এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > চট্টগ্রাম বিভাগ > বান্দরবান জেলা > আলীকদম উপজেলা > আলীর সুড়ঙ্গ

আলীর সুড়ঙ্গ

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই মাতামুহুরী-তৈন খাল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা দু‘পাহাড়ের চূঁড়ায় প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট আলীর গুহা বা আলীর সুড়ঙ্গ। ঝিরি থেকে দেড়শত ফুট উপরে এই গুহা। তবে প্রকৃতির অপরূহ এই গুহাকে ঘিরে রহস্যের শেষ নেই।

জানুন[সম্পাদনা]

আলীর সুড়ঙ্গ নামকরণের সঠিক কোনো তথ্য কারো জানা নেই। পাহাড়ি ঝিরি থেকে গুহায় উঠতে খুবই কষ্টকর। পাথর বেষ্টিত এই গুহায় কিছুদিন আগেও উঠতে হলে দড়ি বা পাহাড়ের লতা ধরে আস্তে আস্তে উঠতে হতো। পর্যটকদের এই সমস্যার সমাধানে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে তিনটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে পর্যটকদের আর কোনো সমস্যা পোহাতে হয় না। অনায়াসেই যেতে পারেন গুহার দর্শনে। দেখতে অনেকটা ভয়ংকর! পাহাড়ের মাঝখানে লম্বাকৃতির এই গুহাটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। তার পাশেই আরও দু‘টি গুহা রয়েছে। যাদের দৈর্ঘ্য প্রায় একই রকম। গুহার ভেতরে অন্ধকার! টচ লাইট বা আগুনের মশাল নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তবে সতর্কতা, গুহার ভেতরে রয়েছে ছোট বড় চাপা বাদুর রয়েছে। এই বাদুড় গুলো এদিক থেকে ওদিক উড়ে যাওয়ার সময় ভয় পেতে পারেন। তবে কারো কোনো ক্ষতি করে না এরা।

কিভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

আলীর সুড়ঙ্গ

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে আপনাকে প্রথমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে নামতে হবে। ঢাকা থেকে নন এসি বাস ভাড়া নিবে ৭৫০ টাকা। অথবা ট্রেনে চট্টগ্রাম গিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বাসে চকরিয়া যেতে পারেন। চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়া জন প্রতি বাস ভাড়া ১৭০ টাকা। চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল থেকে মাতামুহুরী পরিবহন সার্ভিসের বাস প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত আলীকদমের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আলীকদম থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.০০ শুরু করে বিকেল ৫.৩০ পর্যন্ত চকরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুই দিক থেকেই ৪০ মিনিট পর পর গাড়ি ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা। সময় লাগে ১ ঘন্টা ৪০ মিনিটের মতো। চকরিয়া থেকে আলীকদম চাঁদের গাড়িতে অর্থাৎ জীপে আসতে পারবেন। লোকাল ভাড়া জন প্রতি ৬৫ টাকা। রিজার্ভ ভাড়া এক পথ ১২০০-১৪০০ টাকার মত। বাসে গেলে দুই ঘণ্টা। আর চাঁদের গাড়িতে গেলে ৩০ মিনিট বা ৪০ মিনিট কম লাগবে।

আলীকদম বাস স্ট্যান্ড নেমে প্রথমে মংচুপ্রু পাড়ায় যেতে হবে। হেঁটে বা অটো করে যাওয়া যাবে এই ৩ কিঃমিঃ এর মত পথ। এই পাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টোয়াইন খাল। টোয়াইন খাল পার হয়েই আলীর সুড়ঙ্গ যেতে হবে। মংচুপ্রু পাড়া থেকে প্রথম গুহার কাছে যেতে ২০ মিনিটের মত সময় লাগবে।

কোথায় থাকবেন[সম্পাদনা]

আপনি ইচ্ছে করলে ঢাকা থেকে রাতের বাসে গিয়ে চকরিয়া নেমে এক দিনে আলীর সুড়ঙ্গ, রূপমুহুরী ঝর্ণা দেখে আবার রাতের বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারবেন। চট্টগ্রাম থেকেও একদিনে দেখে আসতে পারবেন। তারপরও যদি থাকতে হয়। আলীকদমে থাকার তেমন ভাল ব্যবস্থা নাই। জেলা পরিষদের একটি ডাক বাংলো আছে যার অবস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে স্বল্প দূরত্বে পান বাজারে ও ব্যক্তি মালিকানা একটি বোর্ডিং আছে যার অবস্থান আলীকদম বাজারে। বোর্ডিং এর মান তেমন ভাল না। ডাক বাংলোতে মোট ১০টি রুম আছে। ভাড়া– নীচ তলার ৫ টি প্রতিটি ৫০০ টাকা করে। দ্বিতীয় তলার ৫ টি প্রতিটি ১০০০ টাকা করে। জিয়া বোর্ডিং এ দুই বিছানার রুম ভাড়া- ৪৫০ টাকা।

জিয়া বোর্ডিং এ যোগাযোগঃ মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (০১৮৩১৫০৭২৯৩, ০১৮২৮৯৩৩৬৩৩, ০১৫৫৩৬০৩৯১৫)


তাছাড়া আলীকদম ভ্রমণ বিষয়ে জিঙ্গাসা এবং যেকোন সহযোগিতায় যে ব্যক্তিকে পাশে পাবেন। আরিফুল ইসলাম। আলীবাজার। 01829112426 00966507376592(Internationa)

কোথায় খাবেন[সম্পাদনা]

আলীকদমের খাবার হোটেল গুলো মাঝারি মানের। খুব বেশি কিছু আশা করা ভুল হবে।

গাইড[সম্পাদনা]

আলীর সুড়ঙ্গে আগে গিয়ে না থাকলে অবশ্যই গাইড নিবেন। গাইড হিসেবে ওদের নিতে পারেন। খুশি হয়ে যা দিবেন তাতেই ওরা খুশি। মোঃগফুর মিয়া- 01644212343 /01878524560 জাহিদুল ইসলাম-01835440420