এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন
এশিয়া > দক্ষিণ এশিয়া > বাংলাদেশ > ঢাকা বিভাগ > ঢাকা জেলা > ঢাকা > ঢাকা/পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকা

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকা সর্বপ্রথম রাজধানীর মর্যাদা পায় ১৬১০ সালে। ১৬০৮ সালে মোঘলদের প্রথম পদচরন দেখা যায় এই প্রাচীন নগরীতে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতি সম্রাট জাহাংগীরের নামে এই নগরীর নামকরন করেন জাহাংগীর নগর। বাংলার রাজধানী স্থানন্তরিত হয় জাহাংগীর নগরে। মোঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তান আমল পার করে আজকের বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজও ধরে রেখেছে তার পুরান ঐতিহ্য। আজও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা টিকে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে। পুরান ঢাকার এই সব ঐতিহ্য আপনাকে নিয়ে যাবে ৪০০ বছর পিছনে।

কীভাবে যাবেন[সম্পাদনা]

ঢাকা/পুরান ঢাকার মানচিত্র

দেখুন[সম্পাদনা]

বুড়িগঙ্গা নদী, পুরাতন ঢাকা
আর্মেনীয় গির্জা
ঢাকেশ্বরী মন্দির ভিতরে শিব মন্দির
আহসান মঞ্জিলের সম্মুখ দৃশ্য
লালবাগ দুর্গ
  • 1 আহসান মঞ্জিল (বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত), +880 2 7391122, ইমেইল: পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ঢাকার নবাবদের শেষ স্মৃতি বহন করছে। এর প্রতিষ্ঠাতা নবাব আব্দুল গনি পুত্র খাজা আহসানউল্লাহ'র নামনুসারে এর নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল। এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল। বর্তমানে এই ভবনটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উইকিপিডিয়ায় আহসান মঞ্জিল (Q402937)
  • 2 হোসেনি দালানইমামবাড়া বা হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদয়ের একটি উপসনালয়। অনুমানিক ১৭শ শতকে সম্রাট শাহজাহান আমলে ভবনটি নির্মিত হয়। এর দেয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায় শাহ সুজার সুবেদারীর আমলে তার এক নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ দ্বারা হিজরি ১০৫২(১৬৪২খ্রিস্টাব্দ)নির্মিত হয়।ভবনটি মূলত কারাবালার প্রান্তরে ঈমাম হোসেনের শাহাদাৎ বরনের স্মরনে নির্মান করা হয়।
  • 3 হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদতিন নেতার মাজারের কাছে অবস্থিত এই মসজিদটি এখন নতুন ঢাকার অংশ। শায়েস্তা খান রীতিতে তৈরি তিন গম্বুজঅলা মসজিদটি ৬৮ ফুট দীর্ঘ এবং ২৬ ফুট চওড়া। খাজা শাহবাজ সর্ম্পকে ইতিহাসবিদরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিলেও ধরে নেয়া হয় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কাশ্মীর থেকে আগত এই ব্যবসায়ী নির্মিত করেন এই মসজিদটি। তার মৃত্যুর পরবর্তিতে এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এই সুফী সাধক জীবিত কালে নিজের জন্য সমাধি সৌধ তৈরি করে যান। এখন মসজিদটি হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। মসজিদের পাশেই তার দরগা রয়েছে। উইকিপিডিয়ায় হাজী শাহাবাজের মাজার ও মসজিদ
  • 4 তিন নেতার মাজারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের উত্তর পাশে অবস্থিত তিন নেতার মাজার। স্বাধীনবপূর্ব বাংলার বিখ্যাত তিন নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক এখানেই সমাহিত করা হয়। উইকিপিডিয়ায় তিন নেতার মাজার
  • 5 কার্জন হলতৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্ণর জেনারেল লর্ড কার্জন ১৯০৪ সালে এই ভবনের ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন।তার নাম অনুসারে এই ভবনের নামকরন করা হয় কার্জন হল। ইউরোপীয়-মোঘল স্থাপত্য শিল্পের চমৎকার মিশ্রনে তৈরি ভবনটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শ্রেণীকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উইকিপিডিয়ায় কার্জন হল
  • 6 মুসা খান মসজিদবার ভূঁইয়াদের আমলে তৈরি মুসা খান মসজিদ শহীদুল্লাহ হলের উত্তর-পশ্চিম কোনে অবস্থিত। মসজিদটির নামকরন ঈসা খানের ছেলে মুসা খানের নামে হলেও নির্মান করেছে মুসা খানের ছেলে মাসুম খান। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে এর আগের জৌলস হারিয়েছে। Linecons banknote.svg বিনামূল্য উইকিপিডিয়ায় মুসা খান মসজিদ
  • 7 ঢাকেশ্বরী মন্দির৮০০ বছরের পুরান এই মন্দিরটি নির্মান করেন রাজা বল্লাল সেন। এইটি মূলত দূর্গা মন্দির। ঢাকার বৃহৎ যে কয়েকটি পূজা মণ্ডপ আছে ঢাকেশ্বরী মন্দির তার মধ্যে অন্যতম। জাতীয় এই মন্দিরের নামকরন হয় ঢাকার ঈশ্বরী অথাৎ ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে।
  • 8 লালবাগ কেল্লামোগল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যময় স্থানের মধ্যে অন্যতম। সম্রাট আওরঙ্গজেবের ৩য় পুত্র আযম শাহ ১৬৭৮ সালে এর নির্মান কাজ শুরু করেন। কিন্তু দূ্র্গের কাজ হাত দেবার ১বছরের মাথায় মারাঠা বিদ্রোহ শুরু হয় আওরঙ্গজেব পুত্রকে দিল্লি ডেকে পাঠান।এরপর ১৬৮০ সালে অসম্পূর্ণ কাজে হাতে দেন সুবেদার শায়েস্তা খান। এর মধ্যে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবি মারা গেলে তিনি দূর্গ কে অপয়া মনে করে এর নির্মান কাজ স্থগিত করেন। এই পরীবিবিকে সমাহিত করা হয় দরবার হল ও মসজিদের ঠিক মাঝখানে উক্ত স্থান বর্তমানে পরিবিবির মাজার নামে পরিচিত। বর্তমান কেল্লা চত্বরে তিনটি স্থাপনা রয়েছে-কেন্দ্রস্থলের দরবার হল ও হাম্মাম খানা,পরীবিবির সমাধি,উত্তর পশ্চিমাংশের শাহী মসজিদ। এছাড়া দক্ষিন-পূবাংশে কিছু সুদৃশ্য ফটক রয়েছে।
  • লালবাগ কেল্লার খুব কাছেই আছে লালবাগ শাহী মসজিদ। মোগল আমলে তৈরি মসজিদটি বহুবার সংস্কারের ফলে আগের সেই আদি রুপটি নেই * উইকিপিডিয়ায় লালবাগের কেল্লা (Q1801226)
  • 9 চকবাজার শাহী মসজিদসুবেদার শায়েস্তা খান ১৬৭৬ সালে এই মসজিদটি নির্মান করেন। বহুবার সংস্কারের ফলে এর আদিরুপটি না থাকলেও এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। উইকিপিডিয়ায় চকবাজার শাহী মসজিদ
  • 10 বড় কাটরাশাহজাহান পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে ১৬৪১খ্রিস্টাব্দে বড় কাটরা নির্মান করা হয়। বর্তমানে এই স্থাপনাটি বেহাল অবস্থা। বেশির ভাগ অংশই ভূমি দস্যুর দখলে। হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম

মাদ্রাসা বর্তমানে এই বড় কাটরার তত্ত্বাবধানে আছে। উইকিপিডিয়ায় বড় কাটরা

  • 11 আর্মেনীয় গির্জা, +880 2 731 6953১৭৮১ সালে নির্মিত চার্চটি ঢাকায় আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। অন্য সব ক্যাথলিক/ব্যাপ্টিস্ট চার্চ থেকে এই চার্চ সম্পূর্ণ আলাদা। এখনও আর্মেনীয়দের অবশিস্ট বংশধর এই চার্চের রক্ষনাবেক্ষন করছে। ঐতিহ্যবাহী এই চার্চের সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকায় আর্মেনীয়দের ইতিহাস। অনুমানিক সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে দুই একজন করে আর্মেনীয় বনিক ঢাকায় আশা শুরু করে।ধারনা করা হয় তাদের নাম অনুসারে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নামকরন করা হয়। Linecons banknote.svg বিনামূল্য উইকিপিডিয়ায় আর্মেনীয় গির্জা
  • 12 তারা মসজিদসুন্দর স্থাপত্য শিল্পটি শুধু মাত্র দেশী বিদেশী পর্যটকদের হৃদয়ে নয়, স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের টাকায়। নয়ানিভিরাম স্থাপনাটি প্রচলিত ১০০টাকাত নোটে সচরাচর দেখা যায়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এই স্থাপনাটি কেন্দ্র করে ৫ থেকে ৫০০টাকা সিরিজের ব্যাংক নোট মুদ্রণ করে। পুরান ঢাকার আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত স্থাপনাটি নির্মান করেন তৎকালীন ব্যবসায়ী জমিদার মির্জা গোলাম পীর। সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে। মির্জা গোলাম পীরের মৃত্যুর পর ১৯২৬ সালে মসজিদটির প্রথমবারের মত সংস্কার করা হয়। আলী জান বেপারী নামক স্থানীয় ব্যবসায়ী মসজিদটির সংস্কার করেন। তখন এই মসজিদের মোজাইকের কারুকার্যে জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয়। মোগল স্থাপত্য শৈলীর প্রভাব রয়েছে এ মসজিদে। ১৯৮৭ সালে শেষবারের মত সংস্কারের সময় মসজিদটিকে তিন গম্বুজ থেকে পাঁচ গম্বুজ করা হয়। উইকিপিডিয়ায় তারা মসজিদ
  • কাস্বাবটুলী মসজিদ১৯০৭ সালে নির্মিত মসজিদটি পুরান ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মসজিদটি পুরাটাই নানা রং এর চিনা মাটির কাচ দ্বারা আবৃত। দেখতে অনেকটা চিনির টুকরার মত ঝকঝক। তাই এলাকাবাসী এই মসজিদকে চিনি মসজিদ বলেও ডাকে। ১৯৭৯ সালে মূল ভবনের কারুকাজের পরিবর্তন না করে এটি সংস্কার করা হয়। ফলে মূল ভবনের ভেতরটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই মসজিদের সুনাম আগে এতটাই ছিল বিটিভির আযানের সময় এই মসজিদের ছবি দেখানো হত।
  • লালকুঠিবাংলায় ঔপনেবেশিক আমলে নির্মিত ভবন গুলার মধ্যে লালকুঠি অন্যতম। তৎকালীন ভারতবর্ষের গর্ভনর জেনারেল লর্ড নর্থথব্রুক ১৮৭৪ সালে ঢাকা সফরে আসেন এবং তার এই আগমন কে স্মরনীয় করে রাখার জন্য ঢাকার প্রখ্যাত ধনীব্যক্তি জমিদার টাউন হল ধাচের একটি হল নির্মানের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে এইটি নর্থব্রুক হল বা লাল কুঠি নামে পরিচিত হয়। লাল বর্ণের রং হওয়ায় স্থানীয় মানুষরা একে লাল কুঠি বলে ডাকে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তির পদধূলি পড়েছে এই ভবনে।

ভবনটির নির্মানশৈলিতে ইন্দো ইসলামিক স্থাপত্য রীতির সংগে ইউরোপীয়-রেনেসাঁ উত্তর স্থাপত্য রীতির চমৎকার মিশেল ঘটেছে। বর্তমানে এই স্থাপনাটি ঢাকা পৌরসভা কতৃত্ত্বভার গ্রহন করেন।

  • ছোট কাটরাসুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে তৈরি ইমারতটি অনেকটা দেখতে বড় কাটরার মত। অনুমানিক ১৬৬৩-৬৪ সালে কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৬৭১এ। বর্তমানে ছোট কাটরা বলতে কিছু নেই। যা আছে ভাংগা ইমারত।

খাওয়া[সম্পাদনা]

পুরান ঢাকার কিছু বিখ্যাত খাবারের তালিকা :

  • লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস
  • হোটেল রয়েলের পেস্ত বাদামের সরবত
  • বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও।
  • কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি ও হানিফের তেহরি।
  • 1 বিসমিল্লাহ কাবাব, ১০৪ কাজী আলাউদ্দিন রোড (নাজিরা বাজারের পাশে)।

রাত্রিযাপন[সম্পাদনা]