এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > খুলনা বিভাগ > বাগেরহাট জেলা > খান জাহান আলীর মাজার

খান জাহান আলীর মাজার

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

খান জাহান আলীর মাজার বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। হযরত খান জাহান আলী (র:) এর জন্ম ভারতে হলেও বাংলাদেশের যশোর, বাগেরহাট অঞ্চলে তিনি ধর্ম প্রচার করতে আসেন। তিনিই বাগেরহাটে বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন।

বিবরণ[সম্পাদনা]

অনেকের মতে খান জাহান আলী আরব দেশ থেকে দিল্লী হয়ে বাংলাদেশে আসেন । যদিও তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি তবে গবেষকগণ ধারণা করেন খান জাহান আলী সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্-এর সমসাময়িক ছিলেন। খান জাহান আলী তৎকালীন গৌড়ের সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সেনানায়ক ছিলেন। সুলতানের প্রতিনিধি হিসাবেই খান জাহান আলী বাগেরহাট অঞ্চলে জনপদ সৃষ্টি করে “খলিফাত-ই-আবাদ” নামকরণ করেন এবং ৩৬০ জন আউলিয়ার আগমনের সংখ্যার সাথে মিল রেখে তিনি ভাটি অঞ্চলে ৩৬০ টি মসজিদ নির্মাণ ও ৩৬০ টি দীঘি খনন করে ছিলেন।

খান জাহান আলী ৮৬৩ হিজরী ২৬ জিলহজ্ব বুধবার অর্থাৎ ১৪৫৯ সালের ২৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। খাঞ্জেলী দীঘির উত্তর পাড়ে তাঁর সমাধি সৌধ নির্মিণ করা হয়েছে। খান জাহান আলীর সমাধি সৌধটি বর্গাকৃতি। সৌধের প্রাচীর ২৫ ফুট উঁচু এবং এর ছাদে রয়েছে একটি গম্বুজ। এই সমাধি সৌধের ভিতরে একটি পাথরের বেদিতে হযরত খানজাহান আলীর মাজার অবস্থিত। দরগাহ বা মাজারের স্থাপত্যশৈলীর সাথে ষাটগুম্বুজ মসজিদের বেশ মিল রয়েছে। প্রতি বছর বাংলা বর্ষপুঞ্জির ২৫ অগ্রহায়ণ খান জাহান আলী মাজার প্রাঙ্গনে বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। আর চৈত্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় এখানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। খান জাহান আলীর মাজার দেখতে, ওরশ এবং মেলায় সারাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত মাজারে এসে সমবেত হন।

যাতায়াত[সম্পাদনা]

ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ ও ইগল পরিবহণের গাড়ি ছাড়ে।

এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজিতে করে বাগেরহাট আসতে পারবেন।

খান জাহান আলীর মাজার শরীফ বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং খুলনা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। খুলনা বাগেরহাট মহাসড়ক থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরত্বে খান জাহান আলীর মাজার শরীফের অবস্থান। খুলনা বাগেরহাট মহাসড়কে বাস থেকে নেমে ৫ মিনিট পায়ে হেটে মাজারে যেতে পারবেন।

রাত্রিযাপন[সম্পাদনা]

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, তবে মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, তবে খরচ একটু বেশি। এছাড়া মমতাজ হোটেলের আশেপাশে অন্য হোটেলগুলোতেও থাকার জন্য খোঁজ নিয়ে দেখা ভালো। আর বাগেরহাট থেকে খুলনা কাছে, তাই খুলনা গিয়েও কোন আবাসিক হোটেলে থাকা যাবে।

খাওয়াদাওয়া[সম্পাদনা]

এখানে কিছু মোটামুটি মানের খাবার হোটেল রয়েছে তাই খাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড কিংবা দরগার কাছে হোটেলগুলোতে যাওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই খাবারের মান ও দাম সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]