উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

ওসমানী জাদুঘর সিলেটের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান, যা সিলেট সদরের অন্তর্গত নাইওর পুল এলাকায় অবস্থিত। এটি সিলেটের অন্যতম একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা হিসাবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষক স্থান। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটির রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। স্থানটি সিলেট শহরের '০' পয়েন্টের ১০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষত্ব[সম্পাদনা]

বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মাদ আতাউল গনি ওসমানীর পৈতৃক নিবাস "নূর মঞ্জিল"-কে বর্তমানে ‘ওসমানী জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৮৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই জাদুঘরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ১৯৮৭ সালের ৪ মার্চ এর উদ্বোধন করেন।

‘নুর মঞ্জিল’ কয়েকটি কক্ষ সমৃদ্ধ একটি টিনশেড ভবন যার সামনে রয়েছে একটি চমৎকার চত্বর। জাদুঘরে পৌছাতে হলে মূল ফটক থেকে কয়েক মিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। জাদুঘরে ঢোকার মুখেই জেনারেল ওসমানীর একটি বিশাল প্রতিকৃতি আছে। অভ্যর্থনা কক্ষে রক্ষিত রেজিস্টারে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। জাদুঘরটির তিনটি গ্যালারিতে জেনারেল ওসমানীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র ছাড়াও বেশকিছু ঐতিহাসিক ছবি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জাদুঘর ভবনের পশ্চিম এবং পূর্ব প্রান্তে জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক এবং সহযোগী তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ অবস্থিত।

বৃহস্পতিবার ব্যাতিত সপ্তাহের অন্যান্য সবদিন এই জাদুঘরটি খোলা থাকে। এই জাদুঘরটি দুপুর ৩:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরটি পরিদর্শনের জন্য দর্শনার্থীদের পূর্বে কোন প্রবেশ মূল্য দিতে হতো না; বর্তমানে ২০ টাকা দিতে হয়। জাদুঘরের পক্ষ থেকে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্মদিবস (১ সেপ্টেম্বর), মৃত্যুদিবস (১৬ ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) এবং বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) পালন করা হয়ে থাকে।

কিভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

স্থল পথে[সম্পাদনা]

সড়ক পথে ঢাকা হতে প্রথমে সিলেট যেতে হবে; অতঃপর সেখান থেকে জাদুঘরটিতে যেতে হবে। ঢাকা হতে সড়ক পথে সিলেটের দূরত্ব ২৪১ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে সিলেট রেল স্টেশনের দূরত্ব ৩১৯ কিলোমিটার। সিলেট এসে সেখান থেকে রিক্সা বা সিএনজি অটো রিক্সায় অতি সহজেই নাইওর পুল আসা যায়।

  • সিলেটের মূল বাস স্ট্যান্ড কদমতলী বাস টার্মিনাল অথবা রেল স্টেশন থেকে নাইওর পুলস্থ জাদুঘরটিতে আসার জন্য ভাড়া হবেঃ
    • রিক্সায় - ৩০/- - ৫০/-;
    • সিএনজিতে - ৮০/- - ১২০/-।

সড়কপথে সিলেট আসা[সম্পাদনা]

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে সিলেটে আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৪.৩০ হতে ৬ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে আল-মোবারাকা সোহাগ, হানিফ, শ্যামলী, এনা, ইউনিক, মামুন, সাউদিয়া, গ্রীনলাইন, মিতালি প্রভৃতি পরিবহন কোম্পানীর বাস আছে প্রতি ১০ মিনিট পর পর।

  • সোহাগ পরিবহন: ☎ ০২-৯৩৩১৬০০ (ফকিরাপুল), ৯১৩২৩৬০ (কমলাপুর), ৯১৩২৩৬০ (কল্যাণপুর), ৭১০০৪২২ (আরমবাগ), ০৮২১-৭২২২৯৯ (সোবাহানীঘাট, সিলেট);
  • আল-মোবারকা পরিবহন: ☎ ০২-৭৫৫৩৪৮৩, ০৪৪৭৭৮০৩৪২২, মোবাইল: +৮৮০১৭২০-৫৫৬১১৬, +৮৮০১৮১৯-১৮৩৬১১, +৮৮০১৭১৫-৮৮৭৫৬৬;
  • গ্রীন লাইন পরিবহন: ☎ ০২-৭১৯১৯০০ (ফকিরাপুল), +৮৮০১৭৩০-০৬০০৮০ (কল্যাণপুর), ০৮২১-৭২০১৬১ (সোবাহানীঘাট, সিলেট);
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ: মোবাইল +৮৮০১৭১৩-৪০২৬৬১ (কল্যাণপুর), +৮৮০১৭১১৯২২৪১৩ (কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, সিলেট);
  • শ্যামলী পরিবহন: ☎ ০২-৯০০৩৩১, ৮০৩৪২৭৫ (কল্যাণপুর), +৮৮০১৭১৬০৩৬৬৮৭ (কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, সিলেট)।
  • ঢাকা-সিলেট রুটে সরাসরি চলাচলকারী পরিবহনে আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ
    • এসি বাসে - ৯০০/- (রেগুলার) ও ১২০০/- (এক্সিকিউটিভ) এবং
    • নন-এসি বাসে - ৪৭০/-।

রেলপথে সিলেট আসা[সম্পাদনা]

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন বা চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনে সরাসরি আসা যায়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা – সিলেট এবং চট্টগ্রাম – সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

  • ৭১০ পারাবত এক্সপ্রেস - সিলেট হতে দুপুর ০৩ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় রাত ০৯ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে (মঙ্গলবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে ভোর ০৬ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে দুপুর ০১ টা ৪৫ মিনিটে (মঙ্গলবার বন্ধ);
  • ৭১৮ জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস - সিলেট হতে সকাল ০৮ টা ৪০ মিনেটে ছাড়ে এবং ঢাকায় বিকাল ০৪ টায় পৌছে (বৃহস্পতিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে সন্ধ্যা ০৭ টা ৫০ মিনিটে (কোন বন্ধ নেই);
  • ৭২০ পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস (শনিবার বন্ধ) সিলেট হতে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে রাত ০৭ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে;
  • ৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেস (রবিবার বন্ধ) সিলেট হতে রাত ০৭ টা ২০ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে ভোর ০৫ টা ৫০ মিনিটে পৌছে;
  • ৭৪০ উপবন এক্সপ্রেস - সিলেট হতে রাত ১০ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় ভোর ০৫ টা ১০ মিনিটে পৌছে (কোন বন্ধ নেই) ও ঢাকা থেকে রাত ০৯ টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে (বুধবার বন্ধ);
  • ৭৭৪ কালনী এক্সপ্রেস - সিলেট হতে সকাল ০৭ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় দুপুর ০১ টা ২৫ মিনিটে পৌছে (শুক্রবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে বিকাল ০৪ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে (শুক্রবার বন্ধ)।

ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী রেলে ঢাকা হতে সিলেট আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলো -

  • ২য় শ্রেণির সাধারণ - ৮০ টাকা;
  • ২য় শ্রেণির মেইল - ১১০ টাকা;
  • কমিউটার - ১৩৫ টাকা;
  • সুলভ - ১৬০ টাকা;
  • শোভন - ২৬৫ টাকা;
  • শোভন চেয়ার - ৩২০ টাকা;
  • ১ম শ্রেণির চেয়ার - ৪২৫ টাকা;
  • ১ম শ্রেণির বাথ - ৬৪০ টাকা;
  • স্নিগ্ধা - ৬১০ টাকা;
  • এসি সীট - ৭৩৬ টাকা এবং
  • এসি বাথ - ১,০৯৯ টাকা।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫ ৮৬৩৪, ৮৩১ ৫৮৫৭, ৯৩৩ ১৮২২, মোবাইল নম্বর: +৮৮০১৭১১-৬৯১ ৬১২
  • বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, ☎ ০২-৮৯২ ৪২৩৯
  • ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd

আকাশ পথে সিলেট আসা[সম্পাদনা]

সিলেটে সরাসরি বিমানে আসা যায়; ঢাকা থেকে সিলেটের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়আর - প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে সিলেটে আসার জন্য।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি করে ফ্লাইট সপ্তাহে ৪ দিন ঢাকা- সিলেট ও সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচল করে; ভাড়া লাগবে একপথে ৩,০০০/- এবং রিটার্ণ টিকিট ৬,০০০/-। সময়সূচী হলোঃ

  • ঢাকা হতে সিলেট - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - সকাল ১১ টা ২০ মিনিট এবং দুপুর ১২ টায়।
  • সিলেট হতে ঢাকা - শনি, রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি - দুপুর ১২ টা ২০ মিনিট এবং দুপুর ০১ টায়।

এই সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

  • কর্পোরেট অফিস: উত্তরা টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ১ জসিম উদ্দিন এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, ☎ ০২-৮৯৩ ২৩৩৮, ৮৯৩ ১৭১২, ইমেইল: info@uabdl.com, ফ্যাক্স: ০২-৮৯৫ ৫৯৫৯
  • ঢাকা এয়ারপোর্ট সেলস অফিস: ডমেস্টিক উইং কুর্মিটোলা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা-১২৩০, ☎ ০২-৮৯৫ ৭৬৪০, ৮৯৬ ৩১৯১, মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৪৮৬ ৬৬০
  • ওয়েবসাইট: www.uabdl.com

নৌ পথে সিলেট আসা[সম্পাদনা]

ঢাকা থেকে বা সিলেট শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না।

যেসব দৃশ্যাবলী দেখবেন[সম্পাদনা]

তিনটি কক্ষকে তিনটি গ্যালারি হিসাবে তৈরি করে রাখা আছে বিভিন্ন দ্রব্যাদিঃ

গ্যালারি-১[সম্পাদনা]

এটি ছিলো মূল শয়ন কক্ষ। সম্পূর্ণ কক্ষটি নানান ধরণের শোপিস দিয়ে সাজানো হয়েছে। বেতের তৈরি ৪ টি চেয়ার এবং দুটি কেন্দ্রীয়-টেবিল, একটি সাধারণ ওয়ারড্রব এবং উভয় দিকে টেবিল সহ একটি কাঠের পালঙ্ক রয়েছে। জেনারেল ওসমানীর হাতঘড়ি, যা তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পড়েছেন; সামরিক লাঠি, দুটি ব্রিফক্যাস, একটি টেলিফোন সেট, কিছু সংখ্যক বইপত্র এবং ব্যবহৃত মাটির বাসনপত্র একপাশে রয়েছে। অন্যপাশে একটি আলনা, যেটাতে দুটি স্যুট, দুটি ইউনিফিরম (খাকি এবং গাঁড় সবুজ), দুটি শার্ট (সাদা এবং ঈষৎ নীল), দুটি পাঞ্জাবী, বাদামী হাতাসহ একটি কোট, চার জোড়া জুতা যার মধ্যে একজোড়া হচ্ছে মিলিটারি বুট, একটি কালো ছাতা এবং পিঙ্গলবর্ণের সুসজ্জিত চলার লাঠি দিয়ে কক্ষটি সাজানো। একটি চক্রাকার টেবিল এবং কাঠের বইয়ের-তাক আছে যেটাতে "হোজ হো ইন দ্য ওয়ার্ল্ড" (সংস্করণ: ১৯৭৮–১৯৭৯ এবং ১৯৮০–১৯৮১) সহ দেশি বিদেশি বই ও ম্যাগাজিন এক কোণায় রয়েছে। ওসমানীর অতিপ্রিয় পিতার কোলে ছবি সহ দেয়ালে একজন মানবসম প্রতিকৃতি রয়েছে এমনকি প্রদর্শনের জন্য অনেক আলোকচিত্রও রয়েছে।

গ্যালারি-২[সম্পাদনা]

এটি ছিলো বৈঠকখানা। এই কক্ষে রয়েছে বেতনির্মিত কিছু আসবাবপত্র, যেমন– চারটি ১-আসন বিশিষ্ট, একটি ৩-আসন বিশিষ্ট এবং একটি ২-আসন বিশিষ্ট চেয়ার, একটি কেন্দ্রীয় টেবিল, দুটি পার্শ্ব টেবিল ইত্যাদি। বহু মূল্যবান এবং ঐতিহাসিক জিনিসপত্র সমেত তিনটি সোকেস রয়েছে। এর প্রথমটিতে জেনারেলের ব্যাজসমূহ, পদক, পদমর্যাদা ক্রম এবং জেনারেল ওসমানীর পাসপোর্ট রয়েছে। দ্বিতীয়টিতে স্মারকচিহ্ন, স্মরণিকা এবং ক্রেস্টসমূহ রয়েছে। এবং তৃতীয় সোকেসে বহুসংখ্যক প্রমানপত্রাদি প্রদর্শন করা হয়, যেগুলোর মধ্যে স্বাধীনতা পুরষ্কার-১৯৮৫ এবং এর নিমন্ত্রণ পত্র, একই সাথে পুরস্কার বিজেতার সংক্ষিপ্ত জীবনীও রয়েছে। একটি কার্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অটোগ্রাফ সংবলিত খাম রয়েছে যা তিনি জেনারেল ওসমানীর কাছে প্রেরণ করেছিলেন। আটটি বিশাল চিত্রকর্ম উপরের দেয়ালে টাঙানো আছে। কক্ষটির দেয়ালে অনেক ঐতিহাসিক ছবিও রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল; ১৯৭২ সালে সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণের পর, জেনারেল ওসমানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর আগমন উপলক্ষে ১০ মার্চ ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনী কর্তৃক আয়োজিত সম্মান প্রদর্শন অনুষ্ঠানে দর্শকদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন, জেনারেল ওসমানী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের সাথে, মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সাথে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাথে, ১৯৮১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কেন্দ্রে শহীদ পরিবারের সাথে ইত্যাদি।

গ্যালারি-৩[সম্পাদনা]

এটি ছিলো খাবার কক্ষ। এই কক্ষে রয়েছে কালো বর্ণের একটি পড়ার টেবিল এবং চেয়ার, পালঙ্ক, নামাযের চৌকি, জায়নামাজ, নামাযের টুপি ইত্যাদি প্রদর্শনের জন্য নিখুঁতভাবে সাজিয়ে রাখা। অন্যান্য যেসব জিনিসপত্র আছে তার মধ্যে- একটি কৃষ্ণকায় আলমারি, একটি ফ্রিজ, ছয়টি চেয়ার সহ একটি খাবার-টেবিল, প্রাচীন চীনামাটির বাসনকোসন এবং অন্যান্য জিনিস উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জেনারেলের ব্যবহৃত বাংলাদেশের অপারেশনাল মানচিত্রও (স্কেল ১: ২,৫০,০০) প্রদর্শনের জন্য এই কামরায় রাখা হয়েছে, যেখানে সভ্য সমাজ কর্তৃক উপস্থাপিত বহু প্রমানপত্রাদিও রয়েছে।

এছাড়াও জাদুঘরটির লন বা চত্ত্বরটিতে বেশ কিছু দুর্লভ বৃক্ষ রয়েছে; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - ঘটি বাঁশ।

সংলগ্ন দর্শনীয় এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

জাদুঘরটির আশেপাশেই প্রচুর হোটেল - রেস্তোরা আছে খাওয়া - দাওয়া করার জন্য। স্থানীয় পর্যায়ের বিখ্যাত খাদ্য হলো আথনী পোলাও ও সাতকরা (হাতকরা)। আরও কিনতে পারবেন স্থানীয় আনারস, কমলা, পান, লেবু, কাঠাল, চা-পাতা, তাজা মাছ। স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে এসকল দ্রব্যাদির তৈরি নানারকম খাদ্যও পাওয়া যায়। জাদুঘরটির খুব নিকটেই রয়েছে কিছু উন্নতমানের হোটেল-রেস্তোরাঁঃ

  • পানশী রেস্তোরাঁ, জল্লারপাড় রোড, জিন্দাবাজার, সিলেট;
  • পাঁচভাই রেস্তোরাঁ, জল্লারপাড় রোড, জিন্দাবাজার, সিলেট;
  • ভোজনবাড়ি রেস্তোরাঁ, জল্লারপাড় রোড, জিন্দাবাজার, সিলেট;
  • প্রীতিরাজ রেস্তোরাঁ, জল্লারপাড় রোড, জিন্দাবাজার, সিলেট;
  • স্পাইসি রেস্তোরাঁ, সিটি সেন্টার, জিন্দাবাজার, সিলেট, ☎ ০৮২১-২৮৩২০০৮;
  • রয়েলশেফ, মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট, ☎ ০৮২১-৭২৩০৯৬।

থাকা ও রাত্রি যাপনের স্থান[সম্পাদনা]

জাদুঘরটির নিকটে কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে; তবে তুলনামূলক ভালো মানের হোটের রয়েছে শাহজালালের দরগা এলাকায়। সেখানে থাকার জন্য প্রচুর আবাসিক হোটেল রয়েছে যেগুলোতে সিলেট ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটক অবস্থান করে। এসি এবং নন-এসি - এই উভয় ধরনের রুমের ব্যবস্থা সমৃদ্ধ ঐসকল হোটেলে মান ও বর্ডার ভেদে ভাড়া নেয়া হয় ৩০০/- হতে ২,৫০০/-। এছাড়াও থাকার জন্য আশেপাশেই কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কিছু উন্নতমানের হোটেলও রয়েছে -

  • হোটেল রোজভিউ ইন্টারন্যাশনাল (৫ স্টার) : উপশহর, সিলেট; ☎ ০৮২১-৭২১৮৩৫, ২৮৩১২১৫০৮-১৪, ২৮৩১৫১৬-২১, মোবাইল: ০১১৯৫১১৫৯৬৪, ইমেইল- sales@roseviewhotel.com, reservation@roseviewhotel.com
  • হোটেল ফরচুন গার্ডেন : জেল রোড, সিলেট, ☎ ০৮২১-৭১৫৫৯০, ৭২২৪৯৯, ফ্যাক্স: ০৮২১-৭১৫৫৯০, মোবাইল: +৮৮০১৭১১-১১৫১৫৩, ইমেইল- info@hotelfortunegarden.com, ওয়েব: www.hotelfortunegarden.com
  • হোটেল ডালাস : তামাবিল রোড, মিরাবাজার, সিলেট, ☎ ০৮২১-৭২০৯৪৫, ৭২০৯২৯, ইমেইল- hoteldallassylhet@yahoo.com, ওয়েব: www.hoteldallassylhet.com
  • হোটেল সুপ্রিম : তামাবিল রোড, মিরাবাজার, সিলেট, ☎ ০৮২১-৮১৩১৬৯, ৭২০৭৫১, ৮১৩১৭২, ৮১৩১৭৩, ফ্যাক্স: ০৮২১-৮১৩১৭১, মোবাইল: +৮৮০১৭১১-১৯৭০১২, +৮৮০১৬৭৪-০৭৪১৫৭, ইমেইল- hotelsupreme_1@yahoo.com, hotelsupreme_2@hotmail.com
  • হোটেল হিলটাউন : ভিআইপি রোড, তেলি হাওড়, সিলেট, ☎ ০৮২১-৭১৮২৬৩, মোবাইল:- +৮৮০১৭১১৩৩২৩৭১, ৭১৬০৭৭, ওয়েব: www.hiltownhotel.com
  • নাজিমগড় রিসোর্ট : ☎ ০৮২১-২৮৭০৩৩৮-৯, ওয়েব: www.nazimgarh.com

জরুরি নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

চিকিৎসা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ☎ ০৮২১-৭১৭ ০৫৫;
  • রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ☎ ০৮২১-৭১৯ ০৯০, ৭১৯ ০৯১-৬;
  • সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল: ☎ ০৮২১-২৮৩ ০৫২০;
জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসি কোতয়ালী, সিলেট: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ৩৭৫।