যায়, ফলে এই অক্ষাংশে যেমনটা হয় তেমন সহজে রোদে পোড়া লাগে না। তবুও ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন লিনেন বা পলিয়েস্টারের কাপড় পরা ভালো, কারণ কটনের কাপড় সহজেই প্রচুর ঘামে ভিজে যায়।

গরম মোকাবিলার একটি কার্যকর উপায় হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ পথচারী পারাপার খুঁজে বের করা। এসব হাঁটার পথ প্রচুর আছে, বিশেষ করে শপিংমল ও উঁচু অফিস ভবনের মাঝখানে। এছাড়াও অনেক পথচারী পথ সরাসরি ভূগর্ভস্থ এমআরটি স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত। কোনো কোনো স্টেশন থেকে ২৫টি পর্যন্ত আলাদা ভূগর্ভস্থ পথচারী রাস্তা বিভিন্ন প্রবেশদ্বার/প্রস্থান পথে গিয়ে মিলে যায়। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যেন আরেকটি “শহরের নিচে শহর” তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়।

সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় হাঁটার পথগুলির মধ্যে রয়েছে মার্লিয়ন থেকে নদীর ধারে হাঁটা, যেখানে বোট কুয়ে ও ক্লার্ক কুয়ে পেরোতে হয়; পুরো মেরিনা বে ঘুরে হাঁটা; সাউদার্ন রিজেস ওয়াক বরাবর ট্রেকিং; অথবা চায়নাটাউন, লিটল ইন্ডিয়া, বুগিস কিংবা অরচার্ড এলাকায় অবসর ভ্রমণ।

দেখুন

[সম্পাদনা]
অসাধারণ সুন্দর!

১৯৯০-এর দশকে সিঙ্গাপুর নদী এবং এর শাখা নদীগুলো পরিষ্কার করার পর, মসৃণ লোমযুক্ত ভোঁদড় আবার সিঙ্গাপুরে ফিরে এসেছে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মন জয় করে নিয়েছে। সাধারণত ভোর এবং সন্ধ্যাবেলায় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। এদেরকে প্রায়শই কাল্ল্যাং নদী (গার্ডেন্স বাই দ্য বে সহ) এবং বিশান-আং মো কিও পার্কের আশেপাশে দেখা যায়। সেখানে এরা মাছ ধরে এবং চিঁ চিঁ শব্দ করতে করতে পথ ধরে হাঁটে। তবে এদের খুব কাছে যাবেন না, কারণ এদের দাঁতগুলো খুবই ধারালো এবং এরা তাদের বাচ্চাদের সুরক্ষায় খুবই সতর্ক থাকে। ভোঁদড় দেখার খবর জানতে চাইলে, অটারওয়াচ নামের ফেসবুক পেজটি বেশ ভালো।

সাঁতারের পর একটি ভোঁদড় পরিবার

সিঙ্গাপুরের দর্শনীয় স্থানগুলো বিভিন্ন জেলার অধীনে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মোটামুটিভাবে বললে:

  • সৈকত ও পর্যটন কেন্দ্র: সেন্টোসা দ্বীপ বা এর দক্ষিণের দ্বীপগুলির তিনটি সৈকতের যেকোনো একটিতে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়াও ইস্ট কোস্টে আরও কিছু সৈকত রয়েছে।
  • সংস্কৃতি ও রান্না: চীনা খাবারের জন্য যান চায়নাটাউনে, ভারতীয় স্বাদের জন্য লিটল ইন্ডিয়ায়, মালয় অভিজ্ঞতার জন্য গেলাং সেরাইয়ে, আর ইউরেশীয় ও পেরানাকান সংস্কৃতি ও সুস্বাদু সি-ফুড (যার মধ্যে বিখ্যাত চিলি ক্র্যাব ও ব্ল্যাক পেপার ক্র্যাব রয়েছে) চেখে দেখতে পারেন পূর্ব উপকূলে
  • ইতিহাস ও জাদুঘর: অরচার্ড এলাকার পূর্বদিকে এবং সিঙ্গাপুর নদীর উত্তরে ব্রাস বাসাহ অঞ্চল হলো সিঙ্গাপুরের ঔপনিবেশিক কেন্দ্র, যেখানে ঐতিহাসিক ভবন ও জাদুঘর রয়েছে। সিঙ্গাপুরের সব সরকারি জাদুঘরে প্রবেশ সিঙ্গাপুরের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে, তবে অস্থায়ী প্রদর্শনীর জন্য টিকিট প্রযোজ্য। বিদেশি দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য দিতে হয়।
  • প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী: জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা, নাইট সাফারি, জুরং বার্ড পার্ক এবং বোটানিক গার্ডেন, যেগুলো উত্তর ও পশ্চিমে অবস্থিত। শহরের কাছাকাছি দেখতে চাইলে মেরিনা বে এলাকায় অবস্থিত ভবিষ্যতধর্মী গার্ডেন্স বাই দ্য বে ঘুরে দেখতে পারেন। আসল প্রকৃতি খুঁজে পাওয়া কিছুটা কঠিন, তবে বুকিত তিমাহ নেচার রিজার্ভ (চিড়িয়াখানার কাছেই) উত্তর আমেরিকার পুরো মহাদেশের তুলনায় বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল, আর এখানে প্রচুর বন্য বানরও দেখা যায়। পূর্বদিকে চাঙ্গি ভিলেজ থেকে অবস্থিত পুলাউ উবিন দ্বীপে গেলে পুরনো গ্রামীণ সিঙ্গাপুরের স্বাদ পাওয়া যায়। শহরের সর্বত্রই স্থানীয়দের জগিং বা তাই চি করতে দেখা যায় এমন পার্ক আছে। গাছপালা ও উদ্ভিদ কোথায় দেখা যায় তার জন্য দেখুন সিঙ্গাপুরে উদ্ভিদ পর্যটন
  • গগনচুম্বী ভবন ও কেনাকাটা: সবচেয়ে বেশি শপিংমল রয়েছে অরচার্ড রোডে। গগনচুম্বী ভবন মূলত সিঙ্গাপুর নদীর আশেপাশে কেন্দ্রীভূত, তবে বুগিস আর মেরিনা বে এলাকায়ও স্থানীয়দের কেনাকাটার জায়গা দেখতে পাবেন।
  • উপাসনালয়: সিঙ্গাপুরের এই দিকটি মিস করবেন না। এখানে বৌদ্ধধর্ম, তাওবাদ, হিন্দুধর্ম, শিখধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ও ইহুদিধর্ম—সবই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বিদ্যমান। অধিকাংশ উপাসনালয়ে প্রার্থনার সময় বাদে বাইরের দর্শনার্থীরাও প্রবেশ করতে পারেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: আং মো কিও/বিষান এলাকায় বিশাল কং মেং সান ফো কারক সি মঠ, চায়নাটাউনে রঙিন হিন্দু শ্রী মারিয়াম্মান মন্দির, বালেস্তিয়ারে সাইকেডেলিক বার্মিজ বৌদ্ধ মন্দির এবং আরব স্ট্রিটে অবস্থিত সুবিশাল সুলতান মসজিদ

ভ্রমণসূচি

[সম্পাদনা]
হেন্ডারসন ওয়েভস
  • সিঙ্গাপুরে তিন দিন — খাবার, সংস্কৃতি ও কেনাকাটার এক সংক্ষিপ্ত তিন দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা, যা সহজেই ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা যায়।
  • সাউদার্ন রিজেস ওয়াক — সিঙ্গাপুরের দক্ষিণের পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ৯ কিমি দীর্ঘ এক সহজ ও মনোরম হাঁটার পথ। এই পথে বিশেষ আকর্ষণ হলো ৩৬ মিটার উঁচু হেন্ডারসন ওয়েভস পদচারী সেতু, যেখান থেকে জঙ্গলের ওপারে সাগরের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।

করনীয়

[সম্পাদনা]

যদিও সিঙ্গাপুরে গলফ, সার্ফিং, স্কুবা ডাইভিং, এমনকি আইস স্কেটিং ও স্নো স্কিইংয়ের মতো প্রায় যেকোনো খেলাধুলার জন্য জায়গা পাওয়া সম্ভব, তবে দেশের ছোট আকারের কারণে বিকল্পগুলো সীমিত এবং খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে জলক্রীড়ার ক্ষেত্রে, ব্যস্ত জাহাজ চলাচলপথ ও জনসংখ্যার চাপের কারণে সিঙ্গাপুরের আশপাশের সমুদ্র বেশ ঘোলা। তাই বেশিরভাগ স্থানীয়রা পুলাউ তিওমান, সিবু দ্বীপ (মালয়েশিয়া) বা বিনতান (ইন্দোনেশিয়া) চলে যায়। তবে ভালো দিক হলো, সিঙ্গাপুরে প্রচুর ডাইভ শপ রয়েছে, এবং তারা প্রায়ই মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের ভালো ডাইভিং স্থানে উইকএন্ড ট্রিপের আয়োজন করে থাকে। ফলে মালয়েশিয়ার তুলনামূলক কম পর্যটকপ্রবণ ডাইভিং স্থানে পৌঁছানোর জন্য এগুলো দারুণ বিকল্প হতে পারে।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]
এস্প্ল্যানেড থিয়েটারস বাই দ্য বে

সংস্কৃতির দিক থেকে, সিঙ্গাপুর তার একঘেয়ে, কঠোর ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে শিল্পী ও পরিবেশনা আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুরের সাংস্কৃতিক আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো মেরিনা বেতে অবস্থিত বিশ্বমানের পারফর্মিং আর্টস ভেন্যু এস্প্ল্যানেড থিয়েটার, যেখানে নিয়মিতভাবে সিঙ্গাপুর সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার পরিবেশনা হয়। পপ সংস্কৃতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং দেশীয় শিল্প অঙ্গনও এক ধরনের দ্বিতীয় রেনেসাঁর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইংরেজি ভাষার স্থানীয় শিল্পী দ্য স্যাম উইলোজ ও জেন্টল বোনস যোগ দিচ্ছেন চীনা পপ তারকা স্টেফানি সান ও জেজে লিনের সঙ্গে। এশিয়ায় ভ্রমণরত যেকোনো জনপ্রিয় ব্যান্ড ও ডিজে প্রায় নিশ্চিতভাবেই সিঙ্গাপুরে পারফর্ম করে থাকে।

সিনেমা দেখা সিঙ্গাপুরীয়দের একটি জনপ্রিয় বিনোদন। যদি কাটছাঁটবিহীন সিনেমা দেখতে চান, তবে "M18" (শুধুমাত্র ১৮ বছর ও তার ঊর্ধ্বে) বা "আর২১" (শুধুমাত্র ২১ বছর ও তার ঊর্ধ্বে) রেটিং খুঁজুন। বড় চারটি সিনেমা চেইন হলো — ক্যাথে, কার্নিভাল সিনেমাস, গোল্ডেন ভিলেজ এবং শ’ ব্রাদার্স। সিঙ্গাপুরের জীবনচিত্রের স্বাদ পেতে জ্যাক নিওর জনপ্রিয় কৌতুক সিনেমাগুলো দেখা যায়, আর নতুন প্রজন্মের সমকালীন চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছেন পরিচালক কে. রাজাগোপাল, বু জুন ফেং ও ট্যান পিন পিন।

ইউরোপীয় ধ্রুপদি সঙ্গীতের জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছে সিঙ্গাপুর সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা, যা মূলত এস্প্ল্যানেড কনসার্ট হলে পরিবেশিত হয়, তবে প্রতিবছর তারা সিঙ্গাপুর বোটানিক গার্ডেন্সে বিনামূল্যে কনসার্টও আয়োজন করে। ট্যাং কোয়ার্টেট সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত এক স্ট্রিং কোয়ার্টেট, যারা নিয়মিত চেম্বার মিউজিক পরিবেশন করে। আর ঐতিহ্যবাহী চীনা সঙ্গীতের জন্য রয়েছে সিঙ্গাপুর চাইনিজ অর্কেস্ট্রা

আধুনিক সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আকর্ষণ করেছে এবং নিজস্ব উৎসবও গড়ে তুলেছে। আল্ট্রা সিঙ্গাপুর ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ববিখ্যাত ইলেকট্রনিক মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানীয় সংস্করণ, যা আন্তর্জাতিক শিল্পীদের নিয়ে আসে। ল্যানওয়ে সিঙ্গাপুর হলো সেন্ট জেরোমস ল্যানওয়ে ফেস্টিভ্যালের স্থানীয় সংস্করণ, যা ২০১১ থেকে চলছে (২০১৯ সালে বিরতিতে ছিল)। বে-বিটস ২০০২ সাল থেকে এস্প্ল্যানেডে আয়োজিত একটি বিনামূল্যের বার্ষিক সঙ্গীত উৎসব, যা মূলত সিঙ্গাপুর ও এশিয়ার আশপাশের দেশগুলোর ইন্ডি শিল্পীদের ঘিরে।

জ্যাজপ্রেমীদের জন্য রয়েছে সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল (সিং জ্যাজ), যা মার্চ-এপ্রিলের দিকে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বখ্যাত জ্যাজ শিল্পীদের পাশাপাশি জ্যাজ-সংশ্লিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীদের আমন্ত্রণ জানায়।

মে বা জুন মাসে মিস করবেন না বার্ষিক সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক শিল্প উৎসব (পূর্বে সিঙ্গাপুর আর্টস ফেস্টিভ্যাল), যেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিল্প প্রদর্শনী, পরিবেশনা ও শিল্পীদের সঙ্গে আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক সিঙ্গাপুর নাইট ফেস্টিভ্যাল, যা ব্রাস বাসাহ–বুগিস এলাকাজুড়ে পালিত হয়। দুই সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে (মূলত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে) অসংখ্য শিল্প ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান হয়, যার অনেকগুলোই বিনামূল্যে। এর একটি প্রধান আকর্ষণ হলো প্রজেকশন ম্যাপিং লাইট শো, যেখানে অ্যানিমেশনকে সিঙ্গাপুর জাতিয় জাদুঘরের বহির্ভাগে প্রক্ষেপণ করে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করা হয়।

প্রায় সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অগ্রিম টিকিট কেনা যায় সিস্টিক থেকে, অনলাইনে বা তাদের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে, যার মধ্যে অরচার্ড রোডের সিঙ্গাপুর ভিজিটর সেন্টারও রয়েছে।

ওয়ায়াং হলো এক ধরনের চীনা পথনাট্য, যা খোলা আকাশের নিচে পরিবেশিত হয়। এতে গান, অভিনয়, নাচ, কসরত ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপের সমন্বয় ঘটে। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীনা উপভাষার দক্ষতা কমে যাওয়ায় এটি এখন একটি মৃতপ্রায় শিল্পরূপ। তাই সুযোগ থাকলে দেখে নেওয়া উচিত। সাধারণত এগুলো চীনা চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাসে পালিত হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যালে বেশি দেখা যায়। একইভাবে বিলুপ্তপ্রায় আরেকটি শিল্পরূপ হলো প্রচলিত চীনা পুতুলনাট্য, যা হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যালের সময় পথনাট্য মঞ্চে প্রায়ই পরিবেশিত হয়।

জুয়া

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে দুটি বিশাল ক্যাসিনো রয়েছে, যেগুলোকে সাধারণত শিষ্টভাবে বলা হয় "ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্ট"। এরা আয় করে প্রায় পুরো লাস ভেগাসের সমান। এর মধ্যে মারিনা বে স্যান্ডস অবস্থিত মারিনা বেতে, যা আকারে বড় ও বিলাসবহুল। অন্যদিকে রিসর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্টোসা, সেন্টোসায় অবস্থিত, পরিবারবান্ধব পরিবেশের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। স্থানীয়দের (নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা) প্রবেশের জন্য দিনে ১৫০ ডলার ফি দিতে হয়, তবে বিদেশি পর্যটকরা পাসপোর্ট দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারেন।

ক্যাসিনোর বাইরে আরও কিছু বৈধ বাজির ব্যবস্থা আছে, যেগুলো স্থানীয়দের কাছে বেশি সহজলভ্য। এর মধ্যে রয়েছে ফুটবল (সকার) বাজি ও কয়েক ধরনের লটারি, যা পরিচালনা করে সিঙ্গাপুর পুলস। সিঙ্গাপুরে ঘোড়দৌড় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বন্ধ হয়ে গেছে, তবে বিদেশি দৌড়ে বাজি ধরার সুযোগ এখনো সিঙ্গাপুর পুলসের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

মাহজং-ও সিঙ্গাপুরে জনপ্রিয় বিনোদন। এখানে খেলা মাহজং ক্যান্টোনিজ সংস্করণের কাছাকাছি, তবে এতে বাড়তি "প্রাণীর টাইল" ব্যবহৃত হয়, যা মূল ক্যান্টোনিজ সংস্করণে নেই। নিয়ম-কানুন ও পয়েন্ট গণনাতেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে মাহজং মূলত পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কারণ সিঙ্গাপুরে জুয়ার আসর বা মাহজং পার্লার চালানো বেআইনি।

সর্বজনীন স্থানে (যেমন পার্কে পোকার বা ব্ল্যাকজ্যাক খেলা) জুয়া খেলা বেআইনি এবং এর শাস্তি জরিমানা ও কারাদণ্ড—সিঙ্গাপুরের আইনে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।

আয়তনে ছোট হলেও সিঙ্গাপুরে আশ্চর্যজনকভাবে অনেক গলফ কোর্স রয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই ব্যক্তিগত ক্লাব দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কেবল সদস্য ও তাঁদের অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত। কয়েকটি ব্যতিক্রম হলো সেন্টোসা গলফ ক্লাব, সেমবাওয়াং কান্ট্রি ক্লাব এবং কেপেল ক্লাবের সাইম কোর্স। তবে এসব জায়গায় সদস্যদের তুলনায় অতিথিদের ফি অনেক বেশি। সম্পূর্ণ তালিকা দেখতে পারেন সিঙ্গাপুর গলফ অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে। বিকল্পভাবে, কাছাকাছি ইন্দোনেশিয়ার বাটাম বা বিনতান দ্বীপে, কিংবা সেকেন্ড লিংক পার হয়ে মালয়েশিয়ার ইসকান্দার পুতেরিতেও যেতে পারেন।

দৌড় প্রতিযোগিতা

[সম্পাদনা]
মেরিনা বে স্ট্রিট সার্কিটে অনুষ্ঠিত হয় সিঙ্গাপুর গ্র্যান্ড প্রিক্স।

সিঙ্গাপুর গ্র্যান্ড প্রিক্স হলো একটি স্ট্রিট ফর্মুলা ওয়ান মোটর রেস, যা সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে মেরিনা বের রাস্তায় অনুষ্ঠিত হয়। টিকিট আগেভাগে বুক করা জরুরি, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। সম্ভব হলে মূল সোজা পথে আসন বুক করুন, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি ওভারটেকিং ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত ঘটে।

সিঙ্গাপুর পোলো ক্লাব, যা বালেস্তিয়ারের কাছে অবস্থিত, প্রতিযোগিতার দিনে সাধারণ দর্শকদের জন্যও উন্মুক্ত থাকে।

সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ধরনের ‘স্পা বুম’ দেখা গেছে, ফলে এখন এখানে আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে গ্রিন টি হাইড্রোথেরাপি পর্যন্ত নানা রকম স্পা পরিষেবা পাওয়া যায়। তবে খরচ ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের মতো কম নয়—এক ঘণ্টার সাধারণ ম্যাসাজের জন্যও সাধারণত ৫০ ডলারের বেশি খরচ পড়ে। প্রিমিয়াম স্পাগুলো বেশিরভাগ পাঁচতারা হোটেলে রয়েছে, আর সেন্টোসার স্পা বোটানিকা ভালো সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়াও প্রচুর দোকান আছে যেখানে ঐতিহ্যবাহী চীনা ম্যাসাজ ও ফুট রিফ্লেক্সোলজি করা হয়, যা সাধারণত বৈধ, যদিও কিছু “হেলথ সেন্টার” আসলে অবৈধ যৌনপল্লীর আড়াল হিসেবেই পরিচিত। প্রথাগত এশীয় ধাঁচের গণস্নানাগার সিঙ্গাপুরে নেই।

অরচার্ড রোডে সৌন্দর্যচর্চার সেলুন খুঁজলে লাকি প্লাজার চতুর্থ তলার দোকানগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এখানে ম্যানিকিউর, পেডিকিউর, ফেসিয়াল, ওয়াক্সিং থেকে শুরু করে হেয়ার সার্ভিস পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের পরিষেবাই পাওয়া যায়। অন্যান্য সেলুনের তুলনায় খরচ অনেক কম হওয়ায় এগুলো ফ্লাইট ক্রু ও নিয়মিত পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। দাম বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন হয়, তাই ঘুরে ঘুরে খোঁজ নেয়া ভালো—অনেক সময় সবচেয়ে ঝকঝকে দোকানগুলোই কম চার্জ করে থাকে।

সাঁতার

[সম্পাদনা]

যদি আপনি প্রতিযোগিতামূলক বা শখের সাঁতার পছন্দ করেন, তবে হোটেলের ছোট্ট পুল ভুলে যান। সিঙ্গাপুর যেন সাঁতারুদের স্বর্গ—এখানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাবলিক সুইমিং পুল রয়েছে। সবগুলোই খোলা আকাশের নিচে ৫০ মিটার লম্বা (কোথাও আবার একসাথে তিনটি ৫০ মিটার পুলও আছে)। প্রবেশমূল্য মাত্র ১ থেকে ১.৫০ ডলার। অনেকেই এখানে সাঁতার কাটতে আসেন না—শুধু পাশের বাসা থেকে এসে কয়েক ঘণ্টা রোদে বসে আরাম করেন, বই পড়েন বা বিশ্রাম নেন। বেশিরভাগ পুল প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রতিটিতেই একটি ছোট ক্যাফে রয়েছে। ভাবুন তো, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রাতের আকাশে আলো জ্বলা খেজুরগাছ ঘেরা পুলে সাঁতার কাটছেন!

সিঙ্গাপুর স্পোর্টস কাউন্সিল সুইমিং পুলের তালিকা প্রকাশ করে। এর বেশিরভাগই বড় স্পোর্টস কমপ্লেক্সের অংশ, যেখানে জিম, দৌড়ানোর ট্র্যাক, টেনিস কোর্ট ইত্যাদিও থাকে। এগুলো সাধারণত কাছাকাছি এমআরটি স্টেশনের নামেই পরিচিত। সবচেয়ে ভালো একটি পুল রয়েছে কাতং-এ (১১১ উইলকিনসন রোড, ইস্ট কোস্ট এলাকায়)। সাঁতার শেষে পুলের সামনের ভিলা এলাকায় হাঁটাহাঁটি করলে ধনী সিঙ্গাপুরিয়ানদের বিলাসবহুল বাড়িঘরের আসল স্থাপত্য কাছ থেকে দেখা যায়। যদি সাধারণ পুলে বিরক্ত লাগে, তবে চলে যান জুরং ইস্ট সুইমিং কমপ্লেক্সে। এখানে রয়েছে ওয়েভ পুল, ওয়াটার স্লাইড আর জাকুজি—সবকিছুই অবিশ্বাস্যভাবে সস্তা মূল্যে: সপ্তাহের দিনে ১.৫০ ডলার, আর ছুটির দিনে ২ ডলার। আরও বাজেট থাকলে যেতে পারেন ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েট ওয়াটার থিম পার্কে কিংবা অ্যাডভেঞ্চার কোভ ওয়াটারপার্কে, যেখানে রোমাঞ্চকর ওয়াটার স্লাইড আর টিডাল ওয়েভ পুলে মেতে উঠতে পারবেন।

যাদের পুল ভালো লাগে না, তারা সমুদ্রসৈকতে চলে যান। ইস্ট কোস্ট পার্কে রয়েছে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে সুন্দর উপকূলরেখা। সাঁতার, সাইক্লিং, বারবিকিউ কিংবা নানা রকম খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য এটি সিঙ্গাপুরিয়ানদের প্রিয় জায়গা। এছাড়া সেন্টোসা দ্বীপে রয়েছে তিনটি সাদা বালির সৈকত—সিলোসো বিচ, পালাওয়ান বিচ এবং তানজং বিচ। প্রতিটি সৈকতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এগুলোও স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

জলক্রীড়া

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে ক্যানুইং ও ড্রাগন-বোটিং বেশ জনপ্রিয় জলক্রীড়া। এখানে অনেক সুন্দর জলাধার ও নদী রয়েছে যেখানে এসব খেলায় অংশ নেওয়া যায়। সাশ্রয়ী মূল্যে চেষ্টা করতে পারেন ম্যাকরিচি রিজার্ভয়ার, কাল্লাং নদী ও মেরিনা বে-তে। এ ধরনের প্রচলিত জলক্রীড়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে রয়েছে আধুনিক সুবিধাও—যেমন বিশেষভাবে তৈরি পরিবেশে কেবল-স্কিইং ও ওয়েভ সার্ফিং।

শীতকালীন ক্রীড়া

[সম্পাদনা]

বিশ্বের বিষুবরেখা থেকে মাত্র এক ডিগ্রি উত্তরে হওয়ায় সিঙ্গাপুর স্কিইংয়ের জন্য উপযুক্ত স্থান নয়। তবুও রৌদ্রোজ্জ্বল এই শহরে রয়েছে স্থায়ী ইনডোর স্নো সেন্টার। স্নো সিটি দর্শকদের শীতকালীন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ দেয়। এখানে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে বেরিয়ে এসে তুষারে খেলতে পারেন, এমনকি প্রশিক্ষিত পেশাদার প্রশিক্ষকের কাছ থেকে স্কিইং ও স্নোবোর্ডিং শেখারও সুযোগ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে আইস-স্কেটিং করাও সম্ভব—কাল্লাং আইস ওয়ার্ল্ডে, যা অবস্থিত লেজার পার্ক কাল্লাংয়ে

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]

মুদ্রা

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুর ডলার-এর বিনিময় হার

জানুয়ারি ২০২৫-এর হিসাবে:

  • ইউএস$১ ≈ S$1.36
  • €১ ≈ S$1.42
  • ইউকে£১ ≈ S$1.71
  • AU$1 ≈ S$0.85
  • NZ$1 ≈ S$0.77
  • জাপানি ¥100 ≈ S$0.87
  • চীনা ¥1 ≈ S$0.19
  • ভারতীয় ₹১০০ ≈ S$1.59
  • HK$1 ≈ S$0.18
  • মালয়েশিয়ান RM1 ≈ S$0.30
  • ইন্দোনেশীয় Rp10,000 ≈ S$0.84

বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট XE.com থেকে পাওয়া যায়

সিঙ্গাপুরের মুদ্রা হলো সিঙ্গাপুর ডলার। এর প্রতীক S$ বা শুধু $ (আইএসও কোড: SGD)। এক ডলার সমান ১০০ সেন্ট, প্রতীক ¢। প্রচলিত কয়েন হলো ৫¢ (ব্রোঞ্জ বা সোনালি), ১০¢ (রুপালি), ২০¢ (রুপালি), ৫০¢ (রুপালি) এবং $১ (দ্বিতীয় সিরিজে সোনালি; তৃতীয় সিরিজে রুপালি, সোনালি বর্ডারসহ)। কাগুজে নোটের মান হলো $২ (বেগুনি), $৫ (সবুজ), $১০ (লাল), $৫০ (নীল), $১০০ (কমলা), $১,০০০ (বেগুনি) এবং $১০,০০০ (সোনালি)। নিচের তিনটি মানের নোট সম্পূর্ণ পলিমারে ছাপা হয়, বাকিগুলো কাগজে। সর্বশেষ দুটি নোট আর নতুনভাবে ছাপা হয় না, তবে এখনো বৈধ। এগুলো খুবই বিরল এবং সাধারণত বিলাসবহুল দোকান, ক্যাসিনো বা বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহারিক নয়—তাই ভ্রমণকারীদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

যদি অন্য কোনো চিহ্ন যুক্ত না থাকে (যেমন US$ মানে মার্কিন ডলার), তবে দ্বীপ-রাষ্ট্রে (এবং এই ভ্রমণ নির্দেশিকায়) ব্যবহৃত "$" প্রতীক সিঙ্গাপুর ডলারকেই বোঝায়।

ব্রুনেই ডলার সিঙ্গাপুর ডলারের সঙ্গে সমমূল্যে বাঁধা (পেগড) এবং আইনত "প্রচলিত মুদ্রা" হিসেবে স্বীকৃত। অর্থাৎ এটি বিনা বাধায় ব্যবহার করা যায়। তবে বাস্তবে সিঙ্গাপুরে ব্রুনেই নোট খুব কমই দেখা যায়, আর আপনি ব্যবহার করতে চাইলে অনেক ছোট দোকানদার, এই নিয়ম না জানার কারণে, প্রথমে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। অযথা ঝামেলা এড়াতে বিক্রেতাকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য দেখাতে পারেন, অথবা ব্রুনেই ডলারকে আগে সিঙ্গাপুর ডলারে বদলে নিতে পারেন। সব ব্যাংক আইনত বাধ্য যে তারা ব্রুনেই নোট বিনামূল্যে বদলে দেবে।

মুদ্রা বিনিময়

[সম্পাদনা]

প্রায় সব শপিং মলে মুদ্রা বিনিময়ের বুথ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ব্যাংকের তুলনায় ভালো হার, দীর্ঘ সময় খোলা থাকা এবং দ্রুত সেবা প্রদান করে। চাঙ্গি বিমানবন্দর ও ফেরি টার্মিনালের বিনিময় হার শহরের তুলনায় খারাপ, তবে খুব বেশি নয়। বড় অঙ্কের টাকা বদলাতে চাইলে বোর্ডে দেখানো হারের চেয়ে ভালো রেট পাওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোট চাইতে পারেন। ছোট অঙ্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত হোন যে অন্তত বোর্ডে যা লেখা আছে সেটাই পাচ্ছেন, যাতে লুকানো ফি না দিতে হয়।

বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার অনেক মুদ্রা, যেগুলো অন্য দেশে বদলানো কঠিন, সিঙ্গাপুরে খুব সহজেই বদলানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ, থাই বাহাত, ভিয়েতনামি ডং এবং নিউ তাইওয়ান ডলার। লিটল ইন্ডিয়ার মুস্তাফা প্রায় সব প্রধান মুদ্রা খুব ভালো রেটে বদলায়, এমনকি অনেক কম পরিচিত মুদ্রাও। একইভাবে, র‍্যাফেলস প্লেস এমআরটির পাশের উপযুক্ত নামের “চেঞ্জ অ্যালি” এবং আশেপাশের ছোট দোকানগুলোও প্রতিযোগিতামূলক রেটে বিনিময় করে। যেসব দেশের বিদেশি শ্রমিক সিঙ্গাপুরে বেশি, তারা সাধারণত যে এলাকায় জড়ো হন, সেখানে তাদের নিজস্ব মুদ্রার জন্য সেরা রেট পাওয়া যায়। যেমন—ফিলিপাইনের পেসো সবচেয়ে ভালো রেটে মেলে লাকি প্লাজায়, মিয়ানমারের কিয়াত পেনিনসুলা প্লাজায়, চীনা ইউয়ান পিপলস পার্কে (চায়নাটাউন), আর দক্ষিণ এশীয় মুদ্রা যেমন ভারতীয় রুপি, শ্রীলঙ্কান রুপি এবং বাংলাদেশি টাকা সবচেয়ে ভালো রেটে পাওয়া যায় মুস্তাফায়।

অনেক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বিদেশি মুদ্রা নিলেও তাদের রেট খুবই খারাপ। বড় হোটেলগুলোও মুদ্রা বদলের সুবিধা দেয়, তবে সেখানে হার আরও খারাপ।

পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি)

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের ৯% জিএসটি (পণ্য ও সেবা কর) আদায় করতে হয়। সাধারণত বিক্রেতারা জিএসটি-সহ মোট দাম প্রকাশ করে (অর্থাৎ আপনাকে আলাদা করে হিসাব করতে হয় না)। তবে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় (যেখানে বসে খাওয়া হয়) মূল দামের সঙ্গে জিএসটি এবং সার্ভিস চার্জ যোগ হয় কেবল বিল পরিশোধের সময় (দেখুন টিপস এবং আবাসন অধ্যায়)।

অর্থপ্রদান

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে নগদবিহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন এখন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। চাইলে কয়েকদিন টানা কাগুজে টাকা না দেখেও চলা সম্ভব। এমনকি হকার সেন্টার আর ফুড কোর্টগুলোতেও এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হয় (তবে এগুলো আপনার দেশের অ্যাপ নাও সমর্থন করতে পারে)।

ক্রেডিট কার্ড দোকান, রেস্তোরাঁ, হোটেল ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। এখানে সাধারণত চিপ-এন্ড-সিগনেচার পদ্ধতি চালু (পিন চাইবে না, যদি না আপনার ব্যাংক সেটি নির্ধারণ করে থাকে)। কন্ট্যাক্টলেস টার্মিনালও প্রচলিত (অ্যাপল পে ও গুগল পে-সহ)। শুধু “কন্ট্যাক্টলেস” চাইতে হবে। সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ড হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ড, অনেক দোকানে আমেরিকান এক্সপ্রেসও নেওয়া হয়। কিছু পর্যটককেন্দ্রিক দোকানে ডিসকভার, জেসিবি এবং চায়না ইউনিয়নপে কার্ডও গ্রহণ করা হয়। এমআরটি ও বাস ভাড়াও কন্ট্যাক্টলেস ভিসা ও মাস্টারকার্ড (অ্যাপল পে ও গুগল পে-সহ) দিয়ে পরিশোধ করা যায়। সিঙ্গাপুরে সাধারণত ক্রেডিট কার্ড সারচার্জ অনুমোদিত নয় (একটি অফিসিয়াল ব্যতিক্রম হলো ট্যাক্সি কোম্পানিগুলো), তবে ছোট ব্যবসায়ীরা অনেক সময় এই নিয়ম মানে না—কার্ডে ন্যূনতম লেনদেনের শর্ত দেয় বা নগদে পরিশোধ করলে ছাড় দেয়।

সিঙ্গাপুর এশিয়ার অন্যতম বড় আর্থিক কেন্দ্র। এখানে অসংখ্য ব্যাংক রয়েছে। প্রধান স্থানীয় ব্যাংক হলো ডিবিএস, ইউওবি এবং ওসিবিসি। এদের এটিএম প্রায় প্রতিটি শপিং মল বা এমআরটি স্টেশনে পাওয়া যায় এবং প্লাস/সিরাস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টাকা তোলা যায়। ব্যাংকের কঠোর গোপনীয়তা আইন ও আমানতের ওপর সুদে কর না থাকায় সিঙ্গাপুরের ব্যাংকগুলো এখন ধনী ব্যক্তিদের জন্য সুইস ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে বিদেশিদের জন্য সিঙ্গাপুরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা অসম্ভব, যদি না দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি (কাজ, পড়াশোনা ইত্যাদি) থাকে।

এখানে অসংখ্য মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ আছে। পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে সহজ হলো গ্র্যাবপে—শুধু একটি ফোন নম্বর দিলেই হবে, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য লাগে না, ভিসা বা মাস্টারকার্ড দিয়ে রিচার্জ করা যায়। আঞ্চলিক অ্যাপ ফেভ পে (FavePay) এবং চীনা অ্যাপ (আলিপে, উইচ্যাট পে) সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। পে নাও (PayNow) একটি মোবাইল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকের উদ্যোগে তৈরি, এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থ প্রদান এবং সিঙ্গাপুরিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ লেনদেন সম্ভব। তবে এতে সাইন আপ করতে সিঙ্গাপুর আইডি প্রয়োজন। পে নাওয়ের (PayNow) মালয়েশিয়ার ডুইটনাও (DuitNow), থাইল্যান্ডের PromptPay এবং ভারতের ইউপিআই-এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ চুক্তি রয়েছে। এছাড়াও ইজি-লিঙ্ক (EZ-Link) ট্রান্সপোর্ট কার্ড এবং নেট (NETS) প্রিপেইড কার্ড কিছু কনভেনিয়েন্স স্টোর ও ফাস্ট ফুড চেইনে গ্রহণ করা হয়।

ট্রাভেলার্স চেক সাধারণত খুচরা দোকানে নেওয়া হয় না, তবে সীমিত কিছু এক্সচেঞ্জ বুথ বা ব্যাংকে নগদে ভাঙানো যায়।

বখশিশ

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে সাধারণভাবে বখশিশ দেওয়ার প্রচলন নেই। তবে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সাধারণত বিলের সঙ্গে ১০% সার্ভিস চার্জ এবং এরপর স্থানীয় জিএসটি (পণ্য ও সেবা কর) যোগ করা হয়। তাই রেস্তোরাঁ বা হোটেলের রুম ভাড়ায় প্রায়ই $১৯.৯৯++ লেখা থাকে, যার মানে হলো দামটিতে এখনো ১০% সার্ভিস চার্জ ও ৯% জিএসটি যোগ হয়নি এবং এগুলো বিলের শেষে যুক্ত হবে। আর "Nett" লেখা দাম মানে হলো সব কর ও সার্ভিস চার্জসহ মোট দাম।

বেলহপ বা হোটেলের পোর্টাররা এখনো সাধারণত প্রত্যেক ব্যাগের জন্য প্রায় $2 আশা করে। ট্যাক্সিতে বখশিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—চালকরা সাধারণত শেষ ১০ সেন্ট পর্যন্ত ফেরত দেয়, অথবা কখনো কখনো খুচরা না থাকলে নিজেরাই ভাড়া সামান্য কমিয়ে দেয়। জ্যাম বা ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ইআরপি) চার্জ সাধারণত ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব ট্যাক্সিতেই একটি হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করতে হয়, যাতে যাত্রী অসন্তুষ্ট হলে অভিযোগ করতে পারে। বিমানবন্দরে বখশিশ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কোনো অবস্থাতেই কোনো সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যকে বখশিশ দেবেন না। এটি ঘুষ হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই আপনাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ব্যয়

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানদণ্ডে সিঙ্গাপুর ব্যয়বহুল, তবে পাশ্চাত্য দেশগুলোর তুলনায় সস্তা। যদি কিছুটা খরচ বাঁচাতে রাজি থাকেন তবে প্রতিদিন প্রায় $৫০ বাজেট নিয়ে ব্যাকপ্যাকার হিসেবে ভ্রমণ করা সম্ভব, যদিও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সাধারণত এর দ্বিগুণ বাজেট রাখাই ভালো। খাবারের খরচ বিশেষভাবে কম—মাত্র $৫-এর নিচে এক প্লেটে উদার পরিমাণের দারুণ মানের হকার খাবার পাওয়া যায়। আবাসনের খরচ কিছুটা বেশি হলেও একটি হোস্টেলে খাটের ভাড়া $৩০-এরও কম হতে পারে এবং সস্তা হোটেল রুম $১৫০-এরও নিচে পাওয়া যায়। ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডেড হোটেল সাধারণত $২০০ থেকে $৫০০-এর মধ্যে থাকে। বাজারের সর্বোচ্চ মানের হোটেলগুলোতে প্রতি রাতের খরচ $৫০০-এরও বেশি হয়, আর র‌্যাফেলস বা ক্যাপেলা মতো জায়গাগুলোতে প্রায়ই খরচ $১০০০ ছুঁয়ে যায়।

সাধারণভাবে বলা যায়, সিঙ্গাপুরের দাম মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, আর ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের তুলনায় প্রায় ৩ থেকে ৫ গুণ।

কেনাকাটা

[সম্পাদনা]
প্রতারিত?

কোনো দোকানে প্রতারিত হয়েছেন? সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ডের ফ্রি হটলাইনে কল করুন ১৮০০-৭৩৬-২০০০ (দেশের ভেতরে)। ১ হ্যাভেলক স্কোয়ারের স্মল ক্লেমস ট্রাইব্যুনালে পর্যটকদের জন্য দ্রুত সমাধানের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে সহজ মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা যায়।

সিম লিম স্কোয়ার, সিঙ্গাপুরের কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকসের কেন্দ্র

সিঙ্গাপুরে খাবারের পরেই জাতীয় বিনোদনের দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে কেনাকাটা। দেশে প্রচুর শপিং মল রয়েছে, আর আমদানি পণ্যের উপর কম ট্যাক্স ও শুল্কের কারণে এখানে দাম তুলনামূলক সস্তা থাকে। প্রায় সব আবাসিক এলাকায় অন্তত একটি শপিং মল থাকে, যা সাধারণত বাস ইন্টারচেঞ্জ বা এমআরটি স্টেশনের পাশে। এসব মল মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটাতে তৈরি, যেখানে সাধারণত রেস্টুরেন্ট, সুপারমার্কেট, ব্যাংক এবং মাঝারি মানের পোশাকের দোকান থাকে। তবে অর্চার্ড রোড এলাকার মলগুলোতে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ বিকল্প পাওয়া যায়।

এখানে সস্তা হস্তশিল্পের বাজার নেই (প্রায় সবকিছুই বিদেশে তৈরি), তবে জিনিসের মান সাধারণত ভালো এবং কঠোর ভোক্তা-সুরক্ষা আইনের কারণে দোকানিরা বেশ সৎ। অধিকাংশ দোকান প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে, যদিও ছোট দোকান (বিশেষত যেগুলো মলের বাইরে) প্রায়ই আগে বন্ধ হয়ে যায়—সন্ধ্যা ৭টায় সাধারণত বন্ধ হয়—এবং কিছু রবিবারও বন্ধ থাকে। লিটল ইন্ডিয়ার মুস্তাফা প্রতিদিন রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে, সারা বছরই।

  • পুরনো জিনিস (প্রাচীন জিনিসপত্র): অর্চার্ডের ট্যাংলিন শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলা এবং চায়নাটাউনের সাউথ ব্রিজ রোডের দোকানগুলো আসল (বা মানসম্মত প্রতিলিপি) সংগ্রহের জন্য ভালো স্থান।
  • বই: অর্চার্ডের নিগি অ্যান সিটির কিনোকুনিয়া সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় বুকস্টোর। বুগিস জংশনে (বুগিস এমআরটি স্টেশন) একটি ছোট শাখা আছে। ব্যবহৃত বইয়ের জন্য ফার ইস্ট প্লাজা ও ব্রাস বাসাহ কমপ্লেক্স ভালো স্থান। বেশি বই কিনলে দরদাম করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ের জন্য সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বইয়ের দোকানগুলো সবচেয়ে সস্তা, পশ্চিমা দামের তুলনায় প্রায় ৮০% পর্যন্ত ছাড় থাকে।
  • ক্যামেরা: সিটি হলের কাছাকাছি পেনিনসুলা প্লাজা ক্যামেরার সবচেয়ে বড় সমাহার। তবে এখানে সস্তায় কিছু পাওয়া মুশকিল, আর কিছু দোকান (লাকি প্লাজা ও সিম লিম স্কোয়ার বিশেষ করে) প্রতারণার জন্য কুখ্যাত। নিরাপদ উপায় হলো আগে থেকেই ঠিক করে আসা আপনি কোন মডেল চান, এয়ারপোর্ট ট্রানজিট এলাকার দোকান থেকে দাম দেখে তারপর শহরের দোকানের সাথে তুলনা করা। কেনার আগে সবসময় কোর্টস, হার্ভে নরম্যান ও বেস্ট ডেনকি’র মতো বড় দোকানের দাম ও প্যাকেজ দেখে নিন। সিম লিম স্কোয়ার ও লাকি প্লাজার কিছু দোকান দ্বিগুণ-চারগুণ দামে জিনিস বিক্রি করে বা অন্য মডেল ধরিয়ে দেয়, তাই সাবধান থাকুন।
  • পোশাক, ব্র্যান্ডেড: অর্চার্ডের আয়ন অর্চার্ড, এনজি অ্যান সিটি (তাকাশিমায়া), প্যারাগন ও মেরিনা বে স্যান্ডসের দ্য শপসে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডেড বুটিকের ভিড়।
  • পোশাক, দর্জির বানানো: প্রায় সব হোটেলেই দর্জির দোকান আছে। চায়নাটাউনে কিছু দর্জি বিরক্তিকরভাবে ডেকে নেয়। কাপড়ের মান দাম অনুযায়ী হয়। সস্তা কাপড়ে সাধারণ শার্ট বানাতে $৪০ লাগতে পারে, আর সিওয়াইসি কাস্টম শপ (লি কুয়ান ইউ’র প্রিয়) ন্যূনতম $১২০ নেবে।
  • পোশাক, তরুণদের জন্য: বুগিস এলাকা তরুণ ও বাজেট সচেতন ক্রেতাদের জন্য জনপ্রিয়। বুগিস স্ট্রিটে (বুগিস এমআরটির বিপরীতে) তিনতলা দোকান রয়েছে। অর্চার্ডের ফার ইস্ট প্লাজা ও হীরেনের শীর্ষ তলাতেও তরুণদের লক্ষ্য করে দোকান আছে, তবে দাম তুলনামূলক বেশি।
  • কম্পিউটার: লিটল ইন্ডিয়ার কাছে সিম লিম স্কোয়ার প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। হার্ডওয়্যারের দাম অনলাইনে ও দোকানে তালিকা আকারে পাওয়া যায়। ত্রৈমাসিক "আইটি শো"তে (সানটেক সিটি কনভেনশন সেন্টার বা এক্সপোতে) গ্যাজেটের দাম অনেকটা কমে, তবে সবসময় নয়। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য চ্যালেঞ্জার দোকানগুলোও ভালো বিকল্প।
  • কনজিউমার ইলেকট্রনিকস: আগে দাম কম ছিল, এখন তুলনামূলক বেশি। ফানান ও মুস্তাফা নির্ভরযোগ্য স্থান। অর্চার্ড রোডের লাকি প্লাজা ও সিম লিম স্কোয়ারের কিছু দোকান প্রতারণার জন্য কুখ্যাত—অতিরিক্ত চার্জ, পুরোনো জিনিস দিয়ে দেওয়া, বা আনুষঙ্গিক জিনিস বাদ দেওয়ার মতো কাজ করে। অনলাইনে দাম যাচাই করা ও একাধিক দোকানের সাথে তুলনা করা জরুরি। মুস্তাফা, চ্যালেঞ্জার ও বড় দোকানগুলো নির্ভরযোগ্য। মনে রাখবেন, সিঙ্গাপুরে বিদ্যুৎ 230V/50Hz ব্রিটিশ তিন-পিন প্লাগ।
  • ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ: নিজের হাতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লিটল ইন্ডিয়ার কাছে সিম লিম টাওয়ারে পাওয়া যায়।
  • জাতিগত সামগ্রী: চায়নাটাউনে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বেশি সুভেনির দোকান আছে। গেইলাং সেরাই (মালয়) ও লিটল ইন্ডিয়ায় (ভারতীয় সামগ্রী) জন্য জনপ্রিয়।
  • কাপড়চোপড় (ফ্যাব্রিক): আরব স্ট্রিটলিটল ইন্ডিয়াতে আমদানিকৃত কাপড়, বিশেষত বাতিক পাওয়া যায়।
  • নকল পণ্য: অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের মতো এখানে প্রকাশ্যে নকল পণ্য বিক্রি হয় না। তবে লিটল ইন্ডিয়াবুগিসে কিছু পাওয়া যায়।
  • খাবার: স্থানীয় সুপারমার্কেট যেমন কোল্ড স্টোরেজ, শপ 'এন' সেভ, এনটিইউসি ফেয়ারপ্রাইস সর্বত্র আছে। আমদানিকৃত ও বিশেষ খাবারের জন্য র‍্যাফেলস সিটির জেসন'স মার্কেটপ্লেস বা ট্যাংলিন মলের ট্যাংলিন মার্কেট প্লেস উত্তম। সস্তায় আসল অভিজ্ঞতার জন্য স্থানীয় ভেজা বাজারে যান, যেমন লিটল ইন্ডিয়ার টেক্কা মার্কেট।
  • গেমস: ভিডিও ও পিসি গেম সহজলভ্য, তবে পশ্চিমা দেশের তুলনায় দাম সবসময় কম নয়। সিঙ্গাপুরে NTSC-J রিজিয়ন কোড ব্যবহৃত হয়, যা চীন, ইউরোপ বা আমেরিকার কনসোলে চলে না।
  • হাই-ফাই স্টেরিও: রিভারসাইডের অ্যাডেলফি অডিওপ্রেমীদের স্বর্গ।
  • মেরিন স্পোর্টস: বুগিসে বিচ রোডে দোকানগুলোতে মাছ ধরা ও স্কুবা গিয়ার পাওয়া যায়।
  • মোবাইল ফোন: নতুন-পুরনো ফোন প্রচুর পাওয়া যায় এবং দাম সস্তা। ফোন আনলকড থাকে, যেকোনো দেশে ব্যবহার করা যায়। তবে লাকি প্লাজা থেকে কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
গোলাপি রঙে শোভিত – পেরানাকান চা সেট, ড্রাগন-ফিনিক্স মোটিফ সহ
  • পেরানাকান পণ্য: মালয়-চাইনিজ পেরানাকান সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে, তবে তাদের রঙিন পোশাক, শিল্পকর্ম ও প্যাস্টেল রঙের সিরামিক এখনও পাওয়া যায়। আসলগুলো দামি, তবে আধুনিক প্রতিলিপি সস্তা। সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায় কাতোং এলাকায়
  • খেলাধুলার সরঞ্জাম: আলেকজান্ড্রা রোডের পাশের কুইন্সওয়ে শপিং সেন্টার পুরোপুরি স্পোর্টস শপে ভরা। দরদাম করা যায়, প্রায় ৪০-৫০% কম দামে অর্চার্ডের জিনিস পাওয়া যায়।
  • চা: চায়নাটাউনের Yue Hwa (২য় তলা) দাম ও বৈচিত্র্যের জন্য সেরা। লাকি প্লাজার Time for Tea-ও ভালো। স্থানীয় ব্র্যান্ড টিডব্লিউজি বিলাসবহুল দোকান চালায়।
  • ঘড়ি: দাম প্রতিযোগিতামূলক, বিশেষত অর্চার্ডের নিগি অ্যান সিটি ও মেরিনা বে’র মিলেনিয়া ওয়াকে উচ্চমানের ব্র্যান্ড পাওয়া যায়।

দিনে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দোকান থেকে ১০০ মার্কিন ডলারের বেশি কেনাকাটা করলে আপনি বিমানপথে কেনার দুই মাসের মধ্যে দেশ ছাড়লে জিএসটি ফেরত পেতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল ও কাগজপত্রনির্ভর। দোকান থেকে আপনাকে ট্যাক্স ফেরতের চেক চাইতে হবে। বিমানবন্দরে চেক-ইনের আগে জিএসটি কাস্টমস কাউন্টারে সেই চেক, কেনা পণ্য এবং আপনার পাসপোর্ট দেখাতে হবে। সেখান থেকে রশিদে সীল মারিয়ে নিতে হবে। এরপর চেক-ইন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে প্রস্থান ইমিগ্রেশন পেরোন। তারপর সীল মারা চেকটি রিফান্ড কাউন্টারে জমা দিয়ে নগদ ফেরত নিন অথবা আপনার ক্রেডিট কার্ডে জিএসটি ফেরত নিন। মনে রাখবেন, এ সুবিধা কেবল পর্যটকদের জন্য। যারা সিঙ্গাপুরে চাকরি করেন, পড়াশোনা করেন বা বিমানকর্মী হিসেবে দেশ ছাড়েন, তারা এ সুবিধার জন্য যোগ্য নন। বিস্তারিত জানতে দেখুন Singapore Customs। স্থল বা জলপথে দেশ ছাড়লে কোনো জিএসটি ফেরত পাওয়া যায় না।

প্রতি বছর জুনের শেষ থেকে জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত গ্রেট সিঙ্গাপুর সেল[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] (GSS) চলাকালে অনেক দোকানে পণ্যের দাম ৫০-৮০% বা তারও বেশি কমে যায়। এই সময় স্থানীয়রা সারা বছরের জমানো টাকা খরচ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে প্রায় সব শপিং সেন্টার, বিশেষ করে অর্চার্ড রোডের আশপাশের দোকানগুলো, সপ্তাহান্তে প্রচণ্ড ভিড়ে ঠাসা থাকে। যদি ভিড় এড়িয়ে কেনাকাটা করতে চান, তবে কর্মদিবসে দোকানে যাওয়া উত্তম, কারণ তখন বেশিরভাগ স্থানীয় মানুষ কর্মস্থলে থাকে।

সুভেনির

[সম্পাদনা]

বয়সে ছোট দেশ হলেও সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধ বহু-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের কারণে পর্যটকদের জন্য এখানে নানা ধরনের সুভেনির পাওয়া যায়। চায়নাটাউনলিটল ইন্ডিয়ায় মেরলায়ন কীচেইন, চকলেট, টি-শার্ট ও পোস্টকার্ড সহজেই পাবেন। তবে এর বাইরেও অনেক অনন্য সুভেনির রয়েছে, যেগুলো দেশীয় ব্র্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরের পরিচয় বহন করে।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড চার্লস অ্যান্ড কিথ (প্রথমে "শু হেভেন" নামে শুরু) নিখুঁত জুতা থেকে শুরু করে ব্যাগ ও অ্যাক্সেসরিজ পর্যন্ত সবই অফার করে। ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে চাইলে র‌্যাফেলস হোটেল বা চাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে ছোট আকারের সিঙ্গাপুর স্লিং ককটেল সেট নিতে পারেন। সোনালী প্রলেপ প্রযুক্তির জন্য পরিচিত রিসিস সুন্দর উপহার তৈরি করে, যেমন স্বর্ণ-প্রলেপ দেওয়া অর্কিড ও ব্রোচ।

জনপ্রিয় স্ন্যাক সুভেনিরের মধ্যে একটি হলো বি চেং হিয়াংয়ের বাক কুয়া (ধূমায়িত বারবিকিউ পোর্ক), যা চীনা পর্যটকদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। তবে স্থানীয়রা সাধারণত লিম চি গুয়ানের বানানো বাক কুয়া পছন্দ করে, যদিও চাইনিজ নিউ ইয়ার-এ সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইন পড়ে। কায়া হলো নারকেলের দুধ, ডিম ও চিনি দিয়ে তৈরি এক ধরনের মিষ্টি পেস্ট, যা সাধারণত টোস্টে মাখিয়ে নাশতায় খাওয়া হয়। ব্র্যান্ডভেদে এর স্বাদ কখনও গাঢ় মিষ্টি, আবার কখনও হালকা প্যান্ডান ফ্লেভারযুক্ত হতে পারে। ইয়াকুন কায়া সারা দেশে তাদের আউটলেটে এবং চাঙ্গি এয়ারপোর্টে সহজলভ্য।

আরেকটি অবশ্য-কেনার মতো সুভেনির হলো প্রাইমা টেস্টের চিলি ক্র্যাব ও লাক্সা সস কিটস, যা সুপারমার্কেট থেকে কিনতে পাওয়া যায় এবং এগুলো হালাল।

এছাড়া বাক কুট তেহ (আক্ষরিক অর্থে “মাংসের হাড়ের চা”) মশলার প্যাকেটও সিঙ্গাপুরের স্বাদ নিয়ে যাওয়ার জন্য চমৎকার উপহার। যেমন: A1 Bak Kut Teh

স্থানীয় ডিজাইনাররা যেমন সুপারমামা সিঙ্গাপুরীয় ওমিয়াগে (আধুনিক উপহার সামগ্রী) তৈরি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পোর্সেলিন টেবিলওয়্যার থেকে শুরু করে নানান ডিজাইনের মোজা। এগুলো তাদের নিজস্ব দোকান অথবা চাঙ্গি এয়ারপোর্টে পাওয়া যায়।

ক্যাট সক্রেটিস একটি ব্যতিক্রমধর্মী বুকস্টোর, যেখানে সিঙ্গাপুরীয় সাহিত্য ছাড়াও স্থানীয় শিল্পীদের বানানো পোস্টকার্ড, স্টেশনারি ও সিঙ্গাপুর-থিমযুক্ত ছোটখাটো উপহারসামগ্রী বিক্রি হয়।

মূল নিবন্ধ: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ব্রুনাইয়ের রন্ধনশৈলী
এই পৃষ্ঠার জন্য নিম্নলিখিত মূল্য পরিসীমা ব্যবহার করে, কোমল পানীয় সহ একজনের জন্য একটি সাধারণ খাবার:
বাজেট১০ ডলারের নিচে
মধ্যম১০–৩০ ডলার
ব্যয়বহুল৩০ ডলারের বেশি

সিঙ্গাপুর হলো বিশ্বের নানা প্রান্তের রন্ধনশৈলীর এক মিলনস্থল, আর এখানকার অনেক সিঙ্গাপুরীয় প্রকৃত খাদ্যরসিক যারা মাকান (মালয়ে "খাওয়া") পছন্দ করেন। এখানে আপনি উচ্চমানের চীনা, মালয়, ভারতীয়, জাপানি, কোরিয়, থাই, ইতালীয়, ফরাসি, ব্রিটিশ, আমেরিকান ও আরও নানা ধরনের খাবার পাবেন।

খাওয়ার অভ্যাস বৈচিত্র্যময়, তবে বেশিরভাগ খাবারই খাওয়া হয় কাঁটা ও চামচ দিয়ে: বাম হাতে কাঁটা দিয়ে ঠেলে ও কেটে নিন, আর ডান হাতে চামচ দিয়ে খান। নুডলস ও চীনা খাবারের সঙ্গে সাধারণত চপস্টিক দেওয়া হয়, আর মালয় ও ভারতীয় খাবার হাত দিয়েই খাওয়া যায়। তবে আপনি যদি কাঁটা-চামচ চান, সেটি একেবারেই স্বাভাবিক। হাতে খেলে অবশ্যই শুধু ডান হাত ব্যবহার করতে হবে, কারণ মালয় ও ভারতীয় সংস্কৃতিতে বাম হাতকে অশুচি কাজের জন্য ব্যবহৃত বলে ধরা হয়। চপস্টিক ব্যবহারের সময় প্রচলিত চীনা ভদ্রতা মেনে চলা জরুরি, বিশেষ করে কখনওই চপস্টিক চালভর্তি বাটিতে উল্লম্বভাবে গুঁজে দেবেন না।

দলবেঁধে খাওয়ার সময় সাধারণত খাবারগুলো ভাগাভাগি করে খাওয়া হয়, তবে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ভাত ও স্যুপ পরিবেশন করা হয়। নিজের চপস্টিক দিয়ে শেয়ার করা প্লেট থেকে খাবার তোলা সাধারণ ব্যাপার, যদিও চাইলে আলাদা পরিবেশন চামচ দেওয়া হয়। পাশ্চাত্যের রেস্তোরাঁয় গেলে প্রচলিত ইউরোপীয় খাবার টেবিলের শিষ্টাচারই মেনে চলতে হয়।

প্রতি বছর জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় সিঙ্গাপুর ফুড ফেস্টিভ্যাল, যেখানে নানা খাবারের উৎসব উপভোগ করা যায়।

স্থানীয় খাবার

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর খাবারের জন্য ন্যায্যভাবেই বিখ্যাত। এখানে মালয়, চীনা, ভারতীয় ও পাশ্চাত্য রান্নার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। নিচে সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি খাবারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হলো।

পেরানাকান/নোন্যা রন্ধনশৈলী

[সম্পাদনা]
রান্নার ধার করা শব্দসমূহ

আঞ্চলিক নানা শব্দ ও কিছু বিশেষ অভিব্যক্তি প্রায়ই ইংরেজি মেনুতে দেখা যায়। এর মধ্যে কয়েকটি সাধারণ শব্দ হলো:

আসাম
তেঁতুল (মালয়)
বি হুন
পাতলা চালের নুডলস (হক্কিয়েন)
গারুপা
গ্রুপার, এক ধরনের মাছ (পর্তুগিজ)
গংগং
এক ধরনের শাঁস/শামুক (চীনা)
হর ফান
চওড়া ও চেপ্টা চালের নুডলস (ক্যান্টনিজ)
কাংকুং
কলমি শাক, এক ধরনের জলজ সবজি (মালয়)
কুয়ে তেও
চেপ্টা চালের নুডলস (হক্কিয়েন/তিওচিউ)
লেনগুয়াস
নীল আদা (মালয়)
মি
মোটা ডিমের নুডলস (হক্কিয়েন/তিওচিউ 面)
সি হুম
ব্লাড ককলস, এক ধরনের শামুক (ক্যান্টনিজ)
সেরাই
লেমন গ্রাস (মালয়)
সোতং
স্কুইড/কাটলফিশ (মালয়)
স্পেয়ার পার্টস
প্রাণীর অন্তর্গত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন লিভার, হৃদপিণ্ড, গিজার্ড
টাং হুন
পাতলা স্বচ্ছ স্টার্চ নুডলস (হক্কিয়েন)

এ অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত রান্না হলো পেরানাকান বা নোন্যা খাবার। এটি গড়ে উঠেছিল মালয় ও চীনা সম্প্রদায়ের মিশ্র সংস্কৃতি থেকে, যেসব অঞ্চল আগে ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ "স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস" (বর্তমান সিঙ্গাপুর, পেনাং এবং মালাক্কা)।

  • আয়াম বুয়াহ কেলুয়াক হলো মুরগির মাংসের টুকরো দিয়ে তৈরি একটি ঝাল ও ঘন সসে রান্না করা পদ। এই সস বানানো হয় Pangium edule বা কেপায়াং গাছের কালো বীজ দিয়ে। বীজে সায়ানাইড থাকে এবং সঠিকভাবে প্রস্তুত না করলে তা মারাত্মক হতে পারে। তাই এই রান্না করা বেশ কষ্টসাধ্য।
  • বাবি পংটে হলো শুকরের মাংস (পোর্ক বেলি) নোনতা ফারমেন্টেড বীন সসে ধীরে ধীরে সেদ্ধ করা এক পদ।
  • চিলি ক্র্যাব হলো পুরো কাঁকড়া, যেটি ঘন ও টক-ঝাল চিলি সসে ডোবানো হয়। প্রথমে বেশ ঝাল মনে হলেও খেতে খেতে আরও মজাদার লাগে। খাওয়া কঠিন এবং ঝামেলাপূর্ণ, তাই সাদা জামা পরে খাওয়া উচিত নয়—হাত দিয়েই মজা করে খেতে হয়। ইস্ট কোস্টের সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁগুলো এই খাবারের জন্য বিখ্যাত। কম ঝামেলায় কিন্তু সমান সুস্বাদু বিকল্প চাইলে অর্ডার করতে পারেন ব্ল্যাক পেপার ক্র্যাব
  • কায়া হলো ডিম ও নারকেল দিয়ে তৈরি এক ধরনের জ্যামের মতো মিষ্টি পেস্ট। শুনতে অদ্ভুত হলেও স্বাদে দারুণ। সাধারণত প্রাতঃরাশে টোস্টের ওপর পরিবেশন করা হয়, সঙ্গে থাকে আধসেদ্ধ ডিম ও গাঢ় মিষ্টি কফি (কপি)। কায়ার দুটি ধরন আছে: প্যান্ডান পাতার রঙে সবুজাভ নোন্যা কায়া, আর বাদামি রঙের হাইনানিজ কায়া।
  • লাক্সা, বিশেষ করে কাতং লাক্সা বা লাক্সা লেমাক, সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। এটি চালের নুডলস দিয়ে তৈরি, নারকেল-ভিত্তিক ঘন ঝোলের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, তার ওপরে থাকে শামুক বা চিংড়ি। হকার সেন্টারের সাধারণ লাক্সা খুব ঝাল হয়, তবে চাইলে কম বা একেবারেই ঝাল ছাড়া অর্ডার করতে পারেন। কাতং লাক্সা তুলনামূলক কম ঝাল এবং সাধারণত কেবল কাতং এলাকাতেই পাওয়া যায় (দেখুন ইস্ট কোস্ট পাতা)। মালয়েশিয়ার লাক্সার সঙ্গে এর প্রায় কোনো মিল নেই।
  • মি সিয়াম হলো চালের নুডলস মিষ্টি-টক ঝোলের সঙ্গে পরিবেশিত একটি খাবার। এই ঝোল তৈরি হয় তেঁতুল, শুকনো চিংড়ি ও ফারমেন্টেড বীন দিয়ে। এর সঙ্গে দেওয়া হয় টোফু কিউব এবং সেদ্ধ ডিম। চীনা, মালয় ও ভারতীয়দের আলাদা আলাদা ধরন থাকলেও সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পেরানাকান সংস্করণ। সাধারণত মালয় খাবারের দোকানগুলোতেই এটি পাওয়া যায়।
  • রোজাক মালয় ভাষায় "সবকিছুর মিশ্রণ"। এর দুটি ভিন্ন ধরন আছে। চীনা রোজাক হলো আনারস, শালগম, শসা, তাও পক (ভাজা টোফু), এবং পাতলা করে কাটা বুঙ্গা কান্তান (আদার ফুলের কুঁড়ি) মিশিয়ে তৈরি সালাদ, যা চিংড়ি পেস্ট সস ও চিনি দিয়ে মাখানো হয় এবং উপরে ভাঙা বাদাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ভারতীয় রোজাক মূলত বিভিন্ন ডাল ও ময়দার ভাজা পাকোড়ার মিশ্রণ, সঙ্গে থাকে শসা ও টোফু। এটি মিষ্টি-ঝাল সসে ডুবিয়ে খাওয়া হয়।
  • আইসক্রিম পশ্চিমা দেশের মতোই, তবে সিঙ্গাপুরে স্থানীয় কিছু অনন্য স্বাদ পাওয়া যায়—যেমন ডুরিয়ান বা লাল মটরশুটি—যা অন্য কোথাও সাধারণত পাওয়া যায় না। স্থানীয়দের মুগ্ধ করতে চাইলে রুটির (পাউরুটি) ভেতরে আইসক্রিম খেতে চাইতে পারেন।

এসবের বাইরে, পেরানাকানরা তাদের কুয়েহ বা হালকা নাস্তার জন্যও পরিচিত, যা মালয় সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি চীনা প্রভাব বহন করে।

মালয় রন্ধনশৈলী

[সম্পাদনা]
নাসি লেমাক সঙ্গে ওতাহ (মশলাদার মাছের পেস্ট), ভাজা মুরগির ডানা, শসা ও ঝাল সাম্বাল চিলি সস

মালয়রা ছিল সিঙ্গাপুরের আদিবাসী। এখন সংখ্যায় তারা চীনা জনগোষ্ঠীর চেয়ে কম হলেও, তাদের স্বতন্ত্র খাবার আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়। মালয় খাবারের বৈশিষ্ট্য হলো মশলার প্রাচুর্য; বেশিরভাগ পদই কারি, ঝোল বা এক ধরনের ডিপ। নাসি পাদাং রেস্তোরাঁগুলোতে নানা ধরনের এসব পদ ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, যা খুবই জনপ্রিয়।

  • মি রেবুস হলো ডিম-নুডলস, ঝাল-মিষ্টি সস, একটি সেদ্ধ ডিমের টুকরো ও লেবুর সঙ্গে পরিবেশিত একটি পদ।
  • মি সোতো হলো মালয় ধাঁচের মুরগির স্যুপ। এতে থাকে পরিষ্কার ঝোল, টুকরো করা মুরগির বুকের মাংস ও ডিম নুডলস।
  • নাসি লেমাক মালয়দের সবচেয়ে পরিচিত প্রাতঃরাশ। সহজভাবে এটি রান্না করা হয় হালকা নারকেল দুধে ভাত সেদ্ধ করে, সঙ্গে থাকে সামান্য ইকান বিলিস (শুকনো মাছ/অ্যাঙ্কোভি), বাদাম, একটি শসার টুকরো ও এক চামচ ঝাল মরিচ। অনেক সময় এর সঙ্গে ভাজা মাছ (ইকান কুনিং) বা মুরগির ডানা দেওয়া হয়। বেশিরভাগ সময়ই এটি নানা ধরনের কারি ও সাম্বালের সঙ্গে খাওয়া হয়।
  • ওতাহ/ওতাক হলো এক ধরনের মাছের কেক। এটি সাধারণত ম্যাকারেল মাছ কিমা করে নারকেল দুধ, মরিচ ও মশলা মিশিয়ে কলা বা নারকেল পাতায় মুড়ে গ্রিল করা হয়। সাধারণত নাসি লেমাকের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
  • রেন্ডাং ইন্দোনেশিয়ার পাদাং থেকে আসা হলেও সিঙ্গাপুরে ঐতিহ্যবাহী মালয় খাবার হিসেবে ধরা হয়। একে অনেক সময় "ড্রাই কারি" বলা হয়। মাংসকে ঝাল (তবে তীব্র নয়) নারকেল-ভিত্তিক মশলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্না করা হয় যতক্ষণ না প্রায় সব পানি শুকিয়ে যায়। সবচেয়ে প্রচলিত হলো গরুর মাংসের রেন্ডাং, তবে মাঝে মাঝে মুরগি ও খাসিও ব্যবহৃত হয়।
  • সাম্বাল মূলত জাভানি খাবার থেকে এসেছে এবং এটি বিভিন্ন ধরনের মরিচ সসের সাধারণ নাম। সাম্বাল বেলাচান হলো মরিচ ও চিংড়ি পেস্ট মিশিয়ে তৈরি একটি সাধারণ সস। আর জনপ্রিয় পদ সাম্বাল সোটং হলো লাল মরিচ সসে রান্না করা স্কুইড (সোটং)।
  • সাম্বাল স্টিংরে হলো স্টিংরে মাছ গ্রিল করে, তার ওপরে ঝাল সাম্বাল মশলা মেখে তৈরি করা একটি পদ। স্টিংরে মাংস আশ্চর্যজনকভাবে শক্ত ও মুরগির মাংসের মতো লাগে। সামুদ্রিক খাবার বেশি পছন্দ না করা মানুষদের কাছেও এটি জনপ্রিয়।
  • সাতায় মূলত জাভানি খাবার হলেও এখন মালয় রান্নার জনপ্রিয় অংশ। এটি হলো শিকে গাঁথা মাংস (মুরগি, খাসি বা গরু), যা গ্রিল করা হয়। সাধারণ কাবাব থেকে এর পার্থক্য হলো মশলার ব্যবহার ও হালকা ঝাল চিনাবাদাম-ভিত্তিক ডিপিং সস। র‌্যাফেলস প্লেসের কাছাকাছি লাউ বা সাতের সাতায় ক্লাব এই খাবারের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয় হাইনানিজ সংস্করণে আবার শুকরের মাংস (নন-হালাল) ব্যবহার হয় এবং ডিপিং সসে আনারসের পিউরি মেশানো হয়।
কারি পাফ, মুরগির কারি ভরা পেস্ট্রি
  • কারি পাফ হলো সিঙ্গাপুরীয় সংস্করণের সমোসা। এটি সাধারণত হালকা মশলাদার মুরগির কারি ও আলু দিয়ে ভরা পেস্ট্রি, তবে অসংখ্য ভিন্ন ধরনও আছে। সহজে বহনযোগ্য, পেট ভরানো ও সুস্বাদু।

মালয় মিষ্টান্ন, বিশেষ করে নারকেল ও খেজুরের গুড় (গুলা মেলাকা) দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কেক ও জেলি (কুইহ বা কুয়েহ), থাইল্যান্ডের মিষ্টির সঙ্গে বেশ মিল আছে। তবে গরম আবহাওয়ায় এখানে বরফ দিয়ে তৈরি নানা রকম ঠাণ্ডা মিষ্টিও জনপ্রিয়:

  • বুবুর চা-চা হলো নারকেল দুধের ঝোলে কিউব আকারে কাটা যাম, মিষ্টি আলু ও সাগো দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টি। এটি গরম বা ঠাণ্ডা দু’ভাবেই পরিবেশন করা হয়।
  • চেন্ডল হলো সবুজ মটরশুঁটির নুডলস, লাল শিম, খেজুর গুড় ও নারকেল দুধ দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি।
  • ডুরিয়ান কোনো রান্না নয়, বরং একটি স্থানীয় ফল। এর গন্ধ অনেক দূর থেকেই টের পাওয়া যায় এবং এর কাঁটাযুক্ত শক্ত খোসা থাকে। স্বাদ ও গন্ধ বোঝানো কঠিন—অনেকে পছন্দ করেন, অনেকে একেবারেই পারেন না। ফলের রাজা নামে পরিচিত এই ফলের হলুদাভ নরম অংশ খেতে খুব ক্রিমি ও মিষ্টি। গেইলাং, বুগিসসহ নানা স্থানে এটি কাঁচা বা প্যাকেটজাত অবস্থায় বিক্রি হয় (প্রায় ১০ ডলার থেকে)। ডুরিয়ান দিয়ে আইসক্রিম, কেক, মিষ্টি, পুডিংসহ নানা ডেজার্টও তৈরি হয়। তবে এমআরটি ট্রেন, বাস ও অনেক হোটেলে ডুরিয়ান নিষিদ্ধ, তাই অনেক দোকানেই বসে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
  • আইস কাচাং মালয় ভাষায় আক্ষরিক অর্থে "বরফ শিম"। এতে মূল উপাদান হলো কুচানো বরফ ও লাল মটরশুঁটি। তবে প্রায়শই এর সঙ্গে খেজুর গুড়, ঘাসের জেলি, মিষ্টি ভুট্টা, আত্তাপ খেজুরের বিচি ইত্যাদি দেওয়া হয়। ওপরে ঢালা হয় ইভাপোরেটেড দুধ বা নারকেল দুধ ও রঙিন সিরাপ। ফলাফল দাঁড়ায় বেশ অদ্ভুত কিন্তু সতেজ এক স্বাদ।
  • কুইহ (বা কুয়েহ) হলো নারকেল দুধ, নারকেলের কোরানো শাঁস, আঠালো চাল বা টেপিওকা দিয়ে তৈরি নানা রঙিন ভাপা বা বেক করা কেক। দেখতে ভিন্ন হলেও প্রায় একই ধরনের স্বাদ থাকে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ওন্দেহ-ওন্দেহ—সবুজ ছোট বল, যা নারকেলের কুচি দিয়ে মাখানো থাকে এবং ভেতরে আখের সিরাপ থাকে, মুখে দিলেই ফেটে মিষ্টি স্বাদ ছড়ায়।
  • পিসাং গোরেং হলো ময়দার খামিরে ডুবিয়ে ভাজা কলা।

চীনা রন্ধনশৈলী

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের চীনা খাবারের মূল উৎস হলো দক্ষিণ চীন, বিশেষত ফুজিয়, গুয়াংডংহাইনান অঞ্চল। উচ্চমানের রেস্তোরাঁয় আসল স্বাদের খাবার পাওয়া গেলেও, হকার সেন্টারের দৈনন্দিন খাবারগুলো স্থানীয় আবহে বদলে গেছে। এখানে ঝাল মরিচের ব্যবহার অনেক বেশি, সঙ্গে জনপ্রিয় মশলা হলো মালয় চিংড়ি পেস্ট বেলাচান। নুডলস শুধু স্যুপে (তাং) নয়, শুকনোভাবেও (গান) পরিবেশন করা হয়—মানে নুডলস আলাদা বাটিতে মরিচ ও মশলা মিশিয়ে দেওয়া হয়, আর স্যুপ আলাদা বাটিতে আসে।

  • বাক চোর মি (肉脞面) হলো নুডলসের সঙ্গে কিমা পোর্ক, মরিচ-ভিত্তিক সস, শূকরের চর্বি, ভাজা অ্যাঙ্কোভি (ইকান বিলিস), সবজি ও মাশরুম মিশিয়ে তৈরি খাবার। কখনো কখনো কালো ভিনেগারও দেওয়া হয়।
  • বাক কুত তেহ (肉骨茶), আক্ষরিক অর্থে "পোর্ক বোন চা", আসলে হলো পোর্ক রিব ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেদ্ধ করে বানানো ঝোল। সিঙ্গাপুরিয়ানরা সাধারণত হালকা ও গোলমরিচ-ভিত্তিক তিওচিউ ধাঁচ (সাদা) পছন্দ করেন, তবে কিছু দোকানে গাঢ় ও সুগন্ধি ফুজিয়ান ধাঁচ (কালো) মেলে। সাধারণত এটি খাওয়া হয় সাদা ভাত, আচার করা সবজি (মুই চই) ও শক্তিশালী চীনা চায়ের সঙ্গে। ঝোলে আসলে কোনো চা থাকে না। স্থানীয়দের খুশি করতে চাইলে পাশের দোকান থেকে ইও তিয়াও ফ্রিটার্স কিনে স্যুপে ডুবিয়ে খেতে পারেন।
  • চার কুয়ে তেও (炒粿条) সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত ভাজা নুডলস, যাতে থাকে কয়েক রকম নুডলস, ঘন বাদামি সস, ফিশকেক, চীনা সসেজ, সামান্য সবজি আর চিংড়ি বা শামুক। দাম সস্তা ($২–৩), পেট ভরানো, আর এর সঙ্গে বিদেশে প্রচলিত "সিঙ্গাপুর ফ্রাইড নুডলসের" কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে ক্যারামেলাইজড সয়া সস দিয়ে ভাজা হয়, তাই স্বাদ কিছুটা মিষ্টি।
  • চি চিয়ং ফান (豬腸粉) সকালের নাশতার জন্য জনপ্রিয়। এটি লাসাগনার মতো চালের নুডলস রোল করে বিভিন্ন ভাজা মাংস, ফিশবল বা টোফুর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ওপরে প্রচুর সস ঢালা হয়।
  • চুই কুয়ে (水粿) আরেকটি সকালের পদ। এটি চালের কেক, যার ওপরে ফারমেন্টেড শালগম (চাই পো) দেওয়া হয়, সাধারণত মরিচ সসের সঙ্গে খাওয়া হয়।
  • ইকোনমি রাইস (菜饭) মানে সাদা ভাতের সঙ্গে পছন্দমতো মাংস ও সবজির পদ বেছে নেওয়া। দাম সস্তা হওয়ায় এটি সিঙ্গাপুরের শ্রমজীবী চীনা সম্প্রদায়ের সাধারণ খাবার।
  • ফিশবল নুডলস (魚丸面) নানা ধরনেই পাওয়া যায়, তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মি পক—চ্যাপ্টা ডিম নুডলস। এটি মরিচ সস মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়, আর আলাদা এক বাটিতে ফিশবল স্যুপ থাকে।
  • হাইনানিজ চিকেন রাইস (海南鸡饭) হলো সেদ্ধ (সাদা) বা ভাজা (লাল) মুরগি, যা সয়া সস ও তিলের তেল দিয়ে মাখানো থাকে। এটি পরিবেশন করা হয় সুগন্ধি ভাতের ওপর, যেটি মুরগির ঝোলে আদা ও রসুন মিশিয়ে রান্না করা হয়। সঙ্গে থাকে টাটকা মরিচ, আদা, রসুন ও ঘন সয়া সস দিয়ে বানানো চিলি সস, শসা এবং এক বাটি মুরগির ঝোল। যদিও নাম এসেছে হাইনান থেকে, ভাত রান্নার কৌশল আসলে হাইনানিজ অভিবাসীদের উদ্ভাবন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়।
  • হক্কিয়েন মি (福建面) হলো হালকা ঝোলের সঙ্গে চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের ভাজা নুডলস। আশ্চর্যের বিষয়, কুয়ালালামপুর বা পেনাং-এ একই নামে যে পদ পাওয়া যায়, তার সঙ্গে এর মিল নেই।
  • কুয়ে চাপ (粿汁) হলো চালের ময়দার শিট ঝোলে দেওয়া হয়, সঙ্গে আলাদা প্লেটে থাকে ঝোলানো পোর্ক ও শূকরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (জিহ্বা, কান, অন্ত্র)।
  • মালা শিয়াংগুও (麻辣香锅) মূলত সিচুয়ান থেকে আসা, তবে সিঙ্গাপুরে ভীষণ জনপ্রিয়। এটি হলো নানা উপকরণ ঝাল মরিচ ও সিচুয়ান গোলমরিচ দিয়ে ভাজা। প্রথমে "অল্প ঝাল" (小辣 শিয়াও লা) দিয়ে শুরু করা ভালো!
  • মুনকেক (月饼) সাধারণত মধ্য-শরৎ উৎসবে খাওয়া হয়। ক্যান্টোনিজ ধরনের মুনকেক, যার ভেতরে লোটাস সিড পেস্ট ও নোনতা ডিমের কুসুম থাকে, সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এখন অনেক বেকারিতে আধুনিক "স্নো স্কিন" মুনকেকও পাওয়া যায়। স্থানীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে দুরিয়ান ভরা স্নো স্কিন মুনকেকও জনপ্রিয়।
  • পোপিয়া (薄饼), বা স্প্রিং রোল, ভাজা বা টাটকা—দুটোভাবেই মেলে। এর ভেতরে সেদ্ধ শালগম, ভাজা টোফু, পোর্ক, চিংড়ি ও মশলা ভরা হয়, পাতলা ক্রেপে মুড়ে মিষ্টি সয়া সস মাখিয়ে খাওয়া হয়। এটি আসলে এশিয়ার অন্যান্য চীনা সম্প্রদায়ের লুম্পিয়ারুনবিংয়ের কাছাকাছি।
  • প্রন নুডলস (虾面, হক্কিয়েন ভাষায় হে মি) হলো গাঢ় বাদামি চিংড়ির ঝোলের সঙ্গে ডিম নুডলস, ওপরে বড় টাইগার চিংড়ি। অনেক দোকানে এর সঙ্গে পোর্ক রিবও দেওয়া হয়। সেরা সংস্করণগুলো ভীষণ আসক্তিকর, শেষ ফোঁটা পর্যন্ত ঝোল খেতে ইচ্ছে করে।
  • রাইস ডাম্পলিং (粽子) ড্রাগন বোট উৎসবে খাওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো হক্কিয়েন ধাঁচের বাক চাং ও পেরানাকান ধাঁচের ননিয়া চাং। পরেরটিতে মিষ্টি মশলায় মেরিনেট করা পোর্ক সুগন্ধি প্যান্ডান পাতায় মুড়ে রান্না হয়। আবার কি চাং নামের মিষ্টি ডাম্পলিংও আছে, যেটি ক্ষারযুক্ত পানিতে ভিজিয়ে বানানো হয় এবং চিনি দিয়ে খাওয়া হয়।
  • সাতায় বি হুন হলো চালের ভেরমিসেলি (বি হুন), যেটি সাতায়র চিনাবাদাম-মরিচ সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়। সাধারণত এর সঙ্গে শামুক, শুকনো স্কুইড ও পোর্কের টুকরো থাকে।
  • স্টিমবোট (火锅), বা হটপট, হলো টেবিলে রাখা ফুটন্ত ঝোলের ভেতরে নিজের পছন্দমতো মাংস, মাছ, সবজি রান্না করে খাওয়া। শেষে এতে নুডলস বা ভাতও যোগ করা যায়। সাধারণত কমপক্ষে দু’জন মিলে খাওয়া হয়।
  • তাউ হুয়ে (豆花), বা বিনকার্ড, সবচেয়ে প্রচলিত চীনা মিষ্টি। সিরাপের সঙ্গে টোফুর দই-জাতীয় কণা পরিবেশন করা হয়, গরম বা ঠাণ্ডা—দুটোভাবেই। আধুনিকভাবে এখন সফট তাউ হুয়ে জনপ্রিয়, যা সিরাপ ছাড়াই মসৃণ কাস্টার্ডের মতো।
  • ওনটন মি (云吞面) হলো পাতলা নুডলসের ওপরে পোর্ক ভর্তি ওনটন ডাম্পলিং। হংকং ধাঁচের মতো ঝোল না দিয়ে সাধারণত শুকনো সয়া সস ও মরিচের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
  • ইয়ং তাউ ফু (酿豆腐), আক্ষরিক অর্থে "ভর্তি টোফু"। তবে শুধু টোফু নয়, নানা ধরনের মাছ, সামুদ্রিক খাবার ও সবজিও ব্যবহার হয়। এগুলো কেটে ফুটন্ত পানিতে সামান্য সিদ্ধ করা হয়, তারপর স্যুপে বা শুকনোভাবে পরিবেশন করা হয়। সাধারণত মরিচ সস ও মিষ্টি সস ডিপিং হিসেবে থাকে। নুডলসের সঙ্গেও খাওয়া যায়।

ভারতীয় রান্না

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের তিনটি বড় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভারতীয়রা আকারে সবচেয়ে ছোট, তাই স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিতে তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তবুও ভারতীয় খাবারের অভাব নেই—হকার সেন্টার থেকে শুরু করে প্রায় সব এলাকাতেই অন্তত দু’একটি মামাক (ভারতীয় মুসলিম) দোকান থাকে, যেগুলো অনেক সময়ই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। আসল ভারতীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে যেতে হবে লিটল ইন্ডিয়ায়। এখানে দক্ষিণ ভারতের সাধারণ খাবার যেমন দোসা (থোসাই) ক্রেপ, ইডলি (ডাল-চালের পিঠা), সাম্বর স্যুপ পাওয়া যায়। আবার উত্তর ভারতের বিভিন্ন কারি, নান, চাপাটি, তন্দুরি চিকেন ইত্যাদিও সহজেই মিলবে।

তবে এগুলোর বাইরেও কিছু ভারতীয় খাবারকে সিঙ্গাপুরে জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে এবং সবার কাছে এগুলো আজ স্থানীয় রান্নার অংশ:

  • ফিশ হেড কারি নামেই বোঝা যায়—একটা বড় মাছের মাথা কারি দিয়ে রান্না করা হয় যতক্ষণ না তা প্রায় ভেঙে পড়ে। সিঙ্গাপুরের লিটল ইন্ডিয়া এই খাবারের জন্য সেরা জায়গা। এর দুটি ধরণ রয়েছে—ঝাল ভারতীয় ধরণ এবং অপেক্ষাকৃত হালকা চীনা ধরণ।
  • নাসি বিরিয়ানি হলো হলুদের সঙ্গে রান্না করা ভাত, যা ভাতকে কমলা রঙ দেয়। ঝাল হায়দরাবাদি বিরিয়ানির মতো না হয়ে এটি সাধারণত বেশ হালকা হয়, তবে বিশেষায়িত দোকানগুলো আরও সুস্বাদু সংস্করণ পরিবেশন করে। সাধারণত এটি চিকেন কারি আর কিছু ভারতীয় ক্র্যাকারসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
  • রুটি প্রাটা হলো দক্ষিণ ভারতের পরোটা-র স্থানীয় সংস্করণ। ময়দা বারবার আঘাত করে পাতলা করা হয়, তারপর ভাঁজ করে গরম তাওয়ায় ভাজা হয় এবং কারির সঙ্গে খাওয়া হয়। আধুনিক ভ্যারিয়েশনে এতে পনির, চকলেট এমনকি আইসক্রিম পর্যন্ত ব্যবহার হয়। তবে প্রচলিত কয়েকটি ধরন হলো রুটি কসঙ (সাধারণ/plain), রুটি তেলুর (ডিম দিয়ে) এবং মুর্তাবাক (চিকেন, খাসি, গরু বা মাছের পুর দিয়ে ভরা)। যারা ভেগান, তাদের সতর্ক থাকতে হবে—কারণ ভারতীয় রুটির মতো নয়, রুটি প্রাটার ময়দা সাধারণত ডিম দিয়ে তৈরি হয়।
  • পুতু মায়াম হলো এক ধরনের মিষ্টি ডেজার্ট, যেখানে সেমাই-সদৃশ সাদা নুডলসের উপর নারকেল কুচি আর কমলা চিনি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

হকার সেন্টার

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুরের সমাজকল্যাণের ধরন

সিঙ্গাপুরের সস্তা খাবারের দোকানে একটি জিনিসের অভাব স্পষ্ট—কোনো ন্যাপকিন বা টিস্যু দেওয়া হয় না। এর রহস্য হলো সিঙ্গাপুরে সরকারি কল্যাণ ব্যবস্থার অভাব। এর বদলে প্রতিটি হকার সেন্টারে এক-দু’জন প্রতিবন্ধী মানুষ থাকেন, যারা জীবিকা নির্বাহ করেন টিস্যু বিক্রি করে ($১-এ কয়েকটি প্যাকেট)।

একটি সাধারণ হকার সেন্টার

সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে সস্তা এবং জনপ্রিয় খাবারের জায়গা হলো হকার সেন্টার, যেখানে একসময়ের ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের সরকারি উদ্যোগে বড় বড় কমপ্লেক্সে একত্রিত করা হয়েছে। দাম কম ($৩–৫ বেশিরভাগ খাবারের জন্য), স্বাস্থ্যবিধি ভালো (প্রতিটি দোকানেই A থেকে D গ্রেডের স্বাস্থ্য সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক) এবং খাবারও অনেক সময় অসাধারণ। তবে পরিবেশ সাধারণত খুব ভালো নয় এবং এখানে কোনো এয়ারকন্ডিশনও থাকে না। তবুও, সিঙ্গাপুরে এলে স্থানীয় খাবারের প্রকৃত স্বাদ নিতে চাইলে একবার অন্তত হকার সেন্টারে যেতেই হবে। তবে কিছু জায়গায় (যেমন লাউ পা সাটের সাটে ক্লাব বা নিউটন ফুড সেন্টার) অতিরিক্ত আগ্রাসী ডাকা-ডাকির প্রবণতা আছে, যেটা এড়িয়ে চলাই ভালো। সেরা দোকানগুলো ক্রেতা টানতে জোরাজুরি করে না। উল্লেখ্য, গ্রাহক ডাকার জন্য জোরাজুরি আইনত নিষিদ্ধ এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সতর্ক করে থাকে।

শুধু নগদ টাকা

হকার সেন্টার আর কফি শপগুলো এমন কিছু জায়গার মধ্যে পড়ে যেখানে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয় না। অর্ডারের আগে জেনে নিন এবং নগদ টাকায় প্রস্তুত থাকুন।

হকার সেন্টার তৈরি করা হয়েছে প্রচুর মানুষের খাবার পরিবেশনের জন্য। জনপ্রিয় হকারের দ্রুতগতির সিঙ্গলিশে কথা বলা অনেকের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। প্রথমেই বসার জায়গা ঠিক করে নিন—বন্ধুকে বসিয়ে রেখে বা স্থানীয়দের মতো টেবিলে একটি টিস্যুর প্যাকেট রেখে। যদি কোনো দোকানে "সেলফ-সার্ভিস" না লেখা থাকে, তবে টেবিল নম্বর লিখে রাখুন যাতে তারা খাবার পৌঁছে দিতে পারে। ভালো দোকানে সব সময় লাইন থাকে, তাই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করুন, আর যখন আপনার পালা আসবে তখন খাবারের নাম আর দাম বলুন: যেমন "ফিশবল নুডলস, চার ডলার।" এরপর কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হতে পারে:

  • "Have here or take away?" — বসে খাবেন জানাতে "have here" বলুন। সাথে নিয়ে যেতে চাইলে "take away", "packet" বা ta pao (打包) বললেই চলবে।
  • "Container?" — যদি প্যাকেট নেন, কিছু দোকান ফ্রি প্লাস্টিক ব্যাগ দেয় (যেটা ব্যবহার করতে হলে আপনাকে নিজস্ব বাটি/প্লেট লাগবে) অথবা প্রায় ২০ সেন্ট বাড়তি দিয়ে স্টাইরোফোম বক্স নিতে পারবেন। একবার ব্যবহারযোগ্য চামচ-কাঁটা সবসময় দেওয়া হয়।
  • "Soup or dry?" — অনেক নুডলস খাবার হয় "শুকনো" (干 kan), যেখানে স্যুপ আলাদা বাটিতে থাকে, অথবা "স্যুপ" (汤 tang), যেখানে সবকিছু একসঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
  • "What noodle?" — ভালো নুডলস দোকানে সাধারণত চার রকম নুডলস থাকে—যেমন হলুদ mee (গমের মোটা নুডলস) থেকে শুরু করে পাতলা bee hoon (চালের ভেরমিসেলি)। কাচের আলমারিতে রাখা দেখে পছন্দ করে নিন।
  • "Chilli?" — হ্যাঁ বললে ঝাল সাম্বাল পেস্ট মিশিয়ে দেওয়া হবে। অনেক সময় এটি বেশ ঝাল হয়, তাই চাইলে আলাদা করে নিজের মতো করে চিলি নিতে পারেন।

খাওয়া শেষ হলে ট্রে এবং ব্যবহার করা বাসনপত্র নির্দিষ্ট ট্রে ফেরত র‍্যাকে রাখতে হবে। সিঙ্গাপুরে এটি আইন, না রাখলে $৩০০ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। হালাল ও নন-হালাল দোকানের ট্রে ফেরতের র‍্যাক আলাদা থাকে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিটি এলাকাতেই নিজস্ব হকার সেন্টার রয়েছে এবং শহরের বাইরে গেলে দাম আরও কমে। পর্যটকদের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থিত নিউটন সার্কাস (নিউটন এমআরটি প্রস্থান বির কাছে), গ্লাটন্স বে (এসপ্ল্যানেড এমআরটি প্রস্থান ডি-এর কাছে) এবং লাউ পা সাট (র‍্যাফেলস প্লেস এমআরটি প্রস্থান ১, নদীর পাশে) জনপ্রিয় স্থান। তবে এগুলো সবসময় সস্তা বা সেরা নয়। যারা প্রকৃত খাবারপ্রেমী, তাদের উচিত চায়নাটাউন বা শহরের বাইরের আবাসিক এলাকায় যাওয়া। জনাকীর্ণ টেক্কা সেন্টার (লিটল ইন্ডিয়ার প্রান্তে) নানা রকম খাবারের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের জন্য। অনেক ভালো দোকান পর্যটকদের চোখের আড়ালে আবাসিক এলাকায় লুকিয়ে থাকে এবং তারা বিজ্ঞাপনও দেয় না। তাই সেগুলো খুঁজে বের করার সেরা উপায় হলো স্থানীয়দের কাছে সুপারিশ চাওয়া। শহরের কাছাকাছি ভালো উদাহরণ হলো ওল্ড এয়ারপোর্ট রোড ফুড সেন্টার (ডাকোটা এমআরটি এক্সিট বি-এর কাছে) এবং টিয়ং বাহরু মার্কেট (টিওং বাহরু এমআরটির কাছে), যেগুলো বড় আকারের এবং অনেক জনপ্রিয় খাবারের দোকানের ঠিকানা।

কফিশপ এবং বুদবুদ চা

[সম্পাদনা]
কফি, চা আর দেখা

হকার সেন্টার এবং কোপিতিয়াম-এ কফি ও চায়ের দাম এক কাপের জন্য প্রায় এক ডলার, যা স্টারবাকসের দামের তুলনায় অনেক কম। তবে পছন্দসই পানীয় পেতে হলে কিছুটা স্থানীয় শব্দ শিখতে হবে। সিঙ্গাপুরে যদি আপনি শুধু কোপি (মালয় ভাষায় কফি) বা তে (হক্কিয়েনে চা) অর্ডার করেন, তবে তা অবশ্যই এক চামচ ভরতি চিনি দিয়ে পরিবেশন করা হবে, আর অনেক সময় ঘন মিষ্টি কনডেন্সড মিল্কও দেওয়া হয়। কোপি-সি বা তে-সি মানে অসুগারযুক্ত ইভাপোরেটেড মিল্ক দিয়ে তৈরি, আর কোপি-ও বা তে-ও মানে দুধ ছাড়া চা বা কফি। চিনি ছাড়া চাইলে বলতে হবে কোসং ("সাধারণ/plain")। তবে যদি শুধু কালো কফি চান, তাহলে বলতে হবে কোপি-ও কোসং। ঠাণ্ডা পানীয় চাইলে নামের শেষে শুধু পেং যোগ করুন, যেমন কোপি-ও-পেং, তে-পেং, তে-সি-পেং, মিলো-পেং ইত্যাদি, আর বরফ দিয়ে পরিবেশন করা হবে।

সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী নাশতা: কোপি, কায়া টোস্ট আর আধসেদ্ধ ডিম

নামের সঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, কফিশপ বা কোপিতিয়াম-এ শুধু কফি নয় বরং আরও অনেক কিছু পাওয়া যায় — এগুলো আসলে ছোট আকারের হকার সেন্টারের মতো, যেখানে হয়তো আধা ডজন দোকান থাকে (যার মধ্যে একটি অবশ্যই কফি ও পানীয় বিক্রি করে)। এগুলো সিঙ্গাপুরের পাবের সমতুল্য: সকালের ঐতিহ্যবাহী নাশতা কোপি (গাঢ়, মিষ্টি কফি), কায়া (ডিম-নারকেল জ্যাম) টোস্ট এবং আধসেদ্ধ ডিম এখানেই খাওয়া হয়। আবার সন্ধ্যায় এখানে বসে বিয়ার খাওয়া আর আড্ডা দেওয়াও সাধারণ ব্যাপার। ইংরেজি দক্ষতা অনেক সময় সীমিত হতে পারে, তবে বেশিরভাগ দোকানদার মৌলিক কথাবার্তা বোঝাতে পারেন, আর প্রয়োজনে স্থানীয়রা সাহায্য করতেও এগিয়ে আসে। অনেক কফিশপে রাতে জি চার/চে চা (煮炒) পরিবেশন করা হয়, মানে টেবিলে বসেই চাইনিজ ধাঁচের সামুদ্রিক খাবারসহ স্থানীয় রান্না মাঝারি দামে অর্ডার করা যায়।

সাধারণ স্টারবাকস কিংবা কফি বিন অ্যান্ড টি লিফের মতো ক্যাফে-চেইনগুলো যে কোনো শপিং মলে সহজেই পাওয়া যায়, তবে একটি বরফ দেওয়া কফি বা চায়ের দাম সেখানে $৫ বা তারও বেশি হতে পারে। বিপরীতে, একটি তে তারিক ("টানা" দুধ চা) বা কোপি কফি হকার সেন্টার বা কফিশপে মাত্র $১-এর মতো। ঘুরে বেড়াতে গেলে শহরের কেন্দ্রে স্বাধীন ক্যাফেগুলোও চোখে পড়বে, যেখানে গুরমে কফি, পেস্ট্রি আর কেক পরিবেশন করা হয় — গত এক দশকে এগুলোর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

সবশেষে, তাইওয়ানি উদ্ভাবন বাবল টি (যা বোবা টি বা পার্ল টি নামেও পরিচিত) সিঙ্গাপুরে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি শপিং মলেই অনেকগুলো আউটলেট আছে, যেখানে দুধ-চা আর চিনির নানা মিশ্রণ, সাথে চিবোনো যায় এমন ট্যাপিওকা পার্ল, আর সৃজনশীল উপাদান যেমন ক্রিম চিজ ফোম থেকে শুরু করে ধোঁয়াটে ব্ল্যাক সুগার সিরাপ পর্যন্ত পরিবেশন করা হয়। লিহো এবং কোই সবচেয়ে বড় চেইন।

ফুড কোর্ট

[সম্পাদনা]
ফুড রিপাবলিক রেট্রো থিম ফুড কোর্ট

প্রায় প্রতিটি শপিং মলের বেইসমেন্ট বা উপরের তলায় ফুড কোর্ট পাওয়া যায়। এগুলো মূলত এয়ারকন্ডিশনড সংস্করণ হকার সেন্টারের। খাবারের বৈচিত্র্য প্রায় একই হলেও, যে খাবার হকার সেন্টার বা কফিশপে $৩–৫-এ পাওয়া যায়, ফুড কোর্টে সেটির দাম $৫–১০ হয়ে যায়। স্থানীয়রা প্রায়ই অভিযোগ করে যে স্বাদও খারাপ হয়, কারণ ফুড কোর্টের দোকানগুলো সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ, যেখানে পরিবার-চালিত দোকানের মতো ভালোবাসা ও নিষ্ঠা দিয়ে রান্না করা হয় না।

ফাস্ট ফুড

[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ফাস্ট ফুড চেইন যেমন ম্যাকডোনাল্ড’স, বার্গার কিং, কেএফসি, এমওএস বার্গার, সাবওয়ে ইত্যাদি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন শপিং মলে সহজেই পাওয়া যায়। সাধারণ একটি বার্গারের দাম প্রায় $৫ থেকে শুরু হয় এবং সেট মিলের দাম $১৫ বা তার বেশি হতে পারে। সব রেস্তোরাঁই সেলফ-সার্ভিস, আর খাওয়া শেষে টেবিল পরিষ্কার করে যাওয়ার জন্য জোরালোভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়। এসবের পাশাপাশি কিছু একেবারে সিঙ্গাপুরিয়ান ব্র্যান্ডও আছে, যেগুলো নজরে রাখা উচিত:

  • বেঙ্গাওয়ান সোলো মালয় ও পেরানাকান ধাঁচের কুয়ে কেক এবং চাইনিজ স্টাইল কুকি পাওয়া যায়। টুকরো টুকরো করে তাজা বিক্রি করা হয়, আবার বড় প্যাকেও পাওয়া যায় উপহার দেওয়ার জন্য। এদের আনারসের টার্ট ($২৫) খুব বিখ্যাত, দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং দারুণ সুভেনির হিসেবে নেওয়া যায়। কুয়ে লাপিস লেয়ার কেকও চমৎকার, তবে এটি ফ্রিজে রাখতে হয়। প্রায় সব শপিং মলেই আউটলেট আছে, এমনকি চাঙ্গি বিমানবন্দরেও শাখা রয়েছে।
  • ব্রেডটক নিজেদের “ডিজাইনার ব্রেড” চেইন বলে পরিচয় দেওয়া এই ব্র্যান্ড শুধু সিঙ্গাপুরেই নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পণ্য আকর্ষণীয় আকারে বানানো, মজার নাম (যেমন ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন বেকন) দেওয়া হয়, আর সবকিছু দোকানেই বেক করা হয়। পশ্চিমাদের কাছে এদের বেশিরভাগ পণ্যই খানিকটা মিষ্টি মনে হতে পারে।
  • জলিবিয়ান তাজা সয়া পানীয়, বীনকার্ড এবং সুস্বাদু মি চিয়াং কুয়ে চাইনিজ প্যানকেক পাওয়া যায়।
  • কিলিনি কোপিটিয়াম কায়া টোস্ট, কপি (কফি) এবং আদা চা পরিবেশন করে (বরফসহ বা ছাড়া)। সমারসেটের আসল শাখায় ওয়েটাররা উচ্চস্বরে রান্নাঘরের ভেতরে অর্ডার ডাক দিয়ে জানায়।
  • মি. বিন বিভিন্ন ধরনের সয়া পানীয়, আইসক্রিম এবং পেস্ট্রি জাতীয় নাস্তা পাওয়া যায়।
  • ওল্ড চ্যাং কি ক্যারি পাফের জন্য বিখ্যাত, তবে এখন এদের মেন্যুতে প্রায় সব ধরনের ডিপ-ফ্রাইড খাবার পাওয়া যায়। কেবল টেকঅ্যাওয়ে সার্ভিস আছে।
  • ইয়া কুন কায়া টোস্ট সারাদিন ধরে পরিবেশন করা হয় সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাতঃরাশ: কায়া টোস্ট, অর্ধসেদ্ধ ডিম আর মজবুত মিষ্টি কফি (সঙ্গে আরও কিছু পানীয়ও থাকে)। এটিকে অন্যতম সফল চেইন বলা হয়, যাদের শাখা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান পর্যন্ত রয়েছে। ফার ইস্ট স্কয়ারের মূল শাখাটি সাধারণত অন্য শাখাগুলোর তুলনায় ভালো রিভিউ পেয়ে থাকে।

রেস্টুরেন্ট

[সম্পাদনা]
লিমদের সঙ্গে তাল মেলানো

কখনও ভেবেছেন কেন সিঙ্গাপুরের প্রায় প্রতিটি চাইনিজ হকার স্টল বা রেস্টুরেন্টের নামের শেষে Kee থাকে? এর উত্তর খুব সহজ: চীনা অক্ষর kee (记)-এর অর্থ হলো "ব্র্যান্ড" বা "চিহ্ন"। পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে ট্রেডমার্ক ব্যবহার করা হয়, এটিও অনেকটা সেরকম। উদাহরণস্বরূপ, Yan Kee মানে হচ্ছে "ইয়ান পরিবার কর্তৃক পরিচালিত", এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়।

সিঙ্গাপুরে নানা স্বাদ ও বাজেটের জন্য উপযোগী পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া রেস্টুরেন্টও প্রচুর রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ মানুষ চীনা বংশোদ্ভূত হওয়ায় এখানে প্রচুর চাইনিজ রেস্টুরেন্ট আছে। এগুলোর বেশিরভাগে দক্ষিণ চীনের (হোক্কিয়েন, তেওচিউ বা ক্যান্টোনিজ) খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ও চীনের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকদের কারণে সাংহাই বা উত্তর চীনের রান্নাও সহজেই পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুরের আসল চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলো সাধারণত এমন সব খাবার পরিবেশন করে যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বা এমনকি চীনেও সচরাচর দেখা যায় না। এর কারণ হলো দক্ষিণ চীনা রান্নার ধারা ও স্থানীয় প্রভাবের মিশ্রণ।

কোথায় যাচ্ছেন ও কি অর্ডার করছেন তার ওপর নির্ভর করে খাবারের দাম অনেকটা পরিবর্তিত হয়। সাধারণ রেস্টুরেন্টে মাথাপিছু খরচ সাধারণত ১৫–৩৫ ডলারের মধ্যে থাকে। আর বিলাসবহুল হোটেলের উচ্চমানের রেস্টুরেন্টে যদি অ্যাবালোন, সাকলিং পিগ বা লবস্টারের মতো বিশেষ খাবার খান, তবে মাথাপিছু খরচ ৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যান্য চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মতো এখানেও খাবার চপস্টিক দিয়ে খাওয়া হয় এবং সাধারণত চাইনিজ চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

সিঙ্গাপুর একটি সমুদ্রবন্দর শহর হওয়ায় এখানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে সীফুড রেস্টুরেন্ট। চাইনিজ প্রভাবিত সিঙ্গাপুরীয় বিশেষ খাবার চিলি ক্র্যাব এখানে বেশ বিখ্যাত। তবে এসব জায়গায় গেলে সতর্ক থাকতে হয়—যেমন শ্রীলঙ্কার বড় কাঁকড়া অর্ডার করলে বিল সহজেই কয়েকশো ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। মেনুতে সাধারণত "market price" লেখা থাকে। দাম জানতে চাইলে প্রতি ১০০ গ্রামের হিসেবে বলে দেয়, তবে একটি বড় কাঁকড়ার ওজন ২ কেজি ছাড়িয়ে যেতেই পারে। সেরা সীফুড রেস্টুরেন্টগুলো ইস্ট কোস্টে অবস্থিত, তবে পরিবেশের দিক থেকে বোট কুই এবং ক্লার্ক কুইয়ের নদীতীরবর্তী রেস্টুরেন্টগুলো অনন্য। আবারও মনে রাখবেন, যেখানে দাম খোলাসা করে লেখা নেই, সবসময় জিজ্ঞেস করুন এবং দালালদের থেকে সাবধান থাকুন।

সিঙ্গাপুরে ভালো মানের পশ্চিমা রেস্টুরেন্টও আছে, বিশেষ করে ব্রিটিশ ও আমেরিকান ধাঁচের খাবার স্থানীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সাশ্রয়ী মূল্যের চেইন রেস্টুরেন্টগুলো দ্বীপজুড়ে বিভিন্ন শপিং সেন্টারে পাওয়া যায় এবং মূল খাবারের দাম সাধারণত ১৪–২২ ডলার। একটি একান্ত সিঙ্গাপুরীয় ধাঁচ হলো হাইনানিজ ওয়েস্টার্ন ফুড, যা ঔপনিবেশিক যুগে ইউরোপীয় নিয়োগকর্তাদের রাঁধুনি হিসেবে কাজ করা হাইনানিজ অভিবাসীদের হাত ধরে শুরু হয়। এখন প্রায় প্রতিটি হকার সেন্টারে একটি–দুটি পশ্চিমা স্টল থাকে, যেখানে "চিকেন কাটলেট" (ডিপ-ফ্রাই করা ব্রেডক্রাম মোড়া মুরগির মাংস) সঙ্গে বেকড বিনস, কোলস্লো ও চিপস পরিবেশন করা হয়, সাধারণত ১০ ডলারের নিচে। আপনি হাইনানিজ কারি-ও পেতে পারেন, যা ভারতীয় কারি থেকে হাইনানিজ রাঁধুনিরা তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশদের স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এতে ঝালের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দেওয়া হয় এবং সাধারণত ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, সঙ্গে থাকতে পারে ডিপ-ফ্রাই করা শূকরের মাংসের কাটলেট, বাঁধাকপি ও শূকরের মাংসের ঝোল।

ফ্রেঞ্চ, ইতালীয়, জাপানি ও কোরিয়ান খাবারও সহজলভ্য, তবে এগুলোর দাম সাধারণত বেশি। অন্যদিকে থাই ও ইন্দোনেশীয় রেস্টুরেন্ট তুলনামূলকভাবে সস্তা।

ব্রিটেন থেকে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী ধারা, যা সিঙ্গাপুরে বেশ জনপ্রিয়, তা হলো হাই টি। হোটেলগুলোতে পরিবেশিত ক্লাসিক ধাঁচে এটি একটি হালকা বিকেলের খাবার, যেখানে চা-সহ নানা রকম নোনতা স্ন্যাকস ও মিষ্টি আইটেম (যেমন স্যান্ডউইচ, স্কোন) পরিবেশন করা হয়। তবে এখন "হাই টি" বলতে প্রায় সব ধরনের বিকেলের বুফেকেই বোঝানো হয়, যেখানে চাইনিজ ডিম সাম কিংবা সিঙ্গাপুরীয় খাবারও থাকে। মাথাপিছু দাম সাধারণত ৩৫–৮০ ডলারের মধ্যে, এতে মদ্যপান অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

বেশিরভাগ হোটেলেই লাঞ্চ ও ডিনারের বুফে পাওয়া যায়। রবিবারের শ্যাম্পেন ব্রাঞ্চ বিশেষভাবে জনপ্রিয়, তবে জনপ্রিয় হোটেল যেমন হায়াতের Mezza9-এ অর্চার্ডে মাথাপিছু খরচ ১৫০ ডলারের বেশি হতে পারে এবং আগে থেকে রিজার্ভেশন প্রয়োজন।

কিছু রেস্টুরেন্টে টেবিলে ছোটখাটো সাইড ডিশ (সাধারণত ভেজানো বাদাম বা প্রন ক্র্যাকার) এবং ভেজা টিস্যু রাখা হয়, যদিও আপনি চাইলে সেগুলো ফেরত নিতে বলতে পারেন। নাহলে এগুলোর জন্য আলাদাভাবে এক বা দুই ডলার চার্জ করা হয়।

ফাইন ডাইনিং

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে বর্তমানে ৪৪টিরও বেশি মিশেলিন তারকাপ্রাপ্ত রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল গ্যালারির ৩-তারকা ওডেটে ফরাসি ডেগুস্টেশন মেনু থেকে শুরু করে তাই হোয়া পর্ক নুডলসে মাত্র ৫ ডলারের একটি জনপ্রিয় নুডলসের বাটি। মেরিনা বেসেন্টোসাতে দুটি ক্যাসিনো চালু হওয়ার পর বিশ্বের শীর্ষ শেফদের অনেকে এখানে নিজেদের রেস্টুরেন্টের শাখা খুলেছেন, যেমন সান্তি, ওয়াকু গিন এবং গাই সাভয়। দামও পশ্চিমা দেশগুলির ফাইন ডাইনিং মান অনুযায়ী—ড্রিঙ্কসহ টেস্টিং মেনুতে মাথাপিছু ৪০০ ডলার বা তার বেশি খরচ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

খাদ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধ

[সম্পাদনা]
লিটল ইন্ডিয়ায় একটি ভেগান থালি প্ল্যাটার

সিঙ্গাপুরে প্রায় সবার জন্যই খাওয়া-দাওয়া সহজ। অনেক ভারতীয় ও কিছু চীনা বৌদ্ধ নিরামিষভোজী, তাই ভারতীয় স্টলে সাধারণত প্রচুর নিরামিষ খাবার থাকে এবং অনেক হকার সেন্টারে অন্তত একটি–দুটি চীনা ভেজেটেরিয়ান স্টল থাকে। এগুলোতে গ্লুটেন দিয়ে তৈরি মাংসের মতো স্বাদের খাবার পরিবেশন করা হয়। বড় বৌদ্ধ মন্দিরে প্রায়ই ভেজেটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট থাকে, আবার উৎসবের সময় অনেক মন্দির অর্থ সংগ্রহের জন্য নিরামিষ খাবার বিক্রি করে। এগুলোও ভালো বিকল্প। সিঙ্গাপুর বৌদ্ধ লজ প্রতিদিন সবার জন্য বিনামূল্যে তিনবেলা নিরামিষ খাবার দেয়, যদিও সামর্থ্য থাকলে অনুদান দেওয়া প্রশংসনীয়।

চীনা ভেজেটেরিয়ান খাবারে সাধারণত দুধজাত কোনো পণ্য ব্যবহার করা হয় না, তাই এগুলো বেশিরভাগ সময়ই ভেগান। তবে কিছু চীনা স্টলে ডিম দেওয়া হয়, তাই সতর্ক থাকতে হবে। ভারতীয় ভেজেটেরিয়ান খাবারে অবশ্য পনির ও দুধজাত জিনিস প্রচলিত। সাধারণ চীনা রেস্টুরেন্টে সাবধান থাকা দরকার, কারণ অনেক সময় মেনুতে নিরামিষ মনে হলেও খাবারে অয়েস্টার সস, শুকনো মাছ বা লার্ড থাকতে পারে। সন্দেহ হলে ওয়েটারের কাছে জিজ্ঞেস করুন। কিছু রেস্টুরেন্টে "রসুন নেই, পেঁয়াজ নেই" নীতিও মানা হয়।

মুসলমানদের উচিত হালাল সার্টিফিকেট খুঁজে দেখা, যা সিঙ্গাপুরের ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিল (MUIS) প্রদান করে। প্রায় সব মালয় স্টল ও অনেক ভারতীয় মুসলিম স্টলে এই সনদ থাকে। তবে চীনা স্টলে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। কিছু হালাল ফুড কোর্টও রয়েছে, যেখানে নিরাপদে হালাল চীনা খাবার খাওয়া যায়। সিঙ্গাপুরের অনেক পশ্চিমা ফাস্টফুড চেইন হালাল মাংস ব্যবহার করে। অর্ডার করার জায়গায় সার্টিফিকেট খুঁজুন বা ম্যানেজারের কাছে জেনে নিন। আবার কিছু রেস্টুরেন্ট আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট ছাড়াই শুধু "no pork, no lard" লেখা ঝুলিয়ে রাখে—আপনার কাছে এটি যথেষ্ট কি না, তা আপনার সিদ্ধান্ত।

কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন ইহুদিরা যারা কোশের মেনে চলেন, কারণ সিঙ্গাপুরে কোশের খাবার প্রায় অজানা। ওয়াটারলু স্ট্রিটে মাগহেন আবোথ সিনাগগের ভেতরে একটি কোশের গ্রোসারি স্টোর রয়েছে, কাছেই আছে কফি বিনের একটি কোশের শাখা। বিস্তারিত জানতে জিউইশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডে খোঁজ নিতে পারেন। সিঙ্গাপুরে দুটি কোশের রেস্টুরেন্ট আছে: আওয়াফি—মাগহেন আবোথ সিনাগগের ভেতরে একটি সাধারণ রেস্টুরেন্ট, এবং আনিবা—একটি ইসরায়েলি fine dining রেস্টুরেন্ট।

অ্যালার্জি সম্পর্কে সচেতনতা এখানে সীমিত। বিশেষ করে শেলফিশ অ্যালার্জি স্থানীয় খাবারে সমস্যা তৈরি করে, কারণ চিংড়ি পেস্ট (বেলাচান/হে বি) চাইনিজ ও মালয় রান্নায় খুব প্রচলিত, আর অনেক স্যুপে চিংড়ির স্টক ব্যবহার হয়। সয় অ্যালার্জি থাকলেও সমস্যা, কারণ তোফু ও সয়া সস প্রচুর ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় খাবার চেষ্টা করতে পারেন, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় ধাঁচের রান্নায় সাধারণত এ দুটোই থাকে না।

চিনাবাদাম সর্বত্র না হলেও খুব সাধারণ—ডেজার্ট, পেস্ট্রি, এমনকি নোনতা খাবার (যেমন সাটে) ও চিনাবাদাম তেলে পাওয়া যায়। যদি ক্রস-কনটামিনেশনের ভয় থাকে, তবে হকার ফুড এড়ানোই ভালো।

সিলিয়াক ডিজিজ সিঙ্গাপুরে খুব বেশি পরিচিত নয়, তাই মেনুতে গ্লুটেন আছে কি না তা সচরাচর উল্লেখ থাকে না। তবে সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। উচ্চমানের অনেক রেস্টুরেন্টে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শেফ আছেন যারা প্রয়োজনে গ্লুটেন-ফ্রি খাবার পরিবেশন করতে পারেন। গ্লুটেন-ফ্রি পণ্য বেশিরভাগ কোল্ড স্টোরেজ ও মার্কেটপ্লেস সুপারমার্কেটে পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বাভাবিকভাবেই গ্লুটেন-ফ্রি অনেক আঞ্চলিক খাবার যেমন হাইনানিজ চিকেন রাইস (সস ছাড়া চিকেন চাইতে হবে) ও ভারতীয় মাসালা দোসা (চাল ও ডালের ক্রেপস) উপভোগ করতে পারেন।

পানীয়

[সম্পাদনা]
রাতে ক্লার্ক কুই

সিঙ্গাপুরের নাইটলাইফ হয়তো পাতপংয়ের মতো জমজমাট নয়, তবে একেবারেই নিরাশ করে না। কিছু ক্লাব ২৪ ঘণ্টার লাইসেন্সে চলে এবং বেশিরভাগ স্থান রাত ৩টার আগে বন্ধ হয় না। নাইটলাইফ মূলত কেন্দ্রীভূত রিভারসাইডের তিনটি কুইকে ঘিরে—বোট, ক্লার্ক এবং রবার্টসন। সেন্টোসার ক্লাবগুলোও রাতজাগাদের বাড়তি আনন্দ দেয়, আর মেরিনা বের ক্যাসিনোও এখন এই আড্ডার অংশ। এশিয়া সফররত প্রায় সব শিল্পীই সিঙ্গাপুরে আসেন, আর ক্লার্ক কুইয়ের সুপারক্লাব জুক নিয়মিত বিশ্বের সেরা নৈশক্লাবের তালিকায় উঠে আসে। মেরিনা বে স্যান্ডসে মারকুই বড় তারকাদের আকর্ষণ করে। কাম্পং গ্লাম/আরব স্ট্রিট (বুগিসের কাছে) হিপস্টারদের আড্ডা, আর সমকামী বারগুলো বেশি থাকে নিল রোডে (চায়নাটাউন)।

আড়ম্বরপূর্ণ ককটেল বারের ভিড় থাকে ক্লাব স্ট্রিট (সিবিডির কাছে) ও চায়না টাউনের কিয়ং সাইক রোডে। বৈধ মদ্যপানের বয়স ১৮ বছর, যদিও প্রয়োগ বেশ ঢিলেঢালা। তবে কিছু ক্লাব বয়সসীমা আরও উঁচু রাখে। পরিচয়পত্র চাইলে কেবল সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য।

শুক্রবার সাধারণত বেরোনোর জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত রাত, শনিবারও প্রায় একই। রবিবার অনেক বার ও ক্লাবে "গে নাইট" হয়, আর বুধবার বা বৃহস্পতিবার হয় "লেডিস নাইট"—এ সময় মহিলারা ফ্রি এন্ট্রি ও অনেক সময় ফ্রি ড্রিঙ্কও পান। সোমবার ও মঙ্গলবার বেশিরভাগ ক্লাব বন্ধ থাকে, তবে বার খোলা থাকে যদিও সেগুলো বেশ ফাঁকা।

শহরের বাইরে, পূর্বাঞ্চলের পূর্ব উপকূলে গেলাং (সবচেয়ে বড় রেড লাইট এলাকা) এবং জু চিয়াট রোডে অনেক বার রয়েছে। এগুলো মূলত স্থানীয় শ্রমজীবী গ্রাহকদের জন্য, তাই পর্যটক হিসেবে এখানে গেলে নজরে পড়বেন।

সিঙ্গাপুরে ঘরোয়া আড্ডার জনপ্রিয় অংশ হলো কারাওকে বক্স, যেখানে বন্ধুদের নিয়ে গিয়ে গান গাওয়া যায়। বড় চেইনগুলোর মধ্যে আছে পার্টি ওয়ার্ল্ড এবং পরিবারবান্ধব "অ্যালকোহল নেই, ঝামেলা নেই" ধরনের তেও হেং। ভাড়া ঘণ্টায় প্রায় $৩০ থেকে শুরু হয়, পানীয় ও স্ন্যাক্স আলাদা।

অন্যদিকে ঝলমলে বা সন্দেহজনক পরিবেশের কেটিভি লাউঞ্জ রয়েছে, যেখানে মহিলা হোস্টেসরা টিপসের বিনিময়ে অতিথিদের সাথে আড্ডা দেয়। এগুলো পরিবারবান্ধব কারাওকে থেকে অনেক বেশি খরচসাপেক্ষ। সিঙ্গাপুরে তুলনামূলকভাবে বিশেষ এক অভিজ্ঞতা হলো থাই ডিস্কো (সিয়াম দিউ), যেখানে দর্শনার্থীরা আকর্ষণীয় পারফর্মারদের মন জয় করতে ব্যয়বহুল পানীয় বা "ফুল" (গারল্যান্ড বা স্যাশ) কিনে থাকেন। দাম $৫০ থেকে $১০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। এখানে নগ্নতা বা যৌনকর্ম নেই—মূলত আড্ডার বিনিময়ে খরচ হয়। তবে জটিল সামাজিক নিয়ম রয়েছে, তাই এখানে গেলে সিঙ্গাপুরিয়ান গাইড থাকা ভালো।

অ্যালকোহল

[সম্পাদনা]
র‍্যাফেলস হোটেলে আসল সিঙ্গাপুর স্লিং

অ্যালকোহল সহজলভ্য হলেও সিঙ্গাপুরের উচ্চ করের কারণে দামি। মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য দেশ থেকে এলে এক লিটার মদ ও দুই লিটার ওয়াইন/বিয়ার আনা যায়। বড় সুপারমার্কেটে প্রায় $২০-এ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ ওয়াইন পাওয়া যায়।

সিঙ্গাপুরে প্রকাশ্যে মাতাল হওয়া সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশের কাছে ধরা পড়তে হবে, জেল বা বেত্রাঘাতের শাস্তিও হতে পারে। অনেক সিঙ্গাপুরিয়ান (বিশেষত মুসলিমরা) একেবারেই অ্যালকোহল পান করেন না।

রাত ১০:৩০ থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থান ছাড়া বাইরে মদ খাওয়া নিষিদ্ধ। লিটল ইন্ডিয়া ও গেলাংয়ে সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনে প্রকাশ্যে পানীয় নিষিদ্ধ। বার, নাইটক্লাব ও রেস্টুরেন্টে লাইসেন্স থাকে, তবে সুপারমার্কেট ও লিকার শপে রাতে বিক্রি নিষিদ্ধ।

বাইরে পান করতে গেলে দাম ভিন্ন হয়। হকার সেন্টারে $৭-এ বড় বোতল বিয়ার পাওয়া যায়। কিন্তু বার, ক্লাব বা বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে এক গ্লাস পানীয় $১০–১৫ এবং ককটেল $১৫–২৫ লাগে। তবে হ্যাপি আওয়ার ও "দুই নিলে এক ফ্রি" অফার প্রচলিত। বেশিরভাগ ক্লাবের এন্ট্রি টিকিটে কয়েকটি ফ্রি ড্রিঙ্ক থাকে। প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই নিজের ওয়াইন আনা (BYO) অনুমোদিত। সস্তা রেস্টুরেন্টগুলো কর্কেজ নেয় না, তবে গ্লাস ও ওপেনার নিজে আনতে হয়। আড়ম্বরপূর্ণ রেস্টুরেন্টে $২০–৫০ কর্কেজ নেওয়া হয়, যদিও অনেক সময় সোমবার বা মঙ্গলবার ফ্রি কর্কেজ অফার থাকে।

পর্যটকেরা র‍্যাফেলস হোটেলের লং বারে ভিড় করেন আসল সিঙ্গাপুর স্লিং চেখে দেখতে। এটি ১৯১৫ সালে তৈরি একটি গোলাপি পানীয়, যাতে থাকে আনারসের রস, জিন, পিটার হিয়ারিং, ডি.ও.এম., কুয়ান্ট্রু, অ্যাংগোস্তুরা ও লেবুর রস। তবে স্থানীয়রা এটি খুব একটা পান করেন না। সিঙ্গাপুরিয়ানদের পছন্দের পানীয় হলো স্থানীয় বিয়ার টাইগার, যদিও মাইক্রোব্রুয়ারির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ব্রিউয়ারির মধ্যে আছে ব্রিউয়ার্কজ (রিভারসাইড পয়েন্ট), পাওলানার ব্রাওহাউস (মিলেনিয়া ওয়াক) ও পাম্প রুম (ক্লার্ক কুই)।

তামাক

[সম্পাদনা]
শুধু নির্দিষ্ট স্থানে ধূমপান অনুমোদন করে

তামাকপণ্যে উচ্চ কর আরোপ করা হয় এবং কোনো শুল্কমুক্ত সীমা নেই। সিঙ্গাপুরে আনার জন্য সিগারেটকে কড়া প্যাকেজিং নিয়ম মানতে হয়। ভেপ অবৈধ—ধরা পড়লে জরিমানা ও ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া সীমান্তে ব্যাগেজ এক্স-রে করে কড়া নজরদারি করা হয়।

ধূমপানের বৈধ বয়স ২১ বছর, দোকানগুলো প্রমাণপত্র চাইতে পারে। অধিকাংশ জনসমাগমস্থলে ধূমপান সীমাবদ্ধ, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিষিদ্ধ। সব এয়ারকন্ডিশন্ড স্থানে (বার, ডিস্কোসহ) ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাইরে ধূমপানও অনেক সীমাবদ্ধ—যেমন বাসস্টপ, ভবনের প্রবেশদ্বার, পার্ক, ঢাকা পথ, খেলার মাঠে ধূমপান করা যায় না। নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা হলুদ দাগ দিয়ে চিহ্নিত থাকে এবং প্রায়ই সবুজ ডাস্টবিনে অ্যাশট্রে বসানো থাকে। নিষিদ্ধ ও অনুমোদিত স্থানগুলোর তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। শিশা (হুক্কা) সিঙ্গাপুরে অবৈধ, তাই বারগুলোতে এটি পাবেন না।

রাত্রিযাপন

[সম্পাদনা]
স্বতন্ত্র তালিকাগুলি সিঙ্গাপুর-এর জেলা নিবন্ধে পাওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা টীকা: ৬ মাস বা তার কম সময়ের জন্য স্বল্পমেয়াদি বাসা বা রুম ভাড়া (যেমন এয়ারবিএনবির মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়া হয়) সিঙ্গাপুরে অবৈধ। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই ধরনের ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া অবৈধ নয়। তাই এয়ারবিএনবিতে কিছু সিঙ্গাপুরের তালিকা দেখতে পেলে অবাক হবেন না। এখন পর্যন্ত আইন প্রয়োগ খুব কঠোর নয়, তবে প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অতিথিদের শুধু নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে হবে, অন্য কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। তবে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই নির্দেশিকাটি একটি আদর্শ ডাবল রুমের জন্য নিম্নলিখিত মূল্য সীমাগুলি ব্যবহার করে:
বাজেট$১০০-এর নিচে
মধ্য-পরিসীমা$১০০-৩০০
ব্যয়বহুল$৩০০-এর বেশি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় সিঙ্গাপুরে থাকার খরচ অনেক বেশি। বিশেষ করে দামি হোটেলগুলোতে চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি। ফলে বড় কোনো অনুষ্ঠান যেমন এফ১ রেস বা আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলে প্রায় সব রুমই বুক হয়ে যায়। তবে সস্তার হোটেল ও হোস্টেল সারা বছরই তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য।

আপনি যদি অর্চার্ড রোডের শপিং মলে সময় কাটানোর ভক্ত না হন, তবে থাকার জন্য রিভারসাইড সম্ভবত সবচেয়ে ভালো জায়গা।

হোটেলের বিজ্ঞাপিত ভাড়ার সাথে সাধারণত জিএসটি ও সার্ভিস চার্জ যোগ করা থাকে না। তাই আসল খরচ হিসাব করতে গেলে বিজ্ঞাপিত ভাড়ার সাথে আরও ১৮.৮% যোগ করতে হবে (১০% সার্ভিস চার্জ এবং সেই টাকার উপর ৮% জিএসটি)।

সিঙ্গাপুরে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া অপরাধ। তাই সব লাইসেন্সধারী হোটেল চেক-ইনের সময় অতিথিদের পাসপোর্ট ও ইলেকট্রনিক ভিজিট পাস পরীক্ষা করবে। আপনার মোবাইল ডাটায় সংযোগ রাখতে হবে অথবা ভিজিট পাসের কপি অফলাইনে সংরক্ষণ করতে হবে, না হলে চেক-ইন সম্ভব হবে না। দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রেও বাড়িওয়ালা পাসপোর্ট ও ভিজিট পাস (যেমন ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট পাস ইত্যাদি) পরীক্ষা করবে। তা না করলে এটি সন্দেহজনক, কারণ বাড়িওয়ালা হয়তো অবৈধ কাজে সম্পত্তি ব্যবহার করছে।

বাজেট

[সম্পাদনা]

ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল প্রধানত পাওয়া যায় লিটল ইন্ডিয়া, বুগিস, ক্লার্ক কুই এবং ইস্ট কোস্ট এলাকায়। ডরমিটরি বেডের দাম সাধারণত $২০–৪০। খুব সস্তা হোস্টেলগুলোর অনেকগুলোতেই বিছানার পোকা (bedbug) সমস্যা রয়েছে—তাই বুক করার আগে রিভিউ পড়ে নিন।

সস্তা হোটেলগুলো মূলত গেলাং, বালেস্টিয়ার এবং লিটল ইন্ডিয়া এলাকায় অবস্থিত। এসব হোটেলে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক রুম ভাড়া দেওয়া হয়। রুমগুলো ছোট ও সাধারণ মানের হলেও পরিষ্কার থাকে এবং বাথরুম ও টেলিভিশনের মতো মৌলিক সুবিধা থাকে। দিনের কয়েক ঘণ্টার জন্য রুমের ভাড়া প্রায় $৩০ থেকে শুরু হয় এবং পুরো রাতের জন্য $৬০ থেকে শুরু। দ্বীপজুড়ে তিনটি বড় হোটেল চেইন রয়েছে:

  • হোটেল ৮১, +৬৫ ৬৭৬৭ ৮১৮১ সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় বাজেট হোটেল চেইন। ২০টিরও বেশি হোটেল রয়েছে। ভাড়া $৬৯ থেকে শুরু (দুই জনের জন্য)।
  • আইবিস বাজেট ফরাসি চেইন একর সিঙ্গাপুরে অন্তত ১৪টি আইবিস বাজেট হোটেল চালায়। এর মধ্যে অনেকগুলোই পূর্বে ফ্রেগরেন্স নামে পরিচিত ছিল।
  • ফ্রেগ্রেন্সে হোটেল, +৬৫ ৬৩৪৫ ৬১১৬ ৮টি হোটেলের একটি চেইন। রুম ভাড়া $80 থেকে শুরু। সপ্তাহান্তে এবং আইএসআইসি কার্ডধারীদের জন্য ছাড় রয়েছে।

ক্যাম্পিং কেবল নির্দিষ্ট ক্যাম্পসাইটেই অনুমোদিত, এবং এর জন্য অন্তত ১৪ দিন আগে পারমিট নিতে হয়। ক্যাম্পসাইট কার মালিকানাধীন তার ওপর নির্ভর করে পারমিট পাওয়া যায় ন্যাশনাল পার্কস বোর্ড[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] অথবা সিঙ্গাপুর ল্যান্ড অথরিটি থেকে। পারমিট ফ্রি, তবে আবেদন করার জন্য সিঙ্গাপুর আইডি-ধারী কারও প্রয়োজন হবে।

মধ্যম মান

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ মধ্যম মানের হোটেল পুরনো হলেও কার্যকর। এদের একটি বড় অংশ সিঙ্গাপুর নদীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে এবং চায়নাটাউনে সংস্কার করা শপহাউসে অনেক বুটিক হোটেল খোলা হয়েছে। এগুলোতে রাতপ্রতি প্রায় $২০০ থেকে রুম পাওয়া যায় এবং মানও তুলনামূলক ভালো।

বিলাসবহুল

[সম্পাদনা]
র‍্যাফেলস হোটেল

সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল হোটেলের বিস্তৃত সমাহার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী র‍্যাফেলস হোটেল এবং বিশ্বখ্যাত সব বহুজাতিক চেইন। সাধারণত পাঁচ তারকা হোটেলে এক রাতের ভাড়া $৬০০ বা তার বেশি হয়। দাম অনেক ওঠানামা করে—বড় সম্মেলনে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, আবার অফ-পিক মৌসুমে সপ্তাহান্তে বিশেষ ছাড়ও পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় হোটেল ক্লাস্টার মেরিনা বে (সাইটসিয়িংয়ের জন্য ভালো) এবং অর্চার্ড রোডে (কেনাকাটার জন্য ভালো)। যদি ট্রপিক্যাল সমুদ্রসৈকতের আবহ চান, তবে সেন্টোসা বেছে নিতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে জমির স্বল্পতা ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে আবাসনের খরচ অত্যন্ত বেশি। ভাড়ার হার প্রায় নিউ ইয়র্ক বা লন্ডনের সমান।

অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলের মধ্যে রয়েছে অ্যাসকট, যা সোমারসেট এবং সিটাডাইনস নামেও চলে, এবং ফার ইস্ট হসপিটালিটি, যাদের হোটেল ও সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট দুটোই আছে। দাম হোটেলের কাছাকাছি হলেও অ্যাপার্টমেন্টের তুলনায় ব্যয়বহুল। সিঙ্গাপুরে হোটেল লাইসেন্স ছাড়া ৩ মাসের কম সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া অবৈধ।

অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে হলে ওয়ার্ক বা স্টুডেন্ট ভিসা লাগবে। যদিও ৮০% সিঙ্গাপুরবাসী সরকার-সাবসিডি পাওয়া হাউজিং ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এইচডিবি) ফ্ল্যাটে থাকে, বিদেশিদের জন্য এর সুযোগ খুবই সীমিত। তাই বেশিরভাগ প্রবাসী ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক বা কন্ডো বেছে নেন। তিন বেডরুমের কন্ডোর ভাড়া শহরতলির পুরনো ফ্ল্যাটে $৪,০০০ থেকে শুরু হয়ে অর্চার্ড রোডের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে $২০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ কন্ডোতে সুইমিং পুল, জিম, টেনিস কোর্ট, পার্কিং ও ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা থাকে। স্টুডিও বা এক বেডরুমের ফ্ল্যাট খুব কম পাওয়া যায়, তাই অনেকেই রুমমেট নিয়ে থাকে বা কেবল একটি রুম ভাড়া নেয়। শহরের বাইরে বাঙ্গালো তুলনামূলক সস্তা হলেও শহরের কেন্দ্রে এগুলো খুবই ব্যয়বহুল।

এক বা দুই মাসের ভাড়া অগ্রিম (ডিপোজিট) দিতে হয় এবং সাধারণত এজেন্টকে এক বছরের ভাড়ার জন্য দুই সপ্তাহের কমিশন দিতে হয়। চুক্তি সাধারণত দুই বছরের হয়, তবে এতে এক বছর পর বাতিল করার "ডিপ্লোম্যাটিক ক্লজ" থাকে। সিঙ্গাপুর এক্সপার্টস প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় রিয়েল এস্টেট সাইট, যেখানে বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।

অনেক মালয়েশিয় ও ইন্দোনেশিয় যারা সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা বা কাজ করেন, তারা জহর বাহরু বা বাটামে থাকেন। সেখানে বাসাভাড়া অনেক সস্তা, তবে এর অসুবিধা হলো প্রতিদিন দীর্ঘ যাতায়াত করতে হয়।

সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত খ্যাতিমান এবং কাছের ও দূরের দেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী এখানে বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পড়তে আসে।

  • সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (এনইউএস) সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। আইন, চিকিৎসাশাস্ত্র, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে শক্তিশালী। এশিয়ার অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়।
  • নানয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এনটিইউ) দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত চীনা ভাষাভিত্তিক নানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে ইংরেজি শিক্ষার ভিত্তিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রকৌশল, গণমাধ্যম ও ব্যবসা শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়। ২০১০ সালের যুব অলিম্পিকের আয়োজকও ছিল এটি।
  • সিঙ্গাপুর ব্যবস্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয় (এসএমইউ) সিঙ্গাপুরের তৃতীয় এবং একমাত্র সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত আর্থিক ও ব্যবসায় শিক্ষার জন্য পরিচিত।
  • সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন (এসইউটিডি) সিঙ্গাপুরের চতুর্থ স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, যা এমআইটির সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত। এখানে প্রকৌশল ও স্থাপত্য শেখানো হয়, বিশেষভাবে নকশার ওপর গুরুত্ব দিয়ে।
  • সিঙ্গাপুর সমাজ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় (সাস) আগে সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (SIM) নামে পরিচিত ছিল। এটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে বহু আন্তর্জাতিক ডিগ্রি কোর্স পরিচালিত হয়। শিল্পকলা থেকে শুরু করে ব্যবসা ও প্রযুক্তি—বিভিন্ন বিষয়ে এখানে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া যায়। ১৭ মার্চ ২০১৭ থেকে সাস পুনর্গঠিত হয়ে সিঙ্গাপুরের সর্বশেষ স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।

বেশ কয়েকটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা বিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও সিঙ্গাপুরে তাদের এশীয় ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে।

রন্ধন

[সম্পাদনা]
  • অ্যাট-সানরাইস, ফোর্ট ক্যানিং পার্ক, +৬৫ ৬৩৩৬ ৩৩০৭ একটি পেশাদার রান্না শেখার একাডেমি, যেখানে সাধারণ মানুষও দিনব্যাপী ক্লাসে অংশ নিতে পারে। জনপ্রিয় কার্যক্রম হলো "স্পাইস গার্ডেন ওয়াক" (৪০ ডলার) ফোর্ট ক্যানিং-এ, যেখানে একজন শেফ স্থানীয় ভেষজ ও মসলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং রান্না ও চিকিৎসায় তাদের ব্যবহার দেখান। এরপর তিনি আপনাকে নিজ হাতে কারি পেস্ট বানাতে সহায়তা করেন। আগে থেকে বুকিং জরুরি।
  • কুকরি ম্যাজিক, ১৭৯ হাইগ রোড, +৬৫ ৬৩৪৮ ৯৬৬৭, ইমেইল: একটি পুরোনো ঔপনিবেশিক বাড়িতে রান্না শেখানো হয়। প্রতিদিন আলাদা আলাদা থিম থাকে এবং এশিয়া ও ইউরোপের নানা রকম খাবার শেখানো হয়। সর্বোচ্চ ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারে। শুরু ৬৫ ডলার থেকে
  • তালু সংবেদন, ১ ওয়েস্টবোর্ন রোড #০৩-০৫, +৬৫ ৬৪৭৯ ৯০২৫, ইমেইল: ইউরোপীয় ও এশীয় উভয় ধাঁচের হাতে-কলমে রান্না শেখানো হয়। ক্লাসগুলো অনুষ্ঠিত হয় সিঙ্গাপুরের পশ্চিম প্রান্তে একটি ঔপনিবেশিক বাংলোতে। সর্বোচ্চ ১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারে। শুরু ১০০ ডলার থেকে
  • ডি'ওপেন কিচেন, ৬এ শেন্টন ওয়ে, #বি১-০৭, সিঙ্গাপুর ০৬৮৮১৫, +৬৫ ৮২২৮৬২১৭, ইমেইল: রান্না বিষয়ক টিম বিল্ডিং ক্লাস। বাজার ভ্রমণ, অনলাইন রান্না ও বেকিং ক্লাসও থাকে। শুরু ৮০ ডলার থেকে
মারিনা বে-তে অবস্থিত ব্যাংকসমূহ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রাণবন্ত অর্থনীতি হিসেবে সিঙ্গাপুরে স্থানীয় ও প্রবাসী উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী, বিশ্বের অন্যতম কম ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট আয়করের হার এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উপস্থিতির কারণে দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরে কাজ করতে হলে (স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও) আপনার অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট (WP) বা এমপ্লয়মেন্ট পাস (ইপি) থাকতে হবে। এজন্য আগে চাকরির অফার থাকতে হবে এবং নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে আবেদন করবে। এছাড়া সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য আছে ওয়ার্কিং হলিডে প্রোগ্রাম, যেখানে সর্বোচ্চ ৬ মাস সিঙ্গাপুরে থাকার সুযোগ পাওয়া যায়।

ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ শ্রমিকদের জন্য। এমপ্লয়মেন্ট পাস পেতে হলে মাসে অন্তত ৪,৫০০ ডলার বেতন এবং স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। মাঝারি দক্ষ কর্মীদের জন্য রয়েছে এস পাস, যা সাধারণত জুনিয়র নেতৃত্বের পদ যেমন কাজের সাইট তত্ত্বাবধায়কের মতো পদের জন্য দেওয়া হয়। এর জন্য মাসে অন্তত ২,৫০০ ডলার বেতন এবং নিয়োগকর্তার সুপারিশ প্রয়োজন। এমপ্লয়মেন্ট পাস বা এস পাসধারীদের মাসিক বেতন যদি ৬,০০০ ডলার বা তার বেশি হয়, তবে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের ডিপেন্ডেন্ট পাসে আনতে পারেন।

সরকার উদ্যোক্তা তৈরি করতেও অত্যন্ত উৎসাহ দেয়। বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন সরকারি কর্মসূচি চালু হয়, যেখানে স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ভিসা ও কর সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এর জন্য শক্তিশালী কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্থায়ন থাকা জরুরি। সর্বশেষ তথ্যের জন্য ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

যদি আপনার চাকরি শেষ হয়ে যায়, তাহলে আপনাকে একটি সোশ্যাল ভিজিট পাস দেওয়া হবে (যা শুধুমাত্র ভ্রমণের জন্য বৈধ, কাজের জন্য নয়)। এতে আপনি ৩০ দিন সিঙ্গাপুরে থাকতে পারবেন এবং নতুন চাকরি খুঁজতে পারবেন। তবে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করবেন না এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কাজ করার চেষ্টা করবেন না। এতে কারাদণ্ড, জরিমানা, বেত্রাঘাত, বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আপনি যদি কয়েক বছর বৈধভাবে ইপি বা এস-পাসে কাজ করেন, তাহলে স্থায়ী বাসিন্দা (পিআর) হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদিও আগের মতো সহজে অনুমোদন দেওয়া হয় না, তবে সাধারণভাবে বলা হয়—আপনার আয় যত বেশি হবে, পিআর পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। অনুমোদন পেলে আপনি অনির্দিষ্টকালের জন্য সিঙ্গাপুরে থাকতে পারবেন (প্রতি ৫ বছরে আয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে) এবং স্বাধীনভাবে চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে ওয়ার্ক পারমিটধারীরা সাধারণত পিআর-এর জন্য আবেদন করতে পারেন না।

প্রফেশনালস/টেকনিক্যাল পারসোনেল অ্যান্ড স্কিলড ওয়ার্কার স্কিম বা ইনভেস্টর স্কিমের মাধ্যমে যারা স্থায়ী বাসিন্দা হন, তাঁদের জাতীয় সেবায় (আবশ্যিক সেনাবাহিনী) যোগ দিতে হয় না। তবে পুরুষ দ্বিতীয় প্রজন্মের পিআর-দের নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে সেনাবাহিনীতে নাম নথিভুক্ত করা এবং যোগ দিতে হয়।

নিরাপদে থাকুন

[সম্পাদনা]
সতর্কতা টীকা: সিঙ্গাপুরে মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হয়। ১৫ গ্রাম হেরোইন, ৩০ গ্রাম মরফিন, ৩০ গ্রাম কোকেইন, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২০০ গ্রাম গাঁজা রেজিন বা ১.২ কেজি আফিম পাচার, উৎপাদন, আমদানি বা রপ্তানির দায়ে দোষী প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শুধু এ পরিমাণ মাদক আপনার কাছে পাওয়া গেলেই আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব।

মাদক সেবনের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ২০,০০০ ডলার জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। মাদক সেবনের সরঞ্জাম রাখার জন্যও সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০,০০০ ডলার জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে, এমনকি পরীক্ষায় মাদক না পাওয়া গেলেও। প্রথমবার ধরা পড়লে সাধারণত ছয় মাসের জন্য চাঙ্গি ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে পাঠানো হয়, যা কার্যত জেলখানার মতোই।

আপনার ব্যাগ বা কক্ষে যদি মাদক পাওয়া যায়, তবে সেটি আপনার না হলেও বা আপনি না জানলেও আপনাকে অভিযুক্ত করা হবে। সিঙ্গাপুরের বাইরে মাদক সেবন করা ভ্রমণকারীদের জন্য অপরাধ নয়, তবে পরীক্ষায় পজিটিভ হলে আপনাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি নিষিদ্ধ ওষুধ সঙ্গে আনতে হয়, তবে আগে সিঙ্গাপুর হেলথ সায়েন্সেস অথরিটির সাথে যোগাযোগ করে অনুমতি নিন। ই-মেইলে দ্রুত অনুমতি পাওয়া যায়, ডাকযোগে আবেদন করলে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

চিত্র:Singapore FineCity.JPG
এমআরটি ট্রেন ও স্টেশনে নিষিদ্ধ সামগ্রী

প্রায় সব দিক দিয়েই সিঙ্গাপুর বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বড় শহরগুলোর একটি। নারী ভ্রমণকারীরাও সাধারণত রাতে একা হেঁটে চলাফেরা করতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন না। তবে স্থানীয় পুলিশের ভাষায়, "অপরাধের হার কম মানেই যে একেবারেই নেই, তা নয়" — ভিড়ের মধ্যে পকেটমার থেকে সতর্ক থাকুন এবং সাধারণ বুদ্ধি প্রয়োগ করুন।

দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছে সিঙ্গাপুর পুলিশ বাহিনী। তাদের গাঢ় নীল ইউনিফর্ম দেখে সহজেই চেনা যায়। ভ্রমণকারীরা সাধারণত পুলিশকে পেশাদার ও সহায়ক হিসেবে পান। কোনো অপরাধ ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব তাদের জানানো উচিত, কারণ তাৎক্ষণিক অভিযোগ দিলে প্রায়ই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপরাধীকে ধরা হয়।

পুলিশ ছাড়াও আরেকটি সংস্থা হলো সেন্ট্রাল নারকোটিক্স ব্যুরো (সিএনবি), যারা মাদক আইন কার্যকর করে। এরা সাধারণত সাদামাটা পোশাকে থাকে, তবে অভিযান চালালে বিশেষ ভেস্ট পরে। তাদের অনেকেই বার ও নাইটক্লাবে গোপনে অবস্থান করে এবং প্রয়োজনে আপনাকে ড্রাগ টেস্ট করাতে পারে।

যদি আপনাকে গ্রেফতার করা হয়, সিঙ্গাপুর পুলিশের ক্ষমতা পশ্চিমা দেশের পুলিশের তুলনায় বেশি। বিচার চলাকালীন আপনি আইনজীবী পেতে পারেন, তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি ছাড়া আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা যাবে না। আপনার নীরব থাকার অধিকার নেই, এবং পুলিশের প্রশ্নের উত্তর সত্যিই দিতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আপনার সপক্ষে সব কথা বলাই বুদ্ধিমানের কাজ; পরে আদালতে নতুন করে কিছু বললে বিচারক তা বিশ্বাস নাও করতে পারেন।

সিঙ্গাপুরের পরিচ্ছন্নতার পেছনে রয়েছে কঠোর আইন। রাস্তা পারাপারের নিয়ম ভঙ্গ, থুতু ফেলা, ময়লা ফেলা এবং গণপরিবহনে খাওয়া-দাওয়া নিষিদ্ধ। তাই একে অনেকে মজা করে "ফাইন সিটি" (জরিমানার শহর) বলে। কোথায় কী নিষিদ্ধ এবং জরিমানার পরিমাণ কত, তার সাইনবোর্ড দেখে মেনে চলুন। বারবার ময়লা ফেলা ধরা পড়লে শুধু জরিমানা নয়, "করেকটিভ ওয়ার্ক অর্ডারের" আওতায় উজ্জ্বল হলুদ জ্যাকেট পরে জনসমক্ষে ময়লা তুলতে হয়। তবে সব সময় আইন কার্যকর হয় না, অনেক সময় মানুষ প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা, থুতু ফেলা বা নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ থাকা চুইংগাম এখন ফার্মেসিতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে (যেমন নিকোটিন গাম) পাওয়া যায়, তবে সরাসরি চাইতে হবে, পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং নিবন্ধনে সই করতে হবে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কয়েক প্যাকেট আনা সাধারণত সমস্যা হয় না।

সিঙ্গাপুর পুলিশ

কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে, যেমন অবৈধ প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, পুরুষ অপরাধীদের জন্য শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হয়। ভাঙচুর, ডাকাতি, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ক্ষেত্রেও এ শাস্তি কার্যকর হয়। ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক সিঙ্গাপুরে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়, সে সম্মতি দিলেও। মোটা রটান লাঠির আঘাত অত্যন্ত বেদনাদায়ক, সেরে উঠতে সপ্তাহ লাগে এবং দাগ চিরস্থায়ী হয়। হত্যা, অপহরণ, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও মাদক পাচারের মতো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

দীর্ঘদিন অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পুরুষ সমকামিতা সিঙ্গাপুরে বৈধ হয়েছে। নারী সমকামিতা আগে থেকেই বৈধ ছিল। তবুও অনেক স্থানীয়, বিশেষত মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব রয়ে গেছে। তবে সমকামীদের ওপর সহিংস হামলা কার্যত শোনা যায় না। ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরাও মাঝে মাঝে উপহাসের শিকার হন, তবে তাদের ওপর সহিংসতা প্রায় ঘটে না। সিঙ্গাপুরে আইন অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডাররা লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর তাদের আইনগত লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন। পিংক ডট হলো সিঙ্গাপুরের এলজিবিটিকিউ সংগঠন, যারা প্রতিবছর জুন মাসে হং লিম পার্কে সমাবেশ করে। তবে বিদেশিদের এতে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই।

সিঙ্গাপুরে ভিক্ষাবৃত্তি বেআইনি। তবুও রাস্তায় মাঝে মাঝে ভিক্ষুক দেখা যায়। এদের বেশিরভাগই সিঙ্গাপুরীয় নয় — এমনকি ভিক্ষা চাওয়া ভুয়া "ভিক্ষু"ও দেখা যায়।

রাস্তাগুলো গাড়ির জন্য আর ফুটপাত মানুষ হাঁটার জন্য। অনেকে যেখানে খুশি রাস্তা পার হন, কিন্তু পুলিশ ধরে ফেললে জরিমানা হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের সংবিধানে "মত প্রকাশের স্বাধীনতা" থাকলেও বাস্তবে তা অনেকটাই সীমিত। বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ আলাপচারিতায় সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলে সমস্যা নেই, তবে বিদেশিদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ, বিষয় যাই হোক না কেন। আদালতকে ছোট করে কোনো বক্তব্য বা কাজ করলে আদালত কলঙ্কিত করা অপরাধে মামলা হতে পারে।

বিদেশি দেশ বা অঞ্চলের পতাকা ও প্রতীক জনসমক্ষে প্রদর্শন করা বেআইনি, যদি না আপনি কূটনীতিক হন বা সরকারের অনুমতি থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে সাধারণত অনুমতি দেওয়া হয়, তবে আগে আয়োজকদের সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সিঙ্গাপুর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কার্যত সুরক্ষিত। কাছাকাছি কোনো ভূমিকম্প ফাটল নেই, যদিও ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পের হালকা কম্পন অনেক সময় উঁচু ভবনে টের পাওয়া যায়। সুনামি থেকে অন্য ভূখণ্ডে রক্ষা পায়, আর আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডোর অনুকূল নয়। নভেম্বর–জানুয়ারির মৌসুমি বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়, তবে সাধারণত এক দিনের মধ্যেই পানি নেমে যায়।

সিঙ্গাপুর সাধারণভাবে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে পরিচিত। ঘুষ গুরুতর অপরাধ, এর শাস্তি দীর্ঘ কারাদণ্ড ও জরিমানা। কোনো পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, এতে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের উপহার গ্রহণও বেআইনি, এমনকি বিনিময়ে কোনো সুবিধা না দিলেও। বেসরকারি ক্ষেত্রে আইন কিছুটা শিথিল হলেও ব্যবসায়িক আলোচনায় উপহার দেওয়া দুর্নীতির সন্দেহ তৈরি করতে পারে।

  • দুর্নীতি তদন্ত ব্যুরো (贪污调查局), ২ লেংকক বাহরু/২৪৭ হুইটলি রোড, +৬৫-১৮০০-৩৭৬-০০০০, ইমেইল: সিঙ্গাপুরের প্রধান দুর্নীতি দমন সংস্থা, যারা প্রতিষ্ঠার পর কার্যত দুর্নীতি নির্মূল করেছে এবং বিশ্বের অন্য অনেক দেশ তাদের অনুসরণ করেছে। উইকিপিডিয়ায় Corrupt Practices Investigation Bureau (Q1045329)

জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্য

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর শান্তিপূর্ণ ও একীভূত সমাজ গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো জাতি বা ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা অপরাধ, এর শাস্তি কারাদণ্ড। ব্লগে বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে অনেক ব্লগার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। ধর্মীয় নেতারাও অন্য ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে স্থানীয়দের জন্য যিহোবার সাক্ষিদের ধর্ম কার্যত নিষিদ্ধ (সামরিক সেবা না করার কারণে), তবে পর্যটকদের জন্য কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ না তারা প্রচার চালায়।

পতিতাবৃত্তি

[সম্পাদনা]

নির্দিষ্ট লালবাতি এলাকায় পতিতাবৃত্তি বৈধ। সিঙ্গাপুরে যৌন সম্মতির ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর, তবে পতিতাদের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮। এ নিয়ম না জানা অজুহাত হিসেবে ধরা হয় না। রাস্তায় যারা ব্যবসার জন্য ডাকাডাকি করে, তারা লাইসেন্সবিহীন এবং আইনবিরোধী। তাদের অনেকে মানব পাচারের শিকার হতে পারে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে।

রাস্তার দোকানদারদের কাছ থেকে যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ কেনা এড়িয়ে চলুন। এগুলো লাইসেন্সবিহীন, এবং অনেকেই এগুলো খেয়ে গুরুতর অসুস্থ বা এমনকি মৃত্যুবরণ করেছেন।

জরুরি নম্বর

[সম্পাদনা]
  • পুলিশ (জরুরি পরিষেবার জন্য প্রধান নম্বর), ৯৯৯
    • পুলিশ (জরুরি এসএমএস), ৭১৯৯৯ (স্থানীয় চার্জ)
    • পুলিশ (জালিয়াতির তদন্ত), ১৭৯৯ (স্থানীয় চার্জ)
  • অ্যাম্বুলেন্স / অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা, ৯৯৫
    • অ্যাম্বুলেন্স / অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা (বধিরদের জন্য জরুরি এসএমএস), ৭০৯৯৫ (স্থানীয় চার্জ)
  • জরুরি নয় এমন অ্যাম্বুলেন্স, ১৭৭৭
  • সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, +৬৫ ৬২২২ ৩৩২২
  • মাদক ও বিষ তথ্য কেন্দ্র, +৬৫ ৬৪২৩ ৯১১৯

সুস্থ থাকুন

[সম্পাদনা]

নলকূপের পানি পান করার জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যবিধি মান খুবই উঁচু। সিঙ্গাপুরের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রচুর পানি পান করা জরুরি।

ম্যালেরিয়া এখানে কোনো সমস্যা নয়, তবে ডেঙ্গু জ্বর এই অঞ্চলের স্থানীয় রোগ এবং মাঝে মাঝে জিকা ভাইরাস এর কেস পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুরে কঠোরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হয় (যদি কোথাও পানি জমতে দেন তবে জরিমানা করা হবে), তবে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দ্বীপের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় পৌঁছায় না। তাই যদি হাইকিং করতে যান, অবশ্যই মশার ওষুধ সঙ্গে নিন।

চিকিৎসা সেবা

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা মান সব জায়গায় সমানভাবে চমৎকার। এটি চিকিৎসা পর্যটন ও জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তরের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। পশ্চিমা দেশগুলির মতো মান বজায় রেখেও এখানে খরচ তুলনামূলক কম, সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালেই। তাই জঙ্গলে যাওয়ার আগে টিকা বা ওষুধ নেওয়ার জন্যও এটি একটি ভালো জায়গা। তবে দীর্ঘমেয়াদি হাসপাতালে ভর্তি বা বড় অস্ত্রোপচারের আগে অবশ্যই বীমা ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করুন।

সাধারণ অসুখের জন্য কাছের শপিং মল বা এইচডিবি (HDB) এলাকায় কোনো সাধারণ চিকিৎসক (GP) খুঁজে নিতে পারেন, অথবা সিংহেলথের পূর্ণাঙ্গ Find-a-GP[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত এখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই রোগী দেখা হয়, ওষুধ লিখে দেওয়া হয় বা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ওষুধসহ মোট খরচ সচরাচর $৩০-এর বেশি হয় না। সরকারি পলিক্লিনিক তুলনামূলক সস্তা হলেও বিদেশিদের জন্য ভর্তুকি নেই, তাই খরচ বেশি ($৫০ থেকে শুরু) এবং অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ। সরকারি বা বেসরকারি সব ক্লিনিক সাধারণত সোমবার-শুক্রবার অফিস সময়ে এবং শনিবার সকালে খোলা থাকে।

  • রেসকিউ, +৬৫ ৮৭৭৯ ৯৪৪১ যদি সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব না হয়, রেসকিউ টেলিমেডিসিন ও হাউস কল সেবা ২৪/৭ প্রদান করে। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকসহ মৌলিক ওষুধ সঙ্গে সঙ্গেই সরবরাহ করে। সময়ভেদে বাড়ি ভিজিট $৬৮–১০৮

জরুরি সমস্যার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে যান অথবা ৯৯৫ নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। প্রকৃত জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স বিনামূল্যে, তবে অযথা ডাকলে $২৭৪ চার্জ করতে হবে এবং সেবা দেওয়া হবে না। সিঙ্গাপুরের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা সরকারি ভর্তুকি পান, কিন্তু বিদেশিদের সম্পূর্ণ খরচ দিতে হয়। আইনের দৃষ্টিতে হাসপাতালগুলো জরুরি সেবা দিতে বাধ্য, তবে পরে বিল করা হবে।

  • র‍্যাফেলস হাসপাতাল, র‍্যাফেলস মেডিকেল গ্রুপ (বুগিস এমআরটি স্টেশনের কাছে)। টেল: +65 6311 1111। 585 নর্থ ব্রিজ রোড। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় দেশীয় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী। এখানে হাসপাতাল, ফ্যামিলি মেডিসিন ও ডেন্টাল ক্লিনিক, বীমা সেবা, জাপানি ও প্রাচীন চীনা চিকিৎসা এবং কনজিউমার হেলথকেয়ার বিভাগ রয়েছে। এন্ড-টু-এন্ড স্বাস্থ্যসেবা একসঙ্গে প্রদান করা একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটি।
  • কে কে মহিলা ও শিশু হাসপাতাল, ১০০ বুকিত টিমাহ রোড (নভেনা এমআরটি স্টেশনের কাছে)। A&E ২৪/৭ খোলা থাকে সিঙ্গাপুরের প্রাচীনতম নারী ও শিশু হাসপাতাল। এখানে ১০ লাখেরও বেশি সিঙ্গাপুরিয়ান জন্মগ্রহণ করেছেন। ২৪/৭ শিশু জরুরি বিভাগ রয়েছে, তবে বেশ ব্যস্ত থাকে।
  • মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল, মাউন্ট এলিজাবেথ (অর্চার্ড এমআরটি স্টেশনের কাছে), +৬৫ ৬৭৩৭ ২৬৬৬ এএন্ডই ২৪/৭ খোলা থাকে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় বেসরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানে একটি বিশেষ স্যুইট আছে, যা মূলত ব্রুনাইয়ের সুলতানের জন্য বানানো হলেও এখন যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন, তবে খরচ প্রতি রাতে $৫,০৪৩ থেকে শুরু। বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ $১০০ থেকে শুরু
  • সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, কলেজ রোড, ১ম-৩য় হাসপাতাল এভিনিউ (আউটরাম পার্ক এমআরটি স্টেশনের পাশে)। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল।
  • ট্যান টক সেং হাসপাতাল, ১১ জালান তান টক সেং (নভেনা এমআরটি স্টেশনের পাশে), +৬৫ ৬২৫৬ ৬০১১ সোম-শুক্র সকাল ৮টা–দুপুর ১টা ও ২–৫টা; শনি ৮টা–দুপুর সিঙ্গাপুরের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। এখানে ভ্রমণকারীদের টিকা, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ, ভ্রমণ-সম্পর্কিত পরীক্ষা এবং পরামর্শের জন্য ভ্রমণকারীদের স্বাস্থ্য ও টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ $৮০, ভ্যাকসিন $১০+ খরচ
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ৫ লোয়ার কেন্ট রিজ রোড, +৬৫ ৬৭৭৯ ৫৫৫৫ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর মেডিকেল স্কুলের প্রধান শিক্ষা হাসপাতাল। এখানে প্রচুর বিশেষায়িত ক্লিনিক রয়েছে।

এছাড়াও সিঙ্গাপুরে প্রাচীন চীনা চিকিৎসা (টিসিএম) প্রচলিত। ইউ ইয়ান সাংয়ের ২০টিরও বেশি ক্লিনিক রয়েছে। সিঙ্গাপুর চাইনিজ চিকিৎসক সমিতি চিকিৎসকদের একটি তালিকা প্রকাশ করে।

টয়লেট

[সম্পাদনা]

প্রায় সব শপিং সেন্টার, হোটেল, এমআরটি স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং হকার সেন্টারে পরিষ্কার পাবলিক টয়লেট থাকে। বেশিরভাগই বিনামূল্যে, তবে হকার সেন্টারে ১০ বা ২০ সেন্ট নেওয়া হতে পারে। যদি কেবিনে টয়লেট পেপার না থাকে, বাইরে বড় রোল থেকে নিতে পারেন। অধিকাংশ টয়লেট পশ্চিমা স্টাইলের, তবে সাধারণত একটি স্কোয়াটিং কেবিনও থাকে। ম্যাকডোনাল্ডসের টয়লেট বিনামূল্যে হওয়ায় জনপ্রিয়, এবং কর্মীরা এতে আপত্তি করে না।

শ্রদ্ধা

[সম্পাদনা]
নামে কি আছে?

চীনারা প্রথমে পারিবারিক নাম ব্যবহার করে। তাই ফুয়া চু কাংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িকভাবে তাকে মি. ফুয়া বলা হবে, আর বন্ধুরা তাকে চু কাং (বা শুধু CK) নামে ডাকতে পারে। অনেকেরই পাশ্চাত্য নামও থাকে, তাই তাকে টেরি ফুয়া নামেও ডাকা হতে পারে।
মালয় নামের ধরন: ব্যক্তিগত নাম + বিন বা বিন্তি (পুত্র/কন্যা) + পিতার নাম। মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহকে সাধারণত মি. মোহাম্মদ বলা হয়। কখনও কখনও মোহাম্মদ বা আব্দুলের পরে ব্যক্তিগত নাম থাকে (যেমন: মোহাম্মদ ফয়জল বিন আব্দুল নাসের), তখন সাধারণত তাকে মি. ফয়জল বলা হয়।
ভারতীয় নাম জটিল, তবে সিঙ্গাপুরে প্রচলিত দক্ষিণ ভারতীয় (তামিল) নাম সাধারণত দুইভাবে হয়: ব্যক্তিগত নাম + s/o বা d/o (পুত্র/কন্যা) + পিতার নাম, অথবা পিতার নামের আদ্যক্ষর + ব্যক্তিগত নাম। ব্যক্তিগত নামগুলো প্রায়ই লম্বা হয়, তাই সংক্ষেপে ব্যবহার করা হয়। যেমন Ramanathan s/o Sellapan সংক্ষেপে S.R. Nathan ব্যবহার করতে পারেন এবং তাকে মি. নাথান বলা হবে। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো কাউকে জিজ্ঞেস করা, তিনি কীভাবে সম্বোধিত হতে চান।

সিঙ্গাপুরের মানুষ আনুষ্ঠানিক ভদ্রতা নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় না। বাড়িতে আপনি যেমন ব্যবহার করেন, তাই সাধারণত সিঙ্গাপুরেও কাউকে অপমান করবে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের বিপরীতে সিঙ্গাপুরে নারীরা খোলামেলা পোশাক বা পুরুষরা শর্টস ও স্যান্ডেল পরা স্বাভাবিক ব্যাপার। কেবলমাত্র কিছু অভিজাত বার, রেস্তোরাঁ, সরকারি প্রতিষ্ঠান (যেমন: সংসদ ও আদালত) এবং কিছু বেসরকারি ক্লাবেই পোশাকবিধি মানতে হয়।

তবে, সিঙ্গাপুরের মানুষ পাশ্চাত্যের তুলনায় সামাজিকভাবে রক্ষণশীল। প্রকাশ্যে স্নেহপ্রকাশ অপছন্দ করা হয়: হাত ধরা স্বাভাবিক, কিন্তু রাস্তায় চুম্বন বা আলিঙ্গন অশোভন হিসেবে গণ্য হয়। মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত বক্ষ প্রদর্শন কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়, এমনকি সমুদ্রসৈকতেও নয়। বেশিরভাগ বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দির, পাশাপাশি মসজিদে, নারীদের জন্য শালীন পোশাক আবশ্যক—খোলা কাঁধ নয়, হাঁটুর ওপরে স্কার্ট নয়। জনপ্রিয় মন্দিরগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢোকার আগে ঢেকে নেওয়ার জন্য শাল ও সরং দেওয়া হয়। অনেক উপাসনালয়ে প্রবেশের আগে জুতা খুলে রাখতে হয়।

স্থানীয় উপভাষা, যেটিতে চীনা প্রভাব প্রবল, অনেক সময় রুক্ষ বা অমার্জিত শোনাতে পারে। যেমন "You want beer or not?" আসলে চীনা ভাষায় বেশি ভদ্র উপায়, কারণ প্রশ্নকারী আপনাকে একটি বিকল্প দিচ্ছে, জোর করছে না।

খাবারের আমন্ত্রণ জানানোর সময় খাদ্যাভ্যাসের সীমাবদ্ধতা খেয়াল রাখুন। অনেক ভারতীয় এবং কিছু চীনা নিরামিষভোজী। বেশিরভাগ মালয় মুসলিম, তাই কেবল হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন। বেশিরভাগ হিন্দু (এবং কিছু চীনা) গরুর মাংস খান না। নিশ্চিত না হলে আগে জিজ্ঞেস করুন।

চীনা মন্দিরে গেলে দেবতার মূর্তির দিকে তর্জনী দিয়ে ইশারা করবেন না, এটা খুবই অশোভন। পরিবর্তে বুড়ো আঙুল বা খোলা হাতের তালু ব্যবহার করুন। আবার, Hungry Ghost Festival-এ রাস্তার পরিবেশনা দেখতে গেলে প্রথম সারিতে বসবেন না, এটি মৃত আত্মাদের জন্য সংরক্ষিত।

বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দিরে প্রায়ই স্বস্তিকা চিহ্ন দেখা যায়। এটি একটি প্রাচীন ধর্মীয় প্রতীক, যার সাথে নাৎসিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সংবেদনশীল বিষয়

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন, রাজনীতি, জাতি, ধর্ম এবং এলজিবিটি অধিকার। জনসংখ্যার মাত্র ৬০% নাগরিক হওয়ায় অভিবাসন বিশেষভাবে সংবেদনশীল। সিঙ্গাপুরের মানুষ সাধারণত বিদেশি-বিরোধী নয়, তবে অনেকে বিদেশি কর্মীদের আগমনকে ভালোভাবে নেন না, কারণ তারা চাকরির প্রতিযোগিতা তৈরি করে অথচ সমাজে একীভূত হয় না বা সামরিক সেবার মতো দায়িত্ব পালন করে না।

সিঙ্গাপুর চীন নয়—যদিও জনসংখ্যার বেশিরভাগই জাতিগত চীনা, তারা নিজেদের সিঙ্গাপুরিয়ান হিসেবে পরিচিত করে, চীনের নাগরিক হিসেবে নয়। চীনের নাগরিকদের সাধারণত "PRCs" বা "Ah Tiong" বলা হয়। তবে হংকং বা তাইওয়ানের তুলনায় চীন-বিরোধিতা এখানে কম। একইভাবে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরিয়ানদের সাথে নতুন ভারতীয় অভিবাসীদের মধ্যে টানাপোড়েন আছে, যাদেরকে একটি অজনপ্রিয় বাণিজ্যচুক্তি সিইসিএ-এর কারণে "সিইসিএ" বলা হয়।

অন্যান্য এশীয় দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও মুখরক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারও ভুল সরাসরি ধরিয়ে দেওয়া অপছন্দনীয়, কারণ এতে অপমান হয়। আবার, কম সামর্থ্যবানদের সামনে নিজের ধনসম্পদ প্রদর্শনও খারাপ রুচি হিসেবে ধরা হয়। নিজের সাফল্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করাও অপছন্দ করা হয়।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত অত্যন্ত বিভাজনমূলক একটি বিষয়। বেশিরভাগ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ইসরায়েলকে সমর্থন করেন, আর বেশিরভাগ মুসলমানরা ফিলিস্তিনকে। তাই এ নিয়ে কথা বলার সময় সতর্ক থাকুন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জন্য আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে না, তবে কঠোর ঘৃণাবিদ্বেষবিরোধী আইনের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।

সিঙ্গাপুরিয়ানদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে টানাপোড়েন আছে। একদিকে, প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ নিজেকে "the best bloody Englishman east of Suez" বলা হলে গর্ববোধ করতেন। অন্যদিকে, তারা নিজেদের স্বকীয় সংস্কৃতিকে (বিশেষ করে খাবারের মাধ্যমে) গর্বের সাথে প্রকাশ করতে চান। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো Singlish-এর ব্যবহার। সরকার "Speak Good English Campaign"-এর মাধ্যমে এটিকে নিরুৎসাহিত করলেও সমাজের সব স্তরে এটিকে সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয় সিঙ্গাপুরিয়ান পরিচয় প্রদর্শনের জন্য। এসব বিষয়ে সংবেদনশীলভাবে কথা বলুন।

বাড়ি ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

কারও বাড়িতে গেলে প্রবেশের আগে অবশ্যই জুতা খুলে ফেলুন, কারণ বেশিরভাগ সিঙ্গাপুরিয়ান ঘরে জুতা ব্যবহার করেন না। তবে মোজা পরা যায়। কিছু পরিবার বাথরুমে ব্যবহার করার জন্য স্যান্ডেল দেয়, যা অন্য কোথাও ব্যবহার করা উচিত নয়।

উপহার নিয়ে গেলে কিছু বিষয় এড়ানো ভালো। প্রাণীজাত পণ্য (খাবার বা অন্যকিছু) আপত্তিকর হতে পারে, সাদা ফুল (শবদাহের প্রতীক), ছুরি ও ঘড়ি (সম্পর্কচ্ছেদ ও মৃত্যুর প্রতীক) দেওয়া ঠিক নয়। কিছু চীনা সংখ্যা চারকে অশুভ মনে করেন। অনেক মুসলিম সিঙ্গাপুরিয়ান এবং কিছু হিন্দু মদ্যপান করেন না। সুন্দরভাবে প্যাকেট করা বিস্কুট বা কেক, অথবা ফুলের তোড়া নিরাপদ উপহার।

সিঙ্গাপুরে কারও সামনে বসে উপহার খোলা অশোভন বলে মনে করা হয়। বরং উপহারদাতা চলে যাওয়ার পর ব্যক্তিগতভাবে খুলুন।

ব্যবসা

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুর স্কাইলাইন

সিঙ্গাপুরিয়ানরা সময়নিষ্ঠ, তাই সময়মতো উপস্থিত হোন। প্রচলিত শুভেচ্ছা হলো শক্ত করে হাত মেলানো। তবে রক্ষণশীল মুসলমানরা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হাত মেলান না। একজন পুরুষ যখন মালয় মহিলার সঙ্গে দেখা করবেন, তখন তার হাত বাড়ানোর জন্য অপেক্ষা করুন। একইভাবে একজন মহিলা মালয় পুরুষের সঙ্গে দেখা করলে তাকেই উদ্যোগ নিতে দিন। কেউ যদি বুকে হাত রেখে হালকা ঝুঁকে শুভেচ্ছা জানায়, আপনিও তা অনুসরণ করুন। সিঙ্গাপুরিয়ানরা সাধারণত আলিঙ্গন করে না, বিশেষ করে অপরিচিতের সঙ্গে, কারণ এটি অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে তারা ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলবে না।

পুরুষদের জন্য প্রচলিত ব্যবসায়িক পোশাক হলো লম্বা হাতাওয়ালা শার্ট ও টাই, যদিও প্রায়ই টাই বাদ দিয়ে কলার খোলা রাখা হয়। গরম আবহাওয়ার কারণে কোট খুব কমই পরা হয়। মহিলারা সাধারণত পাশ্চাত্য ধাঁচের ব্যবসায়িক পোশাক পরেন, তবে অনেকে মালয়দের কেবায়াসারং, চীনা চিয়ংসাম বা ভারতীয় শাড়িও পছন্দ করেন।

প্রথমবার ব্যবসায়িক সাক্ষাতে সাধারণত ভিজিটিং কার্ড বিনিময় করা হয়। কার্ড দেওয়ার সময় দুই হাতে উপরের কোণ ধরে দেবেন, যেন লেখা সামনের ব্যক্তির দিকে থাকে। একইভাবে গ্রহণ করবেন। (শোনায় কঠিন হলেও আসলে সহজ।) এক হাতে কার্ড দেওয়া বা নেওয়া অত্যন্ত অশ্রদ্ধাজনক। প্রাপ্ত কার্ড ভালোভাবে দেখুন, প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না। কাজ শেষে কার্ড টেবিলে রাখুন, কখনও শার্টের পকেট বা মানিব্যাগে রাখবেন না, এবং তাতে কিছু লিখবেন না। অনেকে এটিকে অসম্মানজনক মনে করেন।

ব্যবসায়িক উপহার সাধারণত অপছন্দ করা হয়, কারণ এটি ঘুষ হিসেবে ধরা হতে পারে। সরকারি কর্মচারীরা উপহার নেওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকেন। আড্ডা বা ঘুরিয়ে পেশাদারি আলোচনায় প্রবেশ করা এখানে প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ মিটিং সরাসরি মূল বিষয়ে চলে যায়।

সংযোগ

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক টেলিফোন কান্ট্রি কোড হলো 65। সিঙ্গাপুরের ফোন নম্বরের ধরন +65 XXXX XXXX, যেখানে "65" হলো দেশ কোড। সিঙ্গাপুর ছোট হওয়ায় এখানে কোনো এরিয়া কোড নেই। 8 বা 9 দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর হলো মোবাইল ফোন, আর 3 বা 6 দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর হলো স্থায়ী লাইন (বাসা বা ব্যবসায়িক)। টোল-ফ্রি নম্বর 800 বা 1800 দিয়ে শুরু হয় এবং এর পর থাকে ৭টি সংখ্যা। এগুলো সাধারণত দেশের বাইরে থেকে ব্যবহার করা যায় না।

সিঙ্গাপুরে চারটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি আছে: সিংটেল, সিম্বা, স্টারহাব, এবং মোবাইলওয়ান (এম১)। এদের নেটওয়ার্ক পুরো দ্বীপজুড়ে খুব ভালোভাবে কাজ করে এবং ৪জি ও ৫জি উভয়ই পাওয়া যায়। আরও অনেক ছোট ভার্চুয়াল অপারেটর আছে, তবে সেগুলো সাধারণত অল্প সময়ের ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক নয়। ভ্রমণকারীরা ৭-ইলেভেন দোকান, টেলিকম শপ, মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার এবং চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রিপেইড সিম কিনতে পারেন। সিম নিবন্ধনের জন্য আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট বা সিঙ্গাপুর আইডি প্রয়োজন। ১ জিবি ডেটাসহ সাধারণ প্যাকেজের দাম শুরু মাত্র ৪ ডলার (৩০ দিনের জন্য)। কাছাকাছি দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে, প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব আন্তর্জাতিক রোমিং প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে স্টারহাব সবচেয়ে ভ্রমণবান্ধব; তাদের হ্যাপি রোম সুবিধায় ঘরোয়া ডেটা প্যাক ব্যবহার করা যায় নির্দিষ্ট বিদেশি গন্তব্যগুলোতে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই। এখন প্রায় সব কোম্পানিই সস্তা স্টার্টার প্যাক দেয়, যেখানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং আরও কিছু দেশের জন্য সীমিত পরিমাণ রোমিং ডেটা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সিঙ্গাপুরের উত্তরে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় (যেমন উডল্যান্ডস, সুনগেই বুলোহ, পুলাউ উবিন) আপনার ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালয়েশিয়ার নেটওয়ার্কে চলে যেতে পারে। এতে রোমিং চার্জ কেটে নিতে পারে, যদিও আপনি সিঙ্গাপুর ছাড়েননি। তাই কল করার বা ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করুন, প্রয়োজনে ম্যানুয়ালি নেটওয়ার্ক নির্বাচন করুন, অথবা শুরুতেই এমন সিম নিন যেখানে রোমিং সুবিধা থাকে।

ইন্টারনেটে

[সম্পাদনা]

ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রায় সব হোটেল ও পেইড আবাসনে থাকে। অনেক পাবলিক জায়গায়ও পাওয়া যায়, তবে সবখানে নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে হলে আপনার ফোন নম্বর রেজিস্টার করে একটি এসএমএস ভেরিফিকেশন নিতে হয়। সিঙ্গাপুর নাম্বার না হলেও কাজ করে, যদি আপনার বিদেশি নম্বরের রোমিং চালু থাকে। কিছু নেটওয়ার্ক আবার শুধু ফোন নম্বর বা ইমেইল চায়, কিন্তু যাচাই করে না। সহজে লগ-ইন ছাড়াই ফ্রি ওয়াই-ফাই চাইলে কিছু শপিং মল বা গার্ডেনস বাই দ্য বেতে চেষ্টা করতে পারেন।

সিঙ্গাপুরে সারাদেশব্যাপী ফ্রি Wireless@SG সিস্টেম আছে, যেটি এমআরটি স্টেশনসহ অনেক পাবলিক স্থানে পাওয়া যায়। এই নেটওয়ার্ক সিম ছাড়াও ব্যবহার করা যায়, তবে আগে সাইন আপ করতে হয় এবং অফিসিয়াল Wireless@SGx অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়।

ইন্টারনেট ক্যাফে এখন খুব কম, আর দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রায় সব বাসিন্দার বাড়ি, অফিস বা স্কুলে ব্রডব্যান্ড আছে। প্রয়োজন হলে চায়নাটাউন বা লিটল ইন্ডিয়াতে খুঁজতে পারেন, অথবা শহরতলির মলের উপরের তলায় পাবেন, যেখানে গেমিং পার্লারের সাথেই থাকে। বিকল্পভাবে, পাবলিক লাইব্রেরিতে সাশ্রয়ী দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় (প্রতি মিনিট $০.০৩ বা ঘণ্টায় $১.৮০), তবে রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা পোহাতে হয়।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ মূলত পর্নোগ্রাফি, জুয়া ও কপিরাইট লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া ভুয়া খবর বা বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে সরকার কিছু কন্টেন্ট ব্লক করে। কখনও কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা প্রবন্ধে সরকারি বাধ্যতামূলক সংশোধনী নোটিশ দেখা যেতে পারে, যদি কর্তৃপক্ষ তা ভুয়া তথ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

ডাকযোগে

[সম্পাদনা]

সিংপোস্টের অফিস সারা দ্বীপে রয়েছে। সাধারণত সোম-শুক্র সকাল ৮:৩০ থেকে বিকাল ৫টা, শনি সকাল ৮:৩০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে, রোববার বন্ধ। চাঙ্গি বিমানবন্দর টার্মিনাল ২ (ট্রানজিট এরিয়া)-এর পোস্ট অফিস প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর ১ কিলেনি রোড শাখা সোম-শুক্র রাত ৯টা পর্যন্ত এবং রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা। ডাক সেবা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য; নির্দিষ্ট সময়ের আগে পোস্টবক্সে দিলে স্থানীয় চিঠি সাধারণত পরের কর্মদিবসে পৌঁছে যায়। বিশ্বের যেকোনো দেশে পোস্টকার্ড পাঠাতে খরচ হয় মাত্র ৫০ সেন্ট। অনেক এমআরটি স্টেশনে থাকা স্বয়ংক্রিয় SAM মেশিন থেকেও পোস্টেজ লেবেল কেনা যায়।

ছোট প্যাকেট (সর্বোচ্চ ২ কেজি) পাঠাতে খরচ হয় বিমান ডাকের জন্য প্রতি ১০০ গ্রামে $৩.৫০ এবং সারফেস মেইলে প্রতি ১০০ গ্রামে $১। বড় প্যাকেটের জন্য ডিএইচএল, ফেডেক্স বা ইউপিএস-এ প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়া যায়।

মানিয়ে নিন

[সম্পাদনা]

বিদ্যুৎ

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে ব্রিটিশ ধাঁচের BS 1363 তিন-পিনের আয়তাকার সকেট (230 V/50 Hz) ব্যবহার করা হয়। অ্যাডাপ্টার যেকোনো হার্ডওয়্যার দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।

দূতাবাস ও হাইকমিশন

[সম্পাদনা]

আঞ্চলিক ভিসা করার জন্য সিঙ্গাপুর একটি ভালো জায়গা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সব কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস পাওয়া যায়। অনেক দেশের দূতাবাস ব্যাংকক, বেইজিং, দিল্লি, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর বা টোকিওতে অবস্থিত হলেও সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কূটনৈতিক মিশন তালিকা


চুল কাটানো

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের মানুষ তাদের চুল নিয়ে বেশ যত্নবান, আর এখানে আধুনিক হেয়ার সেলুনের কোনো অভাব নেই। নতুন চাইনিজ পপস্টারের মতো লুক পেতে চাইলে দাম শুরু প্রায় ২০ ডলার থেকে। যদি খরচ করতে রাজি থাকেন, তবে প্যালেস রেনেসাঁয় আছে প্যাশন হেয়ার স্যালন, যেখানে সেলিব্রিটি হেয়ারস্টাইলিস্ট ডেভিড গ্যান (ঝ্যাং জিয়াই ও আরও অনেক তারকার হেয়ারস্টাইলিস্ট) নিজেই চুল কাটেন। এনজি অ্যান সিটির লে স্যালনে একেকটি হেয়ারকাটের দাম যেতে পারে ২,০০০ ডলার পর্যন্ত। শহরের মাঝামাঝি বা আশেপাশের এলাকায় মধ্যম মানের হেয়ার সেলুনগুলোতে হেয়ারকাটের সঙ্গে শ্যাম্পু ও অন্যান্য বাড়তি পরিষেবাও পাওয়া যায়। রেডস হেয়ারড্রেসিং, সুপারকাটস, টনি ও গাইয়ের মতো জনপ্রিয় চেইন সেলুন সিঙ্গাপুরজুড়ে আছে। কম খরচের জন্য, প্রায় প্রতিটি শপিং মলেই পাবেন ইসি হাউস বা এর অনুকরণে তৈরি দোকান। এখানে ১০ মিনিটের ঝামেলাহীন হেয়ারকাট ১৫ ডলারে পাওয়া যায়, যদিও প্রয়োজন হলে চুল কাটার জন্য সময় বেশি দিতে কর্মীরা আপত্তি করেন না। এইচডিবি আবাসিক এলাকায় বেশিরভাগই সাধারণ নরসুন্দর দোকান আছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খরচ ৫–১০ ডলার, আর শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য আরও কম।

লন্ড্রি

[সম্পাদনা]

হোটেলগুলোতে সাধারণত একদিনের লন্ড্রি সেবা থাকে (অবশ্যই দাম দিয়ে), আর হোস্টেলগুলোতে থাকে শেয়ার করা স্ব-পরিষেবা ওয়াশিং মেশিন। প্রায় প্রতিটি শপিং মলে ফুল-সার্ভিস লন্ড্রি ও ড্রাই ক্লিনিং দোকান আছে, তবে সাধারণত কাপড় ফেরত পেতে তিন দিন বা তারও বেশি সময় লাগে, যদি না এক্সপ্রেস সার্ভিস নেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় স্ব-পরিষেবা লন্ড্রোম্যাট চেইনও পাওয়া যায়:

  • ওয়ান্ডার ওয়াশ সেলফ-সার্ভিস লন্ড্রোম্যাট, +৬৫ ৯৭৮৬ ২০৩৮ ২৪ ঘণ্টা পুরোপুরি স্ব-পরিষেবা লন্ড্রোম্যাট, কোনো কর্মচারী নেই। ৮ কেজি থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন মাপের মেশিন আছে। দাম শুরু ৮ কেজির জন্য ৪ ডলার থেকে। আধুনিক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
  • ডিআইওয়াই লন্ড্রি ২৪ ঘণ্টা কয়েন-চালিত স্ব-পরিষেবা লন্ড্রোম্যাট। ১১–২০ কেজি পর্যন্ত মেশিন আছে, দাম ৫–২০ ডলার।

ফটো প্রসেসিং

[সম্পাদনা]

প্রায় প্রতিটি শপিং মলে এমন ফটো দোকান রয়েছে যেখানে ডিজিটাল ছবি প্রিন্ট করা যায় এবং পাসপোর্টের ছবি তোলা হয়। অনেক ফার্মেসি ও সুপারমার্কেটেও স্ব-পরিষেবা কিয়স্ক থাকে, যেখানে সিডি, এসডি-কার্ড, ইউএসবি ড্রাইভ ইত্যাদি থেকে ডিজিটাল ছবি প্রিন্ট করা যায়।

ক্রীড়া

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর স্পোর্টস কাউন্সিল কম দামে স্পোর্টস সুবিধা দিয়ে থাকে, যেখানে প্রায়ই চমৎকার আউটডোর ৫০ মিটার সুইমিং পুল থাকে (তালিকার জন্য দেখুন সুইমিং অংশ)। সুবিধাগুলো হয়তো খুব বেশি বিলাসবহুল নয়, তবে দাম একেবারেই হাতের নাগালে—যেমন, সুইমিং পুলে ঢুকতে মাত্র ১ ডলার, আর ক্লাবফিট জিমে প্রবেশ ২.৫০ ডলার। অসুবিধা হলো, এসব সুবিধার বেশিরভাগ শহরতলিতে, যদিও এমআরটি স্টেশনের কাছেই থাকে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে ১০–২০ মিনিটেই পৌঁছানো যায়। জিমে কোনো বই বা পড়াশোনার জিনিস নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বড় প্রাইভেট জিম চেইনগুলোর মধ্যে আছে এনিটাইম ফিটনেস, ফিটনেস ফার্স্ট, গোল্ড'স জিম এবং ট্রু ফিটনেস। এগুলোতে সুযোগ-সুবিধা ভালো এবং অবস্থানও সুবিধাজনক, তবে দাম অনেক বেশি। সদস্য না হলে প্রতিদিনের পাসের জন্য প্রায় ৪০ ডলার খরচ হয়। তবে আপনার দেশে যদি এনিটাইম ফিটনেসের সদস্যপদ থাকে, তাহলে সিঙ্গাপুরের জিমেও সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।

কিছু পার্কে সাইকেল ও ইনলাইন স্কেট ভাড়া পাওয়া যায় (প্রতি ঘণ্টা ৩–৬ ডলার, রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে)। বড় পার্কগুলোতে (যেমন ওয়েস্ট কোস্ট পার্ক, ইস্ট কোস্ট পার্ক) স্কেট ভাড়া, প্রশিক্ষণ ক্লাস, এমনকি শিশুদের জন্য স্কেট ক্যাম্পও আছে। স্কেটার ও সাইক্লিস্টদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হলো ইস্ট কোস্ট পার্কের ১০ কিমি লম্বা পথ, যেখানে পাকা রাস্তা, ভাড়ার দোকান, ক্যাফে আর বারের সমাহার। পথে টয়লেট ও শাওয়ারও আছে। এছাড়া প্রতিটি পার্কেই কিছু ফিটনেস স্টেশন থাকে।

টেলিভিশন

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরে বিনামূল্যে ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন (ডিটিটি) সর্বত্র পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ বাড়ি ও হোটেলে কেবল বা ইন্টারনেট প্রটোকল টিভি ব্যবহৃত হয়, যাতে আরও বেশি চ্যানেল দেখা যায়। সিঙ্গাপুরের চারটি সরকারি ভাষার প্রতিটিতে অন্তত একটি করে টিভি চ্যানেল আছে, আর প্রতিটি ভাষার রাতের খবর সেই ভাষাতেই সাবটাইটেলসহ সম্প্রচার করা হয়। সব ফ্রি-টু-এয়ার টিভি চ্যানেল রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়াকর্পের মালিকানাধীন, তাই সংবাদ কনটেন্ট একে অপরের থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। সিঙ্গাপুরে স্যাটেলাইট টিভি অবৈধ।

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সান্নিধ্যের কারণে অ্যান্টেনা দিয়ে সেসব দেশের চ্যানেলও ধরা যায়। বিদেশি সংবাদ চ্যানেল যেমন বিবিসি, সিএনএন ও সিএনবিসি কেবল টিভি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে দেখা যায়। সিঙ্গাপুরের প্রধান কেবল টিভি অপারেটর হলো স্টারহাব টিভিসিংটেল টিভি

ডিটিটি চ্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সিএনএ (আগে চ্যানেল নিউজএশিয়া), ২৪ ঘণ্টার ইংরেজি নিউজ চ্যানেল, সিঙ্গাপুর ও এশিয়ার খবরকে গুরুত্ব দেয়।
  • চ্যানেল ৫ — ইংরেজি বিনোদন চ্যানেল; স্থানীয় প্রোগ্রাম ও আমেরিকান সিরিজ প্রচার করে। প্রতিদিন রাত ৯টায় খবর সম্প্রচার। সকাল ৬টা–দুপুর ও বিকেল ৩টা–৬টা পর্যন্ত শিশুদের অনুষ্ঠান।
  • চ্যানেল ৮ — ম্যান্ডারিন ভাষায় সাধারণ বিনোদন চ্যানেল; স্থানীয়ভাবে তৈরি নাটক ও ডকুমেন্টারি প্রচার করে। খবর সম্প্রচার হয় সপ্তাহের দিন দুপুর ১টায়, আর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:৩০ ও রাত ১০টায়।
  • চ্যানেল ইউ — ম্যান্ডারিন ভাষার চ্যানেল, যেখানে জনপ্রিয় এশীয় নাটক দেখানো হয়।
  • বসন্তম — তামিল বিনোদন চ্যানেল; স্থানীয় নাটক ও বলিউড বা কোলিউড সিনেমা প্রচার করে। প্রতিদিন রাত ৮:৩০-এ খবর সম্প্রচার।
  • সুরিয়া — মালয় ভাষার বিনোদন চ্যানেল; স্থানীয়, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অনুষ্ঠান প্রচার করে। প্রতিদিন রাত ৮টায় খবর সম্প্রচার।

সংবাদপত্র

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর নিয়মিতভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার তালিকায় নিচের দিকে থাকে, আর সব স্থানীয় পত্রিকাই রাষ্ট্রায়ত্ত সিঙ্গাপুর প্রেস হোল্ডিংস প্রকাশ করে। তবুও কঠিন খবরগুলো সাধারণত মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রধান ইংরেজি দৈনিক হলো স্ট্রেইটস টাইমস, যা সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রকাশিত হয়, আর রবিবার প্রকাশিত হয় সানডে টাইমস। ব্যবসা ও অর্থনীতি নিয়ে প্রকাশিত হয় বিজনেস টাইমস। এছাড়া সিঙ্গাপুরের অন্যান্য সরকারি ভাষায়ও পত্রিকা আছে: চীনা ভাষায় লিয়ানহে জোবায় (联合早报), মালয়ে বেরিতা হারিয়ান (রবিবারে বেরিটা মিংগু), আর তামিলে তামিল মুরাসু (தமிழ் முரசু)।

আবহাওয়া

[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর ভ্রমণে গেলে কিছু জিনিস সঙ্গে নেওয়া উচিত:

  • সানগ্লাস — সিঙ্গাপুর সাধারণত উজ্জ্বল ও রৌদ্রোজ্জ্বল।
  • ছাতা — সারা বছরই কিছু না কিছু বৃষ্টি হয়, তাই ছাতা অবশ্যই রাখুন। তবে বৃষ্টি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয়।
  • সানব্লক/সানস্ক্রিন — দিনের বেলায় বাইরে বের হলে অবশ্যই ব্যবহার করুন, কারণ দুপুরে সূর্যের তেজ খুব বেশি থাকে। আরও তথ্যের জন্য দেখুন এনইএ-র ওয়েবসাইট
  • শর্টস/হাফ প্যান্ট — সিঙ্গাপুরে গরম বেশি পড়ে। যদিও সব গণপরিবহন ও প্রায় সব ভবনের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে, তবুও হালকা পোশাক রাখা ভালো। তবে কিছু ধর্মীয় স্থানে সংযত পোশাক প্রয়োজন হয়।
  • কটন বা ড্রাই-ফিট শার্ট — হাওয়া চলাচল করে এমন আরামদায়ক পোশাক পরুন।
  • স্যান্ডেল/স্লিপার — সিঙ্গাপুরের মানুষ স্লিপার পরতে পছন্দ করে (যুক্তরাষ্ট্রে “ফ্লিপ-ফ্লপ”, অস্ট্রেলিয়ায় “থংস”, নিউজিল্যান্ডে “জান্ডাল”)। সঙ্গে একটি জোড়া রাখুন। যদি অভ্যস্ত না হন তবে স্যান্ডেল পরুন, তবে সতর্ক থাকুন—কিছু আনুষ্ঠানিক জায়গায় (যেমন থিয়েটার, কনসার্ট হল, এসপ্ল্যানেডের রিসাইটাল স্টুডিও) স্লিপার, স্যান্ডেল বা শর্টস পরা যায় না।
  • সুয়েটার — সিনেমা হল, শপিং মল ও জাদুঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে, যদিও গরমের মধ্যে তা বেশ আরামদায়কই লাগে।

পরবর্তী ভ্রমণ

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ঘোরার জন্য সিঙ্গাপুর একটি চমৎকার কেন্দ্র। প্রায় সব দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য যেমন ব্যাংকক, ফুকেট, আঙ্গকর ভাট, হো চি মিন সিটি এবং বালি বিমানে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায়। বাজেট এয়ারলাইনের কারণে চীন ও ভারতে সস্তা ফ্লাইট ধরার জন্যও সিঙ্গাপুর দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের অনেক ছোট শহরে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে, যা মূল বিমানবন্দরের ভিড় ও দালালদের ঝামেলা এড়াতে সুবিধাজনক হতে পারে।

দিনভিত্তিক বা সপ্তাহান্তের ছোট সফরের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্যগুলো হলো:

  • বাটাম সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে কাছের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ, ফেরিতে অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায়। প্রধানত শিল্পনির্ভর এবং কুখ্যাত দেহব্যবসার জন্য পরিচিত, তবে কিছু রিসোর্টও আছে।
  • বিন্তান সিঙ্গাপুর থেকে ফেরিতে মাত্র ৫৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ইন্দোনেশীয় দ্বীপ। এখানে রয়েছে উচ্চমানের রিসোর্ট ও "আসল ইন্দোনেশিয়া"র অভিজ্ঞতা।
  • জোহর বাহরু কজওয়ে পার হলেই মালয়েশিয়ার এই শহর। উডল্যান্ডস বাস ইন্টারচেঞ্জ থেকে বাস ৯৫০ ধরলে মাত্র ২০ মিনিটেই পৌঁছানো যায়। দেখার মতো খুব বেশি কিছু নেই, তবে সস্তায় খাওয়া-দাওয়া, কেনাকাটা আর লেগোল্যান্ড মালয়েশিয়ার জন্য জনপ্রিয়।
  • কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার প্রাণবন্ত রাজধানী। বিমানে ৪৫ মিনিট, বাসে ৪–৫ ঘণ্টা বা ট্রেনে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে।
  • মালাক্কা একসময় তিনটি স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস-এর একটি ছিল, এখন শান্ত ঔপনিবেশিক শহর এবং একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। বাসে যেতে সময় লাগে ৩–৪ ঘণ্টা, তবে সীমান্ত ভিড়ের কারণে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
  • পুলাউ তিওমান মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের সবচেয়ে কাছের স্বর্গীয় দ্বীপ, বাস ও ফেরিতে পৌঁছানো যায়।

যারা ভ্রমণের জন্য আরও সময় দিতে পারেন, তাদের জন্য দীর্ঘ সপ্তাহান্তে (যখন ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে যায়) সিঙ্গাপুরবাসীদের পছন্দের কিছু গন্তব্য হলো:

  • বালি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণ, সুন্দর সমুদ্রসৈকত ও সুস্বাদু খাবারের জন্য বিখ্যাত। বিমানে প্রায় ২.৫ ঘণ্টার পথ।
  • ব্যাংকক থাইল্যান্ডের রাজধানী, যা অনেক সিঙ্গাপুরবাসীর কাছে খাবার, কেনাকাটা ও বিনোদনের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। বিমানে ২ ঘণ্টারও কম সময় লাগে, অথবা ট্রেনে ২ রাতের ভ্রমণ (যদি কুয়ালালামপুর বা বাটারওয়ার্থে পেনাং যাওয়ার জন্য না থামেন)।
  • ফুকেট থাইল্যান্ডের অন্যতম বড় দ্বীপ এবং সিঙ্গাপুরবাসীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। দুর্দান্ত সপ্তাহান্তের অবকাশ উপভোগ করা যায় এখানে। বিমানে ২ ঘণ্টারও কম সময় লাগে। সিঙ্গাপুরের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা, তাই ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
  • ইপোহ মালয়েশিয়ার পেরাক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। এখানে অনেক সংরক্ষিত ঔপনিবেশিক স্থাপনা রয়েছে এবং খাবারের জন্য বিখ্যাত। কোচে যেতে ৭–৮ ঘণ্টা, বিমানে ১ ঘণ্টা।
  • লাংকাউই মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের দ্বীপ, থাই সীমান্তের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত, অফুরন্ত সমুদ্রসৈকতের জন্য খ্যাত। বিমানে প্রায় ১ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে।
  • পেনাং প্রাক্তন স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস-এর একটি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও অসাধারণ খাবারের জন্য বিখ্যাত। এর রাজধানী জর্জ টাউন একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। কোচে প্রায় ১২ ঘণ্টা বা বিমানে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় লাগে। চিকিৎসা ভ্রমণের জন্যও এটি জনপ্রিয়।
  • হংকং ব্যবসার কেন্দ্র এবং প্রায়ই সিঙ্গাপুরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হয়। বিমানে প্রায় ৩.৫ ঘণ্টার দূরত্বে, কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরবাসীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য।