এই নিবন্ধের জন্য GPX ফাইল ডাউনলোড করুন

নিঝুম দ্বীপ

উইকিভ্রমণ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের হাতিয়া উপজেলার একটি ছোট দ্বীপ, যা চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত। নিঝুম দ্বীপ পূর্বে চর ওসমান নামে পরিচিত ছিল। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা একটি চর। মূল ভূখণ্ডের হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। এটি একক কোন দ্বীপ নয় বরং চার পাঁচটি ছোট ছোট চর নিয়ে গঠিত।

কখন যাবেন[সম্পাদনা]

অক্টোবর থেকে এপ্রিল ১৫ তারিখ এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য ভালো। অন্য সময় বর্ষা থাকে ও ঝড়ের কারনে মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে।

বর্ষাকালে গেলে পুরা হাটু সমান কাদা থাকবে ও পুরা দ্বীপের এমাথা ও মাথা আপনাকে হেঁটে পার হতে হবে, কাঁদার কারণে রাস্তায় কিছু চলতে পারেনা। তবে মাছ খেতে পারবেন প্রচুর। শীত কালে গেলে রাস্তাঘাট সব ভালো পাওয়া যাবে, খালের মধ্যে পানি কম থাকবে, ফলে বনের মধ্যে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যাবে, বিকেলে হরিণের পাল দেখা যাবে, সমুদ্র সৈকত শুকনো থাকবে। শরতকাল আর বসন্তকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

যান[সম্পাদনা]

নিঝুমদীপে ২ ভাবে যাওয়া যায়

  • লঞ্চে করে এবং
  • রেল বা বাসে নোয়াখালী হয়ে।

সড়ক পথে[সম্পাদনা]

যেকোন পরিবহনের বাসে যেতে হবে নোয়াখালীর সোনাপুরে। প্রতিদিন সকাল দুপুর ও সন্ধ্যায় ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর এর দিকে বাস ছেড়ে যায়। অথবা রেলে করে নোয়াখালীর মাইজদি পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ঢাকা কমলাপুর থেকে বৃহস্পতি বার বাদে, প্রতিদিন বিকাল ৪.২০ মিনিট এ ৭১২ নং আন্তঃনগর উপকুল এক্সপ্রেস নোয়াখালী এর দিকে ছেড়ে যায়, মাইজদি পৌঁছে রাত ১০.২২ মিনিট। ভাড়া - স্নিগ্ধা - ৫০৩ টাকা, প্রথম চেয়ার - ৩৫৫ টাকা, শোভন চেয়ার - ২৭০ টাকা, শোভন - ২৩০ টাকা।

নোয়াখালীর সোনাপুর / মাইজদি থেকে স্থানীয় বাস বা সিএনজিতে করে নামতে হবে বয়ার চর - চেয়ারম্যান ঘাটে।

চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পীড বোট ছাড়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সি-ট্রাক ছাড়ে প্রতিদিন সকাল ৮ টায়। ভাড়া জনপ্রতি - ৮০ টাকা, ট্রলার - ১২০ - ১৫০ টাকা ভাড়া প্রতিজন ও স্পীড বোট জনপ্রতি ভাড়া - ৪০০-৫০০ টাকা। যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে, নলচিরা থেকে বেবিটেক্সিতে (৬০০-৭০০) করে যেতে হবে মোক্তারিয়া ঘাটে, সরাসরি নলচিরা ঘাট থেকে মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায়। ভাড়া দুই জন ৩৫০ - ৪৫০ টাকা, দর দাম করে ঠিক করে নেয়া যেতে পারে। সেখান থেকে ট্রলারে ১৫ মিনিট লাগবে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে যেতে। ভাড়া জনপ্রতি - ১০ টাকা। এরপর আপনি যদি নামার বাজার থাকেন তবে ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল এ যেতে হবে। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেল দুইজন। বন্দর টিলায় ও থাকতে পারেন। নলচিরা থেকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট যাওয়ার ফিরতি সী ট্রাক ছাড়ে সকাল ১১ টায়।

জল পথে[সম্পাদনা]

লঞ্চে করে ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে। ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে - মোট ৪ টা লঞ্চ ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে প্রতিদিন ২টি করে ছেড়ে যায়, প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬.০০ মিনিটে। লঞ্চ গুলোর নাম এম.ভি ফারহান - ৩ ও ৪ এবং এম. ভি. তাসরিফ - ১ ও ২। এম. ভি. তাসরিফ লঞ্চগুলো সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে এই পথে চলাচল করছে। এদের মধ্যে প্রতিদিন ২টা করে লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় এবং ৬ টায় ছেড়ে যায়। সেটি হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে পৌঁছবে পরদিন সকাল ৮-৯ টায়। আপনাকে নামতে হবে হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে । (ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ১২.৩০ টায় এবং ১.৩০ টায়)

এম.ভি. ফারহান - ৩ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৬৫, এম. ভি. ফারহান - ৪ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৭০ এম.ভি. তাসরিফ- ১ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২২, এম.ভি. তাসরিফ-২ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২৪

কোন কারনে হাতিয়ার লঞ্চে উঠতে না পারলে বিকাল ৬.৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে চালু করা এম ভি টিপু-৫ অথবা এম ভি পানামা লঞ্চে করে তজুমুদ্দিন অথবা মনপুরা নেমে গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরা যাবে অথবা মনপুরা থেকে ট্রলারে করে হাতিয়া যাওয়া যাবে। এই লঞ্চ দুটো এই রুটে চলেঃ

ঢাকা - চাঁদপুর - কালিগঞ্জ (মেহেন্দীগঞ্জ) - বিশ্বরোড (ভোলা) - দৌলত খাঁ (ভোলা) - মির্জাকালু - শরাশগঞ্জ - ভোলা তজুমুদ্দিন - মনপুরা (রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট) ও মনপুরা হাজির হাট লঞ্চ ঘাট।

বিশেষ কারনে যদি এই দুটো অর্থাৎ টিপু -৫ বা পানামা লঞ্চ। এছাড়া বিকাল ৬.৩০ মিনিট এম ভি ফারহান-৬ অথবা ফারহান-৭ লঞ্চ এ করে তজুমুদ্দিন গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরতে পারবেন অথবা তজুমুদ্দিন থেকে ট্রলার এ হাতিয়া যেতে পারবেন।

এম ভি ফারহান - ৬ অথবা ফারহান - ৭ লঞ্চ দুটো এই রুটে চলে: ঢাকা-ফতুল্লা-কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)-বিশ্বরোড (ভোলা)-দৌলত খাঁ (ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-শরশী সী-ট্রাক ঘাট-মঙ্গল শিকদার- বেতুয়া (চরফ্যাশন)।

আপনাকে নামতে হবে তজুমুদ্দিন লঞ্চ ঘাটে।

লঞ্চে গেলে ভাড়া পড়বে- ডেকে ১৫০ টাকা, একা কেবিন- ৭০০/৮০০ টাকা, দ্বৈত-১৪০০/১৬০০ টাকা, পরিবার-২৫০০/৩০০০, ভিআইপি -৪০০০/৫০০০ হাতিয়া এর তমুরদ্দী ঘাট পর্যন্ত।

তমুরদ্দী ঘাট থেকে বেবি টেক্সিতে (৫০০-৬০০ টাকা) সরাসরি মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায় অথবা সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায় ভাড়া দুই জন ৩০০ - ৩৫০ টাকা। সেখান থেকে ট্রলারে ১০ মিনিট লাগবে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে ভাড়া জনপ্রতি - ১০ টাকা। এরপর আপনি যদি নামার বাজার থাকেন তবে ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল এ যেতে হবে। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেল দুইজন। বন্দর টিলায় ও থাকতে পারেন। প্রতিদিন সকাল ১০ টায় তমুরদ্দি থেকে মাছ ধরার ট্রলার সরাসরি নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার যায়। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে যেতে পারেন মেঘনা নদীর বুক চিরে ট্রলারে। নিঝুম দ্বীপে ভাড়া যার কাছে যেমন রাখে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া আপনি ট্রলার রিজার্ভ করতে পারেন নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার ভাড়া ট্রলারের আকার অনুযায়ী ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা।

চট্রগাম থেকে হাতিয়া আসতে হলে', চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়াগামী জাহাজ এম ভি বার আওলিয়া অথবা এম ভি আব্দুল মতিন এ উঠে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এ নামতে হবে। শুক্র ও রবিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ এ চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সন্দীপ হয়ে হাতিয়া পৌছে বিকাল ৫ টায়।

সময়সূচী : প্রতিদিন সকাল ৯ টা (শুক্র ও রবিবার বাদে)
স্থান : চট্টগ্রাম সদরঘাট
ভাড়া : প্রথম শ্রেনী/ দ্বিতীয় শ্রেনী/ চেয়ার ক্লাশ
সন্দীপ : ১২০০/- ৬২০/- ২৩০/-
হাতিয়া : ২২১৫/- ১১১০/- ৩৫০/-
আরো কোন তথ্য জানতে BIWTCকে ফোন দিন: ০৩১-৬৩৬৮৭৩

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

নিঝুম দ্বীপ
  • কমলার দ্বীপ। সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশে পাশের দ্বীপগুলো সুন্দর। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরা যাবে।
  • চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চর । যেতে হবে বিকেলে সন্ধ্যার আগে, চৌধুরীর খাল নেমে ঘন্টা খানেক হাঁটলেই বনের মধ্যে হরিণের পালের দেখা পেতে পারেন।
  • চোয়াখালি ও চোয়াখালি সমুদ্র সৈকত। চোয়াখালিতে গেলে খুব সকালে হরিণ দেখা যায় । মটর সাইকেল ওয়ালাকে বলে রাখুন খুব সকালে আপনাকে হোটেল থেকে নিয়ে হরিন দেখিয়ে আনবে।
  • ম্যানগ্রোভ বন। নিঝুম দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প।
  • নামার বাজার সমুদ্র সৈকত। নামার বাজার থেকে হেঁটে যেতে ১০ মিনিট লাগে। এখান থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন, এখানে বারবিকিউ করে মজা পাবেন।
  • দমার চর। এই চরের দক্ষিণ দিকে নতুন একটি সমুদ্র সৈকত আছে যাকে বলে "কুমারী দ্বীপ"। খুব সকালে এখানে অনেক নাম না জানা পাখির দেখা পাওয়া যায়।

আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে যান, তবে ট্রলার ভাড়া করে ভোলার ঢালচর, চর কুকরি - মুকরি থেকে ঘুড়ে আসতে পারেন।

থাকা[সম্পাদনা]

নিঝুম দ্বীপে বেশকয়েকটি হোটেল আছে

  1. নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ হোটেল) নামার বাজারঃ এটা অবকাশ পর্যটন লিমিটেডের একটা রিসোর্ট। নামার বাজার সমুদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত। নিঝুম রিসোর্ট নামে নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য একটি ভালো মানের রিসোর্ট। এখানে ২ কক্ষের ভিআইপি রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, ২ কক্ষের রুম ভাড়া ১৫০০ টাকা, ৩ কক্ষের এক্সিকিউটিভ রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা, ৪ কক্ষের এক্সিকিউটিভ রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, ৫ কক্ষের পারিবারিক কক্ষ ভাড়া ৩০০০ টাকা এবং ৫ বেড এর শয়নালয় রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা ও ১২ বেড এর শয়নালয় রুম ভাড়া ৩০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ঢাকা অফিসঃ অবকাশ পর্যটন লি., আলহাজ সামসুদ্দিন ম্যানসন (নবম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। ফোন : ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯। নিঝুম দ্বীপ অফিস: ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪, ০১৮৪৫৫৫৮৮৯৯ , ০১৭৩৮২৩০৬৫৫
  2. হোটেল শাহিন, নামার বাজার। ফোন নম্বরঃ ০১৮৬৩১৫০৮৮১
  3. হোটেল সোহেল, নামার বাজার। ফোন: ০১৮৬৮৬১২১৩৫(শাহজাহান)।
  4. মসজিদ বোর্ডিং, নামার বাজার। এটা সবচেয়ে সস্তায় থাকার ব্যবস্থা। স্থানীয় মসজিদ থেকে এই ব্যবস্থা করেছে, অতিরিক্ত দুটি একক এবং দুটি দুই কক্ষ আছে, আর সব শয়নালয় । শয়নালয় - ভাড়া ২০০ - ৩০০ টাকা। যোগাযোগ: মোঃ আব্দুল হামিদ জসিম, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, নামার বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯
  5. নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলা।
  6. হোটেল দ্বীপ সম্পদ (থাকা ও খাওয়ার হোটেল) নামার বাজার। ফোনঃ ০১৭২০ ৬০১ ০২৬, ০১৭৬০ ০০৮১০৬।
  7. হোটেল শেরাটন, বন্দরটিলা বাজার ।
  8. জেলা প্রশাসন ডাক বাংলো।

খাওয়া[সম্পাদনা]

খাবার জন্য নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারের কিছু হোটেল আছে। বিদ্যুৎ নেই বলে সব টাটকা খাবার পাওয়া যায়। দেশি মুরগি, মাছ, হাঁস, গরুর মাংশ সব খড়ির চুলায় রান্না করা। যদি নিজের পছন্দের কিছু খেতে চান, তাহলে তাঁদের বলুন অথবা তাদেরকে কিনে দিলে তারা রান্না করে দিতে পারবে। আর প্রায় সব থাকার হোটেলে বারবিকিউর চুলা থাকে, হোটেলের বয়দের সহায়তায় অথবা আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন মাছ বা মুরগির বারবিকিউ। মাছের জন্য হোটেল সোহেলের পাশে ২টি আড়ত আছে।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]