ইন্দোনেশিয়া ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে বিষুবরেখার উভয় পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশাল সমাহার। এর ১৭,০০০ দ্বীপে বিস্তৃত অতিবৃষ্টি অরণ্য তথা রেইনফরেস্ট এর পর্যটন আকর্ষণকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কারণে ইন্দোনেশিয়াকে বিষুবরেখার পান্না বলে ডাকা হয়। ইন্দোনেশিয়ার সর্বাধিক পরিচিত পর্যটন গন্তব্য বালি। এর বাইরেও ৬ হাজার মনুষ্য বসবাসের উপযোগী দ্বীপগুলো পর্যটকদের অন্বেষণ করার জন্য বৈচিত্র্যময় সম্পদে ভরপুর।
ইন্দোনেশিয়া নিজেকে ওয়ান্ডারফুল ইন্দোনেশিয়া হিসাবে প্রচার করে এবং স্লোগানটি আসলেই বেশ সত্য। এখানে ৯০০টিরও বেশি উপজাতি ও ভাষা, নানানরকমের খাবারের সঙ্গে বহু সংস্কৃতির বৈচিত্র্য বিদ্যমান। সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ জাভার বাইরে এর মোহনীয় প্রকৃতি এবং বেশিরভাগ অঞ্চলের মানুষের বন্ধুত্ব আপনাকে এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে দিবে নাআ। বর্তমানে ইউরোপের কিছু প্রবীণ নাগরিক শীত এড়াতে ইন্দোনেশিয়ায় মাসের পর মাস অবস্থান করেন।
অঞ্চলসমূহ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া দেশটি প্রায় অকল্পনীয়ভাবে বিশাল: ১৭,৫০০ এরও বেশি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশটিতে ১,০৮,০০০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত বিদ্যমান। পশ্চিমে আচেহ এবং পূর্বে পাপুয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব ৪,৭০২ কিলোমিটার (২,৫০০ মাইল)। এটি নিউ ইয়র্ক সিটি এবং সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। রিং অফ ফায়ার বা অগ্নিবলয়ের পশ্চিম প্রান্তে ইন্দোনেশিয়ায় ৪০০ টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১২৯ টিকে সক্রিয় বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি অনেকগুলো সমুদ্রের নিমজ্জিত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। নিউ গিনি দ্বীপ (এই দ্বীপে সার্বভৌম রাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশ অবস্থিত) বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, বোর্নিও (প্রায় ২/৩ ইন্দোনেশীয়, বাকি মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের অন্তর্গত) তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ এবং সুমাত্রা (সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্গত) বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দ্বীপ।
ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণকারীরা সাধারণত ভ্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে বালি-কে মনে রাখে। কিন্তু এটি দুঃখজনক। কারণ বালির বাইরেও দেশজুড়ে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এটি এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত। বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ও অসংখ্য দ্বীপে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এটি কাছ থেকে অনুভব করার মতো।
৩৮টি প্রদেশের বেশিরভাগই অনেকগুলো ছোট দ্বীপ (পূর্ব ও পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, মালুকু) নিয়ে গঠিত, অথবা বড় কোনো দ্বীপ ও তার আশেপাশের দ্বীপগুলোকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছে (সুমাত্রা, কালিমানতান, জাভা, সুলাওয়েসি, পাপুয়া)। নিচের তালিকায় একাধিক প্রদেশকে এক অঞ্চলে ধরা হয়েছে; তবে বালি-কে আলাদা একটি অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়েছে, যেভাবে উইকিভয়েজে প্রচলিত।

| সুমাত্রা (রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ এবং বাংকা-বেলিতুং সহ) বুনো ও অগোছালো প্রকৃতির এই দ্বীপ বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম। প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, এখানে ৪ কোটি মানুষের বসবাস। বহু বিরল প্রাণীর আবাসস্থলও এটি । এখানে রয়েছে আচেহ, পালেমবাং, পাদাং, লামপুং ও মেদান। একইসাথে রয়েছে রঙিন টোবা হ্রদ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রবেশদ্বার বাতাম। |
| কালিমানতান (বোর্নিও) বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ বোর্নিওর অধিকাংশ অংশই কালিমানতান, বাকিটা মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের অন্তর্ভুক্ত। অচেনা অথচ দ্রুত হ্রাসমান যাওয়া বন, বিশাল নদী, আদিবাসী দায়াক জনগোষ্ঠী এবং অধিকাংশ ওরাংওটাংের আবাসস্থল হওয়ায় এটি অভিযাত্রীদের জন্য স্বর্গ। পন্টিয়ানাক, বানজারমাসিন, এবং বালিকপাপান দেশের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে নতুন রাজধানী নুসান্তারা তৈরি করা হয়েছে। এটি জাকার্তার পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী হয়েছে। |
| জাভা (কারিমুনজাওয়া, হাজার দ্বীপপুঞ্জ, এবং মাদুরা সহ) দেশের মূলভূমি। এই দ্বীপে প্রায় ৫০% মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে প্রাক্তন রাজধানী জাকার্তা, বান্দুং, সুরাবায়া, সেমারাং। দ্বীপটি খুব বড় নয়, তবুও এখানে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। যোগ্যকার্তা, সোলো, বোরোবুদুর ও প্রামবানানের মতো অসাধারণ সাংস্কৃতিক নিদর্শনও এখানেই। |
| বালি সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বালির অনন্য হিন্দু সংস্কৃতি, বিখ্যাত সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, পাহাড়ি অঞ্চল এবং জলের নিচের জীববৈচিত্র্য একে বিশ্বের ভ্রমণকারীদের জন্য চিরকালীন প্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। |
| সুলাওয়েসি (সেলেবেস) অদ্ভুত আকারের এই দ্বীপে রয়েছে বহু সমাজ ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য। তোরাজা সংস্কৃতি, লোরে লিন্ডু জাতীয় উদ্যানে মেগালিথিক সভ্যতা, সমৃদ্ধ উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ, এবং বিশ্বমানের ডাইভিং স্পট বুনাকেন ও বিতুং এখানেই। |
| নুসা টেঙ্গারা (এনটিটি এবং এনটিবি) এটি লেসার সুন্ডা আইল্যান্ডস নামেও পরিচিত — অর্থাৎ "দক্ষিণ-পূর্ব দ্বীপপুঞ্জ"। পূর্ব ও পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা ভাগে বিভক্ত। এখানে রয়েছে বহু জাতিগোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্ম। কমোডো টিকটিকি ও অসাধারণ ডাইভিং স্পটও রয়েছে। পশ্চিম অংশে রয়েছে লোম্বক, সুমবাওয়া ও বহু ছোট দ্বীপ। লোম্বক বালির তুলনায় কম জনপ্রিয় হলেও সমান আকর্ষণীয়, এখানে রয়েছে ডাইভিং স্পট, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান। পূর্ব অংশে রয়েছে ফ্লোরেস, সুম্বা ও পশ্চিম টিমরসহ আরও কয়েকটি দ্বীপ। এর মধ্যে কমোডো দ্বীপও আছে। এখানে কমোডো ড্রাগন পাওয়া যায়। সুম্বায় ছোট ছোট রাজ্য এখনো টিকে আছে। পূর্ব অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্প, বিশেষ করে বোনা কাপড়, আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী। অনেক সৈকতে অনন্য রঙের বালু, প্রবাল ও ঝিনুক ছড়িয়ে আছে। |
| মালুকু (মোলুক্কাস) ঐতিহাসিক স্পাইস আইল্যান্ডস। এটি একসময় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর মধ্যে লড়াইয়ের কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এখানে কম ভ্রমণকারী যায়, তবে আম্বন, টারনেট, বান্দা দ্বীপপুঞ্জ, কেই দ্বীপপুঞ্জ এবং মোরোটাই দ্বীপ সামুদ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনাময় স্থান। |
| পাপুয়া (ইরিয়ান জায়া) নিউ গিনির পশ্চিম অংশ। পাহাড়, বন, জলাভূমি আর অজেয় বন্যতার জন্য এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম জায়গাগুলোর একটি। ফ্রিপোর্ট এলাকায় সোনা ও তামার খনি বাদ দিলে, এটি এখনো দেশের সবচেয়ে অক্ষত এলাকা। বিজ্ঞানীরা এখানে বহু নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। |
শহর-নগর
[সম্পাদনা]- 1 জাকার্তা — চিরাচরিত যানজটে ভরা রাজধানী, একইসাথে দেশের সবচেয়ে বড় শহর
- 2 বানদুং — জাভার পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শহর
- 3 বাঞ্জারমাসিন — কালিমানতানেরসাংস্কৃতিক কেন্দ্র
- 4 জায়াপুরা — পাপুয়ার রাজধানী ও পাহাড়ি অঞ্চলের প্রবেশদ্বার
- 5 কুতা — সুন্দর সৈকত আর জমজমাট রাতের জীবনের জন্য বালি ভ্রমণের অন্যতম কারণ
- 6 মাকাসার (উজুং পাণ্ডাং) — সুলাওয়েসির প্রবেশদ্বার ও বিখ্যাত বুগিস নাবিকদের আবাসস্থল
- 7 মেদান — সুমাত্রার প্রধান শহর। এখানে বড় ইন্দোনেশীয়-চীনা জনগোষ্ঠী রয়েছে। এটি একইসাথে টোবা হ্রদ ও বাতাক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার
- 8 পালেমবাং — দক্ষিণ-পূর্ব সুমাত্রার বন্দর শহর, প্রাচীন শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী
- 9 ইউগিয়াকার্তা — মধ্য জাভার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, প্রামবানান ও বোরোবুদুর মন্দিরের প্রবেশদ্বার
অন্যান্য গন্তব্য
[সম্পাদনা]
নিচে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি প্রধান দর্শনীয় স্থানের তালিকা দেওয়া হলো।
- 10 বালিয়েম উপত্যকা — পাপুয়ার দুর্গম অঞ্চলে লানি, দানি ও ইয়ালি উপজাতির ভূমিতে অসাধারণ ট্রেকিং
- 11 বরোবুদুর — বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির, মধ্য জাভা প্রদেশে অবস্থিত। সাধারণত কাছাকাছি প্রামবানানের হিন্দু নিদর্শনের সাথে একসাথে ভ্রমণ করা হয়
- 12 ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যান — ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরির দৃশ্যাবলি ও সূর্যোদয় দেখার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা জায়গা
- 13 বুনাকেন দ্বীপ — ইন্দোনেশিয়ার সেরা স্কুবা ডাইভিং স্থানগুলোর একটি, অনেকের মতে বিশ্বসেরা
- 14 কেরিঞ্চি সেব্লাট জাতীয় উদ্যান — সুমাত্রার বিশাল বনে বাঘ, হাতি আর বিশাল র্যাফলেসিয়া ফুল
- 15 কমোডো জাতীয় উদ্যান — কমোডো ড্রাগনের আবাসস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র
- 16 টোবা হ্রদ — বিশ্বের সবচেয়ে বড় আগ্নেয় হ্রদ
- 17 লম্বক — বালির পূর্বে অবস্থিত জনপ্রিয় দ্বীপ। এখানে রয়েছে শান্ত গিলি দ্বীপপুঞ্জ ও বিশাল মাউন্ট রিঞ্জানি
- 18 তানা তোরাজা — দক্ষিণ সুলাওয়েসির পাহাড়ি অঞ্চল, ব্যতিক্রমী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য বিখ্যাত
অনুধাবন করুন
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে প্রায় ১৭,৫০০টি দ্বীপ, এর মধ্যে ৬,০০০ে মানুষ বসবাস করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপপুঞ্জ। পশ্চিম থেকে পূর্বে এর বিস্তৃতি প্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের সমান; তবে এর বিস্তৃতির দুই-তৃতীয়াংশই সমুদ্র।
২৬ কোটি মানুষের বসবাসে ইন্দোনেশিয়া ভারত, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশ। একইসাথে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ।
এর জনসংখ্যা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে সমানভাবে বিভক্ত নয়। জাভা, সুমাত্রা, সুলাওয়েসি, কালিমানতান ও পাপুয়ার মধ্যে জাভাতেই দেশের অর্ধেক মানুষ বসবাস করে। বিদেশি পর্যটকদের অর্ধেকের বেশি বালির বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। বাকিদের অধিকাংশ আসে জাকার্তার সুকার্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরি করে বাতাম দিয়ে। এই তিনটি পথ দিয়েই প্রায় ৯০% বিদেশি পর্যটক ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করে।
ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সুন্নি। দেশটি জি-২০-এর সদস্য। বিশ্ব নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা থাকলেও দুর্নীতি, শিক্ষার ঘাটতি, এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দেশটিকে পিছিয়ে রেখেছে।
ব্রাজিলের পরেই ইন্দোনেশিয়ার ক্রান্তীয় বনভূমি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবুও পাম চাষের জন্য এগুলো দ্রুত কেটে ফেলা হচ্ছে। দেশটিতে শহর ও রিসোর্টে ধনী শ্রেণি আনন্দে থাকলেও, দরিদ্ররা কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ৫০.৬% মানুষ প্রতিদিন চার ডলারের কম আয় করত। তবে ২০১৫ সালে দারিদ্র্যের হার কমে ৫.৫%-এ নেমে আসে। কারণ ২০১৪ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীলভাবে ৪-৬%। এটি আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সেরা প্রবৃদ্ধি। তবে দেশটিতে জন্মহার এখনও বেশি, বছরে প্রায় ২%। আগের সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বন্ধ করায় দারিদ্র্য হ্রাসের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। তবুও মোট প্রজনন হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এখন প্রতিটি নারী গড়ে ২.১ সন্তান জন্ম দেয়। এই জন্মহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশের থেকে সামান্য বেশি।
দেশের অনেক অঞ্চলে অবকাঠামো ব্যাপকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হলেও এখনো তা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। তাই প্রচলিত পথের বাইরে ভ্রমণকারীদের ধৈর্য্য ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। টোল মহাসড়কের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে অগ্রগতি হয়েছে বটে; তবে বেশিরভাগ আন্তঃনগর সড়ক এখনো মানে ভিন্নতাযুক্ত দুই লেনের। সেখানে বড় বড় বাস ও ট্রাক পণ্য ও মালামাল বহন করে ভিড় জমায়, আর সবাই মরিয়া হয়ে সামনের দিকে যেখানে কোনো প্রতিযোগিতাই নেই, সেখানে যেতে প্রতিযোগিতা করে। হয়তো দুর্বল সড়ক ব্যবস্থার প্রতিফলন হিসেবেই সস্তা এয়ারলাইন্সগুলো বছরে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত এখন সহজ হয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে যেমন বালি থেকে ম্যালাং হয়ে ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যান দেখা, তারপর জাকার্তাতে পর্যটন উপভোগ করা, আবার মেদানে গিয়ে টোবা হ্রদ দেখা, তারপর নিজ দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব। শহরে থাকলেও ভালো রাস্তা বা সহজপথে চলাফেরার আশা করা উচিত নয়। পুরোনো শহরগুলোর অনেক রাস্তা এখনো ডাচ আমলের। সেগুলো সরু, আঁকাবাঁকা এবং খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাস্তার নাম কয়েক কিলোমিটার পরপর বদলে যাওয়া, যাতে এক টুকরো রাস্তাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। পর্যটকদের জন্য এটি ভীষণ বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। রাস্তার সাইনবোর্ড থাকলেও, সেগুলো সংশ্লিষ্ট রাস্তার সাথে লম্বাভাবে বসানো থাকে। যদি জাভা আর বালি ছেড়ে যান; তবে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ। তীব্র যানজট সাধারণ একটি বিষয়, বিশেষ করে বৃহত্তর জাকার্তা এবং সুরাবায়াতে। সৌভাগ্যক্রমে পুরো ট্রান্সজাভা টোল রোড ডিসেম্বর ২০১৮ সালে কার্যকরভাবে চালু হয়েছে; এর দৈর্ঘ্য মেরাক থেকে সুরাবায়া পর্যন্ত ৯০০ কিমির বেশি। ট্রান্স সুমাত্রা টোল রোডেরও কয়েকটি অংশ কার্যকরভাবে চালু হয়েছে।
দেশের যেকোনো স্থানে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা একটি পূর্বশর্ত হওয়া উচিত। কারণ পরিস্থিতি হঠাৎ করেই বদলে যেতে পারে এবং সময়ানুবর্তিতা যদিও মূল্যায়িত হয়, তবু তা প্রায়ই অগ্রাধিকার পায় না। আপনি যদি এমন একজন হন যিনি সব কিছু পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় হিসেবে লেখা থাকবে বলে আশা করেন; তবে বড় এবং সুনামধন্য ভ্রমণ এজেন্সির ট্যুরই বিবেচনা করা উচিত। অন্যথায় কিছু “বাধার” মুখোমুখি হতেই হবে। সহনশীলতা, ধৈর্য্য এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে মেনে নেওয়া (সবসময় ভালো নাও হতে পারে) যেকোনো দর্শনার্থীর জন্যই প্রশংসনীয় গুণ।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় মানুষের বসতি স্থাপনের ইতিহাস বহু পুরোনো। জাভায়, বিশেষ করে সাংগিরান (বর্তমান সোলোর কাছে) থেকে Homo erectus-এর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এর বয়স প্রায় ১৮.১ লক্ষ বছর। ইন্দোনেশিয়ায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক মানব জীবাশ্ম হলো জাভা মানব। এটি ১৮৯১ সালে আবিষ্কৃত হয়। অনুমান করা হয় এটি র বয়স ১৬.৬ লক্ষ বছর। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ১৫০০ সালের মধ্যে অস্ট্রোনেশীয় অভিবাসীরা এ অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। এরা নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ। সমুদ্রযাত্রা ও কৃষিতে দক্ষ হওয়ায় তারা দ্রুতই প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রতিস্থাপন করে।
এরপর থেকেই দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু রাজ্য ও সভ্যতার উত্থান-পতন ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ৮ম শতকে সুমাত্রা, মালয় উপদ্বীপ ও সিঙ্গাপুরে রাজধানী পালেমবাং থেকে শাসনকারী বৌদ্ধ শ্রীবিজয় সাম্রাজ্য এবং হিন্দু মজাপাহিত সাম্রাজ্য। এর শাসনাধীন ছিল বর্তমান ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা, রাজধানী ছিল হিন্দু-বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ট্রোউলান। এ সময়ে বহু মন্দির নির্মিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত প্রম্বানন' ও 'বোরোবুদুর। ১৪শ শতকে আরব বণিকদের সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে জাভায় ইসলাম ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে মুসলিম সুলতানাত গড়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মালাক্কা সুলতানাত। এটি বর্তমান মালয়েশিয়ার মালাক্কা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও এর শাসনাধীন ছিল সুমাত্রা ও রিয়াও দ্বিপপুঞ্জের অংশবিশেষ।

প্রথম ইউরোপীয় যারা আসে (মার্কো পোলোর পর; তিনি ১২৯০-এর দশকে এখানে গিয়েছিলেন) তারা ছিল পর্তুগিজরা। তারা ১৫২২ সালে বর্তমান জাকার্তার কাছে একটি গুদাম নির্মাণের অনুমতি পায়, মসলার দ্বীপপুঞ্জ থেকে মসলা বাণিজ্য একচেটিয়া করার চেষ্টা চালানোর পর। কিন্তু ১৭শ শতকের শুরুতেই ডাচরা কার্যত দখল নিয়ে নেয়, এবং ১৬১৯ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ইংরেজ দুর্গ ধ্বংস করে জাভাতে তাদের দখল দৃঢ় করে। এটি ৩৫০ বছরের উপনিবেশ স্থাপনের পথ প্রশস্ত করে। এর মধ্যে ছিল বান্দা দ্বীপপুঞ্জে গণহত্যার অভিযান। সেখানে স্থানীয়রা ডাচ একচেটিয়া ভেঙে ইংরেজদের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল। ১৮২৪ সালে ডাচ ও ব্রিটিশদের মধ্যে অ্যাংলো-ডাচ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি ব্রিটিশ শাসনের সংক্ষিপ্ত সময়ের অবসান ঘটায় (যার সময় সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা স্ট্যামফোর্ড র্যাফেলস বোরোবুদুর ও প্রম্বানন]ের মতো অসাধারণ স্মৃতিস্তম্ভ পুনরাবিষ্কার করেছিলেন) এবং মালয় বিশ্বকে ডাচ ও ব্রিটিশ প্রভাব বলয়ে বিভক্ত করে। ডাচরা ব্রিটিশদের কাছে মালাক্কা ছেড়ে দেয়, আর ব্রিটিশরা তাদের সুমাত্রার উপনিবেশ, বিশেষ করে বেঙ্কুলেন (বেঙ্কুলু) ডাচদের কাছে ছেড়ে দেয়। এ বিভাজন রেখাই এখন মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সীমান্ত, এবং একটি ছোট অংশ সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সীমান্ত।

অন্য বেশিরভাগ উপনিবেশের মতোই, ইন্দোনেশিয়াকে শ্রমশক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯শ ও ২০শ শতকে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয় এবং কয়েকটি বিদ্রোহ ডাচরা দ্রুত দমন করে। অনেক নেতা গ্রেপ্তার ও নির্বাসিত হন, এবং স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যবহার করতে গিয়ে কিছু ডাচ ভীষণ নিষ্ঠুর ছিল; তবে ডাচরা অবকাঠামো, শিক্ষা এবং একটি জাতীয় ভাষা প্রবর্তন করেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানিরা অধিকাংশ দ্বীপ দখল করে এবং ডাচদের তুলনায় আরও নির্মম আচরণ করে, অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ করে। ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যৎ নেতা সুকর্ণো ও সুহার্তো জাপানি দখলদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন, বিনিময়ে তারা সামরিক ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ১৯৪৫ সালের আগস্টে, জাপান মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার পরও তারা এখনো ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। জাপানিরা ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডসে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়; তবে ডাচরা তৎক্ষণাৎ ফিরতে না পারায় তারা প্রশাসন চালিয়ে যেতে থাকে।
১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট সুকর্ণো ইন্দোনেশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে Proklamasi Kemerdekaan (স্বাধীনতার ঘোষণা) পাঠ করেন, এবং Panitia Persiapan Kemerdekaan Indonesia (ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা প্রস্তুতি কমিটি) অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়। ১৮ আগস্ট সংবিধান ঘোষিত হয় এবং সুকর্ণো প্রেসিডেন্ট ও মোহাম্মদ হাত্তা ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পিপিকেআই কেন্দ্রীয় জাতীয় কমিটিতে রূপান্তরিত হয়। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করে। ৩১ আগস্ট ১৯৪৫ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। তবে ডাচরা প্রথমে কয়েকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালায় উপনিবেশ ধরে রাখতে। সামরিক অচলাবস্থার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ডাচরা অবশেষে সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৪৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করে। তবে ডাচরা নিউগিনি দখল বজায় রাখে। এটি ১৯৬৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার অংশ হয়।
১৯৬৭ সালে একটি অভ্যুত্থানে সুকর্ণো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সুহার্তো ক্ষমতা দখল করেন। সুহার্তোর শাসনে দ্রুত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এলেও দেশজুড়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বাকস্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু হয়। তার আমলে ১৯৭৬ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুরে উপনিবেশে সেনা পাঠায় এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এটি ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটে ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসে। ১৯৯৮ সালের সহিংস অস্থিরতায় জাকার্তা-কেন্দ্রিক দাঙ্গা ও জাতিগত নিপীড়নে বহু চীনা বংশোদ্ভূত মানুষ আক্রান্ত হয়; লুটপাট, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর প্রকৃত সংখ্যা আজও অজানা। অনেক মামলার সমাধান হয়নি। পাশাপাশি আচেহের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং আমবোনে খ্রিস্টান-মুসলিম সংঘর্ষের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতাও পুনরায় শুরু হয়। রিফর্মাসির সময় সুহার্তোর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু হয়, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন, দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সুহার্তোর পতনের পর পূর্ব তিমুরে স্বাধীনতার গণভোট হয়। সেখানে বিপুল জনগোষ্ঠী স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়। যদিও ইন্দোনেশিয়ার সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সহিংসতা ঘটে, শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ফলাফল মেনে নেয় এবং ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর হাতে অঞ্চলটি ছেড়ে দেয়। এ ব্যবস্থা বহাল থাকে ২০০২ সাল পর্যন্ত। টিমর-লেস্তে বা পূর্ব তিমুর তখন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
বর্তমানে প্রতি ৫ বছরে অবাধ ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্রে নবীন হলেও বিশ্ব ইন্দোনেশিয়াকে এমন এক আদর্শ হিসেবে দেখে। এখানে গণতন্ত্র ও ধর্ম পাশাপাশি চলে। ২০২২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদো ঘোষণা করেন যে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে পূর্ব কালিমানতানে নির্মিতব্য নতুন শহর “নুসান্তারা”তে স্থানান্তরিত হবে। এটি বালিকপাপান শহরের কাছে অবস্থিত। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে জাকার্তার দীর্ঘস্থায়ী যানজট ও অবকাঠামোগত চাপ কমবে এবং জাভা ও দেশের অন্যান্য দ্বীপগুলোর মধ্যে উন্নয়নের বৈষম্য হ্রাস পাবে।
পুনর্গঠন
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ এবং জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। রিফরমাসির পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ফলে দেশটি বর্তমানে কঠিন সংস্কার ও পুনর্গঠনের একটি সময় অতিক্রম করছে। সুহার্তোর আমলের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক সরকারগুলোর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণের হার খুবই বেশি, আর শাসন ও প্রশাসনের ধরন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। সুহার্তো পতনের পর দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অনেক বেড়েছে এবং রাজনৈতিক সেন্সরশিপ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গণমাধ্যমসহ সাধারণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এখন আরও বেশি উন্মুক্ত বিতর্ক হয়। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একমাত্র দেশ যা বিশ্বশক্তিধর অর্থনীতির অভিজাত জোট জি-২০-এর সদস্য।
আইনি উদ্বেগ
[সম্পাদনা]বিদেশিদের রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়া রোধ করার জন্য এখানে আইন রয়েছে। আরেকটি আইন রাষ্ট্র-স্বীকৃত ধর্মগুলো (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, কনফুসীয় ও ইসলাম) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য নিষিদ্ধ করেছে, যাতে করে জাতীয় ঐক্য নষ্ট না হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুর্নীতি-বিরোধী আইন দুর্বল এবং সাধারণ আদালতে সাজাও প্রায়ই হালকা হয়। কমিসি পেমবেরান্তাসান কোরুপসি (দুর্নীতি দমন কমিশন) এই বিষয়ে কঠোর এবং তাদের নিজস্ব পুলিশ ও আদালত রয়েছে; তবে তারাও সমস্যায় পড়ছে। কেপিকে’র মামলা প্রায়ই জাকার্তা ও জাভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, অন্য দ্বীপের মামলাগুলো প্রায়ই অবহেলিত হয়। ফলে কালিমান্তানের মতো এলাকায় বেআইনি বন উজাড় ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালু থাকে।
তবুও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন দফতরের একগুঁয়ে দুর্নীতিবাজদের সাথেও আপনাকে হয়তো কখনও মোকাবিলা করতে হতে পারে; তবে ঘুষ বা অনৈতিক আবদারের প্রবণতা যেমন টাকা, আসবাবপত্র কিংবা অশ্লীল ভিডিওর দাবি অনেকটাই কমে এসেছে। কিছু ইমিগ্রেশন অফিসে সেবার মানও ভালো হয়েছে। মনে রাখা জরুরি, একবার ঘুষ দিলে তার পরিসর আরও বেড়ে যায়। তাই কখনো ঘুষ দেবেন না।
মানুষ
[সম্পাদনা]ভিন্নতা একতাই (ভিন্নেকা তুঙ্গাল ইকা) ৫০ বছর ধরে রাষ্ট্রের মূলমন্ত্র হলেও "ইন্দোনেশিয়া" ধারণাটি অনেকের কাছেই কৃত্রিম মনে হয়। দেশের মানুষ নানা জাতিগোষ্ঠী, গোত্র, উপজাতি এমনকি বর্ণে বিভক্ত। এর সঙ্গে ধর্মীয় পার্থক্য আরও জটিলতা তৈরি করে এবং ধনী-দরিদ্র বৈষম্য সমাজকে শ্রেণিভিত্তিক করে তোলে। সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী জাভানিজ (৪৫%) যারা মধ্য ও পূর্ব জাভাতে বসবাস করে এবং দেশজুড়ে প্রভাবশালী। এরপর রয়েছে পশ্চিম জাভার সুদানিজ (১৪%), মাদুরা দ্বীপের মাদুরান (৭.৫%), এবং সুমাত্রা দ্বীপের উপকূলীয় মালয় (৭.৫%)। বাকি ২৬% আচেহ ও মিনাংকাবাউ জনগোষ্ঠী (সুমাত্রা), বালির জনগণ, কালিমান্তানের ইবান ও দায়াক, এবং নুসা তেঙ্গারা ও পাপুয়ার অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। পাপুয়ার মোট জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা কমপক্ষে ৩,০০০। পাপুয়ার অরণ্যে এখনো পৃথিবীর শেষ অবধি অচেনা কিছু জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
বেশিরভাগ সময় ইন্দোনেশিয়ার নানান জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে; তবে কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতিগত দ্বন্দ্ব এখনো রয়েছে। ডাচদের আমল থেকে শুরু হওয়া এবং পরে সুহার্তো অব্যাহত রাখা স্থানান্তরনীতির (ট্রান্সমিগ্রাসি) ফলে জাভানিজ, বালিনিজ ও মাদুরান জনগণকে দ্বীপপুঞ্জের কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্বাসন করা হয়। নতুন আগতদের সুবিধাপ্রাপ্ত মনে করে স্থানীয়রা প্রায়ই ক্ষুব্ধ হতো, বিশেষ করে পাপুয়াতে। এটি কখনও কখনও সহিংসতার কারণ হয়েছে। তবে বর্তমানে এই ধরনের সংঘর্ষ তুলনামূলক বিরল।
দেশজুড়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি জাতিগোষ্ঠী হলো ইন্দোনেশীয় চীনা জনগোষ্ঠী। তাদের তিওংহোয়া বা কখনও অবমাননাকরভাবে চিনা বলা হয়। তাদের সংখ্যা প্রায় ৭ মিলিয়ন। এটি দেশের জনসংখ্যার ৩% এরও কম। তবে তারা কেবল থাই-চাইনিজদের পরেই চীনের বাইরে দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগত চীনা সম্প্রদায়। ডাচরা তাদের তখনকার উপনিবেশে বসতি স্থাপন করতে উৎসাহিত করেছিল। যদিও তখন তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হতো। ডাচরা চলে যাওয়ার পর অনেক ইন্দোনেশীয় চীনা দোকানদার বা মহাজন হিসেবে কাজ করে। তবে একটি ধনী অংশ স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব রাখে। একসময় বিতর্কিত এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, জাকার্তা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৭০% কোম্পানি জাতিগত চীনারা নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে তাদের জোরপূর্বক শহরে স্থানান্তর করা হয়, ইন্দোনেশীয় নাম নিতে বাধ্য করা হয়, চীনা ভাষা শিক্ষা ও অক্ষর প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৬৫–৬৬ সালে সুহার্তোর অভ্যুত্থানের সময় এবং আবার ১৯৯৮ সালে তার পতনের সময় চীনাবিরোধী সহিংসতা ঘটে। এখানে শুধু জাকার্তাতেই সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়। তবে রিফরমাসির পর সরকার বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করেছে এবং চীনা উৎসব ও ভাষা আবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০০৩ সাল থেকে চীনা নববর্ষ জাতীয় সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও কিছু মানুষের মধ্যে এখনো চীনাবিরোধী মনোভাব আছে, ইন্দোনেশীয় চীনারা বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য নাগরিকদের মতো সমান অধিকার ভোগ করছে। আজ জাভার অধিকাংশ চীনা ইন্দোনেশীয় ভাষায় কথা বলে; তবে সুমাত্রা ও কালিমান্তানের চীনা সম্প্রদায়গুলোতে এখনো হক্কা, হোক্কিয়েন ও তিওচিউসহ বিভিন্ন চীনা উপভাষা প্রচলিত।
সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]দেশটিতে একক কোনো "ইন্দোনেশীয় সংস্কৃতি" নেই। কারণ দেশটি অসংখ্য বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠী ও ভৌগোলিক পার্থক্যে ভরপুর। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে গেলেই ভিন্নতা টের পাওয়া যায়। সুমাত্রার ঐতিহ্যবাহী বাড়ির উঁচু ছাদ, বরনিওর লম্বা ঘর, বা বালির বাড়ির আঙিনায় একগুচ্ছ কাঠামো সবই আলাদা বৈশিষ্ট্যের।
ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রধান উৎস সুমাত্রা, জাভা, বালি ও লোম্বক দ্বীপ। মজাপাহিত রাজ্য এদের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সম্ভবত সবচেয়ে স্বতন্ত্র ইন্দোনেশীয় শিল্প হলো ওয়ায়াং কুলিত ছায়া পুতুল। এখানে সূক্ষ্মভাবে কাটা পুতুল দিয়ে মহাভারত ও রামায়ণের গল্প এবং অন্যান্য জনপ্রিয় হিন্দু লোকগল্প মঞ্চস্থ হয়। এর সঙ্গে থাকে গামেলান অর্কেস্ট্রা। এর জটিল ধাতব সুর ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিনোদন, সবকিছুর আবশ্যিক অংশ। বিশ্বখ্যাত বাটিক কাপড় ও কেরিস ছুরি মালয়দের সাথেও সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত। ইসলাম আসার পর আরবি সংস্কৃতিও প্রভাব ফেলেছে। একইভাবে বৌদ্ধ, পর্তুগিজ, ইংরেজ, জাপানি, চীনা এবং অবশ্যই ডাচদের প্রভাবও স্পষ্ট। এসব থেকে বহু শব্দ ইন্দোনেশীয় ভাষায় এসেছে, আবার জাতিগত ভাষাগুলোও ইন্দোনেশীয় ভাষায় প্রবাহিত হয়েছে; তবে সেগুলোর বিস্তার সীমিত।
ভাষা ও সংস্কৃতির মানিকরণও দ্রুত এগোচ্ছে। গ্রাম ও দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এখন অনেক এলাকায় কেবল স্থানীয় ভাষা নয়, ইন্দোনেশীয় ভাষাও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবু আঞ্চলিক সংস্কৃতি এখনো শক্তিশালী। ভ্রমণকারীদের জন্য এই বৈচিত্র্য চমৎকার এক অভিজ্ঞতা দেয়। যেমন ফ্লোরেস, বালি, সুন্দা, মিনাংকাবাউ এবং টোবা বাটাক অঞ্চলের সংস্কৃতি এক সফরেই দেখা সম্ভব।
একটি আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হলো পশ্চিম জাভা প্রদেশের বাদুই বসতিতে সুন্দানিজ সম্প্রদায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি তারা ডিওডোরেন্টও ব্যবহার করে না! তবে দর্শনার্থীদের কিছু নিয়ম মানতে হয়। সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য উবুদ, বালি শহরটি দারুণ গন্তব্য। তবে এত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে যে তালিকা করা প্রায় অসম্ভব।
সুহার্তোর সময় পশ্চিমা সঙ্গীত যেমন রক অ্যান্ড রোল নিষিদ্ধ ছিল। এটি পরে বাতিল হয়। এতে স্থানীয় সঙ্গীতের ধারা তৈরি হয়, যেমন দাংদুত। এটি ১৯৭০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। ২০০৩ সালে গায়িকা ইনুল দারাতিস্তার টেলিভিশনে প্রচারিত নৃত্যও বড় বিতর্ক তোলে। নতুন শতকে আধুনিক পপ সঙ্গীতও জনপ্রিয় হয়েছে, কিছু শিল্পী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন, বিশেষত মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইতে। আঙ্গগুন চিপ্তা সাসমি ফ্রান্সে খ্যাতি পান যখন তার গান লা নেজ ও সাহারা ১৯৯৭ সালের ইউরোপীয় চার্টে শীর্ষ হিট হয়। আরেকজন জনপ্রিয় শিল্পী অ্যাগনেস মনিকা, যিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সাথে গান গেয়েছেন।
ইন্দোনেশীয় চলচ্চিত্রও মানোন্নত হয়েছে। দাউন দি আতাস বান্টাল (১৯৯৮) এশিয়া প্যাসিফিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতে। ২০১১ সালে দ্য রেইড: রিডেম্পশন আন্তর্জাতিক প্রশংসা পায় এবং স্থানীয় শিল্পী ইকো উয়াইস হলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পান।

ইন্দোনেশীয় সাহিত্যও অভ্যন্তরীণভাবে সফল হয়েছে। প্রামুদিয়া অনন্ত তুরের রচনা দীর্ঘদিন নিজ দেশে নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু সুহার্তো-পরবর্তী সময়ে পুনরুজ্জীবন ঘটে। আয়ু উতামির সামান একদিকে বিক্রির রেকর্ড ভাঙে আবার ট্যাবুও ভেঙে দেয়। আন্দ্রেয়া হিরাতার লাস্কার পেলাঙ্গি (২০০৭) বই ও চলচ্চিত্র দুটোই ইন্দোনেশিয়া ও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
সম্ভবত সমগ্র দ্বীপপুঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো "সম্মান" বা "মুখরক্ষা"। এটি আসে সম্প্রীতির নীতি থেকে। সম্প্রীতিকে এত মূল্য দেওয়া হয় যে ধর্মীয়ভাবে মিথ্যা বলা নিষিদ্ধ হলেও কারও সম্মান রক্ষার জন্য তা গোপনে সহ্য করা হয়। বিদেশিদের কাছে এটি অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। সম্প্রীতির ধারণাই ওয়ায়াং কুলিত নাটকের মূলভিত্তি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রাজতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র এবং পরে গণতন্ত্রে রূপান্তরের ফলে এ মূল্যবোধ কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবুও এখানকার বিরোধ মীমাংসার ধরন বিদেশিদের কাছে অচেনা লাগতে পারে। এটি আপনার পরিচিত উপায়ে কাজ হবে না।
ধর্ম
[সম্পাদনা]এখানে প্রত্যাশা করা হয় যে মানুষের একটি ধর্ম থাকবে, বিশেষ করে যেহেতু পঞ্চশীলের ("পাঁচ নীতি") প্রথম নীতি হলো: Ketuhanan yang Maha Esa, এর আনুমানিক অর্থ দাঁড়ায় “শুধু একজন ঈশ্বর আছেন।” তাই কেউ আপনার ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরক্ত হবেন না। ব্যক্তিগতভাবে আপনি ধর্ম পালন করতে পারেন বা নাও করতে পারেন; তবে কোনো স্বীকৃত ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা অপছন্দনীয়। কারণ অনেক ইন্দোনেশীয় তাদের ধর্ম নিয়ে গর্ববোধ করে এবং বেশিরভাগই নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। আইনও এসবকে সুরক্ষা দেয়, তাই এরকম কিছু করলে আপনি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৮৮% মানুষ নিজেদের ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের প্রায় সবাই সুন্নি অনুসারী। সংখ্যার বিচারে ইসলাম ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় ধর্ম এবং দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। তবে ইন্দোনেশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, এবং স্বীকৃত সব ধর্মকেই অন্তত আইনের চোখে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে ধর্মীয় রীতি-নীতি ভিন্ন হলেও অন্য অনেক মুসলিম দেশের মতো কঠোর পোশাক বিধি এখানে সাধারণত নেই। বড় শহরগুলোতে হিজাব বা প্রকাশ্য ধর্মাচারণ খুব বেশি দেখা যায় না। তবে কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে আচেহ প্রদেশে, পরিস্থিতি অনেক কঠোর। এখানে আজান শোনা গেলেও মসজিদ চোখে না পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ প্রায়ই লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান দেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে কাজের গতি কিছুটা কমে আসে। কারণ পুরুষরা নামাজ পড়তে মসজিদে যায়।
যদিও ইসলাম প্রধান ধর্ম, তবুও হিন্দু, বৌদ্ধ বা প্রাণবাদী উৎস থেকে আসা অনেক লোককাহিনি ও রীতি-নীতি এখনো সযত্নে রক্ষা করা হয়।
অন্য পাঁচটি স্বীকৃত ধর্ম হলো প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান (৫%), রোমান ক্যাথলিক (৩%), হিন্দুধর্ম (২%), বৌদ্ধধর্ম (১%) এবং কনফুসীয় মতবাদ (১%)। হিন্দুরা বালি দ্বীপে কেন্দ্রীভূত, খ্রিস্টানরা মূলত উত্তর সুমাত্রা, মালুকু, জাভার কিছু অংশ, পাপুয়া, উত্তর সুলাওয়েসি, পূর্ব নুসা তেঙ্গারা এবং কালিমানতান অঞ্চলে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বৌদ্ধধর্ম প্রধানত চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত, যেমন মেদান এবং পন্টিয়ানাক শহরে। এছাড়াও অনেক মানুষ ঐতিহ্যবাহী প্রাণবাদী ধর্ম কেবলমাত্র পালন করে। আবার অনেক ইন্দোনেশীয় ইসলাম বা খ্রিস্টান ধর্মকে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাণবাদী বা হিন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়েছে। জাভায় এই মিশ্র বিশ্বাস ব্যবস্থা কেজাওয়েন নামে পরিচিত। এটি জনপ্রিয় হলেও কঠোর রক্ষণশীল মুসলমানরা একে নিন্দা করে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় আইনে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি নাগরিককে অবশ্যই নিজের ধর্ম ঘোষণা করতে হবে, এবং সেই ধর্মটি অবশ্যই রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ছয়টির একটি হতে হবে। ফলে অনেক বিকৃতি দেখা দেয়। যেমন, অনেক প্রাণবাদী নিজেদের সুবিধার জন্য সরকারি কাগজে মুসলিম, হিন্দু বা খ্রিস্টান পরিচয় দেন। মাঝে মাঝে উপাসনালয়ে (মসজিদ ও গির্জা) উগ্রপন্থীদের আক্রমণ হয়। মালুকু দ্বীপপুঞ্জে ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা ভালো; তবে এর জন্য ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।
নভেম্বর ২০১৭ থেকে সাংবিধানিক আদালত ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এখন এগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ করা যায়।
লোকবিশ্বাস
[সম্পাদনা]লোকবিশ্বাস তা স্থানীয় কিংবা বাইরের সংস্কৃতি থেকে আগত যা-ই হোক, সবই আজও জীবন্ত এবং ইন্দোনেশীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
দুকুন (ঝাড়ফুঁককারী, ওঝা, তান্ত্রিক বা শামান) এবং অলৌকিক শক্তি ব্যবহারকারীরা চিকিৎসা কিংবা কালো-সাদা জাদুর প্রয়োজনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি টিভিতে বাস্তবধর্মী শো হয়। এখানে মুসলিম ধর্মগুরু অদৃশ্য জিন-ভূতের সঙ্গে লড়াই করছেন, পরে এগুলো বোতলে বন্দী করা হয় এবং অন্য কোনো ধর্মগুরু চোখ বেঁধে তাদের ছবি এঁকে দেন।
অনেকের বিশ্বাস, কেরিস (ঢেউ খেলানো ব্লেডবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ছুরি। এটি উল্কাপিণ্ডের ধাতু দিয়ে তৈরি হয়) কিংবা বিশেষ আংটি। এখানে বিভিন্ন রকমের পাথর বসানো থাকে, সেগুলোতে সীমিত বুদ্ধি ও নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন আত্মারা বাস করে। এই মাখলুক হালুস (অদৃশ্য আত্মা) নির্দিষ্ট যত্নআত্তি পেলে ছুরি বা আংটিতে থাকে, না হলে ছেড়ে চলে যায়। নিয়মিত অনুষ্ঠান না করলে আত্মারা ক্ষিপ্ত হতে পারে এবং কাছাকাছি মানুষকে আক্রমণ করতে পারে, তখন ঝাড়ফুঁক বা বিশেষ ধর্মীয় আচার করতে হয়।
কিছু তান্ত্রিক বা চিকিৎসক হাতসাফাই কিংবা ভেলকিবাজিও ব্যবহার করে। আবার ইউরোপীয় ও চীনা কিছু কুসংস্কারও গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন—সংখ্যা ১৩-এর ভীতি। আরও একটি উদাহরণ হলো কেজাওয়েন প্রথা। এখানে শিশুর নাড়ি ও প্লাসেন্টা মাটির হাঁড়িতে ভরে কখনো বাড়ির চালে ঝুলিয়ে রাখা হয়, আবার কখনো উঠোনে পুঁতে তার ওপরে লাল বাতি রাখা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এটি নবজাতকের সঙ্গী এবং আলোটি তার আত্মার পথ দেখায় ও প্রতিবেশীদের জানায় নতুন শিশু জন্ম নিয়েছে। কখনো কান্নাকাটি করা শিশুকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় শান্ত করার জন্য, আবার মাঝে মাঝে সেখানে শিশুকে গোসলও করানো হয়।
ছুটি
[সম্পাদনা]|
রমজান
রমজান হল ইসলামি বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামি উপবাস সাওম পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।
আপনি যদি রমজানের সময় ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করার চিন্তা করে থাকেন, তবে রমজানে ভ্রমণ পড়ে দেখতে পারেন। |
বহুসাংস্কৃতিক ইন্দোনেশিয়া নানা ধর্মীয় উৎসব ও ছুটি পালন করে। তবে বেশিরভাগই নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ (যেমন বালির হিন্দু উৎসবগুলো)। তবে সব ইন্দোনেশীয় নাগরিক, ধর্ম নির্বিশেষে, নিম্নলিখিত সরকারি ছুটিগুলোতে একদিন ছুটি পেয়ে থাকেন:
- ১ জানুয়ারি: নিউ ইয়ার্স ডে (Tahun Baru Masehi)
- জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি কোনো একদিন: Tahun Baru Imlek (চীনা নববর্ষ)। মূলত চীনা অধ্যুষিত এলাকায় পালিত হয়।
- মার্চ মাসে একদিন: Nyepi (হিন্দু নববর্ষ)। এই দিনে বালিতে থাকা একেবারেই পরামর্শযোগ্য নয়। পুরো দ্বীপ বন্ধ থাকে। এমনকি বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরও বন্ধ থাকে। যারা উদযাপন করতে অনিচ্ছুক, তাদেরও বাইরে যাওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়।
- মার্চ বা এপ্রিলের একটি শুক্রবার: ওয়াফাত ইসা আল-মাসিহ (গুড ফ্রাইডে)। পূর্ব নুসা টেঙ্গারার ফ্লোরেস দ্বীপের ক্যাথলিক সম্প্রদায়গুলো পবিত্র বৃহস্পতিবার দ্য ওয়ে অফ দ্য ক্রস পরিচালনা করে, এটি দেখার মতো একটি আকর্ষণ।
- ১ মে: Hari Buruh Internasional (আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস)
- ১ জুন: হরি লাহিড় পঞ্চশীল (পঞ্চশীলা জন্মদিবস)। দেশের দার্শনিক ভিত্তির জন্ম উদযাপনের জন্য এটি একটি দেশপ্রেমিক উদযাপন।
- মে মাসের কোনো বৃহস্পতিবার: কেনাইকান ঈসা আল-মাসিহ (যিশুর উর্দ্ধারোহণ দিবস)
- মে বা জুনের কোনো একদিন: Waisak (বুদ্ধ পূর্ণিমা)। কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু বিখ্যাত বোরোবুদুর মন্দিরে তীর্থযাত্রা করেন।
- ১৭ আগস্ট: Hari Kemerdekaan (স্বাধীনতা দিবস)। বাড়িঘর ও সম্প্রদায়ে পতাকা উত্তোলন হয়, হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আসর।
- ২৫ ডিসেম্বর: Hari Natal (বড়দিন)।
মুসলিম ছুটিগুলো প্রতিবছর ১১ দিন আগে চলে আসে:
- Tahun Baru Hijriyah (হিজরি নববর্ষ)
- Maulid Nabi (নবি মুহাম্মদের জন্মদিন)
- Isra Miraj (নবি মুহাম্মদের মেরাজ)
- Idul Fitri (রমজান শেষে ঈদুল ফিতর, ২ দিনের ছুটি)
কিছু ছুটির আগে বা পরে অতিরিক্ত ব্যাংক ছুটিও ঘোষণা করা হয়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের সময়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো হলো মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এই ৩০ দিনের চান্দ্র মাসে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছু মুখে নেয় না—খাবার, পানি, ধূমপান, এমনকি ওষুধও নয়। লোকেরা ভোরে পর্যাপ্ত খাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে সেহরি (সাহুর) খেয়ে নেয়, দেরিতে কাজে যায়, বিকেলে আগে আগে বাড়ি ফেরে ইফতার (বুকা পুয়াসা) করে। সাধারণত ইফতার মিষ্টি কিছু দিয়ে শুরু হয়, তারপর পূর্ণ খাবার, আবার রাত পর্যন্ত নাস্তা চলে। তত্ত্ব অনুযায়ী, এই সময়ে অতিভোজন করা উচিত নয়। কারণ রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো অনাহারে গরিবদের কষ্ট বোঝা। তবে বাস্তবে অনেকেই তা মানে না। অসুস্থ, ভ্রমণরত, ঋতুস্রাবরত বা কঠিন শ্রমে নিয়োজিত মুসলিমদের রোজা রাখার ব্যাপারে ছাড় রয়েছে। তবে তাদেরও প্রকাশ্যে খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকা এখানকার সাধারণ ভদ্রতা। অমুসলিমদেরও এসময় দিনের প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া না করা উচিত। রেস্টুরেন্ট অনেক সময় বন্ধ থাকে, খোলা থাকলেও জানালায় পর্দা টানানো হয়। ধর্মীয় বিষয়ে কঠোর এলাকায় ইফতারের আগে এসব পুরোপুরি বন্ধ থাকে। । বার, নাইটক্লাব, কারাওকে এবং ম্যাসেজ পার্লার সহ সমস্ত ধরণের রাতের বিনোদন সাধারণত মধ্যরাতের আগে বন্ধ হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ পুরো রমজানই মাস জুড়ে বন্ধ রাখতে পছন্দ করে। এসময় ব্যবসায়িক কাজও আরও ধীর হয়ে পড়ে। মাসের শেষদিকে অনেকেই ছুটি নেয়। রমজান মাসে যদি ইন্দোনেশীয়দের সঙ্গে থাকেন; তবে আপনি যদি তাদের সামনে খাবার খেলে বা পানীয় পান করলে তারা ভদ্রতার খাতিরে কিছু না বললেও, আপনার উচিত অন্তত অনুমতি চাওয়া। আপনাকে প্রকাশ্যে স্পষ্টভাবে উত্সাহিত না করা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলা উত্তম।
মাস শেষে আসে ঈদুল ফিতর (ইন্দোনেশীয়: লেবারান) দুই দিনব্যাপী উৎসব। এসময় প্রায় সবাই নিজ গ্রামে ফেরে। এই কাজকে বলা হয় মুদিক। এসময় জাকার্তায় যানজট থাকে না; তবে দেশের বাকি অংশে ভয়াবহ জ্যাম হয়। পরিবহন ব্যবস্থা হিমশিম খায়, ভ্রমণের সময় তিনগুণ লম্বা হতে পারে। সরকারি অফিস, দূতাবাস, এমনকি অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এক-দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকে। তাই এই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করা এড়িয়ে চলাই ভালো।
জলবায়ু
[সম্পাদনা]বিমান থেকে নেমেই আপনার মনে হবে যেন হঠাৎ উষ্ণ আর স্যাঁতসেঁতে বাতাসে ঢেকে গেছেন। ইন্দোনেশিয়া উষ্ণ আবহাওয়ার দেশ। এখানে বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ বা শীত নেই। কেবল দুটো ঋতু আছে—বর্ষা আর গ্রীষ্মকাল। তবে দুটোই আপেক্ষিক, কারণ গ্রীষ্মকালেও কিছু বৃষ্টি হয়, শুধু তুলনায় কম হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় তারতম্য আছে; তবে অধিকাংশ জায়গায় (যেমন জাভা আর বালি) গ্রীষ্মকাল এপ্রিল থেকে অক্টোবর, আর বর্ষাকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। অনেক এলাকায় বৃষ্টি সময়মতো হয়, যেন ঘড়ির মতো নিয়মিত। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখন তা অনেকটা অপ্রত্যাশিত হয়ে গেছে। বর্ষাকালের একটি সুবিধা হলো বৃষ্টির কারণে মশার আস্তানা পরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে এই সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। প্রবল বর্ষণ স্থানীয়ভাবে দেখা যায়; তবে দেশটি সচরাচর টাইফুনে আক্রান্ত হয় না।
গ্রীষ্মকালে জাভা সহ আরও কিছু দ্বীপে খরার সমস্যা হয়, আর পানির সংকট দেখা দেয়। তবে বোতলজাত পানি গ্রামাঞ্চলেও সহজলভ্য। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে, সাধারণত জুন, জুলাই ও আগস্টে, সুমাত্রা আর কালিমান্তানের বড় অংশ জুড়ে ঝোপঝাড় বা বন অগ্নিকাণ্ডের কারণে ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এমনকি কোনো কোনো সময় এক–দুদিনের জন্য বিমানবন্দরও বন্ধ রাখতে হয়। আবার। এখানে শুষ্ক আবহাওয়া থাকে, অন্য কোথাও তখনও ভেজা থাকতে পারে।
দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে দিনের বেলা তাপমাত্রা প্রায় ২৬–৩২ °সে (৮০–৯০ °ফা), আর প্রতিদিনই প্রায় একই রকম থাকে। রাতের বেলায় কয়েক ডিগ্রি ঠান্ডা হয়। নিরক্ষরেখার দক্ষিণের গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ গোলার্ধের ঠান্ডার প্রভাবে আবহাওয়া তুলনায় শীতল লাগে, যদিও খুব বেশি পার্থক্য চোখে পড়ে না। পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে জ্যাকেট নেওয়া ভালো, কারণ সেখানকার আবহাওয়া স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা। পাপুয়া-তে ৫,০০০ মি (১৬,০০০ ফু) মিটারের ওপরে কয়েকটি বরফ-ঢাকা শৃঙ্গও আছে। মজার ব্যাপার হলো, সামান্য তাপমাত্রা নেমে গেলেই মানুষ টুপি, দস্তানা, জ্যাকেট বা এমনকি শীতের কোট পরে ফেলে, বিশেষত মোটরসাইকেল চালানোর সময়। তবে প্রায়ই এগুলো গায়ের রঙ কালো হয়ে যাওয়া এড়ানোর জন্যও ব্যবহার করা হয়।
সময়
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়া পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়ায় দেশটিকে তিনটি সময় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থানের কারণে বছরের সব সময় দিন-রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে, তাই এখানে ডে-লাইট সেভিং টাইম নেই।
- UTC+7 পশ্চিম ইন্দোনেশিয়া সময় (WIB, ওয়াকতু ইন্দোনেশিয়া বারাত): সুমাত্রা, জাভা, পশ্চিম/মধ্য কালিমান্তান
- UTC+8 মধ্য ইন্দোনেশিয়া সময় (WITA, ওয়াকতু ইন্দোনেশিয়া টেংগাহ): বালি, দক্ষিণ/পূর্ব/উত্তর কালিমান্তান, সুলাওয়েসি, নুসা তেঙ্গারা
- UTC+9 পূর্ব ইন্দোনেশিয়া সময় (WIT, ওয়াকতু ইন্দোনেশিয়া তিমুর): মালুকু, পাপুয়া
পর্যটন তথ্য
[সম্পাদনা]- ইন্দোনেশিয়া ট্রাভেল ওয়েবসাইট
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কিত প্রসঙ্গ ইন্দোনেশিয়া বিষয়শ্রেণীটি পাওয়া যায়নি |
আলাপ
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: ইন্দোনেশীয় ফ্রেজবুক
দেশটিত একমাত্র সরকারি ভাষা হলো ইন্দোনেশীয়। স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় বাহাসা ইন্দোনেশিয়া (শুধু বাহাসা নয়, কারণ বাহাসা মানে কেবল "ভাষা")। এটি মালয় ভাষার সঙ্গে প্রায় একই (যা মালয়েশিয়া, ব্রুনাই আর সিঙ্গাপুর-এ প্রচলিত)। ফলে দুই ভাষাভাষী সাধারণত একে অপরকে বুঝতে পারে। মূল পার্থক্য হলো কৃতঋণ শব্দে: মালয়ে ইংরেজির প্রভাব বেশি, আর ইন্দোনেশীয়তে ডাচ ভাষার প্রভাব। দুটোই লাতিন অক্ষরে লেখা হয় এবং ব্যাকরণ তুলনামূলক সহজ। ইংরেজিভাষীদের জন্য এটি শেখার সবচেয়ে সহজ এশীয় ভাষাগুলোর একটি ধরা হয়। এর বানান নিয়মিত, অর্থাৎ যেভাবে বানান লেখা হয়, সেভাবেই উচ্চারণ করা হয়। উচ্চারণও সহজ, বিশেষ করে জাপানি (শুধু ‘L’ বাদে), ইতালীয়, স্প্যানিশ বা কিছুটা তাগালগ ভাষাভাষীর জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক ভাষার মতো নয়, ইন্দোনেশীয় ভাষা টোনাল নয়। তবে অন্যান্য এশীয় ভাষার মতো এখানে সর্বনাম ব্যবহারে বাংলার তুমি-তুই-আপনির মতো ভদ্রতার জটিল নিয়ম আছে (বিস্তারিত দেখুন সম্মান)।
যদিও ইন্দোনেশীয় ভাষা পুরো দ্বীপপুঞ্জের সরকারি ভাষা এবং প্রায় সব ইন্দোনেশিয়ান এটি বলতে পারে, তবু ৮০% এরও বেশি মানুষের নিজস্ব জাতিগত ভাষা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জাভানি আর সুন্দানি। এগুলোও ইন্দোনেশীয়র মতো অস্ট্রোনেশীয় ভাষা পরিবারভুক্ত। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া আর প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক দ্বীপের ভাষাও এই পরিবারভুক্ত। এদের শেখার জটিলতা প্রায় সমান; তবে শিখন উপকরণ কম পাওয়া যায়। এসব ভাষার কিছু শব্দ ইন্দোনেশীয় ভাষায়ও ব্যবহৃত হয়। তাই এগুলো শেখা শুরু করার জন্য ইন্দোনেশীয় ভালো ভিত্তি হতে পারে। যদি কোনো কম প্রচলিত অঞ্চলে যান; তবে স্থানীয় ভাষায় কয়েকটি শব্দ শেখা ভালো, এতে মানুষ আপনাকে আপন করে নেবে। কিছু জাতিগত চীনা সম্প্রদায় এখনো বিভিন্ন চীনা উপভাষায় কথা বলে, যেমন হোক্কিয়েন ভাষা মেদান-এ, আর তিওচিউ ভাষা পন্টিয়ানাক-এ।
চলতি ও কথ্য ইন্দোনেশীয় ভাষায় সময়, কাল, অব্যয় আর সহায়ক ক্রিয়া বাদ পড়ে। কোনো বাক্য এক থেকে তিনটি শব্দেই শেষ হতে পারে। এতে অস্পষ্টতা তৈরি হয়, ফলে অনেক সময় অতিরিক্ত প্রশ্ন করতে হয়—ঘটনা অতীতে হয়েছে কি না, এখন হচ্ছে কি না বা ভবিষ্যতে হবে কি না বোঝা কঠিন হয়। আবার স্থানীয় উপভাষার শব্দ মিশে যাওয়ায় আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইংরেজি বলার সময়ও এই প্রবণতা থেকে যায়, কারণ তারা তাদের স্ল্যাং ইংরেজিতে অনুবাদ করে বলে। তাই একই সমস্যা বা তার চেয়েও খারাপ হতে পারে।
ইংরেজি ভাষীদের জন্য এখানে ভাষাগত সুবিধা পাশের দেশ মালয়েশিয়া বা ফিলিপাইনের মতো নয়। ইন্দোনেশিয়া কখনো ব্রিটিশ উপনিবেশ না হওয়ায় এখানে ইংরেজি সাধারণভাবে প্রচলিত নয়। বড় হোটেল বা এয়ারলাইনের কর্মীরা ভালো ইংরেজি বলতে পারে, পর্যটন এলাকা আর ব্যবসায়ী মহলেও ইংরেজি বেশি ব্যবহৃত হয়। স্কুলে ইংরেজি বাধ্যতামূলক বিদেশি ভাষা হলেও সাধারণ মানুষের দক্ষতা প্রাথমিক থেকে মাঝারি স্তরের।
কিছু শিক্ষিত বয়োজ্যেষ্ঠ ডাচ ভাষা জানেন; তবে বর্তমানে ইংরেজিই অনেক বেশি কার্যকর। আরবি খুব বেশি প্রচলিত নয়; তবে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা অনেক শিক্ষিত মুসলমান আরবি কিছুটা বোঝেন। আর ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনেক আরবি ঋণশব্দ আছে।
প্রবেশ
[সম্পাদনা]| ভিসা-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ:
আফগানিস্তান, গিনি, উত্তর কোরিয়া, ক্যামেরুন, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া এবং ইসরায়েলের নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার আগে ইন্দোনেশিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। প্রক্রিয়াটি ১–৩ মাস সময় নিতে পারে। | |
| (তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ডিসে ২০১২) |
ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন ধরনের ভিসা দেয় তাদের সরকারি ই-ভিসা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। সবচেয়ে সহজ হলো ৩০ দিনের ইলেকট্রনিক ভিসা অন অ্যারাইভাল / B1 ট্যুরিস্ট ভিসা[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]। পাসপোর্টের তথ্য, ইন্দোনেশিয়ায় থাকার ঠিকানা আর আউটবাউন্ড পরিবহনের (যেমন বিমান টিকিট। এটি পরে বাতিল করা যেতে পারে) পিডিএফ জমা দিলে কয়েক মিনিটেই এটি অনুমোদিত হয়। ভিসা অ্যাপ্লিকেশন উইজার্ড প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে। কেবলমাত্র "ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড" বেছে নিতে ভুলবেন না। ৩০ দিনের ভিসার ফি ৫,০০,০০০ আইডিআর এবং এটি আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানো যায়। আরেকটি ৬০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা (C1, 211A নামেও পরিচিত) আছে। এটি ৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়। এর খরচ ১৫,০০,০০০ আইডিআর এবং এটি দু’বার বাড়ানো যায়, সর্বমোট ১৮০ দিনের জন্য।
বিকল্পভাবে, আগমনের সময় বিমানবন্দরে ভিসা নেওয়া যায়। তবে লাইনের কারণে সময় বেশি লাগে। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং অন্তত একটি খালি পৃষ্ঠা থাকা চাই। দেশে থাকা অবস্থায় ভিসা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে, বালি, জাকার্তা আর সুরাবায়ায় নামা ভ্রমণকারীদের অল ইন্দোনেশিয়া অ্যারাইভাল কার্ড পূরণ করতে হবে। ওয়েবসাইটটি ফ্লাইটের ৭২ ঘণ্টা আগে খোলে। এটি আগের কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য ফর্মের বিকল্প। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে এটি সারা দেশে চালু হবে।
অনলাইনে ভিসা নিয়ে এলে আর হাতে পাসপোর্ট থাকলে পর্যটকরা নির্দিষ্ট প্রবেশপথে (যেমন বালির দেনপাসার বিমানবন্দর) অটো-গেট ব্যবহার করে কোনো ইমিগ্রেশন অফিসারের সঙ্গে কথা না বলেই কয়েক মিনিটেই প্রবেশ করতে পারবেন।
দেশে কাটানো দিনের হিসাব প্রবেশের দিন থেকেই শুরু হয়। অর্থাৎ প্রবেশের দিনকেই ১ম দিন ধরা হয়, ০ তম দিন নয়। যদি রাত টেমপ্লেট:Time-তে আসেন; তবে সেটিই দিন ১। আবার যদি টেমপ্লেট:Time-এ ঢোকেন; তবে এক মিনিট পরই দিন ২ হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, ১ জানুয়ারি ৩০ দিনের ভিসা পেলে, সর্বোচ্চ ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। আপনার পাসপোর্টে লাগানো স্টিকারে নির্দিষ্ট তারিখ লেখা থাকবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ হলে প্রতিদিন Rp১০,০০,০০০ জরিমানা (সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত) দিতে হবে। ৬০ দিনের বেশি সময় থাকা হলে আটক, জরিমানা আর বহিষ্কারের ঝুঁকি আছে। তাই ভিসা বাড়ানোর বিকল্প হিসেবে এটি ভাবা উচিত নয়।
ইন্দোনেশিয়ায় কাস্টমস বেশ শিথিল। ১ লিটার মদ, ২০০ সিগারেট বা ৫০ সিগার বা ১০০ গ্রাম তামাকজাত দ্রব্য এবং যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ পারফিউম আনা যায়। ১০ কোটি রুপিয়ার বেশি নগদ অর্থ বা সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা আনলে বা নিলে ঘোষণা করতে হয়। মাদক, অস্ত্র, পর্নোগ্রাফি, ফল, গাছপালা, মাংস বা মাছ আনা নিষিদ্ধ। মাদক বহনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মাদকযুক্ত ওষুধ থাকলে বিশেষ ফর্মে ঘোষণা করতে হয়। আপনার লাগেজ এক্স-রে মেশিনে পরীক্ষা হবে, প্রয়োজনে শুঁকনো কুকুরও ব্যবহার করা হবে।
একই ধরনের জিনিসপত্রের মূল্য ১,০০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি হলে আমদানি শুল্ক দিতে হয়।
ভিসা
[সম্পাদনা]আরও তথ্যের জন্য, কোন কোন দেশ ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পায় এবং কোন প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করা যায় তা দেখতে ভিসা ও ইমিগ্রেশন নীতি দেখুন। এটি ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া।
ভিসা মওকুফ আর আগমনী ভিসা
[সম্পাদনা]
সব আসিয়ান দেশ আর তিমুর-লেস্তের নাগরিকরা যদি অবকাশ, ট্রানজিট বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসেন তবে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকতে পারবেন। তবে এই ভিসা মওকুফ বাড়ানো, পরিবর্তন বা অন্য কোনো ভিসায় রূপান্তর করা যাবে না, আর এটি দিয়ে কাজ করার অনুমতিও নেই। তারা যেকোনো সরকারি প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে পারবেন।
আরও ৭৭টি দেশের ভ্রমণকারী বা যারা ৩০ দিনের বেশি থাকতে চান, তারা আগমনী ভিসা (VOA) কিনতে পারেন। এর ফি Rp ৫,০০,০০০ (প্রায় ৩৩ মার্কিন ডলার), কেবল নগদে (স্থানীয় মুদ্রা, মার্কিন ডলার বা ইউরো) দিতে হয়। এই ভিসা ৩০ দিনের জন্য বৈধ এবং একবার আরও ৩০ দিনের জন্য অনলাইনে সহজেই বাড়ানো যায়। তবে তারা কেবল নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে পারবেন। অন্য প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে হলে আগে থেকেই ভিসা নিতে হবে।
অন্য সবাইকে আগে থেকেই ভিসা নিতে হবে।
ভিসার জন্য আবেদন
[সম্পাদনা]উপরে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা ছাড়াও ৬০ ও ১৮০ দিনের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা পাওয়া যায়।
অনলাইন ভিসা ভিসার জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার এবং একটি ২০০.০০০ রুপিয়া প্রসেসিং ফি পাওয়া যায়। স্পন্সরের মাধ্যমে আবেদন করলে তাদের অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আবেদনটি অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কিনা তার সিদ্ধান্ত স্পনসর এবং আবেদনকারী উভয়কেই ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াটির জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় দিন। অনুমোদিত হলে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার ক্যারিয়ারকে দেখানোর জন্য ই-ভিসা মুদ্রণ করতে হবে।
কেবল একবার প্রবেশযোগ্য ভিসা সাধারণত ৬০ দিনের জন্য বৈধ থাকে এবং পৃথক দেশ ও বিদ্যমান বিনিময় হারের উপর নির্ভর করে ৫০-১০০ মার্কিন ডলারে মূল্যবান হলে মোটামুটি স্বাভাবিক। একাধিক এন্ট্রি ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে উপলব্ধ। তবে ইস্যু নীতি বিভিন্ন দূতাবাসে ভিন্ন। পাশাপাশি এটি মাঝে মাঝে পরিবর্তিত হয়। তাই প্রস্থানের আগে আপনি যে কনস্যুলেটটি ব্যবহার করবেন বলে আশা করছেন সেখানে অনুসন্ধান করা ভাল। সাধারণত ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো প্রক্রিয়াকরণের জন্য ৩-৪ সুস্পষ্ট কার্যদিবস নির্ধারণ করে। তবে এতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ওয়েবসাইটগুলো প্রায়ই আপডেট হয় না বলে সেগুলো ভুল তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
এই দেশগুলোর নাগরিকদের জাকার্তায় ইমিগ্রেশন সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় ডাইরেক্টোরেট জেন্ডারাল ইমিগ্রাসি (অভিবাসন মহাপরিচালক) থেকে অনুমোদন নিতে হবে: আফগানিস্তান, ইস্রায়েল, আলবেনিয়া, উত্তর কোরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, সোমালিয়া, কিউবা, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, ঘানা, টোঙ্গা এবং ইরাক। এই দেশগুলোর নাগরিকদের অবশ্যই ইন্দোনেশিয়ায় ব্যক্তিগত বা কোনও সংস্থার স্পনসর থাকতে হবে। স্পনসরকে ব্যক্তিগতভাবে দক্ষিণ জাকার্তার ইমিগ্রেশন প্রধান কার্যালয়ে (জাকার্তা সেলাতান) যেতে হবে এবং আবেদনকারীর পাসপোর্টের একটি ফটোকপি, একটি সমর্থনকারী চিঠি এবং আবেদনকারীর ছবি দেখাতে হবে। এটি অনুমোদন পেলে ইমিগ্রেশন হেড অফিস অনুমোদনপত্রের একটি অনুলিপি আবেদনকারীর কাছে পাঠাবে।
ইন্দোনেশিয়ায় আগত ব্যক্তিদের জন্য প্রাক-অনুমোদিত বৈচিত্র্যের বিভিন্ন ধরণের ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, শিক্ষার্থী, কাজ এবং পর্যটক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যবসায়িক ভিসা শুধুমাত্র এমন কাজের অনুমতি দেয় যা অর্থ প্রদান করে না (যেমন গ্রাহকদের কাছে বিক্রয়ের জন্য দেখানো)। অন্যটি হলো ওয়ার্ক ভিসা। একমাত্র এই ভিসাই পূর্ণ কর্মসংস্থানের অনুমতি দেয়। এটি ১ বা ৫ বছরের জন্য হয়ে থাকে। জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্ক পারমিটের সাথে এটি সম্পর্কিত। বেশিরভাগ অন্যান্য ধরণের ভিসা কোনও ধরণের কাজ করার অনুমতি দেয় না। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী কাজও এর অন্তর্ভূক্ত। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক ভিসা। আপনি যদি নিশ্চিত না হন তবে স্থানীয় জনশক্তি ও ট্রান্সমাইগ্রেশন বিভাগকে (ডিসনাকারট্রান্স) জিজ্ঞাসা করুন, না: আপনার নিয়োগকর্তা, আপনার নথি পরিচালনাকারী এজেন্ট, বা ইমিগ্রেশন। কারণ অনেক নিয়োগকর্তা ও এজেন্ট আইন সম্পর্কে অজ্ঞ বা আপনাকে ধোঁকা দিতে এই সম্পর্কে মিথ্যা বলতে ইচ্ছুক। ইমিগ্রেশনের কর্মসংস্থানের উপর তাদের কোনও কর্তৃত্ব নেই। বেশিরভাগ দেশের মতো, এখানেও শিক্ষার্থীদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না।
যদি আপনার কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হয় (উদা: যেহেতু কোম্পানীর এখনও কাজ করার লাইসেন্স নেই, অথবা বিদেশীদের নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে যথাযথ কাগজপত্র এবং অনুরোধ জমা দেয়নি), আপনার নিয়োগকর্তা জনশক্তি মন্ত্রণালয় থেকে স্টপগ্যাপ হিসাবে একটি অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটের জন্য অনুরোধ করতে পারেন। এটি একটি চিঠি যা আপনার একটি ফটোকপি কপি থাকা উচিত।
কাস্টমস
[সম্পাদনা]আপনি আপনার জিনিসপত্র ঘোষণা করুন বা না করুন, সমস্ত আগত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের তাদের হাতের লাগেজ সহ লাগেজ স্ক্রিনিং করা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি পরিবারকে একটি কাস্টমস ঘোষণা ফর্ম পূরণ করতে হবে। তাদের লাগেজ স্ক্রিনিংয়ের আগেই কাস্টমসের কাছে তা সমর্পন করতে হবে।
খাদ্যদ্রব্য, বিশেষ করে কাঁচা ফল, যেমন শাকসবজি এবং কৃষিজাত পণ্য থাকলেও তা ঘোষণা করতে হবে। সেগুলোকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার সাধারণত বাইরে যেতে দেওয়া হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা সাধারণত আপনাকে জানাবেন যে কোনও পণ্যের শুল্ক দিতে হবে কিনা অথবা আপনার খাবার কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে কিনা।
আপনার ব্যক্তিগত জিনিসগুলো ছাড়াও যেসব জিনিস আপনার সাথে দেশে ফেরত যাবে, সেগুলোর জন্য আপনাকে পরিবার প্রতি সর্বোচ্চ $৫০০ ডলার বা সর্বোচ্চ $১০০০ ডলার পর্যন্ত মূল্যের ব্যক্তিগত উপহার আমদানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি আমদানির জন্য শুল্ক পরিশোধ এড়াতে বা কমাতে, ভ্রমণকারীরা সাধারণত সবচেয়ে ব্যয়বহুল জিনিসপত্রের মূল্য ট্যাগটি কেটে দেয় কিংবা আসার সময় জিনিসটা ব্যবহার করেন, যাতে ধরে নেওয়া যায় যে এটি তাদের। আপনি সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত তামাক এবং অ্যালকোহল পণ্যও আমদানি করতে পারেন:
- ২০০ সিগারেট (এক কার্টন) বা পঁচিশটি সিগার বা ১০০ গ্রাম পর্যন্ত আলগা তামাকজাত পণ্য যেমন স্নাফ (বা এর আনুপাতিক সংমিশ্রণ।
- এক লিটার পর্যন্ত অ্যালকোহল এবং পারফিউম।
আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোনটিতে পর্যটকদের জন্য ব্যয়বহুল সিম কার্ড ব্যতীত ইন্দোনেশিয়ান সিম কার্ড ব্যবহার করতে চান, বা আপনি যদি উপহার হিসাবে একটি নিয়ে আসেন তবে আপনাকে এটি কাস্টমসে ঘোষণা করতে হবে। যদি না এটি ১৫ এপ্রিল ২০২০ এর আগে ইন্দোনেশিয়ান নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হয়, তাহলে কাস্টমস ওয়েবসাইটে প্রাথমিক নিবন্ধকরণ ফর্মটি আগেই পূরণ করুন, আপনি যে কিউআর কোডটি পাবেন তা মুদ্রণ করুন এবং ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর পরে এটি কাস্টমস চেকপয়েন্টে উপস্থাপন করুন। কাস্টমস নিবন্ধন সম্পন্ন করবে এবং প্রযোজ্য শুল্ক মূল্যায়ন করবে। শুল্কমুক্ত ভাতা হ'ল মোট ৫০০ মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ডিভাইস। এই পরিমাণের উপরে যে কোনও ঘোষিত মূল্য ৪০% (আপনার যদি ইন্দোনেশিয়ান ট্যাক্স আইডি থাকে তবে ৩০%) এ কর দিতে হবে। যদি আপনার ফোনটি ব্যয়বহুল হয় তবে দামের পার্থক্য এবং আপনি ইন্দোনেশিয়ান সিমগুলোর জন্য সস্তা একটি ব্যবহার করতে পারেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখুন। আগমনের পরে করা ঘোষণার ফলে ডিভাইসের পুরো মূল্যের উপর কর আরোপ করা হবে। যদিও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফোনের ঘোষণা না দেওয়া আইনের লঙ্ঘন নয়, বেশিরভাগ অ-পর্যটক ইন্দোনেশিয়ান পরিষেবা পরিকল্পনাগুলো অঘোষিত ফোনের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।
ইন্দোনেশিয়ায় এবং ইন্দোনেশিয়ার বাইরে যে কোনও অর্থ যা ১০,০০,০০,০০০ রুপিয়াহ (১০ কোটি রুপিয়াহ) বা অন্যান্য মুদ্রায় এর সমতুল্য ছাড়িয়ে যায় তা অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ায় খুব কঠোর মাদক আইন রয়েছে: এমনকি এগুলো ব্যক্তিগত সেবনের জন্যও দেশে আনলেও জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিচার ও লজ্জাজনক শাস্তি হবে। সবচেয়ে খারাপ শাস্তি হলে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হতে পারে। আপনার যদি মেথামফেটামিন গ্রহণের প্রয়োজন হয় তবে আপনাকে অবশ্যই আপনার সাথে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আনতে হবে।
বিমানে
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ দর্শনার্থী বালির নাগুরাহ রাই (DPS আইএটিএ) বা জাকার্তার সুকার্নো-হাত্তা (CGK আইএটিএ)-তে পৌঁছায়। বান্দুং, ইয়োগিয়াকার্তা, সুরাবায়া এবং মেদানের মতো তুলনামূলক ছোটো শহরগুলোর অনেক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর এবং / অথবা মালয়েশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রয়েছে। এটি ইন্দোনেশিয়ায় আকর্ষণীয় ও সুবিধাজনক প্রবেশ পথ হতে পারে।
আমেরিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণে ২০ ঘন্টা কম সময় লাগতে পারে। এই ফ্লাইটে অন্তত পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ বা মধ্য প্রাচ্যে ট্রানজিট প্রয়োজন। ইউরোপের বেশিরভাগ অংশ থেকে ভ্রমণে ২০ ঘন্টারও কম সময় লাগবে। আমস্টারডাম, লন্ডন এবং ইস্তাম্বুল থেকে জাকার্তার সরাসরি ফ্লাইট থাকলেও অন্যান্য শহরে কমপক্ষে একটি ট্রানজিট প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য মাত্র ৪-৭ ঘণ্টা দূরে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার শহরগুলো থেকে নিকটবর্তী মালয়েশিয়ার শহরগুলোতে যেমন পন্টিয়ানাক থেকে কুচিং, তারাকান থেকে তাওয়াউ এবং পেকানবারু থেকে মালাক্কায় সংক্ষিপ্ত ফ্লাইট রয়েছে।
গরুড় ইন্দোনেশিয়া, ☏ +৬২ ২১ ২৩৫১-৯৯৯৯ হলো ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী বিমান। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, ইউরোপের আমস্টারডামের বেশ কয়েকটি শহরে ফ্লাইট পরিচালানা করে। এয়ারলাইনটির বিস্তৃত কোড-শেয়ারিং চুক্তি (স্কাই টিম) রয়েছে। এটি ইন্দোনেশিয়ার নিকটবর্তী দেশগুলোর বিমানবন্দরগুলো থেকে বেশ ভাল ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি সরবরাহ করতে সহায়তা করে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে থেকে ইন্দোনেশিয়ায় উড্ডয়নের ব্যয় কম খরচের ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠার সাথে হ্রাস পেয়েছে। এয়ার এশিয়া গ্রুপ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান গন্তব্যগুলোতে উড়ান পরিচালনা করে। লায়ন এয়ার তার পূর্ণ-পরিষেবা সহায়ক সংস্থা বাটিক এয়ার ছাড়াও সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়ায় একাধিক দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। গরুড় ইন্দোনেশিয়ার স্বল্প ব্যয়ের সহায়ক সংস্থা সিটিলিংকও অস্ট্রেলিয়ার পার্থ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
নৌকায়
[সম্পাদনা]ফেরিগুলো ইন্দোনেশিয়াকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের সাথে সংযুক্ত করে। বেশিরভাগ সংযোগ সুমাত্রা (বেশিরভাগ রিয়াউ এবং রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ প্রদেশে) এবং উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে, যদিও মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্য এবং বোর্নিওর পূর্ব কালিমান্তানের মধ্যে একটি ফেরি পরিষেবাও রয়েছে (ইন্দোমায়া এক্সপ্রেস)। এই বন্দরগুলো থেকে জাকার্তা এবং অন্যান্য ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সাথে নৌকা সংযোগ পাওয়া যায়। আরও বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিটি শহরের পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।
ফেরিগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে, শীর্ষে সবচেয়ে ব্যয়বহুল (এবং পরিষ্কার) বিভাগটি আরামদায়ক আসন এবং উইন্ডোগুলোর সাথে একটি সুন্দর সামনের দৃশ্যের জন্য, তারপরে দ্বিতীয় শ্রেণির পিছনে একটি পৃথক ঘরে যা কম আরামদায়ক বসার সাথে আরও সঙ্কুচিত এবং নোংরা, এবং তৃতীয় শ্রেণিটি সাধারণত নীচের ডেকে থাকে এবং সবচেয়ে খারাপ, যদিও বিভিন্ন ফেরির নিজস্ব সংগঠন থাকতে পারে।
সিঙ্গাপুর থেকে [ফেরি টার্মিনাল]
- বাটামের বিভিন্ন বন্দরে (সেকুপাং, বাতু আম্পার, নংসা, মেরিনা তেলুক সেনিম্বা এবং বাটাম সেন্টার) ঘন ঘন ফেরি।
- তানাহ মেরাহ ফেরি টার্মিনাল থেকে বিনতানের তানজুং পিনাং, নংসাপুরা এবং বন্দর বিনতান তেলানি লাগোই (বিনতান রিসর্টস) পর্যন্ত ঘন ঘন ফেরি।
- হারবারফ্রন্ট থেকে করিমুন দ্বীপের তানজুং বালাইয়ের জন্য প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ফেরি যায়।
উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়া থেকে
- দৈনিক ফেরিগুলো কুয়ালালামপুরের নিকটবর্তী পোর্ট ক্লাং থেকে রিয়াউয়ের দুমাই, সুমাত্রা এবং উত্তর সুমাত্রার তানজুং বালাই আসাহানে যায়।
- সুমাত্রার রিয়াউ প্রদেশের পোর্ট ডিকসন, নেগেরি সেম্বিলান এবং ডুমাইয়ের মধ্যে দৈনিক ফেরি।
- দৈনিক ফেরিগুলো মালাক্কাকে সুমাত্রার রিয়াউ প্রদেশের দুমাই এবং পেকানবারুর সাথে সংযুক্ত করে।
- জোহরের কুকুপ থেকে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের করিমুন দ্বীপের তানজুং বালাই* পর্যন্ত ঘন ঘন ফেরি যায়।
- ঘন ঘন ফেরিগুলো জোহর বাহরুকে বিনতান দ্বীপে বাটাম এবং তানজুং পিনাংয়ের সাথে সংযুক্ত করে।
- নিয়মিত ফেরিগুলো জোহরের পুতেরি হারবারকে তানজুং বালাই * করিমুনের সাথে সংযুক্ত করে।
- নিয়মিত ফেরিগুলো জোহরের তানজুং বেলুংকোরকে বাটামের সাথে সংযুক্ত করে।
- নিয়মিত ফেরিগুলো পেরাকের হুতান মেলিনতাংকে উত্তর সুমাত্রার তানজুং বালাই আসাহানের সাথে সংযুক্ত করে।
- নিয়মিত ফেরিগুলো জোহরের মালাক্কা এবং মুয়ারের সাথে বেংকালিসকে সংযুক্ত করে।
সাবাহ, মালয়েশিয়া
- প্রতিদিনের ফেরিগুলো বোর্নিওর উত্তর কালিমান্তান প্রদেশের তারাকানের সাথে তাওয়াউকে সংযুক্ত করে।
ভিসা-মুক্ত / ভিসা-অন-অ্যারাইভাল তাওয়াউতে পাওয়া যায়; তবে তারাকানে নয়। সেখানে আপনার অগ্রিম ভিসার প্রয়োজন হবে।
ক্রুজ জাহাজে
[সম্পাদনা]ক্রুজ জাহাজগুলো ৫ টি বন্দরে কল করে: তানজুং প্রিয়ক (উত্তর জাকার্তা), তানজুং পেরাক (সুরাবায়া), বেলাওয়ান (মেদানের কাছে), মাকাসার এবং বেনোয়া (বালি)। সিঙ্গাপুর থেকে নিয়মিত ক্রুজ জাহাজের ২৪ টি সময়সূচী রয়েছে। এর মধ্যে জাভা ও বালি পরিদর্শন করে, অন্যদিকে অনিয়মিত সময়সূচী ক্রুজ জাহাজ বালি এবং নুসা টেঙ্গারা পরিদর্শন করে। আপনি একটি ক্রুজ নিতে পারেন এবং অন্য সবার সাথে পথে নির্দিষ্ট স্থানে থামতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার জাহাজে ইমিগ্রেশন পরিচালনা করা হবে। এখানে আপনার ক্রুজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনাকে নামার পরে একটি ইমিগ্রেশন অফিসে যেতে হবে।
ইয়টে
[সম্পাদনা]পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির জন্য, সরকার নৌকায় প্রবেশের পদ্ধতি সহজ করেছে। যদি আপনি নৌকায় প্রবেশ করেন, তাহলে ৩০ দিনের ভ্রমণের জন্য অনুমতি পেতে আপনার মাত্র ৩ দিনের নোটিশের প্রয়োজন হবে এবং এটি আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানো যেতে পারে। নৌকাচালকরা জাকার্তা, বাটাম, বাংকা বেলিটুং এবং কুপাং বন্দরে আসতে পারে।
স্থলপথে
[সম্পাদনা]তিমুর-লেস্তে থেকে: প্রধান সীমান্ত পারাপার হলো মোটা'আইন। এটি তিমুর-লেস্তের বাতুগাদে ও পশ্চিম তিমুরের আতামবুয়া শহরের মধ্যে অবস্থিত, কুপাং ও দিলির মধ্যবর্তী প্রধান সড়কে। দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে সেলেলে ও মোটামাসিনের মধ্যে আরেকটি সীমান্ত পারাপার আছে। এছাড়াও ওএকুসি নামক তিমুরের এক্সক্লেভ থেকে সাকাতো/উইনি হয়ে সীমান্ত পারাপার করা যায়।
মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ার সঙ্গে তিনটি সরকারি সীমান্ত পারাপার রয়েছে, সবগুলোই পশ্চিম কালিমান্তান ও সারাওয়াকের মধ্যে। এগুলো হলো: এন্টিকং-তেবেদু ( কুচিং–পন্টিয়ানাক সড়কে), আরুক-বিয়াওয়াক (কুচিং–সিঙ্গকাওয়াং সড়কে) এবং তুলনামূলক দূরবর্তী লুবক আনটু-নাঙ্গা বাদাউ পারাপার। সীমান্ত অঞ্চলে স্থানীয়রা বহু অনানুষ্ঠানিক পারাপার ব্যবহার করে, কিন্তু বিদেশিদের সেগুলো ব্যবহার না করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে আইনি সমস্যায় না পড়তে হয়।
পাপুয়া নিউ গিনি থেকে: ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের একমাত্র স্বীকৃত পারাপার হলো ওতুং। এটি পাপুয়া নিউ গিনির সানডাউন প্রদেশের ভানিমো শহর এবং ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ার রাজধানী জায়াপুরার মধ্যে অবস্থিত। পিএনজি সীমান্ত কর্মকর্তারা প্রায়ই কাজে হাজির হন না, বিশেষত বাজারের দিনে যখন তারা প্রায়ই মদ্যপানে ব্যস্ত থাকেন। তখন বৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা সম্ভব হয় না, তাই আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা করে রাখা জরুরি।
চলাফেরা
[সম্পাদনা]বিমানযোগে
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার বিশাল আয়তন ও দ্বীপগুলোর মধ্যে স্থায়ী সংযোগ না থাকায় দীর্ঘ দূরত্বের ভেতর ভ্রমণের একমাত্র দ্রুত উপায় হলো আকাশপথ। রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন গারুদা ইন্দোনেশিয়া পূর্ণসেবা প্রদানকারী এবং সাধারণত সবচেয়ে ব্যয়বহুল হলেও বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ প্রদান করে এবং সবচেয়ে ভালো নিরাপত্তা রেকর্ডের অধিকারী। লায়ন এয়ার হলো একটি স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন (এলসিসি)। এটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রচুর ফ্লাইট দেয়, যদিও মাঝে মাঝে বড় ধরনের দেরি হয়। উইংস এয়ার লায়ন এয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং এটি ও এলসিসি। অন্যান্য স্বল্পমূল্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হলো সিটিলিঙ্ক[অকার্যকর বহিঃসংযোগ], গারুদা ইন্দোনেশিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান, এবং ইন্দোনেশিয়া এয়ারএশিয়া। এটি মালয়েশিয়ার এয়ারএশিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
স্রিবিজয়া এয়ার[অকার্যকর বহিঃসংযোগ] পূর্ণসেবা ও স্বল্পমূল্যের মাঝামাঝি মানের সেবা প্রদান করে, স্বল্পমূল্যের তুলনায় আসনের জন্য বেশি জায়গা এবং সাধারণ খাবার দেয়। কয়েকটি কম জনপ্রিয় গন্তব্যের রুট সাধারণত পরিবেশন করে এয়ার ফাস্ট, সুসি এয়ার, ট্রিগানা[অকার্যকর বহিঃসংযোগ], এবং উইংস এয়ার (লায়ন এয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান)। তারা প্রধানত ছোট বিমানবন্দরে প্রপেলার বিমান চালায়। যদি আপনি সত্যিই প্রত্যন্ত অঞ্চলে যান, যেমন পাপুয়া, সেখানে কোনো নির্ধারিত ফ্লাইট নেই, আপনাকে হয়তো চার্টার বিমান ভাড়া করতে হবে বা মিশনারি বা খনির শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনায় ভাড়া কম; তবে সরকার মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে। অনেক এয়ারলাইন বিমানের আসন খালি থাকলে ফ্লাইটের এক সপ্তাহ আগে ভাড়া কমিয়ে দেয়। তাই সময়ের অভাব না থাকলে ও সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি বা সোমবার সকালে ভ্রমণের পরিকল্পনা না থাকলে সস্তায় টিকিট পেতে পারেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণের সময় আগে থেকেই টিকিট নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো, কারণ ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত এবং অনেক সময় টিকিট কাটা যাত্রীকেও বাদ দেওয়া হয়। স্বল্পমূল্যের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত ফ্লাইট ছাড়ার ৯০ মিনিট আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত এবং পূর্ণসেবা এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে ৪৫ মিনিট আগে। বিমান চলাচলের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে অনেক বিমানবন্দর যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি। যদিও অনেকগুলো আধুনিকায়ন করা হয়েছে, তবুও অনেক জায়গায় এখনো একটি মাত্র রানওয়ে থাকায় টেকঅফ ও ল্যান্ডিংয়ে দেরি হয়। ব্যাগেজের ক্ষেত্রে সাধারণত শুধু টেমপ্লেট:Kg কেজি হাতব্যাগ বিনামূল্যে নেওয়া যায়, বাকিগুলো চেক-ইন ব্যাগেজে দিতে হয় এবং তার জন্য বাড়তি টাকা দিতে হয়।
কিছু এয়ারলাইন যাত্রীরা তাদের টিকিট ভাড়া নিকটস্থ মিনিমার্ট থেকে নগদেও পরিশোধ করতে পারে, কেবল টিকিট বা কনফার্মেশন নম্বর দেখাতে হয়।
নৌপথে
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়া দ্বীপসমূহ নিয়ে গঠিত, তাই দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপান্তর ভ্রমণের জনপ্রিয় মাধ্যম নৌযান। ফেরিগুলো কখনো দিনের পর দিন, আবার কখনো কয়েক ঘণ্টার স্বল্প যাত্রায় আপনাকে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে নিয়ে যাবে। তবে সব গন্তব্যে প্রতিদিন সেবা পাওয়া যায় না। কিছু জায়গায়, যেমন সেমারাং থেকে কারিমুনজাওয়া ও উত্তর জাকার্তা থেকে থাউজ্যান্ড আইল্যান্ডস, ইয়ট সেবা পাওয়া যায়। এটি দ্রুততর, নিরাপদ এবং আরামদায়ক। অবশ্যই ভাড়াও বেশি।
সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্রায়ত্ত পিএলএনআই[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]। তাদের বিশাল ফেরিগুলো প্রায় সব বড় বসতিপূর্ণ দ্বীপে যায় এবং এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রা শেষ করতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। এগুলো ইউরোপে তৈরি নৌযান। এটি উত্তাল সমুদ্র সামলাতে সক্ষম এবং ভালো নিরাপত্তা রেকর্ড রয়েছে। জাহাজের ধারণক্ষমতা ১০০০ থেকে ৩০০০ যাত্রী পর্যন্ত। আগে এদের অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য কুখ্যাতি ছিল, কিন্তু এখন নাম্বারযুক্ত টিকিট দেওয়ার নীতির কারণে সেই সমস্যা আর নেই। সব ভাড়ার সঙ্গেই দিনে তিনবেলা খুব সাধারণ খাবার দেওয়া হয়।
বর্তমানে বেশিরভাগ পিএলএনআই জাহাজে একটিমাত্র শ্রেণি আছে, একোনমি। কেবল দুটি জাহাজ, কেএম. কেলুদ (জাকার্তা–মেদান) এবং কেএম. সিনাবুং (সুরাবায়া–জায়াপুরা), এখনও পুরোনো শ্রেণি বজায় রেখেছে:
- ১ম শ্রেণি, প্রায় ৪০ মার্কিন ডলার/দিন: প্রতিটি কেবিনে দুটি বিছানা, আলাদা বাথরুম, টিভি, এয়ারকন
- ২য় শ্রেণি, প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার/দিন: প্রতিটি কেবিনে চারটি বিছানা, আলাদা বাথরুম, এয়ারকন
- একোনমি, প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার/দিন: ডরমিটরিতে শয্যা
যাদের সময় আছে, তাদের জন্য পিএলএনআইর একোনমি শ্রেণিতে ভ্রমণই সবচেয়ে সস্তা, পরিবেশবান্ধব ও আসল অভিজ্ঞতা। তবে পশ্চিমা পর্যটকদের কাছে এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। ডরমিটরিগুলো সাধারণত নোংরা, গরমে অসহ্য, সারাক্ষণ বাজতে থাকা গান, শিশুদের কান্না, দিন-রাত জ্বলতে থাকা বাতি আর ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেটের জন্য কষ্টকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। ১ম ও ২য় শ্রেণি উঠিয়ে দেওয়ার পর পিএলএনআই এখন কেবল দরিদ্র ইন্দোনেশীয়দের জন্য সীমাবদ্ধ। বিদেশি পর্যটকরা এখন প্রায় অনুপস্থিত এবং উপস্থিত হলে বাকিদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যান। এটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। এটি কেবল সাহসী, উদারমনা এবং মিশুক ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত।
পিএলএনআইর ধীরগতির ফেরির পাশাপাশি এএসডিপি জনপ্রিয় রুটগুলোতে দ্রুত ফেরি (কাপাল ফেরি চেপাত, মজার বিষয় হলো এর সংক্ষিপ্ত রূপ কেএফসি) চালায়। তারা বিশেষ করে নুসা তেনগারা, মালুকু ও কুপাং এলাকায় গাড়িবাহী আন্তঃদ্বীপ ফেরি চালায়। পিএলএনআই ও এএসডিপি টিকিট ভ্রমণ এজেন্ট বা তাদের নিজস্ব অফিস থেকেও কেনা যায়। এটি সাধারণত বন্দর এলাকার কাছাকাছি থাকে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডিএলইউ বড় আকারের জাহাজ চালায়। এটি গাড়ি ও ট্রাক বহন করতে সক্ষম, এবং পুরো দ্বীপমালাজুড়ে বিভিন্ন রুটে সেবা দেয়।
এছাড়াও অসংখ্য সেবা আছে। এটি ছোট ছোট দ্বীপান্তর যাত্রা চালায়, যেমন জাভার মেরাক থেকে সুমাত্রার বাকাউহেনি (প্রতি ঘণ্টায়), জাভা ও বালি (প্রতি ১৫ মিনিটে) এবং বালি ও লম্বক (প্রায় প্রতি ঘণ্টায়)। এসব স্বল্প যাত্রার সময়সূচি অনিশ্চিত, আরাম কম ও নিরাপত্তা রেকর্ড দুর্বল। তাই বোর্ডে কী ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম আছে তা দেখে নিন এবং আবহাওয়া খারাপ মনে হলে যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবুন। রক্ষণাবেক্ষণ দুর্বল এবং অতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানের ফেরিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, তাই সম্ভব হলে বড়গুলোকেই বেছে নিন।
ফেরিতে খাবারের মান কখনো খারাপ, কখনো একেবারেই খাওয়ার অযোগ্য হতে পারে, আর যাত্রা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। তাই বাড়তি খাবার সঙ্গে রাখুন। যদি আপনার মোশন সিকনেস থাকে; তবে ড্রামামিন বা অ্যান্টিমো মতো ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
ফেরিতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি আছে: সবচেয়ে দামী (এবং পরিষ্কার) আসন থাকে ওপরে, আরামদায়ক আসন ও জানালা থেকে দৃশ্য দেখা যায়; তারপরে দ্বিতীয় শ্রেণি। এটি আলাদা কক্ষে থাকে, কম জায়গা ও কম আরামদায়ক আসনসহ; তৃতীয় শ্রেণি থাকে নিচের ডেকে। এটি সবচেয়ে খারাপ। বিভিন্ন ফেরিতে নিজস্ব ব্যবস্থা থাকতে পারে। অবশ্যই গাড়িগুলো মূল ডেকে রাখা হয়।
যাত্রাপথে কিছু লোক অতিরিক্ত টাকার জন্য হয়রানি করতে পারে। এগুলো উপেক্ষা করতে পারেন, যদিও মাঝে মাঝে ঘুষ দিয়ে ভালো আসন পাওয়াও সম্ভব।
কিছু এলাকায় কেবল ছোট নৌযানই পরিবহন মাধ্যম হিসেবে পাওয়া যায়: যেমন আউটরিগার, কাচতলা নৌকা, পালতোলা, মোটরবোট বা মাছধরার নৌকা। ভাড়া কয়েক ডলার থেকে দশক ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগে থেকেই দাম ও রুট জেনে নিন এবং দর কষাকষি করুন। এগুলোর কিছু ভাড়া নিয়ে মাছ ধরা, স্কুবা ডাইভিং, স্নোরকেলিং বা ভ্রমণ করা যায়।
ইয়টে
[সম্পাদনা]১৭,০০০-এরও বেশি দ্বীপ থাকায় ইন্দোনেশিয়া ইয়ট ভ্রমণের জন্য স্বর্গ বলা যায়। তবে দক্ষিণ ফিলিপাইনের সীমান্ত এলাকায় জলদস্যুদের উপস্থিতির বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সাধারণত এই অঞ্চলে টাইফুন হয় না এবং ভেতরের সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২.৫ মিটার। এটি ছোট ইয়টের জন্যও উপযোগী। সবচেয়ে খারাপ মৌসুম হলো ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
রেলপথে
[সম্পাদনা]পিটি কেরেতা আপি ইন্দোনেশিয়া[অকার্যকর বহিঃসংযোগ], ☏ +৬২ ২১ ১২১, রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান, জাভার বেশিরভাগ এলাকা এবং সুমাত্রার কিছু অংশে রেল চালায়। রেল নেটওয়ার্ক ডাচরা তৈরি করেছিল; তবে স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের মান গ্রহণযোগ্য এবং দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুতির ঘটনা বিরল। যেহেতু রেলপথ রাষ্ট্রীয়, তাই গ্রাহকসেবা শিষ্টাচারপূর্ণ হলেও সমস্যা হলে সবসময় যাত্রী সন্তুষ্টির দিকে মনোযোগী নয়।
জাভা দ্বীপের রেলপথ নেটওয়ার্ক সবচেয়ে উন্নত। এখানে ট্রেন রাজধানী শহর জাকার্তাকে সুরাবায়া, সেমারাং, যোগ্যাকার্তা এবং সোলোর মতো প্রধান শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষ করে, ইন্দোনেশিয়ার (এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার) প্রথম উচ্চগতির রেলপথ (কেরেতা চেপাট)। এটি চীনের নির্মিত একটি লাইন এবং কিছুটা হাস্যকরভাবে নাম দেওয়া হয়েছে Whoosh, ২০২৩ সালে চালু হয়েছে। এটি জাকার্তা থেকে বানডুং পর্যন্ত চলে, সর্বোচ্চ ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে, এবং দুই শহরকে মাত্র ৩০ মিনিটে যুক্ত করে। ভবিষ্যতে এই লাইন জাভা জুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে; তবে বর্তমানে বানডুং থেকে যোগ্যাকার্তা ও সুরাবায়া পর্যন্ত শুধু সাধারণ ট্রেন চলাচল করে। বালিতে কোনো রেললাইন নেই; তবে বানিউয়াঙ্গি পর্যন্ত ট্রেন চলে, যেখান থেকে দ্বীপে ফেরি সংযোগ রয়েছে। সাধারণত ট্রেন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যায়, তাই যারা তাড়াহুড়োয় নেই তারা যাত্রার দৈর্ঘ্য ও দৃশ্যাবলিকে অতিরিক্ত উপভোগ হিসেবে নিতে পারেন, যদিও কিছু বস্তি রেললাইনের পাশে গড়ে উঠেছে। কমিউটার ট্রেনে আসন সংরক্ষিত থাকে না এবং দাঁড়ানো যাত্রীর কোনো সীমা নেই, ফলে তা ভিড় হতে পারে; পকেটমারের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনে সংরক্ষিত আসন থাকে এবং যাত্রীদের ওঠার আগে চেক-ইন করতে হয়; এসব ট্রেনে চুরির ঝুঁকি কম।
সুমাত্রায় আচেহ ও উত্তর সুমাত্রার মেদান, পশ্চিম সুমাত্রা, লামপুং এবং দক্ষিণ সুমাত্রাতে রেললাইন আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত নয়—অর্থাৎ দ্বীপ জুড়ে রেলে ভ্রমণ সম্ভব নয়—এবং জাভার তুলনায় কম সংখ্যক ট্রেন চলে।
সেবার শ্রেণি
[সম্পাদনা]
সব ট্রেনেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা আছে; তবে সব ট্রেন প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের জন্য যথাযথভাবে ডিজাইন করা হয়নি। কমিউটার ট্রেন ছাড়া প্রতিটি ট্রেনে খাবার কেনা যায়, অনবোর্ড বা বুকিংয়ের সময়।
- এক্সেকিউটিভ লাক্সারি শ্রেণিতে আঠারোটি ফ্ল্যাট-রিক্লাইনিং আসন থাকে। এর বৈশিষ্ট্য ও সেবা বিমানের বিজনেস ক্লাসের মতো।
- এক্সেকিউটিভ শ্রেণিতে নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকে এবং সাধারণত ভেতরের তাপমাত্রা বেশ কম (প্রায় ১৮°সে) হওয়ায় পূর্ণ হাতা জামা প্রস্তুত রাখা উচিত। এই ট্রেনে জোড়া রিক্লাইনিং আসন থাকে ফুটরেস্টসহ (এবং চারজন একসাথে থাকলে আসন উল্টে মুখোমুখি করা যায়), টেলিভিশন বিনোদন (যখন টিভি নষ্ট নয় বা সিগন্যাল ভালো থাকে) এবং যাত্রাপথে কম্বল ও বালিশ চাইতে পারেন।
- বিজনিস শ্রেণির আসন কিছুটা "একোনোমি"র মতো; তবে সামনে মুখ করে থাকে এবং সাধারণ একোনোমির তুলনায় বেশি আরামদায়ক।
- একোনোমি প্রিমিয়াম শ্রেণিতে একোনোমির তুলনায় অনেক উন্নত কামরা থাকে এবং আসন সামান্য রিক্লাইন হয়। আসন বিন্যাস ২-২।
- একোনোমি শ্রেণি সবচেয়ে বাজেট সচেতন ভ্রমণকারীদের জন্য। সস্তা টিকিটে সাধারণত পুরনো কোচ (৩-২ বিন্যাস) পাওয়া যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ, আর একটু বেশি মূল্যে নতুন কোচ (২-২ বিন্যাস) পাওয়া যায়। পুরনো ও নতুন দু’ধরনের কোচেই মাঝামাঝি অংশে মুখোমুখি আসন থাকে।
কমিউটার ট্রেনে পাশের আসন থাকে, দাঁড়ানো যাত্রীদের জন্য দণ্ড ও ঝোলানো স্ট্র্যাপ থাকে, আর ব্যস্ত সময়ে তা খুব ভিড় হয়। তবে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং দু’প্রান্তে নারীদের জন্য আলাদা কামরা থাকে।
রেলস্টেশনগুলো ট্রেন পুলিশের পাহারায় থাকে, যদিও কখনও কখনও সাধারণ পুলিশ বা বিরল ক্ষেত্রে সেনাসদস্যও থাকতে পারে।
টিকিট ৩০ দিন আগে কেনা যায়; তবে একোনোমি ও একোনোমি প্রিমিয়াম শ্রেণির সীমিত টিকিট প্রায়শই শেষ মুহূর্তেও পাওয়া যায়। ব্যতিক্রম হলো ঈদ-উল-ফিতরের মৌসুমে অত্যধিক চাহিদার কারণে মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। অনলাইনে সরকারি ওয়েবসাইটে টিকিট সংরক্ষণের সুবিধা আছে।
কিছু নির্দিষ্ট রুটে ছাড় দেওয়া হয়; তবে তা পেতে হলে আগে থেকেই বুক করতে হয়। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণরা ২০% ছাড় পান। টিকিটিং কাউন্টার ছাড়ার আগে নিশ্চিত হোন আপনার টিকিট সঠিক কিনা। মিনিমার্ট ও পোস্ট অফিস থেকেও টিকিট কেনা যায় এবং কোনো প্রশাসনিক ফি নেওয়া হয় না; তবে তারা কম মূল্যের টিকিট বিক্রি করে না। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে ন্যূনতম ৫০,০০০ রুপিয়া মূল্যের পরিশোধ করা যায়।
সরকারি পিটি কেরেটা এপিআইয়ের (PT Kereta Api) ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে টিকিট সংরক্ষণ কেবল ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় করা যায়। অনেক সময় বিদেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয় না। বিকল্পভাবে tiket.com পোর্টালের মাধ্যমে ইংরেজি ইন্টারফেসে সহজে বুকিং করা যায় এবং অর্থ প্রদানে সমস্যা কম হয়। যাত্রীরা কিয়স্ক থেকেও (প্রস্থানের ১২ ঘণ্টা থেকে ১০ মিনিট আগে পর্যন্ত) টিকিট কিনতে বা চেক-ইন করতে পারেন।
বড় রেলস্টেশনগুলোতে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থাকে এবং বহু শহরের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ থাকে; তবে ছোট স্টেশনগুলোতে ট্রেন কম থামে এবং একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থাকে। আগে থেকেই জেনে নিন কোন প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে। অপেক্ষার সময় বেশিরভাগ স্টেশনে দোকান ও রেস্তোরাঁ থাকে। এখানে খাবার-দাবার কিনে ট্রেনে ওঠার আগে খাওয়া যায়। বোর্ডিং গেটের ভেতরে খাবারের দোকান সীমিত। গেট প্রস্থানের ৩ মিনিট আগে বন্ধ হয়ে যায়। আগে (২০১৬ সালের আগে) ফেরিওয়ালারা (আসোঙ্গান) ট্রেনে উঠে যাত্রা শুরুর আগ পর্যন্ত জিনিসপত্র বিক্রি করত। যদিও তা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক ছিল; তবে খুব শব্দ ও বিরক্তিকর ছিল। এখন ট্রেনে তাদের অনুমতি নেই; তবে ছোট স্টেশনে এখনও তারা গাড়ির দরজায় ডাকাডাকি করে। এক্সপ্রেস ট্রেন বাড়ায় এখন ফেরিওয়ালারা অনেকটাই কমেছে।
টয়লেটগুলো কখনও স্কোয়াট ধরনের, কখনও বসার মতো কিন্তু আসনবিহীন হয় এবং বাইরে থেকে লাইট দেখে বোঝা যায় ফাঁকা আছে কি না। বেশিরভাগ এক্সেকিউটিভ ট্রেনে ধোয়ার জন্য বিডেট ও সিঙ্ক থাকে, আর স্কোয়াট টয়লেট ব্যবহার করতে হলে ভারসাম্য রাখতে হয়। নিজস্ব টিস্যু (ভেজা হলে ভালো) নিয়ে যান, কারণ সরবরাহকৃত টিস্যু ঠিকঠাক নাও থাকতে পারে। এসব টয়লেট সরাসরি রেললাইনে বর্জ্য ফেলে, তাই স্টেশনে থামা অবস্থায় টয়লেট ব্যবহার নিষিদ্ধ।
যাত্রীরা দলবদ্ধভাবে (প্রায় ২০ জন) চাইলে বিশেষ সাজানো কামরা চার্টার করতে পারেন। এখানে ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা, উন্নত টয়লেট, আরামদায়ক আসন থাকে এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য আলাদা সূচি অনুযায়ী ভ্রমণ করানো হয়।
বাসে
[সম্পাদনা]
দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাস ইন্দোনেশিয়ায় নতুন ধারা। এটি খুবই আরামদায়ক, এয়ার সাসপেনশন থাকে এবং যেখানে ইচ্ছে থামানো যায়। বেশিরভাগ সার্ভিস বিকেল বা রাতে ছেড়ে যায় এবং পরদিন সকালে পৌঁছে। "লাক্সারি" মানে সীমিত রিক্লাইনিং আসন, পর্যাপ্ত পায়ের জায়গা, ফুটরেস্ট বা লেগরেস্ট এবং একবার রাতের খাবার। কিছু বাসে ব্যক্তিগত ১০" ডিসপ্লে থাকে, আবার কিছুতে বিছানাও থাকে। সুমাত্রার বান্দা আচেহ থেকে বালি পর্যন্ত ভ্রমণের সময় বাস কোম্পানি ফেরি ভ্রমণের ব্যবস্থাও করে এবং তা টিকিট মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
আন্তঃনগর বাস সাধারণত ড্রাইভারদের সমবায় বা বেসরকারি কোম্পানি (দুটোরই প্রচুর আছে) চালায় এবং নির্দিষ্ট রুটে চলে।তবে যাত্রীর অনুরোধে সামান্য বাড়তি ভাড়ায় রুট পরিবর্তন করতে পারে। বাস কখনও বিলাসবহুল হয়, কখনও জরাজীর্ণ। কিছু জায়গায়, যেমন বালি বা কুপাং, ড্রাইভাররা বাস সাজিয়ে রাখে এবং যত্ন করে। সাধারণত একটি ভ্যান (৬ জনের) টিকিট প্রায়.৭৫,০০০ রুপিয়াহ এবং এক্সিকিউটিভ কোচ (ডাবল ডেকার পর্যন্ত) প্রায় ১,৫০,০০০ রুপিয়াহ। যদি আপনি তাদের নির্দিষ্ট যাত্রা শুরু পয়েন্টে পৌঁছাতে না পারেন; তবে তারা ডিপো বা টার্মিনালের কাছে থেকে আপনাকে তুলে নেবে। খাবারের সময়ে বাস একটি রেস্টুরেন্টে থামে। এখানে সবাই একসাথে খায়; কিছু কোম্পানি ভাড়ার মধ্যে খাবারের দাম অন্তর্ভুক্ত করে।
বাস ভাড়া করাও সম্ভব। এয়ারকন্ডিশনযুক্ত ভাড়ার বাস পর্যটক দলের জন্য ড্রাইভারসহ নেওয়া যায়, এবং যথেষ্ট ভাড়া দিলে যেকোনো আকারের সিটি বাসও চার্টার করা সম্ভব। ইন্দোনেশিয়ার বাস কোম্পানিগুলো আন্তঃনগর (আন্তার কোটা) ও আন্তঃপ্রদেশ (আন্তার প্রোপিনসি) রুটে চলে। আন্তঃপ্রদেশ বাস প্রায়ই দ্বীপান্তর পরিবহন অন্তর্ভুক্ত করে, বিশেষত জাভা থেকে সুমাত্রা বা জাভা থেকে বালি পর্যন্ত। কিছু শহরে সরকার নিজস্ব লাইন চালায়, যেমন DAMRI। এটি মাঝারি ও বড় আকারের হয়, সবসময় এয়ারকন্ডিশনযুক্ত এবং সাধারণত ভালো অবস্থায় থাকে।
কখনও কখনও চালক ও সহকারীরা অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে, বিশেষত রাতে বা নির্জন এলাকায়। এমনকি সম্মোহকরা যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়, আর কিছু ফেরিওয়ালা যাত্রীদের নেশাযুক্ত পানীয় বিক্রি করে, যাত্রীরা পরে অপরাধের শিকার হয়। দীর্ঘ রাত্রিযাত্রা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ব্যাগপত্র ভালোভাবে সামলান। দেশের দূরবর্তী এলাকায় (বিশেষত দক্ষিণ সুমাত্রা) কখনও কখনও আন্তঃপ্রদেশ বাস ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হয়।
ট্রাভেলোকার (Traveloka) মতো বুকিং পোর্টালের মাধ্যমে বাস টিকিট বুক করা যায়। এখানে ইংরেজি ইন্টারফেসও আছে। যাত্রীরা জাভা, সুমাত্রা, কালিমান্তান ও লমবকের বহু শহরে বিভিন্ন বাস অপারেটরের টিকিট কিনতে পারেন। তবে হঠাৎ বাস টার্মিনালে গিয়ে শেষ মুহূর্তে টিকিট কেনাও সম্ভব।
প্রতিটি শহরে বাস ব্যবস্থা ভিন্ন হয়। আংকট সব বড় শহরে প্রচলিত। এখানে যাত্রীরা ভ্যানে পাশের আসনে বসে। বড় শহরে বাস ও বিআরটি আছে। তবে যদি কোনো জরাজীর্ণ বাস দেখেন (রং উঠে যাওয়া, জানালা ধুলোভরা); তবে নিরাপত্তা মান বজায় না থাকায় তাতে না ওঠাই ভালো।
নির্ধারিত ভ্রমণ বা শাটল
[সম্পাদনা]মিনি-শাটল ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণের নতুন ধারা। এটি নতুন টোল রোড ও উন্নত মহাসড়কের সঙ্গে বাড়ছে। স্থানীয়রা একে ট্রাভেল বলে। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিনিবাস ব্যবহার হয়, ৬–১২ জন যাত্রী থাকে রিক্লাইনিং আসনে এবং এটি 'পয়েন্ট টু পয়েন্ট' রুটে চলে। প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব একাধিক যাত্রা শুরু পয়েন্ট থাকে। সবচেয়ে উন্নত রুট হলো জাকার্তা থেকে বানডুং। এর টিকিট ৮০,০০০ থেকে ১১০,০০০ রুপিয়া পর্যন্ত, আরাম, আসনের প্রশস্ততা ও বিলাসিতার উপর নির্ভর করে।
নির্ধারিত ভ্রমণ সাধারণ আন্তঃনগর বাসের তুলনায় বেশি দামী; তবে দ্রুততর এবং একাধিক যাত্রা/পৌঁছানোর পয়েন্ট থাকে। আপনার মালপত্র বেশি সুরক্ষিত থাকে; তবে সার্ফবোর্ড বা বড় প্যাকেজের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে বুক করা যায়; তবে শেষ মুহূর্তের যাত্রীও কখনও গ্রহণ করা হয়।
রাইডশেয়ারিং সেবা
[সম্পাদনা]স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি ও মোটরবাইকে রাইড নেওয়ার ব্যবস্থা ইন্দোনেশিয়ার ২০০টিরও বেশি শহরে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে মালিকানাধীন Go-jek এবং মালয়েশিয়ান মালিকানাধীন Grab এই বাজার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। সাধারণত Go-jekের ভাড়া Grabের তুলনায় কিছুটা কম; তবে তুলনা করে নেওয়াই ভালো। উভয় অ্যাপে নগদ অর্থ বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় পেমেন্ট মাধ্যমেও ভাড়া দেওয়া যায়। আরও কিছু আঞ্চলিক অপারেটর আছে, বিশেষ করে মোটরবাইক রাইডশেয়ারিং ক্ষেত্রে। যেমন Shejek কেবলমাত্র নারী গ্রাহকদের জন্য সেবা দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ মোটরবাইক চালক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম জ্যাকেট পরিধান করেন; তবে কেউ কেউ তা এড়িয়ে যান যেন প্রচলিত ট্যাক্সি চালকদের বিরক্ত না করেন। সাধারণত লাইসেন্স প্লেট অ্যাপে প্রদর্শিতটির সাথে মিলে যায়; না মিললে, চালক আগেই বলে দেন অথবা নির্ধারিত পিকআপ স্থানে এসে আপনার নাম ধরে ডাকেন। সন্দেহ হলে নিজের নাম বলুন যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনি-ই যাত্রী। আপনি চাইলে তাদের নামও জিজ্ঞেস করতে পারেন বা মুখ দেখে চিনতে পারেন। একটি মোটরবাইকে কেবল একজন যাত্রীই উঠতে পারেন; দলবদ্ধ ভ্রমণে গেলে হিসাব করে দেখুন অনেকগুলো বাইক অর্ডার করবেন নাকি একটি গাড়ি নেবেন—সাধারণ গাড়িতে চারজন পর্যন্ত বসতে পারে, আর বড় গাড়িতে ছয়জন পর্যন্ত উঠতে পারে; তবে খরচ বেশি হয়।
বেশিরভাগ চালক সীমিত ইংরেজি জানেন, তাই কিছুটা ইন্দোনেশীয় বা প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক ভাষা শিখে নেওয়া ভালো। কারণ চালক আপনাকে ফোন বা চ্যাট করতে পারেন নির্দিষ্ট অবস্থান বা আপনাকে চেনার জন্য।
প্রচলিত ট্যাক্সি (গাড়ি ও মোটরবাইক) আর রাইডশেয়ারিং সেবার মধ্যে বিরোধ আছে, তাই কিছু এলাকায় চালকরা যাত্রী তুলতে রাজি হন না, বিশেষ করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করলেও সামান্য দূরে গিয়ে অর্ডার করুন। অনেক চালক আগেই এসব জানেন এবং আপনাকে হেঁটে একটু দূরে যেতে বলেন।
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি Gojek ও Grab ব্যবহার করে পার্টনার রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার ডেলিভারি বা বিভিন্ন জিনিস অন্যত্র পাঠানো যায়। Gojek দিয়ে ব্লুবার্ড ট্যাক্সিও অর্ডার করা যায়। নগদে পরিশোধ করা গেলেও তাদের ই-ওয়ালেট ব্যবহার করলে ছাড় পাওয়া যায়।
রাইডশেয়ারিং সেবায় সাধারণত প্রতারণা বা ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে না। তবে Grab গাড়ি ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া নেওয়া যায়। এটি অসৎ চালকদের প্রতারণার সুযোগ দেয়। তাই দূরবর্তী এলাকায় যাবেন না, কারণ সেখানে গিয়ে চালক অ্যাপ বন্ধ করে দিতে পারেন বা বাড়তি নগদ টাকা চাইতে পারেন। পর্যটকরা যেখানে Grabের জন্য অপেক্ষা করেন, সেখানে প্রতারকরা এসে নিজেদের Grab চালক বলে পরিচয় দিতে পারে। আসল Grab চালক সাধারণত গাড়ি থেকে নেমে যাত্রী খুঁজতে যান না। তাই ফোনের স্ক্রিন গোপন রাখুন, চালকের নাম জিজ্ঞেস করুন এবং লাইসেন্স প্লেট মেলান।
গাড়িতে
[সম্পাদনা]নিজে গাড়ি চালানো
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় নিজে গাড়ি চালানো সাধারণত সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। অভিজ্ঞতা না থাকলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ইন্দোনেশিয়ানদের গাড়ি চালানোর অভ্যাস সাধারণত খুবই খারাপ। মূল নিয়ম হলো "আগে আমি"। এটি প্রায়শই হর্ন বা লাইট দিয়ে বোঝানো হয়, আবার কখনো কিছু না বলেই। লেন ও ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করা হয়, ওভারটেকের অভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাস্তার শোল্ডারে চালানো সাধারণ ব্যাপার। এম্বুলেন্স প্রায়শই উপেক্ষিত হয় কারণ রাস্তা আগে থেকেই ভরা থাকে, ফলে এম্বুলেন্স ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়। চালকরা সামনের দিকেই বেশি মনোযোগ দেন, পিছনের দিকে খুব কম। লেন পরিবর্তনের আগে আয়না ব্যবহার করা হোক বা না হোক, গাড়ির মধ্যে দূরত্ব সাধারণত কম রাখা হয় এবং সামান্য জায়গা দিয়ে গাড়ি চালানো হয়। এর ফলে সাইড মিরর প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুতগতিতে একেবারে কাছাকাছি গাড়ি চালানো সাধারণ ব্যাপার; তাই প্রতিরক্ষামূলক ড্রাইভিং অনুশীলন করুন এবং প্রয়োজনে হঠাৎ ব্রেক করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। তবে সড়কে মৃত্যুর ও আঘাতের প্রধান কারণ হলো মোটরবাইক দুর্ঘটনা। ইন্দোনেশিয়ায় গাড়ি চালানো হয় বামপাশে, অন্তত বেশিরভাগ সময়। বাঁ দিকে মোড় নেওয়ার সময় বাম দিক দিয়ে মোটরবাইক আসতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।
ইন্দোনেশিয়ায় গাড়ি ভাড়া অন্য অনেক দেশের তুলনায় সস্তা—প্রতিদিন প্রায় US$১২.৫ থেকে শুরু। জ্বালানি খরচও তুলনামূলক কম কারণ কর কম। অনেক সময় চালকসহ ভাড়া দেওয়া হয় যাতে তিনি খারাপ ট্রাফিক সামলে আপনাকে পৌঁছে দিতে পারেন। ভর্তুকিপ্রাপ্ত জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ৬,৪৫০ রুপিয়া (অকটেন 88, প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড); নতুন গাড়ির জন্য সুপারিশকৃত অন্যান্য জ্বালানির দাম বাজারের উপর নির্ভরশীল হলেও সচরাচর ১০,০০০ রুপিয়ার বেশি হয় না। মোটরবাইক ভাড়াও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়, বিশেষ করে বালিতে, প্রতিদিন ৫০,০০০ রুপিয়া থেকে ৭০,০০০ রুপিয়া; তবে এটি সাধারণত কেবল ভাড়াকারী নিজেই চালাতে পারেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত পার্টামিনা কোম্পানির পেট্রোল পাম্প দেশের সর্বত্র সহজেই পাওয়া যায়। সেখানকার টয়লেট মোটামুটি পরিষ্কার; তবে সাধারণত স্কোয়াট পট থাকে। বিশ্রাম এলাকায় বড় ও নির্ভরযোগ্য পাম্প থাকে। এখানে মিনিমার্ট এমনকি রেস্টুরেন্টও থাকে। স্টেশনে কর্মচারীরাই জ্বালানি ভরে দেন এবং আপনার কাছ থেকে অর্থ নেন।
নিজে গাড়ি চালাতে হলে আপনার নিজ দেশের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একই শ্রেণির আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) থাকতে হবে। যদি না থাকে, কেবল ইন্দোনেশিয়ার SIM (ড্রাইভিং লাইসেন্স) থাকলেই ছাড় পাওয়া যায়। তবে সতর্ক থাকুন, কারণ অনেক ভ্রমণ বীমা নীতিতে কেবল আপনার নিজ দেশের লাইসেন্স ও IDP মিলে গেলে দায় স্বীকার করা হয়।
বড় শহর ও পর্যটন এলাকা ছাড়া সড়কের অবস্থা সাধারণত খারাপ। বর্ষাকালে সুমাত্রা, কালিমান্তান ও সুলাওয়েসির বড় সড়কগুলো প্লাবিত হয় বা ভূমিধসে কয়েকদিনের জন্য বন্ধ থাকে। ভালো মানের টোল রাস্তা জাভা দ্বীপজুড়ে রয়েছে; তবে দ্বীপের বাইরে কেবল বড় শহর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। ইন্দোনেশিয়ার সব টোল রোডে প্রিপেইড কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে হয়। এটি ইন্ডোমারেট বা আলফামার্টের মতো দোকানে পাওয়া যায় এবং রিচার্জ করা যায়।
সিটবেল্ট অবশ্যই বাঁধতে হয়, বিশেষ করে সামনের সিটে। যদিও আইন প্রায়শই কার্যকর হয় না।
গাড়িতে আবর্জনার বাক্স রাখা ভালো। বিশেষ করে বানদুং শহরে এটি বাধ্যতামূলক।
চালকসহ ভাড়া
[সম্পাদনা]চালকসহ গাড়ি ভাড়া নেওয়া বিবেচনা করতে পারেন; খরচ তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ১৫০,০০০ রুপিয়া বা তারও কম, সঙ্গে দিনে তিনবেলা খাবার ২০,০০০ রুপিয়া–$১ রুপিয়া এবং প্রয়োজনে থাকার ব্যবস্থা। চালক থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে, কারণ তারা ব্যস্ত ট্রাফিকে কিভাবে চলতে হয় এবং কোন রাস্তা দ্রুত তা জানেন।
এই বিকল্পটি সময় ও খরচ উভয় দিক থেকেই সাশ্রয়ী হতে পারে এবং আপনাকে গণপরিবহনের বাইরে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতে সাহায্য করবে।
মোটরবাইকে
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার অনেক অংশে, যেমন বালি এবং ইয়োগিয়াকার্তা, পর্যটকদের পক্ষে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া করা সম্ভব। দাম সাধারণত ৬০,০০০-৮০,০০০ রুপিয়ার আশেপাশে থাকে। দরদাম করে দীর্ঘ ভাড়ার সময়কালের জন্য ছাড় চান। ইঞ্জিনের ক্ষমতা ১১০ সিসি থেকে ১২৫ সিসির মধ্যে থাকবে। প্রথমে গাড়িটি পরীক্ষা করতে ভুলবেন না এবং নিশ্চিত হয়ে নিন যে এটি তে বর্তমান সুরেন্ট টান্ডা নোমর কেন্দারান (এসটিএনকে। এটি নিবন্ধকরণ এবং বৈধতার প্রমাণ) রয়েছে।
অনেক ভাড়াদাতা আপনার লাইসেন্স আছে কিনা তা নিয়ে মাথা ঘামান না; তবে ইন্দোনেশিয়ায় মোটরবাইক চালাতে হলে নিজ দেশের বৈধ লাইসেন্স ও একই শ্রেণির আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (IDP) থাকতে হবে। অন্যথায় কেবল স্থানীয় SIM C (মোটরবাইক লাইসেন্স) থাকলেই চলবে। অনেক ভ্রমণ বীমা কেবল বৈধ নিজ দেশের লাইসেন্স ও IDP থাকলেই দায় স্বীকার করে। কেবল 'মোপেড' শ্রেণির লাইসেন্স যথেষ্ট নয়, এটি অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স হতে হবে।
যারা মোটরসাইকেল ভাড়া দেয়, তারা আপনার ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় না। তবে ইন্দোনেশিয়ায় মোটরসাইকেল চালানোর জন্য, নিজ দেশের উপযুক্ত শ্রেণীর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একই শ্রেণীর একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভারের পারমিট (আইডিপি)। আপনি যদি ইন্দোনেশিয়ান সুরাট ইজিন মেঙ্গেমুডি (সিম সি) না রাখেন তবে এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। এটি সেপেদা মোটর (মোটরবাইক) এর স্থানীয় লাইসেন্স। উপযুক্ত হোম-ইস্যু লাইসেন্স এবং আইডিপি না থাকলে সিম সি সরবরাহ করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অনেক ভ্রমণ বীমা পলিসি কেবল তখনই দায়বদ্ধতা স্বীকার করতে পারে যদি আপনার কাছে প্রযোজ্য হোম ইস্যু করা লাইসেন্স থাকে, সম্পূর্ণরূপে মিলে যাওয়া আইডিপি সহ। একটি 'মোপেড' শ্রেণিবদ্ধকরণ বা অনুমোদন যথেষ্ট নয়, এটি অবশ্যই একটি সম্পূর্ণ লাইসেন্স হতে হবে।
আইন অনুযায়ী হেলমেট বাধ্যতামূলক। হেলমেট ছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলে ভ্রমণ বীমা কার্যকর নাও হতে পারে। এছাড়া সর্বদা হেডলাইট ও টেললাইট জ্বালানো রাখতে হয়।
আত্মরক্ষামূলকভাবে গাড়ি চালাতে ভুলবেন না, কারণ বেশিরভাগ চালক অসতর্ক, এবং ইন্দোনেশিয়ার জরুরি বিভাগে ভর্তিকৃত বহু পর্যটকই দুর্ঘটনার সময় মোটরবাইকে ছিলেন।
অল্প খরচে ভ্রমণকারীদের জন্য এটি ভালো বিকল্প, কারণ অনেক অঞ্চলে (যেমন বালি, লম্বক) সস্তা স্থানীয় পরিবহন পাওয়া যায় না, আর পর্যটক বাস বা ট্যুর অনেক বেশি খরচসাপেক্ষ। মোটরবাইক ছাড়া স্বাধীনভাবে ঘোরা কঠিন হয়ে যায়।
বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাড়া সংস্থাগুলো পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট পরিষেবা সরবরাহ করে। এখানে আপনি এক অবস্থান থেকে একটি বাইক বিয়ে এটি অন্য জায়গায় জমা দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, ইয়োগিয়াকার্তা (জাভা) থেকে একটি বাইক বাছাই করে মাউমির (ফ্লোরেস) পর্যন্ত দূরে নামিয়ে দেওয়া। এর অর্থ আপনি বাইকটি একমুখী, আন্তঃ-দ্বীপ ভ্রমণে নিয়ে যেতে পারেন। এর মধ্যে জাভা-বালি-লম্বক-সুম্বাওয়া-ফ্লোরেসের মতো দ্বীপপুঞ্জের মধ্য দিয়ে যাত্রা করা, দ্বীপগুলোর মধ্যে এএসডিপি গাড়ি ফেরি নেওয়া এবং ভাড়া সংস্থার অফিস রয়েছে এমন শহরগুলোতে বাইকটি নামিয়ে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত আছে। ট্রান্স-ফ্লোরেস রুটটি বিশেষত জনপ্রিয়। স্পষ্টতই, এই ধরণের ভাড়া আরও ব্যয়বহুল।
ট্যাক্সিতে
[সম্পাদনা]দুই থেকে চারজনের ছোট দলের জন্য তুলনামূলকভাবে ছোট যাত্রায় সাধারণ ট্যাক্সি হতে পারে সেরা পছন্দ। ইন্দোনেশিয়ায় ট্যাক্সি ভাড়া তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং দেশের সর্বত্র মোটামুটি একই রকম। শুরুর ভাড়া ৭,০০০ রুপিয়া থেকে Rp 8,500 এর মধ্যে এবং প্রতি কিলোমিটার ভাড়া Rp 4,000 থেকে ৪,৫০০, রুপিয়া তবে যানজটে আটকে পড়লে ভাড়া বেড়ে যায় (যখন ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে থাকে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫,০০০ রুপিয়া খরচ হয়)। এই ভাড়ার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও ছোট দূরত্বে বা ফোনে বুক করলে সাধারণত একটি ন্যূনতম ভাড়া দিতে হয়। এটি সাধারণত ২৫,০০০ রুপিয়া এবং ড্যাশবোর্ডে লেখা থাকে। বেশিরভাগ মানুষ ব্লু বার্ড ট্যাক্সি কোম্পানিকে সুপারিশ করে কারণ তাদের বুকিং সুবিধাজনক, ড্রাইভাররা ভদ্র এবং নিরাপদ ড্রাইভিং করে। ব্লু বার্ড ট্যাক্সি বড় বড় শহরে পাওয়া যায় এবং যেখানে তারা থাকে, অন্য সব ট্যাক্সিও মিটার ঠিকমতো চালায়। যেসব শহরে ব্লু বার্ড নেই, সেখানে কিছু ট্যাক্সিচালক প্রতারণা করে: তারা মিটার চালালেও স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণও চাইতে পারে, দাবি করে এটি স্বাভাবিক প্রথা। ট্যাক্সিতে ওঠার আগে জিজ্ঞাসা করুন, ‘সেসুয়াই আরগো তিদাক’ (মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেবেন কি না)।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি বড় শহরে ট্যাক্সির অভাব হয় না, এমনকি ব্যস্ত সময়েও। তবে এখন ট্যাক্সি বেশি এবং যানজটের কারণে চালকরা সাধারণত ফোনে কল সেন্টারের মাধ্যমে বুকিং নিতে বা ইজি ট্যাক্সি অথবা গ্রাব ট্যাক্সি অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোনে অর্ডার নিতে পছন্দ করে। এটি অনলাইন ট্যাক্সি নামে পরিচিত। নিকটতম চালকই আপনাকে তুলে নেবে। কেবল যোগ্য ট্যাক্সি কোম্পানি ও ড্রাইভারদেরই সিস্টেমে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং সবকিছু সদর দফতর থেকে জিপিএস দ্বারা পর্যবেক্ষিত হয়।
বেশিরভাগ সাধারণ ট্যাক্সি হলো সেডান বা মাল্টিপারপাস গাড়ি। এগুলোর ইঞ্জিন ১.৫ লিটার। অনলাইন ট্যাক্সি সাধারণত ছোট ইঞ্জিনযুক্ত সিটি কার বা মাল্টিপারপাস গাড়ি ব্যবহার করে। ফলে সাধারণ ট্যাক্সি বেশি আরামদায়ক, পায়ের জায়গা বেশি এবং প্রশস্ত। তবে অনলাইন ট্যাক্সি সাধারণ ভাড়ার দুই-তৃতীয়াংশ নেয়; তাদের ড্রাইভাররা সাধারণ ট্যাক্সি চালকদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হয় এবং অনেকেই নিজের গাড়ি চালান। আর তাদের আচরণও সাধারণ ট্যাক্সি চালকদের মতো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অ্যাংকট
[সম্পাদনা]অ্যাংকট (angkutan perkotaan বা 'শহুরে পরিবহন' এর সংক্ষিপ্ত রূপ) হলো এক ধরনের ছোট মিনিভ্যান। এটি সব শহর ও বড় শহরে এবং প্রায়ই গ্রামীণ এলাকাতেও (সেখানে কখনও অ্যাংদেশ বা 'গ্রামীণ পরিবহন' নামে পরিচিত) পাওয়া যায়। এগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলে (সাধারণত একটি রঙ বা নম্বর দিয়ে চিহ্নিত থাকে), কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি বা স্টপ নেই। উঠতে চাইলে শুধু হাত তুললেই হবে। নামতে চাইলে শুধু “কিরি!” বলে চালককে ডাকতে হবে, তখন সে রাস্তার বাম (ইন্দোনেশীয়: কিরি) পাশে থামবে। শহরের ভেতরে ভাড়া সাধারণত ২,০০০ রুপিয়া থেকে 5,000। কোন রুট নিতে হবে এবং কোথায় নামতে হবে তা স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞাসা করাই ভালো।
বাজাজ
[সম্পাদনা]
বেচাক এর চেয়ে কম প্রচলিত এবং কেবল জাকার্তাতেই পাওয়া যায় ভারতীয় ধাঁচের বাজাজ (BAH-jai) তিনচাকার অটোরিকশা। এটি এখন সিএনজি-চালিত এবং পুরনো পেট্রলচালিত শব্দওয়ালা গাড়ির চেয়ে অনেক শান্ত। চালক সামনে বসে এবং যাত্রী (সর্বোচ্চ ৩ জন ছোট আকারের প্রাপ্তবয়স্ক) পেছনে বসে। কেবিন ক্যানভাসের ছাউনিতে ঢাকা থাকে, সামনে উইন্ডশিল্ড থাকে, আর দরজার অর্ধেক উচ্চতা থাকলেও জানালা থাকে না, পাশে ও পেছনে নরম প্লাস্টিকের জানালা থাকতে পারে। অতিরিক্ত ভাড়ায় আপনি চালককে অন্যত্র যেতে বলতে পারেন, এমনকি তারা আপনাকে বাজার বা ভ্রমণে নিতে রাজি হতে পারে। বাজার ভ্রমণে গেলে তারা সাধারণত নির্দিষ্ট দোকানে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে তারা আপনার কেনাকাটার মাধ্যমে বাড়তি আয় বা ফ্রি খাবার পায়।
অল্প আকারের পরিবহনের মতো এখানে দর-কষাকষি দক্ষতা খুব জরুরি এবং ভাড়ার ব্যাপারে আগে থেকেই জানা ভালো।
মোটরসাইকেল ট্যাক্সি
[সম্পাদনা]
ওজেক (OH-jeck) হলো মোটরসাইকেল ট্যাক্সি। এগুলো বিপজ্জনক, অনেক সময় অস্বস্তিকর, কেবল একজন যাত্রী নিতে পারে এবং বেশি মাল বহন করতে পারে না, তবে এগুলো সস্তা এবং যানজট এড়িয়ে যেতে পারে, তাই খুব জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী ওজেক (ওজেক পাঙ্গকালান) বাজার বা স্টেশনের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি করে। দর-কষাকষি দক্ষতা এখানে জরুরি এবং ভ্রমণের আগে ভাড়ার নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। ৪ কিলোমিটারের জন্য ভাড়া ১০,০০০ রুপিয়া থেকে ১৫,০০০, রুপিয়া তবে দর-কষাকষি জরুরি। কিছু চালক আগে ভাড়ায় রাজি হলেও পরে অতিরিক্ত টাকা চাইতে পারে, দাবি করে এটি স্বাভাবিক এবং রাগান্বিত আচরণ করতে পারে। সহিংসতার সম্ভাবনা কম, বরং অপমান করাই উদ্দেশ্য, তবে সতর্ক থাকা উচিত।
কিছু এলাকায় ওজেকই একমাত্র গণপরিবহন। যেমন গ্রামীণ এলাকায় যেখানে রাস্তার অবস্থা খারাপ বলে গাড়ি বা বাস চলতে পারে না। বড় শহর থেকে বেশি দূরে না গেলেও এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে। ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে একচেটিয়া সেবার কারণে, তবে গ্রামীণ চালকরা শহরের তুলনায় সৎ হতে পারে।
রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ওজেক শিল্পে বিপ্লব এনেছে, প্রথমে গো-জেক এবং পরে গ্রাবসহ অন্যান্য সংস্থা এটি গ্রহণ করে। সবুজ জ্যাকেট দেখে সহজেই চেনা যায়, ভাড়া প্রতিযোগিতামূলক, ভাড়ার হিসাব পরিষ্কার এবং সেবায় অসন্তুষ্ট হলে অভিযোগ করার সুযোগ থাকে। ন্যূনতম ভাড়া ৭,০০০ রুপিয়া থেকে ১২,৫০০ রুপিয়া এবং প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ৩,০০০ রুপিয়া বাড়তি চার্জ। এর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসেছে ওজেক আরগো। এটি ট্যাক্সি মিটার ব্যবহার করে।
বেচাক
[সম্পাদনা]
বেচাক ("BEH-chahk") হলো রঙিনভাবে সাজানো ত্রিচক্রযান (রিকশা)। এটি শহরের আবাসিক এলাকায় ছোট দূরত্বের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। যাত্রীর আসন ক্যানভাস বা প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ঢাকা থাকতে পারে এবং বৃষ্টির সময় সামনের দিকে স্বচ্ছ প্লাস্টিক যোগ করা হয়। কিছু এলাকায় চালক যাত্রীর পেছনে বসে, আবার কিছু এলাকায় (যেমন মেদান) চালক পাশে বসে। কিছু চালক তাদের বেচাক-এ ছোট মোটর লাগাতে শুরু করেছে।
গন্তব্যে পৌঁছানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া এড়ানোর জন্য দর-কষাকষি দক্ষতা জরুরি। কিছু চতুর চালক গন্তব্যে পৌঁছে অতিরিক্ত টাকা চাইতে পারে, তাই আগে থেকেই ভাড়া ঠিক করে নিন। গ্রুপে থাকলে একাধিক বেচাক ভাড়া নিতে পারেন, এমনকি মালপত্র, বরফ, বাজারের জিনিস বা নির্মাণসামগ্রীও পরিবহন করতে পারেন। অতিরিক্ত ভাড়ায় আপনি অন্যত্র যেতে বলতে পারেন, বা বাজার/ভ্রমণে নিতে বলতে পারেন। সাধারণত তারা এমন দোকানে নিয়ে যায় যেখান থেকে তারা বাড়তি আয় বা ফ্রি খাবার পায়।
জাকার্তা বা বালিতে কোনো বেচাক নেই। পরিবর্তে মোটরচালিত বাজাজ (BAH-jai)। এটি থাই টুক-টুকের মতো, একই কাজ করে। অন্যান্য প্রদেশে (যেমন উত্তর সুমাত্রা, আচেহ, গোরোন্তালো) সাইডকারসহ মোটরবাইকও পাওয়া যায়। এগুলোকে বেন্তর বা বেমো (বেচাক বর্মোটর এর সংক্ষিপ্ত রূপ) বলা হয়। এগুলোও চাহিদামতো ডাকা যায় রাইড-শেয়ারিং অ্যাপের মতো।
বেচাক হলো সবচেয়ে ব্যয়বহুল গণপরিবহন, এবং বর্তমানে খুব কম ব্যবহৃত হয়, প্রধানত বৃদ্ধা মহিলারা ঐতিহ্যবাহী বাজার থেকে মাল আনতে ব্যবহার করেন; তরুণরা মাছ বা দুর্গন্ধযুক্ত কিছু বহন করলে ওজেক নেয়, নাহলে অ্যাংকট ব্যবহার করে। কিছু শহরে যেমন যোগজাকার্তায়, এর ব্যবহার এতটাই কমে গেছে যে এখন প্রায় শুধু পর্যটকরাই ব্যবহার করে।
পায়ে হেঁটে
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার বড় শহরগুলোতে পথচারীবান্ধব পরিবেশ খুবই খারাপ, তাই ছোট দূরত্ব ছাড়া হাঁটা এড়িয়ে চলা ভালো। সঠিক ফুটপাত বিরল, আর থাকলেও বাধাসম্পন্ন, আর রাস্তায় হাঁটলে পাগলাটে ট্রাফিক এড়াতে হবে। চিহ্নিত ক্রসিংয়ে ভিড়ের সঙ্গে পার হোন বা ওভারব্রিজ ব্যবহার করুন।
ঘোড়ার গাড়িতে
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘোড়ার গাড়িকে বলা হয় ডেলমান (DEL-mahn), দোকার (DOE-car) বা আন্দং (AHN-dong)। এই নাম গাড়ির ধরণের উপর নির্ভর করে। ঘোড়ার গাড়ি সর্বত্র পাওয়া যায় না, তবে য়াপনার ধারণার চেয়েও এগুলো বেশি প্রচলিত। কিছু এলাকায় যেমন গিলি এয়ার (লম্বক)-এ মোটরযান ব্যবহার কঠিন বা নিষিদ্ধ, সেখানে এটি একমাত্র পরিবহন, তবে বড় শহর যেমন জগজাকার্তাতেও পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট রুটে চলে, তবে অতিরিক্ত ভাড়ায় অন্যত্র যাওয়া বা দর্শন/বাজার ভ্রমণ করানো সম্ভব।
বাজার ভ্রমণে গেলে সাধারণত এমন দোকানে নিয়ে যায় যেখান থেকে তারা আপনার কেনাকাটার মাধ্যমে বাড়তি আয় বা ফ্রি খাবার পায়।
অল্প আকারের পরিবহনের মতো এখানে দর-কষাকষি দক্ষতা জরুরি এবং ভাড়ার ব্যাপারে আগে থেকেই জানা ভালো।
ঘোড়াগুলো সবসময় ভালোভাবে যত্ন নেওয়া হয় না, অনেক সময় শারীরিকভাবে দুর্বল থাকে।
দেখুন
[সম্পাদনা]প্রাকৃতিক আকর্ষণ
[সম্পাদনা]- আরও দেখুন: ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্যান, আগ্নেয়গিরি#ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় আছে ১৬৭টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এই সংখ্যাটি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ বেশিরভাগই সুপ্ত এবং সাধারণত আপনি তাদের ভূপ্রকৃতিই দেখতে পাবেন। অর্থাৎ সক্রিয় আগ্নেওগিরির ধোঁয়া বা ম্যাগমা দেখার সম্ভাবনা বেশ কম। পর্যটকদের জন্য সহজলভ্য কিছু পর্বত হলো ব্রোমো-টেংগার-সেমেরু জাতীয় উদ্যান ও ইজেন ক্রেটার (পূর্ব জাভা), লম্বকের রিঞ্জানি পর্বত এবং সবচেয়ে সহজ বাতুর পর্বত, আর বালির আগুং পর্বত।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত হওয়া আশ্চর্য নয়। বালি ও লম্বক ছাড়াও, মালুকু, নুসা তেংগারা ও সুলাওয়েসির মতো কম পরিচিত জায়গায়ও চমৎকার সৈকত আছে। ১৮,০০০+ দ্বীপের দেশে বিকল্প কার্যত অফুরন্ত।
ইন্দোনেশিয়া দুইটি বন্যপ্রাণী অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত; পশ্চিম অংশ ইন্দোমালয় অঞ্চল এবং পূর্ব অংশ অস্ট্রালেশীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবশিষ্ট ক্রান্তীয় অরণ্যগুলোর কিছু রয়েছে। এগুলোতে ওরাংওটাং ও অন্যান্য প্রাইমেট থেকে শুরু করে মারাত্মকভাবে বিপন্ন জাভান গণ্ডার এবং সুমাত্রান বাঘ পর্যন্ত বিস্ময়কর বৈচিত্র্যের বন্যপ্রাণী বসবাস করে। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য প্রজাতির পাখি। যেসব অরণ্য এলাকা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত, তার মধ্যে রয়েছে উজুং কুলন জাতীয় উদ্যান পশ্চিম জাভায়, এবং সুমাত্রার তিনটি বিশাল উদ্যান। এগুলো একত্রে গঠন করেছে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হেরিটেজ অব সুমাত্রা: বুকিত বারিসান সেলাতান জাতীয় উদ্যান, গুনুং লেউসার জাতীয় উদ্যান এবং কেরিন্সি সেবলাত জাতীয় উদ্যান। দুর্ভাগ্যবশত, কালিমান্তানের অরণ্য অবৈধ বন নিধনের কারণে উদ্বেগজনক হারে ধ্বংস হচ্ছে।
জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে নিকটবর্তী অরণ্যগুলোতেও (যেমন জাভার বড় অংশে), পাখির বাণিজ্যের কারণে অনেক প্রজাতি দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দরিদ্র ফাঁদ-বসানো মানুষদের জন্য পাখি প্রধান আয়ের উৎস, এবং এগুলো শহরের মানুষের কাছে বিক্রি হয়। তারা বেশিরভাগ সময় তাদের একক খাঁচায় বাকি জীবন কাটাতে বাধ্য করে। সাধারণত দেখা যায় ফিঞ্চ, চড়ুই, গাঙচিল এবং আরও কিছু কম জনপ্রিয় প্রজাতি। পাপুয়ার বিভিন্ন প্রজাতির বুরুং সেন্দ্রাওয়াসি (বার্ড অব প্যারাডাইস) প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। অনেক স্থানে সাপও ভয়াবহ হারে হ্রাস পাচ্ছে, কারণ মানুষ সাধারণত সাপ দেখলেই প্রতিক্রিয়া হয়: "মেরে ফেলো!" তবে এখনো দেখা যায় বিচ্ছু, হুইপ বিচ্ছু, মাকড়সা, মোল ক্রিকেট (যারা রাতে ভয়ংকর শব্দ করে), নানা প্রজাতির প্রজাপতি ও পঙ্গপাল, দুর্লভ কাঠবিড়ালি, কিছু প্রজাতির বানর, গেকো, যেমন তোকে (TOE-kay: টোকাই গেকো) এবং বিভিন্ন প্রজাতির চিচক (গেকো), পাশাপাশি অপ্রিয় ইঁদুর, ছুঁচো, তেলাপোকা, উইপোকা এবং অগণিত প্রজাতির পিঁপড়া। যারা মাকড়সা বা পতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করতে চায়, তাদের জন্য ইন্দোনেশিয়া স্বর্গরাজ্য। বালিতে রয়েছে একটি সুন্দর প্রজাপতি উদ্যান এবং টার্টল আইল্যান্ড। ইন্দোনেশিয়ার সাগরে সাত প্রজাতির মধ্যে ছয় প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ পাওয়া যায়, আর দক্ষিণ সুলাওয়েসির সেলায়ার দ্বীপের কামপুং পেন্যুতে পাওয়া যায় চার প্রজাতি। এটি বিশ্বের অন্য কোথাও নেই।
আরও পূর্বে, কমোডো দ্বীপ বিখ্যাত কমোডো ড্রাগন এবং বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। ইন্দোনেশিয়ার একেবারে পূর্ব প্রান্তে পাপুয়ার দুর্গম লরেঞ্জ জাতীয় উদ্যান-এ রয়েছে একটি স্থায়ী হিমবাহ, এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্যান।
ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে বহু সুন্দর স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং স্থান, যেমন বালি, লমবক, নুসা তেংগারা, হাজার দ্বীপপুঞ্জ (জাকার্তার উত্তরে), বুনাকেন, সেলায়ার দ্বীপপুঞ্জ এবং রাজা আমপাট। ইন্দোনেশিয়া সার্ফিংয়ের জন্যও বিখ্যাত, বিশেষ করে বালি, জাভার দক্ষিণ উপকূলের সিমাজা এবং পানগান্দারান, এবং মেনতাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ।
ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের জন্য অসাধারণ সমৃদ্ধ। এর কিছু স্থান অত্যন্ত প্রাচীন এবং অনেকগুলো এখনো স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আজীবন ভ্রমণ করলেও সবকিছু দেখা শেষ হবে না!
বোড়োবুদুর মধ্য জাভায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ স্তূপ। এর নির্মাণকাল অষ্টম শতক। এর কাছেই ইয়গ্যাকার্তার মধ্যে রয়েছে প্রামবানান, অসাধারণ হিন্দু মন্দির। এটি কয়েক বছর পর নির্মিত। স্থাপত্যশৈলীতে সহজেই বোঝা যায় এটি ভারতীয় বা অন্যান্য মূল কেন্দ্রের থেকে আলাদা, কারণ এগুলো জাভানিজ সংস্কৃতির সাথে মিশ্রিত। এই দুটি মন্দির, সঙ্গে ইয়গ্যাকার্তা এবং সোলো (পূর্বের রাজ্য), মধ্য জাভায় এক জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করেছে। বলা হয়, যদি কেউ মন্দিরের উপরের দিকে থাকা স্তূপ-এর ভেতরে থাকা কোনো বুদ্ধ মূর্তির হাত স্পর্শ করতে পারে, তবে সৌভাগ্য আসে, যদিও কর্তৃপক্ষ এটি নিরুৎসাহিত করে। দুঃখজনকভাবে, প্রামবানান কয়েক বছর আগে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং অর্থাভাবে সংস্কার কাজ থেমে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার অনেক ঐতিহাসিক স্থানই এই সমস্যার শিকার এবং স্থানীয়দের গ্রাফিতি বা আবর্জনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেমাক, মধ্য জাভার উত্তর উপকূলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি, মসজিদ আগুং ("মহা মসজিদ") এবং সুনান কালিজাগা সমাধি। নিকটবর্তী সেমারাং-এ রয়েছে বহু বৌদ্ধ, হিন্দু ও কনফুসীয় মন্দির, পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জা। কাছাকাছি বানডুংগান-এ রয়েছে ঐতিহাসিক গেদুং সংগো ("নয়টি ভবন") মন্দির কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে ৯টি হিন্দু মন্দির এবং পরিবার ও পর্যটকদের জন্য নানা কার্যক্রম। এছাড়াও রয়েছে পুরনো সেমারাং। এখানে অনেক ডাচ যুগের স্থাপনা রয়েছে। লাওয়াং সেউ ("এক হাজার দরজা") তুগু মুদা মোড়ে অবস্থিত একটি বিশাল কমপ্লেক্স। এখানে ডাচরা রেলওয়ে অফিস, কারাগার, হাসপাতাল ও সেনা ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করেছিল, পরে জাপানিরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক দখল করেছিল। এখানে রঙিন কাচের জানালা ও অসংখ্য দরজা রয়েছে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, লাওয়াং সেউ ভূতুড়ে, এখানে ৩০টিরও বেশি আত্মা ঘোরাফেরা করে, যদিও একটিও দেখতে হলে অনেক ভাগ্যের প্রয়োজন!
এখনো মধ্য জাভায়, ডিয়েং মালভূমিতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির। এটি বোড়োবুদুরের প্রায় এক শতাব্দী আগের। সোলোর উত্তরে সাঙ্গিরান, ত্রিনিল-এনগাওয়ি জেলায় পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস বা "জাভা মানব"ের প্রত্নতাত্ত্বিক খননস্থান ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

এত বিশাল দ্বীপপুঞ্জে বিভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র্য থাকা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। সুমাত্রায় আছে পিতৃতান্ত্রিক বাটাক ও মাতৃতান্ত্রিক মিনাংকাবাউ, জাভায় রয়েছে সুন্দানিজ ও জাভানিজ ওয়ায়াং। এগুলো মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে থেকেও আলাদা। বালির অনন্য হিন্দু সংস্কৃতি রয়েছে। এখানে সুন্দরভাবে রক্ষিত মন্দির (পুরা) এবং একের পর এক রঙিন উৎসব পালিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেসাকিহ মন্দির, পুরা উলুন দানাউ ব্রাতান, পুরা উলুওয়াতু। তানাহ লট নামের একটি অনন্য মন্দির রয়েছে সাগরের ছোট্ট দ্বীপে। এটি একটি উঁচু জমির সেতু দিয়ে পৌঁছানো যায়। উত্তর বালিতে এখনো কিছু গ্রাম রয়েছে যেখানে মূল বালিনিজ জনগোষ্ঠী "বালি আগা" বসবাস করে। ট্রুনইয়ান দ্বীপে মৃতদেহ মাটির উপরে রাখা হয়, তবুও কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় না।
আরও পূর্বে, সুম্বা হলো পৃথিবীর অল্প কয়েকটি টিকে থাকা মেগালিথিক সংস্কৃতির একটি কেন্দ্র। অনেক উপজাতি এখনো ছোট ছোট রাজ্যে বসবাস করে, যদিও এ প্রথা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। সুলাওয়েসির টানা তোরাজা অঞ্চল বিখ্যাত তাদের অনন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য। পাপুয়ার দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ করতে প্রচুর পরিকল্পনা, অর্থ ও কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করার ক্ষমতা লাগে। তবে যারা সত্যিকারের বন্য অভিজ্ঞতা পেতে চান এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে প্রায় কোনো যোগাযোগ না থাকা সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ করতে চান, তাদের জন্য এটি পৃথিবীর সেরা বিকল্পগুলোর একটি।
ভ্রমণ পরিকল্পনা
[সম্পাদনা]- পন্টিয়ানাক থেকে কুচিং
- গ্রেট পোস্ট রোড — উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব জাভা দ্বীপজুড়ে বিস্তৃত সড়কপথ।
- গুনুং সেমেরু — একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে কঠিন ট্রেক।
দশটি নতুন বালি
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ান সরকার ২০১৬ সালে "দশটি নতুন বালি" প্রকল্প চালু করে। এর উদ্দেশ্য হলো পর্যটক সংখ্যা বাড়ানো, পাশাপাশি বালিতে অতিরিক্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ ধ্বংস রোধ করা। এ জন্য নিচের দশটি স্থানে বিশেষ অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে:
করণীয়
[সম্পাদনা]ডাইভিং
[সম্পাদনা]- দেখুন: ইন্দোনেশিয়ায় ডাইভিং
ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে বিশ্বের সেরা স্কুবা ডাইভিং স্পটগুলোর মধ্যে কয়েকটি। দেশটি তথাকথিত কোরাল ট্রায়াঙ্গলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৫,০০০ প্রজাতির মাছ এবং বিশ্বের ২০% প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। এর সুন্দর প্রবালপ্রাচীর পর্যটকদের বড় আকর্ষণ, বিশেষ করে বুনাকেন (উত্তর সুলাওয়েসি), ওয়াকাতোবি (দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসি), আলর দ্বীপপুঞ্জ (নুসা তেংগারা) এবং রাজা আমপাট (পাপুয়া)। বালির কাছাকাছি ডাইভিং তেমন ভালো না হলেও, নুসা পেনিদা এবং গিলি দ্বীপপুঞ্জ দুর্দান্ত বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সুযোগ দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। পুলাউ ওয়ে (ভারত মহাসাগর) সুমাত্রার সেরা ডাইভিং স্পট।
স্পা
[সম্পাদনা]নিজেকে যত্ন করা বা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ইন্দোনেশিয়া অন্যতম সেরা স্থান। স্পা ভ্রমণকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় কার্যক্রম। প্রাকৃতিক উপাদান ও স্নিগ্ধ মালিশের সমন্বয় ডিটক্সিফিকেশনের জন্য উপযুক্ত। এগুলো সাধারণ কুঁড়েঘর থেকে শুরু করে পাঁচতারা হোটেলের বিলাসবহুল "ওয়েলনেস সেন্টার" পর্যন্ত বিস্তৃত। বাজেট অনুসারে সব ধরনের বিকল্প আছে। বালির সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
মালিশ পছন্দ করলে, পৃথিবীর আর কোনো স্থানে এত কম দামে এত উচ্চমানের সেবা পাওয়া কঠিন। এটি হতে পারে পাঁচতারা হোটেলে অথবা নিরিবিলি সৈকতের নারকেল গাছের নিচে।
সার্ফিং
[সম্পাদনা]- দেখুন: ইন্দোনেশিয়ায় সার্ফিং
ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণকারী সার্ফারদের জন্য প্রধান গন্তব্যস্থল।
মেনতাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ (সুমাত্রার পশ্চিম উপকূল) বহু বিশ্বমানের সার্ফিং স্পটের জন্য বিখ্যাত। এখানে যেতে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো দু’সপ্তাহের জন্য ব্যক্তিগত নৌকা ভাড়া নেওয়া। তবে পাদাং থেকে পাবলিক ফেরি-ও চালু রয়েছে। ঠিক উত্তরে নিয়াস-ও অভিজ্ঞ সার্ফারদের মধ্যে সমান জনপ্রিয়।
আরও পূর্বে, বালি ও ছোট্ট নুসা লেম্বোংগানেও দুর্দান্ত ঢেউ পাওয়া যায়। লমবকের দক্ষিণ অংশও সমান ভালো, আর সাহসীরা চাইলে সুম্বাওয়াতে যেতে পারেন। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের সার্ফিং।
ইন্দোনেশিয়ার সব সার্ফিং সৈকত নিয়ে "ইন্দো সার্ফ অ্যান্ড লিঙ্গো" নামের একটি চমৎকার গাইডবুক প্রকাশিত হয়েছে । এখানে সেরা সার্ফ ক্যাম্প ও চার্টার ইয়টগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে।
হাইকিং ও পর্বতারোহণ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় ১০০টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, বোর্নিও ও পাপুয়া বাদে সব এলাকায়। অনেকগুলোতে আরোহণ সম্ভব, তবে গাইডসহ যেতে হবে, ০ থেকে ৩০°সে পর্যন্ত তাপমাত্রার উপযোগী পোশাক নিতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। লরেঞ্জ জাতীয় উদ্যানের পুন্চাক জয়া (কার্সটেন্স পিরামিড) এখন বিশ্বের সেভেন সামিটসের অন্তর্ভুক্ত।
কারাওকে
[সম্পাদনা]যদি স্পা ট্রিটমেন্টেও পুরোপুরি আরাম না পান, তবুও ইন্দোনেশিয়ায় আপনি খুব কাছেই কারাওকে পাবেন। এক-দুই ঘণ্টা টম জোন্স বা মারাইয়া কেরির মতো গাইলে জীবনের সব চাপ দূর হয়ে যাবে। কারাওকের মান গানের তালিকা আর পরিবেশ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। জাতীয় পর্যায়ে কিছু চেইন রয়েছে। ইনুল ভিজটা, হ্যাপি পাপি, মাস্টারপিস ইত্যাদি বিপণী বিতান শহরের কেন্দ্রে পাওয়া যায়। এগুলোতে গেলে আপনি এমন জায়গা এড়াতে পারবেন যেগুলো আসলে পতিতালয়ের মতো। এখানে আপনি একটি প্রাইভেট রুম পাবেন। এখানে বেল বাজিয়ে খাবারের অর্ডার দিতে পারবেন, আর সাউন্ড সিস্টেমে এত রিভার্ব থাকবে যে, যেকারও গলাও সুন্দর শোনাবে।
কেনাকাটা
[সম্পাদনা]টাকা
[সম্পাদনা]|
Indonesian Rupiah-এর বিনিময় হার
July 2025-এর হিসাবে:
বিনিময় হার ওঠানামা করে। এই এবং অন্যান্য মুদ্রার বর্তমান রেট xe.com থেকে পাওয়া যায় |

ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা হলো রুপিয়া, সংক্ষেপে Rp (ISO কোড: IDR)।
- নোট: ১,০০০ রুপিয়া (হলুদ), ২,০০০ রুপিয়া (ধূসর), ৫,০০০ রুপিয়া (বাদামি), ১০,০০০ রুপিয়া (বেগুনি), ২০,০০০ রুপিয়া (সবুজ), ৫০,০০০ রুপিয়া (নীল), এবং ১০০,০০০ রুপিয়া (লাল)। বর্তমানে তিনটি সিরিজ চালু আছে—২০০৪, ২০১৬ এবং ২০২৩ সিরিজ। এখানে জাতীয় বীরদের ছবি রয়েছে।
নতুন বড় অঙ্কের রঙিন নোট সহজেই আলাদা করা যায়। তবে ছোট নোটগুলো প্রায় একই রঙের ফিকে হলুদ, সবুজ আর বাদামি। এগুলো প্রায়ই নোংরা ও ছেঁড়া অবস্থায় থাকে। ২০০০ সালের আগের নোট আর বৈধ নয়।
- মুদ্রা: ১০০, রুপিয়া ২০০, রুপিয়া ৫০০, রুপিয়া আর ১,০০০ রুপিয়া। বর্তমানে তিনটি সিরিজ চালু আছে—২০০৩ সালে পাখি-ছাপা, ২০১০ সালের ১,০০০ রুপিয়া মুদ্রা এবং ২০১৬ সালের বীর-ছাপা সিরিজ।
মুদ্রা তেমন জনপ্রিয় হয়নি, কারণ মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত এর মান কমিয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় মুদ্রা ১,০০০ রুপিয়ার দাম মাত্র প্রায় US$0.06। সাধারণত শুধু সুপারমার্কেট বা খুচরা লেনদেনে এগুলো পাওয়া যায়। ৫০০ রুপিয়ার কম মুদ্রা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।
রেস্তোরাঁর মেনুতে বা কথোপকথনে অনেক সময় শেষ তিনটি শূন্য বাদ দেওয়া হয়। যেমন, নাসি গোরেং - ২৫ রুপিয়া মানে আসলে $১ রুপিয়া রুপিয়া।
অন্যান্য মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা
[সম্পাদনা]মার্কিন ডলার ইন্দোনেশিয়ায় কার্যত দ্বিতীয় মুদ্রা। তবে সাধারণত বিনিয়োগ বা বড় কেনাকাটায় ব্যবহার হয়, ছোটখাটো খাবার কেনায় নয়। আইন অনুযায়ী, সব লেনদেন রুপিয়ায় করতে হয় এবং দামও রুপিয়াতেই দিতে হয়। পর্যটন এলাকায় কিছু দোকান মার্কিন ডলার নেয়, তবে সেটা আইনবিরোধী এবং বিনিময় হারও খারাপ হয়। ক্রেডিট কার্ডের বিলও আইনি ভাবে রুপিয়াতেই নিতে হয়।
ডলারের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ডলার, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, আর কিছু বড় আন্তর্জাতিক মুদ্রাও গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রে। তবে এখানেও বিনিময় হার সাধারণত খারাপ।
পেমেন্ট কার্ডের ব্যবহার
[সম্পাদনা]ভিসা, মাস্টারকার্ড ও জেসিবি কার্ড হোটেল আর বড় দোকান-রেস্তোরাঁয় গ্রহণযোগ্য। আমেরিকান এক্সপ্রেস অনেক সময় সমস্যায় ফেলে। ছোট ব্যবসায় নগদ টাকার চেয়ে ২–৫% বেশি চার্জ নেওয়া হয়। কিছু মেশিনে আপনি চাইলে টাকা কার্ডের মূল দেশের মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারেন, তবে সতর্ক থাকুন। শুধু ম্যাগনেটিক স্ট্রিপওয়ালা কার্ড সহজেই ক্লোন হতে পারে। চিপ কার্ড তুলনামূলক নিরাপদ।
অন্য বিকল্প হলো স্টোরড ভ্যালু কার্ড। এটা দেশজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংক দেয় এবং অ্যাকাউন্ট খোলার দরকার হয় না। ছোট দোকান, টোল, গণপরিবহন ও ভবনের পার্কিংয়ে এটি ব্যবহার করা যায়।
বিনিময়
[সম্পাদনা]জাভা, বালি আর লম্বোকে সহজেই টাকা বদলানো যায়। তবে অন্য দ্বীপে যাওয়ার আগে যথেষ্ট রুপিয়া সঙ্গে রাখা ভালো। বড় শহরে সব আন্তর্জাতিক মুদ্রা সহজেই বদলানো যায়, তবে ছোট জায়গায় শুধু মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা সৌদি রিয়াল নেওয়া হয়। নোটের অবস্থা নিয়ে তারা খুব খুঁতখুঁতে। ২০০৬ সালের আগের ডলার বা ছেঁড়া, কুঁচকানো, দাগযুক্ত নোট প্রায়শই ফেরত দেওয়া হয়। নকল ডলারও অনেক পাওয়া যায়। তাই নতুন নোটে বেশি মূল্য মেলে। ১৯৯৬ সালের ডলারের ক্ষেত্রেও সিরিয়াল নম্বর দেখে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়।
রুপিয়া থেকে ডলার করতে চাইলে মানি এক্সচেঞ্জ খুশি মনে নেবে। তবে পার্থক্য অনেক বেশি (প্রায় ১০% পর্যন্ত)। অনেক মানি এক্সচেঞ্জ ধোঁকাবাজি করে। গোনার সময় বিভ্রান্ত করে টাকা কমিয়ে দেয়। ভালো হয় বন্ধু নিয়ে যাওয়া। যারা অস্বাভাবিক ভালো হার দেয় তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। তারা এক দাম বলবে, গোনার সময় আরেকটা করে দেখাবে, পরে কমিশন বা ট্যাক্সের নামে ৬–৮% কেটে নেবে।
এটি এম
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার সব বড় শহর ও পর্যটন এলাকায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে (Plus/Cirrus বা Alto) এটি এম পাওয়া যায়। একবারে ২৫–৩০টি নোট তোলা যায়, দৈনিক সীমা ১০ রুপিয়া–15 মিলিয়ন। সাধারণত ৫০,০০০ রুপিয়া বা ১০০,০০০ রুপিয়া নোট দেয়। বড় নোট ছোট জায়গায় খরচ করা কঠিন হতে পারে। তাই নগদ টাকা মজুত রাখা ভালো।
মোবাইল পেমেন্ট
[সম্পাদনা]দোকান ও রেস্তোরাঁয় মোবাইল পেমেন্ট জনপ্রিয় হচ্ছে। দুটি বড় প্ল্যাটফর্ম হলো GoPay (Go-Jek এর) এবং Ovo। এগুলো দিয়ে গ্র্যাব রাইডের ভাড়াও দেওয়া যায়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও এটি এম বা দোকান (আলফামার্ট) থেকে রিচার্জ করা যায়।
২০২৪ সাল থেকে এনএফসি পেমেন্ট (অ্যাপল পে, গুগল ওয়ালেট) কিছু দোকানে চালু হয়েছে, তবে খুব নির্ভরযোগ্য নয়।
খরচ
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়ায় জীবন সস্তা, যদি স্থানীয়দের মতো থাকতে পারেন। যেমন, ২০,০০০ রুপিয়া (প্রায় $১.৫০ মার্কিন ডলার) দিয়ে রাস্তার খাবার, এক প্যাকেট সিগারেট, ৩ কিমি ট্যাক্সি ভাড়া বা ৩ লিটার পানি কেনা যায়। ৩০০,০০০ রুপিয়া (প্রায় $২০ মার্কিন ডলার) হোটেল রুমে নাশতাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ৮,৫০০ রুপিয়া (প্রায় $০.৬৫ মার্কিন ডলার) দিয়ে এক লিটার পেট্রল পাওয়া যায়। বড় শহর যেমন জাকার্তা বা বালিতে দাম বেশি, ছোট শহর যেমন যোগ্যাকার্তা বা বানডুংয়ে কম। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় দাম বেশি, কারণ পরিবহন খরচ বেশি। তবে জ্বালানি ও সুপারমার্কেটের দাম প্রায় একই।
বড় রেস্তোরাঁ, হোটেল ইত্যাদিতে ১০% ভ্যাট আর সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। অনেক সময় দামের পাশে "++" চিহ্ন থাকে বা মেনুর নিচে ছোট অক্ষরে লেখা থাকে।
টিপস
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় টিপস দেওয়া প্রচলিত নয়। কোথাও নিরুৎসাহিত করা হয়, কোথাও উৎসাহিত, আবার কোথাও নিরপেক্ষ। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায়, বিশেষ করে জাভা ও বালিতে টিপস আশা করা হয়। তবে বাধ্যতামূলক নয়। যদি মনে হয় কেউ অতিরিক্ত ভালো সেবা দিয়েছে, তবে টিপস দিতে পারেন। সাধারণত ১০,০০০ রুপিয়া দিয়েই একটি খাবার কেনা যায়, তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ইন্দোনেশিয়ানরা নিজেরা সচরাচর টিপস দেয় না, যদি না সেবা অসাধারণ হয়। টিপস দিলে সরাসরি ব্যক্তিকে দিন। সাধারণত ডান হাতে ভাঁজ করে চুপিসারে দেওয়া হয়, যেন হ্যান্ডশেকের মতো। প্রকাশ্যে না করাই রীতি।
কিছু সংস্কৃতিতে তিনবার না করার পর গ্রহণ করা প্রচলিত। তবে বুঝে নিতে হবে সেটা ভদ্রতা নাকি সত্যিই অস্বীকৃতি।
মনে রাখবেন, অনেক সময় মানুষ নিজের দুঃখের গল্প বলে টিপস পাওয়ার জন্য। যদি অতিরিক্ত বিশদ গল্প বলে, তবে সতর্ক থাকাই ভালো।
কেনাকাটা
[সম্পাদনা]কেনাকাটার সময়
[সম্পাদনা]পশ্চিমা দেশে বেশিরভাগ দোকান রবিবার বন্ধ থাকে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় ঠিক উল্টো। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনগুলো সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। জাকার্তার একশরও বেশি শপিং মলের মধ্যে কিছুতে মধ্যরাতে ছাড় দিয়ে কেনাকাটার সুযোগও থাকে। জাকার্তা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শপিং মলের শহরগুলোর একটি। বিলাসবহুল ও বড় মলে প্রায় সব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আসল পণ্য পাওয়া যায়। এসবের দাম সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনীয়। তানাহ আবাং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় কাপড় ও গার্মেন্টসের বাজার। এখানে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা আসে একসাথে অনেকগুলো (যেমন এক ধরনের ২০টি কাপড়) কিনতে। জাকার্তার মাঙ্গা দুয়া এলাকার আইটিসিতে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। এখানে এক টুকরা বা প্যাকেজ দুইভাবেই কেনা যায়। মালয়েশিয়ার মানুষ বান্দুং শহরে আসে ইসলামি পোশাক ও রঙিন হিজাব কিনতে।
শপিং মল সাধারণত সকাল ১০টায় খোলে। বড় দোকানগুলো সকাল ৬টা থেকেই খোলা থাকে। দুই ধরনের দোকানই রাত ৯টা–১০টার মধ্যে বন্ধ হয়। সপ্তাহে ৭ দিন খোলা থাকে। ঐতিহ্যবাহী বাজার ভোরের নামাজের পর থেকেই জমজমাট হয়ে ওঠে। অনেক বাজার দুপুর নাগাদ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বড় শহরে কিছু বাজার সারাদিন খোলা থাকে। খোঁজ নিলে পাওয়া যাবে। বড় শহরে এখন ২৪ ঘণ্টা খোলা মিনি-মার্টও সাধারণ ব্যাপার।
ইদুল-ফিতর (লেবারান) এলে দোকানপাট কয়েকদিন বন্ধ থাকতে পারে বা দেরিতে খোলে। তবে অমুসলিম প্রধান এলাকায় যেমন উত্তর সুলাওয়েসি আর বালিতে এটা খুব একটা হয় না। বড়দিনেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় (যেমন উত্তর সুলাওয়েসি আর উত্তর সুমাত্রার কিছু অংশে) এবং চীনা ব্যবসায়ী এলাকার মতো গ্লদোক (পশ্চিম জাকার্তা) বা মাঙ্গা দুয়াতে (উত্তর জাকার্তা)। কারণ ইন্দোনেশিয়ার অনেক চীনা বংশোদ্ভূত মানুষ খ্রিস্টান।
কনভিনিয়েন্স স্টোর
[সম্পাদনা]দেশের প্রায় প্রতিটি শহরে আলফামার্ট আর ইন্দোমার্ট আছে। বিদেশি ব্র্যান্ড সার্কেল কে এবং জাপানি ব্র্যান্ড ফ্যামিলিমার্ট ও লাউসন বড় শহরে পাওয়া যায়। আবার কিছু শহরে এগুলো না থাকায় বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য বন্ধ করা হয়। সেখানে স্থানীয় ছোট দোকান পাওয়া যায়, সাধারণত mart শব্দ দিয়ে চেনা যায়। গ্রামে তকো কেলোতং (toko kelontong) বা ওয়ারুং (warung) নামে দোকান থাকে। এগুলো বড় শহরেও দেখা যায়, যেমন জাকার্তায়। কারণ এখানে দাম মিনি-মার্কেটের চেয়ে কম। তবে এসব দোকান ছোট, অনেকসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। দোকানগুলো সাধারণত সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে ব্যস্ত এলাকায় সারারাত খোলা থাকতে পারে।
এসব দোকানে সাধারণত প্যাকেটজাত স্ন্যাকস আর ঠান্ডা পানীয় পাওয়া যায়। বেশিরভাগের দাম ১৫০০০ রুপিয়ার কম। এছাড়াও রুটি পাওয়া যায়। কিছু দোকানে রেডি-টু-ইট খাবার আর কফি ডিসপেন্সারও থাকে।
ইন্দোনেশিয়ায় এখনো নগদবিহীন লেনদেন খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। তাই এসব দোকানে নগদ টাকা দিয়ে মোবাইলের প্যাকেজ, অনলাইন শপিং এর অর্ডার, এমনকি পরিবহনের টিকিট পর্যন্ত দেওয়া যায়।
দরাদরি
[সম্পাদনা]দরাদরি (তাওয়ার-মেনাওয়ার) ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ জায়গায় স্বাভাবিক ব্যাপার। এমনকি দেখতে ভালো দোকানেও দরাদরি চলে। তাই দর কষাকষির জন্য প্রস্তুত থাকুন। এভাবে স্থানীয়দের সাথে সম্পর্কও তৈরি হয়। তাই স্বাভাবিক থাকুন, উপভোগ করুন এবং তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিন। যদি মনে হয় নিজের দেশের হিসেবে ভালো দাম পাচ্ছেন, তাহলে ধরে নিতে পারেন দাম বেশি দিচ্ছেন। প্রথমে তাদের চাওয়ার ৫০%–৭০% পর্যন্ত কম দাম প্রস্তাব করতে পারেন। তারপর ধীরে ধীরে সমঝোতায় আসুন। অনেক সময় বিক্রেতারা আপনাকেই আগে দাম বলতে বলবে। এতে আপনি অসুবিধায় পড়তে পারেন। দর কমাতে চাইলে চলে যাওয়ার ভানও করতে পারেন। তবে সুপারমার্কেট আর শপিং মলে দরাদরি চলে না, যদি না খুব দামি জিনিস যেমন ইলেকট্রনিকস বা গাড়ি কেনেন।
ওলেহ-ওলেহ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণ শেষে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের জন্য কিছু নিয়ে যাওয়া একটি পুরোনো প্রথা। একে বলা হয় oleh-oleh (ওহ-লে ওহ-লে)। সাধারণত স্থানীয় বিশেষ খাবার বা কোনো স্থানীয় পণ্যই নেওয়া হয়। যেমন মেদানে স্থানীয় প্যাশনফ্রুট থেকে তৈরি সিরাপ বিখ্যাত। বালিতে প্রচলিত সালাক বা স্নেকফ্রুট নেওয়া হয়।
আধুনিক ওহ-লে ওহ-লে'র মধ্যেও অনেক কিছু আছে। যেমন সুরাবায়া শহরে "আলমন্ড ক্রিসপি চিজ" বিস্কুট বিখ্যাত। আবার বোগোর শহরে লাপিস তালাস কেক জনপ্রিয়।
যেসব জায়গায় বিশেষ কোনো পণ্য ছিল না, সেসব জায়গায় কৃত্রিমভাবে জনপ্রিয় পণ্য তৈরি করা হয়েছে। ফলে এখন অনেক ভাজা ক্র্যাকারস আর চিপস পাওয়া যায়।
খাবার
[সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: ইন্দোনেশীয় রান্নাইন্দোনেশিয়ায় ১৭,০০০টি দ্বীপ আছে। তাই খাবারের বৈচিত্র্যও অসংখ্য। তবে ইন্দোনেশীয় খাবার বলতে সাধারণত মধ্য জাভা আর পূর্ব জাভার খাবারকে বোঝানো হয়। এসব এখন পুরো দেশে জনপ্রিয়। জাভানিজ রান্না সাধারণত সহজে মশলাদার। বাদাম, মরিচ, চিনি (বিশেষ করে নারিকেলের গুড়), আর নানা ধরনের মসলাই এখানে বেশি ব্যবহৃত হয়।
অনেক ভ্রমণকারী শুধু নাসি গরেং (ভাজা ভাত) বা সাধারণ জাভানিজ খাবার খেয়ে থাকে। কিন্তু যদি একটু খোঁজেন, আরও অনেক বৈচিত্র্যময় খাবার পাবেন। পশ্চিম জাভার সুন্দানি খাবারে টাটকা সবজি আর শাক বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত কাঁচাই খাওয়া হয়। পাডাং মিনাংকাবাউ রান্নার জন্য বিখ্যাত মশলাদার খাবাএ। এগুলো মালয়েশিয়ার কিছু খাবারের মতো। এখানে নাসি পদাং রেস্টুরেন্ট সর্বত্র পাওয়া যায়। বাটাক খ্রিস্টানরা আর বালিনিজ হিন্দুরা শূকরের মাংস পছন্দ করে। মিনাহাসা জাতি কুকুর, বাদুড়সহ প্রায় সব ধরনের প্রাণী খায়। তারা প্রচুর মরিচও ব্যবহার করে। মুসলিমবান্ধব সংস্করণ মলে পাওয়া যায়, তবে আসল স্বাদ পেতে হলে ওই অঞ্চলে যেতে হবে। পাপুয়া অঞ্চলে আবার শূকর, তারো আর সাগো খাওয়া হয়।
মরিচ (কাবাই/কাবে) ইন্দোনেশীয় রান্নায় খুব সাধারণ। সাম্বল সস হিসেবে খাওয়া হয়। বিশেষ করে ছোট কিন্তু ঝাল কাবে রাউইত সাবধান হয়ে খেতে হবে। তেরাসি হলো শুকনো চিংড়ির পেস্ট। এটি মাছের সসের মতো ব্যবহার হয়। রান্নায় মিশলে খুব টের পাওয়া যায় না, তবে বেশি নিলে তীব্র মাছের স্বাদ হয়। পেতাই বা "স্টিঙ্ক বিন" মাঝে মাঝে মৌসুমি খাবারে ব্যবহার হয়। সুন্দানি রান্নায় অনচম বিখ্যাত। এটি হলো ফারমেন্টেড বাদাম, যেটা বিশেষ ছত্রাকে ঢেকে থাকে। দেখতে ফাংগাসের মতো, স্বাদও ফাংগাসের মতো, এবং এটি খেতে অভ্যস্ত হতে হয়।
জাকার্তা, বালি আর বড় শহরে এশিয়ান, ইউরোপীয় ও আমেরিকান ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে। কেএফসি সবচেয়ে আগে এসেছে। পরে ম্যাকডোনাল্ডস। এছাড়া থাই, কোরিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকান, স্প্যানিশ, রাশিয়ানসহ নানা দেশের খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে।
খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার রেস্টুরেন্টগুলোর বেশিরভাগই কেবল হালাল খাবার পরিবেশন করে। অর্থাৎ শূকর, ইঁদুর, ব্যাঙ বা বাদুড় নেই। পশ্চিমা ফাস্টফুড যেমন ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি, পিজা হাট, বার্গার কিং, ওয়েন্ডি’স, আর স্থানীয় পদাং রেস্টুরেন্টও হালাল। ব্যতিক্রম হলো খ্রিস্টান বা হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার রেস্টুরেন্ট। যেমন বাটাক, মিনাহাসান, বালিনিজ বা চায়নিজ রেস্টুরেন্ট। তবে যদি নিশ্চিত না হন, জিজ্ঞাসা করতে হবে। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় গরুর মাংসও খাওয়া হয় না, কারণ হিন্দু ধর্মে গরু পবিত্র।
শুদ্ধ নিরামিষভোজীদের জন্য ইন্দোনেশিয়া কঠিন জায়গা। মাছ বা চিংড়ির সস বাদ দেওয়া কঠিন। তাহু (টোফু) আর তেম্পে (সয়াবিন কেক) সাধারণত খাওয়া হয়। কিন্তু এগুলোও অনেক সময় অমিষ সস দিয়ে পরিবেশন হয়। যেমন সাম্বল-এ প্রায়ই চিংড়ি থাকে। কেরুপুক ক্র্যাকার্সেও মাছ বা চিংড়ি থাকে। তবে আলুর মতো দেখতে যেগুলো, সেগুলো সাধারণত নিরামিষ। আপনি চাইলে ভেজিটারিয়ান বা তানপা দাগিং আতাউ হাসিল লাউত বলে মাংস ছাড়া খাবার চাইতে পারেন। শহরের চায়নিজ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রেস্টুরেন্ট যেমন মেদান, পন্টিয়ানাক বা সিংকাওয়াংয়ে নিরামিষ রেস্টুরেন্ট থাকে। এগুলো সাধারণত নিরাপদ। বৌদ্ধ নিরামিষ খাবারে দুধজাত পণ্য থাকে না, তাই অনেক খাবার ভেগানও হয়। তবে ডিম আছে কিনা জেনে নিতে হবে।
কোশের খাবার ইন্দোনেশিয়ায় একেবারেই অজানা। এখানে কোনো কোশের রেস্টুরেন্ট নেই।
খাওয়ার শিষ্টাচার
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় হাতে খাওয়া খুব সাধারণ। চার আঙুল দিয়ে ভাত ও তরকারি মিশিয়ে ছোট বলের মতো করে আঙুলের ডগায় তুলে আঙুলের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে মুখে দেওয়া হয়। তবে একটা নিয়ম আছে: ডান হাত দিয়ে খাবেন। কারণ বাম হাত নোংরা কাজের জন্য ব্যবহার হয়। তবে খাবার ভাগ করার বেলায় ডান হাত ব্যবহার না করে চামচ ব্যবহার করতে হয়।
উচ্চমানের জায়গায় হাতে খাওয়া ভালো চোখে দেখা হয় না। সেখানে যদি সবাই কাঁটা-চামচ ব্যবহার করে, আপনিও তাই করুন।
কাঠি (চপস্টিক), কাঁটা ও চামচ সাধারণ। তবে চাকু কম ব্যবহার হয়। শুধু দামি রেস্টুরেন্টে চাকু পাওয়া যায়।
দ্রুত খাওয়া ভদ্রতা হিসেবে ধরা হয়। এমনকি কিছু জায়গায় ঢেঁকুর তোলাকে প্রশংসা মনে করা হয়।
খাওয়ার জায়গা
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়ায় কম খরচে খাওয়া সত্যিই সস্তা, আর একটি সম্পূর্ণ রাস্তার ধারের খাবার মাত্র ৫০০০ রুপিয়ায় পাওয়া যায়। তবে পরিচ্ছন্নতার মান পশ্চিমা দেশের মতো নাও হতে পারে, তাই প্রথম ক’দিন এমন দোকান এড়িয়ে শুধু চোখে পড়া জনপ্রিয় দোকানগুলোতে খাওয়া ভালো। যদি খাবার গরম ছাড়া বাফে স্টাইলে রাখা থাকে, বা থালা/হাড়িতে অনেকক্ষণ ধরে পড়ে থাকে, তবে কতক্ষণ আগে রান্না হয়েছে জিজ্ঞেস করা ভালো, না হলে এড়িয়ে চলুন। অনেক সময় অর্ডার দিতে, কিছু চাইতে বা বিল আনতে কর্মীদের মনোযোগ টানতে হয় — এমনকি দামী রেস্টুরেন্টেও। আপনি তাদের ডাকতে পারেন। এটি অভদ্র মনে করা হয় না।
কিছু ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ঝুড়িতে রান্না করা খাবার বহন করেন (সাধারণত নারী)। আবার কেউ বাঁশের লাঠিতে দুটি ছোট কাঠের বাক্স ঝুলিয়ে হাঁটেন (সাধারণত পুরুষ)। তারা হালকা নাস্তা কিংবা সাধারণ খাবার বিক্রি করেন। দাম খুব সস্তা আর খাওয়ার মতোও ভালো, তবে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সন্দেহ থাকে।
সবচেয়ে দ্রুত কিছু খাওয়ার উপায় হলো কাকি লিমাতে যাওয়া। এর আক্ষরিক অর্থ "পাঁচ পা"। কেউ বলেন এটি মোবাইল স্টলের তিনটি চাকা আর মালিকের দুই পা থেকে এসেছে, আবার কেউ বলেন পাঁচ ফুট চওড়া ফুটপাত থেকে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার যেকোনো শহর, গ্রাম বা বাজারে রাস্তার ধারে এগুলো দেখা যায়। সাধারণত এখানে ভাত ভাজা, নুডলস, মিটবল স্যুপ (বাকসো), সিওমাই (ডিমসাম) আর খিচুড়ি জাতীয় খাবার পাওয়া যায়। রাতে কিছু কাকি লিমা লেসেহান হয়ে যায়। এখানে গ্রাহকদের বসার জন্য বাঁশের চাটাই দেয়া হয়। আবার প্লাস্টিকের চেয়ারে বা বেঞ্চে বসার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
ওয়ারুং (পুরনো বানান ওয়ারুয়েং) কাকি লিমার চেয়ে এক ধাপ উপরে। এটি কম-বেশি একই খাবার দেয়, তবে কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার আর ছাউনি থাকতে পারে। অনেক ওয়ারুং স্থায়ী দোকান হিসেবেও চালু থাকে।
তবে এসব তিন ধরনের জায়গায় পরিচ্ছন্নতা বড় প্রশ্ন। তারা কোথা থেকে থালা ধোয়ার পানি আনে, কোথায় টয়লেটে যায় (কাছের নদী বা নর্দমায়), কোথায় হাত ধোয়, এসব নিয়ে সন্দেহ থাকে। এখানে খাবার খেলে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস আর ফুড পয়জনিং সাধারণ। ইন্দোনেশীয়রা ছোট থেকে এমন খাবারের সাথে অভ্যস্ত হওয়ায় সাধারণত ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ে ভোগেন না।

আরও আরামদায়ক বিকল্প হলো রুমাহ মাকান (অর্থাৎ: খাওয়ার ঘর)। এটি আসলে একটি সাধারণ রেস্টুরেন্ট। অনেক সময় এটি একটি বিশেষ রান্নায় বিশেষজ্ঞ হয়। নাসি পদাং রেস্টুরেন্টগুলো সহজেই চেনা যায় তাদের উঁচু মিনাংকাবাউ ছাদ দেখে। সাধারণত এখানে ভাত আর নানা ধরণের তরকারি একসাথে পরিবেশন করা হয়। অর্ডার করা খুব সহজ: বসুন, আর টেবিলে ছোট ছোট থালা ভর্তি তরকারি সাজিয়ে দেয়া হবে। আপনি যা খাবেন তার দামই দেবেন।
ছোট পদাং ওয়ারুং এ অর্ডারের আরেক পদ্ধতি আছে। এখানে বলা হয় নাসি চামপুর (মিশ্র ভাত)। এটি একটি প্লেটে ভাতের সাথে কাউন্টারে সাজানো তরকারি থেকে আপনার পছন্দ মতো কিছু নেয়া হয়। সাধারণত এর সাথে দোকানের তৈরি সাম্বল ওলেক (মরিচ চাটনি) দেয়া হয়। এখানে শুধু অর্ডারকৃত খাবারের দাম দিতে হয়।
বাফে (প্রাসমানান বা বাফে) আর স্টিম-বোট রেস্টুরেন্টগুলো স্ব-পরিসেবা। তবে বাফে খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা ভালো (উপরের নিয়ম দেখুন)।
বড় শহরে আরেকটি সহজ ও মধ্যম মানের বিকল্প হলো ফুড কোর্ট। এগুলোকে বলা হয় পুজাসেরা (Pusat Jajanan Serba Ada, এর অর্থ সব-একসাথে নাস্তার কেন্দ্র)। শপিং মলের ভেতর এসব রেস্টুরেন্টে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ থাকে, পরিচ্ছন্নতাও ভালো, তবে খাবার অনেকটা একঘেয়ে হতে পারে।
রেস্টোরান মানে সাধারণত পাশ্চাত্য ধাঁচের খাওয়ার অভিজ্ঞতা। এখানে এসি, টেবিলক্লথ, ওয়েটার সার্ভিস আর দামও বেশি। বিশেষ করে জাকার্তা ও বালিতে বিশ্বজুড়ে নানা দেশের আসল রান্না পরিবেশনকারী ভালো রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। তবে মাথাপিছু ১,০০,০০০ রুপিয়ার কম খরচে খাওয়া কঠিন।
চেইন রেস্টুরেন্ট
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ চেইন রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত বসার জায়গা থাকে। এখানে সাধারণত খাবারের সেট মেনু থাকে। এটি সবচেয়ে সস্তা (এবং অনেক সময় সবচেয়ে পরিচ্ছন্নও) বিকল্প। উল্লেখযোগ্য কিছু চেইন হলো:
- হোকা হোকা বেনতো (হোকবেন নামেও পরিচিত) জাপানি ধাঁচের ফাস্ট ফুড দেয়। (তবে জাপানে হোকা হোকা বেনতো নেই!) এখানে ভাতের সাথে তেরিয়াকি, ভাজা মুরগি, এগ রোল বা চিংড়ি ৫০,০০০ রুপিয়া বা কমে পাওয়া যায়। সাথে সালাদ, মিসো স্যুপ আর পানীয় থাকে।
- বাকমি জিএম নুডলসের নানা পদ আর তাদের বিশেষ নুডল ডিশের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া তারা ভাজা ওয়ানটন (পাংসিত গোরেং) আর ভাতের পদও দেয়। একটি ভালো খাবার সাধারণত ৫০,০০০ রুপিয়া বা কম খরচ হয়।
- এস টেলার ৭৭ ইন্দোনেশিয়ার প্রাচীনতম ফাস্ট ফুড চেইনগুলোর একটি। ১৯৮২ সাল থেকে চালু আছে। এর ২০০টিরও বেশি শাখা আছে। এখানে ইন্দোনেশীয় খাবার যেমন বাকসো, আর নামের মতোই এস টেলার পাওয়া যায়। খাবারের দাম প্রায় ৫০,০০০ রুপিয়া (খাবার+পানীয়সহ)।
- ইন্দোনেশিয়ার পিজ্জা হাট যুক্তরাষ্ট্রের মতো ফাস্ট ফুড না হয়ে অনেকটা উন্নত রেস্টুরেন্টের মতো। এখানে পিজ্জায় বেশি টপিংস, ক্রাস্ট আর সাইড অপশন থাকে। শিশুদের জন্য বেলুন দিয়ে ছোট ছোট খেলনা বানানোরও ব্যবস্থা আছে। এছাড়া পিএইচডি (পিজ্জা হাট ডেলিভারি) নামে আলাদা ব্যবসা ইউনিটও চালায়। এটি কেবল নির্দিষ্ট শহরে হোম ডেলিভারির জন্য।
- কাবাব তুরকি বাবা রাফি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাবাব চেইন। এখানে কাবাব, শাওয়ারমা, হট ডগ আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই সস্তায় পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত ফুড কোর্টে থাকে।
- ফ্যামিলিমার্ট, সার্কেল কে আর লসন এর মতো বিদেশি মিনি-মার্টে সাধারণ মুদি জিনিস ছাড়াও রান্না করা খাবার পাওয়া যায়। এটি কর্মীরা গরম করে দেয়। এগুলোর দাম সাধারণত ৩০,০০০ রুপিয়ার কম। স্থানীয় চেইন ইন্দোমারেট আর আলফামার্টের মতো স্থানীয় চেইনগুলোর শাখা বেশি। তবে এগুলো মূলত মিনি-মার্ট। এখানে সাধারণত রুটি বা সালাদের মতো সহজ খাবার পাওয়া যায়। তবে এখন তারা বিদেশি চেইনের মতো সেবাও দিচ্ছে।
- ট্রান্সমার্ট বা লটে মার্ট সুপারমার্কেটে বেকারি আর স্ন্যাকসের খাবার খাওয়ার জায়গা থাকে, তবে বেশিরভাগ মানুষ এগুলো প্যাকেট করে নিয়ে যান, বসে খান না। যদিও
আমেরিকান ফাস্ট ফুড যেমন ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি, ওয়েন্ডি’স, বার্গার কিং বা এ অ্যান্ড ডব্লিউ ইন্দোনেশিয়ার প্রায় প্রতিটি মলেই আছে। এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত ইওশিনোয়ার মতো চেইনও উন্নতমানের মলে পাওয়া যায়।
অর্ডার করুন
[সম্পাদনা]যেভাবে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে রাইড-শেয়ারিং পরিবহন ব্যবস্থা বদলে দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এসব অ্যাপ ইন্দোনেশীয়দের খাবার খাওয়ার ধরণও বদলেছে। এখন প্রায় যেকোনো খাবারই এসব অ্যাপ দিয়ে অর্ডার করা যায়, এমনকি ছোট ওয়ারুংয়ের খাবারও।
এভাবে খাবার অর্ডার করলে ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়, তাই হয়তো এটি আপনার প্রথম পছন্দ হবে না। তবে কখনো কখনো বাইরে বের হতে আলসেমি লাগলে এটি বড় সুবিধা।
সতর্কতা
[সম্পাদনা]উপরের সতর্কবার্তাগুলোর পাশাপাশি কিছু খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য জিনিস (যেমন শিশুখাদ্য বা মালিশের তেল) আইন ভঙ্গ করে বিক্রি হয়। এসব ভঙ্গের মধ্যে আছে ক্ষতিকর রাসায়নিক যেমন ফরমালিন বা বোরাক্স সংরক্ষণে ব্যবহার, খাবারের রঙ বাড়াতে কাপড়ের রঙ ব্যবহার, খাবার মচমচে করতে গরম তেলে প্লাস্টিক ফেলা, মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট খাবার (যেমন সবজি বা দুধ) পুনরায় গরম করে বা রাসায়নিক মিশিয়ে বিক্রি, ভেজাল মাংস (যা মুসলিম খাদ্য বিধির পরিপন্থী), মাংসে পানি (কখনো ফরমালিন মিশিয়ে) ইনজেকশন করা, দূষিত পানিতে জন্মানো শাকসবজি বিক্রি, বা পশু জবাই না করে বিক্রি করা (যা বেআইনি)। সাধারণত এসব খাবার ফেরিওয়ালা, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা বা নিম্নমানের রেস্টুরেন্টে বিক্রি হয়। তবে মাঝে মাঝে ভালো রেস্টুরেন্ট বা সুপারমার্কেটেও এসব পাওয়া গেছে।
সবসময় কাঁচা ফলমূল ভালো পানিতে ধুয়ে নিন। এগুলো পরিচ্ছন্ন ও পরিচিত সুপারমার্কেট থেকে কেনা ভালো।
পানীয়
[সম্পাদনা]অনেক ইন্দোনেশীয় মনে করেন ঠান্ডা পানীয় অস্বাস্থ্যকর। তাই আপনি যদি ঠান্ডা পানি, বোতলজাত চা বা বিয়ার চান তবে ডিঙ্গিন বলতে হবে। নাহলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় দেয়া হবে।
জুস
[সম্পাদনা]ফলের রস এখানে খুব জনপ্রিয়। এগুলো সাধারণত জুস নামে বিক্রি হয়। যদি গরম দেয়া হয় তবে পানাস বলা হয় (সাধারণত শুধু লেবুজাতীয় ফলের ক্ষেত্রে), আর বরফ দিয়ে পরিবেশন করা হলে বলা হয় এস। প্রায় সব ইন্দোনেশীয় ট্রপিক্যাল ফল দিয়েই জুস বানানো যায়। কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই পাওয়া যায় জুস আলপুকাত। এটি অ্যাভোকাডো দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত এতে ঘন চকোলেট দুধ দেয়া হয়, আর দামি জায়গায় গ্লাসের ভেতরে চকোলেট সিরাপ ঢেলে তবেই জুস ঢালা হয়। পুরোপুরি সতেজ হওয়ার জন্য আইর কেলাপা (নারিকেল পানি) চমৎকার বিকল্প। এটি প্রায় প্রতিটি সমুদ্র সৈকতে সহজেই পাওয়া যায়। কিছু জুস আবার আঞ্চলিক পানীয় হিসেবে বিখ্যাত। যেমন মেদানের জুস মারতাবে টমেটো আর প্যাশন ফ্রুট দিয়ে তৈরি। আবার আম্বনের জুস গান্দারিয়া প্লাম-আম দিয়ে বানানো হয়। দেপকে খাবারের স্যুভেনির হিসেবে জুস বেলিম্বিং (কামরাঙার জুস), জুস লিদাহ বুয়া (অ্যালোভেরা জুস) আর জুস রুমপুত লাউত (সামুদ্রিক শৈবাল জুস) পাওয়া যায়।
অনেক সময় কয়েক রকম ফল আর সবজি মিশিয়েও একসাথে জুস বানানো হয়।
কফি ও চা
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশীয়রা কফি (কোপি) ও চা (তে)—দুটোই পান করে। তবে তারাআ সাধারণত প্রচুর চিনি মিশায়। আসল কফির কাপে কফি হয় গাঢ় আর মিষ্টি। একে কোপি তুবরুক বলা হয়। তবে পান করার আগে কাপে কফির গুঁড়া নিচে বসে যেতে দিতে হয়। কিছু কফির নাম জায়গার নামে রাখা, যেমন কোপি আচেহ আর লামপুং। কোনো ভ্রমণ নির্দেশিকা পূর্ণ হবে না যদি "কু"খ্যাত কোপি লুয়াক–এর উল্লেখ না করা হয়। এটি তৈরি হয় সেই কফি বীজ থেকে যেগুলো গন্ধগোকুল বা পাম সিভেটের (লুয়াক) মল থেকে তৈরি! আসলে গন্ধগোকুলকে প্রচুর পরিমাণে কফি বীজ খাওয়ানো হয়, এগুলো আংশিক হজম হয়ে মল আকারে বের হয়। মল থেকে কফি বীজ সংগ্রহ করে এই দামি কফি তৈরি করা হয়। ইন্দোনেশিয়াতে এটি একপ্রকার ব্যতিক্রমী বিলাসবহুল পানীয়। এক ছোট পাত্র কফির দামই ২০০,০০০ রুপিয়ার বেশি। তবে সংরক্ষণবাদীরা এ পানীয় না খাওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ অধিকাংশ গন্ধগোকুলকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়। এখন শপিং মলের বহু দোকানে প্রায় ২০ ধরনের কফি বিনের মিশ্রণ, সাথে গ্রাইন্ডার ও কফি মেকার ব্যবহার করে বানানো কফি পাওয়া যায়। এগুলোর দাম ২০,০০০ রুপিয়ারও কম, তবে দাঁড়িয়ে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
চাও (তে) অনেক জনপ্রিয়, বিশেষ করে এস তে (বরফ চা)। সোসরো ব্র্যান্ডের মিষ্টি বোতলজাত চা কোকের মতো কাচের বোতলে বিক্রি হয়। আর ফ্রুট টি নামের চায়ের বোতল ও কার্টন সর্বত্রই পাওয়া যায়। টেবস নামের কার্বোনেটেড চাও প্রচলিত। শপিং এলাকাগুলোতে বড় গ্লাসে তাজা চা পাওয়া যায়। অনেক সময় জুঁই ফুলের চা, যেমন ২ ট্যাং বা বেশি গাঢ় টং জি জুঁই চা, ফলের চা আর লেবুর চা—সবই মাত্র ২,০০০ রুপিয়ায়।
জামু
[সম্পাদনা]জামু হলো নানা রোগের জন্য প্রচলিত স্থানীয় ভেষজ পানীয়ের নাম। এটি প্রস্তুত পান করার মতো বোতল, গুঁড়ো স্যাশে বা ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়, আবার অনেক সময় নারীরা কাঁধে বাঁধানো রঙিন বাটিক কাপড়ে মোড়ানো বোতলভর্তি ঝুড়ি নিয়ে বিক্রি করে। অধিকাংশ পানীয় তিতা বা টক, স্বাদের জন্য নয় বরং উপকারের আশায় খাওয়া হয়। জনপ্রিয় জামু ব্র্যান্ড হলো ইবো, সিদো মুনচুল, জাগো আর ন্যোন্যা মেনির। তবে রাস্তার জামু খাওয়ার পরামর্শ নেই, কারণ পানি দূষিত হতে পারে। কিছু পরিচিত জামু হলো—
- গালিয়ান সিংসেট — ওজন কমানোর জন্য
- বেরাস কেনচুর (চাল, বালু আদা ও খয়েরি চিনি) — কাশি ও ক্লান্তির জন্য
- তেমুলাওয়াক (হলুদ) — লিভারের অসুখে
- গুলা আসেম (তেঁতুল ও খয়েরি চিনি) — ভিটামিন সি সমৃদ্ধ
- কুনইত আসেম (তেঁতুল, হলুদ) — ত্বকের যত্ন ও মুখের ঘায়ের জন্য
তিতা বা টক জামুর পরে বেরাস কেনচুর খেলে অ্যানিসের মতো হালকা স্বাদ পাওয়া যায়। যদি ঠাণ্ডা বা সেমেরিউইং প্রভাব চান, তবে কাপু লগা (এলাচ) মেশাতে বলুন। আর গরম প্রভাব চাইলে আদা যোগ করুন।
প্রচলিত পানীয়
[সম্পাদনা]- ওয়েদাং সেরবাত – মৌরি, এলাচ, তেঁতুল, আদা ও চিনি দিয়ে বানানো। ওয়েদাং মানে ‘‘গরম পানি’’।
- রোন্দে – আদা, আঠালো চালের গুঁড়া, বাদাম, লবণ, চিনি ও রঙ মিশ্রণ দিয়ে বানানো।
- ওয়েদাং সেকোতেং – আদা, সবুজ মটরশুঁটি, বাদাম, ডালিম, দুধ, চিনি, লবণ দিয়ে বানানো হয় এবং রোন্দের সাথে মেশানো হয়।
- বাজিগুর – কফি, লবণ, খয়েরি চিনি, নারকেলের দুধ, তাল ফল, ভ্যানিলিন দিয়ে বানানো।
- বান্দ্রেক – খয়েরি চিনি, আদা, পান্ডান পাতার টুকরো, নারকেল শাঁস, লবঙ্গ, লবণ, দারুচিনি, কফি দিয়ে বানানো।
- সিন্না–এল – দারুচিনি, আদা, তেঁতুল, বালু আদা ও আরও ১৩ প্রকার মসলা দিয়ে বানানো।
- সেন্দোল/দাউয়েত – চালের আটা, সাগো আটা, পান্ডান পাতা, লবণ, রঙ মিশ্রণ, নারকেলের দুধ আর জাভানি চিনি দিয়ে বানানো।
- তালুয়া টি/তে তেলুর (পশ্চিম সুমাত্রা) – চা গুঁড়া, কাঁচা ডিম, চিনি আর সুগন্ধি লেবু দিয়ে বানানো।
- লিদাহ বুয়ায়া আইস (পশ্চিম কালিমান্তান) – অ্যালোভেরা, তুলসী, জাভানি ব্ল্যাক জেলি, নারকেলের দুধ, খেজুরের চিনি, পান্ডান পাতা, চিনি দিয়ে বানানো।
অ্যালকোহল
[সম্পাদনা]
যদিও ইন্দোনেশিয়ার অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, দেশের বেশিরভাগ জায়গায় মদ খাওয়ার ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। বেশিরভাগ এলাকায়, বিশেষ করে অভিজাত রেস্তোরাঁ আর বারে সহজেই অ্যালকোহল পাওয়া যায়। তবে প্রকাশ্যে মাতলামি অপছন্দ করা হয়, আর বড় শহরে করলে অপরাধের শিকার হওয়া বা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। আইনি মদ খাওয়ার বয়স ২১ বছর এবং সুপারমার্কেটগুলো এখন অ্যালকোহল কেনার সময় আইডি পরীক্ষা করে।
আচেহ–তে এর ব্যতিক্রম আছে, সেখানে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ, আর ধরা পড়লে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মদ হলো বিনতাং বির (বিয়ার), একেবারে সাধারণ লেগার বিয়ার, সর্বত্রই পাওয়া যায়, যদিও স্থানীয়রা কুসুম গরম খেতে পছন্দ করে। অন্যান্য জনপ্রিয় বিয়ার হলো বালি হাই আর আংকার। ২০১৫ সাল থেকে কনভেনিয়েন্স স্টোর ও ছোট দোকানে অ্যালকোহল বিক্রি হয় না। তবে উপযুক্ত লাইসেন্স থাকলে ক্যাফে, বার আর রেস্তোরাঁয় বিয়ার থেকে শুরু করে হার্ড লিকারের মতো অ্যালকোহল বিক্রি চলতে থাকে। পর্যটন এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসক বা মেয়রের অনুমতিতে ছোট দোকান বা ‘ওয়ারুং’–এ ১–৫% অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। ফ্যান্সি বারে এদের দাম হতে পারে ৫০,০০০ রুপিয়া পর্যন্ত, তবে সাধারণ বারে বড় ০.৬৫ লিটার বোতল বিনতাং–এর দাম সাধারণত ২৫,০০০–৩৫,000 রুপিয়া।
ওয়াইন দামি এবং কেবল বড় হোটেলের দামি রেস্তোরাঁ ও বারে পাওয়া যায়। তবে বড় শহরের কিছু মলের সুপারমার্কেটেও মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। প্রায় সব ওয়াইনই আমদানি করা, তবে বালিতে কয়েকজন স্থানীয় ওয়াইন প্রস্তুতকারক আছে। তাদের ওয়াইন তুলনামূলক সস্তা। প্রায় ৩০% অ্যালকোহলিক পানীয় আমদানি করা হয়, আর নতুন ট্যাক্স নীতি অনুযায়ী আমদানি করা অ্যালকোহলে মূল দামের ১৫০% আর বিয়ারে ৯০% কর বসানো হয়।
কিছু স্থানীয় অ্যালকোহলিক পানীয়ও আছে—
- তুয়াক — তাল গাছের মদ (১৫% অ্যালকোহল)
- আরাক — তুয়াকের পাতিত সংস্করণ, ৪০% পর্যন্ত অ্যালকোহল
- ব্রেম — বালি–এর মিষ্টি আঠালো চালের ওয়াইন
কোথা থেকে কী কিনছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। বাড়িতে তৈরি মদে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। ২০০৯ সালের মে মাসে, জাভা, বালি ও লম্বকে বিষাক্ত বা ভেজাল মদ খেয়ে ২৩ জন মারা যায়। তাদের মধ্যে চারজন ছিলেন পর্যটক। আরও অনেক পর্যটক মদে থাকা মিথানলের কারণে অন্ধ হয়েছেন বা মারা গেছেন। অর্থ বাঁচাতে চাইলে ইন্দোনেশিয়ায় সস্তা অ্যালকোহল কেনা উচিত নয়। সুপারমার্কেট থেকে কিনলে সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ হয়।
তামাক
[সম্পাদনা]
অনেক ইন্দোনেশীয় ধূমপান করে, আর ‘‘ধূমপান নিষিদ্ধ’’ বা ‘‘প্যাসিভ স্মোক’’–এর ধারণা দেশে এখনো তেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে কিছু টিভি চ্যানেল এখন অনুষ্ঠান বা সিনেমায় সিগারেট ঝাপসা করে দেয়। পাশ্চাত্য ধাঁচের সিগারেটকে রোকোক পুতিহ (‘‘সাদা ধোঁয়া’’) বলা হয়। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ক্রেটেক, লবঙ্গ মিশ্রিত সিগারেট। এটি জাতীয় প্রতীকের মতো হয়ে উঠেছে। আপনি বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই এ গন্ধ পাবেন। জনপ্রিয় ক্রেটেক ব্র্যান্ড হলো দ্জারুম, গুদাং গারাম, বেন্টোয়েল আর সাম্পোর্না। এক প্যাকেট ভালো ক্রেটেকের দাম প্রায় ১৭,০০০ রুপিয়া। কিছু ব্র্যান্ডে ফিল্টার থাকে না, কারণ ঐতিহ্যগতভাবে ক্রেটেক ফিল্টার ছাড়া খাওয়া হতো এবং স্বাদও আলাদা। ইন্দোনেশিয়ার আইনগত ধূমপানের বয়স ১৮। আইনে সব সিগারেটের প্যাকেটে ছবি দিয়ে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব দেখানো বাধ্যতামূলক। ক্রেটেক–এ সাধারণ সিগারেটের তুলনায় নিকোটিন কম কিন্তু টার বেশি। উদাহরণস্বরূপ, এক ফিল্টারবিহীন ডিজি স্যাম সোই–তে থাকে ৩৯ মি.গ্রা. টার আর ২.৩ মি.গ্রা. নিকোটিন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রায় পাশ্চাত্য সিগারেটের সমান।
জাকার্তায় জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন ভাঙলে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যদিও ‘‘ভ্যাপিং’’ (ই–সিগারেট ধূমপান) এখন জাকার্তা ও অন্যান্য বড় শহরে জনপ্রিয়, তবু ধূমপানের আগে অনুমতি চাইতে হয়। যদি ধূমপান করতে চান, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন: ‘‘বোলেহ মেরোকোক দি সিনি?’’ (এখানে ধূমপান করা যাবে?)। ধূমপান করের হার বাড়ায় ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গা বাড়ায় ২০১০–এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ধূমপান কমেছে।
বড় শহরের মলের বাইরে রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণত ধূমপায়ীদের জন্য ও ধূমপানবিহীনদের জন্য আলাদা ঘর থাকে (কখনো কখনো ধূমপানের জায়গা থাকে রেস্তোরাঁর বারান্দায়)। অনেক সময় ওয়েটার জিজ্ঞাসা করবে, "মেরোকোক আতাউ তিদাক মেরোকোক?" (ধূমপান নাকি ধূমপান নয়)।
রাত্রিযাপন করুন
[সম্পাদনা]
জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল যেমন বালি আর জাকার্তায় থাকার জায়গা পাওয়া যায় সস্তা ব্যাকপ্যাকার গেস্টহাউজ থেকে শুরু করে সবচেয়ে বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল পর্যন্ত। তবে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় সুযোগ সীমিত। ব্যাকপ্যাকারদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত থাকার জায়গা হলো লোসমেন বা গেস্টহাউজ। এগুলোকে উইস্মা বা পোন্দকও বলা হয়। সাধারণত প্রতি রাত ১৫ মার্কিন ডলারের কম, কক্ষগুলোয় ফ্যান থাকে এবং শেয়ার্ড বাথরুম থাকে। এখানে সাধারণত এশীয় ধাঁচের স্কোয়াট টয়লেট ও বাক মান্দি (পানি রাখার ট্যাংক) ব্যবহার করতে হয়। সেখান থেকে ডুব না দিয়ে বালতি দিয়ে পানি ঢালতে হয়। খুব ছোট লোসমেন। এগুলো আসলে হোমস্টে বা ভাড়া কক্ষ, এগুলোকে পেঙ্গিনাপান বলা হয়। দীর্ঘ সময় থাকার জন্য কোস্ট (বোর্ডিংহাউজ)–এ থাকা যায়। এখানে একই রকম সুবিধা থাকে। তবে অনেক সময় কেবল নির্দিষ্ট লিঙ্গকে নেয়, মেয়েদের জন্য পেরেম্পুয়ান/ওয়ানিতা/চেওয়েক, ছেলেদের জন্য প্রিয়া/লাকি–লাকি/চোয়োক লেখা থাকে।
এরপর আসে সস্তা বা বাজেট হোটেল। এগুলো ছোট শহরেও পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত যাতায়াত কেন্দ্র বা পর্যটন এলাকায় থাকে। এতে বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে যেমন এসি, গরম পানি, ওয়াইফাই আর কখনো ছোটখাটো নাস্তা। তবে কিছু রুম ছোট, জানালাবিহীন আর মন খারাপ করা পরিবেশেরও হয়। দাম লোসমেন বা কোস্টের সঙ্গে প্রায় সমান, শুরু হয় প্রতি রাত ২০ মার্কিন ডলার থেকে। কিছু নির্ভরযোগ্য স্থানীয় চেইন হলো পপ![অকার্যকর বহিঃসংযোগ], আমারিস বাই সান্তিকা আর ফেভহোটেল[অকার্যকর বহিঃসংযোগ]।
যথেষ্ট মানসম্পন্ন হোটেলকে বলা হয় বেরবিনতাং (তারকাসম্পন্ন). বড় শহরগুলোতে একটি কক্ষের দাম ৩০ মার্কিন ডলার থেকে ৪৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পাঁচ তারকা হোটেলের কক্ষ প্রতি রাত ৭০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়। দাম মৌসুমভেদে ওঠানামা করে। উচ্চ মৌসুম সাধারণত জুন–জুলাই আর ডিসেম্বরের স্কুল ছুটি ও দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটির সময়। নিম্ন মৌসুম হয় ইদুল ফিতরের সময় যখন সবাই বাড়ি যায়। তবে পর্যটন এলাকায় এর ব্যতিক্রম। যে হোটেলগুলো তারকা মান পায় না (মেলাতি) সেগুলোর কক্ষের দাম ৩০ ডলারের কম হয়। তবে সেগুলোতে সুযোগ–সুবিধাও কম।
আইন অনুযায়ী, সব হোটেলকে মূল্যতালিকা (দাফতার হারগা) প্রদর্শন করতে হয়। তালিকার চেয়ে বেশি দিতে হবে না, তবে ছাড় পাওয়া যায়; বিশেষ করে অফ-সিজনে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে, দীর্ঘ মেয়াদে ইত্যাদিতে। আগেই বুকিং করে রাখলে ভালো, কারণ সরাসরি গিয়ে নিলে দাম বেশি পড়তে পারে।
অবিবাহিত দম্পতি
[সম্পাদনা]২০২২ সালের ফৌজদারি কোডের অধীনে, অবিবাহিত দম্পতিদের একসাথে বসবাস করা (একসাথে থাকা) বা যৌন মিলন করা অবৈধ। তবে, কেবল উভয় পক্ষের আত্মীয়রাই অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং বালির কার্যত সমস্ত সহ বিদেশী পর্যটকদের দিকে পরিচালিত বেশিরভাগ হোটেল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আইন প্রয়োগ করতে চায় না।
আপনি যদি আচেহ এবং পশ্চিম সুমাত্রার মতো ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল অঞ্চলে শরিয়া (মুসলিম) হোটেল বা ছোট প্রতিষ্ঠানে থাকেন তবে সচেতন থাকুন যে আপনাকে একটি বিবাহের শংসাপত্র দেখাতে বলা হতে পারে। এটি আপনি আপনার স্মার্টফোনে দেখাতে পারেন। এটি স্থানীয় রীতিনীতির কারণে যে কেবলমাত্র একই লিঙ্গের লোকেরা অন্যথায় একটি ঘর দখল করতে পারে। হোটেলের বিজ্ঞাপনে 'শরিয়াহ' বা 'হালাল' শব্দ দুটো স্পষ্ট যে অবিবাহিত দম্পতিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
শিখুন
[সম্পাদনা]অনেক দেশ থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি শহরে (প্রধানত জাকার্তা, বান্দুং, যোগিয়াকার্তা এবং ডেনপাসার) নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মেজর অধ্যয়ন করে। ইন্দোনেশিয়ান উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার খরচ সাধারণত পশ্চিমের তুলনায় অনেক কম; তবে আপনাকে অনেক বিষয়ের জন্য ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় সাবলীল হতে হবে এবং কিছু বিষয়ের জন্য ইংরেজি (যেমন মেডিসিন এবং আইটি) বা অন্য ভাষার জ্ঞানও প্রয়োজন।
দারমাসিসওয়া প্রোগ্রাম ইন্দোনেশিয়া সরকারের অর্থায়নে একটি বৃত্তি প্রোগ্রাম। এটি ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, চারুকলা, সংগীত ও কারুশিল্প এবং এমনকি আইটি, বিজ্ঞান এবং ফটোগ্রাফি সহ কিছু অন্যান্য বিষয় অধ্যয়নের জন্য ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর সমস্ত বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। অংশগ্রহণকারীরা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া যে কোনও রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে পড়াশোনা করতে বেছে নিতে পারেন। এতে ৫০টিরও বেশি অংশগ্রহণকারী স্থান রয়েছে।
ইংরেজিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার জন্য, অন্যদের মধ্যে সুইস-জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি পেলিটা হারাপান বা রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে. ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বান্দুং ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং গাজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয়।
কাজ
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়া একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং বিদেশীদের জন্য কাজের সুযোগ সীমিত। একজন প্রবাসী ইংরেজি শিক্ষকের মাসিক গড় বেতন প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার/মাস। সব মিলিয়ে একজন প্রবাসী ইংরেজি শিক্ষক মাসে ৭০০-১৫০০ ডলার আয় করতে পারেন। এটি ইন্দোনেশিয়ার মানদণ্ডে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যময় হলেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে কম।
ইন্দোনেশিয়ায় বৈধভাবে আয় করার জন্য, যদি আপনি কোনও ইন্দোনেশিয়ানকে বিয়ে করেন বা দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক কার্ড (কেআইটিএএস / কেআইটিএপি) না রাখেন তবে আপনার অবশ্যই কাজের ভিসা থাকতে হবে (ভিটাস, ভিসা ইজিন টিংগাল টারবাটাস)। এটি পাওয়ার জন্য আপনাকে এবং আপনার নিয়োগকর্তা উভয়কেই ইমিগ্রেশন এবং জনশক্তি মন্ত্রক উভয়ের সাথে জড়িত একটি কুখ্যাত জটিল আমলাতান্ত্রিক গন্টলেট চালানো দরকার। আইন অনুসারে, একজন বিদেশী শুধুমাত্র ৫ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতাতে একটি সংস্থায় কাজ করতে পারে এবং তাদের প্রতিস্থাপনের জন্য স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে বাস্তবে, এটি প্রায়ই ঘটে না। এছাড়াও, বিদেশীরা সিইও এমন কোনও চাকরিতে কাজ করতে পারে না। এটি কর্মী এবং মানব সম্পদ সম্পর্কিত। আপনার নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় চাকরি করা, বা আপনার বর্ণিত অবস্থান থেকে ভিন্ন অবস্থানে কাজ করাও অবৈধ হিসাবে বিবেচিত হয়। এর ফলে জরিমানা ও/অথবা কারাবাস থেকে নির্বাসন পর্যন্ত হতে পারে এবং এমনকি কালো তালিকাভুক্ত করা সম্ভব (তবে এটি সাধারণত ছয় মাসের জন্য)।
২০২৪ সালে, ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল যাযাবরদের লক্ষ্য করে রিমোট ওয়ার্কার ভিসা (ই৩৩জি) ভিসা চালু করে। এর মাধ্যমে তারা এক বছর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় বৈধভাবে কাজ করতে পারে, যতক্ষণ না তারা কমপক্ষে ৬০,০০০ মার্কিন ডলার / বছর আয় প্রদর্শন করতে পারে। এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আসে।
নিরাপদে থাকুন
[সম্পাদনা]| সতর্কীকরণ: ইন্দোনেশিয়ায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধ খুবই কঠোরভাবে দেখা হয়। মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে যদি কেউ ৫ গ্রাম হেরোইন, মরফিন, কোকেইন অথবা ১ কেজি গাঁজা বা আফিম পাচার, উৎপাদন, আমদানি বা রপ্তানিতে দোষী প্রমাণিত হয়। তবে যেকোনো আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদক বহন করা একেবারেই নিষিদ্ধ। অল্প পরিমাণ ব্যবহার করলেও শাস্তি হবে, তা দুর্ঘটনাবশত হোক বা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে আনা হোক। নির্দিষ্ট সীমার নিচে মাদক বহনের জন্যও সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং/অথবা সর্বোচ্চ ১৫,০০০,০০০,০০০ রুপিয়া (প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের প্রচেষ্টা অনেক সময় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও জাতীয় টেলিভিশনে প্রকাশ্য লজ্জার কারণ হয়, আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
কোনো অচেনা ব্যক্তি যদি আপনাকে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার পথে কিছু বহন করতে বলে, এমনকি টাকার বিনিময়ে হলেও, তা গ্রহণ করবেন না। প্রায়ই এসবই আসলে মাদক বহনের অনুরোধ। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা লাগেজের হাতল থেকে শুরু করে সিরিয়ালের প্যাকেটে লুকানো পর্যন্ত নানা উপায়ে এসব মাদক আবিষ্কার করেছে। তাই তারা সবসময় সন্দেহজনক আচরণের দিকে নজর রাখে। যদি কোনো ওষুধ বহন করা প্রয়োজন হয়। এটি দেখতে অস্বাভাবিক বা ইন্দোনেশিয়ার মাদক ও মনঃপ্রভাবক ওষুধের তালিকায় থাকে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসবেন এবং তা ইংরেজিতে অনুবাদ করা থাকা উচিত। | |
| (সর্বশেষ হালনাগাদ: ত্রুটি: অবৈধ সময়) |
ইন্দোনেশিয়া প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং হচ্ছে; ভূমিকম্প, সুনামি, আগ্নেয়গিরি, সন্ত্রাসবাদ, গৃহযুদ্ধ, বিমান দুর্ঘটনা, নৌকা ডোবা, দুর্নীতি ইত্যাদি নিয়মিত খবরের শিরোনামে আসে। তবে একটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা জরুরি। ইন্দোনেশিয়া একটি বিরাট দেশ: আচেহতে সুনামি হলে বালির সৈকতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না, আবার পাপুয়ার সংঘর্ষ বোর্নিওর জঙ্গলের সাথে সম্পর্কিত নয়।
কম পর্যটকপ্রধান এলাকায় প্রতারণা কম হলেও বালিতে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
অপরাধ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় অপরাধের হার সাধারণত মধ্যম স্তরের বলে ধরা হয়। সহিংস অপরাধ বিরল, গুলি খাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই (কারণ অস্ত্র কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত), তবে সুযোগসন্ধানী চুরি এবং পকেটমারি খুব সাধারণ। বিশেষ করে জনাকীর্ণ জায়গায় যেমন বাজার, গণপরিবহন বা ফুটওভার ব্রিজে সবসময় সতর্ক থাকুন। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হওয়ায় অপরাধীরা মানিব্যাগ বা ব্যাগের পরিবর্তে স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিচ্ছে। গয়না, ক্যামেরা বা দামী জিনিস প্রদর্শন করবেন না। ইন্টারনেট হটস্পট থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইলও চুরি হয়েছে।
স্থানীয় বা দূরপাল্লার গণপরিবহন (বাস, ট্রেন, জাহাজ) প্রায়ই চোরের টার্গেট হয়। মূল্যবান জিনিস চেক-ইন লাগেজে রাখবেন না, ব্যাগেজ হ্যান্ডলাররা সেগুলো চুরি করতে পারে। অচেনা লোকের কাছ থেকে পানীয় গ্রহণ করবেন না, তাতে মাদক মেশানো থাকতে পারে। শহরে ট্যাক্সি নিতে সাবধান হোন (হোটেল ট্যাক্সি সাধারণত নিরাপদ), গাড়িতে বসে দরজা লক করুন এবং ট্রাফিক লাইটে ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার করবেন না।
হোটেলের ফাঁকা ঘরে মূল্যবান জিনিস রাখবেন না, বরং হোটেলের সেফ ডিপোজিট বক্স ব্যবহার করুন। ব্যাংক বা এটি এম থেকে একসাথে বড় অঙ্কের টাকা তুলবেন না। মানিব্যাগের পরিবর্তে মানি ক্লিপ ব্যবহার করা ভালো।
এটি এম থেকে কার্ড স্কিমিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বড় ব্যাংকের শাখার সাথে থাকা 'গ্যালারি এটি এম' তুলনামূলক নিরাপদ কারণ সেখানে প্রায়ই নিরাপত্তারক্ষী থাকে। পিন দেওয়ার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন। অধিকাংশ এটি এম বুথে সিসিটিভি থাকে, তবে তার কার্যকারিতা সবসময় নিশ্চিত নয়। যদি আপনার কার্ডে চিপ থাকে, সমস্যার সম্ভাবনা অনেক কম।
দুর্নীতি
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া দুর্নীতির জন্য কুখ্যাত। কর্মকর্তারা প্রায়ই উআং সুআপ (ঘুষ), উআং কপি (কফি খরচ), বা উআং রোকোক (সিগারেট খরচ) দাবি করে তাদের কম বেতনের পরিপূরক হিসেবে। ভান করে না বোঝার ভঙ্গি করা অনেক সময় কাজে দেয়। কেউ কেউ আসবাবপত্র বা আপনার কোম্পানির পণ্য এমনকি অশ্লীল সিনেমাও দাবি করেছে। এমনকি ধর্ম বিষয়ক দপ্তরের কর্মীরাও মিশ্র-বিবাহিত দম্পতিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে। সাধারণত ভদ্রতা, হাসি, সরকারি রসিদ চাওয়া—এসব দিয়ে সমস্যার সমাধান হয়। শান্ত থাকুন ও ধৈর্য ধরুন। যদি মনে হয় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে, তবে ভদ্র ভাষায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র লিখুন। এতে অনেক সময় ক্ষমা চাওয়া ও টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন বা পুলিশের সাথে কাজ করার সময় সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে জানুন এবং ফটোকপি সাথে রাখুন। অনেকে আইন জানে না বা না জানার ভান করে, তাই প্রমাণ দেখাতে বলতেও পারে।
ছোট অপরাধ (যেমন পাসপোর্ট না রাখা, ডিপারচার কার্ড হারানো, হালকা ট্রাফিক ভঙ্গ) থেকে মুক্তি পাওয়ার দাম প্রায় ৫০,০০০ রুপিয়া। পুলিশ প্রথমে বড় অঙ্ক দাবি করলেও শান্ত থাকলে কমে যায়। যদি ট্যাক্সি, বাস বা গাড়ি আটকানো হয়, জরিমানা বা ঘুষ দেওয়া চালকের দায়িত্ব, আপনার নয়।
একবার ঘুষ দিলে পরপর আরও দাবির সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক কর্মকর্তা এখনো মনে করে এটাই তাদের অধিকার। সোজা না বলে দিন।
সাথে পরিচয়পত্র রাখুন। তবে রাস্তায় কর্মকর্তা যদি পাসপোর্ট চান, তার বদলে ফটোকপি দেওয়া উত্তম। আসল নথি অনেক সময় আটকিয়ে রাখা হয় শর্ত পূরণের জন্য।
- দুর্নীতি দমন কমিশন (Komisi Pemberantasan Korupsi (KPK)), ☏ ১৯৮, ইমেইল: pengaduan@kpk.go.id। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দুর্নীতি দমন সংস্থা। সংস্থার ওয়েবসাইটে অনলাইনে অভিযোগ করার ব্যবস্থা আছে, যদিও তা কেবল ইন্দোনেশিয়ান ভাষায়। ইমেইল ও ফোনেও অভিযোগ করা যায়।
গৃহযুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার কিছু দূরবর্তী অঞ্চলে এখনো গৃহযুদ্ধ চলছে। বিশেষত পাপুয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বিদেশিদের অপহরণ করেছে। মালুকু দ্বীপপুঞ্জ (আম্বন) এলাকায় মুসলিম-খ্রিস্টান দ্বন্দ্ব মাঝে মাঝে সহিংসতায় রূপ নেয়। তবে আচেহ ও মধ্য সুলাওয়েসি ২০০৪ ও ২০০২ সালের শান্তিচুক্তির পর থেকে শান্ত আছে।
অধিকাংশ গৃহযুদ্ধ স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হলেও বালি ও জাকার্তাতে পশ্চিমা স্বার্থকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ২০০২ ও ২০০৫ সালের বালি হামলা এবং ২০০৯ সালের জেডব্লিউ ম্যারিয়ট/রিটজ-কার্লটন হামলা। এর পেছনের সংগঠন জেমাহ ইসলামিয়াহ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোও পুলিশের উপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে প্রায়ই বিক্ষোভ হয়। এটি সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। সেনাবাহিনীও মাঝে মাঝে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ঘটনা জাকার্তায় ঘটে, প্রাদেশিক রাজধানী ও ছোট শহরও বাদ যায় না। কোথাও সংঘর্ষ শুরু হলে খবর অনুসরণ করুন এবং জড়াবেন না।
মাদক
[সম্পাদনা]বিমানবন্দরে প্রবেশ করেই চোখে পড়বে "মাদক পাচারকারীর মৃত্যু" লেখা সাইনবোর্ড। অল্প পরিমাণ গাঁজার মতো 'সফট ড্রাগ' রাখার জন্যও দীর্ঘ কারাদণ্ড হয়েছে। যেমন বালি ৯ নামে পরিচিত নয়জন অস্ট্রেলিয়ান মাদক পাচারকারী ধরা পড়ে। দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকিরা প্রায় ২০ বছর কারাগারে কাটায়। প্রলোভন ও ফাঁদ দেওয়া সাধারণ ঘটনা। ইন্দোনেশিয়ার বিচারব্যবস্থার সাথে জড়ানো একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপের কারণে এখন ঘুষ দিয়েও রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া রিং অফ ফায়ার বরাবর আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প, সুনামি এবং অগ্ন্যুত্পাত ঘটে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর আচেহ উপকূলে ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং সাগরে ৩০ মিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে। লক্ষাধিক মানুষ মারা যায় ও বাস্তুচ্যুত হয়। যোগ্যাকার্তার মাউন্ট মেরাপি প্রায় প্রতি বছর বা তার কাছাকাছি সময়ে ছাই ছড়ায়। কোনো বছরের মধ্যে এই ছাই ইয়োগিয়াকার্তা শহরের অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং মারাত্মক গরম ধোঁয়া গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেমনটি ২০১০ সালে ঘটেছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে, সুমাত্রার পূর্ব উপকূল, জাভার উত্তর উপকূল, কালিমান্তান, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং দক্ষিণ পাপুয়া বাদে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল এই ধরণের দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এগুলো পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। ভূমিকম্পে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। তবে আগ্নেয়গিরি তুলনামূলকভাবে পূর্বাভাসযোগ্য। আগ্নেয়গিরিটি কতটা সক্রিয় এবং হবে সে সম্পর্কে স্থানীয় মিডিয়া এবং কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণত ভাল সতর্কতা রয়েছে। আগ্নেয়গিরির আশেপাশের অঞ্চলগুলো পরিষ্কার করুন এবং পরিস্থিতি আসন্ন হলে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করুন।
আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের কাছাকাছি থাকার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বিষয় সম্পর্কে মিডিয়া রিপোর্টগুলো কী বলে তা নোট করুন, হোটেলগুলোতে সতর্কতা লক্ষণ এবং অগ্নি নির্বাপনের রুটগুলো পরীক্ষা করুন। আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপ অনুভব করে এমন অঞ্চলগুলো সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকুন এবং অনুরোধ করা হলে সরিয়ে নিন। তবে, আপনি যদি দূরবর্তী অগ্ন্যুৎপাত থেকে আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘে আটকা পড়েন, অবিলম্বে আপনার মুখ এবং নাক ঢেকে রাখুন, তারপরে একটি শক্ত ছাদযুক্ত একটি আবদ্ধ জায়গায় আশ্রয় নিন।
ভূমিকম্প হলে ঘরে থাকলে মজবুত কিছুর নিচে আশ্রয় নিন বা দরজার কাছে থাকলে বাইরে বেরিয়ে যান। বাইরে থাকলে উঁচু জিনিস থেকে দূরে সরে যান। ৬.৫ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্পে সাধারণত সুনামি সতর্কতা দেওয়া হয়। সতর্কবার্তা না পেলেও প্রবল কম্পন অনুভব করলে উপকূল ছেড়ে উঁচু স্থানে যান।
ইন্দোনেশিয়ায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় হয় না, তবে বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হয়। বিশেষত বর্ষাকালে যখন এটি বেশ ঘন ঘন ঘটে। পাহাড়ের ঢাল বা খাড়া পাহাড়ে ভূমিধস ঘটে এবং নিম্নভূমি বা প্রাক্তন বদ্বীপগুলোতে বন্যা সাধারণ ব্যাপার। আবহাওয়ার খবর সবসময় প্রচার হয় না, তবে আকাশ কালো ও মেঘ ঘনীভূত হলে আগত ঝড়ের কোনও লক্ষণের জন্য সতর্ক থাকুন। তবে সবসময় ব্যাফে ছাতা প্যাক রাখা ভালো বিষয়।
ভারি বৃষ্টিতে আগ্নেয়গিরির ছাই জমে থাকলে তা লাহার দিঙিন নামে বিপজ্জনক কাদামাটির স্রোত তৈরি করতে পারে।
বন্যপ্রাণী
[সম্পাদনা]কুমির ও বিষাক্ত সাপ পুরো ইন্দোনেশিয়া জুড়ে উপস্থিত রয়েছে, যদিও বেশিরভাগ অঞ্চলে এগুলো অস্বাভাবিক। গোখরার প্রজাতি এবং সবুজ গেছো সাপ সাধারণত সবচেয়ে সাধারণ। যেহেতু বেশিরভাগ স্থানীয়রা বিষাক্ত এবং নিরীহ সাপের মধ্যে পার্থক্য জানেন না, তাই অনেক জায়গায় আক্রমণাত্মকভাবে সাপ জবাই করা হয় এবং কিছু জায়গায় তাদের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করা হয়। বিশেষত গোখরা ও অজগরের মাংস।
হয়রানির শিকার হলে কমোডো ড্রাগন খুব বিপজ্জনক হতে পারে। তবে এগুলো কেবল কমোডো জাতীয় উদ্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপ ফ্লোরেসে পাওয়া যায়।
বিচ্ছু, চাবুক বিচ্ছু, কাঁকড়া, মাকড়সা এবং কিছু অন্যান্য ক্রিটার, তাদের মধ্যে রোভ বিটল সারা দেশে পাওয়া যায় এবং একটি এনকাউন্টার অপ্রীতিকর ফলাফল তৈরি করতে পারে, তারা সাধারণত মারাত্মক নয়। এটি সত্ত্বেও, যদি আপনার কামড় হয় বা রহস্যময় ফুসকুড়ি বিকাশ হয় তবে পেশাদার সহায়তা নিন।
বৃহৎ শিকারী ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে। সুমাত্রা বাঘ অন্যান্য বৃহৎ প্রাণীর সাথে মারাত্মকভাবে বিপন্ন। এমনকি ছোট বন বিড়ালও এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিছু প্রজাতির পাখি ছাড়া যাদের বাণিজ্যিক মূল্য খুব কম, একসময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত।
এলজিবিটি ভ্রমণকারী
[সম্পাদনা]সমকামিতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। আচেহ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বেশীরভাগ দেশেই সমকামিতার বিরুদ্ধে কোন আইন নেই। কসমোপলিটন জাকার্তা এবং বালি সমকামী নাইটক্লাব নিয়ে গর্ব করে এবং বেনকং বা বানসি (ট্রান্সভেস্টাইটস এবং ট্রান্সসেক্সুয়াল) ইন্দোনেশিয়ান সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে বলে মনে হয়। এমনকি টিভি প্রোগ্রামের হোস্ট এবং এমসি হওয়ার পাশাপাশি বিশেষ জেলা যেখানে এই ধরণের পেকেরজা সেকস কোমারসিয়াল (পতিতা বা জিগোলো) পরিষেবা সরবরাহ করে। যদিও তা অবৈধ। আচেহে অবশ্য সমকামীদের আইনত বেত্রাঘাত করা যায়। একটি সাধারণ নিয়ম হিসাবে, সমকামীদের বিচক্ষণতার দিক থেকে ভুল করা উচিত; যদিও সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিরল, তাদের খারাপ মন্তব্য এবং অবাঞ্ছিত মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।
দিকনির্দেশনা
[সম্পাদনা]আপনি হারিয়ে গেলে ইন্দোনেশিয়ানরা আপনাকে সাহায্য করতে পছন্দ করে। এমনকি তারা আপনার গন্তব্য না চিনলেও সাহায্যের চেষ্টা করে। তাই কমপক্ষে অন্য একজনের সাথে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা পরীক্ষা করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এই সমস্যাটি ট্যাক্সির মতো ব্যক্তিগত পরিবহনের চালকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ড্রাইভার কোথায় যেতে হবে তা জানে না তা স্বীকার করার আগে আপনি যে সাধারণ অঞ্চলে থাকতে চান সেখানে নিজেকে খুঁজে পেতে পারেন।
সুস্থ থাকুন
[সম্পাদনা]|
...
অধিকাংশ ইন্দোনেশিয়ান এখনও জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টির তত্ত্বটি পুরোপুরি মেনে নেয়নি: বরং, যেকোনো ফ্লু-জাতীয় রোগকে মাসুক অঙ্গিন বা আক্ষরিক অর্থে "হাওয়া প্রবেশ করা" ধারণার মধ্যে ফেলে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলা এবং ৪৮ ঘণ্টার বাসযাত্রায় জানালা শক্তভাবে বন্ধ রাখা (যদিও স্পষ্টতই ক্রেটেক ধোঁয়া থেকে মাসুক অঙ্গিন হয় না), আর প্রচলিত চিকিৎসা হিসেবে রয়েছে কেরোকান (তেল মাখা গায়ে মুদ্রা দিয়ে ঘষে দেওয়া) অথবা সামাজিকভাবে কম গ্রহণযোগ্য কেনতুত, অর্থাৎ পাদ! ঢেঁকুর তোলা গ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে খাবারের পর সন্তুষ্টি জানানোর জন্য বা রিফ্লেক্সোলজি করার সময়, যেহেতু দক্ষ পায়ের নাড়াচাড়া শরীরের ভেতরে জমে থাকা বাতাসকে বের করে দেয়। মাসুক অঙ্গিন থেকেও বেশি প্রাণঘাতী হলো অঙ্গিন দুদুক, আক্ষরিক অর্থে "বসে থাকার সময় হাওয়া"। এটি ঘটে যখন বসে থাকার সময় ফ্যান বা এয়ারকন্ডিশনার সরাসরি ঘাড়ে ঠান্ডা বাতাস দেয়। এটি এড়াতে কখনো ফ্যান চালু করবেন না, অথবা এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা বাইরের বাতাসের তাপমাত্রার চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি সেট করে রাখুন। |
খারাপ খবর হলো, মানুষের পরিচিত প্রতিটি রোগই ইন্দোনেশিয়ার কোথাও না কোথাও পাওয়া যায় — ভালো খবর হলো, আপনার সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য জাভা বা বালিতে কোনো ওষুধ প্রয়োজন হয় না, তবে সুমাত্রা, বর্নিও, লমবক বা তার পূর্বের দুর্গম এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
ডেঙ্গু জ্বর যেকোনো জায়গা থেকেই হতে পারে, তাই মশারোধী (DEET) ব্যবহার এবং মশারির নিচে ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। প্রচলিত পরামর্শ হলো এসি সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চালানো, কিন্তু এতে কোনো কাজ হয় না—মশারা কেবল চাদরের নিচে ঢুকে শরীরের তাপ নিয়ে উপভোগ করে রক্ত পান করে। মাঝারি বা উচ্চ গতির ফ্যান অনেক বেশি কার্যকর। ডেঙ্গুর লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, আর প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটা ফ্লুর মতো হয়। মাথাব্যথা আর শরীর ব্যথা। যদি আপনার পিঠ বা শরীরের পাশে লাল ফুসকুড়ি ওঠে, বিশেষ করে চাপে সাময়িকভাবে মিলিয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান।
হেপাটাইটিস বি-ও সাধারণ, বিশেষ করে লমবক ও লেসার সুন্ডা দ্বীপপুঞ্জে। ইন্দোনেশিয়ায় আসার আগে টিকা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, তবে হেপাটাইটিস বি খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না। খাবারের স্বাস্থ্যবিধি প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ থাকে, তাই হেপাটাইটিস এ এবং সম্ভব হলে টাইফয়েড জ্বরের টিকা নেওয়া ভালো সতর্কতা। উভয় হেপাটাইটিস টিকা ভ্রমণের অন্তত ৬ মাস আগে নেওয়া উচিত। ভ্রমণকারীর ডায়রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে না কমলে বা জ্বরসহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ওরালিট সস্তা এবং সহজলভ্য একটি ওরাল স্যালাইন ব্র্যান্ড, এমনকি ছোট আপোতেক (ফার্মেসি) গুলোতেও এটি পাওয়া যায়। প্রচলিত নির্দেশনা হলো—প্রতিবার পাতলা পায়খানা বা বমির পর একটি প্যাকেট খাওয়া। স্বাদ খারাপ হলেও এটি কার্যকর।
বড় শহরগুলোতে, বিশেষ করে জাকার্তা এবং সুরাবায়াতে বায়ুর মান খারাপ। জুন-অক্টোবরের মধ্যে বর্নিও ও উত্তর সুমাত্রার বন অগ্নিকাণ্ড থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশা শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আপনার যদি হাঁপানি থাকে, ওষুধ ও ইনহেলার সঙ্গে রাখুন।
ইন্দোনেশিয়া থেকে পোলিও এখন নির্মূল হয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু) সম্পর্কেও শিরোনাম হয়েছে, তবে সংক্রমণগুলো মাঝে মাঝে এবং কেবল গ্রামীণ এলাকায় জীবিত বা মৃত পোলট্রির সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রান্না করা মুরগি খাওয়া নিরাপদ।
ইন্দোনেশিয়ায় রেবিস আছে, আর এটি যেকোনো উষ্ণ রক্তের প্রাণীর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। অনেক প্রাণী সংক্রমিত হলেও দেখতে একেবারে সুস্থ লাগে। বালিতে কুকুরের মধ্যে এ সমস্যা বিশেষভাবে বিদ্যমান। বিড়াল আর বানরও ঝুঁকিপূর্ণ। ভ্রমণের সময় যদি প্রাণী সামলাতে হয়, তবে আগে টিকা নেওয়া ভালো। না হলে প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো।
স্বাস্থ্যসেবা
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পশ্চিমা মানের সমান নয়। ছোটখাটো সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পশ্চিমা দেশের মতোই হতে পারে, তবে জটিল বা সংকটজনক সমস্যায় সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। বড় শহরের কিছু বেসরকারি হাসপাতাল (যেমন SOS মেডিকা ক্লিনিক)—বিশেষ করে জাভা ও বালিতে—আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, তবে খরচ অনেক বেশি। তাই মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন সুবিধাসহ ভ্রমণ বীমা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক ধনী ইন্দোনেশিয়ান গুরুতর সমস্যার জন্য প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরে যায়, আপনিও সেই বিকল্প ভাবতে পারেন। জরুরি নয় এমন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার আগে কোনগুলো ভালো তা জেনে নেওয়া উচিত। কখনও কখনও বীমাবিহীন রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

নির্দিষ্ট ওষুধ লাগলে প্রেসক্রিপশনসহ বোতল বা কৌটো নিয়ে যান। শুল্ক কর্মকর্তারা ওষুধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। ইন্দোনেশিয়ায় অতিরিক্ত ওষুধ লাগলে কৌটো নিয়ে আপোতেক (ফার্মেসি)-এ যান এবং সক্রিয় উপাদান জানিয়ে দিন। ওষুধ সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় ভিন্ন ব্র্যান্ডে, তবে উপাদান একই থাকে। সঠিক মাত্রায় খাওয়া নিশ্চিত করুন এবং ছোট তোকে ওবাত (যা ফার্মেসি নয়) থেকে ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকুন, কারণ তারা প্রায়ই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কম দামে বিক্রি করে।
ভ্রমণকারীর সাধারণ সমস্যার জন্য শহরে দোকতের (চিকিৎসক) চেম্বার পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত বিকেলে (১৬:০০ থেকে) খোলে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ (UGD/IGD) সব সময় (২৪ ঘণ্টা) খোলা থাকে। হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পলিক্লিনিক খোলা থাকে। অনেক হাসপাতালে চিকিৎসার আগে অগ্রিম অর্থ, কিস্তি বা ক্রেডিট কার্ড ব্লক করা প্রয়োজন হয়।
ডাক্তার বা নার্স ইংরেজিতে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে নাও পারতে পারেন বা নির্ণয় জানাতে অনীহা দেখাতে পারেন। ধৈর্য ধরুন এবং একটি ফ্রেজবুক বা দোভাষী রাখুন। ওষুধের নাম ও মাত্রা জিজ্ঞেস করুন, কারণ কিছু ডাক্তার কমিশন বাড়াতে অযথা প্রেসক্রিপশন দেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রায়ই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেওয়া হয়, আর ভিটামিন প্রায়ই বেশি করে দেওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ফার্মেসি (আপোতেক) আছে, আর তাদের সেবার মানও ভিন্ন ভিন্ন। বড় চেইন ফার্মেসিতে সাধারণত ভালো সংগ্রহ থাকে। বিশেষ ওষুধ লাগলে আগেই প্রাপ্যতা যাচাই করুন। ভ্রমণের অনেক আগেই প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধ নিয়ে রাখুন।
বড় শহরে ফার্মেসি দোকান বা শপিং সেন্টারে থাকে, দোকানের মতো সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এইচআইভি
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি (২০১৪ সালে জনসংখ্যার ০.৫%)। তবে অধিকাংশ সংক্রমণ ঘটে একই সিরিঞ্জ ব্যবহারকারী মাদকাসক্তদের মধ্যে এবং পরে যৌনকর্মীদের মাধ্যমে। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের আগে অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত করুন।
পানি
[সম্পাদনা]কলের পানি ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত পানযোগ্য নয়। রেস্তোরাঁয় দেওয়া পানি বা বরফ বিশুদ্ধ বা ফোটানো হতে পারে (আইর মিনুম বা আইর পুতিহ), তবে জিজ্ঞেস করুন। আইর মিনারাল (বোতলজাত পানি), সাধারণত আকুয়া নামে পরিচিত (সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড), সস্তা এবং সর্বত্র পাওয়া যায়, তবে সিল অক্ষত আছে কি না দেখুন। জনপরিবহনের কাছে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ মাঝে মাঝে ওষুধ মিশিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
বেশিরভাগ হোটেল বিনামূল্যে পানীয় জল দেয় (সাধারণত ২টি ছোট বোতল বা হিটার), কারণ কলের পানি পানযোগ্য নয়। বরফের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, কারণ তা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বা সংরক্ষিত হতে পারে।
সম্মান
[সম্পাদনা]|
নাম ও সম্বোধন
ইন্দোনেশিয়ানরা পশ্চিমা ধাঁচের নাম ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করে; তবে কেউ কেউ পদবি ব্যবহার করেন না বা পদবি থাকে না। ইন্দোনেশিয়ায় হাজারো সংস্কৃতি রয়েছে যাদের নামকরণের ধরণ ভিন্ন, আর সবার মধ্যে পারিবারিক পদবির ধারণা নেই। চীনা নাম সাধারণত চীনা নিয়মে হয় (পদবি আগে, নাম পরে)। ইন্দোনেশিয়ার পরিচয়পত্রে নাম ও পদবি আলাদা করা হয় না। অপরিচিত কাউকে ভদ্রভাবে সম্বোধন করার জন্য পুরুষদের ক্ষেত্রে বাপাক ("পিতা") এবং নারীদের ক্ষেত্রে ইবু ("মাতা") ব্যবহৃত হয়। কারও নাম জানা থাকলে সম্মান দেখিয়ে (বা)পাক বা (ই)বু বলে তাদের নামের আগে ব্যবহার করা যায়। যেমন, সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তো ছিলেন পাক হার্তো। জাভানিজ শব্দ মাস ("ভাই") এবং মবাক ("আপা")-ও সাধারণ, তবে সমবয়সী বা জুনিয়রদের জন্য, সিনিয়র বা কর্তৃপক্ষের জন্য নয়। আপনাকে তুয়ান (জনাব), নোনা (কুমারী) বা ন্যোন্যা (মিসেস) বলেও ডাকা হতে পারে। এটি সাধারণত পশ্চিমা ধাঁচে ব্যবহৃত হয়। কারও প্রথম নামে ডাকা তখনই যথেষ্ট যখন আপনি তাকে আগে থেকেই চেনেন। অন্যদের নিয়ে কথা বলার সময় নাম ব্যবহার করা উত্তম (অথবা যেমন অনেক ইন্দোনেশিয়ান করে, "সি+নাম" ব্যবহার করা। যেমন: "সি মাস জন" বা "সি মবাক মেরি")। এটি গোপনে না বলে খোলামেলা ও স্বীকৃতির প্রকাশ। |

- ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত বিদেশিদের সাথে স্থানীয়দের আচরণ কখনও কখনও "রূঢ় বা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল" মনে হতে পারে। তারা আপনাকে "বুলে" (আক্ষরিক অর্থে অ্যালবিনো) বলতে পারে, নিরন্তর তাকিয়ে থাকতে পারে, ছবি তুলতে চাইতে পারে, হেসে শুভেচ্ছা জানাতে পারে এবং প্রশ্ন করতে পারে। এটি অপমান নয়, বরং কৌতূহল।
- কিছু বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দির বা বাড়িতে স্বস্তিকা চিহ্ন দেখা যেতে পারে। এগুলো ধর্মীয় প্রতীক, না এটি ইহুদিবিদ্বেষ বা নাৎসিবাদের সমর্থন, বরং এগুলো অনেক পুরনো।
পোশাক
[সম্পাদনা]সামগ্রিকভাবে, ইন্দোনেশিয়া একটি রক্ষণশীল দেশ, তাই শালীন পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। বালি ও লমবকের বেশিরভাগ সৈকতে স্থানীয়রা পর্যটকদের বিকিনি পরতে অভ্যস্ত (তবে কখনোই উলঙ্গ বা টপলেস নয়), তবে অন্যত্র মহিলাদের পা ও বুক ঢাকা ভালো, এবং গোসলের সময় স্থানীয়দের মতো আচরণ করা শ্রেয়। মহিলাদের হিজাব পরা আইনত বাধ্যতামূলক নয়, শুধুমাত্র আচেহের মুসলিম নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। শর্টস বা মিনি স্কার্ট সাধারণত অপমানজনক নয়, তবে এগুলো কখনও যৌনকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয়। পুরুষদেরও শার্ট, লম্বা হাতা আর প্যান্ট পরে গেলে বেশি সম্মান পাওয়া যায়, বিশেষত প্রশাসনিক কাজে। টাই সাধারণত ইন্দোনেশিয়ায় প্রচলিত নয়।
আচরণ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ানরা সাধারণত ভদ্র, আর কিছু স্থানীয় রীতি মেনে চললে ভ্রমণ সহজ হয়।
- সম্মান রক্ষা ইন্দোনেশিয়ান সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিরোধে জড়ালে জেতার চেষ্টা না করে ভদ্র, শান্ত আর হাসিখুশি থাকুন। নিচুস্বরে ও হাসিমুখে ব্যক্তিকে সমস্যার সমাধান খুঁজতে বলার মাধ্যমে আরও ভাল ফলাফল অর্জন করা হবে। কিন্তু, কেউ যদি স্পষ্টতই দুর্নীতিগ্রস্ত বা বাধাগ্রস্ত হন, তা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিঠি বা আলাপ বা বৈঠক হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। আপনাকে কত উঁচুতে যেতে হতে পারে তা পরিবর্তনশীল।
- রাস্তায় হাঁটার সময় হাসুন, মাথা নাড়ুন বা শুভেচ্ছা জানান। ফেরিওয়ালাদের বিদায় দেওয়ার সাধারণ উপায় হলো তেরিমা কাসি (না, ধন্যবাদ) বলা।
- কারও সাথে দেখা করার সময়, পুরো জীবনের প্রথমবার দেখা হোক বা দিনে প্রথমবার দেখা হোক, হাত মেলানো প্রচলিত। তবে এটি পশ্চিমা হাত মেলানোর মতো শক্ত নয়। এটি কেবল হাতের তালুর হালকা স্পর্শ। এরপর হাত বুকের কাছে আনা হয়। সভা শুরুর ও শেষে সবার সঙ্গে হাত মেলানো হয়। তবে মুসলিম নারীদের সাথে হাত মেলাতে যাবেন না, যদি না তারা আগে হাত বাড়ান। প্রবীণ বা কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানানোর সময় সামান্য ঝুঁকুন (সম্পূর্ণ নমস্কার নয়) ।
- বাম হাত ব্যবহার করবেন না! এটি অত্যন্ত অশোভন ধরা হয়, কারণ বাথরুম ব্যবহারের পর শরীর পরিষ্কারে বাম হাত ব্যবহার করা হয়। করমর্দন বা কিছু দেওয়ার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন। যদি বাম হাত ব্যবহার করতেই হয়, তবে বলুন: "মাফ, তাঙ্গান কিরি" (দুঃখিত, বাম হাত ব্যবহার করলাম)।
- কারও মাথায় হাত দেবেন না—কিছু সংস্কৃতিতে এটি পবিত্র ধরা হয়। আঙুল দিয়ে ইশারা না করে পুরো হাত বা ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দেখান। হাত ক্রস করে বা কোমরে দিয়ে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন।
- কারও বাড়িতে ঢোকার আগে জুতা খুলুন। অনুমতি পেলেও খুলে রাখা ভদ্রতা। পা তুলে বসা বা কারও দিকে পায়ের তলা দেখানো অশোভন।
- অন্যদের সামনে দিয়ে হাঁটবেন না, পেছন দিয়ে হাঁটুন। বসে থাকা লোকজনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় সামান্য ঝুঁকে হাত নামিয়ে "কেটে" যাওয়া প্রথা। বাংলাদেশে মসজিদে কাতারে বসে থাকা মানুষের সামনে দিয়ে যেভাবে ঝুঁকে সামনে হাত দিয়ে যাওয়ার প্রচলন আছে, এটা অনেকটা সেরকমই।
সবকিছু জটিল মনে হলে চিন্তার কিছু নেই—ইন্দোনেশিয়ানরা সহজ-সরল এবং বিদেশিদের স্থানীয় রীতিনীতি না জানাটা তারা মেনে নেয়। যদি কারও আচরণ বুঝতে সমস্যা হয়, পরে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এতে তারা খুশি হবে, কারণ এটি আস্থা প্রকাশ করে।
সংবেদনশীল বিষয়
[সম্পাদনা]- সুহার্তো আমল নিয়ে সবার মতামত এক নয়। কেউ একে দুর্নীতি, স্বৈরশাসন আর জাতিগত বৈষম্যের জন্য সমালোচনা করে, বিশেষ করে চীনা-ইন্দোনেশিয়ানদের প্রতি; আবার অনেকে অর্থনৈতিক উন্নতি, স্থিতিশীলতা আর সস্তা বাজারদরের জন্য প্রশংসা করে। আলোচনার আগে বক্তার মতামত বুঝে নিন।
- কমিউনিজম খুবই সংবেদনশীল বিষয়, কারণ সুহার্তো শাসনামলে ইন্দোনেশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল। কমিউনিজম ও এর প্রতীক ইন্দোনেশিয়ায় নিষিদ্ধ; এগুলো প্রচার বা ব্যবহার করলে কারাদণ্ড হয়।
- কিছু ইসলামি প্রতিষ্ঠান বা আলেম আগে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার করেছিল। তারা প্রায়ই ইহুদি ধর্মকে রাজনৈতিক ইহুদিবাদের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। তবে, এই দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না এবং ইহুদি জনগণ দৈনন্দিন জনসাধারণের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
- মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অ্যান্টি-জায়োনিজম বেশ প্রবল; তাই ইসরায়েল নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। অনেক ইন্দোনেশীয় মুসলিম প্রকাশ্যে প্যালেস্টাইন ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানায়।
- নাৎসিবাদ খুব একটা সংবেদনশীল বিষয় নয়। বড় শহরগুলোতে এমনকি কয়েকটি ছোট দলও আছে যারা নাৎসি জার্মানির প্রতি আগ্রহী (Wehraboo)।
অবিবাহিত যুগল
[সম্পাদনা]২০২২ সালের ইন্দোনেশিয়ার দণ্ডবিধি অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যক্তিদের যৌন সম্পর্ক করা বা একসাথে থাকা একটি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড। তবে অভিযোগ কেবল যুগলের আত্মীয়রা দায়ের করতে পারে, তাই বিদেশি ভ্রমণকারীরা কার্যত এ আইন থেকে মুক্ত। স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক করলে সতর্ক থাকুন। আর যদি সম্পর্ক গভীর হয়, ভবিষ্যৎ শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করুন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সন্তানের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
আচেহের মতো রক্ষণশীল অঞ্চলের বা শরিয়াহ অনুগত হোটেলগুলো বিবাহ সনদ চাইতে পারে, তবে অধিকাংশ সাধারণ হোটেল (যেমন বালিতে) এসব প্রয়োজন হয় না। বিস্তারিত জানতে ঘুম অংশটি দেখুন।
যোগাযোগ
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়া থেকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সাধারণত কোনো সমস্যা নয়, বিশেষ করে আপনি যদি জনপ্রিয় ভ্রমণপথে থাকেন।
টেলিফোন
[সম্পাদনা]
আগে স্থানীয়রা ফোন করার জন্য wartel (warung telekomunikasi বা টেলিযোগাযোগ বুথ) ব্যবহার করত। এখন এগুলো খুব একটা দেখা যায় না, কারণ অধিকাংশ ইন্দোনেশীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম।
ইন্দোনেশিয়ার ফোন নম্বরের ধরন হলো +62 12 345-6789। এখানে "62" ইন্দোনেশিয়ার কান্ট্রি কোড, এর পরে থাকে এরিয়া কোড (শুরুতে 0 বাদ দিয়ে), তারপর ফোন নম্বর। যদি +62 বাদ দেন, তবে কল করার সময় "0" দিয়ে এরিয়া কোড শুরু করতে হবে। মোবাইল নম্বর সাধারণত 08xx (অথবা +62 8xx) দিয়ে শুরু হয়। এখানে "xx" হলো মূল নেটওয়ার্কের কোড। এই প্রিফিক্স অবশ্যই ডায়াল করতে হবে।
- স্থানীয় কল করতে
- শুধু ফোন নম্বর ডায়াল করুন।
- দীর্ঘ দূরত্বের কল
- 0-(এরিয়া কোড)-(ফোন নম্বর)।
- আন্তর্জাতিক কল
- 017-(কান্ট্রি কোড)-(এরিয়া কোড, থাকলে)-(ফোন নম্বর)। এছাড়া "001", "007" বা "008" প্রিফিক্স ব্যবহার করা যায়, তবে এগুলোর চার্জ 017-এর তুলনায় ৩ গুণ।
- অপারেটরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল করতে
- 101 বা 102 ডায়াল করুন।
- কলেক্ট কল (দূরপাল্লা) করতে
- 0871-(এরিয়া কোড)।
- টেলকম কলিং কার্ড এক্সেস নম্বর
- 168।
মোবাইল ফোন
[সম্পাদনা]মোবাইল ফোন থেকে কল করার সময় সবসময় অপারেটর বা এরিয়া কোডসহ +62 বা 0 প্রিফিক্স ব্যবহার করুন: +62 812-3456-7890 অথবা 0812-3456-7890।
ইন্দোনেশিয়ায় সিমকার্ড ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারী ও ডিভাইস নিবন্ধন করতে হয়, ডিভাইসের ক্ষেত্রে দেশে প্রবেশের আগে নিবন্ধন জরুরি। বিস্তারিত নিচে দেখুন।
ইন্দোনেশিয়ার মোবাইল ফোন বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং খরচও কম। ১০,০০০ রুপিয়ার কমে প্রিপেইড সিম পাওয়া যায়। কিছু নেটওয়ার্কে মাত্র ৩০০ রুপিয়া মিনিটে আন্তর্জাতিক কলও সম্ভব। এসএমএস স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০০ রুপিয়া এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৬০০ রুপিয়া। তবে সব কোম্পানি আন্তর্জাতিক এসএমএস সমর্থন করে না। সহজ যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়। ব্যবহৃত ফোনের বাজারও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়। মাত্র ৮০,০০০ রুপিয়ায় পুরনো ফোন পাওয়া যায়। সাধারণ ফিচার ফোন ১,২০,০০০ রুপিয়া থেকে শুরু, আর 4G সমর্থিত স্মার্টফোন ৭,০০,০০০ রুপিয়া থেকে। 4G ফোন যথেষ্ট, কারণ সব পর্যটন এলাকায় এখনও 5G নেই, এমনকি বালিতেও।
দেশটিতে অনেক মোবাইল সেবা প্রদানকারী আছে, যেমন: টেলকমসেল, 3/ইন্দোসাট উরিডু (২০২৩-এ একীভূত হয়ে IOH হলেও আলাদাভাবে কাজ করছে), এক্সএল অজিয়াটা এবং স্মার্টফ্রেন। বড় শহরে প্রায় সবগুলোই ভালোভাবে চলে, কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় টেলকমসেল সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। আইন অনুযায়ী সব ফোন নম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। বিদেশিরা সাধারণত সরাসরি প্রোভাইডারের অফিস থেকে সিম চালু করতে পারে (যেমন টেলকমসেলের গ্রাপারি, গ্যালেরি ইন্দোসাট, বা এক্সএল সেন্টার)।
২০২০ সালে নতুন ডিভাইস নিবন্ধন আইন কার্যকর হয়, যাতে অবৈধভাবে আমদানি হওয়া ফোন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ১৫ এপ্রিল ২০২০-এর আগে ব্যবহৃত না হলে ডিভাইস কাস্টমসে ঘোষণা করতে হয়। তা না হলে কেবল "ট্যুরিস্ট সিম" বা রোমিং ব্যবহার করতে পারবেন। দামি ফোন থাকলে রোমিং কখনও কখনও সস্তা পড়তে পারে। এ জন্য অনেকেই সস্তা ফোন ব্যবহার করে।
ট্যুরিস্ট সিম স্থানীয় সিমের চেয়ে অনেক বেশি খরচবহুল। যেমন, টেলকমসেলের ট্যুরিস্ট প্ল্যান ১,০০,০০০ রুপিয়ায় ১০ জিবি, ৩০০ মিনিট, ৩০০ এসএমএস দেয় ১৪ দিনের জন্য। মেয়াদ বাড়ানো যায় না।
মোবাইল ফোন থেকে আন্তর্জাতিক কল করতে হলে টেলকমসেল: 01017, স্মার্টফ্রেন: 01033 তারপর (কান্ট্রি কোড)-(এরিয়া কোড, থাকলে)-(ফোন নম্বর)। অন্য প্রোভাইডারের প্রিফিক্স সিম কার্ডে লেখা থাকে বা কল সেন্টারে জেনে নিতে হয়। সাধারণত ল্যান্ডলাইনে কল ১,০০০–১,৫০০ রুপিয়া মিনিটে, মোবাইলে দ্বিগুণ। আফ্রিকায় কল করলে প্রায় ৪,০০০ রুপিয়া মিনিটে লাগে।
ইন্টারনেট
[সম্পাদনা]আগে মানুষ warnet (ইন্টারনেট ক্যাফে) ব্যবহার করত। এখন এগুলো শুধু ছোট শহরে আছে। খরচ ভিন্ন হয়, তবে সাধারণত ঘণ্টায় ৫,০০০ রুপিয়ার মধ্যে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পাওয়া যায়। বড় শহরে অনেক রেস্টুরেন্ট, দোকান, পার্কে ফ্রি ওয়াই-ফাই আছে। অনেক হোটেল লবি, রেস্টুরেন্ট এবং রুমে ওয়াই-ফাই দেয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ইন্টারনেট সেন্সরশিপ আছে। প্রায় ৭০,০০০ সাইট বন্ধ। বেশিরভাগই পর্নোগ্রাফি, তবে কিছু পশ্চিমা সাইট (যেমন Reddit) ও এলজিবিটিকিউ+ ডেটিং অ্যাপও ব্লক। দাঙ্গা বা সংবেদনশীল সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তাই VPN ব্যবহার করা ভালো। ইমেইল (যেমন Gmail) ব্লক হয়নি।
যদি এক সপ্তাহের বেশি থাকেন, স্থানীয় সিম ব্যবহার করুন। ২০,০০০ রুপিয়ায় প্রায় ২ জিবি ডেটা পাওয়া যায়। মাসিক, সাপ্তাহিক, দৈনিক নানা প্যাকেজ আছে। বিমানবন্দরে সিম নিলে দাম বেশি, তাই শহরে কিনুন বা অফিসিয়াল আউটলেট থেকে নিন।
4G-LTE কভারেজ জাভা ও বালিতে ভালো। 5G কিছু শহরে চালু হয়েছে। তবে ফ্রিকোয়েন্সি আলাদা হতে পারে, তাই ফোনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করুন।
নতুন সিম নিবন্ধন করতে বিদেশিদের পাসপোর্টের ছবি তোলা হয়। সব বিক্রেতা এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত নয়, তাই সরাসরি প্রোভাইডারের অফিসে যাওয়া ভালো। অনেক প্ল্যানে কাস্টমসে ঘোষণা করা ফোন দরকার হয়।
টেলিফোন ডিরেক্টরি ও তথ্য সেবা
[সম্পাদনা]- বর্তমান সময়, ☏ ৯৯৯।
- টেলকম সেবার তথ্য, ☏ ১৬২।
- ফোন ডিরেক্টরি, ☏ ১০৮। অন্য শহরের ফোন ডিরেক্টরি (এরিয়া কোড) 108
- হ্যালো ইয়েলো ফোন ডিরেক্টরি, ☏ ১৫০০০৫৭ (দেশের ভেতরে)।
- ইন্দোনেশিয়ার বড় শহরগুলোর এরিয়া কোড: বালিকপাপন (০৫৪২), বান্দা আচেহ (০৬৫১), বান্দুং (০২২), বাতাম (০৭৭৮), বেতুং (০২২), বিন্তান (০৭৭০), বোগর (০২৫), সিরেবন (০২৩), দেমাক (০২৯), দেনপাসার (০৩৬১), জাকার্তা (০২১), জেম্বার (০৩৩), যোগ্যকার্তা (০২৭৪), কুপাং (০৩৮০), মাকাসার (০৪১১), মালাং (০৩৪), মানাডো (০৪৩১), মাতারাম (০৩৭০), মেদান (০৬১), পালেম্বাং (০৭১১), পেকানবারু (০৭৬১), সেমারাং (০২৪), সলো (০২৭১), সুরাবায়া (০৩১)।
ডাক সেবা
[সম্পাদনা]
ডাকসেবা সরকারি পস ইন্দোনেশিয়া পরিচালনা করে। এটি সবচেয়ে দূরবর্তী এলাকায়ও পৌঁছে দেয়। জেএনই এবং টিকি কম খরচে দেশের যেকোনো জায়গায় পার্সেল পাঠায়। ফেডেক্স (FedEx), ডিএইচএল, ইউপিএস আন্তর্জাতিকভাবে পার্সেল পাঠায়। শহরের ভেতরে পার্সেল পাঠানো যায় মোটরসাইকেল কুরিয়ার (ojek) অ্যাপ দিয়ে।
পর্যটন প্রচার কেন্দ্র
[সম্পাদনা]- পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জেএল. মেদান মেরদেকা বারাত নং ১৭, ১০ম তলা, জাকার্তা, ☏ +৬২ ২১ ৩৮৩ ৮৩০৩।
- ইন্দোনেশিয়া পর্যটন প্রচার বোর্ড (BPPI), উইসমা নুগ্রাহা সান্তানা ১০ম তলা, জেএল. জেন্ড. সুদিরমান কাভ. 8, জাকার্তা, ☏ +৬২ ২১ ৫৭০ ৪৮৭৯, ফ্যাক্স: +৬২ ২১ ৫৭০ ৪৮৫৫।
জরুরি
[সম্পাদনা]বড় শহরগুলোতে জরুরি সেবার জন্য 112 নাম্বারে ফোন করুন। এটি বিনামূল্যে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাঠায়। অন্য এলাকায় এই নাম্বার কল করলে পুলিশে চলে যায়, তারা প্রয়োজনীয় সেবা পাঠাতে চেষ্টা করে তবে সময় বেশি লাগে। নির্দিষ্ট সেবার জন্য নিচের নাম্বারগুলো কাজে লাগবে:
- পুলিশ (POLRI), ☏ ১১০।
- পুলিশ সদর দপ্তর, জেএল. ত্রুনোজয়ো ৩, দক্ষিণ জাকার্তা, ☏ +৬২ ২১ ৭২১৮১৪৪।
- ফায়ার সার্ভিস, ☏ ১১৩।
- অ্যাম্বুলেন্স, ☏ ১১৮।
- সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম, ☏ ১১৫।
- জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সংস্থা (BASARNAS), জেএল. মেদান মেরদেকা তৈমুর নং ৫, জাকার্তা, ☏ +৬২ ২১ ৩৪৮-৩২৮৮১, +৬২ ২১ ৩৪৮-৩২৯০৮, +৬২ ২১ ৩৪৮-৩২৮৬৯।
- রেড ক্রস সদর দপ্তর, জাকার্তা, ☏ +৬২ ২১ ৩৮৪৩৫৮২।
ইংরেজি ভাষী অপারেটর সাধারণত পাওয়া যায় না, এমনকি বড় শহরেও। অপারেটররা সাধারণত ইন্দোনেশিয়ান ভাষাতেই কথা বলে।
গণমাধ্যম
[সম্পাদনা]ইন্দোনেশিয়ায় ইংরেজি ভাষার প্রকাশনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দ্য জাকার্তা পোস্ট ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম প্রচারিত ইংরেজি সংবাদপত্র; আপনি ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বড় শহর থেকে একটি কপি পেতে পারেন। দ্য জাকার্তা গ্লোব ট্যাবলয়েড আকারে প্রকাশিত হয় এবং সাধারণত সমৃদ্ধ সামগ্রী থাকে। উভয় সংবাদপত্রই ভাল অনলাইন সামগ্রী সরবরাহ করে।
টেম্পো মিডিয়া ইংরেজিতে একটি অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখে। এছাড়াও এটি তার নিজস্ব ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে; তবে এর বেশিরভাগই কাঠখোট্টা সংবাদে ভরা।
অন্তরা নিউজ ইংরেজিতেও কিছু খবর দেয়।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভি স্টেশন টিভিআরআইয়ের প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় ডাব্লুআইবি (পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ান সময়) নিজস্ব ইংরেজি সংবাদ পরিষেবা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অগ্রণী নিউজ চ্যানেল, মেট্রোটিভিতেও একটি ইংরেজি সংবাদ প্রোগ্রাম রয়েছে মঙ্গলবার থেকে শনিবার ০১:০০ টায়। বেরিটা সাতু ওয়ার্ল্ড একটি ইংরেজি নিউজ চ্যানেল। এটি নির্বাচিত কেবল টিভি সরবরাহকারীদের মধ্যে দেখা যায়।
খাপ খাওয়ানো
[সম্পাদনা]বিদ্যুৎ
[সম্পাদনা]
ইন্দোনেশিয়ায় ২২০ ভোল্ট, ৫০ হার্জ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। সকেট ইউরোপীয় মানের দুই পিনের। পাওয়ার অ্যাডাপ্টার সহজেই পাওয়া যায়।
জাভা ও বালিতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। জনবসতি এলাকায়ও সাধারণত সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে প্রত্যন্ত গ্রামে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে বা একেবারেই থাকে না।
কাপড় ধোয়া
[সম্পাদনা]প্রায় সব হোটেলে লন্ড্রি সেবা আছে। কম খরচ করতে চাইলে "লন্ড্রি কিলোয়ান" ব্যবহার করতে পারেন। কেজি হিসেবে চার্জ নেয়। সাধারণত কাপড় ধোয়া, শুকানো, ইস্ত্রি করা, ভাঁজ করা ও প্লাস্টিকে প্যাক করে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ তিন দিন সময় লাগতে পারে। খরচ কেজি প্রতি ৭,০০০–১২,০০০ রুপিয়া। দ্রুত সেবা চাইলে দ্বিগুণ দিতে হয়।
দূতাবাস ও কনস্যুলেট
[সম্পাদনা]পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব কূটনৈতিক মিশনের তালিকা রাখে। সব দূতাবাস জাকার্তাতে অবস্থিত। তবে কয়েকটি দেশ সুরাবায়া, বালিসহ কিছু শহরে কনস্যুলেট রাখে (যেমন পেকানবারুতে মালয়েশিয়া, মানাডোতে ফিলিপাইন, জায়াপুরাতে পাপুয়া নিউগিনি)।

