উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন


কুষ্টিয়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি শহর। পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়ায় একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। হ্যামিলটন'স গেজেট প্রথম কুষ্টিয়া শহরের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই জেলাটি কুমারখালী, কুষ্টিয়া সদর, খোক্সা, দৌলতপুর, ভেড়ামারা এবং মিরপুর - এই ছয়টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত।

কীভাবে যাবেন?[সম্পাদনা]

রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ১১৮ কিলোমিটার। এখানে স্থল পথে আসতে হয়। তবে, বিমান বন্দর নেই বলে এখানকার কোনো স্থানে বিমানে সরাসরি আসা যায় না। এছাড়াও, অভ্যন্তরীণ নৌপথও ততটা উন্নত না-হওয়ায় সর্বত্র জলপথে আসা-যাওয়া করা যায় না।

আকাশপথ[সম্পাদনা]

এখানে কোন বিমানবন্দর না থাকায় সরাসরি আকাশপথে ভ্রমণ সম্ভব নয়। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানে ঢাকা থেকে যশোর; অতঃপর সড়ক পথে কুষ্টিয়া আসা যায়।

সড়কপথ[সম্পাদনা]

রাজধানী শহরের সঙ্গে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগব্যবস্থা আছে। গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুষ্টিয়া জেলায় ভ্রমণের জন্য সরাসরি বাস পাওয়া যায়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবহনের মধ্যে আছে পর্যটক পরিবহন, স্কাই লাইন, পাবনা এক্সপ্রেস ইত্যাদি।

ঢাকা হতে কুষ্টিয়া সড়ক পথে ২ ভাবে আসা যায় :

  1. ফেরী পারাপারের মাধ্যমে - ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ মহাসড়ক পথে পাটুরিয়া ফেরী ঘাট থেকে ফেরী পার হয়ে দৌলতদিয়া রাজবাড়ী মহাসড়ক পথে রাজবাড়ী হয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চৌড়হাস মোড় হয়ে কুষ্টিয়া সদরে;
  2. বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে - ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক পথে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ-বনপাড়া মহাসড়ক পথে বনপাড়া হয়ে মহাসড়ক পথে পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে লালন সেতু পার হয়ে ভেড়ামারা কুষ্টিয়া মহাসড়ক পথে কুষ্টিয়ার মজমপুর হয়ে কুষ্টিয়া - ঝিনাইদহ মহাসড়কে কুষ্টিয়া সদরে।

রেলপথ[সম্পাদনা]

কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে যমুনা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ায় ট্রেন যোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেন গুলোর মধ্যে চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস অন্যতম।

নৌপথ[সম্পাদনা]

এখানে কোন আন্তঃজেলা নৌ যোগাযোগ নেই; কেবল অভ্যন্তরীণ দূরত্বে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহৃত হয়।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী - কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ী রয়েছে;
  • ফকির লালন সাঁইজির মাজার - বাউল ফকির লালন সাঁইজির মাজার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে;
  • টেগর লজ - কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত এই দোতলা ভবনটি;
  • পরিমল থিয়েটার - কুষ্টিয়া শহরের স্থায়ী রঙ্গমঞ্চ;
  • গোপীনাথ জিউর মন্দির - নলডাঙ্গার মহারাজা প্রমথ ভূষণ দেব রায় কর্তৃক দানকৃত জমির উপর নির্মিত;
  • মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা - বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্ত্তভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত;
  • হার্ডিঞ্জ ব্রীজ - কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু;
  • লালন শাহ সেতু - কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর নির্মিত "লালন শাহ" সেতুটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু।

খাওয়া দাওয়া[সম্পাদনা]

কুষ্টিয়া শহরে বেশ কিছু ভালো মানের রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার পাওয়া যায়। কুষ্টিয়ার তিলের খাঁজার সুখ্যাতি আছে। এন.এস. রোডের মৌবন মাসালা, শিশির বেকারিতে ভাল নাস্তা পাওয়া যায়। চৌড়হাস মোড়ে রান্নাঘর হোটেলও ভাল । বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য আছে বড় বাজারের গান্ধী হোটেল । কুষ্টিয়ার বিখ্যাত খাবারের মধ্যে আছে তিলের খাজা, কুঠি বাড়ির সামনে কুলফি, জগদীশ মিষ্টান্ন ভান্ডার - বড় বাজার (চমচম), অশোক মিষ্টান্ন ভান্ডার ইত্যাদি।

রাত্রি যাপন[সম্পাদনা]

কুষ্টিয়া শহরে রাত্রিযাপনের জন্য শহরে বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল আছে। রাত্রিযাপনের জন্য কিছু স্থান হচ্ছে এলজিইডি রেষ্ট হাউস,কুষ্টিয়া, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রেষ্ট হাউস,কুষ্টিয়া, বিসিক রেষ্ট হাউস,কুষ্টিয়া, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রেষ্ট হাউস,কুষ্টিয়া ইত্যাদি।

জরুরি নম্বরসমূহ[সম্পাদনা]

জননিরাপত্তা সম্পর্কিত যোগাযোগের জন্য
  • ওসি, কুমারখালীঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২২;
  • ওসি, কুষ্টিয়া সদরঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২০;
  • ওসি, খোকসাঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২১;
  • ওসি, দৌলতপুরঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২৪;
  • ওসি, ভেড়ামারাঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২৩;
  • ওসি, মিরপুরঃ মোবাইল: +৮৮০১৭১৩-৩৭৪ ২২৫।